সাম্প্রতিক বইসমূহ

সাস্টে ২২ বছর - ইয়াসমীন হক অনুবাদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল

সাস্টে ২২ বছর - ইয়াসমীন হক অনুবাদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল
সাস্টে ২২ বছর - ইয়াসমীন হক
অনুবাদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল


“...ভোরবেলার শিফটে যে পুলিশেরা ছিল, তারা ডিউটি শেষ করে চলে গেছে এবং পরের শিফট তখনো আসেনি। এই সময় তিনজন তরুণ আমাদের বিল্ডিংয়ের দিকে ছুটে আসে, গার্ড ভয় পেয়ে গেটে তালা মেরে উপরে উঠে গেল। কাজেই তারা আর বাসার ভিতরে ঢুকতে পারল না । বাইরে থেকে আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনের জানালাতে বোমা ছুড়ে মারল ।

আমরা বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে ঘুম থেকে জেগে৷ উঠেছি। একটা ভয়াবহ আতঙ্কের পরিবেশ । মনে আছে নাবিল আর ইয়েশিম তখন চিৎকার করছে । ইয়েশিম কাঁদতে কাঁদতে বলছে, “আব্বু তুমি লুকিয়ে যাও! প্লিজ লুকিয়ে যাও..."

এই বইটি হচ্ছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প-কথা, শুধু যে লেখাপড়া এবং গবেষণার গল্প তা নয় একই সাথে এটি আন্তরিকতা, ত্যাগ, পরিশ্রম, দুঃখ, সন্ত্রাস, অসততা, প্রতারণা, ক্রোধ এবং সবার উপরে ব্যক্তিগত সাহসের গল্প । তরুণ শিক্ষকেরা কীভাবে এই ক্যাম্পাসটিকে প্ৰাণোচ্ছল করে রেখেছে। তার গল্প । বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিচিত্ৰ ঘটনার ভেতর কেমন করে ছাত্রছাত্রীদের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে উঠেছে তার গল্প ।

প্রচ্ছদ আলোকচিত্ৰ : অনি ইসলাম

আলোকচিত্রঃ তানভীর আলীম

সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচিতিঃ

ইয়াসমীন হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি শেষ করে ১৯৭৬ সালে পি.এইচ.ডি করার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন । ১৯৮৪ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনে পি.এইচ.ডি. শেষ করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল কাজ শুরু করেন ।

ইয়াসমীন হক ১৯৭৮ সালে তার সহপাঠি মুহম্মদ জাফর ইকবালকে বিয়ে করেন । তাদের দুই সন্তান, নাবিল ইকবাল ও ইয়েশিম ইকবাল । তার পুত্ৰ সন্তানের জন্মের পরপরই তিনি পোস্ট ডক্টরাল কাজ বন্ধ করে দেন । তার শিশু সন্তানেরা স্কুলে যাওয়ার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত বহু বছর তিনি তার সন্তানদের বড় করে তোলেন । (ছেলে নাবিল এম.আই.টি থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পি.এইচ.ডি. করে এখন ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ডরহামে শিক্ষকতা করছে। মেয়ে ইয়েশিম ইকবাল নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে সাইকোলজিতে পি.এইচ.ডি. সমাপ্ত করছে।)

ইয়াসমীন হক ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগ দেন । তখন থেকে তিনি এখানেই আছেন, ছাত্রছাত্রীদের সময় দেয়ার পাশাপাশি গবেষণার জন্যে একটি প্রথম শ্রেণীর ‘নন-লিনিয়ার অপটিক্স ল্যাবরেটরি’ গড়ে তুলছেন ।

ভূমিকা

আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে কেন আমি এই বইটি লিখেছি আমার মনে হয় না। আমি সহজ কোনো উত্তর দিতে পারব! কোনো একটা কারণে আমার দিন তারিখ মনে থাকে, শুধুমাত্র এই কারণে জাফর ইকবাল বহুদিন থেকে আমাকে বলে আসছে সাস্টের সুদীর্ঘ ২২ বছর সময়ে আমি এখানে যা যা ঘটতে দেখেছি সেগুলো যেন লিখে রাখি । তবে সত্যি সত্যি লেখালেখির কাজটি শুরু করেছি আমাদের সাপ্তাহিক মঙ্গলবারের আড্ডার সদস্যদের আগ্ৰহ আর উৎসাহের কারণে ।

আমার এই লেখায় সাস্টের প্রকৃত ঘটনা প্রবাহের কিছুই ফুটিয়ে তােলা সম্ভব নয়, আমি শুধুমাত্র একটুখানি তুলে ধরেছি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবন উত্তেজনাপূর্ণ এবং প্রায় সময়ে বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে যেতে হয় । এই ঘটনাগুলোর মাঝে ভালো ঘটনা যেরকম আছে ঠিক সেরকম খারাপ ঘটনাও আছে। তরুণ শিক্ষকেরা যেরকম জীবনকে আনন্দময় করে তুলতে পারে ঠিক সেভাবে রাজনীতিতে ঝুকে জীবনকে যন্ত্রণাময় করে তুলতে পারে।

লেখার সময় যখন নেতিবাচক কোনো ঘটনাকে বর্ণনা করতে হয়েছে তখন চেষ্টা করেছি ঘটনার পাত্ৰপাত্রীদের নামটি গোপন রাখতে । দুর্ভাগ্যক্রমে ভাইসচ্যান্সেলরদের সময় এই নিয়মটা মানা সম্ভব হয়নি তাদের নামগুলো এতো স্পষ্ট যে সেগুলো গোপন রাখার কোনো উপায়ও নেই ।

সাস্টে আমাদের জীবনটি কেমন ছিল সেটি কোনোভাবেই আমার পক্ষে পুরোপুরি ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। যখন আমি এটা লিখেছিলাম তখন মাঝে মাঝেই কোনো কোনো ঘটনা লিখতে গিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছিলাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাই এখানে আমাদের জীবনকে পূর্ণতা দিয়েছে এবং শুধুমাত্র তাদের জন্যেই এখানে আমি বছরের পর বছর কাটিয়ে দিয়েছি। এই ছাত্রছাত্রীরাই আমাদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করেছে এবং উজীবিত করেছে।

আমি কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ আমার এই পাণ্ডুলিপিিটকে চূড়ান্তরূপ দেয়ার ব্যাপারে কম্পোজ এবং টাইপ করায় সাহায্য করার জন্যে । পুরানো ছবিগুলো খুঁজে বের করে দেওয়ার জন্যে আমি আমার সহকর্মী বন্ধুবান্ধব এবং ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানাতে চাই ।

আমি আলাদাভাবে আমার দুই সন্তান এবং জাফর ইকবালকে ধন্যবাদ জানাতে চাই তাদের অসংখ্য পরামর্শ এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্যে । শুধুমাত্র তাদের উৎসাহ আর অনুপ্রেরণার জন্যেই এই বইটি লেখা সম্ভব হয়েছে!

ইয়াসমীন হক
সিলেট, ১০ জানুয়ারী ২০১৭

সাপ্তাহিক হক কথা সমগ্র - মাওলানা ভাসানী

সাপ্তাহিক হক কথা সমগ্র - মাওলানা ভাসানী
সাপ্তাহিক হক কথা সমগ্র - মাওলানা ভাসানী
১২ ডিসেম্বর মউলানা ভাসানীর জন্মদিন। সংক্ষেপেই মোদ্দা কথাটা বলিঃ ভাসানী মানেই খেটে-খাওয়া মানুষের সার্বিক মুক্তির রাজনীতি, মধ্যবিত্তের জাতীয়তাবাদী--এবং ইসলাম নিয়েও-- শ্রেণিস্বার্থভিত্তিক আস্ফালন আর ভাওতাবাজি না। ভাসানীর নিচের কথাগুলো আবারও স্মরণ করি (কথাগুলো বারবার পোস্ট করার পেছনেও কারণ আছে। আর যারা এগুলোকে নিছক পুনরাবৃত্তি বলে উড়িয়ে দিতে চায়, তারা নিদেনপক্ষে ইতিহাসের অমীমাংসিত প্রশ্নসহ মানুষের মুক্তির প্রশ্নকেই ধামাচাপা দিতে চায়)ঃ
"পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, রাষ্ট্র এবং শ্রেণির প্রশ্ন উহ্য রাখিয়া যাহারা দেশ ও দুনিয়ার জুলুম ও অবিচারের কথা বলিয়া চোখের পানি ফেলেন আর কাতর হন, তাহাদের আপাতদৃষ্টিতে দরদী মনে হইলেও তাহারা আসলে জুলুম আর অবিচারের পক্ষেই অবস্থান নেন।"
এবং আবারও স্মরণ করি ভাসানীর এই কথাগুলোওঃ
"অনেকে মনে করেন অহিংসার রাজ্যে বিপ্লবী মহল কাজ করিতে পারে না। আমার মতে ধারণাটা ভুল। কারণ বিপ্লবী মন সব সময় অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-মুখর--শুধু মুখের ভাষায়ই নয়, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে অস্ত্রের ভাষায়ও। কারণ বৃহত্তর কল্যাণের প্রয়োজনে সে আশেপাশে অপারেশন চালাইয়া থাকে, যেমনটি একজন দূরদর্শী ডাক্তার রোগীর একটি চক্ষু তুলিয়া ফেলিয়া অপরটিকে অক্ষত রাখেন। অবশ্য ইহাও সত্য যে বিপ্লবের নামে উদ্দেশ্যহীন ধ্বংস সাধন করিবার জন্য মহল বিশেষের আবির্ভাব ঘটিতে পারে। তবে তাহা একান্তই ক্ষণস্থায়ী হইয়া থাকে। খাঁটি বিপ্লবী দল তাহাদিগকে অচিরেই গ্রাস করিয়া ফেলিতে সক্ষম হয়। কিন্তু অহিংসার নামে সুবিধাবাদী মহল স্বার্থ উদ্ধার করিয়া সারিয়া উঠে এবং এমন কৌশলে জনতার ঘাড়ে চাপিয়া বসে যে অনেক মাশুলদান করিয়া তাহার কবল হইতে মুক্তি পাইতে হয়। তাই অহিংসায় ভালবাসার বাণী থাকিলেও তাহা কোনদিন বাস্তবায়িত হয় না। বিশেষ করিয়া ধনতন্ত্রবাদী সমাজব্যবস্থায় তাহা তো সম্ভব নয়ই। পক্ষান্তরে বিপ্লব যে আবেদন আর শক্তি লইয়া মানব সমাজে উপস্থিত হয়, তাহা আর কিছু বহন করুক বা না করুক, কুসংস্কার এবং শোষণের ধ্বংস প্রত্যক্ষভাবে লইয়া আসিবেই। তাই বিপ্লবে ভাওতাবাজীর কোন দ্বার খোলা থাকে না--থাকে শুধু ব্যবস্থা বিশেষের মূল্যোৎপাটন--তা যে কৌশলেই হউক।"

ডঃ আজফার হোসেনের ফেসবুক থেকে লেখাটি সংগ্রহিত।

ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা - শিবরাম চক্রবর্তী

amarboi.com
--> ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা - শিবরাম চক্রবর্তী

শিবরামের আত্মজীবনী ঈশ্বর পৃথিবী ভালবাসা।
Read/Download

দোজখনামা - রবিশংকর বল

দোজখনামা - রবিশংকর বল
দোজখনামা - রবিশংকর বল

‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর ‘রোববার’ ক্রোড়পত্রিকায় ২০০৯ সালে এক বছর ধরে প্রকাশিত হয়েছিল এই উপন্যাস । উপন্যাসটি প্রকাশের বিষয়ে সম্পাদক শ্রীঋতুপর্ণ ঘোষ যে-আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, সেজন্য তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ । প্রকাশনার নানা পর্বে সাহায্য করেছেন ক্রোড়পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক শ্রীঅনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও তরুণ সহকর্মী শ্রীভাস্কর লেট । ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর সম্পাদক শ্রীসৃঞ্জয় বোস নানা বিষয়ে আমাকে উৎসাহ দিয়ে থাকেন; এই উপন্যাস প্রকাশের ক্ষেত্রেও তাঁর কাছ থেকে উৎসাহ পেয়েছি । বন্ধু শ্রীদেবাশিস বিশ্বাস প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ করে দিয়েছেন ।
এবার শুধু আপনাদের পৃষ্ঠা ওল্টানোর অপেক্ষা । পাঠিকা/পাঠক আমার নমস্কার গ্রহণ করুন ।

রবিশংকর বল
শ্রাবণ ১৪১৭

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2016. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com