সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Biography. Show all posts
Showing posts with label Biography. Show all posts

আমার দেখা নয়াচীন - শেখ মুজিবুর রহমান

amarboi
আমার দেখা নয়াচীন - শেখ মুজিবুর রহমান
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় এর জীবনী

ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় এর জীবনী
ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় এর জীবনী
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দেবেশ রায়ের আত্মজীবনী জলের মিনার জাগাও

amarboi
দেবেশ রায়ের আত্মজীবনী

জলের মিনার জাগাও
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তৃতীয় ভুবন - মৃণাল সেন

amarboi
তৃতীয় ভুবন - মৃণাল সেন

চারদিকে কত কী-ই না দেখি। শুনিও কত কী। পড়ি, লিখি। এই শোনা-দেখা-পড়া-লেখা— এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে করবার মতো করিও বেশ কিছু। লেখাজোখা। কেউ বলেন, আত্মজীবনী! না, ঠিক তা নয়। সেসব লিখতে অনেক অনেক রেকর্ড রাখতে হয়। সেই রেকর্ড রাখাটা হয়নি তেমন করে। অনেকটাই স্মৃতির ওপর নির্ভর করতে হয়। আমার ছেলে আমার ব্যাপারটা মোটামুটি জানত। আমাকে একদিন সাবধান করে দিল। শিকাগো থেকে বলল, শিকাগোতেই থাকে, বলল, 'স্মৃতিকে কখনও চোখ বুজে বিশ্বাস করো না, স্মৃতি আসলে রিকনস্ট্রাকশন রাদার দ্যান বিইং ফোটোগ্রাফিক'। সত্যি বলতে কী, আমি শ্রুতিধর নই, জাতিস্মর তো নই-ই। তাই আত্মজীবনী লিখতে ভরসা পাই না। যদি লিখি তো লিখব অনেকটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে, আবছা আলোর মতো। ভুলচুক হয়তো হবে। তাই হচ্ছে, তাই করছি। স্পষ্টত, আত্মজীবনী নয়, তবে, হ্যা, আত্মশ্লাঘার স্পর্শসুখ পাওয়ার চেষ্টা আদৌ করছি না। একেবারেই না।
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমার কৈশোর - রকিব হাসান

amarboi
আমার কৈশোর - রকিব হাসান

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শেষ চিঠি - আয়েশা ফয়েজ

amarboi

শেষ চিঠি
আয়েশা ফয়েজ

আলোচনাটি লিখেছেনঃ ইয়াদিরা আমরান।

“আমার এত আদরের বাচ্চাটি আমাকে ছেড়ে তুমি কোথায় গেলে”─ লেখাটির শুরু এক দেহত্যাগী সন্তানের প্রতি মমতাময়ী মায়ের। এখানে মা আয়েশা ফয়েজ আর সন্তান স্বনামধন্য লেখক হুমায়ূন আহমেদ। একজন মায়ের ছটফটানি, অস্থিরতা, কষ্ট, দুঃখ, যন্ত্রনা, একাকীত্ব, নিঃঙ্গতা─ বিষয়গুলো লেখায় ক্রমে প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়বস্তুতে ভাষিক অলংকার, ঘটনার প্লট বা সময়ের গতি কিছুই নেই। সন্তানের অকাল প্রস্থান যেন অবলা এক মাকে থামিয়ে দিয়েছে নিরন্তর। একজন সাদাসিধা মানুষের সরল হৃদয়ের ভাবটুকু কাগজের পাতায় প্রকাশমাত্র।
সন্তান হয়েও হুমায়ূন তাঁর মার কাছে ছিল বন্ধু, ক্ষেত্রবিশেষে অভিভাবক। লেখায় নানা ঘটনার বর্ণনায় তাই উঠে আসে। এক জায়গায় বলছেন─ “জীবনে এই প্রথমবার এবং এই শেষবার তোমার কোনো একটা মতামতে আমার কিছু বলার ছিল না। আমাদের ছোট সুখ-দুঃখের জীবনে আমার সাথে সবসময় সবকিছু নিয়ে কথা হতো। আমি সবসময় তোমার মত মেনে নিতাম, আমার এত বুদ্ধিমান একজন ছেলে, তার মতের বাইরে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।”
বৃদ্ধা মা আয়েশা ফয়েজ নিজ মনে একটি ছবি এঁকে রেখেছিলেন নিজ মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানেরা কে কি করতে পারে, হুমায়ূন কী করতে পারে এই সব নিয়ে। তিনি ধারণাই করতে পারেনি তার আদরের সন্তান, মানিক, নদীয়ার চাঁদ হুমায়ূন ফাঁকি দিয়ে তার আগে সবাইকে পর করে চলে যাবেন। সেই ছবিটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় একটি শিশুসন্তান অভিভাবকের কাছে যেমন করে আক্ষেপ করে, তিনিও মৃত সন্তান হুমায়ূনের কাছে তেমনি করে আক্ষেপ করেছেন।
লেখায় ছেলে হুমায়ূনের প্রতি কয়েকটি জিজ্ঞাসা ছিল। জীবিত অবস্থায় জিজ্ঞাসা করতে পারেন নি এমন ও মৃত্যুর পর কিছু ঘটনাপ্রেক্ষিতে জন্ম নেওয়া জিজ্ঞাসা এমন। কবর দেওয়া নিয়ে মতান্তরের ঘটনায় চলে যাওয়া ছেলেকে প্রশ্ন করেছেন,
“তুমি যখন জীবিত ছিলে, কিংবা যখন মারা গিয়েছ দেশের মানুষ সব সময়েই তোমাকে শ্রদ্ধা করেছেন, ভালোবেসেছে। তুমি নাকি বলেছ তুমি বুদ্ধিজীবীদের কবরস্থান পছন্দ করো না─কিন্তু তুমি নিজেই তো বুদ্ধিজীবী। তুমি নাকি বলেছ তুমি বনানী কবরস্থানও পছন্দ করো না, তুমি যেখানে যাচ্ছ সেখানে তো তুমি ইলেকশান করবে না, গানের জলসা করবে না। আর যাই হোক তোমার শেষ কথাটি তো এক রকম হবে, এটি তিন রকম হলো কেন?”
“আমার এত সৌভাগ্যবান ছেলে তুমি, জীবনের শেষ সময়টিতে কেন এমন হলো? তোমার নিজের নুহাশ পল্লী ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া জায়গা ছিল, মোহাম্মদপুরে জায়গা ছিল, সেন্ট মার্টিনে বাড়ি ছিল, ধানমন্ডিতে বাসা ছিল, বসুন্ধরায় জায়গা কেনা ছিল, তাহলে তোমার ডেথ সার্টিফিকেটে কেন, তোমার নিজের কোনো একটি জায়গার নাম না লিখে ‘গুলশান’ লেখা হলো? যে নুহাশ পল্লী নিয়ে পরে এত হইচই, সেই নুহাশ পল্লী তখন কোথায় ছিল? তোমার এত কিছু ছিল কিন্তু যখন পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার সময় হলো তখন হঠাৎ করে কেন পুরোপুরি নিঃস্ব মানুষ হয়ে শূন্য হাতে বিদায় নিতে হলো?”
তাঁর বড় সন্তান হুমায়ূনের অকাল প্রয়াণ তাঁর মনোজগতকে বেশ নাড়া দেয়, যার ফলস্বরূপ তার লেখায় মৃত মানুষ─ বাবা-মা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্বামী, মৃত তিন ভাই, হুমায়ূনের প্রথম পুত্র সন্তান রাশেদের প্রসঙ্গ এসেছে বহুবার। তাদের সাথে দেখা করার কথা, কে কি বলল, বাবাকে চেনা গেল কিনা, বাবা হুমায়ূনকে চিনতে পেরেছে কিনা, নানির সাথে দেখা হয়েছে কিনা ঘুরেফিরে এসেছে বারবার।
একজন মায়ের সন্তান বাঁচানোর আকুতি যেন নিয়তির কাছে সমর্পিত। হুমায়ূন-সৃষ্ট চরিত্র বাকের, টুনীদের যেমন হুমায়ূন-সৃষ্ট নিয়তিতেই সমর্পিত হতে হয়েছে অন্যজনদের চাওয়া ছিল গৌণ, তেমনি মা,পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সাড়া দেশবাসী চাওয়ার পরও হুমায়ূনকে তার নিয়তির কাছে সমর্পিত হতে হয়েছে। এক অসহায় মা নিজ মনকে যেন এই বুঝিয়েই প্রবোধ দিয়েছেন বারবার।



This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সক্রেটিস - হাসান আজিজুল হক

amarboi
সক্রেটিস - হাসান আজিজুল হক
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া

amarboi
পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমার দেবোত্তর সম্পত্তি - নীরদচন্দ্র চৌধুরী

আমার দেবোত্তর সম্পত্তি - নীরদচন্দ্র চৌধুরী আমার দেবোত্তর সম্পত্তি - নীরদচন্দ্র চৌধুরী
এই বই তাঁর নিজের ভাষায় বাঙালির জন্য বাঙালির লেখা। তাঁর ইংরেজি আত্মজীবনী যদি আত্মপরিচয়, বাংলা ভাষায় লেখা এই জীবনকথা সেক্ষেত্রে আত্মপরীক্ষা।



This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দ্বিখণ্ডিত (ক) - তসলিমা নাসরিন

amarboi
দ্বিখণ্ডিত (ক) - তসলিমা নাসরিন
দ্বিখণ্ডিত (অর্থাৎ দুই ভাগে বিভক্ত) উপন্যাস ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটি উপন্যাসিক ও কবি তসলিমা নাসরিনের একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি মেয়েবেলার তৃতীয় খণ্ড। বইটি প্রথম বাংলাদেশে "ক" নামে প্রকাশিত হয়েছিল। বইটি প্রকাশ করায় আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও অপমানের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও বইটি দুইবছরের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বেঁচে আছি গল্পটা বলবো বলে - গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

বেঁচে আছি গল্পটা বলবো বলে - গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর আত্মজীবনী
বেঁচে আছি গল্পটা বলবো বলে

লাতিন আমেরিকা এবং কলম্বিয়ার অস্থির মার্কেস-এর জীবন বৈচিত্র্য আর নাটকীয়তায় ভরা । সেই জীবনের প্রায় ২৮ বছরের ঘটনাবলি এই আত্মজীবনীতে যেন আক্ষরিক অর্থেই রূপ পেয়েছে ভাষার মাহাত্যে, ঘটনাবলির মহাকাব্যিক বিস্তারে আর সত্যভাষণে । কলম্বিয়ার রক্তাক্ত ইতিহাসের মার্কেস-এর কথা, বাবা-মার প্রেমকাহিনী আর দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম, এমনকি নিজের বিচিত্র যৌনজীবনের বিশদ ছবি— সবই এই গ্রন্থের মূল বিষয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ঐতিহাসিক সব ঘটনাই মার্কেসের কলমে চিরকালীনতা পেয়েছে।

১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর নাম সারা পৃথিবীর সাহিত্যপিপাসুর মতোই বাংলা ভাষাভাষী সাহিত্যানুরাগী পাঠকদের কাছে সমানভাবে পরিচিত ও আদৃত। ১৯২৭ সালের ৬ মার্চ কলম্বিয়ার আরাকাতাকা-য় জন্ম নেওয়া এই লেখক-সাংবাদিক প্রকৃত অর্থেই লাতিন আমেরিকার সাহিত্যিক প্রতিনিধি। সাহিত্যজগতে বহুলকথিত জাদুবাস্তবতার অন্যতম প্রবর্তক তিনি। লাতিন আমেরিকা এবং কলম্বিয়ার অস্থির ইতিহাসের মতোই মার্কেসের জীবন বৈচিত্র্য আর নাটকীয়তায় ভরা। সেই জীবনের প্রায় ২৮ বছরের ঘটনাবলি এই আত্মজীবনীতে যেন আক্ষরিক অর্থেই রূপ পেয়েছে ভাষার মাহাত্যে, ঘটনাবলির মহাকাব্যিক বিস্তারে আর ব্যক্তিজীবনের ইতিবৃত্তের অকপট সত্যভাষণে। কলম্বিয়ার রক্তাক্ত ইতিহাসের সমান্তরালে গৃহযুদ্ধের যোদ্ধা নানা নিকোলাস মার্কেস-এর কথা, বাবা-মার প্রেমকাহিনী আর দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে তাদের সংগ্রাম, এমনকি নিজের বিচিত্র যৌনজীবনের বিশদ ছবি—সবই এই বইয়ে পাই। ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক সব ঘটনাই মার্কেসের কলমে ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক চিরকালীনত্ব পেয়েছে।
মূল স্প্যানিশে বইটি ২০০২ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো Vivir Para Contrala নামে। এডিথ গ্রসমান-কৃত এর ইংরেজি অনুবাদ ২০০৪ সালে পেঙ্গুইন বুকস থেকে প্রকাশিত হয় Living to Tell the Tale নামে। এই নামেই ২০০৯ সালের একুশে বইমেলায় বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হয়। বর্তমান গ্রন্থটি তারই সংশোধিত ও পরিমার্জিত রূপ।

Download and Comments/Join our Facebook Group

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মণীন্দ্র গুপ্তর আত্মজীবনী অক্ষয় মালবেরি

মণীন্দ্র গুপ্তর আত্মজীবনী অক্ষয় মালবেরি
মণীন্দ্র গুপ্তর আত্মজীবনী অক্ষয় মালবেরি

মণীন্দ্র গুপ্তর জন্ম ১৯২৬ সালে অবিভক্ত বাংলার বরিশালের গৈলা গ্রামে। কৈশোর কাটিয়েছেন অসমের বরাক উপত্যকায় মামার বাড়িতে। একই সঙ্গে কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী মণীন্দ্রবাবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
কবিতা লিখেছেন ১৯৪০-এর দশক থেকে। প্রথম কবিতার বই ‘নীল পাথরের আকাশ’ প্রকাশিত হয় অনেক পরে, ১৯৬৯ সালে। লিখতে এসেই পাঠকের নজর কাড়েন তিনি। বাংলা কবিতার তৎকালীন অভিমুখের সম্পূর্ণ বিপরীতেই অবস্থান করছিল তাঁর রচনা। এর পরে প্রকাশিত হয় ‘মৌপোকাদের গ্রাম’, ‘লাল স্কুলবাড়ি’, ‘ছত্রপলাশ চৈত্যে দিনশেষে’, ‘শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু’ অত্যাদি কাব্যগ্রন্থ। ১৯৯১-এ বের হয় তাঁর আলোড়ন তোলা প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘চাঁদের ওপিঠে’।
১৯৯১-এ প্রকাশিত হয় আত্মজীবনী ‘অক্ষয় মালবেরি’-র প্রথম খণ্ড। তিন খণ্ডে বিন্যস্ত এই লিখন বাংলা সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
সম্পাদনা করেছেন ‘পরমা’ পত্রিকা। ১৯৭০-এর দশকে কবি রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে যৌথ ভাবে সম্পাদনা করেছেন ‘এক বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতা’-র মতো সংকলন। হাজার বছরের বাংলা কবিতা ঘেঁটে সংকলন করেছেন তিন খণ্ডে ‘আবহমান বাংলা কবিতা’।
২০১০ সালে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার। ২০১১ সালে সাহিত্য আকাদেমি।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পাকিস্থানের জন্ম মৃত্যু দর্শন - যতীন সরকার

amarboi
পাকিস্থানের জন্ম মৃত্যু দর্শন - যতীন সরকার
‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন’কে বলা যেতে পারে লেখকের স্মৃতিকথা। স্মৃতির আধারেই বিধৃত হয়েছে ইতিহাস। এ ইতিহাস কোনো বইয়ে পাওয়া যাবে না। মানুষের মনোলোকের ইতিহাস উঠে এসেছে এখানে।
এ বইয়ের ‘দর্শন’ শব্দটি ‘দেখা’ ও ‘ফিলসফি’-দুটো অর্থই ধারণ করেছে। পাকিস্তানের জন্ম ও মৃত্যুকে লেখক যেভাবে দেখেছেন তার বর্ণনা যেমন আছে এ বইয়ে, তেমনই আছে পাকিস্তান মানক রাষ্ট্রটির জন্ম ও মৃত্যর পেছনে সক্রিয় ছিল যে দর্শন তারও অনুপুঙ্ক্ষ বিশ্লেষণ। পাকিস্তানের জন্মের দর্শনটি ছিল একান্তই অপদর্শন। অপদর্শন ছিল বলেই পাকিস্তানের মৃত্যু ছিল অপরিহার্য। বাংলাদেশের জন্মের যে দর্শন, সেই দর্শনের মধ্যেই নিহিত ছিল পাকিস্তানের মৃত্যুর দর্শন। পাকিস্তানের এই জন্মমৃত্যুর দর্শন সম্পর্কে এ-রকম মনোগ্রাহী বিশ্লেষণ আর কোথাও পাওয়া যাবে না। লেখকের জীবন কেটেছে গ্রামে ও মফস্বল শহরে। আমাদের ইতিহাস বইগুলোতে গ্রামের চিন্তা-চেতনার পরিচয় কিংবা মফস্বল শহরের মানুষের অবদান সম্পর্কে কিচুই লেখা হয় না। ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন’ এক্ষেত্রেও একটি ব্যতিক্রমী পুস্তক। সাধারণ পাঠক যেমন, তেমনই ইতিহাস লেখকগণও এ বইয়ে অনেক ভাবনার খোরাক পাবেন।

বইটির উদ্ধৃতাংশ

পাকিস্তানের জন্মের আগে : হিন্দুদের কংগ্রেস-ভাবনা।

মহাত্মা গান্ধী কি জয়' নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু কি জয়' মওলানা আবুল কালাম আজাদ কি জয় জওহরলাল নেহেরু কি জয়'—এসব স্লোগান দিয়ে আমরা শান্ত পল্লীর পথ মুখরিত করে তুলতাম পাকিস্তানের জন্মের আগের বছর, ১৯৪৬ এর সাধারণ নির্বাচনের সময়। 'নির্বাচন'- এই ভারি বাংলা শব্দটা তখনো চালু হয়নি; শিক্ষিত লোকেরা বলতো ইলেকশান' আর বেশির ভাগ মানুষের কাছে এর নাম ভোটাভুটি'। এই ভোটাভুটিতে হিন্দু-মুসলমানের এক সঙ্গে যোগ দেয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। বিধান ছিল : হিন্দুরা দেবে হিন্দু প্রার্থীকে ভোট, মুসলমানরা মুসলমানকে। এই স্বতন্ত্র নির্বাচন পদ্ধতিতে হিন্দুদেরও ভোট ছিল দু'ভাগে বিভক্ত—বর্ণ হিন্দু আর তফসিলি হিন্দু। ব্রাহ্মণ-কায়স্থ-বৈদ্য ও নবশাখ সম্প্রদায়ের মানুষ, এবং এ-রকম আর যারা নিজেদের ‘ভদ্রলোক' মনে করতো, তারাই হলো বর্ণ হিন্দু। আর তফসিলী হিন্দু হলো তারা, যাদের ছোঁয়া লাগলে বর্ণ হিন্দুদের জাত যায়। ধোপা, মালী, নমশূদ্র, পাটনী, জেলে মুচি, ডোম, বাগদী—এ রকম সব শূদ্র আর অন্ত্যজ-নামে-পরিচিত মানুষরা, যারা সমাজে সব দিক দিয়েই পিছিয়ে-পড়ার দলে, তারাই বিশেষ তফসিলভুক্ত (অর্থাৎ তালিকাভুক্ত) হয়ে 'তফসিলি হিন্দু' নাম পায়। তবে বাংলা বা ফারসি ‘তফসিলি’র চেয়ে ইংরেজি ‘সিডিউলড কাস্ট' (Scheduled Caste) কথাটাই বেশি চালু ছিল। কান্ট হিন্দু আর সিডিউলড কান্ট হিন্দু নির্বাচনে এই দুই গােষ্ঠীর মানুষের আলাদা আলাদা প্রতিনিধি পাঠাবার ব্যবস্থা ছিল সে- সময়কার নির্বাচন-পদ্ধতিতে। তফসিলি ফেডারেশন' নামে একটি সংগঠনও ছিল সিডিউলড কাস্ট হিন্দুদের। কিন্তু বর্ণ হিন্দুই হােক আর তফসিলি হিন্দুই হােক, হিন্দুদের রাজনীতিতে তখন কংগ্রেস দলেরই জয়জয়কার। অন্তত আমাদের এলাকায় তো তাই দেখেছি।

রামপুর বাজারে এসে কংগ্রেস নেতারা বক্তৃতা করেছেন। মাঝারি স্তরের মহকুমা পর্যায়ের নেতা। সে-নেতাদের কারাে নাম আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে, তাদের মাথায় থাকতো “গান্ধী টুপি'। এই টুপিটা আমার খুবই কৌতূহলের বস্তু হয়ে উঠেছিল। মুসলমান মৌলবী সাহেবরা টুপি পরেন দেখেছি, তবে তাঁদের টুপির আকৃতি গােল। গান্ধী টুপির লম্বাকৃতিটাই মৌলবীদের টুপি থেকে তাকে পৃথক করেছে। শুধু মৌলবীদের থেকেই বা বলি কেন, গান্ধী টুপি তো সকল মুসলমানের থেকেই হিন্দুদের পার্থক্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ছেচল্লিশ সনের আগে তো গ্রামে কোনো টুপিওয়ালা হিন্দু দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এবার হিন্দুর মাথায় টুপি উঠলো, তবে সে টুপিতেও হিন্দুত্বের চিহ্ন স্পষ্ট করে আঁকা।

কংগ্রেস নেতারা অবশ্য হিন্দুত্বের কথা বলতেন না। মুসলমান-বিরােধী কোনো কথাও তাদের মুখে শুনিনি। মহাত্মাজী নেতাজী পণ্ডিতজী সকলেই যে হিন্দু-মুসলমান সকলের নেতা, মুসলমান যাকে আল্লাহ্ আর হিন্দু ভগবান বলে যাকে তার চোখে সকলেই যে সমান, হিন্দু আর মুসলমান যে একই মায়ের পেটের দুই ভাইয়ের মতো, সাত-সমুদ্র তেরাে নদীর ওপার থেকে আসা ইংরেজরা যে এদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সকলের সমান দুশমন—এসব কথাই কংগ্রেস নেতারা সভায় জোর দিয়ে বলতেন। কংগ্রেসের চোখে যে হিন্দু-মুসলমানে কোন ভেদ নেই, সে-কথাটা বােঝাবার জন্যই তারা বারবার মওলানা আবুল কালাম আজাদের প্রসঙ্গ উত্থাপন করতেন। মওলানা আবুল কালাম আজাদ এতো বড়াে একজন মুসলিম শাস্ত্রবিদ পণ্ডিত, তিনি হলেন কংগ্রেসের সভাপতি—মূল নেতা। এরকম একজন শ্রদ্ধেয় মুসলমান যে- দলের নেতা, সে-দল কি কেবল হিন্দুদের দল হতে পারে?

তবে, কংগ্রেসের নেতারা যাই বলুন, আমার কিন্তু সেই ১৯৪৬ সালে—যখন আমার বয়স মাত্র দশ এবং আমি রামপুর ফ্রি বাের্ড প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস ফোরের ছাত্র—মনে হয়েছিল যে, কংগ্রেস কেবল হিন্দুদেরই পার্টি। কারণ, কংগ্রেসের সভাগুলোতে কোনো মুসলমানকে দেখেছি বলে মনেই পড়ে না। সভার শেষে নির্বাচনী মিছিলে যারা যোগ দিতো, তারাও সবাই হিন্দু যুবক। রামপুরের কামিনী চক্রবর্তীর ছেলে জীবন, মহেন্দ্র চৌধুরীর ছেলে ফণি ও রণি এবং বুধপাশা, নন্দীগ্রাম ও আশুজিয়া গ্রামের এ-রকম বেশ কিছু হিন্দু যুবক কংগ্রেসের এসব মিছিল সংগঠিত করতো, আর রামপুর ফ্রি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস থ্রি-ফোরের ছাত্র অনিল, সুশীল, ননীগােপাল, প্রাণেশরা চিৎকার করে স্লোগান ধরতো। এ-ব্যাপারে আমার তো ছিল সীমাহীন উৎসাহ। কিন্তু আমারই অন্তরঙ্গ সহপাঠী হােসেন আলী কোনোদিন কংগ্রেসের সভাতেও যায়নি, মিছিলেও যায়নি। যায়নি গফুর, হামিদ, হাশিমউদ্দিন, চান মিয়া, সুরুজ আলী, রশিদ—এ রকম কেউই। তাহলে কংগ্রেসকে হিন্দুদের পার্টি ছাড়া আর কী বলি?

আসলে কংগ্রেসের কথাই বলি বা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলের কথাই বলি, গৈ গেরামের মানুষের কাছে এ-সবের কথা তো ইলেকশনকে কেন্দ্র করেই পৌছেছিল। ইলেকশন হচ্ছিল হিন্দু মুসলমানের আলাদা আলাদা। হিন্দুদের থেকে আলাদা হয়ে বাস করে মুসলমানের স্বার্থ রক্ষার কথা বলে মুসলিম লীগ মাঠে নেমেছে। মুসলিম লীগের ক্যান্ডিডেট গেছে মুসলমানের কাছে ভোট চাইতে, কংগ্রেস ক্যান্ডিডেট গেছে হিন্দুর কাছে। আমার মতো দশ বছরের ছেলের ভোট না থাকলেও, আমিতো হিন্দু; আমার বাপ-ঠাকুরদা ভোট দেবেন কংগ্রেসকে, কংগ্রেসের কথা তাদের মুখে মুখে, তাদের সঙ্গে আমিও কংগ্রেসের সভায় যাই। আমার বয়স অল্প বলে আমার উৎসাহ তো তাদের থেকে বেশি হবেই। দৌড় ঝাপ খেলাধুলা করতে গুরুজনরা আমাকে সব সময় নিরুৎসাহিত করলেও সভা-মিছিলের ব্যাপারে করতেন তার উল্টোটা। সেই ছেলেবেলায় সভা আর মিছিল আমার কাছে খেলাধুলার বিকল্প হয়ে দেখা দিয়েছিল, এবং সে-বিকল্প ছিল খেলাধুলার চেয়ে অনেক বেশি উদ্দীপক ও আনন্দদায়ক। বেশ মনে আছে, ছেচল্লিশের ইলেকশনের আগে ও পরে কয়েকটা মাস এক নতুন ধরনের আনন্দে একেবারে টৈ টুম্বুর হয়ে ছিলাম। কংগ্রেসের স্লোগানগুলো তো আমার কাছে গানের চেয়েও বেশি চিত্তরঞ্জক হয়ে উঠেছিল। গান্ধী, নেহেরু, আজাদ, সুভাষের নামে জয় উচ্চারণ করার পাশাপাশি আর যে স্লোগানগুলোর সঙ্গে আমরা গলা মেলাতাম সেগুলো হলো—বন্দেমাতরম, জয়হিন্দ, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হােক এবং ইনকিলাব জিন্দাবাদ। শেষের স্লোগানটা ছিল কম্যুনিস্টদেরও। আসলে এটি নাকি আদিতে কম্যুনিস্টদেরই ছিল, পরে কংগ্রেসীরাও তাকে গলায় তুলে নেয়। জ্ঞানের আলো' নামে একটি সাধারণ জ্ঞানের বই আমাদের পাঠ্য ছিল। প্রশ্নোত্তরের ধাঁচে তাতে লেখা ছিল, ইনকিলাব জিন্দাবাদ কথাটার অর্থ কি? উত্তর—বিপ্লব দীর্ঘজীবী হউক।' এতেও আমার কাছে অর্থটা খুবই একটা পরিষ্কার হয়নি। ইনকিলাব' কিংবা ‘বিপ্লব' এ দুয়ের কোনোটারই সঠিক তাৎপর্য সে বয়সে আমার চৈতন্যে ধরা পড়েনি। তবু এই স্লোগানটা উচ্চারণ করতে খুব জোশ পেতাম। জয়হিন্দু' শব্দটা তো কয়েকমাস ধরে আমাদের সার্বক্ষণিক বুলিতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। আমরা বালকরা (অবশ্যই হিন্দু বালকরা) পরস্পরকে ‘জয়হিন্দ' বলে প্রীতি সম্ভাষণ করতাম। আমাদের শেখানো হয়েছিল চিঠির শিরােভাগে লিখতে হয় শ্রীশ্রীদুর্গা কিংবা শ্রীশ্রী হরি। এখন দুর্গা ও হরির স্থান দখল করলো 'জয়হিন্দ'।

আমাদের গাঁয়ের পূর্বদিকে উগরাকান্দা বাজারে চৈত্রমাসে বারুণী মেলা বসতো। এখনো হয়তো বসে। জানি না, এখনকার ছেলেমেয়েদের কাছে সে-মেলার আকর্ষণ কতোখানি। তবে আমি এখনো, এই বুড়াে বয়সেও, চোখ বুজলেই বারুণীর মেলার উত্তেজনায় আট-দশ বছরের বালকটি হয়ে যাই। একদিনের মেলা, কিন্তু সারা বছর তার আমেজ লেগে থাকতত আমাদের মনে। মেলায় জিলিপি ভাজা হতো, কুড়মুড় ভাজা আর শােন পাপড়ি বিক্রি হতো, চিনির তৈরি হাতিঘােড়া ও বিন্নি ধানের খৈ পাওয়া যেতো, আমাদের মতো ছেলেদের মুখে সারাক্ষণ টিনের বাঁশী বাজতো, বেলুন ফাটার ফটাস ফটাস শব্দ হতো, ছেলেমেয়েরা নাগরদোলায় চড়ে মহানন্দে দোল খেতো, ছােট ছােট মেয়েরা আল্লাদী পুতুল কিনতো, ম্যাজিকওয়ালা ম্যাজিক দেখাতো, এক আনার টিকেটে লটারী খেলা হতো এক দিনের জন্য যেন আমাদের কাছে স্বর্গ নেমে আসতো। ছেচল্লিশ সালে বারুণীর মেলায় আরেকটা নতুন জিনিস এসে যুক্ত হলো। গান্ধী, সুভাষ, নেহেরুর ছবিওয়ালা ব্যাজ'। একটা ব্যাজের দাম মাত্র দু'আনা। সুভাষের ছবিওয়ালা ব্যাজই হয়েছিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। বালক-কিশাের-যুবকদের বুকে বুকে শশাভা পেতে এই ব্যাজ। ব্যাজ বুকে লাগিয়ে সবাই যেন নিজেকে ভাবতে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের এক এক জন সৈনিক।


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমার স্বামী ওয়ালী - আন মারি ওয়ালীউল্লাহ

amarboi
আমার স্বামী ওয়ালী - আন মারি ওয়ালীউল্লাহ
বাংলা ।ভাষার অন্যতম প্রধান কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। চাকরি সুবাদে তাঁর জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশের বাইরে, নানা দেশে। বাঙালি পাঠক তাঁর কথাশিল্পী সম্পর্কে জানে, উচ্চ ধারণা পোষণ করে। কিন্তু ব্যক্তি ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে খুব কমই জানি। তাঁর স্ত্রী আন মারি ওয়ালীউল্লাহ (বৈবাহিক জীবন ১৯৫৫-১৯৭১) তাঁর সম্পর্কে খুব অন্তরঙ্গ একটি ছবি এঁকেছেন এর বইয়ে। ওয়ালীউল্লাহর ব্যক্তি জীবন, তাঁর রুচি, পাঠপরিধি, তাঁর চিত্রকর হওয়ার আকাঙ্খা, সর্বোপরি তাঁর সংবেদনশীর মন সম্পর্কে এক পরিষ্কার ধারণা দেয় এই বই। ওয়ালীউল্লাহ বিশ্বের সব সাহিত্যিকে মানুষের অভিন্ন উত্তরাধিকার বলে গন্য করতেন । বইটি পড়তে পড়তে শেষ পর্যন্ত ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে তাঁর নিজের এ কথাই সত্য বলে মনে হবে, ‘আমি একজন মুক্ত মানুষ। জগৎ আমাকে গ্রহণ করুক আর নাই করুক, পুরো জগৎটিই আমার।’


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অঘোর-প্রকাশ - বাংলার প্রথম যৌথ আত্মজীবনী

amarboi
অঘোর-প্রকাশ
বাংলার প্রথম যৌথ আত্মজীবনী

ডাক্তার বিধানচন্দ্র আধুনিক ভারতের অনন্য চরিত্র, প্রবাদপ্রতিম ডাক্তার ও মুখ্যমন্ত্রী। বিধানচন্দ্র রায় কোনও বই লেখেননি কিন্তু তাঁর বাবা প্রকাশচন্দ্র রায় নিঃশব্দে একটা বই লিখেছিলেন যার নাম 'অঘোর-প্রকাশ'। বইয়ের টাইটেল পেজে ব্রাকেটের মধ্যে লেখা 'স্বর্গীয় দেবী অঘোরকামিনী রায়ের জীবনকাহিনী' যেখানে প্রকাশচন্দ্র রায় তাঁর স্ত্রী অঘোরকামিনীর জীবনকাহিনি বর্ণনা করেছেন। বাংলায় যতদূর জানি এটাই প্রথম যৌথ আত্মজীবনী। দেড়শো বছর আগে নারীশিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির পথপ্রদর্শক এমনই এক জন অঘোরকামিনী দেবী। মাত্র দশ বছর বয়সে বিয়ে হয় বছর উনিশের যুবক প্রকাশচন্দ্র রায়ের সঙ্গে। নিতান্ত বাল্য বয়সে ১৮৯৬ সালের ১৫ই জুন পাটনায় বিধানচন্দ্রের মা মারা যান। তাঁর বাবা প্রকাশচন্দ্র রায় ঠিক ৯ বছর পরে পারিবারিকভাবে একটি বই প্রকাশ করেন। যার নাম ‘অঘোর প্রকাশ’। এই বইটি একসময় তাদের পুত্র এস সি রায় কর্তৃক ইংরেজিতেও প্রকাশিত হয়েছিল এবং সেখানকার ভূমিকায় দাবি করা হয়েছে, এই বইটি আসলে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ আত্মজীবনী এমন প্রচেষ্টা এদেশে যে বিরল। এই ইংরেজি বইটির অনুবাদক একজন কেরলভাষী পণ্ডিত পি শেষাদ্রি আয়ার। এবং অনুবাদকের ধারণা, এমন প্রচেষ্টা পৃথিবীর সাহিত্যে কখনও হয়নি।

‘সকলে শয়ন করিলে, যখন তুমি শয়ন করিতে আসিতে, তখন তোমার বিদ্যাশিক্ষা আরম্ভ হইত। আমি গুরু হইয়া স্বতন্ত্র বসিতাম, তুমি ছাত্রী হইয়া ভয়ে ভয়ে দূরে বসিতে। অনুরাগের সহিত আপনার পাঠ শিখিতে। এইরূপে তোমার ক, খ, আরম্ভ হইল, ক্রমে প্রথম ভাগ দ্বিতীয় ভাগ শেষ হইয়া গেল।’

'বুঝিলাম বাহিরের জনসমাজের সেবা না করিলে ঘরের ধর্ম্মও ঠিক থাকে না; আর বাহিরের জগৎ দেখিয়া মনটা বড় না হইলে, ভাল লোকের সঙ্গে মিশিয়া আত্মা উন্নত না হইলে, ব্রাহ্মধর্ম্ম সাধন করা যায় না।’

‘তুমিও ইহা বুঝিতে লাগিলে, তাই এ সময় হইতে আমাদের চেষ্টা হইল যে কিসে আমাদের জীবন, বিশেষতঃ তোমার জীবন, সংসারের সীমা ছাড়াইয়া বাইরে গিয়া ব্যাপ্ত হইয়া পড়ে।’

এমনই বিরল চিন্তাধারার মানুষ ছিলেন প্রকাশচন্দ্র রায় ও অঘোরকামিনী। স্বামীকে বলেছিলেন, ‘‘৭/৮ বৎসর মাত্র মেয়েরা পড়িতে পায়, তাহা হইতে যদি রান্না শিখিতে সময় কাটিয়া লওয়া যায়, তবে কিছুই শিক্ষা হইবে না। আমি ১৫ দিনের মধ্যে মেয়েদের রান্না শিখাইয়া দিব।’’ ধর্মপ্রাণ হয়েও তিনি ধর্ম ও কুসংস্কারের তফাত বুঝতেন। তাঁর জীবনের অনেক ঘটনাই চমকে দেওয়ার মতো। নিজেই লিখেছিলেন, ‘আমি নিজে ৩০ বৎসর সিন্দুর ছাড়িয়া, বিধবা সাজিয়া থাকি।’ সধবা থাকাকালীনই মাঝে মাঝে বিধবাদের মতো সাদা থান পরতেন। বলতেন, বস্ত্রে কি সধবা বিধবা হয়? প্রকাশচন্দ্রের লেখায় ফুটে ওঠে সংস্কারমুক্ত অঘোরকামিনীর কথা: ‘প্রথম প্রথম শাঁখা পরিধান করিতে, শেষে চুড়ি পরিতে, কিন্তু জীবনের শেষ কয় বৎসর শূন্য হস্তেই থাকিতে। হাতে নোয়া না থাকিলে স্বামীর অকল্যাণ হয়, এ কুসংস্কার তোমার ছিল না।’ এ ঘটনা দেড়শো বছর আগের! অঘোরকামিনীর থান পরা বা সিঁদুর নোয়া না পরা ছিল পিতৃতান্ত্রিক সমাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান অঘোরকামিনী। প্রায় দেড়শো বছর আগে সমাজের প্রথা ভেঙে, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়েছেন যিনি আজ তাঁকে যদি আমরা স্মরণ না করি তাহলে কখন করবো।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ অখণ্ড

amarboi
তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি
১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ অখণ্ড


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সিন্ধুর এক বিন্দু (আত্মজৈবনিক রচনা ) - গোলাম সামদানী কোরায়শী

amarboi
সিন্ধুর এক বিন্দু
(আত্মজৈবনিক রচনা )
গোলাম সামদানী কোরায়শী



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

জীবনের জলসাঘরে - মান্না দে

amarboi

জীবনের জলসাঘরে - মান্না দে

একদিন উত্তর কলকাতার সিমলেপাড়ায় দুষ্টুমি করে ঘুরে বেড়াত যে-কিশোর, কুস্তির আখড়ায় লড়াইয়ে নামত, সে কীভাবে যেন একসময় সংগীতকে আপন করে নিল। সুধাসাগরের তীরে এসে দাঁড়াল সে। সেই প্রথম যৌবনে সংগীতই হয়ে উঠল তার একমাত্র সাধনা, নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। আরও পরে তার ধ্যান জ্ঞান প্রেম ঈশ্বর। সেদিনের সেই কিশোর আজকের ‘জাতীয় শিল্পী’ মান্না দে।

বাড়ির সাংগীতিক পরিবেশ, বিশেষত প্রবাদপ্রতিম শিল্পী তথা তাঁর ছোট কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে-র প্রত্যক্ষ তত্বাবধান ও আশীর্বাদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট সুরসাধকদের সাহচর্য পেয়েছিলেন। সুদীর্ঘ ষাট বছরেরও বেশি সময় মান্না দে তাঁর সংগীত- সাধনাকে অব্যাহত রেখেছেন অপরিসীম নিষ্ঠায়। আজ তিনি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী। তাঁর কথা, তাঁর গানের কথা বলে শেষ হওয়ার নয়। কত স্মৃতি, কত সুর সেই কথাপ্রবাহের পরতে পরতে। বিচ্ছিন্নভাবে তিনি নিজেই তাঁর সংগীত- জীবনের কথা কখনও কখনও লিখেছেন। কিন্তু এই প্রথম তাঁর পূর্ণাঙ্গ আত্মকথা। এখানে সংগীত-জীবনের কাহিনীই শুধু নয়, তাঁর ব্যক্তিজীবনের অন্দরমহল পাঠকের সামনে তিনি খুলে দিয়েছেন নিঃশেষে। তাঁর সময়ানুবর্তিতা, নিয়মনিষ্ঠা, ঔদার্য, স্নেহশীলতা, মরমী মন, নিরহংকারী চরিত্র ও সংবেদনশীলতার নানা নিবিড় অনুষঙ্গ ও ছবি এমনভাবে আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

‘জীবনের জলসাঘরে’ এক মহান ও চিরশ্রবণীয় শিল্পীর নিছক আত্মজীবনী নয়, দেশ-কাল-সময়ের প্রেক্ষাপটে আঁকা সুরলোকের এক বহুবর্ণী চিত্র।



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সেতুবন্ধন - কতিপয় প্রাজ্ঞজনের শৈশব কৈশোর ও যৌবনকালের আত্মকথন বিধান চন্দ্র পাল

সেতুবন্ধন

সেতুবন্ধন
কতিপয় প্রাজ্ঞজনের শৈশব কৈশোর ও যৌবনকালের আত্মকথন
বিধান চন্দ্র পাল

আমাদের সমাজ, সভ্যতা, শিক্ষা, সাহিত্য সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অর্থনীতি বহু প্রাজ্ঞা প্রবীণদের জীবনব্যাপী অবদানে সমৃদ্ধ। একদিকে যেমন প্রয়োজন তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি, অপরদিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন তাদের জীবন ও কর্ম। আমাদের এ প্রয়াসে শুধুমাত্র সকলের চেনা-জানা কিছু সুনির্বাচিত প্রবীণদের, শৈশব, কিশোর ও যৌবনকালকে আজকের নবীনদের কাছে তুলে ধরা। স্ব স্ব েেত্র সুপ্রতিষ্ঠিত মহীরুহরূপ ব্যক্তিত্ব হিসেবে যাঁরা আমাদের চিরচেনা, তাঁদেরও একটি সোনালি শৈশব, চপল-চঞ্চল কৈশোর এবং দুরন্ত যৌবন ছিল। তারই হয়তো একটি খণ্ডিত উপস্থাপনা এই আত্মকথন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এ প্রজন্মের তরুণরা পরম শ্রদ্ধেয় প্রবীণদের ঐ যাপিত জীবন থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পাবে। নিজেদের জীবন গড়ার পথে কাইকে হয়তো আদর্শ হিসেবেও নিতে পারবে। এভাবেই আমাদের উদ্যেগটি হয়ে থাকবে নবীন ও প্রবীণদেও প্রজন্মগত সেতুবন্ধন।
১৯৫২ সালকে স্মরণে রেখে প্রথম সিরিজে প্রাজ্ঞ বাহান্ন ব্যক্তিত্বের শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকালের আত্মকথন নিয়ে বিশেষ গ্রন্থ ‘সেতুবন্ধন’। ৫২ জন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের গড়ে ওঠার সময়কালের অভিজ্ঞতার সংকলনটি প্রকাশ করেছে অবসর প্রকাশনী।

বইটি বর্তমান প্রজন্মের কাছে একটি অনুপেরণা হওয়ার আশা রাখে। শুধু ৫২ জন প্রাজ্ঞ ব্যক্তির শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকাল নয়, এখানে বিংশ শতকের প্রথম থেকে ষষ্ঠ দশক পর্যন্ত সময়ের শিশু, কিশোর ও যুবাদের সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষা, কর্ম প্রভৃতির একটি প্রতিফলনও পাওয়া যাবে।

যে বাহান্নজনকে নিয়ে প্রথম পর্যায়ে গ্রন্থটি প্রকাশ হলো তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- বিনোদ বিহারী চৌধুরী, সালাহ্উদ্দীন আহমদ, সরদার ফজলুল করিম, লতিফা আকন্দ, আবদুল মতিন, মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, ডা. নুরুল ইসলাম, দ্বিজেন শর্মা, সুধীন দাশ, বদরুদ্দীন উমর, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, হালিমা খাতুন, মুস্তাফা মনোয়ার, মোজাফ্ফর আহমদ, হামিদা হোসেন, কাজী এবাদুল হক, শরিফা খাতুন, আনিসুজ্জামান, কামাল হোসেন, আবদুল মোনেম, সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম হাফিজ উদ্দিন খান, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রওশন জাহান, রামেন্দু মজুমদার, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, এএসএম শাহজাহান, জামিলুর রেজা চৌধুরী, আকবর আলি খান, আয়েশা খাতুন, দিলারা চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, সা’দত হুসাইন, মাহফুজা খানম, বদিউল আলম মজুমদার, সেলিনা হোসেন, এম এ সাত্তার মণ্ডল, সুলতানা কামাল, জুয়েল আইচ, আনোয়ার উল আলম, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, রাশেদা কে চৌধুরী, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, তোফায়েল আহমেদ, এম এম আকাশ, ফৌজিয়া ইরফান আহমেদ, আনু মোহাম্মদ, ড. নজরুল ইসলাম, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কারাগারের রোজানামচা - শেখ মুজিবুর রহমান

কারাগারের রোজানামচা - শেখ মুজিবুর রহমান

কারাগারের রোজানামচা - শেখ মুজিবুর রহমান

কারাগারের জীবন

ভাষা আন্দোলন বঙ্গবন্ধু শুরু করেন ১৯৪৮ সালে । ১১ই মার্চ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন এবং গ্রেফতার হন । ১৫ই মার্চ তিনি মুক্তি পান। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সমগ্ৰ দেশ সফর শুরু করেন। জনমত সৃষ্টি করতে থাকেন। প্রতি জেলায় সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলেন । ১৯৪৮ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ফরিদপুরে গ্রেফতার করে। ১৯৪৯ সালের ২১শে জানুয়ারি মুক্তি পান। মুক্তি পেয়েই আবার দেশব্যাপী জনমত সৃষ্টির জন্য সফর শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দাবির প্রতি তিনি সমর্থন জানান এবং তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে আন্দোলনে অংশ নেন । সরকার ১৯৪৯ সালের ১৯শে এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে । জুলাই মাসে তিনি মুক্তি পান । এইভাবে কয়েক দফা গ্রেফতার ও মুক্তির পর ১৯৪৯ সালের ১৪ই অক্টোবর আর্মানিটােলা ময়দানে জনসভা শেষে ভুখা মিছিল বের করেন। দরিদ্র মানুষের খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল করতে গেলে আওয়ামী লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন ।

এবারে তাকে প্রায় দু’বছর পাঁচ মাস জেলে আটক রাখা হয়। ১৯৫২ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন ।

১৯৫৪ সালের ৩০শে মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে করাচি থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে গ্রেফতার হন এবং ২৩শে ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করেন।

১৯৫৮ সালের ১২ই অক্টোবর তৎকালীন সামরিক সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয় । এবারে প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় বন্দি থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গোটেই গ্রেফতার করা হয় । ১৯৬০ সালের ৭ই ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মুক্তি লাভ করেন।

১৯৬২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি আবার জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হয়ে তিনি ১৮ই জুন মুক্তি লাভ করেন ।
১৯৬৪ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে তিনি আবার গ্রেফতার হন ।

১৯৬৫ সালে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলা দায়ের করে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড প্ৰদান করা হয় । পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান ।

১৯৬৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন । ১লা মার্চ তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ।
তিনি যে ছয় দফা দাবি পেশ করেন তা বাংলার মানুষের বাঁচার দাবি হিসেবে করেন, সেখানে স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করেন যার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ।

একের পর এক দাবি নিয়ে জনগণের অধিকারের কথা বলার কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের প্রথম তিন মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোহর, ময়মনসিংহ, সিলেট, খুলনা, পাবনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন শহরে আটবার গ্রেফতার হন ও জামিন পান । নারায়ণগঞ্জে সর্বশেষ মিটিং করে ঢাকায় ফিরে এসেই ৮ই মে মধ্য রাতে গ্রেফতার হন । তাঁকে কারাগারের অন্ধকার কুঠুরিতে জীবন কাটাতে হয়। শোষকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেছেন। ফলে যখনই জনসভায় বক্তৃতা করেছেন তখনই তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করেছে সরকার ।

১৯৬৮ সালের ৩রা জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে ।

১৮ই জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তায় বন্দি করে রাখে |

পাঁচমাস পর ১৯শে জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচার কাজ শুরু হয় । ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত প্রবল চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা মুক্তিদানে বাধ্য হয়। কারণ, পূর্ববাংলার জনগণের সর্বাত্মক আন্দোলন এতই উত্তাল হয়ে উঠে যে, তাতে শুধু বিশাল গণঅভ্যুত্থানই না স্বৈরসামরিক শাসক আইয়ুব খানের পতন ঘটে এবং বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাংলার জনগণের আপোষহীন অকুতোভয় নেতা ।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে সমগ্ৰ পাকিস্তানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিপুল জয় লাভ করে মেজরিটি পায় । কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক সরকার গঠন করতে দেয় না । ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং বাংলার মানুষ তার কথায় সাড়া দেয় । তার নির্দেশেই এ দেশ পরিচালিত হতে থাকে । ৭ই মার্চ তিনি রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্ৰাম’ । হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্ৰ গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ মানসিকভাবে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হয় । ২৫শে মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সশস্ত্ৰ আক্রমণ চালায় এবং গণহত্যা শুরু করে ।

২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আহবান জানান । এই ঘোষণার সাথে সাথেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায় এবং কারাগারে বন্দি করে রাখে । সমগ্র বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় । হানাদার বাহিনীর এই দমন পীড়ন ও পোড়ামাটি নীতি এবং গণহত্যা চালিয়ে বাঙালি জাতিকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে । এরই একটি পর্যায়ে আমরা এক মাসে ১৯ বার জায়গা বদল করেও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পাই নাই, আমরা ধরা পড়ে গেলাম ।

আমার মা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব, আমার ভাই লে. শেখ জামাল, বোন শেখ রেহানা, ছোট ভাই শেখ রাসেল, আমি ও আমার স্বামী ড. ওয়াজেদকে ধানমন্ডি ১৮ নম্বর সড়কে একটি একতলা বাড়িতে বন্দি করে রাখা হলো ।

এক সময়ে পাকিস্তানি হানাদার শাসকগোষ্ঠী তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে সবকিছু স্বাভাবিক চলছে ঘোষণা দিল । স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত সবই ঠিকঠাক আছে । সমগ্ৰ বিশ্বকেই তারা দেখাতে চাইল যে এই ভূখণ্ডে ‘মিসক্রিয়োনট’দের তারা দমন করে ফেলেছে আর কোনো সমস্যা নাই, পাকিস্তান ‘খতরা’ থেকে বের হয়ে এসেছে, আল্লাহ্ পাকিস্তানকে রক্ষা করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখাতে চেষ্টা করে বাংলাদেশের সবকিছুই তাদের নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে।

১ম বার খাতাগুলি উদ্ধার

এই সময়ে এক মেজর সাহেব এসে বলল, “বাচ্চা লোগ ‘সুকুল’ মে যাও” (বাচ্চারা স্কুলে যাও) । ড. ওয়াজেদ পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জিতে চাকরি করতেন বলে তিনি নিয়মিত অফিসে যেতে পারতেন । ফলে বাইরে যাবার কিছু সুযোগ ছিল এবং যেহেতু এটা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সাথে সম্পৃক্ত তাই যুদ্ধের সময়ও কিছু ছাড় পেতো। তাকে নিয়মিত অফিসে যেতে হতো আর সময়মতো ফিরতে হতো। তবে হানাদার বাহিনী সব সময় নজরদারিতে রাখত ।

যাহোক স্কুলে যাবে বাচ্চারা, জামাল, রেহানা আর রাসেল। আমি বললাম বই খাতা কিছুই তো নাই, কী নিয়ে স্কুলে যাবে আর যাবেই বা কীভাবে? জিজ্ঞেস করল বই কোথায়? বললাম, আমাদের বাসায়, আর সে বাসা তো আপনাদের দখলে আছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বাসা ।

বলল, “ঠিক হ্যায় হাম লে যায়গে; তোম লোগ কিতাব লে আনা ।”
ওরা ঠিক করল জামাল, রেহানা, রাসেলকে নিয়ে যাবে যার যার বই আনতে । আমি বললাম, আমি সাথে যাব। কারণ একা ওদের সাথে আমি আমার ভাইবোনদের ছাড়তে পারি না । তারা রাজি হলো ।

আমার মা আমাকে বললেন, “একবার যেতে পারলে আর কিছু না হোক তোর আকবার লেখা খাতাগুলো যেভাবে পারিস নিয়ে আসিস ।” খাতাগুলো মার ঘরে কোথায় রাখা আছে তাও বলে দিলেন । আমাদের সাথে মিলিটারির দুইটা গাড়ি ও ভারী অস্ত্ৰসহ পাহারাদার গেল ।

২৫শে মার্চের পর এই প্রথম বাসায় ঢুকতে পারলাম। সমস্ত বাড়িতে লুটপাটের চিহ্ন, সব আলমারি খোলা, জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো । বাথরুমের বেসিন ভাঙী, কাচের টুকরা ছড়ানো, বীভৎস দৃশ্য!

অথবা লুট হয়েছে। কিছু তো নিতেই হবে। আমরা এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাই, পাকিস্তান মিলিটারি আমাদের সাথে সাথে যায়। ভাইবোনদের বললাম, যা পাও বইপত্র হাতে হাতে নিয়ে নেও ।

আমি মায়ের কথামতো জায়গায় গেলাম । ড্রেসিং রুমের আলমারির উপর ডান দিকে আব্বার খাতাগুলি রাখা ছিল, খাতা পেলাম। কিন্তু সাথে মিলিটারির লোক, কী করি? যদি দেখার নাম করে নিয়ে নেয়। সেই ভয় হলো । যাহােক অন্য বই খাতা কিছু হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে একখানা গায়ে দেবার কাঁথা পড়ে থাকতে দেখলাম, সেই কাঁথাখানা হাতে নিলাম, তারপর এক ফাঁকে খাতাগুলি ঐ কাথায় মুড়িয়ে নিলাম। সাথে দুই একটা বই ম্যাগাজিন পড়েছিল তাও নিলাম ।

আমার মায়ের হাতে সাজানো বাড়ির ধ্বংসস্তুপ দেখে বার বার চোখে পানি আসছিল। কিন্তু নিজেকে শক্ত করলাম। খাতাগুলি পেয়েছি। এইটুকু বড় সাস্তুনা । অনেক স্মৃতি মনে আসছিল।
যখন ফিরলাম মায়ের হাতে খাতাগুলি তুলে দিলাম। পাকিস্তানি সেনারা সমস্ত বাড়ি লুটপাট করেছে, তবে রুলটানা এই খাতাগুলিকে গুরুত্ব দেয় নাই বলেই খাতাগুলি পড়েছিল ।

আব্বার লেখা এই খাতার উদ্ধার আমার মায়ের প্রেরণা ও অনুরোধের ফসল। আমার আব্বা যতবার জেলে যেতেন মা খাতা, কলম দিতেন লেখার জন্য । বার বার তাগাদা দিতেন । আমার আব্বা যখন জেল থেকে মুক্তি পেতেন মা সোজা জেল গেটে যেতেন আকবাকে আনতে আর আকবার লেখাগুলি যেন আসে তা নিশ্চিত করতেন । সেগুলি অতি যত্নে সংরক্ষণ করতেন ।

খাতাগুলি তো পেলাম, কিন্তু কোথায় কীভাবে রাখব?

ঢাকার আরামবাগে আমার ফুফাতো বোন মাখন আপা থাকতেন। তার স্বামী মীর আশরাফ আলী, আব্বার সঙ্গে কোলকাতা থেকেই রাজনীতি করতেন, যেভাবেই হোক তার কাছেই পাঠাবো সিদ্ধান্ত নিলাম । অবশেষে অনেক কষ্ট করে তার কাছে পাঠালাম । আমার বিশ্বাস তিনি যত্ন করে রাখবেন । কীভাবে যে পাঠিয়েছি সে কথা লিখতে গেলে আর এক ইতিহাস হয়ে যাবে, এ বিষয়ে পরে লিখব ।

আমার ফুফাতো বোন পলিথিন ও ছালার চট দিয়ে খাতাগুলো বেঁধে তার মুরগির ঘরের ভিতরে চালের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে বুলিয়ে রেখেছিলেন, যাতে কখনও কেউ বুঝতে না পারে। কারণ পাকিস্তানি আর্মি সব সময় হঠাৎ হঠাৎ যে কোনো বাড়ি সার্চ করত। তবে ঐ বাড়ির সুবিধা ছিল যে আরামবাগ গলির ভিতর গাড়ি ঢুকতে পারত না ।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর সেই খাতাগুলি আমার বোন ও দুলাভাই মায়ের হাতে পৌছে দেন। বৃষ্টির পানিতে কিছু নষ্ট হলেও মূল খাতাগুলি মােটামুটি ঠিক ছিল।

২য় বার খাতা উদ্ধার

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয় | জীবিত কোনো সদস্য ছিল না। সকল সদস্যকেই এই বাড়িতে হত্যা করা হয়েছিল। আমার মা বেগম ফজিলাতুননেছা, ও লে. শেখ জামাল, ছোট ভাই শেখ রাসেল, কামাল ও জামালের নব পরিণীতা স্ত্রী সুলতানা ও রোজী, বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব কর্নেল জামিল, পুলিশের দু’জন উধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৮ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে । এর পর থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটি সরকারি দখলে থাকে ।

আমি ও আমার ছোটবোন রেহানা দেশের বাইরে ছিলাম । ৬ বছর বাংলাদেশে ফিরতে পারি নাই । ১৯৮১ সালে যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে আমি অনেক বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে দেশে ফিরে আসি ।

দেশে আসার পর আমাকে বিএনপি সরকার আমাদের এই বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি । বাড়ির গেটের সামনে রাস্তার উপর বসে মিলাদ পড়ি ।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িঘর লুটপাট করে সেনাসদস্যরা। কী দুর্ভাগ্য স্বাধীন বাংলাদেশের সেনারা জাতির পিতাকে হত্যা করে । তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি । আর জাতির পিতা ও রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হলো ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে ।

জেনারেল জিয়াউর রহমান তখন ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। মে মাসের ৩০ তারিখ জিয়ার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর ১২ই জুন বাড়িটা আমার হাতে হস্তান্তর করে। প্রথমে ঢুকতে পা থেমে গিয়েছিল । জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম ।

যখন হুঁশ হয়, আমাকে দিয়ে অনেকগুলি কাগজ সই করায় । কী দিয়েছে জানি না। যখন আমার পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে আসে তখন আমার মনে পড়ে আব্বার লেখা খাতার কথা, আমি হেঁটে আব্বার শোবার ঘরে ঢুকি | ড্রেসিং রুমে রাখা আলমারির দক্ষিণ দিকে হাত বাড়াই। ধূলিধূসর বাড়ি। মাকড়সার জলে ভরা তার মাঝেই খুঁজে পাই অনেক আকাঙ্ক্ষিত রুলটানা খাতাগুলি ।

আমি শুধু খাতাগুলি হাতে তুলে নিই। আব্বার লেখা ডায়েরি, মায়ের বাজার ও সংসার খরচের হিসাবের খাতা ।

আব্বার লেখাগুলি পেয়েছিলাম। এটাই আমার সব থেকে বড় পাওয়া, সব হারাবার ব্যথা বুকে নিয়ে এই বাড়িতে একমাত্র পাওয়া ছিল এই খাতাগুলি । খুলনায় চাচির বাসায় খাতাগুলি রেখে আসি, চাচির ভাই রবি মামাকে দায়িত্ব দেই, কারণ ঢাকায় আমার কোনো থাকার জায়গা ছিল না, কখনো ছোট ফুফুর বাসা, কখনো মেজো ফুফুর বাসায় থাকতাম ।

লেখাগুলি প্ৰকাশ করার কাজ শুরু

খাতাগুলি প্রকাশ করার উদ্যোগ নিই। ড. এনায়েতুর রহিমের সঙ্গে আমি ও বেবী বই নিয়ে কাজ করতে শুরু করি, তিনি আমেরিকার জর্জ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর । তার পরামর্শমতো কাজ করি ।

খাতাগুলি জেরোক্স কপি করে ও ফটোকপি করে একসেট রেহানার কাছে রাখি । বেবী টাইপ করানোর দায়িত্ব নেয়।

ড. এনায়েতুর রহিম ও তাঁর স্ত্রী জয়েস রহিম অনুবাদ করতে শুরু করেন। তিনি সবগুলি খাতা অনুবাদ করে দেন ।

কিন্তু ২০০২ সালে তিনি হঠাৎ করে মৃত্যুবরণ করেন। আমাদের কাজ থেমে যায়।

এরপর ঐতিহাসিক প্রফেসর সালাহউদ্দীন সাহেবের পরামর্শে কাজ শুরু করি ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর সামসুল হুদা হারুন, বাংলা একাডেমির শামসুজ্জামান খান, বেবী মওদুদ ও আমি বসে কাজ শুরু করি। নিনু বাংলায় কম্পিউটার টাইপ করে দেয়, রহমান (রমা) কে দিয়ে ফটোকপি করার কাজ করি । বাড়িতেই আলাদা ফটোকপি মেশিন ক্রয় করি ।

২০০৭ সালে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা দেয়া হয় এবং আমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি করে । ২০০৮ পর্যন্ত বন্দি ছিলাম । আমি বন্দি থাকা অবস্থায় প্রফেসর ড. হারুন মৃত্যুবরণ করেন । এই খবর পেয়ে আমি খুব দুঃখ পাই এবং চিন্তায় পড়ে যাই যে কীভাবে আব্বার বইগুলো শেষ করব । জেলখানায় বসেই আমি অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ভূমিকাটা লিখে রাখি। ২০০৮ সালে মুক্তি পেয়ে আবার আমরা বই প্রকাশের কাজে মনোনিবেশ করি ।

এই খাতাগুলির মধ্য থেকে ইতিমধ্যে অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্ৰকাশ করা হয়েছে। সেই খাতাগুলি ফেরত পাবার ঘটনা আমি ঐ বইয়ের ভূমিকায় লিখেছি।

এরপর আমরা আব্বার ডায়েরি, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, স্মৃতিকথা এবং চীন ভ্ৰমণ নিয়ে কাজ শুরু করি । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার উপর প্রফেসর এনায়েতুর রহিম সাহেব বেশ কিছু গবেষণা করে যান এবং সেটাও প্রকাশের জন্য আমরা কাজ করতে থাকি ।

অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, ২০১৩ সালে বেবী মওদুদ মৃত্যুবরণ করেন। আমি বড় একা হয়ে যাই । যাহোক বেবী বেঁচে থাকতেই আমরা অসমাপ্ত আত্মজীবনী যেটা ড. ফকরুল ইংরেজিতে অনুবাদ করে দিয়েছেন সেটা আমরা প্রকাশ করেছি। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। আমরা ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখা ডায়েরি বই আকারে প্রকাশ করবার প্রস্তুতি নিয়েছি। অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রতিটি লেখা বারবার পড়ে সংশোধন করে দিয়েছেন ।

কারাগারের রোজানামচা

বর্তমান বইটার নাম ছোট বোন রেহানা রেখেছে-‘কারাগারের রোজনামচা’ । এতটা বছর বুকে আগলে রেখেছি যে অমূল্য সম্পদ-আজ তা তুলে দিলাম বাংলার জনগণের হাতে ।

ড. ফকরুল আলমের অনুবাদ করে দেওয়া ইংরেজি সংস্করণের কাজ এখনও চলছে।

১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা গ্রেফতার হন । ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত বন্দি থাকেন । সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিনের ডায়েরি লেখা শুরু করেন । ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত লেখাগুলি এই বইয়ে প্ৰকাশ করা হলো ।

একই সাথে আর একটি খাতা খুঁজে পাই-তারও ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শল ল' জারি করে ১২ই অক্টোবর আব্বাকে গ্রেফতার এবং তার রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেয় । এরপর ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন কারাগার থেকে মুক্তি পান তখন তাঁর লেখা খাতাগুলির মধ্যে দুইখানা খাতা সরকার বাজেয়াপ্ত করে । এই খাতাটা তার মধ্যে একখানা, যা আমি ২০১৪ সালে খুঁজে পেয়েছি। SB'র কাছ থেকে পাওয়া এই খাতাটা । S. B. (Special Branch) এর অফিসাররা খুবই কষ্ট করে খাতাখানা খুঁজে দিয়েছেন, তাই তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই খাতাটা আরও আগের লেখা । সেই বন্দি থাকা অবস্থায় এই খাতাটায় তিনি জেলখানার ভিতরে অনেক কথা লিখেছিলেন । এই লেখার একটা নামও তিনি দিয়েছিলেন :

থালা বাটি কম্বল
জেলখানার সম্বল ।

এই লেখার মধ্য দিয়ে কারাগারের রোজনামচা পড়ার সময় জেলখানা সম্পর্কে পাঠকের একটা ধারণা হবে । আর এই লেখা থেকে জেলের জীবনযাপন এবং কয়েদিদের অনেক অজানা কথা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিল সেসব কথা জানা যাবে ।

জেলখানায় সেই যুগে অনেক শব্দ ব্যবহার হতো। এখন অবশ্য সেসব অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারপরও মানুষ জানতে পারবে বহু অজানা কাহিনি ।

৬ দফা দাবি পেশ করে যে প্রচার কাজ তিনি শুরু করেছিলেন। সেই সময় তাকে গ্রেফতার করা হয় ।

তাঁর গ্রেফতারের পর তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পত্র-পত্রিকার অবস্থা, শাসকদের নির্যাতন, ৬ দফা বাদ দিয়ে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা ইত্যাদি বিষয় তিনি তুলে ধরেছেন। মানুষের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন ও সংগ্রাম তিনি করেছেন যার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনতা অর্জন |

বাংলার মানুষ যে স্বাধীন হবে এ আত্মবিশ্বাস বার বার তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে। এত আত্মপ্রত্যয় নিয়ে পৃথিবীর আর কোনো নেতা ভবিষ্যদবাণী করতে পেরেছেন কিনা আমি জানি না ।

ধাপে ধাপে মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেছেন। উজীবিত করেছেন।

৬ দফা ছিল সেই মুক্তি সনদ, সংগ্রামের পথ বেয়ে যা এক দফায় পরিণত হয়েছিল, সেই এক দফা স্বাধীনতা । অত্যন্ত সুচারুরূপে পরিকল্পনা করে প্রতিটি পদক্ষেপ তিনি গ্ৰহণ করেছিলেন। সামরিক শাসকগোষ্ঠী হয়তো কিছুটা ধারণা হার মানতে বাধ্য হয়েছিল ।

৬ দফাকে বাদ দিয়ে কারা ৮ দফা করে আন্দোলন ভিন্নখাতে নিয়ে যাবার চেষ্টা হয়েছিল, সে কাহিনিও এই লেখায় পাওয়া যাবে।

দীর্ঘ কারাবাসের ফলে তাঁর শরীর যে মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে যেত। তিনি সে কথা আমাদের কখনো জানতে দেন নাই। আমি এই ডায়েরিটা পড়বার পর অনেক অজানা কথা জানার সুযোগ পেয়েছি। ভীষণ কষ্ট হয় যখন দেখি অসুস্থ-সেবা করার কেউ নেই, কারাগারে একাকী বন্দি অর্থাৎ Solitary confinement. কখনো কোনো বন্দিকে এক সপ্তাহের বেশি একাকী রাখতে পারে না । যদি কেউ কোনো শাস্তি পায়, সেই শাস্তি হিসেবে এই এক সপ্তাহ রাখতে পারে। কিন্তু বিনা বিচারেই তাকে একাকী কারাগারে বন্দি করে রেখেছিল । তার অপরাধ ছিল তিনি বাংলার মানুষের অধিকারের কথা বার বার বলেছেন ।

বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন; ক্ষুধা, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন । বাংলার শোষিত বঞ্চিত মানুষকে শোষণের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে উন্নত জীবন দিতে চেয়েছেন ।

গাছপালা, পশু-পাখি, জেলখানায় যারা অবাধে বিচরণ করতে পারত। তারাই ছিল একমাত্র সাথি । এক জোড়া হলুদ পাখির কথা কী সুন্দরভাবে তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে তা আমি ভাষায় বর্ণনা করতে পারব না। একটা মুরগি পালতেন, সেই মুরগিটা সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন। ঐ মুরগিটার মৃত্যু তাকে কতটা ব্যথিত করেছে সেটাও তিনি তুলে ধরেছেন অতি চমৎকারভাবে ।
কারাগারে আওয়ামী লীগের নেতা-কমীদের দুঃখ দুৰ্দশা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ-দলের প্রতিটি সদস্যকে তিনি কতটা ভালোবাসতেন, তাদের কল্যাণে কত চিন্তিত থাকতেন সেকথাও অকাতরে বলেছেন । তিনি নিজের কষ্টের কথা সেখানে বলেন নাই। শুধু একাকী থাকার কথা বার বার উল্লেখ করেছেন ।

জেলখানায় পাগলা গারদ আছে তার কাছেরই সেলে তাকে বন্দি রাখা হয়েছিল । সেই পাগলদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না তাদের আচার-আচরণ অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে তিনি তুলে ধরেছেন । এদের কারণে রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতেন না । কষ্ট হতো। কিন্তু নিজের কথা না বলে তাদের দুঃখের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। মানবদরদি নেতা ছাড়া বোধহয় এই বর্ণনা দেওয়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয় ।

কী অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের জীবন চলত তা তিনি বুঝতেন, কিন্তু আমার মায়ের ওপর ছিল অগাধ বিশ্বাস । আমার দাদা-দাদি সময় সময় ছেলেকে উৎসাহ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন । বাবা-মায়ের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ এই লেখায় পাওয়া যায়। যত বয়সই হোক আর যত বড় নেতাই তিনি হন, তিনি যে বাবা মায়ের আদরের ‘খোকা’ সে কথাটা আমরা উপলব্ধি করি যখন তিনি বাবা মায়ের কথা লিখেছেন । গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পিতা-মাতার প্রতি প্ৰদৰ্শন খুব কম লোক দেখাতে পারেন। তার উপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে জেল থেকে বের হয়ে বাবা মাকে দেখতে পারবেন। কিনা, কারণ তাদের বয়স হয়েছে। সবকিছু ছাপিয়ে দেশ ও দেশের মানুষ ছিল সর্বোচ্চ স্থানে। আর এই দায়িত্ব পালনে পরিবারের সমর্থন সবসময় তিনি পেয়েছেন। এত আত্মত্যাগ করেছেন বলেই তাে আজ পৃথিবীর বুকে বাঙালি জাতি একটা রাষ্ট্র পেয়েছে। এই তুলনাহীন অর্জনের জন্যেই তিনি আজ এই জাতির পিতা । জাতি হিসেবে আতপরিচয় পেয়েছে । বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে।

১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসের ১৮ তারিখ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়। একাকী একটা ঘরে দীর্ঘদিন বন্দি থাকেন। একটা ঘর গাঢ় লাল রঙের মোটা পর্দা, কাচে লাল রং করা, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাইট চব্বিশ ঘণ্টা জ্বালানো থাকা অবস্থায় দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়েছে। এটাও চরম অত্যাচার, যা দিনের পর দিন তার উপর করা হয়েছিল।

পাঁচ মাস পর একখানা খাতা পান লেখার জন্য । তিনি সেখানে উল্লেখ করেছেন যে তাকে এমনভাবে একটি ঘরে বন্দি করে রেখেছিল যে রাত কি দিন তাও বুঝতে পারতেন না ও দিন তারিখ ঠিক করতে পারতেন না । তাই এই খাতায় কোনো দিন তারিখ দিয়ে তিনি লেখেননি । ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কুর্মিটোলা নিয়ে যাবার বর্ণনা । বন্দিখানার কিছু কথা তিনি লিখেছেন, বিশেষ করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় জড়িত করা হয়েছিল যে মামলায় অভিযোগ ছিল তিনি সশস্ত্ৰ বিপ্লব করে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন-এতে আরও ৩৪ জন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাকেও জড়িত করা হয়েছিল ।
সেই সময় বন্দি অবস্থায় যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো অর্থাৎ ইন্টারোগেশন করা হতো সে কথাও লিখেছেন । এই কষ্টের জীবন বেছে নিয়েছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য । জনগণের জন্যই সারা জীবন সংগ্ৰাম করেছেন, কষ্ট করেছেন । মনের জোর ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাকে এত কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা আল্লাহ দিয়েছিলেন ।

প্রথম খাতাটা ১৯৬৬ সালে লেখা । আর দ্বিতীয়টা ১৯৬৭ সালে লেখা । এই সাথে আর কয়েকটি খাতায় ঐ সময়ের কথা লেখা ছিল সেগুলি সব ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হওয়ার পর ঘরের বাইরে কোর্টে নিয়ে যেত । কাঠগড়ায় সকল আসামিকে দেখতে পেয়েছিলেন । সকলের আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত থাকতে পারতেন । পরিবারের সদস্য কতজন যেতে পারবে সে সংখ্যা নির্দিষ্ট করে পাশ দেয়া হতো । যারা পাশ পেতো তারাই ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে কোর্টে যেতে পারতো । কারণ কোর্ট ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই বসতো ।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যে খাতা দেওয়া হতো তার পাতাগুলি গুনে নাম্বার লিখে দিতো। প্রতিটি খাতা সেন্সর করে কর্তৃপক্ষের সাই ও সিল দিয়ে দিত।

এই লেখাগুলি ছাপানোর জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে শামসুজ্জামান খান, বাংলা একাডেমির ডিজি সাৰ্ব্বক্ষণিক কষ্ট করেছেন । বার বার লেখাগুলো পড়ে প্রুফ দেখে দিয়েছেন বার বার সংশোধন করে দিয়েছেন। তাঁর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। তার পরামর্শ আমার জন্য অতি মূল্যবান ছিল । তার সহযোগিতা ছাড়া কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না । বাংলা একাডেমিকেই বইটি ছাপানোর জন্য দেয়া হয়েছে। সেলিমা, শাকিল, অভি। সর্বক্ষণ সহায়তা করেছে। তাদের সহযোগিতায় কাজটা দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছি। তাদের সকলকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই বইয়ের মূল প্রুফ দেখা থেকে শুরু করে ছাপানো পর্যন্ত যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদেরকেও আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাঠকদের হাতে বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই ডায়েরির লেখাগুলি যে তুলে দিতে পেরেছি। তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি । অসমাপ্ত আত্মজীবনী বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের পথপ্রদর্শক । ভাষা আন্দোলন থেকে ধাপে ধাপে স্বাধীনতা অর্জনের সোপানগুলি যে কত বন্ধুর পথ অতিক্রম করে এগুতে হয়েছে তার কিছুটা এই কারাগারের রোজনামচা বই থেকে পাওয়া যাবে । স্বাধীন বাংলাদেশ ও স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদা বাঙালি পেয়েছে যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, সেই সংগ্রামে অনেক ব্যথা বেদনা, অশ্রু ও রক্তের ইতিহাস রয়েছে। মহান ত্যাগের মধ্য দিয়ে মহৎ অর্জন করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । এই ডায়েরি পড়ার সময় চোখের পানি বাধ মানে না । রেহানা, বেবী ও আমি চোখের পানিতে ভেসে কাজ করেছি। আজ বেবী নেই তার কথা বার বার মনে পড়ছে। বাংলা কম্পিউটার টাইপ করে নিনু আমার কাজটা সহজ করে দিয়েছে। অক্লান্ত পরিশ্রম করে সে কাজ করেছে তার আন্তরিকতা ও একাগ্ৰতা আমার কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে, তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নিনু যখন টাইপ করেছে তারও চোখের পানি সে ধরে রাখতে পারেনি । অনেকসময় কম্পিউটারের কী বোর্ড তার চোখের পানিতে সিক্ত হয়েছে। আমরা যারাই কাজ করেছি। কেউ আমরা চোখের পানি না ফেলে পারিনি ।

তার জীবনের এত কষ্ট ও ত্যাগের ফসল আজ স্বাধীন বাংলাদেশ । এ ডায়েরি পড়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার উৎস খুঁজে পাবে।

আমার মায়ের প্রেরণা ও অনুরোধে আব্বা লিখতে শুরু করেন । যতবার জেলে গেছেন আমার মা খাতা কিনে জেলে পৌঁছে দিতেন, আবার যখন মুক্তি পেতেন তখন খাতাগুলি সংগ্রহ করে নিজে সযত্নে রেখে দিতেন। তাঁর এই দূরদর্শী চিন্তা যদি না থাকত তাহলে এই মূল্যবান লেখা আমরা জাতির কাছে তুলে দিতে পারতাম না । বার বার মায়ের কথাই মনে পড়ছে।

শেখ হাসিনা
২৫শে জানুয়ারি ২০১৭


প্রকাশকঃ বাংলা একাডেমি





Download
Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com