সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Sunil Gangopadhyay. Show all posts
Showing posts with label Sunil Gangopadhyay. Show all posts

যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi

যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আনন্দবাজার পত্রিকার বুধবারের সম্পাদকীয় পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়েছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নানা বিষয় নিয়ে লেখার এক-একটি কিস্তি, লেখকই যে-কলামটির নাম দিয়েছিলেন ‘যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি’। লেখকের মৃত্যুর সাত বছর পর এমন একটি সংকলন পেয়ে পাঠকের ভাল লাগবে। দেখা এবং শোনার বিস্তার সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কম নয়, সেগুলি সহজ এবং সাবলীলভাবে এসেছে লেখাগুলিতে। হয়তো কোনও-কোনও ক্ষেত্রে বাঁধুনি কিঞ্চিৎ আলগা মনে হয়, তবে কলামটির চরিত্রও আদতে সেরকমই— হালকা চালে ব্যক্তিগত মতামত, অভিজ্ঞতা, চিন্তা, পছন্দ-অপছন্দগুলি পাঠককে জানিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই রচিত ‘যা দেখি, যা শুনি...’। স্বগতোক্তি বা একা-একা কথাই হয়তো বলছেন লেখক, কিন্তু তা শোনার জন্য শ্রোতারও অভাব নেই। বাংলা ও বাঙালি, বইপত্তর, নাটক, সংস্কৃতি, সমাজ-রাজনীতির পাশাপাশি কখনও-কখনও স্কিট-ও লিখেছেন সুনীল। একটি উদাহরণ— ‘লাফিং বুদ্ধ, এই মূর্তির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। এর ঠিক বিপরীতে কী হতে পারে? গৌতম গম্ভীর!’
amarboi
মতামত মাত্রেই ব্যক্তিগত, কিন্তু অশোভন না হয়েও কীভাবে জোর দিয়ে পেশ করা যায় নিজস্ব বক্তব্য, তার কয়েকটি সোজাসাপটা নমুনা পাওয়া যাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বইটিতে। বাঙালির স্মৃতিকাতরতা এবং রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’ নাটকের একটি প্রযোজনা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, এই নাটকটির যে-কোনও প্রোডাকশনের সঙ্গেই কি বহুরূপীর প্রযোজনার তুলনা টানতেই হবে? ‘শম্ভু মিত্র এবং তৃপ্তি মিত্র, দু’জনেরই কণ্ঠস্বর ও স্বরক্ষেপণ ছিল অ্যাফেকটেড, অস্বাভাবিক ও কৃত্রিম, যা অনেকটা আবৃত্তিসুলভ। এ কালের সচেতন অভিনেতারা সেই দুর্বলতা বা বিশেষত্ব থেকে মুক্ত।’

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মার্গারিট, ফুল হয়ে ফুটে আছে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মার্গারিট, ফুল হয়ে ফুটে আছে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মার্গারিট, ফুল হয়ে ফুটে আছে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার এবং পুনরাবিষ্কার - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার এবং পুনরাবিষ্কার
রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার এবং পুনরাবিষ্কার
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ রয়েছে আমার যে সমস্ত গদ্য, কবিতা ও ছােটগল্পে, তার একটা সামগ্রিক সংকলন এই গ্রন্থটি। সারাজীবন ধরে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ভেবেছি। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বারবার বদলে গিয়েছে। যৌবনে রবীন্দ্রনাথকে অস্বীকার করতেই চেয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই হিমালয় পর্বতকে অস্বীকার করতে না পারলে মৌলিক কোনাে পথের দিশা পাওয়া বােধহয় সম্ভব নয়। পরে ভেবেছি, রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কোনাে গতি নেই। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ নিজেই একটা ঐতিহ্য। তাকে পুনরাবিষ্কার না করে কোনাে। উত্তরাধিকারের কথা ভাবাই যায় না। উপন্যাসগুলােতেও তাকে নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে গেছি। আমার জীবনে দীর্ঘকালের রবীন্দ্র-অভিজ্ঞতার স্মারকগ্রন্থ হয়ে রইল এই বই।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

এখনও ফর্সা, স্লিম, প্রকৃত সুন্দরী পাত্রী চাই - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - গোলাম মুরশিদ

বিজনে নিজের সঙ্গে দেখা
যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি
এখনও ফর্সা, স্লিম, প্রকৃত সুন্দরী পাত্রী চাই
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

খবরের কাগজের যে পৃষ্ঠা কিংবা পৃষ্ঠাগুলি আমি জীবনে কখনও পড়িনি কিংবা পড়ার দরকার হয়নি, তা হল পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনের পাতা। খুদে খুদে অক্ষর, সাংকেতিক ভাষায় লেখা ওই সব বিজ্ঞাপনে কখনও চোখ পড়ে গেলেও চোখ সরিয়ে নিয়েছি। মাত্র কয়েক দিন আগে এক বর্ষার বিকেলে মুড়ি-তেলেভাজা খাওয়ার জন্য টেবিলের উপর খবরের কাগজ পাতা হয়েছে, ঢেলে দেওয়া হয়েছে মুড়ি, বেগুনি এখনও ভাজা শেষ হয়নি, আমি আবার কাঁচালঙ্কার অর্ডার দিয়েছি, চোখের সামনে ছাপা অক্ষর থাকলে তাতে অলস ভাবে চোখ বোলাতেই হয়। সেই ছড়ানো দু’পাতা ভর্তি সবই পাত্র-পাত্রী সংবাদ। কয়েকটি পড়ার পর আমার সমস্ত শরীরে যেন একটা ঝাঁকুনি লাগল। এ সব আমি কাদের কথা পড়ছি? এই দেশ সম্পর্কে আমি এতই অজ্ঞ? এই সমাজে যে এত অসংখ্য জাতপাত ভেদ আছে, সে সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমরা সমাজে যে একটা ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে ঘোরাফেরা করি, সেখানে এখন প্রায় কেউ জাতপাত নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্তু তার বাইরের সমাজটা যে একেবারে শুদ্ধ হয়ে যায়নি, সে সম্পর্কেও ধারণা আছে। কিন্তু তা মোটা দাগের ধারণা। যেমন, বামুন, কায়েত, বৈদ্য-শূদ্র, আর ও-দিকে হিন্দু-মুসলমানের প্রভেদ। কিন্তু পূ: ব: কায়স্থ, সিংহ, সৌকালিন, দেবারি, কন্যারাশি, কলিস্থ দো: গহ, com.eng.31/5’4 পাত্রের জন্য স্বজাতীয় পাত্রী চাই। এর মানে কী? খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিতে অনেক পয়সা খরচ হয় আজকাল, তাই বক্তব্য যত দূর সংক্ষেপ করার জন্য নানা রকম সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করতে হয়। সেটা স্বাভাবিক। এ বিজ্ঞাপন যারা দেয় এবং যারা পড়ে তারা নিশ্চয়ই সংকেতগুলো বোঝে। আমাদের মতো অনধিকারীদের দুর্বোধ্য মনে হবে। যেমন উল্লিখিত বিজ্ঞাপনটির কলিস্থ দো গৃহ, অনেক চিন্তা করে এর অর্থ বের করলাম। খোদ কলকাতায় দোতলা বাড়ির মালিক। কেন? কিন্তু একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পাত্র এতই জাত মানে যে শুধুই কায়স্থ পাত্রী হলে হবে না। গোত্রটোত্র সব মেলাতে হবে! সৌকালিন একটা গোত্রের নাম আমি জানি, কন্যারাশিও শুনেছি, কিন্তু দেবারিটা কী ব্যাপার? অন্য কয়েকটা বিজ্ঞাপন পড়ে বুঝলাম, ‘গণ’ বলে একটা ব্যাপার আছে। নরগণ, দেবগণ ইত্যাদি। আমার এতখানি বয়স হল, সত্যি এই ব্যাপারটা এত দিন জানা ছিল না। তা হলে ‘দেবারি’ ব্যাপারটাও বোঝা গেল, দেবগণ নরগণ-এর মতো রাক্ষসগণও হয়। কিন্তু রাক্ষসটা দেখতে খারাপ লাগে, তাই দেবারি হয়ে গেল। কেউ কেউ সঠিক অর্থ না বুঝে বানান ভুল করে দেবারীও লিখেছে। বিবাহ-মঙ্গল। ‘অপুর সংসার’ ছবির একটি দৃশ্য। অন্তত শতকরা আশি ভাগ বিজ্ঞাপন পূ: ব: কিংবা প: ব: দিয়ে শুরু। দেশ ভাগ হয়ে গেছে চৌষট্টি বছর আগে, পূর্ববঙ্গ নামে এখন কোনও স্থানই নেই, এখনকার ছেলেমেয়েরা বাপ-ঠাকুর্দার সেই দেশ চর্মচক্ষে দেখেইনি। তবু বিজ্ঞাপনে এর উল্লেখের অর্থ হল, যে সব পরিবারের ইস্টবেঙ্গল অরিজিন, সে রকম পরিবারের সঙ্গেই বৈবাহিক সম্পর্ক পাতাতে চায় বিজ্ঞাপনদাতা। আর প: ব: থাকা মানে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তারা খাঁটি পশ্চিমবঙ্গীয়, বাঙাল বাড়ির পাত্র বা পাত্রী চায় না। অর্থাৎ শুধু জাতের মিল থাকলেই হবে না। বাঙাল-ঘটির ভেদাভেদ এখনও রয়ে গেছে পুরোমাত্রায়। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, পাত্রী শুধুমাত্র মেদিনীপুরের হওয়া আবশ্যক। কিছু কিছু শব্দের অর্থ আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝিনি। যেমন, ‘ফর্সা সুন্দরী, সু-উপায়ী মাঙ্গলিক সুপাত্র কাম্য’।
মাঝখানে কমা টমা কিছু নেই। সুউপায়ী কে? পাত্র না পাত্রী? আর মাঙ্গলিক কোন অর্থবোধক? অন্য একটি বিজ্ঞাপনে ‘কায়স্থ, আলিম্বান গোত্র’ এ রকম গোত্র হয়? ছাপার ভুল? শুদ্ধ রূপটাই বা কী হতে পারে? ‘পূ: ব: ব্রাহ্মণ, নরগণ, মকর, o+ ...’ কী ব্লাড গ্রুপ? মকর কী? প: ব: তন্তুবায় (gen) দেবারি ধনু’, gen-এর মানে বুঝলাম না, আর ধনু? আমি সরল ভাবে আমার অক্ষমতার কথা জানাচ্ছি, হয়তো অনেকেই এ সব বোঝে ও জানে। কবি তারাপদ রায়ের প্রচুর সরস গল্পের স্টক ছিল। সে আমাদের বলত যে সে নিয়মিত পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন পড়ে, নিজের জন্য নয় বা তার বউয়ের জন্যও নয়, কারণ সে মাঝে মাঝে এর মধ্যে অনেক মজার গল্পের সন্ধান পায়। যেমন, সে বলেছিল, একটি বিজ্ঞাপন, ‘গরিব বি এ প্লাকড, কোনো ভদ্র পরিবারে বিবাহ করিয়া ভাইয়ের মতো থাকিতে চাই।’ আর একটি ‘পাত্রী সুদর্শনা, বি এড, গৃহকর্মনিপুণা শুধু একটু গোঁফ আছে।’ এবং আর একটিতে পাত্রের যোগ্যতা, ‘গভ: ইঞ্জি: দৈনিক সাড়ে তিন যোগের বেশি না।’ এ সব সত্যি না তারাপদ রায় কল্পিত, তা অবশ্য জানি না। আমার কোলের সামনে পৃষ্ঠাগুলিতে এ রকম কোনও মজার কাহিনি নেই। শুধু একজন পাত্র লিখেছেন, মাথায় টাক আছে। আর একটি বিজ্ঞাপনে করুণ কাহিনির আভাস, ‘ফর্সা, স্লিম, IT-তে কর্মরতা, নামমাত্র বিবাহে সাড়ে তিন মাসেই ডিভোর্সি’।

এটুকু পড়লেই আহা রে বলতে ইচ্ছে করে। আমাদের গল্প-উপন্যাসে প্রেমের ঘটনার ছড়াছড়ি। কিন্তু এখনও জনসাধারণের অধিকাংশই প্রেম-ট্রেম নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিংবা অল্প বয়সে ও সব একটু হলেও তার সঙ্গে বিয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বিয়ে হয় বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনের উদ্যোগে অথবা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনে। ওই সব প্রেম কিংবা ছেলেমেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্তে বিয়ে কিংবা বিয়ে ভাঙা একটা বিশেষ ক্ষুদ্র শ্রেণির ব্যাপার। জাত গোত্র মিলিয়ে বিয়ে এখনও পর্যন্ত নিরাপদ। বড় শহরে হয়তো কেউ ও নিয়ে ততটা মাথা ঘামায় না। কিন্তু দেশ মানে তো শুধু শহর নয়। অন্য জাতের ছেলেকে বা মেয়েকে বিয়ে করলে বাবা-মা নিজেদের হাতে ছেলে বা মেয়েকে কিংবা দু’জনকেই খুন করে। এমন তো প্রায়ই শোনা যায়। গ্রামাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমান ছেলে মেয়ের বিয়ে হলে তাদের প্রাণের ভয়ে পালাতে হয়। এমনকী কলকাতা শহরেও তো কিছু কাল আগে রিজওয়ানুর নামে একটি সুদর্শন শিক্ষিত মুসলমান ছেলে প্রিয়ঙ্কা নামে মাড়োয়ারি কন্যাকে বিয়ে করার ফলে কী ভয়ঙ্কর কাণ্ডই হল। এই ধরনের ঘটনা যখন খবরের কাগজে পড়ি, তখনই আমার মনে হয়, আমরা এখনও প্রকৃত সভ্য হইনি। আমার ধারণা ছিল, পণপ্রথা যেমন বেআইনি হয়ে গেছে, সে রকম এই সব বিজ্ঞাপনে ফর্সা কালোর উল্লেখ করা নিষিদ্ধ। কী ভুল, কী ভুল সেই ধারণা! পণপ্রথাও যেমন আড়াল দিয়ে অনেকটাই চলে, তেমনই বিজ্ঞাপনে ফর্সা পাত্রী চাওয়া হয় নির্লজ্জ ভাবে। আমেরিকার বর্ণবৈষ্যমের আমরা কত নিন্দে করেছি, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আফ্রিকার অন্য কয়েকটি রাজ্যে শ্বেতাঙ্গরা বহু কাল অত্যাচার করার পর এখন হার মেনে কৃষ্ণাঙ্গদের শাসন মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। আর ভারতে আমরা এখনও প্রকাশ্যে ফর্সা মেয়ে চাইছি। পাত্রী পক্ষের বিজ্ঞাপনে একটিও ফর্সা ছেলে চাওয়া হয়নি। বরং নিজেদের পরিচয়ে অনেক ক্ষেত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে উ: শ্যা: অর্থাৎ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। পাত্রপক্ষের বিজ্ঞাপনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফর্সা রঙের দাবি আবশ্যিক। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, সদর্প ঘোষণা: ‘ফর্সা প্রকৃত সুন্দরী ছাড়া যোগাযোগের আবশ্যকতা নাই’।

প্রকৃত সুন্দরী কাকে বলে? চল্লিশ শতাব্দী ধরে কবির দল তার সংজ্ঞা গুনে চলেছে আর বাংলার পাত্রপক্ষ তা জানে। মেয়েদের শরীরের গড়ন সম্পর্কে স্লিম কথাটি প্রায় সর্বত্র। অথচ বাংলায় ‘তন্বী’ একটা কী সুন্দর শব্দ আছে। বাংলা কাগজে কেউ কেউ ইংরেজি বিজ্ঞাপন দেয়। ‘E B Brahmin bride 27, fair, beautiful...’ আমার ধারণা ছিল ব্রাইড শব্দটার অর্থ বিবাহ-উৎসবের দিনে কোনও রমণী, বিয়ের আগে কিংবা পরে কী করতে ব্রাইড বলে? কনে শব্দটা যেমন বিয়ের রাতে তো শুধু কনেও এখন বোধহয় অর্থের ব্যাপ্তি ঘটেছে। শতকরা আশিটি বিজ্ঞাপনেও জাতপাতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মিল খোঁজা হয়েছে। একটি বিজ্ঞাপনে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পাত্রীকে হতে হবে নিরামিষভোজী। আর একটি বিজ্ঞাপনে খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে দাবি করা হয়েছে, মা-বাবা-ভাই-বোন থাকা আবশ্যিক। এই সব বিজ্ঞাপন থেকে সমাজচিত্রের কিছু কিছু পরিবর্তনও নিরীক্ষণ করা যেতে পারে। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনদাতা প্রগতিশীল হচ্ছেন, জানিয়ে দিচ্ছেন অসবর্ণে আপত্তি নাই। কেউ কেউ বলছেন স/অ চলতে পারে। অর্থাৎ সবর্ণ বা অসবর্ণ। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, ‘স/উ: অ’-এর মানে প্রথমে বুঝতে না পেরে অনেক গবেষণা করে বার করতে হল, সবর্ণ অথবা উচ্চ অসবর্ণে আপত্তি নাই। উচ্চ অসবর্ণ কী জিনিস, তা আমার বুদ্ধির অগম্য। বস্তুতপক্ষে এই যে গোত্র, বর্ণ ইত্যাদি সবই আসলে ভাবের ঘরে চুরি। হাজার হাজার বছর ধরে এগুলি অবিকৃত বা শুদ্ধ আছে না ছাই। টাকা থাকলেই ইচ্ছে মতো জাত কেনা যায়। বিশ্বামিত্র নাকি তপস্যার জোরে ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছিলেন। এ যুগে তপস্যা-টপস্যা লাগে না। যদি অধ্যাবসায় থাকে, সৎ বা অসৎ পথে বহু অর্থ উপার্জন করা যায়। তা হলে যে কোনও জাতি ধর্মকে সে তুচ্ছ করে দিতে পারে। কিছু কিছু মুসলমান পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনেও রয়েছে দেখলাম, ইসলামে এত জাতপাতের বিভেদ নেই। কিন্তু প্রতিটি বিজ্ঞাপনেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাত্র বা পাত্রী সুন্নি মুসলিম এবং তারা সুন্নি পাত্র পাত্রীই চায়। আমাদের এ অঞ্চলে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম নেই বললেই চলে। তবু এই সতর্কতা। একটি প্রায় বিপ্লবী বিজ্ঞাপন উদ্ধৃত করে আপাতত শেষ করা যেতে পারে। “প: ব: ব্রাহ্মণ (নাস্তিক) ৩০/৫’ 7’’ চার্টার্ড অ্যাকা: ৭৫,০০০।

একমাত্র সন্তান। কোনও দাবি নাই। শিক্ষিতা সুন্দরী ফর্সা ও কেবলমাত্র রেজিস্ট্রি বিবাহে আগ্রহী।” নাস্তিক হলে কী করে ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দেওয়া যায়, জানি না। সে প্রশ্ন তুলছিও না। এই বিজ্ঞাপনকে প্রায় বিপ্লবী বলার কারণ, ফর্সা শব্দটি বাদ দিলেই ঠিক মানানসই হত। আমি নিজে ঝিরকুট্টি কালো। আমার বউ কালো ছাতা ব্যবহার করলে মিশে যাব বলে আমার পরিবারের সকলেই ঝড়ের আগে মেঘবর্ণ। তাই কালোদের প্রতি আমার দুর্বলতা তো থাকবেই! তারাপদ রায় উবাচ সম্রাট শের শাহ প্রথম ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। তার আগে ঘোড়ারা বুঝি ডাকত না?


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কিশোর কল্পবিজ্ঞান সমগ্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এই সমগ্রটিতে রয়েছে ৫ টি উপন্যাস এবং ৩৭ টি গল্প।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছোটদের নিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন।সন্তু-কাকাবাবু ছাড়াও তার অদ্ভুত একটি চরিত্র নীলমানুষ।রয়েছে দীপ-রনজয় কিংবা বিশ্বমামা।এদের কাজকর্ম সবই কল্পনা আর বিজ্ঞানের মেলামিশি। ৫ টি রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞানের উপন্যাস আর এই অদ্ভুত সব চরিত্রের কাণ্ডকারখানায় ভরা ৩৭ টি গল্প।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীলকে লেখা চিঠি

সুনীলকে লেখা চিঠি

সুনীলকে লেখা চিঠি
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বড়রা যখন ছোট ছিল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বড়রা যখন ছোট ছিল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বড়রা যখন ছোট ছিল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আসলে, মায়ের কখনও মৃত্যু হয় না - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আসলে, মায়ের কখনও মৃত্যু হয় না - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আসলে, মায়ের কখনও মৃত্যু হয় না

পৃথিবীটা নাকি এখন একটা গ্রাম হয়ে গেছে। গ্লোবাল ভিলেজ কথাটা প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়। পৃথিবীর এই নতুন আখ্যার তাৎপর্য ঠিক কী? গ্রাম বলতে সাধারণত যা বােঝায় তা নিশ্চয়ই নয়। একটি গ্রামের মানুষের ভাষা, ধর্ম, আহার্য, পােশাক, সামাজিক রীতিনীতি প্রায় একই হয়। কিছুটা বৈচিত্র্য থাকলেও তফাত বিশেষ থাকে না। তবে কি সারা বিশ্বে সমগ্র মানবসমাজের মধ্যে সমতা স্থাপনের সেই স্বর্ণযুগ এসে গেল ? এরকম অবস্থা কল্পনা করতে আনন্দের শিহরণ হয় বটে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের বাস্তব অবস্থা দেখে তা এক বিন্দুও বিশ্বাস করা যায় না। দেশগুলির সীমারেখা ক্রমশ ভাঙছে, যুদ্ধ লেগেই আছে কোথাও না কোথাও, শােষক ও শােষিতদের ব্যবধান প্রকট, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিরােধ বেড়েই চলেছে। উগ্র, হিংস্র, সন্ত্রাসবাদের আক্রমণে কাঁপছে মানবসভ্যতা। 


বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী ছােট্ট একটা বিন্দুর বিস্ফোরণের পর সৃষ্টি হয় এই মহাকাশের, অজস্র গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্রপুঞ্জ নিয়ে এই যে বিশাল ব্যাপ্তি, তা এখনও বিস্ফারিত হচ্ছে, আরও বেড়েই চলেছে সীমানা। মানবসভ্যতারও তুলনা করা যায় এর সঙ্গে। আফ্রিকার কোনও অঞ্চলে মানবজাতির যাত্রা শুরু, তারপর ছােট্ট একটা মানবগােষ্ঠী ছড়িয়ে পড়তে থাকে নানা দিকে, একদল যায় মধ্য এশিয়ায়, সেখান থেকে পারস্য, ভারত, চিন হয়ে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়ায়। অন্য ধারাটি ইউরােপের নানা দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর বেরিং সাগর পেরিয়ে ঢুকে পড়ে আমেরিকা ও ক্যানাডায়। তারপর মাত্র কয়েক লক্ষ বছরে এই মানবজাতিরই চেহারায় পােশাক ও আচার আচরণে কত পরিবর্তন হয়। এখন মহাকাশের গ্রহ নক্ষত্রের মতনই মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বিশাল সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি বলা যেতে পারে।


মানবগােষ্ঠীর সঙ্গে পার্থিব অন্যান্য প্রাণীর একটা প্রধান তফাত এই যে, মানুষের যৌনজীবন যেমন অন্যরকম, তেমনই মানুষেরই একটা সুসংবদ্ধ ভাষা আছে। ভাষার জন্যই মনুষ্যজাতি একতা সূত্রে আবদ্ধ, আবার ভাষার জন্যই মানুষে মানুষে এত বিভেদ। আফ্রিকার সেই ক্ষুদ্র মানবগােষ্ঠীর যােগাযােগের একটিই ভাষা ছিল এমন যদি ধরে নেওয়া যায়, তাহলে সেই হােমাে সেপিয়ান্সদের মধ্যে এখন অন্তত আট হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত। একজন হাঙ্গেরিয়ান, একজন তামিল এবং একজন অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী। এই তিনজনই এই পৃথিবী নামের গ্রহের মানুষ, কিন্তু এদের ভাষার বিন্দু বিসর্গ মিল নেই, মুখােমুখি দেখা হলে এরা বােবা। হয়ে থাকবে। 

বর্তমানে যদি নানান সীমানা ও কাটা তারে ঘেরা বহু বিভক্ত দেশের মানুষ একটি গ্লোবাল ভিলেজের ধারণায় ফিরে আসে, তা হলে তাদের আদিম ধর্ম ও ভাষা কী হবে, আপাতত আমরা ধর্মের প্রশ্নে যাচ্ছি না, ভাষাই আমাদের প্রধান বিবেচ্য। এবং বলাই বাহুল্য, সেই ভাষা হবে ইংরিজি। 


ইংরিজি ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং উন্নত হলেও প্রায় সমান সমান অন্য দু-তিনটি ইউরােপীয় ভাষার চেয়ে অগ্রাধিকার পেয়ে গেছে ঐতিহাসিক কারণে। কলােনি স্থাপনের যুগে ইংরেজরা অন্যান্য ইউরােপিয়ানদের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে ছিল। প্রায় অর্ধেকেরও বেশি পৃথিবী তারা দখল করে রেখেছিল। ইংরেজরা গর্ব করে বলত, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কোথাও সূর্যাস্ত হয় না! তারপর ঔপনিবেশিক যুগের অবসান হলেও ইংরেজের পরিত্যক্ত কলােনিগুলি কিন্তু ইংরিজি ভাষা পরিত্যাগ করেনি। গােটা অস্ট্রেলিয়া এবং উত্তর আমেরিকার অনেকখানিই ইংরিজি ভাষাকেই অবলম্বন করে থেকেছে। এমনকী ভারতবর্ষেও ইংরিজি অন্যতম জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। এবং ইংরিজি ভাষার পতাকাও ব্রিটেনের হাত থেকে আমেরিকায় হাতে চলে যায়, সে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অসাধারণ উন্নতির কারণে। কমপিউটার ও ইনফরমেশন টেকনােলজির ব্যাপক প্রভাবের ফলে ইংরিজি ভাষা আজ সব ভাষার মাথায় চড়ে বসেছে। এক সময় ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার সঙ্গে ইংরিজির বেশ রেশারেশি ছিল, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরেও ফরাসিরা নিজেদের ভাষার প্রতি অহংকারবশত একটা ইংরিজি বাক্যও উচ্চারণ করত না। এখন শুধু ইংরিজি জ্ঞান নিয়েই ইউরােপের সব দেশেই যে-কেউ মােটামুটি কাজ চালিয়ে নিতে পারে। 


ইংরিজি সবচেয়ে বেশি প্রয়ােজনের ভাষা হিসেবে অবশ্যই স্বীকৃত। তা হলে অন্যান্য ভাষাগুলির কী হবে? কেউ কেউ বলছেন, অন্য ভাষাগুলির আস্তে আস্তে অবলুপ্তি ছাড়া অন্য কোনও গতি নেই। আগামী একশাে বছরের মধ্যে। সেরকমই ঘটবে। এই ভবিষ্যৎবাণীর দুটি দিক আছে। অন্য ভাষাগুলির কি সহজ, স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যু হবে, জোর করে গলা মুচড়ে মেরে ফেলা হবে? দ্বিতীয়টি নিশ্চিত সম্ভব নয়। বড় মাছ ছােট মাছকে গিলে ফেলার উপমাও এখানে খাটবে না। কারণ, ইংরিজি যতই বড় মাছ হােক, অন্য বেশ কয়েকটি ভাষা মােটেই ছােট মাছের পর্যায়ে পড়ে না, তারাও এমনই বৃহৎ যে তাদের একটি একটি করে গিলে ফেলার ক্ষমতা ইংরিজিরও নেই। চিন ও ভারতীয় ভাষাগুলি পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষের মাতৃভাষা। স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, রাশিয়ান, জাপানি ভাষার ভিত অনেক শক্ত; ফরাসি ও জার্মান ভাষাভাষীর সংখ্যা খুব বেশি না হলেও ঐতিহ্যের ঐশ্বর্যে এই দুই ভাষার প্রভাব সুবিস্তৃত। এর মধ্যে যে-কোনও একটি ভাষার ওপর উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আঘাত হানতে গেলে যে প্রবল বিক্ষোভের সম্মুখীন হতে হবে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ভাষার আবেগে কোথাও কোথাও মানুষ প্রাণ দিতেও কুণ্ঠিত হয় না। তার একটি উদাহরণ, ভারত বিভাগের ফলে পাকিস্তান নামে নবীন রাষ্ট্রের জন্ম হওয়ার মাত্র সাত বছরের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ বাংলাভাষায় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে, পুলিশের গুলিতে ঢাকা শহরে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি চারজন শহীদ হয়। শুধু ভাষার দাবিতে এমন প্রাণদানের নজির সারা পৃথিবীতেই বিরল। পরবর্তীকালে পাকিস্তান আবার দ্বিখণ্ডিত হলে যে বাংলাদেশ নামে রাষ্ট্রের জন্ম হয়, তার অন্যতম কারণও সেখানকার গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার দাবি। এর ফলেই পরবর্তীকালে এই একুশে ফেব্রুয়ারি দিবসটিকে UNESCO থেকে পৃথিবীর প্রতিটি দেশেরই মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘােষণা করা হয়েছে। ভারতে আসামের কাছাড় অঞ্চলে প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা, কিন্তু রাজ্য সরকার সেই ভাষার কোনও অধিকারই দেয়নি বলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয় শিলচর শহরে। সেখানও মিছিলের ওপর দায়িত্বজ্ঞানহীন পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, মৃত্যু হয় এগারােজন মানুষের। ১ মে, ১৯৬১ সালে। এই চরম শােকাবহ ও লজ্জাজনক ঘটনা বেশি প্রচারিত হয়নি, বরং চাপা দেওয়ারই চেষ্টা হয়েছে। 


ভারত ও চিন এই দুটি পাশাপাশি দেশ দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ বলে সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কিন্তু ভাষার প্রশ্নে এই দুটি দেশের দুরকম সমস্যা। চিনে শতকরা পঁচানব্বই ভাগ লােকের ভাষা ম্যান্ডারিজ, সুতরাং অধিবাসীদের মধ্যে ভাষার ব্যবধান নেই বললেই চলে, কিন্তু ইংরিজি শিক্ষায় সে দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে। আবার ভারতে ইংরিজি শিক্ষার অনেক অগ্রগতি হলেও বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের মধ্যে মাতৃভাষার ব্যবধান দুস্তর। ভারতে প্রচলিত আছে প্রায় ৮০০টি ভাষা, তার মধ্যে প্রধান ভাষাগুলির মধ্যে ২২টি ভারত সরকার কর্তৃক স্বীকৃত (সাহিত্য আকাদেমি আরও দুটি ভাষাকে গ্রহণ করেছে)। এর মধ্যে হিন্দি, বাংলা, তামিলের মতন এগারােটি ভাষারই পৃথক জনসংখ্যা এক এক কোটির বেশি। হিন্দি এবং বাংলা পৃথিবীর প্রধান পাঁচটি ভাষায় অন্তর্গত। স্বাধীনতার পর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল যে, ইংরিজি এবং হিন্দিই হবে সারা দেশের যােগাযােগের ভাষা, এবং আশা করা হয়েছিল যে তিরিশ বছরের মধ্যে ইংরিজিকেও সরিয়ে দিয়ে হিন্দিই হবে প্রধান ভারতীয় ভাষা। সেই আশা বাস্তবায়িত হলে খুব ভালােই হত। যেমন এক কালের বহু ভাষায় বিভক্ত চিনকে এক সম্রাটের আদেশে ম্যান্ডারিজ ভাষা সারা দেশকে একতাবদ্ধ করেছে, সেইরকম গণতান্ত্রিক ভারতে হিন্দি সর্বজনগ্রাহ্য হলে অনেক সমস্যা এড়ানাে যেত। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার পর ষাট বছর কেটে গেলেও সেই আশা সার্থক হয়নি। বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের ভারতেও ইংরিজিই এখন প্রধান ভাষা। এটা ইংরিজি ভাষার প্রতি মুগ্ধতা বা ভালােবাসার জন্য ঘটেনি। ইংরিজির প্রতি আনুগত্য এসেছে নিতান্তই প্রয়ােজনের খাতিরে। এবং এখন আর কিংস ইংলিশের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য অনেকেই তােয়াক্কা করে না। আমেরিকান ও অস্ট্রেলিয়ান ইংলিশের মধ্যে ইন্ডিয়ান ইংলিশ দিব্যি চালু হয়ে গেছে। 


ইংরিজির এই প্রাধান্য আমরা বাধ্য হয়েই মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্য ভাষাগুলির কী হবে? ইংরিজিকেই একমাত্র ভাষা হিসেবে অবলম্বন করে কি অন্য ভাষাগুলি পরিত্যক্ত হয়ে যাবে? এখন নানান কারণে বহু মানুষই ভ্রাম্যমান, বেশ কিছু ভারতীয়ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বসতি নিয়েছে, তাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম মাতৃভাষা শিক্ষার কোনও সুযােগই পায় না। তারা শুধু ইংরিজি নির্ভর হয়েই বেড়ে ওঠে। কিন্তু এখানে এদের সংখ্যা খুব বেশি নয়, ভারতের বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় তারা নগণ্য, অধিকাংশ ভারতীয়ই মাতৃভাষা থেকে বিচ্যুত হয়নি। তা হলে কি সব মানুষকেই দ্বিভাষী হতে হবে? কেউ কেউ বলছেন, অন্যান্য ভাষাগুলির যদি দ্রুত অবলুপ্তি নাও হয়, তা হলেও সেগুলি ক্রমশ বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ মা-বাবা, কাজের লােকদের সঙ্গে মাতৃভাষা আর বাড়ির বাইরে অন্য সব প্রয়ােজনে ইংরিজি। তা হলে কাব্য-সাহিত্য, দর্শন ইত্যাদি রচিত হবে কোন ভাষায়? আপাত দৃষ্টিতে এগুলি অপ্রয়ােজনীয় কিন্তু এসবের ওপর নির্ভর করেই সভ্যতা এগিয়ে চলে। দু-চারজন আত্মম্ভরি লেখক যাই বলুন, এখনও পর্যন্ত কাব্য-সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলি লেখকদের মাতৃভাষাতেই রচিত। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়ায় লেখকরা তাদের মাতৃভাষা ইংরিজিতেই লেখেন, তাদের সঙ্গে অসম প্রতিযােগিতায় নামতে হয় অন্য লেখকদের। এ পর্যন্ত সৃষ্টিশীল রচনায় দ্বিতীয় দলের সাফল্য নামমাত্র। 


ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলােচনা যতই প্রাসঙ্গিক হােক, এ কথাও সত্য যে, বর্তমান কালে গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষের মধ্যে ভাষা নিয়ে যথেষ্ট আবেগ আছে। যত ছােট ভাষাই হােক, অনেকেই মাতৃভাষাকে ভালােবাসে। মাতৃভাষার বিলুপ্তি রক্ষা করার জন্য কেউ কেউ এখানে প্রাণ দিতে রাজি আছে। এ সম্পর্কে একটা কৌতুককর বিবরণ এখানে উদ্ধৃত করা যেতে পারে। 


আইজাক বাশেভিস সিঙ্গার (Issac Bashevis Singer) Yiddish ভাষার প্রখ্যাত লেখক। নােবেল প্রাইজও পেয়েছিলেন। অনেকেরই ধারণা ইডিশ একটা মুমূর্ষ ভাষা। নােবেল পুরস্কার গ্রহণের সময় সিঙ্গার এই কথাগুলি বলেছিলেন। 



People ask me often, why do you write in a dying language? And I want to explain it in a few words.
Firstly, I like to write ghost stories and nothing fits a ghost better than a dying language. The deader the language the more alive is the ghost. Ghosts love Yiddish and as far as I know, they all speak it.
Secondly, not only do I believe in ghosts but also in recorrection, I am sure that millions of Yiddish speaking corpses will rise from their graves one day and their first question will be is there any new Yiddish book to read? for them, Yiddish will not be dead.
Thirdly, for 2000 years Hebrew was considered a dead language. Suddenly it became strongly alive. what happened to Hebrew may also happen to Yiddish one day, (although I haven't the slightest idea how this miracle takes place.)
There is still a fourth minor reason for not forsaking Yiddish and this is Yiddish may be a dying language, but it is the only language I know well. Yiddish is my mother language and a mother is never really dead.


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

Nijer Kachei Ektu Aporichito - Sunil Gangopadhyayসুনীল কি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর যাত্রার দিন এগিয়ে আসার কথা? প্রিয় কবির নতুন কাব্যের কাছে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে, মনে হল এই কথাটি প্রথম। কেন না, এ কাব্যের প্রতিটি কবিতার চরণ ছুঁয়ে ছুঁয়ে মৃত্যুর অনিবার্য উপস্থিতি। এবং কাব্যের নাম যখন, ‘নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত’!
একচল্লিশটি কবিতা নিয়ে এবার বইমেলায় আনন্দ প্রকাশনার সিগনেট প্রেসের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে সুনীলের এই নতুন কাব্যগ্রন্থটি। সঙ্গে শেক্সপিয়ারের জনপ্রিয় ট্র্যাজেডি ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এর কবিকৃত অনুবাদ। আশির দশকে গীতা মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘রূপসা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ‘রোমিও জুলিয়েট’। ৮২-র মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রকাশিত হলেও কবির ব্যস্ততার কারণে বন্ধ হয়ে যায় অনুবাদের কাজ। এবার সেই অসম্পূর্ণ অনুবাদ দু’ মলাটে এল, এ কাব্যে।
প্রথম কবিতা, ‘স্বাতী, তোমার সঙ্গে’। শুরু করছেন এভাবে, ‘প্রথম চিঠিতে দেখা, তারপর ছন্নছাড়া কত ঘোরাঘুরি/ প্রথম আলাপের দু’ বছর সাতাশ দিন পর/ একসঙ্গে বাড়ি ফেরা/ অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিল, আর অনেকে কী জানি...’। এ তো যেতে যেতে ফিরে তাকানোর ভঙ্গি। যেন, নিভৃতে স্মৃতির কাছে রেকাব পেতেছেন কবি। ‘দেশ’ পুজোবার্ষিকীতে প্রকাশিত এই কবিতা ,‘এক সন্তান’ বা, ‘এখন যে কোনও মৃত্যুই’ কবিতা যেন সুনীলের বিধুর ফ্যামিলি অ্যালবাম। কবি সুবোধ সরকার ‘পাঠক তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখছেন, ‘যে অ্যালবাম খুলে বসলে নতুন একজন সুনীলকে দেখা যাবে- বউ আর ছেলের জন্য এত মমতা, মানুষের জন্য এত মন ভাল করা উদ্বেগ, শান্তিনিকেতনে উঠোনের কোনায় দাঁড়ানো গাছটির জন্য যেন একটা ম্যানিফেস্টো লিখে রেখে গেলেন’। জায়ার জন্য ‘সময় সমগ্র’-তে ‘সনির্বন্ধ শেষ মিনতি’ জানিয়ে গেলেন, ‘তুমি স্বাতীকে সহসা ছুঁয়ো না’!
একই কবিতার কোলন, কমা, সেমিকোলনে থামতে থামতে বদলে যায় কবিতার পরিচিত অর্থ-বোধ। চেনা ভাষ্যের অন্তরাল সরিয়ে খুলে যায় একে একে কবিতার অন্তরমহলে নিহিত সত্যের হাজার দুয়ার! এ কাব্যে সুনীলের ‘কবিতার গল্প কিংবা গল্পের কবিতা’ শীর্ষক কবিতাটি ঠিক তেমন।

হয়তো কথাসাহিত্যে সফলতার হাত ধরে এ কবিতায় স্মৃতিকাতর কবি কথক বলেই, গল্পের তরে পাঠক-হৃদয়ে এসে লাগে ভাললাগার ঝিলমিল রঙ! সুনীলের এই প্রবণতা তাঁর ‘বন্দী জেগে আছো’ কাব্যের কাল থেকে। এই কবিতার মতো, হৃদয়বান পাঠক খেয়াল করবেন ‘কেউ কথা রাখেনি’, ‘নীরার অসুখ’, ‘বাড়ি ফেরা’ বা, ‘না পাঠানো চিঠি’ প্রভৃতি কবিতাতেও গল্পের আদল। তাঁর কবিতায় গল্পের আদল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- একাকিত্বে কিংবা জনতায়’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে তাই অধ্যাপক কুন্তল রুদ্র লিখছেন, ‘তাঁর কবিতায় একটি চিত্রের বলয় গড়ে ওঠে, কোথাও তার সঙ্গে এসে দাঁড়ায় চরিত্রের আদলে কিছু মানুষের মুখ। ... সুষ্ঠভাবে এই প্রবণতা ধরা পড়ে ‘বন্দী জেগে আছো’ কাব্যগ্রন্থ থেকে’। এ কবিতায় কবিতার ‘কাঠবেকার আমি’-র সঙ্গে নয়না নামের এক মেয়ের গল্পে চিত্রার্পিত। প্রথাগত কোনও ছক নেই, নয়নাকে নিয়ে গল্প বলাতেই যেন কবির আনন্দ। এক মেঘদূত সন্ধ্যায় টিউশন পড়াতে গিয়ে ‘মেধাবিনী’ মৃগনয়না নয়নার একটি স্তন অনধিকার স্পর্শের লোকলজ্জা বইতে বইতে কবিতার শেষে পর্বে এসে দাঁড়িয়েছেন, জীবনের প্রান্তবেলায়। হাসপাতালের কিউবিকলের নির্জনে, প্রৌঢ়া নয়না নিজেই কাতর হয়ে তার অন্য একটি স্তন ছুঁয়ে দেবার জন্য কিশোরীবেলার সেদিনের টিউটরকে বলেছে, ‘ওগো মাস্টারমশাই তুমি আমার এই দিকটা ছুঁয়ে ছিলে/ অন্য দিকটা ছোঁওনি, সে জন্য সে বেচারির অভিমান/ এখনও মাঝে মাঝেই আমাকে তা জানায়/ শোনো, জরুরি কথাটা হচ্ছে, তোমাকে একবার/ এই দিকের বুকটা একবার ছুঁয়ে দিতেই হবে/ নিজের হাত তুলে স্বেচ্ছায়’! কবিতার ‘আমি’ নয়নার ইচ্ছেপূরণ না করেই ফিরিয়ে দেয়। মৃত্যুচেতনার সঙ্গে জড়িয়ে যায় যৌনচেতনা। ‘সে চলে যাবার পর’ তাই কবি লেখেন স্পর্শগম্য থেকে হৃদিগম্য উড়ানের এক অক্ষয় সত্যের কথা। ‘এক মহিলার একটা স্তন ছোঁয়া বাকি আছে সে জন্য/ আমাকে বেঁচে থাকতে হবে’। গদ্যের স্পর্ধা অগণন কবিতার চুড়োয় যেন কাব্যের হিরণ্ময় দ্যুতি!

‘কবিতার সুখদুঃখ’ গদ্যে সুনীল লিখেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত অনুভূতি ছাড়া আর কোনো কিছুই আমার সম্বল নেই- সাহিত্যের কাছে আমি অসহায়’। সে অভিজ্ঞতা স্তরে স্তরে তাঁর ‘সংবিৎকে’ ভিতরের দিকে ও বাইরের দিকে বাড়িয়ে তুলেছে, যা তিনি বলেছেন কবিতায়। ‘নারী’ এই চিরন্তন শব্দের অক্ষয় অনুষঙ্গে ‘নীরা’ নয়, এ কাব্যে ‘নারী’ শব্দটি এসেছে কবিতার শীর্ষকে দু’বার। প্রথমটি ‘নারীরা শুধুই নারী’ এবং পরের বার ‘নারী ও শিল্প’ কবিতার শীর্ষকে। প্রথমটি যদি হয় স্মৃতির রানওয়ে থেকে ‘নারী ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব’ কথাটির উড়ান, দ্বিতীয় কবিতায় কবির ঘরে ফেরা।

প্রথমে বিষ্ণু দে, পরে বুদ্ধদেব বসুর কবিতার সুঁড়ি পথে সুনীলের কাব্য-সঙ্গীতের যে বিস্তার শুরু হয়েছিল, এ কাব্য যেন সমে ফেরা। নাতিদীর্ঘ চরণ বিন্যাসে ‘পাখির চোখে দেখা’ সে ফেরার পর্বে যেন এক একটি তান-তোড়-ঝালা! অনবদ্য এই কবিতা সিরিজ। যে এককের কথায় শুরু হয়ে ছিল এ নিবিড় পাঠ-লেখা, কবির সেই বিশেষ প্রবণতা সিরিজ হোক বা, ‘পলাতকের কবিতা’, ‘দ্বিধা’, ‘দেওয়াল’, ‘মুহূর্ত ভাঙার শব্দ’- এর মতো কবিতায়, সর্বত্র দীপিত। সবখানে নিঃসঙ্গ এক মানুষের স্মৃতিকাতরতা এবং মৃত্যুর বিষম শব্দের ঝনঝনি! ‘বৃষ্টিতে অমলেন্দু’ তাই ‘একলা অন্ধকার চেয়ারে’ বসে থাকে! ‘কথা রাখা না রাখার কবিতা’-র শেষে কোনও পূর্ণযতি না দিয়ে সুনীলকে লিখতে হয়, ‘শহরতলির রাত্রি ঘন হল, ডেকে উঠল একটি রাতপাখি/ দেহের আকার নেই, তবু ইতস্তত ঘোরে কয়েকটি জোনাকি...’!
Download
Nijer Kachei Ektu Aporichito - Sunil Gangopadhyay [139 pages, 2 mb, amarboi.com]
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনির্বাচিত কিশোর উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনির্বাচিত কিশোর উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
সুনির্বাচিত কিশোর উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রতিদ্বন্দ্বী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রতিদ্বন্দ্বী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রতিদ্বন্দ্বী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আত্মপ্রকাশ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

Atmaprakash by Sunil Gangopadhyay





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মানুষ মানুষ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মানুষ মানুষ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
মানুষ মানুষ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বারোটি উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বারোটি উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
বারোটি উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সত্যের আড়ালে
খেলা
খেলা নয়
একটি নদীর নাম
হে প্রবাসী
অনির্বাণ আগুন
একদা ঝড়ের রাতে
মায়াকাননের ফুল
ছোট পৃথিবীর সীমানা
হৃদয়ের অলিগলি
কোথায় আলো
মধুময়
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দশে দশ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (দশটি উপন্যাসের সংকলন)

দশে দশ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (দশটি উপন্যাসের সংকলন)
দশে দশ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (দশটি উপন্যাসের সংকলন)

সূচিপত্র

একটি নারীর পুনর্জন্ম
জল-জঙ্গলের কাব্য
যুবক-যুবতীরা
নবজাতক
সমুদ্রতীরে
মুক্তপুরুষ
ফুলমণি-উপাখ্যান
সরাইখানা
এর বাড়ি ওর বাড়ি
সংসারে এক সন্ন্যাসী

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পায়ের তলায় সর্ষে ২ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

'তারপর কী হল ?' - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

'তারপর কী হল ?' - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
'তারপর কী হল ?' - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
'তারপর আমি চক্ষু মেলে দেখি, কেমন যেন নতুন-নতুন রাস্তা, হুস-হুস করে বড়-বড় গাড়ি যায়, একটা খুব উঁচু গাড়ির মধ্যে দেখি ঘোড়া ছয়-সাতটা, না, নয়-দশটা ঘোড়া। আর এক ভ্যান ভর্তি কলা, কাঁচা কলা, হইলদা না। '
'জায়গাটা কোথায় ? '
'তা তো জানি না।'
'তারপর ?'
'আমার চোখ মেলে দেখি রোদ্দুর, খুব রোদ্দুর।'
'কোথায় ? ট্রেনের কামরায় ? না গাড়িতে ?'
'ঘরের মধ্যে।......চাটাই পাতা।.....চক্ষের উপর রোদ্দুর পড়ে। ঘুম ভাঙতে........ ছি ছি ছি।'
'তোমার গায়ে একটুও সুতো ছিল না, তাই তো ?'.....
পুলিশের জেরা দিয়ে শুরু এই মর্মস্পর্শী উপন্যাস। পরতে-পরতে তার গভীর রহস্য। মেয়েটি পশ্চিমবাংলার না বাংলাদেশের ? নাম লক্ষ্মীমণি, না সরফিন বিবি ?
কাহিনির বিষয় ? আসুন শোনা যাক লেখকের নিজের কথায়,'.......যে মেয়েরা বিক্রি হয়ে যায় কিংবা যাদের অপহরণ করা হয়, তাদের তো নিজেদের কোনো দোষ থাকে না। কিন্তু একবার ঘর ছাড়া হলে, যদি কোনওক্রমে মাংস-ব্যবসায়ীদের হাত থেকে তাদের উদ্ধারও করা হয়, তাদের কিন্তু আর ঘরে ফেরার উপায় থাকে না। এই জঘন্য কারবার যারা চালিয়ে যাচ্ছে, তারা যেমন অপরাধী, আর যারা এইসব অসহায় মেয়েদের সুস্থ সামাজিক জীবনে ফিরে আসার পথ রুদ্ধ করে দেয়, তাদের অপরাধও কম নয়।........'
নারী পাচার কিংবা কন্যা সন্তান বিক্রির মতন নৃশংস ও চূড়ান্ত অমানবিক ঘটনা অনবরতই ঘটে চলেছে আমাদের দেশে। খবরের কাগজ মারফৎ মাঝে মাঝে আমরা তা জানতে পারি বটে, কিন্তু খবরে যতটুকু থাকে, আসল ঘটনা হয় তার থেকে অনেক বেশি।
বাংলা সাহিত্যে নারী পাচার নিয়ে সুনীলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কলমে রহস্যঘন মানবিক উপন্যাস 'তারপর কী হল'।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাংস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ছোটগল্প)

মাংস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ছোটগল্প)
মাংস
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সকালবেলায় মেঘ ছিল, তাতে বাচ্চাদের মন খারাপ। আজ যেন বৃষ্টি না হয়, আজ যেন বৃষ্টি না হয়! তবু সেই কালো মেঘ যেন ঝুঁকে এল শ্মশানতলায় বড় বটগাছটার মাথায়।
গ্রামের নাম ছোট সাতুড়ি। বিভুপদ গড়াইয়ের দু-খানা খড়ের ঘর, সামনে একচিলতে উঠোন। সেই উঠোনে দাঁড়িয়ে তিনটে ছেলেমেয়ে, তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘ তাড়াতে চাইছে। লেবুপাতা করমচা, দূরের বৃষ্টি দূরে যা! লেবুপাতা করমচা, দূরের বৃষ্টি দূরে যা!
মেঘ সেই শিশুদের কথা শোনে। তবে এত কাছে এসে কিছুটা বর্ষণ না হলে মেঘেরও তো মান থাকে না।
প্রথমে ছিল গুমোট হঠাৎ হাওয়া উঠল শনশনিয়ে, বড়-বড় ডালপালা উথালপাতাল। তারপর গুরু-গুরু গর্জন বলল, আসছি। এল একেবারে বড়-বড় ফোঁটায় ঝমঝমিয়ে। বড়জোর মিনিটদশেক, আবার আকাশ একেবারে ফরসা। ঝলমলিয়ে দেখা দিল সূর্য। ঠিক যেন হাসছে। হাসবেই তো, মাত্র মাসদুয়েক আগেই ছিল বৃষ্টির জন্য কত হাহাকার কত প্রার্থনা কত ব্যাং মেরে উলটে দেওয়া, আর এর মধ্যেই আবার বলে কি না, বৃষ্টি চাই না। মানুষ বড় বিচিত্র।
ও মেঘ আবার ফিরে আসবে, এখন শুধু এই বাচ্চাদের আবেদনে সরে গেল কিছুটা দূরে। আজ ওরা বেড়াতে যাবে। রাস্তাঘাট এমনিই থিকথিকে কাদা, বৃষ্টি চলতেই এখন বেরবার প্রশ্নই ছিল না। বাচ্চারা আর ধৈর্য ধরতে পারছে না।
বিভুপদ দাঁড়িয়ে আছে বাইরে, সুরবালার একটু দেরি হচ্ছে।
বিভুপদ একবার হাঁক দিল, কই রে, আর দেরি করলে...বেলাবেলি পৌঁছোতে হবে তো।
মেয়েটাও চেঁচিয়ে বললে, মা, আয়। মা, আয় মেয়েটার বয়েস সাত, ভাই দুটোর একটা নয়, একটা ছয়। একেবারে ছোটটাকে নেড়া করা হয়েছে কিছুদিন আগে, খুব উকুন হয়েছিল।
হাতে একটা পুঁটুলি নিয়ে বড় ঘরখানি থেকে বেরিয়ে এল সুরবালা, দরজায় শেকল তুলে একটা ছোট তালাও লাগাল।
সুরবালার বয়েস তিরিশের এধারে-ওধারে, ঢ্যাঙা চেহারা, অদ্ভুত নিথর ধরনের মুখ, সে মুখে রাগ, দুঃখ-আনন্দ, অভিসার কিছুই যেন ফোটে না।
চাবিটা বিভুপদকে দিয়ে সে বলল, তাহলে চলা করো।
একটু আগে পত্নীকে সে তাড়া দিচ্ছিল, এবার সে চাবিটা হাতে নিয়ে একটুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে জিগ্যেস করলে, সত্যি যাবি?
সুরবালা বলল, হ্যাঁ, যাব ঠিক করিছি।
বিভু আবার জিগ্যেস করল, ছেলেমেয়েদের নিয়ে যাওয়া।
সুরবালা বলল, হ্যাঁ, চলুক ওরা। তিনটি বাচ্চাই একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল, আমরা যাব, আমরা যাব!
ঠিক পাশাপাশি আর কোনও ঘরবাড়ি নেই। গ্রামের প্রান্তসীমায় খালপাড়ের জমিতে ছড়ানো ছিটানো কয়েক ঘর বসতি।
সোজা রাস্তাটা শ্মশানতলার দিকে। ছেলেমেয়ে তিনটে দিনের বেলাতেও এখান দিয়ে যেতে ভয় পায়। মানুষের হাড়-গোড় এদিক-সেদিক পড়ে থাকে। কাঠ কেনার পয়সার অভাবে যারা পুরো লাশ পোড়াতে পারে না, তারা শুধু মুখে আগুন দিয়ে ফেলে রেখে যায়, তারপর তাই নিয়ে ভোজ হয় শেয়াল-শকুনের।
আজ বাবা-মায়ের সঙ্গে যাচ্ছে, আজ আবার ভয় কী? বাবা-মা আর তিন সন্তান, এই পুরো পরিবার এর আগে কোনওদিন একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে যায়নি। বাবার সঙ্গে দু-একবার হাটে গেছে বটে, তাও মেয়েটা বাদ, মা-ও যায় না।
বটতলায় কোথা থেকে এক সাধু এসে ত্রিশূল গেড়ে বসেছে। সবাই সেখানে দাঁড়াল। সুরবালা এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে প্রণাম জানাল সাধুবাবাকে। তিনি হাত তুলে বিড়বিড় করে কিছু একটা আশীর্বাদ শোনালেন, কিন্তু প্রণামী দেবার মতন কিছু নেই সুরবালার সঙ্গে।
সে ফিরে আসার পর মেয়েটা জিগ্যেসা করল, মা, সন্নিসি ঠাকুররা গায়ে ছাই মাখে কেন?
সুরবালা তাকাল তার স্বামীর দিকে। এইসব প্রশ্নের উত্তর পুরুষদের দিতে হয়।
বিভু বলল, উমম সন্নিসি ঠাকুররা সবাই শিবঠাকুরের চ্যালা। শিবঠাকুর বলে দিয়েছেন, গায়ে ছাই না মাখলে আমার চ্যালা হতে পারবি না।
ছোট ছেলেটা জিগ্যেসা করল, বাবা, ঠাকুরের মাথায় সাপ থাকে কেন?
বিভু বলল, উমম, সাপ থাকে, মানে, এমনিই সাপ থাকে। এখন চল তো তাড়াতাড়ি।
ছেলেমেয়েরা দৌড়ে-দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে যায়। আবার তাদের ডেকে থামাতে হয়।
এরপর রথতলা। এ অঞ্চলে মোটামুটি সম্পন্ন লোকেদের বাস। দোল-দুর্গোৎসবও হয় এখানেই। এক পাশে রয়েছে কয়েকটা ভ্যানগাড়ি।
অনেকটা দূরের পথ। হেঁটে যাওয়া যেতে পারে বটে, তাতে ফিরতে-ফিরতে ঢের রাত হয়ে যাবে। তা ছাড়া বিকেলের আগেই গন্তব্যস্থানে পৌঁছবার কথা।
এক ভ্যানগাড়ির চালক পাশে দাঁড়িয়ে ছোট কাচের গেলাসে চা খাচ্ছে, তার কাছে গিয়ে বিভুপদ সারা শরীর মুচড়ে বলল, ভালো আছ তো গোবিন্দদা? তোমার গাড়ি এখন ছাড়বে?
গোবিন্দর সঙ্গে আগেই কথা বলে গেছে বিভুপদ। এ গাড়ি ভাড়া করার সামর্থ তার নেই। সনাতনপুরের হাট থেকে দশখানা গুড়ের নাগরি নিয়ে আসার অর্ডার আছে গোবিন্দর। এখান থেকে যাওয়ার পথে যদি প্যাসেঞ্জার না পায়, খালি গাড়ি যায়, তা হলে সে বিভুপদর পরিবারকে খানিকটা দূর পৌঁছে দেবে।
গোবিন্দ যেন সে-কথা ভুলেই গেছে। সে বলল, প্যাসেঞ্জার তো দেখছি না। গাড়ি ছাড়তে হবে। কিন্তু তোদের এতগুলোনকে তো বিনি ভাড়ায় নিতে পারব না! এত লোড থাকলে গাড়ি টানতে পরিশ্রম হয় না?
বিভুপদ মুখ চুন করে চুপ করে রইল।
গোবিন্দ বলল, অন্তত যা নায্য ভাড়া হয়, তার অর্ধেক তো দিবি? পার হেড পাঁচ টাকা।
বিভু বলল, ঠিক আছে, দেব। একেবারে ছোটটারও কি?
গোবিন্দ বলে, পনেরোটা টাকাই দে।
সে হাত বাড়াল বিভুর দিকে।
বিভু খুবই সংকুচিতভাবে বলল, এখন তো দিতে পারব না। পরে শোধ করে দেব। মা কালীর দিব্যি বলছি।
গোবিন্দ ভারিক্কি চালে বলল, ধার? আজ নগদ, কাল ধার। একবার দিলে ধার, এ পথে সে চলে না আর। কত দেখলাম।
বিভু বলল, আমার কথার খেলাপ হবে না। মা কালীর কিরে বললাম তো।
গোবিন্দ অবজ্ঞার সঙ্গে বলল, যা দিনকাল পড়েছে, লোকে ঠাকুর-দেবতার কিরেও মানে না। নে, ওঠ।
বাচ্চাগুলো জুলজুল করে তাকিয়ে সব শুনছিল, এবার তারা লাফালাফি করে উঠে পড়ল ভ্যানগাড়িতে। সুশীল বয়েসে বড়, সুতরাং স্থান নির্বাচনে তারই অগ্রাধিকার। সে একবার সামনে, একবার পাশে দেখতে লাগল কোনটা সুবিধেজনক। সুধা আর ছোটুকে পা ঝুলিয়ে বসতে দেওয়া হল না, তারা ভেতরে বসল বাবু হয়ে।
সুশীল তবু এর আগে কয়েকবার চলন্ত ভ্যানের সঙ্গে দৌড়ে-দৌড়ে উঠে বসেছে, আবার চালকের তাড়া খেয়ে নেমেও পালিয়েছে। সুধা আর ছোটুর এমন সৌভাগ্য এই প্রথম। হাঁটতে হয় না, অথচ রাস্তা ফুরিয়ে যায়, এ কী মজা! রাস্তা দিয়ে অন্য লোকরা যাচ্ছে, তারা কেমন পিছিয়ে যাচ্ছে, তারপর আর তাদের দেখাই যায় না!
তিনজনেরই এই প্রথম নিজেদের গ্রামের বাইরে যাওয়া! ওদের কাছে উন্মোচিত হচ্ছে নতুন জগৎ। এদিককার সব গ্রামের চেহারাই প্রায় এক, ওদের চোখে যেন বৈচিত্র্যের শেষ নেই।
ও মা, দ্যাখ-দ্যাখ, একটা তালগাছের গা দিয়ে আর-একটা অন্য গাছ উঠেছে। একসঙ্গে দুটো গাছ।
একটা কুকুর ওই বড়-বড় পাখিগুলোকে তাড়া করে খাচ্ছে, ওগুলো কী পাখি?
শকুন।
শকুন বুঝি মাটিতে নামে?
বাবা, কাঁধে দু-খানা বাঁশ নিয়ে ওই লোকটা কোথায় যাচ্ছে?
যাচ্ছে, নিজের বাড়িতে।
বাবা, ওই মন্দিরটা ভাঙা কেন?
কেন আবার কী? ভেঙে গেছে, তাই ভাঙা। একটু চুপ করে বোস।
ছোটটারই প্রশ্ন বেশি। সে চুপ করে থাকতে পারে না। একটু পরেই সে আবার কিছু জানতে চায়। তাকে ধমকও খেতে হয় সেইজন্য।
খানিক দূরে যাওয়ার পর গোবিন্দ জিগ্যেস করল, মাগ ছেলেপুলে নিয়ে কোথায় চললি রে বিভু?
বিভু বলল, যাব রণকালীপুর। ইয়ে, মানে বউয়ের বাপের বাড়ি। কয়েকটা দিন থাকবে?
গোবিন্দ বলল, বউয়ের বাপের বাড়ি। তোর শ্বশুর বাড়ি। ছেলেমেয়েগুলোর মামার বাড়ি। বাঃ, ভালোই কাটাবি। মামাবাড়ির ভারি মজা, কিল, চড় নাই। মামাবাড়ি দুধভাত দুয়ারে বসে খাই!
বিভু ঘরামির চেয়ে ভ্যানরিকশা চালক গোবিন্দর সামাজিক অবস্থান খানিকটা উঁচুতে। তার কথায় সেই সুর ফুটে ওঠে।
সুধার কোঁচড়ে বাঁধা ছিল মুড়ি। এখন তিন ভাইবোন খাচ্ছে।
সুশীল ফিসফিস করে মাকে জিগ্যেস করল, মা, আমরা মামাবাড়ি যাচ্ছি? কতদিন থাকব?
সুরো তাকাল বিভুর দিকে।
বিভু বলল, সে দেখা যাবে তখন। গাড়িটা লাফাচ্ছে, দেখিস, মুড়ি পড়ে না যায়।
সুধা জিগ্যেস করল, বাবা, তুমি খাবে?
বিভু বলল, নাঃ! তোরা শেষ কর।
ছোটু আবার শুরু করল প্রশ্নমালা।
চিল আর শকুনের মধ্যে কে বেশি উঁচুতে ওড়ে?
ওই মেয়েটা কাঁদছে কেন?
মোষ কি গরুর বাবা?
ভাইবোনেরা হাসে কিন্তু মা-বাবারা কেউ হাসে না। বিভু ধমক দিয়ে বলে, তুই থাম তো। আবার কথা বললে কান ছিঁড়ে দেব।
রাস্তা খোদলে ভরতি, তার মধ্যে আবার একটা লরি ঢুকে পড়েছে। ভ্যানরিকশার যাওয়ার পথ নেই। গোবিন্দ নেমে গিয়ে হল্লা শুরু করল।
ছোটদের কাছে এটাও বেশ রোমাঞ্চকর ব্যাপার। লরিটা কত বড়, তেমনই বড় চেহারার ড্রাইভার, তার সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে গোবিন্দ। কে জিতবে?
গোবিন্দ ফিরে এসে ভ্যানরিকশাটাকে প্রায় ধানখেতে নামিয়ে দিয়ে উঠল গিয়ে লরিটাকে ছাড়িয়ে রাস্তার অন্য দিকে। তা হলে গোবিন্দ জিতেছে, গোবিন্দ জিতেছে, তিনজনে হাততালি দিয়ে উঠল।
সুরো তার স্বামীর একেবারে ঘাড়ের কাছে মুখ দিয়ে নীচু গলায় জিগ্যেস করল, তুমি ওদের রেঁখে খাওয়াতে পারবে?
বিভু বলল, ফেন-ভাত ফুটিয়ে দেব। সে আর এমনকী কথা।
সুরো বলল, এই সময় আলু সস্তা হবে। সুধাও একটু-একটু পারবে। শুধু ওকে চুলো ধরাতে দিও না।
বিভু বলল, সে তুমি চিন্তা করো না। বড়টাকে এবার ইস্কুলে পাঠাব।
সুধা জিগ্যেস করলে, মা, তোর পুঁটুলিটায় কী?
সুরো বলল, দু-খানা শাড়ি।
বকুনি খেয়ে একটু চুপ করে থাকা ছোটু আবার ফস করে বলে উঠল, মামাবাড়িতে আমাদের ক'টা মামা?
সুশীলই এবার বলে উঠল, গ্যালেই তো দেখতে পাবি। বোকা।
এরা কেউই আগে মামাবাড়িতে যায়নি। মামাবাড়ি নামক রহস্যময় জায়গা সম্পর্কে কিছু শোনেওনি।
অদূরে সনাতনপুরের হাট। ভ্যানরিকশা থামিয়ে গোবিন্দ জিগ্যেস করল, তোরা তো রণকালীপুরে যাবি বললি? এইখানে নেমে যা, বাঁ-দিকে রাস্তা। বেশি দূর না। বিভু, মনে থাকে যেন!
এই রাস্তাটা অপেক্ষাকৃত ভালো। অত ফুটোফাটা নয়। পাশ দিয়ে পাশ দিয়ে চলেছে কেলেঘাই নদী, যাতে প্রচুর কচুরিপানার ফুল ফুটে আছে।
গ্রামের মূল বসতি থেকে বেশ কিছুটা দূরে, নদীর ধারেই এক জায়গায় টালির চালের আট-দশখানা ঘর। গোটা দু-এক মনোহরির দোকান।
সমানে বাঁশের কঞ্চির বেঞ্চে বসে গুলতানি করছে কয়েকজন পুরুষ।
খানিকটা দূরে ওরা থমকে দাঁড়াল। চেয়ে রইল সেই ঘরগুলির দিকে।
বিভু তার পত্নীর একটা হাত ধরে কিছুটা আবেগের সঙ্গে বলল, সুরো, সত্যিই যদি?
সুরোর নিরেট মুখে কোনও রেখা নেই, গলা কাঁপে না। সে বলল, হ্যাঁ, যাব তো।
বিভু বলল, এখনও ফিরে যাওয়া যায়।
সুরো বলল, আমি যাব ঠিক করিচি।
বিভু বলল, আমি কিন্তু তোকে জোর করিনি।
সুরো বলল, না, তুমি জোর করোনি, আমিই ঠিক করিচি।
উতলা হয়ে যাচ্ছে বাচ্চারা। ওই তো দেখা যাচ্চে মামারবাড়ি, তবু দেরি কেন?
সুশীল বলল, বাবা, চলো।
বিভু এবার খাঁকরি দিয়ে গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বলল, শোন রে তোরা। মামাবাড়িতে তোদের মা, এখন একলা যাবে। আমরা বাড়ি ঘুরব।
তিনজনের একই প্রশ্ন, কেন, কেন, আমরা যাব না কেন?
বিভু বলল, ওখানে ছোটদের যেতে নেই। মা আবার আসবে। ততদিন তোরা আমার সঙ্গে থাকতে পারবি না?
মেয়েদের বুদ্ধি আগে পাকে। ছোটদের মামাবাড়ি যেতে নেই, এটা সুধার কাছে ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হল না। মামার বাড়িতে দুধভাত তা হলে কারা খায়। শুধু বড়রা?
তার প্রশ্নের উত্তরে বিভু বলল, উমম, মামাবাড়িতে একজনের খুব অসুখ। তাই ছোটদের যেতে নাই। সুরো, তুই হলে এগিয়ে পড়, বেলা পড়ে আসতেছে।
ছোটু ওসব বুঝল না। সে মায়ের ঊরু জড়িয়ে ধরে শাড়ির মধ্যে মুখ গুঁজে খুব কাতরভাবে আবেদন করল, মা, আমি তোমার সঙ্গে যাব। একটুও চেঁচাব না।
স্বামী ও অন্য দুই সন্তানের দিকে ক্রমান্বয়ে তাকাল সুরো। তারপর ছোটুকে আস্তে-আস্তে ছাড়িয়ে নিয়ে সে বলল, তোকে পরে নিয়ে যাবে ছোটু। আজ বাড়িতে যা। বাড়িতে লক্ষ্মী হয়ে থাকবি।
সুধাকে বলল, ভাইকে ধর। তুই ছোটুকে সামলে রাখবি।
নীচু হয়ে সে স্বামীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করল। তিনটি সন্তানকে জড়িয়ে ধরল একসঙ্গে দু-হাত দিয়ে ঘিরে। আর কোনও কথা নেই।
তারপরই হঠাৎ ওদের ছেড়ে দিয়ে সে হনহন করে এগিয়ে গেল ঘরগুলোর দিকে। একটু পরে থেমে, মুখ ঘুরিয়ে বলল, তোমরা এখনি যেও না।
একটু থাকো।
গুলতানি করা লোকগুলোর পাশ দিয়ে যেতেই একজন আঙুল দেখিয়ে বলল, এই পাশ দিয়ে যাও, দেখবে একটা বড় ঘরের দাওয়া—
গলিতে প্যাচপেচে কাদা। ঘরগুলোর পাশ দিয়ে যেতে সুরো দেখল, সব জানলা দিয়ে উঁকি মারচে নানান বয়সের মেয়েরা।
এক জায়গায় গলিটা তিন ভাগ হয়ে গেছে, কোন দিকে যাবে বুঝতে না পেরে সুরো দাঁড়িয়ে পড়তেই একজন কেউ বলল, ওই তো ডান দিকে গো। রণকালীপুরের রণচণ্ডীকে দেখতে পাচ্ছনি?
বড় দাওয়ায় একটা পানের বাটা নিয়ে পা ছাড়িয়ে বসে আছে এক বিশালবপু রমণী। তার পাশে একজন একেবারে শালিকের মতন রোগা মেয়ে।
শালিকটিই বলল, ও মাসি, এরই তো আজ আসবাব কথা ছিল না?
মুখ ভরতি পানের পিক, রসস্থ গলায় সেই মাসি বলল, এসো গো, এসো বাছা। বোসো।
সর্বাঙ্গে কয়েকবার দৃষ্টি বুলিয়ে নরম গলায় মাসি বলল, কপাল পুড়েছে? এয়ো না বেধবা?
সুরোর উত্তর না শুনেই সে আবার বলল, সিঁদুর রয়েছে তো, আগে দেখিনি, আমি কি চোখের মাথা খেয়েচি? তা সে লোকটি বুঝি ভেগে পড়েছে?
সুরো বলল, না, বাড়িতেই থাকে।
মাসি বলল, বুঝিচি। মাজা ভাঙা। রোজগার করে খাওয়াতে পারে না। খাওয়ার মুখ আর ক'টা।
সুরো বলল, আমার তিনটি ছেলেমেয়ে।
চোখ কপালে তুলে মাসি বলল, অ্যাঁ? বলিস কি, তিনটে?
আবার সুরোর সর্বাঙ্গে চোখ বুলিয়ে মাসি বলল, মেয়ের বয়েস কত?
সুরো বলল, ছয়-সাত হবে!
মাসি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আহা রে! তার তো বিয়ের বয়েস হতে ঢের দেরি। অতদ্দিন পালতে হবে। গভ্যে ছেলেমেয়েদের ধরি, তারা আমাদের খেতে আসে। এটা দাও, সেটা দাও। তারপর ডানা গজালেই ফুড়ুত করে উড়ে যায়। আমরাও তো দুই ছেলে ছেলো। আজ কোথায় তারা, মায়ের খোঁজ রাখে?
শালিক-মেয়েটি বলল, আমার ছেলেটাও।
নিজে একখিলি পান মুখে পুরে, এক খিলি সুরোর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, নে খা! কী করবি বল, সবই নিয়তি। বাবা-মা খরচা করে বিয়ে দেয়, তার পরেও সোয়ামি যদি দু-বেলা দুটো ভাত দিতে না পারে, তার ওপর ছেলেপুলের হাঁ, সবসময় খাই-খাই। তা সে লোকটা জোর করে তোকে এখানে পাঠাল?
সুরো বলল, না, আমি নিজেই এসেছি।
মাসি বলল, বেশ করেছিস। বাঁচাতে হবে তো। কথায় বলে, আপনি বাঁচলে বাপের নাম। এমনি-এমনি ফৌত হয়ে গেলে কেউ চোখের জল ফেলতেও আসবে নাকো। সে লোকটা যদি কখনও এদিক পানে আসে, তাকে জোড়া পায়ে নাতি মারবি। আমার লোকও তাকে ধোলাই দিয়ে ভাগাবে।
সুরো বলল, তার কাশির অসুখ।
মাসি মস্ত একটা হাত নেড়ে বলল, থাক, থাক, ওসব কথা ঢের শুনিচি। আর শুনতে ইচ্ছে করে না। পুটুলিটায় কী?
শাড়ি দুটো দেখে মুখ ভেটকে মাসি বলল, ও চলবেনি। কাজের সময় একখানা অন্তত জড়ি পার শাড়ি লাগবে। এখেনেই দোকান আছে। আজ কিনতে পারবি?
সুরো দু-দিকে মাথা নাড়ল।
মাসি তাতে বিরক্ত না হয়ে বলল, ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমার কাছে পুরোনো আছে দু-একখানা, তা দিয়ে ক'টা দিন কাজ চলে যাবে। এখেনে বাপু খাওয়ার ব্যবস্থা যার-যার নিজের। আমার কোনও দায় নেই। এই শেফালি তোকে বুঝিয়ে দেবে। তবে, আজই তোকে ঘর দিতে পারব না, থাকবি মোক্ষদার সঙ্গে। মোক্ষদার উদরি হয়েছে, কোনও খাওয়ার দ্রব্যই সহ্য হয় না। তার দরুন মেজাজ খিটখিটে, হাড়-মাসে একটু রস নেই। খদ্দেরদের সঙ্গেও মেজাজ দেখায়। তিন-চারজন নালিশ করেছে আমার কাছে। বোঝে ঠ্যালা, ঠিকমতন যত্ন-আত্যি করবে না। তার ওপর খ্যাট-খ্যাট করবে। ছ্যা-ছ্যা-ছ্যা। খদ্দেরদেরই নাকি দোষ! খদ্দের হল লক্ষ্মী, তাদের কোনও দোষ ধরতে আছে? মোক্ষদা আড়াল থেকে যদি শোনে তো শুনুক, তাকে আমি এবার তাড়াব। দু-তিন দিনের মধ্যেই। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। সে যদি তোর ওপরেও চোপা করে, তুই কিছুটি বলবি না। মুখ বুজে থাকবি। যা বিহিত করার আমি করব। যা, এখন শেফালির সঙ্গে যা, ও ঘর দেখিয়ে দেবে।
সুরো তবু বসে রইল মাসির মুখের দিকে চেয়ে।
মাসি বলল, কী হল ওঠ! হাই ভাঙার সময় হল। এবার খদ্দেররা আসবে।
মাটির দিকে মুখ নীচু করে সুরো বলল, আমায় দুশো টাকা দেবেন?
এবার মাসির মুখের ভাব বদলে গেল একেবারে। মেঝেতা ভরা মুখে যেন আগুনের আঁচ।
কড়া গলায় সে বলল, টাকা? কীসের টাকা! আমি বাপু, তোমার পায়ে ধরে সেধে আনিনি। নিজে এসেচ, কাজ-কাম করতে চাও তো করো। আমার এখানে ফেলো কড়ি মাখো তেল। রোজগার করবে খাবে। এখনও যার রোজগার শুরুই হল না, সে টাকা চায় কোন মুখে।
সুরো বলল, আমার আজই টাকার খুব দরকার।
মুখঝামটা দিয়ে মাসি বলল, টাকার কার না দরকার। বল না, বিশ্বসংসার কে না টাকার জন্য হ্যাজাচ্ছে? আমি কি এখানে দানছত্তর খুলে বসিচি? তোমার বাপু এখেনে যদি না পোষায় তুমি চলে যেতে পারো। আমি কারুকে ধরে রাখি না।
সুরো বলল, ছেলেমেয়েগুলো বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, ওদের হাতে কিছু না দিতে পারলে কাল ওদের কিছু খাওয়া জুটবে না।
আরও কিছু ধমক দিতে গিয়ে থমকে গেল মাসি। এবার তার চক্ষুতে ফুটে উঠল বিস্ময়।
সে বলল, ছেলেমেয়েরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে? তাদের সঙ্গে এনিচিস? এ কেমন ধারা আক্কেল? এসব হল পাপী-তাপীদের জায়গা। গুণ্ডা-বদমায়েশেরা ঘোরাফেরা করে, ছোট বাচ্চাদের এখান থেকে দূরে রাখতে হয়। এইটুকু অন্তত ধম্মোজ্ঞান তো থাকবে। ওরে, এখানকার রাক্কোসরা সাত বছরের বাচ্চা মেয়েকেও খেয়ে ফেলতে চায়।
সুরো আবার বলল, দয়া করো। কিছু টাকা না পেলে।
মাসি বলল, দয়া? দয়া-টয়া করলে এ কারবার চলে না। ওরে শেফালি আমাকে একটু ধর তো।
শেফালি এক হাত ধরে টেনে তুলল মাসিকে তারপর মাসি নিজেই থপথপিয়ে চলে গেল ঘরের মধ্যে।
মুখ নীচু করে বসে রইল সুরো।
তার স্বামী তাকে জোর করে পাঠায়নি, সে নিজের ইচ্ছেতেই এসেছে, এটা ঠিক কথা। বিভুর কাশরোগ, তার শরীর দুর্বল হয়ে গেছে, মাঝে-মাঝে গলা দিয়ে রক্তের ছিটে বেরোয়। সরকারি হাসপাতালের ওষুধ খেয়ে সারে না। তারা পুষ্টিকর খাদ্য খেতে বলে।
শরীর দুর্বল, তাই ঘরামির কাজ আর ভালো পারে না বিভু। ইদানীং কাজ তেমন জোটেও না। তাকে ডাকে না কেউ। ইট-সিমেন্টের কাজও শেখেনি বিভু। দিনের-পর-দিন বাড়িতে বসে থাকলে স্ত্রী-সন্তানরা খাবে কী?
সুরো নিজে উপার্জনের চেষ্টা করেছে। মুড়ি ভাজা, লোকের বাড়িতে বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার করা। তার জন্য বাবুদের পাড়ায় যেতে হয়। তারা কেউ ঠিকা লোক চায় না। বাড়িতে থেকে সবরকম কাজকম্ম করবে, বাচ্চাদের গু-মুত পরিষ্কার থেকে রান্নাবান্না, তবে তো। তাও খোরাকির সঙ্গে মাত্র কয়েকটা টাকা। তাতে কি পোষায়? দিনের-পর-দিন এমন চলছে, নিজেরা তবু না খেয়ে, আধপেটটা খেয়ে চালিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ছেলেমেয়ে তিনটে, ওদের খিদের কান্না সহ্য করা যায় না। ওদের এই পৃথিবীতে আনা হয়েছে, ওরা ইচ্ছে করে আসেনি, ওদের দোষ কী!
ছেলেমেয়েরা ঘুমিয়ে পড়লে বিভু আর সুরো গালে হাত দিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে-ভেবে কুল পায়নি। বাড়িতে ঘটি-বাটি যা ছিল সব বিক্রি হয়ে গেছে। বিক্রি করার মতন আর কিছুই নেই। শুধু সুরোর গায়ের মাংস ছাড়া। এত অনাহারেও সুরোর শরীর একেবারে চিমসে হয়ে যায়নি। মা হয়ে সে সন্তানদের জন্য এইটুকু করতে পারবে না?
দু-টাকা পাঁচ টাকার নোট মিলিয়ে শ'খানেক টাকা আর একটা জড়ির পাড় বসানো ঝ্যালঝেলে শাড়ি নিয়ে ফিরে এল মাসি।
টাকাসুদ্ধু হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে মাসি বলল, যা দিয়ে আয়। এর আগে আমি কাউকে আগাম দিইনি, এই শেফালিরা জানে। এগুলো দিয়ে এসে কাজে লেগে পড়। আর যেন কখনও সে মিনসে আর কাচ্চাবাচ্চারা এদিক পানে না আসে, এই বলে দিলাম!
সুরো আবার বাইরে এসে দেখল, একটা পাকুড়গাছের তলায় ঠায় দাঁড়িয়ে আছে বিভু। তার হাত ধরে সুধা। ছেলে দুটো মনোহরির দোকানের সামনে ঘুরঘুর করছে হ্যাংলার মতন।
মাকে দেখে তারা দৌড়ে ফিরে এল।
টাকাগুলো বিভুর হাতে দিয়ে সুরো বলল, বেশি করে চাল কিনে নিও।
বিভু বলল, এখানকার হাটে একটুও সস্তা হবে।
সুরো বলল, নতুন চালে ফেনাভাত ভালো হয়। পেটও ভরে। আলু-আদা এখন সস্তা। নুন নিও মনে করে। আজকের দিনটায় অন্তত ছেলেমেয়েরা যেন ভালো করে খায়।
সুধা বলল, মা, মামাবাড়িটা ভেতরটা একবার দেখে আসতে পারব না? আমরা একটাও কথা বলব না।
সুরো বলল, আজ না। আর-একদিন।
বিভু বলল, মা তো ফিরে আসছেই। বেশিদিন নয়।
সুরো বলল, হ্যাঁ। ফিরে আসব।
ছোটু হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
সুরো বলল, ওদের ক-টা লজেঞ্চুস কিনে দাও। সুধা, ভাইয়ের হাত ধর।
লজেঞ্চুসের কথা উচ্চারিত হতেই সুশীল সঙ্গে-সঙ্গে দোকানটার দিকে। তার পরেই সুধা আর ছোটু।
বিভুর মুখোমুখি কয়েক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল সুরো। তার নিরেট মুখে কোনও ভাবলেশ নেই।
একটু পরে সে বলল, যাই। সাবধানে থেকো। রক্ত পড়লে নুনজলে কুলকুচি করবে।
সুরোর বদলে বিভুই চোখ ছলছল করছে। এরকম সময়ে কী বলতে হয়, তা সে জানে না। সে জামার খুঁট দিয়ে চোখ মুছল, তারপর আবার মুখ তুলতেই দেখল, সুরো ফিরে গেছে অনেকখানি।
একটা করে লজেন্স মুখে, একটা হাতে। অমৃতের স্বাদ নিতে-নিতে লাফিয়ে-লাফিয়ে এগিয়ে চলল তিনটি ছেলেমেয়ে। একটা পা তুলে-তুলে, নাচের ছন্দে দুলে-দুলে ছোটা। এরকমভাবে ছুটতে শুধু বাচ্চারাই পারে।
Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ছবির দেশে কবিতার দেশে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ইপাব)

amarboi ছবির দেশে কবিতার দেশে - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ইপাব)
মার্গারিট নতমুখে নরম গলায় বলল, তোমার কলকাতায় ফিরে যাওয়া খুব দরকার, তাই না?
আমি ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিতে-দিতে বললাম, আমাকে তো কিছু একটা কাজ করতে হবে? বাংলা ভাষায় লেখালেখি ছাড়া আর আর কোনও কাজ যে আমার ভালো লাগে না। আর কোনও কাজ বোধহয় আমি পারবও না। তোমাকেও পি-এইচ-ডি শেষ করতেই হবে, এটা আমার আদেশ।
পরদিন আমরা প্রায় পাশাপাশি দুটি এয়ার লাইন্স অফিসে আমাদের টিকিট কনফার্মড করতে গেলাম। আশ্চর্য ব্যাপার, প্যান অ্যাম এবং এয়ার ফ্রান্স জানাল, দু-জায়গাতেই ঠিক পরের দিন একটা করে সিট খালি আছে, তার পরের দিন দশেকের মধ্যে মার্গারিট সিট পেলেও আমি পাব না। সুতরাং একই দিনে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আমরা উড়ে যাব সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে, পৃথিবীর দুই প্রান্তে।

epub and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমার জীবনানন্দ আবিস্কার - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমার জীবনানন্দ আবিস্কার - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমার জীবনানন্দ আবিস্কার - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ভূমিকা
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আমি অনেক আলোচনা ও প্রবন্ধ লিখেছি, তার বেশিরভাগই অগ্রন্থিত হয়ে আছে। এই গ্রন্থে শুধুনানান লেখকদের সম্পর্কে রচনাগুলিই সংকলিত হয়েছে। তবে সেইসব লেখকদের সমগ্র সাহিত্য সৃষ্টির বিশ্লেষণ এসব লেখায় নেই, সে কাজ আমার নয়। আমার রচনাগুলি কিছুটা স্মৃতিমূলক এবং আলোচ্য লেখক ও তাঁদের কিছু কিছু লেখা সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রতিফলন। একই লেখককে নিয়ে বিভিন্ন উপলক্ষে একাধিকবার লিখেছি, যেমন জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, কমলকুমার মজুমদার, সমরেশ বসু বা শক্তি চট্টোপাধ্যায়। সেইজন্য কিছু কিছু পুনরুক্তি থেকে গেছে, সেগুলি বাদ দিইনি, কেননা উক্ত লেখকদের সম্পর্কে ঐ কথাগুলিই হয়তো আমি জোর দিয়ে বলতে চাই।
রচনাগুলি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত, শুধু জগদীশ গুপ্ত, সতীনাথ-কমলকুমার-এর ছোটগল্প বিষয়ক দীর্ঘ প্রবন্ধটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্মারক বক্তৃতা উপলক্ষে রচিত। নজরুল সম্পর্কে ক্ষুদ্র রচনাটি একেবারে শেষে স্থান দিয়েছি বিশেষ কারণে। এটি প্রবন্ধ বা আলোচনা বা স্মৃতিকথা, কিছুই নয়, অন্য দশকে নজরুলের জীবদ্দশায় লিখেছিলাম। রচনাটি হারিয়ে যেতে দিতে চাই না বলেই এই বইতে যুক্ত রইল।

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com