সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label সাক্ষাৎকার. Show all posts
Showing posts with label সাক্ষাৎকার. Show all posts

আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন - হুমায়ুন আজাদ

আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন - হুমায়ুন আজাদ আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন - হুমায়ুন আজাদ




Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ (সাক্ষাৎকার)

আমার আগেই প্রথম আলোর আলতাফ শাহনেওয়াজ ও আলোকচিত্রী সৈকত ভদ্র পৌঁছে গিয়েছিলেন গোলাম মুরশিদের ধানমন্ডির বাসায়। ছবি তোলাও প্রায় শেষ। আমার পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পরে একটি লম্বা টেবিলে তাঁর অনেকটা কাছ ঘেঁষে তাঁকে ঘিরে বসলাম আমরা। কথা শুরু হলো। সম্প্রতি তিন খণ্ডে তিনি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান সংকলনের কাজ শেষ করেছেন; যার মধ্যে প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে বই মেলায়। বাকি দুই খণ্ডও অচিরেই প্রকাশিত হবে। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কয়েকটি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। সেসব কথার পুনরাবৃত্তি এখানে বাদ রাখা হলো। তবে এই অভিধান-প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু হলো আমাদের আলোচনা।
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-এ দেখা গেছে যে মূল শব্দটা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো আছে। কিন্তু একজন পাঠক তো শব্দটি কোথাও বিশেষ্য, কোথাও বিশেষণরূপে পাবেন, নানা রকম রূপে পাবেন। ওই সব রূপ থেকে যদি কেউ শব্দ খোঁজেন তাহলে নানা রকম শব্দই তাঁরা পাবেন। কিন্তু ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ওই সব রূপ ধরে খুঁজতে গেলে অনেক শব্দই পাওয়া যায় না। বিবর্তনমূলক অভিধান করতে গিয়ে তিনি কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করেছেন জানতে চাইলে গোলাম মুরশিদ বললেন, ‘আসলে খুব সহজ সমাধান ছিল না আমার কাছে। আমরা যা করেছি তা হলো, শব্দের ডান দিকে অর্থাৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলো বইয়ের ভেতরে নিয়ে এসেছি। যেমন ‘বাদ’। ‘বাদ’ কথাটির সংস্কৃত অর্থ হচ্ছে বাচ্য, একটা শব্দ বা কথা। এটা থেকে আসছে ‘বাদী’—এ রকম হতে পারে। ‘জ্ঞান’ থেকে ‘জ্ঞানী’, ‘জ্ঞানগম্ভীর’। বাদ থেকে বাম দিকে এলে ‘সংবাদ’, ‘সাংবাদিক’, ‘সাংবাদিকতা’—এ রকম করে শব্দ বড় হয়ে গেছে। যেমন ‘গুরু’, ‘গুরুত্ব’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’। আপনি শুনে অবাক হবেন রবীন্দ্রনাথের তৈরি করা শব্দ আমরা নিয়েছি ২৫ থেকে ৩০ হাজার। কিন্তু গোটা রবীন্দ্রনাথে কোথাও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি পাওয়া যায়নি। এটি পাওয়া গেল ১৯৪১ সালের দিকে। রবীন্দ্রনাথ মারা যাওয়ারও পরে। যে শব্দটি না হলে আমাদের এখন জীবন চলে না, সেই শব্দটিও প্রথম ব্যবহার হলো ১৯৪১ সালে। ধরা যাক, আমি একটা শব্দ ব্যবহার করেছি ‘পাদটীকা কণ্টকিত’। নিজের কাজের প্রয়োজনে আমরা এভাবে শব্দ গঠন করি। যদি সেটা আরও দু-চারজন গ্রহণ করে তাহলে চালু হয়ে যায়। বিবর্তনমূলক অভিধানের মধ্যে সোয়া লাখ শব্দের মতো আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি।’
একই শব্দের রূপান্তরিত রূপগুলোর ক্রম কীভাবে করা হয়েছে?
‘আমরা অভিধানটি যেহেতু অ-কার আধিক্রমে সাজিয়েছি; সুতরাং অ-কার আধিক্রমে সাজাতে গিয়ে শব্দের ডান দিকে যেগুলোর বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো মূল শব্দের সঙ্গে আমরা নিতে পারেছি। কিন্তু বাঁ দিকে যেগুলোর যুক্ত হয়েছে (উপসর্গ), সেগুলো কিন্তু আমরা নিতে পারিনি। সেগুলো আলাদা শব্দ হিসেবে নিতে হয়েছে।’
যাঁদের লেখা থেকে শব্দ খোঁজা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পুরুষ লেখকই বেশি থাকার কথা। তবে গোলাম মুরশিদ তো নারীদের নিয়েও গবেষণা করেছেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তাঁর কাছে জানতে চাইলাম শব্দ নেওয়ার ব্যাপারে বাংলা ভাষার আদি নারী লেখকদের উপস্থিতি কেমন? বললেন, ‘আমরা সবচাইতে পুরোনো যে নারী লেখকের লেখা থেকে শব্দ নিয়েছি, তিনি রাসসুন্দরী দেবী, ১৮১০ সালে তাঁর জন্ম। তারপর নিয়েছি কৈলাসবাসিনী দেবীর লেখা, তাঁর জন্ম ১৮৩৭ সালে। এ ছাড়াও আমরা শব্দ নিয়েছি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, কৃষ্ণভামিনী দাস ও বেগম রোকেয়ার লেখা থেকে।’
আমার কৌতূহল ছিল এই নারীদের লেখায় শব্দ ব্যবহারের কোনো ভিন্নতা পাওয়া গেছে কি না তা জানার। তিনি খুব একটা ভালো খবর দিতে পারেননি। বললেন, বেগম রোকেয়া ব্যবহার করেছেন কিছু শব্দ। কৃষ্ণভামিনীও করেছেন কিছু। সত্যিকারার্থে নারীবাদী শব্দের ব্যবহার এঁদের রচনায় পাইনি। হয়তো তসলিমা নাসরিনের লেখায় পাওয়া যেত। যেমন তসলিমা নাসরিন যখন বলেন ‘মেয়েবেলা’—এটি একটি নতুন শব্দ। বোঝা যায় যে একটা জেন্ডার সচেতনতার বিষয় এখানে রয়েছে। যাঁদের লেখা থেকে শব্দ নিয়েছি, তাঁদের লেখায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার আমরা পাইনি। এ প্রসঙ্গে আরেকটা কথা বলা যায়। আমরা ১৯৭২ সাল পর্যন্ত লেখকদের লেখা থেকে শব্দ নিয়েছি। তার পরবর্তী সময়ের শব্দ নিইনি। কারণ, এর পরবর্তী সময়ে শব্দের ঐতিহাসিক বিবর্তন খুব একটা হয়নি। আমরা ৪০ বছরের একটি সীমারেখা করেছিলাম, যেটির কারণে মূলত আমরা ’৭২-এর পরের লেখাগুলো নিতে পারিনি। এই অভিধানটি যদি প্রতিনিয়ত আপডেট করা হয়, তাহলে আমি খুব খুশি হব।’
এ রকম একটা অভিধানের জন্য সব লেখকের সব লেখা পাঠ করতেও অনেক সময় দরকার। কিন্তু সময় ছিল খুবই কম। কিন্তু সব মিলিয়ে কি আপনার নিজের প্রত্যাশিত মানকে স্পর্শ করতে পেরেছে অভিধানটি?
কোনো দ্বিধা না করেই তিনি বললেন, ‘আমি নিজের কাজ নিয়ে কখনোই সন্তুষ্ট না। আমার অসম্ভব অতৃপ্তি আছে যে বইটা আমি যেমন স্বপ্ন দেখেছিলাম তেমনভাবে করতে পারিনি। আমার স্বপ্ন ছিল অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির মতো একটা অসাধারণ কিছু পাওয়া যাবে, যার মধ্যে অনেক বেশি শব্দ ও অর্থের রূপান্তর থাকবে। আমরা মধ্য যুগে যেসব বই ছাপা হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করেছি। যেমন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আমরা পুরো ব্যবহার করেছি। কিন্তু এর পরে আমরা বৈষ্ণব পদাবলী পুরো ব্যবহার করতে পারিনি। সেটিতে যেই শব্দটি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি পেয়েছি হয়তো আলাওলে। এভাবে আমরা ঘাটে ঘাটে জাল ফেলেছি। কিন্তু যেই শব্দটা আরও আগে পাওয়ার কথা ছিল, সেটি আমরা পাইনি। যেহেতু আমাদের সময়ের অভাব ছিল। তাই আমরা সমস্ত ট্রেস করতে পারিনি।’
আপনি সাহিত্যের অধ্যাপক। কিন্তু আপনার কাজ সামাজিক রূপান্তরের ইতিহাস নিয়ে। একজন সাহিত্যিক হয়ে ইতিহাসের বিবর্তন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে দুই বিদ্যার একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, আপনি কীভাবে সেটি সামাল দিয়েছেন—প্রশ্ন করলাম তাঁকে। বললেন, ‘সামাল দিতে পেরেছি কি না সেটা আলাদা কথা। আমি পিএইচডি করেছি বঙ্গবিদ্যার একজন বিখ্যাত অধ্যাপক ডেভিড কফের অধীনে, যিনি একজন ঐতিহাসিক। আমার ডিগ্রি হয় ১৯৭৪ সালে। আমি তখন থেকেই চেষ্টা করেছি কীভাবে সময়ের ঢেউয়ের সঙ্গে একেকটা জিনিস বিবর্তিত হয় তা লক্ষ করতে। যেমন, ষোড়শ শতকে একটি ঢেউ এসেছিল বৈষ্ণব পদাবলী লেখার। আমরা ওই যুগটাকে বলি বৈষ্ণব পদাবলীর যুগ। তারপরে একটা যুগ এল মঙ্গলকাব্যের যুগ। তারপর একটা যুগ এল যেটি না আধুনিক, না পুরোনো। তারপর ১৯শ শতকে দেখা যায় ইংরেজদের প্রভাবে কীভাবে সাহিত্য আধুনিক হয়ে উঠল। এভাবে ইতিহাসে মধ্যে আমি খুব আনন্দ পাই। যেমন আমার একটি বই আছে পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা। আমি সেখানে দেখাতে চেষ্টা করেছি কীভাবে রবীন্দ্রনাথের প্রতি মানুষের অ্যাটিটিউড বদলে যায়। আমার ধারণা, এমন তথ্যভিত্তিক মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী গঠিত হওয়ার ইতিহাস আর কেউ লেখেননি। আমি আসলে তথ্যভিত্তিক ইতিহাস লিখতে খুব পছন্দ করি। ১৯৭৪ সালে দেওয়া বক্তৃতায় তপন রায়চৌধুরীর কাছ থেকে প্রথম ইতিহাসের নানা বিভাগ—সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতির ইতিহাস, নারীদের ইতিহাস, উদ্বেগের ইতিহাস, ধারণার ইতিহাস ইত্যাদি সমপর্কে জানতে পারি। তার আগে পর্যন্ত মূর্খ ছিলাম। জানতাম, ইতিহাস মানেই হলো সন-তারিখ আর রাজা-মহারাজাদের ইতিহাস।’
তাঁর হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি বইটি ইতিমধ্যে বহুল প্রচারিত। কিন্তু এই বই সম্পর্কে ইতিহাস-শাস্ত্রীদের মনোভাব কী জিজ্ঞাসা করলাম তাঁকে, ‘আপনার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়নি?’ তিনি বললেন, ‘বিতর্ক যতটা পেয়েছি তার থেকে আমি নিজে আবিষ্কার করেছি নতুন অনেক জিনিস। যেমন, বইটির শেষ অধ্যায়ে লিখেছিলাম, বাঙালি নারীদের মধ্যে এখনো বিবাহপূর্ব যৌনতা নেই বললেই চলে। আমি এটি লিখেছি লন্ডনে বসে। আমি যখন আরও ঘন ঘন বাংলাদেশে আসা শুরু করলাম, তখন লক্ষ করলাম ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবেই এই প্রবণতাটি দেখা গেছে। আমি যখন ’৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হই তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনকার মতো প্রকাশ্য প্রেম ছিল না। আমি ঢাকায় এসে যখন আবিষ্কার করলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক হারে প্রেম-ট্রেম ইত্যাদি চলছে, তখন পাবলিশারকে ফোন করে বললাম বইটির নতুন সংস্করণ ছাপবেন না, আমি আরেকবার রিভাইজ করব। বাংলাদেশে ফিরে আরও কতগুলো প্রবণতা লক্ষ করলাম। যেমন, নারীদের একটি অংশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, তাদের আর শুধু রান্নাঘরে পাঠানো মুশকিল হবে। একসময় রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্তকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি তো প্রায় বিংশ শতাব্দীজুড়ে বাস করেছেন। তো, আপনি কোথায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ করেছেন? তিনি আমায় বলেছিলেন, মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। আমাদের সময়ে আমরা যৌবনে যেমন নম্র, শাড়ি পরিহিতা, ভদ্র মেয়েদের দেখতে পেতাম—সেটি এখন নেই। এখন সমপূর্ণ অন্য অবয়বে মেয়েদের দেখতে পাই। কাজেই অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।’
.গোলাম মুরশিদের লেখালিখির খবর যত দূর জানি, তাতে ইতিহাসের শাস্ত্রীরা তাঁর এসব বই সম্পর্কে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাননি—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অকপটে কথাটি স্বীকারও করলেন তিনি, ‘কোনো সাড়া পাইনি। তাঁদের কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে তাঁরা ইতিহাস জানেন না। তাঁদের কাছে ইতিহাস মানে আজও সন-তারিখ। তাঁরা ইতিহাসের বিবর্তনকে দেখেন না। ইতিহাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সাহিত্যের তাবৎ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে তাঁরা এটি দেখেন না। আমাকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একজন অধ্যাপক কোনো পজিটিভ ফিডব্যাক দেননি, বলেননি যে আপনার হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতি পড়ে আমরা উপকৃত হলাম।’
নজরুলচর্চা তাঁর গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে! তিনি লিখতে শুরু করেছেন কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী; এবার তাই আলাপের প্রসঙ্গ সেই দিকে ঘুরে গেল।
নজরুল-জীবনী প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা তিনি পরিষ্কার করলেন এভাবে—আমার মনে হয়েছে, মধুসূদনের মতো নজরুল-জীবনীও একটা ব্যর্থতায় প্রবেশিত। মধুসূদনের জীবনী যেমন লেখা হয়েছিল কিংবদন্তির ওপর ভিত্তি করে, নজরুল-জীবনীও লেখা হয়েছে তাঁর বন্ধুদের কথা শুনে—কাজেই এটি যথার্থ তথ্যভিত্তিক নয়। মধুসূদন ও নজরুল দুজনই ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। জীবনী লেখার জন্য নজরুলকে তাঁর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণেই বেছে নিয়েছি আমি। আরও কয়েকটি কারণ আছে—যেমন, নজরুলের একটি তথ্যমূলক জীবনী লিখতে চাই আমি। তাঁকে দেখতে চাই, তিনি মানুষ ছিলেন—এই দৃষ্টিকোণ থেকে; মুসলমান ছিলেন এই দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। এই কাজটি করতে আমার বছর তিনেক লাগবে বলে মনে হয়। আমি যেটি করতে চাই সেটি হচ্ছে, নজরুলের জীবনের কোথাও বিতর্ক থাকলে সেই বিতর্কের কথা আমি উল্লেখ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমার নিজের সিদ্ধান্ত আমি পরে দেব। দ্বিতীয় কথা হলো, আমি কোনো অর্থহীন কথাবার্তা উপস্থাপন করতে চাই না। তাঁর রচনার বিবর্তন ও মানসিকতার বিবর্তনকে দেখতে চাই আমি। আরও যেটি দেখতে চাই সেটি হচ্ছে, নজরুল পাগল ছিলেন না। তিনি যেসব কথা বলেছেন তার মধ্যে পরসপরবিরোধিতা থাকলেও এই পরস্পরবিরোধিতার মধ্যেও একটা ঐক্য আছে। বিভেদের মধ্যে ঐক্য আছে। আমি হয়তো আমার বইয়েরই নাম দিতে পারি ‘বিভেদের মধ্যে ঐক্য’। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিই, নজরুল মুসলমানের গান লিখেছেন, কীর্তন লিখছেন, আবার শাস্ত্রসংগীতও লিখেছেন। তাহলে কী বুঝব আমরা? লোকটা কি পাগল? তিনি ফরমায়েশ অনুযায়ী তিন রকমের গানই সমান দরদ দিয়ে লিখেছেন? কারণটা কী তাহলে? আমার ধারণা, তিনি একজন ভক্ত ছিলেন। নজরুল সম্পর্কে এই কথা কিন্তু কোনো জীবনীকারই লেখেননি। আপাতত আমার নজরুল-জীবনী লেখার মূল ভাবনা হলো ‘বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত’। নজরুল জীবনীর বহু পর্যায় আছে—কলকাতা ফেরার আগে নজরুল এক রকম, কলকাতা ফেরার পর ১৯২৯ সাল পর্যন্ত আরেক রকম, আবার ১৯২৯ থেকে ’৪১-৪২ সালের দিকে নজরুলকে দেখতে পাই অন্য এক রূপে। কাজেই এই কবির জীবনীর অনেক ধাপ, যেন অনেক জীবনী।’
নজরুল-জীবনী লেখার ব্যাপারে গোলাম মুরশিদকে মনে হলো বেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠল দৃঢ়তা, ‘আমি আসলে একটি বিষয় চিন্তা করে রেখেছি, আমার লেখা নজরুল-জীবনীটি বিতর্কিত হবে মনে করে এখানে কেউ যদি প্রকাশ করতে না চান, তাহলে জীবনীটি আমি কলকাতা থেকে প্রকাশ করব। কিন্তু আমি কোনো প্রকারের কমেপ্রামাইজে যাব না।’
গোলাম মুরশিদ কথা বলছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি এক দৃঢ়চেতা মানুষের অবয়ব।
প্রথম আলো থেকে সংগ্রহিত।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হুমায়ূন আহমেদ - আয়েশা ফয়েজ

হুমায়ূন আহমেদ - আয়েশা ফয়েজজন্ম থেকেই আমার সন্তানরা প্রতিভাবান : আয়েশা ফয়েজ
নিজের জন্য নয়, ঠিক ছোট সংসারের জন্যও নয়- প্রকাণ্ড বড় একটা বিমিশ্র সংসারের জন্য কঠিন ব্রত পালন করেছেন শহীদজায়া আয়েশা ফয়েজ। আমাদের সবার প্রিয় খালাম্মা। সংসারের হাল ধরতে গিয়ে সাধারণ জননী থেকে অসাধারণ এক জননীতে পরিণত হয়েছেন তিনি। ছয়টি সন্তানকে মানুষ করতে গিয়ে তাঁকে কত চোখের জল ফেলতে হয়েছে, কত অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে, জননী হৃদয়ের ওই গভীরতর ব্যথা নিকটজন ছাড়া বোঝার নয়। মাঝেমধ্যে এসব কথা তিনি বলেছেন নিকটজনদের। খানিকটা লিখেছেন তাঁর আত্মকথা 'জীবন যে রকম' বইয়ে। লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সূত্রে অনেকবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। প্রতিবার সস্নেহে ডেকে নিয়েছেন কাছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বলেছেন। পরিবার, নিজের সন্তান, তাঁর স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা, ছেলেবেলা নিয়ে বলেছেন। সর্বশেষ গত রবিবার ১৪ জুলাই পল্লবীর বাসায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কথা হয়। সেদিন অনেক কথা বলেছেন তিনি। এর কিছু অংশ পরিবেশিত হলো প্রশ্নর পাঠকদের জন্য। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নওশাদ জামিল

প্রশ্ন : খালাম্মা, আপনার শৈশবের কথা জানতে চাচ্ছি। আপনার বেড়ে ওঠা, ভাইবোনদের কথা বলবেন কি? কয় ভাইবোন ছিলেন আপনারা?
আয়েশা ফয়েজ : আমাদের বাড়ি ছিল মোহনগঞ্জে। নেত্রকোনায়। বাড়িটাকে সবাই বলত 'শেখবাড়ি'। আমার বাবা আবুল হোসেন শেখ, মা খায়রুন্নেসা শেখ। আমরা ৯ ভাইবোন। ছয় ভাই, তিন বোন। পরিবারের প্রথম সন্তান ছিলাম। এ কারণে একটু বাড়াবাড়ি রকমের যত্ন-আদর ছিল। অত্যন্ত সুখের ছিল শৈশবের দিনগুলো।
প্রশ্ন : আপনার ছেলেবেলা ছিল ত্রিশের দশকে। সেই সময়ের দিনগুলো মনে পড়ে কি? তখনকার পরিবেশ কেমন ছিল?
আয়েশা ফয়েজ : সব কথা তো মনে নেই, বাবা। বয়সের কাছে হারিয়ে গেছে অনেক কথা। ৮৩ বছর বয়স এখন। আবছা আবছা লাগে স্মৃতিগুলো। ছোটবেলার কিছু স্মৃতি ভুলতে পারি না। আমরা ভাইবোনরা হৈচৈ করতাম, অনেক আনন্দ করতাম। আমাদের বাড়ি সারাক্ষণ যেন লোকজনে ভর্তি থাকত। চাচাতো ভাই, ফুফাতো ভাইবোন মিলে আনন্দ করতাম। চাচা, ফুফুরা আমাকে খুব আদর করতেন। ছোটবেলায় ঈদ এলে খুব একটা হৈচৈয়ের ব্যাপার হয়ে যেত। অনেক মানুষ আসত বাড়িতে। এটাই আমাদের কাছে আনন্দের ছিল। তখন সামান্য কিছুতেই অনেক আনন্দ ছিল।
প্রশ্ন : পর্দা প্রথা কি খুব কড়াকড়ি ছিল? আপনারা কি ঘরের বাইরে যেতে পারতেন?
আয়েশা ফয়েজ : সে সময় পর্দা প্রথার কড়াকড়ি ছিল, এর পরও বাবা আমাদের নানা জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যেতেন। পর্দার বেশি কড়াকড়ি ছিল আমার নানাবাড়িতে। আমাদের বাড়িতে এটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের ছিল না। নানাবাড়িতে খুব পর্দাটর্দা থাকত। তারা বলত, মেয়েদের এত বেড়ানো ভালো নয়। তবে আমার মা-বাবা এসব নিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করেননি।
প্রশ্ন : আপনার বাবার কথা বলুন। তিনি কী করতেন?
আয়েশা ফয়েজ : বাবা রাজনীতি করতেন। মুসলিম লীগ করতেন। বিস্তর পণ্ডিত মানুষ ছিলেন তিনি। খুব বইটই পড়তেন। আমাদেরও পড়াতেন। পরিবারে পড়াশোনার ব্যাপারটা ছিল বরাবরই। পড়াশোনা নিয়ে বাবাও খুব আগ্রহী ছিলেন। তখন বাবা পত্রিকা আনতেন এবং সেটা আমরা পড়েছি কি না, খোঁজ নিতেন। আম্মাও খোঁজ নিতেন।
প্রশ্ন : আপনার মায়ের কথা জানতে চাচ্ছি।
আয়েশা ফয়েজ : আমার মা পড়াশোনা করতেন। স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। পড়াশোনার বিষয়ে আম্মাও খুব উৎসাহ দিতেন। আমাদের বাসায় প্রাইভেট মাস্টার ছিল, আর তখন জায়গির শিক্ষকের প্রচলন ছিল। একজন শিক্ষক, একজন ছাত্র বাধ্যতামূলক ছিল, সবার বাসায়ই। আমাদের পড়াশোনা শুরু হয় বাড়িতেই। আম্মা তা দেখভাল করতেন, তদারকি করতেন।
প্রশ্ন : আপনার আত্মকথা 'জীবন যে রকম' পড়ে জানতে পারি, আপনার বিয়ে হয় ১৯৪৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের প্রথম দিকের কথা, আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
আয়েশা ফয়েজ : বাবার পছন্দেই হুট করে আমার বিয়ে হয়ে যায়।
আমার বাবা হুমায়ূনের বাবাকে দেখেই পছন্দ করেন। বিয়ের পর মানুষটাকে ধীরে ধীরে জানতে পারি। অসম্ভব ভালো মানুষ হুমায়ূনের বাবা। মানুষটার কথা মনে হলেই বুকটা হাহাকার করে। এখন হুমায়ূনের জন্যও ওই শূন্যতা অনুভব করি (কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বারবার চোখ মোছেন। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদেন)। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, হুমায়ূনের বাবার শোক কাটিয়ে উঠেছিলাম। এখন ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারব না।
প্রশ্ন : (খালাম্মার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় ধরি) খালাম্মা, আল্লাহর কথা ভাবেন। আল্লাহ আপনার পাশেই থাকবেন (এরপর ধীরে ধীরে চোখ মোছেন তিনি)। খালাম্মা, এখন এসব কথা নয়। আপনার বিয়ের কথা বলছিলেন।
আয়েশা ফয়েজ : একেবারে বিয়ের প্রথম দিকের কথা বলি। প্রথম শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছি। বউ ওঠানো হয়েছে, আত্মীয়স্বজনে ঘর ভরে গেছে। আমি তো এর আগে হুমায়ূনের বাবার কণ্ঠ শুনিনি। কিন্তু অনেক রাগারাগি হচ্ছে শুনতে পাচ্ছি। তখন ওই বাড়িতে নিয়ম ছিল, নতুন বউ এলে বউকে পান্তা ভাত আর শাড়ি দিয়ে বলবে, এই তোমাকে ভাত-কাপড় দিলাম। এটা বউ ঘরে তোলার একটা রীতি। কিন্তু হুমায়ূনের বাবা এটা মানবেই না। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।
প্রশ্ন : আপনাদের প্রথম সন্তান হুমায়ূন আহমেদ। প্রথম মা হওয়ার অনুভূতি প্রত্যেক জননীর জন্য এক স্বর্গীয় অনুভূতি। আপনার ওই স্মৃতি কি বলবেন?
আয়েশা ফয়েজ : প্রথম মা হওয়ার অনুভূতি বড় আনন্দের। সেসব কথা আর কী বলব! আমার বইটাতে লিখেছি। আমার চাচা ছিলেন হুমায়ূনের বাবার বন্ধু। তিনি এসে সিলেট থেকে আমাকে নিয়ে গেলেন। সবাই তো তখন অসম্ভব রকমের খুশি। আমার বাবার ছিল তিন ভাই। প্রত্যেকে আলাদাভাবে মিষ্টি নিয়ে এলেন। খুব খাওয়াদাওয়া, আনন্দ-অনুষ্ঠান হলো। তারপর আমি আবার সিলেটে এলাম। সিলেট থেকে পরে আবার গেলাম বাবার বাড়িতে। সেখানেই হুমায়ূনের জন্ম। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে জন্ম হয় হুমায়ূনের।
প্রশ্ন : সন্তানের প্রথম মুখ দেখার অনুভূতি বলুন।
আয়েশা ফয়েজ : আমার বুকের ভেতর নড়েচড়ে গিয়েছিল আমার প্রথম সন্তানের মুখ দেখে। মাথা ভরা চুল, টকটকে ফরসা গায়ের রং, চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। তখন বুঝিনি, আমার এই ছেলেই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। তখন বুঝিনি, ছেলে আমার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে (কথাটা বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন খালাম্মা। কিছুক্ষণ আনমনা হয়ে ডুবে যান স্মৃতির অতলে। চোখ তখন ছলছল করছিল। তারপর দীর্ঘ নীরবতা। অনেকক্ষণ পরে আবার বলা শুরু করেন)।
প্রশ্ন : হুমায়ূন আহমেদের নাম রাখা হয়েছিল কাজল। কাজল নামটা বুঝি আপনার প্রিয় ছিল?
আয়েশা ফয়েজ : কাজল নামটা রেখেছিল ওরা বাবা। নামটা ওর বাবার খুব পছন্দের ছিল। আমার কাছেও খারাপ লাগত না নামটা। কিন্তু এই নামও পরে আর টেকেনি।
প্রশ্ন : এরপর কি নাম রাখা হয় শামসুর রহমান?
আয়েশা ফয়েজ : আমার বাবা আর শ্বশুরের মধ্যে খুব ভাব ছিল। খাতির ছিল। তাঁরা দুজন মিলে রাখলেন শামসুর রহমান। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আমাকে শামসুর মা বলেই ডাকত। আমার শাশুড়ি কখনো হুমায়ূন আহমেদ নামটা গ্রহণ করেননি। শেষদিন পর্যন্ত তিনি আমাকে শামসুর মা বলে ডেকেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদ নামটা স্থায়ী হয়েছিল।
প্রশ্ন : ছোটবেলায় হুমায়ূন আহমেদ নাকি খুব দুষ্টু ছিলেন? অনেক খামখেয়ালি আচরণ করতেন?
আয়েশা ফয়েজ : দুষ্টু হলেও বুদ্ধিমান ছিল। ওর বাবা বলত, ছেলের প্রতিটা কাজেই নাকি বুদ্ধির ছাপ ছিল। আবার মাঝেমধ্যে খামখেয়ালি আচরণ করত। কেমন যেন একটা পাগলামি করত। হঠাৎ করে হুলস্থুল-চিৎকার করত। তার বাবাকে এ কথা বললে বলতেন, ওর মধ্যে আলাদা একটা কিছু আছে। আবার বলতেন, প্রমথনাথ বিশি এমন ছিল। কোথায় কোথায় ঘুরতে যেত তার ঠিক নেই। কোনো খোঁজখবর নেই। একবার দেশে খুব দুর্ভিক্ষ হলো। সরকারিভাবে লঙ্গরখানা খুলে দেওয়া হলো। হুমায়ূন ওই লঙ্গরখানায় গিয়ে খেয়ে আসত। আমি খুব রেগে গেলাম। বললাম, লঙ্গরখানায় যদি খাওয়া লাগে, তাহলে বাসায় এসেছিস কেন? লঙ্গরখানাতেই যা। খুব রাগারাগি করলাম আমি। ওর বাবা শুনে বললেন, ওর মধ্যে বিশেষ কিছু আছে, যেটা অন্যদের মধ্যে নেই। হুমায়ূনের বাবা ছেলের সব কিছু সম্পর্কে একটা ভালো ব্যাখ্যা করতেন। আরেক দিনের ঘটনা, এক ফকিরকে ভাত খেতে দেওয়া হলো। সেই ফকির তার বিশাল এক টিনের থালায় ডাল দিয়ে খাচ্ছে, তা দেখে হুমায়ূনের খুব ভালো লাগল। এখন সেও সেভাবে ভাত খাবে, না হলে খাবে না। কী যে পাগলামি তার মাথার মধ্যে ঢুকত! পরে তাকে সেভাবে খেতে দেওয়া হলো। এ রকম পাগলামি তার ভেতরে ছিল। যেটা অন্যরা করত না, সেটা সে করবেই।
প্রশ্ন : ছেলেমেয়েরা নাকি ছোটবেলা থেকেই আঁকিবুকি করতেন। তাঁরা কি ছবি আঁকা কোথাও শিখেছিলেন?
আয়েশা ফয়েজ : আমার পরিবারের সবাই ছবি আঁকতে পারে। সব ছেলেমেয়ে আঁকতে পারে। কিভাবে ছবি আঁকা শিখল, সেটা আমার কাছেও বিস্ময়। হুমায়ূন খুব সুন্দর ছবি আঁকত। ইকবাল, শাহীন (আহসান হাবীব)- ওরা তো আঁকেই। ইকবাল তো কার্টুন এঁকে পড়ার খরচও চালাত। এখন জানতে চাইলে বলে যে বড় মামার কাছে শিখেছে। কিন্তু ওদের বড় মামা যে ছবি আঁকতে জানে, সেটা তো আমরাই জানতাম না। জন্ম থেকেই আমার সন্তানরা প্রতিভাবান। ওদের প্রতিভা বিকাশে আমার কোনো হাত নেই। কিভাবে যেন ওরা সব করেছে। হয়তো আল্লাহর অশেষ রহমত এটা।
প্রশ্ন : খালাম্মা, এবার আপনার সন্তানদের লেখালেখি প্রসঙ্গে আসি। আপনার তিন ছেলে দেশের শিল্প-সাহিত্য-শিক্ষা-সংস্কৃতিজগতের তিন নক্ষত্র। হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীব। কখনো কি ভেবেছিলেন, আপনার ছেলেরা লেখক হবেন?
আয়েশা ফয়েজ : সত্যি কথা, আমি ভাবিনি ওরা এত বড় লেখক হবে। কিন্তু ওদের বাবা ভাবতেন। তিনি বলতেন, দেখো, তোমার ছেলেরা বিখ্যাত হবে। ওদের বাবার কথা সত্যি হয়েছে। লেখালেখি, সাহিত্যচর্চা তো ওদের রক্তেই আছে। আমাদের পরিবারেও আছে। ওদের বাবা লিখতেন, পড়তে ভালোবাসতেন। তাঁর এই গুণটা ওরা পেয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ওরা আঁকত। বই পড়ত।
প্রশ্ন : আপনি নিজেও পড়তে ভালোবাসেন। লেখালেখি পছন্দ করেন। পড়াশোনার প্রতি এই ভালোবাসা সন্তানদের মধ্যে আপনি কিভাবে সঞ্চারিত করেছিলেন?
আয়েশা ফয়েজ : আসলে আমি তেমন কিছু করিনি। কিভাবে যেন ওদের মধ্যে বইপড়ার একটা নেশা ঢুকে গিয়েছিল। ইকবালের প্রিয় লেখক ছিলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিন বাসায় এসে বলল, মানিকসমগ্র বের হয়েছে। কিনতে ৩০০ টাকা লাগবে। কিনতে পারবে না বলে ওর মন খারাপ। আমি ইকবালকে টাকা দিলাম। বাসায় মানিকসমগ্র আসার পর অন্য রকম এক আবহ। তখন সবাই মানিকের বই পড়ছি। হুমায়ূনও পড়ত। আঁকত। আমি কখনো ভাবিনি, ওরা লেখক হবে। তবে ওদের বাবা ভাবতেন। আঁচ করতে পেরেছিলেন, ছেলেরা লেখক হবে। ওদের বাবা পুলিশ অফিসার হলেও খুব রসিক ছিলেন। তিনিও লেখালেখি করতেন। জ্যোতিষশাস্ত্রে বিশ্বাস করতেন। আমরা, বিশেষ করে আমি বিশ্বাস করতাম না। পরে দেখলাম, যা যা বলছেন তার অনেক কিছু সত্যি হয়েছে। হুমায়ূন সম্পর্কে বলতেন, 'অনেক বিখ্যাত হবে তোমার ছেলে! জানো, রানি এলিজাবেথের ছেলে আর তোমার ছেলের জন্ম একই দিনে, একই লগ্নে।' আমি বলতাম, কই রানি এলিজাবেথ, আর কই আমি! তিনি বলতেন, 'রানির ছেলে বিখ্যাত হবে তার মা-বাবার নামে। আমার ছেলে হবে নিজের যোগ্যতায়।' হুমায়ূনের যেকোনো দুষ্টুমির মধ্যেও বিশেষ কারণ খুঁজে পেতেন ওর বাবা। হুমায়ূন সারা দিন কই কই ঘুরত। আমি কিছু বললে ওর বাবা বলতেন, 'প্রমথনাথ বিশি এ রকম ছিলেন, কাজলের ভেতরে অন্য রকম কিছু আছে।' 'নন্দিত নরকে'র পাণ্ডুলিপি ওর আব্বাও পড়েছিলেন। দেখে বলেছেন, 'তোর হবে'।
প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন আপনার স্বামী ফয়জুর রহমান। পরবর্তী সময়ে ছয় সন্তান নিয়ে আপনাকে ভীষণ কষ্ট করতে হয়েছে। তখন আপনি সাহসের সঙ্গে হাল ধরেছিলেন সংসারের। পরে অমিত সাহস আর ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন সন্তানদের। পেছনে তাকালে এখন কী মনে হয়?
আয়েশা ফয়েজ : টাকা-পয়সার জন্য, একটু মাথা গোঁজার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। সন্তানরা তা জানে। যদিও কখনো ছেলেমেয়েদের কষ্টের কথা বলিনি। শেয়ার করিনি। কিন্তু ওরা ঠিকই বুঝত। আল্লাহর রহমতে অনেকে আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। ছেলেমেয়েদের বলি, তোমরাও মানুষকে বিপদ-আপদে সাহায্য করবে। সন্তানরা আমার কাছে উপদেশ চাইল, আমাদের জন্য আপনার কোনো উপদেশ আছে? আমি বলেছিলাম, উপদেশ নয়, একটি আদেশ আছে। আদেশটি হচ্ছে- কেউ যদি কখনো তোমাদের কাছে টাকা ধার চায় তোমরা 'না' বলবে না। আমাকে অসংখ্যবার মানুষের কাছে ধারের জন্য হাত পাততে হয়েছে। ধার চাওয়ার লজ্জা ও অপমান আমি জানি। আল্লাহর রহমতে, আমার সন্তানরা মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করে। এই মাটি, এই মানুষকে ওরা অনেক ভালোবাসে। হুমায়ূনের বিদেশ ভালো লাগত না, ইকবালেরও তাই। ছোট ছেলে বিদেশে যেতেই চায় না।
প্রশ্ন : আপনার জীবনে অনেক সুখের ও আনন্দের স্মৃতি রয়েছে। দুঃখের কোনো স্মৃতি নয়, আপনার কি কোনো আনন্দময় স্মৃতির কথা মনে হয়?
আয়েশা ফয়েজ : এখন আর কোনো সুখের স্মৃতি মনে পড়ে না, দুঃখের স্মৃতি মনে পড়ে বেশি। একাত্তরের পর জীবনের ওপর দিয়ে কেমন ঝড় গেছে, অনেকের তা বোঝা সম্ভব নয়। তার পরও বিশ্বাস ছিল পারব। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। কথায় বলে না, 'এতিমের সংসার আল্লাহ চালায়।' আল্লাহর অশেষ কৃপায় সংসারের হাল ধরেছিলাম। আল্লাহর রহমত ছিল। কিভাবে ছেলেমেয়েরা এত বড় হলো, মানুষ হলো, আমি নিজেও এখন ভাবি। আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে আল্লাহ শোনেন। তাদের বাবা খুব সৎ মানুষ ছিলেন। ওদের বাবার দোয়া আছে। মানুষটার অছিলায় এই ছেলেগুলো মানুষ হয়েছে। ভাবতাম, বাচ্চাগুলোর কী হবে? আমার দোয়া আল্লাহ কবুল করেছেন।
প্রশ্ন : খালাম্মা, আমরা শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত, পাঠক, অনুরাগীদের উদ্দেশে আপনার কি কিছু বলার আছে?
আয়েশা ফয়েজ : হুমায়ূন তার কথা বইয়ে লিখে গেছে। আমাদের কথা লিখে গেছে। নতুন আর কী বলব! পাঠকরা তার জন্য, আমাদের পরিবারের জন্য যে দরদ দেখিয়েছেন, তার কোনো তুলনা নেই। আমার পরিবারের জন্য অনেকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ছাড়া আর কী করতে পারি। আল্লাহ সবাইকে রহমত দেবেন- এ দোয়া করি।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অন্তরঙ্গ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়



সাক্ষাৎকারটি পড়তে এই লিঙ্কটি ব্যাবহার করুন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নবনীতা দেব সেন একটি সাক্ষাৎকার

নবনীতা দেব সেন একটি সাক্ষাৎকার

নবনীতা দেব সেন একটি সাক্ষাৎকার


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তপন রায়চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার

amarboi

তপন রায়চৌধুরীর একটি সাক্ষাৎকার



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাক্ষাৎকার

amarboi.com


মুহম্মদ জাফর ইকবাল লেখক, প্রযুক্তিবিদ ও শিক্ষাবিদ। জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম লেখক। দেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনপ্রিয়তার পথিকৃৎ। তার ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন সিরাজুল ইসলাম আবেদ


উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনেও প্রবেশ করলেন সেখানেই। কিন্তু ১৯৯৪ সালে দেশে ফিরে এসে শুরু করলেন নতুন জীবন_ কোনো বিশেষ স্বপ্ন বা বোধ দ্বারা তাড়িত হয়েছিলেন কি?
* অনেকেই আমাকে এই প্রশ্নটি করে এবং আমার মনে হয় আমি কাউকেই বিষয়টি বোঝাতে পারি না। 'কোনো বিশেষ স্বপ্নবোধ দ্বারা তাড়িত হয়ে' আমি দেশে ফিরে আসিনি, আমি দেশে ফিরে এসেছি কারণ এটা আমার দেশ। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। একজন মানুষের মা যদি সাদাসিধে অশিক্ষিতা বৃদ্ধা একজন মহিলা হয়, তখন মানুষটি কিন্তু ফিটফাট সুন্দরী কমবয়সী একজন মহিলা খুঁজে বের করে না মা ডাকার জন্য! যখন মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছে করে সেই সাদাসিধে অশিক্ষিতা বৃদ্ধা মহিলার কাছে গিয়েই তার পায়ের কাছে বসে থাকে। এখানেও তাই, যুক্তরাষ্ট্রের হাইফাই পরিবেশে যত ভালো ভালো বিষয়ই থাকুক সেটা তো আমার দেশ নয়। আমার যদি আকাশ কালো করে আসা মেঘ, ঝমঝম বৃষ্টি, ব্যাঙের ডাক আর কালো শ্যামলা মানুষ দেখার ইচ্ছা করে, আমি কী করব?
কাজেই আবার একবার বোঝানোর চেষ্টা করি, আমি কোনো বড় উদ্দেশ্য বা স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরে আসিনি। নিজের দেশে থাকার জন্য ফিরে এসেছি। অত্যন্ত চমৎকার একটা জীবনের লোভে নিজের দেশে থাকার আনন্দটুকু হারাতে আমি রাজি নই। আমি এত বেশি বোকা না।
ষ দেশে ফিরে নিজের স্বপ্ন পূরণে কতটা এগোলেন?
* যেহেতু স্বপ্ন নিয়ে আসিনি তাই স্বপ্ন পূরণ বিষয়টি আসে না। তবে দেশে ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে করতে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, দিন চলতে চলতে নতুন নতুন পরিকল্পনা মাথায় এসেছে কিছু কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু হয়নি! সবাইকে নিয়ে এখন নতুন নতুন স্বপ্ন দেখি কিছু পূরণ হবে, কিছু হবে না। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলে দেওয়া দরকার, স্বপ্ন পূরণ হতেই হবে সেটা কিন্তু সত্যি নয়। স্বপ্ন দেখতে হয় আর সেটার জন্য কাজ করতে হয় সেটা হচ্ছে সত্যি।
ষ স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আমাদের অর্জন নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, হতাশাও কম নেই। এমন বাস্তবতাতেও আমরা যতটুকু দেখি, আপনি অসম্ভব আশাবাদী একজন মানুষ। এবং যে তারুণ্যকে কেউ কেউ সমাজের ঘুণে ধরা অংশ হিসেবে দেখতে চান আপনার পদচারণা সেই তারুণ্যকে কেন্দ্র করে_ লেখালেখি বা কর্মকাণ্ড সব সময় তাদের সঙ্গে কেন?
* আমি আলাদাভাবে যুক্তিহীন বারাবাড়ি আশাবাদী মানুষ সেটি সত্যি নয়_ আমি যে জীবনের ভেতর দিয়ে এসেছি সেখানে অন্য রকম কিছু হওয়াটাই অস্বাভাবিক। ১৯৭১ সালে তাড়া খাওয়া পশুর মতো ছুটে বেড়িয়েছি, একটি দিন শেষ হওয়ার পর অন্য একটা দিন শুরু হবে কি-না জানতাম না! যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর উদ্বাস্তুর মতো ঘুরে বেড়িয়েছি, রক্ষীবাহিনী বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর রাস্তায় রাত কাটিয়েছি, পরের বেলা কোথা থেকে খাবার আসবে জানতাম না, এমন দিন গিয়েছে যে, বাসায় একটা শার্ট, সেটা পরে কখনও বড় ভাই বাইরে গেছে, সে ফিরে এলে সেই শার্ট পরে আমি বাইরে গেছি। আমাদের খুব সৌভাগ্য যে, আমরা একটা অসাধারণ মা পেয়েছি, যিনি আমাদের পুরো পরিবারটাকে ধরে রেখেছেন এবং আমরা টিকে গেছি। এই দেশে সেই দুঃসময়ে অসংখ্য পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই ভয়ঙ্কর পরিবেশে আমি কিংবা আমরা যারা বেঁচে এসেছি তাদের কে ভয় দেখাবে? কে হতাশ করবে? সব বুড়ো মানুষই তারুণ্যকে ঘুণে ধরা বলে। এখন যারা তরুণদের গালাগাল করেন তারা যখন কম বয়সী ছিলেন তখন তাদের বাবা-চাচারা তাদের গালাগাল করেছেন! কাজেই এগুলোকে আমি সিরিয়াসলি নিই না। আমি বিশ্বাস করি, সবার ভেতরেই একজন ভালো মানুষ থাকে, তাকে ঠিকভাবে স্পর্শ করলেই সে বের হয়ে আসে।
আমার 'পদচারণা' বা কর্মকাণ্ড সব সময় তারুণ্যকে কেন্দ্র করে, কারণ আমার সেটাই ভালো লাগে। একজন বুড়ো মানুষকে নতুন করে কিন্তু শেখানো যায় না_ কিন্তু কম বয়সী তরুণরা কিন্তু নতুন কিছু শিখতে রাজি আছে। স্বপ্ন দেখতে রাজি আছে।
ষ তরুণদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আপনাকে দাঁড়াতে হয়েছে; দাঁড়িয়েছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতেও_ হুমকি-ধমকিও শুনতে হয়েছে, নিজেকে কখনও বিপন্ন মনে হয়েছে কি?
* না, নিজেকে কখনই বিপন্ন মনে হয়নি, প্রশ্নই ওঠে না। যখনই দুঃসময় এসেছে তখন চারপাশে আরও বেশি মানুষ এসে আরও নতুনভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। আজকাল ইন্টারনেটে তরুণরা অনেক বেশি সময় কাটায়_ আমি শুনেছি সেখানে কেউ যখন আমার বিরুদ্ধে [কিংবা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে] একটা কুৎসিত কথা বলে তখন অসংখ্য তরুণ সেটাকে তাদের মতো করে প্রতিবাদ করে। মানুষের ভালোবাসা একটি অসাধারণ বিষয়, আমি সেই ভালোবাসাটুকু অনুভব করতে পারি। আমি সব সময় সৃষ্টিকর্তাকে বলি তিনি যেন আমাকে সেই শক্তিটুকু দেন যেন আমি কখনও কারও ভালোবাসার অমর্যাদা না করি।
ষ এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক_ মাত্র ৭ বছর বয়সে সায়েন্স ফিকশন লেখা দিয়ে শুরু করে ছিলেন লেখালেখি?
* মনে হয় এটা জেনেটিক। বাবা লিখতেন, মা লেখেন, ভাইয়েরা লেখে, বোনেরাও লেখে, এখন তাদের ছেলেমেয়েরাও লেখে! আমরা বইয়ের মাঝে বড় হয়েছি, কাজেই বই পড়তে পড়তে লেখার ইচ্ছে করবে সেটাই স্বাভাবিক। পরিবারে সেটা নিয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে তাই লেখালেখি করেছি। সত্যি কথা বলতে কী, লেখালেখি না করাটাই হয়তো অস্বাভাবিক হতো।
তবে লেখালেখি করে লেখক হিসেবে পরিচিতি হবে সেটা কখনোই মাথায় ছিল না, লেখালেখি করেছি মনের আনন্দে!
ষ দীপু নাম্বার টু'র দীপু বা কাজলের দিনরাত্রির কাজল কিংবা আমি তপু'র তপুর মধ্যে মুহম্মদ জাফর ইকবালের কৈশোরকে দেখার সুযোগ কতটুকু?
* কিশোর উপন্যাসের প্রায় সবগুলোতেই আমার [কিংবা আমার প্রজন্মের] কৈশোরের ছাপ পাওয়া যেতে পারে। তবে 'কাজলের দিনরাত্রি' বা 'আমি তপু' একটু ব্যতিক্রম_ এই বই দুটির চরিত্রগুলোর যে জটিলতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে আমার জীবনে কখনোই সেই জটিলতা ছিল না!
ষ কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা রাখছেন, সে সময় শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। আপনার বাবা যুদ্ধে গেলেন, আপনি গেলেন না?
* আমার বাবা যে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে অস্ত্র হাতে পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন তা নয়। পুলিশ অফিসার ছিলেন, সেই হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করেছেন, যার জন্য পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে প্রাণ দিতে হয়েছে।
আমি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে অনেক চেষ্টা করেছিলাম, পারিনি। সবার কপালে সবকিছু থাকে না, আমার কপালে এটা ছিল না। সৃষ্টিকর্তা আমার সব ইচ্ছা পূরণ করেছেন, এটা করেননি, কেন করেননি জানি না! [কে জানত পাকিস্তানিরা এত ভীরু, কাপুরুষ আর দুর্বল যে, মাত্র নয় মাসে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাবে!]
ষ মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশ, ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে নতুন এক রাষ্ট্রের পথচলা এবং আপনি বিশ্ববিদ্যালয় পুড়ূয়া এক শহীদ পরিবারের সন্তান_ সে দিনের সংগ্রামটা বলবেন কি?
* সেটি ছিল খুব কঠিন সময়, খানিকটা আগেই বলেছি। তখন বুঝতে পারিনি, এখন যখন পেছন ফিরে তাকাই তখন মাঝে মধ্যে অবিশ্বাস্য মনে হয় যে, কেমন করে আমরা টিকে ছিলাম। দুঃখ কষ্ট ঝামেলা দুর্বলতার কথা বলতে ভালো লাগে না, তাই সেগুলো আবার না বললাম। কিন্তু কেউ যেন মনে না করে সময়টুকু শুধু দুঃসময় ছিল_ একই সঙ্গে সেটি ছিল আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের মাথা তুলে দাঁড়ানোর সময়। 'গেরিলা' নামে যে অসাধারণ ছায়াছবিটি নাসিরুদ্দীন ইউসুফ তৈরি করেছেন তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নাসিরুদ্দীন ইউসুফের পরিচালিত, সেলিম আল দীনের লেখা নাটকে আমিও অভিনয় করেছিলাম, যেটি টিএসসিতে মঞ্চস্থ হয়েছিল। নির্মলেন্দু গুণের কবিতার বই প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হলো, আমরা মুগ্ধ হয়ে সেই কবিতাগুলো পড়তাম। শাহাদত চৌধুরীর সম্পাদিত বিচিত্রা তখন একমাত্র সাময়িকী_ কী আধুনিক পত্রিকা! আমার লেখা প্রথম ছোটগল্প 'ছেলেমানুষী' প্রকাশিত হলো_ গর্বে মাটিতে আমার পা পড়ে না। গান, কবিতা, ছোটগল্প, নাটক, বিজ্ঞান সবকিছু নিয়ে সত্যিকারের রেনেসাঁ।
ষ পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন কলাম বা নিবন্ধে সমাজ এবং রাজনীতি সচেতন একজন প্রগতিশীল জাফর ইকবালকে আমরা পাই। এসব বিষয়কে উপজীব্য করে ঔপন্যাসিক হিসেবে আপনাকে আমরা পাই না...।
* পাবেন না! ছোট বাচ্চারা আমাকে খুন করে ফেলবে। তারা আমাকে বলেছে সবাই বড়দের জন্য লেখে, খবরদার আপনি বড়দের জন্য লিখতে পারবেন না। আমাদের দেশের সাহিত্যিকদের জন্য আমি অবশ্য একটু দুঃখ অনুভব করি, খুবই সীমিত কিছু বিষয়ে আরও সীমিত প্রকাশ ভঙ্গিতে তাদের লিখতে হয়। এই মুহূর্তে পৃথিবীর অন্য সাহিত্যিকরা যেভাবে লিখতে পারেন, তাদের যে অবিশ্বাস্য স্বাধীনতা আছে, আমাদের লেখকদের তার বিন্দুমাত্র নেই। 
ষ আপনাদের বেড়ে ওঠা এবং বর্তমান প্রজন্মের বেড়ে ওঠা_ পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান_ সমস্যা কোথায়, যে কারণে একটা পর্যায়ে এসে তাদের অনেককেই হতাশায় পেয়ে বসছে?
* তাই নাকি? আমি তো জানি না! যদি সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে সম্ভবত সেটা একটা ফ্যাশন। আমি যখন ট্রেনে করে আসি এবং জানালা দিয়ে মাথা বের করে একটা কিশোর কিংবা কিশোরীকে কলা, ঝালমুড়ি, চিনা বাদাম, কিংবা খবরের কাগজ বিক্রি করতে দেখি, তাদের মাঝে বিন্দুমাত্র হতাশা দেখতে পাই না, তারা রীতিমতো যুদ্ধ করে যাচ্ছে। ভোরবেলা যখন গামেন্টের মেয়েরা হাসতে হাসতে কথা বলতে বলতে কাজ করতে যায়, তখনও আমি তাদের মাঝে কোনো হতাশা দেখি না। তারা কিন্তু সংগ্রাম করে যাচ্ছে। 
'হতাশা' নামের এই 'বিলাসী' শব্দটি শুধু সেই তরুণদের, যারা পরিবার সমাজ আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব সুযোগ পেয়েছে। আমি এই দলটিকে নিয়ে সময় নষ্ট করতে চাই না। শত ঝামেলার মাঝে থেকেও যারা কখনও হতাশ হয় না, তারা হচ্ছে সমাজের আসল শক্তি_ আমি আসলে তাদের মুখ চেয়ে থাকি, তাদের জন্য কাজ করি। 
ষ লিখলেন 'মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস'। মাত্র ২২ পৃষ্ঠায় এত বড় একটা ক্যানভাসকে ধারণ! ভেতরের গল্পটা বলবেন?
* ভেতরের গল্পটা সহজ। জোট সরকারের আমলের একটা শ্বাসরুদ্ধকর সময়, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার, অবমাননা করার সব রকম চেষ্টা চলছে। আমরা সমমনা বেশকিছু মানুষ বসেছি কী করা যায় সেটা নিয়ে কথা বলতে। অনেক সুন্দর সুন্দর পরিকল্পনা এসেছে, আমি তার মাঝে বললাম, আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ। নতুন প্রজন্ম যদি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটুকু জানে তাহলে তারা দেশের জন্য যে ভালোবাসা অনুভব করবে সেটি আর অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটুকু হবে ছোট, যেন এক কাপ চা খেতে খেতে পড়ে ফেলতে পারবে, বাসের জন্য অপেক্ষা করতে করতে পড়ে ফেলতে পারবে কিংবা দুই ক্লাসের মাঝখানে পড়ে ফেলতে পারবে। প্রতিটি লাইনের রেফারেন্স থাকবে যেন কেউ এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। ইতিহাসটি হবে এক ফর্মার নিউজপ্রিন্টের হ্যান্ডবিলের মতো, পড়ে ফেলে দিলেও ক্ষতি নেই। মূল্য হবে খুব কম যেন পয়সা খরচ না হয়!
যারা উপস্থিত ছিলেন তারা আমার প্রস্তাবটি লুফে নিলেন, কিন্তু নিউজপ্রিন্টের হ্যান্ডবিল করতে রাজি হলেন না_ সেটা যেন সংগ্রহ করে রাখে সেই রূপটি দেবেন বলে ঠিক করলেন। সেই ঘরটিতে একটি কম বয়সী বাচ্চা মেয়ে ছিল, সে ইতস্তত করে বলল, 'যদি সেই ইতিহাসটি জাফর ইকবাল স্যার লেখেন তাহলে আমাদের বয়সী ছেলেমেয়েরাও সেটা পড়ে ফেলবে।' তার কথাটা মেনে নিয়ে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো। 
এই হচ্ছে ইতিহাস। এটা লিখতে আমাকে যে পরিশ্রম করতে হয়েছে সেই পরিশ্রম করে দশটা সায়েন্স ফিকশন লেখা যেত। শেষ পর্যন্ত এক ফর্মার মাঝে আটকানো যায়নি, একটু বড় হয়ে গেছে! 
ষ বাংলা একাডেমী পুরস্কার পাওয়ার পর একাডেমী মাঠেই তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন_ ভালো লাগছে কিন্তু একই সঙ্গে খারাপ লাগাও আছে। আহমদ ছফাকেই এ পুরস্কার দেওয়া হয়নি? এ ব্যাপারে বলবেন?
* তার মতো এত বড় লেখক পাননি, কিন্তু আমার মতো একজন পাতি লেখক পেয়ে গেল সেটা খুব লজ্জার বিষয়। বাংলা একাডেমীর পুরস্কার পাওয়ার পর প্রতি বছরই এই পুরস্কারের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য আমার কাছে চিঠি পাঠানো হয়। মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়ার প্রথা চালু করে আহমদ ছফাকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য আমি অনেকবার প্রস্তাব দিয়েছি, আমার প্রস্তাবকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। আমার পুরস্কারের ব্যাপারে একটা মজার তথ্য আছে। আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে 'ভাষা ও সাহিত্যে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের' জন্য। আমি যখন পুরস্কার পেয়েছি, তখন আমি মাত্র দুটি পাতলা জিলজিলে বিজ্ঞানের বই লিখেছি, এর জন্য কাউকে এত বড় পুরস্কার দেওয়া ঠিক নয়। আমার খুব লজ্জা লেগেছে, তাই এখন প্রতি বছরই বিজ্ঞানের ওপর লিখতে চেষ্টা করি যেন পুরস্কারটা হালাল হয়।
আরও একটা বিষয় হয়তো বলা যায়, আগে জানতাম না এখন টের পেয়েছি পুরস্কার পাওয়ার জন্য অনেক লেখক নিজেরাই অনেক ধরাধরি করেন, সেটা দেখে আমার খুব অস্বস্তি হয়। অনেক বড় লেখক যেহেতু এই পুরস্কার পাননি তাই এই পুরস্কার না পাওয়াটাই তো অনেক সময় সম্মানজনক।
ষ আমরা অনেক কিছুতেই প্রভাবিত হই_ ব্যক্তি, বিষয়, ঘটনা। আপনার জীবনে তেমন কিছু আছে কি?
* অবশ্যই আছে, অনেক কিছুই আছে। সেই ঘটনাগুলো আমি আমার লেখালেখিতে উল্লেখও করেছি। যেহেতু এই মুহূর্তে লেখালেখি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেই বিষয়েই বলি।
জাহানারা ইমাম নিউইয়র্ক গেছেন, আমার তার সঙ্গে খুব পরিচিত হওয়ার শখ। আমি তাই খুব কুণ্ঠিতভাবে তার কাছে গিয়ে বললাম, 'আপনি আমাকে চিনবেন না, আমার বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের খুব বড় লেখক, আমি তার ছোটভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল_।'
জাহানারা ইমাম আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, 'আমি তোমাকেও চিনি। আমি তোমার সায়েন্স ফিকশন কপোট্রনিক সুখ দুঃখ পরেছি_' তারপর আমার লেখালেখি নিয়ে খুব দয়ার্দ্র কিছু কথা বললেন। শুনে আমি একেবারে হকচকিয়ে গেলাম।
আমি তখন আমেরিকায় থাকি। দুই-চারটা বই দেশে ছাপা হয়েছে, সেগুলো আমার হাত পর্যন্ত পেঁৗছায় না, দেখতে কেমন, পড়তে কেমন জানি না। কেউ পড়ছে কি-না তাও জানি না। জাহানারা ইমামের কথা শুনে আমার ভেতরে ম্যাজিকের মতো কিছু একটা ঘটে গেল, আমার মনে হলো তার মতো একজন মানুষ যদি আগ্রহ নিয়ে আমার বই পড়ে থাকেন তাহলে এখন থেকে আমি নিয়মিতভাবে লিখব।
সেই থেকে আমি নিয়মিতভাবে লিখে আসছি। সব দায়দায়িত্ব শহীদ জননী জাহানারা ইমামের। 
ষ নিজের কোন পরিচয় ভালো লাগে? 
* শিক্ষক।
ষ আপনার নিজের রচনার মধ্যে কোনগুলো আপনার প্রিয়?
* আমি ঠিক জানি না এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব কি-না! আমার স্মৃতি খুব দুর্বল, তাই আগে কী লিখেছি মনে থাকে না। [খুব আশঙ্কা আছে, আগে লেখা কোনো একটা কাহিনী আবার লিখে ফেলব!] কিছুদিন আগে হঠাৎ করে আমার পুরনো একটা বই পড়তে পড়তে মনে হলো, 'আরে, ভালোই তো লিখেছিলাম!' কাজেই বলা যেতে পারে, যে লেখালেখিগুলো আমি ভুলে গেছি সেগুলো যথেষ্ঠ প্রিয়। 
ষ নিজের লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
* আমাদের বাচ্চাদের বিজ্ঞান এবং গণিতের পাঠ্যবইগুলোর ভাষা খুবই কটমটে বিজ্ঞানের সহজ বিষয়গুলোও জটিল করে লেখা হয়। আমার দুটি ইচ্ছা এবং পরিকল্পনার একটি হচ্ছে তাদের জন্য সহজ ভাষায় বিজ্ঞানের বইগুলো লিখে দেওয়া। [কাজ শুরু করেছি!]
ষ পরিণত পাঠকদের জন্য লিখতে আপনার দ্বিধা কেন?
* আমার কোনো দ্বিধা নেই, ভয় আছে। ছোট বাচ্চারা তাহলে আমাকে খুন করে ফেলবে। তারা যদি আমাকে অনুমতি দেয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ওপর আমার একটা বড় উপন্যাস লেখার ইচ্ছা আছে। এটি হচ্ছে আমার জীবনের দ্বিতীয় ইচ্ছা। এটা যদি শেষ করতে পারি তাহলে আমি মনে করব আমার দায়িত্বের একটা ধাপ শেষ হলো। তখন পরের ধাপ নিয়ে কাজ শুরু করব। 
ষ আপনার প্রিয় লেখক কারা?
* এই প্রশ্নেরও মনে হয় উত্তর নেই। লেখকদের নাম বলে শেষ করা যাবে না। কোনো কোনো লেখক হয়তো শৈশবে বা কৈশোরে খুব প্রিয় ছিলেন, এখন বড় হয় গেছি বলে তার লেখা পড়ি না, কিন্তু আমার প্রিয় লেখকের তালিকায় অবশ্যই তার নাম থাকতে হবে। আবার এই মুহূর্তে যে লেখকের লেখা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ছি তার নামটিও থাকতে হবে, কাজেই তালিকাটি শেষ করতে পারব না। তবে প্রিয় কবির বেলায় কাজটি খুব সহজ। আমার প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ। আগে সবসময় আমার ব্যাকপেকে তার একটা বই থাকত, এখন আমি আমার শরহফষব ই-বুক রিড়ারে তার বই রাখি! [যারা শরহফষব ই-বুক রিডার বলতে কী বোঝায় জানেন না তাদের জন্য বলছি : পৃথিবীতে বই প্রকাশনার যুগে একটা বিপ্লব ঘটেছে, মানুষ আজকাল কাগজের বই না পড়ে ই-বুক রিডারে বই পড়া শুরু করেছে। এর মাঝে সেটা প্রায় বইয়ের মতো হয়ে গেছে, একটু অভ্যাস হয়ে গেলে কোনো সমস্যাই হয় না। শরহফষব একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড, তাদের ই-বুক রিডার থেকে যে কোনো সময় যে কোনো বই কিনে এক মিনিটের মাঝে পড়তে শুরু করা যায়। আগে বই কিনে রাখতাম পরে পড়ব বলে, পড়া হতো না। এখন বই কিনি আর পড়ি। কী মজা!]
ষ কোন কোন লেখকের লেখায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন?
* যার লেখাই পড়ে আনন্দ পেয়েছি তার লেখাতেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। একটি বই যদি আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় তাহলে সেটা মার্ক টোয়েনের লেখা টম সয়ার। কৈশোরে সেই বই পড়ে আমার মাথা ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল_ সেই থেকে আমি তার মতো করে লেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ষ সমকালের পক্ষ থেকে আপনাকে ৫৯তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
* দিলেন তো মনে করিয়ে। মনে ছিল না ভালোই ছিলাম! এই বয়সে কে জন্মদিনের কথা মনে করতে চায়? 

You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. Muhammad Zafar Iqbal An Interview, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com