Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Widget

একাত্তরে একদল দুষ্টু ছেলে - আনিসুল হক [বইমেলা ২০১৩]

Eakatture Eakdal Dushtu Chhele Anisul Haque
একাত্তরে একদল দুষ্টু ছেলে - আনিসুল হক

একাত্তরের একদল দুষ্টু ছেলে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি কিশোর উপন্যাস। এ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে কিশোরদের অবদান এবং তৎকালীন সামাজিক অবস্থা লেখকের অদ্ভুত বাস্তব ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
সোনাতলা গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠরত একদল দুরন্ত ছেলে একটি দল গঠন করতে চায়। পল্টুমামার কাছে জানতে চাইলে তিনি একবাক্যে দুষ্টু ছেলের দল নাম দিয়ে দেন। পরে অবশ্য একটা ভাল নামের কথা বলায় নাম পরিবর্তন করে “সূর্যসেনা সংঘ” রাখা হয়। এ দলের কার্যালয় হিসেবে একটি নেমপ্লেটে দলের নাম খোদাই করে দুটো গাছের সাথে লাগিয়ে দেয়া হল। এ সংঘের দুষ্টু ছেলেরা প্রায়ই বিভিন্ন মিছিলে যোগদান করে, কারণ সময়টা তখন উত্তাল মুক্তিযুদ্ধের সময়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এরা এক দর্জিকে দিয়ে বাংলার পতাকা বানিয়ে বাড়ির ওপরে টানায়। দর্জি বিনামূল্যেই পতাকার সরঞ্জাম ওদের দেয়।
এরমধ্যেই এই গ্রামে রাজাকারদের সহায়তায় আক্রমণ করে মিলিটারি বাহিনী। সংঘের সদস্য অরুণের বাবা-মাকে মেরে ফেলে তারা। মেরে ফেলে সেই দর্জিকেও, যে পতাকা বানাত বিনামূল্যে। অরুণকে আশ্রয় দিল ওরই বন্ধু শোভন। এরই মধ্যে পল্টুমামা মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন ও মিলিটারি বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েন। তারই সহচর ও বন্ধু মিজান; যে মিলিটারির হাত থেকে পালিয়ে আসে তার সহায়তায়, ও সূর্যসেনা সংঘের বুদ্ধিতে তারা মিলিটারিদের খাওয়ার মধ্যে এক ধরণের ঔষধ(জামালগোটা) মিশিয়ে দেয়। মিলিটারিরা এই খাবার খাওয়ার পর-পরই এদের সবার পেট খারাপ হয়। আর এই সুযোগে মিজানের সহায়তায় দুষ্টু ছেলের দল আক্রমণ করে। সব মিলিটারি মারা যায় এবং পল্টুমামা মুক্তি পায়। কিন্তু যে রান্না করত, তার মেয়েকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে যায় ও এক মিলিটারির গুলিতে সে মারা যায়।
কিছুদিন পর আবারো পল্টুমামা মুক্তিযুদ্ধে যায়। এবং পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে সে শহিদ হয়। এ স্বাধীনতা এমনই লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত।
যুদ্ধে স্বাধীন-বাংলাদেশের সৃষ্টির আনন্দ-গৌরব, পক্ষান্তরে অরুণের বাবা-মা হারানোর বেদনা, পল্টুমামার বোনের ভাই হারানোর হাহাকার, সব মিলেই বোধহয় এই উপন্যাস সার্থক হয়ে উঠেছে।
Download