Pages

আমার ছেলেবেলা - ম্যাক্সিম গোর্কি

amarboi.com

আমার ছেলেবেলা - ম্যাক্সিম গোর্কি
রাশিয়ার নিঝিন নোভেগারদ শহরের এতিম বালক অ্যালেক্সি-ম্যাক্সিমোভিচ পেশকভ ১২ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে বের হয়েছিলেন পৃথিবীর পথে। প্রকৃতির পাঠশালায় শিক্ষিত ম্যাক্সিম হয়েছিলেন তিক্ত। ১৬ বছর বয়সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তারপর দীর্ঘ ৫ বছর হেঁটে জারের রাশিয়া সাম্রাজ্য ভ্রমণ করে পরিপূর্ণ লেখক হয়ে নাম নিলেন ম্যাক্সিম গোর্কি। গোর্কি শব্দের অর্থ তিক্ত। আক্ষরিক অর্থে ম্যাক্সিম গোর্কি তা-ই ছিলেন। তার লেখায় সব সময় ফুটে উঠেছে তিক্ত সত্য। রাশিয়ার জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে তার সঞ্চিত রাগের প্রকাশ দেখি তার লেখায়। ১৮৯৮ সালে গোর্কির প্রথম বই ‘এসেস অ্যান্ড স্টোরিস’ প্রকাশিত হয়। প্রথম বইটি সারা দেশে সাড়া জাগায়। লেখক হিসেবে ম্যাক্সিম গোর্কির জয়যাত্রা শুরু হয়।
১৮৬৮ সালের ১৬ মার্চ নিঝিন নোভেগারদ শহরে ম্যাক্সিম গোর্কির জন্ম। ৯ বছর বয়সেই পিতামাতাকে হারান। ১২ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে পালান দাদিমার খোঁজে। দাদিমা মারা যাওয়ার পর গোর্কি এতই দুঃখ পেয়েছিলেন যে, নিজের জীবননাশ করতে দ্বিধাবোধ করেননি। ঈশ্বরের অসীম অনুগ্রহে নাস্তিক ম্যাক্সিম বেঁচে গেলেন, পৃথিবী পেল তার এক কৃতীসন্তানকে।
রাশিয়ার সমাজের নিম্নতম স্তরের মানুষগুলোর জীবনের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন গোর্কি। রাশিয়ার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বাঁকগুলো নিখুঁতভাবে এঁকেছেন তিনি। জারের শাসনামলে বেশ কয়েকবার কারান্তরীণ হয়েছিলেন। শ্রমিকদের সঙ্গে গোর্কির ছিল ঘনিষ্ঠতম সম্পর্ক। ১৯০২ সাল থেকে গোর্কি ছিলেন লেনিনের ঘনিষ্ঠতমদের একজন। ১৯০০ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত গোর্কির লেখায় আশাবাদের ব্যঞ্জনা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। ১৯০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান গোর্কি। সেখানে তিনি রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস ‘মা’। ১৯০৬ থেকে ১৯১৩ সাল পর্যন্ত গোর্কি ছিলেন ক্যাপ্রিতে। ১৯১৩ সালে সাধারণ ক্ষমার আওতায় তিনি রাশিয়ায় ফিরে আসেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গোর্কির গৃহ বলশেভিকদের অফিসঘর হয়ে উঠেছিল। রুশ বিপ্লবের পর গোর্কি ছিলেন ইতালিতে। ১৯৩২ সালে স্টালিনের আহ্বানে গোর্কি রাশিয়ায় ফিরে আসেন। তাকে অর্ডার অব লেনিন উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৩৬ সালের ১৮ জুন সাধারণ মানুষের অসাধারণ লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি পরলোকগমন করেন।
Download