সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label muktijuddho. Show all posts
Showing posts with label muktijuddho. Show all posts

সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ - সুহান রিজওয়ান

amarboi
সাক্ষী ছিল শিরস্ত্রাণ - সুহান রিজওয়ান


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একাত্তরের চিঠি - সম্পূর্ণ বইটির পিডিএফ

একাত্তরের চিঠি

একাত্তরের চিঠি
একাত্তরের চিঠি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা ৮২ টি চিঠির একটি সংকলন। দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীনফোনের উদ্যোগে চিঠিগুলো সংগ্রহ করা হয়। সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় চৈত্র ১৪১৫, মার্চ ২০০৯ এ। সালাউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সম্পাদনা পবিষদে আরও ছিলেন আমিন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

“আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজ উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমাণ রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানী হবে, চাওনা সেই সন্তান? আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না। জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি। তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানী রেখে যাব, ইসলামের নিশানা উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে।”
(নিষিদ্ধ লোবান, সৈয়দ শামসুল হক)
সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস “নিষিদ্ধ লোবান” কাহিনী খুব দীর্ঘ নয়, সম্ভবতঃ দুই কি তিনদিনের গল্প, কিন্তু সৈয়দ হকের সম্মোহনী গদ্য একটানে নিয়ে যায় চৌষট্টি পৃষ্ঠার উপন্যাসের শেষে। বিশাল অংশ জুড়ে আছে লাশ সরানোর, মাটি চাপা দেয়ার গল্প। টানটান বিবরণ। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি আর দেরি না করে পড়ে ফেলুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে - মাহবুব আলম

গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে - মাহবুব আলম

গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে
মাহবুব আলম
গেরিলা থেকে সম্মুখ যুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে লেখা একটি এপিকধর্মী কাহিনী।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমি বিজয় দেখেছি - এম আর আখতার মুকুল

আমি বিজয় দেখেছি - এম আর আখতার মুকুল
আমি বিজয় দেখেছি - এম আর আখতার মুকুল
প্রথম পুরুষে লেখা আত্মস্মৃতি বা তৃতীয় পুরুষে লেখা ব্যক্তির জীবনীও সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠতে পারে। এমন নজির মোটেও বিরল নয়। এম আর আখতার মুকুলের লেখা আমি বিজয় দেখেছি এমন এক গোত্রভুক্ত রচনা-কর্ম, যাকে সহজে না বলা যাবে আত্মকথা, না বলা যাবে নিরেট ইতিহাস-কথন। বইয়ের ভূমিকায়ই এর সাক্ষ্য মেলে, যেখানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেছেন, ‘একটি ধরনের আত্মকাহিনী যদি উপন্যাসের কাছাকাছি হয়ে থাকে, তাহলে আরেক ধরনের আত্মকথাকে বলতে হয় ইতিহাসের সগোত্র। এ-জাতীয় রচনায় ব্যক্তির আত্মবিকাশের কাহিনী যতটা স্থান পায়, তার চেয়ে বেশি রূপ পায় একটা দেশ ও কালের বিচিত্র বৈশিষ্ট্য। যাঁরা এ দিকটায় জোর দেন, তাঁরা একটা বিশেষ সময় ও এলাকাকে ঘিরে স্মৃতিকথা রচনায় মনোনিবেশ করেন।’
‘“আমি বিজয় দেখেছি” মূলতঃ এ-জাতীয় গ্রন্থ।’
এ বইকে সরাসরি লেখকের আস্ত আত্মজীবনী বলা না গেলেও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে আবর্তিত তাঁর জীবনকথা বলে অভিহিত করা যাবে নিঃসন্দেহে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গ্রন্থকার কেবল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র মারফত সম্প্রচারিত বহুল জনপ্রিয় ‘চরমপত্র’-র লেখক ও পাঠক ছিলেন না, ছিলেন উল্লিখিত প্রচারমাধ্যমটির অন্যতম মূল সংগঠকও। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন ও প্রশাসনিক তৎপরতাকে একেবারে অন্দরমহল থেকে চাক্ষুষ করার এবং মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে গৃহীত সাংগঠনিক উদ্যোগ ইত্যাদিকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। ফলে এই গ্রন্থে যেমন প্রামাণ্য ঘটনার সমাহার ঘটেছে, তেমনি থেকে থেকেই তিনি স্মৃতিচারণার সূত্রে প্রসঙ্গত ফিরে গিয়েছেন দূর ও অনতি-অতীতে। এতে অন্তর্ভুক্ত ঘটনার কালগত সীমা আক্ষরিক অর্থে মুক্তিযুদ্ধের মাত্র নয় মাস অর্থাৎ ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর হলেও এর ফ্ল্যাশব্যাকের সীমা আরও বিস্তৃত—ব্রিটিশ শাসনামল, সন্ত্রাসবাদী সংগ্রাম, গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন, তেতাল্লিশের মহাদুর্ভিক্ষ, ছেচল্লিশের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, সাতচল্লিশের ভারত উপমহাদেশের বিভক্তি, আবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি, পাকিস্তানের পূর্ব অংশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মাটিতে পাঞ্জাবি শাসক-শোষকদের নানা অমানবিক নিপীড়ন-নির্যাতন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি, যুক্তফ্রন্টের বিজয়, যুক্তফ্রন্ট সরকারের পতন, আটান্ন সালে লৌহমানব আইউব খানের সামরিক শাসন, বাষট্টির ছাত্র আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু, এরই পথ ধরে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়, ইয়াহিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা, অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা, একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাত, ২৬ মার্চ বেতার মারফত বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠের মতো প্রসঙ্গ যেমন এসেছে, তেমনি নিজের একান্ত প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন এম আর আখতার মুকুল।
এ গ্রন্থে লেখক নিজেকে নিয়ে কখনো কখনো পরিহাসও করেছেন। যেমন—এক জায়গায় জানাচ্ছেন, আইউব খান ক্ষমতাসীন হওয়ার পর যে তিনি পাকিস্তান বেতারে পাকিস্তানের গুণগান করে কথিকা পাঠ করেছিলেন, সেই তিনি আজ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘চরমপত্র’ পাঠ করছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে।
স্মৃতিসূত্রে মুক্তিযুদ্ধের যে ব্যাপ্ত ইতিহাস রচনা করেন এম আর আখতার মুকুল, তাকে তুচ্ছমূল্য করার অবকাশ নেই।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল - মহিউদ্দিন আহমদ

এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল - মহিউদ্দিন আহমদ
এই দেশে একদিন যুদ্ধ হয়েছিল - মহিউদ্দিন আহমদ





Option #1

Option #2
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র - হুমায়ূন আহমেদ

muktijudher-uponnayas-samagra-humayun-ahmed
মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস সমগ্র - হুমায়ূন আহমেদ
এই সমগ্রে রয়েছে সর্বমোট ৬টি উপন্যাস।
১. শ্যামল ছায়া
২. নির্বাসন
৩. ১৯৭১
৪. সৌরভ
৫. আগুনের পরশমণি
৬. সূর্যের দিন






This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মুক্তিযুদ্ধ কোষ (সকল খণ্ড) - মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত

মুক্তিযুদ্ধ কোষ (সকল খণ্ড) - মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত মুক্তিযুদ্ধ কোষ (সকল খণ্ড) - মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত
গত শতাব্দীতে বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
ত্রিশলক্ষেরও বেশি বাঙালি শহীদ হন আর ছয়লক্ষের মতো নারী হন ধর্ষিত।
আহত অগুনিত।
মুক্তিযুদ্ধ অভিঘাত হেনেছিল প্রায় প্রতিটি বাঙালি পরিবারে।
একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন, তেমনি অবরুদ্ধ দেশে থেকেও প্রায় সব বাঙালি মুক্তি অর্জনে সহায়তা করেছেন।
তাদের সবার দুঃখ বেদনা, আত্মত্যাগ, বিজয়, আনন্দের গাথা এবং হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তিকমিটির অবর্ণনীয় অত্যাচার, গণহত্যার বিবরণ ১২ খণ্ডের মুক্তিযুদ্ধ কোষ।
১২ খণ্ডে সমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ কোষ এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা প্রায় ৮০৩৪ এবং ভুক্তি সংখ্যা ২০,৩৯১টি।
স্বাধীনতার চারদশক পর আমরা পেলাম ১২ খণ্ডে প্রায় পূর্ণাঙ্গ একটি মুক্তিযুদ্ধ কোষ।
বইগুলো অনলাইনে যৌথভাবে এনেছে আমারবই ডট কম এবং মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট।
Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একাত্তরের ডায়েরী - সুফিয়া কামাল

একাত্তরের ডায়েরী - সুফিয়া কামাল একাত্তরের ডায়েরী - সুফিয়া কামাল

১৯৭১ সালে লেখা সুফিয়া কামালের দিনলিপিতে উঠে এসেছে একাত্তরের যুদ্ধকালীন সময়ের যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের নানা মুহূর্ত। যা ওই সময়ের আতঙ্কগ্রস্ত, বিধ্বস্ত জীবনকে উপলব্ধি করতে পাঠকদের সহায়তা করে। এ দিনলিপি লেখা প্রসঙ্গে সুফিয়া কামাল লিখেছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস আমি বারান্দায় বসে বসে দেখেছি পাকিস্তানী মিলিটারীর পদচারণা। আমার পাশের বাসায় ছিল পাকিস্তানী মিলিটারীরর ঘাঁটি। ওখানে দূরবীন চোখে পাকবাহিনীর লোক বসে থাকতো। রাস্তার মোড়ে, উল্টো দিকের বাসায় সবখানে ওদের পাহারা ছিল।’

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথনDownload
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা - মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া

jonojuddher-gonojoddha-major-qamrul-hassan-bhuiyan
জনযুদ্ধের গণযোদ্ধা - মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া Download
আপাতদৃষ্টে দুর্ভাগ্য মনে হলেও আদতে জনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারা যেকোনো জাতির জন্য এক পরম সৌভাগ্যের ঘটনা। জনযুদ্ধ সংঘটনের সময়ে আপামর জনগণকে নিদারুণ কষ্ট ভোগ করে এবং অবর্ণনীয় ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। একাত্তরে যে জনযুদ্ধ বাঙালি জাতি করেছে, তা অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদি হলেও এটাই ছিল প্রকৃত জনযুদ্ধের বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ। আমাদের সর্বস্তরের মানুষ একই সমতটে এসে জড়ো হয়েছিল একই ঈপ্সিত লক্ষ্যে।
জনযুদ্ধের যোদ্ধাদের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়—নাগরিক যোদ্ধা, অনিয়মিত সৈনিক, গেরিলা যোদ্ধা। এরা সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে আসা সাধারণ মানুষ, নিয়মিত বা প্রচলিত সৈনিক নয়। আমরা তাদেরকে বলি গণযোদ্ধা। এরা অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র, নৌকার মাঝি, গেরস্ত ঘরের কামলা, ট্রাক ড্রাইভার, মোটরসাইকেল মেকানিক, কদাচিৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এদের বেশির ভাগই জানত, দেশ স্বাধীন হলে এরা কেউ সেনাবাহিনীতে জেনারেল, সরকারের সচিব বা কোটিপতি ব্যবসায়ী হতে পারবে না। এদের তখন যেমন বছরের খোরাক জুটতো না দেশ স্বাধীন হলেও জুটবে না। এরা যুদ্ধে শহীদ হলেও এদের সন্তানদের গৃহস্থের দয়া আর দাক্ষিণেই থাকতে হবে। এই অতি সাধারণরাই অসাধারণ গুণাবলি প্রদর্শন করেছে। কলমের কাজ অস্ত্র দিয়ে হয় না, তেমনি তার উল্টোটাও সত্য।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উষার দুয়ারে - আনিসুল হক (যারা ভোর এনেছিল এর দ্বিতীয় পর্ব)


amarboi.com
উষার দুয়ারে - আনিসুল হক (যারা ভোর এনেছিল এর দ্বিতীয় পর্ব)

Download

পুলিশ ভেঙে ফেলল ১৯৫২ সালের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি। শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি পেলেন ফরিপুর কারাগার থেকে অনশন ধর্মঘট করার পর। তাঁর আব্বা তাঁকে নিয়ে গেলেন গ্রামের বাড়িতে। সেখানেই মুজিব জানতে পারলেন তাঁর নেতা সোহরাওয়ার্দীর মনোভাব- বাঙালিদেরও উর্দু শিখতে হবে। এবার কী করবেন মুজিব? তাজউদ্দীনরা ভাবছেন, একটা আলাদা দল করতে হবে। গণতন্ত্র দল গঠনের তৎপরতার সঙ্গে খানিকটা যুক্ত থাকলেন তিনি। মওলানা ভাষাণী কারাগারে। সেখান থেকে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়া, তাজউদ্দীনের আওয়ামীতে যোগ দেওয়া, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, এ কে ফজলুল হকের প্রধানমন্ত্রী হওয়া, আর শেখ মুজিবের মন্ত্রিত্ব লাভ এবং মন্ত্রীর বাড়ী থেকে সোজা জেলযাত্রা। তিনটি শিশুসন্তান নিয়ে রেনুর অকূলপাথারে পড়ে যাওয়া।
রাজনীতির ডামাডোল ওলটপালট করে দেয় ব্যক্তিমানুষেরও জীবন।এই রাজনীতির গতি-প্রকৃতি কেবল একটি দেশের নেতা বা জনগণ নির্ধারণ করে না, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলে ওয়াশিংটন থেকেও। ব্যাঙ্গামাআর ব্যাঙ্গামি তো তা-ই বলতে চায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের ইচ্ছাই কি জয়ী হয় না?

ভূমিকা
যারা ভোর এনেছিল বেরিয়েছিল ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এবার বেরুচ্ছে উষার দুয়ারে। এটি আসলে যারা ভোর এনেছিল উপন্যাসের পরবর্তী পর্ব। আগের বইটির মতোই এই কাহিনি রচনাকালে বিভিন্ন বই থেকে সাহায্য নেওয়া হয়েছে ব্যাপকভাবে। কোথাও কোথাও নেওয়া হয়েছে একেবারে দুহাতে, কোথাও করা হয়েছে পুনর্লিখন। এবার সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করা হয়েছে ২০১২ সালে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্নজীবনী থেকে।
তার পরও বলব, এই বই উপন্যাস,ইতিহাস নয়। বাংলাদেশের নামে এই প্রিয় দেশটি আমরা কীভাবে পেলাম, কারা ছিলেন আমাদের স্বাধীনতার ভোরের কারিগর, কেমন মানুষ ছিলেন তাঁরা- ইতিহাসের নির্জীব শুষ্ক মানুষ নয়, জীবন্ত মানুষ-এই কাহিনীতে তা-ই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
যারা ভোর এনেছিল প্রকাশের পর পাঠকের বিপুল সাড়া আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আনিসুল হক
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র (০১ থেকে ১৫ খন্ড)

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র (০১ থেকে ১৫ খন্ড)

মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র (০১ থেকে ১৫ খন্ড)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র ১৫ খণ্ডে সমাপ্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসমালা। এটি হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ও হাক্কানী পাবলিকেশনস থেকে প্রকাশিত।
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একাত্তরে একদল দুষ্টু ছেলে - আনিসুল হক [বইমেলা ২০১৩]

Eakatture Eakdal Dushtu Chhele Anisul Haque
একাত্তরে একদল দুষ্টু ছেলে - আনিসুল হক

একাত্তরের একদল দুষ্টু ছেলে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা একটি কিশোর উপন্যাস। এ উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে কিশোরদের অবদান এবং তৎকালীন সামাজিক অবস্থা লেখকের অদ্ভুত বাস্তব ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
সোনাতলা গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠরত একদল দুরন্ত ছেলে একটি দল গঠন করতে চায়। পল্টুমামার কাছে জানতে চাইলে তিনি একবাক্যে দুষ্টু ছেলের দল নাম দিয়ে দেন। পরে অবশ্য একটা ভাল নামের কথা বলায় নাম পরিবর্তন করে “সূর্যসেনা সংঘ” রাখা হয়। এ দলের কার্যালয় হিসেবে একটি নেমপ্লেটে দলের নাম খোদাই করে দুটো গাছের সাথে লাগিয়ে দেয়া হল। এ সংঘের দুষ্টু ছেলেরা প্রায়ই বিভিন্ন মিছিলে যোগদান করে, কারণ সময়টা তখন উত্তাল মুক্তিযুদ্ধের সময়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এরা এক দর্জিকে দিয়ে বাংলার পতাকা বানিয়ে বাড়ির ওপরে টানায়। দর্জি বিনামূল্যেই পতাকার সরঞ্জাম ওদের দেয়।
এরমধ্যেই এই গ্রামে রাজাকারদের সহায়তায় আক্রমণ করে মিলিটারি বাহিনী। সংঘের সদস্য অরুণের বাবা-মাকে মেরে ফেলে তারা। মেরে ফেলে সেই দর্জিকেও, যে পতাকা বানাত বিনামূল্যে। অরুণকে আশ্রয় দিল ওরই বন্ধু শোভন। এরই মধ্যে পল্টুমামা মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন ও মিলিটারি বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েন। তারই সহচর ও বন্ধু মিজান; যে মিলিটারির হাত থেকে পালিয়ে আসে তার সহায়তায়, ও সূর্যসেনা সংঘের বুদ্ধিতে তারা মিলিটারিদের খাওয়ার মধ্যে এক ধরণের ঔষধ(জামালগোটা) মিশিয়ে দেয়। মিলিটারিরা এই খাবার খাওয়ার পর-পরই এদের সবার পেট খারাপ হয়। আর এই সুযোগে মিজানের সহায়তায় দুষ্টু ছেলের দল আক্রমণ করে। সব মিলিটারি মারা যায় এবং পল্টুমামা মুক্তি পায়। কিন্তু যে রান্না করত, তার মেয়েকে মিলিটারিরা ধরে নিয়ে যায় ও এক মিলিটারির গুলিতে সে মারা যায়।
কিছুদিন পর আবারো পল্টুমামা মুক্তিযুদ্ধে যায়। এবং পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে সে শহিদ হয়। এ স্বাধীনতা এমনই লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত।
যুদ্ধে স্বাধীন-বাংলাদেশের সৃষ্টির আনন্দ-গৌরব, পক্ষান্তরে অরুণের বাবা-মা হারানোর বেদনা, পল্টুমামার বোনের ভাই হারানোর হাহাকার, সব মিলেই বোধহয় এই উপন্যাস সার্থক হয়ে উঠেছে।
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তোমরা যারা শিবির করো - মুহম্মদ জাফর ইকবাল


তোমরা যারা শিবির করো - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

বেশ কিছুদিন আগের কথা। আমি আমার অফিসে যাচ্ছি, তখন বারান্দায় আমার দুজন ছাত্রের সঙ্গে দেখা হলো, তারা আমাকে কিছু বলল না কিন্তু তাদের দেখে আমার মনে হলো, তারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা কি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাও?’ তারা মাথা নাড়ল, একজন কুণ্ঠিতভাবে আমার হাতে দুটি বই তুলে দিয়ে বলল, ‘স্যার, আপনাকে এই বই দুটি দিতে এসেছি।’ আমি বই দুটি নিলাম। বিজ্ঞানের ওপর চমৎকার দুটি বই, হাতে নিয়ে বললাম, ‘থ্যাংকু। সুন্দর পাবলিকেশন্স।’ তারপর বই দুটি খুললাম, ভেতরে লেখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
মুহূর্তে আমার সারা শরীর শক্ত হয়ে গেল। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আজ্ঞাবহ হয়ে এই দেশে যে ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, সে জন্য আমি তাদের কখনো ক্ষমা করিনি। আমি জেনেশুনে কখনো কোনো জামায়াতে ইসলামীর নেতার সঙ্গে হাত মেলাইনি। আমার যে আপনজনেরা মুক্তিযুদ্ধে মারা গিয়েছে, তাদের সম্মান দেখানোর জন্য এটি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমেরিকান এম্বাসির এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে যখন আবিষ্কার করেছি, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরও ডাকা হয়েছে, আমি সেখান থেকে উঠে চলে এসেছিলাম। আমি আমার এই বিশ্বাসের কথা কখনো গোপন রাখিনি। কাজেই এই দুজন ছাত্র সেটা জানে না, তা হতে পারে না।
আমি ছাত্রদের বই দুটি ফেরত দিয়ে অত্যন্ত কঠিন গলায় বললাম, ‘জামায়াতে ইসলামীকে আমি কোন চোখে দেখি, তোমরা জানো না? তোমরা সেই দলের মানুষ হয়ে তোমাদের সংগঠনের বই আমাকে উপহার দিতে এসেছ? তোমরা আমাকে চেনো না?’
ছাত্র দুটির চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় বদর বাহিনীর প্রধান হয়ে নিজামী আর মুজাহিদ কী করেছে, তাদের মনে করিয়ে দিলাম। গোলাম আযম যুদ্ধের সময় কী করেছে এবং বাংলাদেশের জন্মের পরও কীভাবে তারা বিরোধিতা করেছে, সেই কথা বললাম। আমার মতো শিক্ষকেরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের তৈরি বদর বাহিনীর হাতে কীভাবে মারা গিয়েছে, সেই ঘটনাগুলো বলে তাদের কাছে জানতে চাইলাম, কম বয়সী তরুণ হওয়ার পরও তারা কেমন করে যুদ্ধাপরাধীদের একটা সংগঠনের সদস্য হতে পারল?
একজন ছাত্র দুর্বল গলায় বলল, ‘স্যার, আমরা তো জামায়াতে ইসলামী করি না। আমরা ছাত্রশিবির করি।’
অনেক দিন আগের কথা, জামায়াতে ইসলামী আর ছাত্রশিবিরের মধ্যে পার্থক্যটুকু নিয়ে আমি তাদের কী বলেছিলাম, আমার এখন মনে নেই। শুধু মনে আছে, ছাত্র দুটি মাথা নিচু করে আমার কাছ থেকে ফিরে গিয়েছিল।
নানা কারণে এই ঘটনার কথা আমি ভুলতে পারি না। আমি ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য লেখালেখি করি। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা একটি নতুন বাংলাদেশের সন্তান এবং তারা বড় হয়ে আমাদের দেশটাকে পাল্টে দেবে। আমি যখন সেই কথাটা তাদের বলি, আমার ধারণা, তারা আমার কথা বিশ্বাস করে। তাই তাদের অনেকেই আমার কাছে উৎসাহের কথা, অনুপ্রেরণা কিংবা স্বপ্নের কথা শুনতে আসে। শিবিরের এই দুটি ছেলে নিশ্চয়ই ভেবেছিল, তাদের এই চমৎকার বই দুটি আমাকে মুগ্ধ করবে, আমি উৎসাহসূচক কিছু বলব। অন্য দশজন তরুণের মতো তারাও এক ধরনের দাবি নিয়ে আমার কাছে এসেছিল, কিন্তু আমি তাদের আশা পূরণ করতে পারিনি। আমার ভয়ংকর রকমের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখে তারা নিশ্চয়ই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিল—কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না।
আমি তাদের কথাগুলোও ভুলতে পারি না। তারা আমাকে বলেছিল যে তারা জামায়াতে ইসলামী করে না, তারা শিবির করে। তাহলে তারা কি সত্যিই বিশ্বাস করে যে তারা জামায়াতে ইসলামী থেকে ভিন্ন? ১৯৭১ সালে এই দেশে জামায়াতে ইসলামী যে পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড করেছে, যে অমানুষিক নির্যাতন করেছে, যে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড করেছে, সেগুলো তাদের কোনোভাবে স্পর্শ করে না?
এই দুজন ছাত্র ছাড়া আর কখনোই কোনো জামায়াত বা শিবিরকর্মী আমার কাছে কথা বলতে আসেনি, তাই আমি কোনো দিন হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাব না।

২.
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে, এই দীর্ঘ জীবনে আমি সবচেয়ে বিচিত্র, সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় কী দেখেছি। আমি এতটুকু দ্বিধা না করে বলব, সেটি হচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। তার কারণ, যে বয়সটি হচ্ছে মাতৃভূমিকে ভালোবাসার বয়স, সেই বয়সে তারা ভালোবাসে দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতকদের, যারা এই মাতৃভূমির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। যে বয়সে একজন তরুণের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা অনুপ্রাণিত হয় সেই মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকারীদের দিয়ে। যে বয়সে তাদের স্বপ্ন দেখার কথা দেশের বড় বড় লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, সাংবাদিককে নিয়ে, সেই বয়সে তারা আনুগত্য মেনে নিয়েছে সেই সব মানুষের, যারা আলবদর বাহিনী তৈরি করে একাত্তরে এই দেশের লেখক, শিল্পী, ডাক্তার, বিজ্ঞানী আর সাংবাদিকদের হত্যা করেছে! যে বয়সে তাদের একুশে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করার কথা, ষোলোই ডিসেম্বরে স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়ার কথা, পয়লা বৈশাখে রাজপথে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা যে শুধু এই অবিশ্বাস্য আনন্দ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে রাখে তা নয়, তারা এগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে। যে বয়সে তাদের মুক্তচিন্তা শেখার কথা, গান গাওয়ার কথা, নাটক করার কথা, আদর্শ নিয়ে ভাবালুতায় ডুবে যাওয়ার কথা, সেই সময় তারা ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে নিজেদের আটকে রাখতে শেখে, সাম্প্রদায়িক হতে শেখে, ধর্মান্ধ হতে শেখে। যে বয়সে ছেলে আর মেয়ের ভেতর সহজ ভালো লাগা ভালোবাসা জন্ম নেওয়ার কথা, সেই বয়সে তারা সেই অনুভূতিগুলোকে অশ্রদ্ধা করতে শেখে—সে জন্য তারা কত দূর যেতে পারে, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি, সেই ভয়ংকর কাহিনি আমি কখনো কাউকে বলতেও পারব না!
যখন এই বাংলাদেশের সব মানুষ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে, তখন ইসলামী ছাত্রশিবির নামে এই সংগঠনের হতভাগ্য তরুণদের পথে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য। খবরের কাগজ খুললেই দেখতে পাই, এখনো দেশের আনাচকানাচ থেকে তাদের ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে। আমার খুব জানার ইচ্ছে করে যে নেতারা তাদের বুঝিয়েছে, রাস্তায় নেমে চোরাগোপ্তা হামলা করে পুলিশের গাড়ি পোড়াতে হবে, নিজের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে হবে। সেই সব নেতা কি তাদের সন্তানদেরও পথে নামিয়েছে? আমি মোটামুটি নিশ্চিত, সেটি ঘটেনি। আমি আগেও দেখেছি, এই নেতারা যখন তাদের কর্মী বাহিনীকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়, তখন তাদের সন্তানেরা ইংরেজি মিডিয়াম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে।
আমি অনেক চিন্তা করেছি, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারিনি, কেমন করে বাংলাদেশের মতো রক্তস্নাত একটি দেশে, যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা নৃশংস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, সেখানে একজন মানুষ মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো না বেসে তাদের হত্যাকারীদের ভালোবাসতে পারে! আমার মনে আছে, আমি বহুকাল পরে যখন প্রথম এই দেশে ফিরে এসেছিলাম, তখন ইসলামী ছাত্রশিবিরের একটা মিছিল দেখে একধরনের অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন লক্ষ করেছিলাম, একজন ছাত্র তার হাতের ফাইল দিয়ে নিজের মুখটি ঢেকে রেখেছে, যেন আমি তার মুখটা দেখতে না পারি। আমার সামনে এই পরিচয় দিতে তার লজ্জা কিন্তু এই মিছিল থেকে তার বের হয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নেই—এর চেয়ে দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে?
একজন ছাত্র কেমন করে শিবির করে, তার একটি উত্তর অবশ্য আমি একবার খুঁজে পেয়েছিলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র একবার আমাকে একটি এসএমএস করে জানিয়েছিল যে সে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, খুব ভালো ছাত্র এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার খুব ইচ্ছে। তার বিভাগীয় প্রধান জামায়াতে ইসলামীর লোক এবং তাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সে যদি শিবির না করে, তাহলে তাকে শিক্ষক হতে দেওয়া হবে না। সে জন্য সে শিবিরে যোগ দিয়েছে এবং এটি নিয়ে তার কোনো অহংকার নেই। সেই এসএমএসটিতে আমি একজন মেরুদণ্ডহীন অসহায় হতভাগা মানুষকে আবিষ্কার করেছিলাম। তার জন্য কোনো মমতা নয়, আমি করুণা অনুভব করেছিলাম। আমি ইচ্ছে করলেই সেই ছাত্রটিকে খুঁজে বের করতে পারতাম, তার নীতিহীন বিভাগীয় প্রধানের পরিচয় জানতে পারতাম কিন্তু আমি তার কিছুই করিনি—আমার রুচি হয়নি।
আমার মাঝেমধ্যে জানার ইচ্ছে করে, এ ধরনের কারণে কতজন তরুণ শিবিরে যোগ দিয়েছে—কোনো স্বপ্ন নয়, কোনো আদর্শ নয়, শুধু স্বার্থ, শুধু চাওয়া-পাওয়া। মাঝেমধ্যেই পত্রপত্রিকায় দেখতে পাই, জামায়াতে ইসলামীর নাকি অনেক অর্থবিত্ত, তাদের অনেক ধরনের ব্যবসা। এই দলে যোগ দিলে নাকি তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা হল দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই হলে সিট পাওয়া যায়। তারা কলেজ দখল করে রাখে, তাদের দল করলে সেই কলেজে ভর্তি হওয়া যায়। পত্রপত্রিকায় দেখি, পরিচিতদের কাছে শুনি, তাদের দল নাকি অত্যন্ত সংগঠিত। আদর্শ ছাড়া কিংবা ভুল আদর্শের সংগঠন কি খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারে? দীর্ঘদিন মিলিটারির শাসনে থাকার কারণে মানুষ যখন বিভ্রান্ত ছিল, তখন এই দেশে জামায়াতে ইসলামীরা ইলেকশনে ৩০টার মতো সিট পেয়েছিল। (কী লজ্জা!) যখন দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ছোঁয়া পেতে শুরু করেছে, একটু বুঝতে শুরু করেছে তখন তাদের সিটের সংখ্যা এক-দুইয়ে নেমে এসেছিল। উপায় না দেখে তখন তারা বিএনপির ঘাড়ে চড়ে বসেছে, আবার তারা গোটা ত্রিশেক সিট পেয়েছে, মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে। দেশের মানুষ যখন আবার সজাগ হয়েছে, তখন সিটের সংখ্যা আবার এক-দুইয়ে নেমে এসেছে। এখন তারা কার ঘাড়ে উঠবে। এই দেশে যদি নির্বাচন করেই শুধু ক্ষমতায় যাওয়া যায়, তাহলে তাদের জন্য কোন পথটুকু খোলা আছে। আমার খুব আশা ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দেশের মানুষের এত আগ্রহ, এত উত্তেজনা দেখে বিএনপি হয়তো যুদ্ধাপরাধীদের এই দলটিকে পরিত্যাগ করবে—তারা করেনি। আমি খুব আশাহত হয়েছি কিন্তু তাদের ছাত্রসংগঠন আমাকে আশাহত করেনি। তারা শিবিরের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হয়নি।
আমি রাজনীতি ভালো বুঝি না, আমার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ কারও গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি একটা বিষয় খুব ভালো করে জানি, এই দেশে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে আর কেউ কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। পঁচাত্তর থেকে নব্বইয়ের সেই কালো সময় আমরা পার হয়ে এসেছি, আর কেউ কখনো এই দেশের মানুষকে সেই অন্ধকার জগতে ঠেলে পাঠাতে পারবে না। কাজেই যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে কেউ সুবিধে করতে পারবে না, বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের বিচার করে এই গ্লানিময় অধ্যায়কে চিরদিনের মতো সমাপ্ত করে দিতে হবে।

৩.
আমার এই লেখাটি তোমরা যারা শিবির করো, তাদের জন্য। আমি জানি, এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন একটি কাজ—আমার এই লেখাটি তোমাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না এবং তোমরা যারা পড়ছ তারা আমার এই লেখায় বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে এর মধ্যে নানা ধরনের যুক্তি দাঁড় করিয়েছ। শুধু তা-ই নয়, তোমাদের প্রিয় জায়গা—ইন্টারনেটে সম্ভবত এই লেখার বিরুদ্ধে বিশাল একটা প্রচারণা শুরু হবে। কিন্তু তবু আমার মনে হয়েছে, আমার এই কাজটুকু করা উচিত, তোমাদের কখনো যে সত্য কথাগুলো বলা হয়নি, আমার সেটা বলা উচিত।
তোমাদের কাছে আমার প্রথম যে প্রশ্ন সেটি হচ্ছে, তোমরা কি জানো আবুল আলা মওদুদী নামে যে মানুষটির চিন্তাধারার ওপর নির্ভর করে জামায়াতে ইসলামী নামে রাজনৈতিক দলটি গড়ে উঠেছে, সেই মানুষটিকে মানুষ হত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল (যদিও সেটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা হয়নি)। তোমরা কি জানো জামায়াতে ইসলামী ইসলাম প্রচারের দল নয়, এটি রাজনৈতিক দল এবং এটি সব সময় ভুল রাজনীতি করে এসেছে? এই উপমহাদেশে যখন ব্রিটিশদের বিদেয় করে পাকিস্তান সৃষ্টি করার আন্দোলন হয়েছে, তখন তারা সেই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে। আবার যখন এই দেশে পাকিস্তান নামের দানবকে পরাস্ত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তখন তারা বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে? এখন যখন মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ করে থাকা দেশদ্রোহীদের বিচার করা হচ্ছে, তখন আবার জামায়াতে ইসলামী সেই সত্যকে অস্বীকার করে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছে—সেটি ঘটেছে তোমাদের চোখের সামনে এবং তোমরা খুব ভালো করে জানো, সেখানে তোমাদের হূদয়হীনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আমার ধারণা, তোমরা যারা শিবির করো, তারা সম্ভবত কখনোই খোলা মন নিয়ে এই দেশের ইতিহাস সম্পর্কে বাইরের কারও সঙ্গে কথা বলো না। তোমরা সব সময়ই নিজেদের সঙ্গে নিজেরা কথা বলো, একে অন্যকে উৎসাহ দাও, একে অন্যের ওপর নির্ভর করো কিন্তু তোমাদের দলের বাইরের মানুষেরা তোমাদের সম্পর্কে কী ভাবে, কখনোই তার খোঁজ নাওনি। যদি খোঁজ নিতে, তাহলে হয়তো তোমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ছবি দেখতে পেতে। তোমরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করতে, তোমাদের যেভাবে যা কিছু শেখানো হয়েছে, তার সবকিছু সত্যি নয়। তোমরা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছ, এই দেশের অজস্র সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে তোমাদের দলের দু-একটি পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল ছাড়া অন্য কোথাও তোমাদের সম্পর্কে একটিও ভালো কথা ছাপা হয় না। কিছুদিন থেকে গাড়ি ভাঙচুর বা পুলিশকে আক্রমণ করার যে নতুন কর্মকাণ্ড শুরু করেছ, সেটি করে তোমরা যে নিজেরাই বিপদগ্রস্ত হতে শুরু করেছ, সেটা কি লক্ষ করেছ? আজ রাতেই আমি খবরে জানতে পারলাম, সাধারণ মানুষ তোমাদের ধাওয়া করছে, তোমাদের আক্রমণ করছে। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এটি ধীরে ধীরে আরও বাড়তে থাকবে। তোমরা নিজেদের জন্য যে জীবন বেছে নিয়েছ, তার মধ্যে কি বিন্দুমাত্র মর্যাদা আছে? আত্মতুষ্টি আছে?
আজ থেকে কয়েক যুগ আগেও এই পৃথিবী যে রকম ছিল, এখন সেই পৃথিবী নেই। এই পৃথিবী অনেক পাল্টে গেছে। নতুন পৃথিবী তালেবান বা লস্কর-ই-তাইয়েবার পৃথিবী নয়। জামায়াতে ইসলামী বা শিবসেনার পৃথিবীও নয়। নতুন পৃথিবী হচ্ছে মুক্তচিন্তার পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক একটা পৃথিবী। এই নতুন পৃথিবীর মানুষেরা অসাধারণ, তারা একে অন্যের ধর্মকে সম্মান করতে শিখেছে, একে অন্যের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে শিখেছে, একে অন্যের চিন্তাকে মূল্য দিতে শিখেছে। এই নতুন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে কোনো বিভাজন নেই। দেশ-জাতির সীমারেখা পর্যন্ত ধীরে ধীরে উঠে যাচ্ছে।
তাই এই নতুন পৃথিবীতে যখন কেউ ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিভাজন করে রাজনীতি করতে চায়, পৃথিবীর মানুষ তখন তাকে পরিত্যাগ করে। জামায়াতে ইসলামীর মতো বা শিবসেনার মতো রাজনৈতিক দল তাই হচ্ছে বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দল—নতুন পৃথিবীতে এই দলগুলোর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
আমি জানি, যদিও আমি এই লেখাটি লিখেছি যারা শিবির করে তাদের উদ্দেশে কিন্তু তারা আসলে আমার একটি কথাও বিশ্বাস করবে না। যদি বিশ্বাস করেও ফেলে, তার পরও তাদের কিছু করার থাকবে না। এ ধরনের রাজনৈতিক দল যখন তৈরি করা হয়, তখন অনেক লোভ দেখিয়ে দলে টানা হয়। কিন্তু দলে যোগ দিয়ে যদি মোহভঙ্গও হয়, তবু তারা আর দল থেকে বের হতে পারে না। অভিশপ্ত প্রেতাত্মার মতো এক অন্যকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকতে হয়।
যারা এখনো শিবিরে যোগ দেয়নি, তারা হয়তো এই লেখাটি পড়ে একটুখানি ভাববে। যখন তাকে এই দলে যোগ দেওয়ার কথা বলবে, হয়তো তারা একটিবার চিন্তা করবে, আমাদের এই ভালোবাসার দেশটিকে যারা টুঁটি চেপে হত্যা করতে চেয়েছিল, আমি কেন সেই দলে যোগ দেব? দেশকে যখন ভালোবাসার কথা, তখন কেন আমি দেশের সঙ্গে বেইমানি করব?
মাতৃভূমিকে ভালোবাসার তীব্র আনন্দ যারা উপভোগ করেনি, যারা ভবিষ্যতেও কোনো দিন অনুভব করতে পারবে না, আমি সেসব হতভাগ্য মানুষের জন্য গভীর করুণা অনুভব করি।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক। অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমি বীরাঙ্গনা বলছি - নীলিমা ইব্রাহিম

আমি বীরাঙ্গনা বলছি - নীলিমা ইব্রাহিম
আমি বীরাঙ্গনা বলছি - নীলিমা ইব্রাহিম
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা নামে দেশ

পুজাবার্ষিকী দেশ পত্রিকা ১৪২০

বাংলা নামে দেশ - ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত।
১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত 'বাংলা নামে দেশ' গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ফেরার সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এই প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ এপ্রিল তাঁকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। ১১ আগস্ট মিয়াওয়ালি জেলে সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধুর বিচার শুরু হয়। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ২৪ জন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে জরুরি বার্তা পাঠান, 'মুজিবকে বাঁচান'। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বাহাত্তরের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু বিমানযোগে পাকিস্তান থেকে লন্ডনে এসে ক্ল্যারিজেস হোটেলে ওঠেন।
আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রে জানা যায়, মুক্তির পর প্রথম সাংবাদিক হিসেবে আনন্দবাজারের অমিতাভ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ১০ জানুয়ারি দিলি্লর সমাবেশ শেষে বঙ্গবন্ধু নিজ দেশে ফেরেন। পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণ, বাংলাদেশ নামে নতুন দেশের জন্ম এই খবর সংগ্রহের জন্য কলকাতা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন সাংবাদিক চঞ্চল সরকার।
রেসকোর্স ময়দানের ১৬ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান কভার করে চঞ্চল ১৭ ডিসেম্বর হেঁটে ধানমণ্ডির ১৮ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যান। তিনি লিখেছেন, 'ওই বাড়িতে যাওয়ার সময় আমাকে অনেকে নিষেধ করেছেন। কেননা কালও খান সেনারা ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করেছে। বাড়ির ছাদে পাকিস্তানি আর্মিরা বাংকার বানিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে। ওরা কি সারেন্ডারের খবর রাখে না? পাকিস্তানি সোলজারদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে চঞ্চল বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যান। এরই মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী পজিশন নিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুননেসা ঘর থেকে বের হয়ে এসে পাকিস্তানি পতাকা পায়ে মাড়ালেন। তাঁর পেছনে হাসিনা, রেহানা ও রাসেল। ছোট মামা রাসেলের কোলে ভাগ্নে জয়। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স থেকে ধানমণ্ডির বাসায় যান। কামাল দৌড়ে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরেন। বঙ্গবন্ধু হাঁটতে হাঁটতে নিজের ঘরের দিকে এগোলেন। তিনি মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরলেন। মুক্তির আনন্দে তখন সবার চোখে পানি। বঙ্গবন্ধু প্রিয়তমা স্ত্রী ফজিলাতুননেসার সামনে এসে দাঁড়ালেন। ফজিলাতুননেসা স্বামীর বুকে মাথা রেখে চিৎকার করে কেঁদে অজ্ঞান হয়ে গেলেন। বেশ কিছুক্ষণ পর তাঁর জ্ঞান ফিরল।' বঙ্গবন্ধু বললেন, আমি খুব ক্লান্ত। আমাকে কিছু খেতে দাও। এরপর বঙ্গবন্ধু নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগোতে থাকেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন - ডা. এম এ হাসান

Pakistani Juddhaporadhira 191 Jon
পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন - ডা. এম এ হাসান

Pakistani Juddhaporadhira 191 Jon
Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

১৯৭১ - হুমায়ূন আহমেদ

amarboi.com


১৯৭১ - হুমায়ূন আহমেদ
১৯৭১
হুমায়ূন আহমেদ
প্রকাশক: আফসার ব্রাদার্স
ছোট্ট একটি গ্রাম নীলগঞ্জ। ময়মনসিংহ-ভৈরব লাইনের একটি স্টেশন নান্দাইল রোড। দশ মাইল উত্তরে গেলে রুলাইল বাজার। বর্ষাকালে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। আরও মাইল ত্রিশেক উত্তরে মধুবন বাজার। শীতকালে গরুর গাড়ি চলে। বর্ষায় হাঁটতে হয়। পুবদিকে সাত-আট মাইল গেলে মধুবনের জঙ্গলা মাঠ। তার ‘পেছনে নীলগঞ্জ গ্রাম। দরিদ্র শ্রীহীন ত্রিশ-চল্লিশ ঘরের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ।’ নীলগঞ্জের জলাভূমির দিকটায় একদল কৈবর্ত থাকে। গ্রামের সঙ্গে তাদের খুব একটা যোগ নেই। হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসোম রচনা ১৯৭১-এর ঘটনা এই নীলগঞ্জের।
এ রকম দুর্গম ও প্রায় বিচ্ছিন্ন একটা জনপদে একদল মিলিটারি এসে স্কুলঘর দখল করে বসেছে। উপন্যাসে কোনো যুদ্ধের ঘটনা নেই। পাকিস্তানি সৈনিকদের কমান্ডার এজাজ আহমেদের সঙ্গে ফুলপ্যান্ট এবং নীল রঙের হাফশার্ট পরা রফিক নামে এক যুবককে দেখা যায়। তার মাধ্যমেই মেজর এজাজ লোকজন ডেকে জেরা করছেন আর শাস্তি দিচ্ছেন। এজাজের ধারণা, জঙ্গলের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা লুকিয়ে আছে, সৈনিকও থাকতে পারে। 
গ্রামের মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখব আপাত দৃষ্টিতে তাদের আত্মসম্মানবোধ নেই। তারা ভীরু। মেজর এজাজ যে রকম মনে করেন, ‘কুকুরেরও আত্মসম্মানবোধ থাকে, এদের তাও নেই।’ গল্পটি আমাদের শেষ পর্যন্ত এমন এক জায়গায় নিয়ে যাবে, যেখানে দেখব চাইলেই যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। জীবন হয়ে ওঠে তুচ্ছ। 
কৈবর্ত মনাকে আগের একটা খুনের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে তার ১১ বছরের ভাইকেসহ প্রকাশ্যে গুলি করে মারা হলো পাকিস্তানি মেজর এজাজের নির্দেশে। এটা করেছেন একটা ‘নিষ্ঠুরতার নমুনা’ হিসেবে। মেজর বলেন, ‘মানুষকে ভয় পাইয়ে দেবার একটা আলাদা আনন্দ আছে।’ এই বিকৃত-মস্তিষ্ক লোকটি আবার এই নৃশংসতাকে বৈধতা দিতে চায় এভাবে—‘আমরা একটা যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছি। সারভাইভালের প্রশ্ন। এ সময়ে অন্যায় কিছু হবেই।’ পৃথিবীতে মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের নৃশংসতা ও অপকীর্তিকে এভাবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টাই শুধু চলে না, তাকে শ্রেয়তর এবং মহত্তর করার চেষ্টা চলে সবসময়।
কিন্তু মনা ভয় পায় না। ভাইকেও অভয় দেয়, আমাকে শক্ত কইরা ধর। আজিজ মাস্টারকে যখন উলঙ্গ করে গ্রামের ঘোরাবার নির্দেশ দিলেন মেজর এজাজ, আজিজ মাস্টার বললেন, ‘মেজর সাহেব, আমি মরবার জন্য প্রস্তুত আছি।’ অসহায় সফরউল্লাহও অবশেষে তার স্ত্রী ও বোনের চরম অপমান ও নিপীড়নের প্রতিশোধ নিতে এক সুবেদার ও এক রাজাকারের খোঁজে মাঠে নেমে পড়েছে। উপন্যাসের শুরুতে এদের এই ভূমিকা কল্পনাও করা যায়নি।
মিলিটারির উপস্থিতিতে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাল না মীর আলি। আজ নিজাম হলো আনন্দিত। একজন অন্ধ, অন্যজন পাগল। নিজাম যে পাগল, রফিক তা কীভাবে বুঝল? মেজরের এ প্রশ্নে রফিকের উত্তর, ‘ও মিলিটারি আসায় অত্যন্ত খুশি হয়েছে।’ মিলিটারি আসায় যে লোক খুশি, সে পাগল নয় তো কি। মিলিটারি নয় বরং ঝড় খুবই আতঙ্কিত করেছে অন্ধ মীর আলিকে। এই অন্ধ ও পাগল দুই চরিত্র নীলগঞ্জের এই দুর্যোগের মধ্যে দুই ব্যতিক্রম। আর ব্যতিক্রম কুকুর, গিরগিটি, শেয়াল। ‘নিম্নশ্রেণীর প্রাণীরা অনেক কিছু বুঝতে পারে। তারা টের পায়।’
গল্পটা এক পাকিস্তানি মেজর ও এক বাংলাদেশি গ্রামের গল্প। কিন্তু এক সূক্ষ্ম পথে গল্পটি একজন পাকিস্তানি সৈনিক ও এক বাঙালি যুবকের গল্প হয়ে উঠেছে। এই যুবক রফিক, শুরু থেকেই তাকে পাকিস্তানি মেজরকে সহায়তা করতে দেখি কিন্তু তার জীবনদৃষ্টি পাকিস্তানি মেজরের সম্পূর্ণ উল্টো। বাঙালিদের আত্মসম্মানবোধ নিয়ে মেজর রসিকতা করেন। তিনি যোদ্ধাদের খবর বের করার জন্য নৃশংসতার চূড়ান্ত করেন। তার কথা শুনতে রফিক বাধ্য। কিন্তু নির্দেশ মানার এবং মতামত দেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে আগাগোড়া একটা সূক্ষ্ম সীমারেখা টেনে রেখেছেন লেখক কৃতিত্বের সঙ্গে।
উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের স্বভাবসুলভ কিছু মজা আছে। মানুষের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কিছু আচরণ, প্রবণতা নিয়ে তিনি মজা করেন। কিন্তু সবকিছুর ভেতর দিয়ে প্রায় দুর্গম নিস্তরঙ্গ একটি গ্রামে অল্পকিছু সময়ের মধ্যে যে ঘটনাগুলো ঘটে, তাতে দেখা যায় যুদ্ধকালের রুদ্ধশ্বাস পরিবেশ আর মানুষের ঘুরে দাঁড়ানো, মুত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানোর মতো সাহসী হয়ে ওঠা।

You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. 1971 - Humayun Ahmed, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একাত্তরের ভিন্নতর অবলোকন

একাত্তরের ভিন্নতর অবলোকন

মফিদুল হক


১৯৭১ আমাদের জাতীয় জীবনের পরম গৌরবময় পর্ব, চরম দুঃসময়ের কালও বটে। একাত্তরের সেই ঘটনাধারার ছিল স্বাদেশিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাত্পর্য। আমরা একাত্তরকে দেখি মূলত আমাদের জাতীয়-বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে, কিন্তু এর ব্যাপকতর তাত্পর্য অনুধাবনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে একাত্তর-অবলোকন বয়ে আনতে পারে ভিন্নতর উপলব্ধি, সঞ্চার করতে পারে গভীরতর তাত্পর্য। ভেতর থেকে দেখা ইতিহাস এবং বাইরের বিবেচনা ও ঘটনাধারার মিলনেই পাওয়া যেতে পারে পূর্ণাঙ্গ এক ছবি, যদিও ইতিহাস-বিচারে পূর্ণতায় পৌঁছার মতো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধি নেই, নিরন্তর চলে এর পুনর্বিচার, পুনর্মূল্যায়ন, যার ভিত্তি রচনা করে আহরিত নতুন নতুন তথ্য, নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকসম্পাত এবং এভাবে চলে অভ্যস্ত-ভাবনার পরিধিকে ক্রমাগত প্রসারিত করা, পাল্টে দেওয়া।

একাত্তর নিয়ে ভাবনার তোলপাড় জাগানিয়া গ্রন্থ সংখ্যায় বেশি মেলে না, আমাদের সৌভাগ্য তেমন একটি উপহার মিলল হাসান ফেরদৌস প্রণীত ১৯৭১: বন্ধুর মুখ শত্রুর ছায়া গ্রন্থের সুবাদে। এ গ্রন্থের অবলম্বন একান্তভাবে বাইরের অবলোকন, ক্ষমতার বিভিন্ন বিশ্বকেন্দ্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসৃষ্ট অভিঘাত এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়েছে মূল বিবেচ্য। বিগত প্রায় এক দশকজুড়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধের বাছাইকৃত সংকলন এটি। বিষয়ের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ছোট-বড় বিভিন্ন রচনা মিলে গ্রন্থ আকারেও বেশ ভারিক্কি হয়েছে। তবে পাঠকের জন্য বড় পাওনা অনেক নতুন তথ্য ও বিশ্লেষণের নতুন দৃষ্টিকোণের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। ভারত, পাকিস্তান, চীন এবং সর্বোপরি আমেরিকা ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ প্রশ্ন নিয়ে নানা বিবেচনা, বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে লেখকের বিবেচ্য। তবে এর অনেকটাই পর্দার অন্তরালের ছবি, যে চিত্র ধারণে প্রধান সূত্র হয়েছে সাম্প্রতিককালে অবমুক্ত বিভিন্ন গোপন দলিল, ইতিহাসের অংশীদারদের রচিত স্মৃতিভাষ্য, বিদেশে প্রকাশিত বইপত্র এবং সংবাদপত্রের রিপোর্ট। ফলে প্রচুর পাঠ নিতে হয়েছে লেখককে এবং তথ্যের জোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস-বিশ্লেষকের দায়ও তাঁকে মেটাতে হয়েছে। এমন রচনা কোনো সহজ কাজ নয়, তদুপরি অধিকাংশ নিবন্ধ রচিত হয়েছে দৈনিক সংবাদপত্রের চাহিদা ও পাঠকের দিকে লক্ষ রেখে। ফলে তাত্ক্ষণিকতার সঙ্গে মিশেল ঘটাতে হয়েছে ইতিহাস-চেতনার এবং এই কাজে হাসান ফেরদৌস রেখেছেন অনায়াস-দক্ষতার পরিচয়। অন্যদিকে এমনি দক্ষতা এক ধরনের সীমাবদ্ধতাও আরোপ করে। এ ধরনের রচনার একটি ঘাটতির দিক হলো, শেষ বিচারে তা আর হয়ে ওঠে না ইতিহাসের বই, হয় ইতিহাস-বিষয়ক বই, নিদেনপক্ষে রিপোর্টিং অন হিস্টরি। বিচ্ছিন্ন সব ফুল নিয়ে পূর্ণ এক মালা গাঁথার কাজটুকু থেকে যায় আরদ্ধ, পাঠককে তা করার মতো পুষ্পহার জোগান দিয়ে যান লেখক, মালা তিনি গাঁথেন না, তবে সেই পুষ্পাঞ্জলিও এক বড় পাওয়া বটে।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com