Pages

নীল ময়ূরের যৌবন - সেলিনা হোসেন

amarboi
নীল ময়ূরের যৌবন
সেলিনা হোসেন
মেঘবরন চুল শবরীর, তেমন তার গােছা। দুপুরের পর থেকে শুরু করেছে, কাঁকইয়ে ধরে না। সে চুলের গােছা সামলাতে সময়টা শেষবিকেল হয়ে যায়। হাঁটু মুড়ে বসে থাকার জন্য পায়ের পাতায় ঝিঝি ধরেছে। খোঁপায় ময়ূর পালক গুঁজে দিয়ে ও উঠে দাঁড়ায়। প্রথমে বাম পা এবং পরে ডান পা বেশ করে ঝাঁকিয়ে নেয়, তবু ঝিম ভাবটা সহজে কাটতে চায় না। এর মাঝে মনে খুশি, পছন্দমতাে সাজতে পারলেই শবরী নিজেকে সবচেয়ে সুখী মনে করে। পুবদিকের বেড়া থেকে গুঞ্জার মালা নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে দেয়। হাতে কেয়ূর। কটিদেশে মেখলা, পায়ে মল শবরীর বিশেষ সখ। ঘুরেফিরে নিজেকে দেখে। সারাদিন চন্দন লেপে রাখার দরুন মুখটা এখন আশ্চর্য পেলব, গালে হাত ঘষে নিজেই অবাক হয় ও। চন্দনের মৃদু সুরভি শরীর থেকে উঠে আসে। ওর মনে হয়। সৌন্দর্যচর্চা প্রার্থনার মতো, গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে না থাকলে প্রার্থনা ছুটে যায়। ছুটে গেলে ঈশ্বরকে যেমন একমনে ডাকা যায় না, তেমন সৌন্দর্যচর্চাতেও খুঁত থাকে। তখন অস্বস্তি হয় ওর। নিজেকে আর কিছুতেই সৌন্দর্যের স্রষ্টার ভূমিকায় রাখতে পারে না। কাহ্নুপাদও শবরীর সেই ত্রুটি সইতে পারে না। তাই সৌন্দর্যচর্চায় শবরীর বিরামহীন প্রচেষ্টায় ও যখন শিল্পী হয়, তখন কাহ্নুপাদ ওর সামনে নতজানু হয়। গদগদ স্বরে প্রার্থনার ভাষায় ভালােবাসার কথা বলে। বলে, “তুমি এক পবিত্র মন্দির শবরী। সারাক্ষণ সেখান থেকে আরতির ঘণ্টা শুনতে পাই। এ এক চমৎকার প্রার্থনার ভাষা। এর বাইরে আমি আর কোনােকিছু বুঝতে চাই না। বুঝি না ঈশ্বর, বুঝি না বেদ।