সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী. Show all posts
Showing posts with label নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী. Show all posts

নীরবিন্দু (অখণ্ড) - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

নীরবিন্দু - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
নীরবিন্দু (অখণ্ড) - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
একজন ভারতীয় বাঙ্গালি কবি। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে আবির্ভুত আধুনিক বাংলা কবিদের অন্যতম। উলঙ্গ রাজা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত কাব্যগ্রন্হ। এই কাব্যগ্রন্হ লেখার জন্য তিনি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। কবি পশ্চিমবঙ্গে বাংলা আকাদেমির সাথে দীর্ঘকাল যুক্ত। তাঁর শৈশবের পুরোটাই কেটেছে পূর্ববঙ্গে যা বর্তমান বাংলাদেশ, ঠাকুরদা আর ঠাকুমার কাছে। কবির ঠাকুরদা কর্মজীবন কাটিয়েছেন কলকাতায়। কর্মজীবন শেষে ৫০ বছর বয়সে কলকাতার পাট চুকিয়ে বাংলাদেশের ফরিদপুর বাড়ি চান্দ্রা গ্রামে চলে আসেন। তার বাবা কলকাতাতেই ছিলেন। কলকাতার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ করতেন। দুই বছর বয়সে কবির মা বাবার কর্মস্থল কলকাতায় চলে যান। কবি থেকে যান ঠাকুরদার নাম লোকনাথ চক্রবর্তীর কাছে। গ্রামে কাটিয়েছেন মহা স্বাধীনতা—ইচ্ছেমতো দৌড়ঝাঁপ করে। কখনো গাছে উঠছেন; কখনো আপন মনে ঘুরেছে গ্রামের এই প্রাপ্ত থেকে অন্যপ্রাপ্তে। চার বছর বয়সে কবির কাকিমা বলছিলেন, ‌'তুই তো দেখছি কবিদের মতোন কথা বলছিস!' সেই সময়েই মুখস্থ করেছিল গ্রামে কবিয়ালরা, কবিগান,রামায়ণ গান। গ্রামের দিনগুলো খুব সুন্দর কেটেছেন তাই তিনি এ গ্রামের বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় যেতে চাইতেন না। তবে ঠাকুরদার মৃত্যুর পর গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় চলে যান। এখন তিনি কলকাতায় থাকেন। ১৯৭৪ সালে সাহিত্য আকাদেমি, তারাশঙ্কর-স্মৃতি ও আনন্দ শিরমণি পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আয়ুবের সঙ্গে - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আয়ুবের সঙ্গে - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
আয়ুবের সঙ্গে
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
এই গ্রন্থের রচনাকাল ফেব্রুয়ারী ১৯৬০। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে তারপর আরও অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। বইটি পড়ার সময় রচনাকালের কথাটা মনে রাখা দরকার।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উলঙ্গ রাজা - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

উলঙ্গ রাজা - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
উলঙ্গ রাজা
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা কী লিখবেন কেন লিখবেন - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

বাংলা কী লিখবেন কেন লিখবেন
বাংলা কী লিখবেন কেন লিখবেন
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

খবর বাছাই করা, খবর লেখা, তর্জমা, শিরােনাম রচনা ইত্যাদি কাজ কীভাবে করলে ভাল হয়, তাই নিয়েই এই গ্রন্থ। কিন্তু শুধু যে তা-ই নিয়ে, তা নয়। সংবাদপত্র ও সাহিত্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নানা বিষয়ও এখানে আলােচিত হয়েছে। এসেছে ভাষা ব্যবহার, বাক্যগঠন, শনিবাচন, প্রতিবর্ণীকরণ, বিরামচিহ্ন ও উদ্ধৃতিচিহ্নের প্রয়ােগ-পদ্ধতি এবং আরও অজস্র প্রসঙ্গ। উপরন্তু, খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে এমন বহু তথ্য এখানে সন্নিবেশিত হল, যা শুধুই সাংবাদিক কিংবা সাহিত্যিক নয়, সকলেরই কাজে লাগবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ভাষার প্রধান কাজ একের ভাবনাকে অনেকের কাছে পৌছে দেওয়া। ভাষাকে কীভাবে ব্যবহার করলে সে-কাজ সহজে সম্পন্ন হতে পারে, অন্যান্য নানা বিষয়ের মধ্যে এটাও ছিল আমাদের চিন্তনীয় বিষয়। এ ব্যাপারে আমরা কোন পন্থার পক্ষপাতী, এই গ্রন্থে যথাস্থানে তা বিবৃত হয়েছে।
একই বাংলা শব্দের একাধিক বানান যে বাঞ্ছনীয় নয়, একথা আরও অনেকের মতাে—আমরাও বিশ্বাস করি। বানানে সমতাবিধানের উদ্দেশ্য নিয়ে তাই কিছুকাল পূর্বে বানান-বিধি নামে একটি পুস্তিকা আমরা প্রকাশ। করেছিলাম। এব্যাপারে উৎসাহী গুণিজনদের কাছে তা পাঠানােও হয়।
পুস্তিকাটি পাঠ করে ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ড. পবিত্র সরকার, ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী, ড, ভবতােষ দত্ত, ড. অজিতকুমার ঘােষ, ড. অরুণকুমার। মুখােপাধ্যায়, ড, বিজিতকুমার দত্ত, শ্রীসুভাষ ভট্টাচার্য, শ্ৰীঅশােক মুখােপাধ্যায়, শ্রীকার্ত্তিক মজুমদার ও শ্রীরমেন্দ্র ভট্টাচার্য আপনাপন অভিমত আমাদের জানিয়েছেন। তাঁদের অনুমােদন, সমর্থন ও পরামর্শের জন্য আমাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।
আনন্দবাজার পত্রিকার প্রস্তাবিত বানান-বিধি এই গ্রন্থের সূচনায় দেওয়া হল। উপরন্তু, যার বানান নিয়ে বিভ্রম ঘটে, এমন বহু শব্দকে এখানে। বণানুক্রমিকভাবে সাজিয়ে দিয়ে জানানাে হল যে, সেগুলির কোন বানান আমাদের অভিপ্রেত।

* আনন্দবাজারের এই বইটির সাথে আমরা সম্পূর্ণভাবে একমত নই। শুধুমাত্র নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর স্মরণে এই বইটি উপস্থাপিত হলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমার জীবনবোধ - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

amarboi
আমার জীবনবোধ
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
মানবজীবনে এমন অজস্র চাহিদা থাকতে পারে, থাকেও, যা না মেটালেও দিব্যি চলে যায়, জীবনধারণে কোনো অসুবিধা হয় না। আবার এমন কিছু চাহিদা আছে, যা না মেটালেই নয়। যেমন পেটের ভাত চাই, পরনের কাপড় চাই, মাথার উপরে একটা ছাত চাই, অক্ষর জ্ঞানটা হওয়া চাই, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হওয়া চাই, আর হ্যাঁ, জন্মেছি যখন, তখন মরতেও যে হবে, তা কি আর আমরা জানি না। তবে কিনা বিনা চিকিৎসায় মরাটা যেহেতু কোনো স্বাধীন দেশের নাগরিককে মানায় না, তাই মরার আগে যৎসামান্য হলেও একটু চিকিৎসিত হওয়া চাই।

চাই তো, কিন্তু পাই কজন? দেশ স্বাধীন হয়েছে তা প্রায় ষাট বছর পূর্ণ হতে চলল, কিন্তু এই স্বাধীন দেশের যাঁরা নাগরিক, তাঁদের একটা মস্ত অংশেরই এই নূ্যনতম চাহিদাগুলিও আজ পর্যন্ত মেটেনি। যাকে পভার্টি লাইন বা দারিদ্র্যরেখা বলা হয়, এখনো কোটি কোটি মানুষ তার তলায় পড়ে আছেন। নিত্যদিন তাঁদের পেটের ভাত জোটে না, ছেঁড়া কাপড় পরে তাঁদের লজ্জা নিবারণ করতে হয়। আর মাথার উপরে ছাতের কথায় বলি, হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে আজ যদি তাঁদের মানিকতলার খালপাড় থেকে উচ্ছিন্ন করা হচ্ছে, তো কাল খেদানো হচ্ছে টালিগঞ্জের খালপাড় থেকে। তাঁরা অ-আ-ক-খ শেখেননি, তাঁদের অনেকেই ভিক্ষাজীবী, এবং তাঁদের নব্বই শতাংশই সম্ভবত অসুখবিসুখ হলে জলপড়া তেলপড়া ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসার কথা ভাবতে পারেন না।

আপনারা আমার জীবনবোধের কথা জিজ্ঞেস করেছেন। ওটা অনেক বড়ো ব্যাপার, আমার বোধবুদ্ধি ওর নাগাল পায় না। আমি জ্ঞানী মানুষ নই, ইংরেজিতে যাকে কমন-সেন্স বলে, আমার একমাত্র সম্বল সেই কাণ্ডজ্ঞান। আর হ্যাঁ, চোখ দুটো যখন আছে, তখন খোলা চোখে চারদিকে তাকিয়ে সব দেখি। দেখি আকাশ, দেখি গাছপালা, দেখি রাস্তাঘাট আর ঘরগৃহস্থি। একটু আগে যাঁদের কথা বলেছি, দেখি তাঁদেরও।

দেখতে দেখতে আমাদেরই এক প্রাজ্ঞ সাহিত্যকর্তার একটি সতর্কবাণী নিত্য মনে পড়ে: নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়? না, তা এড়ায় না, আগুনের আঁচ লাগে তার গায়েও। তাই ভাবি যে, এত এত মানুষের নূ্যনতম চাহিদাটুকু যদি আজও না মিটে থাকে, তা হলে আমাদের, অর্থাৎ নূ্যনতম চাহিদার উপরে আরো বেশ কিছু চাহিদা যাদের মিটেছে, তারাই কি খুব নিশ্চিন্ত জীবন যাপন করতে পারবে? পারা সম্ভব?

একে আমার জীবনবোধ বলতে পারেন, কিংবা জীবন জিজ্ঞাসাও।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কবিতার ক্লাস - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কবিতার ক্লাস - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
কবিতার ক্লাস - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

এই বইয়ের নাম দিয়েছি ‘কবিতা ক্লাস’। এতে চমকাবার কিছু নেই। অনেকে মনে করেন যে, কবিতা একটি অপার্থিব দিব্য বস্তু, এবং তাকে আয়ত্ব করবার জন্যে, মুনিঋষিদের মতো, নির্জন পাহাড়ে-পর্বতে কিংবা বনে-জঙ্গলে গিয়ে তপস্যা করতে হয়। আমি তা মনে করি না। আমার বিশ্বাস, জাতে যদিও আলাদা, তবু কবিতা-ও সাংসারিক বিষয় ছাড়া আর-কিছুই নয়, আমাদের এই সাংসারিক জীবনের মধ্যেই তার বিস্তর উপাদান ছড়িয়ে পড়ে আছে, এবং ইস্কুল খুলে, ক্লাস নিয়ে, রুটিনমাফিক আমরা যেভাবে ইতিহাস কি ধারাপাত কি অঙ্ক শেখাই, ঠিক তেমনি করেই কবিতা লেখার কায়দাগুলো শিখিয়া দেওয়া যায়। ‘কায়দা’ না-বলে অনেকে বলবেন ‘কলাকৌশল’, তা বলুন, কথাটা তার ফলে আর-একটু সম্ভ্রান্ত শোনাবে ঠিকই, কিন্তু মূল বক্তব্যের কোন ইতরবিশেষ হবে না। বিশ্বাস করুন চাই না-করুন, কবিতা লেখা সত্যিই খুব কঠিন কাণ্ড নয়।

সেই তুলনায় পদ্য লেখা আরও সহজ। শুধু কায়দাগুলো রপ্ত করা চাই, ঘাঁতঘোঁত জেনে নেওয়া চাই। কবিতা আর পদ্যের তফাত কোথায়, এক্ষুনি সেই তর্কে ঢুকে ব্যাপারটালে ঘোরালো করে তুলতে চাই না। তার চাইতে বরং জিজ্ঞেস করি, আপনার বয়স যখন অল্প ছিল, তখন ছোটপিসি কি ন-মাসি কি সেজদির বিয়ের সময়ে কি আপনার একখানা উপহার লিখবার ইচ্ছে হয়নি? হয়তো হয়েছিল। হয়তো ভেবেছিলেন, “বাঃ কী মজা, বাঃ কী মজা, খাব লুচি মন্ডা গজা” ইত্যাদি সব উপাদেয় খাবারদাবারের কথা দিয়ে লাইন-কয় লিখে তারপর “বিভুপদে এ-মিনতি—“ জানবেন যে, নবদম্পতি যেন চিরকাল সুখে থাকে।

কিন্তু হায়, শেষ পর্যন্ত আর হয়তো লেখা হয়নি। হবে কী করে? ‘মজা’র সঙ্গে ‘গজা’র মিলটাই তখন মনে পড়েনি যে। আর তাই, কড়িকাঠের দিকে ঘণ্টাখানেক তাকিয়ে থেকে, এবং নতুন-কেনা মেড-ইন-ব্যাভেরিয়া পেনসিলের গোড়াটাকে চিবিয়ে ছাতু করে, শেষপর্যন্ত হয়তো ‘ধুত্তোর’ বলে আপনি উঠে পড়েছিলেন। মনে-মনে খুব সম্ভব বলেছিলেন, “ওসব উপহার-টুপহার লেখার চাইতে বরং মুদির দোকানের খাতা লেখা অনেক সহজ।”
মুদির দোকানের প্রসঙ্গে একটা পুরোনো কথা মনে পড়ল। বছর পঞ্চাশেক আগেকার ঘটনা। আমার বয়স তখন বছর-দশেক। সেইসময়ে আঁক কষতে-কষতে শেলেটের উপরে আমি একটা পদ্য লিখেছিলুম। তার আরম্ভটা এইরকম—
আজ বড়ো আনন্দ হইয়াছে।
দেখিয়াছি, রান্নাঘরে কই আছে।
অর্থাৎ আমি বলতে চেয়েছিলুম যে, মা যখন কইমাছ রান্না করছেন, তখন দুপুরের ভোজনপর্বটা বেশ জমাট হবে, সুতরাং আজ আমার বড়োই আনন্দের দিন। আনন্দ অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হল না; এক জ্যাঠতুতো দাদা এসে চুলের মুঠি ধরে আমাকে শূন্যে তুলে ফেললেন, তারপর বাঁ হাতে আমাকে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখে ডান হাতে একটা চড় কষালেন, তারপর বললেন, “হতচ্ছাড়া, তোমাকে আঁক কষতে দেওয়া হয়েছে, আর তুমি কিনা বসে-বসে কাব্যি করছ? এই আমি বলে রাখলুম, পরে তোমাকে মুদির দোকানের খাতা লিখে পেট চালাতে হবে।”

বাজে কথা। যে-ছেলে আঁক কষতে ভয় পায়, তার পক্ষে মুদির দোকানের খাতা লেখা সম্ভব নয়। চাল-ডাল-গোলমরিচ-জিরে-হলুদ-পাঁচফোড়নের হিসেব রাখা কি চাট্টিখানি ব্যাপার? সে-কাজ সকলে পারে না। তার জন্যে সাফ মাথা চাই। সেই তুলনায় বরং কবিতা লেখা অনেক সহজ। কবিতা লেখবার জন্যে, আর যা-কিছুরই দরকার থাক, মাথাটাকে সাফ রাখবার কোনও দরকার নেই। বরং, সত্যি বলতে কী, মাথার মধ্যে একটু গোলমাল থাকলেই ভালো। কিন্তু না, মাথার প্রসঙ্গ এইখানেই ছেদ টানা যাক, কেন-না বিশুদ্ধ আগমার্কা কবিরা হয়তো এইটুকু শুনেই চোখ রাঙাতে শুরু করেছেন, বাকিটুকু শুনলে তাঁরা আমাকে আস্ত রাখবেন না। তার চাইতে বরং যে-কথা বলছিলুম, তা-ই বলি।

আমার বলবার কথাটা এই যে, অল্প একটু চেষ্টা করলে যে-কেউ কবিতা লিখতে পারে। আমার মাসতুতো ভাইয়ের ছোটছেলেটির কথাই ধরুন। গুণধর ছেলে। টুললিফাই করেছে, পরীক্ষার হলে বোমা ফাটিয়েছে, গার্ডকে ‘জান খেয়ে নেব’ বলে শাসিয়েছে, উপরন্তু চাঁদা তুলে, মাইক বাজিয়ে সরস্বতী পুজো করে বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবীকে তুষ্ট করেছে, তবু—এতরকম কাণ্ড করেও—স্কুল-ফাইনালের পাঁচিলটা সে টপকাতে পারেনি, তিন বার পরীক্ষা দিয়েছিল। তিন বারই ফেল। এখন সে আমাদের হাটবাজার করে দেয়, হরিণঘাটার ডিপো থেকে দুধ আনে, পঞ্চাশ রকমের ফাইফরমাশ খাটে, এখানে-ওখানে ভুল-ইংরেজিতে চাকরির দরখাস্ত পাঠায়, এবং—
এবং কবিতা লেখে। তা সে-ও যদি কবি হতে পারে, তবে আপনি পারবেন না কেন?
আমার গিন্নির খুড়তুতো ভাই এক সওদাগরি আপিসের বড়োবাবু। আগে সে-ও কবিতা লিখত, কিন্তু আপিসে তাই নিয়ে হাসাহাসি হওয়ায় এবং বড়োসাহেব তাকে একদিন চোখ পাকিয়া “হোয়াট্‌’স দিস্‌ আয়া’ম্‌ হিয়ারিং অ্যাবাউট ইউ” বলায়, কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়ে সে এখন গোয়েন্দা-গল্পের ভক্ত হয়েছে। তার কাছে সেদিন একটা ইংরেজি বই দেখলুম। বইয়ের নামে বুচার্‌ বেকার্‌ মার্ডার মেকার্‌। অর্থ অতি পরিষ্কার। যে-কেউ খুন করতে পারে। নৃশংস কসাইও পারে, আবার নিরীহ রুটিওয়ালাও পারে। খুন করবার জন্যে যে একটা আলাদা রকমের লোক হওয়া চাই, তা নয়।
তুলনাটা হয়তো একটু অস্বস্তিকর হয়ে যাচ্ছে, তবু বলি কবিতার ব্যাপারেও তা-ই। কবিতা লিখবার জন্যে আলাদা রকমের মানুষ হবার দরকার নেই। রামা শ্যামা যদু মধু প্রত্যেকেই (ইচ্ছে করলে এবং কায়দাগুলোকে একটু খেটেখুটে রপ্ত করে নিলে) ছন্দ ঠিক রেখে, লাইনের পর লাইন মিলিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে।

তা জন্যে, বলাই বাহুল্য, কিছু জিনিস চাই, এবং কিছু জিনিস চাই না।
আগে বলি কী কী চাই না—
১) কবি হবার জন্যে লম্বা-লম্বা চুল রাখবার দরকার নেই। ওটা হিপি হবার শর্ত হতে পারে, কিন্তু কবি হবার শর্ত নয়। পরীক্ষা করে দেখে গেছে, চুল খুব ছোটো করে ছেঁটেও কিংবা মাথা একেবারে ন্যাড়া করে ফেলেও কবিতা লেখা যায়। চুলের সঙ্গে বিদ্যুতের সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে, কবিতার নেই।
২) সর্বক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবার দরকার নেই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মাটির দিকে তাকিয়েও কবিতা লেখা যায়। সবচাইতে ভালো হয়, যদি অন্য কোনও দিকে না তাকিয়ে শুধু খাতার দিকে চোখ রাখেন।
৩) কখন চাঁদ উঠবে, কিংবা মলয় সমীর বইবে, তার প্রতীক্ষায় থাকবার দরকার নেই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, অমাবস্যার রাত্রেও কবিতা লেখা যায়, এবং মলয় সমীরের বদলে ফ্যানের হাওয়ায় কবিতা লিখলে তাতে মহাভারত অশুদ্ধ হয় না।
৪) ঢোলা-হাতা পাঞ্জাবি পরবার দরকার নেই। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, স্যানডো গেঞ্জি গায়ে দিয়েও, কিংবা একেবারে আদুর গায়েও, কবিতা লেখা সম্ভব।
এইবার বলি, কবিতা লিখতে হলে কী কী চাই।
বিশেষ-কিছু চাই না। দরকার শুধু—
১) কিছু কাগজ (লাইন-টানা হলেও চলে, না-হলেও চলে)।
২) একটি কলম (যে-কোনও শস্তা কলম হলেও চলবে) অথবা একটি পেনসিল এবং–
৩) কিছু সময়।
কিন্তু এতসব কথা আমি বলছি কেন? কবিতার কৌশলগুলিকে সর্বজনের হাতের মুঠোয় এনে না-দিয়ে কি আমার তৃপ্তি নেই? সত্যিই নেই। ইংরেজিতে ‘পোয়্‌ট্রি ফর দি কমন ম্যান’ বলে একটা কথা আছে। আমার ইচ্ছে, কমন ম্যানদেরও আমি পোয়্‌ট বানিয়ে ছাড়ব। পরশুরামের কথা মনে পড়ছে। তাঁর প্রতিজ্ঞা ছিল, পৃথিবীকে একেবারে নিঃক্ষত্রিয় করে ছাড়বেন। কিন্ত, না-পারবার হেতুটা যা-ই হোক, কাজটা তিনি পারতে-পারতেও পারেননি। বিশ্বসংসারকে যাঁরা নিষ্কবি করে ছাড়তে চান (অনেকেই চান), তাঁরাও সম্ভবত শেষ পর্যন্ত পেরে উঠবেন না।

আমার প্রতিজ্ঞাটা অন্য রকমের। আমি ঠিক করেছি, বাংলা দেশে সব্বাইকে আমি কবি বানাব। দেখি পারি কি না।
কবিতা লিখবার জন্যে কী কী চাই, তা তো একটু আগেই বলেছি। চাই কাগজ, চাই কলম (কিংবা পেনসিল), চাই সময়। তা আশা করি কাগজ-কলম আপনারা জোগাড় করতে পেরেছেন। বাকি রইল সময়। তা-ও নিশ্চয়ই আপনাদের আছে। রেশনের দোকানে লাইন না-লাগিয়ে, এই যে আপনারা গুটিগুটি ‘কবিতার ক্লাস’-এ এসে হাজির হয়েছেন, এতেই বুঝতে পারছি যে, সময়ের বিশেষ অভাব আপনাদের নেই।
সুতরাং ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে শুরু করা যাক। অয়মারম্ভঃ শুভায় ভবতু।

আগেই বলি, কবিতার মধ্যে তিনটি জিনিস থাকা চাই। কাব্যগুণ, ছন্দ, মিল।
বিনা ডিমে যেমন ওমলেট হয় না, তেমনই কাব্যগুণ না থাকলে কবিতা হয় না। তার প্রমাণ হিসেবে আসুন, আমার সেই মাসতুতো ভাইয়ের ছোটোছেলের লেখা চারটে লাইন শোনাই:
সূর্য ব্যাটা বুর্জোয়া যে,
দুর্যোধনের ভাই।
গর্জনে তার তুর্য বাজে,
তর্জনে ভয় পাই।
বলা বাহুল্য, এটা কবিতা হয়নি। তার কারণ, ছন্দ আর মিলের দিকটা ঠিকঠাক আছে বটে, কিন্তু কাব্যগুণ এখানে আদপেই নেই। এবং কাব্যগুণ না-থাকায় দেখা যাচ্ছে ব্যাপারটা নেহাতই বাক্যের ব্যায়াম হয়ে উঠেছে।

এবারে মিলের কথায় আসা যাক। মিল না-রেখে যে কবিতা লেখা যায় না, তা অবশ্য নয়, তবু যে আমি মিলের উপর এত জোর দিচ্ছি তার কারণ:
১) প্রথমেই যদি আপনি মিল-ছাড়া কবিতা লিখতে শুরু করেন, তাহলে অনেকেই সন্দেহ করবে যে, মিল-এ সুবিধে হয়নি বলেই আপনি অ-মিলের লাইনে এসেছেন। সেটা খুব অপমানের ব্যাপার।
২) মিল জিনিসটাকে প্রথম অবস্থায় বেশ ভালো করে দখল করা চাই। তবেই সেটাকে ছেড়ে দিয়েও পরে ভালো কবিতা লেখা সম্ভব হবে। যেমন বড়ো-বড়ো লিখিয়েদের মধ্যে অনেকেই অনেকসময়ে ব্যাকরণের গণ্ডির বাইরে পা বাড়িয়ে চমৎকার লেখেন, এ-ও ঠিক তেমনই। ব্যাকরণ বস্তুটাকে প্রথমে বেশ ভালো করে মান্য করা চাই, তবেই পরে সেটাকে দরকারমতো অমান্য করা যায়। ঠিক তেমনি, পরে যাতে মিলের বেড়া ভাঙা সহজ হয়, তারই জন্যে প্রথম দিকে মিলটাকে বেশ আচ্ছা করে রপ্ত করতে হবে।

ছন্দ কিন্তু সবসময়ই চাই। আগেও চাই, পরেও চাই। আসলে আমার ক্লাসে আমি ছন্দের কথাই বলব। সেই বিচারে ‘কবিতার ক্লাস’ না-বলে একে ‘ছন্দের ক্লাস’ও বলা যেতে পারত। তাতে কিছু ক্ষতি ছিল না।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কবিতার কি ও কেন - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

kabitar-ki-o-keno-nirendranath-chakravartiকবিতার কি ও কেন - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
সামাজিক দায়বদ্ধতা, বিতর্ক–টিতর্ক, ওসব কাজের কথা নয়। একজন চাষী যখন লাঙল কাঁধে যখন মাঠে চাষ করতে যায় বা একজন শ্রমিক যখন তার হেতের নিয়ে কারখানায় কাজ করে, তখন কি তারা সমাজের উপকার করছে বলে সেগুলো করে? তা তো নয়, তারা ওই কাজ করে তাদের জীবন ধারণের জন্য, খাওয়া-পরার জন্য। কিন্তু কাজগুলো এমনই যে তাতে সমাজের উপকার হয়। যে ভাল লোক, সে কারোর উপকার করতে না পারুক, অপকার তো করে না। কীটস্-এর কথা ধরো, তিনি কখনও সোশ্যাল কমিটমেন্টের কথা বলেননি, কিন্তু তাঁর কবিতা কি সমাজের কোনও অপকার করেছে? একজন কবি তাঁর নিজের মুক্তির কথা লিখছেন, তা পড়ে অন্যেরাও মুক্তি অনুভব করছে। কবি তো আর দেবী স্বরসতীর সঙ্গে দায়বদ্ধতার চুক্তি করে লিখতে বসছেন না। তবে কবির দায়বদ্ধতা থাকে কবিতার প্রতি, নিজের প্রতি। সাহিত্যের শর্ত তাঁকে মানতে হয়। যারা সাহিত্যের শর্ত লঙ্ঘন করে, তারা সাহিত্যের ক্ষতি করে।
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গদ্যসমগ্র ০১ - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

Gadyasamagra 01 - Nirendranath Chakrabortyগদ্যসমগ্র ০১ - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
জন্ম:২ কার্ত্তিক ১৩৩১(১৯ অক্টোবর ১৯২৪),বাংলাদেশের ফরিপুর জেলার চন্দ্র গ্রামে |শিক্ষা :প্রথমে গ্রামের পাঠশালা,পরে কলকাতার স্কুলে ও কলেজে |জীবিকা সাংবাদিকতা |১৯৫১ সাল য়্হেকে আনন্দ বাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয় বর্তমানে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় উপদেষ্টা |বড়দের জন্য কবিতাগ্রন্থ,কবিতা-বিষয়ক আলোচনাগ্রন্থ,ভ্রমণকাহিনী ও উপন্যাস লিখেছেন অনেক | ছোটদের জন্য কয়েকটি ছাড়ার বই ও একটি উপন্যাস |উলঙ্গ রাজার জন্য আকদমি পুরুস্কারে সম্মানিত হন |অন্যান পুরুস্কার:তারাশঙ্কর-স্মৃতি,আনন্দ শিরমনি ইত্যাদি |১৯৯০ সালে লিয়েজে বিশ্ব কবি কবিস্ম্মেলনে একমাত্র একমাত্রর ভারতীয় প্রতিনিধি |
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com