পূর্ণ ছবির মগ্নতা - সেলিনা হোসেন

পূর্ণ ছবির মগ্নতা - সেলিনা হোসেন পূর্ণ ছবির মগ্নতা - সেলিনা হোসেন

কিছুকথা
পূর্ণ ছবির মগ্নতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে সময়ে শিলাইদহ, পতিসর, শাহজাদপুরে কাটিয়েছেন সে পটভূমিতে রচিত উপন্যাস। এটি কোনো অর্থেই রবীন্দ্রজীবনী নয়। কাহিনীর প্রয়োজনে বেশকিছু স্বাধীনতা নেয়া হয়েছে মাত্র। এই স্বাধীনতা ছাড়া উপন্যাস রচিত হতো না। যেমন গল্পগুচ্ছের বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা কিংবা ছিন্নপত্রের চিঠির ব্যবহারে কালক্রম রক্ষা না করে আগে-পিছে করা বা রবীন্দ্রনাথের নানা কল্পিত ভাবনার গ্রন্থি কাহিনীর প্রয়োজনে সংযোজন করা। এমন আরও অনেক কিছু।
এ উপন্যাসটি লেখার জন্য আমি কয়েক বছর সময় নিয়েছি। চিন্তার সূচনা ১৯৯৭ সালে। প্রথম সময় ব্যয় হয়েছে তথ্য সংগ্রহের জন্য। দ্বিতীয় সময় নষ্ট করেছি কীভাবে উপন্যাসটি লেখা হবে সে চিন্তায়। বলা যায়, এমন একটি কাজে হাত দেয়ার সাহস সঞ্চয় করতেও আমার অনেক সময় লেগেছে। ভয় কাটাতেও সময় নিয়েছি। প্রখ্যাতজনদের সঙ্গে কথা বলেছি লেখাটি লিখব কি লিখব না সেই দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার জন্য। প্রয়াত শ্ৰদ্ধেয় ওয়াহিদুল হক বলেছিলেন, বেশি সাহস হচ্ছে কি ? তারপর মাথা নেড়ে বলেছিলেন, লিখে ফেলো। দেখা যাক কী হয়। তাকে আমার দেখানো হলো না যে কী হয়। রবীন্দ্র গবেষক, প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বলেছিলেন, হ্যা, এমন একটি উপন্যাস হতেই পারে। তিনি তার লেখা রবীন্দ্রভুবনে পতিসর বইটি আমাকে দেন। মুস্তাফা মনোয়ার উচ্ছসিত কণ্ঠে বলেছিলেন, "এমন একটি উপন্যাস দারুণ হবে। আপনি লিখুন।
সাহিত্য আকাদমীর সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দিল্লিতে দেখা হয়েছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসেই তাকে বলেছিলাম উপন্যাসটির কথা। সুনীলদা এক মুহুর্ত দ্বিধা না করে বলেছিলেন, উপন্যাসটি লিখুন। শিলাইদহের পটভূমিতে লেখা হয় নি। লেখা দরকার।
এভাবে অনেকের উৎসাহ আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাদের নাম সংযোজন করতে পারলাম না।
২০০৬। ঈদসংখ্যা প্রকাশের আগে প্রথম আলো’ থেকে ফোন করে কবি সাজ্জাদ শরীফ। বলে, ‘আপা অনেক সময় ব্যয় করেছেন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখবেন বলে। এবার শুরু করুন। আমাদের পত্রিকার জন্য আপনার এই উপন্যাসের ১০০ পৃষ্ঠা চাই।' এমন জোর দাবির মুখে উপন্যাসটি লেখার সিদ্ধান্ত নেই। ভয়কে মাথায় চাপা দিয়ে রাখি। এভাবেই লেখা শুরু হয়। উপন্যাসটির দুটি অধ্যায় প্রকাশের পরে প্রথম আলোর বন্ধুসভার বন্ধুরা যেভাবে সাড়া দিয়েছিল এবং আমাকে তাদের মুখোমুখি করিয়েছিল তা ছিল আমার জন্য অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সেদিনের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথকে বিষয় করে উপন্যাস লেখার ভয় আমার কেটেছিল। তরুণ পাঠকদের জানাই আমার কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ জানাই সেদিনের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ঔপন্যাসিক আনিসুল হক, গায়ক মাহমুদুজ্জামান বাবু ও বন্ধুসভার সাইদুজ্জামান রওশনকে।
২০০৭। এ বছরের ঈদসংখ্যা প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর এবং অন্যদিন উপন্যাসের বিভিন্ন অধ্যায় ছেপেছে। লেখককে এই সহমর্মিতা দেখানোও আমার জীবনের দারুণ অভিজ্ঞতা। সাহিত্য সাময়িকী ও সম্পাদকদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
উপন্যাসটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে অন্যপ্রকাশ। প্রতিভাজন মাজহারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ নাসের ও প্রচ্ছদশিল্পী মাসুম রহমান যে শ্রম ও যত্ন দিয়ে কাজটি করেছে তার জন্য শুধু ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যায় না।
বিচারের শেষ দণ্ড থাকে পাঠকের হাতে। তারাই বলবেন শেষ কথা।
১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮




Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

If Download link doesn't work then please comment below. Also You can follow us on Twitter, Facebook Page, join our Facebook Reading Group to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature. Also try our Phonetic Bangla typing: Avro.app
বইটি শেয়ার করুন :

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2018. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com