সাম্প্রতিক বইসমূহ

মাতৃভাষার সপক্ষে রবীন্দ্রনাথ - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

মাতৃভাষার সপক্ষে রবীন্দ্রনাথ - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মাতৃভাষার সপক্ষে রবীন্দ্রনাথ - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

Read and Join our Facebook Group

ভাষার আপন পর - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

Bhashar Apon Por A Collection of Eassy on Language by Muhammad Habibur Rahmanকর্মজীবনে আইনজীবী ও বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলা প্রবন্ধ ও গবেষণায় ঈর্ষণীয় কৃতিত্বের অধিকারী। একদা তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন কোরআনসূত্র ও যথাশব্দ লিখে। পরে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন রবীন্দ্রব্যাখ্যায় ও ভাষাচর্চায়। সম্প্রতি প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর ভাষাবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ ভাষার আপন-পর। এতে সংকলিত প্রবন্ধগুলো হচ্ছে ‘অমর একুশের ষাট বছর’, ‘ভাষার আপন-পর’, ‘বাংলা ভাষার সংগ্রাম চলবেই চলবে’, ‘অপদার্থতার এক মিনার’, ‘হালের শবপোড়া মড়াদাহের দল’, ‘আদিবাসীদের ভাষা সমস্যা’, ‘ভাষা ও মাতৃভাষার কবিতা’। প্রবন্ধগুলোতে লেখকের ভাষাচেতনা ও ভাষা-ভাবনার নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে।
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ভাষাচেতনার ভিত্তি মাতৃভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ। এই অনুরাগ থেকেই তাঁর বিচরণ ভাষার উদার আকাশে। সে আকাশে বিশ্বের প্রতিটি ভাষাই মর্যাদার আসনে আসীন। সেসব ভাষার সবলতা, দুর্বলতা কিংবা বিলীয়মানতা ইত্যাদি সম্পর্কে তাঁর কৌতূহল অসীম। সেসব কৌতূহল ও অনুসন্ধানের পরিচয় মিলবে ভাষার আপন-পর বইয়ের পাতায় পাতায়।
বইয়ের প্রথম প্রবন্ধ ‘অমর একুশের ষাট বছর’। তথ্যপূর্ণ এ প্রবন্ধে সংক্ষিপ্ত পরিসরে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পটভূমি, আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বর্তমান বিশ্বে বাংলা ভাষার অবস্থান, উচ্চ আদালতে বাংলা প্রচলনের সমস্যা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে শহীদ দিবসের স্বীকৃৃতিলাভ ইত্যাদি। লেখক নিজেও একজন ভাষাসংগ্রামী। ভাষা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ও অবস্থানের স্মৃতিখণ্ডও উঠে এসেছে এ প্রবন্ধে।
মাতৃভাষার গুরুত্ব স্বীকার করেও লেখক ভাষার ব্যবহারে আপন-পর ভেদের পক্ষপাতী নন। ‘ভাষার আপন-পর’ প্রবন্ধে স্বভাবতই দ্বিভাষিকতা ও বহুভাষিকতার পক্ষে তাঁর অবস্থান। প্রবন্ধটিতে মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইংরেজির মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার ওপর। বহুভাষিকতার গুরুত্ব আলোচনা করতে গিয়ে এখানে লেখক নানা উদ্ধৃতি, দৃষ্টান্ত ও তথ্য ব্যবহার করেছেন। তবে তাঁর একটি তথ্য কিছুটা অস্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, ‘লন্ডন শহরে ছেলেমেয়েরা আজ ৩০৭টি ভাষায় নাকি কথা বলে।’ এ কথাটা কী বোঝাচ্ছে? সেখানকার ছেলেমেয়েরা সবাই ৩০৭টি ভাষায় পারদর্শী, নাকি সেখানে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৩০৭টি ভাষা প্রচলিত?
‘বাংলা ভাষার সংগ্রাম চলবেই চলবে’ প্রবন্ধে লেখক জ্ঞানবিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে মাতৃভাষার অপ্রতুল ব্যবহারে মর্মাহত। তিনি জোর দিয়েছেন সর্বস্তরে মাতৃভাষাচর্চার এবং তার প্রসার ও উন্নতির ওপর। এই ভাবনারই অনুসৃতি ঘটেছে ‘অপদার্থতার এক মিনার’ প্রবন্ধে। সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনে ব্যর্থতাকে তিনি দেখেছেন অপদার্থতার মিনার হিসেবে।
লেখক বাংলা ভাষায় বুলিমিশ্রণের সাম্প্রতিক প্রবণতা সম্পর্কে বিভিন্ন মত তুলে ধরেছেন ‘হালের শবপোড়া মড়াদাহের দল’ প্রবন্ধে। তবে সেগুলোর পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণ তিনি করেননি। স্পষ্ট করেননি নিজের কোনো মতও। ‘আদিবাসীদের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধে লেখক গুরুত্ব আরোপ করেছেন আদিবাসীদের ভাষার পুনরুজ্জীবন, ব্যবহার, উন্নয়ন ইত্যাদির ওপর।
মাতৃভাষা সম্পর্কে বিভিন্ন ভাষায় যেসব কবিতা লেখা হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে হাবিবুর রহমানের গভীর আগ্রহের পরিচয় পাওয়া যায় ‘ভাষা ও মাতৃভাষার কবিতা’ প্রবন্ধে। এখানে বিভিন্ন ভাষায় রচিত মাতৃভাষাবিষয়ক বেশ কিছু কবিতার বাংলা অনুবাদ উপহার দিয়েছেন তিনি পাঠককে।
ভাষার আপন-পর গ্রন্থটি প্রচুর তথ্য ও উদ্ধৃতিসমৃদ্ধ। এসব তথ্য আহরণ ও পরিবেশনে তাঁর নিষ্ঠা প্রশংসনীয়। তিনি যুগপৎ ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া, ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক তুলে ধরায় সচেষ্ট। এখানেই তাঁর বিশিষ্টতা।
এ বইয়ের প্রবন্ধগুলো মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমতা ও প্রীতির ফসল। মাতৃভাষাচর্চায় আমাদের অনীহা ও অবহেলা দেখে লেখক হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জনের ওপর, পাশাপাশি প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন পরভাষা থেকে আলোকিত হওয়ার। এ বই বাংলা ভাষা ও ভাষা-ভাবনাসংক্রান্ত নানা তথ্যে ঋদ্ধ। ভাষাপ্রেমী পাঠকের সংগ্রহে রাখার মতো উল্লেখযোগ্য বই এটি। (সূত্রঃ প্রথম আলো)
Read
Bhashar Apon Por A Collection of Eassy on Language by Muhammad Habibur Rahman [103 Pages, 11 MB, Amarboi.com]

বাংলাদেশের নানান ভাষা - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বাংলাদেশের নানান ভাষা - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
বাংলাদেশের নানান ভাষা - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

ভূমিক
৬ মার্চ ২০১৩ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ জাতীয় সংসদকে জানান যে বাংলা ভাষা ছাড়াও দেশে আরও ৩৭ ভাষাভাষীর নাগরিক রয়েছে। নিবিড় গণনায় এই সংখ্যা কিছু বৃদ্ধি পেতে পারে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের বদৌলতে দেশের বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে স্ব-স্ব ভাষার প্রতি দরদ ও মমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব ভাষায় বর্ণমালা নেই, সেই ভাষাগুলোতেও বাংলা হরফ ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সরকার ও কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রায় সব ভাষাগোষ্ঠীর কিছু কবিতা বা ছড়া এই গ্রন্থে সংযোজিত হয়েছে। এ ধরনের সংকলন হয়তো এই প্রথম ; দেশের মাটি, মানুষ, ভাষা ও প্রকৃতি কীভাবে বিভিন্ন ভাষায় প্রতিফলিত হয়েছে তার সামান্য পরিচয় দেওয়া হলো এ বইয়ে । উন্নত বা উন্নয়নশীল ভাষাগুলোর মধ্যে আদান-প্ৰদান বৃদ্ধিকল্পে এবং বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ যেন পরস্পরকে সঙ্গদানে ও মতবিনিময়ে স্বকীয় সাংস্কৃতিক বৈচিত্ৰ্য সত্ত্বেও এক দেশবাসী হয়ে একাত্মবোধ করতে পারে, এমন আশা থেকে এই সংকলনের উদ্যোগ ।
এ গ্রন্থে বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ভাষা ছাড়াও কিছু কিছু ভাষার উল্লেখ করেছি, যেগুলো মৌখিকভাবে চালু আছে। যেসব ভাষার বর্ণমালা নেই, সেসব ভাষাও বাংলা হরফে লেখা হচ্ছে। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি সকল ভাষার কথা কয়'-এই বিশ্বাসেই এ গ্রন্থের প্রণোদনা ও স্মৃতি। এই লেখাগুলো ২০১৩ সালের পয়লা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম অ্যালোয় ধারাবাহিকভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশিত হয় । এক্ষণে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বিবেচনা করা হলো । এই গ্রন্থের জন্য নানাভাবে সাহায্য করেছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সৌরেন বিশ্বাস, অধ্যাপক মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, অধ্যাপক স্বপন নাথ, ফিলিপ গাইন, পাভেল পার্থ, মং মং চাক, এ কে শেরাম, উজ্জ্বল আজিম, মোহাম্মদ হাসান, তৈমুর রেজা এবং প্রথম অ্যালোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও কবি জাফর আহমদ রাশেদ। এই গ্রন্থে যেসব কবির কবিতা উদ্ধৃত করা হয়েছে তাদের মধ্যে যারা বর্তমানে জীবিত আছেন-এ কে শেরাম, কালিদাস রায়, খিং রিয়ান, জগৎজোতি চাকমা, নন্দরানী মিনৃজ, ফুয়াত লেথ থুলুক, মতেন্দ্র মানখিনি, রনজিত সিংহ, রুশ পতাম এবং সিং ইয়ং ম্রো-কে অশেষ ধন্যবাদ ।

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
গুলশান, ঢাকা

ভাষার অধিকার দুই ধরনের হতে পারে। এক, ভাষাভিত্তিক কোনো বৈষম্যের শিকার না হওয়ার অধিকার। এটি মূলত আত্মরক্ষার অধিকার। দুই, সামাজিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাষা ব্যবহারের অধিকার। এটি মূলত ভাব প্রকাশের অধিকার ।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার এই দেশে নানা কাজে নানা স্তরে চালু আছে আরও অনেক ভাষা । সেসব ভাষা নিয়ে এই আয়োজন। ভাষাগুলো সম্পর্কে আলোচনা সাজানো হয়েছে বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে।

Bangladesher Nanan Vasha Muhammad Habibur Rahman

আওয়ামী লীগঃ যুদ্ধ দিনের কথা ১৯৭১ - মহিউদ্দিন আহমদ

আওয়ামী লীগঃ যুদ্ধ দিনের কথা ১৯৭১ - মহিউদ্দিন আহমদ
আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১ বইয়ের ভূমিকায় লেখক জানাচ্ছেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম স্বাভাবিকভাবে হয়নি। একটি রাষ্ট্র ভেঙে আরেকটি রাষ্ট্র, তা-ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে।’ সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল যে আওয়ামী লীগ, তার ১৯৭১ সালের পূর্বাপর ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি এ বইয়ে। এতে মোট ছয়টি অধ্যায়-‘সংলাপ’, ‘অপারেশন সার্চলাইট’, ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’, ‘জঙ্গনামা’, ‘শেষ দৃশ্য’ এবং ‘উপসংহার’। বইটির সূচনা বেশ নাটকীয়ভ। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। এদিন ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চরমভাবে হতাশ করে। নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

বইতে তুলে ধরা হয়েছে বাঙালি জনতার প্রচণ্ড বিক্ষোভ মিছিল, ২ মার্চ কলাভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করার সিদ্ধান্ত, বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর সামরিক বাহিনীর হামলা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের ভয়াল কালোরাত, স্বাধীনতার ঘোষণা, প্রতিরোধযুদ্ধের সূচনা, বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করা, তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে প্রবাসী সরকার গঠন, যুদ্ধের সেনাধ্যক্ষ নির্বাচন ও সেক্টর গঠন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সহায়তা, পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয়, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

সৌজন্যেঃ মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ
 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2016. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com