Pages

কালের সাক্ষী - ড. এ এইচ দানী

amarboi
কালের সাক্ষী
ড. এ এইচ দানী
প্রফেসর এমিরিটাস
আবু জাফর অনুদিত

আমার কয়েকজন বন্ধু আমাকে ঢাকার ওপর একটি গ্রন্থ লিখতে বলেন। উদ্দেশ্য, ওই গ্রন্থ থেকে ঢাকা শহরের ইতিহাস ও অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং বিদেশ থেকে যারা প্রতিদিন ঢাকা শহরে আসছেন তাঁদের জন্য গাইড-বুক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া। বাংলা, ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় ঢাকার ওপর বেশ কিছু বই আছে। তদুপরি এস এম তাইফুরের ‘ গ্লিম্পসেস অব ওল্ড ঢাকা’ গ্রন্থখানি প্রকাশিত হওয়ার পর এ কাজে আমি কিছুটা ইতস্তত করি। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঢাকায় তৃতীয় ‘পাকিস্তান ইতিহাস সম্মেলন অনুষ্ঠানের আগে ডেলিগেটদের কাছে ঢাকার অতীত ইতিহাস সম্পর্কে ছােট আকারে একটা বই তুলে দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান ড. এ হালিম আমাকে ওই বিষয়ে লেখার অনুরােধ করেন। তার অনুরােধে আমি সম্মত হই এবং ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দেই লেখার কাজ শেষ করি। কিন্তু নানা কারণে তা ছাপার জন্য প্রেসে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় আবার পাকিস্তান হিস্ট্রি কনফারেন্স অনুষ্ঠানের আয়ােজন করা হয়। এই সুযােগে আমি পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশের ব্যবস্থা করি। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে লেখা পাণ্ডুলিপির বিশেষ কোনাে পরিবর্তন করা হয়নি - শহরের বিশেষ কয়েকটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ অবশ্য সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে আমার লেখার দৃষ্টিকোণ ছিল একজন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ববিদের দৃষ্টিভঙ্গী। রাজনৈতিক ইতিহাস বর্ণনার প্রয়াস থেকে আমি যতদূর সম্ভব বিরত থেকেছি ; কারণ এ বিষয়ে স্যার যদুনাথ সরকারের সম্পাদনায় ‘হিস্ট্রি অব বেঙ্গল (খণ্ড-২) গ্রন্থে তা লিখিত হয়েছে। আমার বিষয় সীমাবদ্ধ রাখি ঢাকা শহরের ভাগ্য পরিবর্তনের ঘটনার বিবরণের মধ্যে এবং এজন্য আমি এ শহরের সাথে সব সাংস্কৃতিক যােগাযােগের বিবরণ সংগ্রহের চেষ্টা করি। সাম্প্রতিককালের বিবরণ আমি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করি। প্রাচীন লেখকদের লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে কাহিনীর বর্ণনা করার ফলে উদ্ধৃতির সংখ্যা বেশি হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভগুলাের বর্ণনা আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এসব প্রাথমিক বর্ণনার বেশ কয়েকটি অংশ আমি আমার শিক্ষক স্যার আর. ই. এম হুইলার (Sir R, E, M Wheeler)-কে দেই; তিনি এসব তথ্য তার Five Thousand Years of Pakistan গ্রন্থে ব্যবহার করেন। তারপর থেকে আমি ঢাকার ঐতিহাসিক বিল্ডিংগুলাের ওপর পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা ও অধ্যায়ন করি; সব নতুন তথ্য এই গ্রন্থে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

লেখক পরিচিতি
ড. আহমদ হাসান দানী, প্রফেসর এমিরিটাস। উপমহাদেশের একজন খ্যাতনামা ঐতিহাসিক ও গবেষক। জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২০ জুন, পাকিস্তানে। ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটির (ইসলামাবাদ, পাকিস্তান) তক্ষশিলা (Taxila) ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান সিভিলাইজেশনস-এর অনারারি ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ড. দানী ১৯৫০ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ওই একই সময়কালে তিনি ঢাকা মিউজিয়ামের কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫০ সালে তিনি পাকিস্তান সরকারের তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান। প্রত্নতত্ত্ব সার্কেলের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইনচার্জ ছিলেন। এর আগে ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি ভারত ও পাকিস্তান সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিন্টেন্ডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পেশােয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর, ১৯৭১ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও সােস্যাল সাইন্সেস ফ্যাকাল্টির ডীন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮০ সালেই তিনি কায়েদে আজম ইউনিভার্সিটির (ইসলামাবাদ, পাকিস্তান) প্রফেসর এমিরিটাস নিযুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করার সময় ড. দানী ১৯৫২ সালে ‘ঢাকা ও এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ নামে ইংরেজিতে একখানি গ্রন্থ লেখেন এবং ১৯৫৬ সালে তা প্রকাশিত হয়। তার লিখিত বিবলিওগ্রাফি অব দি মুসলিম ইনসক্রিপশনস অব বেঙ্গল’, ‘মুসলিম আর্কিটেকচার অব বেঙ্গল’ সুধীমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। এছাড়া ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, সভ্যতা বিষয়ক তাঁর একাধিক মূল্যবান গবেষণামূলক গ্রন্থ রয়েছে।
ড. দানী তার গবেষণামূলক কাজের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (ভারত) থেকে তিনি গােল্ড মেডেল, পাকিস্তান সরকার থেকে সিতারা-ই ইমতিয়াজ, ইজাজ-এ কামাল ও হিলাল-ই ইমতিয়াজ খেতাব, এশিয়াটিক সােসাইটি অব বাংলাদেশ থেকে গােল্ড মেডেল, ফরাসী সরকার থেকে Palmes Academiques, ইটালী সরকার থেকে Knight Commander, জার্মান সরকার 62160 Order of the Merit, qu6166267 Aristotle Silver Medal লাভ করেন। তিনি এশিয়াটিক সােসাইটি অব বাংলাদেশ, জার্মান আর্কিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউট, করাচির ওয়েস্টার্ন ও সেন্ট্রাল এশিয়া, রােমের ISMEO ও লন্ডনের এশিয়াটিক সােসাইটির অনারারি ফেলাে। এছাড়া তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ-এ রিসার্চ ফেলাে, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ক্যানবেরা) এশিয়ান ফেলাে, ইউনিভার্সিটি অব পেনসেলভানিয়ার (ফিলাডেলফিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ভিজিটিং স্কলার ও উইসকনসিন ইউনিভার্সিটিতে (মেডিসন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!