সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী. Show all posts
Showing posts with label সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী. Show all posts

সাহিত্যের অন্তর্জগৎ - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

amarboi
সাহিত্যের অন্তর্জগৎ - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগনের মুক্তি - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী [Download]

amarboi
জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগনের মুক্তি - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

বইটির ফ্ল্যাপে বইটি সম্পর্কে লেখা আছে;
“উনিশ শ’ পাঁচ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে উনিশ শ’ সাতচল্লিশ সালের জনগণের মুক্তি গ্রন্থটি প্রচলিত অর্থে ঘটনার বর্ণনা নয়, বরং ঘটনার তাৎপর্য অনুসন্ধানের বিশিষ্টতায় অনন্য। বাঙালীর জাতীয়তাবাদের বিকাশটি ঘটেছিল এই সময়টুকুর মধ্যে, বিশেষ করে প্রথমবারের বঙ্গভঙ্গের প্রতিরোধ যে তীব্র দেশাত্মবোধের আর আত্মোপলব্ধির সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছিল, তারই হাত ধরে। অন্যদিকে ওই বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়েই বাংলায় আধুনিক সাম্প্রদায়িকতা বিস্তারের ইতিহাসটিরও শুরু। এই হাত ধরাধরি করে চলা জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের রাজনীতির আড়ালে, কিভাবে তাদের শ্রমিক বা কৃষক পরিচয়কে ভুলিয়ে ভারতীয় বা পাকিস্তানী, হিন্দু বা মুসলিম পরিচয়কেই সামনে টেনে এনে প্রধান পরিচয় বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটাও বর্তমান গ্রন্থের অন্যতম উপজীব্য।
জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা উভয়ের উত্থানের ওই সময়টুকুতে সমাজের সক্রিয় অংশগুলোর মনস্তত্ব ও আকাঙ্ক্ষাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন একদিকে তাদের ক্রিয়াকাণ্ড, অন্যদিকে সমকালীন সাহিত্যের সাক্ষ্যসহ নানান উপাদান ব্যবহার করে। এক একটা যুগ এবং তাতে ভূমিকা রাখা সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মনোভাবকে উপলব্ধির জন্য সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর এত গভীর ও বিপুল ব্যবহার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর আগে খুব কমই হয়েছে বাংলা ভাষায়।
১৯০৫-৪৭ কালপর্বের ঘটনাবলীর বীজ অনুসন্ধানের প্রয়োজনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যেমন অনায়াসে বিচরণ করেছেন এর আগেকার উনিশ শতকের কখনো কখনো চিহ্নিত করেছেন আমাদের চারপাশের বাস্তবতায়।”


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ধ্রুপদী নায়িকাদের কয়েকজন - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

amarboi
ধ্রুপদী নায়িকাদের কয়েকজন
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

হোমারের হেলেন
প্রতীক্ষামাণা গৃহিণী
রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাকিনী
প্রেয়সী নয়, মাতাও নয়
সীতার ধিক্কার
অচরিতার্থ দ্রৌপদী
তরুণী বিধবার পীড়িত হৃদয়
শকুন্তলার জয়
আদি স্ত্রীর প্রথম বিচ্যুতি
ত্রিভুজের প্রথম বাহু
পলাতক এমা
আন্না কারেনিনার আত্মহনন
নোরা, তুমি যাবে কোথায়
রবীন্দ্রনাথের নায়িকা

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি মধ্যবিত্ত - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

amarboi
বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি মধ্যবিত্ত - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

আলোচনার বিষয় আধুনিক বাংলা সাহিত্য, যে-সাহিত্য শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সৃষ্টি করেছে, তার নিজের প্রয়োজনে ও আগ্রহে। ওই শ্রেণীর সঙ্গে এই সাহিত্যের সম্পর্ক তাই অত্যন্ত নিবিড়। মধ্যবিত্তের জীবনে নানা আকাক্সক্ষা থাকে, থাকে স্বপ্ন এবং সেই সঙ্গে সংকট, সাহিত্যে যার প্রতিফলন ঘটেছে। মধ্যবিত্তের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব ও নৈকট্য এবং ওই শেণীর ভেতরকার দ্বন্দ্বও এই সাহিত্যে আছে। নর-নারীর সম্পর্ক তো বটেই, হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কটিও এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাঙালি মধ্যবিত্ত সবচেয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষাকে, তার পরে সাহিত্যকে। শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা সাহিত্যের মর্যাদা বাড়িয়েছে।

আলোচনা শুরু হয়েছে ১৭৭৮-এর একটি ঘটনার উল্লেখ দিয়ে; যেটি হল একজন ইংরেজের হাতে বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ গ্রন্থের রচনা। এ ঘটনা এ কথাটা বলছে যে, দেশের নতুন শাসকেরা বাংলা ভাষা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে এবং বলছে এ কথাও যে, তাদের এ জ্ঞান-অণ্বেষনটা উদ্দেশ্যহীন নয়, উদ্দেশ্য রয়েছে, আর সেটা হল নিজেদের কর্তৃত্বকে আরও বিস্তৃত ও গভীর করা। অস্ত্রের সাহায্যে তো শাসন করবেই, ঠিক করেছে অধীনদের আরও অধীন করার জন্য জ্ঞানেরও দরকার পড়বে। ওই বিদেশী শাসনের নানা ধরনের প্রভাব আমরা বাংলা সাহিত্যে প্রত্যক্ষ করি। প্রভাব বিশেষ রূপে কার্যকর হয়েছে ইংরেজি-শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্য দিয়েই। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীই আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একাধারে স্রষ্টা ও পাঠক, এবং শ্রেণীটি নিজে যে গড়ে উঠেছে তাও ইংরেজদের আনুকূল্য লাভের ভেতর দিয়েই। শাসক ইংরেজ যে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ তৈরি করে দিয়েছে এটা ঠিক নয়, তবে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সামাজিক ব্যাকরণ তৈরিকে তারা যে প্রভাবিত করেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সামাজিক ওই ব্যাকরণের একটি উপাদান হচ্ছে জাতীয়তাবাদ। বাঙালির জন্য পরাধীনতা নতুন অভিজ্ঞতা নয়, কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে পরাধীনতার ফলে যে জাতীয়তাবাদী স্পৃহা জেগেছিল তেমনটি আগে কখনও ঘটেনি। অন্য বিজেতারা এখানে এসে স্থায়ীভাবে রয়ে গেছে, কিন্তু ইংরেজরা যে বসবাসের জন্য আসেনি, বাণিজ্যের জন্যই এসেছে এটা ছিল স্পষ্ট। বাণিজ্যের স্বার্থে তারা সাম্রাজ্য গড়েছে। কেবল সৈন্য দিয়ে শাসন করেনি, ভাষা দিয়েও ওই কাজ করেছে। বাঙালি মধ্যবিত্ত ইংরেজদের আনুকূল্য পেয়েছে আবার তার হাতে অপমানিতও হয়েছে; সে বুঝে নিয়েছে যে ইংরেজরা এখানে বসতি স্থাপন করেব না ঠিকই, কিন্তু আবার চলেও যে যাবে তাও নয়; তাছাড়া চলে যাক এটা যে মধ্যবিত্তরা শ্রেণীগতভাবে চেয়েছে এমনও নয়, তাদের স্বার্থ ইংরেজ শাসনকে সমর্থন করেছে। কাজেই ইংরেজ-বিরোধিতা আর ইংরেজ-সমর্থন পরস্পরবিরোধী এ দুই কাজ একসঙ্গেই চলেছে।

স্বাধীনতার জন্য জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের আবশ্যকতার বোধটা ইংরেজ বিরোধিতারই ফলশ্র“তি। বাংলা ভাষা চর্চার মধ্যে জাতীয়তাবাদী অনুপ্রেরণা ছিল বৈকি, যারা ওই অনুপ্রেরণাটা বোধ করেনি তারা তাঁবেদারিকে স্বাধীনতা বলে গণ্য করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হল এই যে, সাহিত্যের ক্ষেত্রে ওই জাতীয়তাবাদ ইংরেজকে শত্র“ বলে সরাসরি চিহ্নিত করেনি ভয়ে। ভয় ছিল স্বার্থহানির; ভয় ছিল ইংরেজদের কোপানলে পতনের। ভীত জাতীয়তাবাদের ভুল ধারাটাকে দেখা গেল সামনে না এগিয়ে পিছু হটে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে ধর্মের কাছে, পরিণত হচ্ছে ধর্মীয় পুনর্জাগরণবাদে। ওই পুনর্জাগরণবাদের পক্ষে অস্বাভাবিক হয়নি সাম্প্রদায়িকতাকে পুষ্ট করা। সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টিতে ইংরেজের সুবিধাবাদী উস্কানি যে ছিল তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু তার মূলটা যে ছিল অর্থনৈতিক, তা অনস্বীকার্য। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে হিন্দু মধ্যবিত্ত এগিয়ে ছিল, মুসলমান মধ্যবিত্ত কিছুটা বিলম্বে এসেছে, এসে পেশা ও রাজনীতিতে নিজের জন্য জায়গা চেয়েছে। জায়গা নিয়ে এই বিরোধটাই হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার মূল উৎস। ধর্ম কাজ করেছে পরিচয়ের চিহ্ন ও উত্তেজক সহকারী হিসেবে।
ভাষা সবসময়ই ইহজাগতিক, সাহিত্যেরও হওয়ার কথা সেরকমই, কিন্তু আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ধর্ম প্রবেশ করেছে, এমনকি কার্যকরও থেকেছে, আর ভাষাও যে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব এড়াতে পেরেছে তা নয়।

জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত স্পর্শকাতররূপে শত্র“সচেতন। শত্র“র উপস্থিতি না থাকলে সে জোর পায় না, এগোতে পারে না। হিন্দু মধ্যবিত্ত নিজেকে কেবল বাঙালি ভাবেনি, হিন্দুও ভেবেছে এবং এজন্যই অনেক সময় ইংরেজের চেয়েও মুসলমানকে সে বড় শত্র“ হিসেবে দেখেছে। আÍপরিচয়ের প্রশ্নেও ওই মধ্যবিত্তকে ধর্মের কাছে যেতে হচ্ছিল, বিধর্মী ইংরেজের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সে যে তার ধর্মীয় পরিচয়কেই উচ্চে তুলে ধরবে এতে কোনো অস্বাভাবিকতা ছিল না। ধর্ম পুরাতন বন্ধু, নির্ভরযোগ্য আশ্রয়দাতা; তার কাছে গিয়ে নিরাপদে ইংরেজ-বিরোধিতাও সম্ভবপর, কেননা বিরোধিতাটা তখন আর রাজনৈতিক থাকবে না, রূপ নেবে ধর্মীয় এবং ধর্মের ব্যাপারে ইংরেজের তেমন কোনো মাথাব্যথা ছিল না, সে এসেছে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে, ধর্ম নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করাটা তার ব্যবসার জন্য উপকারী নয়, বরঞ্চ ক্ষতিকর।

মধ্যবিত্তের এ ধর্মাশ্রয়িতা বাঙালির জন্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়েছে, কেননা তা সাম্রাজ্যবাদকে পুষ্ট করেছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে দুই রাষ্ট্রে ভাগ করে ছেড়েছে। ধর্মাশ্রয়িতা সাহিত্যের জন্যও ইতিবাচক ফল বহন করে আনেনি। কেননা সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে সে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে ভাববাদককে এবং সমর্থন করেছে সাম্প্রদায়িকতাকে।

সাহিত্যের সামাজিক ব্যাকরণে এ সত্য ও উল্লেখযোগ্য নিয়ামক যে, বাঙালি মধ্যবিত্ত সাহিত্যচর্চাকে অত্যন্ত উচ্চমূল্য দিয়ে এসেছে। এর একটা সহজ কারণ এই যে, আÍপ্রকাশের অন্য মাধ্যমগুলো তার পক্ষে আয়ত্ত করা সহজ হয়নি। স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের উপকরণ এদেশে সীমিত। চিত্রকলাকে রক্ষা করা কঠিন। নৃত্যের ব্যাপারে সামাজিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ ছিল। তুলনায় বই লেখা সহজ এবং বাঙালি তা লিখলেও। তাছাড়া সাহিত্য তার জন্য কেবল যে আÍপ্রকাশের মাধ্যম ছিল তা নয়, ছিল চিত্তবিনোদনের সুস্থ উপায় এবং ছিল অন্য বাঙালির এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্র। নিজের চারপাশে যা দেখেছে এবং বাইরের বিশ্ব থেকে যা সংগ্রহ করেছে তা সে ব্যবহার করেছে সাহিত্য রচনায়।

বাঙালির আÍপরিচয়ের ক্ষেত্রে একটা সমস্যা ছিল উত্তর ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্ক। উত্তর ভারত বাঙালিকে হিন্দু কিংবা মুসলমান হতে সাহায্য করেছে, বাঙালি হতে পরামর্শ দেয়নি। অথচ ভাষা বাঙালিকে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাঙালিরা উত্তর ভারতের সম্প্রসারণ নয়, তারা স্বতন্ত্র। স্বাতন্ত্র্যের এ বোধকে লালন করা বাঙালির জন্য স্বাভাবিক ছিল, আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ওই লালন-পালনটা রয়েছেও, কিন্তু সর্বভারতীয় উৎপাতটা যে এখানে-সেখানে দেখা যায়নি তা নয়। বলা বাহুল্য, সর্বভারতীয়তার এই বোধটাও ইংরেজি শাসনেরই ফল, তার আগে ভারতবর্ষে বহু অঞ্চল ছিল, অখণ্ড ভারত বলে কিছু ছিল না।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অনেক দানের মধ্যে একটি হল কলকাতা শহর। ছোটখাটো লন্ডন একটি; প্রবাসে স্বদেশবাসের আয়োজনÑ ইংরেজের জন্য। মধ্যবিত্ত বাঙালির পক্ষে সেখানে সুযোগ সন্ধান খুবই সম্ভবপর। ওই শহরে নানা হট্টগোল, যার মধ্যে মাথা ঠিক রাখাটা সহজ ছিল না; মাথা যারা ঠিক রেখেছিলেন তাদের অনেককেই দেখা গেছে চর্চা করছেন বাংলা সাহিত্যের। বিচ্যুতির সম্ভাব্য পথ তখন একটি নয়, ছিল দুটি। একটি পুঁজিবাদের অপরটি সামন্তবাদের। ইংরেজরা ছিল পুঁজিবাদের প্রতিনিধি। অন্যদিকে দেশের ভেতর কার্যকর ছিল সামন্তবাদী পিছুটান। একদিকে উগ্র ইয়াং বেঙ্গল, অন্যদিকে সামন্তবাদী বাবুয়ানা; ওই বাবুয়ানাও আবার ইংরেজের সৃষ্ট জমিদারি ব্যবস্থার ওপর পা রেখেই দাঁড়িয়েছিল। মাইকেল মধুসূদন দত্তের সঙ্গে ইয়াঙ বেঙ্গলের মিল ছিল; কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবান, তাই সাহেব হওয়ার জন্য ধর্ম ছেড়ে ছিলেন ঠিকই, কিন্তু ভাষা ছাড়তে পারেননি। ইংরেজ ভাষার কবি হবেন ভেবেছিলেন, কিন্তু মেধার স্বাভাবিক তাড়না বাঙালি সাহিত্যিকই হলেন। পয়ারের একঘেয়েমি ও বন্ধনের জায়গায় তিনি নিয়ে এলেন অমিত্রক্ষরের বৈচিত্র্য ও মুক্তি। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক তিনিই লেখেন; রামের পরিবর্তে রাবণকে নায়ক করলেন তিনি তার মহাকাব্যের, এবং প্রহসন লিখে ব্যঙ্গ করলেন যেমন উচ্ছৃঙ্খল আধুনিকতাকে তেমনি সামন্তবাদী শোষণকে। মহাকাব্য ও নাটকে তিনি পিতৃত্বের পতন দেখিয়েছেন। ওই পতনের কারণ হচ্ছে পিতার ব্যর্থতা। পিতা পারেনি সন্তানকে রক্ষা করতে, পিতা ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষায়। কিন্তু মধুসূদন আরও একটি কাজ করেছেন, কাব্যের ভাষাকে তিনি সংস্কৃতবহুল করেছেন। বীররসের সৃষ্টি করবেন এই আকাক্সক্ষা ছিল তার, কিন্তু সে-বীরত্ব তার সংস্কৃতিতে ছিল অনুপস্থিত, তাই যা সৃষ্টি করেছেন তা বীররস নয়, করুণ রস।

ওদিকে জাতীয়তাবাদের আর্তহƒদয় ক্রন্দন শুরু করেছিল। সেই ক্রন্দনটি মধুসূদনের কাব্যে যেমন আছে, তেমনি রয়েছে রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নবীন চন্দ্র সেনের মহাকাব্যিক উদ্যোগেও। কিন্তু ওই ক্রন্দন সরাসরি ইংরেজ-বিরোধিতায় পরিণত হবে এমন সম্ভাবনা ছিল না, বরঞ্চ ক্ষেত্রবিশেষে তা মুসলমান-বিরোধিতায় পরিণত হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনেক দিক দিয়েই অসামান্য। মধুসূদনের মতো তিনিও ইংরেজিতেই লেখা শুরু করেছিলেন, কিন্তু মনীষার অনুপ্রেরণায় অচিরেই চলে এসেছেন বাংলা ভাষার কাছে। আধুনিক বাংলা গদ্য রচনা যদিও রামমোহন রায়ই শুরু করেছিলেন, কিন্তু সে-গদ্য সাহিত্যিক প্রাণবন্ততা পায় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের হাতে। বঙ্কিমচন্দ্র এই গদ্যকেই আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও কল্পনাসমৃদ্ধ করে তুলেছেন, তার উপন্যাসের সাহায্যে। মাইকেলের মতো বঙ্কিমচন্দ্রও নায়ক খুঁজেছিলেন, কিন্তু সে নায়কের খোঁজে তিনি পুরাণের কাছে যাননি, গেছেন ইতিহাসের কাছে এবং বিশেষভাবে সমসাময়িক জমিদারদের বাড়িতে। রবীন্দ্রনাথের বাইরে সাহিত্যের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্রই সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক। তার উপন্যাসে ঘটনাক্রম রোমাঞ্চকর; কিন্তু ঘটনার রোমাঞ্চে নয়, বঙ্কিমচন্দ্রের মূল আগ্রহ ছিল চরিত্র সৃষ্টিতে। বহু স্মরণীয় নায়ক-নায়িকা রেখে গেছেন তিনি আমাদের জন্য। তার নায়িকারা অত্যন্ত জীবন্ত ও তেজস্বিনী; কিন্তু তার নিজের স্বাভাবিক পক্ষপাত নায়কের প্রতিই। এ নায়ককে তিনি কলকাতায় পাননি, কলকাতার মানুষেরা তখনও দ্বিমাত্রিক, গভীরতার তৃতীয় মাত্রা তখনও তারা অর্জন করেনি; বঙ্কিমের নায়কেরা তাই থাকে কলকাতার বাইরে।

মীর মশাররফ হোসেনের রচনাও তাৎপর্যপূর্ণ। দুই কারণে। একটি কারণ, সাহিত্যিক অন্যটি সাংস্কৃতিক। বঙ্কিমচন্দ্র মশাররফের গদ্যরীতির প্রশংসা করেছিলেন সেখানে তথাকথিত মুসলমানিত্বের অভাব দেখে। বোঝা যায়, হিন্দু-মুসলমানের একটি সাহিত্যিক ব্যবধান ততদিনে দাঁড়িয়ে গেছে। ভদ্র-অভদ্র, সাধু-চলিতের পার্থক্যের সঙ্গে এ একটি নতুন মাত্রার যোগ বটে। আপাতদৃষ্টিতে এ ব্যবধানটা শ্রেণীগত নয়, কেননা এটা একটি খাড়াখাড়ি বিভাজন, সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে। কিন্তু এর পেছনেও শ্রেণী রয়েছে, রয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীরই হিন্দু-মুসলমান দুই অংশের বিরোধ। মশাররফ হোসেন অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, কিন্তু তবু তিনি তার সম্প্রদায়ের মানুষ বৈকি, তিনি তার প্রধান রচনা ‘বিষাদ সিন্ধু’র জন্য যে-কাহিনীটি বেছে নিয়েছেন সেটি তার সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত। ‘বিষাদ সিন্ধু’ মোটেই ধর্মগ্রন্থ নয়, যদিও মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকের কাছে এ-গ্রন্থ এক সময়ে প্রায় ধর্মগ্রন্থতুল্য মর্যাদা পেয়েছে। ওই রচনাটি আবার উপন্যাসও নয়, যদিও চরিত্র সৃষ্টিতে মশাররফের দক্ষতা একজন ঔপন্যাসিকের মতোই।

মশাররফ হোসেন অত্যন্ত ইহজাগতিক ছিলেন, যে জন্য ‘বিষাদ সিন্ধু’তে দুর্বৃত্ত এজিদ নৈতিকতার প্রতীক নয়, একজন মানুষ বটে। একাধিক বিবেচনায় মশাররফ অমধ্যবিত্তসুলভ ছিলেন। তার মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আÍসচেতনতা ছিল না, যে জন্য তিনি ওজম্বী হতে ভয় পাননি। তিনি বিষয়মুখী হতে চান, আÍমুখিতা ভুলে। রোমাঞ্চকর ঘটনা পছন্দ করেন এবং তার ওজাস্বিতা কখনও কখনও প্রগলভ হয়ে উঠতে চায়। সর্বোপরি, তিনি ‘জমিদারদর্পণ’ লিখে প্রজার ওপর জমিদারের নিপীড়নের ছবি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। দীনবন্ধু মিত্র ‘নীলদর্পণ’ লিখেছেন, সেই দর্পণে বিদেশী সাহেবদের চেহারা-ছবি ধরা পড়েছে, কিন্তু দেশী জমিদাররদের প্রজাপীড়নের ছবি দীনবন্ধুও দেননি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বঙ্কিমচন্দ্র ‘জমিদারদর্পণে’র ভাষার প্রশংসা করেছেন ঠিকই, কিন্তু বইটির বহুল প্রচার চাননি; পাছে প্রজাবিদ্রোহে ইন্ধন জোগানো হয়। সংস্কৃতিতে ধর্মের চেয়ে শ্রেণী যে অধিক শক্তিশালী বঙ্কিমচন্দ্রের এই দ্বিমুখিতা তারই প্রমাণ বটে। তবে ধর্মের শক্তিও যে কম যায় না তার নিদর্শন অন্যত্র যেমন রয়েছে, তেমনি মশাররফের নিজের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায় বৈকি। শেষ বয়সে বঙ্কিমচন্দ্রের মতোই মশাররফও ধর্মের কাছেই চলে গেলেন, একদা তিনি ‘গো-জীবন’ লিখে গো হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত লিখেছেন শিল্পসৌন্দর্যে-খর্ব ‘মওলুদ শরীফ’। মশাররফ যে উপন্যাস লিখবেন না সেটা নির্দিষ্ট হয়ে গেছে তার সংস্কৃতির কারণেই। সেখানে নায়ক নেই; তার নিজের শিক্ষাদীক্ষাও মফস্বলের; শহরে গেছেন, কিন্তু গ্রামেই কেটেছে তার কর্মজীবন।

কায়কোবাদও মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণীরই সদস্য, তবে মশাররফের তুলনায় অনেক বেশি আÍসচেতন তিনি। কলকাতা থেকে দূরে তার অবস্থান, দীনবন্ধু মিত্র ডাক বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, কায়কোবাদ কাজ নিয়েছিলেন নিজের গ্রামে, পোস্ট মাস্টারের। পার্থক্যটা উপেক্ষার নয় এবং সাহিত্য সৃষ্টিতে তা উপেক্ষিত থাকেনি। সাহিত্যচর্চায় তার আকাক্সক্ষাটি ছিল গভীর। কিন্তু আর্থ-সামাজিক অন্তরায়ের কারণে শিক্ষাগত প্রস্তুতি ও সাংস্কৃতিক মূলধন ছিল সীমিত। তার পক্ষে খণ্ড কবিতা লেখা স্বাভাবিক হতো। কিন্তু অহমিকা বোধের তাড়নাতেই হয়তো বা তিনি লিখতে চেয়েছিলেন মহাকাব্য, যেখানে সাফল্য লাভ হিন্দু মধ্যবিত্তের জন্যই কঠিন ছিল, তার পক্ষে সহজ হবে কি করে? কায়কোবাদ সাম্প্রদায়িক ছিলেন না, অবশ্যই নয়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে তার মধ্যে মুসলিম স্বাতন্ত্র্যের সেই অনুভবটি কার্যকর ছিল, যা পাকিস্তান দাবির বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাটি তৈরি করেছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জগৎটা আলাদা। পারিবারিক অবস্থানে ও পরিচয়ে তিনি জমিদার ঠিকই। কিন্তু আকাক্সক্ষা ও রুচিতে মধ্যবিত্ত, যে-রুচি সমৃদ্ধকরণে তার নিজের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যবিত্তের সেই অংশের প্রতিনিধি তিনি যাদের মেরুদণ্ড বেশ খানিকটা শক্ত। রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ভারতবর্ষের প্রথম তিন জন আইসিএসের একজন। বংশানুক্রমে তারা কলকাতার লোক। জীবিকার জন্য রবীন্দ্রনাথকে চাকরির দরখাস্ত লিখতে হয়নি; ওদিকে জীবনের প্রথম ১২ বছর শিক্ষা যা পেয়েছেন তার সবটাই এসেছে মাতৃভাষার মাধ্যমে এবং প্রায় কিশোর বয়সেই বিলেত গেছেন ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য। বিলেত গিয়ে ব্যারিস্টার হয়ে ফেরেননি, ফিরেছেন সঙ্গে করে নিয়ে-যাওয়া লেখক হওয়ার আগ্রহটিকে। আরও প্রাণবন্ত করে।

নায়ক গৌরমোহনের খোঁজে রবীন্দ্রনাথকে কল্পিত ইতিহাসের দ্বারস্থ হতে হয়নি। নায়ককে পাওয়া গেছে কলকাতা শহরেই। এ নায়ক কলকাতার মুৎসুদ্দীর নয়, প্রতিনিধি নয় গড়পরতা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের। গৌরমোহনের সঙ্গে বিবেকানন্দের মিল রয়েছে এ যেমন সত্য, তেমনি সত্য এটাও যে, গৌরমোহনের যে-পরিণতি সেটা বিবেকানন্দের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত। তবে এটা তো খুবই পরিষ্কার যে, বঙ্কিমচন্দ্র যে জাতীয়তাবাদকে উৎসাহিত করেছেন, রবীন্দ্রনাথ তাকে পরিহাসের বস্তু করে তুলেছেন তার ‘গোরা’ উপন্যাসে। তার সময়ে সমাজে পরিবর্তন এসেছে, রাষ্ট্র সম্পর্কেও বিভিন্ন চিন্তা দানাবেঁধে উঠেছে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রকে অত্যন্ত মূল্যবান প্রতিষ্ঠান বলে মনে করেন না, যদিও রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। তার কাছে সমাজ বড় এবং সমাজকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি নেতা চান। কিন্তু সে-নেতা উগ্র, অন্ধ বা বিচ্ছিন্ন নয়, তাকে হতে হবে একজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব। রবীন্দ্রনাথ ধর্মে বিশ্বাস করেন, কিন্তু তার সে-ধর্ম ব্যক্তিগত, এবং ধর্মের সঙ্গে রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলার যে-আগ্রহ রাজনীতিক গান্ধীর মধ্যেও ছিল, সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ তা থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথের প্রিয় নায়িকা কুমুর সাধ্য কী সমাজকে অস্বীকার করে? সে মুক্তি চায়, কিন্তু পায় না। তাকে গ্রাস করে নিতে চায় উঠতি মুৎসুদ্দী বুর্জোয়া শ্রেণীর স্থূল প্রতিনিধি ‘মহারাজ’ মধুসূদন; কুমুর সামাজিক ও নৈতিক নির্ভরতা তার ভ্রাতা বিপ্রদাসের ওপর। কিন্তু বিপ্রদাসের তো তেমন শক্তি নেই যে ভগ্নি কুমুকে রক্ষা করে। বিপ্রদাসের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা পৈতৃক জমিদারির ওপর। সেই জমিদারির এখন কোনো তেজ নেই, তাকে অকাল বার্ধক্যে পেয়েছে। বিপ্রদাস ঋণগ্রস্ত, ঋণ করেছে আবার মহাজন মধুসূদনের কাছেই। ওদিকে বিপ্রদাসের আপন ভাই বিলেত গেছে ব্যারিস্টারি পড়বে বলে; সেখানে সে পড়াশোনা কতটা করছে জানা না-গেলেও টাকা যে ওড়াচ্ছে দু’হাতে তাতে কোনো সন্দেহ নেই; যে-অর্থের জোগান বিপ্রদাসকেই দিতে হয়। কুমু তাই বন্দি বাইরে থেকে; আবার ভেতর থেকেও মুক্ত নয় সে, তার রয়েছে নানা সংস্কার ও পিছুটান। কুমু মুক্ত হতে পারে যে সমাজবিন্যাসে তা গড়ে ওঠার আভাস রবীন্দ্রনাথের কালে পাওয়া যায়নি। এখনও যে পাওয়া যাচ্ছে তা নয়। কুমুর বন্দিত্বের তাই কোনো প্রতিকার নেই।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পেশাদার ও অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক, কিন্তু তাই বলে তার রচনাতে শিল্পমূল্যের যে কোনো ঘাটতি ছিল তা নয়; তিনি অসামান্য কথাশিল্পী, তার গল্পবলার দক্ষতা ও চরিত্রসৃষ্টির ক্ষমতা প্রায় তুলনাহীন। বাংলা সাহিত্যের তিনি প্রধান ঔপন্যাসিক। তার ভেতর রয়েছে একটি মাতৃহƒদয়। যে-হƒদয় নারীর সমস্যা নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তিত। ব্যক্তিকে দেখার ব্যাপারে তার ভেতর কাজ করে বুর্জোয়া কৌতূহল। কিন্তু তিনি আবার জাতীয়তাবাদীও, এ জাতীয়তাবাদ অবশ্য তাকে সামন্তবাদবিরোধী করেনি, বরঞ্চ তার সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতার অন্তরে সামন্তবাদের সঙ্গে আপসকামিতাকে বপন করে দিয়েছে। সামন্তবাদ দেশী, তাই সে ভালো, এ ধরনের একটি মনোভাব তার চিন্তায় সংরক্ষিত রয়ে গেছে। শরৎ চন্দ্রের উপন্যাসে জমিদারদের কেউ কেউ প্রজার ওপর অত্যাচার করে, কিন্তু তাই বলে জমিদার মাত্রেই যে খারাপ এমন নয়, তাদের ভেতরও ভালোমন্দ রয়েছে। সামন্তবাদী সংস্কৃতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ভক্তি, আনুগত্য ও ঐতিহ্যপ্রীতিÑ এদের তিনি জরুরি বলে মনে করেন।

আরও দু’জন বড় মাপের ঔপন্যাসিক নিয়ে এ-বইতে আলোচনা আছে। এদের একজন হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যজন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। উভয়েরই বিশেষ আগ্রহ গ্রামের জীবনে। বিভূতিভূষণ পশ্চিমবঙ্গের গ্রামকে দেখেছেন, মানিক দেখেছেন পূর্ববঙ্গের গ্রামকে। বিভূতিভূষণের ভেতর একজন কবি আছেন, যে-কবিকে ভাবালু বলতে আগ্রহ জন্মে, কিন্তু যিনি আবার অত্যন্ত বাস্তববাদী, অর্থনীতির প্রকৃত শক্তিটাকে তিনি জানেন এবং চেনেন, দুঃখকে দুঃখ হিসেবেই তিনি উপস্থিত করেন। তার আগ্রহের একটি বিশেষ এলাকা কিশোর-কিশোরীরা। সামান্য বস্তু অসামান্য হয়ে ওঠে তার বাক্যশক্তির স্পর্শ পেয়ে। বিভূতিভূষণের চরিত্ররা দরিদ্র, কিন্তু তারা আবার ব্রাহ্মণ, যে জন্য বিচ্ছিন্ন এবং আÍমর্যাদাজ্ঞানসম্পন্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে গরিব মানুষেরা সত্যি সত্যি গরিব, তাদের দুঃখটা অনেকাংশেই ব্যক্তিগত; পদ্মাপাড়ের জেলেদের তিনি যে-ভাবে সাহিত্যে নিয়ে এসেছেন তেমনভাবে তার আগে কেউ আনেননি। তার বাস্তববাদিতা নির্মোহ, ভাবালুতাবিহীন এবং বিশেষভাবে সে-কারণেই অসামান্য।

পূর্ববঙ্গের পল্লীর কথা জসীমউদ্দীনের কবিতাতেও রয়েছে। তিনি বাস্তববাদী। কিন্তু তার জগৎটা স্থির, যে জন্য দেখি তিনি যে নতুন নতুন বিষয়বস্তু খুঁজে নেবেন তেমনটা ঘটছে না। বর্তমানকে তিনি ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপন করেন না। তার বর্তমানে রাষ্ট্র প্রায় অনুপস্থিত। জসীমউদ্দীনের আবেগটা পদ্মাপাড়ের মানুষের আবেগের মতোই প্রবল, ভাষা একাধারে কবিত্বময় ও ওজস্বী; ওই ওজস্বিতাটাও পূর্ববঙ্গীয়। জসীমউদ্দীনের প্রায় সমসাময়িক হয়েও কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশ তার থেকে অনেক দূরে। জীবনানন্দের কবিতাতেও পূর্ববঙ্গ আছে, কিন্তু সে-পূর্ববঙ্গে স্থির হয়েও স্থির নয়, শান্ত নদীটির মতো চলমান। সেখানে আকাশে ছায়া পড়ে, যে-আকাশ খবর রাখে আধুনিককালের। তিনি সমুদ্রের কথা ভাবেন, দ্বীপ তাকে ডাকে, তিনি নাবিককে ভোলেন না। জীবনানন্দের ভেতরও বিষণœতাটা এসেছে, সেটি কেবল যে ব্যক্তিগত তা নয়, সমসাময়িক ইতিহাসেরও। প্রকৃতিপ্রেমিক হয়েও জীবনানন্দ আধুনিক, কেননা তার আছে ইতিহাস-চেতনা ও সংশয়। তার কবিতায় চিত্রকল্পের যে প্রাচুর্য ও গৌরব তেমনটি অন্য কোনো বাঙালি কবির লেখায় আমরা পাই না। নজরুলের কবিতাতেও অবশ্য চিত্রকল্পের কোনো অভাব নেই। তিন উচ্চকণ্ঠ, তার সময়ের কবিদের মতো মধ্যবিত্তসুলভ মৃদুভাষণ তার জীবনে ছিল না, তার সাহিত্যেও নেই। নজরুল প্রকৃতিকে নিয়ে লিখেছেন, কিন্তু তিনি প্রকৃতির কবি নন। চলমান বিশ্বের খবর তার লেখায় রয়েছে, কিন্তু তিনি আবার সংশয়হীনভাবে তার দেশের। শ্রেণীচ্যুতির অসাধারণ ক্ষমতা নজরুলের ছিল। কৌতুকবোধও তার অসামান্য। সর্বোপরি সাহিত্যে তিনি হিন্দু-মুসলিম পুরাণকে একত্র করে দিয়েছিলেন, অন্য কারো পক্ষেই যা করা সম্ভব হয়নি। বাংলা কাব্যে রবীন্দ্রনাথের পরেই তার স্থান; রবীন্দ্রনাথের গানের মতো তার লেখা গানও স্বতন্ত্র, এবং বৈচিত্র্যেও অতুলনীয়।

নজরুল ও জীবনানন্দের জন্ম একই বছরে, দু’জনেই রোমান্টিক। বিশ্বযুদ্ধের পর পুঁজিবাদের পক্ষে আর সম্ভ্রম বা ভদ্রতা কোনোটা রক্ষা করাই সম্ভব হয়নি, সে বেশ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। পুঁজিবাদ রূপ নিয়েছে ফ্যাসিবাদের। নজরুল ও জীবনানন্দের কবিতায় ফ্যাসিবাদের প্রতি ধিক্কার রয়েছে, যে-ধিক্কারটা বৃদ্ধদেব বসুর কবিতায় আমরা পাই না। তাই বলে বুদ্ধদেব যে পুরোপুরি রাজনীতিমুক্ত তা নয়, রাজনীতির ছাপ তার গদ্য রচনায় পাওয়া যাবে বৈকি এবং সে-রাজনীতি অবশ্যই বাম ধারার নয়। তিনি পুরোপুরি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি। সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সৃষ্টিশীলতা এনেছেন, এবং সাহিত্যরুচির পরিবর্ধনে তার অবদান সামান্য নয়। বুদ্ধদেবও রোমান্টিক, কিন্তু সে-রোমান্টিকতায় জীবনানন্দের সংশয়, কিংবা নজরুলের উচ্চকণ্ঠ নেই।

মোটকথা মধ্যবিত্তই এ সাহিত্য সৃষ্টি করেছে তার নিজের প্রয়োজনে; এ সাহিত্যের মধ্যে ওই শ্রেণীর অভিজ্ঞতা, আকাক্সক্ষা, পক্ষপাত, প্রবণতা, চিন্তা সবকিছুই স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এবং বড় একটা সত্য এই যে ওই সাহিত্য দ্বারা, সে নিজেও প্রভাবিত হয়েছে বৈকি।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নির্বাচিত সাহিত্যসমালোচনা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

amarboi
নির্বাচিত সাহিত্যসমালোচনা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

এ-বইতে প্রধান ও প্রতিনিধিত্বশীল সাহিত্যকদেরকে নিয়ে আলােচনা করা হয়েছে। আলােচনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে বিবেচনায় এসেছে সাহিত্যের সমাজতত্ত্ব ও দার্শনিকতা।


সূচীপত্রঃ

সাহিত্যতত্ত্ব

এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব / ১৫
মহাকাব্যের কথা / ৩৪
নাটকের গণতান্ত্রিকতা / ৩৯
উপন্যাসের উদ্ভব ও প্রকৃতি / ৪৮
মনীষার সময় ও সুযােগ / ৫৭
সাহিত্য ও রাজনীতি / ৬৪
সাহিত্যের রাষ্ট্রবিরােধিতা / ৭৫

আধুনিক বাংলা সাহিত্য

উনিশ শতকের বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ / ৭৯
ঝড়ের মাঝে নিঃশঙ্ক যাত্রী : মাইকেল মধূসূদন দত্ত / ১৪৪
জাতীয়তাবাদের আর্তহৃদয় : কাব্যে প্রকাশ / ১৫৪
বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার নায়কেরা / ১৭৮
মীর মশাররফ হােসেনের সাহিত্যচর্চা / ১৯৮
একাকী, কিন্তু সকলের : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর / ২০৩
রবীন্দ্রনাথের ‘গােরা’ / ২২২
রবীন্দ্রনাথের নায়িকা / ২৩৭
শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ / ২৪৭
কুটীরবাসী একজন / ২৬৭
বিভূতিভূষণের দুঃখ, বিষন্নতা ও রােমাঞ্চ / ২৭৩
স্বাতন্ত্রের দায় ও দায়িত্ব : কাজী নজরুল ইসলাম / ২৮২
জীবনানন্দ দাশের কবিতা / ২৯৭
জসীমউদ্দীনের নিজস্বতা / ৩১৪
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচ’ ও ‘পদ্মানদী’ | ৩১৯
বুদ্ধদেব বসুর সাহিত্যিক ভূমিকা / ৩২৮

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ইহজাগতিকতার শত্রুপক্ষ - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

গোর্কী বলেছেন, 'আমার পাঠশালা হচ্ছে জীবন। আর জীবনই আমার বই।' তাঁর কথা হচ্ছে জীবন যেমন আমাদের একখানি বইয়ের কথা বুঝতে সাহায্য করে, তেমনি বই আমাদের জীবনকে বুঝতে সাহায্য করে একেই আমরা বলি দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক বই আর জীবনের মধ্যে। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে কোন কিছু বলা আমার মত লেখকের জন্য অনুচিত হবে। তার প্রবন্ধ সমগ্র পড়ে শেষ করলেম কিছুদিন আগে। সেখানে একটি প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল "ইহজাগতিকতার শত্রুপক্ষ"। ভালো কোনো লেখা পড়লে অন্যকে পড়ানোর একধরনের তাগিদ অনুভব করি। আপনাদের ভালো লাগলে আমারও আমারো লাগবে।
অধ্যাত্মবাদ ইহজাগতিকতার বিপরীতপক্ষ বটে, কিন্তু ইহজাগতিকতার আসল শক্র সেখানে নেই, রয়েছে অন্যত্র । অধ্যাত্মবাদ এই শক্রর দ্বারা ব্যবহৃত হয়। আকর্ষণ করে, মোহ গড়ে তোলে। আসল শক্রটা তাহলে কে? সে হচ্ছে ভয় ।
এই ভয়ের ব্যাপারটায় আসার আগে ইহজাগতিকতা ব্যাপারটা কি সেটা একটু বুঝে নেওয়া যাক।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী 
ইহজাগতিকতার শত্রুপক্ষ

ইহজাগতিকতা থাকলে পারলৌকিকতাও থাকে, আলো থাকলে যেমন থাকে অন্ধকার, হয়তো-বা বলা যাবে মাটির ওপরে আকাশ; কিন্তু ইহজাগতিকতা পারলৌকিকতার অনুগত নয়, পারলৌকিকতাকে অবজ্ঞা না-করলেও উদাসীনতা যে দেখায় সে-বিষয়ে সন্দেহ নেই। ইহজাগতিকতার ভাবটা এই রকমের যে, পরলোক আছে কিনা জানি না, থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু তাকে নিয়ে আমার উৎসাহ নেই, আমার জগৎ ইহজগৎ, সেখানেই আমার আগ্রহ। ইহকাল আছে; ইহজগৎ ইহকাল থেকেও ভিন্ন। কেননা কাল অনেক বিস্তীর্ণ জগতের তুলনায়।

অন্য অনেক কিছুর মতো ইহজাগতিকতারও দুটি দিক রয়েছে। একটি তাত্ত্বিক, অপরটি প্রায়োগিক। তাত্ত্বিক দিকটি দার্শনিক; প্রায়োগিক দিকটিতেও দার্শনিকতা রয়েছে, কিন্তু সেখানে জোরটা পড়ে জীবনযাপনের ওপরে। মেহনতি মানুষেরা যে সব সময়েই ইহজাগতিক সেটা নিশ্চয় করে বলবার উপায় নেই, কেননা প্ররোচনা থাকে আধ্যাত্মিক হবার। ইহজাগতিকতার শক্রপক্ষ ওই প্ররোচনাটি দিয়ে থাকে, দেয় নিজের স্বার্থে। কিন্তু শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ প্রবণতাটা হচ্ছে ইহজাগতিক হবার। না-হয়ে উপায় নেই। কেননা তাকে তো পরিশ্রম করতে হয় । জগতের সঙ্গে সংগ্রাম করে তাকে বাঁচতে হয়, প্রত্যক্ষ জগৎকে অবজ্ঞা করবে এমন সুযোগ তার জন্য খুবই কম।

অধ্যাতবাদ ইহজাগতিকতার বিপরীতপক্ষ বটে, কিন্তু ইহজাগতিকতার আসল শক্র সেখানে নেই, রয়েছে অন্যত্র । অধ্যাত্মবাদ এই শক্রর দ্বারা ব্যবহৃত হয়। আকর্ষণ করে, মোহ গড়ে তোলে। আসল শক্রটা তাহলে কে? সে হচ্ছে ভয় ।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কণার অনিশ্চিত যাত্রা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

কণার অনিশ্চিত যাত্রা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
কণার অনিশ্চিত যাত্রা - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রিয় হুমায়ূন - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

প্রিয় হুমায়ূন - সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীবাংলাদেশের শিক্ষিত মানুষমাত্রই হুমায়ূনকে কোনো না কোনোভাবে জানত, যারা শিক্ষাবঞ্চিত সেই মানুষরাও হুমায়ূনকে জেনেছে টেলিভিশনে তার নাটক দেখে, কেউ কেউ হয়তো অতিরিক্তরূপে জেনেছে তার তৈরি ফিল্ম দেখে। আমার নিজের জন্য হুমায়ূনকে একটু বিশেষভাবেই জানবার সুযোগ ঘটেছিল। কারণ সে লিখত, যেমন আমিও লিখি এবং আমরা উভয়েই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতাম। এই দুই কারণেই তার প্রথম জীবনের এবং আমার নিজের চলাফেরাটা ছিল একই বলয়ের মধ্যে।
ওর সঙ্গে আমার উল্লেখযোগ্য অন্তরঙ্গতা তৈরি হয় আমরা যখন একই সঙ্গে চীন ও উত্তর কোরিয়া ভ্রমণে যাই। ভ্রমণটি ছিল এক মাসের। বাংলাদেশ লেখক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের ভেতর হুমায়ূন ছিল, আমিও ছিলাম। দলনেতা ছিলেন প্রয়াত ফয়েজ আহমদ। অন্য চারজন সদস্য ছিলেন মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবির। দলের ভেতর হুমায়ূন ছিল সর্বকনিষ্ঠ। থাকবার ব্যবস্থা হতো দলনেতা ফয়েজ ভাইয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র কামরা, বাকি ছয়জনের জন্য তিনটি। হুমায়ূন ও আমি একই কামরায় থাকতে পছন্দ করতাম এবং সে সময়ে তার সঙ্গে বেশ কথা হতো। হুমায়ূন স্বল্পভাষী ছিল, কিন্তু অল্প কথায় তার নানা অভিজ্ঞতা ও পেছনের জীবন সম্পর্কে তথ্য সুন্দর ও সরসভাবে বলত।
হুমায়ূনের কৌতুকবোধ ছিল খুব জীবন্ত এবং পাঠকমাত্রেই জানেন যে, সে দুঃখের কথা অনেক লিখেছে। সে সব রচনায় গভীর অনুভূতি আছে, কিন্তু আড়ম্বর নেই। তার সংলাপ বিদগ্ধ ও তীক্ষষ্ট। আর যখন সরাসরি কৌতুক নিয়ে লিখত তখন তো কথাই নেই, পাঠকের পক্ষে হাস্যসম্বরণ কঠিন হতো। তার শালীনতাবোধ ও পিরিমিতিবোধ পরস্পর থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হয়নি। তার রচনা সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষের কাছে অমনভাবে গৃহীত হয়েছে। তার বই মা পড়েন, ছেলে পড়েন, বাবা এবং বোনও বাদ যান না। হুমায়ূনের টেলিভিশন নাটক গৃহপরিচারিকা থেকে শুরু করে পরিবারের সকল সদস্য একসঙ্গে উপভোগ করতে পারেন। কোনো অস্বস্তির সৃষ্টি হয় না।
হুমায়ূনের স্মৃতিশক্তিও ছিল খুব শক্তিশালী। ঘটনার তাৎপর্য তো বটেই, ঘটনাও সে পরিষ্কারভাবে মনে রাখত। যে কোনো কথাশিল্পীর জন্যই এটা একটা বড় গুণ, হুমায়ূন বলত এবং আমরাও নিশ্চয়ই স্বীকার করব। প্রথম যখন আমেরিকায় যায় তখনকার স্মৃতি খুবই উজ্জ্বল ছিল তার কাছে। এমনিতেই সে লাজুক স্বভাবের, তার ওপর গিয়ে পড়েছে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে, বয়স অল্প, অভিজ্ঞতা একেবারেই নেই। একটি ঘটনা তার খুবই মনে ছিল। আমেরিকায় গিয়ে পেঁৗছবার পর প্রথম কয়েকদিন সকালে সে খেতে যেত একটি রেস্টুরেন্টে। খাবার অপরিচিত, দাম অজ্ঞাত। তাই রোজই সে এগ-অন-টোস্ট খেত। টোস্ট করা রুটির ওপর ডিম। ক'দিন দেখে রেস্টুরেন্টের মালিক পাত্রে করে অন্য একটি খাবার এনে তার টেবিলে রেখে বলছে, 'এটি রেস্টুরেন্টের পক্ষ থেকে আপনাকে উপহার। এর জন্য কোনো দাম দিতে হবে না।' হুমায়ূনের ধারণা, লোকটির মায়া হয়েছিল। ছেলেটি, যাকে শিক্ষিত বলেই মনে হয়, সে রোজই এক ও সামান্য একটি খাবার খাচ্ছে দেখে ধারণা হয়েছিল যে, ছেলেটি অর্থকষ্টে আছে। অথবা হুমায়ূন যোগ করেছিল, একই খাবার রোজ রোজ দিতে দিতে বিরক্ত হয়ে গেছে। শুনে আমি হেসেছি। হুমায়ূন তেমনভাবে হাসেনি, কেবল প্রসন্ন একটি কৌতুকের রেখা তার মুখে খেলা করেছিল। যে রেখা ততদিনে আমার বেশ পরিচিত হয়ে গেছে। তার নির্মল পরিহাসের পাত্র তালিকা থেকে নিজেকে যে সে সরিয়ে রেখেছিল তা নয়।
হুমায়ূন যে অনেক বই পড়ত সেটা বাইরে থেকে বোঝা যেত না। নানা বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জেনেছি। প্রধান আগ্রহটা অবশ্য ছিল সাহিত্য বিষয়েই। চীন যাত্রায় আমরা রওনা হয়েছিলাম আমাদের বাসা থেকেই। আমরা তখন থাকতাম শহীদ মিনারের উল্টো দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাড়ির একতলায়। হুমায়ূন থাকত আজিমপুরে। মনে পড়ে সকালে সে আমাদের বাসায় চলে এসেছিল এবং আমরা বিমানবন্দরে গেছি একই সঙ্গে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাড়ায় নেওয়া একটি গাড়িতে। যাওয়ার সময় সে আমাকে বলেছিল, 'চীন সম্পর্কে আপনার তো অন্যরকম আগ্রহ, আপনি সেখানকার সামাজিক পরিবর্তন দেখবেন, আমার আগ্রহ সাহিত্যে। সেদিক থেকে আমি খুশি হতাম রাশিয়াতে যেতে পারলে।' দেখলাম চীনের সংস্কৃতি-সাহিত্য বিষয়ে বেশকিছু বই সে পড়ে গিয়েছে এবং প্রস্তুত হয়েই যাচ্ছে সে চীন ভ্রমণে।
কোরিয়াতে থাকার সময় হুমায়ূন তার নিজের পিতার মৃত্যুর ঘটনাটা বলেছিল। একাত্তরে তিনি শহীদ হয়েছেন। বিস্তারিত বলেনি। বিস্তারিত সে বলত না। সেই দুঃসময় যাঁরা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন সে প্রসঙ্গও এসেছে। একজনের কথা মনে পড়ে, হুমায়ূনের চেয়ে এক-দু'বছর ওপরের ক্লাসে পড়ত, নাম আনিস সাবেত। একই আবাসিক হলে থাকত, খুব ভালো ছাত্র, হুমায়ূনকে স্নেহ করত। অমন ভালো মানুষ হুমায়ূন কম দেখেছে বলে জানিয়েছে। হুমায়ূনের প্রয়োজন কথাটা তার জানা ছিল। এক সন্ধ্যায় অনেকগুলো নতুন শার্ট এনে হুমায়ূনের বিছানায় হইচই করে ছড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, 'দেখো তো কী মুশকিল, এতগুলো জামা পাঠিয়েছে আমেরিকা থেকে, কিন্তু কোনোটাই আমার গায়ে ঠিক লাগছে না। দেখো তো তোমার গায়ে লাগে কি-না।' বলে সবগুলো শার্ট রেখে আনিস সাবেত চলে গেছে। হুমায়ূন বলেছে, 'আমার তো জানতে কোনো অসুবিধা হয়নি যে, জামাগুলো আমেরিকা থেকে আসেনি, ঢাকা থেকেই কেনা হয়েছে, আমার প্রয়োজনের কথা মনে রেখে।' কিন্তু ওই যে ছলনা, ওইখানেই ছিল আনিস সাবেতের মহত্ত্ব। দুঃখ করে বলেছে হুমায়ূন, আনিস আমেরিকা গিয়েছিলেন, ফেরত আসতে পারেননি, ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তখন কে জানত যে, ওই একই রোগে হুমায়ূনকেও একদিন চলে যেতে হবে। এসব কথা যখন হচ্ছিল তখন আমারও কি জানার কোনো কারণ ছিল যে, এই আলোচনার কয়েক বছরের মধ্যেই আমার স্ত্রী নাজমাকেও চলে যেতে হবে ওই একই মরণব্যাধির আক্রমণে।
হুমায়ূনের সঙ্গে শেষ দেখা তার মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে। চিকিৎসার ফাঁকে তখন সে ঢাকায়। ব্যবস্থা করে দিয়েছিল মাজহারুল ইসলাম। ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জাহেদা আহমদ, অধ্যাপক আহমেদ কামাল ও আমি, এই তিনজন একদিন দুপুরে অল্পক্ষণের জন্য তার ওখানে গিয়েছিলাম, ধানমণ্ডিতে। অনেক বছর পর দেখা। দেখি কথাবার্তায় আগের মতোই আছে। ক্যান্সারের কথা বলল, সে রোগে কী কঠিন বেদনা, কেমোথেরাপিতে কী কষ্ট অল্পকথায় উল্লেখ করল সে। যখন বলছিল তখন মুখের দিকে আমি তাকাতে পারিনি, পাছে রোগের ব্যথায় কাতর হুমায়ূনের মুখে নাজমার মুখটি দেখতে হয়, সেও আমেরিকায় গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য। ফিরে এসেছিল, কেমোথেরাপি নিয়েছিল, কিন্তু নিরাময় হতে পারেনি। হুমায়ূন নিরাময় হবে এটা আমরা আশা করেছিলাম, কেননা ২৫ বছরের ব্যবধানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে এবং তার ক্ষেত্রে কেমোথেরাপিতে ভালো ফল পাওয়া গেছে, যা সে নিজেই বলেছিল আমাদের। অপারেশন করা হবে, তাতে ক্ষতস্থানগুলো ফেলে দেওয়া হবে, এরপর আর বিপদ ঘটবে না। নাজমার ক্ষেত্রে অপারেশন সম্ভব হয়নি, ক্যান্সার তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
বের হয়ে আসার সময় বারান্দায় দেখি সাদা-কালোতে একটা ছবি। মাজহারের স্ত্রী বলল ছবিটা হুমায়ূন ভাইয়ের আঁকা। হুমায়ূন বলল, দৃশ্যটা নেপালের। ছবি দেখে আরেকটি ছবির কথা মনে পড়ল আমার। ছোট্ট ছবি, একটি চায়ের কাপের। সেটিও হুমায়ূনেরই আঁকা। আমরা তখন চীনে; এক বিকেলে চা পানের ইচ্ছা হয়েছে; চা তো চীনারা পানির মতোই পান করে, কিন্তু পরিচারিকাকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছিল না যে, আমরা চায়ের প্রার্থী। হুমায়ূন তখন চট করে একটা কাগজ নিয়ে পকেট থেকে কলম বের করে চায়ের একটি কাপ এঁকে দিল, অতি দ্রুতবেগে। তারপর কয়েকটি টানে দেখিয়ে দিল কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছে। আমরা কাপ চাই না, চা চাই, এটা বুঝে পরিচারিকাটি দ্রুত বেরিয়ে গেলেন গরম চা সংগ্রহ করতে। ছবি আঁকায় হুমায়ূনের দক্ষতার একটা ইশারা সেদিন পাওয়া গিয়েছিল। পরে দেখি সে অসুস্থ অবস্থায় অনেকগুলো ছবি এঁকেছে। ওই প্রতিভাটিও তার ভেতর ছিল। ছিল যে তার প্রমাণ তো আমরা তার গল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র সবখানেই দেখতে পাই। অল্পকথায়, ছোট ছোট সংলাপে, ইশারায় সে ছবি এঁকেছে। তার গল্পতে আমরা একের পর এক ছবি দেখতে পাই; সেটি একটি কারণ যে জন্য তার সৃষ্টিকর্মে অতটা জনপ্রিয় হয়েছে।
হুমায়ূন বিজ্ঞানের ছাত্র। তার লেখায় বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ শক্তি দেখি। কিন্তু সঙ্গে থাকে কল্পনার অসাধারণ শক্তি। সে কল্পনা করে এবং তার কল্পনার কথা অন্যদের জানানোতে আনন্দ পায়। তার প্রথম দিককার একটি উপন্যাস ফেরা, সেটি নিয়ে ছোট একটি আলোচনা করেছিলাম আমি সেই ১৯৮৪ সালে, সাহিত্যপত্র পত্রিকাটিতে। পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর; পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যাতে সমালোচনাটি ছিল। উপন্যাসটির পটভূমি গ্রামের। বিস্তৃত বর্ণনা দেয়নি, কিন্তু অল্পকথায় হুমায়ূন তাতে গ্রামের জীবনে প্রবহমান টানাপড়েন সুন্দরভাবে তুলে ধরেছিল। সে বিষয়ে আমার মন্তব্য ছিল। হুমায়ূন পড়ে খুশি হয়েছে। কিন্তু চমকে দিয়েছে আরেকটা কথা বলে। বলেছে, সে মামলা করবে। আমি বলেছি হুমায়ূন গ্রামকে চেনে, অন্য একজন নাকি বলেছেন, গ্রাম বিষয়ে সে অজ্ঞ। এখন কোনটা সত্য, এটা মীমাংসা করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তো উপায় নেই। কথাটা সে হুমায়ুন আজাদকে বলেছিল, দু'জনের তখন খুবই বন্ধুত্ব এবং হুমায়ূন আজাদ সেটা আমাকে জানিয়েছে হুমায়ূন আহমেদ এবং আরও কয়েকজনের সামনে। আমরা সবাই হেসেছি। হুমায়ূন আহমেদও হেসেছে হালকা করে। কিন্তু ওই বৈশিষ্ট্যটা তো ছিল তার স্বভাবজাত, চমকে দিতে পারত এবং এসব চিন্তা নিয়ে আসত অন্যরা যা ভাবতেও পারত না।
চীন থেকে ফেরার পর হুমায়ূনের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা এতটা কাছাকাছি চলে এসেছিল যে, আমরা উভয়েই, একে অপরকে না জানিয়ে পরস্পরকে নিজের লেখা বই উৎসর্গ করেছিলাম, প্রায় একই সময়। কিন্তু সে যখন বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেল তারপর দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে খুবই কম। শেষ দেখার আগে একবার দেখা হয়েছিল ওর একটি চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, কেবল সেটির কথাই মনে পড়ে।
হুমায়ূনের মেধা ছিল অসামান্য, কর্মশক্তি অসাধারণ। কাজে তার বিরতি ছিল না। এত অল্প সময়ে এমন বিপুল সৃষ্টিসম্ভার ক'জন রেখে যেতে পেরেছেন? শেষ সাক্ষাতেও মনে হয়েছিল সে আরও অনেক কাজ করবে। সে অগ্রগমনটা থেমে গেল। সান্ত্বনা এই যে, যা সে রেখে গেছে তার মূল্য কম নয়, অনেক। তাকে ভুলবার কোনো উপায় নেই।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com