সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label অভিধান. Show all posts
Showing posts with label অভিধান. Show all posts

অপরাধ-জগতের ভাষা ও শব্দকোষ - ভক্তি প্রসাদ মল্লিক

অপরাধ-জগতের ভাষা ও শব্দকোষ - ভক্তি প্রসাদ মল্লিক


অপরাধ-জগতের ভাষা ও শব্দকোষ
ভক্তি প্রসাদ মল্লিক

অপরাধ-জগতের ভাষা জানতে হলে অপরাধ-জগৎ, তার অধিবাসী এবং তাদের আচারব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা চাই । ভাষা মানব সভ্যতার মানচিত্র । বক্তার ভাষা তার পরিবেশ, মানসিক গঠন, শিক্ষাদীক্ষা সম্পর্কে অবহিত করে । ভাষাবিজ্ঞানের অনুবীক্ষণে ভাষাগোষ্ঠীর সামাজিক সাংস্কৃতিক রূপ ধরা যায় অথবা এই রূপটির সঙ্গে পরিচিতির জন্য ভাষা অন্যতম অবলম্বন বলে বিবেচিত হতে পারে ।
সমাজজীবনের একটি অঙ্গ তমসাচ্ছন্ন থাকলে অর্থাৎ অপরাধ এবং অপরাধ-প্রবণতায় ঢাকা পড়লে সেদিকে না তাকালে দায়িত্ব আমাদের ফুরিয়ে যায় না । বাস্তব সত্যকে সাহসের সঙ্গে স্বীকার করতে হবে । জানতে হবে-মানুষ কেন অপরাধ করে? তার অপরাধের জন্য দায়ী কে ? যে সমাজব্যবস্থা মানুষের অপরাধ-প্রবণতাকে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগিয়ে তোলে সেই সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে অপরাধ-প্রবণতার কী লয় হবে ? এমনি কত শত প্রশ্ন রয়েছে । প্রগতিশীল সমাজবিজ্ঞানীরা এ সকল প্রশ্নের উত্তর দেবেন নিশ্চয়ই ।
আশা করবো সুস্থ মানবসমাজ একদিন জন্ম নেবে । ‘অপরাধ-জগৎ’ নামের কোনো ক্যানসার গ্র্যাণ্ড আগামী দিনের সমাজ সযত্নে লালন করবে না । অপরাধ-জগৎ এবং অপসংস্কৃতি আগামী দিন অতীতের ইতিহাস হতে বাধ্য হবে । সমাজ বিবর্তনের ইতিহাস মেনে নিলে তাইতো হওয়া উচিত । তবে একথা সত্য যে পরিবর্তন রাতারাতি আসবে না । একটি জীবন্ত সমাজে দীর্ঘকাল ধরে চলবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন চলছে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রগতিশীল দেশ অধুনালুপ্ত সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে । সে-দেশে এখনো অপরাধ রয়েছে, এখনো তা মুছে যায়নি । মাত্র (সত্তর)* বছরে হাজার হাজার বছরের সঞ্চিত পাপ লোপ পাবার নয় । সেখানেও ভুলত্রুটি হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সংশোধনের ব্যবস্থাও হচ্ছে এবং হবে ।
অপরাধ-জগতের ভাষার মাধ্যমে অপরাধী, অপরাধ-জগৎ এবং তার বাইরে যে বৃহত্তর সমাজ রয়েছে, যে-সমাজ এই অকল্যাণকর জগতের স্রষ্টা তাকেও জানার সুবিধা হবে । পাতালপুরীর রহস্য ভেদের একটি উপায় সন্ধা ভাষার সঙ্গে পরিচিতি । সুতরাং সন্ধ্যা ভাষাচর্চা দুটি জগৎকে চিনিয়ে দেবে : (ক) অপরাধ-জগৎ এবং (খ) তথাকথিত সাধু সমাজ অর্থাৎ যে সমাজব্যবস্থা এই বিকলাঙ্গ মানসিকতার জন্মদাতা।
একদা বন্য মানুষ ভাব প্রকাশের জন্য পেলো ভাষা, শিখলো দুটি হাতের ব্যবহার । শিখলো অগ্নিকে করতলগত করতে ; বৈদিক ঋষি অগ্নিকে বিশেষিত করেছেন, ‘রত্ন-ধাতম’ (ঋগ্বেদ ১.১.১) বলে । বস্তুজগতের নিয়ন্ত্রণকর্তা অগ্নি । দুটি হাত, ভাষা এবং আগুন-তিনের সমন্বয় মানুষকে পশু জীবন থেকে মুক্তির আহ্বান জানালো ।
ভাষা একটি হাতিয়ার, যার সাহায্যে মনের গোপন কথা মুখর হলো । আর পৃথিবী উদ্বেলিত হলো সভ্যতার আলোকচ্ছটায় ।
আদিম মানুষ পশুপালন ও চাষবাস পদ্ধতি আবিষ্কার করলো । কালক্রমে উৎপাদনের উপায়গুলি (means of production) গোষ্ঠীপতিরা দখল করে নিলো । গোষ্ঠীসম্পত্তি বেমালুম ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে গেলো । স্ত্রীজাতি তার স্বাধীনতা হারালো, হলো পুরুষের ভোগের উপচার । পুরুষ-শাসিত সমাজব্যবস্থা চালু হলো ।
দিনের পর দিন যায় । জন্ম নিলো দাসপ্রথা, গণিকাবৃত্তি, যুদ্ধ, অপহরণ । সমাজ ভাগ হলো দুটি শ্রেণীতে-শোষক আর শোষিত । কালে মাথা চাড়া দিলো সামন্ততান্ত্রিক-ধনতান্ত্রিক সমাজ ও সংস্কাত ।
অবশ্য সব কিছুরই বিকাশ ঘটেছে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সূত্রে বিবর্তনের পথে, বহু সহস্র বর্ষ সময় লেগেছে পথ পরিক্রমা করতে ।
এখন প্রশ্ন, কেন এই অপসংস্কৃতি ? কেন এর বিস্তার এবং মূল সূত্রটি কোথায় লুকানো রয়েছে ?
সামন্ততান্ত্রিক যুগেও যৌন ও হিংসাবৃত্তি বেশ খানিকটা অনাবৃতই ছিল । বুর্জোয়া সমাজের শুরুতেও যৌন ও হিংসাবৃত্তি ছিল। তখন অপরাধবোধ ও অপরাধপ্রবণতা তেমন প্রকট হয়ে ওঠেনি। অধোগতির সময়ে অপরাধপ্রবণতা ভেতরে ভেতরে অনুপ্রবেশ করলো । অপসংস্কৃতি বলতে বর্তমানে সাধারণত বিকৃত যৌন ও হিংসাত্মক ক্রিয়াকলাপকেই বোঝানো হয় । লেনিনের ‘glass of water’ তত্ত্ব অপসংস্কৃতির চরম পর্যায়। আবার রাতের নুইয়র্ক শহর হঠাৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ায় সেখানে মুহুর্তে পাতালপুরী জন্ম নিল । বড়ো বড়ো নামী দোকান ভেঙে দামী সামগ্রী সব লুঠ হয়ে গেল । মুহুর্তে শতসহস্ৰ পাপ মাথাচাড়া দিল । শুধুমাত্র যৌন ও হিংস্র প্রবৃত্তিকেই কি আমরা অপসংস্কৃতি বলবো ? অপসংস্কৃতি ভারতীয় সমাজজীবনের এক সামাজিক ব্যাধি । বটবৃক্ষের শেকড়ের মতো কয়েক হাজার বছর ধরে আমাদের সমাজদেহের কাঠামোকে যা জর্জরিত করে রেখেছে তাকে অপসংস্কৃতি (anticulture) বলে বিবেচনা করা কি অন্যায় হবে ? জাতি-উপজাতি, বিভিন্ন ধর্ম ও ভাষাগোষ্ঠী এবং জাতপাত নীতি নিয়ে বিভেদপন্থী প্রগতিবিরোধী শক্তির ক্রিয়াকলাপও অপসংস্কৃতি । যে সংস্কৃতি সমাজ ও জনগণের প্রগতির প্রতিকূল তা অপসংস্কৃতি । সুস্থ যৌন জীবন যেমন অপসংস্কৃতি নয় তেমনি হিংসা মাত্রেই অপসংস্কৃতি নয়—যেমন মুক্তির জন্য সশস্ত্র সংগ্রামের সংজ্ঞা হবে ভিন্ন । আবার অসংখ্য চারিত্রিক ক্রটি-বিচূতি ও রুচির হেরফের, যেমন ‘ঝি চাকর’ ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের যে মনোভাব যা দাসপ্রথা ও সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতির জের টেনে চলেছে তা কি অপসংস্কৃতি নয় ? লাগামহীন অপসংস্কৃতি ও তার বিস্তারকে কড়া শাসনে কেবল চাপা দেওয়া যায় ; মুছে ফেলতে চাই অন্য ব্যবস্থা । ‘মূনাফা, আরো মূনাফা যে সমাজের মূলমন্ত্র তার হাতে বিকৃত যৌন ও হিংসাত্মক মানসিকতার প্রচার সব থেকে বড়ো অস্ত্র । মুনাফার সঙ্গে অপরাধপ্রবণতার নাড়ীর যোগ । সম্পর্ক মাতাপুত্রীর । অপসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রথম দুটি রিপুর ভূমিকা সর্বগ্রাসী । মুষ্টিমেয় মানুষ যতবেশি মুনাফা চাইবে সমাজের সাধারণ মানুষের একাংশকে ততটা অপরাধপ্রবণ করে তোলার প্রস্তুতি থাকবে । বড়োমাছ ছোটমাছ খাবে। কোন সমাজব্যবস্থায় ‘মহাজনী সভ্যতা’ শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আবার কোথাও বা এই সভ্যতার প্রবক্তারা মহামান্য কুলপতি !
আন্তর্জাতিক শিশুবর্ষের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে : কুড়ি কোটি শিশু আমাদের এই পৃথিবীতে শিশু-শ্রমিকের কাজ করে । ভারতবর্ষে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা ১ কোটি ৬৫ লক্ষ, children have been maimed in India to become beggars... —The Statesman, December 3, 1979
India has the largest child labour force in the world, with 16.5 million children working for long hours in dangerous conditions for little pay, the AntiSlavery Society reported. —The Statesman, December 5, 1979
সমাজে শিশুঘাতী মোহন্তদের সম্পর্কে কবি সুকান্তর প্রার্থনা : এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি— । কিন্তু পৃথিবী আজও শিশুর বাসোপযোগী হয়ে ওঠেনি ।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক (ইউনিসেফ) বিশ্বে শিশুদের অবস্থা–১৯৯২ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে শিশু-সংহারের যে চিত্র উদঘাটিত হয়েছে তার কিছু কিছু অংশ প্রয়োজনবোধে আমরা এখানে উল্লেখ করছি । এতে বলা হয়েছে, এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে ১৪ বছর বয়সের নীচের মোট শিশুদের ২০ শতাংশের বেশি শিশু-শ্রমিক । ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে সাড়ে সাত কোটিরও বেশি শিশু-শ্রমিক। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে এই প্রতিবেদন লিখেছে ২৫ কোটি মানুষের এই দেশে হাজার হাজার শিশু আছে—খেলাধূলা করা, বিদ্যালয়ে যাওয়া, আমোদ-আহ্লাদ করার সুযোগ জীবনে যাদের আসেনি—খাটুনি খেটে পেটের ভাত সংগ্রহ করতে হয় । বিশ্বব্যাঙ্কের হিসেব অনুযায়ী বিশ্বের পরিবারিক মোট আয়ের ২২ শতাংশ উপার্জন করে শিশুরা ।
ভারতে ৬-১৪ বছর বয়সের শিশুর সংখ্যা ২১ কোটি । এর মধ্যে ৪ কোটি ২০ লক্ষ শিশু-শ্রমিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের মোট শ্রমজীবী মানুষের ২৬ শতাংশ শিশু । তাছাড়া ভারতে ১০ লক্ষ দাস-শ্রমিক (Slavc-Labour) রয়েছে । দেশের অতি জঘন্য অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দরিদ্র পিতামাতারা টিকে থাকার তাগিদে প্রাণের অধিক প্রিয় শিশুদের নারকীয় পরিবেশে কাজ করতে দিতে বাধ্য হন । বিনিময়ে এইসব হতভাগ্য শিশুরা কঠোর পরিশ্রমের মূল্য হিসেবে কিঞ্চিৎ অর্থ পেয়ে থাকে আর যৌবন সাধারণত তারা দেখতে পায় না । তার পূর্বেই এদের পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হয় । তামিলনাডু, শিবকাশী এলাকায় দেয়াশলাই ও বাজির কারখানায় কাজ করে লক্ষাধিক শিশু-শ্রমিক ! এ শুধু একটি উদাহরণ মাত্র । এমনি করেই ধনী মহাজনরা আমাদের দেশে শিশু জীবনকে লোভ দেখিয়ে পঙ্গু করে দিচ্ছে ।
( আন্তর্জাতিক রিপোর্টটি শ্রী কান্তি বিশ্বাসের নিবন্ধ থেকে গৃহীত । ‘গণশক্তি’, ২৫ জুলাই, ১৯৯২) ।
এইসব হতভাগ্য শিশুদের একাংশকে পাতালপুরী গ্রাস করতে বাধ্য এবং করছেও । এমনি করেই অপরাধ-জগতের শ্রীবৃদ্ধি !
আমরা জানি লোধ বা অন্য যাযাবর জাতিকে চাষবাসে না বসিয়ে অপরাধী-উপজাতি (criminal tribes) রূপে গণ্য করা হলো । এটা সাম্রাজ্যবাদী চিন্তা । ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু ঔপনিবেশিক চিন্তা ও তার কুফল আজও সমাজে জড়িয়ে রয়েছে । আজও বিচ্ছিন্নতাবাদ, জাতি-উপজাতি লড়াই, ধমীয় সংঘর্ষ, এক বর্ণের ওপর অন্য বর্ণের হামলা রয়েছে—এসবই তো অপসংস্কৃতি । ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ । বিংশ শতাব্দীর প্রান্তিক কাল । চুনি কোটাল ভারতের প্রথম মহিলা লোধা গ্র্যাজুয়েট । নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আত্মঘাতী হলো । পৌরাণিক যুগে রামরাজ্যে রাম স্বহস্তে শম্বকের মাথাটি কেটে ফেলেন । কারণ সাধনার দ্বারা শ্রেষ্ঠ বর্ণের অধিকার শূদ্র শম্বুক অর্জন করতে চাইল । তাইতো হত্যা ! পৌরাণিক যুগ থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত সামাজিক অগ্রগতির পদক্ষেপ কতটুকু হয়েছে তার সাক্ষ্য দিচ্ছে শম্বক চুনি কোটালরা ।
মানব সভ্যতার আদিতে অপরাধ-জগতের অস্তিত্ব ছিলো না । অপরাধ-প্রবণতা সমাজ জীবনের উপর-কাঠামোর (Super-structure) সঙ্গে জড়িত । একটি ভাষাগোষ্ঠীর (speech community) মুখের ভাষা উপর-কাঠামো নয় সত্যি, তবে যখন কোনো ভাষা, বিশেষত শব্দভাণ্ডার কোনো বিশেষ সংস্কৃতির নির্দেশক হয়, তখন সেই সংস্কৃতির প্রসার, পরিবর্তন বা অবলুপ্তির ওপর বিশেষ ভাষাটির অস্তিত্ব অথবা অবলুপ্তি নির্ভরশীল । যেমন lingo,cant, jargon, argot, anti-language প্রভৃতি সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, উপর-কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে এদেরও পরিবর্তন হবে, ক্ষয় হবে, লয় হবে । কোনো সমাজের সাংস্কৃতিক জীবন তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপর-কাঠামো । অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অবশ্যম্ভাবী ফল সাংস্কৃতিক পরিবর্তন । সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে খুবই ধীর পদক্ষেপে । প্রতিটি সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক সংস্কৃতি পরবর্তীকালের সমাজে জায়গা করে নেয় । দাসপ্রথার অবদান গ্রীক সভ্যতার ৮০/৯০ শতাংশ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
স্বয়ং মার্কসও নানাভাবে তা স্বীকার করেছেন । বুর্জোয়া সমাজের গোড়ার দিকে বলিষ্ঠতা ছিল, সেক্সপীয়রের মতো প্রতিভাও ছিল । সেক্সপীয়রের ফলিতরূপ নাটকের ভিতর দিয়ে যতটুকু পৌঁছালো পরবতী যুগে তা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই থেকে গেল । জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হলো । শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে যোগ রইল না । ভারতবর্ষে সামন্ততন্ত্রের যুগে শিল্প সাহিত্য মার্গসংগীত নবকলেবরে জন্ম নিল যা আজও আদৃত হচ্ছে । রবীন্দ্রনাথের মতো প্রতিভা তো পরাধীন ভারত পেয়েছে ! স্বাধীনতার পর রবীন্দ্রনাথের সমাদর কী এতটুকু কমেছে ? মনে হয়, শিক্ষার বিস্তারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের মর্যাদা ক্রমশ আমাদের দেশে বৃদ্ধি পাবে । Sophocles, Aeschylus-এর সৃষ্টি মূলগ্রীক ভাষায় পাঠ করে মার্কস আনন্দ পেতেন । দাসপ্রথার গোড়ায় গলদ সত্ত্বেও তার যে ইতিবাচক সত্তা রয়েছে বিশ্বসংস্কৃতির ক্ষেত্রে তার মূল্য অনস্বীকার্য। দাসপ্রথা সামন্ততন্ত্র ধনতন্ত্র উপনিবেশবাদ নয়া-উপনিবেশবাদ প্রতিটি ব্যবস্থায় কিছু না কিছু ইতিবাচক সত্তা রয়েছে । যদি কেউ একটি ব্যবস্থার কিঞ্চিৎ ইতিবাচক সত্তার পক্ষ নিয়ে প্রমাণ করতে চান যে ব্যবস্থাটি কল্যাণকর তবে তিনি মঞ্চে এ প্রমাণও করবেন যে তার চিন্তাধারা প্রগতিবিরোধী, বিপরীতমুখী ।
সামন্ততান্ত্রিক ও ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার বেদি-ভূমিতে অপরাধ-প্রবণতার জন্ম । সামন্ততান্ত্রিক এবং ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটলে অপরাধ-জগৎও ক্রমশ লোপ পাবে |
যদি কোনোদিন অপরাধ-জগতের বিলুপ্তি ঘটে সেদিন অপরাধ পদ্ধতির গোষ্ঠীভাষাও (Social dialect) লোপ পাবে । যে-অংশ থেকে যাবে তা প্রতিদিনের সাধারণ ভাষার সঙ্গে মিশে যাবে । সাধারণ ভাষা যা গ্রহণ করছে, করছে ঐতিহাসিক পরিবেশের সহায়তায় । তখন এ জাতীয় ভাষা আর উপর-কাঠামোর অঙ্গ বলে গণ্য হচ্ছে না । উপর-কাঠামোর স্থিতিশীলতা সর্বকালীন নয় । পাতালপুরীর সংস্কৃতির একটি বাহন তার শব্দভাণ্ডার ; সংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটবে এবং পুরনো অপ্রচলিত শব্দগুলি বাতিল হবে ।
এ-ভাষার বিস্তৃত আলোচনা সামাজিক অর্থবিন্যাস বুঝতে সাহায্য করে ।
বিভিন্ন কালের পাতালপুরীর সন্ধা ভাষা অনুশীলনের দ্বারা অপরাধজগতের ক্রমবিবর্তন সম্পর্কে ধারণা করা যেতে পারে ।
আমরা দেখি, প্রয়োজনাতিরিক্ত সঞ্চয় (পরের শ্রম অপহরণ ?) প্রবৃত্তি অপরাধ-প্রবণতা ও অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটালো সমাজজীবনে । সমাজ নানা দল উপদলে ভাগ হলো। অনেকে নাম লেখালো অপসংস্কৃতির খাতায়, হুহু করে অপসংস্কৃতির বিস্তার হলো । একটি বিশেষ বৃদ্ধিমান শ্রেণী অপসংস্কৃতির ব্যবসায়ে ফুলে ফেপে উঠলো । পৃথিবীর বৃহদংশ জুড়ে অপসংস্কৃতির ফলাও ব্যবসা নয়া-উপনিবেশবাদ-সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞরা জানেন, কিভাবে যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে শিল্প সাহিত্য সংগীত প্রভৃতি থেকে শুরু করে জীবনের সর্বত্র রন্ধে রন্ধে অবাধ গতিতে সূক্ষ্মতর পথে তার অনুপ্রবেশ ঘটেছে । মানবমনকে তার হিংস্র পাশবিক কামড় জর্জরিত করে রেখেছে । চেতনশীল মানবজাতির একাংশ অপরাধবৃত্তির নারকীয় মুখোস খুলে দিতে যুগ যুগ ধরে চেষ্টা করছে। আশা করবো, আগামী দিনের মানুষ পাপাচার ও অপসংস্কৃতিমুক্ত অমলিন জীবনের স্বাদ পাবে ।
অনেকে জানতে চান, কেন এ জাতীয় বিচিত্র গবেষণায় হাত দিলাম— ? গরমের ছুটি । যাবো কলেজ স্ট্রট । উঠবো ট্রামে, দেখি, ট্রামের ভেতর থেকে হিড়হিড় করে বার করে আনা হচ্ছে একটি ছেলেকে । রাস্তায় লোকের ভিড় । ছেলেটার ওপর জোর জুলুম মারধর শুরু হলো । যে-মানুষকে দেখলে মনে হয় অতি ভীরু কাপুরুষ, জীবনে মুখ ফুটে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেনি কোনোদিন, তেমনতরো এক বীরপুরুষ সদপে এগিয়ে গেলো, উচিয়ে হাত তুললো, তারপর ছেলেটাকে পিটিয়ে দিলো দুদ্দাড়িয়ে । ছেলেটা পকেটমার । সূচলো জুতো ড্রেন-পাইপ ট্রাউজার-পরা সুদর্শন যুবক । ধরা পড়েছে মনিব্যাগ টানতে গিয়ে । বেচারা । লাইনের ছুটকোদ (নতুন চোর), ওস্তাদের হাতে ট্রেনিং জুতসই হয়নি তখনো ।
কলেজে পৌঁছে একতলার ক্ষুদ্রতম ঘরখানা খোলালাম । নিরিবিলি ঘরে বসে আছি চুপচাপ—দূরে একটা কাক অনবরত ডেকে চলেছে, সে ডাকে যেন কোনো অজানা বেদনার ভাপ ছড়াচ্ছে দিকে দিকে । ফটকের পাশের কাঠাল গাছটিকে ঘর থেকে দেখা যায় । সেদিন বৈশাখ মাস, গাছটি পাতায় পাতায় ছিল ভরে । একটা দমকা বাতাস দুপুরের গুমোট গরমের গালে সজোরে চড় বসিয়ে দিল, পাতাগুলো কেঁপে কেঁপে উঠলো ; গাছের পাতা একদিন ঝরে যাবে, ঝরে যাবে তার অপরূপ শোভা । নগ্ন ডালপালা আকড়ে সে দাঁড়িয়ে থাকবে, কিন্তু কিসের প্রত্যাশায় ? সে জানে, আবার বসন্ত আসবে । সেদিন নতুন করে ভরিয়ে তুলবে নিজেকে লতায় পাতায় ।
... ওই যে পকেটমার ছেলে, যার জীবনে পাতা-ঝরার খেলা চলেছে সে কি কোনোদিন সুস্থ জীবনের স্বাদ পাবে না । তার যে দিনগুলো গেল সে কি একেবারেই গেল ! ভাবলাম, কে এদের জীবনের জয়গান শোনাবে ? এদের বাঁচাবে কে, কি করে এরা জীবনে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে ।
বাঁচাবার ক্ষমতা নেই তবে এদের জানবার বোঝবার জন্যে মন কৌতুহলী হলো – ভাবছি কেমন করে প্রবেশ করা যায় ওদের রাজ্যে ? ভাষাবিজ্ঞানী যখন, স্থির করলাম অপরাধজগতের ভাষা নিয়ে গবেষণা করবো । অপরাধ-জগতের ভাষার গবেষণায় অপরাধী প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে না, তবে তাদের মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় এ ভাষা হয়তো পরোক্ষভাবে সাহায্য করতে পারে ।
যে-পকেটমার ছেলেটাকে কেন্দ্র করে গবেষণা শুরু করি, ঘটনার বছর দুই পরে জেনেছিলাম, সে একজন উচ্চশিক্ষিত লোকের ছেলে, সঙ্গদোষে পকেটমারের পেশা বেছে নিয়েছে । বাড়ি থেকে পালিয়েছে । বাবার মুখোমুখি হতে সাহস পায় না । কালে-ভদ্রে লুকিয়ে-চুরিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যায় । প্রশ্ন করেছিলাম,– মার সঙ্গে তোমার কী কথা হয় ?
মা শুধু কাদতে থাকে । কথা কটা বলে মুখ নত করেছিলো ।
জেরার মুখে এমনি কত কথাই বললো । বেডটি (মদ) না খেলে সকালে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না !
সমাজ-জীবনের ‘অসংস্কৃত’ অংশে পাই অপরাধ-জগৎকে । তথাকথিত অতি-সংস্কৃত সমাজের মধ্যেও অপরাধ-জগতের সন্ধান পাওয়া যায় অহরহ । তবে এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে অন্য আলোচনা থেকে বিরত থাকতে চাই । অতীতের ভারতবর্ষে অ-সংস্কৃত জগৎ সম্পর্কে যে ঔদাসীন্য দেখানো হয়েছিল সে ধারা আজও অটুট রয়েছে।
সমাজ হলো সভ্যভব্য সাক্ষর নিরক্ষর ধনী দরিদ্র সর্বহারা অগণিত মানুষকে নিয়ে । অপরাধী এবং অপরাধ-প্রবণ মানুষ থাকলে (বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যা থাকতে বাধ্য) তাদেরও সমাজের অঙ্গবিশেষ বলে স্বীকার করতে হবে । দুর্বল অঙ্গটির প্রতি ইচ্ছে করে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারি, তবে ইতিহাসের পটভূমিকায় তাকে অস্বীকার করি কেমন করে ?
আমাদের দেশে পাতালপুরীর ভাষা পাতালেই থেকে গেছে । ওপর-তলার মানুষ কখনো কোনোদিন তা জানবার আগ্রহ দেখালো না ।
গত দুশো বছরের ব্যবহৃত স্নাং শব্দগুলি ধরে রাখতে পারলে দেখা যেতো কত শব্দ অপরাধ-জগতের প্রাচীর টপকে আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহৃত আধুনিক চলিত ভাষার সঙ্গে এক পঙক্তিতে বসে গেছে । এ জাতীয় সংকলনের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। ইংলণ্ডে, যুরোপের বিভিন্ন দেশে, আমেরিকায় এবং জাপানে লঘু শব্দ সংকলিত হয়েছে । এসব শব্দভাণ্ডার থেকে বহু শব্দ সাহিত্যিক-সাংবাদিকের হাতে পড়ে লৌকিক শব্দভাণ্ডারের পুঁজি বৃদ্ধি করেছে। Eric Partridge ইংরেজি স্ল্যাং ও হালকা শব্দ (A Dictionary of the Underworld; A Dictionary of Slang and Unconventional English) সংকলন করে পৃথিবী-বিখ্যাত । বিলাতের বিখ্যাত New Statesman পত্রিকায় Eric Partridge-এর অভিধান সম্পর্কে মতামতের অংশবিশেষের উদ্ধৃতি হয়তো অপ্রাসঙ্গিক হবে না –‘It is a really epoch-making, monumental piece of work, carried out with astonishing industry and learning.’ অপরাধ-জগতের ভাষাকে আমরা বলতে পারি একটি গোষ্ঠীভাষা (social dialect)। জেলে, জোলা, মুচি, মেথর, কামার, কুমোর প্রভৃতির ভাষাও গোষ্ঠীভাষার অন্তর্গত । এ জাতীয় ভাষার অপর নাম বর্ণভিত্তিক ভাষা (caste dialect) ।
শান্তিনিকেতনের বাচনভঙ্গিও গোষ্ঠীভাষার দৃষ্টান্ত, এখানের বৈশিষ্ট্য বোলপুরের আঞ্চলিক ভাষার অন্তর্গত নয় । গোষ্ঠীভাষায় বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষার প্রভাব পড়তে পারে, সোশ্যাল ডায়লেক্ট লোকাল ডায়লেকটের ধর্ম সর্বত্র হুবহু মেনে চলে না । নারীর ভাষাও গোষ্ঠীভাষার অন্তর্গত ।
পশ্চিমবাঙলার সমাজবিরোধীরা আসে নানা জায়গা থেকে, কথা বলে ভিন্ন ভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় । কোলকাতার অপরাধীদের ভাষা খাস কোলকাতার সর্বজনগ্রাহ্য ভাষা নয় । অপরাধী ও সমাজবিরোধীদের একটি অংশ মাত্র কোলকাতার বাসিন্দা । তাদের অনেকের ভাষা কোলকাতা-ককনি জাতীয় । বাগবাজার, আহিরীটোলা, কুমারটুলি, বউবাজার, জেলেটোলা প্রভৃতি অঞ্চলের প্রাচীন রক্ষণশীল পরিবারের অর্ধশিক্ষিত বা নিরক্ষরদের অনেকের মুখের ভাষায় (উত্তর) কোলকাতার প্রাচীন ককনির রেশ কানে ধরা পড়ে ।
পশ্চিমবাঙলার অপরাধ-জগতের অন্যেরা আসে বাঙলার জেলাগুলো থেকে, আসে বাঙলাদেশ, বিহার এবং উত্তর প্রদেশ থেকে । শেষোক্ত দুই রাজ্য থেকে আসা অপরাধীর ংখ্যা অগুনতি । ভারতবর্ষে এমন কোনো রাজ্য নেই যেখানকার বনেদী অপরাধীরা একবার কোলকাতা ঘুরে না গেছে । কোলকাতা বোম্বাই অপরাধ-জগতের স্বর্গভূমি । পশ্চিমবাঙলার অপরাধ-জগতের ভাষা বাঙলা, হিন্দি, ভোজপুরী, মগহী, উর্দু সবমিলিয়ে এক জগাখিচুড়ি। এই জগাখিচুড়ি ভাষা অপরাধীদের বড়ো প্রিয়—তাদের জীবনবেদ । এ ভাষা বুদ্ধিবিহারীর ধ্ৰুপদী ভাষা নয় । মানুষকে জানতে ভাষা সর্বশ্রেষ্ঠ অবলম্বন । সে ভাষা সাধারণ, মিশ্র অথবা কৃত্রিম যাই হোক তাতে কিছু আসে যায় না । অপরাধ-জগতের মানুষকে জানতে হলে যেমন তাদের ভাষা জানা চাই, তেমনি তাদের নিষেধ লোকাচার এবং কুসংস্কারও জানার প্রয়োজন রয়েছে । এগুলি জানতে পারলে সমাজবিরোধীদের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ সম্ভব। যদি তাদের ভাষা আমরা বুঝতে না পারি তবে কেমন করে তাদের সুস্থ জীবনের পথে পৌছে দেবার কথা ভাবতে পারি ?
বিপরীত ভাষায় (antil anguage) সাধারণ ভাষার সূত্রগুলি প্রায় হুবহু কার্যকরী হতে দেখা যায় । অপরাধ-জগতের ভাষার দুই দিক থেকে বিস্তার ঘটেছে : একটি হলো পেশাদার অপরাধীদের ভাষা । তারা নানা জাতের অপরাধমূলক কাজ করে থাকে-চুরি, পকেটমারি, রাহাজানি, মদ চোলাই, মেয়ে বেচাকেনা, চোরাইমাল কেনাবেচা ইত্যাদি । অপরটি হলো বয়েযাওয়া যুবক, উঠতি গুণ্ডা ও মস্তানদের ভাষা । এই দলে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও নিরক্ষর সকল রকমের যুবকেরই সন্ধান মেলে । পেশাদার অপরাধীরা তাদের ব্যবহারের ভাষাকে (উলটি বাতোলা, ঘুনু ইত্যাদিও বলে থাকে ) পুলিশ ও জনসাধারণের কাছে গোপন করে রাখে । দুটি ভিন্ন ধরনের অপরাধী গোষ্ঠীর অপরাধের পদ্ধতি যেমন এক ধরনের নয় তেমনি তাদের সৃষ্ট ও ব্যবহৃত শব্দাবলীর মধ্যেও দুস্তর প্রভেদ রয়েছে। পকেটমারের ভাষা জুয়াচোর বা প্রতারকের ভাষা থেকে হবে ভিন্ন ধাঁচের । ভিন্ন ভিন্ন দল বা গোষ্ঠীর শব্দ সংকলন নিয়ে আলোচনা করলে বিভিন্ন দলের কর্মপদ্ধতি এমনকি অপরাধপ্রবণ মনের বিশ্লেষণ করা যেতে পারে । অপরাধ-জগতের ভাষা জানতে অপরাধ পদ্ধতিও জানা চাই ।
ভূমিকা
অপরাধ-জগতের ভাষা ও শব্দকোষ
ভক্তি প্রসাদ মল্লিক
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সংসদ সমার্থশব্দকোষ - অশোক মুখোপাধ্যায়

amarboi
সংসদ সমার্থশব্দকোষ - অশোক মুখোপাধ্যায় 

 বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ১ম খন্ড

amarboi বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ১ম খন্ড
প্রায় সোয়া লাখ শব্দের সংযোজন করে প্রকাশিত হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান নামের তিন খণ্ডের বই। শব্দের কী রূপ? শব্দের খেলা কেমন, কারা তার খেলোয়াড়, এর শেষ আছে কিনা এরকম প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে অভিধানটিতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ।
বলা যায়, এটিই বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বড় অভিধান। অভিধানের প্রথম খণ্ডে সব মিলে ৪০ হাজার ৮০৪ টি শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োগবাক্য রয়েছে ৫৬ হাজার ৬১০টি। তিন খণ্ড মিলে প্রায় সোয়া লাখ শব্দ ঠাঁই পেয়েছে এই অভিধানে। এই সোয়া লাখ শব্দ সবই ১৯৭২/৭৩ সালের আগ পর্যন্ত। অভিধানটিতে প্রায় তিন হাজারের মতো পৃষ্ঠা রয়েছে । প্রতি খণ্ডের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা উপলক্ষে ৩০% কমিশনে অভিধানটি বিক্রি করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ রচিত প্রথম বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’শ বছর আগে। ১৮১৭ সালে তিনি বাংলা অভিধান রচনা করেন। এরপর অনেক পণ্ডিতই অভিধান রচনা করেছেন। তবে বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নেই বললেই চলে। এই অভিধানগুলোতে প্রচলিত-অপ্রচলিত শব্দের এক বা একাধিক অর্থ এবং পদ পরিচয় দেয়া হয়েছে মাত্র। আবার কোনোটিতে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিও দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, কে, কখন, কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তার কোনো হদিস মেলে না বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোতে।
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা মিলবে। ১৪৫০ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে শব্দের কী অর্থ ছিল আর তা রবীন্দ্রনাথের হাতে পড়ে কী অর্থ দাঁড়িয়েছে, তার বিবর্তনমূলক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে অভিধানটিতে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মতো কলবরে না হলেও মডেল হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানটিকেই আমলে নিয়ে রচনা করা হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ এবং দৃষ্টান্ত দেয়া আছে। এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে শব্দের রূপান্তরের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড অভিধানে। অক্সফোর্ড-এর এই নীতি অনুসরণ করে শব্দের অর্থ-পরিচয় তুলে ধরেছেন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদক গোলাম মুরশিদ।
অক্সফোর্ড অভিধান রচনা করতে সময় লাগে ৪৯ বছর। ১৮৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয় অক্সফোর্ড অভিধানের প্রথম সংস্করণ। জেমস মারের নেতৃত্বে বিশাল এক সম্পাদনাকর্মী গোষ্ঠী অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদনা করেন। কিন্তু আজও সম্পাদনা হচ্ছে অক্সফোর্ড অভিধানটি। এখনও নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অভিধানটিতে। সুতরাং বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর প্রথম সংস্করণকে সূচনালগ্নই বলা যেতে পারে। একই অর্থে অপূর্ণও বটে। সোয়া লাখ শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে রচিত অভিধানটি সময়ের ব্যবধানে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সম্পাদক গোলাম মুরশিদ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ভাবনা নিয়ে বিবর্তনমূলক একটি অভিধান রচনা করবেন বলে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমিতে সাক্ষাৎ করেন লেখক, গবেষক গোলাম মুরশিদ। ২০১০ সালের শেষ দিকের কথা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অবগত হয়ে প্রথম সাক্ষাতেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি বাজেটও করিয়ে নেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই যাত্রা শুরু হয় বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের রচনা কাজের। শুরু থেকেই দশ জনের একটি তরুণ সম্পাদনা গোষ্ঠী অক্লান্ত শ্রম আর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে থাকেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একটি ভবনে চলে সম্পাদনার কাজ। ভবনটির সম্পাদনা কক্ষে সংযুক্ত করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণেই প্রযুক্তির এই সংযোজন। তিনি সুদূর লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন সম্পাদনা টিমের সঙ্গে। সহযোগী সম্পাদক স্বরোচিষ সরকার এবং সমন্বয়ক মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তরুণ এই সংকলকেরা পাঠকের হাতে বিশালাকৃতির অভিধান গ্রন্থটি তুলে দিতে সক্ষম হন।
অভিধানটি শুধু বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য রচিত বলেই সম্পাদকমণ্ডলী মনে করছেন। এপার বাংলা ওপার বাংলায় একইভাবে সমাদৃত হবে বলে তাদের আশাবাদ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, বরং শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা বজায় রাখা হয়েছে। একাডেমিকভাবেও অভিধানটির উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিধানটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক এবং পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অভিধানটি প্রকাশ হওয়ার আগেই কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা দু’বার ফলাও করে খবর ছাপিয়েছে। উপ-সম্পাদকীয়ও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। অভিধানটির ওপর দেশ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকের মাঝেও বইটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিককে জানায়, প্রতিদিনই অভিধানটির বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। সুতরাং বলা যেতেই পারে এবারের বইমেলায় বিশেষ সংযোজন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, যা বাংলা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অধিক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ড. মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে অভিধানটির সংকলক ছিলেন আসিফ আজিজ, কল্পনা ভৌমিক, জামাল উদ্দিন জাহেদি, ফারহান ইশরাক, মতিন রায়হান, মাহফুজা হিলালী, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, রাজীব কুমার সাহা, শামস্ নূর।
এই অভিধান প্রকল্পের বাস্তবায়ক শামসুজ্জামান খান। কর্মসূচী পরিচালক শাহিদা খাতুন।
বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ২য় খন্ড

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ২য় খন্ড বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ২য় খন্ড
প্রায় সোয়া লাখ শব্দের সংযোজন করে প্রকাশিত হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান নামের তিন খণ্ডের বই। শব্দের কী রূপ? শব্দের খেলা কেমন, কারা তার খেলোয়াড়, এর শেষ আছে কিনা এরকম প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে অভিধানটিতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ।
বলা যায়, এটিই বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বড় অভিধান। অভিধানের প্রথম খণ্ডে সব মিলে ৪০ হাজার ৮০৪ টি শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োগবাক্য রয়েছে ৫৬ হাজার ৬১০টি। তিন খণ্ড মিলে প্রায় সোয়া লাখ শব্দ ঠাঁই পেয়েছে এই অভিধানে। এই সোয়া লাখ শব্দ সবই ১৯৭২/৭৩ সালের আগ পর্যন্ত। অভিধানটিতে প্রায় তিন হাজারের মতো পৃষ্ঠা রয়েছে । প্রতি খণ্ডের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা উপলক্ষে ৩০% কমিশনে অভিধানটি বিক্রি করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ রচিত প্রথম বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’শ বছর আগে। ১৮১৭ সালে তিনি বাংলা অভিধান রচনা করেন। এরপর অনেক পণ্ডিতই অভিধান রচনা করেছেন। তবে বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নেই বললেই চলে। এই অভিধানগুলোতে প্রচলিত-অপ্রচলিত শব্দের এক বা একাধিক অর্থ এবং পদ পরিচয় দেয়া হয়েছে মাত্র। আবার কোনোটিতে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিও দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, কে, কখন, কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তার কোনো হদিস মেলে না বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোতে।
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা মিলবে। ১৪৫০ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে শব্দের কী অর্থ ছিল আর তা রবীন্দ্রনাথের হাতে পড়ে কী অর্থ দাঁড়িয়েছে, তার বিবর্তনমূলক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে অভিধানটিতে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মতো কলবরে না হলেও মডেল হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানটিকেই আমলে নিয়ে রচনা করা হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ এবং দৃষ্টান্ত দেয়া আছে। এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে শব্দের রূপান্তরের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড অভিধানে। অক্সফোর্ড-এর এই নীতি অনুসরণ করে শব্দের অর্থ-পরিচয় তুলে ধরেছেন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদক গোলাম মুরশিদ।
অক্সফোর্ড অভিধান রচনা করতে সময় লাগে ৪৯ বছর। ১৮৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয় অক্সফোর্ড অভিধানের প্রথম সংস্করণ। জেমস মারের নেতৃত্বে বিশাল এক সম্পাদনাকর্মী গোষ্ঠী অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদনা করেন। কিন্তু আজও সম্পাদনা হচ্ছে অক্সফোর্ড অভিধানটি। এখনও নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অভিধানটিতে। সুতরাং বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর প্রথম সংস্করণকে সূচনালগ্নই বলা যেতে পারে। একই অর্থে অপূর্ণও বটে। সোয়া লাখ শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে রচিত অভিধানটি সময়ের ব্যবধানে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সম্পাদক গোলাম মুরশিদ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ভাবনা নিয়ে বিবর্তনমূলক একটি অভিধান রচনা করবেন বলে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমিতে সাক্ষাৎ করেন লেখক, গবেষক গোলাম মুরশিদ। ২০১০ সালের শেষ দিকের কথা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অবগত হয়ে প্রথম সাক্ষাতেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি বাজেটও করিয়ে নেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই যাত্রা শুরু হয় বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের রচনা কাজের। শুরু থেকেই দশ জনের একটি তরুণ সম্পাদনা গোষ্ঠী অক্লান্ত শ্রম আর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে থাকেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একটি ভবনে চলে সম্পাদনার কাজ। ভবনটির সম্পাদনা কক্ষে সংযুক্ত করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণেই প্রযুক্তির এই সংযোজন। তিনি সুদূর লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন সম্পাদনা টিমের সঙ্গে। সহযোগী সম্পাদক স্বরোচিষ সরকার এবং সমন্বয়ক মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তরুণ এই সংকলকেরা পাঠকের হাতে বিশালাকৃতির অভিধান গ্রন্থটি তুলে দিতে সক্ষম হন।
অভিধানটি শুধু বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য রচিত বলেই সম্পাদকমণ্ডলী মনে করছেন। এপার বাংলা ওপার বাংলায় একইভাবে সমাদৃত হবে বলে তাদের আশাবাদ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, বরং শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা বজায় রাখা হয়েছে। একাডেমিকভাবেও অভিধানটির উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিধানটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক এবং পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অভিধানটি প্রকাশ হওয়ার আগেই কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা দু’বার ফলাও করে খবর ছাপিয়েছে। উপ-সম্পাদকীয়ও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। অভিধানটির ওপর দেশ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকের মাঝেও বইটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিককে জানায়, প্রতিদিনই অভিধানটির বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। সুতরাং বলা যেতেই পারে এবারের বইমেলায় বিশেষ সংযোজন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, যা বাংলা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অধিক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ড. মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে অভিধানটির সংকলক ছিলেন আসিফ আজিজ, কল্পনা ভৌমিক, জামাল উদ্দিন জাহেদি, ফারহান ইশরাক, মতিন রায়হান, মাহফুজা হিলালী, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, রাজীব কুমার সাহা, শামস্ নূর।
এই অভিধান প্রকল্পের বাস্তবায়ক শামসুজ্জামান খান। কর্মসূচী পরিচালক শাহিদা খাতুন।
বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ৩য় খন্ড

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ৩য় খন্ড বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ৩য় খন্ড

প্রায় সোয়া লাখ শব্দের সংযোজন করে প্রকাশিত হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান নামের তিন খণ্ডের বই। শব্দের কী রূপ? শব্দের খেলা কেমন, কারা তার খেলোয়াড়, এর শেষ আছে কিনা এরকম প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে অভিধানটিতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ।
বলা যায়, এটিই বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বড় অভিধান। অভিধানের প্রথম খণ্ডে সব মিলে ৪০ হাজার ৮০৪ টি শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োগবাক্য রয়েছে ৫৬ হাজার ৬১০টি। তিন খণ্ড মিলে প্রায় সোয়া লাখ শব্দ ঠাঁই পেয়েছে এই অভিধানে। এই সোয়া লাখ শব্দ সবই ১৯৭২/৭৩ সালের আগ পর্যন্ত। অভিধানটিতে প্রায় তিন হাজারের মতো পৃষ্ঠা রয়েছে । প্রতি খণ্ডের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা উপলক্ষে ৩০% কমিশনে অভিধানটি বিক্রি করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ রচিত প্রথম বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’শ বছর আগে। ১৮১৭ সালে তিনি বাংলা অভিধান রচনা করেন। এরপর অনেক পণ্ডিতই অভিধান রচনা করেছেন। তবে বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নেই বললেই চলে। এই অভিধানগুলোতে প্রচলিত-অপ্রচলিত শব্দের এক বা একাধিক অর্থ এবং পদ পরিচয় দেয়া হয়েছে মাত্র। আবার কোনোটিতে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিও দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, কে, কখন, কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তার কোনো হদিস মেলে না বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোতে।
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা মিলবে। ১৪৫০ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে শব্দের কী অর্থ ছিল আর তা রবীন্দ্রনাথের হাতে পড়ে কী অর্থ দাঁড়িয়েছে, তার বিবর্তনমূলক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে অভিধানটিতে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মতো কলবরে না হলেও মডেল হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানটিকেই আমলে নিয়ে রচনা করা হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ এবং দৃষ্টান্ত দেয়া আছে। এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে শব্দের রূপান্তরের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড অভিধানে। অক্সফোর্ড-এর এই নীতি অনুসরণ করে শব্দের অর্থ-পরিচয় তুলে ধরেছেন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদক গোলাম মুরশিদ।
অক্সফোর্ড অভিধান রচনা করতে সময় লাগে ৪৯ বছর। ১৮৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয় অক্সফোর্ড অভিধানের প্রথম সংস্করণ। জেমস মারের নেতৃত্বে বিশাল এক সম্পাদনাকর্মী গোষ্ঠী অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদনা করেন। কিন্তু আজও সম্পাদনা হচ্ছে অক্সফোর্ড অভিধানটি। এখনও নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অভিধানটিতে। সুতরাং বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর প্রথম সংস্করণকে সূচনালগ্নই বলা যেতে পারে। একই অর্থে অপূর্ণও বটে। সোয়া লাখ শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে রচিত অভিধানটি সময়ের ব্যবধানে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সম্পাদক গোলাম মুরশিদ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ভাবনা নিয়ে বিবর্তনমূলক একটি অভিধান রচনা করবেন বলে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমিতে সাক্ষাৎ করেন লেখক, গবেষক গোলাম মুরশিদ। ২০১০ সালের শেষ দিকের কথা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অবগত হয়ে প্রথম সাক্ষাতেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি বাজেটও করিয়ে নেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই যাত্রা শুরু হয় বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের রচনা কাজের। শুরু থেকেই দশ জনের একটি তরুণ সম্পাদনা গোষ্ঠী অক্লান্ত শ্রম আর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে থাকেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একটি ভবনে চলে সম্পাদনার কাজ। ভবনটির সম্পাদনা কক্ষে সংযুক্ত করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণেই প্রযুক্তির এই সংযোজন। তিনি সুদূর লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন সম্পাদনা টিমের সঙ্গে। সহযোগী সম্পাদক স্বরোচিষ সরকার এবং সমন্বয়ক মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তরুণ এই সংকলকেরা পাঠকের হাতে বিশালাকৃতির অভিধান গ্রন্থটি তুলে দিতে সক্ষম হন।
অভিধানটি শুধু বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য রচিত বলেই সম্পাদকমণ্ডলী মনে করছেন। এপার বাংলা ওপার বাংলায় একইভাবে সমাদৃত হবে বলে তাদের আশাবাদ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, বরং শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা বজায় রাখা হয়েছে। একাডেমিকভাবেও অভিধানটির উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিধানটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক এবং পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অভিধানটি প্রকাশ হওয়ার আগেই কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা দু’বার ফলাও করে খবর ছাপিয়েছে। উপ-সম্পাদকীয়ও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। অভিধানটির ওপর দেশ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকের মাঝেও বইটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিককে জানায়, প্রতিদিনই অভিধানটির বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। সুতরাং বলা যেতেই পারে এবারের বইমেলায় বিশেষ সংযোজন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, যা বাংলা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অধিক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ড. মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে অভিধানটির সংকলক ছিলেন আসিফ আজিজ, কল্পনা ভৌমিক, জামাল উদ্দিন জাহেদি, ফারহান ইশরাক, মতিন রায়হান, মাহফুজা হিলালী, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, রাজীব কুমার সাহা, শামস্ নূর।
এই অভিধান প্রকল্পের বাস্তবায়ক শামসুজ্জামান খান। কর্মসূচী পরিচালক শাহিদা খাতুন।




Read/Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ঢাকাইয়া কুট্টি ভাষার অভিধান

amarboi ঢাকাইয়া কুট্টি ভাষার অভিধান
সংকলন ও সম্পাদনা:
মোশাররফ হোসেন ভূঞা
ঐতিহ্য ।
ঢাকার কুট্টিদের সম্বন্ধে বহু বাঙালিরই একটা ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে। অনেকেই মনে করেন, কুট্টিরা ঢাকার ঘোড়ার গাড়ির গাড়োয়ান। ওটাই তাদের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু যাঁরাই ঢাকাকে জানেন, বা ঢাকার ভাষার ইতিহাসটা কিছুমাত্র জানেন, তাঁদের পক্ষে একথা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কেননা, কুট্টি বলতে ঢাকার ঘোড়ার গাড়ির গাড়োয়ানদেরই কেবল বোঝায় না। এরা ছাড়াও নানান কারিগর, ঠ্যালাওয়ালা, রিকশাওয়ালা, যারা ধান কোটার কাজ করে বা করত, এমনকী যারা ইটভাটার কর্মী অর্থাত্‌ যারা ইট ভাঙার বা কোটার কাজ করে, তারাও কুট্টিশ্রেণিভুক্ত মানুষ।
‘কুট্টি’ কথাটার উত্‌পত্তি সম্বন্ধে নানা মত শোনা যায়। কেউ বলেন, ‘কুঠি’ থেকেই কুট্টি এসেছে। আর-একটা মত, ধান বা ইট কোটার কাজ করত বলেই এদের কুট্টি বলা হয়ে আসছে। একসময় শহরতলিতে বাস করত এরা। ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে অন্যত্র, সর্বত্র। এদের উদ্ভব মোগল আমলে। অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে চাল ছিল পূর্ববঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি-পণ্য। বহু মানুষ ধান ভানার বা কোটার কাজে নিযুক্ত হত। এরাই আদি কুট্টি। এই মত পাওয়া যায় রঙ্গলাল সেনের ‘রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর ও উত্তরকাল’ বইয়ে। এর সমর্থন পাওয়া যায় হাফিজা খাতুনের ‘Dhakaiyas on the Move’ বইয়েও।
কুট্টিদের ভাষা ঢাকাইয়া ভাষার একটা প্রধান উপাদান। ঢাকার মানুষের সঙ্গে অবাঙালি ব্যবসায়ী কারিগর প্রভৃতির ভাষার মিশ্রণের ফলই কুট্টি ভাষা। অর্থাত্‌ কুট্টিরা প্রায় প্রথম থেকেই একটা মিশ্র ভাষায় কথা বলত। অতএব বলাই যায় যে, কুট্টি ভাষা এক ধরনের ‘ক্রিয়োল’। কুট্টিদের ভাষা প্রথম দিকে ছিল প্রান্তিক মানুষের ভাষা, তাই এই ভাষা শহুরে শিক্ষিত লোক, রাজকর্মচারী প্রভৃতি মানুষজন তেমন ব্যবহার করত না। কালক্রমে কুট্টিদের বাসস্থান আর পেশা দুইয়েরই বদল ঘটেছে। ফলে যাঁদের উত্‌পত্তি কুট্টি থেকে, তাঁরা আজ বহু মর্যাদাশালী পেশায় নিযুক্ত। অনেকসময় তাঁরা মনেই রাখেন না যে, তাঁরা কুট্টি সম্প্রদায়েরই উত্তরপুরুষ। আর তাঁদের ভাষায়ও ঘটেছে বিস্তর রূপান্তর, বলা বাহুল্য সেই রূপান্তরের ঝোঁকটা পরিশীলনের দিকে।
অবশ্য এই কথাটা মানতেই হবে যে, গরিব ঢাকাইয়া কোচওয়ান বা গাড়োয়ানরা কুট্টি ভাষার আদি রূপটি বজায় রেখেছেন। এই ভাষায় রয়েছে বাংলা উর্দু হিন্দির মিশেল। ফারসিও এসেছে বটে, তবে মূলত উর্দুর মারফতে। অবশ্য মূল উপাদান উপভাষিক বাংলা। বলতেই হয়, কুট্টি ভাষার আদি রূপটি এখন প্রায় অবলুপ্তির পথে। আজ কুট্টি বলতে যে-মানুষদের বুঝি, তাঁরাও যে-ভাষায় কথা বলেন তা মূলত কুট্টি ভাষা থেকে সরে এসেছে অনেকটাই। ঢাকাইয়া কুট্টিদের রঙ্গরসিকতা এখনও মরে যায়নি অবশ্য। ভাষাগত কারণে এবং সামাজিক কারণে কুট্টি ভাষা অবশ্যই সংরক্ষণীয়।
কুট্টি ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধেও দু’-চার কথা বলা দরকার। এই ভাষায় ঘৃষ্ট চ-বর্গীয় ব্যঞ্জনধ্বনির কিছুটা তীব্র উচ্চারণ শোনা যায়। ঘৃষ্ট সঘোষ জ হয়ে যায় দন্তমূলীয় সঘোষ উষ্মধ্বনি অর্থাত্‌ z বা জ়। তালব্য শ প্রায়ই হ-তে রূপান্তরিত। শালা হয়ে যায় হালা। প্রতিবেষ্টিত তাড়িত ড় হয়ে যায় দন্তমূলীয় কম্পিত র। অপিনিহিতির প্রভাব খুবই বেশি। আইজ, কাইল, থাউক, জ়াউক ইত্যাদি। মহাপ্রাণতার ক্ষীণতাও একটা বৈশিষ্ট্য। ঝ >জ, ঘ > গ, ভ > ব।
কুট্টি ভাষা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে এই আক্ষেপ শোনা যায় প্রায়ই। তাকে ধরে রাখার একটা প্রয়াস দেখতে পাওয়া গেল মোশাররফ হোসেন ভূঞা-র ‘ঢাকাইয়া কুট্টি ভাষার অভিধান’ বইটির প্রকাশে। স্বীকার করতেই হবে, এই প্রয়াস অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রায় চার হাজার মুখশব্দের বিবৃতি আছে এতে। সংকলক স্বীকার করেছেন, তিনি শব্দ সংগ্রহ করেছেন প্রধানত বইপত্র দেখে। ক্ষেত্রজরিপের মাধ্যমে শব্দ সংগৃহীত হলে শব্দ যেমন বাড়ে, তেমনই তার বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়ে। কেননা, এসব ক্ষেত্রে ক্ষেত্রজরিপই শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। বিষয়টা সমাজভাষাবিজ্ঞানের অন্তর্গত। এর সঙ্গে বার্নস্টাইন-এর ঘাটতিতত্ত্ব (deficit theory) আর সমাজভাষার (sociolect) একটা সম্পর্ক আছে।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

যার যা ধর্ম: বাংলা ভাষায় প্রথম ধর্ম অভিধান - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

Jar Ja Dharma - Muhammad Habibur Rahman যার যা ধর্ম: বাংলা ভাষায় প্রথম ধর্ম অভিধান - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

বিশ্বের অন্যান্য ভাষায় নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক অভিধানের ছড়াছড়ি। সেদিক থেকে বাংলা ভাষা বলতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে। অবশ্য, ক্রমেই তাঁর এসব খামতি পূরণ হওয়ার পথে। এর সর্বশেষ দৃষ্টান্ত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত যার যা ধর্ম: বাংলা ভাষায় প্রথম ধর্ম অভিধান। এই অভিধানের পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণের কাজ যখন শুরু হয়, তাঁর সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ পেয়ে আমাদের যথেষ্ট খুশি হওয়ার কারণ ঘটেছিল। প্রথমত, হাবিবুর রহমানের উদ্যমশীলতা, এই অভিধানে কোনো প্রয়োজনীয় ভুক্তি বাদ পড়ল কি না, সে বিষয়ে তাঁর উৎকণ্ঠা এবং তা নির্ভুলভাবে সংযোজন করার ব্যাপারে তাঁর আন্তরিক প্রয়াস আমাদের মুগ্ধ করেছে প্রতিনিয়ত। প্রগাঢ় করেছে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধকে।
এ কথা সুবিদিত যে ভাষা-সংক্রান্ত সাধারণ অভিধান যেমন, তেমনি নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক অভিধানও একবারে সম্পূর্ণ হয় না। হওয়াটা অসম্ভব। পাশ্চাত্য থেকে প্রকাশিত ধর্মবিষয়ক একাধিক প্রকাশনীর একাধিক অভিধান দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। সেসব অভিধানের একজন প্রণেতা-প্রধান আছেন এবং তাঁকে সহায়তা করার জন্য একটা সম্পাদকীয় প্যানেল বা বোর্ড আছে। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে যার যা ধর্ম নামের এই অভিধানে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় যেসব ভুক্তি আছে, সেসবের লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক একজনই—মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। কী পাহাড়সমান প্রয়াস তাঁর!
বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত এই অভিধানের ভুক্তিসূচির দিকে একবার আদ্যোপান্ত চোখ বোলালেই পাঠকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে, এই অভিধানের তাৎপর্য কোথায়? বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্ম তো বটেই, অভিধানে গৌণ থেকে গৌণতর ধর্মেরও প্রায় কোনো বিষয়ই বাদ যায়নি। পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রত্যেক নবী ও খলিফাদের পরিচয় যেমন যথাসাধ্য দেওয়া আছে, তেমনি এই ধর্মের ক্রমবিকাশের ইতিহাস, তার গুরুত্ব, ইহ ও পরলোকের বিবরণ, নামাজ, রোজা এবং পালনীয় কৃত্যাদি, দোয়াদরুদ, পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর পরিচয়ও পৃথক পৃথক ভুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ইসলামধর্মের অনুসারী সংস্কারক, সমাজসেবী ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয়ও তুলে ধরা হয়েছে একইভাবে।
হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিষ্টান, শিখ ও নানা লোকধর্মের পরিচয়, তাদের বিবর্তনের ইতিহাস, ধর্মীয় লোকাচার, তাদের কৃত্যাদি এবং মূর্তিপূজক ধর্মগুলোর দেবদেবীদের পরিচয়ও তুলে ধরা হয়েছে যথাসম্ভব বিশ্বস্ততার সঙ্গে। আছে গ্রিক ও রোমক পুরাণের দেব-দেবীদের কথা, বিশ্বের নানা ধর্মের স্মরণীয় ঘটনাসম্পৃক্ত দিবসগুলোর বিবরণ। আছে বিশ্বের সব ধর্মের উল্লেখযোগ্য প্রচারক ও সংস্কারকদের জীবনী। বাদ যায়নি বিশ্বের সব ধর্মের তীর্থস্থানগুলোর বিবরণসংবলিত পরিচিতিও। নানা ধর্মে প্রচলিত সংস্কার বা কুসংস্কারের বিবরণও মিলবে এই গ্রন্থের সুবাদে, ভুক্তির পর ভুক্তি থেকে।
বস্তুত, বিশ্বের প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি যতই বাড়বে, আমরা দেখব, আমাদের মন ও মননের দিগন্ত তত বেশি প্রসারিত হচ্ছে, আলোকিত হচ্ছে। মন থেকে উপড়ে ফেলছি ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতা। এবং দেখছি, বিশ্বের সব ধর্মেরই এক সুর—মানবজাতির কল্যাণ, মানবজাতির মঙ্গলসাধন। এই বিচারে, যার যা ধর্ম অভিধানের আদ্যন্তপাঠ খুবই জরুরি এবং এর সংগ্রহ শিথানসঙ্গ করা আরও বেশি আবশ্যকীয়।


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মিত্রাক্ষর - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

মিত্রাক্ষর - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
মিত্রাক্ষর - মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

অমিত্রাক্ষর ছন্দ বা পরবর্তীকালে ফ্রি ভার্স বা মুক্তছন্দের আবির্ভাব বাংলা কাব্যসাহিত্যে নিশ্চিতই এক বৈপ্লবিক ঘটনা। কবিতার ছন্দমুক্তি এ ক্ষেত্রে নতুন এক জোয়ার আনলেও মিত্রাক্ষর ছন্দের কবিতা বা কাব্যকলার কি বিলুপ্তি ঘটেছে? ঘটেনি। ঘটার আশঙ্কাও নেই। রবীন্দ্রনাথ তো যথার্থই বলেছেন, ‘মিলটা মনের ওপর ঘা দেয়, তাহাকে বাজাইয়া তোলে, একটা শব্দের পরে ঠিক তাহার অনুরূপ আর একটা শব্দ পড়িলে সচকিত মনোযোগে ঝংকৃত হইয়া উঠে...।’
এবং সত্যি বলতে কী রবীন্দ্রনাথের উল্লিখিত উদ্ধৃতির অনুসরণে যখন অন্ত্যমিলের এই শব্দকোষ মিত্রাক্ষর আদ্যন্তপাঠে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করি, তখন রীতিমতো ঘোরের দশায় আক্রান্ত হই। বাংলা ভাষা যে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী ভাষাগুলোর একটি, একজন কৌতূহলী অগবেষক পাঠকও এই কোষগ্রন্থের পাঠ শেষে সহজেই তা অনুধাবন করতে পারবেন। এই সংকলন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, বাংলা ভাষার শব্দ বা শব্দবন্ধের ভান্ডার আকাশচুম্বী হতে পারার ক্ষমতাধর। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান কৃত মিত্রাক্ষর শব্দের প্রায় সার্বিক পরিচয়বাহী এই কোষগ্রন্থ বা অভিধানের বৈশিষ্ট্য এখানেই যে, যে বিশেষ প্রকরণে তিনি অভিধানটির সংকলন বা সম্পাদনার কাজ শেষ করেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়-জাগানিয়া। বস্তুত অন্যান্য ভাষায় এ জাতীয় অভিধানের অস্তিত্ব থাকলেও, আমাদের ভাষায় এত দিন তা ছিল না। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সদ্যই প্রথম সে কাজটি সম্পন্ন করে আবার অগ্রচারীর মর্যাদার অধিকারী হলেন, যেমনটা হয়েছিলেন বাংলা ভাষায় প্রথম সমার্থ শব্দকোষ প্রণয়ন করে।

প্রশ্ন তো উঠতেই পারে, লেখকও প্রশ্ন তুলেছেন, এ অভিধান কীভাবে কার কাজে লাগবে? এর জবাবে সোজাসাপটা বলা যায়, অভিনিবেশসহকারে যাঁরা বাংলা ভাষা চর্চায় নিরত, তাঁদের প্রত্যেকের কাজে লাগবে এই শব্দকোষ বা অভিধান। যেমন অন্ত্যমিল রয়েছে, এমন শব্দের একটি গুচ্ছের সন্ধান যদি আমরা সাধারণ বাংলা অভিধানে খুঁজতে যাই, তাহলে পাতার পর পাতা উল্টাতে রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হবে। কিন্তু এই শব্দকোষ বা অভিধানে আমরা অন্ত্যমিলের একগুচ্ছ শব্দ ঠিক জায়গামতো বিন্যাসিত দশায় পেয়ে যাচ্ছি। যেমন: আবর্ত আম্রাবর্ত আর্যাবর্ত ইলাবর্ত উদরাবর্ত কৈবর্ত ঘূর্ণাবর্ত জলাবর্ত ঝটিকাবর্ত কঙ্কাবর্ত তৃণাবর্ত দক্ষিণাবর্ত পরিবর্ত প্রত্যাবর্ত বর্ত্ম বাতাবর্ত বাত্যাবর্ত বামাবর্ত ব্রহ্মাবর্ত সংবর্ত সূর্যাবর্ত। অভিধানজুড়ে এমন শব্দগুচ্ছের ছড়াছড়ি। বস্তুত এটি অন্ত্যমিলের বা মিত্রাক্ষরের শব্দকোষ হলেও, অভিধান যাঁরা ঘাঁটেন, তাঁরাই দেখবেন, অন্ত্যমিলযুক্ত উল্লিখিত শব্দগুলো কত বিচিত্র ভাবপ্রকাশী! কেউ যদি এসব শব্দ থেকে বাছাই করে সমিল বা অনুপ্রাসঋদ্ধ কবিতা বা গদ্য বাক্যবন্ধ রচনা করতে চান, অনায়াসে তা করতে পারেন; কেউ যদি চান, বাংলা শব্দভান্ডারে একই ধাঁচের কত শব্দ আছে, তার হদিস করতে চাইলেও তিনি তা করতে পারেন। কিংবা একই অন্ত্যমিলের দুই বা তিনটি শব্দ বাছাই করে দেখতে পারেন—তিনটি শব্দই কত বিচিত্র ভাবপ্রকাশক। কোনোটির সঙ্গে পুরাণ জড়িত, কোনোটির সঙ্গে সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাস, কোনোটি নিছক ভাব বা ভাবনাগত অর্থের দ্যোতক।

এই শব্দকোষের ব্যবহারবিধিও নির্দেশ করেছেন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তাতে আগ্রহী পাঠক ও গবেষক মাত্রেই সহজেই বুঝে যাবেন, কীভাবে অগ্রসর হতে হবে এই শব্দকোষে আহূত ও বিন্যাসিত শব্দ বা শব্দগুচ্ছের পাঠে।

এই আলোচনার শুরুতে রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতির উল্লেখ করেছিলাম এ কারণে যে এই অন্ত্যমিল শব্দকোষ সত্যিই প্রমাণ করবে যে মিত্রাক্ষর বা অন্ত্যমিলের ব্যবহার আমাদের প্রাত্যহিক জীবন ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ বা উপজীব্য বলে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত এই অভিধান আমাদের ভাষা-গবেষণার ক্ষেত্রে একটা মাইলফলকস্বরূপ ঘটনা হয়ে উঠেছে এবং এই উচ্চারণে বাহুল্যের অবকাশ নেই।

গবেষক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন এ রকমের একটি বিরল অথচ পরিশ্রমসাধ্য কাজ এই বয়সে এসে সমাধা করার জন্য।





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস - ড. মোহাম্মদ আমীন

amarboi
বাংলা শব্দের পৌরাণিক উৎস
ব্যবহারিক পৌরাণিক অভিধান
ড. মােহাম্মদ আমীন


লেখকের কথা
রামায়ণ-মহাভারতসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে ব্যবহৃত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় বর্তমানে বহুল প্রচলিত এবং পৌরাণিক যে ঘটনাবলি থেকে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন বাগভঙ্গি বা বাগধারা প্রচলন হয়েছে সেগুলাের উৎস-বিবরণ গ্রন্থটির মূল-প্রতিপাদ্য। শুধু ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনি থেকে নয়, পৃথিবীর নানা জাতি ও ভাষার পৌরাণিক কাহিনি থেকেও অনেক শব্দ বাংলা ভাষায় বর্তমানে প্রচলিত আছে। সেসব শব্দের উৎসের বর্ণনাও এ গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে। শব্দগুলাে সংগ্রহে নানা গ্রন্থের সাহায্য ছাড়াও শুবাচ (শুদ্ধ বানানচর্চা) গ্রুপের সদস্যবর্গের দেওয়া বিভিন্ন পােস্ট অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করেছে। গ্রামবাংলায় প্রচলিত বিভিন্ন লােককাহিনি থেকেও অনেক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যাঁদের পুস্তক এবং পােস্ট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা। শুধু শব্দের ব্যুৎপত্তি নয়, শব্দের কাহিনি-উৎস জানার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার বিবর্তনের একটি ধারণাও গ্রন্থটি পাঠের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
বিনয়াবনত
ড. মােহাম্মদ আমীন

সূচিপত্র
প্রথম অধ্যায়
• অ থেকে অহিনকুল
দ্বিতীয় অধ্যায়
• আঁতাত থেকে অ্যালবাম
তৃতীয় অধ্যায়
• ইঁদুর দৌড় থেকে ঈশ্বর
চতুর্থ অধ্যায়
• উচ্চাভিলাষ থেকে ঋষি
পঞ্চম অধ্যায়
• একচ্ছত্র থেকে ঔষধি
ষষ্ঠ অধ্যায়
• কংস মামার আদর থেকে ক্ষণ
সপ্তম অধ্যায়
• খই ফোটা থেকে খােশামােদ
অষ্টম অধ্যায়
• গঙ্গার অনার্য নাম গাঙ থেকে গ্রহের দৃষ্টি
নবম অধ্যায়
• ঘটি-বাঙাল থেকে ঘোল খাওয়া
দশম অধ্যায়
• চক্ষুলজ্জা থেকে চোল
একাদশ অধ্যায়
• ছত্রভঙ্গ থেকে হেঁদো
দ্বাদশ অধ্যায়
• জগন্নাথ থেকে ঝটিকা-সফর
এয়ােদশ অধ্যায়
• টানাপড়েন থেকে ঢেলে সাজা
চতুর্দশ অধ্যায়
• তখত তাউস থেকে থ হয়ে গেলাম
পঞ্চদশ অধ্যায়
• দক্ষ থেকে দ্বিগু
ষষ্ঠদশ অধ্যায়
• ধনঞ্জয় থেকে ধুরন্ধর
সপ্তদশ অধ্যায়
• নখদর্পণ থেকে ন্যাকা।
অষ্টাদশ অধ্যায়
• পঞ্চকন্যা থেকে তাে
উনবিংশ অধ্যায়
• ফতুর থেকে ফ্রাংকেনস্টাইনের দানব
বিংশ অধ্যায়
• বকধার্মিক থেকে ব্রহ্মর্ষি
একবিংশ অধ্যায়
• ভণিতা থেকে ভূপাতিত
দ্বাবিংশ অধ্যায়
• মগের মুল্লুক থেকে ম্যাগাজিন
ত্রয়ােবিংশ অধ্যায়।
• যজুর্বেদ থেকে যােজন
চতুর্বিংশ অধ্যায়
• রবিশস্য থেকে রৌরব
পঞ্চবিংশ অধ্যায়
• লক্ষ্মী থেকে ল্যাংবােট
ষড়বিংশ অধ্যায়
• শনি থেকে ষােলােকলা
সপ্তবিংশ অধ্যায়
• সই থেকে স্বর্ণযুগ
অষ্টবিংশ অধ্যায়
• হঠকারিতা থেকে হ্যাংলা
সহায়ক গ্রন্থ

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান

বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান
বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান

বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান হচ্ছে সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত একটি চরিতাভিধান। গ্রন্থটি প্রথম ১৯৮৫ সালে চরিতাভিধান নামে প্রকাশিত হয়। পরে এই বইয়ের বিভিন্ন সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৯৭ সালে এই গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালে এটির পরিবর্ধিত, পরিমার্জিত ও সংশোধিত তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমী। দ্বিতীয় সংস্করণে প্রায় সাত শত গুরুত্বপূর্ণ মানুষের চিত্র সংযোজিত হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার বাঙালি মনীষীদের জীবন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!



This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পুরাণপ্রবেশ - গিরীন্দ্রশেখর বসু

amarboi
পুরাণপ্রবেশ
গিরীন্দ্রশেখর বসু


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পুরাণকোষ ২য় খণ্ড নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

amarboi

পুরাণকোষ ২য় খণ্ড
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
২য় খণ্ড
ক থেকে ণ

এই পৃথিবীতে কম্পন, ভূকম্পন অহরহ। কিন্তু অকম্পন ঠিক কে? নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী সম্পাদিত, সদ্য প্রকাশিত পুরাণকোষ (সাহিত্য সংসদ) থেকে জানা গেল, অকম্পন আসলে তিন জন। এক জন মৎস্যপুরাণ অনুসারে হিরণ্যকশিপুর সভার অসুর, অন্য জন রামায়ণে খর ও দূষণ নামে দুই রাক্ষসের অনুচর। তৃতীয় জন মহাভারত অনুযায়ী সত্যযুগের এক রাজা। নতুন বইটির বৈশিষ্ট্য এখানেই। পৌরাণিকা বা পৌরাণিক অভিধান গোছের সংক্ষিপ্ত ‘হু’জ হু’ নয়। বরং বিভিন্ন আকর ঘেঁটে সব চরিত্রকে পাশাপাশি রেখে দেওয়া। পৌরাণিক সাহিত্যের অসংখ্য চরিত্র, ঘটনা, স্থানের উৎস জানা কিন্তু অত সহজ নয়। অথচ হাতের কাছে নেই এমন কোনো কোষগ্রন্থ যা থেকে এক মুহূর্তে পাওয়া যেতে পারে তার হদিস। দীর্ঘ গবেষণার ফসল এই ‘পুরাণকোষ’ সেই অভাব পূর্ণ করবে। আশাকরি বইটি পাঠক কিনবেন তবেই লেখকের গবেষণার ফসল সার্থক হবে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পুরাণকোষ ১ম খণ্ড - নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

amarboi

পুরাণকোষ ১ম খণ্ড
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
প্রথম খণ্ড
অ থেকে ঔ

এই পৃথিবীতে কম্পন, ভূকম্পন অহরহ। কিন্তু অকম্পন ঠিক কে? নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী সম্পাদিত, সদ্য প্রকাশিত পুরাণকোষ (সাহিত্য সংসদ) থেকে জানা গেল, অকম্পন আসলে তিন জন। এক জন মৎস্যপুরাণ অনুসারে হিরণ্যকশিপুর সভার অসুর, অন্য জন রামায়ণে খর ও দূষণ নামে দুই রাক্ষসের অনুচর। তৃতীয় জন মহাভারত অনুযায়ী সত্যযুগের এক রাজা। নতুন বইটির বৈশিষ্ট্য এখানেই। পৌরাণিকা বা পৌরাণিক অভিধান গোছের সংক্ষিপ্ত ‘হু’জ হু’ নয়। বরং বিভিন্ন আকর ঘেঁটে সব চরিত্রকে পাশাপাশি রেখে দেওয়া। কিন্তু এই জরুরি বইয়ের এটি প্রথম খণ্ড মাত্র (অ থেকে ঔ)। ফলে পরবর্তী খণ্ডগুলির জন্য ধৈর্য ধরা ছাড়া গত্যন্তর নেই। পৌরাণিক সাহিত্যের অসংখ্য চরিত্র, ঘটনা, স্থানের উৎস জানা কিন্তু অত সহজ নয়। অথচ হাতের কাছে নেই এমন কোনো কোষগ্রন্থ যা থেকে এক মুহূর্তে পাওয়া যেতে পারে তার হদিস।
দীর্ঘ গবেষণার ফসল এই ‘পুরাণকোষ’ সেই অভাব পূর্ণ করবে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অন্ত্যমিল অভিধান - দীপংকর চক্রবর্তী

amarboi
অন্ত্যমিল অভিধান
দীপংকর চক্রবর্তী

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

চাকমা ভাষার অভিধান

চাকমা ভাষার অভিধান
চাকমা ভাষার অভিধান
নাম : চাঙ্‌মা কধা ভান্ডাল (চাকমা ভাষার অভিধান)
সম্পাদনা : সি. আর. চাকমা (চিত্ত রঞ্জন চাঙমা)

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সংসদ সমার্থশব্দকোষ - অশোক মুখোপাধ্যায়

সংসদ সমার্থশব্দকোষ - অশোক মুখোপাধ্যায়

সংসদ সমার্থশব্দকোষ - অশোক মুখোপাধ্যায়
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পরিভাষা কোষ - সুপ্রকাশ রায়

পরিভাষা কোষ - সুপ্রকাশ রায়
পরিভাষা কোষ - সুপ্রকাশ রায়
বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে জ্ঞানের পরিধি যেমন বেড়ে চলেছে, তেমনি সাধারণ পাঠকদের জিজ্ঞাসাও বাড়ছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। কিন্তু জানার সমস্যা বড় জটিল।
একটি, এমন কি কয়েকটি বিষয়ে জ্ঞান থাকলেও শেষ পর্যন্ত সামান্যই জানা হয়েছে বলতে হয়। এমন কি বিশেষজ্ঞদেরও তাঁদের নিজস্ব বিষয়গুলি সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞানলাভ করতে হলে বহুতর বিষয়ের শরণাপন্ন হতে হয়। পশ্চিমী দেশগুলির পাঠকদের কাছে হয়ত সমস্যাটা খুব বেশী কঠিন না-ও হতে পারে ? কারণ, তাদের মাতৃভাষার মাধ্যমেই তার প্রায় সব বিষয়ের শ্রেষ্ঠ বইগুলি পেতে পারেন। কিন্তু নানা কারণে বাঙ্গালী পাঠকসম্প্রদায় ঐ সুযোগ থেকে সাধারণত বঞ্চিত। আজকাল বহু বই বাংলা ভাষায় অনূদিত হলেও, অনুবাদের ত্রুটিও প্রচুর। একই বিষয়ের অনুবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন লেখক বিভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেন—যার ফলে পাঠক দিশেহারা হয়ে যান, যারা সােজাসুজি ইংরাজী বই পড়েন তাদের পক্ষেও অসুবিধা খুব কম নয়। ইংরাজী ভাষায়, অভিজ্ঞ এমন পাঠক কমই আছেন যারা ভাষার গােলমালে বেসামাল হন না। তাই অনেক সময়েই তাদের জ্ঞান হয় ভাসা ভাসা। তাই বহু ইংরাজী শব্দের প্রাঞ্জল পরিভাষার প্রয়ােজনীয়তা বহুদিন ধরে বিশেষভাবে অনুভূত। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান যেমন কষ্টসাধ্য, প্রচেষ্টা সে তুলনায় আরও নগণ্য। এদিক থেকে শুধু সাধারণ পাঠকদেরই নয়, যারা অসাধারণত্বের দাবি করেন, তাঁদের পক্ষেও এই বই যথেষ্ট উপযােগী হবে মনে হয়। তাছাড়া, এই বইয়ের দৃষ্টান্তে উৎসাহিত হয়েই হােক বা প্রলুব্ধ হয়েই হােক, আরও অনেকেই যে অনুরূপ প্রচেষ্টায় উদ্যোগী হবেন তা আশা করা, অসঙ্গত নয়। মােটের উপর বাঙ্গালী পাঠকসমাজের পক্ষে এই বইয়ের মূল্য যথেষ্ট।
এই বইয়ে বহু কঠিন বিষয়ের দুরুহ শব্দগুলির বেশ সহজবােধ্য টীকা দেওয়া হয়েছে। এর জন্য লেখককে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তা নিশ্চয়ই নিরর্থক হবে না।
প্রাচীন গ্রীক যুগ থেকে আরম্ভ করে অতি আধুনিক পঞ্চশীল-দুনিয়া পর্যন্ত যেসব মতবাদ ও আদর্শ বারবার সমাজে আলােড়ন এনেছে, তাদের সংক্ষিপ্তসার লেখক খুব সহজবােধ্য করেই বােঝাবার চেষ্টা করেছেন। বিশেষতঃ, গত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে যেসব দার্শনিক, রাষ্ট্রনৈতিক ও অর্থনৈতিক এবং ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ব সম্বন্ধীয় মতবাদ প্রচারিত হয়েছে, সেগুলি সম্বন্ধে এরকম সংক্ষিপ্ত পরিচয়পুস্তক শুধু বাংলা ভাষায় কেন, অন্য বহু ভাষাতেই হয়ত খুব কমই আছে।
অবশ্য একথা সত্য যে, একাধিক ক্ষেত্রে লেখকের ব্যাখ্যা ও টীকার সঙ্গে অনেকের মত-পার্থক্য দেখা দিতে পারে। সে ত খুবই স্বাভাবিক। তবু একথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, এই রকম একখানা বই কাছে থাকলে যে কোন পাঠক অন্ততঃ তিন হাজার বছরের বিভিন্ন মনীষীর সঙ্গে বেশ সহজ আলাপ জমিয়ে তুলতে পারবেন।
আশা করি, বাঙ্গালী পাঠকসমাজে এই বইখানি সমাদৃত হবে; এবং লেখকসম্প্রদায়ের মধ্যেও সৃজনশীল প্রতিযােগিতার পথ খুলে দিতে সাহায্য করবে।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ২৬শে জানুয়ারী, ১৯৫৮
ডাঃ ধীরেন্দ্রনাথ সেন


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা ভাষায় আরবী ফারসী তুর্কী হিন্দী উর্দু শব্দের অভিধান

বাংলা ভাষায় আরবী ফারসী তুর্কী হিন্দী উর্দু শব্দের অভিধান
বাংলা ভাষায় আরবী ফারসী তুর্কী হিন্দী উর্দু শব্দের অভিধান
কাজী রফিকুল হক

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তাল অভিধান - মানস দাশগুপ্ত

তাল অভিধান - মানস দাশগুপ্ত
তাল অভিধান - মানস দাশগুপ্ত

মানস দাশগুপ্ত ভূমিকায় লিখছেন;
জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে অভিধান এক অপরিহার্য গ্রন্থ। বিংশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষের সর্বত্র আর পাঁচটা শিক্ষণীয় বিষয়ের মতন সংগীতও বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পঠিত হচ্ছে। দুঃখের বিষয় এই যে, সংগীতের জন্য একান্ত প্রয়ােজনীয় গ্রন্থগুলি আজও আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে পারিনি। সংগীত বিষয়ে যাঁরা প্রকৃত অর্থে জ্ঞানী কেউই তাঁদের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি সহ গবেষণা-ভিত্তিক সংগীত-গ্রন্থ রচনা করার জন্য আজও সাদর আহ্বান জানায়নি। একমাত্র ব্যতিক্রম পঃবঙ্গ সরকারের রাজ্য ‘সংগীত আকাদেমি'। সংগীতের ব্যাপক গবেষণা ও প্রকাশনার ব্যাপারে এই প্রতিষ্ঠানটি আদর্শ-স্বরূপ বলা যেতে পারে। এদেরই প্রকাশিত, সংগীতাচার্য ডঃ বিমল রায় লিখিত ও সংগীতশাস্ত্রী ডঃ প্রদীপকুমার ঘোষ সম্পাদিত, “সংগীতিশব্দকোষ” গ্রন্থটি পাঠ করে আমি অনুপ্রাণিত হই। অবশ্য তাল সংক্রান্ত একটি ছােট অভিধান রচনা করার পরিকল্পনা আমি বহু বছর আগেই নিয়েছিলাম এবং তদনুসারে তাল ও আনদ্ধবাদ্য সংক্রান্ত সত্য-মিথ্যা' জড়ানাে নানা পারিভাষিক অর্থ একটি পুরণাে খাতায় লিপিবদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু সেগুলির সত্যাসত্য যাচাই করার মতনউপযুক্তজ্ঞান ও বিচার না থাকায় খাতাটি অবহেলিতঅবস্থায় পড়েছিল। পরে বিশ্বভারতীর সংগীতভবনের গ্রন্থাগারিক শ্রীকালীপদ চৌধুরীমহাশয়ের সহযােগিতায় আধুনিককালের কিছু বিশিষ্ট সংগীত-গ্রন্থের পৃষ্ঠা ওল্টাবার সুযােগ পাই। কোনাে কোনাে গবেষণামূলক গ্রন্থের ভূমিকায় দেখি গ্রন্থ-রচনার ব্যাপারে ডঃ বিমল রায় কিংবা ডঃ প্রদীপ কুমার ঘােষের নিকট প্রত্যক্ষ ঋণের কথা লেখকগণ অকপটে স্বীকার করেছেন। ফলে, আমার খাতায় সংকলিত পারিভাষিক অর্থ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগুলি যাচাই করে নেবার জন্য আমি ডঃ ঘােষের স্মরণাপন্ন হই । উনি শান্তিনিকেতনের সংগীতভবনে বিভাগীয় বিশেষ কাজের জন্য দু'এক দিন অবস্থান করলে আমি আমার খাতাটি তাঁর হাতে তুলে দিই। উনি দু'চারটি পৃষ্ঠা উল্টে আমার ত্রুটিগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করান এবং পরে খাতাটির আদ্যোপান্ত সংস্কার করে দিয়ে শুধু যে আমায় আজীবন কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ রাখলেন তাই নয়, বহু পরিভাষা ও প্রাচীন তালের সংযােজন করে দিয়েছেন এবং সেগুলিকে উদাহরণ সহ আমায় বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমার অসাবধনতা বশত এই গ্রহে সামান্য যে দোষ-ত্রুটি আছে, পরবর্তি সংস্করণে তা দূর করার চেষ্টা করবাে।
এই অভিধান রচনার ব্যাপারে আমার নিরন্তর প্রেরণা জুগিয়েছেন আমার সহধর্মিনী সুগায়িকা শ্রীমতী মমতা দাশগুপ্তা। তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছােট করতে চাই না।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com