সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label ebooks. Show all posts
Showing posts with label ebooks. Show all posts

সেরা গোয়েন্দা গল্প - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi

সেরা গোয়েন্দা গল্প
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি? - তসলিমা নাসরিন

amarboi.com
বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি? - তসলিমা নাসরিন

পাঠক তসলিমা নাসরিন এর এই লেখাটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত আশা করছি।

মানুষ বিয়ে করে কেন? নির্বিঘ্নে যৌন সম্পর্ক করা, সন্তান জন্ম দেওয়া-–এর জন্য বিয়ের তো দরকার নেই! মানুষ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে বিয়ের কোনও রীতি নেই, অথচ দিব্যি তারা একত্রবাস করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, সন্তানকে খেটে খুটে বড় করছে। পরস্পরেরর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্যও বিয়েটা জরুরি নয়। অনেক প্রাণী আছে যারা যৌবনের শুরুতে যে সঙ্গী বেছে নেয়, সেই সঙ্গী নিয়েই দিব্যি সুখে শান্তিতে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়। অন্য কারও জন্য লোভ করে না, কাউকে নিয়ে আবার নতুন সংসার পাতার কোনও স্বপ্ন আর দেখে না। অবিশ্বাস্যরকম বিশ্বস্ত, একগামী। যত দূরেই যাক, যত সমুদ্রই পেরোক, যত বয়সই বাড়ুক, ঘরে ফিরে পুরোনো সেই সঙ্গীকেই চুমু খায়, তার বুকেই মাথাটা রাখে। পরকীয়া কাকে বলে, বহুগামিতা কাকে বলে, বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে জানেই না। অ্যালবাট্রোস, রাজহাঁস, কালো শকুন, ন্যাড়া ঈগল, টার্টল পায়রা, ডিক-ডিক হরিণ, বনেটমাথা হাঙ্গর, গিবন, ফ্রেঞ্চ এঞ্জেলফিস, ছাইরঙা নেকড়ে, প্রেইরি ভোল--এদের কথা বলছি।

মানুষ তো বিয়ে করে একসঙ্গে সুখে শান্তিতে সারা জীবন কাটানোর জন্য কিন্তু ক’জন পারে, শুনি? বেশির ভাগের বিয়েই হয় ভেঙে যায়, অথবা টিকে থাকলেও ভালোবাসাহীন টিকে থাকে। টিকিয়ে রাখতে হয় সন্তানের অসুবিধে হবে বা অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে, বা লোকে কী বলবে ভয়ে। এভাবে টিকে থাকাকে ঠিক টিকে থাকা বলে না। ঘরে স্ত্রী রেখে বা স্বামী রেখে দিব্যি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে মানুষ। সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়, আবার নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মানুষ ন্যাড়া ঈগল নয়, বা কালো শকুন নয়। একগামিতা মানুষের চরিত্রে নেই। মানুষ বহুগামী। মানুষ বহুগামী, এও কিন্তু হলফ করে বলা যায় না। মানুষ আসলে জটিল এবং বিচিত্র। একগামী, বহুগামী, অসমকামী, সমকামী, উভকামী-- মানুষ অনেক কিছুই। নতুন কিছুতে অভ্যস্ত হতে, পুরোনো স্বভাব পাল্টাতেও মানুষের জুড়ি নেই।



প্রায় সব ধর্মই বিয়েকে পুরুষ আর নারীর ‘পবিত্র মিলন’ বলে ঘোষণা করেছে। ঈশ্বরই নাকি আগে থেকে সঙ্গী নির্বাচন করে রাখেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর যা কিছু ঘটুক, বিচ্ছেদ যেন না ঘটে, ঈশ্বর সতর্ক করে দিয়েছেন। তাতে কী! প্রচণ্ড ঈশ্বর ভক্তরাও ঈশ্বরের এই উপদেশ আজকাল আর মানেন না। ঈশ্বরের নির্বাচিত সঙ্গীকে দিব্যি তালাক দিয়ে নিজে সঙ্গী নির্বাচন করেন। ‘ম্যাচমেকার’ হিসেবে ঈশ্বর পুরো মার খেয়ে গেছেন, এ খবর কে না জানে! প্রায় সব ধর্মই বিয়েতে নাক গলিয়েছে। বয়স, লিঙ্গ, জাত, বিশ্বাস কী হওয়া চাই, স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য এবং দায়িত্বই বা কী হওয়া উচিত--এ নিয়ে বিস্তর উপদেশ দিয়েছে, কঠোর কঠোর নিয়মও তৈরি করেছে। বিয়ে যদিও ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু ধরে বেঁধে একে সামাজিক করে ফেলা হয়েছে। পুরুষদের না করা হলেও মেয়েদের করা হয়েছে সামাজিক সম্পত্তি। বিয়ের আগে মেয়েটা কারও সঙ্গে প্রেম করেছে কি না, ঠিকঠাক কুমারী ছিল কি না, বিয়ের পর স্বামী ছাড়া আর কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে কি না, কার সঙ্গে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে, কখন ফিরছে, বাইরের কোনও পুরুষলোক বাড়িতে ঢুকেছে কি না, এসব শুধু বাড়ির নয়, বাড়ির বাইরের লোকও লক্ষ রাখছে। সমাজের দশটা লোক দেখছে বলেই পান থেকে চুন খসলে মেয়েদের নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে পারে না বাবারা, ভাইয়েরা, কাকারা। মেয়েদের খুন করে পরিবারেরর ‘সম্মান’ রক্ষা করে।



সভ্য শিক্ষিত বিশ্ব থেকে বিয়ে প্রায় উঠে যাচ্ছে। কিছু লোক অবশ্য করছে বিয়ে! এভারেস্টটা আছে বলে যেমন অনেকে এভারেস্টে চড়ে, বিয়েটা আছে বলেই অনেকে বিয়েটা করে। বিয়ের চল চলে গেলে আর করবে না। যে প্রথা চলছে, অধিকাংশ লোক সেই প্রথাকেই চালিয়ে নিয়ে যায়। আর, যার প্রচলন নেই, তাকে চালু করতে খুব অল্প ক’জনই উদ্যোগ নেয়। অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে না করেও দিব্যি সংসার করছে বছরের পর বছর। বিয়ে না করেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে। বিয়ের পিতৃতান্ত্রিক চরিত্র নিয়ে বিস্তর হাসাঠাট্টা করছে। কিন্তু ধর্ম যেমন মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ার পরও টিকে আছে, বিয়েটাও ওই ধর্মের মতোই। যুক্তিহীন, কিন্তু টিকে আছে। কুসংস্কার যেমন হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকে! তবে ওরা ধীরে ধীরে বিলুপ্তও হয়ে যায় বটে। বিয়েরও বিলুপ্তি ঘটবে। উত্তর- ইওরোপের দেশগুলোয় বিয়ে করার পেছনে গোপন একটি কারণও অবশ্য আছে, বিয়ে করলে ট্যাক্স কম দিতে হয়, সন্তানাদি পোষার খরচ সব রাষ্ট্রই দেয়। মানুষ বিয়ে করছে না, বাচ্চাকাচ্চাতেও খুব একটা কারওর উৎসাহ নেই, বিয়ের প্রথাটি ভেঙে গেলে সন্তান উৎপাদন যে হারে কমছে, সেটি আরও কমে যাবে, উত্তর-ইওরোপীয়দের অস্বিস্ত্বই ভবিষ্যতে থাকবে না, এই ভয়ে বিয়েতে উৎসাহ দিতে জনগণের নাকের ডগায় ট্যাক্স কমানোর মুলো ঝুলিয়েছে সরকার। সুযোগ সুবিধের আশায় বিয়ে করছে বটে কিছু লোক, তবে বেশির ভাগ লোকই হয় একা থাকে, নয়তো বিনে-বিয়ে’য় একত্রবাস করে।

ষাট দশকের শেষ দিকে সমাজের বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ বেরিয়ে এসেছিল পুরোনো রাজনীতি আর পুরোনো সমাজব্যবস্থা আমূল পাল্টে ফেলতে। ভালো মেয়ে হতে হলে কৌমার্য, সতীত্ব, মাতৃত্ব ইত্যাদি বজায় রাখতে হয় -- পুরোনো এই ধারণাটির গায়েও কুড়োল বসিয়েছিল। রীতিমত বিয়ে করাই বন্ধ করে দিয়েছিল সেদিনকার হিপিরা। অনেকে একবাড়িতে বাস করতো, সবার সঙ্গে সবারই সেক্স হত, বাচ্চাকাচ্চা হলে সবাই মিলে দেখাশোনা করতো। সেই ‘কমিউন’ জীবন বেশি বছর টেকেনি। হিপিরা জয়ী হলে আজ বিয়েটা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেতো, সমাজে নয়।

অনেক কবি সাহিত্যিক দার্শনিক বিয়ে সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, বিয়েটা যে অনর্থক একটা জিনিস, তা বেশ কায়দা করে বুঝিয়েও দিয়েছেন। ‘নিজের বিয়েয় আর অন্তেষ্টিক্রিয়ায় পার্থক্য একটাই, বিয়ের ফুলগুলোর গন্ধ পেতে পারো, আর অন্তেষ্টির ফুলগুলোর পারো না’। অস্কার ওয়াল্ড বলতেন, ‘সবসময় প্রেম ভালোবাসায় ডুবে থাকা উচিত। সে কারণেই কখনও বিয়ে করা উচিত নয়’। ক্যাথারিন হেপবার্ন সে আমলেও নারী পুরুষের এক বাড়িতে বাস করার পক্ষে ছিলেন না। বলেছিলেন, ‘একটা নারী আর একটা পুরুষ পরষ্পরের সব কিছু পছন্দ করছে? যদি এরকম ঘটনা ঘটেই থাকে, তবে সবচেয়ে ভালো হয় তারা যদি একই পাড়ায় থাকে, মাঝে মাঝেই দেখা হবে!’ এও বলেছিলেন, ‘একটা লোক অপছন্দ করবে বলে যদি অনেক পুরুষের প্রেমকে তুচ্ছ করতে চাও ,তা হলে যাও, গিয়ে বিয়ে করো’। সুন্দর কিছু মন্তব্য করেছেন ক’জন ব্যাক্তিত্ব। ‘বিয়েটা চমৎকার আবিস্কার, ঠিক যেমন সাইকেল মেরামত করার যন্ত্রটাও চমৎকার আবিস্কার’। ‘বিয়েটা একটা খাঁচা, খাঁচার বাইরের লোকেরা খাঁচায় ঢোকার জন্য ব্যাকুল, আর খাঁচার ভেতরের লোকেরা খাঁচা থেকে বেরোবার জন্য ব্যাকুল’। ‘বিয়েটা শুধু তাদের জন্য ভালো, যারা একা ঘুমোতে ভয় পায়’। সব মন্তব্যই বিয়ের বিপক্ষে নয়। পক্ষেও কিছু মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। যেমন, ‘যদি এমন কোনও ধনকুবের পুরুষের দেখা পাই, যে প্রতিজ্ঞা করবে তার সহায় সম্পত্তির অর্ধেকটা আমায় লিখে দেবে, লিখে দিয়ে এক বছরের মধ্যে মরে যাবে, তবে তাকে আমি নিশ্চয়ই বিয়ে করবো’। অন্য আরও ক’জন বলেছেন, ‘বিয়েটা চমৎকার ইনস্টিটিউশন। কিন্তু কে চায় ইনস্টিটিউশনে বাস করতে?’ ‘প্রেমিকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোটা উপড়ে তুলে নিলে যেটা পড়ে থাকে, সেটা স্বামী’। ‘বিয়েটা ঘুষ, যেন বাড়ির চাকরানী নিজেকে বাড়ির মালিক বলে মনে করতে পারে’। ফরাসি লেখক বালজাক বলেছিলেন, ‘বেশির ভাগ স্বামীকে দেখলেই আমার সেই ওরাংওটাংটির কথা মনে পড়ে, যে খুব বেহালা বাজানোর চেষ্টা করছিল’।






পাশ্চাত্যে যখন হিপি বিপ্লব, নারী স্বাধীনতার আন্দোলন, প্রাচ্যে তখনও মেয়েদের হাতেপায়ে অদৃশ্য শেকল, যৌনাঙ্গে অদৃশ্য সতীত্ববন্ধনী। বিয়েটা যে কারণে শুরু হয়েছিল, প্রাচ্যের বেশির ভাগ পুরুষ এখনও সেই কারণেই বিয়ে করে। একটা জরায়ু দরকার, যে জরায়ু একটা নির্দিষ্ট পুরুষের ঔরসজাত সন্তান ধারণ করবে। পিতৃত্বের নিশ্চয়তাই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য। পুরুষের স্বার্থে পুরুষকে বিয়ে করে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা হাজার বছর ধরে টিকিয়ে রাখছে মেয়েরা। মেয়েরা বেঁকে বসলে পুরুষতন্ত্রের বিরাট বেলুনটি সশব্দে চুপসে যেত কবেই!

বাঙালি সমাজে দেখেছি, বিয়ের পর মেয়েদের ডানাটা গোড়া থেকে কেটে দেওয়া হয়। নিজের ঘরদোর-আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধব-পরিবেশপ্রতিবেশ-শহরবন্দর সব ছাড়তে হয় মেয়েদের। নিজের নামের শেষে স্বামীর পদবী জুড়তে হয়। শ্বশুর বাড়িতে বাস করতে হয়। মেয়ে প্রাপ্ত-বয়স্ক হলেও, শিক্ষিত হলেও, সে চাকরি করবে কি করবে না সেই সিদ্ধান্ত স্বামী এবং স্বামীর আত্মীয় স্বজন নেয়। একসময় তো প্রচলিত ছিলই, এখনও অনেকে বলে, যে, ‘বিয়ের পর চাকরি করা চলবে না’। সতী-সাবিত্রী থাকার জন্য ঘরে থাকাটা ভালো, ঘরের কাজকর্ম করবে, বাড়ির সবার সেবা করবে, সন্তান বড় করবে! গ্লোরিয়া স্টাইনেম একটা চমৎকার কথা বলেছিলেন, ‘সে-ই স্বাধীন মেয়ে, যে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করে, আর বিয়ের পরে, চাকরি’। অধিকাংশ বাঙালি মেয়ে স্বাধীনতার সঠিক অর্থই জানে না।

কলকাতায় স্বামী-স্ত্রীর প্রেমহীন সম্পর্ক দেখে আঁতকে উঠতাম মাঝে মাঝে। প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম, ‘বিয়েটা ভেঙে যেতে চাইলে ভেঙে যেতে দাও, জোর করে দাঁড় করিয়ে রাখছো কেন?’ ভালো কোনও উত্তর কখনও পেতাম না। অসুখী জীবনে বহুদিন থাকতে থাকতে মেয়েরা অভ্যস্তও হয়ে যায়। যে সন্তানের জন্য বিয়ে না ভাঙা, সেই সন্তান সংসারের অশান্তি দেখতে দেখতে বড় হয়। এমন সংসারে সন্তানের গড়ে ওঠায় লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। আসলে, মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আর নিরাপত্তা সমাজে না থাকলে একা বাস করা বা একা সন্তান মানুষ করা দুরূহ। কিন্তু তাই বলে কি অত্যাচারী স্বামীর সঙ্গে আপোস করতে হবে! বধু নির্যাতন আর বধু হত্যা যে হারে বাড়ছে, তা দেখে গা শিউরে ওঠে। পুরুষতন্ত্রের বীভৎস নারীবিদ্বেষ আর নারীঘৃণা কী উৎকটভাবেই না প্রকাশ পায়!

যে সমাজে শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়ের সংখ্যা বেশি, সেই সমাজে বিচ্ছেদের সংখ্যাটা বেশি, বিয়ের সংখ্যাটা কম।


ভারতীয় উপমহাদেশে অবশ্য উপার্জনহীন পরনির্ভর মেয়েদের মতো পুরুষতন্ত্রের মন্ত্র মেনে চলা স্বনির্ভর শিক্ষিত মেয়েরাও অত্যাচারী বা বহুগামী স্বামীর সঙ্গে সংসার করছে মুখ বুজে। এধরণের সমাজে, বিয়েটা নিতান্তই পুরুষের ক্ষেত্রে অর্জন, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিসর্জন। বিয়ে কাউকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দেয়, কারও পায়ে পরায় নির্মম শেকল। এখনও সমাজে দেদার বর্বরতা চলে, চলে জাত বর্ণের হিসেব, পণের হিসেব, স্ত্রীকে নিতান্তই যৌনসামগ্রী, ক্রীতদাসী আর সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা, সন্তান বিশেষ করে পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার চাপ, কন্যাভ্রুণকে জন্মাতে না দেওয়া, জন্মালেও পুঁতে ফেলা, পুত্র না জন্মালে তালাক, পুনর্বিবাহ।
নিয়ম মেনে চলার লোক যেমন প্রচুর আছে, নিয়ম ভাঙার লোকও কিন্তু আছে। মানুষ যত সভ্য হচ্ছে, বিয়ের পুরোনো নিয়মগুলো তত ভেঙে পড়ছে। সমাজ বদলায় হাতে গোনা কিছু লোক। সমাজের সব লোক দল বেঁধে সমাজ বদলায় না। বেশির ভাগ লোক বরং দল বেঁধে প্রাচীন নীতি রীতি শক্ত করে আকঁড়ে রাখে। বিয়ের পর মেয়েদের চাকরি বাকরি ব্যাবসা বাণিজ্য চলবে না, স্বামীর আদেশ নিষেধ অমান্য করা চলবে না, বিধবা বিবাহ চলবে না-- এই নিয়মগুলো প্রাচ্যের কিছু সাহসী মেয়ে এখন আর মানে না।


বিয়ের বিবর্তন ঘটেছে। বিয়ের উদ্দেশ্য পাল্টেছে, ধরণ পাল্টেছে। পাশ্চাত্যে, যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা আর অধিকারের সংগ্রাম দীর্ঘকাল চলেছে, এবং শেষ পর্যন্ত মেয়েরা অনেকটাই সমানাধিকার ভোগ করছে, সেখানে বিয়েটা এখন আর সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের নিশ্চয়তার জন্য নয়, মেয়েদের দিয়ে সংসার আর সন্তান দেখাশোনার কাজ কৌশলে করিয়ে নেওয়া নয়। সন্তান না জন্মালেও ক্ষতি নেই। সম্পর্ক আর সংসার সুখময় করার জন্য যে জিনিসের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা বিয়ে নয়, তা হলো, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ। এ দুটো থাকলেই মানুষ পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। বিয়ে যদি বিশ্বস্ত রাখতে পারতো, তাহলে এত পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠতো না।

বিয়ে না করে যারা সংসার করছে তাদের মধ্যেও পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ব থাকার একই অলিখিত শর্ত থাকে।

সব দম্পতিই যে একগামিতা বা বিশ্বস্ততা চায়, তা নয়। কিছু স্বামী-স্ত্রী পরষ্পরকে ভালোবেসেও একঘেয়েমি দূর করতে ভিন্ন নারী ও পুরুষকে নিজেদের যৌনসঙ্গমে সঙ্গী হতে আমণ্ত্রণ জানায়। কোনও লুকোচুরি নেই, নিজেদের শোবার ঘরে, নিজেদের বিছানায়, দুজনের সঙ্গে যোগ হয় এক দুই তিন বা চার বা তারও চেয়ে বেশি। এই দলবদ্ধ যৌনতা দাম্পত্যজীবনে বৈচিত্র আনে, সম্পর্ককে তাজা রাখে। কিছু দার্শনিক গুচ্ছ-বিয়েকে বেশ জোরেসোরে সমর্থন করেছেন। বিয়ের বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে সন্তানের সুবিধের কথা ভেবে গুচ্ছ-বিয়েই নাকি মেনে নেওয়াই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ। গুচ্ছ-বিয়েটা অনেকগুলো নারী পুরুষেরা সমাহার, যারা সকলেই সকলের স্ত্রী বা স্বামী। গুচ্ছপ্রেম বা ‘পলিয়ামোরি’ বলেও একধরণের সম্পর্ক আছে। একাধিক নারী পুরুষ, প্রত্যেকে পরস্পরেরর প্রেমিক বা প্রেমিকা। বহুবিবাহ তো দীর্ঘকাল প্রচলিত ছিলই, এক স্বামীর বহু স্ত্রী। আবার আরেক ধরনেরও বহুবিবাহও কিছু কিছু সমাজে চলে, এক স্ত্রীর বহু স্বামী। দুনিয়াতে সবকিছুরই চর্চা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে এক-স্বামী-এক-স্ত্রীর বিয়েই এখন পর্যন্ত রাজত্ব করছে। ছড়ি ঘোরানোটা এই সম্পর্কে বড় সুবিধে বটে।


বিয়েটা মূলত যৌন সঙ্গমের লাইসেন্স। এই লাইসেন্সটাই ঢাক ঢোল পিটিয়ে নেওয়া হয়। নিতান্তই প্রাচীন, পিতৃতান্ত্রিক, অযৌক্তিক একটি প্রথা। এই প্রথাটির জীবিত থাকার কোনও কারণ নেই। অনেক প্রথাই মরে গেছে বা যাচ্ছে, যেমন সতীদাহ, যেমন ডাইনি-হত্যা, যেমন অগুনতি বিয়ে, আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে। অর্থহীন অনেক প্রথাই ভয় দেখিয়ে, বোধবুদ্ধির লোপ পাইয়ে দিয়ে চালু রাখা হচ্ছে বটে, তবে বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথার ব্যবহার না হতে থাকলে, প্রথা ধীরে ধীরে মরে যেতে বাধ্য। যেহেতু শতাব্দী ধরে প্রমাণ হচ্ছে বিয়ে কোনও নির্ণায়ক বিষয় নয় সম্পর্ক টেকানোর, তাই এটিরও ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল নয়। বিবর্তন আমাদের পূর্ব-পুরুষের লেজ খসিয়েছে প্রয়োজন নেই বলে। বিবর্তন আমাদের সমাজ থেকে বিয়ে নামক একটি অপ্রয়োজনীয় সংস্কার দূর করবে না, এ কোনও কথা? এককালের দার্শনিক নিৎসে, কান্ট, হেগেল প্রবল নারীবিরোধী ছিলেন। দর্শনেরও বিবর্তন ঘটেছে, নারীর প্রতি অমন তীব্র ঘৃণা নিয়ে আজকাল দার্শনিক বনার কোনও উপায় নেই।

নারীর প্রতি ঘৃণার কারণে জন্ম নিয়েছে পুরুষতন্ত্র। পুরুষতন্ত্র জন্ম দিয়েছে অনেক নারীবিরোধী প্রথা, এর মধ্যে বিয়ে একটি। পুরুষতন্ত্র যত পরাজিত হবে, যত পর্যুদস্ত হবে, নারী যত তার স্বাধীনতা ফিরে পাবে, যত সে আত্মবিশ্বাসী হবে, যত সে নারীবিরোধী ধর্ম আর সংস্কারকে সমাজ থেকে ঠেলে সরাতে পারবে, বর্বরতাকে যত দূর করতে পারবে সমাজ, যত সভ্য হবে সমাজ, যত সভ্য হবে পুরুষ, পুরুষতান্ত্রিক প্রথার গায়েও তত মরচে ধরবে। আমরা এর মধ্যেই দেখছি সভ্য সমাজে বিয়ে কমে যাচ্ছে। অসভ্য-অশিক্ষিত-সমাজে বিয়ে প্রথা চলছে। কিন্তু একটি সমাজ তো চিরকাল অসভ্য আর অশিক্ষিত থেকে যায় না! সমাজও বিবর্তিত হয়। সমাজ সভ্য হয়েছে কখন বুঝবো? যখন দেখবো নারী আর ধর্ষিতা হচ্ছে না, নির্যাতিতা হচ্ছে না, পুরুষের দাসী বা ক্রীতদাসী বা যৌনদাসী কোনওটাই নয় নারী, তুমুল প্রেমে পড়ে একত্রবাস করছে কিন্তু বিয়ে নৈব নৈব চ, অথবা বিয়ে নামক জিনিসটিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখন।

বিয়ের বিপক্ষে কথা বলেছেন অনেক নারীবাদী লেখক। আন্দ্রিয়া ডোরকিন তো মনেই করতেন, বিয়েটা স্রেফ ধর্ষণ করার জন্য। আর একজন বেশ চমৎকার বলেছিলেন, বিয়েটা নিতান্তই ‘ইনটিমেট কলোনাইজেশন’। অনেকেই মনে করেন, বিয়ের বাধাটা দূর না হলে মেয়েদের সত্যিকার স্বাধীনতা অনেকটা অসম্ভব। প্রায় সব নারীবাদীই বিশ্বাস করতেন, এখনও অনেকে করেন, যে, পুরুষতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য বিয়েটা বেশ অসাধারণ একটা প্রথা। নারীবাদীদের কেউ কেউ প্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রেমটা নাকি একরকম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, মেয়েরা সেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিয়ে করতে অর্থাৎ শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। নারীবাদীদের কাছে বিয়েটা এত আপত্তিকর হতো না, স্ত্রীর ভূমিকা যদি এমন দাসী-বাঁদির না হতো।

গ্লোরিয়া স্টাইনেমকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘এই যে বিয়ের বিরুদ্ধে এত গীত গেয়েছো, শেষে নিজেই যে বুড়ো বয়সে একটা বিয়ে করে বসলে, কারণটা কি?’ গ্লোরিয়া যে বন্ধুটিকে বিয়ে করেছিলেন, ওঁর নাকি খুব বড় অসুখ করেছিল, বিয়ে করলে গ্লোরিয়ার স্বামী হিসেবে স্বাস্থ্য বীমা পেতে সুবিধে হবে ওঁর, সে কারণেই বিয়ে। গ্লোরিয়ার জায়গায় আমি হলে বন্ধুকে সাহায্য করার বিকল্প ব্যবস্থা নিতাম, কিন্তু বিয়ে নামক পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুতেই আপোস করতাম না। বিয়ে যে জীবনে আমি করিনি তা নয়, করেছি, তখন করেছি যখন জানতাম না যে বিয়েটা আসলে নারীর ওপর পুরুষের প্রভুত্ব কায়েম করার একটা সামাজিক চুক্তিপত্র ছাড়া কিছু নয়। কেউ কেউ ঘা খাওয়ার আগে শেখে, কেউ কেউ আবার ঘা খেয়ে শেখে। আমার না হয় একটু ঘা খেয়েই শেখা হল। কিন্তু শেখা তো হল। কত কাউকে দিনরাত দেখছি, কোনওকিছুই যাদের কোনওকিছু শেখাতে পারে না।

যখন সভ্য অসমকামীরা বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসছে, তখন সভ্য সমকামীরা বিয়ের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে। সভ্য দেশগুলো ধীরে ধীরে সমকামীদের বিয়ে করার অধিকার দিচ্ছে। সভ্য মানুষেরা, এমনকী যারা বিয়েতে বিশ্বাসী নয়, তারাও সমকামীদের বিয়ের অধিকারের পক্ষে, যেহেতু সমকামীদের বিয়েটা সমাজের বেশির ভাগ লোক মেনে নেয় না। সমকামীদের বিয়ে সমর্থন করা মানে, ধর্মের শাসনকে আর রক্ষণশীল সমাজের চোখ রাঙানোকে মধ্যম আঙুল দেখানো। এ কথা ঠিক, সমকামীদের বিয়েতে সম-অধিকারের সম্ভাবনা অসমকামীদের চেয়ে বেশি কারণ ওদের মধ্যে লিঙ্গ-বৈষম্যের বালাই নেই। তবে এটা ঠিক, একসময় যখন সমকামীদের বিয়ে অসমকামীদের বিয়ের মতো ডাল-ভাত হয়ে উঠবে, তখন সমকামীরাও, যারা আজ বিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে, অর্থহীন এই বিয়ে ব্যবস্থাটির বিরুদ্ধে মুখ খুলবে।

বিয়ে নামের অপ্রয়োজনীয় একটি প্রথা মরে পড়ে থাকবে একদিন। আগামী দিনের সমাজবিজ্ঞানীরা ইতিহাস খুঁড়ে বিয়ের ফসিল আবিস্কার করবেন, আলোকিত মানুষকে পুরোনো দিনের গল্প শোনাবেন। --‘পৃথিবীতে একটি যুগ ছিল, সে যুগের নাম অন্ধকার যুগ। সেই অন্ধকার যুগে একটি প্রথা দীর্ঘদীর্ঘকাল টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে’। বিয়েটা কী এবং কেন, এসব বোঝাতে গিয়ে পুরুষতন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠবে, তখন নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের সেই সব মানুষের গা কেঁপে উঠবে বীভৎস একটা সমাজ কল্পনা করে।

ইউটোপিয়া? না হয় ইউটোপিয়াই।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

লিঙ্গসূত্র - তসলিমা নাসরিন

লিঙ্গসূত্র তসলিমা নাসরিন

লিঙ্গসূত্র

তসলিমা নাসরিন

যার জীবন, যার শরীর, সে-ই ঠিক করবে তার লিঙ্গ কী। তার পর ইচ্ছে হলে সে অঙ্গ অক্ষত রাখবে, কেটে বাদ দেবে, অন্য অঙ্গ লাগাবে। সমাজের কাজ, তাকে সেই স্বাধীনতাটা দেওয়া। তসলিমা নাসরিন কলকাতার আনন্দবাজারে লিখেছেন;

তেরো বছর বয়স আমার তখন। এক দিন শুনি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র হঠাৎ মেয়ে হয়ে গেছে। নাম ছিল আবুল হোসেন, মেয়ে হওয়ার পর নাম হোসনে আরা। ক’দিন পরই লাল বেনারসি পরে হোসনে আরা বিয়ে করে ফেলল তার হোস্টেলের রুমমেটকে। খবরের কাগজে আবুল হোসেন আর হোসনে আরা-র ছবি পাশাপাশি ছাপা হত। আবুল হোসেন সব সময় মৌলানাদের স্কার্ফের মতো একটা স্কার্ফ পরত, বুক আড়াল করার জন্য। ভেতরে ভেতরে মেয়েই ছিল সে, কিন্তু জন্মের পর আত্মীয়স্বজন ভেবেছিল সে ছেলে, ভাবার নিশ্চয়ই কোনও কারণ ছিল। বড় হয়ে আবুল হোসেন বুঝতে পরেছিল সে ছেলে নয়। লজ্জায় ভয়ে অনেক বছর কাউকে কিছু বলেনি। ছেলেদের হোস্টেলে থাকত, সবাই তাকে ছেলে বলেই জানত। কিন্তু এক সময় অস্বস্তির চরমে পৌঁছে ডাক্তারের শরণাপন্ন হল। ডাক্তার কী একটা অপারেশন করলেন, ব্যস, আবুল হোসেন মেয়ে হয়ে গেল। খবরটা পড়ে আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল হঠাৎ এক দিন ছেলে হয়ে যেতে। কিন্তু বুঝতাম, আবুল হোসেনের শরীরটা যেমন ভেতরে ভেতরে মেয়ের শরীর ছিল, আমার শরীরটা ভেতরে ভেতরে ছেলের শরীর নয়। আসলে মেয়েদের ওপর পারিবারিক সামাজিক ধার্মিক রাষ্ট্রিক অত্যাচার এত বেশি হত যে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়ে এ সব থেকে বাঁচতে চাইতাম। অন্য কোনও কারণ ছিল না।

লিঙ্গ কিন্তু তত সহজ নয়, যত সহজ বলে একে ভাবা হয়। লিঙ্গ শুধু শারীরিক নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিকও। অধিকাংশ লোক ভাবে, জগতের সব সুস্থ মানুষই বুঝি শরীরে পুরুষ, মনেও পুরুষ; অথবা শরীরে নারী, মনেও নারী। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। ব্যতিক্রমটা বুঝতে হলে জেন্ডার বা মনোলিঙ্গ বুঝতে হবে। শরীরে যেমন লিঙ্গ থাকে, মনেও এক ধরনের লিঙ্গ থাকে, লিঙ্গবোধ থাকে। যাদের শারীরিক জৈবলিঙ্গের সঙ্গে মনোলিঙ্গের কোনও বিরোধ নেই, তাদের আজকাল ‘সিসজেন্ডার’ বলা হয়। জগতের সবাই সিসজেন্ডার নয়, অনেকে ট্রান্সজেন্ডার, সিসজেন্ডারের ঠিক উলটো। পুরুষের শরীর নিয়ে জন্মেছে, কিন্তু মনে করে না যে সে পুরুষ, মনে করে সে নারী; আবার ও দিকে নারীর শরীর নিয়ে জন্মেছে, কিন্তু মোটেও সে বিশ্বাস করে না যে সে নারী, তার দৃঢ় বিশ্বাস সে পুরুষ। এই ট্রান্সজেন্ডাররা বা রূপান্তরকামীরা নড়নচড়নহীন রক্ষণশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘পেন ইন দি অ্যাস’। এদের দুর্ভোগ প্রতি পদে পদে। প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গেলে সবাইকেই অবশ্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ধরা যাক, জন্মানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পুরুষাঙ্গের উপস্থিতি দেখে বাবা মা বা ডাক্তাররা রায় দিয়ে দিলেন, সন্তান ছেলে, পরিবারের এবং সমাজের সকলে জানল যে সে ছেলে, কিন্তু নিজে সে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে আর অনুভব করতে থাকে সে ছেলে নয়, মেয়ে। সে যখন নিজেকে মেয়ে ভেবে মেয়েদের সাজপোশাকে বাইরে বেরোয়, এবং সত্য কথাটা প্রকাশই করে ফেলে যে, পুরুষের শরীর সে ধারণ করছে বটে, কিন্তু সে আসলে পুরুষ নয়, নারী লোকেরা তাকে হাস্যরসের বস্তু ভাবে, সার্কাসের ক্লাউনের চেয়েও বড় ক্লাউন ভাবে, চিড়িয়াখানার চিড়িয়া ভাবে, তাকে শেকলে বাঁধে, পাগলা-গারদে বন্দি করে। কেউ ছি ছি করে, কেউ বিদ্রুপ ছোড়ে, ঢিল ছোড়ে, কেউ গালি দেয়, ন্যাংটো করে, পেটায়। কেউ কেউ জন্মের মার মেরে তার মাথার ভূত তাড়াতে চায়। মাথার ভূত মাথা ছেড়ে কিন্তু এক পা নড়ে না। মাথার লিঙ্গ মাথা কামড়ে পড়ে থাকে।

মেয়েরা ছেলেদের মতো আচরণ করলে আজকাল তবু সহ্য করে মানুষ, কিন্তু ছেলেরা মেয়েদের মতো আচরণ করলে সহ্য করে না। দ্বিতীয় লিঙ্গ প্রথম লিঙ্গকে অনুকরণ করে করুক, কিন্তু প্রথম লিঙ্গের লিঙ্গাভিমান এমনই যে, দ্বিতীয় লিঙ্গের কোনও কিছুকে অনুকরণ করার মানে দাঁড়ায় প্রথম লিঙ্গের অপমান। মেয়েরা দিব্যি ছেলেদের মতো পোশাক পরছে, ব্যবসা বাণিজ্য করছে, মদ-গাঁজা খাচ্ছে, মোটরবাইক চালাচ্ছে, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বিজ্ঞানী বৈমানিক নেতা মন্ত্রী হচ্ছে, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছে, মানুষ খুন করছে। আর ও দিকে, ছেলেরা চোখে সামান্য একটু কাজল, ঠোঁটে একটুখানি লিপস্টিক আর মেয়েদের মতো জামাজুতো পরলেই সমাজের ভিত কেঁপে ওঠে।

কোনও পুরুষ যদি বলে সে নারী, অথবা কোনও নারী যদি বলে সে পুরুষ, অথবা কোনও নারী বা পুরুষ যদি বলে সে নারীও নয় পুরুষও নয়, পাগল সন্দেহ না করে তাকে বরং আমাদের বিশ্বাস করা উচিত। কারণ একমাত্র সেই মানুষটাই জানে, সে কী। আমাদের সমাজ এখনও নারী আর পুরুষের ভাঙা-ভোঁতা সংজ্ঞা খাড়া করে। এও জোর গলায় বলে, যাদের শরীরে এক্স এক্স ক্রোমোজোম, তারা কেউ পুরুষ হতে পারে না, আর যাদের শরীরে এক্স ওয়াই, তারা কেউ নারী হতে পারে না! কেন হতে পারে না, শুনি? নিশ্চয়ই হতে পারে। কোনও ক্রোমোজোম আর কোনও জৈবলিঙ্গের ওপর মনোলিঙ্গ নির্ভর করে না। জেন্ডার বা মনোলিঙ্গ, সেক্স বা জৈবলিঙ্গের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেটে ছিঁড়ে মাড়িয়ে পুড়িয়ে আর যে লিঙ্গকেই দূর করা যাক, মনের লিঙ্গকে করা যায় না। জৈবলিঙ্গ থাকে শরীরে, মনোলিঙ্গের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইডেন্টিটি, প্রেজেন্টেশন, সেল্ফ-এক্সপ্রেশন, ইন্টার-পার্সোনাল সম্পর্ক, সোশিয়ো-কালচারাল রোল।

কোনও মেয়ে তার নিজের শরীরের দিকে তাকালেই যদি দেখে শরীরটা অন্য কারও, অচেনা, অদ্ভুত; শরীরটা পুরুষের, যে শরীরটা তার শরীর হলেও তার শরীর নয়, শরীরটাকে নিজের বলে ভাবতে তার অস্বস্তি হয়, কষ্ট হয়, এ শরীর তাকে শুধুই দুঃসহবাস দেয়, তবে কী করবে সে? গুমরে গুমরে একলা ঘরে কাঁদবে সারা জীবন? দরজা বন্ধ করে পুরুষের পোশাক খুলে নারীর পোশাক পরে চোরের মতো নিজেকে দেখবে আয়নায়, বছরের পর বছর? বন্ধ দরজাটা খুললেই বা সত্য উচ্চারণ করলেই লোকের লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হবে তাকে! এ কার দোষ, তার? না, যারা বাস্তবকে মেনে নেয় না তাদের? এ তাদের দোষ, যারা প্রকৃতির এক রূপকে স্বীকার করে, আর এক রূপকে করে না; যারা মনে করে দুনিয়াতে অ-রূপান্তরকামীরাই সত্য, রূপান্তরকামীরা নয়, যারা মনে করে নারী ও পুরুষের যৌন আকর্ষণই ঠিক যৌন আকর্ষণ, বাকি সব যৌন আকর্ষণ ভুল, মিথ্যে।

তুমি ট্রান্স-নারী। তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছ। তুমি সাজতে ভালবাসো, গয়না পরতে ভালবাসো, মেয়েদের পোশাক পরতে পছন্দ করো, পুরুষের সঙ্গে শুতে পছন্দ করো, কিন্তু শুধু সেই কারণগুলোর জন্যই যে তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছ তা নয়। তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছ, কারণ তুমি মূলত নারী, তুমি তোমার মতো করে তোমার নারীত্বকে প্রকাশ করেছ। তোমার জেন্ডার নারীর, তোমার শরীরটা দেখতে আকাশ বাতাস হাতি ঘোড়া এক্স ওয়াই বা যা-কিছুই হোক না কেন, তুমি মনে প্রাণে, অন্তরে বিশ্বাসে নারী। যৌন সম্পর্কের জন্য পুরুষকে পছন্দ না করে, তুমি কোনও মেয়েকেও পছন্দ করতে পারতে। সম্ভবত তুমি মনে মনে ‘বিষমকামী নারী’ বলেই পুরুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করেছ। কিন্তু তোমার প্রেমিক পুরুষকে ‘বিষমকামিতা’-র সুখ দিতে নিজের লিঙ্গ বদলাওনি, লিঙ্গ বদলেছ কারণ তোমার ভয়ংকর যন্ত্রণা হচ্ছিল একটা পুরুষের শরীরকে বছরের পর বছর অকারণে বহন করতে, এ অনেকটা কাঁধে হিমালয় নিয়ে হাঁটার মতো। ভালুকের ছাল পরে প্রতিটা দিন যাপন করলে আমার ঠিক কেমন বোধ হবে, ভাবি। ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী মানুষদের বোধ হয় ঠিক সে রকমই অসহ্য অস্বস্তি হয় আর ওই ওপরের আবরণটা খোলসটা ঝামেলাটা উপদ্রবটা খুলে ফেলতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। লিঙ্গ বদল সব ট্রান্সরা করে না। কেউ কেউ করে। করুক বা না করুক, করার অধিকার সবারই আছে। মানবাধিকার সবার জন্যই।

জীবন একটাই, এই একটা মাত্র জীবনকে যেমন ইচ্ছে যাপন করার অধিকার সবার। লিঙ্গ যারা অক্ষত রাখতে চায় রাখুক, যারা কেটে বাদ দিতে চায় দিক, যে লিঙ্গকে তাদের মন এবং মস্তিষ্ক নিজের লিঙ্গ বলে বিশ্বাস করে তাকে যদি শরীরে লাগাতে চায় লাগাক। নারীর শরীরটাকে পুরুষের শরীর করে ফেলা, অথবা পুরুষেরশরীরকে নারীর করে ফেলা যদি সম্ভব হয়, তবে করবে না কেন? আমার শরীর নিয়ে আমি যা খুশি করব, এতে অন্যের আপত্তি হবে কেন? শরীরটা আমার না অন্যের?

পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ অথবা পুরুষ ও নারী, এ নিয়েই যদি মানুষের দুনিয়াটা হত, তা হলে তা নিতান্তই বেরসিক, বিদঘুটে, বোরিং হত। ভাল যে দুনিয়াটা বিচিত্র। ভাল যে দুনিয়াতে দুটো লিঙ্গের বাইরেও তৃতীয় লিঙ্গ আছে। উভলিঙ্গের কথাই ধরি না কেন, পুংলিঙ্গ আর স্ত্রীলিঙ্গ এক শরীরেই জড়াজড়ি করে থাকে। প্রকৃতি যদি সবাইকে নারী ও পুরুষ হিসেবে চাইত, তা হলে উভলিঙ্গ বলে কিছু থাকত না দুনিয়ায়।

বিচিত্র সব কাম চার দিকে। সমকাম, বিষমকাম, উভকাম, রূপান্তরকাম, বহুকাম, সর্বকাম, নিষ্কাম। কোনওটিই অপ্রাকৃতিক নয়। সব কামই, সব যৌন আচরণই যত কম সংখ্যক লোকই সে আচরণ করুক না কেন প্রাকৃতিক; যেহেতু প্রকৃতিতেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। বেশি সংখ্যক লোক যে আচরণটা করে, সেটাকেই ‘ন্যাচারাল’ বা ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়। তা ধরলেও ভিন্নতাকে আর বৈচিত্রকে স্বাভাবিক বলে না মানার কোনও যুক্তি নেই। সংখ্যালঘুরা প্রকৃতির বাইরের কোনও ঘটনা নয়।

প্রকৃতির শত শত প্রজাতির মধ্যে আছে বিচিত্র যৌন প্রবৃত্তি। ভেড়া, শিম্পাঞ্জি, হাতি, জিরাফ, সিংহ, ডলফিন, পেঙ্গুইন, হাঁস ফাঁক পেলেই সমকামে মেতে ওঠে। মানুষের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়, ‘বনোবো’, যাদের ডিএনএ-র সঙ্গে আমাদের ডিএনএ-র মিল ৯৮%, ভীষণই উভকামী। প্রকৃতি শুধু ‘প্রজনন করো, প্রজাতি টেকাও’ মন্ত্র জপে না। প্রকৃতি আরও অনেক কিছুর হিসেব করে। বিবর্তনের তত্ত্ব দিয়ে বিচার করলেও সমকামীরা সমাজে অপ্রয়োজনীয় নয়। যৌনতার একমাত্র উদ্দেশ্য বংশ বিস্তার করা নয়। সামাজিকতাও যৌনতার উদ্দেশ্য। বনোবোরা হাতের কাছে স্ব-প্রজাতির যাকেই পায়, তার সঙ্গেই যৌন সঙ্গম করে। এর ফলে পরস্পরের মধ্যে বন্ধুতা গড়ে ওঠে, এক জনের বিপদে বিপর্যয়ে আর এক জন দাঁড়ায়, সকলে মিলে নিজেদের প্রজাতিকে নির্মূল হওয়া থেকে বাঁচায়। যদি বংশ বিস্তারই প্রজাতির টিকে থাকার পেছনে একমাত্র পদ্ধতি হত, তা হলে পিঁপড়ে, মৌমাছি, বোলতাদের জগতে এত বন্ধ্যা সৈন্য থাকত না, যাদের কাজ বংশ বিস্তার করা নয়, বরং প্রজাতিকে বাইরের শত্রু থেকে রক্ষা করা।

বিবর্তনের ভূরি ভূরি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ মানুষ বিবর্তনে না বিশ্বাস করে ভগবানে করছে, যে ভগবানের অস্তিত্বের আজও কোনও প্রমাণ মেলেনি। প্রকৃতি থেকে তুলে যত প্রমাণই চোখের সামনে রাখি না কেন, রূপান্তরকাম, সমকাম, উভকাম কোনওটাই ‘ন্যাচারাল’ নয়, এমন কথা বলবেই কিছু লোক। ধরা যাক, ন্যাচারাল নয়। তাতে কী? সবাইকে ন্যাচারাল হতেই বা হবে কেন, শুনি? ন্যাচারাল ব্যাপারগুলো বরাবরই বড় পানসে। ন্যাচারাল হওয়ার জন্য স্বাধীনতা বা অধিকারের দরকার হয় না, ‘আনন্যাচারাল’ হওয়ার জন্য দরকার। আনন্যাচারাল হওয়ার জন্য বুকের পাটারও বেশ দরকার।

‘প্রকৃতি’কে হাতিয়ার করে মূর্খ আর দুষ্ট লোকেরা কি আজ থেকে মানুষকে ভোগাচ্ছে! এক সময় মেয়েদের লেখাপড়া করা, ঘরের বার হওয়া, চাকরিবাকরি করা, সব কিছুকেই এরা প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলেছে। প্রকৃতি চির কালই বিস্ময়কর, বৈচিত্রময়, বর্ণময়। যৌনতার মতো। আবার, আরও একটা প্রশ্নও এখানে করা যায়, কে বলেছে প্রকৃতির সব কিছু সব সময় ভাল এবং গ্রহণযোগ্য, কে বলেছে প্রকৃতিকে মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ? প্রকৃতিকে দিনরাত আমরা অস্বীকার করছি না? অস্বীকার করে নির্মাণ করছি না প্রকৃতি যা দিতে পারে, তার চেয়েও চমৎকার কিছু? হাত-পা নষ্ট হয়ে গেলে নকল হাত-পা লাগাচ্ছি, হৃদ্পিণ্ড অকেজো হলে হৃদ্পিণ্ডঅবধি লাগিয়ে নিচ্ছি। স্মৃতিশক্তির স্বল্পতা আছে বলে কম্পিউটার ব্যবহার করছি। নানা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রকৃতির ভুল-ভ্রান্তি, প্রকৃতির অপারগতা, অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা সংশোধন করছি প্রতি দিন; আমাদের ডানা নেই, বিমান বানিয়েছি ওড়ার জন্য, প্রকৃতি আমাদের যে চোখ দিয়েছে, তার ক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে টেলিস্কোপ বানিয়েছি, মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করছি।

সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার সব লিঙ্গের সমান। পুরুষ লিঙ্গের যেমন অধিকার, নারী লিঙ্গেরও একই অধিকার, উভলিঙ্গেরও একই। বিষমকামীদের অধিকার যতটুকু, সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামীদেরও ততটুকুই। এতে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের মানবাধিকারে বিশ্বাস নেই। যারা সমকামীদের নির্যাতন করছে, রূপান্তরকামীদের নিগ্রহ করছে, যারা পুরুষ আর নারীর কাম ছাড়া আর সব কামকে অস্বাভাবিক আর প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলে ঘোষণা করে দিচ্ছে, তাদের শিক্ষিত করা, সচেতন করা, মানুষ করা অত্যন্ত জরুরি। আকাট মূর্খের সংখ্যা বেশি বলেই তাদের মূর্খামি মেনে নিতে হবে, গণতন্ত্রও বলে না। সমকামীদের আন্দোলন, রূপান্তরকামীদের মানবাধিকার নিয়ে সংগ্রাম চলছে চার দিকে। ওঁরা চাইছেন নিজের জেন্ডার নিজের নির্ণয়ের অধিকার এবং সেই জেন্ডারকে জনসমক্ষে প্রকাশ করার অধিকার, নিগৃহীত না হওয়ার অধিকার, নিজের জৈবলিঙ্গকে পরিবর্তন করার অধিকার, মানসিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত না হওয়ার অধিকার, যৌন সঙ্গমের অধিকার, বিয়ে করার অধিকার, সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার। যে সমাজে আজও নারীকে নারী হয়ে জন্ম নেওয়ার অপরাধে লাঞ্ছিত হতে হয়, সে সমাজে সমকামী আর রূপান্তরকামীদের অধিকারের জন্য আরও দীর্ঘ দীর্ঘ কাল সংগ্রাম করতে হবে, অনুমান করতে পারি। মানুষ প্রজাতি সে দিন সত্যিকার সভ্য হবে, যে দিন কোনও মানুষকেই নিজের মৌলিক অধিকারের জন্য আর লড়াই করতে হবে না।

(ঋতুপর্ণ ঘোষের সম্মানে)


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আসাদুজ্জামান নূরের আত্মজীবনী



আসাদুজ্জামান নূর - অর্ধেক জীবন 

আসাদুজ্জামান নূর একজন বাংলাদেশী অভিনেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মূলত বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন। ১৯৯০ দশকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের "কোথাও কেউ নেই" নামের একটি নাটকে বাকের ভাই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান।
২০০১ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিলফামারী জেলা হতে সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন।
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাসুদ রানা - কাজী আনোয়ার হোসেন [ভলিউম ০২]

amarboi.comমাসুদ রানা বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট একটি কাহিনী-চরিত্র। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস পাহাড় প্রচ্ছদনামের প্রথম গ্রন্থটি থেকে শুরু করে সেবা প্রকাশনী থেকে মাসুদ রানা সিরিজে এই চরিত্রকে নিয়ে চার শতাধিক গুপ্তচরবৃত্তীয় কাহিনীর বই প্রকাশিত হয়েছে। সিরিজের প্রথম দুইটি বই বাদে বাকিগুলো ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার বইয়ের ভাবানুবাদ বা ছায়া অবলম্বনে রচিত। মাসুদ রানার চরিত্রটিকে মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রটির বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মাসুদ রানা'র প্রথম বইটি কাজী আনোয়ার হোসেনের ১০মাসের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল। তিনি ঐ সময়ে মোটরসাইকেলে তাঁর রাঙ্গামাটি ভ্রমণের কথা স্মরণ করে লেখেন উপন্যাসটি। আর ঐ কাহিনীই বাংলা সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কারণ মাসুদ রানাই বাংলা সাহিত্যের প্রথম চরিত্র যা বাংলাদেশের চরিত্র হলেও একটি বৈশ্বিক চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
মাসুদ রানা'র নামকরণ করা হয় দুজন বাস্তব মানুষের নামের অংশ মিলিয়ে। কাজী আনোয়ার হোসেন তাঁর স্ত্রী, আধুনিক সংগীতশিল্পী ফরিদা ইয়াসমীনের সাথে পরামর্শ করে নামটি নির্বাচন করেন। এপ্রসঙ্গে স্বয়ং কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন:
"আমাদের দুজনেরই বন্ধু স্বনামধন্য গীতিকার মাসুদ করিমের 'মাসুদ' আর আমার ছেলেবেলার হিরো (নায়ক) ইতিহাসে পড়া মেবারের রাজপুত রাজা রানা প্রতাপ সিংহ থেকে 'রানা' নিয়ে নাম হলো মাসুদ রানা।"
বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক কারনে আমরা তাই মাসুদ রানার দ্বিতীয় ভলিউমটি আমাদের সাইটে শেয়ার করলাম।
প্রথম ভলিউমে যে বইতিনটি রয়েছেঃ
দুঃসাহসিক
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা
দুর্গম দুর্গ

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাসুদ রানা - কাজী আনোয়ার হোসেন [ভলিউম ০১]

amarboi.comমাসুদ রানা বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট একটি কাহিনী-চরিত্র। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ধ্বংস পাহাড় প্রচ্ছদনামের প্রথম গ্রন্থটি থেকে শুরু করে সেবা প্রকাশনী থেকে মাসুদ রানা সিরিজে এই চরিত্রকে নিয়ে চার শতাধিক গুপ্তচরবৃত্তীয় কাহিনীর বই প্রকাশিত হয়েছে। সিরিজের প্রথম দুইটি বই বাদে বাকিগুলো ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষার বইয়ের ভাবানুবাদ বা ছায়া অবলম্বনে রচিত। মাসুদ রানার চরিত্রটিকে মূলত ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সৃষ্ট জেমস বন্ড চরিত্রটির বাঙালি সংস্করণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মাসুদ রানা'র প্রথম বইটি কাজী আনোয়ার হোসেনের ১০মাসের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল। তিনি ঐ সময়ে মোটরসাইকেলে তাঁর রাঙ্গামাটি ভ্রমণের কথা স্মরণ করে লেখেন উপন্যাসটি। আর ঐ কাহিনীই বাংলা সাহিত্যের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। কারণ মাসুদ রানাই বাংলা সাহিত্যের প্রথম চরিত্র যা বাংলাদেশের চরিত্র হলেও একটি বৈশ্বিক চরিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
মাসুদ রানা'র নামকরণ করা হয় দুজন বাস্তব মানুষের নামের অংশ মিলিয়ে। কাজী আনোয়ার হোসেন তাঁর স্ত্রী, আধুনিক সংগীতশিল্পী ফরিদা ইয়াসমীনের সাথে পরামর্শ করে নামটি নির্বাচন করেন। এপ্রসঙ্গে স্বয়ং কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন:
"আমাদের দুজনেরই বন্ধু স্বনামধন্য গীতিকার মাসুদ করিমের 'মাসুদ' আর আমার ছেলেবেলার হিরো (নায়ক) ইতিহাসে পড়া মেবারের রাজপুত রাজা রানা প্রতাপ সিংহ থেকে 'রানা' নিয়ে নাম হলো মাসুদ রানা।"
বাংলা সাহিত্যের ঐতিহাসিক কারনে আমরা তাই মাসুদ রানার প্রথম ভলিউমটি আমাদের সাইটে শেয়ার করলাম।
প্রথম ভলিউমে যে বইতিনটি রয়েছেঃ
ধ্বংস পাহাড়
ভারতনাট্যম
স্বর্ণমৃগ

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গল্পের জাদুকর - আহসান হাবীব

amarboi

গল্পের জাদুকর
আহসান হাবীব

বড়ভাই হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ছোট ভাই আহসান হাবীবের স্মৃতিচারণ। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায় ‘স্মৃতি সে সুখেরই হোক বা বেদনারই হোক তা সবসময় বেদনার...।’ এই স্মৃতি চারণমূলক খণ্ড খণ্ড রচনায় সেটাই ফুটে উঠেছে যেন। একই সঙ্গে আহসান হাবীব তা দাদাভাইয়ের নিজস্ব হিউমারও কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যা সবাইকে আনন্দ দিবে বলেই আমাদের ধারণা। আর আমারতো জানিই কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদ একজন অসম্ভব আনন্দ প্রিয় মানুষ ছিলেন।

ভূমিকা
বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বই লিখতে হবে আমি কখনো ভাবি নি। তার চলে যাওয়ার আগে এবং পরে..... তাকে নিয়ে কিছু লেখা নিয়ে এই বই স্মৃতি চারণের মতই একটা ব্যাপা্র। তার একটা লেখায় ছিল ‘স্মৃতি সে সুখেরই হোক বা বেদনাই হোক তা সবসময়ই বেদনার।’ ঐ লেখাগুলোতে হয়ত সেই রকম একটা বিষয় থেকেই গেল...।
সে আনন্দপ্রিয় মানুষ ছিল তাই এই বইয়ের শেষে দিকে তাকে নিয়ে কিছু আনন্দঘন ঘটনা জুড়ে দিলাম ,পাঠকের হয়ত ভাল লাগবে।


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না - প্রবীর ঘোষ

amarboi
আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না - প্রবীর ঘোষ
প্রবীর ঘোষের আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না - দুর্দান্ত একটা বই। লেখক তাঁর স্বভাবসুলভ সহজ-সরল ভঙ্গিতে উত্তর দিয়েছেন আস্তিকদের ত্যানা-প্যাঁচানো প্রশ্নাবলীর, ব্যাখ্যা করেছেন ঈশ্বর-ধারণার অসারত্ব।


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - আলাউদ্দিন আল আজাদ


তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - আলাউদ্দিন আল আজাদ তেইশ নম্বর তৈলচিত্র - আলাউদ্দিন আল আজাদ
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬০ সালে পদক্ষেপ নামক এক পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় উপন্যাসটি প্রথম ছাপা হয়। পরবর্তীকালে নওরোজ কিতাবিস্তান উপন্যাসটি বই আকারে প্রকাশ করে। এ পর্যন্ত মুক্তধারা সহ অন্যান্য প্রকাশক কর্তৃক বহুবার মূদ্রিত হয়েছে। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র বেশ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।
নিচের এই আলোচনাটি লিখেছেন মুহম্মদ মুহসিন।

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র অধ্যাপক, কবি ও ঔপন্যাসিক আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। প্রথম প্রকাশ ১৯৬১ সালে। প্রকাশক নওরোজ কিতাবিস্তান। নওরোজের পর মুক্তধারা সাতবার ছেপেছে। অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। ১৯৭৭ সালে বুলগেরীয় ভাষায় অনুবাদ হয়েছে পোত্রেৎ নমের দুবাতসাৎ ত্রি নামে। সুভাষ দত্তের পরিচালনায় সিনেমা হয়েছে 'বসুন্ধরা' নামে। সিনেমাটি সাতটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছে।
ওপরের তথ্যগুলো বলে যে তেইশ নম্বর তৈলচিত্র বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য সার্থক উপন্যাস। উপন্যাসের লেখক আলাউদ্দিন আল আজাদ লেখক হিসেবে যত বড়, সমালোচক হিসেবেও কম নন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে পেশাদারিত্ব এবং বাংলা সমালোচনা সাহিত্যে তাঁর সৃষ্ট গ্রন্থগুলো যোগ্যতার সঙ্গে এ কথার সত্যতা প্রতিপাদন করে। এ গ্রন্থের সৃজন প্রক্রিয়ায় অর্থাৎ গঠনে-বুননে-বক্তব্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেখকের এ তাত্তি্বক ও সমালোচক সত্তার প্রকাশ রয়েছে। সমালোচক বা তাত্তি্বক হিসেবে তাঁর এ সচেতনতা পুরোটাই এ উপন্যাসের জন্য কল্যাণকর হয়েছে বলে অবশ্য আমার মনে হয় না।
গঠনে উপন্যাসটি শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ধারার। জার্মান ভাষায় শঁহংঃষবৎ অর্থ শিল্প এবং ৎড়সধহ অর্থ উপন্যাস। মোট কথায় একজন শিল্পীকে কেন্দ্রে রেখে যে উপন্যাস গড়ে ওঠে তাঁকে শঁহংঃষবৎৎড়সধহ বলা যায়। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসে জাহেদ সেই শিল্পী আর তাঁর শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পই তেইশ নম্বর তৈলচিত্র। গল্পের কথন ধারায় ভষধংয নধপশ ও ভষধংয ভড়ৎধিৎফ কারিগরির ব্যবহার আছে। মূলত কাহিনীর উন্মোচন কিছুটা সড়হঃধমব ধরনের। জাহেদের চিত্র 'মাদার আর্থ' করাচিতে এক আন্তর্জাতিক একজিবিশনে প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। এ খবর দিয়ে উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদের যাত্রা। আর সাত দিনের সেই একজিবিশনের চার দিনের মাথায়ই জাহেদ স্ত্রী বিরহে ব্যাকুল হয়ে ঢাকায় ফিরে এসেছে এবং দরজার কড়া নাড়ার আগেই দরজা খুলে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়েছে 'সরুপাড় সালোয়ার-কামিজ পরা' তার স্ত্রী ছবি_এ বর্ণনা দিয়ে উপন্যাসের শেষ পরিচ্ছেদের ইতি। চার দিনের এ-মাথায় ও-মাথায় এভাবে উপন্যাসের শুরু ও শেষ দেখানো হলেও এরই মধ্যে আটকানো হয়েছে জাহেদের শিল্পী জীবনের প্রায় পুরোটা। ফলে বর্ণনায় মন্তাজ ধারাটি সফল হোক আর না হোক, উপন্যাসের প্রয়োজন মিটিয়েছে নিঃসন্দেহে।
মন্তাজ ধারার স্বাভাবিকতাকে গৌণ করে বর্ণনায় চেতনার চেয়ে ঘটনার প্রবাহ বেশি। ফলে শিল্পের পরিবর্তে শিল্পীই প্রক্ষেপিত আলোর কেন্দ্রবিন্দু। সে শিল্পী জাহেদ। তার সঙ্গে একজিবিশনে অংশগ্রহণকারী আরো শিল্পী আছে। রায়হান, মুজিব ও আমেদ। আরো এক শিল্পীকে আমরা পাই। একজিজিবিশনে নয়, কাহিনীর ভেতরে। সে শিল্পী মুজতবা। এভাবে উপন্যাসের ঘটনাবলির সংগঠকদের কেন্দ্রে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে আছে শিল্পী এবং শিল্পীরা। কিন্তু নাটকীয় ও রহস্যজনকভাবে এবং এমনকি হতে পারে লেখকের নিয়ন্ত্রণ-অভাবে সেই শিল্পীদের, শিল্পকে এবং তাদের শিল্পভাবনাকে নগণ্য করে দিয়ে উপন্যাসের বিষয়বস্তুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে বাংলা উপন্যাসের গতানুগতিক বস্তুপ্রেম। এক জোড়া যুবক-যুবতীর প্রেম। শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ধারায় শিল্পবোধ ও শিল্পতাত্তি্বকতার যেসব প্রশ্ন উপন্যাসটির ধারণ করার কথা জাহেদের প্রেম দিয়ে গড়া উপন্যাস তার তেমন কিছুই ধারণ করে না। শিল্পতত্ত্ব বা শিল্পবোধ বিষয়ে যা কিছু বক্তব্য আছে তা সরাসরি বাক্যে বিবৃত বাণী_কখনো জাহেদের মুখ নিঃসৃত, কখনো জামিলের, কখনো-বা অন্য কারোর। অথচ শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ধারায় কথা ছিল এগুলো বাণী না হয়ে সংকট বা প্রতীতি আকারে প্রতিভাত হবে শিল্পীর জীবনচিত্র দিয়ে।
তবে উপন্যাসটিকে জাহেদের শিল্পী হয়ে ওঠার দার্শনিক বোধ-ভাবনা ও যন্ত্রণার পুঁজিতে গড়ে ওঠা শঁহংঃষবৎৎড়সধহ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে না গিয়ে, জাহেদকে উপন্যাসের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়ে বাঙালি সমাজের যুগল প্রেমের সামাজিক মূল্যবোধের বুনিয়াদটিকে উপন্যাসের নায়ক হিসেবে কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দিলে এটিকে একটি ভিন্নতর শঁহংঃষবৎৎড়সধহ হিসেবে প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে আমার মনে হয়। সে ক্ষেত্রে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় শিল্পী হিসেবে দাঁড়াবে হাজার বছরের বাঙালি মূল্যবোধে গড়ে ওঠা আমাদের সমাজ এবং শিল্প হবে মানব-মানবীর প্রেম। নায়ক বাঙালি সমাজের বীক্ষণে উপস্থাপিত হয়েছে প্রেম নামক শিল্পের বিচ্ছিন্ন বহু চিত্র। এসব চিত্রের যোগফল উপন্যাসের কাহিনী এবং এগুলো সবই প্রেমের কাহিনী। প্রথম কাহিনী জোবেদা খালা ও আহাদ মিয়ার। জৌলুস ও বিলাসের লোভে জোবেদা ছেড়ে যান আহাদ মিয়াকে এবং বিয়ে করেন জনৈক খান সাহেবকে। বড় লোকের বউ হওয়ার শখভিত্তিক এ প্রেমের পরিণতি কী উপন্যাসের প্রথম পরিচ্ছেদেই তার বর্ণনা রয়েছে। আহাদ সাহেবের নাম শুনে জোবেদা খালা মূর্ছা যান। এটা জোবেদা খালার মূর্ছা নয়, এমন শখের প্রেমের প্রতি আমাদের সমাজের মূর্ছা। শিল্পী জাহেদের বিপরীতে অন্য শিল্পীর প্রেমও এ মূল্যবোধের বাঙালি সমাজের একটি আগ্রহান্বিত পর্যবেক্ষণের জায়গা। শিল্পী মুজিব রোমে এক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছিল মেয়েটির সবজি-ব্যবসায়ী স্বামীর সঙ্গে খাতির পাতানোর আশায়। শিল্পী আমেদ ব্যর্থ প্রেমের ক্ষতি পোষাতে এক নাবালিকার সঙ্গে ভাব জমিয়ে তাকে দিয়ে 'গোপনে একটি অস্বাভাবিক কাজের চেষ্টা করেছিল।' আর শিল্পী রায়হান প্রেম করেছিল প্রেমিকাকে ফুসলিয়ে অন্যের সঙ্গে কেলিরত হতে রাজি করিয়ে সেই কেলিরত দৃশ্য দেখে সুখ পাওয়ার আশায়। এ ছাড়া রয়েছে মুজতবা-রাধারানি সম্পর্ক, আকস্মিকভাবে এক দিনের জন্য জাহেদ-রাধারানি কাহিনী, আর সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা হিসেবে ছবি ও অজ্ঞাতনামা মার্চেন্টের কাহিনী। এগুলোর সব কাহিনীই মানব-মানবী সম্পর্কের বিকৃতরূপ এবং প্রেমরূপ শিল্পের এক জঘন্য চিত্র হিসেবে উপন্যাসের দ্ব্যর্থহীন উপস্থাপনা। বর্তমান ব্যাখ্যায় দাবি করা উপন্যাসের নায়ক আমাদের সমাজ এবং সমাজের মূল্যবোধ প্রেমের এ চিত্রগুলোকে কতটা জঘন্য ভাবছে সংশ্লিষ্ট বর্ণনা ও ভাষার তীব্রতা তার প্রমাণ।
এবার আসা যাক, জামিল ও মীরার প্রেম প্রশ্নে। সে প্রেমে চড়াই-উতরাই আছে, তবে উপন্যাসের কেন্দ্রীয় প্রেমকাহিনী জাহেদ-ছবির প্রেমের আদর্শিকতার জোরে এবং দাবিতে জামিল-মীরা প্রেমটি সব খানাখন্দ পেরিয়ে সমতলে পেঁৗছে যায়। এসব চিত্রের যিনি বীক্ষক সেই বাঙালি মূল্যবোধের সমাজ সদর্থক ও আদর্শিক অর্থে আবেগের প্লাবন নিয়ে অনুমোদন করেছে শুধু একটি চিত্র_শুধু একটি প্রেম, একটি কাহিনী। সেটি জাহেদ ও ছবির প্রেম। সে প্রেমের পরিচয়পর্ব, পূর্বরাগপর্ব, অভিমানপর্ব, অনুরাগপর্ব_সব পর্বেই শুধু আবেগ, উচ্ছ্বাস ও আদর্শের জয়জয়কার। সে প্রেমের প্রাণরস নিয়ে রচিত চিত্র 'মাদার আর্থ' করাচির আন্তর্জাতিক একজিবিশনে প্রথম হয়। সে প্রেমের টানে প্রথম হওয়া শিল্পী সাত দিনের একজিবিশন শেষ না করে চার দিনের মাথায়ই ছুটে আসে স্ত্রীর কোলে মুখ গোঁজার আশায়। সে প্রেমে আত্দার সব রিপু ধ্বংস হয়ে যায়_মদ ভালো লাগে না, বেগানা রমণীর দিকে তাকাতে সাধ হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। এমন সাধু-সন্ন্যাসীর প্রেম এবং এমন মহম্মদী প্রেমের জয়গান উপন্যাস তেইশ নম্বর তৈলচিত্র।
আদর্শ ও মূল্যবোধের পরাকাষ্ঠা এ প্রেমচিত্রের শিল্পী খুব স্বাভাবিকভাবেই কাম, ক্রোধ ইত্যাদি রিপুতাড়িত মানুষের পক্ষে হওয়া সম্ভব নয় বলে সমাজবাস্তবতা সাক্ষী দেয়। এ কারণেও বলা যায় যে প্রেমের এরূপ শিল্পকে বক্তব্যরূপে দাঁড় করিয়ে যে উপন্যাস দাঁড়ায় একজন মানুষরূপী শিল্পীর পক্ষে সে উপন্যাসের নায়ক হওয়া খুব বাস্তব নয়। শিল্পী আসমানী শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত হয়ে 'আশারায়ে মুবাশ্শারার' মর্যাদা লাভ করে না। তার অনুভূতিতে সদর্থক ও নঞর্থক শক্তির এক প্রচণ্ড আকর্ষণ-বিকর্ষণ থাকে। সেই আকর্ষণ-বিকর্ষণের তীব্রতা যত প্রচণ্ড থাকে তার বোধ ও অনুভূতিও তত বেশি শাণিত হয় এবং তার শিল্পের অভিব্যক্তিও তত বেশি শক্তিমান হয়। সাধুসুলভ একমুখী পুণ্যভাবনায় শিল্পী হওয়া সমাজবাস্তবতা নয়। তাই এ উপন্যাসকে যদি শঁহংঃষবৎৎড়সধহ ভাবতে হয়, তাহলে ব্যক্তি জাহেদের পরিবর্তে সেখানে নায়ক শিল্পী হবে আমাদের হাজার বছরের মূল্যবোধের আদর্শ সমাজ। তখন বলা যাবে, তেইশ নম্বর তৈলচিত্র বাঙালি সমাজের আদর্শ প্রেম শিল্পের এক শঁহংঃষবৎৎড়সধহ.
সে ক্ষেত্রে মুজতবা-তিনা প্রেমকাহিনী যেটি সম্পর্কে উপন্যাসের কথকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো ইঙ্গিতই পাই না, সেটিও আদর্শ বাঙালি সমাজের নায়কসুলভ মনস্তাত্তি্বক দ্বন্দ্ব প্রকাশের একটি ঘটনা হয়ে উঠতে পারে, যে দ্বন্দ্ব শঁহংঃষবৎৎড়সধহ-এর নায়কের জন্য অনেকটা অপরিহার্যরূপে গুরুত্বপূর্ণ। ছাইলাউংফার মেয়ে তিনা মুজতবাকে ভালোবেসে ফেলেছিল। চুংমুংলের সম্মুখে এক শূকর তিন মুরগি বলি না দিলেও তিনা তাকে স্বামী হিসেবেই বরণ করেছিল। কিন্তু মুজতবার কাছে প্রেম ছিল খেলা। সে খেলায় মুজতবা সফল খেলোয়াড় যখন ম্যাচটি সংঘটিত হয় রাধারানি বা এমন কারোর সঙ্গে। তিনার সঙ্গেও মুজতবা এমন ম্যাচ খেলে চলে যায়। কিন্তু তিনার ছিল এটি প্রেম, খেলা নয়। তাই প্রেমকে আরাধ্য ধরে তিনা খেলতে আগ্রহী জীবন নিয়ে। জীবনকে বাজি রেখে তাই সে শাহাদাতের বাংলোর কাছে এসে ডাক ছাড়ে মুজতবা...। সে ডাকে হঠাৎ সব এলোমেলো হয়ে যায়। মুজতবার কণ্ঠস্বরে কিছুক্ষণ পূর্বেও ছিল হিংস্র উল্লাসের রেশ_ছিল হুমকি 'বেশি বাড়াবাড়ি করলে জানটা হারাবে'। সেই মুজতবা হঠাৎ তিনার ডাক শুনে রাতের অন্ধকারে জীবনের মায়া ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে ছুটছে তিনার মায়ায়_আর পাহাড়ে পাহাড়ে একটা ডাক ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে যাচ্ছে তি-না...!
প্রেমের এই চিত্রটি শিল্পী জাহেদের শিল্পভাবনায় বড় কোনো দাগ কেটেছে বলে আমরা দেখছি না। কারণ সামাজিক দায়বোধ ও মূল্যবোধ এটিকে প্রত্যাখ্যান করে। তাই জাহেদের মহান শিল্পের প্রাণরস এ প্রেম থেকে উৎসারিত হয় না। শিল্পী জাহেদের জীবন এমন সিদ্ধান্তের প্রমাণ। এমন দ্বন্দ্ববিরহিত প্রেমভাবনা তথা শিল্পভাবনা শঁহংঃষবৎৎড়সধহ-এর নায়ক হিসেবে জাহেদকে মানায় না। সে ক্ষেত্রে আমাদের বাঙালি সমাজকে যদি এ শঁহংঃষবৎৎড়সধহ-এর নায়ক ধরা যায়, তাহলে বলা যায় আমাদের সমাজ হাজার বছর ধরে জাহেদীয় ঘরবাঁধা প্রেমের জয়গান গাইলেও মুজতবার সর্বনাশা প্রেমের বাস্তবতা ও গুরুত্বকে সে অন্তরালে হলেও এখনো অস্বীকার করতে পারছে না। জাহেদ পারলেও জীবনের প্রেমচিত্রের বীক্ষক ও পরীক্ষক হাজার বছরের মূল্যবোধের বাঙালি সমাজ এখনো পারেনি জাহেদধর্মী ও মুজতবাধর্মী এ দুই ধারার প্রেমের দ্বন্দ্বের মিটমাট করতে। এ দ্বন্দ্ব আছে বলেই নায়ক বাঙালি সমাজের এ গল্পে বিশাল অংশে শিল্পী জাহেদ থাকলেও সেই গল্পেই মুজতবা-তিনাদের গল্প বিষয়বস্তুর পুরো কাঠামোকে বিশাল শক্তিতে কাঁপিয়ে দেয়। পাঠক জাহেদের প্রেম প্রত্যয়ে যতটা পবিত্র বোধ করে, তার চেয়ে মুজতবার সংহারক প্রেমের ভয়াবহ ঘটনায় ট্র্যাজেডিসুলভ বিমোক্ষণ বেশি অনুভব করে বলে আমার বিশ্বাস।
Download and Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

জীবন যে রকম - আয়েশা ফয়েজ

amarboi.comজীবন যে রকম - আয়েশা ফয়েজ
হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল এবং আহসান হাবীব তিন জনপ্রিয় লেখকের গর্বিত জননী। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল ও হুমায়ুন আহমেদ এর মা রত্নগর্ভা আয়েশা ফয়েজ এর লেখা জীবন যে রকম বইটি। বইটির প্রচ্ছদ যথাযথ। বাংলার অল্পবয়স্কা একজন মায়ের সাদাকালো ছবি বইটির প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছে। তিনি তাকিয়ে আছেন, মনে হচ্ছে তিনি এ জাতিকে কিছু একটা প্রশ্ন করে বসবেন। প্রচ্ছদ উল্টালেই মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তাঁর মাকে নিয়ে লিখলেন কয়েক কলম। মাকে নিয়ে লিখতে লিখতে জাফর ইকবাল বলে ফেললেন ১৯৭১ সালের সে দিনগুলোর কথা। মুখবন্ধে আয়শা ফয়েজ লিখলেন, ১৯৯১ সালে তিনি গিয়েছিলেন আমেরিকায় মেজো ছেলে ইকবালের বাসায়। ঠিক সেখানে বসে অনেকটা খেয়ালের বশে লিখে ফেললেন জীবন যে রকম বইয়ের পান্ডুলিপি। দেশ সেরা সন্তানদের মায়ের সে লেখাগুলো পরবর্তীতে ছাপার অক্ষরে বের হলো বই হয়ে। মা হয়েও এই বইটি প্রকাশে উদ্যোগ নেওয়ায় আয়েশা ফয়েজ তাঁর পুত্র মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারলেন না। আত্নজীবনীর শুরুতেই তিনি ১৯৪৪ সালের একজন বেকার ছেলের গল্প দিয়ে শুরু করলেন। ঠিকই মনে রেখেছেন ১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারীর আট তারিখে একজন বেকার ছেলের সাথে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। বেকার লোকটির নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজুর রহমান। নতুন বউ হিসেবে নতুন পরিবারের দায়িত্ব্য, কর্তব্য কিভাবে পালন করলেন সবই উঠে এসেছে এই বইটিতে। গ্রামের চলমান কুসংস্কার নিয়ে সেসময়ের অনেক কথা জীবন্ত হয়ে উঠে এসেছে এই বইটিতে। আরও কিছু পৃষ্ঠা উল্টালেই পাঠক খুজে পাবেন নতুন মা হওয়ার একটি খবর। আয়েশা ফয়েজ মা হয়েছেন। যে শিশুটি এখন আমাদের হুমায়ুন আহমেদ। পোয়াতি মানুষের ভাইটামিন খাওয়ার ঘটনাটি সত্যিই হাস্যরসে ভরপুর। সে যুগে মুরুববীরা বিশ্বাস করতো পোয়াতি মানুষদের ভাইটামিন খাওয়ানো নিষেদ। ভূতের ঝাড়ু দিয়ে ঝাড়া দেবার ঘটনাও সত্যিই কৌতুকময়। বইটি পড়তে পড়তে মনে হবে এই ঘটনাটি এখনই ঘটলো বুঝি। এরপরের গল্পগুলোতে উঠে এসছে নেত্রোকনার মোহন গন্জ এর হুমায়ুন আহমেদ এর নানার বাড়ির কিছু ঘটনা। আজমীর শরীফের ফুল নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর উল্লেখ করার মতো। এতো নাটকীয় ঘটনার পর যে ছেলেটির জন্ম হলো তাঁর নাম রাখা হলো কাজল। সেই কাজল হলো আমাদের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ। সেই কাজলের আসল নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। কাজলের দাদা ও দাদী এই নামটি রেখেছিলেন। কিন্তু কাজলের বাবা ফয়জুর রহমান এই নামটি গ্রহন করেননি। তিনি নাম বদলে রাখলেন হুমায়ুন আহমেদ। তারপর একে একে উঠে এসেছে হুমায়ুন আহমেদ শৈশবের দুরন্তপনা, টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো। হুমায়ুন আহমেদ এর বোন শেফুকে নিয়েও তিনি লিখতে ভুলে যাননি। বর্ননায় এসেছে ইকবাল, শাহীন এবং শিখুকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা। ইকবাল কে নিয়ে নিয়ে লিখেছেন ছোটবেলা থেকেই ইকবাল ছিল পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী কিন্তু কাজল দুষ্ট প্রকৃতির। মনিকে নিয়ে লেখাগুলোর ভেতরে রয়েছে আদর মাখানো কিছু উক্তি। যেমন মনি কথা বলতে পারে না কিন্তু সত্যিই সে ছিল মিষ্টি স্বভাবের একটি মেয়ে। তারপর ফয়েজুর রহমান এর বদলির চাকরী কারনে আয়েশা ফয়েজ ঘুরেছেন সিলেট, পচাগড়, রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্রগ্রাম, বগুড়া, কুমিল্লা এবং অবশেষে ফিরোজপুর। ১২ নভেম্বর ১৯৭০ সাল থেকে উঠে এসেছে সেসময়ের রাজনীতির বিখ্যাত পুরুষদের কথা। শেখ মুজিব, ভাসানী, ইয়াহিয়াসহ অনেকের কথা তিনি অকপটে বলে গেছেন।





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দেশ পত্রিকা মকবুল ফিদা হুসেইন সংখ্যা ২০১১

দেশ পত্রিকা মকবুল ফিদা হুসেইন সংখ্যা ২০১১

দেশ পত্রিকা মকবুল ফিদা হুসেইন সংখ্যা ২০১১
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হোটেল গ্রেভার ইন - হুমায়ূন আহমেদ

নভেরা - হাসনাত আবদুল হাই

হোটেল গ্রেভার ইন
হুমায়ূন আহমেদ
হোটেল গ্রেভার ইন-এর প্রথম সংস্করণে কোন ভূমিকা ছিল না। ভেবেছিলাম, ভূমিকার প্রয়োজন নেই-পাঠক বুঝতে পারবেন যে হোটেল গ্রেভার ইন-এর গল্পগুলি আসলে বানানো গল্প নয়-স্মৃতিকথা। আমার মনে হয় সবাই তা বুঝতে পেরেছেন, তবু কেন জানি অসংখ্যবার আমাকে বলতে হয়েছে-না, এগুলি বানানো গল্প নয়। এবার ভূমিকাতেই লিখে দিলাম। আমার তু্চ্ছ স্মৃতিকথা যে পাঠকদের এত ভাল লাগবে তা আগে বুঝতে পারি নি। আমার ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো-এ আলো আমি কোথায় রাখব?
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

“আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজ উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমাণ রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানী হবে, চাওনা সেই সন্তান? আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না। জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি। তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানী রেখে যাব, ইসলামের নিশানা উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে।”
(নিষিদ্ধ লোবান, সৈয়দ শামসুল হক)
সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস “নিষিদ্ধ লোবান” কাহিনী খুব দীর্ঘ নয়, সম্ভবতঃ দুই কি তিনদিনের গল্প, কিন্তু সৈয়দ হকের সম্মোহনী গদ্য একটানে নিয়ে যায় চৌষট্টি পৃষ্ঠার উপন্যাসের শেষে। বিশাল অংশ জুড়ে আছে লাশ সরানোর, মাটি চাপা দেয়ার গল্প। টানটান বিবরণ। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি আর দেরি না করে পড়ে ফেলুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বসন্ত বিলাপ - হুমায়ূন আহমেদ

বসন্ত বিলাপ - হুমায়ূন আহমেদ
বসন্ত বিলাপ: হুমায়ূন আহমেদ
এই বইয়ের সূচিপত্রে চোখ বোলালেই প্রাথমিকভাবে এ রকমের একটা ধারণা পাওয়া যাবে যে লেখক হুমায়ূন আহমেদ কত বিচিত্র বিষয়কে ধারণ করতে চেয়েছেন! দুটি মাত্র ছোটগল্প ছাড়া নানা উপলক্ষে লেখা এই বইয়ের অন্তর্গত রচনা ও প্রদত্ত সাক্ষাৎকারগুলো পাঠককে বিষয়সম্পৃক্ত দিকগুলো নিয়ে কেবল নতুন করে ভাবাবে না, এ রকম সিদ্ধান্তেও তাকে আসতে প্রাণিত করবে যে হুমায়ূন কল্পনাবিলাসী কথাসাহিত্যিক মাত্র নন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মৌলিক চিন্তাভাবনারও অধিকারী। ‘আমরা কোথায় চলেছি?’ এবং ‘বাউল ভাস্কর্য/এখন কোথায় যাব, কার কাছে যাব’ শীর্ষক মন্তব্য-ভাষ্যে যে বক্তব্য তিনি পেশ করেন, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ কোথায়?
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তাঁর যে হাহাকারদীর্ণতা, তা যেন হয়ে উঠেছে সারা জাতিরই মর্মচেরা বিলাপের ধ্বনি।
‘স্মৃতি’ পর্বের লেখাগুলোর মাধ্যমে হুমায়ূন পাঠককে অন্য এক জগতে নিয়ে যাবেন। পরিহাসপ্রিয়তায় সিক্ত রচনার পাশাপাশি এখানে আছে স্মৃতিমেদুর একটি লেখা। শিরোনাম ‘আমার বাবার জুতা’। ‘এক এবং একা’, ‘হাবলঙ্গের বাজার’ ও ‘বসন্ত বিলাপ’ পড়া শেষে মন যেমন হালকা মেঘের সওয়ার হয়ে উঠবে, তেমনি ‘আমার বাবার জুতা’ সংবেদনশীল পাঠককে নিমেষে আবেগকম্পিত করে তুলবে। সামান্য নিদর্শন তুলে ধরা যাক স্মৃতিকাতর সেই রচনা থেকে। তার আগে জানাই, হুমায়ূনের বাবাকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করেছিল। কিন্তু খবরটি তাঁর মা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। হুমায়ূনের ভাষায়, এই দুঃসংবাদ শোনার পর তাঁর মা ডেকে বললেন, ‘তোরা এই লোকগুলোর কথা বিশ্বাস করিস না। তোর বাবা সারা জীবনে কোনো পাপ করেনি। এ রকম মৃত্যু তার হতে পারে না। তোর বাবা অবশ্যই বেঁচে আছে।’
কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর হুমায়ূনের সেই মা ঢাকা থেকে পিরোজপুরে গেলেন। নদীর পাড়ে, যেখানে বাবাকে কবর দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, সেই জায়গা নিজে উপস্থিত থেকে খোঁড়ালেন। কবর থেকে লাশ তোলা হলো। শরীর পচে গলে গেছে, কিন্তু নাইলনের মোজা অবিকৃত। মা পায়ের মোজা, দাঁত, মাথার চুল দেখে বাবাকে শনাক্ত করলেন, তাঁর স্বামী বেঁচে নেই। এভাবে ব্যক্তিজীবনের যে বিয়োগান্ত ঘটনা হুমায়ূন তুলে ধরেন, তা আর কেবল তাঁর একার হয়ে থাকে না, প্রতিটি শহীদ পরিবারে পরিব্যাপ্ত হয়ে যায়।
‘ক্রিকেট’ পর্বে আছে মোট তিনটি লেখা। রম্যধাঁচের লেখাগুলোর ভেতর দিয়ে ফুটে উঠেছে খেলাটির প্রতি হুমায়ূনের গভীর প্রীতি ও ভালোবাসার কথা। ‘মাঠরঙ্গ’ রচনাটি পাঠককে দেবে অনাবিল আনন্দ। প সাহিত্যকর্মের বাইরে সংস্কৃতির ভিন্ন দুটি শাখায় হুমায়ূনের আত্মনিবেদনের বিষয়ে জানতে হলে এই নিবন্ধ চারটি পড়া বাঞ্ছনীয়।
‘মৃত্যুচিন্তা’ পর্বে আছে মাত্র একটি সংক্ষিপ্ত অথচ পরমপাঠ্য নিবন্ধ। শিরোনাম ‘মাইন্ডগেম’।
‘ছোটগল্প’ পর্বে আছে দুটি গল্প। একটির শিরোনাম ‘শবযাত্রী’, অন্যটির ‘রস, কষ, সিঙাড়া, বুলবুলি, মস্তক’। অনন্য এই গল্প দুটি পাঠ করে পাঠক অভাবিত আনন্দের সহচর হবেন।
এই গ্রন্থের ‘সাক্ষাৎকার’ পর্বটি সবচেয়ে ঋদ্ধ অংশ। মোট আটটি ছোট-বড় সাক্ষাৎকারে হুমায়ূন আহমেদ এমন অনেক কথা বলেছেন, যা গভীর থেকে গভীরতর অনুভবসিক্ত উচ্চারণেরই নামান্তর। তিনি যখন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সমুদ্র আমাদের মা। সমুদ্র আমাদের ডাকবে না তো কে ডাকবে? আমরা হচ্ছি স্তন্যপায়ী’ অথবা ওই একই সাক্ষাৎকারে যখন তিনি জানান, ‘আমাদের প্রাণের শুরু সমুদ্র থেকে। সে জন্য আমাদের রক্তের ঘনত্ব আর সমুদ্রের পানির ঘনত্ব এক। আমাদের রক্তের আরএইচ আর সমুদ্রের আরএইচ এক। আমাদের শরীরের লবণাক্ততা সমুদ্রেরই মতো। সেহেতু সমুদ্র দেখলে সমুদ্রের কাছে যেতে ইচ্ছে করে আমাদের’, তখন থমকে গিয়ে ভাবতে হয়। অথবা যখন তিনি বলেন, ‘নিজের লেখা সম্পর্কে আমার অহংকার অনেক বেশি’, তখনো কি মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যাবে লেখক হুমায়ূনের দিক থেকে?
বস্তুত, এ বইয়ের সাক্ষাৎকারগুলো থেকে তাঁর মনোজগৎ অর্থাৎ তাঁর মনস্তত্ত্ব, তাঁর জীবন-দর্শন, সমাজ, রাজনীতি ও পরিপার্শ্ব ভাবনা, নিজের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে তাঁর মনোভঙ্গি, তাঁর জীবনাচার, জীবন ও মৃত্যু, বিশ্বাস, অবিশ্বাস, আধিভৌতিকতা, ধর্মবোধ, সর্বোপরি মানবিক মানুষ হুমায়ূন সম্পর্কে একটা সার্বিক ধারণা পাওয়ার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারি আমরা। সে বিচারে এ বই হুমায়ূন আহমেদের প্রায় আত্মজীবনীরই নিকটাত্মীয়।

প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন \ প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০১২ \ প্রচ্ছদপট: কাইয়ুম চৌধুরী \ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা কথাসাহিত্যে নারী-পুরুষের সম্পর্ক - হুমায়ূন আহমেদ

বাংলা কথাসাহিত্যে নারী-পুরুষের সম্পর্ক - হুমায়ূন আহমেদ

বাংলা কথাসাহিত্যে নারী-পুরুষের সম্পর্ক
হুমায়ূন আহমেদ

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ১৯৮৭ সালের ১০ থেকে ১২ অক্টোবর ‘সমকালীন বাংলা সাহিত্য’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী সেমিনারের কথাসাহিত্যবিষয়ক আলোচনা পর্বে কথাশিল্পী রশীদ করীম ‘উপন্যাসে স্ত্রী-পুরুষের সম্পর্ক’ এবং প্রাবন্ধিক হাসনা বেগম ‘বাংলা কথাসাহিত্যে নর-নারী সম্পর্ক’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পঠিত প্রবন্ধ বিষয়ে অন্যান্যের মধ্যে কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদও আলোচনায় অংশ নেন। তাঁর আলোচনায় একজন প্রবন্ধকারের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা আছে; পাশাপাশি রশীদ করীমের প্রাগ্রসর চেতনার প্রতি সমর্থনও লক্ষযোগ্য। আবার একটি স্বাধীন রচনা হিসেবে পাঠ করলে এ ক্ষুদ্রকায় লেখায় হুমায়ূন আহমেদের সমাজতাত্ত্বিক ভাবনার একটি পর্বেরও সন্ধান পাব আমরা। দেখব, কথাসাহিত্যে নর-নারীর সম্পর্ক বিষয়ে সমকালীন এই শক্তিমান কথাশিল্পীর অবস্থান তাত্ত্বিক পরিসরে নয়, বরং জীবনের বৃহত্তর পটে প্রতিস্থাপিত ছিল। খান সারওয়ার মুরশিদ সম্পাদিত সমকালীন বাংলা সাহিত্য সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ‘বাংলা কথাসাহিত্যে নারী-পুরুষের সম্পর্ক’ শীর্ষক হুমায়ূন আহমেদের রচনাটি অদ্যাবধি অগ্রন্থিত।

[রশীদ করীমের প্রবন্ধ: উপন্যাসের স্ত্রী-পুরুষের সম্পর্ক] শিরোনামে সামান্য পার্থক্য থাকলেও বিষয় মূলত এক, আর হয়তো এ কারণেই প্রবন্ধ দুটিতে দৃষ্টিভঙ্গির একটা আশ্চর্য সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে। নর-নারীর সম্পর্ক বলতে কী বোঝায়? যৌনতা অবশ্যই এর একটি বড় দিক এবং অবৈধ যৌন সম্পর্কও। কিন্তু এই কি সব? সম্পর্কের ব্যাপকতা তার অনস্বীকার্য বহুমাত্রিকতা কি কোনোই তাৎপর্য বহন করে না? নজিবর রহমানের আনোয়ারাতে আনোয়ারা এবং নুুরুল ইসলামের যে সম্পর্ক, তাকে কি নারী-পুরুষ সম্পর্ক বলব না? ফ্রয়েড সাহেব বলুক আর না-বলুক, যৌনতা নারী-পুরুষ সম্পর্কের একটি প্রধান দিক, তবে এ-ই সব নয়। নর এবং নারী শব্দ দুটিকে বিশেষ খণ্ডিত অর্থে গ্রহণ করলেও তা কেবল প্রেমিক ও প্রেমিকায় সীমাবদ্ধ থাকে না। হাসনা বেগম তাঁর কঠিন প্রবন্ধটিতে [বাংলা কথাসাহিত্যে নর-নারী সম্পর্ক] দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তিনটি মতবাদের আলোকে কয়েকটি উপন্যাস বা উপন্যাসে বর্ণিত চরিত্রের উল্লেখ ও আলোচনা করেছেন। আলোচনার এ পদ্ধতি তত্ত্বের প্রতিষ্ঠা জোরালো করতে পারে, তবে তা সাহিত্য বিশ্লেষণে বা অনুধাবনে কতটুকু সহায়ক—এ নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ আছে। জীবনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া সাধারণ সত্যই একসময় তত্ত্বের স্বীকৃতি পায়। কথাসাহিত্যিক জীবন থেকেই উপাদান গ্রহণ করেন। ফলে তত্ত্বের সঙ্গে সাহিত্যের সংগতি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই বলে জীবন বা সাহিত্য তত্ত্বের অনুসারী নয়; বরং উল্টোটাই সত্যি। অর্থাৎ, জীবন বা সাহিত্যই তত্ত্বের আশ্রয়। আলোচনার উপসংহারই তত্ত্বের সমর্থন সংস্থাপনের যোগ্যতম স্থান। এতে আলোচনা উন্মুক্ত থাকার অবকাশ পায়। ‘রক্তের সম্পর্ক বলে বিবেচিত’ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘দৈহিক বিষয়ের অবতারণা’য় ‘সামাজিক বাধা-নিষেধে’র কথা মনে করে হাসনা বেগম এ দিকটি এড়িয়ে গেছেন, কিন্তু রশীদ করীম তাঁর প্রবন্ধ শুরু করেছেন ইডিপাসের সংকট উল্লেখ করে। এই সূচনাকে কি আমি ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য করব? রশীদ করীম প্রবীণ কথাশিল্পী। অভিজ্ঞতা এবং অধ্যয়নে সমৃদ্ধ। তাঁর প্রবন্ধে উভয়েরই ছাপ আছে। এর চেয়েও বড় কথা, তাঁর তাত্ত্বিক আলোচনাও রস ও রসিকতায় ধন্য। যেখানে যৌনতা, বিশেষ করে অবৈধ যৌনতা প্রাধান্য পাবে, সেখানে মফিজন থেকে আলোচনা শুরু করে তিনি গভীর বোধের পরিচয় দিয়েছেন। মরহুম মাহবুব আলমের এই ছোট্ট উপন্যাসটি থেকেই সত্যিকার অর্থে এ দেশে জীবনের এই বিশেষ দিকটির রসোত্তীর্ণ রূপায়ণের সূচনা। তবে মফিজন যদিও যথার্থই স্ত্রী, খোকাকে কতটুকু পুরুষ বলে গণ্য করা চলে? নাকি অবৈধতার আরেকটি নতুন মাত্রা হিসেবেই এটি বিশেষ আকর্ষণীয়? জনাব করীমের সাহিত্যবোধ ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা প্রশ্নাতীত। তবে তাঁর আলোচনায় আরোপের সীমা নিয়ে আমার কিছু দ্বিধা আছে। শওকত ওসমানের জননীর দরিয়া বিবির উত্তপ্ত দিনের দিবানিদ্রাকে ‘ধর্ষিতা হওয়ার আয়োজন’ মনে করাকে বাড়াবাড়ি বলেই মনে হয়েছে। উত্তপ্ত দিনেই অনভ্যস্তরাও দিবানিদ্রায় যায়। কারণটা মানসিক নয়, নেহাতই শারীরিক। শ্রদ্ধেয় রশীদ করীম তাঁর আলোচনায় আমার মতো অভাজনের একটি রচনাকে গ্রহণ করে ধন্য করেছেন এবং খানিকটা লজ্জায়ও ফেলে দিয়েছেন। তবে রানুর চিন্তায় ‘আমি যা খুশি করব, যার সঙ্গে ইচ্ছা তারই অঙ্কশায়িনী হব’ এমন কিছু কি দূরে কোথায় উপন্যাসটিতে আছে? স্ত্রী-পুরুষ সম্পর্কের ভিন্নতর সংকটই ছিল আমার রচনাটির উপজীব্য। জীবনের অন্যতম সত্য হিসেবে যৌনতাও হয়তো তার মধ্যে আছে, তবে কাহিনির প্রয়োজনেই অবৈধ যৌন সম্পর্কের অবতারণার দরকার হয়নি। এখানেও কি এই আরোপণ অপরিহার্য ছিল? নাকি তা না করলে চরিত্রটির আধুনিকতা ক্ষুণ্ন হতো? মাহমুদুল হক, হুমায়ূন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলনের একটি করে উপন্যাসের কিছু নির্বাচিত অংশ বিশ্লেষণ করে লেখক তাঁদের প্রেম সম্পর্কিত বোধ ও বক্তব্যকে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। কিন্তু লেখক তো কখনো দাঁড়িয়ে থাকেন না। তিনি গতিশীল। তিনি সব সময় নতুন জীবনবোধের কথা বলতে চেষ্টা করেন। পুতুল নাচের ইতিকথায় নর-নারী সম্পর্কের যে দিকটির কথা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন—দিবারাত্রির কাব্যেও কি তা-ই বলা হয়েছে? তবে সত্যের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টায়। আর সাহিত্য-শিল্প সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি মেনে এই প্রকাশের মাত্রার হেরফের ঘটায়। একজন লেখক বা শিল্প সমাজেরই সদস্য। তার দৃষ্টিভঙ্গিও বহুলাংশে সমাজ-নিয়ন্ত্রিত। স্ত্রী-পুরুষ সম্পর্কের ব্যাপারে তাই কিছুটা রাখঢাক আসে। স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্রকে তাঁর নায়ক এবং নায়িকার শুধু কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ঝড়-বৃষ্টির রাত তৈরি করতে হয়েছে, বনের ভেতর নির্জন মন্দির তৈরি করতে হয়েছে। এই সমস্যা আজকের কথাশিল্পীদের নেই। তবে তাঁদের অন্য সমস্যা আছে। তাঁদের নায়কেরা নায়িকাদের সঙ্গে কথা বলেন, কিন্তু তাঁদের গায়ে হাত দিতে দ্বিধা বোধ করেন। অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিধাটি নায়কের নয়, লেখকের নিজের। অথচ খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার, সূচনা পর্বের প্রাচীন কবিতা বা চিত্র-ভাস্কর্যে অবাধ উন্মোচন আমরা লক্ষ করেছি। সমাজের তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ তখন ছিল না। আজকের গ্রাম্য গান, বিয়ের গান ও কিচ্ছা কাহিনিতে কিন্তু নর-নারী সম্পর্কের খোলামেলা বিষয়গুলো আছে। কিন্তু কথাসাহিত্যে আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি। এটা কি এক ধরনের ‘সফিসটিকেশন’? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একসময় যেন হঠাৎ করে ‘হৈমন্তী’ গল্পে শরীরের কথা নিয়ে আসেন, ‘কবে যে তাহার সাদা মনটির উপর একটু রং ধরিল, চোখে একটু ঘোর লাগিল, কবে যে তাহার সমস্ত শরীর ও মন যেন উৎসুক হইয়া উঠিল...’ ব্যস, এই পর্যন্তই। হৈমন্তীর শরীর উৎসুকের অন্য কোনো বিবরণ তিনি দেননি। সেই ঐতিহ্যই কি আমরা এখনো লালন করছি? আজকের দিনে সমাজের নিয়ন্ত্রণ প্রায় ক্ষেত্রেই কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে, কিন্তু নর-নারীর সম্পর্কের ব্যাপারে উদার থেকে উদারতর হচ্ছে। কথাসাহিত্যে আমরা তারই প্রতিফলন দেখছি। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে এই সম্পর্কের প্রতিফলন এ পরিবর্তনের আলোকেই বিশ্লেষিত হওয়া প্রয়োজন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কবিতার কি ও কেন - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

kabitar-ki-o-keno-nirendranath-chakravartiকবিতার কি ও কেন - নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
সামাজিক দায়বদ্ধতা, বিতর্ক–টিতর্ক, ওসব কাজের কথা নয়। একজন চাষী যখন লাঙল কাঁধে যখন মাঠে চাষ করতে যায় বা একজন শ্রমিক যখন তার হেতের নিয়ে কারখানায় কাজ করে, তখন কি তারা সমাজের উপকার করছে বলে সেগুলো করে? তা তো নয়, তারা ওই কাজ করে তাদের জীবন ধারণের জন্য, খাওয়া-পরার জন্য। কিন্তু কাজগুলো এমনই যে তাতে সমাজের উপকার হয়। যে ভাল লোক, সে কারোর উপকার করতে না পারুক, অপকার তো করে না। কীটস্-এর কথা ধরো, তিনি কখনও সোশ্যাল কমিটমেন্টের কথা বলেননি, কিন্তু তাঁর কবিতা কি সমাজের কোনও অপকার করেছে? একজন কবি তাঁর নিজের মুক্তির কথা লিখছেন, তা পড়ে অন্যেরাও মুক্তি অনুভব করছে। কবি তো আর দেবী স্বরসতীর সঙ্গে দায়বদ্ধতার চুক্তি করে লিখতে বসছেন না। তবে কবির দায়বদ্ধতা থাকে কবিতার প্রতি, নিজের প্রতি। সাহিত্যের শর্ত তাঁকে মানতে হয়। যারা সাহিত্যের শর্ত লঙ্ঘন করে, তারা সাহিত্যের ক্ষতি করে।
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দ্য গড অব স্মল থিংস - অরুন্ধতী রায়

amarboi
দ্য গড অব স্মল থিংস - অরুন্ধতী রায়
'দ্য গড অব স্মল থিংস' উপন্যাসটির লেখক স্থাপত্যবিদ্যার ছাত্রী অরুন্ধতী রায় এবং এটিই তার প্রথম গ্রন্থ। যে গ্রন্থে তিনি দেখিয়েছেন বাস্তবতার বিচারে এক আশাহীন বাস্তব পৃথিবী। আকাশি নীল দিন ঊনসত্তরের ডিসেম্বরের, একটা আকাশি নীল প্লেমাউথ, লেজের পাখনায় সূর্যরশ্মির ঝিলিক-ভুলে কচি ধানের ক্ষেত আর প্রাচীন রাবার বাগান পেরিয়ে কোচিনের দিকে ছুটতে ছুটতে ভেবে চলেছেন... কী ভাবছেন লেখিকা অরুন্ধতী রায়? যে কি-না সমকালীন হয়েও ভাবছেন তার পেছনের দিককার কথা, ইতিহাসের কথা। পাঠক 'দ্য গড অব স্মল থিংস' পড়তে অবশ্যই আপনাকে বেশ ক'টা বিষয় বুঝে-সমঝে এগোতে হবে। অনেকটা অন্ধকারে হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার মতো। অন্ধকার দালানটির সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে যেন কোনো গৃহপরিচারিকার হাতের গ্গ্নাস থেকে জল অথবা তরল জাতীয় পদার্থ সিঁড়িতে পড়ে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনাকে বেগবান করতে না পারে, এ জন্য আগে থেকেই এ উপন্যাসটির সারমর্ম উদ্ধারে পূর্ববর্তী পরিবেশ সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য থাকা আবশ্যক। এ উপন্যাসটি শুধু কল্পকাহিনীনির্ভর উপন্যাস নয়, এতে ইতিহাস আছে, শাশ্বত প্রেমের কথাও আছে। কোন ইতিহাসের কথা আছে এ উপন্যাসটিতে_ এর উত্তরে বলা যায়, যখন কেরালায় মার্কসবাদী পার্টি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। মেধাবী মার্কসবাদী নেতা ইএমএস নাল্ফু্বদ্রিপাদ যখন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় দফা ('৬৭) এবং প্রথমবার ('৫৭) সালে মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ের ঘটনা। বিশ্বের প্রথম নির্বাচিত বামপন্থি সরকার গঠন করেছিলেন তিনি। কিন্তু দুর্ভিক্ষ, কমিউনিস্ট পার্টিতে বিভক্তি, উগ্র বাম বা নকশালিদের দৌরাত্ম্য এবং অন্যান্য সংকট যখন কাউকে স্থিতিশীল থাকতে দেয়নি। 'দ্য গড অব স্মল থিংসে'র যে আখ্যানভাগটি রচিত হয়েছে এইমেনেম নামের অঞ্চলকে ঘিরে, সেটি নাম্বুদ্রিপাদের আদি পৈতৃক বাসস্থান। যেখানে প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো জাতপাতের বিভেদ, পার্টির নেতা এবং স্থানীয় বুর্জোয়াদের, লুম্পেনদের সঙ্গে আঁতাত, পুলিশি নৃশংসতা, প্রেমের মৃত্যু, দুটি অবোধ মেধাবী শিশুর অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়াটাকে লেখিকা সচেতন মানবিক দৃষ্টি দিয়ে দেখে মানতে পারেননি। এ উপন্যাসে লুম্পেন, বুর্জোয়া, গণতান্ত্রিক সুবিধাভোগী, আর চরমপন্থি সবারই কিছু ভূমিকা আছে। যে সময়টাকে লেখক উন্মোচন করতে চেয়েছেন সে সময়টা যথার্থভাবেই উন্মোচিত করতে পেরেছেন এ কথা বলা যায়। ঔপন্যাসিক 'দ্য গড অব স্মল থিংসে' যে ভাষাশৈলী ব্যবহার করেছেন তা অভূতপূর্ব। প্রতিটি বিষয়, ঘটনা, অনুঘটনার উপাদানকে ভেঙে ভেঙে একেবারে ভেতরের শাঁসটাকে বের করে দিয়েছেন পাঠকের হাতে। ডিটেইলের কারণে তার গল্প বলার ঢং পাঠককে মোহিত করে। মাঝে মধ্যে প্রতীকের ব্যবহার এ উপন্যাসের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি, এ কথা অংশত বলা বলা যায়। 'দ্য গড অব স্মল থিংস' অর্থাৎ 'ক্ষুদে জিনিসের দেবতা' কিংবা 'ক্ষুদ্র ঈশ্বর'_ এই আক্ষরিক নামের সঙ্গেও উপন্যাসের মূল বিষয় যথেষ্ট সঙ্গতিপূর্ণ। কেননা এ উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, সমাজের বা রাষ্ট্রের বঞ্চিত আশ্রিত আর অস্পৃশ্যরা বরাবরই বড় দেবতাদের কাছে ঘেঁষতে পারে না, তাদের সাক্ষাৎও দুরপনেয়। ফলে, দেবতা বা ঈশ্বর বঞ্চিতদের বানিয়ে দেয় শক্তিহীন ক্ষুদে ঈশ্বর। স্রেফ কোনো রকমে বেঁচে থাকার অবলম্বনহীন, জীবনের জন্য নয় নির্বাণের জন্যও নয়। হ্যাঁ, সত্যিই বঞ্চিতরা, অবহেলিতরা শেষ পর্যন্ত নিয়তিকে আলিঙ্গন করে বাঁচে, বেঁচে থাকতে হয়, কখনও বা নিয়তির কাছে নিজেকে সমর্পণ করেই মারা যায়। ঔপন্যাসিক যথার্থই এ নিয়তিবাদিতাকে এ উপন্যাসে বড় করে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। কেননা নিয়তি সবাইকে ধ্বংস করে, আশ্রয় দেয়, বেঁচে থাকার স্বপ্ন জোগায় আর সব আধা-আদিম বর্বর, নিষ্ঠুরতাকে নিয়তিই প্রশ্রয় দেয় সবশেষে। এ নিয়তিবাদের অনাদিকালের কামড়া-কামড়িকেই লেখক স্পষ্ট করে বলেছেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

Nijer Kachei Ektu Aporichito - Sunil Gangopadhyayসুনীল কি বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর যাত্রার দিন এগিয়ে আসার কথা? প্রিয় কবির নতুন কাব্যের কাছে নতজানু হয়ে দাঁড়িয়ে, মনে হল এই কথাটি প্রথম। কেন না, এ কাব্যের প্রতিটি কবিতার চরণ ছুঁয়ে ছুঁয়ে মৃত্যুর অনিবার্য উপস্থিতি। এবং কাব্যের নাম যখন, ‘নিজের কাছেই একটু একটু অপরিচিত’!
একচল্লিশটি কবিতা নিয়ে এবার বইমেলায় আনন্দ প্রকাশনার সিগনেট প্রেসের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়েছে সুনীলের এই নতুন কাব্যগ্রন্থটি। সঙ্গে শেক্সপিয়ারের জনপ্রিয় ট্র্যাজেডি ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ এর কবিকৃত অনুবাদ। আশির দশকে গীতা মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘রূপসা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ‘রোমিও জুলিয়েট’। ৮২-র মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রকাশিত হলেও কবির ব্যস্ততার কারণে বন্ধ হয়ে যায় অনুবাদের কাজ। এবার সেই অসম্পূর্ণ অনুবাদ দু’ মলাটে এল, এ কাব্যে।
প্রথম কবিতা, ‘স্বাতী, তোমার সঙ্গে’। শুরু করছেন এভাবে, ‘প্রথম চিঠিতে দেখা, তারপর ছন্নছাড়া কত ঘোরাঘুরি/ প্রথম আলাপের দু’ বছর সাতাশ দিন পর/ একসঙ্গে বাড়ি ফেরা/ অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিল, আর অনেকে কী জানি...’। এ তো যেতে যেতে ফিরে তাকানোর ভঙ্গি। যেন, নিভৃতে স্মৃতির কাছে রেকাব পেতেছেন কবি। ‘দেশ’ পুজোবার্ষিকীতে প্রকাশিত এই কবিতা ,‘এক সন্তান’ বা, ‘এখন যে কোনও মৃত্যুই’ কবিতা যেন সুনীলের বিধুর ফ্যামিলি অ্যালবাম। কবি সুবোধ সরকার ‘পাঠক তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখছেন, ‘যে অ্যালবাম খুলে বসলে নতুন একজন সুনীলকে দেখা যাবে- বউ আর ছেলের জন্য এত মমতা, মানুষের জন্য এত মন ভাল করা উদ্বেগ, শান্তিনিকেতনে উঠোনের কোনায় দাঁড়ানো গাছটির জন্য যেন একটা ম্যানিফেস্টো লিখে রেখে গেলেন’। জায়ার জন্য ‘সময় সমগ্র’-তে ‘সনির্বন্ধ শেষ মিনতি’ জানিয়ে গেলেন, ‘তুমি স্বাতীকে সহসা ছুঁয়ো না’!
একই কবিতার কোলন, কমা, সেমিকোলনে থামতে থামতে বদলে যায় কবিতার পরিচিত অর্থ-বোধ। চেনা ভাষ্যের অন্তরাল সরিয়ে খুলে যায় একে একে কবিতার অন্তরমহলে নিহিত সত্যের হাজার দুয়ার! এ কাব্যে সুনীলের ‘কবিতার গল্প কিংবা গল্পের কবিতা’ শীর্ষক কবিতাটি ঠিক তেমন।

হয়তো কথাসাহিত্যে সফলতার হাত ধরে এ কবিতায় স্মৃতিকাতর কবি কথক বলেই, গল্পের তরে পাঠক-হৃদয়ে এসে লাগে ভাললাগার ঝিলমিল রঙ! সুনীলের এই প্রবণতা তাঁর ‘বন্দী জেগে আছো’ কাব্যের কাল থেকে। এই কবিতার মতো, হৃদয়বান পাঠক খেয়াল করবেন ‘কেউ কথা রাখেনি’, ‘নীরার অসুখ’, ‘বাড়ি ফেরা’ বা, ‘না পাঠানো চিঠি’ প্রভৃতি কবিতাতেও গল্পের আদল। তাঁর কবিতায় গল্পের আদল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- একাকিত্বে কিংবা জনতায়’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধে তাই অধ্যাপক কুন্তল রুদ্র লিখছেন, ‘তাঁর কবিতায় একটি চিত্রের বলয় গড়ে ওঠে, কোথাও তার সঙ্গে এসে দাঁড়ায় চরিত্রের আদলে কিছু মানুষের মুখ। ... সুষ্ঠভাবে এই প্রবণতা ধরা পড়ে ‘বন্দী জেগে আছো’ কাব্যগ্রন্থ থেকে’। এ কবিতায় কবিতার ‘কাঠবেকার আমি’-র সঙ্গে নয়না নামের এক মেয়ের গল্পে চিত্রার্পিত। প্রথাগত কোনও ছক নেই, নয়নাকে নিয়ে গল্প বলাতেই যেন কবির আনন্দ। এক মেঘদূত সন্ধ্যায় টিউশন পড়াতে গিয়ে ‘মেধাবিনী’ মৃগনয়না নয়নার একটি স্তন অনধিকার স্পর্শের লোকলজ্জা বইতে বইতে কবিতার শেষে পর্বে এসে দাঁড়িয়েছেন, জীবনের প্রান্তবেলায়। হাসপাতালের কিউবিকলের নির্জনে, প্রৌঢ়া নয়না নিজেই কাতর হয়ে তার অন্য একটি স্তন ছুঁয়ে দেবার জন্য কিশোরীবেলার সেদিনের টিউটরকে বলেছে, ‘ওগো মাস্টারমশাই তুমি আমার এই দিকটা ছুঁয়ে ছিলে/ অন্য দিকটা ছোঁওনি, সে জন্য সে বেচারির অভিমান/ এখনও মাঝে মাঝেই আমাকে তা জানায়/ শোনো, জরুরি কথাটা হচ্ছে, তোমাকে একবার/ এই দিকের বুকটা একবার ছুঁয়ে দিতেই হবে/ নিজের হাত তুলে স্বেচ্ছায়’! কবিতার ‘আমি’ নয়নার ইচ্ছেপূরণ না করেই ফিরিয়ে দেয়। মৃত্যুচেতনার সঙ্গে জড়িয়ে যায় যৌনচেতনা। ‘সে চলে যাবার পর’ তাই কবি লেখেন স্পর্শগম্য থেকে হৃদিগম্য উড়ানের এক অক্ষয় সত্যের কথা। ‘এক মহিলার একটা স্তন ছোঁয়া বাকি আছে সে জন্য/ আমাকে বেঁচে থাকতে হবে’। গদ্যের স্পর্ধা অগণন কবিতার চুড়োয় যেন কাব্যের হিরণ্ময় দ্যুতি!

‘কবিতার সুখদুঃখ’ গদ্যে সুনীল লিখেছিলেন, ‘ব্যক্তিগত অনুভূতি ছাড়া আর কোনো কিছুই আমার সম্বল নেই- সাহিত্যের কাছে আমি অসহায়’। সে অভিজ্ঞতা স্তরে স্তরে তাঁর ‘সংবিৎকে’ ভিতরের দিকে ও বাইরের দিকে বাড়িয়ে তুলেছে, যা তিনি বলেছেন কবিতায়। ‘নারী’ এই চিরন্তন শব্দের অক্ষয় অনুষঙ্গে ‘নীরা’ নয়, এ কাব্যে ‘নারী’ শব্দটি এসেছে কবিতার শীর্ষকে দু’বার। প্রথমটি ‘নারীরা শুধুই নারী’ এবং পরের বার ‘নারী ও শিল্প’ কবিতার শীর্ষকে। প্রথমটি যদি হয় স্মৃতির রানওয়ে থেকে ‘নারী ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব’ কথাটির উড়ান, দ্বিতীয় কবিতায় কবির ঘরে ফেরা।

প্রথমে বিষ্ণু দে, পরে বুদ্ধদেব বসুর কবিতার সুঁড়ি পথে সুনীলের কাব্য-সঙ্গীতের যে বিস্তার শুরু হয়েছিল, এ কাব্য যেন সমে ফেরা। নাতিদীর্ঘ চরণ বিন্যাসে ‘পাখির চোখে দেখা’ সে ফেরার পর্বে যেন এক একটি তান-তোড়-ঝালা! অনবদ্য এই কবিতা সিরিজ। যে এককের কথায় শুরু হয়ে ছিল এ নিবিড় পাঠ-লেখা, কবির সেই বিশেষ প্রবণতা সিরিজ হোক বা, ‘পলাতকের কবিতা’, ‘দ্বিধা’, ‘দেওয়াল’, ‘মুহূর্ত ভাঙার শব্দ’- এর মতো কবিতায়, সর্বত্র দীপিত। সবখানে নিঃসঙ্গ এক মানুষের স্মৃতিকাতরতা এবং মৃত্যুর বিষম শব্দের ঝনঝনি! ‘বৃষ্টিতে অমলেন্দু’ তাই ‘একলা অন্ধকার চেয়ারে’ বসে থাকে! ‘কথা রাখা না রাখার কবিতা’-র শেষে কোনও পূর্ণযতি না দিয়ে সুনীলকে লিখতে হয়, ‘শহরতলির রাত্রি ঘন হল, ডেকে উঠল একটি রাতপাখি/ দেহের আকার নেই, তবু ইতস্তত ঘোরে কয়েকটি জোনাকি...’!
Download
Nijer Kachei Ektu Aporichito - Sunil Gangopadhyay [139 pages, 2 mb, amarboi.com]
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শার্লক হোমস গল্প সংগ্রহ

শার্লক হোমস গল্প সংগ্রহ
শার্লক হোমস গল্প সংগ্রহ

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ভিন ভাষার চারটি গল্প

ভিন ভাষার চারটি গল্প
ভিন ভাষার চারটি গল্প
গভীরতম অনুভূতি, কল্পনা বা অভিজ্ঞতা ভাষায় রূপান্তরই কি অনুবাদ নয়? মানবিক অনুভূতির পরম্পরা জানতে ভাষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু হেমলেট, ইডিপাস, পোপল বু, মেঘদূত, দন কিহোতে, মহাভারত, গিলগামেস, ডিভাইন কমেডি বা রুবাইয়াত যদি স্ব স্ব ভাষায় পড়তে হতো, তাহলে আমাদের জানার পরিধি সীমিতই থেকে যেত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 'মেঘদূত'-এর অনুবাদের ভূমিকায় বুদ্ধদেব বসু লিখেছেন, 'অনুবাদই প্রাচীন ক্লাসিক সাহিত্যকে সজীব ও সমকালীন সাহিত্যের অংশ করে তোলে।' এই কথার বিপক্ষে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ লেখাগুলোর বিশ্বসাহিত্যের দরবারে প্রবেশ ঘটেনি এখনো। বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিকগুলো যত দিনে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত না হবে, তত দিন আমাদের সমকালীন সৃজনশীল লেখার তুলনামূলক আলোচনা বিশ্বদরবারে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ_সরকারি ও বেসরকারি উভয়ভাবেই। তাছাড়া বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলায় যে অনুবাদ হয়, তার বেশির ভাগই দুর্বল। এই সংকট থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা। এই সংখ্যায় চারজন নারী লেখকের চারটি অনুবাদ গল্প প্রকাশিত হলো।


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com