সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label মহিউদ্দিন আহমদ. Show all posts
Showing posts with label মহিউদ্দিন আহমদ. Show all posts

সিরাজুল আলম খান এবং স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস - মহিউদ্দিন আহমদ

সিরাজুল আলম খান এবং স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস মহিউদ্দিন আহমদ
প্রবন্ধ
সিরাজুল আলম খান এবং স্বাধীনতার নিউক্লিয়াস
মহিউদ্দিন আহমদ

শ্রাবণ মাসের ৬ তারিখ শুক্রবার, ২১ জুলাই ১৯৭২। মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হাবে অঝােরে। কিন্তু অবাক করা সকাল। আকাশে টুকরাে টুকরাে মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, কোথাও সাদা, কোথাও ধূসর। কিন্তু রােদ আছে।

মাত্র সাত মাস হলাে দেশ স্বাধীন হয়েছে। মনটা ফুরফুরে থাকার কথা। ভাের থেকেই মুহসীন হলে উত্তেজনা। ছাত্রলীগের তিন দিনের সম্মেলন শুরু হবে। কয়েকজন সঙ্গী-সাথি নিয়ে রওনা দিলাম। পল্টন ময়দানে হাজি চান মিয়া ডেকোরেটরের বানানাে বিশাল শামিয়ানার নিচে শুরু হলাে সম্মেলন কাটায় কাটায় ১০টায়। শুরুতে ছিল কিছু আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধন করার কথা ছিল মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ছাত্রলীগের নেতা স্বপন কুমার চৌধুরীর বাবার। তিনি আসেননি। তাঁর বড় ভাই অধ্যাপক রূপেন চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছেন। কিন্তু তিনি পল্টনে না এসে চলে গেছেন সােহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ওখানেও সম্মেলন চলছে ছাত্রলীগের আরেক গ্রুপের। উদ্বোধন ছাড়াই শুরু হলাে আমাদের সম্মেলন।

আ স ম আবদুর রব আর শাজাহান সিরাজ ছাত্রলীগ থেকে বিদায় নিচ্ছেন। তারা কিছু কথাবার্তা বললেন। তারপর ঘণ্টাখানেকের বিরতি। ওই সময় লাল মলাটের একটা বুকলেট বিলি কল্লা হলাে। রাজনৈতিক রিপাের্ট। আমরা তখন দিল্লি-মস্কোর চোখ দিয়ে দুনিয়া দেখার চেষ্টা করছি। পুস্তিকায় তার ছাপ আছে। এক জায়গায় মন্তব্য ছিল, পীত সাম্রাজ্যবাদী চীন। এই শব্দচয়ন আমাদের অনেকেরই ভালাে লাগেনি। কিন্তু চোখ আটকে গেল অন্য একটি বাক্যে, '১৯৬২ সাল থেকেই ছাত্রলীগের ভেতরে একটি নিউক্লিয়াস বাংলাদেশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছিল।

১৯৬৯ সালের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই দেখেছি, ছাত্রলীগের মধ্যে দুটি স্রোতােধারা। একটির কেন্দ্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, অন্যটির মধ্যমণি ছাত্রলীগের আরেক সাবেক নেতা সিরাজুল আলম খান। আমি কেমন করে জানি সিরাজুল আলম খানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘরানার মধ্যে ঢুকে গেছি। আমি জানতাম এমন একটা প্রক্রিয়ার কথা, যেখানে আমরা সরাসরি স্বাধীনতা ও সমাজতন্ত্রের কথা বলতাম। অন্য গ্রুপের বন্ধুরা আমাদের নিয়ে মশকরা করত। বলত, পাতি বিপ্লবী।

বিজ্ঞানে নিউক্লিয়াস বলতে যা বােঝায়, রাজনীতিতে তার রূপ হয়তাে আলাদা। এটা এমন একটা প্রক্রিয়া, যাকে একজন বা একটি ছােট গ্রুপ সঞ্চালন করে, নিয়ন্ত্রণ করে। তখন থেকেই জানি, শেখ মুজিব হলেন আসল নেতা। তার সবচেয়ে আস্থাভাজন শিষ্য হলেন সিরাজুল আলম খান। আমরা শেখ মুজিবকে বলি বঙ্গবন্ধু আর সিরাজুল আলম খানকে বলি সিরাজ ভাই। স্বাধীনতার পর তিনি কলকাতা থেকে ফিরে এলেন। তখন লক্ষ করলাম, অনেকেই তাকে 'দাদা' বলতে শুরু করেছে। "দাদা” শব্দটির ব্যাপারে আমার অ্যালার্জি ছিল। উগান্ডার স্বৈরশাসক ইদি আমিনকে দাদা নামে সম্বোধন করা হতো।

আমার ধারণা ছিল, শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য গােপনে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেন, অন্তুত প্রকাশ্যে। কিন্তু সিরাজুল আলম খানকে দিয়ে তিনি অনেক কাজ করান। সিরাজ হলেন শেখ মুজিবের ডান হাত। কিন্তু যখন শুনলাম, শেখ মুজিব পল্টনের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে না এসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলে গেছেন, তখন বিষম ধাক্কা খেলাম মনে। এটা কি হলো? এমনটা হবে তা তো আগে কেউ বলেনি?


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল - মহিউদ্দিন আহমদ

এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল - মহিউদ্দিন আহমদ
এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল - মহিউদ্দিন আহমদ





Option #1

Option #2
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আওয়ামী লীগঃ যুদ্ধ দিনের কথা ১৯৭১ - মহিউদ্দিন আহমদ

আওয়ামী লীগঃ যুদ্ধ দিনের কথা ১৯৭১ - মহিউদ্দিন আহমদ
আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১ বইয়ের ভূমিকায় লেখক জানাচ্ছেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম স্বাভাবিকভাবে হয়নি। একটি রাষ্ট্র ভেঙে আরেকটি রাষ্ট্র, তা-ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে।’ সেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল যে আওয়ামী লীগ, তার ১৯৭১ সালের পূর্বাপর ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি এ বইয়ে। এতে মোট ছয়টি অধ্যায়-‘সংলাপ’, ‘অপারেশন সার্চলাইট’, ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’, ‘জঙ্গনামা’, ‘শেষ দৃশ্য’ এবং ‘উপসংহার’। বইটির সূচনা বেশ নাটকীয়ভ। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। এদিন ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চরমভাবে হতাশ করে। নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

বইতে তুলে ধরা হয়েছে বাঙালি জনতার প্রচণ্ড বিক্ষোভ মিছিল, ২ মার্চ কলাভবনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটিকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করার সিদ্ধান্ত, বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর সামরিক বাহিনীর হামলা, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের ভয়াল কালোরাত, স্বাধীনতার ঘোষণা, প্রতিরোধযুদ্ধের সূচনা, বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করা, তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে প্রবাসী সরকার গঠন, যুদ্ধের সেনাধ্যক্ষ নির্বাচন ও সেক্টর গঠন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সহায়তা, পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয়, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

সৌজন্যেঃ মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আওয়ামী লীগ : উত্থানপর্ব ১৯৪৮ - ১৯৭০ মহিউদ্দিন আহমদ

amarboi
আওয়ামী লীগ : উত্থানপর্ব ১৯৪৮ - ১৯৭০ মহিউদ্দিন আহমদ
ছাত্রলীগের জন্ম

ভারতের মুসলমানের সনাতন মনস্তত্ত্বে 'উম্মাহ' ছিল, কিন্তু ইউরোপীয় ধাঁচের আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ধারণা ছিল না। দ্বিজাতিতত্ত্বের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হলো পাকিস্তান। ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ পাকিস্তান পেয়ে আবেগে ভেসে গেল। কিন্তু ধর্ম-বর্ণ-গোত্ৰনির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সমঅংশীদারির ভিত্তিতে একটা জাতি-রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্ন যখন উঠল, তখন দ্বিজাতিতত্ত্বের সঙ্গে এই বাস্তবতার দ্বন্দ্ব সামনে চলে এল। দ্বিজাতিতত্ত্বের লজিকটা তখন আর কাজ করছিল না।
১৯৪০-এর দশকে মুসলিম লীগ যখন প্রবল প্রতাপে বিরাজমান, তখন মূলধারার বাইরে কিছু কিছু রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছিল। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা প্রকাশিত হওয়ার পর মুসলিম লীগের বামধারার কর্মীদের উদ্যোগে ঢাকায় ‘গণআজাদী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের জন্ম হয়। এ সংগঠনের আহবায়ক মনােনীত হন ঢাকার মুসলিম লীগের নেতৃস্থানীয় কর্মী কামরুদ্দিন আহমদ। এ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন মােহাম্মদ তােয়াহা, অলি আহাদ, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ। তাঁরা মুসলিম লীগের প্রতি আস্থা হারিয়েছিলেন এবং এ দেশে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিচর্চার চিন্তা করেছিলেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিএনপি সময়-অসময় - মহিউদ্দিন আহমদ

বিএনপি সময়-অসময় - মহিউদ্দিন আহমদ বিএনপি সময়-অসময় - মহিউদ্দিন আহমদ
বাঙালি আবেগপ্রবণ জাতি। এ নিয়ে আমরা শ্লাঘা অনুভব করি। কিন্তু বিষয়টা সব সময় গৌরবের নয়। আবেগ যুক্তিকে ঢেকে দেয়, জিজ্ঞাসার পথ রুদ্ধ করে ফেলে, মীমাংসার পথ করে দেয় কঠিন। অতি আবেগের কারণে আমরা জাতিগতভাবে এখনো ইতিহাসমনস্ক হতে পারিনি। আর সে জন্যই আমরা ইতিহাসের চরিত্র নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়েছি বারবার। যা তৈরি করেছি, তা হলো কতগুলো কল্পকাহিনি বা মিথ ।
আমাদের সবকিছু বাড়িয়ে বলার অভ্যাস। অতিরঞ্জন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। মধ্যযুগের দোভাষী পুঁথিতে পড়েছি: ‘লাখে লাখে সৈন্য মরে কাতারে কাতার, শুমার করিয়া দেখি সাড়ে পঞ্চ হাজার।’
১৯৮৫ সালের ২৫ মে উড়িরচরে সর্বনাশ ঘূর্ণিঝড় হলো। পেশাগত কাজের জন্য আমি সেদিন উড়িরচরে ছিলাম বিকেল পর্যন্ত। সন্ধ্যায় উড়িরচর আর সন্দ্বীপের মধ্যে যে চ্যানেল, সেখানে আমাদের জাহাজ ‘অন্বেষা' (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপ জাহাজ) নোঙর করা ছিল । তার আগের সপ্তাহে আমরা উড়িরচরে একটা শুমারি শেষ করেছিলাম। আমরা প্রতিটি ঘরে গিয়েছিলাম। তখন উড়িরচরে ছিল ৭৪০টি পরিবার, জনসংখ্যা হবে সাকুল্যে চার হাজার । ঝড়ের পর ঢাকার পত্রিকাগুলো পাল্লা দিয়ে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়াতে থাকল। বাংলাদেশ অবজারভার ২৯ মে সংবাদ শিরোনাম করল, ‘মৃতের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে ।’ মুশকিল হচ্ছে, এরা কেউ উড়িরচরে যায়নি। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ের আগে উড়িরচরের নাম পর্যন্ত শোনেনি।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও এরকম অনেক কিছু লেখা হচ্ছে। ইতিহাস লেখার সময় আমাদের সব সময় একটা জুজু তাড়া করে বেড়ায়। সত্য কথা লিখতে গেলে কেউ যদি বলে বসে ব্যাটা অমুকের দালাল । তাদের দৌরাত্ম্যে সত্য বলা বা লেখা রীতিমতো বিপজ্জনক ।
এ ব্যাপারে আধুনিক বাংলায় প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে আনা যায় । তাকে অনেকেই ‘ইংরেজের দালাল’ বলতে কসুর করেননি। তার সম্পর্কে লেখক নীরদচন্দ্র চৌধুরীর মন্তব্য এখানে উদ্ধৃত করা প্রয়োজন মনে করছি।
এখনো অনেকে মনে করেন, আনন্দমঠ ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকী, কানাই গাঙ্গুলী, উল্লাসকর দত্ত, বারীণদা, উপীনদার জন্মদাতা । অথচ বঙ্কিমচন্দ্র নিজে আনন্দমঠের তাৎপর্য সম্বন্ধে ভুল করিবার কোনো ছিদ্র রাখেন নাই। তিনি প্রথম সংস্করণের ভূমিকাতেই লেখেন,
‘বাঙ্গালীর স্ত্রী অনেক অবস্থাতেই বাঙ্গালীর প্রধান সহায়। অনেক সময় নয়। সমাজ বিপ্লব অনেক সময়েই আত্মপীড়ন মাত্র । বিদ্রোহীরা আত্মঘাতী। ইংরেজ বাঙ্গলা দেশ অরাজকতা হইতে উদ্ধার করিয়াছেন । এই সকল কথা এই গ্রন্থে বুঝানো গেল।’ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবিবাসরীয়, আনন্দবাজার পরিকা ৩ জুলাই ১৯৮৮)
আমরাও অনেক সময় আবেগতাড়িত হয়ে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ি । মনে করি, আন্দোলন’ একটি অতি পবিত্র ও জরুরি বিষয়। প্রতিটি মুহূর্তই যেন ক্রান্তিকাল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আন্দোলন যে আসলে উচ্ছৃঙ্খলতা, তা আমরা ভয়ে স্বীকার করি না । কেননা আন্দোলনকারীরা আমাদের ওপর চটে যেতে এবং আমাদের সাম্রাজ্যবাদ ও স্বৈরাচারের দালাল ও পোষ্য হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দিতে পারেন। ফলে ‘আন্দোলন' করতে করতেই অনেকে জীবন পার করে দেন । বাংলাদেশের রাজনীতি শুরু থেকেই আন্দোলনের চক্রে পড়েছে। অনেক সময় মারামারি, প্রতিপক্ষের সভা ভেঙে দেওয়া এবং খুনখারাবিকেও আন্দোলন' বলে চালিয়ে দেওয়া হয় ।
লেখাজোকা নিয়ে নানাজনের নানা উদ্দেশ্য। কেউ মনে করে, এটাই বুঝি সবচেয়ে সহজ কাজ ! তাই তার গুছিয়ে কাজটি করার তেমন দায় নেই। সে লেখে মনের আনন্দে, নিজের গরজে । কেউ কেউ লেখে ফরমাশমতো । ওপরওয়ালা যা বলবেন, যেভাবে বলবেন, তাকে সেভাবেই লিখতে হবে । এভাবেই সম্ভবত ‘মসিজীবী’ পেশা তৈরি হলো । কেউ কেউ আবার লেখেন সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য। এ সত্য সব সময় চিরন্তন সত্য নয়। অধ্যাপক তার অনুগত ছাত্রটিকে বলে দেন, তুমি এটা ঠিক বা ভুল প্রমাণ করো। দুটোই করা সম্ভব-দুই ধরনের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে। একটা প্রস্তাবনা বা হাইপোথিসিসকে প্রমাণ করাই এখানে মুখ্য। সত্যাম্বেষণ আসল লক্ষ্য নয়।
সময় এবং ইতিহাসকেও এরকম নানাভাবে দেখা যায়, বিচার করা যায়, বিশ্লেষণ করা চলে । একসময় কমিউনিষ্ট পার্টিগুলো তাদের কাউন্সিল সভার রিপোর্টে লিখত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি চমৎকার, অবজেকটিভ কন্ডিশন খুবই অনুকূল, প্রয়োজন শুধু ‘সাবজেকটিভ কন্ডিশন’ তৈরি করা। তারপর হঠাৎ করে দেখা গেল চমৎকার স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে এবং বিপ্লবের বেলুন ফুটো হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলেন, কিছুই ঠিকমতো চলছে না। চারদিকে ঘোর অন্ধকার। মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হয়েছে। মানুষ না খেতে পেয়ে মরছে। বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়ে গেছে।
এসব কথা যারা লেখেন বা প্রচার করেন, তারা সবাই পণ্ডিত শ্রেণির, জ্ঞানীগুণী এবং অভিজ্ঞ । তাদের কথা বলার একটা ধরন আছে । সাবালক হওয়ার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেই ধরনটা সাধারণত বদলায় না।
এখানে আমি যে বিষয়টি নিয়ে লিখছি তাহলো একটা রাজনৈতিক দলের ইতিবৃত্ত। ‘ইতিহাস’ বলার সাহস আমার নেই। কেউ কেউ বলতে পারেন, তোমার কি ইতিহাস-শাস্ত্রের ডিগ্রি আছে? স্বীকার করি, নেই। তবু সাহিত্যের ছাত্র না হয়েও যদি দু-একটা পদ্য লেখা যায়, পদার্থবিজ্ঞানের ডিগ্রি নিয়ে যদি ব্যাংকে চাকরি করা যায়, রাজনীতিবিজ্ঞান না পড়ে যদি রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়া যায়, তাহলে ইতিহাস নিয়ে দু-চার কথা বলার অধিকার আমি ন্যায্য হিসেবেই দাবি করতে পারি। তার পরও বলব, আমি যা লেখার চেষ্টা করছি, একদিন হয়তো তা ইতিহাসচর্চার উপাদান হতে পারে ।
সে যা-ই হোক। একটা ঘটনা, সময় বা চরিত্রকে আমরা কে কীভাবে বিশ্লেষণ করব, সেটা নির্ভর করে আমাদের মন-মানসিকতা, শিক্ষা-দীক্ষা এবং মতলবের ওপর। এখানে আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সাক্ষী মেনে তার লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেব। বাংলা ১৩৩৪ সনের শ্রাবণ মাসে ‘সাহিত্যধর্ম’ নামে তিনি একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন । তাতে কী লিখেছিলেন তিনি?
কোটালের পুত্র, সওদাগরের পুত্র, রাজপুত্র, এই তিনজন বাহির হন রাজকন্যার সন্ধানে। বস্তুত রাজকন্যা বলে যে একটা সত্য আছে, তিন রকমের বুদ্ধি তাকে তিন পথে সন্ধান করে । কোটালের পুত্রের ডিটেকটিভ-বুদ্ধি, সে কেবল জেরা করে। করতে করতে কন্যার নাড়নক্ষত্র ধরা পড়ে; রূপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে শরীরতত্ত্ব, গুণের আবরণ থেকে মনস্তত্ত্ব। কিন্তু এই তত্ত্বের এলাকায় পৃথিবীর সকল কন্যাই সমান দরের মানুষ—ঘুটে কুড়োনির সঙ্গে রাজকন্যার প্রভেদ নেই। এখানে বৈজ্ঞানিক বা দার্শনিক তাকে যে-চক্ষে দেখেন সে চক্ষে রসবোধ নেই, আছে কেবল প্রশ্নজিজ্ঞাসা ।
আর-এক দিকে রাজকন্যা কাজের মানুষ। তিনি রাধেন বাড়েন, সুতো কাটেন, ফুলকাটা কাপড় বোনেন। এখানে সওদাগরের পুত্র তাকে যে চক্ষে দেখেন সে চক্ষে না আছে রস, না আছে প্রশ্ন; আছে মুনাফার হিসাব ।
রাজপুত্র বৈজ্ঞানিক নন--অর্থশাস্ত্রের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি-তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন, বোধ করি, চব্বিশ বছর বয়স এবং তেপান্তরের মাঠ। দুর্গম পথ পার হয়েছেন জ্ঞানের জন্যে না, ধনের জন্যে না, রাজকন্যারই জন্যে । এই রাজকন্যার স্থান ল্যাবরেটরিতে নয়, হাটবাজারে নয়, হৃদয়ের সেই নিত্য বসন্তলোকে যেখানে কাজের কল্পলতায় ফুল ধরে । যাকে জানা যায় না, যার সংজ্ঞা নির্ণয় করা যায় না, বাস্তব ব্যবহারে যার মূল্য নেই, যাকে কেবল একান্তভাবে বোধ করা যায়, তারই প্রকাশ সাহিত্যকলায়, রসকলায়। এই কলাজগতে যার প্রকাশ কোনো সমঝদার তাকে ঠেলা দিয়ে জিজ্ঞাসা করে না, ‘তুমি কেন’ ।
আমি ঠিক এইভাবেই ইতিহাসচর্চার অপরিচিত, অমসৃণ পথে ঢুকে পড়েছি, একান্তই নিজের ইচ্ছায়। আমি সওদাগর-পুত্রের মতো প্রশ্ন তুলব না, দেশটা শেখ মুজিব কত টাকায় ভারতের কাছে বেঁচে দিয়েছেন এবং বিক্রি-বাট্টার দলিলটা কার কাছে আছে। কোটালপুত্রের মতো আমি গোপনে তালাশ করব না, জিয়াউর রহমান আইএসআইয়ের কাছ থেকে কী ফন্দি-ফিকির নিয়ে এসেছিলেন এবং এ জন্য তাকে কত মাসোহারা দেওয়া হতো। আমি দেখার চেষ্টা করব, যা দৃশ্যমান। ইতিহাস নির্মাণের জন্য আমি যে দেয়াল তৈরি করতে যাচ্ছি, তার একটি একটি করে ইট আমাকে সংগ্রহ করতে হয়েছে দৃশ্যমানতা থেকে। যা পড়েছি, যা দেখেছি, যা শুনেছি, অনুসন্ধান করে যা পেয়েছি, যাচাই-বাছাই করে আমি তা-ই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যারা ‘দলদাস’ এবং গুজব ছড়িয়ে কিংবা কেচ্ছা বানিয়ে নিজের জন্য একটা পাকা আসন তৈরি করতে চান, আমার লেখা তাদের হতাশ করবে।
সম্প্রতি আমি বাংলাদেশের নিকট অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে লিখতে আগ্রহী হই । ভেবেছি, রাজনৈতিক দলগুলোর ইতিহাস থাকা দরকার। কাজটা পরিশ্রমের এবং সময়সাপেক্ষ। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নির্মোহ হওয়া। প্রথমেই যে কাজটিতে হাত দিলাম, তা হলো জাসদ তো লেখাটা বই আকারে ছাপা হলো—জাসদের উত্থান পতন; অস্থির সময়ের রাজনীতি। লেখাটা অনেকেই পছন্দ করলেন, কেউ কেউ গালাগালও দিলেন । এটাও লেখক হিসেবে আমি পরম প্রাপ্তি বলে মনে করি। অনেকেই বইটি পড়ে বলেছেন, এত কিছু তো আগে জানতাম না। আসলে আমরা অনেক কিছুই জানি না, অথবা যেটুকু অন্যকে জানালে নিজের সুবিধে হবে, শুধু সেটুকুই জানাই। একজন ইতিহাসবিদ বা গবেষকের কাজ হলো গুম হয়ে যাওয়া সত্যকে খুঁজে বের করা। পাঠকই চূড়ান্ত রায় দেবেন, তিনি কতটুকু নেবেন আর কতটুকু ফেলে দেবেন।
জাসদের ওপর বইটি ছাপা হওয়ার পর ভাবলাম, নতুন কিছু একটা শুরু করা যাক । বিএনপি একটা বড় দল এবং এটা নিয়ে লেখা দরকার । এই পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি সম্পর্কে কিছু লেখা হলো ।
আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণে তেমন পটু নয়। বিএনপির ক্ষেত্রে এটা দারুণভাবে প্রযোজ্য। অনেক বিষয়ের ওপর তথ্য জোগাড় করতে আমাকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে । তবে লিখিত রচনাকেই আমি প্রধান সূত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। সূত্রে ব্যবহৃত ব্যক্তির নাম, পদ-পদবি এবং বানানরীতি যথাসম্ভব অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে মেজর হয়তো হয়ে গেছেন ‘ক্যাপ্টেন এবং ‘ক্যাপ্টেন’ হয়ে গেছেন লেফটেন্যান্ট’ । বিষয়টার ব্যাপ্তি এবং মাত্রা এত বেশি যে অল্প কথায় একটা মাত্র বইয়ে তা শেষ করা সম্ভব নয় । আমিও পারিনি । হয়তো অনেক ঘটনা বা বিষয় বা চরিত্র বাদ পড়ে গেছে, কিংবা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা যায়নি। আমার কথা হলো, আমি শুরু করলাম মাত্র। আরও অনেকেই লিখবেন এ দলটিকে নিয়ে । তারপর একদিন হয়তো দলটির পরিপূর্ণ ইতিহাস লেখার সমস্ত উপকরণ জোগাড় করা সম্ভব হবে ।
লেখাটিকে যত দূর সম্ভব স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য ইতিহাসের কিছু বাকের প্রসঙ্গ এসেছে । সে জন্য প্রাসঙ্গিক কয়েকজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। বইয়ের শেষে তাদের তালিকা ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। বইটি লিখতে নানাজনের কাছ থেকে উৎসাহ এবং সহযোগিতা পেয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ ছবি, তথ্য ও দলিল দিয়ে সাহায্য করেছেন যারা, তাদের মধ্যে করপোরাল (অব.) আবদুল মজিদ, মেজর (অব.) মনজুর কাদের, মাহফুজ উল্লাহ, অধ্যাপক নেহাল করিম, জাহেদ করিম, আরিফ মঈনুদ্দীন, মতিউর রহমান চৌধুরী অন্যতম। এ ছাড়া বিজন সরকার, শিমুল বিশ্বাস, রেজাউল হক মোশতাক, সালিম সামাদ, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, আয়েশা পারুল ও মো, কামালউদ্দিন মোল্লা নানাভাবে সাহায্য করেছেন। আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এই গ্রন্থে ব্যবহৃত ছবিগুলো সমসাময়িক পত্রিকা, ব্যক্তিগত সংগ্রহ ও ইন্টারনেট থেকে নেওয়া ।
লিখতে গেলে ভুলভ্রান্তি হতে পারে। এই বইতেও তার ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। আশা করছি, সহৃদয় পাঠক কোনো ক্রটি পেলে ধরিয়ে দেবেন।
মহিউদ্দিন আহমদ

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি - মহিউদ্দিন আহমদ

জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি - মহিউদ্দিন আহমদ জাসদের উত্থান পতনঃ অস্থির সময়ের রাজনীতি
মহিউদ্দিন আহমদ
সৌজন্যেঃ মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ

ভূমিকা
ষাট ও সত্তরের দশকে বাংলাদেশ ছিল রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে টালমাটাল । আমরা অনেকেই এই অস্থির সময়কে দেখেছি, এর নানান কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছি। আমাদের আছে অনেক অর্জন, অনেক ব্যর্থতা; অনেক আনন্দ, অনেক বেদনার স্মৃতি। আমরা এই সময়টাকে ধরে রাখতে চাই, দেখতে চাই নির্মোহ দৃষ্টিতে। আমরা চাই এই সময়ের বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা।
আমার লেখার প্রধান বিষয় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ১৯৭২ সালে এই দলটির জন্ম হলেও এর একটা পূর্ব-ইতিহাস আছে। জাসদকে বুঝতে হলে এর পটভূমি জানা দরকার। প্রয়োজন ইতিহাসের মোড়ক উন্মোচনের। ইতিহাস কোনো ঠাকুরমার ঝুলি' নয়। বরং এটা হয়ে উঠতে পারে একটা ‘প্যানডোরার বাক্স’। এর ডালা খুললে এমন সব সত্য বেরিয়ে আসে, যার মুখোমুখি হতে চাই না আমরা অনেকেই। কেননা, সত্যটা জানাজানি হয়ে গেলে আমাদের অনেকের বর্তমানটা নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। ইতিহাসচর্চার এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, গুম হয়ে যাওয়া সত্যকে খুঁজে বের করে আনা । কাজটা অত্যন্ত পরিশ্রমের এবং অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকির।
একাত্তরে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের একটা গৌরবোজ্জ্বল উত্থানপর্ব আছে। তার অনিবার্য ধারাবাহিকতায় আমরা একটা সশস্ত্র প্রতিরোধপর্বের সূচনা দেখতে পাই একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে। এই পর্বের সমাপ্তি ঘটে ১৬ ডিসেম্বর দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যখন আমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলি, সে যুদ্ধ তো ১৬ ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যায়নি? দেশের মুক্তি হয়েছে, মানুষের মুক্তি হয়নি।
মানুষের মুক্তি, বিশেষ করে তার ইহজাগতিক সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, উন্নতি, প্রবৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য নানাজনের নানা মত, নানা পথ। মত ও পথ অনুযায়ী মানুষ জোটবদ্ধ হয়। তারা সংগঠন গড়ে তোলে। মানুষের এই যুথবদ্ধ প্রয়াসের এক আধুনিক রূপ হলো রাজনৈতিক দল।
রাজনৈতিক দলগুলো আবর্তিত হয় কোনো-না-কোনো মতাদর্শকে ঘিরে । আমাদের দেশে দলগুলো নানা কারণে ব্যক্তিকে মতাদর্শের ওপরে জায়গা দিয়ে একধরনের পীরবাদের জন্ম দিয়েছে। এখানে দলের নেতা ঈশ্বরের সমতুল্য, কিংবা তার চেয়েও বেশি। কেননা, তিনি দৃশ্যমান। এই মনস্তত্ত্ব থেকেই তৈরি হয় ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি, রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পায় ব্যক্তির কাল্ট, তিনি যেন হয়ে ওঠেন সব ক্ষমতার উৎস। রাজনীতির এরকম পরিণতি থেকে ইতিহাসকে আলাদা করা কঠিন। এখানে ইতিহাস সময় কিংবা ঘটনাকেন্দ্রিক না হয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয় । যেমন আমরা বলি মুজিব আমল, জিয়ার আমল, এরশাদের আমল ইত্যাদি।
আমাদের দেশের ইতিহাসচর্চার একটা বড় সমস্যা হলো নির্মোহ হয়ে উঠতে না-পারা। যে ঘটনাগুলো আমাদের জীবনকালে ঘটেছে এবং আমরা অনেকেই যেসব ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে গেছি বা আছি, সে ঘটনাগুলোকে ঘিরে আমরা একধরনের আবেগ অনুভব করি। এই আবেগের সঙ্গে জড়ানো আছে ভালোবাসা অথবা ঘৃণা। ফলে আমরা যখন কিছু বলি বা লিখি, তখন অনেক সময় ভালোবাসা বা ঘৃণা দ্বারা তাড়িত হই ।
আমাদের দেশে ইতিহাস লেখার আরেকটা বড় সমস্যা হলো পর্যাপ্ত সূত্রের অভাব। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটা মোড় পরিবর্তন হয়েছিল ষাটের দশকে । ওই সময় এবং তার পরের অনেক প্রক্রিয়া ও ঘটনার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই। কেননা, সে আন্দোলন সব সময় প্রকাশ্য ছিল না। গোপন প্রক্রিযার দালিলিক প্রমাণ সব সময় থাকে না। নিরাপত্তার কারণেই তা রাখা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে ইতিহাসচর্চার অন্যতম প্রধান সূত্র হচ্ছে ওই সময়ের কুশীলবদের মুখ থেকে শোনা কথা, ‘ওরাল হিস্ট্রি' বা কথ্য ইতিহাস। সেখানেও সমস্যা আছে। অনেকেই নিজেকে মনে করেন অপরিহার্য ও অভ্রান্ত। অন্যদের মনে করেন ভ্রান্ত, বিভ্রান্ত অথবা ষড়যন্ত্রকারী। ফলে তাদের কথা শুনে যারা লেখেন, তাদের লেখা একপেশে হয়ে যায়, যদি না তারা ওই সময়টা বোঝার জন্য সময়ের অন্য চরিত্রগুলোর সঙ্গেও কথাবার্তা বলেন ।
আমাদের দেশে অনেকে ইতিহাসের চর্চা করেন গবেষণার জন্য । গবেষকদের মধ্যে একটা সাধারণ ফর্মুলা গ্রহণের ঝোক থাকে। প্রথমে একটা প্রস্তাবনা বা হাইপোথিসিস ঠিক করে সেটা প্রমাণের জন্য তারা তাদের তথ্য-উপাত্ত সাজান। যদিও হয়তো ওই প্রস্তাবনাটাই সঠিক নয়।
ওরাল হিস্ট্রির জন্য মূল সূত্র খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। সবাই সবটা জানেন না। যারা জানেন, তারা বলতে চান না। যারা বলেন, তারাও অনেক সময় নির্মোহভাবে বলেন না। আবার অনেকের যুক্তি, এ কথা বলার সময় এখনো হয়নি।’
আমার একটা সুবিধা ছিল, বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধারার রাজনীতিকদের মধ্যে অনেককেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। সত্তরের দশকের গোড়ায় আমি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে পড়ি। ওই সময় দলের বেশির ভাগ প্রচারপত্র ও পুস্তিকার খসড়া তৈরি করার দায়িত্ব পালন করতেন রায়হান ফেরদৌস মধু। বাহাত্তরের মাঝামাঝি তরুণ সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত একটা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি বুদাপেস্ট চলে যান। তখন লেখালেখির দায়িত্ব পড়ে মূলত আমার ওপর। ছাত্রলীগ ও বিএলএফের (মুজিব বাহিনী) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে আমি অনেক কিছু ভেতর থেকে দেখেছি, যা বাইরে থেকে একজন গবেষকের পক্ষে জানা অতটা সহজ নয়। সে সময় আমি জাসদ পরিচালিত দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার সঙ্গেও সংযুক্ত ছিলাম এবং ওই সময়ের রাজনীতির দৈনন্দিন ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের একটা সুযোগ আমার হয়েছিল। আমি তখন দলের ভেতরে ‘বুলবুল’ নামে পরিচিত ছিলাম। এই লেখা তৈরি করার সময় আমি অনেক সূত্র ব্যবহার করলেও এটা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, আমি নিজেও অনেক ঘটনা ও প্রক্রিয়ার সাক্ষী ।
স্বল্প পরিসরে ওই সময়ের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব নয়। অনেক ঘটনাই আমার জানার কথা নয় এবং আমি সেনাব বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকতে চেষ্টা করেছি। আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আমি যেটুকু জানি বা অনুসন্ধান করে জানতে পেবেছি, তা অন্যদের জানানো। সবাই তো সবটা জানেন না। এই বিষয়টা নিযে হুযতো আরও অনেকেই লিখবেন। আর এভাবেই ইতিহাস রচনার উপাদান সংগৃহীত হতে থাকবে ভবিষ্যতের গবেষকদের জন্য ।
আগেই বলেছি, ইতিহাস লেখা ও পড়ার একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্মোহ হওয়া। লেখক ও পাঠক উভয়কেই নির্মোহ হতে হবে। বদ্ধমূল ধারণা কিংবা রাজনৈতিক মতলব থেকে কেউ যদি লেখেন, সেটা ইতিহাস হবে না। আবার পাঠকেরও তার পূর্বধারণাকে এক পাশে সরিয়ে অজানা তথ্য গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হবে ।
ষাটের দশকে স্বাধীনতার দুটো উদ্যোগ লক্ষ করা যায়। এগুলো ছিল মূলধারার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে, অথচ গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ', অন্যটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র'। বাহাত্তর সালে দৃশ্যপটে আসে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। ১৯৮২-৮৩ সালের দিকে আমি এ বিষয়ে কিছু লেখালেখির উদ্যোগ নিই। এ নিয়ে বিস্তারিত জানার জন্য ১৯৮৩ সালের অক্টোবরে আমি ছাত্রলীগের একসময়ের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল হক মুশতাককে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা আবদুর রাজ্জাকের ধানমন্ডির বাসায় যাই। কথাবার্তা বলার সুবিধে হবে, এই ভেবে আমরা তাকে নিয়ে মুশতাকের ভূতের গলির বাসায় যাই। আমি আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে চার-পাচ ঘন্টা আলাপ করি। ষাটের দশকের ইতিহাসের একটা অনুদঘাটিত পর্ব আমার সামনে উন্মোচিত হয়। আমি ওই তথ্যগুলো সিরাজুল আলম খান, আ স ম আবদুর রব, মনিরুল ইসলাম ও কাজী আরেফ আহমেদের সঙ্গে যাচাই করে নিই।
পরে আমি ‘আনফার্লিং দ্য রেড ফ্ল্যাগ' নামে বড় একটা লেখা তৈরি করি। তখন সেনাপতি এরশাদের জমানা। দেশে নাগরিক অধিকারের ছিটেফোটাও নেই। ইউরোপের উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একটা নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকশন গ্রুপ তখন বেশ সক্রিয়। এই গ্রুপের মধ্যে ছিলেন বার্নার্ড কারভিন (ফরাসি সংস্থা ব্রাদার্স টু অল মেন—বাম ইন্টারন্যাশনাল-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি), ড্যানিয়েল অ্যাসপ্লান্ড (ঢাকায় সুইডিশ উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার প্রধান কর্মকর্তা), পিটার মারেস (নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রথম সচিব), ড্যান জোনস (ব্রিটিশ ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠক), এন্ড্র জেনকিনস (উন্নয়ন পরামর্শক ও একসময় ব্র্যাকের স্বেচ্ছাসেবক), ইয়ান ভ্যানডারল্যান (পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও পরবর্তী সময়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রথম সচিব) ও তার স্ত্রী ইয়োকা ভ্যানডারল্যান প্রমুখ। ১৯৮৩ সালের দিকে তারা যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ঢাকার ধানমন্ডিতে ‘নিজেরা করি’র অফিস ব্যবহার করতেন । এ ব্যাপারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবিরের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য । ওই সময় আমি এদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হই। পরবর্তী সময়ে ধানমন্ডিতে ‘গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগার' অফিসে এই যোগাযোগ অব্যাহত থাকে এবং এর ফলে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের ঢাকা-১ চ্যাপ্টারের সূচনা হয়। আমি ১৯৮৪ সালের আগষ্টে আমষ্টার্ডামভিত্তিক সংগঠন এভার্ট ভারমিয়ার ষ্টিখটিংয়ের কাছে আনফার্লিং দ্য রেড ফ্ল্যাগ’-এর পাণ্ডুলিপি পাঠাই।
সংগঠনটি মিমিওগ্রাফ আকারে এটি প্রকাশ ও বিতরণ করে। লন্ডনের জেড বুকস-এর সম্পাদক রবার্ট মলটেনের সঙ্গে পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে চিঠি চালাচালিও হয়েছিল। তবে এটি লিখে আমি খুশি হতে পারিনি, স্বচ্ছন্দ বোধ করিনি। লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে 'র‍্যাডিকেল পলিটিক্স ইন বাংলাদেশ' নামে ১৯৮৪ সালে গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগার থেকে প্রকাশিত হয়। অনেক পরে সে লেখাটি পরিমার্জিত হয়ে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত বাংলাপিডিয়ার ইংরেজি ও বাংলা সংস্করণে যথাক্রমে 'র‍্যাডিকেল পলিটিকস' ও 'বাম রাজনীতি’ শিরোনামে স্থান পায়। তার পরও বিভিন্ন সময় আমি বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলেছি, শোনা কথাগুলো যাচাই করে নেওয়ার প্রয়াস পেয়েছি। যদিও এই প্রয়াস পরবর্তী সময়ে অব্যাহত রাখতে পারিনি।
তবে মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী অস্থির সময়টি নিয়ে আমি বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নভাবে লেখা অব্যাহত রেখেছিলাম। অনেক বছর আগে ১৫ আগষ্ট দৈনিক সংবাদ-এ আমার ঢাকা কলেজের সতীর্থ শেখ কামালকে নিয়ে লিখেছিলাম 'একজন কামালের গল্প' । যুগম্ভর এ দুই কিস্তিতে লিখেছিলাম 'মুজিবনামা'। গণ উন্নয়ন গ্রন্থাগার আমার স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ 'এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল' প্রকাশ করেছিল ২০০৬ সালে। কিন্তু জাসদ নিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ বই লিখতে না পারার অতৃপ্তি থেকেই গিয়েছিল।
সম্প্রতি প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের বিশেষ অনুরোধে আমি জাসদকে নিয়ে আমার অসমাপ্ত কাজটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিই। পাণ্ডুলিপির প্রাথমিক খসড়ার ওপর তার পরামর্শ ও মন্তব্য লেখাটি চূড়ান্ত করতে আমাকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে।
ইতিহাস যে পদ্ধতিতে লেখা হয়, তা অনেকটাই প্রাণহীন ও একঘেয়ে। ইতিহাসের মূল উপাদান হলো মানুষ। আমাদের দেশে ইতিহাস রচনায় প্রথাগত পদ্ধতিতে সাধারণত তারকাখ্যাতিসম্পন্ন নেতাদের কথাই বলা হয় । বেশির ভাগ সময় ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবেই ব্যবহৃত হন। আমি চেয়েছি তৃণমূলের সেসব সাহসী তরুণকে যতটুকু সম্ভব পাদপ্রদীপের আলোয় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন তাদের নেতাদের চেয়ে অনেকটাই আলাদা, অনেক বেশি মানবিক এবং সত্যের কাছাকাছি।
লেখাটি তৈরি করতে গিয়ে অনেকের কাছ থেকে সমর্থন ও সাহায্য পেয়েছি। আমি প্রথাগত সাক্ষাৎকার নিইনি। যাদের আমি চিনি, তাদের সঙ্গে দিনের পর দিন আলাপ করে জানার ও বোঝার চেষ্টা করেছি। তাদের অকৃপণ সাহায্য পেয়েছি। তাদের নামের একটা তালিকা গ্রন্থের শেষে দেওয়া আছে। কেউ কেউ অতিরঞ্জিত কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিলেন। প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি একটি ইংরেজি প্রবাদ ব্যবহার করে বলেছিলেন, ভিক্টরি হ্যাজ এ থাউজেন্ড ফাদার্স, বাট ডিফিট ইজ এন অরফেন ।’ পরাজিতের মানসিকতা ও এক ধরনের অপরাধবোধ থেকে দায়দায়িত্ব অস্বীকার করার প্রবণতা দেখা যায় অনেক রাজনৈতিক নেতার মধ্যে। তারা জেনেশুনে তথ্য গোপন করেন, ভুল তথ্য দেন, অথবা তথ্য দিলেও নাম প্রকাশ করার ব্যাপারে তাদের প্রবল আপত্তি। তাদের কারও কারও অবলীলায় মিথ্যা কথা বলার পারঙ্গমতা দেখে বিস্মিত হতে হয়। আমাকে তাই অনেক সতর্কতার সঙ্গে তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হয়েছে। এই বইয়ে ব্যবহৃত ছবিগুলো বিভিন্ন পত্রিকা, ব্যক্তিগত সংগ্রহ এবং ফেসবুক থেকে নেওয়া ।
খায়রুজ্জামান বাবুল, রেজাউল হক মুশতাক, স্বপন দাশগুপ্ত, আঞ্জুমান আরা বীথি, আকা ফজলুল হক ও মুসী ফারুক আহমেদ পুরোনো প্রচারপত্র, ছবি ইত্যাদি জোগান দিয়ে লেখাটি তথ্যবহুল করতে যথাসাধ্য সহায়তা করেছেন। এ ছাড়া কবি সোহরাব হাসান, বজলুল করিম আকন্দ, অধ্যাপক নেহাল করিম, তানিয়া বুলবুল, মো. সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক আহসানুল হাবিব, মুহাম্মদ লুৎফুল হক, খন্দকার সাখাওয়াত আলী, মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ আমাকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। প্রথমা প্রকাশনের জাফর আহমদ রাশেদ পাণ্ডুলিপি গোছানো ও ছাপানোর কাজটির তত্ত্বাবধান করেছেন। আমি তাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

মহিউদ্দিন আহমদ
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com