শাহীন আখতার সখী রঙ্গমালা

amarboi.com


পালাবার পথ নেই এবং তালাশ উপন্যাসের লেখক শাহীন আখতারের সামপ্রতিকতম উপন্যাসকর্ম সখী রঙ্গমালা। সখী রঙ্গমালার মতো পূর্ববর্তী দুটো উপন্যাসেও নারীকে ঘিরে কাহিনি আবর্তিত, তবে শেষাবধি তা ধারণ করে চলে জীবনের আরো বৃহত্তর পট। নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে ল্যান্ডস্কেপে রেখে তার অবতারণা হলেও ব্যক্তি থেকে বিদ্যমান ব্যবস’া পর্যন- তিনি তদন- করে চলেন। একজন প্রকৃত শিল্পীর কাছে আমরা এমন সমগ্রতাবাদী দৃষ্টিই প্রত্যাশা করি। দুই সখী রঙ্গমালার গায়ে ইতিহাসের আলো-ছায়া। তবে ইতিহাসকেন্দ্রিক গল্প-উপন্যাসে, তথ্য-সমাবেশে স্বভাবরস ব্যাহতের যে-নজির আমরা প্রায়ই দেখি আলোচ্য ঔপন্যাসিক সে-সম্পর্কে সচেতন। গ্রন’শেষে ‘কৃতজ্ঞতা’ অংশে তার বক্তব্য - সোয়া দুইশ-আড়াইশ বছর আগেকার অচেনা মানুষের জীবনাচার, ভাব-ভাষা ফুটিয়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে পুরান কালের দেশি-ভিনদেশি লেখকদের ভ্রমণকাহিনি, ডায়েরি, ইতিহাস, সাহিত্যসহ বেশ কিছু আকরগ্রন’, পথচলতি মানুষের মুখের বুলি, পাখির গান। সবাইকে হাজারো সালাম। আমার তরফ থেকে সর্বদা বিপদসংকেত জারি রাখতে হয়েছে, তথ্যের ভারে উপন্যাসের প্রাণপাখি যেন উড়ে না যায়। সখী রঙ্গমালার মনোযোগী পাঠক-লেখকের এ-বক্তব্যের প্রতিফলন এ-উপন্যাসের সর্বত্র লক্ষ করবেন। ইতিহাস সৃজনশীল লেখকের উপাদান হতে পারে নিঃসন্দেহে, তবে গন-ব্য মোটেই নয়। শাহীনও সে-চেষ্টাই করেছেন। ফলে চৌধুরীর লড়াই শীর্ষক লোকপ্রিয় পালাগান, প্যারী মোহন সেনের নোয়াখালীর ইতিহাস, কৈলাসচন্দ্র সিংহ-প্রণীত রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস, ভিলেম ভান সেন্দেল-সম্পাদিত দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুখানন, মোহাম্মদ ফরিদের খণ্ডিত পুঁথি, শেখ সাদীর গুলিস-া ও বোস-ার মতো বিচিত্র তথ্যসূত্রের মিলিত রসায়ন যে সখী রঙ্গমালা তা পাঠের সমান-রালে কখনো ব্যবহৃত সূত্রপ্রধান হয়ে ধরা দেয় না। কারণ সখী রঙ্গমালা লেখকের নিজস্ব কল্পনা ও শৈলীগুণে হয়ে উঠেছে সম্পূর্ণ নতুন সৃষ্টি। অনাঘ্রাত কুসুম যেন। ফলে তার টাটকা সুরভি পাঠকমনে সঞ্চার করে সোনালি আবেশ। পাশাপাশি লোকছড়া, গান ইত্যাদির পরিবেশনা উপন্যাসকে দিয়েছে স্ফূর্তি। আর বলতে হয় এর ভাষার কথা। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় কোনো লেখককে বিশিষ্ট জ্ঞান করতেন তাঁর ভাষাবৈশিষ্ট্যের কারণে। শাহীন আখতার আলোচ্য সখী রঙ্গমালায় এর উপজীব্য সময় ও সমাজকে পরিপ্রেক্ষিতে রেখে এমন এক প্রাণদ্যুতিময় ভাষা সৃষ্টি করেছেন যা এর শ্রী বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিন দক্ষিণ সমতট বাংলা এ উপন্যাসের ঘটনাভূমি। নায়ক জমিদারনন্দন রাজচন্দ্র চৌধুরী। তার প্রমীলাপ্রীতির সুযোগে পিতৃব্য রাজেন্দ্রনারায়ণ তাকে ঠকাবার নানা অপকৌশলে মত্ত। আর এরই মাঝে নিচুজাতের সুন্দরী রঙ্গমালার প্রেমে পতিত রাজচন্দ্র। এ-প্রেম শেষ পর্যন- মিলনের বদলে মৃত্যুতে গিয়ে শেষ হয়। প্রেম এ-উপন্যাসের কেন্দ্রধ্রুবা। প্রেমের সঙ্গে আছে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। শেক্‌সপিয়রের নাটকে যেমন, তেমনি এ-উপন্যাসেও আমরা প্রেম ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রক্তিম হতে দেখি কাছের-দূরের আরো বহু কিছু এবং এ-পরিসি’তি অদ্যাবধি বহমান। তাই এ-উপন্যাস অতীতের হয়েও ভীষণভাবে সমকালীন। আবার সমকালীন হয়েও চিরন-ন। কারণ রক্তমাংসের মানুষের ইতিহাস মানেই প্রেম ও ক্ষমতার অনিবার লড়াইয়ের ইতিহাস। উপন্যাসের সারবস’ প্রারম্ভাংশেই বিধৃত যেন ‘রঙ্গমালার কাটা মুণ্ডু নিয়ে চান্দাবীর রাজবাড়ির দিকে আসছে – ভোর হওয়ার আগেই এত্তেলাটা বাতাসের বেগে ছুটে আসে। তার আগে কোথা থেকে উড়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে কাক। কাছারিবাড়ি, দরদালান, অলিন্দ, ফলবাগিচা, পুকুরপাড় কাকের কা কা চিৎকারে ভরে ওঠে। রাজবাড়িতে হুলস’ুল। যেন নিচু জাতের মেয়েটির কাটা মুণ্ডু নয়, রূপসিংহের পাথার দিয়ে ছুটে আসছে দাবানল, যার আগুনে চৌধুরী বংশ ছারেখারে যাবে।’ (পৃ ৭) প্রায় দুশো পৃষ্ঠার এ-উপন্যাস যেমন সখী রঙ্গমালার কাহিনি, তেমনি তার সূত্রে কুলিনতন্ত্র, পুরুষ ও পেশিতন্ত্রের কাহিনিও বটে। ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এ-কাহিনি বিরাজমান দুনিয়ার প্রায় সকল প্রানে-;যে-কাহিনিতে প্রেমের চরমমূল্য বরাবর নারীকেই দিতে হয়। সখী রঙ্গমালা যেমন রঙ্গমালার গল্প, সঙ্গে সঙ্গে রাজচন্দ্রের জননী সুমিত্রা, স্ত্রী ফুলেশ্বরী, হীরা দাসী কিংবা শ্যামপ্রিয়া বৈষ্ণবীরও গল্প। নিচুজাতের সুন্দরী রঙ্গমালাকে যেমন জমিদারনন্দনের রক্ষিতা হয়ে জীবন কাটাতে হয় এমনকি নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়, তেমনি হীরা দাসীর অবস’াও ভিন্ন কিছু নয়। শাহীন আখতার এ-উপন্যাসে গৎবাঁধা নায়ক-নায়িকার সংকীর্ণ বৃত্ত সবল হাতে ভেঙে দিয়েছেন। উপন্যাসের প্রায় প্রতিটি চরিত্রই তিনি সমান গুরুত্বে নির্মাণ করেছেন। ফলে প্রত্যেক চরিত্রের ইতিবৃত্তই আমাদের মোটামুটিভাবে জানা হয়ে যায়। রঙ্গমালা আর হীরাকে যদি আমরা পাশাপাশি পাঠ করি, তাহলে দেখি – ‘রঙ্গমালার আবির্ভাবে জলের মৃদু তরঙ্গে চাঁদের আলোর ঝিকিমিকি – এ নারী, না অপ্সরী? পরণে সোনার কামদার শুভ্র মসলিন শাড়ি। সাদা কাঁচুলির আগাগোড়া জরির কাজ। গা-ভরা অলঙ্কার – উঠতে-বসতে ঝমঝমিয়ে বাজছে, ফুলেশ্বরী রাই ভোররাতের স্বপ্নটার মতো এবারো রঙ্গমালার মুখ দেখার কসরত করে। কানে দ্যুতি-ছড়ানো কানপাশা না ঝুমকা, তা ঠাহর করা যাচ্ছে না। মাথায় মুকুট নেই, তবে কালো কোঁকড়া চুলে ঝাঁপটার বেড়া, তার ওপর একটুখানি ঘোমটা টানা। রাজচন্দ্রের ফুরসির কুণ্ডলাকার ধুমার ফাঁক দিয়ে রঙ্গমালার মুখের যে-ভগ্নাংশ দেখা যাচ্ছে, তা স্বপ্নটার মতো না দেখার খেদ আরো বাড়িয়ে তোলে। আচমকা রাইয়ের মনে হয়, সে আসলে জলের বুকে রঙ্গমালার প্রতিবিম্বই দেখছে, আসল রঙ্গিকে নয়; যা স্বপ্নে দেখা দুর্গাপ্রতিমার অব্যক্ত রূপের মতোই সুদূরপরাহত।’ (পৃ ১৭) আর হীরা - ভগবান হীরাকে যে রূপ দেন নাই,তা না। রঙ্গিকে ষোলো আনা দিয়ে থাকলে তার ভাগ্যে কমসে কম দু আনা জুটেছিল। মা যখন লামচর হাটে তোলে, তখন মেয়ের গায়ে গোশত না থাক, সমুদ্ররঙা নীল চোখ আর লম্বা ঠ্যাং দুটির জন্য এক লহমায় পঞ্চাশ থেকে এক শ সিক্কা দর ওঠে, যা দিয়ে কালীচরণ গুহ তাকে খরিদ করেন। (পৃ ১৮) দেখা যাচ্ছে, বেশি মাত্রার রূপবতী রঙ্গি আর অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার রূপবতী হীরা – দুজনই বন্দি পুরুষতন্ত্রের কাছে। রাজপুরুষের ইচ্ছার সামগ্রী তারা। রঙ্গমালা যেমন খেয়ালি রাজযুবা রাজচন্দ্রের ভোগ্য তেমনি একদা হীরাও ছিল ফুলেশ্বরীর বাবার শরীর চাহিদার শিকার। চার সখী রঙ্গমালা কাহিনিগতভাবে যে খুব বিচিত্র তা নয়। কারণ প্রেমের যে-আখ্যান এখানে বর্ণিত হয়েছে তা আবহমান। ঘরে সুন্দরী বউ থাকা সত্ত্বেও রাজপুরুষের পরনারী লিপ্সার ইতিহাস তো সুবিদিত। শাহীন আখতার এমনই এক পুরনো আখ্যান নতুন ঢঙে বয়ান করেছেন। তার আখ্যানের এক প্রধান চরিত্র রাজচন্দ্র কোনো আলাদা বিশেষত্বের আধিকারিক নয়। কারণ দেখি যে রঙ্গমালার প্রেমে সে দিওয়ানা, তাকে কিন’ পুরোপুরি বিশ্বাসও সে করে না। কূটকৌশলী রাজেন্দ্র নারায়ণের অভিসন্ধি সম্পর্কে রঙ্গমালা রাজচন্দ্রকে সচেতন করলে উল্টো সে ভাবে - …রাজচন্দ্র নিজের খুড়াকে চেনে না, চেনে নরের ঝি! মেয়েমানুষ লাই দিলে মাথায় চড়ে। কথায় কথায় নসিহত করতে আসে। (পৃ ১২১) রঙ্গমালা না পেল দয়িতের বিশ্বাস, স্ত্রীর মর্যাদা, উলটো তাকে সবংশে প্রাণ দিতে হলো রাজেন্দ্র নারায়ণের পেশাদার খুনি চান্দার হাতে। রঙ্গমালা রাজতন্ত্রের সমান-রালে তৎকালীন বাংলার কিছু চকিতচিত্রও লেখক হাজির করেন যা আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা। যেমন – রাজচন্দ্রদের পার্শ্ববর্তী ‘যবনরাজ্য’ দেওয়ানগঞ্জের ইঙ্গা চৌধুরীর প্রসঙ্গে আমরা উপন্যাসে প্রবেশ দেখি ইঙ্গার শ্যালক-মনোহর গাজির। যে মনোহর গাজি শমসের গাজির স্বগোত্রীয়। যে শমসের গাজি ত্রিপুরারাজ কৃষ্ণ মাণিক্যকে হটিয়ে উদয়পুর রাজপ্রাসাদ দখল করেছিলেন। চাষা-ভুষার ছেলে শমসের গাজি গরিবের স্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেঁধে দিয়েছিলেন। নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য শিক্ষার ব্যবস’া করেছিলেন। তবে তার গরিবহিতৈষী সাম্রাজ্য প্যারি কমিউনের মতোই ভেঙে পড়ে কায়েমি স্বার্থবাদীদের হাতে। মনোহর গাজি রাজচন্দ্রকে শমসের গাজির শৌর্য ও গরিবহিতৈষণার কথা বলে; কিন’ আমরা দেখি রাজচন্দ্র গাজিবংশের শৌর্যটাই দেখে শুধু এবং তার সমস- ভাবনা নিজের প্রেম ও পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত। এ-উপন্যাসে মগ-হার্মাদ থেকে শুরু করে ইংরেজদের দ্বৈত শাসনের কালো অধ্যায়ও উঠে এসেছে তবে এর বিপরীতে রাজচন্দ্রের মতো দেশীয় রাজা-জমিদারদের কোনো জনবাদী রূপও কিন’ দৃশ্যমান নয়। লেখা বাহুল্য, বাংলার রাজবংশ বা অভিজাত বর্গের অধিকাংশের ইতিহাসই এমন। ধন্যবাদ শাহীন আখতারকে। তিনি তাঁর উপন্যাসের নায়কের ওপর কোনো মহত্ত্ব আরোপের চেষ্টা করেননি। ইতিহাসের আলো-ছায়ার সম্পাত যেমন এ-উপন্যাস, তেমনি কখনো এর আখ্যানভাগ বাঁধা পড়েছে রূপকথার রুপালি নিগড়ে। রঙ্গমালার ‘নরবংশ’ কেমনে নিচুজাত হলো তার নেপথ্য সন্ধানে দেখি - …নরেরা নাকি এক সময় খুব উঁচুতে ছিল। নাচে-গানে দেবতাদের তুষ্ট করে সর্বদাই বাহবাই পেয়েছে। একবার এক নর শিরোমণি গেছে ইন্দ্রের রাজসভায়। ঢোল বাজাচ্ছে, নাচছে, গাইছে। দেবরাজ ইন্দ্র পুলকে শিহরিত হচ্ছেন। সভাসদরা মন্ত্রমুগ্ধ। সে সময় ঢোল কাঁধে নর শিরোমণি উঠে গিয়ে জল পান করে। গরুর চামড়ার ঢোল। তাতেই ঙ্খলন। দেবতা নাক কোঁচকান – অ্যাঁ নষ্ট, নষ্ট হয়ে গেছে! … দেবতার দণ্ডাদেশ খণ্ডাবে কে। (পৃ ৭১-৭২) এমনতর ‘রুপালি রূপকথা’র বদৌলতেই পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজকাঠামোয় অসংখ্য মানুষের দলিত-নিয়তি। সুতরাং এ রূপকথাগুলোকেও চ্যালেঞ্জের সময় এসেছে। রূপকথার সমাজতত্ত্বের পাশাপাশি এর ভিন্নধর্মী উপসি’তিও দেখা যায় উপন্যাসের কোনো কোনো অংশে। রাজচন্দ্রের স্ত্রী ফুলেশ্বরী উচ্চবংশীয়। বিহঙ্গপ্রেমী, প্রতিপ্রেমী তো বটেই। তবে পতির প্রেম যে নরবংশের রঙ্গমালার প্রতি। ফুলেশ্বরী এ সত্য জানে। তবু রোজ রাতে সুসজ্জিত হয়ে সে স্বামীর অপেক্ষায় থাকে। স্বামী তাকে অনুরাগে জড়িয়ে ধরলে ফুলেশ্বরীর পুলক হয় বটে তবে সে ভাবে এ কি আমি না রঙ্গি (যে রাতে রাতে ফুল হয়ে ফোটে)? বাস-ব থেকে তখন এ-আখ্যানে যাত্রা ঘটে জাদুবাস-বে। এছাড়া মুসলমান রাজরমণী গুলবদন বেগমের অবয়বে রঙ্গমালার হন-ারক চান্দাবীরের কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও আমরা এমন প্রত্যক্ষ বাস-বতাভেদী পরিসি’তির দেখা পাই। শাহীন আখতারের সখী রঙ্গমালায় রঙ্গমালার কাটা মুণ্ডুতে গেঁথে আছি আমরা সবাই, কারণ নারী ও তথাকথিত ‘নিচুজাতে’র নিগ্রহের অবসানে আমরা এখনো খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারেনি।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

If Download link doesn't work then please comment below. Also You can follow us on Twitter, Facebook Page, join our Facebook Reading Group to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature. Also try our Phonetic Bangla typing: Avro.app
বইটি শেয়ার করুন :

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2018. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com