সাম্প্রতিক বইসমূহ

দেশ ১৭ই জুলাই ২০১৮

দেশ ১৭ই জুলাই ২০১৮
দেশ ১৭ই জুলাই ২০১৮

অশ্বচরিত - অমর মিত্র

amarboi
অশ্বচরিত - অমর মিত্র

অমর মিত্র ১৯৯৯ সালে লেখেন ‘অশ্বচরিত’। ২০০১ সালে এই উপন্যাসটি বঙ্কিম পুরস্কার লাভ করে।

উপন্যাসের শুরুটা এরকম...

ভানুচরণ মানুষটি বড়ো অদ্ভুত। আসতে আসতে কী মনে হল ভেড়িবাঁধ থেকে নেমে ঝাউবনের দিকে চলে গেল, যেন ঝাউবনে তার কন্থক রয়েছে। ছিল পক্ষীরাজ, হয়ে গেল কন্থক। ছিল ভানুচরণ, ভানু দাস হয়ে গেল ছন্দক। ঘোড়া হারিয়ে আরও উদাস হয়ে গেছে। না হলে ঘোড়াটাকে খুঁজতে বেরিয়ে আপন মনে অন্য দিকে চলে যায়! বলে কিনা, ‘ওই দিকে যাই, আপনি বাবু দেখে আসুন লায়কানখাস।’ সেই থেকে শ্রীপতি একা। একেবারে একা।
ভেড়িবাঁধের বাঁদিকে ঝাউবন। ঝাউবনের ওপারে সিংহসমুদ্র। হাজার সিংহ একসঙ্গে গজরাচ্ছে। সিংহর কথা বলেছিল কে? ফরাসি সায়েব ফ্রেদরিক। লায়ন লায়ন! শ্রীপতিরও তাই মনে হয়। সিংহই বটে। তবে গর্জন যখন থাকে না, শুধু ঢেউ ভাঙে অন্ধকারে, পাড়ের কাছে সফেন সমুদ্র বার বার মাথা কোটে, তখন মনে হয় সিংহ নয়, ও তার কেশর ফোলানো সাদা পক্ষীরাজ। পালাতে গিয়ে সাগরে গিয়ে পড়েছে। বার বার মাথা তুলছে নোনা জলের বিপুলতা থেকে। ঘোড়াটা কাঁদছে।
হ্যাঁ, এই স্বপ্ন দেখেছে শ্রীপতি ক–দিন আগে। ইদানীং কতরকম স্বপ্ন যে দ্যাখে হারানো ঘোড়া নিয়ে! ভারতীকে নিয়ে। তার বউ মধুমিতা আর ভারতীকে নিয়ে। আবার ওই পক্ষীরাজকে নিয়ে। সব দুঃস্বপ্ন। দেখতে দেখতে গলা শুকিয়ে আসে। মনে হয় নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে সে। নোনাজলের নীলে শুধু তার পক্ষীরাজের কেশর দেখা যাচ্ছে। সমুদ্র কাঁদছে সারারাত।
শ্রীপতি ঘাড় ঘুরোয়। রাতভর যে সমুদ্রের কান্না শোনা যায়, সেই সমুদ্র আর এই নীল জলধি এক নয়। মাটিতে আছড়ে মাটি যেন খেয়ে ফেলতে চাইছে বঙ্গোপসাগর। ভেড়িবাঁধের দক্ষিণ দিকে অনেক নীচুতে ধানি জমি, মাঠ। মাঠ আর মাঠ, তারপর এগিয়ে গাছগাছালির ছায়া। নুনমারাদের গ্রাম। নুনের খালারিগুলোকে পিছনে ফেলে এসেছে শ্রীপতি। এখন বিকেল, রোদ পড়ে গেছে। আর একটা দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। শ্রীপতি দেখছে তাকে ঘিরে ছায়া নামার আয়োজন।
ভানু কোথায় গেল কে জানে? ঘোড়া খুঁজেই বেড়াচ্ছে। খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। তবু যাচ্ছে। ঘোড়াটা যেন ভানুর। ভানুই যেন ওই ঘোড়ার মালিক, এমনই তার উদ্বেগ। মনে পড়ে শ্রীপতির, লোকটা যেদিন কাজ নিল তার হোটেলে, মানে তার পোষ্য হল, তার আশ্রিত হল, ঘোড়া দেখে বলল, ঘোড়ার কাজ কত কাল ধরে করে, ঘোড়া চেনে সে নিজেকে চেনার মতো করে, ‘শুনুন বাবু, আমি যদি হই ছন্দক, ও হল কানহা, কন্থক।’
তারা কারা? শ্রীপতি অবাক হয়েছিল।
‘মনে নেই বাবু, কে রাজপুত্রকে পৌঁছে দিল তপোবন ধারে? রাজপুত্র সাধু হয়ে গেল, রাজপুত্র হল ভগবান বুদ্ধ, তার ঘোড়া আর সারথি মাথা হেঁট করে ফিরল, সেই ঘোড়া হল আপনার ঘোড়া।’
হলে ক্ষতি কী শ্রীপতির? তবে কিনা পক্ষীরাজটি বোঝা যায়, কন্থক নাম শুনে সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। এ কেমন নাম? আর ভানু দাস যে কখন কী বলে, সংস্কৃত ভাষা বলে, ভূগোল বলে, ইতিহাস বলে, বলে কপিলাবস্তুর রাজপুত্রের কথা! তার কতটা সত্যি, কতটা মিথ্যে, কতটা বানানো তা কে ধরবে?
গায়ের ঘাম শুকোনোর মুখে। দক্ষিণের নোনা বাতাস হুড়মুড় করে আছড়ে পড়ছে শ্রীপতির গায়ে। আজ জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা। জ্যৈষ্ঠ মাসটিও শেষ হতে গেল প্রায়। আকাশে মেঘ আসছে আর যাচ্ছে। রোদের তাত কমছে না। জ্যোৎস্নাও যেন গরম হয়ে উঠেছে, প্রকৃতি এমনই। এখন মেঘের ভিতরে চাঁদ এবং সমুদ্র একসঙ্গে জেগে উঠেছে উন্মাদের মতো। হাওয়ায় হাওয়ায় যেন টাল খাচ্ছে চাঁদও। ঠিক একটি মাস ভানুচরণের কন্থক—শ্রীপতির ঘোড়া পক্ষীরাজ নিরুদ্দেশ। এ বড়ো আশ্চর্য ঘটনা। তার হোটেল থেকে বোশেখি পূর্ণিমার রাতেই পালিয়ে গেছে ঘোড়াটা। সেই ঘোড়া খুঁজতে সে দুপুর দুপুর বেরিয়েছিল লায়কানখাসের দিকে। সেখানে নাকি একটা ঘোড়াকে চরতে দেখা গেছে গত পরশু। দেখেছিল অনন্ত সার। সে ওই লায়কানখাসে নুনের খালারি করেছে। সেখানে তার বউ মেয়ে সারাদিন খাটে। অনন্ত লবণ নিয়ে আসে দীঘায়। এখানে পাইকার থাকে, কিনে নেয়। দরকারে সেও কাগজ পেতে বসে পড়ে। মোটা দানা লালচে নুন বেড়াতে আসা টুরিস্টদের জন্য নয়। আশপাশের গাঁয়ের গরিব লোক এসে কিনে নিয়ে যায়।
অনন্ত সার দেখেছিল লায়কানখাসে একটি ঘোড়া চরছে। দেখেইছিল শুধু, এর বেশি কিছু নয়। ঘোড়ায় তার কোনো কৌতূহল নেই। ঘোড়া থাকে তাদের যারা ঘোড়ায় চাপতে পারে। বড়ো মানুষের বাহন ওটি। কিন্তু তাকে যখন জিজ্ঞেস করছিল ঘোড়ার রক্ষক ভানু, সে অবাক। ঘোড়া তো দেখেছে লায়কানখাসে।
‘দেখেছ, সত্যি দেখেছ, বাবুর অশ্ব, আমার কানহা?’ ভানু প্রায় উদবাহু হয়ে ছুটে এসেছিল শ্রীপতির কাছে, পাওয়া গেল, ঘোড়া আছে।
গেল পাওয়া? শ্রীপতি তখন হোটেলের ঠাকুরের কাছে খোঁজ নিচ্ছিল তার বউ মধুমিতা এসে কোনো খোঁজ নিয়ে গেছে কিনা ঠাকুরের কাছে। নার্স ভারতী চৌধুরি নিয়ে কতটা, কীরকম খোঁজখবর করেছে, আর কী জবাব দিয়েছে ঠাকুর। ভানুর কথা শুনে সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখেছিল তাতে উত্তেজনায় দপ দপ করছে ভানুর সর্ব অঙ্গ।
‘আজ্ঞে লায়কানখাসে নাকি একটা ঘোড়া...।’ ভানু কথা শেষ করেনি।
‘কোন ঘোড়া, আমার পক্ষীরাজ?’
‘আজ্ঞে ঘোড়া একটা, কন্থক হতে পারে, নাও হতে পারে।’
‘ফের কন্থক, ওটি আমার পক্ষীরাজ।’
‘আপনার নাম আপনার থাকুক, আসলে তো অন্য ব্যাপার, শুনুন বাবু, খবরটা দিল নুনমারা অনন্ত, একটা ঘোড়া চরতে দেখেছে সে লায়কানখাসে।’
‘ডাক অনন্তকে।’
‘আজ্ঞে, সে আর কোথায়, বলে চলে গেছে, ঘোড়াটা নিয়ে আসুন আপনি।’
‘তুমি যাবে না ছন্দকমশায়?’
‘আমি! আমি তো অন্য দিকে যাব, সব দিকে তো খোঁজ করতে হবে।’
‘যদি লায়কানখাসে মেলে তো অন্য দিকে যাবে কেন?’
‘তা ঠিক।’ ভানু মাথা চুলকেছে, ‘যদি না হয় বাবু, সে তো কতদিন রয়েছে আমার সঙ্গে, পালিয়ে এত কাছে কি থাকবে?’
‘তাহলে আমি যাব না?’
‘তা কেন, খবর যখন মিলেছে, যেতে আপনাকে হবেই।’
খবর দিয়ে ভানু চলে গিয়েছিল। ঠাকুর আটকে ছিল শ্রীপতিকে, ‘বিশ্রাম নিয়ে যান বাবু, ঘোড়া যদি থাকে, ঠিক পাবেন, ভালো ঘাস পেলে ওরা নড়ে না, কিন্তু লায়কানখাসে কি ভালো ঘাস হয়, ও তো বালি জমি, ওখানে ঘোড়া যাবে কেন?’
‘তাহলে যাব না?’ শ্রীপতি দ্বিধায় পড়েছিল।
‘না আজ্ঞে, যেতে তো হবেই। খবর যখন এয়েচে, ঘোড়া বলে কথা, ঘোড়া হারালে মানুষের যে কী হয়, তা যার হয় সে জানে।’
একটু বাদে বেরিয়েছিল শ্রীপতি। বেরিয়ে পুরোনো কাফেটেরিয়ার কাছে ভানুর সঙ্গে দেখা। ছুটে এসেছিল সে, ‘বাবু আমি কি যাব, যাই কিছুটা, আপনাকে এগিয়ে দিই, হ্যাঁ, অনন্ত সার বলল একখান অশ্ব দেখেছিল লায়কানখাসের বালির ওধারে যে চরজমি ঘাসের, সেখানে, ঘাস খাচ্ছে, আমার অবশ্য কেমন লাগল শুনে।’
‘কী রং সে ঘোড়ার?’
ভানু থমকায়, তারপর বলেছে, ‘আজ্ঞে ওই কথাই তো আমি জিজ্ঞেস করলাম অনন্ত সারকে, ঠিক আপনি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, এক্কেবারে এক কথা।’
.....
এভাবেই এগিয়ে চলেছে অমর মিত্রের উপন্যাস অশ্বচরিত

ফার্স্ট বয়দের দেশ - অমর্ত্য সেন

ফার্স্ট বয়দের দেশ - অমর্ত্য সেন
ফার্স্ট বয়দের দেশ
অমর্ত্য সেন

বিভিন্ন বঞ্চনাগুলাে কীভাবে শ্রেণি, জাতি ও লিঙ্গ-পরিচিতির সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কের সূত্রে আবদ্ধ? কীভাবে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা কী করতে হবে সে ব্যাপারে বাগাড়ম্বরে ভরা বক্তৃতা দিতে যতটা দড়, সেগুলােকে কাজে পরিণত করতে ততটাই নিষ্কর্মার ঢেঁকি? কীভাবে আমরা ধর্মীয় রং না চাপিয়েই সংস্কৃত ও প্রাচীন ভারত বিষয়ে ভাবতে পারি? কেন বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দাকে পুনরুজ্জীবিত করা দরকার ? ফাস্ট বয়দের দেশ হচ্ছে অমর্ত্য সেনের ভারত-ইতিহাসের অনুধাবন এবং তার ভবিষ্যতের দাবিগুলাে নিয়ে অতীত ও বর্তমান বিষয়ক বুদ্ধিচর্চার পথ চলা। সংকলনের অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলাের মূল ভাবের মধ্যে পড়ে ভারতে জমাটবাঁধা চরম অসাম্যের প্রকৃতি এবং তা থেকে মুক্তির খোঁজ। ভাল মানের বিদ্যালয়শিক্ষার একটা বড় পাওনা হচ্ছে, ভারত যে বিশ্ব-সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এই বােধটা গড়ে ওঠা— অথচ বহু লােকই বিদ্যালয়শিক্ষার সুযােগই পান না। বিশ্ব যােগাযােগ ও আদান প্রদানে ভারত বরাবরই অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে সাড়া দিয়ে এসেছে। এই ক্ষেত্রে তার নিজস্ব অবদানগুলােও বিপুল: জ্যোতির্বিজ্ঞানের যুক্তির শৃঙ্খলায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন পঞ্জিকা থেকে শুরু করে দাবাখেলার আবিষ্কার এবং আধুনিক গণিতের নানা শাখার সূচনা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে তার বিস্তার। এই সংকলনে অমর্তর বিচার বিশ্লেষণের বিষয় হচ্ছে ন্যায্যতা, পরিচিতি, বঞ্চনা, বিবিধ অসাম্য, লিঙ্গসম্পর্ক, রাজনীতি, শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম, এবং অগ্রাধিকারগুলাের নির্ধারণ। সাধারণ পাঠকের নাগালের মধ্যে। থেকেও এই পথ-প্রবর্তক লেখাগুলাে অমর্তর বিভিন্ন দিকনির্দেশক কৃতিগুলাের অন্তর্বস্তুকে তুলে ধরে।

মূল্যঃ ৪০০.০০
আনন্দ

হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ

হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ
হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ
কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বাসা বেঁধেছেন মেঘের উপরে। তিনি লিখবেন না আর কোনো নতুন বই। অমর একুশে বইমেলায় আর তিনি ভক্ত-পাঠককে অটোগ্রাফ দেবেন না; তার পায়ের চিহ্ন পড়বে না এ পৃথিবীর কোথাও। কিন্তু তবু হুমায়ূন আহমেদ তার কীর্তির মাঝে বেঁচে থাকবেন। তার জীবন ও সৃষ্টির নানা দিকের ওপর আলোকপাত করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশ ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মারকগ্রন্থ’ প্রকাশ করেছে। গ্রন্থটিতে মানুষ ও শিল্পস্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদের বর্ণাঢ্য জীবনের পরিচয় পাওয়া যাবে। এ সঙ্কলন একই সঙ্গে তার পরিচিতি এবং তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিস্বরূপ হুমায়ূন আহমেদের ৬৪তম জন্মদিন উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে স্মারকগ্রন্থটি। তার স্মৃতিচারণ করে কিংবা তার সাহিত্যের ওপর আলোচনা করে ৬৫ জন লেখক লিখেছেন তাদের অনুভূতি, ভালোলাগা, লেখককে ভালোবাসার কথা। তাকে হারানোর দুঃখ, তার বিশালতার আভাস, তিনি কেমন করে ছুঁয়ে গেলেন আমাদের জীবন, রাঙিয়ে গেলেন, মাতিয়ে গেলেন—এ সবেরই পরিচয় এতে তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে একটি সম্পাদনা পরিষদ এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছেন। সম্পাদনা পরিষদের সদস্যরা হলেন সালেহ্ চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ইমদাদুল হক মিলন।

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2018. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com