সাম্প্রতিক বইসমূহ

দুই দশকের দেশ গল্প সংকলন (১৯৮৩ - ২০০৩)

দুই দশকের দেশ গল্প সংকলন (১৯৮৩ - ২০০৩) দুই দশকের দেশ গল্প সংকলন (১৯৮৩ - ২০০৩)
Download and Join our Facebook Group

Pages 1089, PDF, 76 MB with very good quality .

বনেদি কলকাতার ঘরবাড়ি

amarboi বনেদি কলকাতার ঘরবাড়ি
দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবিঃ অলক মিত্র

পথ চলতে চলতে চোখে পড়ে কলকাতার স্কাইলাইন কী দ্রুত পালটে যাচ্ছে। এমন একদিন হয়তো আসবে, যেদিন বহুতল বাড়ি আর ব্যস্ত রাস্তার লোকজনের ভিড়ে পুরনো কলকাতার স্থাপত্যের বনেদিয়ানা একেবারেই হারিয়ে যাবে। সেই স্থাপত্যকে যতটা সম্ভব ধরে রাখতেই রবিবাসরীয় আনন্দবাজার পত্রিকার পাতায় ১৯৮১ সালের ডিসেম্বর মাসে বনেদি কলকাতার ঘরবাড়ি লেখা শুরু হয়েছিল সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরীর নির্দেশক্রমে। এই লেখা প্রসঙ্গে আমরা এমন এক আশ্চর্য, প্রায়-অনাবিষ্কৃত কলকাতায় গিয়ে পৌছেছিলাম, যেখানকার গলি-যুঁজিতে পুরনো ধুলোর গন্ধভরা এক-একটি অট্টালিকার অন্ধকার বিশাল বিশাল কক্ষে সময় আঠারো বা উনিশ শতকে থেমে আছে। সেই কলকাতার ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব, সংস্কৃতি আমাদের অভিভূত না করে পারেনি। এই শহর শুধু জোব চার্নকের নয়। কলকাতা গড়ে তুলতে এমন সব মানুষের অবদান আছে, যাঁরা শহর কলকাতার সঙ্গে নিজেরাও সমানভাবে গড়ে উঠেছেন। নিজেরা ধনী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নের শহরকেও বিত্তশালিনী করতে চেয়েছেন নানাভাবে । তাঁরা আজ নেই। কিন্তু কলকাতা গড়ার ইতিহাসে জোব চার্নকের পাশাপাশি তাঁদের নামও সমানভাবে থাকবে। স্থাপত্যের বহিরঙ্গ সৌন্দর্যই তার একমাত্র পরিচয় নয়। তার ভেতরের মানুষজনের ইতিহাস, জীবনচযা ও সংস্কৃতি এই স্থাপত্যেরই অঙ্গ। তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই এসেছে বনেদি কলকাতার মানুষজনের কথা। কলকাতার প্রত্যেকটি বনেদি পরিবারের আচার-আচরণ, শখ, শিক্ষা ও সমৃদ্ধির ইতিবৃত্ত স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। সব মিলে এ এক অন্য কলকাতা, চোখের কাছে থেকেও নিজেকে যে চোখের আড়ালে রাখতে ভালোবাসে । অন্য স্বাদের এই কলকাতার পরিচয় আজকের মানুষদের না দিলে কোথায় যেন অসম্পূর্ণতা থেকে যেত বলে মনে হয় । এই কলকাতার ইতিহাস যেমন রাজারাজড়া, জমিদার ও ধনী বণিকদের ইতিহাস, তেমনই এর সঙ্গে মিশে আছে বেশ কিছু সাধারণ মানুষের নিষ্ঠা, বুদ্ধি, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের কাহিনী । শুধু ব্রিটিশদের তোষামোদ করে নয়, কেউ কেউ তাঁদের সঙ্গে পাল্লা দিয়েও স্বাধীনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এখানে । তা ছাড়াও আছেন এমন সব মানুষ ও মনীষী, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ, যাঁরা এই গাঙ্গেয় সভ্যতার বুকে এনেছিলেন রেনেসাঁস—যার ঢেউ পরবর্তীকালে বাংলা তথা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল। এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অন্যান্য দিক থেকে বনেদি কলকাতার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে বাংলা ও বাঙালির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস । এই কলকাতাতেই ঘটেছে নুন উৎপাদক মলুঙ্গি ও নীলচাষিদের ওপর অকথ্য অত্যাচার। বিদেশি রাজশক্তির উত্থানের পাশাপাশি আবার এই শহরেই হয়েছে পরাধীনতার শেকল ছেড়ার যজ্ঞ । লক্ষ লক্ষ দরিদ্রকে শোষণ করে জমিদারেরা বিলাসিতার রংমশাল জ্বালিয়েছেন এখানে, আবার গৌরী সেনের মতো মানুষের দানধ্যানের খ্যাতি পরিণত হয়েছে প্রবাদবাক্যে। ধর্ম ও রাজনীতি, প্রেম ও উদাসীনতা, শোষণ কিংবা দয়াদাক্ষিণ্য—মানুষের সমস্ত রকমের দোষগুণ নিয়েই তৈরি বনেদি কলকাতা । সব ইতিহাসের মতো এর ইতিহাসও যেমন ঘৃণার, তেমনই ভালোবাসারও । আর সবচেয়ে বড় কথা—পূর্বপুরুষদের অবক্ষয়ের শেষ পরিণতি হিসেবে এখনকার বংশধরেরা মুছে যাননি । সময়ের সঙ্গে তাল রেখে, ভাঙাচোরা দরদালানে গজিয়ে-ওঠা সবুজ বটচারাটির মতো তাঁরা সমকালীন পৃথিবীতে খুঁজে নিয়েছেন আলো ও জীবনীশক্তি । জীবিকার প্রয়োজনে ও বাঁচার তাগিদে এরা নতুন নতুন পথে পা বাড়িয়েছেন, কিন্তু গায়ে রয়ে গেছে বনেদিয়ানার শেষ গন্ধটুকু ৷ যা তাঁদের ছিল তা হারানোর দুঃখ থাকলেও তাঁরা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাননি। এ যেমন তাঁদের গৌরব, তেমনই এ-গৌরব কলকাতারও । কলকাতার অতীত সমৃদ্ধি যা ছিল তা প্রায় হারিয়ে গেলেও, কলকাতা ফুরিয়ে যায়নি। বরং প্রতিদিন, প্রতিমুহূর্তে এই শহর নতুন করে গড়ে উঠেছে। উঠছে। তাতে তার পুরনো ঐতিহ্য লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেলেও, কমছে না, প্রসারিত হচ্ছে অন্যভাবে । গ্রিক কবি জর্জ সেফেরিসের কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন—গ্রিস দেশে প্রাচীন গ্রিস বলে কিছু নেই। “Greece is a continuous process. In English the expression ‘ancient Greece’ includes the meaning of ‘finished', whereas for us Greece goes on living, for better or for worse ; it is in life, has not expired yet.' কলকাতার সম্পর্কেও কথাটি খাঁটি। সেফেরিসেরই কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলতে হয়–’the statues are not the ruins—we are the ruins'.
কলকাতা গড়ে ওঠার পেছনে সপ্তগ্রামের সরস্বতী নদী পরোক্ষ অবদান জুগিয়েছে। সরস্বতী নিজে মরে গিয়ে কলকাতাকে জাগিয়ে দিয়ে গেছে। ১৫২০-৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সরস্বতী নদী পলিমাটিতে বুজে যেতে থাকে। মধ্যযুগে এই নদীর তীরে সপ্তগ্রাম গঞ্জের শ্ৰেষ্ঠীরা মুঘল সম্রাটদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালাতেন । প্রিয় সপ্তগ্রাম ছেড়ে এসে শ্ৰেষ্ঠীরা তখন তাঁদের বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তুললেন হাওড়ার বিটোরে (আজকের ব্যাঁটরা) সেখানে ব্যবসা চলত পর্তুগিজদের সঙ্গে । শেষ পর্যন্ত তাঁরা গঙ্গার তীরে সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলকাতায় বাসা বাঁধলেন। ছেড়ে-আসা সপ্তগ্রামের স্মৃতি দিয়ে গড়ে তুললেন এই তিনটি গ্রামকে । জোব চার্নকের কৃতিত্ব, তিনি তখনকার এই গ্রাম-গঞ্জগুলির ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। বাকি ইতিহাস অনেকেরই জানা । ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দের ২৪ অগস্ট কলকাতার প্রতিষ্ঠা । তারপর ১৬৯৮ সালে ইংরেজরা পান এই তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব । আঠারো ও উনিশ শতকে এই গ্রামপুঞ্জই আধুনিক কলকাতা শহরের রূপ নেয় ।
শ্ৰেষ্ঠী, বণিক, জমিদার ও ইংরেজ কত ব্যক্তিদের নিয়ে তিনটি গ্রাম আস্তে আস্তে কীভাবে মহানগরে রূপান্তরিত হল, তারই একটি রূপরেখা পাওয়া যাবে বনেদি কলকাতার ঘরবাড়ি' গ্রন্থে । ইতিহাস থেমে থাকে না, তা বহমান—এ কথা মানলে কোনও ইতিহাসই সম্পূর্ণ নয়। স্রোতের প্রতিটি তরঙ্গকে ধরা যায় না। আমরা শুধু মূল স্রোতের দিকনির্ণয়েরই চেষ্টা করেছি। চেষ্টায় অসঙ্গতি,অক্ষমতা যে নেই তা নয়। কিছু ত্রুটিবিচ্যুতিও থাকতে পারে। কিছু কিছু বাড়ির কথাও লেখা হল না। কিন্তু এসব কথা স্বীকার করতে দ্বিধা হয় না এই ভেবে যে, পরিশ্রমে ক্রটি করিনি। কালাইল বলতেন, প্রতিভা না থাকলে পরিশ্রম তার ঘাটতি পুষিয়ে দেয়। কথাটা বিশ্বাস করতে ভালো লাগে ।
দুঃখের বিষয় সেই সব পুরনো বাড়ির অনেকই আজ কালের করালগ্রাসে ধ্বংস হয়েছে, কোথাও বা প্রগতির প্রয়োজনে উঠেছে বহুতল বাড়ি—তাই এই গ্রন্থের ছবিগুলি এখন তার ইতিহাসের একমাত্র সাক্ষী ।

Download and Comments/Join our Facebook Group

আমি মৃণালিনী নই - হরিশংকর জলদাস

Ami Mrinalini Noi - Harishankar Jaladas
আমি মৃণালিনী নই - হরিশংকর জলদাস
ভবতারিণী থেকে মৃণালিনী হওয়া রবীন্দ্রনাথের সহধর্মিণীর অন্তরঙ্গ বয়ানে বিয়ের দিন থেকে নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্তকালের ঘটনার পর ঘটনা প্রায় অনুপুঙ্খ বিবরণসমেত তুলে ধরেছেন কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, তাঁর আমি মৃণালিণী নই উপন্যাসের ভেতর দিয়ে। বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে এ উপন্যাসের পরতে পরতে জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়ির একটা কালপর্বের ঘটনা যে রকম অন্তরঙ্গ ভাষ্যে তুলে ধরেছেন তিনি, মনে হয়নি উপন্যাস পড়ছি। তাঁর মুখোমুখি বসে শুনছি যেন মৃণালিনীর একান্ত আপন কথা। জানা হয়ে যাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের সবলতা-দুর্বলতা। মৃণালিনী নিজের সাক্ষাৎ পর্যবেক্ষণের কথা যেমন জানাচ্ছেন, তেমনি বউ হয়ে আসার পর নানাজনের মুখে ঠাকুরবাড়ির বহু আগের যেসব ঘটনা শুনেছেন, তারও বিবরণ দিচ্ছেন অকপটে। যতই এ উপন্যাসের পাঠ এগোয়, আমরা আরও বেশি একাত্ম হয়ে উঠতে থাকি মৃণালিনী চরিত্রের সঙ্গে।
আলোর নিচে আঁধার থাকার মতো জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতেও অন্ধকার ছিল। অবরোধপ্রথা ছিল। এ বাড়ির অন্দরমহলে অবরুদ্ধ নারীকুলের দশা মৃণালিনীর বয়ানে লেখক যেভাবে তুলে এনেছেন, পাশাপাশি পুরুষদের ভূমিকার কথাও, তা এক গভীর পাঠের বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তা ইতিহাস হয়ে ওঠেনি, হয়ে উঠেছে কথাসাহিত্যের ঘরোয়া ভাষ্য। যেমন মৃণালিনী জানাচ্ছেন, ‘ঠাকুরবাড়ির কড়া নিয়ম—কোনো পরপুরুষের সঙ্গে বাড়ির মেয়ের সাক্ষাৎ চলবে না। ...অন্তঃপুরে অবরোধপ্রথা পূর্ণমাত্রায় বিরাজমান। একই প্রাঙ্গণের এ-বাড়ি থেকে ও-বাড়িতে যেতে হলে ঘেরাটোপমোড়া পালকির সঙ্গে প্রহরী ছোটে, অনেক অনুনয়ের পর গঙ্গাস্নানের অনুমতি পেলে বেহারারা পালকিসুদ্ধ মেয়েদের জলে ডুবিয়ে আনে।’
এ উপন্যাসের একটা বড় জায়গাজুড়ে আছে কাদম্বরী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্কের চালচিত্র, তার টানাপোড়েন, কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু, মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যময়তা। আছে ভবতারিণী থেকে মৃণালিনীতে পরিণত হওয়া খোদ স্বামী রবিঠাকুরের কাছ থেকে তাঁর বঞ্চনার অকপট স্বীকারোক্তি। মৃণালিনী জানাচ্ছেন, ‘আমার অসুস্থতা সত্ত্বেও রবিবাবুর ব্যস্ততা কমে না।’ তাঁর অসুস্থতার পর যে ঘরে তাঁকে রাখা হয়, সে ঘরে ‘কোনো বৈদ্যুতিক পাখা নেই। তালপাতার পাখার বাতাসে কতটুকুই বা গায়ের যন্ত্রণা কাটে।’
উপন্যাসের শেষ হচ্ছে মৃণালিনীর মৃত্যুর ভেতর দিয়ে। মৃত্যুর আগে তাঁর সেই অকপট স্বীকারোক্তি, ‘আমার প্রাণের দেবতা রবিবাবু। আমার সন্তানের জনক হিসেবে, দেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিক হিসেবে আমি তাকে শ্রদ্ধা করে এসেছি আজীবন। সে আমার স্বামী, কিন্তু প্রেমিক নয়। ...তার মন পড়ে ছিল অন্য নারীতে।’ অন্তিম অনুযোগ করছেন এই বলে, ‘সারাটা জীবন রবিবাবুর মনোতুষ্টিতে কাটল আমার। আমার ভালো লাগার দিকে দৃকপাত করেনি কখনো সে। এই মুহূর্তে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে, আমি মৃণালিনী নই, আমি ভবতারিণী। রবিবাবুর স্ত্রী ছাড়াও আমার নিজস্ব একটা সত্তা ছিল, সেই সত্তার প্রতি রবিবাবু কোনো দিন সুবিচার করেনি।’ নারী যে শুধু নারী নন, ব্যক্তিসত্তাও, এই অনুযোগের ভেতর দিয়ে তা প্রকাশিত।
পুরো উপন্যাসে এসব কথাই লেখেন মৃণালিনী তথা ভবতারিণী, রবিঠাকুরের স্ত্রী ডায়েরির আকারে। হরিশংকর জলদাসের লেখনী-নৈপুণ্যে সেই ডায়েরি হয়ে উঠেছে এক নারীর দলিত ব্যক্তিসত্তার হাহাকার দীর্ণতার দিনলিপি।

আমি মৃণালিনী নই
হরিশংকর জলদাস
প্রচ্ছদ: কাইয়ুম চৌধুরী
প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন
১৬৮ পৃষ্ঠা

Download Now and Join our Facebook Group

সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ০৫ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ০৫ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল সায়েন্স ফিকশন সমগ্র ০৫ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সূচিপত্র
*রুহান রুহান
*জলমানব
*অন্ধকারের গ্রহ
*অক্টোপাসের চোখ
*ইকারাস
*রবো নিশি
*কেপলার টুটুবি

বাংলাদেশের সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লিখে মুহম্মদ জাফর ইকবাল জনপ্রিয় হয়েছেন। না, কেবল জনপ্রিয়ই নন, তিনি বাংলা সায়েন্স ফিকশানকে শক্ত ফিকশান-এর পরিমণ্ডলে দীপ্যমান উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের অধ্যাপনায় নিযুক্ত। ফলে তার লেখায় বর্ণিত বিজ্ঞান সম্পর্কিত তথ্যাদি নিছক কল্পনা-আশ্রিত নয়, সে-সবের যথার্থ ভিত্তি থাকে। কিন্তু বিশেষভাবে যা লক্ষীয় তা হল বিজ্ঞানের জয় আসলে বরং মানুষের শুভবুদ্ধি ও পরোপকারের ইচ্ছাকে সার্থক ও বিজয়ী করে। জলমানব নিহন ও স্থলমানবী কাটুঙ্কার এর যান্ত্রিক সত্তা পরাজিত হয়। প্রডিজি’র শারমিনের অসাধারণ মেধা এবং রাফি ও ঈশিতার সদিচ্ছার কাছে হার মানে উচ্চাভিলাষী বিজ্ঞানী বব লাস্কির অশুভ বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি। ইকারাস-এ ডক্টর কাদেরের বিকৃত গবেষণার ফসল পাখিমানব বুলবুলের জন্য পাঠক-হৃদয়ে সহানুভূতি জেগে ওঠে। মানুষেরই সৃষ্ট পঞ্চম মাত্রার রোবট কিংবা রোবোমানব কেউই মানুষের শুভবুদ্ধিকে পরাজিত করতে পারে না। অন্ধকারের গ্রহতে কালো কুৎসিত অশুভ ভয়ংকর গ্রহ এবং এতে বসবাসকারী বীভৎস কুৎসিত প্রাণী যেমন আতঙ্কিত করে তেমনি কেপলার টুটুবি গ্রহে নিষ্পাপ মানুষের পদচিহ্ন দিয়ে নতুন পৃথিবী গড়ে তোলার সূচনা অবারিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়। এ গ্রহে সূর্যটা বড়, দিনগুলি লম্বা, রাতের আকাশে চাদ দুটি । সত্যিই কি আছে এরকম কোনো গ্রহ? হয়তো আছে, কিংবা নেই। এ শুধু কেবলই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী? কিংবা অদূরভবিষ্যতে একদিন হয়তো আবিষ্কার হবে এরকম একটা পৃথিবী, কেননা কথাশিল্পীরা অনেক সময় ভবিষ্যদ্রষ্টার ভূমিকায় থাকেন-এ তারই প্রতিফলন। যেমন ছিলেন জুল ভের্ন ডুবোজাহাজের কথা যখন কেউ কল্পনাও করে নি—তখন তিনি বলেছেন নটিলাস’ নামে ডুবোজাহাজের কথা, তাও আবার সৌরশক্তি-চালিত। মুহম্মদ জাফর ইকবাল তার গল্প বলার অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে পাঠককে সম্মোহিত করেন নিয়ে যান অন্য এক ভুবনে, যেখানে কল্পনা আর বিজ্ঞান একাকার হয়ে যায়।

Download and Comments/Join our Facebook Group

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2018. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com