Pages

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
(১৯২৭ - ২০১৪)

১৯২৭ : কলম্বিয়ার উত্তরাঞ্চলের ছোট শহর আরাকাতাকায় গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর জন্ম (৬ মার্চ)। পরের বছর, মানে ১৯২৮-এ, আরাকাতাকা-র ধর্মঘটী কলা-শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় ‘ইউনাইটেড ফুট কোম্পানি’। মারা যান অসংখ্য শ্রমিক। এই ঘটনা মার্কেসের অভিজ্ঞতায় অনপনেয় ছাপ ফেলেছিল। ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিটিউড’-এ এই নির্মম গণহত্যার উল্লেখ রয়েছে। নোবেলজয়ী জার্মান কথাসাহিত্যিক গুন্টার গ্রাস-এর জন্ম।
ফ্রানজ কাফকা-র আমেরিকা ও ভার্জিনিয়া উলফ-এর টু দ্য লাইটহাউজ প্রকাশিত হয়।
১৯৩৬ : মার্কেসের মাতামহ কর্নেল নিকোলাস রিকার্দো মার্কেস মেহিয়া মারা যান। এঁর সান্নিধ্যেই মার্কেসের ছোটবেলার প্রথম ৮-৯ বছর কেটেছিল। বাবা-মা'র সঙ্গে আরাকাতাকা ছেড়ে চলে আসেন গাবো। মাগারেট মিশেল-এর উপন্যাস ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ প্রকাশিত হয়।
জীবনানন্দ দাশের ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি'-র প্রকাশ।
১৯৪১ - ১৯৪৭ : বোগোতা-র ‘ইউনিভোর্সিদাদ নাসিওনাল’-এ আইন অধ্যয়নের শুরু। কাফকা-র মেটামরফসিস পড়ে আলোড়িত হন তীব্রভাবে। লেখেন প্রথম ছোটগল্প থার্ড রেজিগনেশন, যা ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই বছরই আইন পড়া ছেড়ে দেন। হবু স্ত্রী মের্সেদেস বার্চা পেদ্রো-র সঙ্গে প্রথম আলাপ৷
১৯৪৮-১৯৫২ : এল ইউনিভেরসাল-এ সাংবাদিক হিসাবে কর্মজীবন শুরু। ওই বছরই বামপন্থী পপুলিস্ট নেতা গাইতান খুন হন। কমিউনিস্ট পার্টির একটি শাখার সঙ্গে কিছু দিনের জন্য যুক্ত হলেন মার্কেস।
১৯৫৫ : মার্কেস এল এসপেক্তাদোর খবরের কাগজে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিলেন। কলম্বিয়ার নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার ‘কালদাস’ সামুদ্রিক ঝড় তুফানের কবলে পড়ে ডুবে যায়। সব নাবিক মারা যান। ব্যতিক্রম লুইস ভেলাস্কো। মার্কেস তার সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকার (চোদ্দো পর্বে) প্রকাশিত হলে ঘটনাটি ঘিরে সরকারি কাজকর্মের নানা অসংগতি ধরা পরে। সরকারি রোষে ‘এল এসপেক্তাদোর'-এর প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়। ওই নাবিকেরও চাকরি যায়। সরকারি রোষ এড়াতে ইউরোপ পাড়ি। প্রকাশিত হয় মার্কেসের প্রথম উপন্যাস ‘লিফ স্টর্ম’।
১৯৫৭ . প্লিনিয়ো আপুলেইয়ো মেন্‌দোসার সঙ্গে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাস-এর ‘মেমেন্তো’ পত্রিকায় যোগদান।
১৯৫৮ : বিয়ে করেন মের্সেদেস-কে৷ স্ত্রীকে মা-র হেফাজতে রেখে কারাকাস-যাত্রা। ‘দ্য আটাম অফ দ্য প্যাট্রিয়ার্ক উপন্যাসটি নিয়ে ভাবনাচিন্তার সূত্রপাত।
১৯৬০ঃ ফিদেল কান্ত্রের সঙ্গে আলাপ ও বন্ধুত্ব। বিনয় মজুমদারের ‘ফিরে এসো চাকা’ প্রকাশিত হয়।
১৯৬১ঃ নো ওয়ান রাইটস লেটার টু কর্নেল, প্রকাশিত হয়। একই বছরে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত হয় মিশেল ফুকোর ম্যাডনেস অ্যান্ড সিভিলাইজেশন"। পশ্চিমবঙ্গে হাংরি জেনারেশন আন্দোলনের সূচনা। শক্তি চট্টোপাধ্যায়-এর ‘হে প্রেম, হে নৈঃশব্দ্য’ এবং জীবনানন্দ দাশের ‘বেলা অবেলা কালবেলা'-র প্রকাশ।
১৯৬২ঃ মার্কেসের উপন্যাস ইন ইভিল আওয়ার ও ছোটগল্প বিগ মামাজ ফিউনারেল প্রকাশিত হল। ‘ইন ইভিল আওয়ার' উপন্যাসটি কলম্বিয়ান ‘এসো' পুরস্কার পায়।
১৯৬৭ : প্রকাশিত হল মহাগ্রন্থ ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অফ সলিটিউড’। একই বছরে মিলান কুন্দেরা-র ‘দ্য জোক’ ও জাক দেরিদা-র ‘অফ গ্রামাটোলজি’-ও প্রকাশিত হয়েছিল। চার্লি চাপলিনের শেষ সিনেমা ‘আ কাউন্টেস ফ্রম হংকং’ আমেরিকায় মুক্তি পায়। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র নিউইয়র্কে ভিয়েতনাম যুদ্ধের নিন্দ করেন প্রকাশ্যে। চিলে-র কবি পাবলো নেরুদা প্রথম ভিয়ারেপ্পিও ভারসেইল পুরস্কার পান। বুদ্ধদেব বসু সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’-র জন্য। গুয়াতেমালা-র কথাসাহিত্যিক মিগুয়েল আনহেল আস্তুরিয়াস নোবেল পুরস্কার পান।
১৯৬৮ : চেকস্লোভাকিয়ায় রুশ আধিপত্যের প্রতিবাদ। যদিও মার্কেসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফিদেল কাস্ত্রো এই রুশ হস্তক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন।
১৯৭০: মার্কেসের প্রথম নন-ফিকশন ‘দ্য স্টোরি অফ আ শিপরেকড সেলর’ প্রকাশিত হল।
শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘চতুর্দশপদী কবিতা’র প্রকাশ।
১৯৭২ : মার্কেসের ছোটগল্প ‘দ্য ইনক্রেডিবল অ্যান্ড স্যাড টেল অফ ইনোসেন্ট এরেন্দিরা অ্যান্ড হার হার্টলেস গ্র্যান্ডমাদার’-প্রকাশ পায়।
১৯৭৫ : দ্য অটাম অফ দ্য পাট্রিয়ার্ক -এর প্রকাশ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জননায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পরিবারসহ নিঃশংস ভাবে নিহত হন।
১৯৮০ : এল এসপেক্তাদোর পুনঃপ্রকাশিত হল। মার্কেস প্রতি রবিবার ‘গাবোর কলাম’ নামে একটি সম্পাদকীয় স্তম্ভ লিখতে শুরু করেন।
১৯৮১ : ‘ক্রনিকল অফ আ ডেথ ফোরটোল্ড' প্রকাশিত হয়। মার্কেস-কে লেজিয়ঁ দনার পুরস্কার দিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রপতি বলেন ‘ইউ বিলং টু দ্য ওয়ার্ল্ড আই লাভ’। মার্কিন লেখক, ইতিহাসবিদ, দার্শনিক উইল ডুরান্ট-এর মৃত্যুদিন। সালমান রুশদি-র ‘মিডনাইটস চিলড্ৰেন' প্রকাশিত হয়।
১৯৮২ঃ সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন গাবো। বিখ্যাত মার্কেস-অনুবাদক গ্রেগরি রাবাসা-ও সেবছর অনুবাদের জন্য বিশেষ সম্মানে পুরস্কৃত হন। জীবনানন্দ দাশের ঝরাপালক এবং শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের যেতে পারি কিন্তু কেন যাব-র প্রকাশ।
১৯৮৬ঃ চিলে-র চিত্র পরিচালক মিগুয়েল লিতিন দীর্ঘ নিবাসনের পর মিথ্যে পাসপোর্ট সম্বল করে নাম-পরিচয় ভাঁড়িয়ে দেশে ফেরেন। উদ্দেশ্য চিলে-র স্বৈরশাসন ও সাধারণ মানুষের দুর্দশা নিয়ে সিনেমা করবেন। লিতিন তার বিপজ্জনক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা মার্কেসকে বলেছিলেন। তার ভিত্তিতে লেখা হয় ননফিকশন ‘ক্যানডেস্টাইন ইন চিলি’।
১৯৮৫ঃ ‘লাভ ইন দ্য টাইম অফ কলেরা’র প্রকাশ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘সেই সময়' উপন্যাসের জন্য ‘সাহিত্য আকাদেমি’ পুরস্কার পান। বেকেট-এর মৃত্যু।
১৯৮৯ঃ ‘দ্য জেনারেল ইন হিজ ল্যাবেরিন্থ"-এর প্রকাশ। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ‘হিরোশিমা, মই লাভ’ বেরল।
১৯৯৩ : মার্কেসের বিশিষ্ট ছোটগল্প সংকলন স্ট্রেঞ্জ পিলগ্রিমস বেরয়।
১৯১৪ঃ অফ লাভ অ্যান্ড আনার ডেমনস-এর প্রকাশ।
১৯৯৫ঃ মার্কিন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিন্টন-এর নৈশভোজে আমন্ত্রিত হন গাবো।
১৯৯৬ : নন-ফিকশন নিউজ অফ আ কিডন্যাপিং বেরয়। সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতার দিনরাত্রি-র প্রকাশ।
১৯৯৯ - ক্যান্সারে আক্রান্ত হন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস।
২০০২ : আত্মজীবনী ‘লিভিং টু টেল দ্য টেল'-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। সাহিত্য আকাদেমি পায় সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ‘আমি ও বনবিহারী'।
২০০৪ : মার্কেসের শেষ উপন্যাস প্রকাশ। ইরানে ৫০০০ কপি বিক্রি হওয়ার পর উপন্যাসটি ব্যান করা হয়।
২০০৯: জনৈক মার্কেস-জীবনীকার জানান যে গাবো আর লিখবেন না। তারপরই কলম্বিয়ার সংবাদ মাধ্যমে মার্কেস জানান, নট অনলি ইজ ইট নট ট্রু, বাট দ্য ওনলি থিং আইডু ইজরাইট। মিডিয়ায় এটাই তার দেওয়া শেষ বিবৃতি।
২০১৪ঃ লাং এবং ইউরিনারি ট্র্যাকে সংক্রমণের জন্য মেক্সিকোর হাসপাতালে ভর্তি হন। ১৭ এপ্রিল ৮৭ বছর বয়সে জীবনাবসান।