Pages

বাংলার প্রবাদ - ডঃ সুশীলকুমার দে

 বাংলার প্রবাদ - ডঃ সুশীলকুমার দে বাংলার প্রবাদ - ডঃ সুশীলকুমার দে
“মানবের নৈতিক চরিত্র গঠনে, তাহাকে কর্তব্য পথে পরিচালিত করিতে সমাজ বাণিজ্য কৃষি প্রভৃতি অত্যাবশ্যক বিষয়াবলির সুশিক্ষা প্রদানে, প্রভাত হইতে সন্ধ্যা ও সন্ধ্যা হইতে প্রভাত পর্যন্ত অশন-শয়নাদি দৈনন্দিন অনুষ্ঠানের নিয়ম নির্দেশে, ঝঞ্ঝা মেঘ বৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপ্লবের আরম্ভ ও সমাপ্তির ইঙ্গিতে, এইগুলি যে কীরূপ কার্যকরী অভিজ্ঞ ব্যক্তিমাত্রেই তাহা অবগত আছেন। আধুনিক বিদ্যামন্দিরে অধ্যয়ন না করিয়াও অতীতের তথাকথিত অশিক্ষিত, পল্লীবাসী জনসাধারণ, যে আপনাদের শান্তিপূর্ণ মধুময় জীবন প্রায় নিষ্কলঙ্কভাবে অতিবাহিত করিয়া গিয়াছেন, এই সমস্ত প্রবচনমালাই তাহার একতম কারণ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না।”
—বাঙালি জীবন, মূলত সংখ্যাগরিষ্ঠ পল্লীবাসী মানুষের সার্বিক জীবনচর্যায় প্রচলিত প্রবাদ-প্রবচনগুলি যে কত গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট ড. সুশীলকুমার দে’র প্রবাদ সংগ্রহের অন্যতম পোষ্টা সাহিত্যরত্ন হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের উদ্ধৃত বক্তব্য থেকে তা অনুধাবন করতে অসুবিধা হয় না। রবীন্দ্রনাথ বাঙালির প্রাচীন সাহিত্য-সংস্কৃতি-ইতিহাস, এমনকী লোকসমাজের উপাদানসমূহ সংগ্রহের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এই কাজে আত্মনিয়োগ করতে আহ্বান করেছিলেন ছাত্রসমাজকে। সংগ্রহের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে তার প্রস্তাব ছিল উদ্ধারকৃত সামগ্রী যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে সেগুলির সংকলন করে প্রকাশ করা। আর সবশেষে তৃতীয় ধাপে সংগৃহীত উপাদানসমূহের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে দেশের আত্ম-আবিষ্কারের পথটি উন্মোচিত করে দেওয়ার ভাবনাও ছিল তার মধ্যে। বাংলা প্রবাদ নিয়ে বক্ষ্যমাণ আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ কথিত অনুসন্ধানের এই তৃতীয় পর্যায়টিকেই গ্রহণ করেছি আমরা। কোনও সংগ্রহ-সংকলন নয়, সংগৃহীত উপাদান অবলম্বনে বাংলা প্রবাদের স্বরূপ ও বৈচিত্র্যের অন্বেষণই আমার আলোচনার লক্ষ্য।

Download and Comments/Join our Facebook Group