Pages

সৃজনশীল ক্রোধ আর নিরুদ্ধার দহনের কবি : বুদ্ধদেব হালদার

amarboi
সৃজনশীল ক্রোধ আর নিরুদ্ধার দহনের কবি : বুদ্ধদেব হালদার
উত্তম দত্ত

শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলতেন, ভিতরে একটা ভাঙচুর না ঘটলে ভালো কবিতা লেখা যায় না। নিছক গৃহপালিত সুখী মানুষ কখনও জ্যান্ত কবিতা লিখতে পারে না। যার ঘর পুড়ে গেছে অকাল-অনলে, যার মন ভেসে গেছে প্রলয়ের জলে, যার পাঁজরের ভেতরটা তছনছ হয়ে গেছে বেহিসেবি বজ্রপাতে, কেবল তার কাছ থেকেই আমরা পেতে পারি সর্বার্থে জীবন্ত ও নতুন কবিতা। কবি বুদ্ধদেব হালদারের আনকোরা নতুন কবিতা সংকলন 'পর্নোগ্রাফি' পড়তে পড়তে এইসব এলোমেলো ভাবনা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঢুকে পড়ে মাথার ভিতরে।
সৃজনশীল ক্রোধ আর নিরুদ্ধার দহনের অন্য নাম কবি বুদ্ধদেব হালদার। ঋষি বিশ্বামিত্রের দম্ভের পৃথিবী শাশ্বত হয়নি। দুদিনেই বেঁকেচুরে কুঁকড়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কবি বুদ্ধদেব হালদারের বিধ্বংসী ক্রোধের আড়ালে রয়েছে এক মুঠো ভালোবাসার জন্য নিঃশব্দ কাঙালপনা। আর শুধু এই জন্যই এত বিস্ফোরক-ভরা এই ভয়ানক সুন্দর কাব্যগ্রন্থটি পাঠকের হৃদয় লুণ্ঠন করে নেবে।
বইটির নাম : পর্নোগ্রাফি
কবির নাম : বুদ্ধদেব হালদার
প্রকাশক : হাওয়াকল
কবিতার সংখ্যা : ৪৬
আজ সারাদিন এই বইটির সঙ্গে ছিলাম। একটানা ৪৬ টি কবিতা পাঠ করে বিহ্বল মুগ্ধতা নিয়ে বসেছিলাম অনেকক্ষণ। কী দুর্দান্ত সব লেখা। দাপটে লেখা গদ্যরীতির কবিতার প্রতি আমার ব্যক্তিগত আকর্ষণ তো রয়েইছে। তদুপরি কবির নাম বুদ্ধদেব হালদার। ছেলেটিকে দেখিনি কখনও। তবু অন্ধকারে বুকের ভিতরে হাত দিয়ে দেখি, সে বসে আছে একবিংশ শতাব্দীর নৈরঞ্জনা নদীতীরে, এক প্রাণময়ী গোপবালিকা সুজাতার ঐকান্তিক প্রণাম ও পায়সান্নের প্রতীক্ষায়। যা পেলে তার সমস্ত অসুখ ও দহন প্রশমিত হয়ে যাবে এক মুহূর্তে।
বাইরে থেকে ওপর ওপর পাঠ করে এই কবিকে ব্রাত্য করে দেওয়া মূর্খামি। শুধু বইটির নাম শুনেই যাঁরা আকৃষ্ট হবেন তাঁরাও কিছুটা বিভ্রান্ত ও হতাশ হবেন। এ বই আদপেই তথাকথিত পর্নোগ্রাফি নয়। পিশাচ ও রূপসী ডাইনিদের বিকৃত ৬৪ কলার গেঁজিয়ে ওঠা মদের বাকশস্য নয়। বুদ্ধদেব হালদার একটা আগ্নেয়গিরি। আর এই বইয়ের ৪৬ টি কবিতা সেই আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভাস্রোত। কবিতায় তার কথা বলার ধরন দেখে মনে পড়ে : অরুণেশ ঘোষ, শৈলেশ্বর ঘোষ, ফাল্গুনী রায়, শামসের আনোয়ার, ভাস্কর চক্রবর্তী, তুষার রায়ের কথা। কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের সবার চাইতে স্বতন্ত্র।
যাঁরা সমিল ছন্দে আতুপুতু কবিতা লেখেন, চাঁদ ফুল পাখি নিয়ে আঠালো আহ্লাদ করেন, কিংবা ইঙ্গিতে ইশারায় আর দুর্বোধ্যতার ঢালের আড়ালে বসে কবিতা লিখতে ভালোবাসেন, বুদ্ধদেব তাঁদের দলভুক্ত নয়। তার গোত্র আলাদা, স্কুলিং আলাদা, জীবনকে দেখার চোখদুটিও সম্পূর্ণ পৃথক। কবির পোশাকে সে যেন এক জলদস্যু। কবিতা মাত্রই বাগদেবীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত শ্লোক, এমন আপ্তবাক্যে সে বিশ্বাস করে না। ভালোবাসার উপাস্য দেবীকে নির্মমভাবে খুন করে তার পায়ের কাছে বসে সে হাহাকার করে। সেই হাহাকারই বুদ্ধদেবের কবিতা। আপনি সহ্য করতে পারুন আর নাই পারুন, বুদ্ধদেব এরকম কবিতাই লিখেছে এবং লিখবে, আপনার জন্য, আমার জন্য, আমাদের জন্য। অপার্থ ও ব্রাত্য শব্দের প্রয়োগ বিষয়ে তার কোনো নিষ্ঠাবতী বিধবা-সুলভ শুচিবায়ুতা নেই।
মার্কিন বিট কবি এলেন গিন্সবর্গ একবার মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের কবিতা পাঠ করছিলেন। একজন শ্রোতা উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন : এসব কবিতার অর্থ কী? কী বলতে চান আপনি?
উত্তরে গিন্সবর্গ কবিতা পাঠ থামিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে নিজের সমস্ত পোশাক মঞ্চের উপরেই খুলে ফেললেন। তারপর স্মিত হেসে বললেন : এই আমার কবিতার অর্থ। এই নগ্ন সত্য। এই অনাবৃত শরীর ও আত্মা। যা আমি আড়াল করতে চাইনি।
বুদ্ধদেবের কবিতা পড়েও আমার বারে বারেই মনে হয়েছে : সেও নিজের পাঁজর খুলে দেখাতে চেয়েছে অন্তরের অগ্নিস্রোত ও রক্তাক্ত দেউল। গিন্সবর্গের মতো। বদলেয়রের মতো। জাঁ জেনের মতো। গ্যালিলিও বলেছিলেন : Earth and all other planets revolve around the Sun.
আর বুদ্ধদেব তার তেতো অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছে : 'গ্যালিলিও ভুল ছিলেন, ...আসলে এই পৃথিবী খানকিদের চারিদিকে ঘোরে।' ( নিভাকে লেখা চিঠি ১৯)
একেই হয়ত বলা যেতে পারে পরিবর্তিত পরিস্থিতির দুর্দিনে পুরাতন সত্যের প্রতিস্থাপন।
বুদ্ধদেব তার পুড়ে যাওয়া দুই চোখ দিয়ে দেখেছে আজকের মানুষের জীবনবোধের মধ্যে কোনো সুপরিমিত ছন্দ নেই, জীবনাদর্শের মর্মে কোনো সুমিত অন্ত্যমিল নেই। আদর্শহীনতার পঙ্ক থেকে মানুষের নোংরা হাত স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে যে কোনো মূল্যে খ্যাতি ও ক্ষমতার উঁচু মিনারে উঠতে চাইছে রাতারাতি। এই অবক্ষয়ের স্বাক্ষর কতটুকু ফুটে উঠছে আমাদের কবিতায়? এই অপ্রিয় জিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব তার রোগা হাতে একটা ৮২ কেজির থাপ্পড় কষিয়েছে আমাদের চোয়ালে :


'বেঁচে থাকাটাই অর্থবহ' বলছেন অয়ন সাইদ, আমার বন্ধু।
আর মাথার অসুখ বেড়ে গেছে আমার গত তিন বছরে
কয়েকগুণ, আমি রবীন্দ্রনাথকে টুকে একটু আধটু কবিতা
লেখার চেষ্টা করি আজকাল। এবং আমাদের সংসারটাকে
শেষ অবধি প্রাণপণে আগলে রাখতে চেয়েছিলেন আমার মা।
তবুও ভেঙে গেছে সব। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়েছিল সমস্ত
সুখ। জাক দেরিদার অবিনির্মান তত্ত্বে দেখানো হয়েছে কীভাবে
রিষড়ার নিভা চৌধুরীর শোকে ৭০০০ টুকরো হয়েও আমি
বেঁচেবর্তে ছিলাম এই পৃথিবীতে। এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন
কবিসম্মেলনে গিয়ে বরাবর আমি এটাই বলতে চেয়েছি, যাঁরা
শুভ্র কোমল শব্দ দিয়ে অন্ত্যমিলে কবিতা লেখেন
তাঁদের প্রত্যেকের গায়ে
মুতে দিতে ইচ্ছে করে আমার

( অন্ত্যমিলের কবিতা)

'আমার অতি শ্রদ্ধেয় কবিদের প্রতি' একটি ভয়ংকর বিস্ফোরক শ্লেষাত্মক কবিতা :

"ঘাড় গুঁজিয়া শুধু কবিতা লিখিলেই
চলিবে না। টুনটুনি নাড়িয়া সভা-সমিতিতে
যোগ দিতে হইবেক। কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক?
নামতা ঠিকমতো বুঝিয়া লইতে হইবে। কবিসম্মেলনে
গিয়া উদ্যোক্তার অ্যাঁড় চাটিতে হইবে। এবং ধান্দাবাজি
করিয়া ৩/৪ টা পুরষ্কার বাগাইতে হইবে। এমনকী,
সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়া মুখ্যমন্ত্রীর পদ্য পাঠ করিয়া
সকলকে তাক লাগাইয়া দিতে হইবে। আঙুলের নখাগ্র
আরও তীক্ষ্ণ করিতে হইবে। গোপনে বন্ধুর পিঠে চাকু
বসাইতে হইবে।"

এইখানেই বুদ্ধদেব তার জাত গোত্র আর কলমের কৌলীন্য বুঝিয়ে দিয়েছে আমাদের। চাটুকারদের সভায় সে কোমরের নীচে গোপনে খুকরি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাকে পুরস্কারের টোপ দিয়ে বঁড়শিতে গাঁথা যাবে না। যদি না সে ভবিষ্যতে কোনো অশুভ মুহূর্তে নিজের অকুতোভয় সত্তার সঙ্গে আপস করে বাংলা কবিতার গণিকালয়ে নাম লেখায়।

একটি কবিতায় সে এঁকে রেখেছে তার মৃত্যুদৃশ্য :

"এরকমই মেঘলা এক দিনে মৃত্যু হবে আমার। সারাদিন ধরে তুমুল
বৃষ্টি হবে সেদিন। তোমার ডানচোখটা সকাল থেকেই কাঁপতে থাকবে
ভীষণ। আর সারাক্ষণ অমনোযোগী হয়ে জানলার কাছে বসে থাকবে
তুমি। কোনো কাজেই মন বসবে না তোমার, আকাশ এতটাই মেঘলা
থাকবে যে ..। তোমার স্বামী হয়তো LIC প্রিমিয়ামের সমস্ত হিসেব
গুলিয়ে ফেলবেন সেদিন। আর তোমার শান্ত ছেলেটি হঠাৎ করেই
হারিয়ে ফেলবে তার প্রিয় রিষ্ট ওয়াচ। আমি খুব কমদামী একজন
মানুষ। কাজেই আমার মৃত্যুর খবর তুমি পর্যন্ত পৌঁছবে না কখনও,
যদিও আমাদের এই কোন্নগর থেকে রিষড়ার দূরত্ব সামান্যই। এবং
যেহেতু খুব প্রচারিত কোনো কবি নই আমি, কিংবা বলা ভালো
সরকারি পুরস্কারপ্রাপ্ত বুদ্ধিজীবী নই, তাই আমার মৃত্যুসংবাদ লেখা
হবে না পশ্চিমবাংলার কোনো খবরের কাগজেই। আমার মৃত্যুতে বন্ধুরা
কেউ কেউ বিষণ্ণ হয়ে উঠবে। কেউ কেউ হয়তো স্বস্তিও পেতে পারে।"

(এরকমই মেঘলা এক দিনে)

বুদ্ধদেবের প্রেমের কবিতাগুলিও ভয়াবহ রকমের ভালো লাগল। নিভা তার নিয়তি। তার নিষ্ঠুরতম নেমেসিস। এই আধুনিকতম ভ্যাম্পায়ার কবির রক্তপান করে তাকে তাচ্ছিল্যের ফুটপাথে বেওয়ারিশ বালকের মতো ফেলে গেছে। নিভা যেন শেক্সপিয়রের সনেটের সেই ডার্ক লেডি, যাকে ভোলাও যায় না, সম্পূর্ণ নিজের করে পাওয়াও অসম্ভব। বুদ্ধদেব লিখেছে তার ডার্কলেডির কথা :

"ক্রমে নিবিড় হইতেছি আরও। বস্তুত তোমার মত খানকির
কথা মনে পড়ে, আর অত্যদ্ভুত সুন্দর ছিল এই পৃথিবী একদিন
আমার কিছুই ভাল্লাগে না আজকাল। রাস্তার টাইম কলে নলের
ভেতর ঢুকে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করে শুধু। এবং ইচ্ছে করে
আশ্চর্য পানিফল হয়ে উঠতে। তোমার বর কেমন আছে? তোমার
ছেলে? জানো, এবারে কিছু একটা করা দরকার। মানে, চাকরি-
বাকরি। এবং, বিয়ে। এসব দারুণ মজার মজার কথা আমি ভেবেছি
কাল সারারাত। এবং এক উচ্চণ্ড সুখের কথা ভেবে ব্যবহার করেছি
দু'ধরণের সাইকোডেলিক ড্রাগস। ওহ, তোমাকে অনেক কথা বলা
হয়নি প্রিয়। আমাকে সুদূর বাংলাদেশ থেকে প্রেমপ্রস্তাব পাঠিয়েছেন
ফাহিমা সিকদার। ডায়মন্ড হারবারের পর্ণা বলেছে, 'তোমাকে চাই।'
পাতিপুকুরের হারামি মেয়েটা বলেছে, 'গর্ভে নেব তোমায়।' এমনকী
আরও কেউ কেউ বিনাশর্তে শুতে চেয়েছে বিছানায়। এবং তাদের
প্রত্যেককেই জানিয়েছি, আমি নিভা চৌধুরীকে ভালোবাসি।"

(আমি নিভা চৌধুরীকে ভালোবাসি)



ব্যক্তিগতভাবে এই কবিতাটি আমার মনে গেঁথে থাকবে বহুদিন। যুগপৎ এমন তীব্র love hate relation -এর বাকপ্রতিমা যথেষ্ট বিরল। প্রেমিকার প্রতি এই সুতীব্র বিরাগ ও সংরাগ একটি কবিতায় খুব বিস্ময়করভাবে মাতৃমোহনায় এসে মিলিত হয়েছে। সেই কবিতাটিও আমাকে সীমাহীন স্তব্ধতার দেশে পৌঁছে দেয় :

"আমার মাথা গলে যাচ্ছে এই রাতের বেলায়, বিছানা বালিশ
ভিজে গিয়ে চ্যাটচ্যাট করছে অন্ধকার। ভাবছি, শরীরটা কি
স্যুইসাইড করবে এবার ? নাকি চাকরিহীন হয়ে লিখে ফেলবে
দুএকটা সনেট ? বরং নিভাকে ডাকো। ওর সাথে কথা হয়নি
বহুকাল। আমার জীবন থেকে এভাবে ওর চলে যাওয়াকে
কিছুতেই সমর্থন করি না আমি, এমনকী আমাকে আজকাল
পছন্দ করছে পাতিপুকুরের যে মেয়েটা, তাকেও বলতে চাইছি
নিবিড়ভাবে ভুলে যেও এইসব। আমার আঙুল ছেড়ে জাপটে ধরো
অন্য কারো হৃদয়। তাকে বলো, প্রেমশিল্পে মেয়েরাই পৃথিবীতে
সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়িয়াছে যুগের পর যুগ। আর মিশ্রকলাবৃত্তে লটকে
দিয়েছে অবিভাজ্য শোক। এভাবেই বয়েস বাড়ে শব্দের, প্রতিটা
যোনিতে আরশোলা শুয়ে থাকে সারারাত। তীব্র ঘূর্ণিতে ডুবে যায়
আস্ত জীবন। আরও কিছুটা কুঁকড়ে আমি বিছানায় ঋত হই, আর
প্রেমিকার নামে খিস্তি করতে গিয়ে দেখি অন্ধকারে জ্বলে উঠেছে
মায়ের মুখ"

(প্রথম প্রেমিকাকে)

বুদ্ধদেবের এই বই পর্নোগ্রাফির সংজ্ঞা আমূল বদলে দিয়েছে।

(প্রফেসর উত্তম দত্ত বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ঠ প্রাবন্ধিক ও কবি হিসেবে পরিচিত। লেখক উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচবিহার ক্যাম্পাস, ইউনিভার্সিটি বি টি এন্ড ইভনিং কলেজের বাংলাভাষা ও সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক)
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!