সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label আনিসুল হক. Show all posts
Showing posts with label আনিসুল হক. Show all posts

আনিসুল হক - না মানুষি জমিন (বইমেলা ২০১২)

আনিসুল হক - না মানুষি জমিন (বইমেলা ২০১২)
আনিসুল হক - না মানুষি জমিন (বইমেলা ২০১২)





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

খেয়া - আনিসুল হক

kheya-anisul-hoque
খেয়া - আনিসুল হক





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গোধূলি - আনিসুল হক

amarboi.com
গোধূলি - আনিসুল হক





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী - আনিসুল হক


আনিসুল হকের উপন্যাস আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী। উপন্যাসটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মযজ্ঞের আলোকে লেখা। আনিসুল হকের লেখার শৈলী অসাধারণ বললেও কম বলা হবে। উপন্যাসের বিভিন্ন জায়গায় তিনি সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী প্রমূখ নেতাদের মনের ভিতরের জগতটাকে তুলে ধরেছেন, সমসাময়িক ঘটনাগুলিকেও জড়িয়েছেন আষ্টেপৃষ্ঠে। অনেক পার্শ্বচরিত্রকে আলোকিত করে নায়কের মর্যাদা দিয়েছেন। পরবর্তী অনিবার্য ঘটনার সাথে পূর্বের ছোট কোন ঘটনার মেলবন্ধন খুজেঁছেন। কখনও কখনও উছলে উঠেছে আবেগ। কান্নার প্রস্তুতি নিতেই হয়তো নেতাদের চরম দূরদর্শিতা আর অসামান্য দেশপ্রেমে শিউরে উঠেছে শরীর।
উপন্যাসটি না পড়লে অনেক তথ্যই অজানা থেকে যাবে। পড়তে পড়তে যখনই চোখ ভারী হয়ে আসে, তখনই কোন ঘটনা পড়ে গা শিউরে উঠে শুকিয়ে যায় সকল অশ্রু।
উপন্যাসের কিছু কিছু অংশ...
হাত উচিয়েঁ শেখ মুজিব দেখাতে লাগলেন জানালার বাইরে। 'ওই দেখো'
'কী?'
'চাঁদ। আজ মনে হয় পূর্ণিমা। চাদেঁর আলোর চেয়ে সুন্দর পৃথিবীতে আর কী আছে বলোতো?'
চাদেঁর আলোয় মুজিব ভাইয়ের মুখখানা অপার্থিব বলে মনে হচ্ছে।
গাজীউল হকের মনে হল, এই দৃশ্য কী সত্যি হতে পারে? এই কথামালা?
........ ............ ..........
সোহরাওয়ার্দীর গণপরিষদ সদস্যপদ বাতিল করার জন্য সদস্যবিধির সংশোধনী পাস হল। । শীতার্ত দিনটিতে সোহরাওয়ার্দী নিজে উপস্থিত ছিলেন অধিবেশনে।.........একে একে সদস্যরা উঠে ভোট দিতে গেলেন। কেই সোহরাওয়ার্দীর মুখের দিকে তাকাতে পারছেন না। কারণ কিছুদিন আগে সোহরাওয়ার্দী ছিলেন এদেরই মুখ্যমন্ত্রী , এদেরই নেতা। ২৭টা বছর আইনসভার সদস্য ছিলেন। এরা সবাই কোন না কোনভাবে তার কাছে ঋণী।
স্পিকার ভোটে দিলেন।
আইন পাস হল।
সোহরাওয়ার্দীর মুখে স্মিত হাসি।
........ ............ ..........
শেখ মুজিব যুবকর্মীদের উদ্দেশ্যে কারাগারে বললেন,'তোমাদের কিছু জেলের নিয়ম কানুন শিখাইয়া দিই। সবাই যেটা করো, পকেটে ইটের টুকরা, পাথর যা পারো ভরায়া লও। ওজনটা বেশি দেখাইতে হবে। ১৫ দিন পর যখন ওজন নিতে আসবে, পকেটে আর ইট রাখবা না। যেই ওজনটা কমবো, সেইটা পূরণ করার জন্য ডাক্তার স্পেশাল ডায়েট দিবে।'
........ ............ ..........
রেনুর একটা চিঠি এসেছে। তাতে রেনু লিখেছেন, "আল্লাহর রহমতে তুমি আবার পিতা হতে চলিয়াছ। হাসু এখন অনেক কথা বলে......." এর পরে কালি মেরে কয়েক লাইন ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কারাগারবাসে অভিজ্ঞ মুজিব জানেন, এই লাইন গুলোতে ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক কথামালা। হয়তো রেনু লিখেছে, "তুমি এই জালিম সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছো তাতে আমাদের মাথা উঁচু হয়েছে।তুমি বন্ড দিবা না।" কী জানি , কী লিখেছিল রেনু। ওই কটা লাইন পড়ার জন্য শেখ মুজিবের হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে উঠল। তিনি কাগজে তেল লাগালেন। তারপর রোদের উল্টোদিকে ধরে পড়ার চেষ্টা করলেন।
......... ......... .........
আর দেরি কেন? সম্পূর্ণ উপন্যাসটি ডাউনলোড করে পড়ে ফেলুন। কেমন লাগলো আমাদেরকে জানাবেন কিন্তু !





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস ভুল ভোর - আনিসুল হক


” এক ছিল ব্যাঙ্গমা।
আরেক ছিল ব্যাঙ্গমি। একটা আমগাছের ডালে ছিল তাদের বাস। একদিন তারা দু’জনে কথা বলছিল।
ওই আমগাছটা কোথায় ছিল?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়?
পূর্ব পাকিস্তানে।”
---------খ্যাতনামা লেখক, সাংবাদিক আনিসুল হক তার ”ভুল ভোর” উপন্যাসের ১ম পর্বের শুরুটা এভাবে করেছেন।

এ উপন্যাসে ত্রিকালদর্শী এক ব্যাঙ্গমা আর এক ব্যাঙ্গমির কথোপথনের মধ্য দিয়ে একদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং তাজউদ্দিন আহমেদ এর শৈশব থেকে শুরু করে স্কুল জীবন, কলেজ জীবন, বিয়ে, তাদের রাজনৈতিক জীবন ইত্যাদি এবং অপরদিকে ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার আন্দোলন, মুসলীম লীগের রাজনীতি, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং সোহরাওয়ার্দীর রাজনীতি, ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ৭৫ মিলিয়ন লোকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন।

এ উপন্যাসে মূলত: ১৯৪৩ সালের পঞ্চাশের মন্বন্তর থেকে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। সাথে সাথে চমৎকারভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এবং তাজউদ্দিন আহমেদ এর চারিত্রিক বৈশিষ্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
উপন্যাসের শুরুতে তিনি শেখ মুজবুর রহমান সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি কখনোই পূর্ব পাকিস্তান শব্দটি উচ্চারন করতেন না, ১৯৪৭ সালের পরেও তিনি জন্মভূমিকে ডাকতেন "পূর্ব বাংলা" বলে আর বিশ শতকের ষাটের দশকের শেষের দিকে তিনি এর নাম দিয়েছিলেন "বাংলাদেশ"।

ব্যাঙ্গমা আর ব্যাঙ্গমির বাসস্থানের বর্ননা করতে গিয়ে তিনি প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের খোলা চত্বরে যে আমগাছটা ছিল, যে আমগাছের ছায়াতলে সমবেত হয়ে ১৯৫২ সালে ঢাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবীতে সরকারের নিষেধ উপেক্ষা করে মিছিল শুরু করেছিল, সেই আমগাছের উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের চত্বরে অবস্থিত বটগাছের কথা বলেছেন, যার ছায়াতলে ষাটের দশকের শেষের দিকে তীব্র গণ-আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যেখানে আন্দোলনের দিনগুলোয় ছাত্র-সভাসমাবেশ হতো। সবশেষে, রমনা পার্কের অশ্বত্থগাছের কথা বলেছেন যেখানে ষাটের দশকে পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালীদের বাঁধা দিতে লাগল রবীন্দ্রসংগীত গাইতে আর রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে। তখন এই অশ্বত্থতলে সমবেত হতো বাঙালীরা প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে, বাংলা নববর্ষ পালনের উদ্দেশ্যে।

উপন্যাসের দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে জনাব তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করা হয়েছিল,
”আপনি কাকে বেশী ভালবাসেন? বঙ্গবন্ধুকে না বাংলাদেশকে?”

প্রশ্নটি করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন তার গনসংযোগ কর্মকর্তা আলী তারেক। জবাবে তাজউদ্দিন দ্বিধাহীন কন্ঠে জবাব দিয়েছিলেন, ’আমি বঙ্গবন্ধুকে বেশী ভালবাসি’। কারন তাজউদ্দিন জানতেন, গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন, বাংলা, বাংলাদেশ আর বাঙালীর প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভালবাসার কোন তল ছিল না। কোন খাদ ছিল না। মুজিব সারাটা জীবন ধরে একটা জিনিসই চেয়েছেন, তা হলো বাঙালির মুক্তি। কাজেই মুজিবকে ভালবাসার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে ভালবাসা চরিতার্থ হয়ে যায়। খুবই দৃঢ়চেতা, সাহসী আর পরিশ্রমী শেখ মুজিব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাজউদ্দিন আহমেদ একাত্তরের যুদ্ধের সময় জয়বাংলা পত্রিকায় ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে বলেছিলেন,

” সেই চুয়াল্লিশ সাল থাইকা পরিচয়, আমি মুজিব ভাইরে কোনো দিন হারতে দেখি নাই। এইবারও ওনার জয় হইব”।

উপন্যাসের চতুর্থ অধ্যায়ে আনিসুল হক শেখ মুজবর রহমান এবং তার স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছার শৈশবকালের নিখাদ বর্ননা দিয়েছেন। শৈশবে শেখ মুজিবকে খোকা এবং ফজিলাতুন্নেছাকে রেনু নামে ডাকা হতো। রেনুর বয়স যখন ৩ বছর তখন তার বাবা মারা যান এবং ৫ বছর বয়সে মা ও মারা যান। রেনু এবং খোকার বিয়ে হয় সেই শিশুকালেই। বিয়ের মর্ম কি তা তারা বুঝে না। তাহলে কেন এ বিয়ে? পড়েই দেখুন না, জানতে পারবেন।

শেখ মুজিবর রহমান ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ার সময়েই হামিদ মাষ্টরের কাছে শুনতেন মাষ্টার দা সূর্যসেনের গল্প, তিতুমীরের গল্প আর ক্ষুদিরামের গল্প। আরো জানলেন, দেশের জন্য কেউ হাতকড়া পড়লে, দেশমাতা তাকে গলায় ফুলের মালা পড়াবেন। দেশের জন্য জেলে যাওয়া গৌরবের ব্যাপার। বালক শেখ মুজিবের চোখে জল আসে। তার মনে হয়, সেও যদি যোগ দিতে পারত বিপ্লবীদের দলে, এমনি করে দেশমাতার জন্যে যদি সেও ফাসিঁতে ঝুলতে পারত। আস্তে আস্তে তার রক্তেও বাজে-
” ভারতবর্ষ স্বাধীন করতে হবে, ইংরেজ তাড়াতে হবে”।

এদিকে তাজউদ্দিনও স্কুলের ছাত্র অবস্থাতেই রাজনীতিতে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তাই বলে পড়ালেখা ছেড়ে দেন নি। ম্যাট্রিকুলেশনে প্রথম বিভাগে মেধাতালিকায় স্থান করে নেন। কলেজে ভর্তি হয়ে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে নেমে পড়েন। দ্বায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকার উত্তর মহকুমার মুসলীম লীগ গড়ার। তিনি সেই দ্বায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন।

উপন্যাসের শেষ অংশে শেখ মুজিব এবং তাজউদ্দিন এর রাজনীতিই তুলে ধরেছেন। যেমন: মুসলিম লীগের সম্মেলন, মুসলিম লীগের পালামেন্টারী বোর্ড গঠন, কেন্দ্রীয় আইনসভা নির্বাচন, বঙ্গীয় আইনসভা নির্বাচন ইত্যাদি।

তারা চেয়েছিলেন, অখন্ড স্বাধীন বাংলা হবে।
কিন্তু হলো ভারত ও পাকিস্তান। কিভাবে ?? পড়েই দেখুন না।

নিচের ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করে বইটি সংগ্রহে রাখুন।
সংক্ষিপ্ত লেখক জীবনীঃ
আনিসুল হকের জন্ম ১৯৬৫ সালের ৪ মার্চ রংপুরের নীলফামারীতে। পিতা মোঃ মোফাজ্জল হক, মাতা মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগম।
তিনি রংপুর জিলা স্কুল থেকে ১৯৮১ সালে এস.এস.সি. এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এইচ.এস.সি. পাস করেন। উভয় পরীক্ষাতেই সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পান। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের(বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক পাস করেন।
তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ সরকারের রেলওয়ে বিভাগে যোগদান করেন। অল্প কিছুদিন চাকরির পরই তা ছেড়ে দিয়ে সাংবাদিকতায় চলে আসেন। তিনি ১৯৮৭ সালে সাপ্তাহিক দেশবন্ধু পত্রিকার সহসম্পাদক, ১৯৮৯ সালে সাপ্তাহিক পূর্বাভাস পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক খবরের কাগজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত দৈনিক ভোরের কাগজের সহকারী সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক প্রথম আলোর সাথে যুক্ত আছেন। তাঁর মূল ঝোঁক লেখালেখিতে। পত্রিকায় তিনি নিয়মিত কলাম লেখেন।বুয়েটে পড়ার সময় কবিতার দিকে বেশি ঝোঁক ছিল। পরবর্তীতে এর পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও মনোযোগী হন। উপন্যাস, বিদ্রুপ রচনা, নাটক রচনায় প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন।

শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার হিসেবে পুরস্কার, টেনাশিনাস পদকসহ বেশ কয়েকটা পুরস্কার পেয়েছেন। সাহিত্যের জন্য পেয়েছেন খুলনা রাইটার্স ক্লাব পদক, কবি মোজাম্মেল হক ফাউন্ডেশন পুরস্কার।





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর লিখেছেন আনিসুল হক


আনিসুল হক

অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর...


‘মা, বাবাকে তুমি প্রথম কিস্ করেছ কখন?’ পরশ জিজ্ঞেস করে। হাইস্কুলে যাচ্ছে পরশ (১৭), এখনো যে মাকে এই সব প্রশ্ন করছে, তার মানে ছেলেটা এখনো সরল আছে—সুমি আড়চোখে দেখে নেয় ছেলেটাকে। কত বড় হাত-পা হয়ে গেছে ছেলের, খালেদের চেয়েও মনে হয় লম্বা হয়েছে সে। মনে মনে মাশাল্লাহ বলে দুবার, মায়ের নজর না আবার লাগে ছেলের গায়ে।
সুমির মনের মধ্যে গুঞ্জরিত হতে থাকে রবীন্দ্রসংগীত, এত দিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে। বাংলাদেশের বসন্ত! ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, গাছে গাছে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। আমগাছে কালচে পাতা, তার ওপরে লালচে মুকুল, মাছি ভনভন করছে আর কেমন একটা মাদকতাভরা গন্ধ!
‘এই মা, কী ভাবছ?’ পরশের প্রশ্নে বর্তমানে ফিরে আসে সুমি। কত দূরে বাংলাদেশ, জামালপুরে বাড়ির চাতালে হেলে পড়া সিঁদুরে আমের গাছ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সারি সারি আমগাছ! কত দূরে তার ছাত্রবেলা! এখানে, এই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের লাল ইটের ফ্ল্যাটে পাঁচতলায় লিভিং রুমে বসে তারা মায়ে-পুতে গল্প করছে। কোয়ালিটি টাইম কাটাচ্ছে। কাঠের মেঝে, কার্পেটে মোড়ানো, বড় বড় সোফা, একপাশে একটা ৭২ ইঞ্চি টেলিভিশন, তাতে এটিএন বাংলা চলছে, বিজ্ঞাপনই দেখানো হচ্ছে বিরতিহীন। বাংলাদেশে এখন চৈত্র মাস, নিউইয়র্কে এখনো ঘোরতর শীত, ঘরের ভেতরে হিটার অন বলে অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছে না।
খালেদ ওয়াশরুমে ছিল, এসে বসে পড়ে মা আর ছেলের ঠিক মাঝখানে। সোফাটা দেবে যায় খানিকটা। হাতে টিভির রিমোটটা নিয়ে খালেদ চ্যানেল পাল্টায়। চ্যানেল আইতে কী একটা টকশো হচ্ছে।
সুমি বলে, ‘দেখলি, তোর বাবা কী রকম জেলাস? এসে ঠিক মাঝখানে বসল।’
খালেদ বলে, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আয় পরশ, তুই মাঝখানে বস, কেয়ারটেকার সরকার। কী নিয়ে কথা হচ্ছে?’
পরশ—তার গলা পুরুষালি হয়েছে, নাকের নিচে গোঁফের অর্ধস্ফুট রেখা—বাবা-মায়ের মধ্যখানে বসে বলে, ‘মাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার সাথে মায়ের প্রথম দেখা হয়েছিল কীভাবে?’
খালেদ গলা খাদে নামিয়ে বলে, ‘কঠিন প্রশ্ন।’
পরশ কাঁধ নাড়ে, ‘এইটা কী করে হার্ড কোশ্চেন হয়? এটা তো তোমাদের দুজনারই জানা।’
সুমি তখন খিকখিক করে হেসে ওঠে। ওর শরীর কাঁপছে। পুরো সোফাটাই দুলছে নৌকার মতো।
পরশ বিস্মিত, ‘কী হলো, হাসো কেন?’
সুমি বলে, ‘খালেদ, বলব?’
খালেদ বলে, ‘ওমা! বলো। দাঁড়াও। দুই কাপ চা বানায়া আনি। নাকি তিন কাপ? পরশ, তুইও খাবি?’
‘খাব।’
খালেদ ওঠে। ওদের কিচেন এই রুমের সঙ্গেই লাগোয়া। সে তিন কাপের মতো পানি চুলায় বসায়। পানি টগবগিয়ে ওঠে অচিরেই। শব্দ হয়। নিউইয়র্কে থাকলেও ওরা চা খায় বাংলাদেশের ইস্পাহানি। একেবারে দুধ-চিনি দিয়ে ঘন কড়া চা বানিয়ে খায়।
‘শোন, তোর বাবার সাথে আমার দেখা হলো প্রথম ঢাকায়। জুনিয়র রেডক্রসের ক্যাম্পিং হয়েছিল আজিমপুর গার্লস স্কুলে। সেখানে। আমি গেছি জামালপুর থেকে। আর ও গেছে ময়মনসিংহ থেকে। আমি তখন পড়ি সিক্স গ্রেডে। আর তোর বাবা পড়ে টেন গ্রেডে।’
‘সেই প্রথম দেখা?’ পরশের কণ্ঠে কৌতূহল।
‘হ্যাঁ।’ সুমি বলে, ‘শোনো, আমাকে চিনি একটু কম দিয়ো, খালেদ। তোর বাবা আমাকে এসে বলল, মামু, মামু, আমারে চিনছ?’
‘মানে কী?’ পরশ ভুরু কোঁচকায়।
‘মানে হলো, তোর বাবার এক ক্লাসমেট আমার মামা। তোর জয়নাল নানাকে মনে আছে?’
‘নাই। বাদ দাও।’ পরশ গল্প এগিয়ে নিতে চায়।
‘এর আগে নাকি জয়নাল মামা আর তোর বাবা জামালপুরে আমাদের বাসায় এসেছিল। আমাকে আগেই দেখেছে। আমার মনেটনে নাই। তার মনে আছে। এসে বলছে, আমারে চিনছ? আমি তোমার খালেদ মামু।’
‘হি হি হি,’ পরশ হাসে। হাসলে ছেলেটাকে যা সুন্দর দেখায়! সুমি আবার বিড়বিড় করে ‘মাশাল্লাহ’ বলে। ‘তারপর কী হলো?’ খালেদের চোখেমুখে সত্যিকারের জিজ্ঞাসা।
‘আমি বলি, চিনি নাই। তোর বাবা বলে, আমি খালেদ মামু। জয়নালের ক্লাসমেট। তোমাদের বাড়িতে গেছি না? শোনো মামু, এই খামটা একটু ওই যে লম্বা করে মেয়েটা আছে না, রানী, ওকে একটু দিতে পারবা?’ সুমি হেসে সোফার মধ্যে গড়াগড়ি খেতে থাকে।
ওপাশ থেকে তিন কাপ চা ট্রেতে সাজিয়ে নিয়ে এই দিকে আসতে আসতে খালেদ চেঁচায়, ‘এই, এই, বানিয়ে কথা বোলো না।’
‘বানাচ্ছি না। বানাচ্ছি না।’ সুমি বলে, ‘মানে বুঝলি? রানী নামের একটা মেয়েকে তোর বাবার পছন্দ হয়েছে। তাকে সে চিঠি লিখেছে। আমাকে বলে সেই চিঠি রানীকে পৌঁছে দিতে।’
‘হা হা হা,’ পরশ এবার গলা ফাটিয়ে হাসে। ‘তারপর? তুমি পৌঁছায় দিলা চিঠিটা?’
‘দেব না! আমার খালেদ মামু আমারে দিতে বলছে! হি হি হি।’
‘তারপর? রানীকে লাইক করে বাবা, তাকে তুমি কেন বিয়ে করলা?’ পরশ চা হাতে নিয়ে গলায় গাম্ভীর্য ফুটিয়ে বলে।
‘আরে আগে শোন। খালি তোর বাবা রানীকে পছন্দ করে তাই না, আমার জন্যও একটা ছেলে জোগাড় করে আনে।’
‘এই, এই সব কী বলো? বানায়া বইলো না, সুমি।’ খালেদ চায়ের কাপে ফুঁ দিয়ে হাসিমুখে বলে।
‘শোন, শোন, বাবা। পুরাটা শোন। তার নাম ছিল ডায়মন্ড। সেই জন্যে আমার মনে আছে,’ সুমির কণ্ঠে হাসি।
‘ডায়মন্ড তো মেয়েরা ভুলতে পারে না,’ পরশ হাসে।
‘এই, পুরুষবাদী কথা বলবি না।’ সুমি গলায় কৃত্রিম রাগ ফোটায়।
‘না না। তোর মা আসলেই ডায়মন্ড ভাইকে ভুলতে পারে নাই। এর সঙ্গে হিরার কোনো সম্পর্ক নাই।’ এক হাতে চায়ের কাপ, আরেক হাতে টেলিভিশনের রিমোট, খালেদের চোখ টিভিতে।
সুমি বলে, ‘ডায়মন্ড ভাই ছিলেন ময়মনসিংহের রেডক্রসের বড় ভাই। বড় লিডার। তিনি তখন ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছেন। মানে হাইস্কুল শেষ। তাঁর নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে।’
পরশ বলে, ‘তুমি না বললা, তুমি সিক্স গ্রেডে? আর ডায়মন্ড হাইস্কুল কমপ্লিট করেছে। তাইলে তো অনেক সিনিয়র। এজ গ্যাপ তো বেশি হয়ে গেল।’
‘তোর বাপকে বল। তারই বুদ্ধি। সে ডায়মন্ডকে নিয়ে এল আমার কাছে। রেডক্রসের ক্যাম্পিং মানে মাঠের মধ্যে টেন্ট। সাদা সাদা সব তাঁবু। তারই একটা ধরে আছি আমি। ক্লাস সিক্সে পড়ি। দুই বেণী মাথায়। সেই বুড়া হাবড়াকে ধরে এনে তোর বাবা বলে, মামু মামু, এনার নাম ডায়মন্ড। এনার সাথে গল্প করো। বলে তোর বাবা উধাও। আমি বলি, জি, মামা, বলেন। উনি বলেন, আমাকে মামা বইলো না। আমি বলি, কী বলব? উনি আর কথা বলতে পারেন না। হি হি হি।’
সুমির হাতের কাপ থেকে চা ছলকে পড়ে। পরশ টিসু পেপার এগিয়ে দেয়। ‘উফ! মাকে বোধ হয় আজকে হাসিরোগে পেয়েছে।’
‘বাবা, তুমি ডায়মন্ডকে রেখে কই গেছিলা?’ পরশ প্রশ্ন করলে সুমির হাসি পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে দেয়।
খালেদ বলে, ‘আরে, তোর মা বানিয়ে বলছে।’
‘তারপর কী হলো?’ পরশ জানতে চায়।
‘তারপর তো আমি জামালপুরে ফিরে গেলাম। ওই লোক রেগুলার আমাকে চিঠি লেখে। আমি জবাব দেই না। একদিন তোর বাবা সেই ডায়মন্ডকে নিয়ে আমাদের জামালপুরের বাড়িতে হাজির।’
‘আরে না। কাজে গেছলাম জামালপুরে। তাই তোমাদের বাসায় গেছলাম। ডায়মন্ড ভাইকে নিয়ে যাইনি।’ খালেদ প্রতিবাদ করে।
সুমি বলে, ‘আব্বা টের পেয়ে যান। তখন জয়নাল মামাকে ডেকে ঝাড়ি দেন। এই, তোর বন্ধুবান্ধবগুলান এই রকম কেন? তোর বন্ধু খালেদ তার ডায়মন্ড ভাইকে নিয়ে এসে আমার মেয়েকে জ্বালাতন করে কেন?’
‘তারপর?’ পরশ শুধায়।
‘তারপর তোর বাবা আর ডায়মন্ডকে নিয়ে জ্বালাতন করতে আসেনি। আমি জামালপুর কলেজ থেকে আইএসসি পাস করে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হই। তোর বাবা তখন ইউনিভার্সিটির টিচার হয়ে গেছে। আমি হলে সিট পাই নাই। রেবেকা খালার বাসায় থেকে বহুত কষ্ট করে ক্লাস করি। কী আর করা। গেলাম আমার খালেদ মামুর কাছে। মামু, আমাকে হলের সিট জোগাড় করে দেন। মামু বলে, হলে থাকবে? তোমার তো কষ্ট হবে। আচ্ছা, সোমবার এসো। দেখি কী করতে পারি। যাই সোমবারে। উনি আমাকে বলেন, চা খাবে? আমাকে চা বানিয়ে খাওয়ান। এইভাবে সোমবারে যাই, বুধবারে যাই। শনিবারে যাই।’
খালেদ বলে, ‘তারপর রবিবারে যাই, সোমবারে যাই, মঙ্গলবারে যাই, বুধবারে যাই।’
পরশ লজ্জা পায়, ‘বুঝসি বুঝসি, রোজ যাও। তারপর?’
‘তারপর আর কী? মামু বলে, শোনো, তোমার এত কষ্ট করে হলে ওঠার দরকার কী? আমার তো বাসা আছে। তুমি তো আমার বাসাতেই উঠতে পার। তখন আমি বলি, প্রোপোজাল ছেলের বাসা থেকে পাঠাতে হয়। তুমি প্রোপোজাল পাঠাও।’
‘এর আগে না আপনি করে বলতে? এরপর তুমি করে বলা শুরু করলা?’ পরশের প্রশ্ন।
খালেদ বলে, ‘মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন করেছিস, বাবা। বাংলা ভাষায় সিনেমায়, নাটকে এই আপনি থেকে তুমিতে আসতে যে কত পৃষ্ঠা আর কত রিল খরচ করতে হয়!’
পরশ বলে, ‘তারপর কী হলো?’
সুমি বলে, ‘আমাদের বিয়ে হয়ে গেল। ইউনিভার্সিটির ক্লাবে রিসেপশন পার্টি হলো।’
‘আর ডায়মন্ড মামু?’ পরশ হাসে।
‘তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। আমি কি তার খবর জানি নাকি?’
পরশ বলে, ‘আর রানী। বাবা, তোমার রানী কই?’
‘জানি না।’
সুমি চেঁচায়, ‘জানে জানে। তোর বাবা বলবে না। তোর বাবার কবিতার খাতায় দেখবি, তাকে নিয়ে কত কবিতা লেখা।’
‘আমি তো বাংলা পড়তে পারি না, মা।’
‘আচ্ছা, তোকে আমি ইংলিশে ট্রান্সলেট করে দেব।’ খালেদ বলে, ‘পড়ে দেখিস। তোর মা কী রকম লায়ার। আর তোর মা যে খালি ডায়মন্ড কেনে, মার্কেটে গেলেই একটা করে ডায়মন্ড কিনে আনে, কেন আনে এখন বোঝ।’
‘চিন্তা কর! কী বলে তোর বাবা। এই, তুমি তো একটা কমপ্লেক্স ক্যারাক্টার। এইভাবে কেউ ভাবে?’
পরশ মধ্যস্থতা করে। সে তখন কিচেনের সিংকে, কাপ-পিরিচগুলো ধুচ্ছে। গলা উঁচিয়ে বলে, ‘কিন্তু মা, তুমি কিন্তু আমার আসল প্রশ্নটাই এড়িয়ে যাচ্ছ। তোমরা প্রথম কিস করলে কখন? বিয়ের কত দিন আগে? কোথায়?’
খালেদ আর সুমি পরস্পরের মুখের দিকে লাজুক ভঙ্গিতে তাকায়।
‘মনে নাই রে।’ খালেদ বলে।
পরশ বলে, ‘মনে নাই? এটা হতে পারে? ফার্স্ট কিস কেউ ভোলে?’
‘মনে থাকলেও এটা তোকে বলতে পারব না, বাবা।’ সুমি বলে, ‘আমাদের কালচারে এই সব কথা কেউ ছেলেমেয়ের সঙ্গে শেয়ার করে না।’
‘বিয়ের কত দিন আগে, সেটা বললে কী হয়?’
‘ধর, দুই মাস।’ সুমি বলে।
‘কোথায়? মানে ডেটিং প্লেস কোনটা ছিল?’ পরশ জানতে চায়।
সুমি বলে, ‘বাবা, আমরা তো ঠিক ডেটিং করি নাই। ওই শব্দটাই তো আমাদের কালচারে নাই। তবে প্লেসটা আমি তোকে বলি। রিকশায়। বসন্তকালে। আমাদের ইউনিভার্সিটির রাস্তা ভরা আমগাছ। আমের মুকুলের গন্ধ আসছিল। আর একটা কোকিল ডেকে উঠেছিল। এই সময় তোর বাবাকে বললাম, আমাকে একটা চুমু খাও। ও বলল, বলো কী, চারদিকে আমার ছাত্রছাত্রী। আমি বললাম, না, চুমু তোমাকে খেতেই হবে। সে আমার হাতটা ধরে একটা চুমু দিল।’
‘ধ্যাৎ! হাতে কিস খেলে সেটাকে কিস বলে নাকি?’ পরশ হতাশ।
‘আমাদের সময়ে সেটাই অনেক বড় ব্যাপার ছিল, বাবা। পরশ, যাও, শাওয়ার সেরে নাও। আমি খাবার গরম করি। লাঞ্চ করব।’
পরশ ওঠে। বাথরুমে যায়। সুমি খালেদের হাত ধরে বলে, ‘খালেদ, এবার দেশে গেলে আমরা একটা রিকশায় করে ঘুরব দুজনে, আচ্ছা? ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে যাব। ওই আমগাছগুলোর নিচ দিয়ে রিকশা চলবে। এবার তুমি আমাকে একটা চুমু খেয়ো। এখন তো আর চারপাশে তোমার ছাত্রছাত্রীরা থাকবে না। নিয়ে যাবে, বলো, খালেদ?’
‘অবশ্যই নিয়ে যাব। অবশ্যই।’ সুমিকে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরে খালেদ বলে। সুমির চোখ ছলছল করে। সুমির গ্রিনকার্ডে ঝামেলা হচ্ছে। একবার বাইরে গেলে আর ফিরতে পারবে না আমেরিকায়। ১৫টা বছর সুমি দেশের বাইরে। এর মধ্যে আব্বা মারা গেছেন। আম্মা জামালপুর ছেড়ে ঢাকায় এসে ছোট ভাই সুজনের বাসায় থাকেন। তাঁদের জামালপুরের বাড়ির সামনের খুলিতে সেই হেলে পড়া সিঁদুরে আমের গাছটা কি এখনো আছে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আমগাছগুলো?
‘আমের মুকুলের গন্ধওয়ালা পারফিউম কিনতে পাওয়া যায় না, খালেদ? ফাল্গুনের শেষে হঠাৎ বৃষ্টি। ঢাকায়। ময়মনসিংহে। জামালপুরে। আমাদের উঠোনে। টিনের চালে। তারপর বৃষ্টি উধাও। রংধনু উঠল আকাশে। মাটিতে সোঁদা গন্ধ। আর আমগাছতলায় বিন্দু বিন্দু মুকুলের আল্পনা। আমি খুব মিস করি, খালেদ। আমি খুব মিস করি। আর কী মিস করি জানো? রিকশা। ওয়ার্ল্ড কাপের ওপেনিংয়ে রিকশায় ক্যাপ্টেনদের চড়িয়ে খুব ভালো করেছে বাংলাদেশ।’
‘আর আমি মিস করি রিকশায় খাওয়া আমাদের অসমাপ্ত প্রথম চুম্বন।’ সুমির ঠোঁটে ঠোঁট রেখে দ্রুত একটা চুমু খেয়ে নিয়ে খালেদ বলে। ক্যাচ করে শব্দ ওঠে। পরশ বাথরুম থেকে বেরোল। ওরা নিজেদের পরস্পরের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়।
টেবিলে প্লেট সাজায় পরশ। ন্যাপকিন দেয় খালেদ। সুমি গরম করা খাবারগুলো টেবিলে রাখে। খালেদ বলে, ‘থ্যাংক ইউ, পরশ, তোর মাকে ওই কোশ্চেনটা করার জন্যে।’
‘কোন কোশ্চেনটা, বাবা?’
‘এই পরশ, তুই ভাত খাবি না একটু? কয়বেলা বার্গার খেয়ে থাকবি?’ ছেলের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে সুমি তাড়াতাড়ি বলে। সুমির মাথার মধ্যে রিকশার ঘণ্টাধ্বনি বাজছে। আশ্চর্য, সেই বেলের আওয়াজে সুরও ফুটছে—মধুর বসন্ত এসেছে, আমাদের মধুর মিলন ঘটাতে...তার এই দুপুরটায় কী যে ভালো লাগছে!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com