সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label articles. Show all posts
Showing posts with label articles. Show all posts

পুরানো ঢাকায় চলচ্চিত্র - অনুপম হায়াৎ

পুরানো ঢাকায় চলচ্চিত্র - অনুপম হায়াৎ
পুরানো ঢাকায় চলচ্চিত্র - অনুপম হায়াৎ
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ পেলেন আবদুলরাজাক গুরনাহ

amarboi
নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ২০২১ পেলেন আবদুলরাজাক গুরনাহ
আবদুলরাজাক গুরনাহ কে?
তানজানিয়ান উপন্যাসিক ১৯৪৮ সালে জাঞ্জিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তখন থেকে যুক্তরাজ্য এবং নাইজেরিয়ায় বসবাস করছেন।
তিনি ইংরেজিতে লেখেন, এবং তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস হল প্যারাডাইস, যা ১৯৯৪ সালে বুকার পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হয়েছিল।
গুরনা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য পড়ান।
তাঁর বিখ্যাত আফটারলাইভস্‌ উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পূর্ব আফ্রিকায় স্থায়ী জার্মান শাসনকে কেন্দ্র করে রচিত।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ঈশ্বর, সৃষ্টি ও ধর্ম - সা'দ উল্লাহ

ঈশ্বর, সৃষ্টি ও ধর্ম - সা'দ উল্লাহ
ঈশ্বর, সৃষ্টি ও ধর্ম - সা'দ উল্লাহ

সা’দ উল্লাহ একজন বাঙালি পণ্ডিত ব্যক্তি। ধর্মীয় বিষয়ে মহিমময় এই ব্যক্তির জ্ঞানের গভীরতা এবং ব্যাপকতা, যারাঁই তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন, দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। ধর্মীয় বিষয় মানে শুধু ইসলাম নয়;যে কোন ধর্মীয় বিষয় তিনি একজন পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর কন্যা বীণা বিন্তে সৈয়দের কথায়, “বড়দের কাছে শুনেছি,আব্বা আগে বেশ ধর্মকর্ম করতেন! ইসলামের ইতিকথা পড়ে পুরাপুরি সব বিসর্জন দেন,আমৃত্য”।
১৯২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে সা’দ উল্লাহর জন্ম। ছয় বছর বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে মামাদের বাসায় তাঁর বেড়ে ওঠা। গ্রামের স্কুল শেষ করে কলকাতায় রিপন কলেজে ভর্তি হন। দেশজুড়ে তখন অস্থির উথালপাতাল সময়, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, দেশভাগের টানাপোড়েন পেরিয়ে ১৯৪৮ সালে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। দিনে চাকরি, রাতে পড়াশুনা এভাবেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স করেন। প্রায় কুড়ি বছর পর তিনি এল এল বি করেন এবং অবসর নেবার পর ঢাকা লেবারকোর্ট এবং কিছু নাম করা প্রতিষ্ঠানে আইনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন। কর্মসূত্রে,ইংল্যান্ড, রাশিয়া,জাপানসহ বেশকিছু দেশ ঘুরেছেন। যখনই বিদেশের কোন দেশে যেতেন,সেদেশের ভালো সবকিছু নিজের করে নেবার চেষ্টা করে যেতেন নিরলস ভাবে।
ঘরোয়াআসরে তাঁর গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত সুধিজনের প্রশংসা পেয়েছিল! এছাড়া তিনি তবলা আর বেহালাবাদক হিসেবেও খ্যাতি পেয়েছিলেন,বন্ধু মহলে। লেখালেখির শুরু চট্টগ্রামে। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় "রং -তুলি- ক্যানভাস" নামে কলাম লিখেছিলেন, দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় ও লিখেছিলেন বেশ ক' বছর।
ঢাকায় দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাঁর ইসলাম বিষায়ক কলাম লিখে প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়।এরপর মৌলবাদের চক্করে পড়ে তাঁকে বাধ্য করা হয় লেখা বন্ধ করতে!এরপর আর কোন পত্রিকায় তাঁকে লিখতে দেওয়া হয়নি। এই লিখতে না পারার ব্যাপারটা তাঁকে বেশ কষ্ট দিতো। আর সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে তিনি শুরু করেন অনুবাদ! যা তাঁকে ব্যস্ত রেখেছিল অবসরজীবনে। সাদ'উল্লাহ আজীবন "সবার উপরে মানুষ সত্য," এই মতবাদের পূজারি ছিলেন। ধর্ম বলতে তিনি বুঝতেন মানবধর্ম,আর কিছু নয়! তিনি এই কথা কেবল বিশ্বাস করতেন,তা নয়,রীতিমত তার চর্চাও করতেন।
১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ এ, ক্রমাগত উঠা-নামা সমৃদ্ধ,বর্ণময় দিনগুলোর মোহমায়া কাটিয়ে পরিণত বয়েসে সাদ'উল্লাহ র জীবনাবসান ঘটে।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাঙালী ও ইসলাম - সা’দ উল্লাহ্

amarboi
বাঙালী ও ইসলাম
সা’দ উল্লাহ্

সা’দ উল্লাহ একজন বাঙালি পণ্ডিত ব্যক্তি। ধর্মীয় বিষয়ে মহিমময় এই ব্যক্তির জ্ঞানের গভীরতা এবং ব্যাপকতা, যারাঁই তাঁর সান্নিধ্যে এসেছেন, দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। ধর্মীয় বিষয় মানে শুধু ইসলাম নয়;যে কোন ধর্মীয় বিষয় তিনি একজন পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর কন্যা বীণা বিন্তে সৈয়দের কথায়, “বড়দের কাছে শুনেছি,আব্বা আগে বেশ ধর্মকর্ম করতেন! ইসলামের ইতিকথা পড়ে পুরাপুরি সব বিসর্জন দেন,আমৃত্য”।

১৯২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে সা’দ উল্লাহর জন্ম। ছয় বছর বয়সে বাবা-মাকে হারিয়ে মামাদের বাসায় তাঁর বেড়ে ওঠা। গ্রামের স্কুল শেষ করে কলকাতায় রিপন কলেজে ভর্তি হন। দেশজুড়ে তখন অস্থির উথালপাতাল সময়, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, দেশভাগের টানাপোড়েন পেরিয়ে ১৯৪৮ সালে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। দিনে চাকরি, রাতে পড়াশুনা এভাবেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স করেন। প্রায় কুড়ি বছর পর তিনি এল এল বি করেন এবং অবসর নেবার পর ঢাকা লেবারকোর্ট এবং কিছু নাম করা প্রতিষ্ঠানে আইনবিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন। কর্মসূত্রে,ইংল্যান্ড, রাশিয়া,জাপানসহ বেশকিছু দেশ ঘুরেছেন। যখনই বিদেশের কোন দেশে যেতেন,সেদেশের ভালো সবকিছু নিজের করে নেবার চেষ্টা করে যেতেন নিরলস ভাবে।

ঘরোয়াআসরে তাঁর গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত সুধিজনের প্রশংসা পেয়েছিল! এছাড়া তিনি তবলা আর বেহালাবাদক হিসেবেও খ্যাতি পেয়েছিলেন,বন্ধু মহলে। লেখালেখির শুরু চট্টগ্রামে। দৈনিক আজাদী পত্রিকায় "রং -তুলি- ক্যানভাস" নামে কলাম লিখেছিলেন, দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায় ও লিখেছিলেন বেশ ক' বছর।

ঢাকায় দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় তাঁর ইসলাম বিষায়ক কলাম লিখে প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়।এরপর মৌলবাদের চক্করে পড়ে তাঁকে বাধ্য করা হয় লেখা বন্ধ করতে!এরপর আর কোন পত্রিকায় তাঁকে লিখতে দেওয়া হয়নি। এই লিখতে না পারার ব্যাপারটা তাঁকে বেশ কষ্ট দিতো। আর সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে তিনি শুরু করেন অনুবাদ! যা তাঁকে ব্যস্ত রেখেছিল অবসরজীবনে। সাদ'উল্লাহ আজীবন "সবার উপরে মানুষ সত্য," এই মতবাদের পূজারি ছিলেন। ধর্ম বলতে তিনি বুঝতেন মানবধর্ম,আর কিছু নয়! তিনি এই কথা কেবল বিশ্বাস করতেন,তা নয়,রীতিমত তার চর্চাও করতেন।

১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ এ, ক্রমাগত উঠা-নামা সমৃদ্ধ,বর্ণময় দিনগুলোর মোহমায়া কাটিয়ে পরিণত বয়েসে সাদ'উল্লাহ র জীবনাবসান ঘটে।

সূ চি প ত্র
বাঙালী ও জাতীয়তাবাদ ১১
বাংলাদেশে ধর্মের প্রভাব ৪২
পীর-মুরিদী সংবাদ ৭৫
আত্মা ও অধ্যাত্মবাদ ১০৪
বৈরাগ্যবাদ ১২৯

ভূমিকা

এই গ্রন্থে বিধৃত প্রবন্ধগুলাে বিভিন্ন তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত। বিষয়ভিত্তিক বিভাজন করে পরিচ্ছেদ আলাদা করা হয়েছে। পরিচ্ছেদের অংশ পাঁচটি- (১) বাঙালী ও জাতীয়তাবাদ (2) বাংলাদেশে ধর্মের প্রভাব (3) পীর-মুরিদী সংবাদ (৪) আত্মা ও অধ্যাত্মবাদ এবং (৫) বৈরাগ্যবাদ। যারা নিয়মিত জনকণ্ঠ পত্রিকায় ইসলাম ও আমরা কলামটি পড়েছেন তাদের স্মরণে প্রত্যেক প্রবন্ধের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠতে পারে। লেখার মধ্যে অনেক কিছু এমন আছে যা পাঠক পড়ে আগে পত্র দিয়েছেন, এখনাে হয়তাে আমার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারেন। তবে, এসব আমার কথা নয়, পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের । আমি শুধু তুলে ধরেছি; সিদ্ধান্ত পাঠকের।

আমি বাঙালী। এটাই আমার গর্ব, আমার লজ্জাও। বাঙালী আদৌ কি কোন জাতি? তার ভাষা প্রকৃতই কি ধরনের বাংলা? বাঙালীর বাস্তবিক কোন ইতিহাস আছে কিনা? থাকে যদি তা হলে সে ইতিহাস কবে থেকে শুরু? এই সমস্ত প্রশ্ন অনেক সময় মনে হয়।

প্রাচীন চর্যাগীতিতে ভুসুকুপাদের পদাবলীতে প্রথম বাঙালী শব্দের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। “আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী।/ নিজ ঘরিণী চণ্ডালী লেলীয় ॥ ভুসুকু কথিত বঙ্গালী’ কি আজকের ‘বাঙালী’? তখনকার দিনে ‘বঙ্গাল' বা 'বঙ্গ' নামে অভিহিত জন পদ আজকের বাংলা নয়। বাংলা বলতে এখন যা বােঝায় তখন তার অস্তিত্ব ছিল না। এই দেশ তখন খণ্ড খণ্ডভাবে সূক্ষ্ম, রাঢ়, তাম্রলিপ্তি, বঙ্গাল, সমতট, হরিকেন, পুণ্ড্রবর্ধন (বরেন্দ্র), গৌড় (কর্ণসুবর্ণ) ইত্যাদি নামে পরিচিত ছিল। বঙ্গাল বা বঙ্গ বলতে বর্তমানকালের ঢাকা বিক্রমপুর, সােনারগাঁও সংলগ্ন পূর্ববঙ্গ নির্দেশ করত। পশ্চিমবঙ্গে যাদের বাঙাল’ বলা হয়, ভুসুকুপাদের ‘বঙ্গালী’ সেই বঙ্গাল জনপদের অধিবাসী ছিল। সে যে ভাষা ব্যবহার করত তা বােধ করি মাগধী অপভ্রংশ থেকে উদ্ভূত বাংলা ভাষার কোনও আঞ্চলিক প্রত্নরূপ। সে ভাষা এখনকার বাংলা নয়। তাই বঙ্গালী ভুসুকপাদকে বাঙালী কি বলা যায়? বাঙালী বলতে যে জাতি বোঝায় সে জাতি তখনও দানা বাঁধেনি।

আদিপর্ব নামে তুর্ক অধিকারের প্রাক্কাল পর্যন্ত যে সুপ্রসিদ্ধ বই নীহাররঞ্জন রায় রচনা করেছেন তা বাঙালীর ইতিহাস নয়। তবে যদি ‘আদি’ পর্ব না বলে প্রাক’, ‘পূর্ব’ বা ‘প্রত্ন' পর্ব কথাটি তিনি ব্যবহার করতেন, তবে বাঙালীর ইতিহাস আখ্যা প্রয়ােগের এক প্রকার সার্থকতা অনুভব করা যেত। নীহার রঞ্জন রায়ের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রমেশচন্দ্র মজুমদার ওই একই সময় নিয়ে অর্থাৎ আদিমকাল থেকে তুর্ক অধিকারের প্রাক্কাল পর্যন্ত দি হিস্ট্রি অব বেঙ্গল সম্পাদন করেছেন, তাও বস্তুতপক্ষে বাংলার ইতিহাস নয়। যে যুগে বাঙালীর অস্তিত্ব ছিল না সে যুগে গবেষণা চলতে পারে, কিন্তু বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়।

মুসলমানদের অধিকারের পূর্বে গােটা দেশটির কোন একটি নাম ছিল না। বাংলা বা বাংগালা নামটি মুসলমান শাসকরাই বঙ্গাল’ নাম থেকে আহরণ করেছিলেন। চর্যাগীতির ভাষার উদ্ভব থেকে আরম্ভ করে গৌড়ের স্বাধীন মুসলমান সুলতানদের উদয় পর্যন্ত (৯৫০-১৩৫০) চারশাে বছর ধরে দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে এই রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলেছিল এবং এর ফলে যে পদার্থ সৃষ্টি হয় তাই হল বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতি ।

ইতিহাসে এই দেশের সীমানা নির্দেশ করেন আবুল ফজল তাঁর আইনী আকবরীতে। এখন ভূগােল ও ভাষাতত্ত্ব মিলিয়ে পড়লেই কেমন বাঙালীর জন্ম হল তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। হিউয়েং সাং-এর ভ্রমণ বৃত্তান্তে (সপ্তম শতক) প্রমাণ পাওয়া যাবে যে চর্যাগীতিকাগুলাে থেকে যে ভাষার অস্তিত্ব জানা যায়, নিঃসন্দেহে সেই ভাষা পূর্বভারতে এমনকি বঙ্গাল প্রত্যন্তও চালু ছিল। এ ভাষা তুর্কী বিজয়ের পূর্ববর্তী সেই প্রত্নভাষা যা থেকে মগধি, মৈথিলি, ভােজপুরি, বাঙলা, ওড়িয়া ইত্যাদি ভাষা পরবর্তীকালে স্পষ্টত বিশিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতিকে বাংলা পুঁথি হিসাবে গ্রহণ করেছেন বটে, কিন্তু হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতই সুনীতিকুমার চট্টোপাধায়ও বাঙালী চর্যাগীতি বাংলা ভাষা নয়। এ ভাষা প্রাকবাংলা।

বাংলাদেশ’ ও ‘পশ্চিম বঙ্গ’ নামে যে দুটি সরকার শাসিত অঞ্চল এই উপমহাদেশে গঠিত হয়েছে তাদের ভিত্তি আলাদা আলাদা ধর্ম ও সংস্কৃতিমূলক সম্প্রদায়ের দ্বৈত অস্তিত্বের ওপর। আমরা ফার্সি তারিখগুলিতে সর্বপ্রথম বাংগালা নামের ব্যবহার পাচ্ছি। মিনহাজ বংগ বলতেন, বরণী বলছেন বাংগালা। কিন্তু বরণীর লেখা থেকে বােঝা যায় যে, দিয়ার-ই-বাংগালা' নামক অঞ্চলটি তখনও লখনওতি ও সাতগাঁও থেকে আলাদা। আগে এসেছে মুসলমান তারপর এসেছে বাঙালী। ভারতবর্ষে সুপ্রাচীন ইতিহাসে এ দুটিই নেহাত নয়া ঘটনা। কিন্তু দুইটির যথাযথ ঐতিহাসিক পারম্পর্য ভুললে চলবে না। আবার এও মনে রাখা দরকার যে, মুসলমানদের আগমন এবং বাঙালী উদয় আলাদা আলাদা ঘটনা। নানাভাবে এই দুই ঘটনা পরস্পর সম্পৃক্ত হয়ে গেছিল। এ হল বাঙলার ইতিহাসের গােড়ার কথা। ভক্তি ও ইশক বাঙালী হিন্দু ও বাঙালী মুসলমানদের প্রাণের কথা, ভক্ত ও সুফীদের নব দান।

দৈহিক ভাবে বাঙালী প্রেমিক। আধ্যাত্মিকভাবে বাঙালী ভগবদ্ ভাবুক। চতুর্দশ শতকে এ দুয়ের মধ্যে একটা সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছিল। দেহ রসাের্থত প্রেমের সঙ্গে নফস-আত্মক ভগবদ বিরহ মিলে গিয়েছিল। ইসলামী ইশক ও ব্রাহ্মণ্য কামের সংযােগে বাঙালী মানস গঠিতহয়। ইলিয়াস শাহ নব সৃষ্ট বাঙালীর প্রথম ‘শাহ-ই-বাঙালীয়ান।' এ ঘটনা বাহ্যিক। তিনি নিজে বাঙালী ছিলেন না। অবাঙালী প্রভুত্বের দ্বারা চিহ্নিত বাঙালি রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডল একটা বিশেষ মানসিক পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং বাঙালীকে ইশক-আকুল ও ভক্তিবাদী করে তােলে। বৌদ্ধদের চর্যাপদের গুপ্ত ফল্গুধারা বৈষ্ণবদের শ্রীকৃষ্ণসন্দৰ্ব্ব-এ খরস্রোতা হয়ে উঠেছে এবং ঐ একই আদিরসের স্রোত বাঙালী মুসলমানদের প্রথম বাংলা কাব্যগ্রন্থ ইউসুফ জোলেখার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পৌরুষের রৌদরস না হয়ে নারীত্বের মাধুর্যরস কেন হল তার এই উত্তর। জন্মলগ্নে বাঙালী হিন্দু ও বাঙালী মুসলমান ছিল পরাধীন। বহিরাগত ইসলাম ও গৌড় বঙ্গালােত বাংলার পূর্বাপর পারম্পর্য এই ঐতিহাসিক রসায়নকে সম্ভবপর করে তুলে ছিল । এই-ই বাঙালীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। আগ্রহী পাঠক যদি পারেন বাঙালি’ কে, কবে এবং কেন রজতকান্ত রায় রচিত প্রবন্ধটি পড়ে নিবেন- সূত্র দেশ পত্রিকা, ১১ নভেম্বর ২০০০-পৃষ্ঠা ২১।

ভুলত্রুটি থাকবেই। এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। পাঠকদের ভাল লাগলে শ্রম সার্থক হবে। সকলে ভাল থাকুন।

ডিসেম্বর ২০০১
উত্তর, ঢাকা

সাদ উল্লাহ
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ফাউন্ডেশন অব ইসলাম - বেঞ্জামিন ওয়াকার - অনুবাদঃ সা’দ উল্লাহ

amarboi
ফাউন্ডেশন অব ইসলাম
বেঞ্জামিন ওয়াকার
অনুবাদঃ সা’দ উল্লাহ

অনুবাদকের কথা
বেঞ্জামিন ওয়াকার (Benjamin Walker)-এর গ্রন্থ 'Foundation of Islam' একটি মৌলিক ঐতিহাসিক গ্রন্থ বলে পরিচিত। এই গ্রন্থ রচনায় গ্রন্থকার বহু পণ্ডিত ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞদের রচিত গ্রন্থ আলােচনা করে এই পুস্তকটি রচনা করেছেন। অনুবাদিত গ্রন্থের শেষে গ্রন্থপঞ্জিতে আলােচিত পুস্তকের তালিকা ইংরেজি ভাষায় তুলে দেয়া হয়েছে। মূল গ্রন্থটির অনুবাদ একেবারে আক্ষরিক নয়; বিষয়বস্তুর কোনাে পরিবর্তন বা বিবর্জন হয়নি। যথাসম্ভব গ্রন্থকারের মূল বক্তব্য ও সূত্রসহ অনুবাদিত। অনুবাদকের এই রচনায় নিজস্ব কোনাে ভূমিকা নেই এবং তাঁর একটিও নিজের বাক্য সংযােজিত হয়নি। মূল গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যসহ বিষয়গুলি শুধু বাংলা ভাষায় বাঙালি পাঠকের সুবিধার জন্য ভাষান্তর করা হয়েছে। গ্রন্থখানি তথ্যসমৃদ্ধ ইতিহাস গ্রন্থ এতে কোনাে কিংবদন্তি নেই, অতিকথন নেই। ইসলাম ধর্ম ঐতিহাসিক ধর্ম এবং এই ধর্মের প্রবর্তকও ঐতিহাসিক ব্যক্তি। অতএব এই গ্রন্থকে ইসলামের ইতিহাস রূপে পাঠ করা উচিত। পরমতসহিষ্ণ হয়ে, আবেগতাড়িত হয়ে নয়। গ্রন্থটি ইসলামের ইতিহাস, থিওলজি নয়।




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৮

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৮ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৮
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৭

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৭ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৭
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৬

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৬ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৬
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৫

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৫ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৫
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৪

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৪ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৪
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৩

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৩ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০৩
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০২

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০২ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০২
ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন। উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ । বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য । আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য !
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০১

আহমদ শরীফ রচনাবলী ০১ আহমদ শরীফ রচনাবলী ০১

ভূমিকা
বাংলাদেশের জ্ঞানম নীষা ও পাণ্ডিত্যের জগতে আহমদ শরীফ মহীরুহ সদৃশ ব্যক্তিত্ব। ঊনাশিতম জন্মদিন উদযাপন শেষে আশি বছরের জীবন শুরু করার পর্যায়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ তিনি প্রয়াত হন। কিন্তু রেখে যান তার সারাজীবনের সঞ্চয়--অজস্র রচনা, অসংখ্য গ্রন্থ, অগণিত মূল্যবান গবেষণা। জীবনে এত বেশি লেখালেখি করেছেন যে সেগুলোর মুদ্রিত পৃষ্ঠা জড়ো করলে এক মহাস্তুপে পরিণত হবে বৈকি। নিঃসন্দেহে উত্তরসাধকেরা তার বিপুল গবেষণার ফসল দ্বারা ঋদ্ধ এবং তার অমল হিতবাদী চিন্তু দ্বারা অনুপ্রাণিত | বাংলাদেশের মনন ধারার সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি এক প্রভাবশালী পুরুষ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের গবেষণা সহকারী হিসেবে তার যথার্থ অধ্যাপনা জীবন শুরু । কিন্তু প্রভূত অধ্যয়ন, পরিচ্ছন্ন ইতিহাসজ্ঞান ও সমাজদৃষ্টির বিশ্লেষণী ক্ষমতা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা ও জ্ঞানকে অসামান্য এক ঠিকানায় পৌছে দেন। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক হিসেবে তার খ্যাতিও তুঙ্গে ওঠে । এ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে, বাংলাভাষী সব অঞ্চলে ! আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ভাইপো ও পোষ্যপুত্র এবং ভাবশিষ্য আহমদ শরীফ আবদুল করিমেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনায় ব্ৰতী হন। সংস্কৃতি ও সাহিত্য ক্ষেত্রে বাঙালি মুসলমানের আত্মস্বরূপ অনুসন্ধানে ডক্টর শরীফের গবেষণা দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। আধুনিক । বাংলা সাহিত্যের মতো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যও যে হিন্দু-মুসলমানের মিলিত সাহিত্য সেই সত্যটি প্রতিষ্ঠা করার কৃতিত্ব আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের ও আহমদ শরীফের । বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাহিত্য রাজ্যের বরপুরুষের পিতৃব্য ও ভাইপো উভয়কে নিশ্চয়ই উচ্ছ্বসিত করতালি দেবেন।
উপাত্তে মধ্যযুগ, কিন্তু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পূর্ণ আধুনিক—এই হল আহমদ শরীফের মধ্যযুগের সাহিত্য গবেষণা। কিন্তু তবু অচিরে মূর্তিমান মধ্যযুগের তথাকথিত ভাবমূর্তি ভেঙে দেন আহমদ শরীফ এবং পদার্পণ করেন আধুনিক সাহিত্যের জগতে । মূল্যায়নে অভিনিবেশী হন উনিশ বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রূপকারদের–বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত এবং আরো অনেকের; একসময় যেমন তিনি মূল্যায়ন করেছেন সৌলত উজির বাহরাম খান, আলাওল, কাজী দৌলত, মুহম্মদ কবীর, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখের। হয়তো কখনো তার মূল্যায়ন প্রতিক্রিয়াপূর্ণ, কিংবা কখনো বিতর্কিত, কিন্তু আহমদ শরীফের লেখার মূল্য এইখানে যে, একটা নতুন অভিমত ও দৃষ্টির পরিচয় সেখানে অবশ্যই আছে। আবার প্রতিদিনের সমাজপ্রবাহকে তিনি অভিনিবেশ সহকারে দেখেন, প্রগতি ও প্রগতির দ্বন্দকে বুঝতে চেষ্টা করেন, কিন্তু সবসময় প্রগতির পক্ষেই নিজের চিন্তা ও অভিমত অনুকূল করে রাখেন । আহমদ শরীফের লেখায় বাংলাদেশের ভাঙাচোরা ও দুষ্ট সমাজের ক্লেদ ও ক্লিন্ন চিত্রগুলো অবশ্যই আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহমদ শরীফ নৈরাশ্য ভারাতুর নন বরং মানবিক প্রত্যয় ও প্রত্যাশায় দারুনভাবে বিশ্বাসী। আহমদ শরীফ কলাবাদী লেখক নন, উপযোগিতাবাদী লেখক । সেই উপযোগিতাবাদের মূল আধার মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ, বাংলা ভাষার মানুষ, নির্যাতিত নিপীড়িত যানুষ ।
বাংলাদেশের আধুনিক চিন্তাচেতনার জগতে আহমদ শরীফ একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি নির্মাণ করেছেন । তিনি পুরোনো মূল্যবোধ ও সংস্কারের ঘোর বিরোধী, সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক আধি-ব্যধির তুমুল সমালোচক । শ্রেয়সের সন্ধানী তিনি, তিনি গণমানবের হিতৈষী, সমাজতন্ত্রে আস্থাশীল, একশ ভাগ অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবাদী এবং সেইজন্যই নাস্তিক্য দর্শনের অনুরাগী । তার গণমানব হিতৈষণা, মানবতাবাদ এবং সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা, তাকে বাংলাদেশের বামধারায় লোকদের প্রিয় করেছে । স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে সাহসী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকায় তিনি সবসময় শ্রদ্ধেয় ও মান্য । অসংখ্য গ্রগতিবাদী ও স্বদেশহিতৈষী সংঘ, সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি ছিলেন যুক্ত এবং এই সব জায়গায় সবসময় তিনি স্পষ্টভাষী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী এবং গণমানবের হিতকামী । তারুণ্যমণ্ডিত আহমদ শরীফ জীবনে প্রচুর আড্ডা দিয়েছেন, জ্ঞান ও বিদ্যার কথা বলেছেন অজস্র ; ভাষণ, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন অসংখ্য ।
আহমদ শরীফ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে একজন সেরা গবেষক, উল্লেখযোগ্য প্রাবন্ধিক ও লেখক এবং চিন্তাময়িক । চল্লিশটির বেশি মৌলিক গ্রন্থ এবং মল্লিশটিরও বেশি সম্পাদিত গ্রন্থ তিনি প্রকাশ করেছেন। দৈনিকে সাপ্তাহিকে কলাম লিখেছেন প্রচুর এবং আমৃত্যুই লিখেছেন। তাঁর রচনাসম্ভার নানা বিষয়ের, নানা প্রসঙ্গের ও নামা রসের ও ব্যঞ্জনার । ইতিহাস ও ধর্মদর্শনের অতি গুরুতর রচনা যেমন তার আছে, তেমনি আছে হালকা চালের লঘু রচনা। এত বিপুল রচনাসম্ভার রচনাবলীর আকারেই পরিবেশনযোগ্য ! এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সুখ্যাত প্রকাশনা
ংস্থা আগামী প্রকাশনীর সৌজন্য ও স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা অবশ্যই প্রশংসার্হ। হয়তো
রচনাবলীর বিষয়ভিত্তিক পরিসজ্জাও হতে পারত। কিন্তু তাতে আহমদ শরীফের চিন্তা চেতনার কালানুক্রমিক পরিচয় পেতে কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি হত। আলোচ্য রচনাবলী গ্রন্থের প্রকাশকাল অনুসারে পরিকল্পিত | রচনাবলীর প্রথম খণ্ডে আহমদ শরীফের প্রথম দিককার মৌলিক গ্রন্থগুলো সংকলিত ।

সূচিপত্র
বিচিত চিন্তা
সাহিত্য চিন্তাঃ ভাষার কথা ৩
কেজো ও অকেজো সাহিত্য ৭
সাহিত্যের রূপ-প্রতীক ১১
কথা সাহিত্যের সমস্যা ও এর বিষয় বস্তু ১৫
গণ সাহিত্য ২৪
বুজোয়াসাহিত্য বনাম গণ সাহিত্য ২৮
সাহিত্যের রূপকল্পে ও রসকল্পে বিবর্তনের ধারা ৩১
কবিতার কথা ৩৫
সাহিত্যের স্বরূপ ৪১
সাহিত্যের আদর্শবাদ ও অর্ডিন্যান্স ৪৫
জাতীয় জীবনে লোকসাহিত্যের মূল্য ৪৮
বাঙলা সাহিত্যের ইসলামমুখী ধারা ৫১
দোভাষী পুথির ভাষা ৫৫
পুথিসাহিত্যের ইতিকথা ৬৪
আমাদের সাহিত্যের প্রাচীন উপাদান ৭১
সাহিত্যের জাতীয় ঐতিহ্য ৭৪
সাময়িক পত্র ৭৬
বঙলা ভাষা ও সাহিত্যের খসড়া চিত্র ৭৮
জীবন শিল্পী ১২২
সংস্কৃতি চিত্তা : স্বদেশ, স্বভাষা ও স্বাঙ্গাত ১২৫
মানুষের সাধন ১২৭
বিকাশের পথে মানবতা ১২৯
জীবনবোধ ও সংগ্রাম ১৩১
স্বাতন্ত্র ১৩৩
স্বাতন্ত্র্যবোধ ও জাতিবৈর ১৩৬
ঐতিহ্যবোধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ১৪০
মানববিদ্যা ১৪৩
দেশ, জাত ও ধর্ম ১৪৬
সংস্কৃতি ১৪৯
দুর্দিন ১৫২
ধর্মবুদ্ধিয় গোড়ার কথা ১৫৭
বিশ্বের নাগরিক ১৬১
জেহাদের স্বরূপ ১৬৩
সাহিত্যিক-চিন্তা : নতুন দৃষ্টিতে মধুসূদন ১৬৭
মধুসূদনের অন্তলোক ১৭০
বঙ্কিমমানস ১৭২
সৌন্দর্যবৃদ্ধি ও রবীন্দ্র মনীষা ১৭৯
রবস্ত্রী-মানসের স্বরূপ সন্ধানে ১৮৬
রবীন্দ্রনাথ ১৯০
অতীন্দ্ৰিয় লোকে রবীন্দ্রনাথ ১৯২
মহাকবি কায়কোবাদ ১৯৯
সৈয়দ এমদাদ আলীর সাধনা ২০২
শাহাদাৎ- সাহিত্যের বৈশিষ্ঠ্য ২০৪
নজরুল মানস ২০৭
যুগন্ধর কবি নজরুল ২০৯
নজরুলের কাব্য প্রেরণার উৎস ২১৩
নজরুলের কাব্য সাধনার লক্ষ্য ২১৭
নজরুল ইসলাম : এক বিরূপ পাঠকের দৃষ্টিতে ২১৯
নজরুল-কাব্যে প্রেম ২২২
নজরুল ইসলামের ধর্ম ২২৭
লালন শাহ ২৩০
বাউল সাহিত্য ২৩৪
সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা অন্ন ও আনন্দ ২৪৩
মুক্তির অন্বেষায় ২৪৬
বিশ্ব সমস্যা ২৫০
মানবিক সমস্যার সমাধানে সংবাদপত্র ২৫৩
ইতিহাস পাঠকের দু’একটি জিজ্ঞাসা ২৫৬
জাতীয়তা ২৬১
চিন্তা প্রকাশের স্বাধীনতা ২৬৪
ইংরেজ আমলে মুসলিম মানসের পরিচয় -সূত্র ২৬৭
জীবন, সমাজ ও সাহিত্য ২৭৩
মসী-সংগ্রামীর সমস্যা ২৭৬
জাতিবৈর ও বাঙলা সাহিত্যু ২৭৯
পচিশে বৈশাখে ২৮২
মতবাদীর বিচারে রবীন্দ্রনাথ ২৮৬
রবীন্দ্র প্রসঙ্গে ২৯১
মোহিত লালের কাদ্যের মূলসূর ২৯৩
বাংলাভাষার প্রতি সেকালের লোকের মনোভাব ৩০৮
বাঙলা সাহিত্যের আঁধার যুগের ইতিকথা ৩১৫
বাঙলা প্রণয়োপাখ্যানের উৎস ৩৩২
বৈষ্ণবমতবাদ ও বাঙলা সাহিত্য ৩৩৬
বিদ্যাপতির কাল নিরূপণ ৩৪৫
স্বদেশ অন্বেষা
সংস্কৃতির মুকুরে আমরা ৩৬১
বাঙালির সংস্কৃতি ৩৬৪
বাঙলা ও বাঙালি ৩৬৯
ইতিহাসের ধারায় বাঙালি ৩৭২
জাতিগঠনে ভাষার প্রভাব ৩৭৯
ভাষা প্রসঙ্গে-বিতর্কের অন্তরালে ৩৮৩
ইতিহাসের আলোকে আত্ম-দৰ্শন ৩৯০
একটি প্রতারক প্রত্যয় ৩৯৮
রাজনীতি ও গণমানব ৪০২
মিলন ময়দানের সন্ধানে ৪০৮
কল্যাণ আম্বেষা ৪১১
শিল্প সাহিত্যে গণরূপ ৪১৪
একটি বীজমন্ত্রের তাৎপর্য ৪১৬
খাদ্য-সংকট : বিশ্বসমস্যা ৪২১
বাঙলার ধর্ম ৪২৫
বাউল তত্ত্ব ৪৩২
বাঙলায় সূফী প্রভাব ৪৬০
সংস্কার-সততা-সাহিত্যপ্রজ্ঞা-শিক্ষা ৪৬৯
পদাবলী : কাম ও প্রেম ৪৭৩
নজরুল-জিজ্ঞাসা ৪৭৭
মধবর্ষ ৪৮০
জীবনে-সমাজে-সাহিত্যে একটি প্রত্যয়ের পুনর্বিবেচনা ৪৮৫
শিক্ষার হের-ফের ৪৮৯
প্রতিকার-পন্থা ৪৯২
ঐক্যসূত্র ৪৯৭
জিজ্ঞাসা ৫০০
দূর্ব ৫০৩
জীবনের নিয়ামক ৫০৫
একটি অলস-চিন্তা ৫০৮
একটি আষাঢ়ে চিন্তা ৫১১
অপ্ৰেম ৫১৪
ঐতিহাসিকের নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বাঙলার রাজনৈতিক ইতিহাস ৫১৭
বিদ্যা ও বিশ্বাস ৫২০
পূর্বপুরুষ : উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্য ৫২২
সাহিত্যে স্বাতন্ত্র্য ৫২৭
সাহিত্যের দ্বিতত্ত্ব ৫৩০
আঁকিয়ে-লিখিয়ে-গাইয়ে ৫৩৩
প্রবন্ধ সাহিত্য ৫৩৫
গবেষনা সাহিত্য ও প্রবন্ধ সাহিত্য ৫৩৭
সাহিত্যে দেশ কাল ও জাতিগত রূপ ৫৪০
বাঙলা সাহিত্যের উপক্রমণিকা ৫৪৩
তত্ত্ব-সাহিত্যের গোড়ার কথা ৫৫৭
মধ্যযুগের বাঙলায় মুসলিম-রচিত তত্ত্বসাহিত্য ৫৬৩
বাউল মত ও সাহিত্য ৫৬৫
সঙ্গীত ও অধ্যাত্মসাধনা ৫৭১
কবি মুহম্মদ খান ও তার কাব্য ৫৮৬
শাহ্ আবদুল লতিফ ভিটাই ৫৯৩
হবীবুল্লাহ বাহার-শ্বরণে ৬০০
বলাকাকাব্যে মৃত্যু-মহিমা ৬০৩
নজরুল সমীক্ষা : অন্য নিরিখে ৬০৭
নজরুল কাব্যে বীর ও বীর্যপ্রতীক ৬১৬
চট্টগ্রামের ইতিহাস
আদি যুগ ৬২১
মধ্যযুগ : প্রাক-মুঘল আমল ৬৩৯
জীবনপঞ্জি ৬৬০
গ্রন্থ পরিচিতি ৬৭২

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অল্পস্বল্প কথা - শঙ্খ ঘোষ

amarboi
অল্পস্বল্প কথা
শঙ্খ ঘোষ



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাসে নতুন ধরণের খোঁজে - দেবেশ রায়

amarboi
উপন্যাসে নতুন ধরণের খোঁজে - দেবেশ রায়
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মহাভারতে নাস্তিকতা - শামিম আহমেদ

amarboi
মহাভারতে নাস্তিকতা - শামিম আহমেদ
কথায় বলে, ‘যা নেই ভারতে, তা নেই মহাভারতে।’ ভারতের অন্যতম মহাকাব্য মহাভারতের শান্তিপর্বে, মোক্ষধর্ম অধ্যায়ে নানারকম দার্শনিক তত্ত্ব রয়েছে। পিতামহ ভীষ্ম যখন শরশয্যায় শায়িত, তখন তিনি যুধিষ্ঠিরের জগৎ ও জীবন সংক্রান্ত নানা জিজ্ঞাসা নিরসন করেছেন। ভীষ্ম কয়েকটি ‘নাস্তিক’ মতের কথা বলেন, সেখানে সিদ্ধান্তী আচার্য পঞ্চশিখ, আর পূর্বপক্ষগুলি হল লোকায়ত বা চার্বাক, জৈন, বৌদ্ধ বা সৌগত এবং বৈশেষিক। আবার অশ্বমেধ পর্বে তৈর্থিক বা উড়ুলোম নামক দার্শনিক সম্প্রদায়ের সন্ধান পাওয়া যায়, যাদের নাস্তিক অভিহিত করেছেন ব্যাসদেব। মহাকাব্যের বিভিন্ন জায়গায় মহর্ষি কণাদ-প্রণীত বৈশেষিক দর্শনকেও নাস্তিক বলা হয়েছে। ‘আন্বীক্ষিকী’ বা তর্কবিজ্ঞানও নাস্তিকের শিরোপা পেয়েছে। এই গ্রন্থে মহাভারতের আলোকে সেইসব নাস্তিক সম্প্রদায়গুলি নিয়েই দার্শনিক আলোচনা করা হয়েছে।
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মিশেল ফুকো পাঠ ও বিবেচনা সম্পাদনা পারভেজ হোসেন

Michel Foucault Patth O Bibechona Edited by Parvez Hossain মিশেল ফুকো পাঠ ও বিবেচনা সম্পাদনা পারভেজ হোসেন
সাম্প্রতিককালের জ্ঞানচর্চায় মিশেল ফুকো এক অনন্য প্রভাবক ব্যক্তিত্ব। পশ্চিমের জ্ঞান ও জ্ঞানচর্চার পরম্পরার বাইরে গিয়ে তিনি বুঝতে চেয়েছেন এর অতীত ও বর্তমান, অন্তঃসার ও মেকির পরিমাণ। পাগলামি সম্পর্কিত ধারণা, বিজ্ঞান , ভাষা বিষয়ক উপলব্ধি , যৌনতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, আইন ও শাস্তি এসব কিছুর প্রতি আমাদের মনোভাবের গোড়া নড়বড়ে করে দিয়ে গেছে তাঁর রচনাবলী। মুখ্যত ক্ষমতাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে তার চিন্তাভাবনা। ক্ষমতা কী? তার প্রকাশ কোথায়, কীভাবে? এই সব প্রশ্নের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বোধবুদ্ধি দিয়ে তিনি মানবসভ্যতার পুনর্বিচার করেছেন। তিনি দেখেছেন প্রচলিত চিন্তাভাবনার প্রায় বিপরীতে দাঁড়িয়ে। এবং এভাবেই চিহ্নিত করেছেন আমাদের জ্ঞানচর্চার ফাঁক-ফোকর, চ্যুতি-বিচ্যুতি, তার নির্মাণ-অনিমার্ণের ব্যাপারগুলোকে। আমরা ভুলে গিয়েছিলাম যে , স্কুল, হাসপাতাল, কারাগার- এগুলো হল ক্ষমতার যন্ত্র এবং ক্ষমতার দাসত্ব অভ্যাস করানো জায়গা।আইন হল ক্ষমতার একটি হাতিহার । ফুকো আমাদের মনে করিয়ে দেন, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে অস্বাভাবিক ও সংশোধনযোগ্য, যেমন -পাগলামি। ফুকোর এই ভিন্ন দৃষ্টি ও দৃষ্টিকোণ, সুগভীর বিশ্লেষণ একালের দর্শন, ইতিহাস, ভাষাবিজ্ঞান, সমাজবিদ্যা থেকে শুরু করে বহু বিষয়েই প্রভাব ফেলেছে, বদলে দিয়েছে চিন্তার ধরন, বিচার-বিশ্লেষণের অভিমুখ। তাঁর ম্যাডনেস এন্ড সিভিলাইজেশন, দি অর্ডার অব থিংস, দি আর্কিওলজি অব নলেজ, ডিসিপ্লিন এন্ড পানিশ, দি হিস্ট্রি অব সেক্সুয়লিটি গ্রন্থগুলো জ্ঞানচর্চায় ভিন্ন ভিন্ন দিগন্তের সূচক। আমাদের এখানে ফুকো নিয়ে খুব একটা লেখালেখি হয়নি। অথচ ফুকোকে বুঝে নেয়া জরুরি । সে অর্থে বেশ কিছু নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকার এবং তাঁর রচনাংশ সকলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের বাংলা রচনাই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফুকোর ব্যাতিক্রমী জীবন ও ততোধিক ব্যতিক্রমীধর্মী রচনাবলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য এই বইটি দরকারী। ফুকোর চিন্তার, চিন্তার বিষয়বস্তু ও অভিমুখ , আমাদের প্রেক্ষিত থেকে ফুকো পাঠের প্রয়োজনীয়তা-এসবই বোঝা যাবে রচনাগুলো থেকে। সব মিলিয়ে, ফুকোকে বুঝতে হলে এই বইটি পাঠ করা অনিবার্য।

সূচিপত্র
জীবন ও কর্ম
* মিশেল ফুকো
* মিশেল ফুকোর ভাববিশ্ব
* বিবিধ শাস্ত্রের তদন্তকারী
* পাঠ ও বিবেচনা
* মিশেল ফুকো বা ‘মানুষে’র অন্তর্ধান
* ক্ষমতা প্রসঙ্গে দুই প্রেক্ষিত : গ্রামশি ও মিশেল ফুকো
* মিশেল ফুকোর দর্শন ও ফুকোর মানব
* ক্ষমতা প্রশ্ন ও মিশেল ফুকোর বোধিনী
* উত্তর-আধুনিকতা : মিশেল ফুকো
* ফুকোর শৃঙ্গার- তত্ত্ব
* পাঠশালা, কারাগার: ফুকো
* ফুকো এবং ক্ষমতার ধারণা
* পল রাবিনো সম্পাদিত ফুকো রিডারের ভূমিকা
* ফুকোর মনন ও ইরানে সাংবাদিকতা-পর্ব
* তাঁর রচনা থেকে
* জ্যোতির্ময়কাল
* রচয়িতা বলে কী বোঝায়
* যৌনতার ইতিহাসের ভূমিকা
* আমরা ‘অন্য ভিক্টোরীয়’
* মিশেল ফুকোর রচনা থেকে উদ্ধতি
* আলাপচারিতা
* সত্য, শক্তি, সত্তা
* ক্ষমতা প্রসঙ্গে
* রাজনীতি এবং নীতিতত্ত্ব
* মিশেল ফুকোর সঙ্গে আলাপচারিতায় পল রাবিনো
* পোস্টমডার্নিজম : সত্য হচ্ছে এক ধরনের ক্ষমতা




Download
or Download
Michel Foucault Patth O Bibechona Edited by Parvez Hossain
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শর্টকাট প্রোগ্রামিং - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

amarboi
শর্টকাট প্রোগ্রামিং - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

টিকিটাকা - ওয়াসি আহমেদ

amarboi
টিকিটাকা - ওয়াসি আহমেদ
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি? - তসলিমা নাসরিন

amarboi.com
বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি? - তসলিমা নাসরিন

পাঠক তসলিমা নাসরিন এর এই লেখাটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত আশা করছি।

মানুষ বিয়ে করে কেন? নির্বিঘ্নে যৌন সম্পর্ক করা, সন্তান জন্ম দেওয়া-–এর জন্য বিয়ের তো দরকার নেই! মানুষ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে বিয়ের কোনও রীতি নেই, অথচ দিব্যি তারা একত্রবাস করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, সন্তানকে খেটে খুটে বড় করছে। পরস্পরেরর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্যও বিয়েটা জরুরি নয়। অনেক প্রাণী আছে যারা যৌবনের শুরুতে যে সঙ্গী বেছে নেয়, সেই সঙ্গী নিয়েই দিব্যি সুখে শান্তিতে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়। অন্য কারও জন্য লোভ করে না, কাউকে নিয়ে আবার নতুন সংসার পাতার কোনও স্বপ্ন আর দেখে না। অবিশ্বাস্যরকম বিশ্বস্ত, একগামী। যত দূরেই যাক, যত সমুদ্রই পেরোক, যত বয়সই বাড়ুক, ঘরে ফিরে পুরোনো সেই সঙ্গীকেই চুমু খায়, তার বুকেই মাথাটা রাখে। পরকীয়া কাকে বলে, বহুগামিতা কাকে বলে, বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে জানেই না। অ্যালবাট্রোস, রাজহাঁস, কালো শকুন, ন্যাড়া ঈগল, টার্টল পায়রা, ডিক-ডিক হরিণ, বনেটমাথা হাঙ্গর, গিবন, ফ্রেঞ্চ এঞ্জেলফিস, ছাইরঙা নেকড়ে, প্রেইরি ভোল--এদের কথা বলছি।

মানুষ তো বিয়ে করে একসঙ্গে সুখে শান্তিতে সারা জীবন কাটানোর জন্য কিন্তু ক’জন পারে, শুনি? বেশির ভাগের বিয়েই হয় ভেঙে যায়, অথবা টিকে থাকলেও ভালোবাসাহীন টিকে থাকে। টিকিয়ে রাখতে হয় সন্তানের অসুবিধে হবে বা অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে, বা লোকে কী বলবে ভয়ে। এভাবে টিকে থাকাকে ঠিক টিকে থাকা বলে না। ঘরে স্ত্রী রেখে বা স্বামী রেখে দিব্যি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে মানুষ। সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়, আবার নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মানুষ ন্যাড়া ঈগল নয়, বা কালো শকুন নয়। একগামিতা মানুষের চরিত্রে নেই। মানুষ বহুগামী। মানুষ বহুগামী, এও কিন্তু হলফ করে বলা যায় না। মানুষ আসলে জটিল এবং বিচিত্র। একগামী, বহুগামী, অসমকামী, সমকামী, উভকামী-- মানুষ অনেক কিছুই। নতুন কিছুতে অভ্যস্ত হতে, পুরোনো স্বভাব পাল্টাতেও মানুষের জুড়ি নেই।



প্রায় সব ধর্মই বিয়েকে পুরুষ আর নারীর ‘পবিত্র মিলন’ বলে ঘোষণা করেছে। ঈশ্বরই নাকি আগে থেকে সঙ্গী নির্বাচন করে রাখেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর যা কিছু ঘটুক, বিচ্ছেদ যেন না ঘটে, ঈশ্বর সতর্ক করে দিয়েছেন। তাতে কী! প্রচণ্ড ঈশ্বর ভক্তরাও ঈশ্বরের এই উপদেশ আজকাল আর মানেন না। ঈশ্বরের নির্বাচিত সঙ্গীকে দিব্যি তালাক দিয়ে নিজে সঙ্গী নির্বাচন করেন। ‘ম্যাচমেকার’ হিসেবে ঈশ্বর পুরো মার খেয়ে গেছেন, এ খবর কে না জানে! প্রায় সব ধর্মই বিয়েতে নাক গলিয়েছে। বয়স, লিঙ্গ, জাত, বিশ্বাস কী হওয়া চাই, স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য এবং দায়িত্বই বা কী হওয়া উচিত--এ নিয়ে বিস্তর উপদেশ দিয়েছে, কঠোর কঠোর নিয়মও তৈরি করেছে। বিয়ে যদিও ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু ধরে বেঁধে একে সামাজিক করে ফেলা হয়েছে। পুরুষদের না করা হলেও মেয়েদের করা হয়েছে সামাজিক সম্পত্তি। বিয়ের আগে মেয়েটা কারও সঙ্গে প্রেম করেছে কি না, ঠিকঠাক কুমারী ছিল কি না, বিয়ের পর স্বামী ছাড়া আর কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে কি না, কার সঙ্গে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে, কখন ফিরছে, বাইরের কোনও পুরুষলোক বাড়িতে ঢুকেছে কি না, এসব শুধু বাড়ির নয়, বাড়ির বাইরের লোকও লক্ষ রাখছে। সমাজের দশটা লোক দেখছে বলেই পান থেকে চুন খসলে মেয়েদের নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে পারে না বাবারা, ভাইয়েরা, কাকারা। মেয়েদের খুন করে পরিবারেরর ‘সম্মান’ রক্ষা করে।



সভ্য শিক্ষিত বিশ্ব থেকে বিয়ে প্রায় উঠে যাচ্ছে। কিছু লোক অবশ্য করছে বিয়ে! এভারেস্টটা আছে বলে যেমন অনেকে এভারেস্টে চড়ে, বিয়েটা আছে বলেই অনেকে বিয়েটা করে। বিয়ের চল চলে গেলে আর করবে না। যে প্রথা চলছে, অধিকাংশ লোক সেই প্রথাকেই চালিয়ে নিয়ে যায়। আর, যার প্রচলন নেই, তাকে চালু করতে খুব অল্প ক’জনই উদ্যোগ নেয়। অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে না করেও দিব্যি সংসার করছে বছরের পর বছর। বিয়ে না করেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে। বিয়ের পিতৃতান্ত্রিক চরিত্র নিয়ে বিস্তর হাসাঠাট্টা করছে। কিন্তু ধর্ম যেমন মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ার পরও টিকে আছে, বিয়েটাও ওই ধর্মের মতোই। যুক্তিহীন, কিন্তু টিকে আছে। কুসংস্কার যেমন হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকে! তবে ওরা ধীরে ধীরে বিলুপ্তও হয়ে যায় বটে। বিয়েরও বিলুপ্তি ঘটবে। উত্তর- ইওরোপের দেশগুলোয় বিয়ে করার পেছনে গোপন একটি কারণও অবশ্য আছে, বিয়ে করলে ট্যাক্স কম দিতে হয়, সন্তানাদি পোষার খরচ সব রাষ্ট্রই দেয়। মানুষ বিয়ে করছে না, বাচ্চাকাচ্চাতেও খুব একটা কারওর উৎসাহ নেই, বিয়ের প্রথাটি ভেঙে গেলে সন্তান উৎপাদন যে হারে কমছে, সেটি আরও কমে যাবে, উত্তর-ইওরোপীয়দের অস্বিস্ত্বই ভবিষ্যতে থাকবে না, এই ভয়ে বিয়েতে উৎসাহ দিতে জনগণের নাকের ডগায় ট্যাক্স কমানোর মুলো ঝুলিয়েছে সরকার। সুযোগ সুবিধের আশায় বিয়ে করছে বটে কিছু লোক, তবে বেশির ভাগ লোকই হয় একা থাকে, নয়তো বিনে-বিয়ে’য় একত্রবাস করে।

ষাট দশকের শেষ দিকে সমাজের বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ বেরিয়ে এসেছিল পুরোনো রাজনীতি আর পুরোনো সমাজব্যবস্থা আমূল পাল্টে ফেলতে। ভালো মেয়ে হতে হলে কৌমার্য, সতীত্ব, মাতৃত্ব ইত্যাদি বজায় রাখতে হয় -- পুরোনো এই ধারণাটির গায়েও কুড়োল বসিয়েছিল। রীতিমত বিয়ে করাই বন্ধ করে দিয়েছিল সেদিনকার হিপিরা। অনেকে একবাড়িতে বাস করতো, সবার সঙ্গে সবারই সেক্স হত, বাচ্চাকাচ্চা হলে সবাই মিলে দেখাশোনা করতো। সেই ‘কমিউন’ জীবন বেশি বছর টেকেনি। হিপিরা জয়ী হলে আজ বিয়েটা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেতো, সমাজে নয়।

অনেক কবি সাহিত্যিক দার্শনিক বিয়ে সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, বিয়েটা যে অনর্থক একটা জিনিস, তা বেশ কায়দা করে বুঝিয়েও দিয়েছেন। ‘নিজের বিয়েয় আর অন্তেষ্টিক্রিয়ায় পার্থক্য একটাই, বিয়ের ফুলগুলোর গন্ধ পেতে পারো, আর অন্তেষ্টির ফুলগুলোর পারো না’। অস্কার ওয়াল্ড বলতেন, ‘সবসময় প্রেম ভালোবাসায় ডুবে থাকা উচিত। সে কারণেই কখনও বিয়ে করা উচিত নয়’। ক্যাথারিন হেপবার্ন সে আমলেও নারী পুরুষের এক বাড়িতে বাস করার পক্ষে ছিলেন না। বলেছিলেন, ‘একটা নারী আর একটা পুরুষ পরষ্পরের সব কিছু পছন্দ করছে? যদি এরকম ঘটনা ঘটেই থাকে, তবে সবচেয়ে ভালো হয় তারা যদি একই পাড়ায় থাকে, মাঝে মাঝেই দেখা হবে!’ এও বলেছিলেন, ‘একটা লোক অপছন্দ করবে বলে যদি অনেক পুরুষের প্রেমকে তুচ্ছ করতে চাও ,তা হলে যাও, গিয়ে বিয়ে করো’। সুন্দর কিছু মন্তব্য করেছেন ক’জন ব্যাক্তিত্ব। ‘বিয়েটা চমৎকার আবিস্কার, ঠিক যেমন সাইকেল মেরামত করার যন্ত্রটাও চমৎকার আবিস্কার’। ‘বিয়েটা একটা খাঁচা, খাঁচার বাইরের লোকেরা খাঁচায় ঢোকার জন্য ব্যাকুল, আর খাঁচার ভেতরের লোকেরা খাঁচা থেকে বেরোবার জন্য ব্যাকুল’। ‘বিয়েটা শুধু তাদের জন্য ভালো, যারা একা ঘুমোতে ভয় পায়’। সব মন্তব্যই বিয়ের বিপক্ষে নয়। পক্ষেও কিছু মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। যেমন, ‘যদি এমন কোনও ধনকুবের পুরুষের দেখা পাই, যে প্রতিজ্ঞা করবে তার সহায় সম্পত্তির অর্ধেকটা আমায় লিখে দেবে, লিখে দিয়ে এক বছরের মধ্যে মরে যাবে, তবে তাকে আমি নিশ্চয়ই বিয়ে করবো’। অন্য আরও ক’জন বলেছেন, ‘বিয়েটা চমৎকার ইনস্টিটিউশন। কিন্তু কে চায় ইনস্টিটিউশনে বাস করতে?’ ‘প্রেমিকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোটা উপড়ে তুলে নিলে যেটা পড়ে থাকে, সেটা স্বামী’। ‘বিয়েটা ঘুষ, যেন বাড়ির চাকরানী নিজেকে বাড়ির মালিক বলে মনে করতে পারে’। ফরাসি লেখক বালজাক বলেছিলেন, ‘বেশির ভাগ স্বামীকে দেখলেই আমার সেই ওরাংওটাংটির কথা মনে পড়ে, যে খুব বেহালা বাজানোর চেষ্টা করছিল’।






পাশ্চাত্যে যখন হিপি বিপ্লব, নারী স্বাধীনতার আন্দোলন, প্রাচ্যে তখনও মেয়েদের হাতেপায়ে অদৃশ্য শেকল, যৌনাঙ্গে অদৃশ্য সতীত্ববন্ধনী। বিয়েটা যে কারণে শুরু হয়েছিল, প্রাচ্যের বেশির ভাগ পুরুষ এখনও সেই কারণেই বিয়ে করে। একটা জরায়ু দরকার, যে জরায়ু একটা নির্দিষ্ট পুরুষের ঔরসজাত সন্তান ধারণ করবে। পিতৃত্বের নিশ্চয়তাই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য। পুরুষের স্বার্থে পুরুষকে বিয়ে করে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা হাজার বছর ধরে টিকিয়ে রাখছে মেয়েরা। মেয়েরা বেঁকে বসলে পুরুষতন্ত্রের বিরাট বেলুনটি সশব্দে চুপসে যেত কবেই!

বাঙালি সমাজে দেখেছি, বিয়ের পর মেয়েদের ডানাটা গোড়া থেকে কেটে দেওয়া হয়। নিজের ঘরদোর-আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধব-পরিবেশপ্রতিবেশ-শহরবন্দর সব ছাড়তে হয় মেয়েদের। নিজের নামের শেষে স্বামীর পদবী জুড়তে হয়। শ্বশুর বাড়িতে বাস করতে হয়। মেয়ে প্রাপ্ত-বয়স্ক হলেও, শিক্ষিত হলেও, সে চাকরি করবে কি করবে না সেই সিদ্ধান্ত স্বামী এবং স্বামীর আত্মীয় স্বজন নেয়। একসময় তো প্রচলিত ছিলই, এখনও অনেকে বলে, যে, ‘বিয়ের পর চাকরি করা চলবে না’। সতী-সাবিত্রী থাকার জন্য ঘরে থাকাটা ভালো, ঘরের কাজকর্ম করবে, বাড়ির সবার সেবা করবে, সন্তান বড় করবে! গ্লোরিয়া স্টাইনেম একটা চমৎকার কথা বলেছিলেন, ‘সে-ই স্বাধীন মেয়ে, যে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করে, আর বিয়ের পরে, চাকরি’। অধিকাংশ বাঙালি মেয়ে স্বাধীনতার সঠিক অর্থই জানে না।

কলকাতায় স্বামী-স্ত্রীর প্রেমহীন সম্পর্ক দেখে আঁতকে উঠতাম মাঝে মাঝে। প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম, ‘বিয়েটা ভেঙে যেতে চাইলে ভেঙে যেতে দাও, জোর করে দাঁড় করিয়ে রাখছো কেন?’ ভালো কোনও উত্তর কখনও পেতাম না। অসুখী জীবনে বহুদিন থাকতে থাকতে মেয়েরা অভ্যস্তও হয়ে যায়। যে সন্তানের জন্য বিয়ে না ভাঙা, সেই সন্তান সংসারের অশান্তি দেখতে দেখতে বড় হয়। এমন সংসারে সন্তানের গড়ে ওঠায় লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। আসলে, মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আর নিরাপত্তা সমাজে না থাকলে একা বাস করা বা একা সন্তান মানুষ করা দুরূহ। কিন্তু তাই বলে কি অত্যাচারী স্বামীর সঙ্গে আপোস করতে হবে! বধু নির্যাতন আর বধু হত্যা যে হারে বাড়ছে, তা দেখে গা শিউরে ওঠে। পুরুষতন্ত্রের বীভৎস নারীবিদ্বেষ আর নারীঘৃণা কী উৎকটভাবেই না প্রকাশ পায়!

যে সমাজে শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়ের সংখ্যা বেশি, সেই সমাজে বিচ্ছেদের সংখ্যাটা বেশি, বিয়ের সংখ্যাটা কম।


ভারতীয় উপমহাদেশে অবশ্য উপার্জনহীন পরনির্ভর মেয়েদের মতো পুরুষতন্ত্রের মন্ত্র মেনে চলা স্বনির্ভর শিক্ষিত মেয়েরাও অত্যাচারী বা বহুগামী স্বামীর সঙ্গে সংসার করছে মুখ বুজে। এধরণের সমাজে, বিয়েটা নিতান্তই পুরুষের ক্ষেত্রে অর্জন, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিসর্জন। বিয়ে কাউকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দেয়, কারও পায়ে পরায় নির্মম শেকল। এখনও সমাজে দেদার বর্বরতা চলে, চলে জাত বর্ণের হিসেব, পণের হিসেব, স্ত্রীকে নিতান্তই যৌনসামগ্রী, ক্রীতদাসী আর সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা, সন্তান বিশেষ করে পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার চাপ, কন্যাভ্রুণকে জন্মাতে না দেওয়া, জন্মালেও পুঁতে ফেলা, পুত্র না জন্মালে তালাক, পুনর্বিবাহ।
নিয়ম মেনে চলার লোক যেমন প্রচুর আছে, নিয়ম ভাঙার লোকও কিন্তু আছে। মানুষ যত সভ্য হচ্ছে, বিয়ের পুরোনো নিয়মগুলো তত ভেঙে পড়ছে। সমাজ বদলায় হাতে গোনা কিছু লোক। সমাজের সব লোক দল বেঁধে সমাজ বদলায় না। বেশির ভাগ লোক বরং দল বেঁধে প্রাচীন নীতি রীতি শক্ত করে আকঁড়ে রাখে। বিয়ের পর মেয়েদের চাকরি বাকরি ব্যাবসা বাণিজ্য চলবে না, স্বামীর আদেশ নিষেধ অমান্য করা চলবে না, বিধবা বিবাহ চলবে না-- এই নিয়মগুলো প্রাচ্যের কিছু সাহসী মেয়ে এখন আর মানে না।


বিয়ের বিবর্তন ঘটেছে। বিয়ের উদ্দেশ্য পাল্টেছে, ধরণ পাল্টেছে। পাশ্চাত্যে, যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা আর অধিকারের সংগ্রাম দীর্ঘকাল চলেছে, এবং শেষ পর্যন্ত মেয়েরা অনেকটাই সমানাধিকার ভোগ করছে, সেখানে বিয়েটা এখন আর সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের নিশ্চয়তার জন্য নয়, মেয়েদের দিয়ে সংসার আর সন্তান দেখাশোনার কাজ কৌশলে করিয়ে নেওয়া নয়। সন্তান না জন্মালেও ক্ষতি নেই। সম্পর্ক আর সংসার সুখময় করার জন্য যে জিনিসের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা বিয়ে নয়, তা হলো, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ। এ দুটো থাকলেই মানুষ পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। বিয়ে যদি বিশ্বস্ত রাখতে পারতো, তাহলে এত পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠতো না।

বিয়ে না করে যারা সংসার করছে তাদের মধ্যেও পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ব থাকার একই অলিখিত শর্ত থাকে।

সব দম্পতিই যে একগামিতা বা বিশ্বস্ততা চায়, তা নয়। কিছু স্বামী-স্ত্রী পরষ্পরকে ভালোবেসেও একঘেয়েমি দূর করতে ভিন্ন নারী ও পুরুষকে নিজেদের যৌনসঙ্গমে সঙ্গী হতে আমণ্ত্রণ জানায়। কোনও লুকোচুরি নেই, নিজেদের শোবার ঘরে, নিজেদের বিছানায়, দুজনের সঙ্গে যোগ হয় এক দুই তিন বা চার বা তারও চেয়ে বেশি। এই দলবদ্ধ যৌনতা দাম্পত্যজীবনে বৈচিত্র আনে, সম্পর্ককে তাজা রাখে। কিছু দার্শনিক গুচ্ছ-বিয়েকে বেশ জোরেসোরে সমর্থন করেছেন। বিয়ের বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে সন্তানের সুবিধের কথা ভেবে গুচ্ছ-বিয়েই নাকি মেনে নেওয়াই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ। গুচ্ছ-বিয়েটা অনেকগুলো নারী পুরুষেরা সমাহার, যারা সকলেই সকলের স্ত্রী বা স্বামী। গুচ্ছপ্রেম বা ‘পলিয়ামোরি’ বলেও একধরণের সম্পর্ক আছে। একাধিক নারী পুরুষ, প্রত্যেকে পরস্পরেরর প্রেমিক বা প্রেমিকা। বহুবিবাহ তো দীর্ঘকাল প্রচলিত ছিলই, এক স্বামীর বহু স্ত্রী। আবার আরেক ধরনেরও বহুবিবাহও কিছু কিছু সমাজে চলে, এক স্ত্রীর বহু স্বামী। দুনিয়াতে সবকিছুরই চর্চা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে এক-স্বামী-এক-স্ত্রীর বিয়েই এখন পর্যন্ত রাজত্ব করছে। ছড়ি ঘোরানোটা এই সম্পর্কে বড় সুবিধে বটে।


বিয়েটা মূলত যৌন সঙ্গমের লাইসেন্স। এই লাইসেন্সটাই ঢাক ঢোল পিটিয়ে নেওয়া হয়। নিতান্তই প্রাচীন, পিতৃতান্ত্রিক, অযৌক্তিক একটি প্রথা। এই প্রথাটির জীবিত থাকার কোনও কারণ নেই। অনেক প্রথাই মরে গেছে বা যাচ্ছে, যেমন সতীদাহ, যেমন ডাইনি-হত্যা, যেমন অগুনতি বিয়ে, আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে। অর্থহীন অনেক প্রথাই ভয় দেখিয়ে, বোধবুদ্ধির লোপ পাইয়ে দিয়ে চালু রাখা হচ্ছে বটে, তবে বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথার ব্যবহার না হতে থাকলে, প্রথা ধীরে ধীরে মরে যেতে বাধ্য। যেহেতু শতাব্দী ধরে প্রমাণ হচ্ছে বিয়ে কোনও নির্ণায়ক বিষয় নয় সম্পর্ক টেকানোর, তাই এটিরও ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল নয়। বিবর্তন আমাদের পূর্ব-পুরুষের লেজ খসিয়েছে প্রয়োজন নেই বলে। বিবর্তন আমাদের সমাজ থেকে বিয়ে নামক একটি অপ্রয়োজনীয় সংস্কার দূর করবে না, এ কোনও কথা? এককালের দার্শনিক নিৎসে, কান্ট, হেগেল প্রবল নারীবিরোধী ছিলেন। দর্শনেরও বিবর্তন ঘটেছে, নারীর প্রতি অমন তীব্র ঘৃণা নিয়ে আজকাল দার্শনিক বনার কোনও উপায় নেই।

নারীর প্রতি ঘৃণার কারণে জন্ম নিয়েছে পুরুষতন্ত্র। পুরুষতন্ত্র জন্ম দিয়েছে অনেক নারীবিরোধী প্রথা, এর মধ্যে বিয়ে একটি। পুরুষতন্ত্র যত পরাজিত হবে, যত পর্যুদস্ত হবে, নারী যত তার স্বাধীনতা ফিরে পাবে, যত সে আত্মবিশ্বাসী হবে, যত সে নারীবিরোধী ধর্ম আর সংস্কারকে সমাজ থেকে ঠেলে সরাতে পারবে, বর্বরতাকে যত দূর করতে পারবে সমাজ, যত সভ্য হবে সমাজ, যত সভ্য হবে পুরুষ, পুরুষতান্ত্রিক প্রথার গায়েও তত মরচে ধরবে। আমরা এর মধ্যেই দেখছি সভ্য সমাজে বিয়ে কমে যাচ্ছে। অসভ্য-অশিক্ষিত-সমাজে বিয়ে প্রথা চলছে। কিন্তু একটি সমাজ তো চিরকাল অসভ্য আর অশিক্ষিত থেকে যায় না! সমাজও বিবর্তিত হয়। সমাজ সভ্য হয়েছে কখন বুঝবো? যখন দেখবো নারী আর ধর্ষিতা হচ্ছে না, নির্যাতিতা হচ্ছে না, পুরুষের দাসী বা ক্রীতদাসী বা যৌনদাসী কোনওটাই নয় নারী, তুমুল প্রেমে পড়ে একত্রবাস করছে কিন্তু বিয়ে নৈব নৈব চ, অথবা বিয়ে নামক জিনিসটিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখন।

বিয়ের বিপক্ষে কথা বলেছেন অনেক নারীবাদী লেখক। আন্দ্রিয়া ডোরকিন তো মনেই করতেন, বিয়েটা স্রেফ ধর্ষণ করার জন্য। আর একজন বেশ চমৎকার বলেছিলেন, বিয়েটা নিতান্তই ‘ইনটিমেট কলোনাইজেশন’। অনেকেই মনে করেন, বিয়ের বাধাটা দূর না হলে মেয়েদের সত্যিকার স্বাধীনতা অনেকটা অসম্ভব। প্রায় সব নারীবাদীই বিশ্বাস করতেন, এখনও অনেকে করেন, যে, পুরুষতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য বিয়েটা বেশ অসাধারণ একটা প্রথা। নারীবাদীদের কেউ কেউ প্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রেমটা নাকি একরকম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, মেয়েরা সেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিয়ে করতে অর্থাৎ শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। নারীবাদীদের কাছে বিয়েটা এত আপত্তিকর হতো না, স্ত্রীর ভূমিকা যদি এমন দাসী-বাঁদির না হতো।

গ্লোরিয়া স্টাইনেমকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘এই যে বিয়ের বিরুদ্ধে এত গীত গেয়েছো, শেষে নিজেই যে বুড়ো বয়সে একটা বিয়ে করে বসলে, কারণটা কি?’ গ্লোরিয়া যে বন্ধুটিকে বিয়ে করেছিলেন, ওঁর নাকি খুব বড় অসুখ করেছিল, বিয়ে করলে গ্লোরিয়ার স্বামী হিসেবে স্বাস্থ্য বীমা পেতে সুবিধে হবে ওঁর, সে কারণেই বিয়ে। গ্লোরিয়ার জায়গায় আমি হলে বন্ধুকে সাহায্য করার বিকল্প ব্যবস্থা নিতাম, কিন্তু বিয়ে নামক পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুতেই আপোস করতাম না। বিয়ে যে জীবনে আমি করিনি তা নয়, করেছি, তখন করেছি যখন জানতাম না যে বিয়েটা আসলে নারীর ওপর পুরুষের প্রভুত্ব কায়েম করার একটা সামাজিক চুক্তিপত্র ছাড়া কিছু নয়। কেউ কেউ ঘা খাওয়ার আগে শেখে, কেউ কেউ আবার ঘা খেয়ে শেখে। আমার না হয় একটু ঘা খেয়েই শেখা হল। কিন্তু শেখা তো হল। কত কাউকে দিনরাত দেখছি, কোনওকিছুই যাদের কোনওকিছু শেখাতে পারে না।

যখন সভ্য অসমকামীরা বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসছে, তখন সভ্য সমকামীরা বিয়ের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে। সভ্য দেশগুলো ধীরে ধীরে সমকামীদের বিয়ে করার অধিকার দিচ্ছে। সভ্য মানুষেরা, এমনকী যারা বিয়েতে বিশ্বাসী নয়, তারাও সমকামীদের বিয়ের অধিকারের পক্ষে, যেহেতু সমকামীদের বিয়েটা সমাজের বেশির ভাগ লোক মেনে নেয় না। সমকামীদের বিয়ে সমর্থন করা মানে, ধর্মের শাসনকে আর রক্ষণশীল সমাজের চোখ রাঙানোকে মধ্যম আঙুল দেখানো। এ কথা ঠিক, সমকামীদের বিয়েতে সম-অধিকারের সম্ভাবনা অসমকামীদের চেয়ে বেশি কারণ ওদের মধ্যে লিঙ্গ-বৈষম্যের বালাই নেই। তবে এটা ঠিক, একসময় যখন সমকামীদের বিয়ে অসমকামীদের বিয়ের মতো ডাল-ভাত হয়ে উঠবে, তখন সমকামীরাও, যারা আজ বিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে, অর্থহীন এই বিয়ে ব্যবস্থাটির বিরুদ্ধে মুখ খুলবে।

বিয়ে নামের অপ্রয়োজনীয় একটি প্রথা মরে পড়ে থাকবে একদিন। আগামী দিনের সমাজবিজ্ঞানীরা ইতিহাস খুঁড়ে বিয়ের ফসিল আবিস্কার করবেন, আলোকিত মানুষকে পুরোনো দিনের গল্প শোনাবেন। --‘পৃথিবীতে একটি যুগ ছিল, সে যুগের নাম অন্ধকার যুগ। সেই অন্ধকার যুগে একটি প্রথা দীর্ঘদীর্ঘকাল টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে’। বিয়েটা কী এবং কেন, এসব বোঝাতে গিয়ে পুরুষতন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠবে, তখন নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের সেই সব মানুষের গা কেঁপে উঠবে বীভৎস একটা সমাজ কল্পনা করে।

ইউটোপিয়া? না হয় ইউটোপিয়াই।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com