Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Widget

সঙ্গ: নিঃসঙ্গতা রবীন্দ্রনাথ - বুদ্ধদেব বসু

সঙ্গ: নিঃসঙ্গতা রবীন্দ্রনাথ  - বুদ্ধদেব বসু

বুদ্ধদেব বসুর (১৯০৮-৭৪) সঙ্গ: নিঃসঙ্গতা রবীন্দ্রনাথ বেরিয়েছিল জানুয়ারি ১৯৬৩ তথা মাঘ ১৩৬৯-এ, প্রকাশ করেছিল এম সি সরকার অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড।
বইটি সঙ্কলন। দুটো ভাগ। প্রথম ভাগের শিরোনামের প্রথমাংশ; দ্বিতীয় ভাগে দ্বিতীয়াংশ। প্রথম দু’টি লেখা, ‘সঙ্গ ও নিঃসঙ্গতা’ (১৯৫৩-র গোড়ায় তিনি কর্মোপলক্ষে তিন মাস মহীশূরে ছিলেন— সেই একাকিত্ব এখানে অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে) এবং ‘হেমন্ত’, রম্যরচনা— তাঁর দুই পুরনো বই ‘হঠাৎ-আলোর ঝলকানি’ (১৯৩৫/৪৬/৫৮) ও ‘উত্তরতিরিশ’ (১৯৪৫/৫২)-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। পরবর্তী নিবন্ধ ‘আধুনিক কবিতায় প্রকৃতি’তে জড়জগৎ বনাম চেতনা নিয়ে তাঁর এক প্রিয় তর্ক দানা বাঁধে (‘আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ’ লিখে তাতে পরে বিবাদী হবেন আবু সয়ীদ আইয়ুব)। অতঃপর, যে দুই আধুনিক কবির ‘সঙ্গ’ (শিরোনামসম্মত অর্থে) তিনি এখানে মাথায় তুলে নিয়েছেন, তাঁরা বরিস পাস্তেরনাক ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। মনে আছে, তাঁরই উৎসাহে ‘ডক্টর জ়িভাগো’-র বাংলা অনুবাদ করেন মীনাক্ষী দত্ত ও মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। আর উপন্যাসের শেষে জ়িভাগোর কবিতাগুলির বাংলা করেন তিনি নিজে। তখন তিনি সিনেমা দেখতেন না, কিন্তু জ়িভাগোর ওই লম্বা ফিল্ম তিনি দেখতে গিয়েছিলেন। আর পাস্তেরনাক নিয়ে অমিয় চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর বিতর্কও তখন পাঠকমহলে খানিক সাড়া জাগিয়েছিল।

বইয়ের দ্বিতীয়াংশে আছে রবীন্দ্রনাথের উপর আটটি প্রবন্ধ, কোনও কোনওটি ছোট, কোনও কোনওটি বড়। নানা বিষয় তাদের। সবচেয়ে বড়টির বিষয়, রবীন্দ্রনাথের গদ্য। তার প্রথম বাক্য: “রবীন্দ্রনাথ গদ্য লিখেছেন কবির মতো; তাঁর গদ্যের গুণ কবিতারই গুণ; যা কবিতা আমাদের দিতে পারে, তা-ই তাঁর গদ্যের উপঢৌকন।”

বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।