সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Samaresh Basu. Show all posts
Showing posts with label Samaresh Basu. Show all posts

বাছাই গল্প - সমরেশ বসু

বাছাই গল্প - সমরেশ বসু
বাছাই গল্প
সমরেশ বসু

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দেখি নাই ফিরে - সমরেশ বসু (শেষ উপন্যাস) (বিকাশ ভট্টাচার্য চিত্রিত)

amarboi
দেখি নাই ফিরে
সমরেশ বসু (শেষ উপন্যাস)
(বিকাশ ভট্টাচার্য চিত্রিত)
বাংলা কথাসাহিত্যে সমরেশ বসুর তুলনা সমরেশ বসুই। তিনি জন্মেছিলেন ঢাকা জেলার ঐতিহ্যবাহী বিক্রমপুরের রাজানগর গ্রামে। জন্ম ১১ ডিসেম্বর ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ। আর এ পরিশ্রমী লেখক ১৯৮৮-এর ১২ মার্চ যখন মারা যান তখনও তার লেখার টেবিলে ১০ বছরের অমানুষিক শ্রমের অসমাপ্ত ফসল শিল্পী রামকিংকর বেইজের জীবনী অবলম্বনে উপন্যাস ‘দেখি নাই ফিরে ’।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গোগোল অমনিবাস - সমরেশ বসু

Gogol Omnibas Samaresh Basu
গোগোল অমনিবাস - সমরেশ বসু Chrome Extension for Amarboi, Add it Now


Gogol Omnibas Samaresh Basu Pages 516 | Pdf size 22 MB
You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রজাপতি - সমরেশ বসু

amarboi প্রজাপতি - সমরেশ বসু

অশ্লীলতার ফাঁদে পড়ল 'প্রজাপতি'। ১৮ বছর বন্ধ রইল উড়াল। এর লেখক সমরেশ বসু তাঁর লেখালেখির শুরু থেকেই নারী-পুরুষের সংরাগ-সংসক্তির বিচিত্র চিত্রকর। তাঁর 'উত্তরঙ্গ', 'সওদাগর', 'শ্রীমতি কাফে' থেকে শুরু করে 'বিবর' পর্যন্ত ওই প্রবণতা দিনে দিনে কেবল স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়েছে। কিন্তু সমরেশ বসু কেবল এ বিষয়টিকে উপজীব্য করেননি। নইলে দিব্যেন্দু পালিত বলতেন না, "এই একজন : যাঁর মধ্যে একত্র হয়েছিল তারাশঙ্করের 'অভিজ্ঞতা', বিভূতিভূষণের 'অনুভূতিপ্রবণতা', মানিকের 'প্রশ্ন', সতীনাথের 'পটভূমিজনিত ভিন্নতা'। বাংলা গল্প-উপন্যসের বিপুল ভারসম্পন্ন ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ গুণগুলোর সমন্বয় ঘটিয়ে সমরেশ বসু হয়ে ওঠার জন্য তাঁকে যুক্ত করতে হয়েছিল নিজের সময় ও মানসিকতা, নিজস্ব ভাষা ও ভঙ্গি_সাহস, স্পষ্টবাদিতা এবং একের মধ্যে বহু। হতে হয়েছে কালকূট।" ('এক ধরনের আশ্রয়', দেশ, ১৪ মে ১৯৮৮)। কালকূট মানে তীব্র বিষ। এটি তাঁর ছদ্মনাম। 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে', 'কোথায় পাব তারে'সহ অনেক উপন্যাস তিনি এ নামে লিখেছেন। কিন্তু নিজের সেই তীব্র বিষ তিনি প্রয়োগ করেছেন 'বিবর', 'প্রজাপতি', 'প্রকৃতি'র মতো উপন্যাসে সমরেশ বসু নামে। 'প্রজাপতি' ১৩৭৪ সালে শারদীয় দেশ-এ প্রকাশিত হয়। একে অশ্লীল হিসেবে শনাক্ত করে নিষিদ্ধ করার আবেদন করে ১৯৬৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মামলা করলেন এক তরুণ অ্যাডভোকেট অমল মিত্র। আবেদনকারী তাঁর পক্ষে ৮ জন সাক্ষীর নাম দেন। এর ভেতর ৭ম সাক্ষী হিসেবে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও ছিল এবং ছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আশুতোষ ভট্টাচার্যের নাম। দুইজনের কেউই তাঁর পক্ষে সাক্ষী দিতে আসেননি। আসামি হিসেবে ছিলেন সমরেশ বসু এবং দেশ-এর প্রকাশক ও মুদ্রাকর সীতাংশুকুমার দাশগুপ্ত। এবং সমরেশের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন বুদ্ধদেব বসু, নরেশ গুহের মতো ব্যক্তিরা। কলকাতা চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বাদীপক্ষের অভিযোগের ও সাক্ষ্যের সারকথা হলো, প্রজাপতি অশ্লীল, সাহিত্যের পবিত্রতা নষ্টকারী এবং এ উপন্যাস পড়ে কোমলমতি কিশোর-কিশোরীরা গোল্লায় যাচ্ছে। এবং যুবকেরা ইন্দ্রিয়শক্তির কথায় ভরপুর এই উপন্যাস পড়ে তাদের সুকুমারবৃত্তি হারিয়ে ফেলেছে। ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে ছেলেমেয়েরা লাইন দিয়ে দেশ-এর ওই শারদীয় সংখ্যাটি কিনেছে। সাহিত্যে মাধুর্য, নৈতিক শক্তি উজ্জীবনী বৈশিষ্ট্যের স্থলে 'প্রজাপতি'র মতো রচনা কামনার জোগান দিয়েছে মাত্র। এর সামাজিক ও সাহিত্যমূল্য কোনোটাই নেই। অন্যদিকে বুদ্ধদেব বসুর মতে, তিনি এতে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক বাস্তবতার ছবিই পেয়েছেন। এর ভেতরে অশ্লীল বলে কোনো কিছুই তাঁর চোখে পড়েনি। আর সাহিত্যে শ্লীল-অশ্লীলতার নিক্তি কোথায়? তাহলে রামায়ণ-মহাভারতসহ মহা মহা গ্রন্থের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠতে পারে। এর নায়ক ও এখানে উপস্থাপিত নারী-পুরুষ এবং তাদের কর্মকাণ্ডে যে নষ্টামি তা সময়েরই ছবিমাত্র। এই ছবি বাস্তবসম্মত। লেখক এর মাধ্যমে সমাজের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়েছেন। নরেশ গুহও প্রায় বুদ্ধদেব বসুরই প্রতিধ্বনি করেন। এখানে ব্যবহৃত শব্দাবলী আগে কখনো ব্যবহার হয়নি প্রসঙ্গে বলেন, রবীন্দ্রনাথও অনেক শব্দ ব্যবহার করছেন, যা তাঁর আগে কেউ কখনো ব্যবহার করেননি। সমরেশ বসু তার লিখিত বিবৃতিতে এ উপন্যাসের গঠন, চরিত্র চিত্রণ এবং তার নায়ক সুখেনের জীবন ও তাঁর কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'বাবার দুর্নীতি, দাদাদের দলীয় রাজনীতিকে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার করা_সব সুখেনের মনকে তিক্ত করে তোলে। সে বেখাপ্পা হয়ে ওঠে। হয়ে ওঠে অবাধ্য। জীবন সম্পর্কে বীতস্পৃহ। এ উপন্যাস তাঁর জীবনের শেষ চবি্বশ ঘণ্টার কাহিনী।' ...তার মতে, কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক লোক সুখেনের মতো মাস্তান চরিত্র দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে না। বরঞ্চ যাদের বিপথে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে তারা সাবধান হবে। 'প্রজাপতি' নিষিদ্ধ করার মামলার রায় বাদীর পক্ষে যায়। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৬৮ সালে রায় ঘোষণা করা হয়: উপন্যাসটি অশ্লীল এবং একে নিষিদ্ধ করতে হবে। মজার ব্যাপার হলো, দিনটি ছিল সমরেশ বসুর জন্মদিন। এতে বলা হয়, 'উপন্যাসটিকে অশ্লীল বলে ঘোষণা করার পর তার লেখক সমরেশ বসুকে কোনো মতেই অব্যাহতি দেয়া যায় না। তা তিনি যত বড় লেখকই হোন না কেন?_এই মন্তব্যসহ আমি তাঁর আলোচ্য উপন্যাসকে (প্রজাপতি) অশ্লীল ঘোষণা করছি। তাকে সাজাও দিচ্ছি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯২ ধারা অনুযায়ী তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করছি। ২০১ টাকা জরিমানা অনাদায়ে দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিচ্ছি। এবং প্রকাশককেও একই সাজা দেয়া হয়। এবং দেশ শারদীয় সংখ্যার (১৩৭৪) ১৭৪ থেকে ২২৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত নষ্ট করে দেয়ার জন্য বলা হয়। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানার টাকা জমা দেয়া হয়। এবং মামলা হাইকোর্টে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কলকাতা হাইকোর্টও ব্যাঙ্কসাল কোর্টের রায়ই বহাল রাখে। এসব ঘটে ১৯৭৩ সালে। হাইকোর্টে বিচারপতি মামলাটিকে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অনুমতিও নাকচ করে দেন। কিন্তু হাল ছাড়েন না সমরেশ বসু ও দেশ কর্তৃপক্ষ। মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে ১৯৭৯ সালে। ১৯৮০ সালে প্রজাপতির অনুবাদ চাওয়া হয়। অনুবাদের কাজে সময় ১৯৮২ সালে পেঁৗছায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনুবাদটি আগুনে নষ্ট হওয়ায় ১৯৮৫ সালে আবার অনুবাদ পেশ করা হয়। শুনানি চলে ২০, ২২ ও ২৩ আগস্ট, ১৯৮৫ সালে। রায় প্রকাশিত হয় এক মাস পর ১৯৮৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়, প্রজাপতি অশ্লীল নয়। এবং অভিযুক্তদের অভিযোগমুক্ত করা হলো। সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি ১২ বছর ধরে ছিল। রায় ঘোষণা হলে সাগরময় ঘোষ একে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন। বাংলা সাহিত্যের কোনো উপন্যাস নিয়ে ১৭ বছর ধরে আইনি লড়াই এই প্রথম। বারবার ডিএইচ লরেন্সের 'লেডি চ্যাটার্লিজ লাভার'-এর কথা এসেছে। সাহিত্যের অশ্লীলতার সীমা নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। অনেক আড্ডা, বৈঠক, আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে 'প্রজাপতি' ও সমরেশ বসু। অথচ কী ছিল এই উপন্যাসে? এর নায়ক সুখেন। তারই জবানে কাহিনীটা বলা। তার এই বয়ান মাত্র ২৪ ঘণ্টার, কিন্তু এতেই তুলে আনা হয়েছে সুখেনের গোটা জীবন। নানা ঘটনা, কথাবার্তা আগুপিছু করে বারবার দেখানো হয়েছে। বয়ানের সূচনা একটা প্রজাপতি ধরার কাহিনী। ধরতে গিয়ে ভেসে উঠেছে জিনা নামের একটা মেয়ের কথা। এর সঙ্গে জড়িয়ে আমরা জানি শিখার কথা। শিখাকে সুখেন বিয়ে করে ঘর বাঁধতে চেয়েছিল। সে হতে চেয়েছিল শিক্ষক। দুর্নীতিপরায়ণ বাবা, বেল্লেলাপনার হাতে নিজেকে ছেড়ে দেয়া মা, বড় দুই ভাইয়ের রাজনীতি ও স্বার্থসিদ্ধিসহ নানা পাঁকচক্রে পড়ে সুখেনের আর কিছু করা হয় না। মাস্তানি হয়ে ওঠে সময় কাটানোর ও বেঁচে থাকার উপায়। কায়েমি স্বার্থবাদী লোকজন, সমাজের তথাকথিত অভিজাতেরা তাকে ব্যবহার করে। সেও সুযোগ নেয় ভোগ-বিলাসের। এবং একটি দুর্ঘটনা দিয়ে ইতি টানা হয় এ কাহিনীর। নারীদেহের বর্ণনা কিছু থাকলেও নারী-পুরুষের তুমুল কোনো সঙ্গম দৃশ্যের বর্ণনা পর্যন্ত এতে নেই। যেটুকু আছে তা আভাসে ইঙ্গিতেই আছে। এ উপন্যাসে ব্যবহৃত শব্দাবলী তুলে আনা হয়েছে কলকাতার রকবাজদের সেই সময়ের প্রচলিত কথাবার্তা থেকে। সমরেশ বিষয়টি চিন্তা করেছিলেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি গল্প পড়ে। সেখানে নিজের জবানে একজন সমাজবিরোধী গুণ্ডা_সে যে মন্ত্রীর পোষ্য ছিল তাকে দোষারোপ করে অনেক অভিযোগ করছে। সমরেশের মনে হলো, সে যে ভাষায় নিজের কথা বলছে তা রীতিমতো সভ্য, শিক্ষিত মানুষের ভাষা, এতে তার বয়ান কৃত্রিম হয়ে উঠেছে। সমরেশ সেই চিন্তা থেকে একজন লম্পট ও বখে যাওয়া ব্যক্তির জবানেই তাঁর নিজের কাহিনী তুলে আনতে চাইলেন। লেখা হলো 'প্রজাপতি'। 'প্রজাপতি' অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হলে সেই দায়ভার দেশ পত্রিকার সেই সময়ের সম্পাদক অশোককুমার সরকার নিজের ওপরেই নিয়েছিলেন। তাদের আমন্ত্রণে লেখক লিখেছেন, তাঁরা সে লেখা ছেপেছেন, এটা যদি অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হয় তার দায়িত্ব তাদেরই। আর সমরেশ ২ নভেম্বর, ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত নিষেধাজ্ঞার দায়মুক্ত 'প্রজাপতি'র ভূমিকার ইতি টেনেছেন ফরাসি সাহিত্যিকের একটি মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে। পাঠককে জিজ্ঞাসাকাতর করতে চেয়েছেন_শহরের রাস্তায় আবর্জনার ছবিসহ প্রতিবেদন ছাপা হলে সেজন্য ওই প্রতিবেদক ও ফটোগ্রাফারকে যদি কেউ আক্রমণ করে_তাহলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ায়? ১২ মার্চ, ১৯৮৮ সালে সমরেশের মৃত্যু হয়। বলতে দ্বিধা নেই, বাংলা সাহিত্যে সমরেশের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। বালজাক যা করেছেন ফরাসি সাহিত্যের জন্য, বাংলা গল্প-উপন্যাসে সমরেশ বসুর কাজ সেই ভূমিকায় দেখে নেয়া যেতে পারে। সমরেশের চরিত্ররা উঠে এসেছে পুঁজিবাদের বিকার ও এর শিকারে পরিণত হওয়া দুই শ্রেণী থেকে। সঙ্গে জড়িয়ে গেছে দেশ, রাজনীতি, ইতিহাস ও জীবনরহস্য_কী নয়! বিচিত্র বিষয় এবং আঙ্গিকে নিত্য ও আমৃত্যু ক্রিয়াশীল লেখকের নাম সমরেশ বসু। দেবেশ রায় তাঁর মৃত্যুতে লেখা রচনাটির শিরোনামই দিয়েছিলেন, 'জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি লেখক এবং পেশাদার লেখক' (প্রতিক্ষণ, ৫ম বর্ষ, ১৭ সংখ্যা, ২-১৬ এপ্রিল ১৯৮৮)। লিখেছিলেন, 'তিনি আমাদের মতো অফিস-পালানো কেরানি লেখক ছিলেন না_যাঁদের সাহস নেই লেখাকে জীবিকা করার অথচ ষোল আনার ওপর আঠারো আনা শখ আছে লেখক হওয়ার।' আর লেখক হিসেবে সমরেশ আমৃত্যু যে লড়াই করেছেন তার কোনো তুলনা নেই। তাঁর নিজের জীবনই আরেক মহাকাব্যিক উপন্যাস। 'চিরসখা' নামের বোধ করি ৫ লাখ শব্দের বিশাল উপন্যাসে সেই লড়াইকে স্মরণীয় করে রেখেছেন তারই পুত্র নবকুমার বসু। সেই লড়াই ভালোবাসাকে বুকে নিয়ে সমস্ত অসুন্দর ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়াই। সেই লড়াইয়ে 'প্রজাপতি'র উড়াল বাংলা সাহিত্যের জন্য বিরাট ঘটনা হলেও সমরেশ জীবন ও শিল্পের কাছে বোধ করি ততটা বড় কোনো কিছু নয়। মহামান্য পাঠক, নিশ্চয়ই লক্ষ করে থাকবেন, 'প্রজাপতি'র উড়ালের পর সমরেশ বসু মাত্র তিন বছর বেঁচেছিলেন।

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সমরেশদা - মিহির সেনগুপ্ত

amarboi.com

সমরেশ বসু (১১ ডিসেম্বর ১৯২৪-১২ মার্চ ১৯৮৮)। ছবি : নাসির আলী মামুন

সমরেশদা - মিহির সেনগুপ্ত

সমরেশদার কিছু খুচরো স্মৃতি
মিহির সেনগুপ্ত
তোমার মধ্যে একটা লেখার প্রবণতা আছে বলে মনে হয় আমার। তাই আগেভাগেই বলে রাখছি। নইলে কী লিখতে কী লিখবে, আমার কথা লিখতে গেলে অনেকেরই হাত চুলবুল করে তো! যত সম্ভাব্য-অসম্ভাব্য চুট্কুলা আর মুখরোচক কেচ্ছাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। দুশ্চরিত্র, মদ্যপ বলে খ্যাতি আছে তো আমার!
_তার জন্য তুমি নিজেও কম দায়ী নও। তোমার লেখাগুলোই দুশ্চরিত্র হিসেবে তোমায় প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। এত প্রেমের কাহিনী, তার কিছু কি আর 'ঘটনা' নয়? মানুষ হয়তো এমন ভাবে।
_তোর কথাটা কী? তুই তো আমার সব লেখা পড়েছিস বলছিস। মিশছিসও অনেক দিন থেকে। কালকূটের সঙ্গে বাস্তব ভ্রমণও তোর কম নয়।
_আমার মনে হয়, তোমার মধ্যে সেঙ্ ফ্যান্টাসির একটা মস্ত বড় ব্যাপার আছে।
_তা আছে। তবে সেটা কোন লেখকের মধ্যে নেই? ব্যাপারটা যখন কালকূট হিসেবে লিখি, তখন প্রেমের একটা মহিমান্বিত রূপ প্রকাশ করার প্রচেষ্টা থাকে। কালকূট কখনো উপভোগে মত্ত হয় না, ভোগে স্নিগ্ধ থাকে। সমরেশ বসুর ব্যাপারটা আলাদা, সে ব্যাটার বাস্তবের প্রতি নিষ্ঠ থাকার দায় আছে।
_দায়টা কার কাছে?
_প্রথমত, নিজের কাছে কনফেশনের প্রশ্নে, দ্বিতীয়ত, পাঠকদের কাছে আর্ট এবং ভণ্ডামিমুক্ত থাকার স্বার্থে।
_কনফেশন কেন? কোনো কাজের জন্য কি পাপবোধে ভোগো?
_পাপবোধে যারা ভোগে না, তারা ক্রিমিনাল, অন্তত সাইকোলজিক্যালি।
কথাগুলো মোটামুটি এ রকমভাবেই হয়েছিল রূপনারায়ণের কুলের এক সেচ বিভাগের বাংলোর বারান্দায় বসে এক বর্ষণমুখর সকালে। অনেকে মিলে গিয়েছিলাম। আগের রাতে যথেচ্ছ ইলিশ মাছ, খিচুড়ি এবং 'রস'-এর কল্যাণে বাকি সবাই তখনো ঘুমে বিভোর। সমরেশদা আর্লি রাইজার। অভ্যাসটা আমারও। প্রাতঃকৃত্য সেরে দুজনে নিরুপদ্রবে হালকা কথাবার্তা কইছিলাম। জায়গাটির নাম 'দেনার'।
প্রকৃতি এখানে অকৃপণ। বাংলোর আশপাশে বিরাট এলাকা নিয়ে পাঁচিলঘেরা বাগান। বিশাল বিশাল গাছ, বেশ সযত্ন পরিচর্যায় প্রতিপালিত। সামনে রূপনারায়ণ তার বিরাট বিস্তার নিয়ে বিরাজমান। সার্থকনামা নদ। জীব জগতে নাকি পুরুষ প্রাণী স্ত্রী প্রাণী অপেক্ষা সুন্দরতর। এমনকি মানুষের ক্ষেত্রেও। নদী এবং নদের ক্ষেত্রে সাধারণত এই নিয়মটি অন্তত খাটে না। আমার কাছে নদ বলতে অজয়, দামোদর ইত্যাদি। তাদের কখনোই আমার দর্শনধারী বলে মনে হয়নি। কিন্তু রূপনারায়ণ তা নয়। তার মধ্যে যেমন একটা ম্যাচো ভাব, তেমনই কাণ্ড স্বভাব। এ ছাড়া নদীই আমার কাছে আকর্ষণের। তার প্রেমিকাসত্তাটি আমাকে বড় মজায়।
এখানে প্রকৃতির বিস্তারটি প্রকৃতই উদার। সমরেশদা তাঁর লেখালেখিতে প্রকৃতিকে মানুষের পরিমণ্ডল ব্যতিরেকে ব্যবহার বিশেষ করেন না বলেই আমার ধারণা। কিন্তু তাঁর স্বভাবে প্রকৃতি-প্রিয়তা বড় ব্যাপক। মানুষটি প্রকৃতিকে আকণ্ঠ-আস্বাদে ভোগ করেন। ব্যাপার আরো সত্য মনে হয়েছিল, যখন অনেকক্ষণ কথাবার্তা কইবার পর, দুজনেই গাছেদের বিপুল বর্ষণের মধ্যে প্রায় নৃত্যরত দেখছিলাম এবং মৌন ভঙ্গ করে বলেছিলাম_একটা গান গাও। সমরেশদা কিছুকাল নাকি দস্তুরমতো না হলেও শিখেছিলেন। আমার অনুরোধটা পরিবেশের সমর্থন পেয়েছিল। প্রথমেই তিনি শোনালেন 'আজি বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে এসেছি।' গলা অসাধারণ নয়, তবে সুরে আছে এবং তাঁর আবেগ পরিবেশ ও গানের বাণীর সঙ্গে একাকার হয়ে অনবদ্য লেগেছিল। আমি ভুলভাল সুরে অজস্র গান গাইতে পারতাম। সমরেশদাকে আগে শুনিয়েওছিলাম। সেদিনও গেয়েছিলাম তাঁর নির্দেশে। অতুলপ্রসাদী টপ্পা_'তাহারে ভুলিবি বল কেমনে?' পরিবেশ মজিয়েছিল দুজনকেই। সুরের শুদ্ধাশুদ্ধি কাউকেই বিব্রত করেনি। মনে বড় আনন্দ ছিল দুজনেরই।
সেদিন রাতের পান-ভোজনের পর দলের সবাই ঘুমোলে সমরেশদা বলেছিলেন, ইলিশ মাছ ধরা দেখেছো কখনো রাতের বেলায়? জেলেদের ডিঙিতে চেপে? বলেছিলাম, ছোটবেলায় দুই-একবার, দেশের বাড়িতে।
_দেশ কোথায় ছিল?
_বরিশালে।
_চলো আজ রূপনারায়ণের মাঝিদের সঙ্গে দেখি। বলা যায় না, হয়তো বরিশালের কোনো জেলের সঙ্গে তোমার দেখা হয়েও যেতে পারে। উদ্বাস্তু হয়ে কতই তো এসেছে এ পারে।
সেদিন এক চমৎকার অভিজ্ঞতা এবং সম্পর্কের উষ্ণতায় রাতটা কেটেছিল। এই ঘটনার কাহিনীটা আমি একটা ছোট পত্রিকায় ভিন্নভাবে লিখেছিলাম। এখন বিস্তারিতে আবার লিখছি। আগের লেখাটা হয়তো দু-চারজন পড়ে থাকলেও থাকতে পারেন। বরং একটা বড় লেখার মধ্যে কাহিনীটা ধরা থাকুক_এমন ভাবছি এখন।
সমরেশদার সঙ্গে সেদিন আগেভাগে কথাবার্তা হয়েই ছিল। রাতে সঙ্গের সাথিরা সারা দিনের হুল্লোড় এবং মদ্যপ্রভাবে রাত ১১টার মধ্যেই ঘুমে কাদা। সমরেশদার নিয়মিত পানাভ্যাস ছিল, সুতরাং ছন্দপতন ঘটাতেন না। আমার তখন সবে মদ্য-প্রাশন ঘটেছে। সুতরাং মনে ভয় এবং পাপবোধ দুটোই। ব্যাপারটা বিত্তাং বলার হেতু এই যে বরাবর একটা রটনা শুনে এসেছি যে সমরেশদার নাকি মাত্রাজ্ঞান নেই, সময়-অসময়ের ঠিক নেই, কাছা-কোঁচার পর্যন্ত সাব্যস্ততা থাকে না, তিনি নাকি এমনই দরের একজন পানাসক্ত ব্যক্তি। আমি অবশ্য আমার সুদীর্ঘ সাহচর্যে কোনো দিন তাঁর এমন অবস্থা দেখিনি। তাঁর প্রথম যৌবনকালে কী করেছেন, সেটা অবশ্য জানা নেই। তখন আমার বয়সটা তাঁর সঙ্গী হওয়ার উপযুক্ত ছিল না।
অতএব, আমাদের দেহমন ফুরফুরে থাকলেও ইন্দ্রিয় তথা প্রতঙ্গ-নিচয় যথা-স্বাভাবিকই ছিল। আমার মধ্যে একটা ভিন্ন উন্মাদনা কাজ করছিল। জানতাম, 'গঙ্গা' উপন্যাসটি লেখার আগে তিনি দীর্ঘদিন জেলেদের সঙ্গে তাদের কঠিন জীবনের সঙ্গী হয়ে শুধু ক্ষেত্রকর্ম করেছিলেন। উপন্যাসটির বাস্তবতা সেই বিষয়ে ব্যাপক সাক্ষ্য দেয়। লোকজীবনের কত মহৎ উপন্যাস রচনা করার জন্যই যে তিনি এ রকম কঠোর বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছেন!
অনেক দূরে গুটি গুটি ভাসমান ডিবড়ির আলো দেখা যাচ্ছিল। ওগুলো আসলে ইলিশ ধরা নৌকোর ডিবড়ির আলো। নৌকোগুলো অন্ধকারে ঠাহর হয় না, শুধু আলোগুলোকে মনে হয় যেন তারা জলের মধ্যে ভাসছে। একটা আলো খানিক কাছাকাছি এলে সমরেশদা মুখের দুই পাশে হাত দুটো চোঙার মতো করে একটা তীব্র আওয়াজ করলেন। এ আওয়াজ জেলেরা বোঝে। নৌকো থেকে তাই একই তীব্রতায় প্রতি-আওয়াজ এল একটা। সমরেশদা বললেন, হবে হে, আমাদের মাছ ধরা দেখা হবে। বললাম, কী করে বুঝলে?
_না হলে আওয়াজটা অন্য সুরে দিয়ে, নৌকো মাঝের দিকে চালিয়ে দিত। আওয়াজটা শিখেছিলাম সেই 'গঙ্গা'র সময়ে। ব্যাপারটায় খানিক মন্ত্রগুপ্তি আছে। না শিখলে, না জানলে, এমনি হবে না।
কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি লম্বাটে নৌকোর ছুঁচলো মুখ জলের প্রান্তে এসে লাগল। আকাশে তখন বর্ষা রাতের মেটে জোছনা। সারা দিন বৃষ্টি গেছে, খুব তাড়াতাড়ি আর বৃষ্টি হবে বলে মনে হয় না।
কিন্তু জলের কিনারে পেঁৗছাতে অন্তত শ-তিনেক কিলোমিটার কাদা পেরিয়ে যেতে হবে। সমরেশদা বললেন, পারবে? ব্যাপারটা কিন্তু সহজ না। বললাম, আমার কথা ছাড়ো। আমার জিলায় সন্তানরা মাতৃগর্ভ থেকে সরাসরি কাদায় পড়ে। তুমি যখন গঙ্গামাটির কাদায় জীবন দর্শন করছিলে, সেটা ছিল তোমার ভাবের দশায় কাদাঘাটা, আমি তখন কোমর অবধি পাঁকে ডুবিয়ে চ্যাং, পাঁকাল, বান মাছ ধরার নামে জীবনের দুঃখ হাতড়াতে শুরু করেছি। বয়স তখন ১০ কি ১১! আমায় কাদা চিনিয়ো না।
_আরে আমিও বাঙাল বাচ্চা মূলত।
_সে তো ঢাকাই বাঙাল। বরিশালে যদি কোনো কালে একটা বর্ষা কাটাতে, না হয় কথা ছিল।
আমি পূর্ব বাংলার সব চাইতে নদী, বিল, বাঁওড়ের জিলার ছেলে ছিলাম। ১০-১২ বছর বয়স থেকে মাছ ধরা দেখতে এবং মাছ ধরতে খাল, বিল, নদী, বাঁওড়ে জেলেদের সঙ্গে রাত কাটিয়ে ভোররাতে বাড়ি এসে বাবার বিদ্যাসাগরী চটি বা কাষ্ঠ খড়মের আস্বাদ! কত করেছি তার কি শেষ আছে? অবশ্য সেই মাছের ভাগ যা পেতাম, তা বাবা খেতেন না, এমনো নয়। সুতরাং সমরেশদাকে একেবারে তুবড়িতে যেন উড়িয়ে দিলাম।
মাঝি আওয়াজ দিতে, কাপড় গুটিয়ে চটি হাতে দুজনে থপাস্ থপ, থপাস্ থপ্ চলছি তো চলছি। দুজনেরই কাঁধে ঝোলা। সমরেশদারটা একটু যেন ভারী।
সে রাতের নৌকোভ্রমণ খুবই উপভোগ্য হয়েছিল, অন্তত আমার ক্ষেত্রে। মনে উত্তেজনাটা ছিল একজন বিখ্যাত এবং বিতর্কিত লেখকের সানি্নধ্যে দীর্ঘসময় অতিবাহিত করার। প্রকৃতির ব্যাপারটা তো ছিলই। তাঁর সঙ্গে কাছে-দূরে কম জায়গায় ঘুরিনি। কিন্তু রূপনারায়ণের এই বেড়ানোটার মতো বেড়ানো আর ঘটেনি। বর্ষকালের রাত ছিল সেদিন। শুক্লপক্ষ হলেও জোছনার প্রাবল্য ছিল না মোটেই। বৃষ্টি হচ্ছিল না বটে, তবে আকাশে মেঘের আনাগোনা যথেষ্টই ছিল। ফলে কখনো মেঘ, কখনো চাঁদের আলো_একটু ভিন্ন প্রাকৃতিক আবহ তৈরি করছিল।
নৌকোয় উঠে কী কায়দায় বসে পায়ের কাদা সাফ করতে হয়, দেখলাম সেসব কায়দাকানুন তাঁর রপ্তে দিব্য আছে। নৌকোয় জুত করে বসে, থলে থেকে একটি বেশ বড় মাপের পেটমোটা বোতল বের করে জেলেদের মধ্যে যে বয়োজ্যেষ্ঠ তার হাতে দিয়ে বললেন, জল, পাত্র_এসব আছে তো?
_আইজ্ঞা। তাঁর উত্তর। আমি 'আইজ্ঞা' শুনে বুঝলাম তিনি পূর্ব বাংলার।
নৌকোয় তিনজন জেলে। তাদের একজন কিশোর প্রায়। সমরেশদা বললেন, তোর খেয়ে কাজ নেই। এখনো গোঁফ গজায়নি। বড় দুজন কিশোরটির হাতে 'খুঁট' ধরিয়ে চারটি নারকেলের মালা বের করে বললেন, এতে চইলব্যে, বাবু? এ ছাড়া তো পাত্তর নাই আইজ্ঞা। সমরেশদা বললেন, খুউব চলবে। কিন্তু 'বাবু' ডাকটা চলবে না। আমার নাম এই। খুব অস্বস্তি লাগলে সঙ্গে একটা 'দা' যোগ করতে পারো। এবার তোমাদের নামগুলো বলে ফেলো তো কত্তা।
_মোরে কত্তা কলেন! মুই কি কত্তা ডাকের যুগ্যি?
সময়টা ছিল আশির দশকের গোড়ার দিকের। তখনো নিম্ন বর্গের তথা অবহেলিত জাতের মানুষদের সামাজিক সম্মান তেমন প্রশংসনীয় স্তরে ওঠেনি। নিজেদের আত্মসম্মান বিষয়ে তাদের নিজেদেরই অবস্থান ছিল নড়বড়ে, যা এখনো যে পুরোটা গেছে এমন নয়। সমরেশদা মানুষের সম্মান বিষয়ে খুব সতর্ক-সচেতন মানুষ ছিলেন। ফাঁকা বুলি দিয়ে 'আমার-তোমার মধ্যে কোনো প্রভেদ নাই' গোছের বাণী দিয়ে, লোকদেখানো উদারতার মধ্যে তাঁকে কখনো দেখিনি। যখন যে সমাজের মানুষের সঙ্গে মিশতেন, তাদের রীতি-কানুনটা রপ্ত করে নিতেন খুব দ্রুত। তারা যাতে সহজ সেই সহজতায় চলে যেতে পারত অক্লেশে। তিনি তাদের বরং বলতেন, দেখো, আমাদের-তোমাদের মধ্যে তফাত আছেই। সেটা যাতে আমরা উভয় তরফ থেকে আস্তে আস্তে কমিয়ে শেষ করতে পারি, সেই চেষ্টাটাই করা উচিত। এর জন্য হয়তো সময় লাগবে, তবে এ পাপ ঘুচবেই একদিন।
আমি অবাক হচ্ছিলাম নৌকোর জেলেরা সমরেশদা আর আমাকে অত সমাদরে নিল কেন এবং কোনো প্রশ্ন না তুলেই? আমরা কারা, কোত্থেকে এসেছি, আমাদের উদ্দেশ্য কী_কিছুই তো তারা জানতে চাইল না! সমরেশদা নৌকোর গলুইয়ে বসে পা ধুতে শুরু করার আগে একবার বলেছিলেন, আমরা একটু তাদের সঙ্গে ভেসে ভেসে মাছ ধরা দেখতে চাই। ব্যস, তারা অমনি রাজি হয়ে গেল? শুধু বলল, সে আর এমন কী কথা? তবে এ বড় কষ্টের ব্যাপার। আপনারা শহর-নগরের বাবু মানুষ, কাদাপ্যাকে পা ডুবোয়ে আলেন, না বলব না। তবি বড় কষ্টডা হবেনে আপনাদের।
এইমাত্র কথা। বয়স্ক লোকটি বাবা, অন্য দুজন তার দুই ছেলে। সমরেশদা নাম জিজ্ঞেস করলে বয়স্ক লোকটি জানালেন তাঁর নাম গাঙ্গুরী দাস, বড় ছেলে বলা বা বলরাম দাস এবং কিশোরটি ছোট ছেলে, নাম সুবল দাস। গাঙ্গুরী নামটি বেশ। পুরো নামটা হলো গাঙ্গুরীপদ দাস। গঙ্গাপদ নামটি শোনা যায়, কিন্তু গাঙ্গুরী নামটা একেবারেই অভিনব। সমরেশদাকে বললাম, তুমি যদি এ রকম একটা পটভূমিকা নিয়ে লেখায় এই নামটা ব্যবহার করতে, ভাবতাম তুমি ব্যাপারটা বানিয়ে ইচ্ছাপূরণ করেছো। কিন্তু সঙ্গে থেকে তো জানলাম, এসব ব্যাপারস্যাপার বাস্তবেও কত কাকতালীয় হয়। সমরেশদা বললেন, বাস্তবের মজাটাই তো ওখানে। সে সব সময়ই কল্পনাকে ডিঙিয়ে যায়। তবে সাহিত্যে বাস্তবের ব্যবহারটা গল্পের মোড়কে না করতে পারলে 'গাঙ্গুরী'কে উপন্যাস বা গল্পের চরিত্র করা যায় না। কিন্তু এসব আলোচনা এখানে করলে আমাদের এই রাতটা নীরস হয়ে যাবে। তা ছাড়া ব্যাপারটা উপস্থিত যাদের সঙ্গে আমরা আছি, তাদের জন্য সম্মানজনকও নয়।
এই হচ্ছে সমরেশদার সাধারণের সঙ্গে মেলামেলার বিবেচনা। অন্য অনেক ক্ষেত্রেই সমরেশদা অনাবশ্যকভাবে সাহিত্যিক আলোচনা টাল খাইয়ে দিতেন। সেদিন নৌকোর মানুষদের এই মানুষটির স্বরূপ বুঝতে কিছুমাত্র সময় লাগেনি। এসব কথার স্মৃতিচারণা করছি এ কারণে যে আমার নিজের বরাবরের একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল সমরেশ বসু কিভাবে তথাকথিত নিম্নবর্গীয় চরিত্রগুলোকে, মেয়ে-পুরুষ নির্বিশেষে নির্বাচন করতেন, তার রহস্য জানা। তাদের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য তো তাদের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার প্রয়োজন ছিল। অবশ্য জানতাম যে একসময় তিনি কমিউনিস্ট পার্টি করতেন এবং বস্তি এলাকায় থাকতেন, শ্রমিকদের মধ্যে। তা ছাড়া মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে সাধারণবর্গের মানুষদের সঙ্গে মেশার একটা সহজাত প্রবণতা তাঁর ছিল, যা তিনি পেয়েছিলেন তাঁর কঠোর জীবনসংগ্রাম তথা শিল্পীসত্তা থেকে।
জেলেদের মাছ ধরা সেদিন মাথায় উঠেছিল। সমরেশদা জেলেদের জীবনেরই নানা গল্প করছিলেন। গাঙ্গুরী দাসকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কত্তা, কাত্তিক, নরেন, শীতল_এদের সঙ্গে পরিচয় ছিল কোনো কালে? ওরা একসময় গঙ্গায় মাছ ধরত। অনেক দিন হয়ে গেল, জানি না কে আছে, কে নেই বা কেমন আছে। গাঙ্গুরী বলেছিলেন, তা আর চিনিনে, তারা যে আমাদের আপ্তজন। আমরা হলেম গে জলের মানুষ। বাড়ি যেখানেই হোক, দেখা কখনো না কখনো তো হবেই। এই ধরেন, এক খ্যাপ্ মারতি যদি রায়মঙ্গলে গিয়ে পড়ি, সেখানে দেশ গাঁয়ের দুই-চারজনের সঙ্গে দেখা হবেই।
_ওপারের কোথাকার লোক তোমরা?
সাতক্ষীরের শ্যামনগর। একাত্তরের যুদ্ধে এদিকে আসতি হলো। কাত্তিক, লরেন, শেতল ওরা হল্য গিয়ে আপনার হাসনাবাদ বসিরহাটের দিকের লোক। তবে আসল কথা কী জানেন, জেলেগার বাড়িঘর যেখানেই হোক, আসল ঘর মোহনায়। ঘুরেফিরে সেখানে সবার সাথি দেখা হবেই।
_'মোহনায় আসল ঘর! বাহ, কথাটি তোমার বেশ, কত্তা।' সমরেশদা কথাটি উচ্চারণ করে বেশ কিছুক্ষণের জন্য মৌনী হয়ে গেলেন।
গাঙ্গুরী সমরেশদার হাতে একটি হুঁকো ধরিয়ে দিয়ে ছেলের সঙ্গে পানে ব্যস্ত। সুবল খুঁট ধরে আছে। একটাও মাছ পড়েনি, কিন্তু সে নিয়ে কারোরই কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। আমি বোকার মতো চুপচাপ বসে ছিলাম। গাঙ্গুরী আমার অবস্থাটা বুঝে একটা নারকেল মালার পাত্র 'রস' পূর্ণ করে দিতে চাইলে আপত্তি জানালাম। আমার দৌড় এক-আধ চুমুক পর্যন্ত। সে কোটা সন্ধ্যাবেলায়ই শেষ হয়ে গেছে।
সমরেশদার যেন বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত। তাঁর এ রকম ভাবের ঘোরের সময় আমরা যারা সঙ্গে থাকি, তারা সাধারণত বিরক্ত করি না। তত দিনে বুঝে গেছি, ভ্রমণে বেরোলে এই মুহূর্তগুলো তাঁর প্রকৃত সম্ভোগের সময়। তাঁর কথায়, 'ভ্রমণ-বিষাদের ক্ষণ'। কারণ সময় ছুটে চলেছে। এই মুহূর্তটা আর ফিরবে না। সুতরাং 'সর্বপ্রকারে তাকে উপভোগ করে নাও, তার নির্যাস স্মৃতিতে গেঁথে রাখো।' লেখক মানুষ তো, পরে কাজে লাগাবেন। কিন্তু সেদিন এই মগ্ন উপভোগের সুযোগ তাঁকে দিলাম না। ধ্যান ভাঙিয়ে বললাম, কী ব্যাপার তে'পর রাত্তিরে মাঝগাঙে এনে ছেড়ে দিয়ে, নিজে যে ধ্যানী অমোঘ সিদ্ধি হয়ে বসলে? কী রকম লোক হে তুমি? বললেন, ধ্যানী অমোঘ সিদ্ধি! বেশ কথাটি বললে কিন্তু। আসলে সর্বভ্রমণে, সর্বস্থানে, সব সময় কথা-গল্প চলে না। এমন একটা বা প্রায় অনুরূপ পরিবেশেই সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেছিলেন_'আমি মানব একাকী ভ্রমি, বিস্ময়ে প্রমি বিস্ময়ে।' আমি সেই 'বিস্ময়ের' খুদ-কুঁড়োটুকু চেটেপুটে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এই প্রগাঢ় স্তব্ধতা, এই বিস্তীর্ণ বারিধি, মাথার ওপরে অনন্ত আকাশ, সর্ব চরাচরে এই অসামান্য মৌন, এর মধ্যে কি কথা মানায়? এই উপভোগের মালিক, সর্বজীব জগতের মধ্যে একমাত্র আমি, মানুষ। কী অভিনব সৌভাগ্যের একমাত্র অধিকারী এবং তা শুধু একবারেরই জন্য।
বললাম, 'আবার যদি ইচ্ছা কর, আবার আসি ফিরে।' বললেন, সে কী হয় আর? কী জানি? সমরেশদা, আগেই বলেছি খুব সুকণ্ঠ না হলেও সুরে ছিলেন। বিশেষ বিশেষ সময়ে, গভীর হৃদয়াবর্তের মুহূর্তে নিজের থেকেই গেয়ে উঠতেন। অনুভূত। উপলব্ধ বিস্ময়কে, আনন্দ বা বিষাদকে প্রকাশ করার উপযুক্ত গানের কলিটি ঠিক সময়ে এসে যেত তাঁর কণ্ঠে এবং তা যেন প্রায় ঋকমন্ত্রের অমোঘ উচ্চারণের মতো ধ্বনিতে। তা যে সব সময়ই রবিঠাকুরের গানের বাণীই হতো, এমন নয়। লোকায়ত কোনো গীত বা গাথার একটি বাণীকেই হয়তো মূলাধারে রেখে। বাকিটা নিজেই বানিয়ে নিতেন। গোটা গানটি হয়তো মনে নেই। কোথায় কোন বাউল, ফকির, মাইজভাণ্ডারীর আখড়া বা মাজার থেকে শোনা একটি মনমতন কলি তখন হয়ে উঠত একটি ভিন্ন গান। সুর থাকত লোকায়তই, নইলে যাদের সঙ্গে বিহার তারা মজবে কেন? সে রকমই অবস্থায় এখন দরাজ কণ্ঠে গেয়ে উঠলেন_
এমন মানব জনম আর পাবে না_
যদি পেয়ে গেছ মজে গেছ
তারে ভোগ করে নাও ষোল আনা।
দিন বৃথায় যেতে দিও না হে_
শুধু কালের সাথে তালে তালে
যাও হে এই মধুর ভ্রমণে
পিছন থাকুক পিছে পড়ে, পিছে ফিরে থেকো না হে
পিছন পানে চেও না।
মুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। গাঙ্গুরী বলে উঠলেন, 'বলিহারি যাই, বলিহারি যাইগো সাধু! আমার ক্যান্ য্যানো ডুবি মরতি ইচ্ছে হচ্ছে।' সমরেশদা বললেন, মোরো না। ডুবে যাও শুধু। ডুবে দেখো কী পাও। জিজ্ঞেস করলাম, তারপর? সমরেশদা ভাবের ঘোরেই বললেন, তারপর আর কী? 'পিছন থাকুক পিছে পড়ে, পিছে ফিরে চেও না।' এইমাত্র যেটুকু দেখলে, পর মুহূর্তেই তা গতস্য শোচনা। সৎকারের পর থেকেই শোক বিবৃতির বিধান, দাহকার্য শেষ হলে যে পেছন ফিরে তাকানো নিষেধ, তার কারণও এটাই। লোকাচারে বলা হয়, তাহলে নাকি ভীষণ দৃশ্য চোখে পড়বে। কথাটা কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। তাই খাস কথা হচ্ছে, 'পিছে ফিরে চেও না', শুধু সামনে চলো।
_গানটা তুমি এখনই বাজালে?
প্রথম কলিটা প্রচলিত দেহতত্ত্বের গান, বাকি কথাগুলো ভুলে গেছি বলে বানিয়ে নিলাম আর কী।
রাত শেষের যামের দিকে হেলেছে। গাঙ্গুরীর দেহমনে এখন নেশা প্রবল, তবে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটার মানুষ, বেসামাল নয়। ছেলেও তা-ই। নেশাভাং এদের করতেই হয়। নইলে এই অমানুষিক শ্রমের নিরন্তরতা বহন করতে পারবে কেন? গাঙ্গুরী সমরেশদার গান শুনে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কত্তা কী দেহতত্ত্বে আছেন? সমরেশদা বলেছিলেন, আর কোনো তত্ত্ব যে জানিনে ভাই। তবে দেহতত্ত্বটাও কি জানি? ঠিক বলতে পারব না।
_তা জানলি তো সব তত্ত্বই জানা হয়ি যায়। কেউ জানতি পেরেছে, এমন জানেন?
_একজন জেনেছেন বলে বিশ্বাস।
_তিনি কেডা?
_তাঁর নাম রবিঠাকুর। তিনি গেয়েছেন 'এই কি তোমার প্রেম ওগো হৃদয় হরণ। এই যে আলো পাতায় নাচে সোনার বরণ।'
_সবটা বুজতি পারলাম না, তবি আলো যে পাতার সাথি রসে মইজে আছে সেটা দেহতত্ত্ব বটে।
গাঙ্গুরী দাসের কথাটা শুনে সমরেশদা হামাগুড়ি দিয়ে তাঁর কাছে পেঁৗছে কাঁধের ওপর হাত রেখে বললেন, তোমার বাড়ি আমায় নিয়ে যাবে কত্তা? না হলে যে এবারের তিথি দরশনের চলাটা পূর্ণ হবে না। তুমিই খাঁটি 'দেহতত্ত্ব'টা বুঝেছ। ওই বুঝটা বুঝতে আমাদের ঢের যুগ কাটে। তুমি ধন্য কত্তা।
মদে কি নেশা হয়? নেশা হয় কথায়, আড্ডায়। সমরেশদার সঙ্গে নানা ঘাট-আঘাটায় গিয়ে সেটা বুঝেছি। বুঝেছি কথার মতো কথা আস্বাদ করতে হলে কথার জাল ফেলতে হয় আসরে। কথার রসিক যাঁরা, তাঁরা ঠিক সেই জালে সময়মতো ধরা দেবেনই। কারণ কথার নেশা বড় জব্বর নেশা। গাঙ্গুরী অনেকক্ষণ ধরেই পান করে চলছিলেন বটে, কিন্তু তা তাঁকে যতটা না নেশার্ত করেছিল গান এবং কথা তাঁকে নেশার্ত করেছিল বেশি। সমরেশদার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই। তাঁর কথা শুনে, গাঙ্গুরী যেন আবার তাঁর খোলসের মধ্যে ঢুকে গেলেন, সে খোলস উচ্চ-নিচের ভেদাভেদের ফলে তথাকথিত নিচের তলার মানুষের সন্দেহের খোলস, যেটা সব সময়ই যেন তাকে ঘিরে রাখতে চায়। পাছে উঁচুতলার মানুষ তাকে মিথ্যা সম্মান দেখিয়ে করুণা করে। অবশ্য এ সতর্কতা শুধু গাঙ্গুরীর মতো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন শ্রমজীবীর। ব্যাপারটা ব্যাপক নিচের তলার মানুষের যদি থাকত, তবে এ দেশে সমাজ বিপ্লবের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতো।
গাঙ্গুরী বললেন, তখন থেইকে আপনি আমাক 'কত্তা' কতিছেন। আবার এখন আমার বাড়ি যাতি চাচ্ছেন, আর কী সব ভালো ভালো কথা কয়েলেনও। মোরা মুক্যুসুক্যু, জাইলে কৈবত্ত মানুষ। সাঁইদার, মহাজনের লাত্থিকুত্থি, চাপরডা খাইয়ে বাইচে আছি। মোগোরে অত খাতির-সোম্মান কত্তি আছে?
সমরেশদা এসব কথা শুনছিলেন না। আমার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন, বুঝলি, আমার ভ্রমণ হলো এটা। এই যে মানুষটিকে পেলাম, খানিক বুঝলাম, আবার অনেকটা না-বোঝা রয়ে গেল, একে রাখলাম আমার থলেতে। আমার ভ্রমণ শুধু প্রকৃতির খন্দর-কন্দরে নয়, মানুষের গহনে। মানুষ ছাড়া প্রকৃতিকে আমি আস্বাদ করতে পারি না। শুধু নদী, পাহাড়, বনবাদাড়, অরণ্য-সাগর ঢুঁড়ে হন্যে হলেই আমার বেড়ানো হয় না। মানুষকে সেসবের মধ্যে আমার চাই। উদ্দেশ্যের, রসগ্রহণের তফাত থাকে, আমারটা এ রকমই। এ ভ্রমণ আমি ঘরে বসেও করতে পারি। আমি জন্মসূত্রেই তীর্থঙ্কর। মানুষকেও তাই মনে করি। সবাই জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাতসারে প্রব্রজক জীবন যাপন করে। কিন্তু কেউ-ই কি পথের হদিস জানে? তিনি গেয়েছেন_'না জানিয়া পথ ভ্রমিতেছি আমি।' জন্ম থেকে মৃত্যু_সবটাই প্রব্রজনা। তাহলে কত্তা, এবার নাবিয়ে দাও, রাত শেষ। আর এটা রাখো, মাছ ধরার তো তেইশ মেরে দিলাম। তবে এটাকে দয়াধম্ম মনে কোরো না, এটা তোমার সময়ের যৎকিঞ্চিৎ দাম। সমরেশদা দুটো ১০০ টাকার নোট তাঁর হাতে ধরিয়ে দিলেন।
সমরেশদার বিষয়ে সব কাহিনীই ভ্রমণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও অন্য নিত্যনৈমিত্তিক কাহিনীও ঢের আছে, যা উল্লেখযোগ্য। অবশ্য এসব খুঁটিনাটি বিবৃত করে আমি এটা প্রমাণ করতে চাইছি না যে আমি তাঁর খুব কাছের মানুষ ছিলাম। আমার মতো অজস্র অনুরাগী তাঁর ছিল, বরং সেদিক দিয়ে বিচার করলে, আমি তেমন ঘনিষ্ঠজন তাঁর ছিলাম না। কথাগুলো এ কারণে লিখছি যে আমার ওপর তাঁর একটা প্রভাব আছে, যদিও লেখালেখির গুণগত দিক দিয়ে বিচার করলে সেই প্রভাবটা বোঝা যাবে না। কারণ যতই তাঁর লেখা পড়ে থাকি, যতই মানুষটিকে চিনেছি বলে দাবি করি না কেন, ওই সৃজনশীলতা বা রচনাশৈলীর অন্ধ অনুকরণ করাও আমার এই অর্ধশিক্ষিত ভোঁতা মগজে সম্ভব হবে না।
আমার এই বৃত্তান্ত আলেখ্যটা আমার নিজের কিছু হয়ে ওঠা-না হয়ে ওঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্মৃতিকাহিনী। সুতরাং সেই সূত্রে আমি যাঁদের সংস্পর্শে এসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুপ্রাণিত বা প্রভাবান্বিত হয়েছি, কমবেশি সবার কথাই আমার বলতে হবে। আসলে এটাই তো আমার হওয়া-না হওয়ার বৃত্তান্ত। সেখানে অবশ্যই সমরেশদার মতো যাঁরা, তাঁদের বৃত্তান্ত বলাটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, তিনি যে বিশেষভাবে আমাকে মানুষের কাছে পেঁৗছানোর পথের হদিস দিয়েছেন, যেমন গাঙ্গুরীপদ দাসের কথা বললাম।
আমার একসময়ের, প্রায় প্রত্যহের, কাজ ছিল দুপুর আড়াইটে-তিনটের সময় সমরেশদার ১২ নম্বর সার্কাস রেঞ্জের বাসায় হানা দেওয়া। আমি ব্যাংকের যে শাখায় তখন কাজ করি, তার ম্যানেজার ছিলেন সমরেশদার খুবই ঘনিষ্ঠ এবং গুণগ্রাহী। বাড়ি হাওড়া বাজেশিবপুরে। নাম অম্বরনাথ, অম্বরনাথ ব্যানার্জি। আমি জীবনে নিজে ভবঘুরেপনা কম করিনি, কম ভ্রমণপাগল, ভবঘুরেও দেখিনি। কিন্তু অম্বরদার মতো এ রকম একজন পাঁড় ভ্রমণবিলাসী এবং আড্ডাবাজ মানুষ আরেকটি দেখিনি। বস্তুত, তাঁরই পেছন ধরে সমরেশদা এবং শক্তিদা, অর্থাৎ শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো সারস্বত ব্যক্তিত্বের দরবারে আমার গতায়াত। এঁরা দুজনেই অম্বরদার অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন। অম্বরদার নেতৃত্বে ব্যাংকের এবং তার বাইরের বিভিন্ন বয়সীদের একটি বেড়ানো পার্টি ছিল আমাদের। সে বেড়ানো এমন কিছু হিলি্ল-দিলি্ল বেড়ানো নয়, কাছেপিঠেরই বেশি। ডুমুরদহও সেই লিস্টে একটি পর্যটনকেন্দ্র বিশেষ। খুব দূরের মধ্যে উড়িষ্যার শিম্লিপাল অরণ্যের বড়হি, পানি ইত্যাদি স্থানের বাংলোকে কেন্দ্র করে বেড়ানো বা উত্তর বাংলার গরুমারা এবং অন্যান্য টি গার্ডেনের কেন্দ্রগুলোতে ঘোরা। জায়গা যেমনই হোক, একটা ভালো বাংলো এবং তার কাছেপিঠে একটা নদী, জঙ্গল এলাকা অথবা পাহাড় থাকাটা আবশ্যিক শর্ত ছিল। আর এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় খবরাখবর, আলোচনা ইত্যাদি করার জন্যই ১২ নম্বর সার্কাস রেঞ্জে সময়-অসময়ে অম্বরদা আমাকে পাঠাতেন। ব্যাপারটা দুদিক দিয়ে আমার কাছে লাভজনক ছিল। এক, আমার অত্যন্ত অপছন্দের কাজ অফিস কর্তব্য পালন থেকে অব্যাহতি; দুই, সমরেশদার নিয়মিত সাহচর্য।
(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)
আপনাদের সহযোগীতা আমাদের একান্ত কাম্য। তাই যদি বইটি ভালো লেগে থাকে তাহলে দুচার লাইন লিখে আপনার অভিমতগুলো জানিয়ে রাখুন আমাদের কমেন্টস বক্সগুলোতে। বন্ধু-বান্ধবদের বলুন এই সাইটটির কথা। আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমরা আরও অনেক বই নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারবো। ধন্যবাদ।
Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. Samoresh Basu - Mihir Sengupta, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উত্তরঙ্গ - সমরেশ বসু

amarboi.com
উত্তরঙ্গ - সমরেশ বসু

সমরেশের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘উত্তরঙ্গ’।
উপন্যাসের উপাদান লেখক সংগ্রহ করেছিলেন ইছাপুর রাইফেল ফ্যাক্টরির ইনসপেক্টরেট অব স্মল আর্মস-এ চাকুরিকালে (১৯৪৩-১৯৪৯)।
তা রূপ পেয়েছিল প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দী থাকা কালে। উপন্যাস লিখতে তিনি যাঁর কাছ থেকে বেশি সাহায্য পেয়েছিলেন তিনি হলেন ৯০ বছর বয়স্ক নবকুমার দাস। তিনি গত শতকের ষষ্ঠ দশক থেকে একটার পর একটা চটকল তৈরী হতে দেখেছিলেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি চটকলের মিস্ত্রি হিসাবে জীবন শুরু করেছিলেন, আজীবন মিস্ত্রি ছিলেন।
খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক সমরেশ বসু ১৯২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার শৈশব কাটে বাংলাদেশের বিক্রমপুরে আর কৈশোর কাটে কলকাতার উপকণ্ঠ নৈহাটিতে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় তার জীবন ছিল পরিপূর্ণ। এক সময় মাথায় ফেরি করে ডিম বেচতেন। ১৯৪৩-৪৯ সাল পর্যন্ত ইছাপুরের কামান ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। এক সময় ট্রেড ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি অবৈধ ঘোষিত হলে ১৯৪৯-৫০ সালে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। জেলে অবস্থানকালে তিনি প্রথম উপন্যাস ‘উত্তরঙ্গ’ লিখেন। মুক্ত হয়ে সমরেশ বসু লেখালেখিকে পেশা হিসেবে নেন। ২১ বছর বয়সে উপন্যাস ‘নয়নপুরের মাটি’ লিখেন। তার প্রথম ছোটগল্প ‘আদাব’।
সমরেশ বসু নিজ নামে এবং কালকূট ছদ্মনামে ২০০ ছোটগল্প এবং ১০০ উপন্যাস রচনা করেন। বাংলা কল্পকাহিনীরও প্রথম সারির লেখক তিনি। তার রচনায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, শ্রমজীবী মানুষের জীবন এবং যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সুনিপুণ বর্ণনা ফুটে ওঠে। ১৯৮০ সালে তিনি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন।


Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গঙ্গা - সমরেশ বসু

amarboi.com
গঙ্গা - সমরেশ বসু
গঙ্গা সমরেশ বসু রচিত একটি ধ্রুপদী বাংলা উপন্যাস। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত নদীকেন্দ্রিক এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয় দক্ষিণবঙ্গ, বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। এই উপন্যাসখানি লেখক তথা বাংলা উপন্যাস সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা বলে বিবেচিত হয়। দেশ পত্রিকার বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ২৪টি বাংলা উপন্যাসের তালিকাতেও স্থান পায় গঙ্গা।
গঙ্গা উপন্যাসটি রচনার পূর্বে সমরেশ বসু কয়েক বছর ধরে অধুনা উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরে যাতায়াত করে ক্ষেত্রসমীক্ষা চালান। এই বিষয়ে তাঁকে সহায়তা করেন হালিশহর রামপ্রসাদ লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক নিমাইচাঁদ অধিকারী। নিমাইবাবুর স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, এই সময় প্রায় তিন-চার বছর ধরে গঙ্গার তীরে মাছমারাদের সঙ্গে মেলামেশা করে তাদের জীবিকা, জীবন, সমাজ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য নোট করে নেন। এমনকি তাদের নিজস্ব উপভাষা ও বিভিন্ন প্রকৌশলগত শব্দের (যেমন বাঁধা ছাঁদি, টানা ছাঁদি, কোণা জাল, খুঁটে জাল, সাংলো জাল ইত্যাদি) সঙ্গেও সম্যক পরিচিত হন। অবগত হন মাছ ধরার বিভিন্ন কৌশল ও সংস্কার সম্পর্কেও। এই সব মৎস্যজীবীদের ঋণ তিনি স্বীকার করেছিলেন গ্রন্থের মুখবন্ধে।
১৯৫৭ সালে জন্মভূমি পত্রিকার শারদ সংখ্যায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলে সমরেশ বসু এটিকে উৎসর্গ করেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়েরউদ্দেশ্যে। পরে দীর্ঘকাল অমুদ্রিত থাকার পর ১৯৭৪ সালে লেখকের অনুমতিক্রমে মৌসুমী প্রকাশনী বিস্তারিত গ্রন্থপরিচয় ও গবেষণা-সমীক্ষণ সহ গঙ্গা উপন্যাসের একটি সমৃদ্ধ সংস্করণ প্রকাশ করে। বর্তমানে এই সংস্করণটিই পৃথক গ্রন্থাকারে বাজারে প্রাপ্ত হয়।
গঙ্গা উপন্যাসের নায়ক তেঁতলে বিলাস (অর্থাৎ, তেঁতুলতলার বিলাস)।
তার বাপ নিবারণ সাঁইদার ছিল দুঃসাহসী মালো মাছমারা। সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিবারণ প্রাণ হারায়। বিলাস তখন মাতৃগর্ভে কিংবা সদ্যোজাত। বড় হয়ে বিলাসের চেহারাও হয় তার বাপের মতো সুদর্শন সুপুরুষ:
কালো কুচকুচে রঙ, পেটানো শরীর। নেহাইয়ের মতো শক্ত। যেন নিমকাঠের কালো রঙ মাখা চকচকে মূর্তি। নাকটি ছোট। চোখদুটি ঈষৎ গোল। ভ্রু কুঁচকে মুখ তুলে তাকালে মনে হয়, কেউটে সাপ যেন ফণা ধরে আছে। …সবাই জানে, রগচটা আর গোঁয়ার। গায়ে শক্তিও তেমন।
সে মাছ মারতে শেখে তার কাকা পাঁচুর কাছ থেকে। সুন্দরবন অঞ্চল থেকে প্রতি বছর বর্ষায় কলকাতা-সন্নিহিত অঞ্চলে হুগলি নদীতে মাছ ধরতে আসত তারা। এখানে পাইকার দামিনীর সঙ্গে আলাপ হয় বিলাসের। ভালবাসা হয় দামিনীর নাতনি হিমির সঙ্গে। উভয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মাছমারাদের সুখদুঃখের কর্মজীবনের ধারা বেয়ে প্রবাহিত হয় কাহিনি। নদীবক্ষেই মৃত্যু হয় পাঁচুর। মৃত্যুর পূর্বে সে হিমি ও বিলাসের মিলনে সম্মতি জানিয়ে যায়। তারপরেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধেয়ে আসে নদীতে। সেবারের জন্য কপাল খুলে যায় মাছমারাদের। অবশেষে মিলন হয় হিমি ও বিলাসের। কিন্তু বিলাসকে ধরে রাখতে পারে না হিমি। বিলাস বেরিয়ে পড়ে সমুদ্রযাত্রার উদ্দেশ্যে। উপন্যাস শেষ হয় এইভাবে:
ঢেউ লেগেছে রাইমঙ্গল আর ঝিল্লের মোহনায়। কালীনগর গঞ্জ থেকে চাল ডাল নুন তেল যোগাড়যন্ত্র হয়েছে। সাঁইদারের অপেক্ষা।
- সাঁইদার কে?
- বিলেস। তেঁতলে বিলেস।
তেঁতলে বিলেস সমুদ্রে যায়।
গঙ্গা উপন্যাসের মূল্যায়ণে গবেষক সোহারাব হোসেন মন্তব্য করেছেন,
নদীর প্রতিকূলতার সঙ্গে জড়িত মৃত্যুবোধ গঙ্গা উপন্যাসের মূল চেতনা। সামাজিক উপন্যাসের এ এক ভিন্ন মূর্তি – ভিন্ন রূপ। গঙ্গা–তে দেখি আরও একবার আমাদের সাহিত্যপাঠকের নায়ক-সংস্কার ভেঙে যেতে।
শিশিরকুমার দাশের মতে, এই উপন্যাস,
দক্ষিণবঙ্গের নদীনালা এবং মৎস্যজীবী মানুষের সুখদুঃখ জীবনযাপনের সংগ্রাম, প্রকৃতির কঠোরতা এবং সামাজিক জীবনের বৈষম্য নিয়ে স্থির, নিশ্চিত মধ্যবিত্ত জীবনের নিরাপত্তার এক বিপরীত আখ্যান। এর একদিকে আছে বাস্তব তথ্যের প্রতি নিষ্ঠা, অন্যদিকে আছে মৃত্যু ও অস্তিত্বের সংগ্রামের এক মানবিক উপলব্ধি। গঙ্গা সমরেশ বসুর শ্রেষ্ঠ রচনাগুলির অন্যতম।
আর্থ-সামাজিক কাহিনির সঙ্গে প্রচুর উপকথা-মিথের ব্যবহার এই উপন্যাসকে বিশিষ্টতা দান করেছে। সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতা সমরেশ বেশ দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপনা করেছেন। পাঁচুর সঙ্গে বিলাসের সম্পর্ক, দুলাল-আতরবালা সম্পর্ক, অমৃতর বউয়ের সঙ্গে বিলাসের সম্পর্ক প্রভৃতি সম্পর্কগুলি আশ্চর্য রকম পরিমিত ও পরিণত। এমনকি গবেষক সৌমিত্র বসু বিলাস ও সয়ারামের সম্পর্কের মধ্যে সূক্ষ্ম সমকামিতারও আভাস পেয়েছেন।
গঙ্গা উপন্যাসটি শুধু সমালোচক সমাজেই নয়, লব্ধপ্রতিষ্ঠ লেখক সমাজেও যথেষ্ট প্রশংসিত হয়। উপন্যাসের ভূয়সী প্রশংসা করেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, কবি-সমালোচক বিষ্ণু দে ও সমালোচক সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা সাহিত্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত তিতাস একটি নদীর নাম ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত পদ্মানদীর মাঝি এবং ইংরেজি সাহিত্যে আর্নেস্ট হেমিংওয়ে রচিত দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি উপন্যাসের সঙ্গে এই উপন্যাসের তুলনা করা হয়। দেশ পত্রিকা বিশেষ শতাব্দীনির্মাতা সংখ্যায় (২৩ জানুয়ারি, ১৯৯৯) গঙ্গা উপন্যাসটিকে বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যের ২৪টি শতাব্দীনির্মাতা উপন্যাসের অন্যতমের মর্যাদা দেয়।


Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com