সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়. Show all posts

অর্ধেক জীবন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অর্ধেক জীবন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
অর্ধেক জীবন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
'অর্ধেক জীবন'-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় জানুয়ারি ২০০২ সালে। কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। এই বইয়ে সুনীল ১৯৩৪ সালে তার জন্মের সময় থেকে শুরু করে মোটামুটি সত্তরের দশকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়কে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে চিত্রিত করেছেন। বাংলাদেশের মাদারীপুর গ্রাম থেকে তার বাবা কালীপদ গাঙ্গুলী কেন ও কীভাবে কলকাতা গেলেন, সেখানে তার বাবা কী করে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হলেন এবং সংসার পাতলেন সুনীলের মা মীরার সঙ্গে, সেটার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়। সমাজবিজ্ঞানের বিপাশা জানান, সুনীলের মামাবাড়ি ছিল ফরিদপুরের আমগ্রামে। আমগ্রাম আর কলকাতায় কেটেছে সুনীলের শৈশব। শৈশবের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি বইটির শুরুতে উঠে এসেছে চলিল্গশের দশকের বিশ্ব ও কলকাতার পরিস্থিতি। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্পময় বর্ণনা এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে আক্ষেপ করেছেন সুনীল ।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অন্য দেশের কবিতা - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অন্য দেশের কবিতা - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অন্য দেশের কবিতা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এটি প্রায় ধ্রুবসত্য যেকোনো অনুবাদই শেষ বা চূড়ান্ত অনুবাদ নয়। বারে বারে তার সংস্কার বা পরিমার্জনা সম্ভব। বিশেষ করে কবিতার অনুবাদ তো অসম্ভবেরই সাধনা প্রায়। কেননা কবিদেরই একজন সেইভাবে ভেবেছিলেন কবিতা কিছু বোঝায় না, সে শুধু হয়ে ওঠে।এবং সে হয় মাত্র একবারই। আর মালার্মে তো একটু মুচকি হেসেই দ্যগাকে বলেছিলেন, কবিতা তো আর ভাব দিয়ে, বিষয় দিয়ে লেখে না, লেখে কথা দিয়ে। কথা সাজাবার কৌশলটাই আসল এবং সেই কৌশল শুধু কবিই জানেন। সে জন্যই তাদের এও মনে হয়, অনুবাদে যা হারিয়ে যায়, তা আসলে কবিতাই। ওকতাভিও পাজ বলেছিলেন কবিতা ছাড়া কোন সমাজ হতে পারেনা। এত কিছু বলার কারণ হচ্ছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি বই "অন্য দেশের কবিতা"। এত চমৎকার বই কথাসাহিত্যিকেরা খুবই কম লিখেছেন। যদিও এটি কবিতার অনুবাদের বই তবু সুনীল তাঁর নিজগুণে একটি স্বতন্ত্র কবিতার বই করে তুলেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই বইয়ের ভূমিকায় জানিয়ে দিয়েছেন আমাদের যে, "এই বইতে যাঁরা বিশুদ্ধ কবিতার রস খুঁজতে যাবেন, তাঁদের নিরাশ হবার সম্ভাবনাই খুব বেশী। এ বইতে কবিতা নেই, আছে অনুবাদ কবিতা। অনুবাদ কবিতা একটা আলাদা জাত, ভুল প্রত্যাশা নিয়ে এর সম্মুখীন হওয়া বিপজ্জনক। অনুবাদ কবিতা সম্পর্কে নানা ব্যক্তির নানা মত আছে, আমি এতগুলি কবিতার অনুবাদক, তবু আমার ব্যক্তিগত দৃঢ় বিশ্বাস, অনুবাদ কবিতার পক্ষে কিছুতেই বিশুদ্ধ কবিতা হওয়া সম্ভব নয়, কখনাে হয়নি"। বাকিটা পাঠকের বিচার। আসুন পড়ি।




বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস সংগ্রহ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস সংগ্রহ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস সংগ্রহ

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রবন্ধ সংকলন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi
প্রবন্ধ সংকলন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়লে আমরা অনুভব করি, তিনি আমাদের মধ্যে, বিশেষ করে সাহিত্যপিপাসু মানুষের মনে, চিরবিরাজমান। বাংলা সাহিত্যের ভা-ারে তিনি যে অমূল্য সম্পদ রেখে গেছেন তা আমরা কেমন করে বিস্মৃত হতে পারি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে অনবদ্য যেসব সৃষ্টি করে গেছেন, তা ভারত ও বাংলাদেশের সাহিত্যপিপাসু মানুষ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। দীর্ঘ ৭৮ বছরের জীবনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দুশোটির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা ও ভ্রমণকাহিনি অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরেও তিনি লিখেছেন প্রচুর প্রবন্ধ।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রাধা কৃষ্ণ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রাধা কৃষ্ণ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রাধা কৃষ্ণ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কৃত্তিবাস ভলিউম ২ সম্পাদনায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi

কৃত্তিবাস ভলিউম ২
সম্পাদনায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - CLICK HERE
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [বড়গল্প]

কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [বড়গল্প]
কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [বড়গল্প]
জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সরু একটা রাস্তা। দু-পাশের গাছের ডালপালা ঝুঁকে ঝুঁকে আছে, হাত দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে এগোতে হয়। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। এখনও একটু আলো আছে আকাশে। আকাশের এক দিকের রং লাল আর অন্য দিকটা ধূসর। জঙ্গলের মধ্যে যেন আলোছায়ার জাফরি কাটা।

কত রকম পাখির ডাক শোনা যায় এখন। সব পাখি বাসায় ফিরছে। পাখিদের কিচির-মিচির শোনা যায়, তাদের দেখা যায় না। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একঝাঁক বক।

বনমালি নামের লোকটি আর সন্তু যাচ্ছে আগে আগে। বনমালির রোগা লম্বা চেহারা, ধুতির ওপর ফতুয়া পরা। মাথায় ঝাঁকড়া চুল, মুখে গোঁফদাড়ি নেই। চোখ দুটি সরু মতন, সে বারবার এদিক-ওদিক তাকায়। সন্তু পরে আছে প্যান্ট-শার্ট আর একটা নীল সোয়েটার। বাতাসে শীত শীত ভাব আছে। ফতুয়াপরা বনমালির কী শীত লাগে না?

কাকাবাবু পরে আছেন প্যান্টের ওপর একটা লম্বা কোট। দু-বগলে ক্রাচ নিয়ে তাঁর হাঁটতে অসুবিধে হচ্ছে এই জঙ্গলের মধ্যে। লতাপাতায় ক্রাচ জড়িয়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝে।

এক জায়গায় সন্তু থমকে দাঁড়িয়ে একটা গাছের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ওই থোকা থোকা লাল ফুলগুলো কী ফুল?’

বনমালি সেদিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী জানি!’

সে ফুলের নাম জানে না, ফুল দেখার উৎসাহও তার নেই।

পেছন থেকে কাকাবাবু বললেন, ‘রঙ্গন।’

তারপরই কাকাবাবু খুব জোরে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘সন্তু, মাথা নীচু কর। বসে পড়, বসে পড়!’

সন্তু এদিক-ওদিক তাকিয়ে কিছুই দেখতে পেল না। কাকাবাবু কেন ওই কথা বলছেন, তাও সে বুঝতে পারল না।

কাকাবাবু তাঁর হাতের ক্রাচটা তুলে খুব জোরে মারলেন একটা গাছের সরু ডালে।

তখনই বোঝা গেল, সেটা গাছের ডাল নয়। সবুজ ডালের মতনই সোজা হয়েছিল। এখন মাটিতে পড়ে কিলবিল করছে।

কাকাবাবু তাঁর হাতের ক্রাচটা তুলে খুব জোরে মারলেন একটা গাছের সরু ডালে।

সন্তু এবার ভয় পেয়ে এক লাফে সরে গিয়ে বলল, ওরে বাপরে, সাপ! ঠিক আমার মাথার ওপরে ছিল।

বনমালি চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, ‘লাউডগা সাপ, কামড়ালে আর রক্ষা ছিল না। নির্ঘাত মৃত্যু।’

কাকাবাবু কিন্তু সাপটাকে আর মারলেন না। ক্রাচটা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলেন এক পাশে। আপন মনে বললেন, ‘শীত শেষ হয়নি, এর মধ্যে সাপ বেরিয়ে পড়েছে। খিদের জ্বালায় আর থাকতে পারেনি।’

তারপর বনমালির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘লাউডগা সাপের বেশি বিষ নেই। কামড়ালে মানুষ মরবে কেন? অবশ্য অনেকে ভয়েই মরে যায়।’

সন্তু জিজ্ঞেস করল, ‘সাপ কামড়ালে মানুষ মরে না?’

কাকাবাবু বললেন, ‘সব সাপের কি আর বিষ থাকে? বেশির ভাগ সাপের বিষ থাকে না। কিন্তু ভয় পেতে নেই। ভয় না-পেলে খুব বিষাক্ত সাপ কামড়ালেও চিকিৎসা করে বাঁচা যায়। ওহে বনমালি, আর কত দূর?’

বনমালি বলল, ‘এই তো আর একটুখানি মোটে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘তখন থেকেই তো একটুখানি একটুখানি বলছ। ভালো জিনিস পাওয়া যাবে তো?’

বনমালি জোর দিয়ে বলল, ‘খুব ভালো ভালো জিনিস পাবেন স্যার। আমি কী আর শুধু শুধু আপনাদের এতদূর টেনে আনছি? তবে দাম কিন্তুু বেশি পড়বে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘যতই দাম পড়ুক, তাতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু জিনিস পছন্দ হওয়া চাই। পছন্দ না-হলে তুমিও পয়সা পাবে না!’

আবার পথ চলা শুরু হল। এবার ঝুপ ঝুপ করে নেমে এল অন্ধকার। পাখিদের ডাক থেমে এসেছে।

কাকাবাবু পকেট থেকে টর্চ বার করে সন্তুর হাতে দিলেন। সাপটা দেখার পর সেই যে সন্তুর বুক কেঁপে উঠেছিল, এখনও থামেনি। সে টর্চের আলো ফেলে চারদিক ভালো করে দেখছে।

একটু বাদে পাতলা হয়ে এল জঙ্গল। খানিকদূরে দেখা গেল একটা আলো জ্বলছে মিটমিট করে।

আর একটু কাছে এগোতে দেখা গেল, ফাঁকা জায়গার মধ্যে রয়েছে একটা একতলা ছোটো বাড়ি।

বনমালি বলল, ‘এই তো এসে গেছি।’

সন্তু বলল, ‘এরকম জঙ্গলের মধ্যে শুধু একটা বাড়ি রয়েছে। আমার এরকম বাড়িতে খুব থাকতে ইচ্ছে করে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘বেশিদিন ভালো লাগবে না। বড়োজোর সাতদিন। তারপরই হাঁপিয়ে উঠবি। বন্ধুদের জন্য প্রাণ ছটফট করবে!’

বাড়িটার বাইরে দরজার পাশে জ্বলছে একটা হ্যারিকেন আর ভেতরে একটা ঘরে রয়েছে আর একটা জোর আলো। অস্পষ্টভাবে দেখা গেল, বাড়িটা আসলে একটা মন্দিরের আড়ালে। সেই মন্দিরের চূড়া অনেকখানি ভাঙা।

বনমালি চেঁচিয়ে ডাকল, ‘ভবেনদা, ও ভবেনদা!’

একটা কুকুর ভেতর থেকে ডেকে উঠল ঘেউ ঘেউ করে খুব জোরে।

দরজা খোলা। সেখানে এসে দাঁড়াল একটা বড়ো কুকুর। ডাক শুনলেই হিংস্র মনে হয়।

বনমালি ভয় পেয়ে পিছিয়ে এসে আবার চেঁচিয়ে বলল, ‘ও ভবেনদা, কুকুর সামলাও।’

এবারে ভেতর থেকে কেউ একজন হাঁক দিল, ‘কে?’

বনমালি বলল, ‘ভবেনদা, আমি বনমালি গো। মালদার বনমালি নস্কর। তোমার সঙ্গে কাজের কথা আছে।’

ভেতর থেকে কেউ একজন ‘ভোলা, ভোলা’ বলে দু-বার ডাকতেই কুকুরটা থেমে গেল। তারপর বেরিয়ে এল একজন লম্বা লোক, গেরুয়া রঙের লুঙ্গি পরা, আর গায়ে একটা চাদর জড়ানো, হাতে একটা সিগারেট।

সে প্রথমে সন্তু আর কাকাবাবুকে দেখতে পায়নি। বনমালির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কিরে, হঠাৎ এসময় এলি যে? আমার তো আজ এখানে থাকার কথা ছিল না। ভালো কিছু জিনিসের খবর এনেছিস?’

বনমালি আমতা আমতা করে বলল, ‘এই একজন সাহেবকে এনেছি।’

ভবেন চমকে উঠে বলল, ‘কে? কাকে এনেছিস?’

কাকাবাবু সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ‘নমস্কার। আমি সাহেব-টাহেব নই। আমি একজন বাঙালি। আমার নাম রাজা রায়চৌধুরী। আর এই আমার ভাইপো সন্তু। আমি পাথরের মূর্তি জমাতে ভালোবাসি। নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে মূর্তি জোগাড় করি। শুনেছি, আপনার কাছে কিছু মূর্তি পাওয়া যেতে পারে।’

ভবেন ভুরু কুঁচকিয়ে বলল, ‘আমার কাছে? আমি মূর্তি কোথায় পাব? কীরে, বনমালি, তুই কী বলেছিস?’

বনমালি বলল, ‘ইনি ভালো দাম দেবেন বলেছেন।’

কুকুরটা কাকাবাবুর কাছে এসে ঘুরে ঘুরে গোঁ গোঁ গর্জন করছে। কাকাবাবুর কাছে ক্রাচ থাকে বলে সব জায়গায় কুকুররা তাঁকে অপছন্দ করে।

কাকাবাবু বললেন, ‘ভবেনবাবু, আপনার কুকুরটা আগে বাঁধুন, না-হলে ভালো করে কথা বলা যাবে না। এত দূর থেকে এলাম, বাড়ির মধ্যে বসতে বলবেন না?’

ভবেন বলল, ‘আর তো কোনো কথা নেই। আপনারা কেন এসেছেন জানি না। আমার কাছে মূর্তিটুর্তি নেই।’

সন্তু বলল, ‘আমার খুব তেষ্টা পেয়েছে। এক গেলাস জল পেতে পারি?’

ভবেন বলল, ‘ঠিক আছে। ভেতরে আসুন। আমি ভোলাকে সরাচ্ছি। আয় ভোলা, আয়-আয়-আয়!’

ঘরের ভেতরটা বেশ ঝকঝকে পরিষ্কার। একটা খাট পাতা। বসবার জন্য রয়েছে কয়েকটি মোড়া। দেওয়ালে ঝুলছে একটি বাঘের ছাল। ভবেন গেরুয়া পরে থাকলেও তার ভাবভঙ্গি মোটেই সাধুর মতো নয়।

কুকুরটাকে অন্য জায়গায় বেঁধে এসে সে সন্তুকে এক গেলাস জল এনে দিল।

সন্তু চুমুক দিতে দিতে বলল, ‘সেই সাপটাকে দেখার পর থেকেই আমার গলা শুকিয়ে এসেছিল।’

কাকাবাবু বলেন, ‘আপনি তো বেশ নিরিবিলিতে থাকেন, ভবেনবাবু। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অনেকটা আসতে হয়। পায়ে হেঁটে ছাড়া এখানে আসার আর অন্য উপায় নেই, তাই না?’

ভবেন শুকনো গলায় বলল, ‘আগে কাজের কথা হোক। দেখুন মশাই, আমি মূর্তি বিক্রি করি ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে দু-শো-পাঁচ-শো টাকার কমদামি জিনিস পাবেন না। সবচেয়ে কম দামেরটা দশ হাজার। আরও দামি আছে, পঞ্চাশ হাজার, দু-লাখ, পাঁচ লাখ। যদি কমদামি জিনিসের খোঁজে এসে থাকেন, তাহলে আমার সময় নষ্ট করে লাভ নেই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘সে কী, জিনিস দেখাবার আগেই দামের কথা? আমাদের দেখে বুঝি মনে হয় আমরা সস্তার খদ্দের? আমার একটা তেলের কল আছে, ভগবানের আশীর্বাদে টাকাপয়সার অভাব নেই। ভালো মূর্তি পেলে যত দাম লাগে দেব।’

ভবেন বলল, ‘ক্যাশ টাকা এনেছেন? আমি চেকটেক নিই না।’

কাকাবাবু কোটের পকেটে থাবড়া মেরে বললেন, ‘আছে, টাকাও সঙ্গে আছে। আমিও নগদ কারবারে বিশ্বাস করি।’

সন্তু আবদারের সুরে বলল, ‘আমার একটা সরস্বতীর মূর্তি চাই। আর একটা গণেশ।’

ভবেন এঘর থেকে একটা হ্যাজাক বাতি নিয়ে বলল, ‘আসুন আমার সঙ্গে।’

ঘরের পিছন দিকে একটা চাতাল। তার ওপাশে ভাঙা মন্দির। ওরা এল সেই মন্দিরের মধ্যে। ছাদটা একেবারেই ভেঙে গেছে, সেখানে গজিয়েছে বটগাছের চারা। শিবলিঙ্গটি কিন্তু অক্ষতই রয়েছে। কিছু শুকনো ফুল বেলপাতাও ছড়ানো। মনে হয় মাঝে মাঝে এখনও পুজো হয়।

ভবেন শিবলিঙ্গের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে প্রথমে প্রণাম করল। তারপর সেই শিবলিঙ্গ ধরে খুব জোরে ঠেলা দিতেই সেটা সরে গেল খানিকটা সেখানে দেখা গেল একটা অন্ধকার গর্ত।

সেই গর্তে হাত ঢুকিয়ে ভবেন একটা মূর্তি তুলে আনল।

কাকাবাবু সেটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে লাগলেন। প্রায় এক হাত লম্বা একটা বিষ্ণুমূর্তি কালো পাথরের তৈরি।

ভবেন বলল, ‘এটার বয়েস সাড়ে পাঁচ-শো বছর। দাম পড়বে আঠারো হাজার।’

কাকাবাবু বললেন, ‘বা: বা:, খুব সুন্দর। খুব চমৎকার। দেখি আর কী আছে?’

ভবেন আর একটা মূর্তি তুলল। এটা একটা গণেশ, পাথরের নয়, মনে হয় পেতলের।

ভবেন বলল, ‘এটা পঞ্চ ধাতুর তৈরি বিষ্ণুপুরের গণেশ। তিন-শো বছরের পুরোনো। এটার দাম পড়বে বারো হাজার।’

সন্তু বলল, ‘ওটা আমি নেব। ওটা আমার চাই!’

কাকাবাবু বললেন, ‘নিবি, নিবি, আগে দরদাম ঠিক হোক। আর কী আছে দেখি?’

ভবেন এরপর আরও সাতটা মূর্তি বার করে দেখাল, বেশির ভাগই নারায়ণের, একটা রাধাকৃষ্ণর, একটা দুর্গার।

কাকাবাবু সব ক-টা খুঁটিয়ে দেখে ‘বা: বা:, কী সুন্দর, কী চমৎকার’ বলতে লাগলেন। সব ক-টা দেখা হয়ে গেলে বললেন, ‘আর নেই? মদনমোহনের মূর্তি নেই?’

ভবেন একটা নারায়ণের মূর্তি দেখিয়ে বলল, ‘এইটাই তো মদনমোহন!’

কাকাবাবু বললেন, ‘এটা তো বিষ্ণুপুরের। কুচবিহারের মদনমোহন নেই?’

ভবেন বলল, ‘আমার কাছে আর কিছু নেই।’

কাকাবাবু হতাশভাবে বললেন, ‘যা:, তাহলে কী হবে? এর একটাও যে আমার পছন্দ হল না।’

ভবেন বলল, ‘এতগুলো দেখালাম, একটাও পছন্দ হল না?’

কাকাবাবু দু-দিকে মাথা নেড়ে বললেন, ‘না:, একটাও না, কী করে পছন্দ হবে? গণেশের মূর্তিটা পঞ্চ ধাতুর বললেন, ওটা আসলে পেতলের। পুরোনোও নয়। নকল। পাথরের মূর্তিগুলো বড়োজোর পঞ্চাশ-ষাট বছরের পুরোনো। আর ওই যে বিষ্ণুমূর্তিটা, এটা একেবারে আসল আর পুরোনো, এটা বিষ্ণুপুর মন্দির থেকে চোরাই জিনিস। ওটাও আমার চাই না। কুচবিহারের মদনমোহনের মূর্তিটা পেলে যত দাম লাগে তাতেই রাজি। সেই মূর্তিটা কোথায়?’

ভবেন এবারে চোখ সরু করে কাকাবাবুর দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর হিংস্র গলায় বলল, ‘তুমি আমার সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতে এসেছ? তুমি পুলিশের লোক।’

কাকাবাবু নিরীহভাবে বললেন, ‘না না, আমি পুলিশের লোক নই। মদনমোহনের মূর্তিটা বার করো, তার জন্য যত টাকা চাও দেব।’

বনমালি এতক্ষণ চুপ করে ছিল। এবারে চেঁচিয়ে বলল, ‘ভবেনদা, আমি এখানে আসতে চাইনি! এই লোকটা আমাকে ভয় দেখিয়ে জোর করে এনেছে। বিশ্বাস করো, আমি ইচ্ছে করে আনিনি!’

ভবেন বলল, ‘তুই ওই খোকাটাকে জাপটে ধর তো। আমি এই বুড়োটাকে ধরছি। আমার সঙ্গে চালাকি করতে এসেছে!’

বনমালি সন্তুকে দু-হাতে জড়িয়ে চেপে ধরল। কিন্তু সে সন্তুকে চেনে না। সন্তু সঙ্গে সঙ্গে যুযুৎসুর প্যাঁচে তাকে উলটে দিয়ে দড়াম করে ফেলে দিল মাটিতে। দেওয়ালে বনমালির মাথা ঠুকে গেল খুব জোরে। সন্তু দু-হাতের ধুলো ঝেড়ে বলল, ‘একটুও গায়ের জোর নেই!’

ভবেন তার পেছনের দেওয়ালে ঝোলানো একটা মস্তবড়ো খাঁড়া তুলে নিয়ে কাকাবাবুকে বলল, ‘দেব শেষ করে!’

কাকাবাবু বললেন, ‘বা:, খাঁড়াটা তো বেশ পুরোনো মনে হচ্ছে। দেখি দেখি দাও তো, ওটার কত দাম পড়বে?’

ভবেন বলল, ‘আমার সঙ্গে চালাকি করতে এসো না। এক কোপে মুন্ডু উড়িয়ে দেব। সঙ্গে টাকাপয়সা কী আছে বার করো তো বুড়ো।’

কাকাবাবু বলেন, ‘আমাকে বুড়ো বুড়ো বলবে না। আমি খোঁড়া হতে পারি, কিন্তু বুড়ো নই। তোমার থেকে আমার গায়ে জোর বেশি। খালি হাতে লড়াই করার সাহস আছে তোমার?’

ভবেন এবার খাঁড়া দিয়ে কাকাবাবুর মাথায় একটা কোপ মারতে যেতেই কাকাবাবু পকেট থেকে রিভলবারটা বার করলেন। বকুনির সুরে বললেন, ‘তুমি এত বোকা কেন, ভবেন? আমাকে মারতে আসছিলে? জানো না। মানুষ খুন করলে ফাঁসি হয়? আমার হাতে এটা কী দেখছ? খাঁড়া দিয়ে কী আর বন্দুক-পিস্তলের সঙ্গে লড়াই করা যায়? খাঁড়াটা নামিয়ে রেখে আমার কথা মন দিয়ে শোনো!’

ভবেন এবার ভয় পেয়ে কাঁচুমাচু করে বলল, ‘পুলিশ?’

কাকাবাবু বললেন, ‘না, আমি পুলিশ নই। খোঁড়া পুলিশ তুমি দেখেছ কখনো? পুলিশ কী কখনো তার ভাইপোকে নিয়ে ঘোরে? মদনমোহনের মূর্তিটা কোথায়? কুচবিহার মন্দির থেকে যেটা চুরি গেছে? বড়ো জাগ্রত দেবতা। সেটা ওই মন্দিরে আবার ফেরত দিতে হবে!’

ভবেন বলল, ‘সে মূর্তি আমার কাছে নেই। সেই মূর্তি সম্বন্ধে আমি কিছু জানি না!’

কাকাবাবু বললেন, ‘বেশ চোরাই মূর্তির ব্যাবসা ফেঁদে বসেছ, অ্যাঁ? ভাঙা মন্দিরে সাধু সেজে থাকো। পুলিশ এতখানি জঙ্গলের মধ্যে সচরাচর আসে না। এলেও শিবলিঙ্গ সরিয়ে দেখবে না। শিবলিঙ্গের গায়ে হাতই দেবে না। পুলিশও তো ঠাকুর-দেবতাদের ভয় পায়। শোনো, তোমার সামনে দুটো পথ আছে। হয় তোমাকে আমি এখনই পুলিশের কাছে নিয়ে গিয়ে ধরিয়ে দেব। তুমি চোরাই মাল রাখো, আর আমাকে খুন করতে চেয়েছিলে। দুটোই বড়ো অপরাধ। তবে তুমি যদি কুচবিহারের মদনমোহনের মূর্তিটা আমাকে ফেরত দাও, তাহলে তোমাকে আমি আপাতত ছেড়ে দিতে পারি।’

ভবেন আড়ষ্ট গলায় বলল, ‘সে মূর্তি আমার কাছে নেই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘ফের মিথ্যে কথা?’

ভবেন বলল, ‘আপনার পা ছুঁয়ে বলতে পারি, স্যার। মিথ্যে নয়। আমার কাছে নেই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘কার কাছে আছে?’

ভবেন বলল ‘আমি জানি না!’

কাকাবাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘তাহলে চলো থানায়! দশটি বছর জেলের ঘানি ঘোরাবে! ওহে বনমালি, তোমাকেও ছাড়ব না। তুমিও জেল খাটবে!’

বনমালি কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, ‘আমি কিছু করিনি স্যার! আপনাদের পথ দেখিয়ে এনেছি!’

কাকাবাবু বললেন, ‘তুমি সন্তুকে জাপটে ধরেছিলে। আমাদের কাছ থেকে টাকাপয়সা কেড়ে নেবার মতলব করেছিলে। এখন চলো—’

হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে কাকাবাবু ভবেনের গালে এত জোরে একটা চড় মারলেন যে সে ঘুরে পড়ে গেল। কাকাবাবু বললেন, ‘আমার দিকে যে অস্ত্র তোলে তাকে আমি নিজের হাতে কিছু শাস্তি না দিয়ে ছাড়ি না। আমাকে বুড়ো বলছিলে, এখন দেখলে আমার হাতের জোর?’

ভবেন গোল গোল চোখে একটুক্ষণ তাকিয়ে রইল কাকাবাবুর দিকে। সে এত অবাক হয়ে গেছে যে কথাই বলতে পারছে না। একটু পরে ফিসফিস করে বলল, ‘স্যার, যদি আমি আপনাকে ভগলুর ডেরা চিনিয়ে দিই, তাহলে আমাকে ছেড়ে দেবেন?’

বনমালি ভয় পেয়ে বলে উঠল, ‘ওরে সর্বনাশ!’

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই ভগলু বুঝি মদনমোহনের মূর্তি চুরি করেছে?’

ভবেন বলল, সে চুরি করেনি। ভালো ভালো মূর্তি ভগলুর কাছে জমা হয়। সেগুলো সে চোরাপথে বিলেতে পাঠায়। অনেক টাকা দাম পায়। ভগলু অতি সাংঘাতিক লোক, সে যদি টের পায় যে আমরা তার নাম বলে দিয়েছি, তাহলে সে আমাদের খুন করে ফেলবে। তার হাতে অনেক গুণ্ডা আছে। আমি দূর থেকে তার বাড়িটা দেখিয়ে দিতে পারি। তারপর আমি আর সেখানে থাকব না।’

কাকাবাবু হেসে বললেন, ‘তোমায় আমি বিশ্বাস করব কী করে? তুমি দূর থেকে কার-না কার বাড়ি দেখিয়ে সরে পড়বে আর আমি তাই মেনে নেব! তোমার মতন লোকদের তো মিথ্যে কথা বলতে বাধে না। এই সন্তু, ক্যামেরা বার কর।’

সন্তু অমনি পকেট থেকে একটা ছোট্ট ক্যামেরা বার করে ফটাফট ছবি তুলতে লাগল।

কাকাবাবু বললেন, ‘ভবেন, তোমার আর তোমার এই চোরাই মালের আস্তানার ছবি তোলা রইল আমাদের কাছে। এই ছবি পুলিশের কাছে দিলে ধরা পড়ে যাবেই। বনমালিও পালাতে পারবে না। এবার চলো দেখি, কোথায় থাকে ভগলু!’

সেখান থেকে বেরিয়ে একবারে সামনে সামনে চলল সন্তু। তারপর বনমালি, তারপর ভবেন। কাকাবাবু পেছনে। তিনি রিভলবারটা রেখে দিলেন পকেটে। শুধু একবার বললেন, ‘ভবেন, মাঝপথে পালাবার চেষ্টা করলে কিন্তু তোমার একটা পা জন্মের মতন খোঁড়া হয়ে যাবে। তখন আমায় দোষ দিয়ো না। আমার হাতের টিপ খুব ভালো। এক-একটা গুলিতে তোমার এক-একটা পা খোঁড়া হবে।’

জঙ্গলের বাইরে রয়েছে একটা জিপ গাড়ি। ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়েছিল। সবাই সেই জিপ গাড়িতেই উঠল। সন্তু আর বনমালি পেছনে। ভবেন আর কাকাবাবু সামনে ড্রাইভারের পাশে। ভবেনের নির্দেশে গাড়িটা ছুটে চলল।

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই ভগলুর আসল নাম কী?’

ভবেন বলল, ‘তা তো জানি না স্যার। সবাই ভগলু ভগলু বলেই ডাকে। ওর একটা থালা-বাসনের দোকান আছে। কিন্তু ওর আসল ব্যাবসা মূর্তি পাচার করা।’

‘ও কি নিজের লোক দিয়ে নানান মন্দির থেকে মূর্তি চুরি করিয়ে আনায়?’

‘না, স্যার। এ লাইনে অনেক লোক আছে। কুচবিহারের ওই মদনমোহন মূর্তি প্রথমে চুরি করে বিষ্টু দাস। সে পরের দিনই পাঁচ হাজার টাকায় সেটা বিক্রি করে দেয় শিলিগুড়ির অজিত সিংকে। অজিত সিং সেটা পনেরো হাজার টাকায় বিক্রি করেছে শেঠ সুরজমলকে।’

পেছন থেকে সন্তু জিজ্ঞেস করল, ‘প্রথম চোরটার নাম বিষ্টু দাস। সে কাকে বিক্রি করেছিল?’

সন্তু একটা ছোট খাতা খুলে নামগুলো লিখে নিচ্ছে।

ভবেন বলল, ‘শেঠ সুরজমল মূর্তিটা আমার কাছে এনেছিল। কিন্তু দাম চাইল পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। অত টাকা আমি দিতে পারিনি। তাই ভগলু নিয়ে নিয়েছে। ও বিলেত আমেরিকায় পাঠিয়ে লাখ-লাখ টাকা রোজগার করবে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘হুঁ, একেই বলে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। তোমরা সবাই সবাইকে চেনো!’

প্রায় এক ঘণ্টা গাড়িটা চলার পর সে থামল শ্রীপুর নামে একটা ছোট্ট শহরে। রেল- স্টেশনের পাশেই বাজার আর কিছু দোকানপাট ছাড়া সেখানে আর কিছু নেই। বেশ রাত হয়ে গেছে, তবু কয়েকটা দোকান খোলা আছে। একটা থালা-বাসনের দোকানের পাশ দিয়ে যখন জিপ গাড়িটা আস্তে আস্তে যাচ্ছে, তখন ভবেন বলল, ‘ওই দেখুন স্যার, কাউন্টারে ভগলু বসে আছে। খুব বড়ো গোঁফ।’

ভগলুর চেহারাটা দেখবার মতন। মাথায় একটা ও চুল নেই, চকচকে টাক। কিন্তু নাকের নীচে শেয়ালের লেজের মতন মোটা গোঁফ। মুখখানা গোল। বেশ হৃষ্টপুষ্ট চেহারা। দোকানে আরও তিন-চারজন লোক রয়েছে, মনে হয় তারা খদ্দের নয়, ভগলুরই দলের লোক।

গাড়িটা বাজার পেরিয়ে যাওয়ার পর দু-খানি পাকা দোতলা বাড়ি চোখে পড়ল। ভবেন বলল, ‘এই প্রথম বাড়িটা ভাগলুর, আর দ্বিতীয়টা ওর ভাইয়ের। দুটোই ভগলুর বাড়ি বলতে পারেন।’

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘চোরাই মূর্তিগুলো ও কোথায় রাখে?’

ভবেন বলল, ‘তা আমি বলতে পারব না স্যার। তবে আপনাকে আমি আর একটা খবর দিচ্ছি। কাছেই বাংলাদেশের বর্ডার। প্রত্যেক শনিবার সেখানে একটা বড়ো হাট হয়। সেই হাটের দিনে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে ভগলু ভালো ভালো মূর্তি বাংলাদেশে পাচার করে দেয়। ওখান থেকেও কিছু জিনিস এদিকে আসে। এই শনিবার যদি নজর রাখেন, তাহলে মূর্তিটা হাতেনাতে ধরে ফেলতে পারেন।’

কাকাবাবু বললেন, ‘মূর্তিটা এর মধ্যেই যদি পাচার করে দিয়ে থাকে?’

ভবেন বলল, ‘না, দেয়নি। আমাদের কানে তো সব খবর আসে। আরও বেশি দাম বাড়াবার জন্য ভগলু এখন সেটা আটকে রেখেছে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘হুঁ! ঠিক আছে, দেখা যাক! এখানে কোনো হোটেল আছে? রাতটা কাটাতে হবে তো!’

ভবেন বলল, ‘একটা ছোটো হোটেল আছে। কিন্তু সেখানে কি আপনারা থাকতে পারবেন? হাট-বাজারের লোকেরা এসে থাকে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘খুব থাকতে পারব। একটা ঘর পেলেই হল।’

ভবেন এবার হাত জোড় করে বলল, ‘আপনার কাছে দয়া চাইছি স্যার, এবার আমাকে ছেড়ে দিন। ভগলুর লোকজন আমাকে চিনতে পারবে, এখানে দেখলেই সন্দেহ করবে। যখন তখন খুন করতেও ওদের আটকায় না।’

বনমালি কাকুতি-মিনতি করে বললে, ‘আমাকেও মুক্তি দিন স্যার। নইলে ভগলু মেরে ফেলবে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘ঠিক আছে, ছেড়ে দিতে পারি। কিন্তু তোমাদেরও এই চোরাই মূর্তির কারবার ছাড়তে হবে। তিন-মাস পরে এসে আমি আবার খোঁজ নেব। তখনও যদি দেখি, তোমরা একই রকম চালিয়ে যাচ্ছ, তাহলে তোমাদের ছবি দিয়ে দেব পুলিশকে। এখন যাও, ভাগো!’

ভবেন আর বনমালি লাফিয়ে জিপ থেকে নেমে দৌড়ে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে!

হোটেলটা খুবই সাধারণ, কিন্তু সেটার নাম তাজমহল হোটেল। ঘরভাড়া সতেরো টাকা। ভাত-ডাল, বেগুনভাজা আর বাটামাছের ঝোল ন-টাকা। সেই খাবারই খেতে বসে কাকাবাবু ম্যানেজারের সঙ্গে ভাব জমালেন। তিনি বললেন যে সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ার করে তিনি নিরিবিলিতে থাকতে চান। এই শ্রীপুরে তিনি জমি খুঁজতে এসেছেন। পছন্দ হলে এখানেই বাড়ি বানিয়ে এসে থাকবেন।

রাত্তিরে আর কিছু করার নেই, দোতলার ঘরটিতে এসে ওরা দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ল।

সন্তু বলল, ‘কাকাবাবু, এখানকার থানায় তো কোনো খবর দেওয়া হল না? ভগলুর তো অনেক লোকজন। পুলিশের সাহায্য নিতে হবে নিশ্চয়ই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘এখনই থানায় যাব না। কেন জানিস? থানাতেও নিশ্চয়ই ভগলুর লোক আছে। ছোটো জায়গায় সব জানাজানি হয়ে যায়। আমরা থানায় গেলেই লোকে আমাদের সন্দেহ করবে। ভগলুও খবর পেয়ে সাবধান হয়ে যাবে। আগে দেখা যাক না আমরা নিজেরা কী করতে পারি।’

সন্তু বলল, ‘কাকাবাবু, আর একটা কথা জিজ্ঞেস করব? কথাটা কাল থেকে আমার মনের মধ্যে খচখচ করছে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘কী কথা, বলে ফ্যাল।’

সন্তু বলল, ‘ছোটোবেলায় একবার মামার বাড়িতে গিয়েছিলাম, সেখানে শিবঠাকুরের একটা মন্দির ছিল। একদিন মন্দিরের মধ্যে প্রসাদ নিতে গেছি, পুরুতমশাই বললেন, এই দেখো দেখো, যেন মূর্তি ছুঁয়ে দিয়ো না। ঠাকুরের মূর্তি ছুঁলে পাপ হয়।’

কাকাবাবু বললেন, ‘হুঁ, সেই কথাই তো সবাই বলে।’

সন্তু জিজ্ঞেস করলো, ‘তাহলে এই যে লোকগুলো মূর্তি চুরি করছে, ওরাও তো ছুঁচ্ছে। ওদের পাপ হচ্ছে না?’

কাকাবাবু হেসে বললেন, ‘পাপ হওয়া তো মনের ব্যাপার। এইসব চোর-ডাকাতগুলোর কী আর সেরকম মন আছে? ওরা পাপ-পুণ্য মানে না। চুরি করা, মানুষ খুন করাও তো মহাপাপ। চোর-ডাকাতরা সে কথাও ভাবে না।’

সন্তু বলল, ‘আর একটা কথা। অনেক ঠাকুরই তো শুনেছি খুব জাগ্রত। এই যে চোর-ডাকাতরা ঠাকুরের মূর্তি চুরি করছে, যেখানে-সেখানে ফেলে রাখছে, জাগ্রত ঠাকুর নিজেকে রক্ষা করতে পারেন না? ঠাকুর নিজেই চোরদের শাস্তি দিতে পারেন না?’

কাকাবাবু বললেন, ‘এটাও মনের ব্যাপার, বিশ্বাসের ব্যাপার! এইসব পাথরের বা কাঠের বা মাটির মূর্তি তো শিল্পীরা বানায়। যেমন সুন্দর সুন্দর পুতুল হয়। তারপর মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করার পর আমরা সেগুলোকে ঠাকুর মনে করি। শিব, বিষ্ণু, দুর্গা, গণেশ এঁদের সকলেরই গল্প আমরা জানি। তাই মূর্তিগুলো দেখলেই আমাদের সেইসব মনে পড়ে। কিন্তু যারা ওসব কাহিনি জানে না? যেমন ধর, কোনো বিদেশি এসে যদি এই রকম মূর্তি দেখে, তার কাছে পুতুলই মনে হবে। আর আমাদের মধ্যেও যারা পূজা করে, তারা কেউ শুধু নিয়মরক্ষার জন্য মাথা ঠুকে প্রণাম করে যায়। কেউ বেশি ভক্তি নিয়ে পুজো করে। কেউ ভয়ে ভয়ে পুজো করে। যার যেমন বিশ্বাস। যার বেশি বিশ্বাস, সে মনে করে এই দেবতার মূর্তি মানুষের উপকার করতে পারে, অসুখ সারিয়ে দিতে পারে। ঠাকুরের পুজো ঠিকমতন না করলে মহাবিপদ হতে পারে। সবই বিশ্বাসের ব্যাপার। আসলে কিন্তু মানুষের উপকার করা কিংবা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতাই কোনো মূর্তির থাকে না। নিজেকেই বাঁচাতে পারে না। চোর-ডাকাতদের ভক্তিও নেই, বিশ্বাসও নেই, তাই মূর্তিগুলোকে মনে করে পুতুল।’

সন্তু বলল, ‘শুনেছি, অনেক চোর-ডাকাতও পুজো করে?’

কাকাবাবু বললেন, ‘সেটাও একটা মজার ব্যাপার। আগেকার ডাকাতরা কালীপুজো করে তবে বেরুত। ডাকাতি করতে গিয়ে মানুষ খুন করত। যারা মানুষ মারে, অন্যের সম্পত্তি ছিনিয়ে নেয়, কোনো দেবতা কী তাদের সমর্থন করতে পারেন? আজকালও দেখবি, যারা খাদ্যে ভেজাল দেয়, জোচ্চুরি করে, গরিবদের ঠকায়, তারাই আবার বড়ো বড়ো মন্দির বানায়, ঢাকঢোল বাজিয়ে পুজো দেয়। এ সবই মিথ্যে! মানুষকে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড়ো পুণ্যের কাজ।’

পরদিন সকালে উঠে কাকাবাবু আর সন্তু হোটেলের একটা বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে বেরুল। ছেলেটির নাম পরান। সে-ই সবাইকে ডেকে জানিয়ে দিল যে এই খোঁড়াবাবুটি এখানে জমি খুঁজতে এসেছেন। জমি দেখার নাম করে পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখা হল।

শ্রীপুর জয়াগাটা বেশ ছিমছাম, সুন্দর। একটা পাতলা মতন নদীও আছে। পাতলা হলেও নদীটির বেশ তেজ, বেশ স্রোত আছে। খানিকদূরে একটা বড়ো নদীর সঙ্গে মিশেছে। ভগলুর বাড়ি এই নদীর ধারেই। বাড়ির পেছন দিকে একটা ঘর রয়েছে, সেটা একেবারে নদীর ওপরেই বলা যায়।

পরানের কাছ থেকে ভগলু সম্পর্কেও কিছু খবর পাওয়া গেল। তাকে এখানে সবাই ভয় পায়। সে স্থানীয় লোক নয়, বাইরের কোনো জায়গা থেকে এখানে এসে ব্যাবসা শুরু করেছে। একটা থালা-বাসনের দোকান করেই কী করে সে বড়োলোক হয়ে গেল, তা কেউ জানে না। চার-পাঁচজন গুণ্ডা মতন লোক সবসময় থাকে তার পাশে। থানার লোকজনের সঙ্গে তার ভাব আছে, পুলিশরা প্রায়ই তার বাড়িতে নেমন্তন্ন খেয়ে যায়।

ভগলু নিজেও নাকি দারুণ পেটুক। সে একাই দুটো মুরগি খেয়ে ফেলতে পারে। দু-কিলো পাঁঠার মাংস খায়। গোটা একটা রুই মাছ না-হলে তার চলে না। দুপুরবেলা প্রায় রোজই সে একা একা নদীর ধারে ছোটো ঘরটায় বসে খায়। খাবার সময় অন্য লোক কাছে থাকা সে পছন্দ করে না। রাত্তিরে সে ওই ছোটো ঘরটাতে থাকে। সকালে নদীতে স্নান সেরে পুজো করে। পুজোর সময় সে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে মন্ত্র পড়ে, গান গায়। তারপর ওই ঘরেই তাকে খাবার দেওয়া হয়। প্রচুর খেয়ে, খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে তারপর বিকেলের দিকে সে দোকানে এসে বসে।

সারাদিন ঘোরাঘুরি করে সব দেখে-বুঝে নিলেন কাকাবাবু। ভগলুর ধারেকাছেও গেলেন না।

রাত্তিরবেলা শুয়ে শুয়ে সন্তুকে বললেন, ‘একটা সমস্যা আছে রে, সন্তু। মদনমোহনের মূর্তিটা কোথায় লুকোনো আছে, সেটা খুঁজে বার করব কী করে?’

সন্তু বলল, ‘ওই নদীর ধারের ছোটো ঘরটায় ভগলু ঘুমোয় রাত্তিরে। মনে হয়, ওখানেই কোথাও আছে। অত দামি জিনিস নিশ্চয়ই সে চোখে চোখে রাখবে!’

কাকাবাবু বললেন, ‘অবশ্য ঠিক। ছোটো ঘরটা একবার ভেতরে ঢুকে দেখা দরকার। কিন্তু মাটির তলায় রেখেছে না কোথায় রেখেছে তা দেখতে অনেকটা সময় লাগবে। রাত্তিরে নিশ্চয়ই ওখানে কেউ পাহারা দেয়।’

সন্তু বলল, ‘একটা কাজ করব। সকালবেলা যখন ভগলু নদীতে স্নান করতে যায়, তখন এক ফাঁকে আমি ওই ঘরে ঢুকে পড়ব? তারপর দুপুরবেলা ও বেরিয়ে গেলে খুঁজে দেখব ঘরটা।’

কাকাবাবু বললেন, ‘খাটের নীচে কতক্ষণ লুকিয়ে থাকবি? একটু নড়াচড়া করলে, কিংবা তোর যদি হাঁচি পেয়ে যায় হঠাৎ? গলা খুসখুস করে যদি? তাহলেই ধরা পড়ে যাবি। ভগলুর কীরকম গাঁটাগোট্টা চেহারা দেখেছিস তো!’

সন্তু তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, ‘ধরা পড়ব না আমি। ধরা পড়লেও ও আমাকে ধরে রাখতে পারবে না।’

কাকাবাবু বললেন, ‘উঁহু, তা হয় না। এতে ঝুঁকি খুব বেশি। অন্য কোনো উপায় ভেবে দেখতে হবে। এখন ঘুমো।’

ভোরবেলা কীসের যেন শব্দে কাকাবাবুর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি চোখ মেলে দেখলেন, সন্তু জামা-প্যান্ট পরে বাইরে বেরুবার জন্য তৈরি হয়ে গেছে প্রায়।

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন। ‘এ কী সন্তু, কোথায় যাচ্ছিস?’

সন্তু বলল, ‘তুমি কিছু চিন্তা কোরো না, কাকাবাবু। আমি ভগুলর ওপর নজর রাখতে যাচ্ছি। নদীর ধারে বসে থাকব!’

কাকাবাবু বললেন, ‘তুই তো শুধু বসে থাকার ছেলে না! ভগলুর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করবি ঠিক। ভগলু দুপুরের আগে ও-ঘর থেকে বেরোয় না। পুজো করে অনেকক্ষণ ধরে খাবার খায়। তুই এত সকাল সকাল গিয়ে কোথায় বসে থাকবি?’

সন্তু বলল, ‘আমার আর শুয়ে থাকতে একদম ইচ্ছে করছে না। আমি কাল একবার ও-ঘরের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেছি। পাশে একটা ভাঁড়ার মতন ছোট্ট ঘর আছে। যদি ভেতরে ঢুকতে পারি, তাহলে ওই ঘরটাতে থাকবার চেষ্টা করব। ভগলু বেরিয়ে যাবার পর খোঁজাখুজি শুরু করব।’

কাকাবাবু বললেন, ‘তখন নিশ্চয়ই বাইরে পাহারা থাকবে। ঠিক আছে, তুই যখন জেদ ধরেছিস, আমার রিভলবারটা নিয়ে যা। কারুকে মারবি না, শুধু আত্মরক্ষার দরকার হলে ভয় দেখাবি।’

রিভলবারটা পেয়ে সন্তু খুশিতে ছটফট করতে লাগল। কাকাবাবু সহজে সন্তুকে রিভলবারে হাত দিতে দেন না। সে বলল, ‘তুমি চিন্তা করো না, আমি বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসছি। তুমি ঠিক খবর পেয়ে যাবে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘শোন, তুই মদনমোহনের মূর্তিটার সন্ধান পেয়ে গেলেও নিয়ে আসার চেষ্টা করিস না। চোরের ওপর বাটপাড়ি করা ঠিক নয়। ভগলুকে হাতে হাতে ধরতে হবে!’

সন্তু প্রায় ছুটে বেরিয়ে চলে গেল।

কাকাবাবু বিছনায় শুয়েই রইলেন। খানিক পরে একজন চা নিয়ে এল। কাকাবাবু চা খেতে খেতে একটা বই পড়তে লাগলেন।

বেলা গড়িয়ে গেল। এগারোটা বেজে যাওয়ার পর আর ঘরের মধ্যে থাকতে তাঁর ইচ্ছে হল না। বেরিয়ে এলেন হোটেল থেকে। প্রথমে ভাবলেন, জিপ গাড়িটা নিয়েই বেরোবেন। তারপর ঠিক করলেন, হেঁটেই যাবেন। আকাশ মেঘলা আজ, রোদ নেই, গরম নেই, হাঁটতে ভালোই লাগবে।

একটা চিঠি লিখে গাড়ির ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিলেন থানায়। তিনি যে এখানে এসেছেন তা পুলিশকে জানিয়ে রাখা দরকার। কীজন্য এসেছেন তা জানাবার দরকার নেই।

হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলে এলেন নদীর ধারে। এইটুকু নদী কিন্তু হেঁটে পার হওয়া যায় না। এক জায়গায় খেয়া পারের ব্যবস্থা আছে। অবশ্য এখন লোকজন বিশেষ নেই।

ভগলুর বাড়ির পেছনে বাগান। তারপর একেবারে শেষের দিকে নদীর ধার ঘেঁষে একখানা ঘর। ঠিক ঘর নয়, সেটা একটা ছোটো বাড়ির মতন। ঘরের সঙ্গে বাথরুম আর একটা ছোটো ঘর, বারান্দাও রয়েছে।

সন্তুকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সেই ভোর থেকে সে কোথায় রয়েছে? ভগলুর ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে নাকি?

কাছাকাছি গিয়ে শুনলেন, একজন লোক চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কী যেন বলছে। একঘেয়ে সুর। এই কী ভগলুর পুজো নাকি? কোন দেবতা পুজো করে ভগলু? এরা বিচিত্র লোক। রোজ সকালে ভক্তিভরে পুজো করে নানান ঠাকুরদেবতার মূর্তির ব্যাবসা করে।

সন্তু নিশ্চয়ই ধরা পড়েনি। তাহলে ভগলু এমন নিশ্চিন্তে পুজো করতে পারত না। সন্তুকে ধরে ফেললে ভগলু নিশ্চয়ই খোঁজখবর করত। সন্তুর সঙ্গে কে আছে সে সন্ধানও পেয়ে যেত।

আরও কিছুক্ষণ পর একজন লোক কয়েকটা খাবারের পাত্র নিয়ে ঢুকল ভগলুর ঘরে। কাকাবাবু ভাবলেন, সন্তু সকাল থেকে কিছু খায়নি বোধ হয়। বিকেল পর্যন্ত না খেয়ে থাকবে?

সেই লোকটি বেরিয়ে এসে ভেতরের বাড়ি থেকে আবার দু-তিনটে ডেকচি ভরতি কীসব নিয়ে ফিরে এল। এইরকম আরও একবার। খাবার আসছে তো আসছেই।

কাকাবাবু একটা তেঁতুল গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলেন। এত খাবার ভগলুর জন্য? একটা লোক কত খেতে পারে?

হঠাৎ তাঁর মাথার মধ্যে একটা ঝিলিক খেলে গেল।

সেই লোকটা যখন আর একবার কয়েকটা খাবারের ডেকচি নিয়ে ফিরে আসছে, কাকাবাবু তখন গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলেন। লোকটির পিঠে তাঁর একটা ক্রাচ ঠেকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, ‘এটা বন্দুকের নল। চেঁচালেই প্রাণটা বেরিয়ে যাবে। যেমন যাচ্ছ, তেমনই যাও।’

লোকটা কাঠের পুতুলের মতন এক পা এক পা করে হেঁটে ঘরে ঢুকল।

কাকাবাবু ভেবেছিলেন, তিনি ঘরের মধ্যে আরও দু-তিন জনকে দেখতে পাবেন। কিন্তু ঘরে ভগলু ছাড়া আর কেউ নেই। টেবিলের ওপর মস্ত বড়ো একটা থালা, ভগলু একা একা বসে খাচ্ছে। ঠিক যেন একটা রাক্ষস। তার থালার পাশে মাছের কাঁটা আর মাংসের হাড়ের পাহাড় জমে আছে। সে একটা মস্ত বড়ো মাছের মুড়ো ধরে চিবুচ্ছে। ঝোল গড়াচ্ছে মুখের দু-পাশ দিয়ে। সে বোধ হয় দু-হাত দিয়ে খায়। দু-হাতেই লেগে আছে ঝোল।

কাকাবাবুকে দেখে সে ভুরু কুঁচকে বলল, ‘এ কে? এই মংলু, এ কাকে নিয়ে এলি?’

মংলু নামে সেই লোকটি বলল, ‘কী জানি। আমার পিঠে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রেখেছে।’

ভগলু দেখতে পাচ্ছে কাকাবাবুর হাতে বন্দুক-টন্দুক কিছু নেই। সে গর্জন করে বলে উঠল ‘হাঁদারাম। পেছন ফিরে একবার তাকিয়ে দেখতে পারলি না? ধর ওই লোকটাকে।’

মংলুও বেশ গাঁট্টাগোঁট্টা জোয়ান। সে ডেকচি দুটো টেবিলের ওপর রেখেই ঘুরে দাঁড়াল।

কাকাবাবু একটা ক্রাচ তুলে বললেন, ‘মারামারি করার দরকার নেই। আগে আমার কথা শোনো। ভগলু, তুমি কুচবিহারের মদনমোহন মূর্তিটা রেখে দিয়েছ কেন? এই নিয়ে যে কুচবিহারে দাঙ্গা বাধার উপক্রম। তুমি নিজে একজন ভক্ত হয়ে ঠাকুরদেবতার মূর্তির ব্যাবসা কর? ছি:! ওটা ফেরত দিয়ে দাও!’

ভগলু বলল, ‘কে বললো, ঐ মূর্তি আমার কাছে আছে?’

কাকাবাবু বললেন, ‘আমি ঠিক খবর নিয়েই এসেছি। মূর্তিটা আমায় দিয়ে দাও!’

ভগলু বলল, ‘এই মংলু, লোকটাকে ধরতে পারছিস না?’

সেই মুহূর্তে আর একটা লোক ঢুকল ঘরে। সঙ্গে সঙ্গে সে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল কাকাবাবুকে। মংলুও ঝাঁপিয়ে পড়ে কাকাবাবুর ক্রাচ দুটো কেড়ে নিল।

ভগলু খুশি হয়ে বলল, ‘বা-বা-বা-বা! বেচু-তুই ঠিক সময়ে এসে পড়েছিস! লোকটাকে বাঁধ। পকেটে দেখ বন্দুক-পিস্তল কিছু আছে কিনা!’

কাকাবাবু দু-হাত তুলে বললেন, ‘বাঁধতে হবে না। আমার কাছে কোনো অস্ত্র নেই। ভগলু, তুমি খাওয়া শেষ করে নাও। এই তোমার শেষ মাছের মুড়ো খাওয়া। এরপর তোমায় দশ বছর জেলে থাকতে হবে!’

ভগলু বলল, ‘তুমি একটা খোঁড়া, আমাকে জেলে পাঠাবে; হা-হা-হা-হা!’

কাকাবাবু বললেন, ‘কানাকে কানা বলতে নেই, খোড়াকে খোঁড়া বলতে নেই জানো না! জেলে তোমায় যেতেই হবে। তুমি কী ভাবছ, আমি একা তোমার এই বাঘের গুহায় ঢুকেছি? পুলিশ তোমার বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। এখানকার পুলিশ নয়, কলকাতার পুলিশ। দশখানা রাইফেল আছে। তোমার বাড়ির সব খুঁজে তারপর এই ঘরে আসবে। শুধু মদনমোহনের মূর্তিটা পেলেই তোমায় অন্তত দশ বছর জেলে থাকতে হবে!’

ভগলু উঠে দাঁড়িয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, ‘মদনমোহনের মূর্তি আমি নদীতে ফেলে দেব। কেউ খুঁজে পাবে না। তারপর আমায় কে ধরবে? কোনো প্রমাণ থাকবে না!’

একদিকের দেওয়ালে একটা বড়ো কুলুঙ্গি। তাতে এক জোড়া খুব ছোটো রাধাকৃষ্ণ মূর্তি। আর প্রচুর ফুল। ভগলু এই মূর্তির পুজো করে মনে হল।

সেই কুলঙ্গির ঠিক নীচে ধাক্কা দিতেই দেওয়ালের খানিকটা অংশ সরে গেল। ভগলু তার মধ্যে হাত গলিয়ে বার করে আনল একটা কালো পাথরের মূর্তি।, সেটা সে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য ছুটে গেল জানালার দিকে।

কাকাবাবু চেঁচিয়ে বলে উঠলেন, ‘ভগলু, ভগলু, তুমি এঁটো হাতে ওই মূর্তি ধরলে। জাগ্রত ঠাকুর। জানো না, অপবিত্র হাতে ছুঁলে সেই হাতে কুষ্ঠ হয়।’

ভগলু বলে উঠল, ‘অ্যাঁ?’

সঙ্গে সঙ্গে তার হাত থেকে সেই মূর্তিটা খসে পড়ে গেল মাটিতে।

আর ঠিক তার সঙ্গে সঙ্গেই একটা গুলির শব্দ হল। পাশের ঘরের দরজা ঠেলে বেরিয়ে এল সন্তু, তার হাতে রিভলবার। সিনেমার নায়কের কায়দায় সে রিভলবারের নলে ফুঁ দিতে দিতে বলল, ‘প্রথমবার কারুকে মারিনি। শুধু ভয় দেখিয়েছি। এরপর কেউ নড়লেই তার মাথায় গুলি করব!’

কাকাবাবু এগিয়ে মূর্তিটা তুলে নিলেন। টেবিলের ওপর থেকে জলের গেলাস নিয়ে এঁটো জায়গাটা ধুলেন ভালো করে। পকেট থেকে রুমাল বার করে মুছে নিয়ে বললেন, ‘বা:, এবারে ঠিক আছে। ভগলু, এবার বেরিয়ে পড়ো। সন্তুকে সাবধান। ও কিন্তু খুব ভালো গুলি চালাতে পারে।’

রাস্তার লোকেরা অবাক হয়ে দেখল, সন্তুর মতন একটা বাচ্চা ছেলের হাতে রিভলবার, আর তার সামনে সামনে মাথার ওপর হাত তুলে চলেছে ভগলু আর তার দুই চ্যালা। একটু পেছনে ক্রাচে ভর দিয়ে একজন প্রৌঢ় মানুষ। হাঁটতে হাঁটতে ওরা পৌঁছে গেল থানায়।

কাকাবাবুর জিপটা চলে এল খবর পেয়ে। খানিক বাদে থানা থেকে বেরিয়ে সেই জিপে উঠতে উঠতে কাকাবাবু বললেন, ‘যখন দেখলাম, অত খাবার যাচ্ছে ভগলুর ঘরে, তখন মনে হল, নিশ্চয়ই ওখানে আরও দু-তিনজন লোক আছে। অত খাবার কী একজন মানুষ খেতে পারে? তাহলে তুই নিশ্চয়ই ধরা পড়ে গেছিস। তোকে আটকে রেখে ভগলু তার সঙ্গীদের নিয়ে কিছু পরামর্শ করছে খেতে খেতে।’

সন্তু বলল, ‘আমি তো ভোর থেকে ওর পাশের ছোট্ট ঘরটায় ঢুকে বসে আছি। ভগলু টেরও পায়নি। কিন্তু মূর্তিটা কোথায় রেখেছে বুঝতে পারিনি। অন্য একটা মূর্তির পুজো করছিল!’

কাকাবাবু বললেন, ‘পুলিশের কথা বলতেই কাজ হল। কিন্তু মূর্তিটা জলে ফেলে দিলে মুশকিল হত। তবে, হাতে কুষ্ঠ হবে বলামাত্র কীরকম ভয় পেয়ে গেল দেখলি!’

সন্তু বললো, ‘এরা ঠাকুরের মূর্তি ভয় পায়, আবার বিক্রিও করে।’

কাকাবাবু হাসতে হাসতে বললেন, ‘সেই তো! কী বিচিত্র মানুষ এরা সব! ঠাকুর-দেবতায় বিশ্বাস আছে। আবার টাকার লোভে সেই বিশ্বাসও চাপা পড়ে যায়!’

দুজনেই হাসতে লাগল প্রাণভরে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাথা উঁচু করে যাওয়া - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [ছোটগল্প]

amarboi
মাথা উঁচু করে যাওয়া

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
amarboi
সারারাত ঘুম হয়নি। এমনকী দুচোখের পাতাও এককরতে পারেননি। এই এক হচ্ছে মুশকিল। বেশিক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে পারছেন না।

না ঘুমোলে কত রকম এলোমেলো চিন্তা আসে। দেশের কথা, প্রিয় মানুষদের কথা। কিন্তু মাঝে মাঝেই সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে মাথার যন্ত্রণার জন্য। কিছুতেই, এত ওষুধ খেয়েও,এই বিশ্রী ব্যথাটা যাচ্ছে না।

রাজা উঠে এসে দাঁড়ালেন জানালার কাছে।

আজ কত তারিখ? একুশ, না বাইশ? সেপ্টেম্বর মাস। এই সময় ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিকশোভা অতি মনোহর। দেশেও এখন শরৎকাল। কিন্তু আমাদের শরতে গ্রীষ্ম-বর্ষার প্রচন্ড দাপট পুরোপুরি কাটে না। এখানে এরই মধ্যে শীতের মৃদু পরশ পাওয়া যায় হাওয়ায়।

ফ্রেঞ্চ উইন্ডো খুলে রাজা বেরিয়ে এলেন বারান্দায়।

এটা একটা প্রশস্ত বাগানবাড়ি প্রচুর বৃক্ষশোভিত। তাতে ফুটেছে অজস্র ফুল। সব ফুল তিনি চেনেন না দেশ বিভেদে গাছপালাও অন্যরকম হয়। কিছু কিছু পাখিও ডাকছে। তার মধ্যেএকটা পাখির ডাক চেনা মনে হয়। দেশের বুলবুলিরমতন।

স্নিগ্ধ বাতাসে জুড়িয়ে গেল কপাল, বুজে এলো চক্ষু। সারারাত যে আরামপাননি, এখন প্রকৃতি তাঁকে সেই শান্তি উপহারদিলো।

রাজার ইচ্ছে হলো, বারান্দা থেকে নেমে বাগানের ঘাসে একটু হাঁটবেন। কিন্তু খালি পা, তাঁকে ঠান্ডা লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে। মাথা ধরে আছে, এখন একটু সাবধানে থাকাইভালো।

তিনি বসলেন সাদা লেস লাগানো একটি বেতের চেয়ারে।

দেশ থেকে আসবার আগে কয়েকজন তাঁকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিল, অত দূরবিদেশে আবহাওয়া অন্যরকম, তা সহ্য না হতেপারে। হঠাৎ হঠাৎ শীত, তাতেই সান্নিপাতিক হবার খুব সম্ভাবনা।

তাঁরা এইসব জানলেন কী করে? নিজেরা তো কেউ সমুদ্র পাড়ি দেননি। শুনেছেন নাকি নাবিক-লস্করদের কাছ থেকে?

কয়েকজন ইংরাজ রাজপুরুষও সাবধান করতে চেয়েছিলেন। একমাত্র ডেভিড হেয়ার বলেছিলেন, যাও যাও বন্ধু, ঘুরে এসো, তোমার কোনো অনিষ্ট হবে না।

ডেভিড হেয়ার অনেক সাহায্য করেছেন। চিঠি লিখে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। আর তাঁর বোনকে বিশেষ করে বলে দিয়েছেন, সব সময়রাজার দেখাশুনো করতে। তা সে-মেয়েটি তো তাঁর এখনকার সর্বক্ষণের সঙ্গিনী। ভারি লক্ষ্মীশ্রীযুক্তা নারী।

বেশ কিছুদিন তো কেটে গেল, তাঁর শরীরের কোনোই ক্ষতি হয়নি। বরং মনে হয়,এ দেশের জলবায়ু আরো স্বাস্থ্যকর। লন্ডনে প্রচুর মানুষের সঙ্গে দেখা হলো। শুধু একটিই অসুবিধে, তিনি একা একা পথে বেরোতে পারেন না। পথচারীদের কৌতূহলী দৃষ্টি। শুধু কৌতূহলী নয়, তিনি বুঝতে পারেন কারো কারো দৃষ্টিতে অন্য কিছুও থাকে। আতঙ্ককিংবা ঘৃণা? যেন তারা এক আজব প্রাণী দেখছে।

শুধু গায়ের রঙের তফাৎ, তার জন্যই এতো দূরত্ব? মানুষেরই তো শরীর, মানুষেরই মস্তিষ্ক। তবে হ্যাঁ, অস্ত্রবলে ভারতীয়রা হেয়।

আবার এখানকার বিদ্বজ্জন সমাজে অন্য রকম প্রতিক্রিয়া হয়। যাঁরা তাঁর কথা আগে শোনেননি বা কিছুই জানেননা, তাঁরা তাঁর কথাবার্তা শুনে এমনই অবাক হন, যেন চক্ষু ঠেলেবেরিয়ে আসার মতন। এই নেটিভটি এমন ইংরেজি জানে? বাইবেল সম্পর্কে এতো জ্ঞান?

দেশে থাকতে ইউনিটারিয়ান চার্চের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ওঁদের মতন তিনিও একেশ্বরবাদী। হিন্দুদের মূর্তিপূজায়তিনি বিশ্বাস হারিয়েছেন, এ-কথা রাজা আগেই ঘোষণা করেছেন।

হঠাৎ রাজার চোখে পড়ল বাগানের এক প্রান্তে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।বড়জোর সাত-আট বছর বয়েস।সাদা ফ্রক ও নীল সোয়েটার পরা। মাথার চুলসব সোনালি। কী যে অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে, যেন স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে এক পরি!

তিনি মনে মনে হাসলেন। তিনি স্বর্গও মানেন না।পরিদের অস্তিত্বেও বিশ্বাসী নন। তবু এরকম উপমা মনে এসেই যায়।

মেয়েটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।

রাজা একবার ভাবলেন, হাতছানি দিয়ে তাকে কাছে ডাকবেন। কিন্তু এর দৃষ্টিতে কী আছে? কৌতূহল, না ভয়? ডাকলে যদি না আসে, যদি দৌড়ে পালিয়ে যায়। থাক, এই কাননের অজস্র ফুলের সমারোহের মধ্যে সে পরি হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে।

একটু পরেই ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো রামহরি। শশব্যস্ত হয়ে বললো, হুজুর, হুজুর, আপনি এই শীতের মধ্যে বসে আছেন। পায়ে ইস্টানিক পরেননি। আপনার শরীলে ব্যাধি আছে।

রাজা রামহরির কথা শোনারপর কোনো উত্তর না দিয়ে আবার তাকালেন বাগানের কোণে। পরি অদৃশ্য।

ঠান্ডা লাগছে ঠিকই, তাহলে আর বাইরে বসার দরকার নেই। রামহরি তাঁর হাত ধরতে গেল, রাজা ভ্রু কুঁচকে বললেন, ছাড়। আমার এমন কিছু ব্যাধি হয়নি।

রামহরি বললো, বাথ সেরে নিবেন? হট হবাটার নিয়ে আসি।

এই দুবছরে নিরক্ষর রামহরি বেশ ইংরেজি শিখেনিচ্ছে শুনে শুনে। বিচিত্র তার উচ্চারণ। রাজা একবার বলেছিলেন, আমার সামনে তোকে ইংরিজিবলতে হবে না। অন্য জায়গায় ফলাস যত পারিস।

পরে আবার তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। থাক, যতখানি পারে শিখুক, মন্দ কি!

বাথটবে গরম জল ঢেলে দেবার পর তিনি রামহরিকেইঙ্গিত করলেন বাইরে দাঁড়াতে। কিন্তু নিজে স্নান করতে গিয়ে দেখলেন, তাঁর সারা শরীর কাঁপছে। অবসন্ন হয়ে পড়ছেন।

তিনি ভ্রু কুঞ্চিত করে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। এটা কী হচ্ছে? কেন এই দুর্বলতা? কয়েক দিন ধরেই হচ্ছে এরকম। অথচ সেরকম কোনো রোগের কথা তো বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

অতি কষ্টে নিজেই স্নানান্তে পোশাক পরে বেরিয়ে এলেন তিনি। একটুপরেই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসতে হবে। এ দেশে সুসজ্জিত হয়ে টেবিলে বসাই নিয়ম। রামহরি তাঁকে জোববাজুবিব ও মাথায় পাগড়ি পরালো।

পাশের ঘরে শোয় রাজার পুত্র রাজারাম আর একজন সঙ্গী রামরতন মুখোপাধ্যায়। তারাও জেগে উঠেছে। এখানে নির্দিষ্ট সময়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলে ঘণ্টা বাজে।

রামহরি সেবাদাসদের দলে,সে দাঁড়িয়ে রইল দূরে। অন্য দুজনকে দুপাশে নিয়ে বসলেন রাজা। অন্যদিকে মিসেস হেয়ার আর এখানে যাঁরা আতিথ্য দিয়েছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে মিস কেডেল আর মিস কাসেল।

এ দেশের নারীদের স্বাবলম্বী অবস্থা দেখে রাজা প্রায়ই ভাবেন, কবে দুর্ভাগা ভারতবর্ষে রমণীদের এমন সৌভাগ্য হবে। এ দেশের রমণীরা শিক্ষার সুযোগ পায়, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে, সম্পত্তিরঅধিকারিণী হয়। হায় বঙ্গনারী!

খেতে খেতে শ্রীমতি কেডেল জিজ্ঞেস করলেন, রাজা, কিছু যদি মনে না করেন, একটা প্রশ্ন করবো? কয়েকদিন ধরেই খুবকৌতূহল হচ্ছে।

রাজা বললেন, অবশ্যই প্রশ্ন করতে পারেন।

শ্রীমতী কেডেল সসঙ্কোচে বিনীতভাবে বললেন, আপনারা যে চারজন এসেছেন, এ ছাড়া আর কোনো ভারতীয় আমরা ব্রিস্টলে দেখিনি। আপনাদের চারজনেরই নাম রাম। ভারতীয়দের সকলেরই নাম কি রাম হয়?

রাজা সংযত হাস্য করলেন।কথাটা তো ঠিক।

তিনি বললেন, মিস কেডেল, আপনার যে-খটকা লেগেছে, তা অত্যন্ত সংগত। এখানেআমাদের চারজনেরই নামে রাম রয়েছে বটে, তবে এটা পিয়োরলি কো-ইন্সিডেন্টাল। ভারতীয়দের আরো নানা প্রকার ও বিচিত্র নাম হয়। যেমন আমার বন্ধু দ্বারকানাথ, যেমন…

তাঁকে আর কিছু বলতে হলো না, তাঁর সঙ্গীরাই গড়গড় করে অন্য ভারতীয় নাম বলে গেল।

ভেজিটেবল স্যান্ডউইচে এক কামড় দিতেই রাজার একবার হেঁচকি উঠলো। এরকম প্রায়ই হচ্ছে ইদানীং। কিছুই খেতে ইচ্ছে করে না। অথচ ভোজনরসিক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল।

নাম প্রসঙ্গ এখনো চলছে।রাজা মনে মনে ভাবলেন, ইংরাজ পুরুষ বা রমণীদেরনামের উচ্চারণে তাঁর কোনো অসুবিধে হয় না। অথচ শিক্ষিত ইংরাজরাও একটি ভারতীয় শব্দ শুদ্ধউচ্চারণ করতে পারে না। রামের মতন একটি অতি সহজ শব্দকে এরা উচ্চারণ করের‌্যাম, যার অর্থ ভেড়া। একজন বিশিষ্ট পাদ্রি তাঁর পুরো নাম উচ্চারণ করেছিলেন এভাবে, ড়্যামমোহন রয়। তা শুনে তিনি আঁতকে উঠেছিলেন। তার চেয়ে শুধু রাজাই ভালো, তাও অনেকের ওষ্ঠে হয়ে যায় র‌্যাজা! আমরা পারি, অথচ তোমরা পারো নাকেন? চেষ্টা করো না, নাকি জিভের দুর্বলতা?

প্রসঙ্গান্তরে যাবার জন্য রাজা বললেন, আজ ভোরবেলা একটি বালিকাকে দেখলাম বাগানের এক কোণে। অপরূপ তার মুখশ্রী। বোধকরি কোনো প্রতিবেশীর কন্যা।

মিস কেডেল বিস্মিতভাবে তাকিয়ে রইলেন। পাশের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছেন রেভারেন্ড জন ফস্টার। তিনি একজন প্রবন্ধকার। ও বাড়িতে তো কোনো বালক-বালিকা নেই।

রাজা তাঁর কথায় কোনো উত্তর পেলেন না। উত্তর আশাও করলেন না।

তাঁর তলপেটে বেদনা শুরু হয়েছে এবং সে-কথা তিনি অন্যদের জানাতে চান না। ব্রেকফাস্ট শেষ হলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, মাফ করবেন, আমি এখন কিছু সময় নিরিবিলিতে গ্রন্থপাঠ করতে চাই।

তিনি নিজের কক্ষে এসে প্রথমে বসলেন আরাম কেদারায়, কয়েক মিনিট পরেই তাঁর শুয়ে পড়তে ইচ্ছে হলো। এরকম দুর্বলতার জন্য রাজা নিজের ওপরেই ক্রুব্ধ হয়ে উঠলেন।

লন্ডনে দিনের পর দিন ব্যস্ততার পর ব্রিস্টলে এই আতিথেয়তার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন।

স্টেপলটন গ্রোভ নামে এই উদ্যানবাটিকাটি ব্রিস্টল শহর থেকে কিছুদূরে। অতি সুরম্য ভবন, ব্যবস্থাপনা এবং যত্নেরও কোনো ত্রুটি নেই। বিশ্রাম নেওয়ার পক্ষে আদর্শ।

লন্ডনে তাঁকে অনেক সভা-সমিতিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। ভারতবর্ষ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ একেবারেই অজ্ঞ। কৌতুকের বিষয় এই যে, অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ধর্ম সম্পর্কেই সকলের কৌতূহল বেশি। রাজা বারবার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি হিন্দু ধর্মের মূর্তিপূজা মানেন না। তিনি একেশ্বরবাদী। তিনি যিশুকে মহামানব এমনকি ঈশ্বরপ্রেরিত বলতেও দ্বিধা করেননি। তবু অনেক জায়গাতেই তাঁকে প্রশ্ন শুনতে হয়, যিশুর জীবনের নানান অলৌকিক ঘটনা এবং পুনর্জাগরণও মানেন কিনা। যুক্তিহীন অলৌকিকতা মানতে রাজার দ্বিধা আছে। ভক্তরা সবইমানতে পারে, তারা তো প্রমাণ খোঁজে না।

কেউ কেউ ইঙ্গিত দেয়, রাজা কেন খ্রিষ্টধর্ম অবলম্বন করছেন না? তিনিসযত্নে এ-প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

এখানে তাঁর পরিচয় দেওয়াহয় হিন্দু ব্রাহ্মণ হিসেবে। তিনি সেই পরিচয়টাই বজায় রাখতে চান। তিনি যদিও জাতপাত মানেন না, তবু তিনি একজনব্রাহ্মণ পরিচারক সঙ্গে এনেছেন। তাঁর নিজের অঙ্গেও উপবীত আছে। দেশের লোক যেন বলতে না পারে ম্লেচ্চদের দেশে এসে অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে জাত খুইয়েছেন, পৈতৃক বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলছে দেশে, একবার যদি রটে যায় যে, তিনি জাত খুইয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তিতেও তাঁর অংশ বরবাদ হয়ে যাবে। তাঁর সন্তানেরাও বঞ্চিত হবে। আগে সম্পত্তি, তারপর তো জাত।

কিন্তু এখানে এতো আদর, আপ্যায়ন, বিশ্রামের অঢেল সুযোগ, তবু শরীরে কেন জোর পাচ্ছেন না। আলস্যের তো সময় নেই। সামনে কতো কাজ।

হাউস অফ কমন্সের ভারতীয়বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।রাজা সেখানে একটা রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। এ-বিষয়ে পার্লামেন্টে একটা বিলও পেশ হয়েছে। দেশের কৃষকদের অসহনীয় দুরবস্থার কথাও রাজা জানাতে চান। নারীগণের কথা… বুকের মধ্যে কে যেন দুমদুম করে দুবার ধাক্কা দিলো।

রাজা চমকে উঠলেন। একি মৃত্যুর মুষ্টাঘাত নাকি? মৃত্যু? এতো মানুষ থাকতে তাঁর কাছে আসতে যাবে কেন? তাঁর উন্নত শরীর, অটুট স্বাস্থ্য, রোগভোগ বিশেষ নেই। পৌরাণিক দেব-দেবীর মূর্তিতে তাঁর বিশ্বাস নেই, তাই যম কিংবা যমদূতদের চেহারা তাঁর মনে এলো না,তবু যেন একটা জ্যোতিপুঞ্জ, যেন মৃত্যুর প্রতীক হয়ে চেয়ে আছে, তাঁর মনে হলো।

তিনি শ্লেষের সঙ্গে বললেন, কী, আমাকে নিয়ে যেতে এসেছ নাকি? এতো ত্বরা কিসের? তেমন কোনোগুরুতর অপরাধ তো করিনি!

তারপর ধমক দিয়ে বসলেন, না, না যাও, যাও! আমি এখন মোটেই প্রস্ত্তত নই! আমার অনেক কাজ বাকি! অনেক দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। এরা শাসক জাতি। আমাদের দুখিনী দেশের তোকোনো ক্ষমতাই নেই, শুধু আবেদন-নিবেদন করে যেটুকু দাক্ষিণ্য আদায় করা যায়। এদের এতো ঐশ্বর্য, তা তো অনেকটা প্রাচ্য দেশ লুণ্ঠনেরই ফল।

কনুইয়ে ভর দিয়ে উঁচু রাজা আবার বললেন, না, আমি যাব না। আমি আবার উঠে দাঁড়াব। শরীরে যথেষ্ট বল আছ। বাহুতে, এই দ্যাখো, কতোখানি গুলি ফোলাতে পারি। ডেথ, তোমার প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ রইল, তুমি কিছুতে আমাকে হারাতে পারবে না। যাও!

তিনি জোর করে উঠে দাঁড়ালেন এবং স্বভাবোচিত দর্পভরে লম্বা লম্বা পা পেলে পায়চারি করতে লাগলেন আরমনে মনে বলতে লাগলেন, যাও, যাও, পারবে না!

কিন্তু কয়েকবার পায়চারি করার পরই রাজারবক্ষদেশ উত্তাল হয়ে উঠল। তিনি কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়তে বাধ্য হলেন। তাঁর পালস রেট অনেক বেড়ে গেছে।

আস্তে আস্তে ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন বিছানায়। কিছু খেতে ইচ্ছা করল না,তিনি উঠলেনও না। তিনি জ্ঞানও হারালেন না, ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসতে লাগলেন। তাঁরই নিজেরই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দুর্বলতার জন্য রাগ হতেলাগল। তিনি হাঁটতে পারছেন না কেন? উঠতে তো হবেই, সিলেক্ট কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে হবে। আরো অন্য কাজ, মৃত্যু তুমি যাও, যাও!

পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টাতেও রাজার কোনও উন্নতি হল না। পরের রাতে রাজার সহচরদের সঙ্গে মিস হেয়ারও রােগীর ঘরে থাকবেন। এই প্রস্তাব শুনেই রাজা বললেন, না, না, ছি, ছি, এক অনাত্মীয় পুরুষের সঙ্গে এক কুমারী এক কক্ষে রাত্রিবাস করবে, এ আবার হয় নাকি? তার আপত্তি উড়িয়ে দেওয়া হল। এ দেশে কেউ এ ব্যাপারে ভুক্ষেপও করে না।

এক সময় দু'জন চিকিৎসক এসে তাকে দেখার পর একটু দূরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে নিম্নস্বরে কথা বলতে লাগলেন, রাজা তাদের কথা শুনতে না পেলেও তাদের বিরস ভাবভঙ্গি দেখেই বুঝে গেলেন, এই এত সভ্য ও উন্নত দেশের কোনও ঔষধই তাকে আর এই পীড়া থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। ওরা তাকে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছেন।

রাজা উঠে বসে সহাস্য মুখে তাদের প্রচুর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন।

আবার শুয়ে পড়ার পর চোখ বুজে তিনি ভাবলেন, তা হলে বুঝি মরতেই হবে এই বিদেশ বিভুইয়ে। তিনি জেদের সঙ্গে বললেন, ঠিক আছে, যদি যেতেই হয় রাজার মতন মাথা উঁচু করে চলে যাব।

পরক্ষণেই তিনি আবার ভাবলেন, রাজা আবার কী? তাদের বংশে কেউ কখনও রাজা ছিল না। দিল্লির মুঘল বংশের নখদন্তহীন বর্তমান এক অসহায়, নামমাত্র বাদশা তাকে কিছু আর্থিক সুযােগসুবিধা দানের জন্য কাকুতিমিনতি করেছেন ক্ষমতাধর ইংরাজদের কাছে। রামমােহন এ দেশে আসছেন, তিনি অন্যান্য কিছুর সঙ্গে দিল্লির বাদশাহের প্রতিনিধিত্ব করবেন,

সেই জন্যই তাকে রাজা খেতাব দেওয়া হয়েছে। তার কতটুকু মূল্য?

আর মৃত্যুর কাছে তাে রাজা আর প্রজা সবাই সমান।

ঠিক আছে, তবে সাধারণ মানুষও তাে মাথা উঁচু করে যেতে পারে। কোনও দয়া ভিক্ষা নয় মৃত্যুর কাছে। কোনও সময় ভিক্ষা নয়।

রাজা এখনও তাঁর চলে যাওয়ার নিশ্চিততায় ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না। কী এমন ব্যাধি হল তার?

পর দিন তিনি জোর করে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেলেন। মেঝেতেই একটা জাজিম পেতে, ধরাধরি করে তাকে এনে শুইয়ে দেওয়া হল সেখানে। তার একটা হাত ও পা অসাড়। পক্ষাঘাত। তিনি আর খাটে উঠতে পারবেন না।

কিন্তু মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ সজাগ।

তিনি ভাবলেন, তা হলে এটাই মৃত্যু খেলা শুরু করল তার সঙ্গে। তিনি অসহায় হয়ে শয্যায় পড়ে থাকবেন, অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর করে। দিনের পর দিন। পক্ষাঘাতে পঙ্গু মানুষটিকে করুণা করবে কাছাকাছি সকলে। কিছু দিন পর করুণাও শুকিয়ে যাবে, তার স্থান নেবে বিরক্তি।

তিনি, রাজা রামমােহন রায়, তাঁকে শক্তিহীন, পঙ্গু, হিসেবে দেখাতে চায় মৃত্যু।

তিনি মৃত্যুর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। পারেননি জয়ী হতে। এখন আবার চ্যালেঞ্জ জানালেন। তিনি মৃত্যুর তােয়াক্কা না করে চলে যাবেন নিজেই। স্বেচ্ছামৃত্যু।

তিনি নিশ্বাস বন্ধ করে রাখলেন। এই অবস্থায় তার চোখে ভেসে উঠল, কয়েক দিন আগে ভােরবেলা দেখা সেই বালিকাটির মুখ। এ এক এমনই রূপ, যা দেখলে বড় শান্তি হয়।

মেয়েটি যেন এগিয়ে আসছে তার দিকে। হাসিতে ঝলমল করছে সর্বাঙ্গ।

তা হলে এ মেয়েটি তাকে দেখে ভয় পায়নি? তাকে আপনজন বলে গ্রহণ করেছে। আঃ, এ যে কত বড় প্রাপ্তি, কে বুঝবে? আর না, এক বার আমাকে একটু ছুঁয়ে দে।

অতি কষ্টে ঘাড় ঘুরিয়ে তিনি মৃত্যুর উদ্দেশে বললেন, তুমি আমার আয়ু কেড়ে নিতে পার, কিন্তু তুমি আমার জীবনের গরিমা কেড়ে নিতে পারবে না!

রাজা বারবার নিশ্বাস বন্ধ করতে লাগলেন। মাঝে মাঝে তা ছাড়তে বাধ্য হলেও পরের বার আরও বেশিক্ষণ শ্বাস রােধ করে রাখতে চাইলেন।

তার পর এক সময় বুক থেকে বেরিয়ে এল সমস্ত নিশ্বাস। এবং তার প্রাণ।

চমৎকার শরতের রাত। ফুটফুট করছে জ্যোৎস্না। জানলা দিয়ে সেই জ্যোৎস্না এসে পড়েছে ঘরে। রাজার সন্তান এবং দুই ইংরেজ বিবি নিচু গলায় কথা বলছেন ঘরের এক কোণে বসে। তার কথা বলছেন খুব নিচু গলায়। এ দেশের আবহাওয়ায় এমন রাত কদাচিৎ আসে।

হঠাৎ ওদের এক জন তাকালেন রাজার শয্যার দিকে। চিৎ হয়ে সটান শুয়ে আছেন তিনি। ওষ্ঠে তাঁর ক্ষীণ হাসি। চক্ষু দুটি খােলা। মৃত্যুর খেলা তিনি মেনে নেননি।

কী যেন একটা রাতপাখি ডাকছে তারস্বরে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi

যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আনন্দবাজার পত্রিকার বুধবারের সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নানা বিষয় নিয়ে লেখার এক-একটি কিস্তি, লেখকই যে-কলামটির নাম দিয়েছিলেন ‘যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি’। লেখকের মৃত্যুর সাত বছর পর এমন একটি সংকলন পেয়ে পাঠকের ভাল লাগবে। দেখা এবং শোনার বিস্তার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কম নয়, সেগুলি সহজ এবং সাবলীলভাবে এসেছে লেখাগুলিতে। হয়তো কোনও-কোনও ক্ষেত্রে বাঁধুনি কিঞ্চিৎ আলগা মনে হয়, তবে কলামটির চরিত্রও আদতে সেরকমই— হালকা চালে ব্যক্তিগত মতামত, অভিজ্ঞতা, চিন্তা, পছন্দ-অপছন্দগুলি পাঠককে জানিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই রচিত ‘যা দেখি, যা শুনি...’। স্বগতোক্তি বা একা-একা কথাই হয়তো বলছেন লেখক, কিন্তু তা শোনার জন্য শ্রোতারও অভাব নেই। বাংলা ও বাঙালি, বইপত্তর, নাটক, সংস্কৃতি, সমাজ-রাজনীতির পাশাপাশি কখনও-কখনও স্কিট-ও লিখেছেন সুনীল। একটি উদাহরণ— ‘লাফিং বুদ্ধ, এই মূর্তির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। এর ঠিক বিপরীতে কী হতে পারে? গৌতম গম্ভীর!’
amarboi
মতামত মাত্রেই ব্যক্তিগত, কিন্তু অশোভন না হয়েও কীভাবে জোর দিয়ে পেশ করা যায় নিজস্ব বক্তব্য, তার কয়েকটি সোজাসাপটা নমুনা পাওয়া যাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বইটিতে। বাঙালির স্মৃতিকাতরতা এবং রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ নাটকের একটি প্রযোজনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, এই নাটকটির যে-কোনও প্রোডাকশনের সঙ্গেই কি বহুরূপীর প্রযোজনার তুলনা টানতেই হবে? ‘শম্ভু মিত্র এবং তৃপ্তি মিত্র, দু’জনেরই কণ্ঠস্বর ও স্বরক্ষেপণ ছিল অ্যাফেকটেড, অস্বাভাবিক ও কৃত্রিম, যা অনেকটা আবৃত্তিসুলভ। এ কালের সচেতন অভিনেতারা সেই দুর্বলতা বা বিশেষত্ব থেকে মুক্ত।’

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মার্গারিট, ফুল হয়ে ফুটে আছে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মার্গারিট, ফুল হয়ে ফুটে আছে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মার্গারিট, ফুল হয়ে ফুটে আছে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার এবং পুনরাবিষ্কার - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার এবং পুনরাবিষ্কার
রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার এবং পুনরাবিষ্কার
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ রয়েছে আমার যে সমস্ত গদ্য, কবিতা ও ছােটগল্পে, তার একটা সামগ্রিক সংকলন এই গ্রন্থটি। সারাজীবন ধরে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ভেবেছি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বারবার বদলে গিয়েছে। যৌবনে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করতেই চেয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই হিমালয় পর্বতকে অস্বীকার করতে না পারলে মৌলিক কোনাে পথের দিশা পাওয়া বােধহয় সম্ভব নয়। পরে ভেবেছি, রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কোনাে গতি নেই। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ নিজেই একটা ঐতিহ্য। তাকে পুনরাবিষ্কার না করে কোনাে। উত্তরাধিকারের কথা ভাবাই যায় না। উপন্যাসগুলােতেও তাকে নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে গেছি। আমার জীবনে দীর্ঘকালের রবীন্দ্র-অভিজ্ঞতার স্মারকগ্রন্থ হয়ে রইল এই বই।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

এখনও ফর্সা, স্লিম, প্রকৃত সুন্দরী পাত্রী চাই - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - গোলাম মুরশিদ

বিজনে নিজের সঙ্গে দেখা
যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি
এখনও ফর্সা, স্লিম, প্রকৃত সুন্দরী পাত্রী চাই
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

খবরের কাগজের যে পৃষ্ঠা কিংবা পৃষ্ঠাগুলি আমি জীবনে কখনও পড়িনি কিংবা পড়ার দরকার হয়নি, তা হল পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনের পাতা। খুদে খুদে অক্ষর, সাংকেতিক ভাষায় লেখা ওই সব বিজ্ঞাপনে কখনও চোখ পড়ে গেলেও চোখ সরিয়ে নিয়েছি। মাত্র কয়েক দিন আগে এক বর্ষার বিকেলে মুড়ি-তেলেভাজা খাওয়ার জন্য টেবিলের উপর খবরের কাগজ পাতা হয়েছে, ঢেলে দেওয়া হয়েছে মুড়ি, বেগুনি এখনও ভাজা শেষ হয়নি, আমি আবার কাঁচালঙ্কার অর্ডার দিয়েছি, চোখের সামনে ছাপা অক্ষর থাকলে তাতে অলস ভাবে চোখ বোলাতেই হয়। সেই ছড়ানো দু’পাতা ভর্তি সবই পাত্র-পাত্রী সংবাদ। কয়েকটি পড়ার পর আমার সমস্ত শরীরে যেন একটা ঝাঁকুনি লাগল। এ সব আমি কাদের কথা পড়ছি? এই দেশ সম্পর্কে আমি এতই অজ্ঞ? এই সমাজে যে এত অসংখ্য জাতপাত ভেদ আছে, সে সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমরা সমাজে যে একটা ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে ঘোরাফেরা করি, সেখানে এখন প্রায় কেউ জাতপাত নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্তু তার বাইরের সমাজটা যে একেবারে শুদ্ধ হয়ে যায়নি, সে সম্পর্কেও ধারণা আছে। কিন্তু তা মোটা দাগের ধারণা। যেমন, বামুন, কায়েত, বৈদ্য-শূদ্র, আর ও-দিকে হিন্দু-মুসলমানের প্রভেদ। কিন্তু পূ: ব: কায়স্থ, সিংহ, সৌকালিন, দেবারি, কন্যারাশি, কলিস্থ দো: গহ, com.eng.31/5’4 পাত্রের জন্য স্বজাতীয় পাত্রী চাই। এর মানে কী? খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিতে অনেক পয়সা খরচ হয় আজকাল, তাই বক্তব্য যত দূর সংক্ষেপ করার জন্য নানা রকম সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করতে হয়। সেটা স্বাভাবিক। এ বিজ্ঞাপন যারা দেয় এবং যারা পড়ে তারা নিশ্চয়ই সংকেতগুলো বোঝে। আমাদের মতো অনধিকারীদের দুর্বোধ্য মনে হবে। যেমন উল্লিখিত বিজ্ঞাপনটির কলিস্থ দো গৃহ, অনেক চিন্তা করে এর অর্থ বের করলাম। খোদ কলকাতায় দোতলা বাড়ির মালিক। কেন? কিন্তু একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পাত্র এতই জাত মানে যে শুধুই কায়স্থ পাত্রী হলে হবে না। গোত্রটোত্র সব মেলাতে হবে! সৌকালিন একটা গোত্রের নাম আমি জানি, কন্যারাশিও শুনেছি, কিন্তু দেবারিটা কী ব্যাপার? অন্য কয়েকটা বিজ্ঞাপন পড়ে বুঝলাম, ‘গণ’ বলে একটা ব্যাপার আছে। নরগণ, দেবগণ ইত্যাদি। আমার এতখানি বয়স হল, সত্যি এই ব্যাপারটা এত দিন জানা ছিল না। তা হলে ‘দেবারি’ ব্যাপারটাও বোঝা গেল, দেবগণ নরগণ-এর মতো রাক্ষসগণও হয়। কিন্তু রাক্ষসটা দেখতে খারাপ লাগে, তাই দেবারি হয়ে গেল। কেউ কেউ সঠিক অর্থ না বুঝে বানান ভুল করে দেবারীও লিখেছে। বিবাহ-মঙ্গল। ‘অপুর সংসার’ ছবির একটি দৃশ্য। অন্তত শতকরা আশি ভাগ বিজ্ঞাপন পূ: ব: কিংবা প: ব: দিয়ে শুরু। দেশ ভাগ হয়ে গেছে চৌষট্টি বছর আগে, পূর্ববঙ্গ নামে এখন কোনও স্থানই নেই, এখনকার ছেলেমেয়েরা বাপ-ঠাকুর্দার সেই দেশ চর্মচক্ষে দেখেইনি। তবু বিজ্ঞাপনে এর উল্লেখের অর্থ হল, যে সব পরিবারের ইস্টবেঙ্গল অরিজিন, সে রকম পরিবারের সঙ্গেই বৈবাহিক সম্পর্ক পাতাতে চায় বিজ্ঞাপনদাতা। আর প: ব: থাকা মানে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তারা খাঁটি পশ্চিমবঙ্গীয়, বাঙাল বাড়ির পাত্র বা পাত্রী চায় না। অর্থাৎ শুধু জাতের মিল থাকলেই হবে না। বাঙাল-ঘটির ভেদাভেদ এখনও রয়ে গেছে পুরোমাত্রায়। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, পাত্রী শুধুমাত্র মেদিনীপুরের হওয়া আবশ্যক। কিছু কিছু শব্দের অর্থ আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝিনি। যেমন, ‘ফর্সা সুন্দরী, সু-উপায়ী মাঙ্গলিক সুপাত্র কাম্য’।
মাঝখানে কমা টমা কিছু নেই। সুউপায়ী কে? পাত্র না পাত্রী? আর মাঙ্গলিক কোন অর্থবোধক? অন্য একটি বিজ্ঞাপনে ‘কায়স্থ, আলিম্বান গোত্র’ এ রকম গোত্র হয়? ছাপার ভুল? শুদ্ধ রূপটাই বা কী হতে পারে? ‘পূ: ব: ব্রাহ্মণ, নরগণ, মকর, o+ ...’ কী ব্লাড গ্রুপ? মকর কী? প: ব: তন্তুবায় (gen) দেবারি ধনু’, gen-এর মানে বুঝলাম না, আর ধনু? আমি সরল ভাবে আমার অক্ষমতার কথা জানাচ্ছি, হয়তো অনেকেই এ সব বোঝে ও জানে। কবি তারাপদ রায়ের প্রচুর সরস গল্পের স্টক ছিল। সে আমাদের বলত যে সে নিয়মিত পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন পড়ে, নিজের জন্য নয় বা তার বউয়ের জন্যও নয়, কারণ সে মাঝে মাঝে এর মধ্যে অনেক মজার গল্পের সন্ধান পায়। যেমন, সে বলেছিল, একটি বিজ্ঞাপন, ‘গরিব বি এ প্লাকড, কোনো ভদ্র পরিবারে বিবাহ করিয়া ভাইয়ের মতো থাকিতে চাই।’ আর একটি ‘পাত্রী সুদর্শনা, বি এড, গৃহকর্মনিপুণা শুধু একটু গোঁফ আছে।’ এবং আর একটিতে পাত্রের যোগ্যতা, ‘গভ: ইঞ্জি: দৈনিক সাড়ে তিন যোগের বেশি না।’ এ সব সত্যি না তারাপদ রায় কল্পিত, তা অবশ্য জানি না। আমার কোলের সামনে পৃষ্ঠাগুলিতে এ রকম কোনও মজার কাহিনি নেই। শুধু একজন পাত্র লিখেছেন, মাথায় টাক আছে। আর একটি বিজ্ঞাপনে করুণ কাহিনির আভাস, ‘ফর্সা, স্লিম, IT-তে কর্মরতা, নামমাত্র বিবাহে সাড়ে তিন মাসেই ডিভোর্সি’।

এটুকু পড়লেই আহা রে বলতে ইচ্ছে করে। আমাদের গল্প-উপন্যাসে প্রেমের ঘটনার ছড়াছড়ি। কিন্তু এখনও জনসাধারণের অধিকাংশই প্রেম-ট্রেম নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিংবা অল্প বয়সে ও সব একটু হলেও তার সঙ্গে বিয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বিয়ে হয় বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনের উদ্যোগে অথবা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনে। ওই সব প্রেম কিংবা ছেলেমেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্তে বিয়ে কিংবা বিয়ে ভাঙা একটা বিশেষ ক্ষুদ্র শ্রেণির ব্যাপার। জাত গোত্র মিলিয়ে বিয়ে এখনও পর্যন্ত নিরাপদ। বড় শহরে হয়তো কেউ ও নিয়ে ততটা মাথা ঘামায় না। কিন্তু দেশ মানে তো শুধু শহর নয়। অন্য জাতের ছেলেকে বা মেয়েকে বিয়ে করলে বাবা-মা নিজেদের হাতে ছেলে বা মেয়েকে কিংবা দু’জনকেই খুন করে। এমন তো প্রায়ই শোনা যায়। গ্রামাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমান ছেলে মেয়ের বিয়ে হলে তাদের প্রাণের ভয়ে পালাতে হয়। এমনকী কলকাতা শহরেও তো কিছু কাল আগে রিজওয়ানুর নামে একটি সুদর্শন শিক্ষিত মুসলমান ছেলে প্রিয়ঙ্কা নামে মাড়োয়ারি কন্যাকে বিয়ে করার ফলে কী ভয়ঙ্কর কাণ্ডই হল। এই ধরনের ঘটনা যখন খবরের কাগজে পড়ি, তখনই আমার মনে হয়, আমরা এখনও প্রকৃত সভ্য হইনি। আমার ধারণা ছিল, পণপ্রথা যেমন বেআইনি হয়ে গেছে, সে রকম এই সব বিজ্ঞাপনে ফর্সা কালোর উল্লেখ করা নিষিদ্ধ। কী ভুল, কী ভুল সেই ধারণা! পণপ্রথাও যেমন আড়াল দিয়ে অনেকটাই চলে, তেমনই বিজ্ঞাপনে ফর্সা পাত্রী চাওয়া হয় নির্লজ্জ ভাবে। আমেরিকার বর্ণবৈষ্যমের আমরা কত নিন্দে করেছি, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আফ্রিকার অন্য কয়েকটি রাজ্যে শ্বেতাঙ্গরা বহু কাল অত্যাচার করার পর এখন হার মেনে কৃষ্ণাঙ্গদের শাসন মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। আর ভারতে আমরা এখনও প্রকাশ্যে ফর্সা মেয়ে চাইছি। পাত্রী পক্ষের বিজ্ঞাপনে একটিও ফর্সা ছেলে চাওয়া হয়নি। বরং নিজেদের পরিচয়ে অনেক ক্ষেত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে উ: শ্যা: অর্থাৎ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। পাত্রপক্ষের বিজ্ঞাপনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফর্সা রঙের দাবি আবশ্যিক। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, সদর্প ঘোষণা: ‘ফর্সা প্রকৃত সুন্দরী ছাড়া যোগাযোগের আবশ্যকতা নাই’।

প্রকৃত সুন্দরী কাকে বলে? চল্লিশ শতাব্দী ধরে কবির দল তার সংজ্ঞা গুনে চলেছে আর বাংলার পাত্রপক্ষ তা জানে। মেয়েদের শরীরের গড়ন সম্পর্কে স্লিম কথাটি প্রায় সর্বত্র। অথচ বাংলায় ‘তন্বী’ একটা কী সুন্দর শব্দ আছে। বাংলা কাগজে কেউ কেউ ইংরেজি বিজ্ঞাপন দেয়। ‘E B Brahmin bride 27, fair, beautiful...’ আমার ধারণা ছিল ব্রাইড শব্দটার অর্থ বিবাহ-উৎসবের দিনে কোনও রমণী, বিয়ের আগে কিংবা পরে কী করতে ব্রাইড বলে? কনে শব্দটা যেমন বিয়ের রাতে তো শুধু কনেও এখন বোধহয় অর্থের ব্যাপ্তি ঘটেছে। শতকরা আশিটি বিজ্ঞাপনেও জাতপাতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মিল খোঁজা হয়েছে। একটি বিজ্ঞাপনে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পাত্রীকে হতে হবে নিরামিষভোজী। আর একটি বিজ্ঞাপনে খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে দাবি করা হয়েছে, মা-বাবা-ভাই-বোন থাকা আবশ্যিক। এই সব বিজ্ঞাপন থেকে সমাজচিত্রের কিছু কিছু পরিবর্তনও নিরীক্ষণ করা যেতে পারে। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনদাতা প্রগতিশীল হচ্ছেন, জানিয়ে দিচ্ছেন অসবর্ণে আপত্তি নাই। কেউ কেউ বলছেন স/অ চলতে পারে। অর্থাৎ সবর্ণ বা অসবর্ণ। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, ‘স/উ: অ’-এর মানে প্রথমে বুঝতে না পেরে অনেক গবেষণা করে বার করতে হল, সবর্ণ অথবা উচ্চ অসবর্ণে আপত্তি নাই। উচ্চ অসবর্ণ কী জিনিস, তা আমার বুদ্ধির অগম্য। বস্তুতপক্ষে এই যে গোত্র, বর্ণ ইত্যাদি সবই আসলে ভাবের ঘরে চুরি। হাজার হাজার বছর ধরে এগুলি অবিকৃত বা শুদ্ধ আছে না ছাই। টাকা থাকলেই ইচ্ছে মতো জাত কেনা যায়। বিশ্বামিত্র নাকি তপস্যার জোরে ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছিলেন। এ যুগে তপস্যা-টপস্যা লাগে না। যদি অধ্যাবসায় থাকে, সৎ বা অসৎ পথে বহু অর্থ উপার্জন করা যায়। তা হলে যে কোনও জাতি ধর্মকে সে তুচ্ছ করে দিতে পারে। কিছু কিছু মুসলমান পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনেও রয়েছে দেখলাম, ইসলামে এত জাতপাতের বিভেদ নেই। কিন্তু প্রতিটি বিজ্ঞাপনেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাত্র বা পাত্রী সুন্নি মুসলিম এবং তারা সুন্নি পাত্র পাত্রীই চায়। আমাদের এ অঞ্চলে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম নেই বললেই চলে। তবু এই সতর্কতা। একটি প্রায় বিপ্লবী বিজ্ঞাপন উদ্ধৃত করে আপাতত শেষ করা যেতে পারে। “প: ব: ব্রাহ্মণ (নাস্তিক) ৩০/৫’ 7’’ চার্টার্ড অ্যাকা: ৭৫,০০০।

একমাত্র সন্তান। কোনও দাবি নাই। শিক্ষিতা সুন্দরী ফর্সা ও কেবলমাত্র রেজিস্ট্রি বিবাহে আগ্রহী।” নাস্তিক হলে কী করে ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দেওয়া যায়, জানি না। সে প্রশ্ন তুলছিও না। এই বিজ্ঞাপনকে প্রায় বিপ্লবী বলার কারণ, ফর্সা শব্দটি বাদ দিলেই ঠিক মানানসই হত। আমি নিজে ঝিরকুট্টি কালো। আমার বউ কালো ছাতা ব্যবহার করলে মিশে যাব বলে আমার পরিবারের সকলেই ঝড়ের আগে মেঘবর্ণ। তাই কালোদের প্রতি আমার দুর্বলতা তো থাকবেই! তারাপদ রায় উবাচ সম্রাট শের শাহ প্রথম ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। তার আগে ঘোড়ারা বুঝি ডাকত না?


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এই সমগ্রটিতে রয়েছে ৫ টি উপন্যাস এবং ৩৭ টি গল্প।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছোটদের নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন।সন্তু-কাকাবাবু ছাড়াও তার অদ্ভুত একটি চরিত্র নীলমানুষ।রয়েছে দীপ-রনজয় কিংবা বিশ্বমামা।এদের কাজকর্ম সবই কল্পনা আর বিজ্ঞানের মেলামিশি। ৫ টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস আর এই অদ্ভুত সব চরিত্রের কাণ্ডকারখানায় ভরা ৩৭ টি গল্প।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীলকে লেখা চিঠি

সুনীলকে লেখা চিঠি

সুনীলকে লেখা চিঠি
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বড়রা যখন ছোট ছিল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বড়রা যখন ছোট ছিল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বড়রা যখন ছোট ছিল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দুই বাংলার ভালবাসার কবিতা - শামসুর রহমান ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত

দুই বাংলার ভালবাসার কবিতা - শামসুর রহমান ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত
দুই বাংলার ভালবাসার কবিতা - শামসুর রহমান ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আসলে, মায়ের কখনও মৃত্যু হয় না - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আসলে, মায়ের কখনও মৃত্যু হয় না - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আসলে, মায়ের কখনও মৃত্যু হয় না

পৃথিবীটা নাকি এখন একটা গ্রাম হয়ে গেছে। গ্লোবাল ভিলেজ কথাটা প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়। পৃথিবীর এই নতুন আখ্যার তাৎপর্য ঠিক কী? গ্রাম বলতে সাধারণত যা বােঝায় তা নিশ্চয়ই নয়। একটি গ্রামের মানুষের ভাষা, ধর্ম, আহার্য, পােশাক, সামাজিক রীতিনীতি প্রায় একই হয়। কিছুটা বৈচিত্র্য থাকলেও তফাত বিশেষ থাকে না। তবে কি সারা বিশ্বে সমগ্র মানবসমাজের মধ্যে সমতা স্থাপনের সেই স্বর্ণযুগ এসে গেল ? এরকম অবস্থা কল্পনা করতে আনন্দের শিহরণ হয় বটে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বাস্তব অবস্থা দেখে তা এক বিন্দুও বিশ্বাস করা যায় না। দেশগুলির সীমারেখা ক্রমশ ভাঙছে, যুদ্ধ লেগেই আছে কোথাও না কোথাও, শােষক ও শােষিতদের ব্যবধান প্রকট, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিরােধ বেড়েই চলেছে। উগ্র, হিংস্র, সন্ত্রাসবাদের আক্রমণে কাঁপছে মানবসভ্যতা। 


বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী ছােট্ট একটা বিন্দুর বিস্ফোরণের পর সৃষ্টি হয় এই মহাকাশের, অজস্র গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে এই যে বিশাল ব্যাপ্তি, তা এখনও বিস্ফারিত হচ্ছে, আরও বেড়েই চলেছে সীমানা। মানবসভ্যতারও তুলনা করা যায় এর সঙ্গে। আফ্রিকার কোনও অঞ্চলে মানবজাতির যাত্রা শুরু, তারপর ছােট্ট একটা মানবগােষ্ঠী ছড়িয়ে পড়তে থাকে নানা দিকে, একদল যায় মধ্য এশিয়ায়, সেখান থেকে পারস্য, ভারত, চিন হয়ে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়ায়। অন্য ধারাটি ইউরােপের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর বেরিং সাগর পেরিয়ে ঢুকে পড়ে আমেরিকা ও ক্যানাডায়। তারপর মাত্র কয়েক লক্ষ বছরে এই মানবজাতিরই চেহারায় পােশাক ও আচার আচরণে কত পরিবর্তন হয়। এখন মহাকাশের গ্রহ নক্ষত্রের মতনই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বিশাল সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি বলা যেতে পারে।


মানবগােষ্ঠীর সঙ্গে পার্থিব অন্যান্য প্রাণীর একটা প্রধান তফাত এই যে, মানুষের যৌনজীবন যেমন অন্যরকম, তেমনই মানুষেরই একটা সুসংবদ্ধ ভাষা আছে। ভাষার জন্যই মনুষ্যজাতি একতা সূত্রে আবদ্ধ, আবার ভাষার জন্যই মানুষে মানুষে এত বিভেদ। আফ্রিকার সেই ক্ষুদ্র মানবগােষ্ঠীর যােগাযােগের একটিই ভাষা ছিল এমন যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলে সেই হােমাে সেপিয়ান্সদের মধ্যে এখন অন্তত আট হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত। একজন হাঙ্গেরিয়ান, একজন তামিল এবং একজন অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী। এই তিনজনই এই পৃথিবী নামের গ্রহের মানুষ, কিন্তু এদের ভাষার বিন্দু বিসর্গ মিল নেই, মুখােমুখি দেখা হলে এরা বােবা। হয়ে থাকবে। 

বর্তমানে যদি নানান সীমানা ও কাটা তারে ঘেরা বহু বিভক্ত দেশের মানুষ একটি গ্লোবাল ভিলেজের ধারণায় ফিরে আসে, তা হলে তাদের আদিম ধর্ম ও ভাষা কী হবে, আপাতত আমরা ধর্মের প্রশ্নে যাচ্ছি না, ভাষাই আমাদের প্রধান বিবেচ্য। এবং বলাই বাহুল্য, সেই ভাষা হবে ইংরিজি। 


ইংরিজি ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং উন্নত হলেও প্রায় সমান সমান অন্য দু-তিনটি ইউরােপীয় ভাষার চেয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে গেছে ঐতিহাসিক কারণে। কলােনি স্থাপনের যুগে ইংরেজরা অন্যান্য ইউরােপিয়ানদের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে ছিল। প্রায় অর্ধেকেরও বেশি পৃথিবী তারা দখল করে রেখেছিল। ইংরেজরা গর্ব করে বলত, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কোথাও সূর্যাস্ত হয় না! তারপর ঔপনিবেশিক যুগের অবসান হলেও ইংরেজের পরিত্যক্ত কলােনিগুলি কিন্তু ইংরিজি ভাষা পরিত্যাগ করেনি। গােটা অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর আমেরিকার অনেকখানিই ইংরিজি ভাষাকেই অবলম্বন করে থেকেছে। এমনকী ভারতবর্ষেও ইংরিজি অন্যতম জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এবং ইংরিজি ভাষার পতাকাও ব্রিটেনের হাত থেকে আমেরিকায় হাতে চলে যায়, সে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অসাধারণ উন্নতির কারণে। কমপিউটার ও ইনফরমেশন টেকনােলজির ব্যাপক প্রভাবের ফলে ইংরিজি ভাষা আজ সব ভাষার মাথায় চড়ে বসেছে। এক সময় ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার সঙ্গে ইংরিজির বেশ রেশারেশি ছিল, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরেও ফরাসিরা নিজেদের ভাষার প্রতি অহংকারবশত একটা ইংরিজি বাক্যও উচ্চারণ করত না। এখন শুধু ইংরিজি জ্ঞান নিয়েই ইউরােপের সব দেশেই যে-কেউ মােটামুটি কাজ চালিয়ে নিতে পারে। 


ইংরিজি সবচেয়ে বেশি প্রয়ােজনের ভাষা হিসেবে অবশ্যই স্বীকৃত। তা হলে অন্যান্য ভাষাগুলির কী হবে? কেউ কেউ বলছেন, অন্য ভাষাগুলির আস্তে আস্তে অবলুপ্তি ছাড়া অন্য কোনও গতি নেই। আগামী একশাে বছরের মধ্যে। সেরকমই ঘটবে। এই ভবিষ্যৎবাণীর দুটি দিক আছে। অন্য ভাষাগুলির কি সহজ, স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যু হবে, জোর করে গলা মুচড়ে মেরে ফেলা হবে? দ্বিতীয়টি নিশ্চিত সম্ভব নয়। বড় মাছ ছােট মাছকে গিলে ফেলার উপমাও এখানে খাটবে না। কারণ, ইংরিজি যতই বড় মাছ হােক, অন্য বেশ কয়েকটি ভাষা মােটেই ছােট মাছের পর্যায়ে পড়ে না, তারাও এমনই বৃহৎ যে তাদের একটি একটি করে গিলে ফেলার ক্ষমতা ইংরিজিরও নেই। চিন ও ভারতীয় ভাষাগুলি পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষের মাতৃভাষা। স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, রাশিয়ান, জাপানি ভাষার ভিত অনেক শক্ত; ফরাসি ও জার্মান ভাষাভাষীর সংখ্যা খুব বেশি না হলেও ঐতিহ্যের ঐশ্বর্যে এই দুই ভাষার প্রভাব সুবিস্তৃত। এর মধ্যে যে-কোনও একটি ভাষার ওপর উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আঘাত হানতে গেলে যে প্রবল বিক্ষোভের সম্মুখীন হতে হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভাষার আবেগে কোথাও কোথাও মানুষ প্রাণ দিতেও কুণ্ঠিত হয় না। তার একটি উদাহরণ, ভারত বিভাগের ফলে পাকিস্তান নামে নবীন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার মাত্র সাত বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বাংলাভাষায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে, পুলিশের গুলিতে ঢাকা শহরে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি চারজন শহীদ হয়। শুধু ভাষার দাবিতে এমন প্রাণদানের নজির সারা পৃথিবীতেই বিরল। পরবর্তীকালে পাকিস্তান আবার দ্বিখণ্ডিত হলে যে বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রের জন্ম হয়, তার অন্যতম কারণও সেখানকার গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবি। এর ফলেই পরবর্তীকালে এই একুশে ফেব্রুয়ারি দিবসটিকে UNESCO থেকে পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘােষণা করা হয়েছে। ভারতে আসামের কাছাড় অঞ্চলে প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা, কিন্তু রাজ্য সরকার সেই ভাষার কোনও অধিকারই দেয়নি বলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয় শিলচর শহরে। সেখানও মিছিলের ওপর দায়িত্বজ্ঞানহীন পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, মৃত্যু হয় এগারােজন মানুষের। ১ মে, ১৯৬১ সালে। এই চরম শােকাবহ ও লজ্জাজনক ঘটনা বেশি প্রচারিত হয়নি, বরং চাপা দেওয়ারই চেষ্টা হয়েছে। 


ভারত ও চিন এই দুটি পাশাপাশি দেশ দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ বলে সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু ভাষার প্রশ্নে এই দুটি দেশের দুরকম সমস্যা। চিনে শতকরা পঁচানব্বই ভাগ লােকের ভাষা ম্যান্ডারিজ, সুতরাং অধিবাসীদের মধ্যে ভাষার ব্যবধান নেই বললেই চলে, কিন্তু ইংরিজি শিক্ষায় সে দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। আবার ভারতে ইংরিজি শিক্ষার অনেক অগ্রগতি হলেও বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবধান দুস্তর। ভারতে প্রচলিত আছে প্রায় ৮০০টি ভাষা, তার মধ্যে প্রধান ভাষাগুলির মধ্যে ২২টি ভারত সরকার কর্তৃক স্বীকৃত (সাহিত্য আকাদেমি আরও দুটি ভাষাকে গ্রহণ করেছে)। এর মধ্যে হিন্দি, বাংলা, তামিলের মতন এগারােটি ভাষারই পৃথক জনসংখ্যা এক এক কোটির বেশি। হিন্দি এবং বাংলা পৃথিবীর প্রধান পাঁচটি ভাষায় অন্তর্গত। স্বাধীনতার পর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল যে, ইংরিজি এবং হিন্দিই হবে সারা দেশের যােগাযােগের ভাষা, এবং আশা করা হয়েছিল যে তিরিশ বছরের মধ্যে ইংরিজিকেও সরিয়ে দিয়ে হিন্দিই হবে প্রধান ভারতীয় ভাষা। সেই আশা বাস্তবায়িত হলে খুব ভালােই হত। যেমন এক কালের বহু ভাষায় বিভক্ত চিনকে এক সম্রাটের আদেশে ম্যান্ডারিজ ভাষা সারা দেশকে একতাবদ্ধ করেছে, সেইরকম গণতান্ত্রিক ভারতে হিন্দি সর্বজনগ্রাহ্য হলে অনেক সমস্যা এড়ানাে যেত। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার পর ষাট বছর কেটে গেলেও সেই আশা সার্থক হয়নি। বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের ভারতেও ইংরিজিই এখন প্রধান ভাষা। এটা ইংরিজি ভাষার প্রতি মুগ্ধতা বা ভালােবাসার জন্য ঘটেনি। ইংরিজির প্রতি আনুগত্য এসেছে নিতান্তই প্রয়ােজনের খাতিরে। এবং এখন আর কিংস ইংলিশের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য অনেকেই তােয়াক্কা করে না। আমেরিকান ও অস্ট্রেলিয়ান ইংলিশের মধ্যে ইন্ডিয়ান ইংলিশ দিব্যি চালু হয়ে গেছে। 


ইংরিজির এই প্রাধান্য আমরা বাধ্য হয়েই মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্য ভাষাগুলির কী হবে? ইংরিজিকেই একমাত্র ভাষা হিসেবে অবলম্বন করে কি অন্য ভাষাগুলি পরিত্যক্ত হয়ে যাবে? এখন নানান কারণে বহু মানুষই ভ্রাম্যমান, বেশ কিছু ভারতীয়ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বসতি নিয়েছে, তাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম মাতৃভাষা শিক্ষার কোনও সুযােগই পায় না। তারা শুধু ইংরিজি নির্ভর হয়েই বেড়ে ওঠে। কিন্তু এখানে এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়, ভারতের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় তারা নগণ্য, অধিকাংশ ভারতীয়ই মাতৃভাষা থেকে বিচ্যুত হয়নি। তা হলে কি সব মানুষকেই দ্বিভাষী হতে হবে? কেউ কেউ বলছেন, অন্যান্য ভাষাগুলির যদি দ্রুত অবলুপ্তি নাও হয়, তা হলেও সেগুলি ক্রমশ বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ মা-বাবা, কাজের লােকদের সঙ্গে মাতৃভাষা আর বাড়ির বাইরে অন্য সব প্রয়ােজনে ইংরিজি। তা হলে কাব্য-সাহিত্য, দর্শন ইত্যাদি রচিত হবে কোন ভাষায়? আপাত দৃষ্টিতে এগুলি অপ্রয়ােজনীয় কিন্তু এসবের ওপর নির্ভর করেই সভ্যতা এগিয়ে চলে। দু-চারজন আত্মম্ভরি লেখক যাই বলুন, এখনও পর্যন্ত কাব্য-সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলি লেখকদের মাতৃভাষাতেই রচিত। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় লেখকরা তাদের মাতৃভাষা ইংরিজিতেই লেখেন, তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযােগিতায় নামতে হয় অন্য লেখকদের। এ পর্যন্ত সৃষ্টিশীল রচনায় দ্বিতীয় দলের সাফল্য নামমাত্র। 


ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলােচনা যতই প্রাসঙ্গিক হােক, এ কথাও সত্য যে, বর্তমান কালে গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের মধ্যে ভাষা নিয়ে যথেষ্ট আবেগ আছে। যত ছােট ভাষাই হােক, অনেকেই মাতৃভাষাকে ভালােবাসে। মাতৃভাষার বিলুপ্তি রক্ষা করার জন্য কেউ কেউ এখানে প্রাণ দিতে রাজি আছে। এ সম্পর্কে একটা কৌতুককর বিবরণ এখানে উদ্ধৃত করা যেতে পারে। 


আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার (Issac Bashevis Singer) Yiddish ভাষার প্রখ্যাত লেখক। নােবেল প্রাইজও পেয়েছিলেন। অনেকেরই ধারণা ইডিশ একটা মুমূর্ষ ভাষা। নােবেল পুরস্কার গ্রহণের সময় সিঙ্গার এই কথাগুলি বলেছিলেন। 



People ask me often, why do you write in a dying language? And I want to explain it in a few words.
Firstly, I like to write ghost stories and nothing fits a ghost better than a dying language. The deader the language the more alive is the ghost. Ghosts love Yiddish and as far as I know, they all speak it.
Secondly, not only do I believe in ghosts but also in recorrection, I am sure that millions of Yiddish speaking corpses will rise from their graves one day and their first question will be is there any new Yiddish book to read? for them, Yiddish will not be dead.
Thirdly, for 2000 years Hebrew was considered a dead language. Suddenly it became strongly alive. what happened to Hebrew may also happen to Yiddish one day, (although I haven't the slightest idea how this miracle takes place.)
There is still a fourth minor reason for not forsaking Yiddish and this is Yiddish may be a dying language, but it is the only language I know well. Yiddish is my mother language and a mother is never really dead.


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

Nijer Kachei Ektu Aporichito - Sunil Gangopadhyayসুনীল কি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর যাত্রার দিন এগিয়ে আসার কথা? প্রিয় কবির নতুন কাব্যের কাছে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে, মনে হল এই কথাটি প্রথম। কেন না, এ কাব্যের প্রতিটি কবিতার চরণ ছুঁয়ে ছুঁয়ে মৃত্যুর অনিবার্য উপস্থিতি। এবং কাব্যের নাম যখন, ‘নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত’!
একচল্লিশটি কবিতা নিয়ে এবার বইমেলায় আনন্দ প্রকাশনার সিগনেট প্রেসের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে সুনীলের এই নতুন কাব্যগ্রন্থটি। সঙ্গে শেক্সপিয়ারের জনপ্রিয় ট্র্যাজেডি ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এর কবিকৃত অনুবাদ। আশির দশকে গীতা মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘রূপসা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ‘রোমিও জুলিয়েট’। ৮২-র মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রকাশিত হলেও কবির ব্যস্ততার কারণে বন্ধ হয়ে যায় অনুবাদের কাজ। এবার সেই অসম্পূর্ণ অনুবাদ দু’ মলাটে এল, এ কাব্যে।
প্রথম কবিতা, ‘স্বাতী, তোমার সঙ্গে’। শুরু করছেন এভাবে, ‘প্রথম চিঠিতে দেখা, তারপর ছন্নছাড়া কত ঘোরাঘুরি/ প্রথম আলাপের দু’ বছর সাতাশ দিন পর/ একসঙ্গে বাড়ি ফেরা/ অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিল, আর অনেকে কী জানি...’। এ তো যেতে যেতে ফিরে তাকানোর ভঙ্গি। যেন, নিভৃতে স্মৃতির কাছে রেকাব পেতেছেন কবি। ‘দেশ’ পুজোবার্ষিকীতে প্রকাশিত এই কবিতা ,‘এক সন্তান’ বা, ‘এখন যে কোনও মৃত্যুই’ কবিতা যেন সুনীলের বিধুর ফ্যামিলি অ্যালবাম। কবি সুবোধ সরকার ‘পাঠক তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখছেন, ‘যে অ্যালবাম খুলে বসলে নতুন একজন সুনীলকে দেখা যাবে- বউ আর ছেলের জন্য এত মমতা, মানুষের জন্য এত মন ভাল করা উদ্বেগ, শান্তিনিকেতনে উঠোনের কোনায় দাঁড়ানো গাছটির জন্য যেন একটা ম্যানিফেস্টো লিখে রেখে গেলেন’। জায়ার জন্য ‘সময় সমগ্র’-তে ‘সনির্বন্ধ শেষ মিনতি’ জানিয়ে গেলেন, ‘তুমি স্বাতীকে সহসা ছুঁয়ো না’!
একই কবিতার কোলন, কমা, সেমিকোলনে থামতে থামতে বদলে যায় কবিতার পরিচিত অর্থ-বোধ। চেনা ভাষ্যের অন্তরাল সরিয়ে খুলে যায় একে একে কবিতার অন্তরমহলে নিহিত সত্যের হাজার দুয়ার! এ কাব্যে সুনীলের ‘কবিতার গল্প কিংবা গল্পের কবিতা’ শীর্ষক কবিতাটি ঠিক তেমন।

হয়তো কথাসাহিত্যে সফলতার হাত ধরে এ কবিতায় স্মৃতিকাতর কবি কথক বলেই, গল্পের তরে পাঠক-হৃদয়ে এসে লাগে ভাললাগার ঝিলমিল রঙ! সুনীলের এই প্রবণতা তাঁর ‘বন্দী জেগে আছো’ কাব্যের কাল থেকে। এই কবিতার মতো, হৃদয়বান পাঠক খেয়াল করবেন ‘কেউ কথা রাখেনি’, ‘নীরার অসুখ’, ‘বাড়ি ফেরা’ বা, ‘না পাঠানো চিঠি’ প্রভৃতি কবিতাতেও গল্পের আদল। তাঁর কবিতায় গল্পের আদল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- একাকিত্বে কিংবা জনতায়’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে তাই অধ্যাপক কুন্তল রুদ্র লিখছেন, ‘তাঁর কবিতায় একটি চিত্রের বলয় গড়ে ওঠে, কোথাও তার সঙ্গে এসে দাঁড়ায় চরিত্রের আদলে কিছু মানুষের মুখ। ... সুষ্ঠভাবে এই প্রবণতা ধরা পড়ে ‘বন্দী জেগে আছো’ কাব্যগ্রন্থ থেকে’। এ কবিতায় কবিতার ‘কাঠবেকার আমি’-র সঙ্গে নয়না নামের এক মেয়ের গল্পে চিত্রার্পিত। প্রথাগত কোনও ছক নেই, নয়নাকে নিয়ে গল্প বলাতেই যেন কবির আনন্দ। এক মেঘদূত সন্ধ্যায় টিউশন পড়াতে গিয়ে ‘মেধাবিনী’ মৃগনয়না নয়নার একটি স্তন অনধিকার স্পর্শের লোকলজ্জা বইতে বইতে কবিতার শেষে পর্বে এসে দাঁড়িয়েছেন, জীবনের প্রান্তবেলায়। হাসপাতালের কিউবিকলের নির্জনে, প্রৌঢ়া নয়না নিজেই কাতর হয়ে তার অন্য একটি স্তন ছুঁয়ে দেবার জন্য কিশোরীবেলার সেদিনের টিউটরকে বলেছে, ‘ওগো মাস্টারমশাই তুমি আমার এই দিকটা ছুঁয়ে ছিলে/ অন্য দিকটা ছোঁওনি, সে জন্য সে বেচারির অভিমান/ এখনও মাঝে মাঝেই আমাকে তা জানায়/ শোনো, জরুরি কথাটা হচ্ছে, তোমাকে একবার/ এই দিকের বুকটা একবার ছুঁয়ে দিতেই হবে/ নিজের হাত তুলে স্বেচ্ছায়’! কবিতার ‘আমি’ নয়নার ইচ্ছেপূরণ না করেই ফিরিয়ে দেয়। মৃত্যুচেতনার সঙ্গে জড়িয়ে যায় যৌনচেতনা। ‘সে চলে যাবার পর’ তাই কবি লেখেন স্পর্শগম্য থেকে হৃদিগম্য উড়ানের এক অক্ষয় সত্যের কথা। ‘এক মহিলার একটা স্তন ছোঁয়া বাকি আছে সে জন্য/ আমাকে বেঁচে থাকতে হবে’। গদ্যের স্পর্ধা অগণন কবিতার চুড়োয় যেন কাব্যের হিরণ্ময় দ্যুতি!

‘কবিতার সুখদুঃখ’ গদ্যে সুনীল লিখেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত অনুভূতি ছাড়া আর কোনো কিছুই আমার সম্বল নেই- সাহিত্যের কাছে আমি অসহায়’। সে অভিজ্ঞতা স্তরে স্তরে তাঁর ‘সংবিৎকে’ ভিতরের দিকে ও বাইরের দিকে বাড়িয়ে তুলেছে, যা তিনি বলেছেন কবিতায়। ‘নারী’ এই চিরন্তন শব্দের অক্ষয় অনুষঙ্গে ‘নীরা’ নয়, এ কাব্যে ‘নারী’ শব্দটি এসেছে কবিতার শীর্ষকে দু’বার। প্রথমটি ‘নারীরা শুধুই নারী’ এবং পরের বার ‘নারী ও শিল্প’ কবিতার শীর্ষকে। প্রথমটি যদি হয় স্মৃতির রানওয়ে থেকে ‘নারী ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব’ কথাটির উড়ান, দ্বিতীয় কবিতায় কবির ঘরে ফেরা।

প্রথমে বিষ্ণু দে, পরে বুদ্ধদেব বসুর কবিতার সুঁড়ি পথে সুনীলের কাব্য-সঙ্গীতের যে বিস্তার শুরু হয়েছিল, এ কাব্য যেন সমে ফেরা। নাতিদীর্ঘ চরণ বিন্যাসে ‘পাখির চোখে দেখা’ সে ফেরার পর্বে যেন এক একটি তান-তোড়-ঝালা! অনবদ্য এই কবিতা সিরিজ। যে এককের কথায় শুরু হয়ে ছিল এ নিবিড় পাঠ-লেখা, কবির সেই বিশেষ প্রবণতা সিরিজ হোক বা, ‘পলাতকের কবিতা’, ‘দ্বিধা’, ‘দেওয়াল’, ‘মুহূর্ত ভাঙার শব্দ’- এর মতো কবিতায়, সর্বত্র দীপিত। সবখানে নিঃসঙ্গ এক মানুষের স্মৃতিকাতরতা এবং মৃত্যুর বিষম শব্দের ঝনঝনি! ‘বৃষ্টিতে অমলেন্দু’ তাই ‘একলা অন্ধকার চেয়ারে’ বসে থাকে! ‘কথা রাখা না রাখার কবিতা’-র শেষে কোনও পূর্ণযতি না দিয়ে সুনীলকে লিখতে হয়, ‘শহরতলির রাত্রি ঘন হল, ডেকে উঠল একটি রাতপাখি/ দেহের আকার নেই, তবু ইতস্তত ঘোরে কয়েকটি জোনাকি...’!
Download
Nijer Kachei Ektu Aporichito - Sunil Gangopadhyay [139 pages, 2 mb, amarboi.com]
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনির্বাচিত কিশোর উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনির্বাচিত কিশোর উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সুনির্বাচিত কিশোর উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com