Pages

আমাদের কথা - বিজয়া রায়

amarboi
একটি যৌথ শিল্পকর্ম
আমাদের কথা
বিজয়া রায়
বিজয়া রায়ের ‘আমাদের কথা’ ভুবনবিখ্যাত চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়, তার পত্নী বর্তমান গ্রন্থের লেখিকা বিজয়া এবং তাদের পরিবারের এবং প্রসঙ্গত বিশ শতকে উচ্চশিক্ষিত তথা উচ্চ মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনকাহিনি। যখন ‘দেশ’ পত্রিকায় এই রচনাটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়, তখন বাঙালি পাঠক এক মহান কীর্তিমান বাঙালির জীবনকথা তথা তাঁর সৃষ্টিকর্মের সামাজিক পটভূমির বিবরণ হিসাবে মহা উৎসাহে লেখাটিকে সংবর্ধনা জানায়।
প্রচণ্ড সামাজিক বাধা কাটিয়ে ওঁরা বিবাহসূত্রে মিলিত হয়েছিলেন। বিয়ের পর সত্যজিতের মাকে বিজয়া প্রশ্ন করেন, ‘এখন তােমাকে আমি কী ডাকব?’ শাশুড়ি উত্তর দেন, ‘এতদিন পিসীমা ডাকতে। এখন পিসীটা বাদ দিয়ে শুধু মা বলে ডেকো। সত্তর-আশি বছর আগেকার বাঙালি হিন্দু সমাজের সঙ্গে যাঁদের কিছুমাত্র পরিচয় আছে, এই আপাত-সহজ উক্তিটি কত উদার মানবিকতায় ভাস্বর তা তারা বুঝবেন।
বাঙালি নিন্দাপ্রবণ, বাঙালি হুজুগে, বাঙালি আতিশয্যপ্রিয় এইসব অভিযােগের পেছনে হয়তাে কিছুটা সত্যি আছে। কিন্তু প্রতিভাবান বাঙালিকে যে অবারিত শ্রদ্ধাভক্তি ভালবাসা দিয়ে শিক্ষিত বাঙালি গর্বের ধন বলে মাথায় করে রাখে, তার পেছনে যে গভীর মানবিকতা, তাকে অস্বীকার করি কী করে? সত্যজিতের জীবনকাহিনি শিক্ষিত বাঙালির কাছে সুপরিচিত, তাঁর প্রতিটি কীর্তি, জগৎ-জনের কাছে পাওয়া তাঁর প্রতিটি সম্মান অপরিসীম আনন্দে বাঙালি প্রায় নিজেদের ব্যক্তিগত গৌরব বলেই গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই অসামান্য জীবনকথা তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছে। কিন্তু তার পেছনে যেসব অজ্ঞাত কাহিনি রয়েছে, তাঁর পত্নী সেসব পাঠকের চেতনাগােচর করলেন। আম আঁটির ভেঁপু-র জন্য ছবি আঁকতে গিয়ে সত্যজিৎ প্রথম ‘পথের পাঁচালী’র সন্ধান পেলেন, ‘পথের পাঁচালী ছবি তােলার আগে উনি কখনও গ্রাম দেখেননি—এ সব কথা কি সহজে বিশ্বাস করা যায়?
বিজয়া লিখেছেন, টাকাপয়সা বা সংসারযাত্রা নিয়ে সত্যজিৎ কখনও মাথা ঘামাতেন না। ওঁর শিল্পীচিত্ত ভােগবিমুখ ছিল না, কিন্তু বিষয়ী মানুষ উনি নন।
বিজয়া একবার নিতান্তই ন্যায্য প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আবহসংগীত রচনার জন্য ওঁর প্রাপ্য টাকা উনি নেন না কেন।
সত্যজিতের উত্তর: নিলে প্রযােজকের আর্থিক কষ্ট হতে পারে। এ জাতীয় দুশ্চিন্তা আর কোনও পরিচালক কখনও করেছেন কি না জানি না।
এরকম আরো অনেক কিছু জানার জন্য পড়ুন, বিজয়া রায়ের 'আমাদের কথা'।