Pages

আঙ্গারধানি - কিঙ্কর আহসান

আঙ্গারধানি - কিঙ্কর আহসান
আঙ্গারধানি - কিঙ্কর আহসান
এ উপন্যাস আলগী নদীর তীরে গড়ে ওঠা ছোট্ট একটি গ্রামের মানুষের কথা বলে। গ্রামের একটি পরিবারের সুখ, দুঃখ জীবনের প্রতি মুহূর্তের গল্প হয়ে ওঠার মতন গল্পগুলোর কথা বলে। পরিবারটির সবার জীবন যেন আগুন রাখার পাত্রের মতন (আঙ্গারধানি)। সবসময় যন্ত্রনা। পুড়ে পুড়ে ছাই হওয়া। উপন্যাসের নায়কের বড় ভাই, একমাত্র বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। সাপের কাপড়ে ছোট বোনের মৃত্যুর দিনই ফিরে আসে ভাইটা। উপন্যাসটা এখান থেকেই শুরু। ভাইকে ঘিরে, ভাইয়ের চারপাশের মানুষগুলোকে ঘিরে এরপর ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। উপন্যাসের নায়ককে শৈশব তাড়া করে ফেরে। সেই ছোটবেলায় মেঝ খালা মারা যাবার পর খালাত বোনকে তাদের বাড়িতে ফেলে রেখে গিয়েছিলো মেঝ খালু। সেই থেকে খালাত বোনের প্রেমে পড়ে দুই ভাই। একই সাথে। বয়সে ছোট বলে উপন্যাসের নায়ক পাত্তা পায়না খালাত বোনের কাছে। হয়ত পাত্তা পাক তা চায়ওনা। কিছু ভালোবাসায় চাওয়া পাওয়ার ব্যাপারগুলো উহ্য থাকলেই যেন ভালো। তার বরং ভালো ছাত্র, শান্ত-সুবোধ বড় ভাইয়ের সাথে খালাত বোনের প্রেম দেখতেই ভালো লাগে। তাদের পাশে না থাকার মতন করে থাকতেই ভালো লাগে। ভ্যাগাবন্ড নায়কের আবোল তাবোল ভাবনায় মন উচাটন হয়। আজ এতদিন পর কেন এল তার বড় ভাই তা মাথায় ঢোকেনা। ছোট বোনের মৃত্যু শোকের জন্যেই কি এ আসা নাকি অন্য কোন কারন? বিদেশে ছিলো এতদিন বড় ভাইটা। সেখানেও কোন একটা গল্প অসমাপ্ত রেখে চলে এসেছে সে। বড় ভাইয়ের বিষাদ মাখানো মুখ দেখে বোঝা যায় তা। অনেক দিন পর ভাই, মা, বাবা, খালাত বোন মুখোমুখি হয়। তাদের ভেতর পাশাপাশি থেকে প্রতিশোধ, ভালাবাসা, কষ্ট বসবাস করতে শুরু করে। উপন্যাসের নায়ক চারপাশের কাছের মানুষগুলোর বদলে যাওয়া দেখে অবাক হয়। বদলে যাবার দৈাড়ে পাল্লা দিতে না পেরে আর সবকিছু তার কাছে ধাঁধার মতন লাগে। এই সবকিছু ভেতরেও বারেবার ফিরে আসে একটা প্রশ্ন- কেন পালিয়েছিলো বড় ভাই। খালাত বোনের গর্ভের সন্তানকে হত্যা করা হলো কেন? কার ছিলো দোষ? উপন্যাসের নায়ক এসব ভেবে একসময় হাল ছেড়ে দেয়। প্রশ্নের উত্তর পেয়ে কি’ই বা হবে শুনি? কি হয়? তার চেয়ে বরং অন্য পথে হাটা হোক। আজ না হয় অন্য পথেই হাটুক সে…।