সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label দীনেশচন্দ্র সেন. Show all posts
Showing posts with label দীনেশচন্দ্র সেন. Show all posts

প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান - দীনেশচন্দ্র সেন

amarboi
প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান
দীনেশচন্দ্র সেন
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমার জীবন - রাসসুন্দরী দাসী

আমার জীবন - রাসসুন্দরী দাসী
রাসসুন্দরী ছিলেন বিদ্যাসাগরের সমসাময়িক। সেকালে কুসংস্কার কত মজ্জাগত ছিল সেটা অনুমান করা যেতে পারে রাসসুন্দরী দাসীর আত্মচরিত পাঠ করলে। বারোটি সন্তানের জননী তিনি। জ্যেষ্ঠ পুত্র একদিন বাড়ির ঘোড়াটির পিঠে চেপে মাকে ডেকেছে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে যেই বের হতে যাবেন, অমনি পিছন থেকে কে যেন বলে উঠল, ‘ওটা কর্তার ঘোড়া।’
স্বামীর ঘোড়া। ওটা জয়হরি। অতএব বাইরে এসে ঘোড়ার সামনে দাঁড়াতে সাহস করলেন না। লজ্জায় ঘোমটা টেনে ঘোড়ার সামনে থেকে সরে পড়লেন।

আমার জীবন - রাসসুন্দরী দাসী
ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
আর গ্রন্থ-পরিচয় লিখেছিলেন দীনেশচন্দ্র সেন।

বাংলা ভাষা ও সাহত্যিরে প্রথম পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী রচনাকার রাসসুন্দরী দাসী
রাসসুন্দরী আমাদের রাজবাড়ীর অখ্যাত এক গ্রামের বধূ । রাজবাড়ী জেলার 'ভর রামদিয়া' গ্রামে বসে দেড়শো বছর আগে নিজেকে লেখিকা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। নির্দিষ্ট কোন এলাকার সীমানায় তাকে আসলে বাঁধা যায় না। রাসসুন্দরী এমন এক নারী, এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি পিঞ্জরে বাঁধা থেকেও একান্ত মানসিক শক্তির জোরেই দূর আকাশে মুক্ত ডানা মেলতে পেরেছেন। এখন থেকে ঠিক দুশো বছর আগে রাসসুন্দরীর জন্ম। পাবনা জেলার পোতাদিয়া গ্রামে এক বর্ধিষ্ণু পরিবারে ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে তার জন্ম। পিতা পদ্মলোচন রায় রাসসুন্দরীর অতি শৈশবে মারা যান। কন্যা হিসেবে জন্ম নিলেও মা এবং অন্যান্য পরিজনের কাছে তিনি খুব আদুরে ছিলেন। রাসসুন্দরীর পরিজনেরা অতিমাত্রায় রক্ষণশীল ছিলেন না। ছোটবেলা থেকেই দৈহিক রূপের কারণে সবাই তাকে 'সোনার পুতলী' বলতো। ছোটবেলা থেকে মায়ের হাতে শাঁখা বা শরীরে কোন গয়না না দেখে রাসসুন্দরীর বিশ্বাস ছিল তার মায়ের বিয়ে হয়নি। আট বছর বয়সে অন্যের মুখে বাবা হিসেবে পদ্মলোচন রায়ের নাম শুনে ভীষণ মানসিক দ্বন্দ্বে পড়ে যান তিনি। 'এত দিবস আমি জানিতাম, আমি আমার মায়ের কন্যা'। রাসসুন্দরীর জীবনে তাঁর মায়ের আদর্শ এবং ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বাবার বাড়ির বিগ্রহের নাম 'দয়ামাধব' শ্বশুর বাড়ির 'মদন গোপাল'। ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয় রাসসুন্দরীর। রাসসুন্দরীর বিয়ে হয়েছিল রাজবাড়ী জেলার 'ভর রামদিয়া' গ্রামের জোতদার ও অবস্থাপন্ন এক পরিবারে। স্বামী নীলমনি সরকার। তিনি শ্বশুরবাড়ি যখন প্রথম এলেন তখন শাশুড়ি জীবিত। তিনিই পরিবারের প্রধান। ক্রমে তিনি অসুস্থ হলেন। এক সময় মারা গেলেন। সংসারের কর্তৃত্ব এল রাসসুন্দরীর ওপর। দেওর-ভাসুর কেউ ছিল না। কিন্তু একে একে তিন ননদ বিধবা হয়ে সংসারে এল। তাদেরকেও মেনে চলতে হতো পদে পদে। এরই মধ্যে এক এক করে বারোটি সন্তানের মা হয়েছেন। ক্রমে পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি, নাতনী। সংসারের এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থায় নিজের অবস্থান পাল্টেছে। শরীরের, মনের পরিবর্তন হয়েছে। ভূমিকা পাল্টে গেছে। এই সব কিছুই সবিস্ময়ে বিশ্লেষণ ও লক্ষ্য করেছেন রাসসুন্দরী। তার ভাষায় এক সময়_ 'নতুন বউ নামটি বাদ গেল। মা, বউ, বউঠাকুরানী, বাবুর মা, কর্তা মা, কর্তা ঠাকুরানী এই প্রকার অনেক নতুন নতুন নাম হইল। এককালে বাল্যকাল পরিবর্তিত হইয়া আমি একজন পুরাতন মানুষ হইলাম।' নিজেই বিস্মিত হতেন নিজের পরিবর্তনে 'আমি এখন আচ্ছা একজন গৃহস্থ হইয়াছি এ আবার কি কা-। এখন অধিকাংশ লোক আমাকে বলে কর্তা ঠাকুরানী। দেখা যাক, আরও কী হয়'। নারী হিসেবে এই সমাজে জন্মে যে বিড়ম্বনা তা প্রতিমুহূর্তে রাসসুন্দরী উপলদ্ধি করেছেন। ব্যক্তি মানুষ হিসেবে নারী হিসেবে বঞ্চনার দিকগুলো তিনি সুচিহ্নিত করেছেন। ধীর গতিতে, শান্ত মেজাজে, সুকোমল স্পর্শে সংসারে তিনি সব সময় কল্যাণী নারী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত হয়েছেন। কিন্তু তার মনের মধ্যে সব সময়ের দ্বন্দ্বের যে ওঠানামা, নিজেকে প্রকাশের জন্যে অস্থিরতা, নিজেকে প্রকাশের জন্যে যে ব্যাকুলতা তা যদি তিনি প্রায় ৬০ থেকে ৮৮ বছর বয়স পর্যন্ত সময় ধরে না লিখে যেতেন তাহলে এক অবগুণ্ঠিত সাধারণ নারীর অসাধারণত্ব চেনাজানার আড়ালেই থেকে যেত।রাসসুন্দরীর জীবনের সবচেয়ে বড়ো নিষ্ঠার, একাগ্রতার ও ধৈর্যের জায়গা ছিল তার লেখাপড়া শেখাটা। যে যুগে তিনি জন্মেছিলেন সে যুগে মেয়েদের লেখাপড়া শেখাটা রীতিমতো সামাজিক অপরাধ হিসেবে পণ্য হতো। ১৮৭৬ সনে রাসসুন্দরীর ৬৭ বছর বয়সে প্রথম বইটি ছাপা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় বইটির সংস্কারণ প্রকাশিত হয়। তার ৮৮ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি লিখতেই থাকেন। সম্পাদক ও প্রকাশকদের মতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী রাসসুন্দরী'র লেখা 'আমার জীবন' সেই হিসাবেও তার লেখার মূল্যায়ন অপরিসীম।রাসসুন্দরীর সহজ-সরল ব্যক্তিত্বকে আমরা খুঁজে পাই তার লেখায়। তারই মতো তার ভাষা এবং প্রকাশ অত্যন্ত অনায়াস ও সরল। বারবারই যে কথাটি না বললে নয়, তিনি তার জীবনে সাংসারিক সমস্ত দায়দায়িত্ব অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং বিচক্ষণতার সাথে পালন করেছেন। কিন্তু সংসারের বিষয় ঐশ্বর্যের মোহ তাকে কখনো স্পর্শ করেনি। মায়ের মৃত্যু, ১২টি গর্ভজাত সন্তানের মধ্যে চোখের সামনে সাত সাতজনের মৃত্যু; নাতি-নাতনীর মৃত্যু, তাকে প্রচ- কষ্ট দিয়েছে। শেষ বয়সে এসে স্বামী হারিয়েছেন। স্বামীর প্রতি সমীহ ছিল। উচ্ছ্বাস ছিল না। সে যুগের প্রভাবশালী সামন্ত জোতদার পরিবারের বউ হিসেবে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর দায়িত্বকর্তব্য পালনে ত্রুটি করেননি। স্বামীর মৃত্যুতে বলেছেন_ 'এক্ষণে শেষ দশাতে বৈধব্য দশা ঘটিয়েছে। কিন্তু একটি কথা বলিতেও লজ্জা হয়। শুনিতেও দুঃখের বিষয় বটে। _শত পুত্রবতী যদি পতিহীন হয়।তথাপি তাহাকে লোকে অভাগিনী কয়_বাস্তবিক যদি আর কিছু না বলে তুমি বিধবা হইয়াছ, কথাটি বলিতেই চাহে'। সে যুগের বিধবা হিন্দু নারীর চুল কেটে ফেলতে হতো। এ বিষয়েও সমাজকে তিনি কটাক্ষ করেই কথা বলেছেন। স্বামী ছাড়া নারী সমাজের চোখে হেয় এই মানসিকতাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।রাসসুন্দরীর জীবন সম্পূর্ণভাবে নিজের হাতে গড়া। পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিয়ে নিজেকে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবল প্রতিপত্তিশালী স্বামী অর্থাৎ কর্তা ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার বিনা অনুমতিতে প্রজাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের জন্যে পার্শ্ববর্তী তেতুলিয়া গ্রামের মীর আমুদে নামের প্রতিপত্তিশালী জোতদারকে চিঠি দিয়ে ডেকে আনেন। এবং তার সাথে তিন পুরুষের চলমান মামলা-মোকদ্দমার লিখিত আপোষ নিষ্পত্তি করেন। এক হাত ঘোমটা দেওয়া এক অন্তঃপুরবাসিনীর এই দুঃসাহস তার বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে। এই ব্যক্তিত্বের কাছে কর্তা ব্যক্তিটিও শেষ পর্যন্ত বিনত হতে বাধ্য হন।৯০ বছর বয়সে রাসসুন্দরী (ইং ১৮৯৯ সনে) মারা গেছেন। প্রায় একশত বছরের সামাজিক পরিবর্তনকে কিছুটা হলেও তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ৮৮ বছর বয়সের লেখায় বারবার এসেছে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা। তিনি অত্যন্ত আনন্দ পেয়েছেন এই পরিবর্তনে। রক্ষণশীল সামন্ত সমাজের মন মানসিকতার বিরুদ্ধে তার অবস্থান অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সুদৃঢ়। আমরা যদি এই মহীয়সী নারীর সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারি, সে ব্যর্থতার দায়ভার আমাদের।রাসসুন্দরী প্রথাগতভাবে নিজের নামের শেষে 'দাসী' ব্যবহার করেছেন। পরবর্তী যুগ তাকে 'দেবী'র সম্মান দিয়েছে।আমরা শুধু এটুকুই বলবো, আমরা যারা বিভিন্ন মানবাধিকার বা নারীর মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী হিসেবে দাবি করি, আমরা যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চার দাবি করি, আমরা যারা শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো' বলে সেস্নাগান দেই তাদের সকলের কাছে রাসসুন্দরী এক অনন্য অগ্রবর্তী পথিক। রাসসুন্দরীর দুশো বছরের জন্মবার্ষিকীতে তাদের সকলের হয়ে এই বিশাল ব্যক্তিত্বের প্রতি বিনত চিত্তে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। তার জীবন, তার 'আমার জীবন' আমাদের কাছে আজও এক গভীর বিস্ময়। আমরা তার সঠিক মূল্যায়ন হয়তো আজও করতে পারিনি। অথচ এমন জীবনই তো নির্দ্বিধায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্যে রেখে যেতে পারে সেই স্পর্ধিত অহংকার যা বলতে পারে, 'আমার জীবনের লভিয়া জীবন, জাগোরে সকল দেশ'।




Read Or Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com