সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label গোলাম মুরশিদ. Show all posts
Showing posts with label গোলাম মুরশিদ. Show all posts

নারী প্রগ্রতির একশো বছর রাসসুন্দরী থেকে রোকেয়া - গোলাম মুরশিদ

নারী প্রগ্রতির একশো বছর রাসসুন্দরী থেকে রোকেয়া - গোলাম মুরশিদ নারী প্রগ্রতির একশো বছর রাসসুন্দরী থেকে রোকেয়া - গোলাম মুরশিদ
একুশ শতকের বাংলাদেশে নারী আর পদার আড়ালে লুকিয়ে নেই। তাকে দেখা যায় জনজীবনের সর্বত্রই। তার ঘরের বাইরে। সেখানে সে ছোটোবড়ো নানা পদে অধিষ্ঠিত ঝাড়ুদারনি থেকে মন্ত্রী পর্যন্ত। স্কুলের শিক্ষিকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা, কেরানি থেকে বিচারপতি পর্যন্ত লেখাপড়ায় সে এগিয়ে গেছে ছেলেদের প্রায় পিছনে ফেলে। হিমালয় থেকে আরম্ভ করে অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শিখরে উঠেছে বাঙালি নারী।
কিন্তু দেড় শো বছর আগেও মেয়েদের জন্যে লেখাপড়া, ঘরের চার দেয়ালের বাইরে যাওয়া, গাড়িতে চড়া, জুতো পায়ে দেওয়া দিনের বেলা স্বামীর সঙ্গে দেখা করা অথবা কথা বলা ছিলো একেবারে নিষিদ্ধ। পুরুষ-শাসিত বাঙালি সমাজে নারীরা তখন ছিলো একটা জন্তুর মতো। তার ভূমিকা ছিলো একের ভিতরে পাচ - একই সঙ্গে সে ছিলো রাধুনি পরিচারিকা, আয়া, সন্তানের মা এবং শয্যাসঙ্গিনী ।
তারপর দেড় শো বছরে আমূল পরিবর্তন এসেছে সেই অবস্থার। কিন্তু কী করে? কাদের চেষ্টায়? কোন নারীরা প্রথমে পথ দেখিয়েছিলেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার? মাত্র দেড় শো বছরে এতো বড়ো সামাজিক পরিবর্তন কী করে সম্ভব হলো?
এই গ্রন্থে সেই কথাই লেখা হয়েছে, কয়েকজন নারীর দৃষ্টান্ত দিয়ে। রাসসুন্দরী দেবী অবিশ্বাস্যভাবে নিজে নিজে লেখাপড়া শিখে বাঙালিদের মধ্যে সবার আগে আত্মজীবনী রচনা করেছিলেন। কৈলাসবাসিনী দেবী সবার আড়ালে স্বামীর কাছে লেখাপড়া শিখে তিনখানা বই লিখেছিলেন। জ্ঞানদানন্দিনী দেবী বাঙালি নারীদের শাড়ি পরা শিখিয়েছিলেন। নিজে গিয়েছিলেন বড়োলাটের সঙ্গে ডিনার করতে। কৃষ্ণভাবনী দাস বিলেতে গিয়ে একটি চমৎকার ভ্রমণকাহিনী লিখেছিলেন। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীদের জন্যে পুরুষের সমান অধিকার এবং মর্যাদার দাবি তুলেছিলেন। মোট কথা, ইতিহাস রচনা করেছিলেন তারা।

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কালাপানির হাতছানি বিলেতে বাঙ্গালির ইতিহাস - গোলাম মুরশিদ

কালাপানির হাতছানি বিলেতে বাঙ্গালির ইতিহাস - গোলাম মুরশিদ

কালাপানির হাতছানি বিলেতে বাঙ্গালির ইতিহাস
গোলাম মুরশিদ

ভূমিকা
বাঙালিরা ঘরকুনোে - এ অপবাদ একদিন এমন বহুল-প্রচলিত ছিলাে যে, কবি বাংলা-মায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তাদের লক্ষ্মীছাড়া করে ঘর থেকে বের করে দিতে। বের করে দিতে, যাতে তারা বহির্বিশ্বে গিয়ে অকর্মণ্য নাম ঘােচাতে পারেন। বহু প্রার্থনা ব্যর্থ হয়েছে কবির - বিশেষ করে বাঙালিরা এক হােক – এই করুণ মিনতি। কিন্তু বঙ্গমাতা তার সন্তানদের ঘর-ছাড়া করেছেন ঠিকই। এখন শতকরা প্রায় পাঁচজন বাঙালি বাস করেন মূল বাংলাভাষী অঞ্চল অর্থাৎ বাংলাদেশ, পশ্চিম বঙ্গ, ত্রিপুরা এবং আসামের বাইরে। উত্তর আর দক্ষিণ মেরু বাদ দিলে পৃথিবীর অন্য সব জায়গাতেই বােধ হয় বাঙালিরা বাস করেন। অনেকের মতে, এখন আশি লাখ বাঙালি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বঙ্গের বাইরে - পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে, পূর্ব এবং দক্ষিণ ইউরােপে, পশ্চিম ইউরােপে, উত্তর ও দক্ষিণ অ্যামেরিকায়, অস্ট্রেলিয়ায়, এমন কি, গহন অরণ্যের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড আফ্রিকায়।
বহির্বিশ্বে বাঙালিদের এই যাত্রা শুরু হয়েছিলাে বিলেতের পথ ধরে। কাজটা আদৌ সহজ ছিলাে না। কারণ, ভয় ছিলাে কালাপানির। সে কেবল কুলহীন অতলান্ত নীল সাগরের ভীতি নয়। কালাপানি পার হওয়া ছিলাে ধর্ম-বিনাশী কাজ। যে-দেশে মানুষ কুমড়াে খাবে কি খাবে না, তাও ঠিক করে পাঁজি দেখে, সে দেশের মানুষ এতাে বড়াে নিষেধ অমান্য করে কিভাবে অজানা কুলের উদ্দেশে কালাপানিতে ভাসলেন এবং তারপর কিভাবে বিশ্বের দরবারে পৌছে গেলেন - সেই কাহিনী একদিকে যেমন রােমাঞ্চকর, অন্যদিকে তেমনি দারুণ কৌতূহলের।
এখন বিলেতের সবচেয়ে বড়াে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলাের মধ্যে একটি হলাে বাঙালিদের। ইংরেজরা বঙ্গদেশ জয় করেছিলেন। দু’শ বছর ধরে শাসন করেছিলেন, শােষণ করেছিলেন। তারপর ইংরেজরা যখন ফিরে গেলেন, বাঙালিরা - যেন তাদের তাড়া করে - তাদের পেছনে পেছনে বিলেতে গেলেন। তারা বিলেত শাসন করতে পারলেন না, শােষণও নয়। কিন্তু তারাও ইংরেজদের আংশিকভাবে জয় করলেন। বিলেতি সমাজের অবিচ্ছিন্ন অংশ হলেন তারা, তাদের খাদ্যাভ্যাসে ফেললেন অবিচ্ছেদ্য প্রভাব। ভেতাে বাঙালিদের সংস্পর্শে এসে ইংরেজরাও ভেতাে হলেন।
গৃহভৃত্য হিশেবে বাঙালিরা বিলেতে আসতে আরম্ভ করেন সতেরাে শতক থেকে। আর দেশভ্রমণের উদ্দেশে আসেন আঠারাে শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে। এই পথিকৃৎদের মধ্যে ছিলেন ইতেশাম উদ্দীন, ঘনশ্যাম দাস, আবু তালিব, রামমােহন, আনন্দচন্দ্র মজুমদার, দ্বারকানাথ - অনেকেই। সেই কাহিনী থেকে শুরু করে আজকের বিলেতি বাঙালিদের জীবনযাত্রার চিত্র পর্যন্ত - সংক্ষেপে সবই আলােচনা করার প্রয়াস পেয়েছি এই গ্রন্থে। এ বিষয়ে গবেষণার যে-সুযোগ এবং উপকরণ আছে, তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র আমি নেড়েচেড়ে দেখেছি। কারণ, আমি পণ্ডিতজনদের জন্যে নয়, লিখেছি সাধারণ পাঠকের কৌতূহল মেটানাের জন্যে। আরও গবেষণা পণ্ডিতরা করবেন। এই বইয়ের একটা অংশ খসড়া আকারে প্রথম আলাের ঈদ সংখ্যায় প্রকাশ করেছিলেন সাজ্জাদ শরীফ। তাকে আমার কৃতজ্ঞতা। কাজ করার সময়ে যাঁদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছি, তাঁদেরও জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আর কৃতজ্ঞতা জানাই রােজিনা বিশ্রাম, মাইকেল ফিশার এবং অন্য যাদের গ্রন্থ থেকে বেশ কয়েকটা দুর্লভ ছবি নিয়েছি, তাদের। ডাণ্ডিশহরের বাঙালি পরিবারগুলাের তথ্য সংগ্রহ করে দিয়েছেন ইয়াসমীন করিম। তাকে ধন্যবাদ। এবারেও লেখার সময়ে এলিজা ধৈর্য তাে দেখিয়েছেনই, তার ওপর সহযােগিতাও করেছেন পুরােপুরি।
গােলাম মুরশিদ
লন্ডন, জানুয়ারি ২০০৮
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নারী ধর্ম ইত্যাদি - গোলাম মুরশিদ

নারী ধর্ম ইত্যাদি - গোলাম মুরশিদ
নারী ধর্ম ইত্যাদি - গোলাম মুরশিদ
“ধর্ম অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বিশ্বাস। এই শিক্ষা অস্থিমজ্জায় মিশে থাকে। ভেতর থেকেই সে আমাদের শাসন করে। তার বিধানকে অগ্রাহ্য করা অথবা অবহেলা করা তাই আদৌ সহজ নয়। কিন্তু তাই বলে ধর্ম চিরকাল এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। সব ধর্মের দিকে তাকিয়ে দেখলেই দেখা যাবে, তাতে ধীরে ধীরে কমবেশি পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। তাই ধর্ম যতই শক্তিশালি হোক, সে সময়ের ঘড়িটাকে আটকে রাখতে পারবে না, অথবা যে-নারী একবার মুক্ত হাওয়ার স্বাদ পেয়েছে, তাকেও ফের অন্ধকারে ঘরে বন্দী করতে পারবে না।” (নারী, ধর্ম ইত্যাদি)

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ১ম খন্ড

amarboi বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ১ম খন্ড
প্রায় সোয়া লাখ শব্দের সংযোজন করে প্রকাশিত হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান নামের তিন খণ্ডের বই। শব্দের কী রূপ? শব্দের খেলা কেমন, কারা তার খেলোয়াড়, এর শেষ আছে কিনা এরকম প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে অভিধানটিতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ।
বলা যায়, এটিই বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বড় অভিধান। অভিধানের প্রথম খণ্ডে সব মিলে ৪০ হাজার ৮০৪ টি শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োগবাক্য রয়েছে ৫৬ হাজার ৬১০টি। তিন খণ্ড মিলে প্রায় সোয়া লাখ শব্দ ঠাঁই পেয়েছে এই অভিধানে। এই সোয়া লাখ শব্দ সবই ১৯৭২/৭৩ সালের আগ পর্যন্ত। অভিধানটিতে প্রায় তিন হাজারের মতো পৃষ্ঠা রয়েছে । প্রতি খণ্ডের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা উপলক্ষে ৩০% কমিশনে অভিধানটি বিক্রি করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ রচিত প্রথম বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’শ বছর আগে। ১৮১৭ সালে তিনি বাংলা অভিধান রচনা করেন। এরপর অনেক পণ্ডিতই অভিধান রচনা করেছেন। তবে বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নেই বললেই চলে। এই অভিধানগুলোতে প্রচলিত-অপ্রচলিত শব্দের এক বা একাধিক অর্থ এবং পদ পরিচয় দেয়া হয়েছে মাত্র। আবার কোনোটিতে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিও দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, কে, কখন, কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তার কোনো হদিস মেলে না বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোতে।
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা মিলবে। ১৪৫০ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে শব্দের কী অর্থ ছিল আর তা রবীন্দ্রনাথের হাতে পড়ে কী অর্থ দাঁড়িয়েছে, তার বিবর্তনমূলক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে অভিধানটিতে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মতো কলবরে না হলেও মডেল হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানটিকেই আমলে নিয়ে রচনা করা হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ এবং দৃষ্টান্ত দেয়া আছে। এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে শব্দের রূপান্তরের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড অভিধানে। অক্সফোর্ড-এর এই নীতি অনুসরণ করে শব্দের অর্থ-পরিচয় তুলে ধরেছেন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদক গোলাম মুরশিদ।
অক্সফোর্ড অভিধান রচনা করতে সময় লাগে ৪৯ বছর। ১৮৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয় অক্সফোর্ড অভিধানের প্রথম সংস্করণ। জেমস মারের নেতৃত্বে বিশাল এক সম্পাদনাকর্মী গোষ্ঠী অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদনা করেন। কিন্তু আজও সম্পাদনা হচ্ছে অক্সফোর্ড অভিধানটি। এখনও নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অভিধানটিতে। সুতরাং বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর প্রথম সংস্করণকে সূচনালগ্নই বলা যেতে পারে। একই অর্থে অপূর্ণও বটে। সোয়া লাখ শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে রচিত অভিধানটি সময়ের ব্যবধানে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সম্পাদক গোলাম মুরশিদ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ভাবনা নিয়ে বিবর্তনমূলক একটি অভিধান রচনা করবেন বলে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমিতে সাক্ষাৎ করেন লেখক, গবেষক গোলাম মুরশিদ। ২০১০ সালের শেষ দিকের কথা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অবগত হয়ে প্রথম সাক্ষাতেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি বাজেটও করিয়ে নেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই যাত্রা শুরু হয় বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের রচনা কাজের। শুরু থেকেই দশ জনের একটি তরুণ সম্পাদনা গোষ্ঠী অক্লান্ত শ্রম আর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে থাকেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একটি ভবনে চলে সম্পাদনার কাজ। ভবনটির সম্পাদনা কক্ষে সংযুক্ত করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণেই প্রযুক্তির এই সংযোজন। তিনি সুদূর লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন সম্পাদনা টিমের সঙ্গে। সহযোগী সম্পাদক স্বরোচিষ সরকার এবং সমন্বয়ক মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তরুণ এই সংকলকেরা পাঠকের হাতে বিশালাকৃতির অভিধান গ্রন্থটি তুলে দিতে সক্ষম হন।
অভিধানটি শুধু বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য রচিত বলেই সম্পাদকমণ্ডলী মনে করছেন। এপার বাংলা ওপার বাংলায় একইভাবে সমাদৃত হবে বলে তাদের আশাবাদ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, বরং শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা বজায় রাখা হয়েছে। একাডেমিকভাবেও অভিধানটির উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিধানটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক এবং পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অভিধানটি প্রকাশ হওয়ার আগেই কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা দু’বার ফলাও করে খবর ছাপিয়েছে। উপ-সম্পাদকীয়ও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। অভিধানটির ওপর দেশ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকের মাঝেও বইটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিককে জানায়, প্রতিদিনই অভিধানটির বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। সুতরাং বলা যেতেই পারে এবারের বইমেলায় বিশেষ সংযোজন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, যা বাংলা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অধিক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ড. মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে অভিধানটির সংকলক ছিলেন আসিফ আজিজ, কল্পনা ভৌমিক, জামাল উদ্দিন জাহেদি, ফারহান ইশরাক, মতিন রায়হান, মাহফুজা হিলালী, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, রাজীব কুমার সাহা, শামস্ নূর।
এই অভিধান প্রকল্পের বাস্তবায়ক শামসুজ্জামান খান। কর্মসূচী পরিচালক শাহিদা খাতুন।
বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ২য় খন্ড

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ২য় খন্ড বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ২য় খন্ড
প্রায় সোয়া লাখ শব্দের সংযোজন করে প্রকাশিত হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান নামের তিন খণ্ডের বই। শব্দের কী রূপ? শব্দের খেলা কেমন, কারা তার খেলোয়াড়, এর শেষ আছে কিনা এরকম প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে অভিধানটিতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ।
বলা যায়, এটিই বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বড় অভিধান। অভিধানের প্রথম খণ্ডে সব মিলে ৪০ হাজার ৮০৪ টি শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োগবাক্য রয়েছে ৫৬ হাজার ৬১০টি। তিন খণ্ড মিলে প্রায় সোয়া লাখ শব্দ ঠাঁই পেয়েছে এই অভিধানে। এই সোয়া লাখ শব্দ সবই ১৯৭২/৭৩ সালের আগ পর্যন্ত। অভিধানটিতে প্রায় তিন হাজারের মতো পৃষ্ঠা রয়েছে । প্রতি খণ্ডের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা উপলক্ষে ৩০% কমিশনে অভিধানটি বিক্রি করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ রচিত প্রথম বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’শ বছর আগে। ১৮১৭ সালে তিনি বাংলা অভিধান রচনা করেন। এরপর অনেক পণ্ডিতই অভিধান রচনা করেছেন। তবে বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নেই বললেই চলে। এই অভিধানগুলোতে প্রচলিত-অপ্রচলিত শব্দের এক বা একাধিক অর্থ এবং পদ পরিচয় দেয়া হয়েছে মাত্র। আবার কোনোটিতে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিও দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, কে, কখন, কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তার কোনো হদিস মেলে না বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোতে।
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা মিলবে। ১৪৫০ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে শব্দের কী অর্থ ছিল আর তা রবীন্দ্রনাথের হাতে পড়ে কী অর্থ দাঁড়িয়েছে, তার বিবর্তনমূলক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে অভিধানটিতে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মতো কলবরে না হলেও মডেল হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানটিকেই আমলে নিয়ে রচনা করা হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ এবং দৃষ্টান্ত দেয়া আছে। এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে শব্দের রূপান্তরের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড অভিধানে। অক্সফোর্ড-এর এই নীতি অনুসরণ করে শব্দের অর্থ-পরিচয় তুলে ধরেছেন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদক গোলাম মুরশিদ।
অক্সফোর্ড অভিধান রচনা করতে সময় লাগে ৪৯ বছর। ১৮৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয় অক্সফোর্ড অভিধানের প্রথম সংস্করণ। জেমস মারের নেতৃত্বে বিশাল এক সম্পাদনাকর্মী গোষ্ঠী অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদনা করেন। কিন্তু আজও সম্পাদনা হচ্ছে অক্সফোর্ড অভিধানটি। এখনও নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অভিধানটিতে। সুতরাং বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর প্রথম সংস্করণকে সূচনালগ্নই বলা যেতে পারে। একই অর্থে অপূর্ণও বটে। সোয়া লাখ শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে রচিত অভিধানটি সময়ের ব্যবধানে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সম্পাদক গোলাম মুরশিদ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ভাবনা নিয়ে বিবর্তনমূলক একটি অভিধান রচনা করবেন বলে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমিতে সাক্ষাৎ করেন লেখক, গবেষক গোলাম মুরশিদ। ২০১০ সালের শেষ দিকের কথা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অবগত হয়ে প্রথম সাক্ষাতেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি বাজেটও করিয়ে নেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই যাত্রা শুরু হয় বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের রচনা কাজের। শুরু থেকেই দশ জনের একটি তরুণ সম্পাদনা গোষ্ঠী অক্লান্ত শ্রম আর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে থাকেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একটি ভবনে চলে সম্পাদনার কাজ। ভবনটির সম্পাদনা কক্ষে সংযুক্ত করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণেই প্রযুক্তির এই সংযোজন। তিনি সুদূর লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন সম্পাদনা টিমের সঙ্গে। সহযোগী সম্পাদক স্বরোচিষ সরকার এবং সমন্বয়ক মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তরুণ এই সংকলকেরা পাঠকের হাতে বিশালাকৃতির অভিধান গ্রন্থটি তুলে দিতে সক্ষম হন।
অভিধানটি শুধু বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য রচিত বলেই সম্পাদকমণ্ডলী মনে করছেন। এপার বাংলা ওপার বাংলায় একইভাবে সমাদৃত হবে বলে তাদের আশাবাদ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, বরং শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা বজায় রাখা হয়েছে। একাডেমিকভাবেও অভিধানটির উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিধানটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক এবং পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অভিধানটি প্রকাশ হওয়ার আগেই কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা দু’বার ফলাও করে খবর ছাপিয়েছে। উপ-সম্পাদকীয়ও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। অভিধানটির ওপর দেশ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকের মাঝেও বইটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিককে জানায়, প্রতিদিনই অভিধানটির বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। সুতরাং বলা যেতেই পারে এবারের বইমেলায় বিশেষ সংযোজন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, যা বাংলা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অধিক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ড. মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে অভিধানটির সংকলক ছিলেন আসিফ আজিজ, কল্পনা ভৌমিক, জামাল উদ্দিন জাহেদি, ফারহান ইশরাক, মতিন রায়হান, মাহফুজা হিলালী, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, রাজীব কুমার সাহা, শামস্ নূর।
এই অভিধান প্রকল্পের বাস্তবায়ক শামসুজ্জামান খান। কর্মসূচী পরিচালক শাহিদা খাতুন।
বইটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ৩য় খন্ড

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ৩য় খন্ড বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ ৩য় খন্ড

প্রায় সোয়া লাখ শব্দের সংযোজন করে প্রকাশিত হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান নামের তিন খণ্ডের বই। শব্দের কী রূপ? শব্দের খেলা কেমন, কারা তার খেলোয়াড়, এর শেষ আছে কিনা এরকম প্রশ্নেরই উত্তর মিলছে অভিধানটিতে। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত অভিধানটি সম্পাদনা করেছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. গোলাম মুরশিদ।
বলা যায়, এটিই বাংলা ভাষায় রচিত সবচেয়ে বড় অভিধান। অভিধানের প্রথম খণ্ডে সব মিলে ৪০ হাজার ৮০৪ টি শব্দের অর্থ, ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে প্রয়োগবাক্য রয়েছে ৫৬ হাজার ৬১০টি। তিন খণ্ড মিলে প্রায় সোয়া লাখ শব্দ ঠাঁই পেয়েছে এই অভিধানে। এই সোয়া লাখ শব্দ সবই ১৯৭২/৭৩ সালের আগ পর্যন্ত। অভিধানটিতে প্রায় তিন হাজারের মতো পৃষ্ঠা রয়েছে । প্রতি খণ্ডের মূল্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মেলা উপলক্ষে ৩০% কমিশনে অভিধানটি বিক্রি করছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ রচিত প্রথম বাংলা অভিধান প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় দু’শ বছর আগে। ১৮১৭ সালে তিনি বাংলা অভিধান রচনা করেন। এরপর অনেক পণ্ডিতই অভিধান রচনা করেছেন। তবে বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা নেই বললেই চলে। এই অভিধানগুলোতে প্রচলিত-অপ্রচলিত শব্দের এক বা একাধিক অর্থ এবং পদ পরিচয় দেয়া হয়েছে মাত্র। আবার কোনোটিতে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তিও দেয়া আছে। কিন্তু শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা, কে, কখন, কোন অর্থে ব্যবহার করেছেন তার কোনো হদিস মেলে না বাংলা ভাষায় রচিত অভিধানগুলোতে।
বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা মিলবে। ১৪৫০ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে শব্দের কী অর্থ ছিল আর তা রবীন্দ্রনাথের হাতে পড়ে কী অর্থ দাঁড়িয়েছে, তার বিবর্তনমূলক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে অভিধানটিতে।
অক্সফোর্ড অভিধানের মতো কলবরে না হলেও মডেল হিসেবে অক্সফোর্ড অভিধানটিকেই আমলে নিয়ে রচনা করা হয়েছে বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান। অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি এবং প্রথম ব্যবহারের তারিখ এবং দৃষ্টান্ত দেয়া আছে। এ ছাড়া সময়ের ব্যবধানে শব্দের রূপান্তরের ব্যাখ্যাও দেয়া হয়েছে অক্সফোর্ড অভিধানে। অক্সফোর্ড-এর এই নীতি অনুসরণ করে শব্দের অর্থ-পরিচয় তুলে ধরেছেন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর সম্পাদক গোলাম মুরশিদ।
অক্সফোর্ড অভিধান রচনা করতে সময় লাগে ৪৯ বছর। ১৮৭৯ সালে শুরু হয়ে ১৯২৮ সালে শেষ হয় অক্সফোর্ড অভিধানের প্রথম সংস্করণ। জেমস মারের নেতৃত্বে বিশাল এক সম্পাদনাকর্মী গোষ্ঠী অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদনা করেন। কিন্তু আজও সম্পাদনা হচ্ছে অক্সফোর্ড অভিধানটি। এখনও নতুন শব্দ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে অভিধানটিতে। সুতরাং বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান-এর প্রথম সংস্করণকে সূচনালগ্নই বলা যেতে পারে। একই অর্থে অপূর্ণও বটে। সোয়া লাখ শব্দের ভাণ্ডার নিয়ে রচিত অভিধানটি সময়ের ব্যবধানে আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সম্পাদক গোলাম মুরশিদ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।
অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ভাবনা নিয়ে বিবর্তনমূলক একটি অভিধান রচনা করবেন বলে বেশ কয়েক বছর আগে বাংলা একাডেমিতে সাক্ষাৎ করেন লেখক, গবেষক গোলাম মুরশিদ। ২০১০ সালের শেষ দিকের কথা। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অবগত হয়ে প্রথম সাক্ষাতেই সম্মতি জ্ঞাপন করেন। এরপর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি বাজেটও করিয়ে নেন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই যাত্রা শুরু হয় বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধানের রচনা কাজের। শুরু থেকেই দশ জনের একটি তরুণ সম্পাদনা গোষ্ঠী অক্লান্ত শ্রম আর নিষ্ঠার পরিচয় দিতে থাকেন। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের একটি ভবনে চলে সম্পাদনার কাজ। ভবনটির সম্পাদনা কক্ষে সংযুক্ত করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। সম্পাদক গোলাম মুরশিদ বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে থাকার কারণেই প্রযুক্তির এই সংযোজন। তিনি সুদূর লন্ডনে বসে স্কাইপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতেন সম্পাদনা টিমের সঙ্গে। সহযোগী সম্পাদক স্বরোচিষ সরকার এবং সমন্বয়ক মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তরুণ এই সংকলকেরা পাঠকের হাতে বিশালাকৃতির অভিধান গ্রন্থটি তুলে দিতে সক্ষম হন।
অভিধানটি শুধু বাংলাদেশের অধিবাসীদের জন্যই নয়, সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য রচিত বলেই সম্পাদকমণ্ডলী মনে করছেন। এপার বাংলা ওপার বাংলায় একইভাবে সমাদৃত হবে বলে তাদের আশাবাদ। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম বা সম্প্রদায়ের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে নয়, বরং শব্দ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা বজায় রাখা হয়েছে। একাডেমিকভাবেও অভিধানটির উচ্চতর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিধানটি পশ্চিমবঙ্গের লেখক-গবেষক এবং পাঠকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অভিধানটি প্রকাশ হওয়ার আগেই কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা দু’বার ফলাও করে খবর ছাপিয়েছে। উপ-সম্পাদকীয়ও প্রকাশ করেছে পত্রিকাটি। অভিধানটির ওপর দেশ পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পাঠকের মাঝেও বইটি নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে বলে মেলার আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সাপ্তাহিককে জানায়, প্রতিদিনই অভিধানটির বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। সুতরাং বলা যেতেই পারে এবারের বইমেলায় বিশেষ সংযোজন বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান, যা বাংলা ভাষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অধিক সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএস)-এর শিক্ষক অধ্যাপক ড. স্বরোচিষ সরকার। বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক ড. মুহম্মদ সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে অভিধানটির সংকলক ছিলেন আসিফ আজিজ, কল্পনা ভৌমিক, জামাল উদ্দিন জাহেদি, ফারহান ইশরাক, মতিন রায়হান, মাহফুজা হিলালী, মো. আমিরুল ইসলাম, মো. মাইনুল ইসলাম, রাজীব কুমার সাহা, শামস্ নূর।
এই অভিধান প্রকল্পের বাস্তবায়ক শামসুজ্জামান খান। কর্মসূচী পরিচালক শাহিদা খাতুন।




Read/Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - গোলাম মুরশিদ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - গোলাম মুরশিদ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গোলাম মুরশিদ
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আশার ছলনে ভুলি (মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী) - গোলাম মুরশিদ

আশার ছলনে ভুলি (মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী) - গোলাম মুরশিদ

আশার ছলনে ভুলি (মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী)
গোলাম মুরশিদ

গল্পটা হয়তো খুব বড় না। ১৮২৪ এ জন্ম নেয়া একজন মানুষের গল্প। ছেলেবেলার প্রথম কয়েক বছর যশোরের গ্রামের বাড়িতেই। একটু বড় হয়ে মায়ের হাত ধরে যেতে হয় কলকাতাতে যেখানে বাবা কাজ করেন। সেখানেই বসবাস আর লেখাপড়ার সাথে সাথে অন্যরকম হয়ে ওঠা। পরে বাবার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করতে না চাওযার দরুন ধর্ম পরিবর্তন। তাই নিয়ে টানাপোড়েন। সাথে বড় কবি হয়ে ওঠার স্বপ্ন। সচ্ছল জীবনের ছন্দপতন। একসময় মাদ্রাসে যাওয়া বা পালানো। সেখানেই সত্যিকারের কবি বা লেখক হয়ে ওঠার চেষ্টা। সাথে বিয়ে সংসার। একজন শেতাঙ্গ। রেবেকা। চার সন্তারের বাবা হওয়া। টানাটানির সংসার যাপন।

সেখান থেকেও পালানো। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর সম্পত্তির অধিকার নেয়ার যুদ্ধ। রেবেকার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করা। হেনরিয়েটার সাথে বিয়ে ছাড়া সংসার করা। সন্তানের পিতা হওয়া। পরপর তিনটি। এইসময়ে বাংলাতে লেখালেখির শুরু। শুরু ‘রত্নাবলী’ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ দিয়ে হলেও দ্রুতই তিনি লিখে ফেলেন ‘শর্ম্মিষ্ঠা নাটক’। তারপর মাত্র চার বছরের মত সময়ে ‘মেঘনাদ বধ’এ পৌছে যাওয়া বা এই ধরণের ছোটখাট মহাকাব্য লিখে হাত পাকিয়ে নেয়ার চেষ্টা। কিন্তু ছোটখাট মহাকাব্যই যখন যশ এনে দিল তখন লেখালেখি প্রায় ছেড়েই দেয়া। তখন অন্য যশের পেছনে ছোটা। ব্যারিস্টার হতে হবে। তাই বিলেত যাত্রা। তার জন্য টাকাপয়সার যোগার যন্ত্র। সেখানে গিয়ে টাকপয়সার সংকটে পড়া। সেখানে হেনরিয়েটার আগমণ। তাই ফ্রান্সের ভার্সায় যাওয়া। ব্যারিস্টারি পড়া স্থগিত রেখে সেখানে থাকা। ইউরোপিয়ান কিছু ভাষা শেখা। ‘হেক্টর বধ’ অনুবাদ বা লেখা। পরে আবার বিলেতে ফিরে গিয়ে ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করা। এই সময়ের মধ্যে বিদ্যাসাগরের দ্বারস্থ হওয়া। টাকা-পয়সার জন্য।

ব্যারিস্টার হয়ে পসার করতে না পারা। উচ্চাভিলাসী জীবন যাপন। পরিণামে অর্থাভাব। নিজের এবং হেনরিয়েটার জীবন সংশয়কে এগিয়ে আনা। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে শর্মিষ্ঠার বিয়ে দেয়া। অথচ একসময় নিজে পিতার পছন্দে বিয়ে করেননি। সন্তানদের জন্য নিশ্চিত কোন ভবিষ্যৎ রেখে যেতে না পারা এক জীবন। কবি জীবন। ১৮৭৩ এ যার অবসান।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিদ্রোহী রণক্লান্ত নজরুল-জীবনী গোলাম মুরশিদ

বিদ্রোহী রণক্লান্ত নজরুল-জীবনী গোলাম মুরশিদ
আমার নজরুল-জীবনী
‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত’
গোলাম মুরশিদ
‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর কবি অনেকের কাছ থেকেই ‘কাফের’, ‘নমরুদ’, ‘শয়তান’ ইত্যাদি উপাধি পেয়েছিলেন। বহু বছর ধরে নিন্দার সেই ঢেউটা ফিরে ফিরে তাঁকে আঘাত করেছে। গোলাম মোস্তফা তখন ‘বিদ্রোহী’ কবিকে ‘সংযত’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কবিতা লিখেছিলেন। তারপর, কিমাশ্চর্যম! যখন দেশ বিভাগ হলো, তখন সেই কাফের নজরুলকে নিয়েই পূর্ব পাকিস্তানে গর্ব করার, তাঁকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর একটা প্রবণতা দেখা দিল। এমনকি সেই পরিবেশে গোলাম মোস্তফা আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন করে বিবেচনা করলেন যে নজরুল পুরোপুরি কাফের নন, তিনি হাফ-মুসলমান। অতএব তাঁর রচনাগুলো সংস্কার করে—‘ভগবান’কে ‘রহমান’ করে, ‘মহাশ্মশান’কে ‘গোরস্থান’ করে, দরকার হলে কোনো কোনো অংশ পুরোপুরি বর্জন করে—তাঁকে মুসলিম দেশে পাঠোপযোগী করা যেতে পারে। কাহিনিটা এখানেই শেষ নয়, তার কয়েক দশক পরে স্বাধীন বাংলাদেশের একজন বিচারপতি নজরুলকে ‘পাক্কা মুসলমান’ বলে আখ্যায়িত করেন। ওদিকে নজরুল যেমন ছিলেন, তেমনই থাকলেন—নীরব, নিশ্চুপ। কেবল আমরা তাঁকে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, এখনো দেখছি নানাভাবে—অন্ধের হাতি দেখার মতো। নজরুল কবি হিসেবে বিখ্যাত হওয়ার পর প্রায় এক শ বছর হয়ে গেল, আজও তাঁর সফলতা, সীমাবদ্ধতা, স্ববিরোধিতার সত্যিকার মূল্যায়ন হলো না!

একজন মানুষের কবে কোথায় জন্ম আর কবে কোথায় মৃত্যু—এই তথ্য অথবা এ রকমের আরও কতগুলো তথ্যের সমাহারকে জীবনী বলা যায় না। জীবনী তথ্য এবং তারিখের ফিরিস্তি নয়। জীবনীর লক্ষ্য পাঠকের কাছে একজন মানুষের সামগ্রিক ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলা। সেদিক দিয়ে বিচার করলে প্রশান্ত পালের রবি-জীবনী রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে দীর্ঘ জীবনী হলেও, আদৌ জীবনী কি না, সন্দেহ আছে। অন্য পক্ষে, গোলাম মোস্তফার ‘ভায়া লাফ দেয় তিন হাত/ হেসে গান গায় দিন রাত’ নজরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ততম জীবনী। সে জন্যই, আমার ধারণা, নজরুল ইসলামকে নিয়ে রাশি রাশি ছোট-বড় জীবনী লেখা হলেও এবং তাতে অনেক মূল্যবান তথ্য থাকলেও, সত্যিকার নির্ভরযোগ্য এবং পূর্ণাঙ্গ জীবনী আজও লেখা হয়নি।

এযাবৎ যেসব নজরুল-জীবনী প্রকাশিত হয়েছে, এক কথায় সেগুলোকে বলা যায়, শোনা-কথা-নির্ভর, বীরপূজামূলক। বিভিন্নজন নজরুল সম্পর্কে যেসব অতিরঞ্জিত গালগল্প লিখেছেন, কোনো রকম যাচাই-বাছাই না করে সেসব বানানো-ফেনানো-রাঙানো গল্প একত্র করে লেখা হয়েছে বেশির ভাগ নজরুল-জীবনী বলতে পারছি না—লেখা হয়েছে নজরুল-জীবনপঞ্জি। লেখকেরা খোলা মন নিয়ে নজরুলকে আবিষ্কার করতে চেষ্টা করেননি। বরং তাঁরা নজরুল নামক কিংবদন্তিকেই আরও পাকাপোক্ত করে নির্মাণ করতে চেষ্টা করেছেন। যে কবি একদিন লাথি মেরে অবরোধের তালা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেই মুক্ত জীবনানন্দকেই ভক্ত লেখকেরা বন্দী করতে চেষ্টা করেছেন নিজেদের সংস্কারে লালিত অচলায়তনে।

আমি যে নজরুলের কথা লিখছি, কোনো মার্কা মেরে তাঁকে চিহ্নিত করা যায় না। তিনি হিন্দু নন, মুসলমান নন, মুসলিম-জাতীয়তাবাদের প্রতীক নন। বৈষ্ণব নন, শাক্ত নন, তিনি মানুষ। কোনো ধর্ম দিয়ে যাঁকে চিহ্নিত করা যায় না। যিনি লিখেছেন, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান। মানুষকে যিনি ধর্মগ্রন্থ ও উপাসনালয়ের থেকে শ্রেষ্ঠ বলেছেন। জাতীয় কবি বলে যিনি বিখ্যাত নন, কার্যত মরে যাওয়ার পরে যিনি জাতীয় কবি হন। জাতীয় কবির দায়ভার আরোপ করা যাঁর ওপর তাই অন্যায্য।

যাঁর জন্ম অত্যন্ত দরিদ্র ও স্বল্প শিক্ষিত একটি পরিবারে; যিনি বড় হয়েছেন প্রচণ্ড প্রতিকূল পরিবেশে; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যাঁর অসম্পূর্ণ, তিনি কী করে অত বড় কবি এবং সংগীতকার হলেন—আমার জীবনীতে সবার আগে আমি এই কঠিন প্রশ্নটার উত্তর দিতে চেষ্টা করেছি।

সেনাবাহিনী থেকে যিনি কলকাতায় ফিরেছিলেন একজন মুসলিম গল্পলেখক হিসেবে, যাঁর অঙ্কিত চরিত্রগুলো সব মুসলমান, যাঁর ভাষা মুসলমানি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, যাঁর গল্পগুলো প্রকাশিত হয়েছিল মুসলিম-প্রকাশিত পত্রপত্রিকায়, সেই ‘অতি সাধারণ’ ছাপ-মারা গল্পলেখক এক বছর নয় মাসের মাথায় কী করে ‘খোদার আসন আরশ ছেদিয়া’ রচনা করলেন ‘বিদ্রোহী’র মতো ধর্মনিরপেক্ষ কবিতা, সব্যসাচীর মতো তিনি কী করে সমান দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করলেন হিন্দু-পুরাণ আর মুসলিম ঐতিহ্যের কথা? এ শক্তি কি তিনি স্বপ্নে পেয়েছিলেন, না কি ধীরে ধীরে অর্জন করেছিলেন?—দু নম্বরে উত্তর দিতে চেষ্টা করেছি, এই প্রশ্নের।

নজরুলের জন্ম মুসলিম পরিবারে। কবি হয়ে তিনি অনেকগুলো ইসলামি গানও লিখেছিলেন। কিন্তু ইসলামি গান লেখার আগে তিনি লিখেছিলেন কীর্তন এবং ভজনসহ বৈষ্ণবদের গান। ওদিকে বৈষ্ণবদের সঙ্গে শাক্তদের বিরোধ সাপে-নেউলের বিরোধের মতো। তা সত্ত্বেও তিনি ‘শ্যামা মায়ের কোলে চড়ে’ শ্যামের নাম জপ করেছেন। কখনো তিনি মসজিদের পাশে কবর দেওয়ার বাসনা প্রকাশ করেছেন, আবার কখনো গজলের মাতাল সুরে প্রকাশ করেছেন নিজের লাশ লাল পানি দিয়ে ধোওয়ানোর ইচ্ছা।—এসব পরস্পরবিরোধী উক্তি কি নিতান্তই ফরমাশি প্রলাপ, নাকি এসব আপাতবিরোধী উক্তির মধ্যে কোনো ঐক্যসূত্র লুকিয়ে আছে? আমি তার ব্যাখ্যা দিতে চেষ্টা করেছি।

বাজারে যেসব নজরুল-জীবনী মেলে, সেগুলোতে কবির জীবনের সঙ্গে তাঁর সাহিত্যকর্মের হিসাবে মেলে না, তাঁর সাহিত্য থেকে লম্বা লম্বা উদ্ধৃতি মিললেও। আমি তাঁর সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর জীবনের প্রধান ঘটনাগুলোর যোগসূত্র দেখাতে চেষ্টা করেছি।

সর্বোপরি, দৈবক্রমে, আমি এমন একটা পাড়ায় বাস করি, যেখান থেকে আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক বিশাল ব্রিটিশ লাইব্রেরির দূরত্ব খুব বেশি নয়। অন্তত, সেখানে বিমানে করে যেতে হয় না। সেই গ্রন্থাগার এবং দলিলাগারে নজরুল সম্পর্কে খুব বেশি না হলেও এমন কিছু তথ্য আবিষ্কার করেছি, আগেকার জীবনীলেখকরা যার হদিস পাননি।

নজরুল জন্মেছিলেন সমাজের এমন একটা তলায়, যেখানে জন্ম-মৃত্যু-বিবাহের মতো মৌল তথ্যাদিও লিখে রাখার রেওয়াজ সেকালে তো ছিলই না, একালেও নেই। কাজেই নজরুল সম্পর্কে তথ্য নিয়ে বড়াই করা অর্থহীন, প্রায় ফাঁকাওয়াজের মতো। সত্যিকার নজরুলকে দেখার জন্য সবার আগে প্রয়োজন মুক্ত মন। জীবনীলেখকদের মধ্যে সেই মনেরই অভাব দেখতে পাই সবচেয়ে বেশি। মনে আছে, বছর বিশেক আগে আমার লেখা মাইকেল-জীবনী—আশার ছলনে ভুলি—প্রকাশিত হওয়ার পর যখন ঢাকায় গিয়েছিলাম, তখন এক পার্টিতে আমাকে একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, মাইকেলকে আমি কি বড় করতে চেয়েছি, নাকি ছোট করতে চেয়েছি? প্রশ্নটা শুনে আমি একেবারে আকাশ থেকে পড়েছিলাম। যাঁর জীবনী লিখছি, তাঁকে বড় করা জীবনীলেখকের কাজ নয়, ছোট করা তো নয়ই। জীবনীলেখককে হতে হবে নিরাসক্ত ও সত্যদ্রষ্টা। শতকরা এক শ ভাগ নিরাসক্ত হওয়া বোধ হয় অসম্ভব। তবু পাহাড়ের চূড়া থেকে নদীর বাঁক দেখার মতো খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে একটি নিরাসক্ত নজরুল-জীবনী লেখা আমাদের জন্য অত্যাবশ্যক। অত্যাবশ্যক কারণ, নজরুলের নামটা এখন নানাজন ব্যবহার করছেন তাঁদের নিজেদের কাজে। তাঁর নাম ভাঙিয়ে ফয়দা লুটছেন। যে নজরুল ছিলেন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক, তাঁর দোহাই দিয়ে আজ সাম্প্রদায়িকতাও প্রচার করা হচ্ছে। কবির প্রতি এর থেকে অবিচার আর কিছু হতে পারে না।

বইটির কিছু অংশ পড়ুন নিচের লিঙ্ক থেকে।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি - গোলাম মুরশিদ

হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি - গোলাম মুরশিদ
হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি - গোলাম মুরশিদ
ভাষা, সাহিত্য, সংগীত থেকে শুরু করে অভিনয়, চিত্রকলা, কারুকলা, স্থাপত্য ইত্যাদি নানা উপাদানে গঠিত সংস্কৃতির অবয়ব। ধর্ম, সামাজিক মূল্যবোধ, লোকাচার, লোকবিশ্বাস, খাদ্যাভ্যাস, পোশাক-আশাক, চলন-বলন, ব্যবহার্য উপকরণ এবং হাতিয়ার_ সবই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে যেসব রচনা এ যাবৎ প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে এসব বিচিত্র দিক সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা করা কঠিন। বর্তমান গ্রন্থ বাঙালি সংস্কৃতির প্রথম নিরপেক্ষ এবং পূর্ণাঙ্গ আলোচনা। সরল ভাষায় সাধারণ মানুষের জন্য লেখা। এতে দেখানো হয়েছে রাজনৈতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কৃতির প্রতিটি উপাদানের বিবর্তন এবং বহিঃপ্রকাশ; সেই সঙ্গে এই সংস্কৃতির গঠন ও বিকাশে ব্যক্তির অবদান। সবার ওপর আছে বাঙালি সংস্কৃতির স্বরূপ উন্মোচন। মোট ১৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত হয়েছে বর্তমান গ্রন্থের রূপরেখা। মাসদুা ভাট্টি এক অসাধারন আলোচনা লিখেছেন এই বইটির সেটি পড়তে হলে এখানে ক্লিক করুন

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়



রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়
গোলাম মুরশিদ


হিন্দু ছিলেন রবীন্দ্রনাথ—এ কথা সবাই জানেন। হিন্দু, মুসলমান—সবাই। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য-সংগীতের সঙ্গে কোনো পরিচয় থাক, না-ই থাক অথবা যত কমই পরিচয় থাক—মুসলমানরা এটা এত ভালো করে জানেন যে নোবেল পুরস্কার পেয়ে সারা পৃথিবীতে বাঙালিদের গৌরব বৃদ্ধি করলেও, দীর্ঘকাল তাঁকে নিজেদের কবি বলেই স্বীকার করতে চাননি। এ নিয়ে তর্ক-কুতর্ক সবই হয়েছে সাম্প্রতিক কালেও। কদিন আগে ২ মে শেক্সিপয়ারের জন্ম হয়েছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের যে বাড়িতে, সেই বাড়ি দেখে এলাম। তাঁর বাগানে অন্য আর একজন মাত্র বিখ্যাত মানুষের একটি আবক্ষমূর্তি বসানো আছে। সেটি আমাদের বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথের। ছয় হাজার মাইল দূরের জোড়াসাঁকো থেকে সুদূর স্ট্র্যার্টফোর্ডে চলে এসেছেন। দেখে গর্বে বুক ফুলে উঠল। কিন্তু একজন সহযাত্রী, যিনি ৪২ বছর বিলেতে আছেন বলে গর্ব করেন, তিনি বললেন, ‘সামনেরবার এসে ওই মূর্তিটা সরিয়ে ওখানে নজরুলের একটি মূর্তি বসিয়ে যাব।’ কাজেই, রবীন্দ্রনাথ অমুসলমান ছিলেন—বাঙালি মুসলমানদের একটা অংশ এখনো এটা ভুলতে পারেননি।
স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ অবশ্য নিজের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে ততটা নিশ্চিত ছিলেন না। কারণ, বেশির ভাগ মানুষের মতো যে ধর্ম নিয়ে জন্মেছিলেন, সেই পারিবারিক ধর্মমত তিনি চিরকাল আঁকড়ে রাখতে পারেননি। সত্যি বলতে কি, কোনো কিছু নিয়েই তিনি অচল ছিলেন না। গাছ যেমন প্রতি বসন্তে সজ্জিত হয় নতুন পাতায়, তিনও তেমনি নব-নব রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তাই বার্ধক্যে পৌঁছে নিজের কথা বলতে গিয়ে এক জন্মদিনে বলেছেন, তিনি হলেন ‘নানা রবীন্দ্রনাথের একখানি মালা।’ তাঁর সম্পর্কে এর মতো সত্য কথা খুব কমই আছে। তাঁর কবিতা, কবিতার বিষয়বস্তু, ছন্দ, স্টাইল; তাঁর গান, গানের সুর ও তাল; তাঁর গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ, গদ্যরীতি; তাঁর সমাজচিন্তা, শিক্ষাদর্শন—প্রতিটি বিষয় সম্পর্কেই এ কথা প্রযোগ্য। এক কথায়, ‘হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে’ তিনি সত্যকেই খুঁজে বেড়িয়েছেন। তার পরও সেই ধ্রুব সত্যের সন্ধান পেয়েছিলেন বলে মনে হয় না। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়ে বলেছেন, সৃষ্টির পথ সরল নয়, সে আকীর্ণ বিচিত্র ছলনাজালে। সেই ছলনার রহস্য উন্মোচন করা অসম্ভব।
রবীন্দ্রনাথ জন্মেছিলেন কলকাতার একটি ব্রাহ্ম পরিবারে। ব্রাহ্মদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। মতাদর্শ অনুযায়ী সেই মুষ্টিমেয় ব্রাহ্মই আবার বিভক্ত ছিলেন তিন ভাগে। এগুলোর মধ্যে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ ছিল সবচেয়ে আধুনিক। আর নাম ও মতাদর্শ উভয় দিক দিয়েই আদি ব্রাহ্মসমাজ ছিল সবচেয়ে প্রাচীন। সেই আদি ব্রাহ্মসমাজেই তাঁর জন্ম হয়েছিল। ১৮৭০-এর দশকের গোড়ায় এই সমাজের সত্যিকার পরিচয় হলো: ‘উন্নত হিন্দু’ হিসেবে। না ঘাটের, না জলের। সাধারণ হিন্দুরা তাঁদের হিন্দু বলেই মানেন না। অপর পক্ষ্যে, ব্রাহ্মরা নিজেদের বিবেচনা করেন সাধারণ হিন্দুদের তুলনায় ‘উন্নত’ বলে। বস্তুত, ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তাঁদের গোঁড়ামি কারও তুলনায় আদৌ কম ছিল না। বছর চব্বিশ বয়সের তরুণ রবীন্দ্রনাথ ব্রাহ্মসমাজের কর্মকর্তা হিসেবে যেভাবে তাঁর পক্ষ নিয়ে আর-একজন বিশুদ্ধ হিন্দু—বঙ্কিমচন্দ্রের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে যান, সে তাঁর নিজের ধর্মীয় স্বরূপ সম্পর্কে গোঁড়ামিরই প্রতিফলন।
এখানে সংক্ষেপে বলা দরকার: একটা আনুষ্ঠানিক ধর্ম হিসেবে ব্রাহ্মধর্ম প্রচার করেন রবীন্দ্রনাথের পিতা, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর ওপর কোনো দৈববাণী নাজেল হয়নি। তিনি নিজেই ছিলেন ধর্মগ্রন্থের প্রণেতা। প্রধানত বিভিন্ন উপনিষদ থেকে কিছু শ্লোক বাছাই করে এবং কোনো কোনো জায়গায় সেগুলোকে যুগোপযোগী করার উদ্দেশ্যে সম্পাদনা/সংশোধন করে প্রকাশ করেন। তার আগে তিনি এও জেনে নিয়েছিলেন যে, বেদে যা কিছু লেখা আছে, তার সবই অভ্রান্ত কিনা। অভ্রান্ত নয়। না হওয়ারই কথা। আড়াই হাজার বছর আগের ঋষিদের প্রেসক্রিপশনে উনিশ শতকের সমস্যা দূর হবে না—এটা তাঁর কাণ্ডজ্ঞান দিয়েই তিনি অনুভব করেছিলেন। তা ছাড়া, অন্য দার্শনিকদের ভাবনা দিয়েও তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। যেমন—পারস্যের কবি হাফিজ তাঁর ধর্মচিন্তাকে প্রভাবিত করেছিলেন। কতগুলো ব্যাপারে তিনি খুব আধুনিক ছিলেন, কিন্তু তাঁর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির অনেকটাই ছিল গোঁড়ামিতে ভরা। তিনি ছিলেন বিশাল এক মহীরুহের মতো। তাঁরই ছায়ায় মানুষ হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এই প্রভাব এত গভীর ছিল যে, যত দিন তিনি বেঁচে ছিলেন (১৯০৫), তত দিন রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেননি।
রবীন্দ্রনাথ যদি পারিবারিক ধর্মে অর্থাৎ ঔপনিষদিক ব্রাহ্মধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতেন, তাহলে তাঁকে বলা যেত তিনি আর দশজনের মতোই সাধারণ। কিন্তু না, তিনি আদি ব্রাহ্মসমাজের সীমানা অতিক্রম করেছিলেন অল্পকালের মধ্যেই। নতুন কোনো গুরুর সন্ধান তিনি পাননি অথবা কারও কাছে তিনি দীক্ষাও গ্রহণ করেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি, এমনকি ধর্মচিন্তা বদলে যেতে আরম্ভ করল। সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এর সূচনা হয় যখন তিনি ক্ষুদ্র জোড়াসাঁকো তথা কলকাতার সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর সমাজের মুখোমুখি হলেন, তখন। তখন থেকেই তিনি হূদয় প্রসারিত করে চারদিকে চেয়ে দেখলেন।
জমিদারি সূত্রে তিনি শিলাইদহে বাস করতে আরম্ভ করেন ১৮৯০ সালে। সেখানে গিয়ে দেখলেন, সেখানকার সমাজের চেহারা কলকাতার চেয়ে একেবারে আলাদা। সাধারণ মানুষ ধর্ম বলে যা পালন করেন, তা নাগরিক ধর্ম থেকে ভিন্ন। অনুষ্ঠানিকতা-বর্জিত। ধর্মমতের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য এবং স্বাতন্ত্র্য নিয়ে সেখানে তৈলাধার কি পাত্র, না পাত্রাধার কি তৈল—এ রকমের বিতর্কে কেউ লিপ্ত হয় না। গ্রামের সাধারণ লোকেরা ধর্মগ্রন্থের বিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন না। তাঁদের কাছে ধর্ম মানে পিতৃপুরুষের বিশ্বাসকে অন্ধভাবে পালন করা। ধর্মের প্রধান ভাগই সেখানে অন্ধবিশ্বাস।
কেবল তাই নয়, সেখানেই তিনি লক্ষ করলেন যে দেশ ও সমাজ মানে হিন্দু নয়, তার একটা বড়ো অংশ—কোথাও কোথায় প্রধান ভাগ মুসলমান, যাঁদের ছুঁলে ব্রাহ্মণকে স্নান করতে হয়। যাঁদের ছোঁয়া-লাগা পাত্র ফেলে দিতে হয়, নয়তো নিতে হয় পবিত্র করে। তদুপরি, দেখলেন বাউলদের। কোনো দেবতা নেই তাঁদের। নেই কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। বরং আনুষ্ঠানিকতাকে তাঁরা ধর্ম পালনের প্রধান বাধা বলে গণ্য করেন। তাঁদের কবি বলেন, ‘তোমার পথ ঢাইকাছে মসজিদে, মন্দিরে!’ সেই লোকধর্ম দিয়ে তখনই তিনি প্রভাবিত হলেন কি না, বলা মুশকিল, কিন্তু তাঁর দৃষ্টি খুলে গেল।
ওদিকে, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তখন প্রবল হচ্ছিল। সেকালের জাতীয়তাবাদ মানে হিন্দু জাতীয়তাবাদ। আরও পেছনে গিয়ে হিন্দু ধর্মকে সংস্কার করে মূলে ফিরে যাওয়ার আন্দোলন—মৌলবাদী পরিচয় খোঁজা এবং তাকে জোরদার করার জন্যে আন্দোলন। সে যুগেই ‘সব বেদে আছে’র মনোভাব গড়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথ প্রথম দিকে এই গোঁড়ামির তীব্র বিরোধিতা করলেও, ১৯০০ সালের দিকে তাঁর চিন্তাধারায় বিলক্ষণ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া ব্রাহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের মতো কয়েকজন ব্যক্তির প্রভাবও পড়ে তাঁর ওপর। সবকিছু মিলে অল্পদিনের জন্যে তিনিও প্রাচীন ভারতের তপোবনে ফিরে গেলেন। ব্রাহ্মদের জাতিভেদ না-মানার আদর্শ পর্যন্ত বিসর্জন দিলেন। কিন্তু এটা ছিল বিদ্যুৎ চমকালে যেমন ক্ষণিকের জন্যে দৃষ্টির বিভ্রম ঘটে, তেমনি। বিশ্বাসে পরিণত হওয়ার আগেই তিনি সেখান থেকে ফিরে এলেন।
অন্যান্য কারণের মধ্যে যা তাঁকে মুক্তি দিতে সাহায্য করেছিল, তা হলো দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যু আর বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে। দুটোই ঘটে ১৯০৫ সালে এবং এই বছরটাকে বলা যায় তাঁর জীবনের একটা ক্রান্তিকাল। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তিনি হিন্দু-গোঁড়ামির যথার্থ স্বরূপ, বিস্তার ও তীব্রতা উপলব্ধি করলেন। জাতিভেদ প্রথা হিন্দু-মুসলমান—এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যে-বিভেদের প্রাচীর নির্মাণ করেছিল, তা যে চীনের প্রাচীরের মতো দুর্ভেদ্য ও দুর্লঙ্ঘ্য, তাও তিনি অনুভব করলেন। অনুভব করলেন, বাঙালি সমাজের অর্ধেকের বেশি গড়ে উঠেছে মসলমানদের নিয়ে। তাঁর নতুন-পাওয়া উপলব্ধির ছাপ পড়ল তাঁর কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও বক্তৃতায়। গানের দৃষ্টান্ত দিয়ে বলতে পারি, এর আগে পর্যন্ত তিনি আবদ্ধ ছিলেন প্রধানত ধ্রুপদী বলয়ে। কিন্তু বঙ্গভঙ্গের সময়ে তিনি স্বদেশি গান ধ্রুপদী সুরে নয়, টপ্পা চালে নয়, লিখলেন সহজ-সরল বাউল সুরে।
জীবনের প্রথম ৪৪ বছর তিনি সাহিত্য, সংগীত, সমাজভাবনা ও ধর্মীয় পরিচয়ে যেখানে সীমাবদ্ধ ছিলেন, সেখান থেকে তিনি সরে এলেন। একে বলতে পারি তাঁর নিজের সীমানা পার হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনা। তাঁর নতুন মনোজগতে ধর্মীয় পরিচয় হলো গৌণ, সেখানে মুখ্য হয়ে দেখা দিল মনুষ্যত্ব। তাঁর ওই সময়ের লেখা একটি উপন্যাসের চরিত্র—গোরা গ্রামবাংলায় গিয়ে প্রথমবারের মতো স্বদেশের সত্যিকার চেহারা দেখেছিল। গোরার স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথও তেমনি সত্যিকার স্বদেশকে দেখেছিলেন শিলাইদহে গিয়ে। এই শিলাইদহে বেড়াতে গেলে (৩০ ডিসেম্বর ১৯০৪ থেকে ২ জানুয়ারি ১৯০৫) সেখানেই তিনি সিস্টার নিবেদিতাকে গোরার গল্প শুনিয়েছিলেন, যদিও তা লিখতে আরম্ভ করেন আরও আড়াই বছর পরে—১৯০৭ সালের জুলাই মাসে। গোরার মতো নিবেদিতাও ছিলেন আইরিশ ও কট্টর হিন্দুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু তাঁর গোরা শেষ পর্যন্ত উগ্র হিন্দু জাতীয়তা থেকে মুক্তি লাভ করেছিল। ধর্মীয় পরিচয় যে একমাত্র অথবা সবচেয়ে বড়ো পরিচয় নয়, তাঁর মনে এ ধারণা এর আগেই দানা বাঁধতে আরম্ভ করেছিল। গীতাঞ্জলি, গীতালি, গীতিমাল্যের গানেও তাঁর এই ধারণার প্রতিফলন লক্ষ করি। আর্য-অনার্য, শক-হুন, মোগল-পাঠান সবাইকে তিনি মহামানবের তীরে আহ্বান জানিয়েছেন। সবার হাত ধরে ব্রাহ্মণদের মনকে শুচি করার ডাক দিয়েছেন।
এখানেই রবীন্দ্রনাথ থেমে থাকেননি। ঘরে-বাইরের মধ্যে আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ধর্মের সঙ্গে নেশন বা জাতীয়তাবাদও যে দৃষ্টিকে সংকীর্ণ করে, তৈরি করে মানুষে মানুষে ভেদের দূরত্ব, প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিষ্কার করে সে কথাও তিনি শুনিয়েছেন দেশে এবং বিদেশে। না আগ্রাসী জাপান, না আঞ্চলিক আমেরিকা, না দর্পিত ব্রিটেন—কেউই তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানায়নি। নজরুল ইসলাম তখনো আবির্ভূত হননি। ‘মানুষের চেয়ে বড়ো কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান’—নজরুল এ কথা লেখার এক যুগেরও আগে রবীন্দ্রনাথ এই সত্যে উপনীত হয়েছিলেন। সেই উপলব্ধির ফলেই তিনি ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকেন আনুষ্ঠানিক ধর্ম থেকে—আরও সঠিক করে বলতে হলে বলতে হয়—ধর্মতন্ত্র থেকে।
নিজের এই বিশ্বাসের তিনি সমর্থন পেলেন বাউলদের গানে। বেশ কিছু বাউল গান সংগ্রহ করে ১৯১৫ সালে তিনি প্রবাসীতে প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদেরও সংগ্রহ করার উৎসাহ দিয়েছিলেন। বোঝা যায়, তাঁর মনে ধর্ম সম্পর্কে যে নতুন ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল, তারই সমর্থন তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন বাউলদের গানে। এমনকি আজীবন লালিত ঔপনিষদিক দর্শনের সঙ্গেও তিনি এ সময় থেকে বাউলদের একটা সমন্বয় ঘটাতে চেষ্টা করেছিলেন। যে সত্যের বাণী তিনি উপনিষদের শ্লোকে শুনতে পেয়েছিলেন, তার প্রতিধ্বনি শুনতে পেলেন বাউল গানে। সেই সত্যকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা দিয়ে বাঁধা যায় না। তাঁর ধর্মচিন্তা শাস্ত্রের ভূমি ছেড়ে প্রাণের আকাশে উধাও হলো। শেষ পর্যন্ত তিনি যে ধর্মে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলেন, তা মানুষের ধর্ম। সকল মানুষের ধর্ম। কোনো আচার-অনুষ্ঠানের সীমানায় যকে বাঁধা যায় না। শশিভূষণ দাশগুপ্ত তাঁকে বঙ্গদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বাউল বলে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু এ দিয়ে তাঁকে একটা তত্ত্বের মধ্যে ধরার চেষ্টা করা হয়, আসলে তিনি সকল ধর্মতত্ত্ব এবং ধর্মতন্ত্রের ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন। ১৯৩০ সালের আগেই নিজের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে তাঁর মনে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল।
এরপর তিনি আরও প্রায় এগারো বছর বেঁচেছিলেন। ইতিমধ্যে বঙ্গদেশে হিন্দু-মুসলমানের ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব দেখেছিলেন, দাঙ্গা দেখেছিলেন, রাজনীতির নামে স্বার্থের হানাহানি দেখেছিলেন। বৃহত্তর বিশ্বে দেখেছিলেন জাপানিরা চীনে গণহত্যা চালানো শুরু করেছিলেন অহিংসার বার্তা যিনি প্রচার করেছিলেন—সেই বুদ্ধির মন্দিরে পুজো দিয়ে। হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীর নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব দেখে তাঁর হূদয় ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। সভ্যতার সংকট দেখে ঈশ্বরেই তাঁর বিশ্বাস বিচলিত হয়েছিল। দীর্ঘ জীবনে এক জায়গায় তিনি দাঁড়ায়ে থাকেননি সাধারণ মানুষের মতো, বরং সত্যের সন্ধানে ক্রমাগত অন্তহীন পথে চলেছেন। তাঁর এই পথচলা কখনো শেষ হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত মানবতার জয়গান গেয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ মারা যাওয়ার পর প্রায় ৭০ বছর চলে গেছে। কিন্তু তিনি মানবতার যে গান গেয়েছেন, তা অর্থহীন হয়ে যায়নি। বরং আজ যেন আরও বেশি করে সেই মানবতার জয়গান গাইবার দিন এসেছে। তিনি যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন জাতিহীন ধর্মহীন আন্তর্জাতিক মানুষে পরিণত হওয়ার, সে শিক্ষার প্রয়োজন আজ আরও তীব্র হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বদেশে এবং বিদেশে মানুষ যখন জাতীয় স্বার্থে, নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ে, ধর্মের নামে ক্ষুদ্র স্বার্থের লোভে হানাহানিতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে, রক্তপাত ঘটাচ্ছে নির্বিচারে, অসহায় মানুষ্যত্ব যখন নিষ্ফলভাবে মাথা কুটছে, তখন সেই প্রগাঢ় অন্ধকারে রবীন্দ্রনাথের আদর্শ এবং শিক্ষা আমাদের পথ চলার সম্বল হতে পারে।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান - গোলাম মুরশিদ (সাক্ষাৎকার)

আমার আগেই প্রথম আলোর আলতাফ শাহনেওয়াজ ও আলোকচিত্রী সৈকত ভদ্র পৌঁছে গিয়েছিলেন গোলাম মুরশিদের ধানমন্ডির বাসায়। ছবি তোলাও প্রায় শেষ। আমার পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পরে একটি লম্বা টেবিলে তাঁর অনেকটা কাছ ঘেঁষে তাঁকে ঘিরে বসলাম আমরা। কথা শুরু হলো। সম্প্রতি তিন খণ্ডে তিনি বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান সংকলনের কাজ শেষ করেছেন; যার মধ্যে প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে অমর একুশে বই মেলায়। বাকি দুই খণ্ডও অচিরেই প্রকাশিত হবে। এ নিয়ে তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় কয়েকটি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। সেসব কথার পুনরাবৃত্তি এখানে বাদ রাখা হলো। তবে এই অভিধান-প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু হলো আমাদের আলোচনা।
বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-এ দেখা গেছে যে মূল শব্দটা বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজানো আছে। কিন্তু একজন পাঠক তো শব্দটি কোথাও বিশেষ্য, কোথাও বিশেষণরূপে পাবেন, নানা রকম রূপে পাবেন। ওই সব রূপ থেকে যদি কেউ শব্দ খোঁজেন তাহলে নানা রকম শব্দই তাঁরা পাবেন। কিন্তু ব্যবহারিক বাংলা অভিধান-এ শব্দের ওই সব রূপ ধরে খুঁজতে গেলে অনেক শব্দই পাওয়া যায় না। বিবর্তনমূলক অভিধান করতে গিয়ে তিনি কীভাবে এই সমস্যার মোকাবিলা করেছেন জানতে চাইলে গোলাম মুরশিদ বললেন, ‘আসলে খুব সহজ সমাধান ছিল না আমার কাছে। আমরা যা করেছি তা হলো, শব্দের ডান দিকে অর্থাৎ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলো বইয়ের ভেতরে নিয়ে এসেছি। যেমন ‘বাদ’। ‘বাদ’ কথাটির সংস্কৃত অর্থ হচ্ছে বাচ্য, একটা শব্দ বা কথা। এটা থেকে আসছে ‘বাদী’—এ রকম হতে পারে। ‘জ্ঞান’ থেকে ‘জ্ঞানী’, ‘জ্ঞানগম্ভীর’। বাদ থেকে বাম দিকে এলে ‘সংবাদ’, ‘সাংবাদিক’, ‘সাংবাদিকতা’—এ রকম করে শব্দ বড় হয়ে গেছে। যেমন ‘গুরু’, ‘গুরুত্ব’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’। আপনি শুনে অবাক হবেন রবীন্দ্রনাথের তৈরি করা শব্দ আমরা নিয়েছি ২৫ থেকে ৩০ হাজার। কিন্তু গোটা রবীন্দ্রনাথে কোথাও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ শব্দটি পাওয়া যায়নি। এটি পাওয়া গেল ১৯৪১ সালের দিকে। রবীন্দ্রনাথ মারা যাওয়ারও পরে। যে শব্দটি না হলে আমাদের এখন জীবন চলে না, সেই শব্দটিও প্রথম ব্যবহার হলো ১৯৪১ সালে। ধরা যাক, আমি একটা শব্দ ব্যবহার করেছি ‘পাদটীকা কণ্টকিত’। নিজের কাজের প্রয়োজনে আমরা এভাবে শব্দ গঠন করি। যদি সেটা আরও দু-চারজন গ্রহণ করে তাহলে চালু হয়ে যায়। বিবর্তনমূলক অভিধানের মধ্যে সোয়া লাখ শব্দের মতো আমরা অন্তর্ভুক্ত করেছি।’
একই শব্দের রূপান্তরিত রূপগুলোর ক্রম কীভাবে করা হয়েছে?
‘আমরা অভিধানটি যেহেতু অ-কার আধিক্রমে সাজিয়েছি; সুতরাং অ-কার আধিক্রমে সাজাতে গিয়ে শব্দের ডান দিকে যেগুলোর বৃদ্ধি হয়েছে, সেগুলো মূল শব্দের সঙ্গে আমরা নিতে পারেছি। কিন্তু বাঁ দিকে যেগুলোর যুক্ত হয়েছে (উপসর্গ), সেগুলো কিন্তু আমরা নিতে পারিনি। সেগুলো আলাদা শব্দ হিসেবে নিতে হয়েছে।’
যাঁদের লেখা থেকে শব্দ খোঁজা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে পুরুষ লেখকই বেশি থাকার কথা। তবে গোলাম মুরশিদ তো নারীদের নিয়েও গবেষণা করেছেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তাঁর কাছে জানতে চাইলাম শব্দ নেওয়ার ব্যাপারে বাংলা ভাষার আদি নারী লেখকদের উপস্থিতি কেমন? বললেন, ‘আমরা সবচাইতে পুরোনো যে নারী লেখকের লেখা থেকে শব্দ নিয়েছি, তিনি রাসসুন্দরী দেবী, ১৮১০ সালে তাঁর জন্ম। তারপর নিয়েছি কৈলাসবাসিনী দেবীর লেখা, তাঁর জন্ম ১৮৩৭ সালে। এ ছাড়াও আমরা শব্দ নিয়েছি জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, কৃষ্ণভামিনী দাস ও বেগম রোকেয়ার লেখা থেকে।’
আমার কৌতূহল ছিল এই নারীদের লেখায় শব্দ ব্যবহারের কোনো ভিন্নতা পাওয়া গেছে কি না তা জানার। তিনি খুব একটা ভালো খবর দিতে পারেননি। বললেন, বেগম রোকেয়া ব্যবহার করেছেন কিছু শব্দ। কৃষ্ণভামিনীও করেছেন কিছু। সত্যিকারার্থে নারীবাদী শব্দের ব্যবহার এঁদের রচনায় পাইনি। হয়তো তসলিমা নাসরিনের লেখায় পাওয়া যেত। যেমন তসলিমা নাসরিন যখন বলেন ‘মেয়েবেলা’—এটি একটি নতুন শব্দ। বোঝা যায় যে একটা জেন্ডার সচেতনতার বিষয় এখানে রয়েছে। যাঁদের লেখা থেকে শব্দ নিয়েছি, তাঁদের লেখায় এ ধরনের শব্দের ব্যবহার আমরা পাইনি। এ প্রসঙ্গে আরেকটা কথা বলা যায়। আমরা ১৯৭২ সাল পর্যন্ত লেখকদের লেখা থেকে শব্দ নিয়েছি। তার পরবর্তী সময়ের শব্দ নিইনি। কারণ, এর পরবর্তী সময়ে শব্দের ঐতিহাসিক বিবর্তন খুব একটা হয়নি। আমরা ৪০ বছরের একটি সীমারেখা করেছিলাম, যেটির কারণে মূলত আমরা ’৭২-এর পরের লেখাগুলো নিতে পারিনি। এই অভিধানটি যদি প্রতিনিয়ত আপডেট করা হয়, তাহলে আমি খুব খুশি হব।’
এ রকম একটা অভিধানের জন্য সব লেখকের সব লেখা পাঠ করতেও অনেক সময় দরকার। কিন্তু সময় ছিল খুবই কম। কিন্তু সব মিলিয়ে কি আপনার নিজের প্রত্যাশিত মানকে স্পর্শ করতে পেরেছে অভিধানটি?
কোনো দ্বিধা না করেই তিনি বললেন, ‘আমি নিজের কাজ নিয়ে কখনোই সন্তুষ্ট না। আমার অসম্ভব অতৃপ্তি আছে যে বইটা আমি যেমন স্বপ্ন দেখেছিলাম তেমনভাবে করতে পারিনি। আমার স্বপ্ন ছিল অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারির মতো একটা অসাধারণ কিছু পাওয়া যাবে, যার মধ্যে অনেক বেশি শব্দ ও অর্থের রূপান্তর থাকবে। আমরা মধ্য যুগে যেসব বই ছাপা হয়েছে সেগুলো ব্যবহার করেছি। যেমন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আমরা পুরো ব্যবহার করেছি। কিন্তু এর পরে আমরা বৈষ্ণব পদাবলী পুরো ব্যবহার করতে পারিনি। সেটিতে যেই শব্দটি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি পেয়েছি হয়তো আলাওলে। এভাবে আমরা ঘাটে ঘাটে জাল ফেলেছি। কিন্তু যেই শব্দটা আরও আগে পাওয়ার কথা ছিল, সেটি আমরা পাইনি। যেহেতু আমাদের সময়ের অভাব ছিল। তাই আমরা সমস্ত ট্রেস করতে পারিনি।’
আপনি সাহিত্যের অধ্যাপক। কিন্তু আপনার কাজ সামাজিক রূপান্তরের ইতিহাস নিয়ে। একজন সাহিত্যিক হয়ে ইতিহাসের বিবর্তন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে দুই বিদ্যার একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, আপনি কীভাবে সেটি সামাল দিয়েছেন—প্রশ্ন করলাম তাঁকে। বললেন, ‘সামাল দিতে পেরেছি কি না সেটা আলাদা কথা। আমি পিএইচডি করেছি বঙ্গবিদ্যার একজন বিখ্যাত অধ্যাপক ডেভিড কফের অধীনে, যিনি একজন ঐতিহাসিক। আমার ডিগ্রি হয় ১৯৭৪ সালে। আমি তখন থেকেই চেষ্টা করেছি কীভাবে সময়ের ঢেউয়ের সঙ্গে একেকটা জিনিস বিবর্তিত হয় তা লক্ষ করতে। যেমন, ষোড়শ শতকে একটি ঢেউ এসেছিল বৈষ্ণব পদাবলী লেখার। আমরা ওই যুগটাকে বলি বৈষ্ণব পদাবলীর যুগ। তারপরে একটা যুগ এল মঙ্গলকাব্যের যুগ। তারপর একটা যুগ এল যেটি না আধুনিক, না পুরোনো। তারপর ১৯শ শতকে দেখা যায় ইংরেজদের প্রভাবে কীভাবে সাহিত্য আধুনিক হয়ে উঠল। এভাবে ইতিহাসে মধ্যে আমি খুব আনন্দ পাই। যেমন আমার একটি বই আছে পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রচর্চা। আমি সেখানে দেখাতে চেষ্টা করেছি কীভাবে রবীন্দ্রনাথের প্রতি মানুষের অ্যাটিটিউড বদলে যায়। আমার ধারণা, এমন তথ্যভিত্তিক মুসলমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী গঠিত হওয়ার ইতিহাস আর কেউ লেখেননি। আমি আসলে তথ্যভিত্তিক ইতিহাস লিখতে খুব পছন্দ করি। ১৯৭৪ সালে দেওয়া বক্তৃতায় তপন রায়চৌধুরীর কাছ থেকে প্রথম ইতিহাসের নানা বিভাগ—সমাজের ইতিহাস, সংস্কৃতির ইতিহাস, নারীদের ইতিহাস, উদ্বেগের ইতিহাস, ধারণার ইতিহাস ইত্যাদি সমপর্কে জানতে পারি। তার আগে পর্যন্ত মূর্খ ছিলাম। জানতাম, ইতিহাস মানেই হলো সন-তারিখ আর রাজা-মহারাজাদের ইতিহাস।’
তাঁর হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি বইটি ইতিমধ্যে বহুল প্রচারিত। কিন্তু এই বই সম্পর্কে ইতিহাস-শাস্ত্রীদের মনোভাব কী জিজ্ঞাসা করলাম তাঁকে, ‘আপনার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হয়নি?’ তিনি বললেন, ‘বিতর্ক যতটা পেয়েছি তার থেকে আমি নিজে আবিষ্কার করেছি নতুন অনেক জিনিস। যেমন, বইটির শেষ অধ্যায়ে লিখেছিলাম, বাঙালি নারীদের মধ্যে এখনো বিবাহপূর্ব যৌনতা নেই বললেই চলে। আমি এটি লিখেছি লন্ডনে বসে। আমি যখন আরও ঘন ঘন বাংলাদেশে আসা শুরু করলাম, তখন লক্ষ করলাম ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবেই এই প্রবণতাটি দেখা গেছে। আমি যখন ’৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হই তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনকার মতো প্রকাশ্য প্রেম ছিল না। আমি ঢাকায় এসে যখন আবিষ্কার করলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক হারে প্রেম-ট্রেম ইত্যাদি চলছে, তখন পাবলিশারকে ফোন করে বললাম বইটির নতুন সংস্করণ ছাপবেন না, আমি আরেকবার রিভাইজ করব। বাংলাদেশে ফিরে আরও কতগুলো প্রবণতা লক্ষ করলাম। যেমন, নারীদের একটি অংশ স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, তাদের আর শুধু রান্নাঘরে পাঠানো মুশকিল হবে। একসময় রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্তকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, আপনি তো প্রায় বিংশ শতাব্দীজুড়ে বাস করেছেন। তো, আপনি কোথায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ করেছেন? তিনি আমায় বলেছিলেন, মেয়েদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে। আমাদের সময়ে আমরা যৌবনে যেমন নম্র, শাড়ি পরিহিতা, ভদ্র মেয়েদের দেখতে পেতাম—সেটি এখন নেই। এখন সমপূর্ণ অন্য অবয়বে মেয়েদের দেখতে পাই। কাজেই অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।’
.গোলাম মুরশিদের লেখালিখির খবর যত দূর জানি, তাতে ইতিহাসের শাস্ত্রীরা তাঁর এসব বই সম্পর্কে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখাননি—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অকপটে কথাটি স্বীকারও করলেন তিনি, ‘কোনো সাড়া পাইনি। তাঁদের কথাবার্তা শুনে আমার মনে হয়েছে তাঁরা ইতিহাস জানেন না। তাঁদের কাছে ইতিহাস মানে আজও সন-তারিখ। তাঁরা ইতিহাসের বিবর্তনকে দেখেন না। ইতিহাসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং সাহিত্যের তাবৎ ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন এসেছে তাঁরা এটি দেখেন না। আমাকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একজন অধ্যাপক কোনো পজিটিভ ফিডব্যাক দেননি, বলেননি যে আপনার হাজার বছরের বাংলা সংস্কৃতি পড়ে আমরা উপকৃত হলাম।’
নজরুলচর্চা তাঁর গবেষণার নতুন ক্ষেত্র হতে যাচ্ছে! তিনি লিখতে শুরু করেছেন কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী; এবার তাই আলাপের প্রসঙ্গ সেই দিকে ঘুরে গেল।
নজরুল-জীবনী প্রসঙ্গে নিজের ভাবনা তিনি পরিষ্কার করলেন এভাবে—আমার মনে হয়েছে, মধুসূদনের মতো নজরুল-জীবনীও একটা ব্যর্থতায় প্রবেশিত। মধুসূদনের জীবনী যেমন লেখা হয়েছিল কিংবদন্তির ওপর ভিত্তি করে, নজরুল-জীবনীও লেখা হয়েছে তাঁর বন্ধুদের কথা শুনে—কাজেই এটি যথার্থ তথ্যভিত্তিক নয়। মধুসূদন ও নজরুল দুজনই ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। জীবনী লেখার জন্য নজরুলকে তাঁর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণেই বেছে নিয়েছি আমি। আরও কয়েকটি কারণ আছে—যেমন, নজরুলের একটি তথ্যমূলক জীবনী লিখতে চাই আমি। তাঁকে দেখতে চাই, তিনি মানুষ ছিলেন—এই দৃষ্টিকোণ থেকে; মুসলমান ছিলেন এই দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। এই কাজটি করতে আমার বছর তিনেক লাগবে বলে মনে হয়। আমি যেটি করতে চাই সেটি হচ্ছে, নজরুলের জীবনের কোথাও বিতর্ক থাকলে সেই বিতর্কের কথা আমি উল্লেখ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে আমার নিজের সিদ্ধান্ত আমি পরে দেব। দ্বিতীয় কথা হলো, আমি কোনো অর্থহীন কথাবার্তা উপস্থাপন করতে চাই না। তাঁর রচনার বিবর্তন ও মানসিকতার বিবর্তনকে দেখতে চাই আমি। আরও যেটি দেখতে চাই সেটি হচ্ছে, নজরুল পাগল ছিলেন না। তিনি যেসব কথা বলেছেন তার মধ্যে পরসপরবিরোধিতা থাকলেও এই পরস্পরবিরোধিতার মধ্যেও একটা ঐক্য আছে। বিভেদের মধ্যে ঐক্য আছে। আমি হয়তো আমার বইয়েরই নাম দিতে পারি ‘বিভেদের মধ্যে ঐক্য’। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিই, নজরুল মুসলমানের গান লিখেছেন, কীর্তন লিখছেন, আবার শাস্ত্রসংগীতও লিখেছেন। তাহলে কী বুঝব আমরা? লোকটা কি পাগল? তিনি ফরমায়েশ অনুযায়ী তিন রকমের গানই সমান দরদ দিয়ে লিখেছেন? কারণটা কী তাহলে? আমার ধারণা, তিনি একজন ভক্ত ছিলেন। নজরুল সম্পর্কে এই কথা কিন্তু কোনো জীবনীকারই লেখেননি। আপাতত আমার নজরুল-জীবনী লেখার মূল ভাবনা হলো ‘বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত’। নজরুল জীবনীর বহু পর্যায় আছে—কলকাতা ফেরার আগে নজরুল এক রকম, কলকাতা ফেরার পর ১৯২৯ সাল পর্যন্ত আরেক রকম, আবার ১৯২৯ থেকে ’৪১-৪২ সালের দিকে নজরুলকে দেখতে পাই অন্য এক রূপে। কাজেই এই কবির জীবনীর অনেক ধাপ, যেন অনেক জীবনী।’
নজরুল-জীবনী লেখার ব্যাপারে গোলাম মুরশিদকে মনে হলো বেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর কণ্ঠে ফুটে উঠল দৃঢ়তা, ‘আমি আসলে একটি বিষয় চিন্তা করে রেখেছি, আমার লেখা নজরুল-জীবনীটি বিতর্কিত হবে মনে করে এখানে কেউ যদি প্রকাশ করতে না চান, তাহলে জীবনীটি আমি কলকাতা থেকে প্রকাশ করব। কিন্তু আমি কোনো প্রকারের কমেপ্রামাইজে যাব না।’
গোলাম মুরশিদ কথা বলছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি এক দৃঢ়চেতা মানুষের অবয়ব।
প্রথম আলো থেকে সংগ্রহিত।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com