সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Shakoor Majid. Show all posts
Showing posts with label Shakoor Majid. Show all posts

হুমায়ূন আহমেদ : যে ছিল এক মুগ্ধকর - শাকুর মজিদ

Je Chilo Ek Mugdhokor - Shakoor Majid
হুমায়ূন আহমেদ ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে লেখালেখি, নাট্যনির্দেশনা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যাপৃত ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ৩২ বছর ধরে শাকুর মজিদ তাঁর সঙ্গে মিশেছেন। একটা পর্যায়ে মজিদ ছিলেন মূলত হুমায়ূন আহমেদের ব্যক্তিজীবনের অন্তরঙ্গ অনুরাগী আর কৌতূহলী পর্যবেক্ষক। তাঁর একান্ত নিজস্ব অনুভূতিগুলোই এই বইতে প্রকাশ পেয়েছে। বড় মাপের কোনো মানুষের কথা বলতে গিয়ে তাঁদের কাছের মানুষেরা প্রায়শই অতিশয়োক্তি করে তাঁদের রচনাকে ভারাক্রান্ত করেন, সাধারণ পর্যায় থেকে তুলে তাঁকে মহামানবের স্তরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শাকুর মজিদ এ ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এ বই কেবল স্মৃতিকথাই নয়, এর মধ্যে একজন সাধারণ লেখকের অসাধারণ হয়ে ওঠা এবং তাঁর বিবর্তনের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
সূচিপত্র
*শঙ্খনীল মুগ্ধতা
*প্রথম দর্শনের মুগ্ধতা
*ছিয়াশির বইমেলায়
*রবীন্দ্র-রচনার মুগ্ধ পাঠক
*প্রধান অতিথির মুগ্ধতা
*অঙ্গনা ও হুমায়ূনের জহুরি চোখ
*বহুব্রীহি ও ‘তুই রাজাকার’
*বাংলাবাজার পত্রিকা ও বিস্মৃত হুমায়ূন
*আগুনের পরশমণি : এক চলচ্চিত্রকারের আবির্ভাব
*টইটুম্বর ও হুমায়ূন-জননী
*ভাটির পুরুষ ও কিছু মুগ্ধতার গল্প
*২৪ ক্যারেটম্যান ও বৈরাতি যখন এক কাতারে
*প্রিয় মরণগীতি
এক দেশান্তরী যুবকের মুগ্ধতা
*অন্তরঙ্গ পর্বের সূচনা
*তাঁর সঙ্গে সুন্দরবনে
*অকৃতী অধমের হাতে পাঁচটি নীলপদ্ম
*তাঁর শেষ ছবি
আড্ডাবাজ হুমায়ূন
*যে আড্ডায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন
*তাঁর কয়েকটি জন্মদিন
*দক্ষিন হাওয়ার দুঃখী আড্ডা
*আপনি ভালো আছেন তো!
শাকুর মজিদ ছবি তোলেন, তথ্যচিত্র-প্রামাণ্যচিত্র বানান, নাটক লেখেন; লেখার হাতটিও তাঁর ভালো। নিজের স্কুলজীবন অথবা কাছে-দূরের দেশ বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখা বইগুলো পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে সেই অল্প বয়সেই আত্মার একটি মিল খুঁজে পেয়েছেন শাকুর—হুমায়ূনের ভেতরে যে একটি ভবঘুরে মানুষ ছিল, তাকে তিনি চিনতে পেরেছেন। এই ভবঘুরে মানুষটি হুমায়ুন আহমেদের সৃষ্টিশীল সত্তাটিকে যে হাত ধরে নানা জায়গায় নিয়ে যেত, মানুষের মনের অলিগলি থেকে নিয়ে বিশ্বসংসারের আনন্দ-বেদনার অলিন্দে-উঠানে, সে বিষয়টি শাকুর বুঝতে পেরেছিলেন। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হুমায়ূন আহমেদকে তিনি দেখেছেন, জেনেছেন, তাঁর সৃষ্টিশীলতার উৎসগুলো চিহ্নিত করার প্রয়াস পেয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপোড়েনের সাক্ষী হয়েছেন, তাঁর মেজাজটি পড়তে চেষ্টা করেছেন এবং তাঁর ভেতরের ভবঘুরে মানুষটির সঙ্গে সখ্য গড়তে চেয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদও, যাকে বলে আশকারা দিয়েছেন শাকুরকে; তাঁর কাজের প্রতি এক ধরনের সস্নেহ সমর্থন দিয়ে গেছেন। আর যতই হুমায়ূনকে দেখেছেন শাকুর, ততই মুগ্ধ হয়েছেন। এই মুগ্ধতার প্রকাশ যে ছিল এক মুগ্ধকর। তবে মুগ্ধতাটা মোহাবিষ্টতার প্রদর্শনী হয়ে দাঁড়ায়নি, আবেগের বিহ্বলতার বিশেষণমণ্ডিত বর্ণনা হয়ে দাঁড়ায়নি, যে বিপদটি এ ধরনের আখ্যানকে বিপথে নিয়ে যেতে পারে। শাকুর বরং উল্টো পথে হেঁটেছেন—মুগ্ধতা কেন, অথবা নয় কেন, কখন ও কোথা থেকে এর উৎপত্তি—এসব প্রশ্নের আদিঅন্ত খুঁজেছেন। সেই শঙ্খনীল কারাগার পড়ার অভিজ্ঞতায় যে হুমায়ূনকে তিনি চিনেছিলেন, তাঁকে যেন বাজিয়ে নিতে চেষ্টা করেছেন এর পরের ৩২ বছর এবং এটি করতে গিয়ে একজন লেখকের, নাট্যকারের, গান রচয়িতার, চিত্রনির্মাতা ও পরিচালকের, চিত্রকরের তিন দশকের পথ পরিক্রমা, তাঁর হুমায়ূন আহমেদ হয়ে ওঠার একটি সংবেদী ধারা বিবরণী দিয়েছেন।
শাকুরের বর্ণনায় যে হুমায়ূনকে আমরা পাই, তিনি এক আশ্চর্য প্রতিভার নাম। একবার তাঁকে নিয়ে একটা বিতর্ক শুরু হয়েছিল, যার বিষয়বস্তু ছিল, তিনি জনপ্রিয় লেখক বটে, কিন্তু মহৎ লেখক নন ইত্যাদি। আমার কাছে এই বিতর্ক অর্থহীন মনে হয়েছে। আমি দেখেছি, অসংখ্য তরুণ-তরুণী তাঁর বই পড়ে চোখে একটা নামহীন কষ্ট, অথবা ঘোর অথবা স্বপ্ন নিয়ে ঘুমোতে গেছে, তাঁর চরিত্রদের সঙ্গে হেসেছে-কেঁদেছে, তাদের সঙ্গে রাতের বৃষ্টিতে ভিজেছে, ভরা জ্যোৎস্নায় পথে নেমে গেছে। তাঁদের বোধ অনুভূতিগুলোকে নিজের অধিকারে এনে হুমায়ূন তাদের তাঁর গল্পের সহযাত্রী করে নিয়েছেন। এই অর্জনটা সামান্য নয় এবং এটিকে মহৎ সাহিত্যের সংজ্ঞায় ফেলে বিচার করার কোনো প্রয়োজন নেই। শাকুর সেই তরুণদেরই একজন। তিনি লিখেছেন তাঁর কষ্ট-স্বপ্ন-ঘোরের কথা, জ্যোৎস্না-বৃষ্টিতে ভেজার কথা। তবে পার্থক্য এই, তিনি বর্ণনাটা করে গেছেন নির্মেদ গদ্যে, কোনো অতিশয়োক্তির আশ্রয় না নিয়ে। তিনি মুগ্ধ হয়েছেন, কিন্তু মুগ্ধতার একটা ইতিহাসও লিখে গেছেন।
যে ছিল এক মুগ্ধকর—এর নির্মাণটি একটি মোজাইক-চিত্রের মতো। ৩০-৩২ বছরের অনেক ঘটনা-অভিজ্ঞতা থেকে ২৩টি বেছে নিয়ে তিনি মোজাইক-চিত্রটি সাজিয়েছেন। কিন্তু তলে তলে সেগুলোর একটা যোগ আছে। এবং এই যোগটা সম্ভব হয়েছে প্রতিটি বর্ণনার কেন্দ্রে হুমায়ূন থাকার জন্য। এসব বর্ণনা তাঁর সঙ্গে শাকুরের কাটানো বিশেষ কোনো মুহূর্তের, দিনের, সময়ের, ঘটনার, আড্ডায়, ভ্রমণে, অনুষ্ঠানে অথবা বইয়ের মাধ্যমে তাঁর সন্নিকট হওয়ার। হুমায়ূন আহমেদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাকুর। তারও বিবরণ আছে।
নীরদচন্দ্র চৌধুরী জানাচ্ছেন, ভালো বাঙালি বলতে যাদের বোঝায়, তারা আসলে আত্মভোলা। এ রকম এক আত্মভোলা মানুষের ছবি তুলেছেন শাকুর। ক্যামেরার ভাষায় বলতে গেলে, অনেকগুলো শটে, অনেকগুলো অ্যাঙ্গেলে, লেন্সের অদল-বদল করে, ফিল্টার লাগিয়ে অথবা না-লাগিয়ে তোলা ছবির একটি অ্যালবাম যেন সাজিয়েছেন শাকুর। এসব ছবিতে হুমায়ূন কখনো স্পষ্টভাবে, কখনো আলো-আঁধারিতে হাজির হয়েছেন। আলোকচিত্রী শাকুরকেও এই বইতে চেনা যাবে।




Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নুহাশপল্লীর এইসব দিনরাত্রি - শাকুর মজিদ

Nuhashpollir Eishob Dinratri Shakoor Majid in pdfনুহাশপল্লীর এইসব দিনরাত্রি - শাকুর মজিদ

নুহাশপল্লীর এইসব দিনরাত্রি প্রসঙ্গে
প্রায় ৩২ বছর ধরে হুমায়ূন আহমেদকে আমি চিনি। কিন্তু তঁঅর কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয় ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে। তাঁকে নিয়ে দীর্ঘ স্মৃতিচারণ করেছি আমার অপর বই ‘হুমায়ূন আহমেদ : যে ছিল এক মুগ্ধকর’-এ। এ বইটি কেবলমাত্র- নুহাশপল্লীকে ঘিরে আমার ব্যক্তিগত কিছু অনুভূতির প্রকাশ।
নিজের অনুভূতি প্রকাশেল সঙ্গে সঙ্গে নুহাশপল্লীর গাছপালা, ভাস্কর্য, নানারকমের স্থাপনা এবং সেসবকে কেন্দ্র করে হুমায়ূন আহমেদের যাপিত জীবন নুহাশপল্লীতে কেমন ছিল, সেটি প্রকাশের চেষ্টা করেছি।
বইটি প্রকাশের জন্য বন্ধুবর প্রকাশক মাজহারুল ইসলামের ঐকান্তিক আগ্রহ আমার জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
এ বইতে ব্যবহৃত বেশির ভাগ ছবিই আমার তোলা। কিছু ছবি সংগ্রহ করেছি। দু’টো ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া। ফটোগ্রাফারের নাম না জানার কারণে নাম দিতে পারি নি। কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি।
শাকুর মজিদ
১৩ জানুয়ারি, ২০১৩




Download
Nuhashpollir Eishob Dinratri Shakoor Majid in pdf 97 Pages, color, 21 MB
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শ্রাবণ মেঘের দিন - শাকুর মজিদ

humayun ahmed
২৪ জুলাই ২০১২।
আজ আমার বাবার মৃত্যু তারিখ। ১৯৮৫ সালের এই তারিখে ভোরবেলা আমার সামনেই আমার বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছিল। তিনি জাহাজে চাকুরী করতেন। অসুখ ধরা পড়ে মাল্টায়। সেখান থেকে অস্ট্রোলিয়া হয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয় দেশে। প্রায় ১৮ মাস নানাভাবে বেঁচে ছিলেন। সে অনেক কাহিনী। আমার বয়স তখন ১৯-২০ এর মতো। সংসারের বড় ছেলে। কত চাপ।

বাবার মৃত্যুর দিনটা আমার খুব মনে পড়ে। সেদিন সকালটা খুব ঝকঝকে ছিলো। দুপুরের পর পরই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি এলো। জোহরের নামাজের পর গ্রামের লোকগুলো তাঁকে নিয়ে আমাদের পারিবারিক গোরস্থানে কবর দিল।

আমার সবচেয়ে ছোট ভাইটির (রাসেল) বয়স তখন ৫ বছর ছিল। বাবার লাশকে যখন সাদা কাপড়ে মোড়া হচ্ছিলো, সে বারবার বলছিলো, বাবাকে এরকম কাপড় পরানো হচ্ছে কেনো? তার আরো অনেক প্রশ্ন ছিলো। যেমন বাবাকে ওরা নিয়ে গেলো কেনো? বাবা আসছে না কেনো? এসব।

আমার মনে আছে, বাবাকে কবরে নামানো হচ্ছে, আমি পাশে দাঁড়িয়ে। কেউ একজন আমাকে বললেন, নীচে নামতে। আমি নামি না, ভয় পাই। বাবাকে শোয়ানো হলো, একজন আমাকে বললেন, প্রথম মাটির ঢেলাটা যেনো আমি দেই।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমার মাথার উপর যেনো ছাতা ধরে রেখেছে। কিন্তু আমি ভিজে আছি আমার সারা শরীরে কাদা মাখানো। আমি একটুকরা কাদা ছুড়ে মারলাম বাঁশের মাচার উপরে। তারপর বাবার লাশ ধীরে ধীরে আমার কাছে অদৃশ্য হয়ে গেলো, আর কখনো দেখা হয়নি। ছুটি ছাটায় বাড়ি গেলে দূর থেকে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করি। এইটুকুই।

গ্রামের বাড়িতে আমার মা থাকেন প্রায় একা। তার বড় ছেলে হিসেবে আমি থাকি ঢাকায়। দুই ছেলে বিলেত, এক মেয়ে আমেরিকায়, আরেক মেয়ে আছে বিয়ানী বাজারে।
জুলাই মাস এলেই বিদেশে থাকা আমার ভাই-বোনেরা বেশ অস্থির হয়ে যায়। বিশেষ করে আমেরিকায় থাকা আমার ছোট বোন নুরু। বাবার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হবে ২৪ তারিখে, মসজিদে শিরনী যাবে, বাড়িতে মৌলানারা এসে খতম পড়বে, কবর জিয়ারত হবে। এসবের আয়োজন চলতে থাকে।
এ বছর আমার সবচেয়ে ছোট ভাই দেশে আছে। কিছুদিন আগে তার বিয়ে হয়েছে। তার বউর লন্ডন চলে যাবার কথা। কিন্তু নতুন পরিবারে এসে শ্বশুড়ের মৃত্যুবার্ষিকী সামনে রেখে সেও লন্ডন যাচ্ছে না, ২৪ তারিখের পর যাবে। এ বছর মৃত্যুবার্ষিকীটা অনেক বড় করে আয়োজন করবে তারা। তারা চাইছে আমিও যেনো সেদিন উপস্থিত থাকি।

অথচ আমি অবাক হয়ে দেখি, ১৯ জুলাইর পর তারা কেউই আমাকে এ বিষয়ে কোনো কিছু জানায় না। এমনকি আজ ঢাকার বারডেমের হিমঘর থেকে তাঁর লাশ নিয়ে এখানে এই নুহাশপল্লীতে আসা পর্যন্ত আমি নিজেও বাড়িতে ফোন করে কোন খোঁজ নেইনি।

২৩ জুলাই ভোর বেলা তাঁর লাশ এসে পৌছে ঢাকায়। সেখন থেকে শহীদ মিনারের নাগরিক শ্রদ্ধাঞ্জলীর শেষে তাঁকে পাঠিয়ে দেয়া হয় হিম ঘরে। লাশ কোথায় দাফন হবে এ নিয়ে ফায়সালা হতে সময় লাগে প্রায় ১৫ ঘন্টা। মধ্যরাতে সিদ্ধান্ত হয় লাশ দাফন হবে এই নুহাশপল্লীতেই লীচু গাছের তলায়। সকাল সাড়ে ন’টায় লাশবাহী গাড়িটি ঢাকা থেকে রওয়ানা দেয়। পৌঁছে এসে দুপুর বারোটার দিকে।

আজও সেই ১৯৮৫ সালের মতো দেখি অবস্থা। সকালটা ফকফকা ছিলো, তিনি এসে ঢুকতেই আকাশ ফাটিয়ে ঝরে পড়লো শ্রাবণ মেঘের ধারা।

পিরুজালী বাজারের মোড় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথের প্রায় পুরোটুকুই গাড়িতে ঠাসা। এ সড়ক এর আগে কখনো দেখেনি এমন গাড়ির স্রোত। নুহাশপল্লীর মাঠের সবুজ নরম ঘাসের ডগায় এতো শত পায়ের ছাপও না।

বৃষ্টি মধ্যেই ৩-৪টি টেলিভিশন অনলাইন ব্রডকাস্টি শুরু করেছে তার দাফনের প্রক্রিয়ার। লীচু তলায় শুরু হয়েছে কবরের জন্য। সব কিছু একা সামলাচ্ছেন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, শাওনের বাবা।
আরেকটা ছোট শামিয়ানার নীচে রাখা হয়েছে তার কফিন।

এক সময় দেখি, নয় নম্বর বিপদ সংকেত এর চিত্রনাট্যের যেনো বাস্তব রূপ নিয়ে তার কফিনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাঁর পুত্র-কন্যারা। হায়রে নিয়তি!

বাপের প্রতি নির্মম অভিমানে যে কন্যারা তার জীবদ্দশায় এই নুহাশপল্লীর চত্বর থেকে দূরে ছিলেন তারা এখন সামিল হয়েছেন শবযাত্রার বিদায়ী আয়োজনে। সিনেমার মতো যদি এখন কফিন খুলে বেরিয়ে এসে হুমায়ূন বলতেন- এই, আমি কিন্তু মৃত্যুর অভিনয় করলাম। মরিনি, দেখলাম- আমার মৃত্যুর পর তোমরা কে কী করবে তার জন্য এই মৃত্যু-মৃত্যু খেলাটা খেলেছিলাম মাত্র। আসো, আমার ঘরে আসো, বসো। এই কুসুম, তুমি একটু রেস্ট নাও, আমি আমার মেয়েদের সাথে একটু গল্প করবো, আর আমার স্যুটকেসটা দাও তো, নিউইয়র্ক থেকে আমার নাতি-নাতনির জন্য যে কাপড়গুলো কিনেছি, ওটা বের করো।

এমন তো তিনি শুরু করেছিলেন ১৯৯৫-৯৬ সালে, সেই ‘আজ রবিবার’ থেকে। ‘আজ রবিবার’- এ বৃদ্ধ পিতা তার কবরের ডিজাইন করিয়েছিল, পাগলা মামা কফিনের ভেতর শুয়ে কবরের স্বাদ নিয়েছিল। তার ১৫-১৬ বছর পর যখন এই নুহাশপল্লীকে নিয়েই ছবি বানালেন ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’- তখনও কিন্তু সেই চিন্তারই প্রকাশ ঘটালেন। মাঝখানে তাঁর নিজের চরিত্রটা নিয়ে এলেন।

সিনেমা বা নাটকের কাহিনী বদল হয়ে যায় নিমেষে। মানুষ আরো কতগুলো মানুষকে নিয়ে অনেক নাটকীয় ঘটনার জন্ম দেয়, মৃত্যু দেয়। সে যা চায় তাই পারে। কিন্তু এই বিশ্ব নাট্যমঞ্চে আমাদের মতো তুচ্ছ মানুষকে নিয়ে যে নাট্যকার-নির্দেশক নাটক সাজিয়েছেন তার নির্দেশকে অবজ্ঞা করবে এমন সাধ্য কোন নটের? যদি তাই হতো, তাহলে এই ডেথ সিনকে ইমপ্রোভাইজ করে কফিন থেকে বেরিয়ে আসা হয়তো কোনো ব্যাপারই ছিলোনা।

পৃথিবীর এই রঙ্গমঞ্চে হুমায়ূন আহমেদ নামক যে চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছিল ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার এক গ্রামে, এই চরিত্রের সমাপ্তি ঘটে গেছে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে। চরিত্রের সমাপ্তি ঘটলেও মঞ্চ থেকে নিষ্ক্রান্ত হবার জন্য তার এক্সিট পয়েন্ট ঠিক করে রেখেছেন এই নাট্য পরিচালক। তার জন্য রেখেছেন এই নুহাশপল্লীর সবুজ চত্বর।

১৯৮৫ সালে আমার উনিশ-কুড়ি বছর বয়স, আমার সাহস ছিলো না বাবার কফিন নিয়ে গোরস্থানে যেতে। আমি লাশের বহরের সাথে ছিলাম। এবার বয়স হয়েছে, কিঞ্চিত সাহসও। অনেকের সাথে আমার কাঁধও ছিলো কফিনের করালে।

কবরের পাশে এসে কফিন নামানো হয়। ওপাশে নুহাশ দাঁড়িয়ে। নুহাশের এখন যা বয়স, ১৯৮৫ সালে আমার বয়স অনেকটা সে রকমই ছিলো। নুহাশ কী করবে সে জানে না। একজন বললো-নুহাশ, তুমি নামো। সে সময় আমি কিন্তু সাহস পাইনি, নুহাশ পেয়েছে। কাদামাখা কবরের গর্তে নেমে গেলো নুহাশ।

এবার লাশ কবরে নামানোর পালা। তাঁর পা যেদিকে আছে, আমি সেপাশে দাঁড়ানো।
লাশ নামানোর জন্য ওটাকে হাত দিয়ে ধরতে হয়। আমি এই জীবনে কোনো লাশ ছুঁইনি। আজ ছোঁব। আমি, অনেকের সাথেই একটা পা ধরলাম। ডীপ ফ্রিজের ভেতর থেকে লম্বা মাছ বের করে আনলে ওটাকে যে রকম শীতল-শক্ত মনে হয়, পা’টাও দেখি সে রকম। হিমঘরে থেকে পুরো শরীরটা হিমায়িত।

তারপরের প্রক্রিয়াগুলো খুবই স্বাভাবিক। আমি বারবার নুহাশকে দেখি এবং ২৭ বছর আগের আমাকে দেখি।

বৃষ্টি থেমে যায় এক সময় । ধীরে ধীরে মানুষের স্রোতেও ভাটা পড়ে। নুহাশপল্লীর সবুজ ঘাসের চত্বর কাদার প্রলেপে ঢেকে যায়। অনেক দূরে একটা গাছের তলায় বসে থাকি।
আমার মা’র ফোন আসে। বলেন, চিন্তা করিস না, মিলাদের সব ব্যবস্থা ঠিক আছে। আজ তোর বাবার জন্য দোয়ার সময় একসাথে হুমায়ূন আহমেদের জন্য দোয়া হবে।

২৭ বছর আগে বাবাকে কবর দিয়ে এসে পুকুর পাড়ে বসেছিলাম। আমার কান্না আসেনি। আজ বসে আছি সেই জাপানী বটের তলায়। আমার কি কান্না আসছে এখন? আমি ঠিক বলতে পারবো না।
এই জগৎ নাটের নাটশালার নটবর তার তৈরি নট-নটিদের নিয়ে কখন কী আসর সাজান আমরা বুঝতে পারিনা।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রিয় হুমায়ূন : দুই লেখকের গল্প - শাকুর মজিদ

প্রিয় হুমায়ূন : দুই লেখকের গল্প - শাকুর মজিদহুমায়ূন আহমেদ আর ইমদাদুল হক মিলন- এ দুটি নাম খুব পাশাপাশি ব্যবহৃত হতো বাঙালি পাঠকদের কাছে। কারণ দুজনই অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিন্তু অত্যন্ত মধুর। কখনো অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো, কখনো বা বড় ভাই-ছোট ভাইয়ের মতো, আবার কখনো বা পিতা-পুত্রের মতো। এ দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে বৈঠকি আড্ডায় বসেছি বহুবার, কিন্তু নির্ধারিত সাক্ষাৎকারপর্ব ছাড়া এ দুজনকে কখনোই পরস্পরের সাহিত্য নিয়ে সামনাসামনি আলোচনা করতে দেখিনি, বরং আড্ডাবাজি, হালকা রসিকতা কিংবা পরস্পরের টিপ্পনী কাটতেই দুজন ব্যস্ত থাকতেন।
এ দুজন লেখকই পরস্পরকে একাধিক বই উৎসর্গ করেছেন। হুমায়ূন তাঁর জীবদ্দশায় অন্তত দুটি লেখা লিখেছেন ইমদাদুল হক মিলনকে নিয়ে। অন্য কোনো লেখকের জন্মদিনের লেখা হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ প্রথম যাঁকে নিয়ে লেখেন, তাঁর নাম ইমদাদুল হক মিলন। আর মিলন হুমায়ূনের জীবদ্দশাতেই তাঁর অনেক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পত্রিকায়। হুমায়ূনের অসুস্থতার পরপরই তাঁকে নিয়ে ধারাবাহিক স্মৃতিচারণামূলক লেখা শুরু করেছেন। মৃত্যুর পর সেসব লেখা ও অন্যান্য স্মৃতিকথা নিয়ে লিখেছেন গ্রন্থ 'প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ'।
'প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ' গ্রন্থটি যদিও হুমায়ূনকে নিয়ে লেখা ইমদাদুল হক মিলনের স্মৃতিকথা, কিন্তু প্রকারান্তরে এটি দুই লেখকের বেড়ে ওঠা আর বিকশিত হওয়ারই গল্প। প্রিয় হুমায়ূন আহমেদের কথা শোনাতে গিয়ে অকপটে লেখক তাঁর নিজের কথাও শুনিয়েছেন।
ইমদাদুল হক মিলনের এই গ্রন্থটির মধ্যে সবচেয়ে প্রকট হয়ে যে বিষয়টি এসেছে, তা হচ্ছে এ দুই লেখকের লেখালেখির সূচনাপর্বের সংকটময় সময়। দুজনই অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে তাঁদের সংসারজীবন শুরু করেছিলেন। এই দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেই দুজন তাঁদের প্রথম জীবনের লেখালেখি করেন। সে সময় জীবনের কঠিন বাস্তবতাগুলো সামনে দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের খোকা যে ক্রান্তিকালের বর্ণনা দিয়েছিল, তা প্রকাশিত হয়েছিল হুমায়ূনের 'নন্দিত নরকে' আর 'শঙ্খনীল কারাগার'-এ। এ দুটি উপন্যাসের প্রায় কুড়ি বছর পর ভাগ্যান্বেষণে জার্মানি পাড়ি দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে এসে জীবনসংগ্রামে লিপ্ত হওয়া অপর টগবগে তরুণ ইমদাদুল হক মিলন লিখেছিলেন তাঁর প্রথম দিককার মাইলফলক উপন্যাস 'পরাধীনতা'।
হুমায়ূন আহমেদ দীর্ঘ চার দশক ধরে লেখালেখি করেছেন, ইমদাদুল হক মিলনও লিখছেন তিন দশক ধরে। কিন্তু এঁদের দুজনই এই দীর্ঘ জীবনের লেখালেখিতে তাঁদের প্রথম দিকের লেখাগুলোকে অতিক্রম করে গেছেন এমন লেখার সংখ্যা খুব বেশি নয়। এই লেখকদ্বয়ের একটি সাধারণ গুণ আছে- তাঁরা দুজনই অত্যন্ত চমৎকার গদ্য রচনা করতে পারেন এবং এ দুজনই আশির দশক থেকে প্রায় একই সঙ্গে দুই হাতে লেখা শুরু করেন, একসময় তেমন কোনো বাছবিচার ছাড়াই। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে জীবন থেকে পাওয়া বোধগুলোর বিচ্ছুরণ ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে তাঁদের লেখায়। এর পরিবর্তে সম্পাদক বা প্রকাশকের ফরমায়েশকে প্রাধান্য দিয়ে নানা রকমের গল্প-উপন্যাস লিখতে থাকেন। তাঁদের দুজনেরই জাদুমাখা গদ্যে মোহিত হতে থাকে নতুন পাঠক। দিনে দিনে তাঁদের লেখার চাহিদা বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয় অর্থ-যোগ। বারো শ টাকার বাড়ি ভাড়ায় থাকা লেখক ইমদাদুল হক মিলন প্রকাশকের কাছ থেকে বস্তা ভর্তি দুই লাখ টাকার বান্ডিল পেয়ে দিশেহারা হয়ে যান। সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনের হুমায়ূন আহমেদ এক উপন্যাসের জন্য দশ লাখ টাকা অগ্রিম পেয়ে হন বিগলিত। তাঁরা প্রকাশকদের চাহিদামাফিক ক্রমাগত লিখতে থাকেন।
বিগত তিন দশক বাংলাদেশের বাংলা ভাষার প্রকাশনাশিল্পকে জিইয়ে রাখতে এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেট যুগের তরুণ-তরুণীদের বইমুখী করে রাখার জন্য এ দুই লেখকের ভূমিকাকে কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। এ দুই লেখকই জনপ্রিয় লেখক হিসেবে স্বীকৃত। তবে কখনো কখনো এই 'জনপ্রিয়' হওয়ার বিষয়টি কোনো কোনো সাহিত্য সমালোচকের কাছে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হলেও হুমায়ূনের জীবদ্দশায়ই এ দুই লেখকের আলোচনায় তা বারবার উঠে এসেছে, যা ইমদাদুল হক মিলনের 'প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ' গ্রন্থে বিশদভাবে আছে।
হুমায়ূন আহমেদ আসলে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হওয়ার জন্যই চেষ্টা করেছিলেন। এই গ্রন্থে সে কথাই লেখা আছে। পলিমার কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করার সময় যখন তিনি আমেরিকায় ছিলেন, সেখানে বসেই খবর পান, বাংলাদেশে ইমদাদুল হক মিলন নামের একজন তরুণ লেখক খুব জনপ্রিয়। দেশে এসে ১৯৮৩ সালের বইমেলায় ইমদাদুল হক মিলনের কাছে তাঁর বই মেলে ধরেন অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য। এ কথা ইমদাদুল হক মিলনের লেখায় যেমন এসেছে, হুমায়ূন আহমেদের লেখায়ও আছে। ইমদাদুল হক মিলন হুমায়ূন আহমেদের শৈশব ও কৈশোর থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের নানা বাঁকের কথা বলার পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদের প্রায় পূর্ণাঙ্গ একটি চরিত্র উপস্থাপন করেছেন এই লেখায়। যেখানে শুধু লেখক হুমায়ূনই নন, লেখক থেকে ধীরে ধীরে বিবর্তিত হওয়া মঞ্চ ও টেলিভিশনের নাট্যকার, পরিচালক, চলচ্চিত্র-নির্মাতা, গীতিকার ও চিত্রকর হুমায়ূনের পরিচয় তুলে ধরেছেন।
এর বাইরেও উঠে এসেছে তাঁর পারিবারিক পটভূমি। 'সাহিত্য সুধাকর' পিতার কাছ থেকে কৌশলে শেখা রবীন্দ্রনাথের কবিতা কিংবা খেয়ালি পিতার বেহালা কেনার বিষয়, সিলেটের বাড়িতে থাকার সময় সুর সাগর প্রাণেশ দাশের কাছ থেকে লোকসংগীত শোনার বিষয়টি পরবর্তী সময়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা এবং চরিত্র সৃষ্টিতে কী প্রভাব রেখেছিল, সেসব কথাই বলেছেন।
ঔপন্যাসিক ইমদাদুল হক মিলনের কাছ থেকে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস নিয়ে অধিক আলোচনা আসবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লক্ষণীয় যে হুমায়ূনের প্রথম জীবনের উপন্যাসগুলোর পর পরবর্তী পরিণত বয়সে লেখাগুলো থেকে কেবল 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প' এবং 'লীলাবতী'ই স্থান পেয়েছে বেশি। যদিও তাঁর 'মিসির আলী', 'হিমু কিংবা 'শুভ্র' বিষয়ক উপন্যাসগুলোর প্রসঙ্গ এসেছে; তথাপিও হুমায়ূন আহমেদ রয়ে গেছেন তাঁর নিজস্ব বোধ থেকে সৃষ্টি করা লেখাগুলোর মধ্যে। প্রায় ২০০টির মতো উপন্যাস লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ। কিন্তু আলোচনায় ঘুরেফিরে এসেছে প্রথম দিকের কয়টি এবং পরবর্তী সময়ে 'মধ্যাহ্ন', 'মাতাল হাওয়া', 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প', 'লীলাবতী'র মতো উপন্যাস। প্রকাশকদের তৃষ্ণা মিটানোর জন্য বিভিন্ন সময় কিছু লেখা নিয়ে অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁর দীনতার কথা।
হুমায়ূন আহমেদের ভেতরে সব সময় একজন বাউল বসবাস করতেন। এই বাউলিয়ানার প্রভাব আছে তাঁর ব্যক্তিজীবনে, তাঁর নাটক-সিনেমায়-উপন্যাসেও। 'জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প'-এ মসজিদের ইমাম হয়েও সংগীত সাধনা করা উকীল মুন্সির চরিত্র যেমন চিত্রিত করেছেন, তেমনি তাঁর নাটক-সিনেমায়ও বাংলাদেশের, বিশেষ করে ভাটি অঞ্চলের বাউলদের উপস্থিতি ছিল প্রকট। হাসন রাজা, রাধারমণ, আরকুম শাহ, রশিদ উদ্দিন, উকীল মুন্সি, শাহ আবদুল করীম, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বাউল ও লোককবির কথা এবং জীবনাচার তাঁকে আবিষ্ট করে রাখত। তিনি অনেক বেশি প্রভাবিত ছিলেন সুনামগঞ্জের বাউল ও লোককবি হাসন রাজা নিয়ে। তাঁর সংগীত যেভাবে তিনি ধারণ করতেন, তাঁর জীবনাচারকেও তিনি নিজের মধ্যে নিতে চাইতেন।
এই অসামান্য প্রতিভাবান মানুষটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে অনেক সংকটাপন্ন অবস্থানকে অতিক্রম করেছেন। কিন্তু কোনো কিছুই যে তাঁর লেখালেখি থেকে সরিয়ে নিতে পারেননি। এমনকি কঠিন অসুখ শরীরে নিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর কথা জেনেও তিনি লিখে গেছেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথায় দাঁড়ালেন হুমায়ূন? এ প্রশ্নের জবাবটুকু এই দুই লেখকের কথোপকথনের মধ্যেই আছে, 'হুমায়ূন ভাই, আমি জানতে চাইছিলাম যে আপনি এত বড় একজন লেখক, বাংলা সাহিত্যের প্রেক্ষাপটে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়? '
এমন প্রশ্ন ইমদাদুল হক মিলন করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদকে। উত্তরে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, 'আমার অবস্থান ঠিক হবে আমার মৃত্যুর পর। তোমরা সবাই মিলেই ঠিক করবে। এই সময়ে আমি বর্তমানের একজন জনপ্রিয় লেখক। এর বেশি কিছু না।'
বিগত তিন দশক ধরে বাংলাভাষী পাঠকদের মুগ্ধ করে রেখে গেছেন এই জনপ্রিয় লেখক। কালের পরিক্রমায় তিনি কতটা উত্তীর্ণ হয়ে কালজয়ী লেখক হিসেবে বিবেচিত হবেন, তা মহাকালই বলে দেবে। তবে তাঁর বেশ কিছু লেখা যে কালজয়ী হবে, এ বিষয়ে আমিও আশাবাদী- যেমন আশাবাদী ইমদাদুল হক মিলনও।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com