জিন্না ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা যশোবন্ত সিংহ

জিন্না ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা যশোবন্ত সিংহ জিন্না
ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা
যশোবন্ত সিংহ

যশোবন্ত প্রশ্ন তুলেছেন, 'মুসলিমরা একটি স্বতন্ত্র জাতি", এই বিতর্কিত তত্ত্বটির কোথায় এবং কবে উৎপত্তি হল এবং ভারতীয় উপমহাদেশকেই বা তা কোথায় নিয়ে গেল? পাকিস্তানকে কী দিল এই তত্ত্ব? বাংলাদেশ তবে কেন তৈরি হল? এখনই বা পাকিস্তান কোন পথে চলেছে? এ বই সত্যিই বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, কেননা এটি এমন একজন লিখেছেন যিনি নীতিপ্রণেতাও, এবং যিনি নির্দিষ্ট উত্তর সন্ধান করেন। গত ৬২ বছরের এই জ্বলন্ত প্রশ্নগুলো আজও আমাদের সম্মোহিত করে রেখেছে। যশোবন্ত সিংহের বিশ্বাস, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরাতে গেলে আগে বুঝতেই হবে, কেন প্রথমত এই শান্তি আমাদের ছেড়ে গেল? যতক্ষণ এই ন্যূনতম, অত্যাবশ্যক, অবিকল্প কৃত্যটি সাঙ্গ না হয়, ততদিন এখানে শান্তির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

যশোবন্ত সিং

যশোবন্ত সিংহ ভারতীয় জনজীবনে এবং ব্যক্তিদের অন্যতম । তিনি বর্তমানে দার্জিলিং থেকে নির্বাচিত সাংসদ। ভালবাসেন দাবা, গল্ফ, পোলো খেলেতে। রাজস্থানের প্রাচীন ভারতীয় ভাষা দিঙ্গল’-এর উন্নতির ব্যাপারে তার প্রবল উৎসাহ ।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ নিঃসন্দেহে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে মর্মঘাতী ক্ষত, গাঁধীর মতো কেউ-কেউ যাকে তুলনা করেছিলেন জীবিত প্রাণীর শবব্যবচ্ছেদের অসহ্য যন্ত্রণার সঙ্গে । উপমহাদেশের চার প্রজন্মের মানুষের মনস্তত্ত্বকে এ ঘটনা তাপদগ্ধ ও অসাড় করে দিয়েছে । কেন আদৌ এ ঘটনা ঘটেছিল? এ জন্য দায়ীই বা কে? জিন্না? কংগ্রেস? না কি ব্রিটিশরা? যশোবন্ত সিংহ এ প্রশ্নেরই একটা উত্তর খোজার চেষ্টা করেছেন। একান্তভাবেই তার নিজস্ব উত্তর । কেননা প্রশ্নটির সম্ভবত কোনও নির্দিষ্ট একটা উত্তর হয় না । লেখক তবু তার অনুসন্ধান চালিয়েছেন। জিন্নার রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল (গোপালকৃষ গোখলের ভাষায়) হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের রাষ্ট্রদূত’ রূপে । কিন্তু তা শেষ হয় ভারতীয় মুসলিমদের একমাত্র মুখপাত্র', পাকিস্তানের স্রষ্টা এবং কায়েদ-এ-আজম হয়ে ওঠায় । কেন এবং কী ভাবে এই রূপান্তর ঘটল? কোনও ভারতীয় বা পাকিস্তানি রাজনীতিক কিংবা সাংসদ কায়েদ-এ-আজম মহম্মদ আলি জিন্নার নিরপেক্ষ, বিশ্লেষণধর্মী রাজনৈতিক সম্পর্কে বেশির ভাগ লেখাতেই হয় তাকে দেবতা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে অথবা দানব। এই বইতে জিন্নার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসাবে যশোবন্ত সিংহের অভিজ্ঞতা অতিশয় সমৃদ্ধ (লাহীের শান্তি-প্রক্রিয়া, কার্গিলে যার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হয় কন্দহরে সন্ত্রাসবাদিদের মুক্তির বিনিময়ে ভারতীয় বিমানযাত্রীদের নিরাপদে ফেরানো, আগ্রার শীর্ষ শান্তি বৈঠক, জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা ও ভারতীয় লোকসভায় জঙ্গি হামলা, ২০০২ সালে যুদ্ধপ্রস্তুতির আড়ালে চাপ সৃষ্টির কূটনীতি এবং পরের বছরেই আবার শান্তি-উদ্যোগের একের-পর-এক চ্যালেঞ্জ তার সামনে এসেছে) ।

উৎসর্গ
যারা দেশ-ভাগে সর্বস্ব খুইয়েছেন
‘...এ প্রত্যুষ তাঁদেরই
তাঁদেরই এ সূর্যাস্ত, ধরিত্রীর রামধনু রঙ
রুপার্ট ব্রুক: দ্য ডেড


সূচিপত্র
চিত্রসূচি
ঋণস্বীকার [এগারো]
প্রস্তাবনা একটি জটিল সূচনা ১
১. ভারত ও ইসলাম ৭
২. জেনাভাই থেকে জিন্না: একটি সফর ৫৩
৩. উত্তাল কুড়ির দশক ১০১
৪. লক্ষ্য নির্দিষ্ট হচ্ছে, পথও সীমিত হয়ে আসছে ১৩৭
৫. ছোট দশক, লম্বা দৌড় ১৮৯
৬. সাম্রাজ্যের সূর্যাস্ত ২৪৫
৭. উত্তরাধিকারের লড়াই ভিন্ন ভিন্ন পথ ২৯০
৮. আলোচনার ঘূর্ণিপাক ৩৪৬
৯. ভাইসরয় মাউন্টব্যাটেন-এর সময়কাল: ব্রিটিশ রাজ-এর অবসান ৩৭৬
১০. পাকিস্তানের জন্ম — স্বাধীনতা: কায়েদ-এর শেষ যাত্রা ৪১১
১১. অতীতের দিকে ফিরে ৪২০
চিত্রসূচি
কেতাদুরস্ত মহম্মদ আলি জিন্না।
একটি বিরল ছবি: বিশ্রামরত জিন্না।
নিজের চেম্বারে আইনজীবী জিন্না।
জিন্না পেস্টনজির সঙ্গে গাড়িতে, পিছনের আসনে এইচ জে রুস্তমজি এবং হোমি রুস্তমজি।
১৯১৬-তে জিন্নার সভাপতিত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং সর্বভারতীয় মুসলিম লিগের যৌথ অধিবেশন।
১৯৪০-এ বোম্বেতে কেতাদুরস্ত প্রৌঢ় জিন্না, সঙ্গে পোষা কুকুর কালো ডোবারম্যান ও ওয়েস্ট হাইল্যান্ড টেরিয়র।
কন্যার সঙ্গে পিতা।
জিন্না, বোন ফতিমা এবং কন্যা দিনার সঙ্গে।
মিয়া বশির আহমেদের বাসভবনে নৈশভোজের পর মুসলিম লিগের নেতারা।
১৯৩১-এ র্যামজে ম্যাকডোনাল্ডের সভাপতিত্বে লন্ডনে গোল টেবিল বৈঠকে, তার বাদিকে ভারতীয় নেতৃবৃন্দ: মোহনদাস করমচাঁদ গাঁধী, মদনমোহন মালব্য, শ্রীনিবাস শাস্ত্রী আয়েঙ্গার এবং তেজবাহাদুর সপ্রা।
গাঁধীজির প্রতি বিরাগপোষণকারী দুই ব্যক্তিত্ব—সুভাষচন্দ্র বসু ও জিন্না। সর্বভারতীয় মুসলিম লিগের ছাব্বিশতম অধিবেশন, পটনা, ২৯ ডিসেম্বর ১৯৩৮ জিন্না, ১০ নং আওরঙ্গজেব রোড, নয়া দিল্লি, ১৯৪৪-৪৫।
৬ ডিসেম্বর ১৯৪৬-এ লন্ডন কনফারেন্সের সময় ইন্ডিয়া হাউসে অভ্যর্থনায়। বাদিক থেকে লিয়াকত আলি,স্যার এস রঘুনাথন, মি. জিন্না এবং অন্যান্যরা।
নিজের সৃষ্ট দেশে গভর্নর জেনারেল হিসেবে করাচিতে জিন্নার পদার্পণ, ৭ অগস্ট
১৯৪৭।
কায়েদ-ই-আজম জিন্না ও ফতিমা জিন্না স্টেট ব্যাংক অফ পাকিস্তানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ১ জুলাই ১৯৪৮। ব্যাংকের গভর্নর জাহিদ হুসেন বক্তৃতা দিচ্ছেন, বসে আছেন অবসাদগ্ৰস্ত জিন্না।
জিন্না, কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনে দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে ১৯৪৫-এ।
১৯৪৫-এ টাইমস ম্যাগাজিনের লুই ফিশারের সঙ্গে জিন্না। ব্যক্তিত্বে উজ্জ্বল, পোশাকেও ৷
মুসলিম লিগের মহিলা বাহিনীর সঙ্গে জিন্না। বোন ফতিমার সঙ্গে জিন্না, পরবর্তীকালে।
জিন্না, ভারতবর্ষে নিজের স্টাডিতে। যোধপুরী ব্রিচ পরিহিত জিন্না।
আইনজীবী জিন্না।
ছুটিতে জিন্না—১।
ছুটিতে জিন্না—২।
কায়েদ-ই-আজম গভর্নর জেনারেল মহম্মদ আলি জিন্না।

ঋণস্বীকার
মহম্মদ আলি জিন্নার একটি রাজনৈতিক জীবনী রচনার সাধ আমার অনেক দিনের। কিন্তু সেই সুপ্ত বাসনাটি পরিকল্পনায় রূপায়িত হয় ১৯৯৯ সাল নাগাদ, কিছু আকস্মিক ঘটনাচক্রে। সেটা প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ঐতিহাসিক লাহোঁর বাস-যাত্রার সময়। আমি তখন মিনার-এ-পাকিস্তান-এ প্রধানমন্ত্রীর সহযাত্রী হই। ৬০ মিটার উচু এই স্তম্ভটি যেখানে অবস্থিত, ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ সেখানেই অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান তৈরির প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। ওখান থেকে ফেরার সময়েই আমার খেয়াল হয়, কোনও ভারতীয় রাজনীতিকের কলমে জিন্নার কোনও জীবনী রচিত হয়নি। আর তখনই এই শূন্যতাটা ভরাট করার চিন্তা আমায় পেয়ে বসে। তার পরেও অবশ্য কয়েক বছর কেটে যায়।
২০০৪ সালে এসে তার একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে সময় আমরা সরকারের বাইরে, তাই ভাবনাচিন্তা করার, গবেষণা করার এবং লেখালেখি করার বেশ খানিকটা সময় আমি হাতে পেয়ে যাই।
এ সময়েই আমি অন্যদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করি। অনেকেই এ পথে আমার আদৌ পা বাড়ানোয় বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং আমাকে হুশিয়ারও করে দেন। তবে আমি দমে যাইনি। কারণ এটা ছিল আমার একটা ব্যক্তিগত অভিযাত্রা, ১৯৪৭ সালে ভারত কেন বিভাজিত হল, তার কারণগুলির পুনরাবিষ্কার এবং স্বচ্ছতর উপলব্ধির চেষ্টা।
অনেক ভাবনাচিন্তা করেই আমি অগ্রসর হই, এবং এখন, শেষ পর্যন্ত বইটি প্রকাশ পেয়েছে। আমার পাঁচ বছর লেগেছে বইটি লিখতে, পুনর্লিখন, তথ্য-যাচাই, পুনর্যাচাই করতে—আপাতদৃষ্টিতে যা এক অন্তহীন প্রক্রিয়া। যাদের কাছে আমি গভীরভাবে
এইচ জাইদি, পাকিস্তানের জাতীয় মহাফেজখানার কায়েদ-এ-আজম নথি-প্রকল্পের প্রধান সম্পাদক। যোগাযোগ করা মাত্রই তিনি অকুণ্ঠ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এবং তার চমৎকার প্রাচীন টাইপরাইটারে আমার যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর সরবরাহ করে যান। ঘরে-ঘরে কম্পিউটার এবং দ্রুতগতির প্রিন্টারের এই যুগে এমন একটা সেকেলে যন্ত্র নিয়ে কাজ করা! নিদ্বিধায় অবিরাম তিনি আমায় যাবতীয় সাহায্য দিয়ে গেছেন। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ, ডক্টর সাহেব !
বইটির জন্য গবেষণা করতে গিয়ে অসংখ্য বইপত্র ঘাটাঘাটি করতে হয়েছে, যার সবগুলিই দেশভাগের সময়কার দলিল, প্রতিটিতেই মজুদ রয়েছে উচ্চমানের গভীর জ্ঞান, ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও তীব্র আবেগ। পাদটীকা অংশে সেগুলির উল্লেখ রয়েছে, যা প্রকারান্তরে আমার কৃতজ্ঞতারই স্বীকৃতি।
রাঘবেন্দ্র সিংহ আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছেন নিরন্তর নতুন-নতুন বই, উৎস ও জ্ঞাতব্য তথ্যের হদিশ দিয়ে। প্রাথমিক পর্বের খসড়া তৈরিতেও তিনি সাহায্য করেছেন—কাগজের লেখা থেকে বইয়ের অবয়বে স্থানান্তরিত করার সেই দুরূহ কাজ! রাঘবেন্দ্রকে ধন্যবাদ!
এ ধরনের অধিকাংশ বইয়ের মতো এই বইটিও কলেবরে উত্তরোত্তর পৃথুল হতে চাইছিল, যেহেতু বইয়ের বিষয়বস্তুটির চাহিদাই সে রকম। উপরন্তু, সব বই-ই রচিত হতে-হতে একটা নিজস্ব জীবন ও ইচ্ছা অর্জন করে। তবু বিষয়বস্তুর সীমান্ত বেঁধে দেওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে। হাজার হোক, সীমান্ত, চৌহদি, অঞ্চলের সীমানার মতো আবদ্ধ রাখার শব্দ ও ধারণাগুলিই এ বইয়ের কেন্দ্রীয় বিষয়, যে-সব বদ্ধতাজনিত বিভাজনের ধারণা এই উপমহাদেশের উপর ১৯৪৭-এ আরোপ করা হয়। বিশ্ব এখন তাই আমাদের দক্ষিণ এশিয়া’ বলে ডাকে।
বইটি লিখতে গিয়ে আমাকে গুরুতর দায়িত্ববোধে স্থিত হতে হয়েছে, যেহেতু বিষয়বস্তুর স্পর্শকাতরতা চূড়ান্ত। ভারতের বিভাজনই ত আমাদের সকলের কাছে বিংশ শতাব্দীর নির্ণায়ক লগ্ন। তা থেকে যে ক্ষত সৃষ্টি হয়, তার ক্ষরণ এখনও বন্ধ হয়নি। এখনও নয়।
এ জন্যই বইটি লিখতে গিয়ে যাদের উপর আমি নির্ভর করেছি এবং যাদের পরামর্শ নিয়েছি, সেই সব বন্ধু, সহকমী ও উপদেষ্টাদের কাছ থেকে যা পেয়েছি, সব কিছুর তালিকা বানাতে গেলে অনেক পৃষ্ঠা ভরে যাবে। এরা সকলেই নিঃস্বাৰ্থ ভাবে আমাকে সাহায্য করেছেন। ভারতের ভিতরে কিংবা বাইরে সকলেই ব্যতিক্রমহীনভাবে সানন্দে আমার অসংগঠিত পাণ্ডুলিপি পড়ার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন হাসিমুখে। তারা আমার তথ্যের ভুল শুধরে দিয়েছেন, অনিবাৰ্যভাবে মতামতের অসম্পূর্ণতা ও দৈন্যও ধরিয়ে দিয়েছেন কখনও বিনীতভাবে, কখনও বা কঠোর ভাবে, এবং আমিও যে সর্বদা সব বিষয়ে তাদের সঙ্গে একমত হতে পেরেছি, এমনও নয়। তবে এ ধরনের বইয়ের রচনায় এমনটাই তো হওয়ার কথা।
বইটিতে আবেগের পাত্র কানায়-কানায় পরিপূর্ণ। সেটা হতে বাধ্য। গাঁধী যাকে ‘জীবিত প্রাণীর দেহব্যবচ্ছেদের নির্মমতা’ আখ্যা দিয়েছেন, তা থেকে অনুভব, বেদনা ও আবেগকে আলাদা করা যাবে কী করে? ইতিহাস রচনার পদ্ধতি যাদের চর্চার বিষয়, তারা, আমি নিশ্চিত, এই রচনাপদ্ধতির দিকে ভুরু কুচকে তাকাবেন। কিন্তু আমি তো ঘটনাবলির কোনও ঠাণ্ডা, একরৈখিক, নৈর্ব্যক্তিক বিবরণ লিপিবদ্ধ করছি না। এ ধরনের বিবরণকে আমরা এখন সন্দেহের চোখে দেখি।
এত জন মিলে আমার পাণ্ডুলিপি খুঁটিয়ে-খুটিয়ে পড়ে দিয়েছেন যে আমি যারপরনাই আনন্দিত, গর্বিতও। আসলে বইয়ের বিষয়বস্তুই তাদের আকৃষ্ট করেছে—মহম্মদ আলি জিন্নার জনসমক্ষে আচরিত জীবনপ্রণালী এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূত থেকে পাকিস্তানের কায়েদ-এ-আজমে পরিণত হওয়ার রাজনৈতিক অভিযাত্রা।
এম জে আকবর, মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ভাটিয়া, উইলিয়াম ড্যালরিম্পল, ডেভিড গুডল, ওয়াজাহাত হবিবুল্লা, পলি ও'হ্যানলন, মণিশঙ্কর অ রি, বিবেক কাটজু, সুনীল খিলনানি, প্রতাপভানু মেটা, এ জি নুরানি, টি সি এ রাঘবন, অ্যান্থনি র্যামসে, সুসানে রুডল্ফ, লয়েড রুডল্ফ, কে সি সিংহ, মানবেন্দ্র সিংহ, ষ্ট্রোব ট্যালবট, বি জি ভাৰ্গিজ এবং অঞ্জন ভৌমিক, অভিষেক দীক্ষিত ও নটরাজন স্বামীনাথনের গবেষক দলকে আমার অসংখ্য ধন্যবাদ।
গবেষকদের মধ্যে আলাদা করে অশ্বিনী চান্নানকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। আমার ধারণাগুলির কাচা মাটিকে তিনিই ছাচে ঢেলে, পুড়িয়ে বইয়ের রূপ দেন। তার ঐকান্তিক সাহায্য ছাড়া এ বই প্রকাশক পর্যন্ত পোছত বলে মনে হয় না।
বইটির বাংলা সংস্করণ প্রকাশ করেছেন আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড। অনুবাদকদের আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রকাশকরা যে দক্ষতার সঙ্গে বইটি প্রকাশ ও বিপণনের যাবতীয় দিক সম্পূর্ণ করেছেন, সে জন্যই এখন এটি বর্তমান চেহারায় আপনাদের হাতে। তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই।
সঞ্জনা রায়চৌধুরী যে অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠায় বারংবার আমার ত্রুটিপূর্ণ পাণ্ডুলিপি পড়ার, শুদ্ধ করার, পুনরপি শুদ্ধ করার কষ্টসাধ্য কাজ সম্পন্ন করেছেন, তার ফলেই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বই হতে পেরেছে।
বইয়ের সমস্ত ভুল-ভ্রান্তি, বিচু্যতি, ছাড়-যাওয়া অবশ্য একান্তভাবে আমারই এবং আমি একাই সে সবের জন্য দায়ী। বইটি যেহেতু ১৯৪৭ সালের দেশ-ভাগ বিষয়ে, তাই এর নাম: জিন্না: ভারত দেশভাগ স্বাধীনতা।
আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ডন পত্রিকার মালিক হামিদ হারুন এবং তার সংবাদপত্রের প্রবীণ সাংবাদিক আর্দেশির কাওয়াসজিকে তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে পাওয়া জিন্নার আলোকচিত্র ছাপার উদার অনুমতির জন্য। ওই সংগ্রহ থেকে আমি সেই সব ছবিই নিয়েছি, যা আমার মতে, জিন্নার মহাকাব্যিক যাত্রার প্রতিনিধিত্ব করে।
সবশেষে কৃতজ্ঞতা জানাই স্যর দোরাব টাটা ট্রাস্টকে, যাদের উদার ও স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্যের কাছে আমি প্রভূত ঋণী। ধন্যবাদ।
যশোবন্ত সিংহ

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

If Download link doesn't work then please comment below. Also You can follow us on Twitter, Facebook Page, join our Facebook Reading Group to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature. Also try our Phonetic Bangla typing: Avro.app
বইটি শেয়ার করুন :

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2018. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com