Pages

জিন্না পাকিস্তান নতুন ভাবনা - শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

জিন্না পাকিস্তান নতুন ভাবনা - শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
জিন্না পাকিস্তান নতুন ভাবনা - শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

গুজরাতী প্রথা অনুসারে পুত্রের নামের সঙ্গে পিতার নাম যুক্ত করে পরিশেষে যােগ করতে হয় বংশের পদবী। যেমন গান্ধী বংশের করমচাদের পুত্র মােহনদাস। যেমন তাতা বংশের নাসরবানজীর পুত্র জামশেটজী। তেমনি খােজানী বংশের ঝীণাভাইয়ের পুত্র মহম্মদালী। বড়ো হয়ে মহম্মদালী তার নামটাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। মহম্মদ আলী। তার পিতার নামকেও দুই ভাগে বিভক্ত করে প্রথম ভাগটাকেই করেন তার পদবী। দ্বিতীয় ভাগটা বর্জন করেন। বাদ যায় বংশ পদবীও। বিলিতী কায়দায় বানান করতে গিয়ে ঝীণা হয়ে যায় এমন একটি শব্দ যার উচ্চারণ সাহেবদের মুখে জিনা, ভারতীয়দের মুখে জিন্না, আরবদের মুখে জিন্নাহ্। যেমন আল্লাহ। ইংরেজদের বানানে মহারাজা শব্দটির অন্তেও এইচ জুড়ে দেওয়া হতাে। বার্মার অন্তেও। হাওড়ার অন্তে এখনাে হয়।

জিন্না সাহেব যে সম্প্রদায়ের মুসলমান তার নাম ইসমাইলিয়া খোজা। একবার এক আইনের কেতাবে দেখেছিলুম, “The term 'Hindu' includes Ismailia Khoja.” আইনটা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত। তাই যদি হয় তবে জিন্না সাহেব উত্তরাধিকারসূত্রে হিন্দু। কিন্তু ধর্মবিশ্বাসে মুসলমান। ধর্ম যত সহজে বদলানাে যায় উত্তরাধিকার তত সহজে নয় ।

গুজরাতী হিন্দুদের অনেকের নাম ঝীণা। তার মানে ‘ছােট। কে জানে ‘ছােট থেকে বড়াে হওয়ার আকাঙ্ক্ষা মহম্মদ আলীর অন্তরে কাজ করছিল কি না। নিজের প্রতিভার জোরে তিনি বড়াে ব্যারিস্টার হয়েছিলেন। বড়ো রাজনীতিক হওয়াও স্বাভাবিক। হলেন শেষ পর্যন্ত একটি নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা গভর্নর জেনারেল। বেঁচে থাকলে প্রেসিডেন্টও হতে পারতেন। তাঁর মতে পাকিস্তানই নাকি বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র। কিন্তু তার চেয়ে বড়াে কথা—এটা তাঁর একার সৃষ্টি। গান্ধী না থাকলেও ভারত একদিন না একদিন স্বাধীন হতাে। কিন্তু জিন্না থাকলে পাকিস্তান কি আদৌ সম্ভব হতাে ? ভারতকে স্বাধীন করার দাবীদার আরাে একজন কি দু’জনের নাম শােনা যায়, কিন্তু পাকিস্তানকে স্বতন্ত্র করার দাবীদার আর একজনও নেই। লা শরিক জিন্নাহ। যেমন লা শরিক আল্লাহ্।