সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label বদরুদ্দীন উমর. Show all posts
Showing posts with label বদরুদ্দীন উমর. Show all posts

আমার জীবন (প্রথম খন্ড) - বদরুদ্দীন উমর

আমার জীবন (প্রথম খন্ড) - বদরুদ্দীন উমর
আমার জীবন (প্রথম খন্ড) - বদরুদ্দীন উমর
বদরুদ্দীন উমরের জন্ম ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর পশ্চিম বাঙলার বর্ধমান শহরে। মার্কসবাদী তাত্ত্বিক, রাজনীতিবিদ, প্রাবন্ধিক ও ইতিহাসবিদ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে সুপরিচিত।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ. পাশ করার আগেই ১৯৫৪ সালে দর্শন বিভাগে অস্থায়ীভাবে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৫ সালে এম,এ. পাশ করার পর ১৯৫৬ সালে চট্রগ্রাম সরকারী কলেজে এবং ১৯৫৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
১৯৬১ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে দর্শন , রাজনীতি ও অর্থনীতি এই তিন বিষয়ে অনার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগেরও তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা। ষাটের দশকে প্রকাশিত তাঁর তিনটি বই সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬), সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭) ও সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৯) তৎকালে বাঙালী জাতীয়তাবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এ সময় পাকিস্তান সরকারের সাথে তাঁর বিরোধ বৃদ্ধি পেতে থাকে। এবং তিনি নিজেই ১৯৬৮ সালে অধ্যাপনার কাজে ইস্তফা দিয়ে সরাসরি রাজনীতি ও সার্বক্ষণিক লেখালেখিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সাম্প্রদায়িকতা - বদরুদ্দীন উমর

সাম্প্রদায়িকতা - বদরুদ্দীন উমর
সাম্প্রদায়িকতা
বদরুদ্দীন উমর

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শ্রেণী সংগ্রামের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামই এখন ভারতীয় জনগণের অপরিহার্য কর্তব্য - বদরুদ্দীন উমর

শ্রেণী সংগ্রামের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামই এখন ভারতীয় জনগণের অপরিহার্য কর্তব্য

বদরুদ্দীন উমর

ভারতে সাম্প্রদায়িকতার সাথে শ্রেণী প্রশ্ন ওতপ্রোতভাবে বরাবরই সম্পর্কিত থেকেছে। কিন্তু এখন এটা যেভাবে স্পষ্ট হয়েছে এটা আগে কোন দিন দেখা যায় নি। বিগত লোকসভা নির্বাচন দেখিয়ে দিয়েছে সাম্প্রদায়িকতা ও শ্রেণী শোষণ কিভাবে জনস্বার্থ, কৃষক শ্রমিকের স্বার্থের প্রশ্নকে ছাপিয়ে নিজের আধিপত্য রাজনীতি ক্ষেত্রে বিস্তার করছে। এই নির্বাচনে দেখা গেছে, সাম্প্রদায়িকতা ও তার নিকৃষ্টতম রূপ হিন্দুত্ববাদ কিভাবে জনস্বার্থকে পদদলিত করে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করেছে। এরা জনগণকে তাদের নিজেদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এটা ভারতের রাজনীতি ক্ষেত্রে এক মস্ত ট্র্যাজেডি ছাড়া আর কিছু নয়।

২০১৪ সালের নির্বাচনে আম্বানি, টাটা ইত্যাদি থেকে বিশাল অঙ্কের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিজেপি ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানোর সময় ভারতের জনগণকে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কিছুই তারা রক্ষা করে নি। উপরন্তু তাদের শাসন আমলে জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে। কৃষকদেরকে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার কোনটিই বাস্তবায়ন না হওয়ায় কৃষকদের অবস্থা শোচনীয় দাড়িয়েছে। এ কারণে নির্বাচনের বেশ কিছু দিন আগে থেকেই তারা বড় আকারে সর্বত্র সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। সারা দেশে লক্ষ লক্ষ কৃষক বিশাল বিশাল মিছিল করে দিল্লী, মুম্বাই সহ ভারতের প্রধান শহরগুলিতে দীর্ঘ মিছিল করে এসে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানিয়েছে। এই কৃষকদের প্রায় সমস্ত অংশই গরীব এবং দলিত বা নিম্ন বর্ণের হিন্দু। তাদের ওপর নির্যাতন কমিয়ে আনার পরিবর্তে বৃদ্ধিই কৃষকদের এই বিক্ষোভের মূল কারণ। কিন্তু শুধু কৃষকই নয়, শ্রমিক এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মধ্যবিত্তের মধ্যেও এই বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ বড় আকারে দেখা গেছে।

কিন্তু এই সব বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কৃষকসহ শোষিত জনগণের বিশাল অংশ, অধিকাংশই, ভোট দিয়েছে বিজেপিকে। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অর্থ সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দুত্ববাদকে ভোট দেওয়া। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দুত্ববাদের শ্রেণী চরিত্র উপলব্ধি করতে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটা ঘটেছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সত্ত্বেও কৃষকসহ অন্যদের মধ্যে শ্রেণী চেতনার নিদারুণ অভাব, তাদের ওপর শোষণকে শ্রেণী শোষণ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার কারণে।

এর মূল কারণ শ্রেণী প্রশ্ন থেকে হিন্দুত্ববাদকে পৃথক করে দেখানোর চেষ্টা বিজেপির পক্ষ থেকে করা হলেও সেই সাথে ভারতের বামপন্থী দলগুলিসহ অন্যেরা হিন্দুত্ববাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সাথে শ্রেণী প্রশ্নের বিষয় সামনে আনা থেকে বিরত থেকেছে। কাজেই তাদের প্রচার প্রচারণার মধ্যেও কৃষক শ্রমিক জনগণের শ্রেণী স্বার্থ সাম্প্রদায়িকতা ও হিন্দুত্ববাদ থেকে বিচ্ছিন্নই থেকে গেছে।

এই পরিস্থিতি ভারতের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ক্ষেত্রে রীতিমত বিপজ্জনক। শুধু বিপজ্জনকই নয়, আতঙ্কজনক। কারণ ভারতে এখন সাম্প্রদায়িকতা যেভাবে ব্যাপকভাবে জনগণের মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে সেটা জনগণের শ্রেণী স্বার্থ রক্ষার জন্য সংগ্রামকে বিভ্রান্ত করে রেখেছে। জনগণ নিজেদের শ্রেণী স্বার্থকে তার যথার্থ পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে না শেখার কারণে তাদের সংগ্রাম ব্যর্থ হয়েছে। উত্তর প্রদেশ ও বিহারের রাজনীতি দীর্ঘদিন বর্ণ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এ কারণে কংগ্রেসও এ দুই বড় রাজ্য থেকে রাজনৈতিকভাবে প্রকৃতপক্ষে বহিস্কৃত হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এ দুই রাজ্যের নিম্নবর্ণের হিন্দু ও দলিতদের জন্য অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর সাথে তারা উত্তর প্রদেশে যে বিজয় লাভ করেছিল তা বিস্ময়কর। কিন্তু বিজেপি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নি। উপরন্তু গরীব কৃষক ও দলিতদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছিল। এ কারণে তারা উত্তর প্রদেশের বিধান সভার কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। তাদের ভোটের এই বিষয়টি বিবেচনা করে মনে করা হয়েছিল যে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তারা বিজেপিকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করবে। কিন্তু বাস্তবতঃ এর উল্টোটিই দেখা গেল। বিজেপি উত্তর প্রদেশে বিপুল বিজয় লাভ করলো! কৃষক ও দলিতরা নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদ ও সাম্প্রদায়িক প্রচারণার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে আবার বিজেপিকেই ভোট দিল। এর মূল কারণটি ভেবে দেখার বিষয়। কিন্তু লোকসভা নির্বাচন উত্তর যে সব বিশ্লেষণ এক্ষেত্রে ভারতে দেখা গেছে তাতে এ বিষয়টির বিশেষ গুরুত্ব দেখা যায় নি। এক্ষেত্রে ভারতের বামপন্থী দলগুলি থেকে নিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলগুলির দেউলিয়াপনাই চোখে পড়ার মত।

কিন্তু শুধু রাজনৈতিক দলগুলিই নয়, ভারতের লেখক, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক সহ বুদ্ধিজীবীদের একটা বড় ও প্রভাবশালী অংশ বিজেপির নির্যাতন, ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ, গণতন্ত্রের শ্বাস রোধ ইত্যাদি নিয়ে অনেক বক্তৃতা বিবৃতি লেখালেখি করেছেন। বিজেপির আমলে উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন সাংবাদিক, লেখক বুদ্ধিজীবী হত্যার বিরুদ্ধে তারা জোরালো প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলির মত তাঁদের বক্তব্যের ক্ষেত্রেও শ্রেণী প্রশ্ন প্রায় বাইরেই থেকে গেছে। এর ফলে নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদের প্রকত রূপ জনগণের চোখের আড়ালেই থেকে গেছে। তাদের প্রতিবাদের কোন প্রভাব কৃষক শ্রমিকসহ দরিদ্র জনগণের কাছে পৌছায় নি। অথচ নির্বাচনে ভোট এই গরীব জনগণেরই। তাদেরকে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কোন কাজেই আসে নি।

ভারতে শ্রেণী দ্বন্দ্বের ভিত্তিতে কৃষক শ্রমিকের রাজনীতি আজ কোন পর্যায় এসে দাড়িয়েছে এটা লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যেই দেখা গেল। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম এর নেতৃত্বাধীন বাম ফ্রন্ট ৩৪ বছর একটানা ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে ৪০টি আসনের মধ্যে তারা একটি আসনেও জয়লাভ করে নি। অর্থাৎ শ্ৰেণী রাজনীতির নাম পশ্চিমবঙ্গে এতদিন নামমাত্র হলেও যা অবশিষ্ট ছিল আজ আর তা নেই। প্রায় সম্পূর্ণ নির্মূল হয়েছে। সারা ভারতেও তাদের অবস্থা একই রকম। মাত্র তিন চারটি আসনে তারা লোকসভার নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। এই পরিস্থিতি হঠাৎ করে, একদিনে তৈরী হয় নি। দীর্ঘদিন বুর্জোয়া সংসদীয় রাজনীতি চর্চার যে পরিণতি স্বাভাবিক সেটাই পশ্চিমবঙ্গ, কেরালাসহ সারা ভারতে হয়েছে। এভাবে শ্রেণী রাজনীতির ক্ষেত্রে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে সেই শূন্যতা পূরণ করেছে চরম দক্ষিণপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। ভারতে প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী ও গণতান্ত্রিক মহলের শ্রেণী প্রশ্ন এখন প্রায় সম্পূর্ণ আড়ালে চলে গেছে যার প্রতিফলন ভারতের বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিল্পীদের বক্তৃতা বিবৃতি ও প্রতিরোধের মধ্যেই ঘটেছে। তারা তাদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ জোরালোভাবে করলেও তাতে শ্রেণীর প্রশ্ন থাকে নি, এখনো নেই। এ কারণেই তাদের প্রতিবাদ প্রতিরোধ লোকসভা নির্বাচনে কোন প্রভাব বিস্তার করে নি। উপরন্তু বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদী কৃষক শ্রমিকসহ গরীব জনগণের পক্ষে সম্ভব হয়েছে বিজেপির নির্যাতন এবং হিন্দুত্ববাদের পক্ষে ভোট দেওয়া। এছাড়া এই নিবাচনের ফলাফলের অন্য কোন ব্যাখ্যা নেই।

মুসলিম লীগ ঘোষণা দিয়ে দ্বিজাতি তত্ত্ব প্রচার করেছিল এবং তার ভিত্তিতে পাকিস্তান দাবী করেছিল। কিন্তু কংগ্রেস ১৯৪০ এর দশক থেকে নিয়ে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায়ে অঘোষিতভাবে সেই একই দ্বিজাতি তত্ত্বের ও নীতির চর্চা তাদের শাসন আমলে করে এসেছে। এ কারণে কংগ্রেসের শাসন আমলেই ভারতের মুসলমানরা পরিণত হয়েছে সে দেশের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে। চাকরী ক্ষেত্রে তাদেরকে এমনভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছে যাতে দেশের জনসংখ্যার ১৫% এর ওপর মুসলমান হলেও তাদের কর্মসংস্থান ২% এরও কম। পশ্চিমবঙ্গে এদিক দিয়ে অবস্থা সব থেকে খারাপ। কংগ্রেস শাসনে এবং তার পর ৩৪ বছরের সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম ফ্রন্টের শাসনে সেখানে জনসংখ্যার ৩০% এর বেশী মুসলমান হলেও কর্ম

সংস্থান ২% এর কম! এর থেকে যদি এই সিদ্ধান্ত টানা যায় যে, মুসলমানদের প্রতি তাদের সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গী এবং আচরণ কংগ্রেসের থেকে আলাদা কিছু ছিল না তাহলে কি ভুল বলা হবে? এর থেকে এই সিদ্ধান্ত যদি টানা যায় যে, মুসলমানরা পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের আমলের মতই বাস্তবতঃ দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে থেকেছে তাহলে এই বক্তব্যের কোন যুক্তিসংগত বিরোধিতা করা চলে? কাজেই নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি আকাশ থেকে পড়ে নি। তারা এখন সাম্প্রদায়িকতা এবং হিন্দুত্বের ক্ষেত্রে যে নীতি কার্যকর করছে তার মধ্যে কি ভারতে বুর্জোয়া সংসদীয় রাজনীতির ধারাবাহিকতাই রক্ষিত হচ্ছেনা? এদিক দিয়ে বিজেপি কি কংগ্রেস, এমন কি সিপিএম এর মত কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির পরিণতি না?

১৯৪৮ সালে হঠাৎ করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি তাদের দ্বিতীয় কংগ্রেসে বিপ্লবের ডাক দিয়ে এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিল। বিপ্লবের কোন তাত্ত্বিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিই তাদের ছিল না। এ কারণে মাত্র দুই বছরের মাথায় তাদের ‘বিপ্লব’ প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল এবং তারা দল হিসেবে ছিন্নভিন্ন হয়েছিল। এর পর পঞ্চাশের দশক থেকে তারা শ্রেণী সগ্রাম ও বিপ্লবের চিন্তা শিকেয় তুলে সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যে প্রবেশ করেছিল। বিপ্লবের ক্ষেত্রে হলেও সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে কেরালা এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তারা সরকার গঠন করেছিল। পশ্চিমবঙ্গে তারা ৩৪ বছর ধরে শাসন ক্ষমতায় ছিল। এভাবে শাসন ক্ষমতায় থেকে ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে অন্যান্য সংসদীয় দলের সাথে প্রতিযােগিতা করতে গিয়ে, নির্বাচনী রাজনীতির জন্য যা করা দরকার সেটা করতে গিয়ে শ্রেণী সংগ্রামের নাম আর তারা নেয় নি। সংসদীয় দল হিসেবে আসলে তার মধ্যে যে সব সংকট দেখা দেয় সিপিএম এর মধ্যে সেই সব সংকট দেখা দিয়েছিল এবং তার পরিণামে ২০১১ সালে তারা পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারিয়েছিল এবং পরবর্তী পর্যায়ে এখন তাদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রায় নির্মূল হওয়ার মত।

সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যে থাকলে শ্রেণী সংগ্রাম চলে না। সকলকে দেশের সংসদীয় ব্যবস্থাকে স্বীকার করে নিয়েই রাজনীতি করতে হয়। সিপিএম এবং সিপিআইকে তাই করতে হয়েছিল। এ কারণে তৃণমূলে কৃষক শ্রমিকের স্বার্থের সাথে তাদের আর কোন সম্পর্ক থাকে নি। অন্যদিকে যে কমিউনিস্টরা সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর বাইরে থেকে শ্রেণী সংগ্রামের চেষ্টা করেছিল বা এখনো করে যাচ্ছে তারা মাওবাদের খপ্পরে পড়ে ব্যাপক কৃষক সমাজ ও শ্রমিকদের মধ্যে সাংগঠনিক কাজ না করে সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে ঝুঁকে ছিল। সংগ্রাম করতে গিয়ে তারা নিজেদের কাজের এলাকা বনজঙ্গলের কিছু আদিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। তারা মাঝে মাঝে ভারতের সেনা বাহিনী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে এবং পুলিশ ও সেনা সদস্যদের হত্যা করছে। কিন্তু তার দ্বারা ভারতের মতাে শক্তিশালী পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কোন প্রকৃত ক্ষতিই হচ্ছে না। তারা অনায়াসে মাওবাদীদের সশস্ত্র বিপ্লবের মোকাবেলা বেশ সাফল্যের সাথেই করছে। নক্সালবাড়ী আন্দোলনের সময় কিছুটা ভিন্নভাবে এ চেষ্টা হলেও এ কারণে সে আন্দোলনও শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছিল।

ভারতে প্রকৃত বিপ্লবী শ্রেণী সংগ্রাম চালাতে হলে তার জন্য সমতল ভূমির ব্যাপক কৃষক জনগণ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংগঠন গড়ে তােলা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। কিন্তু এ ধরনের সংগঠন কৃষক শ্রমিকের মধ্যে কোথাও নেই। ব্রিটিশ আমলে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি কৃষক শ্রমিকদের মধ্যে যে সামান্য বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিল তার তুলনায় এখন কিছুই নেই। এই পরিস্থিতি যে সামগ্রিকভাবে ভারতের রাজনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করবে এটাই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতির কারণেই নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি জনগণকে যতই ধােকা দিক এবং তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন করুক তার বিরুদ্ধে কোন প্রকৃত প্রতিরোধ কোন ক্ষেত্রেই হচ্ছে না। ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে বিজেপির নির্বাচন বিজয়ের এটাই মূল কারণ।

এই কারণের বিশ্লেষণ আজ পর্যন্ত ভারতের প্রগতিশীল ও বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী, লেখক, ঐতিহাসিক থেকে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত কোন ক্ষেত্রেই হচ্ছে না। কিন্তু এই বিশ্লেষণই আজ ভারতের বিপ্লবীদের মূল কর্তব্য। এই বিশ্লেষণ না করে ভারতে নতুনভাবে বিপ্লবী শ্রেণী সংগ্রাম সংগঠিত করা সম্ভব নয়। এদিক দিয়ে ভারতের বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন আজ এক সংকটময় অবস্থায় এসে দাড়িয়েছে। শ্রেণী সংগ্রাম নতুনভাবে ও যথাযথভাবে সংগঠিত করা সংসদীয় রাজনীতি ও মাওবাদী লাইন থেকে সম্ভব নয়। আর শ্রেণী সংগ্রাম ছাড়া ভারতের পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র উৎখাত করে সমাজতান্ত্রিক সংগ্রাম সংগঠিত করা ও সেই সংগ্রামে জয়যুক্ত হয়ে ভারতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এক সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার।

ভারতে সাম্প্রদায়িকতা এখন সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে এবং তারই প্রতিফলন ঘটেছে ২০১৪ এবং ২০১৯ সালে বিজেপির নির্বাচন বিজয়ে। এর মোকাবেলা করা সম্ভব একমাত্র ভারতে শ্রেণী সগ্রাম সংগঠিত করে। শ্ৰেণী সংগ্রাম সংগঠিত না করলে ভারতে চরম দক্ষিণপন্থী ও ফ্যাসিস্ট বিজেপি এবং আর.এস.এস. ঘরানার অন্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির প্রভাব নির্মূল করা ও তাদেরকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে পরবর্তি নির্বাচনেও বিজেপি হিন্দুত্ববাদের আওয়াজ তুলে কৃষক শ্রমিককে বিভ্রান্ত করে তাদের রাজনীতির জোয়ারেই আবার তাদেরকে ভাসিয়ে দেবে।

সংস্কৃতি - জুন - জুলাই ২০১৯


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ভারতের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদের উল্লম্ফনের ঐতিহাসিক পটভূমি বদরুদ্দীন উমর

ভারতের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদের উল্লম্ফনের ঐতিহাসিক পটভূমি
বদরুদ্দীন উমর


হিন্দুত্ব এখন যেভাবে ভারতের রাজনীতিতে শুধু প্ৰবল প্রভাব নয়, আধিপত্য বিস্তার করেছে, এটা এক ভয়াবহ ব্যাপার। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির জন্যও বিপজ্জনক। এই প্রতিক্রিয়াশীলতা পরাজিত করার জন্য শুধু রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (আরএসএস), বিজেপি বা নরেন্দ্ৰ মোদির সমালোচনা ও বিরোধিতাই যথেষ্ট নয়। বাস্তবতঃ এর কোন কাৰ্যকারিতাও নেই। ভারতের রাজনীতি আজ এ পর্যায়ে এসে দাঁড়ানো কোন অলৌকিক বা হঠাৎ ঘটে যাওয়া ব্যাপার নয়। এটা মনে করাও বড় রকমের এক মূ্র্খতা। অকারণে কিছুই ঘটে না। কাজেই এর কারণ অনুসন্ধান ও সঠিক ব্যাখ্যা ছাড়া এর সমালোচনা ও বিরোধিতা তীব্র হলেও এর পরিবর্তন সম্ভব নয়। বলাই বাহুল্য, ভারতীয় সমাজের মধ্যেই এর মূল প্রোথিত। ভারতের ইতিহাসের মধ্যেই এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।

প্রাচীন ভারতে হিন্দুদের ইতিহাস চেতনা ছিল না বললেই চলে। এ কারণে ভারতে বেদ, উপনিষদ ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থ ও রামায়ন মহাভারতের মত মহাকাব্য থেকে নিয়ে অনেক উত্তম সাহিত্য রচিত হলেও ইতিহাস চর্চা ভারতীয়দের মধ্যে ছিল না। এর জের হিসেবে পরবর্তীকালেও তাদের নানা বক্তব্য এবং আলোচনায় ইতিহাস বিষয়ে অজ্ঞতারই পরিচয় পাওয়া যায়।

ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং ইতিহাসের চেতনা না থাকার কারণেই হিন্দুদের মধ্যে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনেক বিভ্রান্তি ও মিথ্যা ধারণার জন্ম হয়েছে। এই অজ্ঞতা অনেক হিন্দু পণ্ডিত ও মহান ব্যক্তিদের মধ্যেও দেখা যায়। স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যে অনেক উদারতা ছিল । সাধারণ অর্থে তাকে সাম্প্রদায়িক বলা যায় না। কিন্তু ইসলাম ও মুসলমান সম্পর্কে তাঁর বেশ কিছু বক্তব্য আপাতঃদৃষ্টিতে সাম্প্রদায়িক বলেই মনে হবে। এই সব বক্তব্যকে অজ্ঞতাপ্রসূত না বললে সাম্প্রদায়িক বলা ছাড়া অন্য কিছু বলার উপায় নেই।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা - বদরুদ্দীন উমর

সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা - বদরুদ্দীন উমর
সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা - বদরুদ্দীন উমর




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি - বদরুদ্দীন উমর

পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি
পূর্ববাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাঙলাদেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতি - বদরুদ্দীন উমর

বাঙলাদেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতি - বদরুদ্দীন উমর
বাঙলাদেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতি - বদরুদ্দীন উমর

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি - বদরুদ্দীন উমর

amarboi
রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি
বদরুদ্দীন উমর

মুখবন্ধে বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন...
রাজনীতি, সমাজ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদির ওপর ২০১০ সালে লিখিত ও প্রকাশিত কতকগুলি প্রবন্ধ নিয়ে এই সংকলন। এখানে যেসব ঘটনা ও সমস্যা বিষয়ে আলােচনা করা হয়েছে তার দ্বারা এই সময়ের বাঙলাদেশের ইতিহাসের সাথে পাঠক যাতে পরিচিত হতে পারেন সেই উদ্দেশ্যেই এগুলাে এখানে এভাবে সংকলিত হলাে। বাঙলাদেশ তার জন্মকাল থেকেই অনেক ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। দেশটির এই যাত্রাপথে বাঙলাদেশের নতুন শাসক শ্রেণী উৎপাদন ও সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য অর্জন করলেও শুধু এর ছিটে-ফোটা অন্যদের কাছে পৌছানাে ও সাধারণভাবে দেশের বিপুল অধিকাংশ মানুষ শুধু যে অর্জিত সম্পদের সুষম বণ্টন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাই নয়, তাদের ওপর অনেক নির্যাতনও শাসক শ্রেণীর দ্বারা হচ্ছে। বাঙলাদেশের মত শ্রেণীবিভক্ত সমাজে এটাই স্বাভাবিক। বিক্ষিপ্ত এবং অসংগঠিতভাবে জনগণ এ সবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরােধ করছেন। সাধারণভাবে সমাজে ও শিক্ষা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে ও সূচিত হচ্ছে সেগুলাের ওপরই এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত প্রবন্ধগুলাে লেখা হয়েছে।
আশা করি এর মধ্যে পাঠকগণ শুধু যে ২০১০ সালের ঘটনাবলী ও পরিস্থিতির সাথে পরিচিত হতে পারবেন তাই নয়, বাঙলাদেশ রাষ্ট্রের চরিত্রের সাথেও তাদের পরিচয় হবে।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রথম শহিদ মিনার ও পিয়ারু সরদার

প্রথম শহিদ মিনার ও পিয়ারু সরদার
প্রথম শহিদ মিনার ও পিয়ারু সরদার
সম্পাদনাঃ আনিসুজ্জামান
বাংলা একাডেমি।

পিয়ারু সরদার না থাকলে আমাদের রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের প্রথম শহিদ মিনার গড়ে উঠত না। সে-মিনার অবশ্য আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে নেই, কেননা গড়ে-ওঠার পরই প্রতিক্রিয়ার শক্তি পাশবিকতার পরিচয় দিয়ে সে-মিনার চূর্ণ করে দিয়েছিল। তবে এদেশের মানুষের মনে সে-মিনার আজো অজার-অমর-অক্ষয় হয়ে আছে। যে-শহিদ মিনারে আজ আমরা পুষ্পের অর্ঘ্য নিবেদন করি, সে-মিনারও ধরে রেখেছে প্ৰথম শহিদ মিনারের স্মৃতি। ফুল দিয়ে অশ্রু দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে তৈরি শহিদ মিনার, ইট বালি-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি তো অবশ্যই সেসব উপকরণ এসেছিল পিয়ারু সরদারেরই কাছ থেকে আর শ্রদ্ধার উপটৌকন উৎসারিত হয়েছিল অগণিত মানুষের হৃদয় থেকে।
১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের অনেক অংশগ্রহণকারী একযোগে পিয়ারু সরদার সম্পর্কে এই বইটিতে লিখেছেন। তা থেকে সে-সময়কার একটি ছবি আজকের পাঠক খুঁজে পাবেন এবং জানবেন, একটা মুহূর্ত কীভাবে একজন ব্যক্তির জীবনকে পরিবর্তিত করে দেয় এবং পরিণামে জাতির জীবনে কত মূল্যবান হয়ে ওঠে।

বইটি থেকে বদরুদ্দীন উমর সাহেবের লেখাটি তুলে দেওয়া হলো।

ভাষা-আন্দোলন ও পিয়ারু সরদার
বদরুদ্দীন উমর
ভাষা-আন্দোলনের সঙ্গে সঠিক পরিচয় ও সে-বিষয়ে সঠিক ধারণা খুব অল্প মানুষের মধ্যেই দেখা যায়, যদিও নানা ঘটনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন এবং এ নিয়ে উচ্ছাস ও আবেগ প্রকাশ এক সাধারণ ব্যাপার। প্রথমদিকে প্রায় সকলেই মনে করত, ভাষা-আন্দোলন শুধু ছাত্র ও কিছু শিক্ষিত লোকের আন্দোলন। এখনও অধিকাংশ লোকের ধারণা তাই। ১৯৪৭-৪৮ সালে ভাষা-আন্দোলন মুষ্টিমেয় ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীর দ্বারা শুরু হলেও ১৯৪৮ সালে এতে সাধারণ মানুষ ও রেল শ্রমিকদের কিছু অংশগ্রহণ ছিল। তবে ওই প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার স্থানীয় জনগণের বিশেষ কোনো সমর্থন ভাষা-আন্দোলনের প্রতি ছিল না। উপরন্তু তার প্রতি তাদের ছিল এক ধরনের বিরূপ মনোভাব। তাঁরা তখন মুসলিম লীগের রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। এ জন্য ১৯৪৮ সালের ভাষা-আন্দোলনের সময় ছাত্ররা সাধারণভাবে নবাবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপারে যেতেন না। স্থানীয় লোকদের দ্বারা আন্দোলনকারী ছাত্রদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও কিছু কিছু ঘটেছিল। এর কারণ পাকিস্তান আন্দোলনের সময় মুসলিম লীগ মুসলমানদের রাষ্ট্র পাকিস্তান সম্পর্কে যে ব্যাপক প্রচারণা করেছিল তার প্রভাব তখনও পর্যন্ত সারা পূর্ব পাকিস্তানে ছিল। পুরাণ ঢাকার জনগনও সেই প্রচারণার দ্বারা
তখনও পর্যন্ত মোহগ্ৰস্ত ছিলেন। তারা মনে করতেন, ভাষার দাবি পাকিস্তান ও মুসলমানদের স্বার্থবিরোধী। এদিক দিয়ে ১৯৪৮ এবং ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আন্দোলনের এই দ্বিতীয় পর্যায়ে তা পরিণত হয়েছিল এক বিরাট গণঅভু্যখানে। সেই পরিস্থিতিতে পুরান ঢাকার জনগণের মধ্যে ভাষাআন্দােলনের প্রতি কোনাে বিরূপতা তো ছিলই না, উপরন্তু ব্যাপকভাবে তাঁরা সে আন্দোলনে এগিয়ে এসেছিলেন ও সাহায্য করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করলে এ বিষয়ে ধারণা পরিষ্কার হবে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বাস রুটসহ অন্যান্য রুটে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘট করেন। সেই অবস্থায় ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোরেশী ২৩শে ফেব্রুয়ারি জেলা আদালত ভবনে অবস্থিত তাঁর অফিসে ঢাকার পরিবহন মালিকদের এক বৈঠক আহবান করেন। ওই বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকেন এন এ লস্কর, আবদুল আওয়াল ভূইয়া ও মতি সরদার। বৈঠকের সময় ম্যাজিস্ট্রেট কোরেশী রাস্তায় বাস-ট্যাক্সি চালু করে ধর্মঘটের অবসান ঘটাতে নির্দেশ দেন। সেটা না করলে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও তিনি দেন। কিন্তু পরিবহন মালিকরা তার নির্দেশ মতো বাস-ট্যাক্সি চালু করতে রাজি না থাকায় তাঁরা পরস্পরের প্রতি মুখ চাওয়াচাওয়ি করছিলেন। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর অবশেষে মতি সরদার তার স্থানীয় ভাষায় বলেন, “এতদিন তো আমরা জবানের লড়াইয়ের মধ্যে আছিলাম না। কিন্তু এহন যাহন দেশেই আমরা বিদেশি হইছি তহন কী আর করা।” কোরেশী বাংলা জানতেন। এ কথা শুনে তিনি রাগান্বিতভাবে মতি সরদারকে জিজ্ঞেস করেন, “দেশে বিদেশি হইছি। এ কথার মানে কী” এর জবাবে মতি সরদার বলেন, “আপনিই বুইঝা দেহেন।” ঢাকায় আগের দুতিন দিনের ঘটনাবলি দেখে তাঁর ধারণা জন্মেছিল যে, পাঞ্জাবিরাই সবকিছু অঘটনের জন্য দায়ী। কোরোশীর কথায় তারা বাস-ট্যাক্সি ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে রাজি হননি (বদরুদ্দীন উমর : পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি। তৃতীয় খণ্ড, পৃ. ২৯৭-৯৮ । সুবর্ণ)।
১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলন জনগণের ওপর ব্যাপক ও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। তাদের আলোড়িত করার কারণ নিহিত ছিল ১৯৪৭-৪৮ সাল থেকে মুসলিম লীগ সরকার জনগণের ওপর যে শোষণ-নির্যাতন চালিয়েছিল তার মধ্যে পাকিস্তান আন্দোলনের সময় মুসলিম লীগ জনগণকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল সে স্বপ্ন তাদের ভঙ্গ হয়েছিল অল্পদিনের মধ্যে । মতি সরদার ম্যাজিস্ট্রেট কোরেশীকে নিজ দেশে পরিবাসী হয়ে থাকার যে কথা বলেছিলেন তার মধ্যে এই স্বপ্নভঙ্গের কথাই ছিল। ১৯৪৭ সাল থেকে দেশের পরিস্থিতির মধ্যে এই পরিবর্তন যদি না ঘটত, তাহলে ১৯৪৮ এবং ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের মধ্যে যে পার্থক্য দাঁড়িয়েছিল সেটা দেখা যেত না। মুসলিম লীগের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার প্রতিশোধাই জনগণ ১৯৫২ সালের ভাষাআন্দোলনের সময় ও পরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের সময় নিয়েছিলেন।
১৯৫২ সালে পিয়ারু সরদার যেভাবে ভাষা-আন্দোলনের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন, যেভাবে তিনি অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তার তাৎপৰ্য বোঝার জন্য ১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে মুসলিমলীগ শাসন জনগনের জীবন যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, তাদের স্বপ্নের জগৎকে বিধ্বস্ত করেছিল, সেদিকে তাকানো দরকার। সেটা না করে যদি একজন পিয়ারু সরদার কর্তৃক শহিদ মিনার নির্মাণের সময় শুধু সিমেন্ট, বালু, ইট দেওয়ার কথা বলা হয়, তাহলে এর দ্বারা শুধু তার বদ্যান্যতাই বোঝাবে। সেই বদ্যান্যতার পেছনে তাঁর মতো মানুষদের চিন্তাক্ষেত্রে যে পরিবর্তন ঘটেছিল তার হিসাব বা হদিস পাওয়া যাবে না।
পিয়ারু সরদার তাঁর পিতা মনু সরদারের মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। সেই হিসেবে তিনি ছিলেন ঢাকার ২২ পঞ্চায়েত প্রধানের একজন। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন এবং ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ সম্প্রসারণ কাজের ঠিকাদার ছিলেন। সে কারণে সে সময় তিনি মেডিকেল কলেজ হােস্টেল এলাকায় প্রচুর ইট, বালু ইত্যাদি এনে রেখেছিলেন। তাঁর অস্থায়ী গুদাম-ঘরে ছিল সিমেন্ট। ২১শে ফেব্রুয়ারি গুলির পর শহিদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ কম্পাউন্ডেই একটি শহিদ মিনার নির্মাণ কাজের জন্য প্রয়োজন ছিল ইট, বালু, রড, সিমেন্ট ইত্যাদি। পিয়ারু সরদার তার ঠিকাদারি কাজের জন্য যে ইট, বালু এনে রেখেছিলেন, সেগুলো খোলা জায়গাতেই ছিল। কিন্তু সিমেন্ট ছিল গুদামে তালাবদ্ধ। সিমেন্ট ছাড়া কোনো কাজ হওয়ার উপায় ছিল না। কাজেই গুদামে রাখা সিমেন্টের জন্য এবং সেই সঙ্গে ইট, বালু ইত্যাদি ব্যবহারের জন্য ছাত্ররা পিয়ারু সরদারের সঙ্গে দেখা করে তার সাহায্য চান। তিনি ছিলেন বকশীবাজার, উর্দু রোড, হােসেনী দালান এলাকার সরদার। তার বাসা এবং অফিস ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা হোসেনী দালানে। ছাত্ররা তার কাছে সিমেন্টের জন্য অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাদের হাতে গুদামের চাবি দিয়ে বলেন, সিমেন্টসহ সবকিছু প্রয়োজনমতো ব্যবহার করতে এবং কাজ হলে চাবি তাকে ফেরত দিতে। জিনিসপত্র খোয়া যাওয়া থেকে নিয়ে সরকারের রোষানলে পড়ার আশংকার কোনো হিসেব না করেই তিনি ‘শহিদ মিনার’ নির্মাণের জন্য হাত বাড়িয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে শহিদ মিনার একাধিকবার ভাংচুর হলেও ২৩শে ফেব্রুয়ারি নির্মিত সেই শহিদ মিনারই ছিল শহিদদের স্মৃতি জাগরূক রাখার প্রথম প্ৰয়াস। পিয়ারু সরদারের সাহায্য ছাড়া তা নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না।
ঢাকার জনগণ, বিশেষত পুরান ঢাকার জনগণ যেভাবে ভাষা-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। জনগণের মনে মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া তাদের ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কাৰ্যকলাপের বিরুদ্ধে হয়েছিল পুরাণ ঢাকার জনগনের ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া ছিল তারই ব্যারোমিটার। প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারি মাস ও একুশে ফেব্রুয়ারি এলে নিজের কীর্তিকলাপ নিয়ে স্মৃতিচারণের নামে টেড়ি পেটাবার লোকের অভাব হয় না। তিলকে তাল করতে তাদের কোনো বিবেক দংশন হয় না। কিন্তু পুরান ঢাকার বাসিন্দারা যেভাবে ব্যাপক আকারে ভাষা-আন্দোলনের পক্ষে দাড়িয়েছিলেন ও সাহায্য করেছিলেন তার উল্লেখ ও স্বীকৃতি তাদের মধ্যে বিশেষ দেখা যায় না।

ভাষাসংগ্ৰামী
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com