সাম্প্রতিক বইসমূহ

একজন কমলালেবু - শাহাদুজ্জামান

একজন কমলালেবু - শাহাদুজ্জামান

একজন কমলালেবু - শাহাদুজ্জামান
বরিশালের নদী, জোনাকি ছেড়ে তাঁকে পা রাখতে হয়েছে আদিম সাপের মত ছড়িয়ে থাকা কলকাতার ট্রামলাইনের ওপর। পৃথিবীর দিকে তিনি তাকিয়েছেন বিপন্ন বিস্ময়ে। বলেছেন সন্ধ্যার সব নদী ঘরে ফিরলে থাকে অন্ধকার এবং মুখোমুখি বসবার নাটোরের এক নারী। জানিয়ে দিয়েছেন জ্যোৎস্নায় ঘাইহরিণীর ডাকে ছুটে আসা, শিকারীর গুলিতে নিহত হরিণের মত আমরা সবাই। সস্তা বোর্ডিংয়ে উপার্জনহীনভাবে দিনের পর দিন কুঁচো চিংড়ি খেয়ে থেকেছেন। তবু পশ্চিমের মেঘে দেখেছেন সোনার সিংহ। পিঁপড়ার মত গুটি গুটি অক্ষরে হাজার হাজার পৃষ্ঠা ভরেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ডায়েরি লিখে। সেগুলোর সামান্য শুধু জনসমক্ষে এনেছেন জাদুকরের রুমালের মত, বাকিটা গোপনে তালাবন্দী করে রেখেছেন কালো ট্রাঙ্কে।

বাংলা সাহিত্যের প্রহেলিকাময় এই মানুষ জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে এক নিবিড় বোঝাপড়ায় লিপ্ত হয়েছেন এ সময়ের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান তাঁর একজন কমলালেবু উপন্যাসে।

ঠাকুরবাড়ির বাহিরমহল - চিত্রা দেব

amarboi
ঠাকুরবাড়ির বাহিরমহল - চিত্রা দেব
দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮২৩ নাগাদ বেলগাছিয়া ভিলা কেনেন। ১৮৩৫-এ তৈরি হয় তার দোতলা। এই প্রাসাদ আর তার বাগানে দেশি-বিদেশি অভিজাতদের আমন্ত্রণ করে যে সব উৎসবের আয়োজন করতেন দ্বারকানাথ, সমকালেই তা প্রবাদে পরিণত হয়েছিল। রূপচাঁদ পক্ষীর সেই বিখ্যাত গান তো এই বাড়ি নিয়েই, ‘বেলগাছিয়ার বাগানে হয় ছুরি কাঁটার ঝনঝনি...’। সে বাগান আজ আর নেই, বাড়িও বিলুপ্তির পথে । আবার পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুরদের তৈরি দমদম সাতপুকুরের বাগানবাড়ি ‘গুপ্ত বৃন্দাবন’ই বা কতটুকু পরিচিত? পাথুরিয়াঘাটায় যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের ‘প্রাসাদ’ এবং ‘টেগোর কাস্‌ল’, আর তাঁর বাগানবাড়ি ‘মরকত কুঞ্জ’ আজ শ্রীহীন। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি তার সন্তানদের বিপুল সাংস্কৃতিক অর্জনের জন্যই আজ সংরক্ষণের সৌভাগ্য পেয়েছে। এই সব বাড়ির মানুষজনের ইতিহাসের মধ্যে ছড়িয়ে আছে আঠেরো শতকের শেষ থেকে উনিশ শতক জুড়ে বাংলা দেশের এক বিশিষ্ট পরিবারের কাহিনি— তার কিছুটা গল্প, কিছুটা তথ্য, তাও নানা বিবরণের জটিলতায় অস্পষ্ট। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত বলা যায়, এই ইতিহাস ছাড়া বাঙালির আধুনিক হয়ে ওঠার বৃত্তান্ত নিতান্তই অসম্পূর্ণ।

ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল (আনন্দ) লিখে চিত্রা দেব কয়েক দশক আগেই সে বৃত্তান্ত দুই মলাটে আনার কাজ শুরু করেছিলেন। প্রায় পঁচাত্তর ছুঁই ছুঁই বয়সে, অসুস্থ ও গৃহবন্দি অবস্থায় তিনি এ বারে লিখে ফেলেছেন ঠাকুরবাড়ির বাহিরমহল। ঠাকুর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বই সুপরিচিত, তাঁদের সম্পর্কে লেখাও হয়েছে অনেক। তবু যেমন আড়ালে রয়ে গিয়েছেন এই পরিবারের বহু সদস্য, তেমনই পরিচিতদের নিয়েও তথ্য কি গল্প কোনওটাই এক জায়গায় করার চেষ্টা হয়নি। বহু দিনের পরিশ্রমে সেই ছবিটাই দাঁড় করাতে চেয়েছেন চিত্রা দেব। সম্মিলিত জীবনযাত্রা থেকে একাধিক পারিবারিক বৃত্তে ছড়িয়ে পড়া ‘ঠাকুরবাবু’দের সে ছবি নিছক বাবুয়ানির নয়, সাহিত্য শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে সমাজকল্যাণ, আধুনিক চিন্তা ও মননের বিকাশ, জড়িয়ে আছে সবই।

বাঙালনামা - তপন রায়চৌধুরী

বাঙালনামা - তপন রায়চৌধুরী
বাঙালনামা - তপন রায়চৌধুরী
বাঙালনামায় তপন রায়চৌধুরী ঝালকাঠির কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এ জমিদারবাড়িতেই ১৯২৬ সালে তাঁর জন্ম। তিনি বরিশাল জিলা স্কুল, কলকাতা বালিগঞ্জ জগদ্বন্ধু ইনস্টিটিউট, বালিগঞ্জ সরকারি হাই স্কুল, কলকাতা স্কটিশ কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়াশোনা করেন। তাঁর চর্চার মূল বিষয় ছিল ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস, ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস ও বাংলার ইতিহাস। তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন। দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিকসে বেশ কিছুকাল শিক্ষকতা করেছেন। তাঁকে ১৯৯৩ সালে ডক্টর অব লেটারস সম্মান দেয় অঙ্ফোর্ড ইউনিভার্সিটি। ২০০৭ সালে তপন রায়চৌধুরীকে পদ্মভূষণ সম্মান প্রদান করে ভারত সরকার। তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত বই 'বেঙ্গল আন্ডার আকবর অ্যান্ড জাহাঙ্গীর : অ্যান ইন্ট্রোডাক্টরি স্টাডি ইন সোশ্যাল হিস্ট্রি', 'দ্য ওয়ার্ল্ড ইন আওয়ার টাইম' প্রভৃতি।

ইউরোপ পুনর্দর্শন - তপন রায়চৌধুরী

ইউরোপ পুনর্দর্শন - তপন রায়চৌধুরী ইউরোপ পুনর্দর্শন - তপন রায়চৌধুরী
সাহিত্য এবং শিল্পের মত ইতিহাসও যে জীবনের বিচিত্র সম্ভাবনার স্বাদ আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে - এই কথাটাই নতুন করে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন সুখ্যাত ঐতিহাসিক তপন রায়চৌধুরী। সমাজশাস্ত্রভিত্তিক এবং অন্য ধরণের বিশ্লেষণী আলোচনার বাইরেও মানুষের জীবনের ইতিহাসের যে একটা মূল্য রয়েছে- এই ধারণাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি শুরু করেন আধুনিক বাঙালীর মনোজগতের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা। তারই আংশিক ফসল এই অনবদ্য আলোচনা গ্রন্থ।
উনিশ শতকের শিক্ষিত বাঙালীর চোখে ইউরোপের চেহারাটা কেমন ছিল- তারই সন্ধান এই গ্রন্থে। উনিশ শতকের যে তিনজন মনীষীর ইউরোপ-চিন্তাকে আবর্তিত করে এই চেহারাটার সর্বাঙ্গীণ পরিচয় এখানে, তাঁরা হলেন যথাক্রমে ভূদেব মুখোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বামী বিবেকানন্দ।
পাশ্চাত্য সম্বন্ধে ভারতীয়দের ধারণা বিষয়ে এতকাল প্রায় কিছুই লেখা হয়নি, সেই অভাব মেটাবে এই বই যেখানে উনিশ শতকে ভারতে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জটিল ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ মূল্যায়নের উদাহরণ হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছে এই মনীষীত্রয়ীর চিন্তাধারার ব্যাপক পরিচয়। তদুপরি, মূল্যায়নের বৈচিত্র্যের উৎস যে ব্যক্তিত্বের বিভিন্নতায় এবং জীবনের অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্যে- তার প্রতি পাঠকের দৃষ্টি ফেরাতে চেয়েছেন লেখক। দেখিয়েছেন যে সময়ের দিক থেকে সমসাময়িক হওয়া সত্ত্বেও ইতিহাসের দ্রুতগতির কারণে মানসিকতায় কিভাবে প্রজন্মের ব্যবধান ঘটে গেছিল চিন্তানায়কদের মধ্যে। বহু দুর্লভ ও মূল্যবান তথ্যে সমৃদ্ধ এই গ্রন্থ। সংকলিত তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একইসঙ্গে যেমন স্বকীয়তায় উজ্জ্বল এই আলোচনাগ্রন্থ তেমনই প্রশংসনীয় আলোচকের নৈর্ব্যক্তিকতা। বছর সাতেক আগে ইংরেজী ভাষায় গ্রন্থাকারে বেরুনো এই বইটিকে বাংলায় অনুবাদ করেন শ্রীমতী গীতশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বাংলা সংস্করণের জন্য লেখক নিজেই যুক্ত করেছেন একটি নতুন ভূমিকা।
ইতিহাসচর্চার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করল তপন রায়চৌধুরীর এই আলোচনাগ্রন্থটি।





Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2018. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com