সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Orhan Pamuk. Show all posts
Showing posts with label Orhan Pamuk. Show all posts

আপনি কার জন্য লেখেন? - ওরহান পামুক

আপনি কার জন্য লেখেন? - ওরহান পামুক আপনি কার জন্য লেখেন?
ওরহান পামুক
আপনি কার জন্য লেখেন? প্রায় ত্রিশ বছর ধরে, যখন থেকে আমি লিখতে শুরু করি সেই সময় থেকে, এই একই প্রশ্ন বার বার শুনতে হয়েছে আমাকে। সবচেয়ে বেশিবার আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন আমার পাঠক আর সাংবাদিক আমি এই প্রশ্ন সব চাইতে বেশি শুনেছি আমার পাঠক আর সাংবাদিকদের কাছ থেকে। এর উদ্দেশ্য নির্ভর করে স্থান ও কালের উপর, তাদের কৌতুহলের মাত্রাও নির্ভর করে তার উপর, কিন্তু তাদের সকলের প্রশ্নের মধ্যে একটা সন্দিগ্ধ, উন্নাসিক ও অবজ্ঞার সুর ফুটে ওঠে।
সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, আমি যখন প্রথম ঔপন্যাসিক হবার সিদ্ধান্ত নিই তখন এই প্রশ্নের মধ্যে অবজ্ঞা ও উন্নাসিকতা ধরা পড়তো, একটা গরিব অ-পাশ্চাত্য দেশ যে আধুনিক হবার জন্য সংগ্রাম করছে তার জন্য শিল্প সাহিত্যের চর্চা একটা বিলাসিতা, এই বিলাসিতাকে প্রশ্ৰয় দেয়ার সামর্থ্য তার নাই। এর মধ্যে আরেকটা ইঙ্গিতও ছিল, “তোমার মতো একজন শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষ” তার দেশকে আরও বেশি ভালো ভাবে সেবা করতে সক্ষম হবে যদি সে ডাক্তার হয়ে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে কিংবা প্রকৌশলী হয়ে সেতু নির্মাণ করে। (জঁ পল সাৎর ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে তার এক মন্তব্য দ্বারা এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা এনে দেন। তিনি বলেন, তিনি যদি বায়াফ্রার একজন বুদ্ধিজীবী হতেন তাহলে তিনি নিজেকে উপন্যাস রচনার কাজে নিয়োজিত রাখতেন না ।)
পরবর্তী বছরগুলিতে প্রশ্নকর্তারা আরেকটি বিষয় জানতে বেশি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। সমাজের কোন অংশ আমার লেখা পড়বে এবং পড়ে মুগ্ধ হবে বলে আমি আশা করি? আমি বুঝতে পারি যে এটা একটা চতুর কুটিলতাপূর্ণ প্রশ্ন, কারণ আমি যদি “সমাজের সব চাইতে দরিদ্র ও পদদলিত মানুষদের জন্য লিখি” একথা না বলি তখনই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে যে আমি তুরস্কের ভূস্বামী ও বুর্জোয়াদের স্বার্থ রক্ষা করছি, একই সঙ্গে আমাকে এটাও স্মরণ করিয়ে দেয়া হবে, পবিত্রচিত্ত ও সহৃদয় যে-লেখক দাবী করবেন যে তিনি কৃষক, শ্রমিক ও অভাবী জনগণের জন্য লেখেন তিনি আসলে তাদের জন্য লিখছেন যারা প্রায় পড়া-লেখাই জানে না। ১৯৭০-এর দশকে আমার মা যখন তার বিষন্ন ও চিন্তিত কণ্ঠে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন আমি কাদের জন্য লিখছি, তখন তিনি আসলে জিজ্ঞাসা করতেন, আমি কীভাবে আমার আত্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো? আর আমার বন্ধুবান্ধবরা যখন জিজ্ঞাসা করতো আমি কাদের জন্য লিখি, তখন তাদের গলায় যে ঠাট্টার সুর ফুটে উঠতো তা পরিষ্কার বলে দিতো যে তাদের বিবেচনায় আমার মতো একজন লোকের লেখা কোনো বই পড়বার ইচ্ছা কারো মনে কখনো জাগবে না |
ত্রিশ বছর পর এখন আমি এই প্রশ্ন আগের চাইতে বেশি ঘন ঘন শুনি। এর একটা কারণ সম্ভবত এই যে আমার উপন্যাসগুলি চল্লিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। গত দশ বছরে অনেকে আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন, তারা হয়তো মনে করেন যে আমি তাদের কথা ভুল ভাবে গ্রহণ করতে পারি, তাই তারা প্রায়ই একটা কথা যোগ করেন, “আপনি তো তুর্কি ভাষায় লেখেন, তাহলে আপনি কি শুধু তুর্কিদের জন্য লেখেন, নাকি অনুবাদের মাধ্যমে আপনার লেখা যে বৃহত্তর পাঠকগোষ্ঠীর কাছে পৌছে যাচ্ছে তাদের কথাও ভেবে লেখেন?” তুরস্কের ভেতরে অথবা বাইরে যেখানেই আমরা কথা বলি, এই প্রশ্নের সঙ্গে সর্বদা যুক্ত থাকে ওই একই সন্দিগ্ধ ও অবজ্ঞামাখানো হাসি, যার ফলে আমি যদি আমার লেখাকে যথার্থ ও অকৃত্রিম বলে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত করাতে চাই তাহলে আমাকে বলতেই হবে, “আমি একমাত্র তুর্কিদের জন্যই লিখি।"
এই প্রশ্নটি পরীক্ষা করে দেখার আগে, কারণ এটা সৎও নয়, মানবিকও নয়, আমাদের স্মরণ রাখা দরকার যে উপন্যাসের উদ্ভব হয় জাতি-রাষ্ট্রের উদ্ভবের সঙ্গে, একই সময়ে । উনবিংশ শতকের মহান উপন্যাসগুলি যখন রচিত হয় তখন উপন্যাসের শিল্পকলা ছিল একান্ত ও সর্বোতভাবে একটি জাতীয় শিল্পকলা । ডিকেন্স, দস্তয়েভস্কি এবং টলষ্টয় একটি উত্থানরত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য লেখেন, তারা তাদের জাতীয় লেখকের রচনায় পরিবেশিত প্রতিটি রাস্তা, বাড়ি, ঘর এবং আরামকেদারা শনাক্ত করতে পারে। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণী বাস্তব জীবন ও ধারণাবলী নিয়ে যে রকম সানন্দ আলোচনায় মগ্ন হতো তাদের জাতীয় লেখকদের রচনা নিয়েও অনুরূপ আলোচনায় মগ্ন হতো। উনবিংশ শতকে গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের উপন্যাস প্রথমে জাতীয় সংবাদপত্রগুলির শিল্প-সাহিত্যের ক্রোড়পত্রে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতো, কারণ তাদের লেখকরা একটা জাতির কাছেই তাদের কথা বলতেন। তাদের বর্ণনামূলক কণ্ঠস্বরের মধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশপ্রেমিকের একটা গভীর অস্বস্তির সুর শুনতে পাই, যে দেশপ্রেমিকের ঐকান্তিক কামনা তার দেশ যেন উন্নতির পথে অগ্রসর হয়। উনবিংশ শতকের শেষ নাগাদ উপন্যাস রচনা করা ও পড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে একটা জাতীয় আলোচনায় যোগদানের ব্যাপার হয়ে ওঠে।
কিন্তু বর্তমানে উপন্যাস রচনা একটা সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ পরিগ্রহণ করেছে। সাহিত্যিক উপন্যাস পাঠের ক্ষেত্রেও একই জিনিস ঘটেছে। প্রথম পরিবর্তন দেখা যায় বিংশ শতকের প্রথমার্ধে, যখন আধুনিকতার সঙ্গে সাহিত্যিক উপন্যাসের যোগাযোগের কারণে তা উচ্চ শিল্পকলার মর্যাদা লাভ করে । তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে গত ত্রিশ বছরে যে বিশাল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তার প্রভাবও হয় তাৎপর্যপূর্ণ। পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে লেখক এখন আর স্বদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উদ্দেশে লেখেন না, “সাহিত্যিক উপন্যাস”-এর লেখকরা এখন সারা বিশ্বের পাঠকদের কথা মাথায় রেখে লেখেন। এক সময় পাঠকবর্গ ব্যগ্রভাবে ডিকেন্সের একটা নতুন লেখার জন্য অপেক্ষা করতেন, শেষ সংবাদ শোনার মতো ব্যগ্রতা নিয়ে, এখন বর্তমান সময়ের সাহিত্যিক পাঠকরা একই রকম ব্যগ্রতা নিয়ে গার্সিয়া মার্কেজ, কুদসিয়া অথবা পল অস্টারের নতুন বই-এর জন্য অপেক্ষা করে। সাহিত্যিক ঔপন্যাসিকদের এই সম্মিলিত বিশ্বপাঠক দলের সংখ্যা তাদের স্বদেশের পাঠকবর্গের চাইতে অনেক বেশি ।
লেখকরা কাদের জন্য লেখেন, আমরা যদি এই প্রশ্নকে সাধারণীকরণ করি তাহলে হয়তো আমরা বলতে পারি যে তারা লেখেন তাদের আদর্শ পাঠকদের জন্য, তাদের প্রিয় মানুষদের জন্য, তাদের নিজেদের জন্য, অথবা কারও জন্যই নয়। এটা সত্য কিন্তু সামগ্রিক সত্য নয়। কারণ বর্তমান কালের সাহিত্যিক লেখকরা তাদের জন্যও লেখেন যারা তাদের লেখা পড়ে। এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে বর্তমানের কালের সাহিত্যিক লেখকরা ক্রমেই তাদের স্বদেশের অধিকাংশ মানুষদের জন্য (যারা তাদের লেখা পড়ে না) কম লিখছেন, এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংখ্যালঘু পাঠক গোষ্ঠীর জন্য, যারা তাদের লেখা পড়ে, তাদের জন্যই বেশি লিখেছেন। সেজন্যই এই পরিস্থিতি : এই সবই লেখকের প্রকৃত অভিপ্রায় সম্পর্কে সন্দেহ এবং নানা রকম খোচা দেয়া প্রশ্ন এবং বিগত ত্রিশ বছর ধরে এই যে নতুন সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে তা নিয়ে অস্বস্তির কারণ |
অ-পাশ্চাত্য দেশগুলির সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং মতবাদ তৈরিকারীরা এই পরিস্থিতি দ্বারা সব চাইতে বেশি বিচলিত হয়। পৃথিবীতে নিজেদের অবস্থান অনিচ্ছুক, তাদের ইতিহাসের কালো দিকগুলি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কোনোরকম আলোচনা করতে চায় না । যেসব ঔপন্যাসিক ইতিহাস এবং জাতীয়তাবাদকে অজাতীয়তাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তাদের সম্পর্কে এরা আবশ্যিক ভাবে সন্দেহ পোষণ করে। এরা মনে করে, যে-ঔপন্যাসিকরা জাতীয় শ্ৰোতৃবর্গের জন্য লেখেন না, তারা বিদেশিদের ভোগের জন্য নিজেদের দেশকে অদ্ভুত ও বিচিত্র সজ্জায় সজ্জিত করে পরিবেশন করে এবং যে সব সমস্যার বাস্তবে কোনো উপস্থিতি নেই তা উদ্ভাবন করে। পাশ্চাত্যে এরই সমান্তরাল একটা সন্দেহ আছে। তাদের অনেকের মতে স্থানীয় সাহিত্যের স্থানীয় চারিত্র্য বজায় রাখা উচিত, শিকড়ের প্রতি তার নির্ভেজাল আনুগত্য অক্ষুন্ন রাখা উচিত। তাদের গোপন আশঙ্কা নিজের সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বাইরে থেকে শক্তি সংগ্রহ করে একজন যদি “বিশ্ব” লেখক হয়ে ওঠেন তাহলে তিনি তার অকৃত্রিমতা বিসর্জন দেবেন। এই আশঙ্কা যাকে সব চাইতে বেশি পীড়া দেয় তিনি হলেন সেই পাঠক তিনি একটা বই-এর মাধ্যমে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটা বিদেশে প্রবেশ করার জন্য এবং সে-দেশের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া-বিবাদ প্রত্যক্ষ করার জন্য ব্যগ্র হয়ে থাকেন, প্রতিবেশীর পারিবারিক ঝগড়াঝাটি দেখার জন্য আমরা অনেকে যেমন ব্যগ্র হয়ে থাকি অনেকটা সেই ভাবে। একজন লেখক যদি অন্য সংস্কৃতির এবং অন্য ভাষাভাষী মানুষের উদ্দেশে তার কথাগুলি বলেন তাহলে ওই মায়াকল্পনাও ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
একজন লেখকের অন্তরের গভীরে অকৃত্রিম হবার একটা প্রবল আকুতি থাকে। সেজন্যই, এত বছর পরেও, আমি একটা প্রশ্ন শুনতে ভালোবাসি ; আমি কার জন্য লিখি; তবে একজন লেখকের অকৃত্রিমতার বিষয়টি তিনি যে-জগতে বাস করছেন সেই জগতের সঙ্গে নিজেকে বিজড়িত করবার ক্ষমতার উপর যেমন নির্ভর করে তেমনি ওই জগতে তার নিজের পরিবর্তিত অবস্থানটি বুঝবার ক্ষমতার উপরও নির্ভর করে । একজন আদর্শ ঔপন্যাসিক বলে যেমন কোনো জিনিস নাই তেমনি সামাজিক বাধানিষেধ ও জাতীয় পুরাণকথা থেকে ভারমুক্ত কোনো আদর্শ পাঠকও নাই। কিন্তু, তিনি জাতীয় হন বা আন্তর্জাতিক হন, সকল ঔপন্যাসিকই একজন আদর্শ পাঠকের জন্য লেখেন, প্রথমে নিজের কল্পনার সাহায্যে তিনি ওই পাঠকের অস্তিত্ব নির্মাণ করেন এবং পরে নিজের মনের মধ্যে তাকে ধারণ করে তার গ্রন্থগুলি রচনা করেন।
অনুবাদঃ কবীর চৌধুরী।
Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ইস্তাম্বুল - ওরহান পামুক

amarboi.comইস্তাম্বুল - ওরহান পামুক
ইস্তাম্বুল মানেই সে গৌরবময় শহরের ইতিকথা, ইস্তাম্বুল মানেই অটোমান রাজ্যের গর্বিত এক নগরের নাম, ইস্তাম্বুল মানেই কোন এক সভ্যতার চোরাবালিতে ভাঙা ইট কাঠের দেয়ালের উপর দাঁড়িয়ে থাকা পুরাতন একটা শহরের ইতিবৃত্ত, ইস্তাম্বুল মানেই এক গর্বিত অস্তিত্বের ঠিকানা, আনন্দময় বিষাদেভরা এক তুর্কি লেখকের অনন্য আত্মকথন। পামুক ইস্তাম্বুলের সেই গৌরবগাঁথাকেই এক চুমুকে তুলে এনেছেন তার বিখ্যাত স্মৃতিগ্রন্থ ‘ইস্তাম্বুল’-এ।
Download Now
Istanbul - Orhan Pamuk Bangla Onubad in pdf
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তুষার - ওরহান পামুক, অনুবাদ শওকত হোসেন

Snow by Orhan Pamuk Translated by Saokot Hossain in pdfতুষার - ওরহান পামুক, অনুবাদ শওকত হোসেন
Download
Snow by Orhan Pamuk Translated by Saokot Hossain in pdf
New scanned, file size 20 MB.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাই নেম ইজ রেড - ওরহান পামুক

amarboi.com
বুক রিভিউ

মাই নেম ইজ রেড - ওরহান পামুক
ফারুক ওয়াসিফ

খুন হয়েছে, লাশটি পড়ে আছে কুয়োর তলায়। কথা শুরু তারই জবানিতে, ‘আমি এখন একটি লাশ ছাড়া আর কিছু নই’।
ওদিকে শাদা ঘোড়ায় চড়ে নিজের শহরে ফিরছে এক মুসাফির শিল্পী। বিরহজ্বালায় পৃথিবীর পথে পথে অনেক ঘুরেছে সে। ডাক এসেছে, তাই ফেরা, কিন্তু কার কাছে? চাচা এনিশতে এফেন্দি শিল্পগুরু। তাঁর বাড়িতেই জায়গির থেকে শিখত রং-রেখার শিল্প। শিরিন ও ফরহাদের ছবি আঁকার সময় মনে ভাসতো চাচাতো বোন শেকুরের মোহময়ী মুখ। কিন্তু সে যে বড্ড দেমাগি! প্রত্যাখ্যানের অপমানে ইস্তাম্বুল ছাড়া সেই তরুণ দশ বছর পর ফিরে এসে বলবে: ‘মাই নেম ইজ ব্ল্যাক’।
মহামান্য সুলতানের হুকুমে ওস্তাদ এনিশতে এফেন্দি এক মহাগ্রন্থ সৃজন করছেন। ব্ল্যাক হবে সেই বইটির পাঁচ শিল্পীর একজন। পুরো বইটি সম্পর্কে জানেন একমাত্র এনিশতে। যতই কাছে আসে নিষিদ্ধ গ্রন্থটির, ততই ব্ল্যাকের মনে বলক দিয়ে ওঠে সেই নিষিদ্ধ প্রেম। শেকুর এখন ভরযুবতী, বহুদিন হলো স্বামী যুদ্ধে নিখোঁজ। দেবর হাসানের বাসনায় ভীতা সে ফিরে আসে বাবার গৃহে। সে রকম এক দিনে জানালার ফাঁক দিয়ে সে দেখে, ডালিমগাছের তলা দিয়ে যাচ্ছে তার বাল্যপ্রেমিক; এই প্রথম চোখের দেখা পেল চোখ। কিন্তু নিজের মনের খবর কি জানে শেকুর? স্বপ্নবান ব্ল্যাক নাকি গোঁয়ারগুণ্ডা হাসান, কাকে চায় সে?
এ রকম এক দিনেই খুন হয় অলিভ। সুলতানের নির্দেশ, হিজরি সনের সহস্রবর্ষপূর্তিতে প্রকাশিত হবে বইটি। সৌন্দর্যে হবে ফিরদৌসীর শাহনামার সমকক্ষ। রক্ষণশীল অভিজাত মহলের আড়ালে, নিষিদ্ধ ইউরোপীয় শৈলীতে অঙ্কিত হবে প্রতিটি পৃষ্ঠা। এনিশতের তত্ত্বাবধানে আঁকবেন ইস্তাম্বুলের সেরা পাঁচ শিল্পী। তাদের সাংকেতিক নামই কেবল জানব: ব্ল্যাক বা কৃষ্ণ, রেড বা রক্তিম, বাটারফ্লাই বা প্রজাপতি, স্টর্ক বা সারস এবং অলিভ বা জলপাই। অলিভের খুনী হয়তো এদেরই একজন। গুঞ্জন রটে, কুফরি ইউরোপীয় ঢংয়ে আঁকার পাপে কিংবা সেই পাপ ঠেকানোই এই খুনের হেতু। এতদিন ইসলামী প্রাচ্যের শিল্পীরা বাস্তবের প্রতিচ্ছবি নয়, খোদার দৃষ্টির প্রতিফলনই ঘটাতে চাইতেন তাঁদের অনুশিল্পকর্মে (মিনিয়েচার আর্ট)।
দৃষ্টিটা মনের, চোখের নয়। বাস্তবের চরিত্র বা উপাদান নয়, খোদার সৃষ্টির বিশুদ্ধ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলাই তাদের সাধনা। কিন্তু সুলতান চান দুনিয়া তাঁর বাস্তব কীর্তি জানুক, বিশেষত প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপ জানুক তাঁর গরিমা। এবং সেটা ইউরোপীয় শৈলীতেই সম্ভব। সাবেকি মন এটা মানবে কেন?
ব্ল্যাকের প্রেমের কাঁটাও এই সনাতন প্রথা। শেকুরকে বিয়ে করতে হলে ব্ল্যাককে প্রমাণ করতে হবে, তার স্বামী যুদ্ধে নিহত। নইলে নিরস্ত হবে না হাসান। উত্তেজনা ঘন হয়ে এলে ঘটে দ্বিতীয় খুন। এবারের শিকার ওস্তাদ এনিশতে স্বয়ং। হাসানের সঙ্গে ব্ল্যাকের দ্বন্দ্ব এভাবে ঢুকে যায় ইসলামি বনাম ফ্রাঙ্কিশ তথা ইউরোপীয় সংস্কৃতির রেষারেষির মধ্যে। শিল্পের দুই ধারার নামে মুখোমুখি হয় সভ্যতার দুই নিরিখ, জীবনের দুই আদল, ইতিহাসের দুটি স্রোতোধারা। এভাবে ষোল শতকের পটভূমিতে ঘটতে দেখি ‘সভ্যতার সংঘাত’।
কিন্তু স্বামীহারা শেকুরকে কি পাবে ব্ল্যাক? জানা যাবে কি অলিভ ও এনিশতের খুনী কে? কিংবা শেষ হবে কি সেই মহাগ্রন্থ সৃজন? বাইরে থেকে ইউরোপের চাপ, ভেতরে রক্ষণশীলদের উত্থানের দোলাচলে কোন পথে যাবে ইসলামী দুনিয়ার নেতা তুর্কি সুলানাতাত? এই ঐতিহাসিক পটেই তুর্কি ঔপন্যাসিক অরহান পামুক দাঁড় করান তাঁর মানবিক চরিত্রদের।
ছিল প্রেমকাহিনী, হয়ে দাঁড়াল আলো-আঁধারি রহস্যকাহিনী, আসলে তা মানবাত্মার ইতিহাসও। কিন্তু এ তো আজকের দুনিয়ারই গল্প। সেটাই হয়তো পামুকের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার (২০০৬) পাওয়ার কার্যকারণ। কিন্তু ইতিহাস, শিল্প সব ছাপিয়ে শোনা যায় চিরায়ত মানব-মানবীর বুকের ধুকপুক। তাই কেন এই খুন, তার থেকে বড় হয়ে ওঠে খুনি কে, এই প্রশ্ন।
পামুক অভিনব। কুয়োর হিমগহ্বরে পড়ে থাকা লাশের গল্পটা কেড়ে নিয়ে একজন বলতে শুরু করে, ‘মাই নেম ইজ রেড’। তার কথা শেষ হতে না হতেই, গল্পের লাগাম টেনে নেয় দেওয়ালে ঝোলানো ছবির একটি কুকুর বা ফলে ভরা ডালিমগাছ। আবার ফিরে আসে অলিভের লাশ। দাফনকাফনের শেষে তার দেহছাড়া আত্মার উড়ালসঙ্গী হয়ে আমরাও পাখির চোখে দেখতে পাই তুর্কি সালতানাতের রাজধানী ইস্তাম্বুলের অপূর্ব স্থাপত্য, নদী, সেতু, লোকালয়: ওই যে সুলতানের প্রাসাদ, ওই বসফরাস সমুদ্র, ওই মসজিদের সরু মিনার। কথা বলা শুরু করে সেই বৃদ্ধা ইহুদি ফেরিওয়ালি, আয়না ও সিল্কের রুমাল বিক্রি করার ছলে কুমারী কিংবা বিবাহিতা মেয়েদের মনের আনচান আবিষ্কার করাই যার পেশা ও নেশা। সে-ই আবার তাদের চিঠি চালাচালির দূতীয়ালি। ওদিকে মধ্যরাতে কফিখানায় কিংবা দরবেশের আস্তানায় গল্প শোনায় এক ভ্রাম্যমাণ কথক, একটু পরেই মোল্লাদের হামলায় যে নিহত হবে। এদিকে খোজা প্রহরীর পিছু পিছু আমরা ঢুকে পড়ি ইসলামের খলিফার মহাফেজখানার রহস্যময় আঁধারে। অনুচিত্রকলায় যেমন বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন করানো হয়, তেমনি মাই নেম ইজ রেডও কাহিনীর পরতে পরতে, আখ্যানের দানার পর দানায় জীবন্ত করে তোলে এক অদেখা মানবজমিন।
মাই নেম ইজ রেড এক সন্ধিক্ষণের গল্প, যখন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য মিলন ও সংঘাতে পরস্পরকে বদলে দিচ্ছিল। যখন সময় হঠাৎ দৌড়াতে শুরু করেছে আর টান পড়ছে আত্মায়। এসব কিছুর মধ্যেও কান পাতলে শোনা যাবে তুচ্ছ সাধারণ মানুষের হূদস্পন্দন—মাই নেম ইজ রেড তারই কথাচিত্রলেখা।
ভাষায় ও গল্প বলায় পামুক সতর্ক, তুখোড় ও বিশদ। মনে হবে পড়ছেন তুর্কি-পারস্য প্রেমলীলার মহাকাব্যগুলো, জানছেন প্রাচ্যের লুপ্ত চিত্রকলার দর্শন ও তার কিংবদন্তীর শিল্পগুরুদের কথা। সবই নাহয় হলো, কিন্তু কী আছে পথের শেষে? এই প্রশ্ন উপন্যাসের পাঠককে শেষ বাক্যের শেষ শব্দটার দিকে ইউলিসিসের সাইরেন ডাকিনীর মতো হাতছানি দিয়ে ডাকে। এমনকি এই আকাঙ্ক্ষাও আপনাকে পেয়ে বসতে পারে, বিপজ্জনক বইটির সব ছবি আঁকা শেষ হোক, খুনি ব্ল্যাক বা রেড বা স্টর্ক বা বাটারফ্লাই যে-ই হোক, তারা তো শিল্পীই শেষপর্যন্ত। একবারের জন্য হলেও বিরহী মুসাফির ব্ল্যাক পাক তার শেকুরকে। কিন্তু শেকুর কি এখনো সেই ছলনাময়ী নয়? নইলে কেন সে ব্ল্যাককে পাঠায় দুর্ধর্ষ হাসানের বিরুদ্ধে, কেন সে বাবার খুনীকে চিহ্নিত করা ছাড়া তার বুকে ধরা দেবে না বলে শর্তের ফাঁদ পাতে? পাঠিকা চঞ্চল হবেন, পাঠক হয়তো উপন্যাসের লম্বা সফরে ক্লান্তও হবেন। উপন্যাস এক বিষন্ন শিল্প, শেষ পৃষ্ঠায় তারই প্রমাণ। আর প্রেম ও শিল্পের হাতে নিহতদের খুনের রংতো লালই হবে চিরটাকাল। তারপরও একটা খেদ রয়ে যাবে মনে; হায় এই প্রেম, আহা এ জীবন! কেন যে কেন যে, তবু!

আপনাদের সহযোগীতা আমাদের একান্ত কাম্য। তাই যদি বইটি ভালো লেগে থাকে তাহলে দুচার লাইন লিখে আপনার অভিমতগুলো জানিয়ে রাখুন আমাদের কমেন্টস বক্সগুলোতে। বন্ধু-বান্ধবদের বলুন এই সাইটটির কথা। আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমরা আরও অনেক বই নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারবো। ধন্যবাদ।

Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. My Name is Red - Orhan Pamuk, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com