Ticker

6/recent/ticker-posts

ঠাকুরের মাৎস্যন্যায় - সলিমুল্লাহ খান




​​ঠাকুরের মাৎস্যন্যায়

ভাষা-শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতা

সলিমুল্লাহ খান


পরাধীন যুগের—বিশেষ বিংশ শতাব্দীর — বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তুলনা খুঁজিয়া পাওয়া ভার। এই শতাব্দীর তৃতীয় দশকে কাজী নজরুল ইসলাম পত্রপত্রিকায় আত্মপ্রকাশ শুরু করিয়াছেন। তখন সবার উপরে বিরাজমান রবীন্দ্রনাথ ।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এয়ুরোপের একটা বড় পুরস্কার জিতিয়াছেন। ক্ষণকাল আগে গত হইয়াছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। কিছুদিন না যাইতেই এয়ুরোপের বড় জঙ্গ শুরু হইয়াছে। ১৯২১ সালে বোলপুরের ব্রহ্ম বিদ্যালয়কে ‘বিশ্বভারতী’ নাম দান করিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করিয়াছেন ঠাকুর মহাশয়। শুরু হইয়াছে নতুন যুগ ।

১৯২০ সালের কয়েক বছরের মধ্যে খ্যাতিমান হইয়া উঠিয়াছেন কাজী নজরুল ইসলাম। কবিতায় আর গানে না হইলেও সাংবাদিকতায় আর কারাবাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ছাড়াইয়া গিয়াছেন তিনি। নজরুলের কারাপ্রবাসকালে রবীন্দ্রনাথ তাঁহার নামে একখানি পুস্তিকা উৎসর্গ করিয়াছিলেন। প্রবীণ কবির আশীর্বাদ শিরোধার্য করিয়া তরুণ কবি সম্পাদিত পত্রিকাও প্রকাশিত হইয়াছে। এইসব কাহিনী কমবেশি সকলেই জানেন ।

সকলে আরো জানেন, ১৯২৫ সালের মধ্যভাগে চিত্তরঞ্জন দাশের অকালমৃত্যুর পর বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের রাজনীতি ক্রমশ বলপ্রয়োগের খাতে প্রবাহিত হইতে থাকে। এই খাত হইতে রাজনীতিকে ফিরাইবার যোগ্যতা স্বয়ং চিত্তরঞ্জনও রাখিতেন কিনা সে বিতর্ক চলিতে পারে। চিত্তরঞ্জনের স্থলাভিষিক্ত হইবার যোগ্য সেই যুগে রবীন্দ্রনাথ ব্যতীত আর কেহ ছিলেন না বলিয়াই মনে হয়। ততদিনে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ইহলোকত্যাগী হইয়াছেন। বাঁচিয়া রহিয়াছেন রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় আর উদয়ের পথে যাঁহার বাণী শোনা যাইতেছে তাঁহার নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ।

দুর্ভাগ্যের মধ্যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পেশা আকারে রাজনীতি গ্রহণ করেন নাই। এদিকে তাঁহার পেশা ‘আসমানদারি' মানিয়া লইলে অর্থাৎ পরিচয়টা নিছক কবির অধিক ছিল না বলিলে ভারি অন্যায় হয়। সমাজনেতা না হইয়াও তিনি সমাজে যথাপরিমাণে প্রভাববিস্তার করিয়াছিলেন। সেই প্রভাবের প্রকৃতি ও প্রসার কোনটাই চিত্তরঞ্জন দাশের অভাব পূরণ করে নাই—এ কথা অসত্য নহে। ক্ষেত্র হিশাবে সেই প্রভাব কতখানি প্রশস্ত হইয়াছিল তাহা অন্তত একজনের—বিশেষ কাজী নজরুলের — উদাহরণ বিচার করিলে কতক পরিচ্ছন্ন হয়।



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।

Post a Comment

0 Comments