Pages

ডন কুইকসােট - মিগেল দে সেরভানতেস - প্রথম বাংলা অনুবাদ বিপিনবিহারী চক্রবর্তী (প্রকাশকাল ১৮৮৭)

amarboi


I know who I am and who I may be if I choose. - Don Quixote.
বিশ্বসাহিত্যে স্পেনের সবচেয়ে বড় অবদান মিগেল দে সেরভানতেসের "ডন কুইকসােট" উপন্যাস। বাংলায় ডন কুইকসােট (দন কিহোতে, জনপ্রিয়তার কারণে ইংরেজি উচ্চারণে ডন কুইকসােট নামটি ব্যবহার করছি) এর প্রথম অনুবাদ হয় ১৮৮৭ সালে। অনুবাদটি করেছিলেন লেখক বিপিনবিহারী চক্রবর্তী। নাম দিয়েছিলেন "অদ্ভুত দিগ্বিজয়"। উপন্যাসটির ভূমিকায় তিনি জানাচ্ছেন, "বর্ষৈক পরে আজি আমি স্পেনগৰ্ব্বভূমি মহাকবি সারভেনটিসের পদাশ্রয় গ্রহণ করিয়া, পুনরায় বঙ্গীয় সাহিত্যসমাজে অবতীর্ণ হইলাম। ... "যদি বিদ্যাসাগর মহাশয়, কি তারাশঙ্কর বাবু, কি আধুনিক নবন্যাস পথপ্রদর্শক বঙ্কিম বাবু, কি তদপেক্ষা বিদ্যাবুদ্ধিসম্পন্ন আর কোনও মহাত্মা, এই গুরুকায্যে অগ্রসর হইতেন, যদি তাহারাই সারভেটিসের প্রচণ্ড প্রতিবেগ ধারণ করিবার নিমিত্ত, আজি বঙ্গসমাজে হৃদয় পাতিয়া দণ্ডায়মান হইতেন, অথবা যদি আজি তাহাদিগের সদৃশ কোনও মহাত্মা সেই চিত্র অনুরঞ্জন করিবার ভার গ্রহণ করিতেন, তাহা হইলে বলিতে পারিতাম, অবিকল না হউক, সে বিচিত্র চিত্রের সমগ্র ছায়াও চিত্রিত হইয়াছে। কিন্তু আমার ন্যায় দীন অকৃতবিদ্য নব্যযুবক যখন এই দেব প্রতিষ্ঠিত মহৎ কাৰ্য্যে হস্তক্ষেপ করিয়াছে, তখন ইহাতে কতদূর কৃতকার্য হইবে, তাহা পাঠকগণ বােধ হয় আগেই বুঝিতে পারিয়াছেন। বুঝাইবার আবশ্যকতা নাই; তবে এই মাত্র বলিয়া রাখি যে, কবি কল্পনার আংশিক ছোঁয়া প্রকটন করিতে পারিলেও, শ্রম সার্থক জ্ঞান করিব।"
ফ্লবেয়ার তাঁর এক চিঠিতে লিখেছিলেন যে ডন কইকসোট পড়ে তিনি তাঁর উৎসকে খুঁজে পান। যেকোন তরুণ হৃদয়কে উন্নত করতে পারে ডন কুইকসোট, এমনটি মনে করেতেন দস্তেয়ভস্কি। কোন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যায় পড়লে আলব্যের কামু বারবার পড়তেন এই বইটি। নবকোভ মনে করতেন মানুষের যতগুলো ভালো গুণাবলী রয়েছে; নম্রতা, শুদ্ধতা, স্বার্থহীনতা, সাহসিকতা, শৌর্যশীলতা এই সবকিছু ফুটে উঠেছে ডন কুইকসোট-এ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর এক লেখায় বলেছিলেন, "পৃথিবীতে এমন কোনো শিক্ষিত মানুষ নেই, যিনি মূল গ্রন্থটি না পড়লেও দন কিহোতে চরিত্রেটির কথা জানেন না। পৃথিবীর বহু লেখকের রচনায় এই উপন্যাসের প্রভাব আছে। এককভাবে একটি কাল্পনিক চরিত্রের এরকম জনপ্রিয়তা আর কারও নেই।"

বিপিনবিহারী চক্রবর্তীর বাংলায় প্রথম অনুবাদটির লিঙ্ক (প্রকাশকাল ১৮৮৭)।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!