সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label others. Show all posts
Showing posts with label others. Show all posts

১০০০ জোকস - নান্টু গঙ্গোপাধ্যায়

১০০০ জোকস - নান্টু গঙ্গোপাধ্যায়
১০০০ জোকস - নান্টু গঙ্গোপাধ্যায়




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অলিম্পিক অলিম্পিক - বরুণ মজুমদার

অলিম্পিক অলিম্পিক - বরুণ মজুমদার
অলিম্পিক অলিম্পিক - বরুণ মজুমদার




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কাউন্সেলিং এর হাতেখড়ি

কাউন্সেলিং এর হাতেখড়ি
কাউন্সেলিং এর হাতেখড়ি
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রাচীন পৃথিবীর ম্যাপ

প্রাচীন পৃথিবীর ম্যাপ




বিভিন্ন বই পড়তে গেলে, সিনেমা দেখতে গেলে প্রাচীন পৃথিবীর ম্যাপ জানা থাকার দরকার পড়ে। ফিওদর করভকিনের 'পৃথিবীর ইতিহাস: প্রাচীন যুগ' বইটার বাংলা অনুবাদ সংস্করণে এই ম্যাপগুলো ছিল। প্রাচীন, মিশরীয় সভ্যতা, গ্রিক-রোমান সভ্যতা, চৈনিক সভ্যতার ম্যাপ। রংঙ্গিন, বাংলায়। আগ্রহীদের জন্য পেইজগুলো স্ক্যান করে পিডিএফ বানিয়ে দেওয়া হলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ব্যক্তি: হুমায়ূন আহমেদ

humayun ahmed
ব্যক্তি: হুমায়ূন আহমেদ

আমার বাংলাদেশ
ব্যক্তি: হুমায়ূন আহমেদ
১৯৭২ সালে হুমায়ূন আহমেদ তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘নন্দিত নরকে’-এর মধ্যদিয়ে তরুণ লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ৩৫ মি.মি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ পরিচালনা করে ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে অসংখ্য পুরস্কার পান। পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা যেমন- শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারি, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া, নয় নম্বর বিপদ সংকেত, আমার আছে জল এবং সর্বশেষ ঘেটুপুত্র কমলা ছবিগুলোর কাহিনিকার এবং পরিচালকও ছিলেন। তিনি চার শতাধিক গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসও লিখেছেন যা পাঠক মহলে প্রচন্ড সাড়া জাগিয়েছে। কীর্তিমান এই ব্যক্তি ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এই নন্দিত সাহিত্যিকের প্রয়াণ হয়েছে ১৯ জুলাই, ২০১২ সালে। তিনি আমাদের বাংলা সাহিত্যের সম্রাট।
ছবি: আগুনের পরশমণি
১৯৭১ সাল। বাঙালিদের জীবনে একটি ভয়াবহ বছর। পাকিস্তানী সেনাদের কঠোর প্রহরার মধ্যে একটি অসহায় শহর। শহরের অসহায় মানুষ, চারদিকে অন্ধকার, সীমাহীন ক্লান্তি। এমনি একদিনে বদিউল আলম নামের রোগা পাতলা এক মুক্তিযোদ্ধা এসে ওঠে মতিন উদ্দিনের বাসায়। মতিন উদ্দিন একজন সরকারি কর্মচারী। শহরের একটি মহল্লায় স্ত্রী ও দুকন্যা নিয়ে বসবাস করে। স্ত্রী সুরমা, কন্যাদ্বয় রাত্রি ও অপলা। নির্ভেজাল জীবন তার। বদিউল আলম শহরে ঢুকেছে সাতজনের একটি ছোট দল নিয়ে। শহরে গেরিলা অপারেশন হবে। অপারেশনের দায়িত্ব তার। বদিউল জানায় সে এক সপ্তাহ এই বাড়িতেই থাকবে। অজানা আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে সুরমার বুক। বদিউলের অপারেশনের দিনক্ষণ এগিয়ে আসে। রাত্রি-অপলা ফুফুর বাড়ি থেকে চলে আসে নিজেদের বাড়িতে। অপারেশনের দিন মারাত্মক আহত বদিউল মতিন উদ্দিনের বাড়িতেই আসে। তারপর মুমূর্ষু এই মানুষটিকে নিয়ে বাড়ির মানুষগুলোর প্রাণান্ত চেষ্টা চলে তাকে বাঁচিয়ে তোলার আর ভোরের সূর্যের অপেক্ষার। ১৯৯৪ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। ছবির কাহিনি ও পরিচালনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ। চিত্রগ্রহণে ছিলেন আখতার হোসেন। সঙ্গীত পরিচালনায় সত্যসাহা। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন আসাদুজ্জামান নূর, বিপাশা হায়াত, আবুল হায়াত, ডলি জহুর, শীলা আহমেদ প্রমুখ। এ ছবিটি ৮টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
প্রিয় বই
সমকালীন বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ এক কিংবদন্তি। গত ১৯ জুলাই এই নন্দিত কথাসাহিত্যিকের মহাপ্রয়াণ হয়েছে। তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠ গল্পকার, ঔপন্যাসিক, কল্পবিজ্ঞানী, চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার, নির্দেশক, সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ এবং রংতুলির অনবদ্য শিল্পী। তার লেখা প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩২২টি। এর মধ্যে আছে অবিস্মরণীয় কিছু সৃষ্টি যেমন- মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস, জোসনা ও জননীর গল্প, নন্দিত নরকে, সিরিজ হিমু, রহস্য সিরিজ মিসির আলী, সিরিজ মধ্যাহ্ন, শঙ্খনীল কারাগার, মেঘের উপরে বাড়ি, নিউইয়র্কের নীল আকাশে ঝকঝক রোদ, পায়ের তলা খড়মসহ অসংখ্য প্রিয় বই।
টিভি নাটক
সাহিত্যের মতো দেশের টিভি নাটকও জনপ্রিয় হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের কল্যাণে। অসংখ্য টিভি নাটক লিখেছেন তিনি। ধারাবাহিক টিভি নাটকের ক্ষেত্রেও নতুন এক ধারা সৃষ্টি করেন কিংবদন্তি এই নাট্যপুরুষ। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধারাবাহিক ও একঘণ্টার নাটকের মধ্যে রয়েছে এইসব দিনরাত্রি, কোথাও কেউ নেই, বহুব্রীহি, অয়োময়, আজ রবিবার, নক্ষত্রের রাত, উড়ে যায় বকপক্ষি, কালা কইতর, সবুজ ছাতা প্রভৃতি। আর একঘন্টার নাটক- খাদক, নান্দাইলের ইউনুস, একদিন হঠাৎ, অন্যভুবন, অচীন বৃক্ষ, খোয়াবনগর, জোছনার ফুল, আজিজ সাহেবের পাপ, আমরা তিনজন, ভূত বিলাস, বুয়া বিলাস, এই বৈশাখে, জুতাবাবা, চৈত্রদিনের গান, পক্ষীরাজ, নাট্যকার হামিদ সাহেবের একদিন, তারা তিনজন টিম মাস্টার, তৃষ্ণা, রূপালী রাত্রি, মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, ঘটনা সামান্য, চেরাগের দৈত্য, তুরুপের তাস, বৃক্ষ মানবসহ অসংখ্য নাটকের মাধ্যমে তিনি মানুষকে বিনোদিত করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ চলে গেছেন অন্য ভুবনে।
স্থান: নুহাশ পল্লী
গাজীপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের পিরুজালী গ্রামে বনের ভেতর প্রথমে ২২ বিঘা জমি কিনে গড়ে তোলা হয় নুহাশ পল্লী। এখন আছে ৪০ বিঘা। গত দেড় দশক ধরে প্রকৃতি প্রেমি হুমায়ূন আহমেদের নিজের মতো করে পরিকল্পনা মাফিক গড়ে তুলেছেন এই নুহাশ পল্লী। এই নুহাশ পল্লীতে বসে সৃষ্টিশীল অনেক লেখা লিখেছেন। নুহাশ পল্লীতে দৃষ্টিনন্দন যে কয়টি ভাস্কর্য রয়েছে সেগুলো তৈরি করেছেন স্থানীয় শিল্পী আসাদুজ্জামান খান। নুহাশের ভেতরে মা ও শিশু, মৎস্যকন্যা, কঙ্কালের মাথা, ব্যাঙের ছাতাসহ ৫টি বড় আকারের ভাস্কর্য তৈরি করেছেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদের শেষ ইচ্ছা ছিল নুহাশে পাহাড়ের আদলে মাটি উঁচু করে তার পাশে একটি ম্যাজিক বক্স তৈরি করার। প্রকৃতিপ্রিয় হুমায়ূন আহমেদ গাছপালা বড্ড ভালোবাসতেন। নুহাশের উত্তর পুকুরের পাড় ঘেষে রয়েছে প্রায় ৩শ প্রজাতির দুর্লভ ভেষজ গুণসম্পন্ন ঔষধি গাছের বাগান। পাশেই রয়েছে ছোট আকারের একটি চায়ের বাগান। ঔষধি বাগান লাগোয়া রয়েছে তার অকাল প্রয়াত সন্তানের নামে একটি স্মৃতিফলক। নুহাশের প্রতিটি গাছ, প্রতিটি জিনিস, প্রতিটি ধূলিকণা হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় ছিল। দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলজ, ঔষধি এবং বনজ সব গাছপালাকেই তিনি আপন করে নিয়েছিলেন। গাছে গাছে রয়েছে তার হাতের ছোঁয়া। এ সবে তিনি হাত বুলিয়েছেন, আদর করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ নুহাশ পল্লীতে যে ঘরটিতে বসবাস করতেন সেই ঘরের দেয়ালে রয়েছে মাটির প্রলেপ। প্রকৃতির প্রতি তার যে অফুরন্ত টান ছিল সেই প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের লিচুতলায় হয়েছে তার শেষ ঠিকানা।

Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন - ডা. এম এ হাসান

Pakistani Juddhaporadhira 191 Jon
পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধী ১৯১ জন - ডা. এম এ হাসান

Pakistani Juddhaporadhira 191 Jon
Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

১০১ ম্যাজিক ট্রিক্স - আইভার য়ুশিএল

১০১ ম্যাজিক ট্রিক্স - আইভার য়ুশিএল

১০১ ম্যাজিক ট্রিক্স
আইভার য়ুশিএল
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সম্পূর্ণ বাংলায় কোরানশরীফ

সম্পূর্ণ বাংলায় কোরানশরীফ

সম্পূর্ণ বাংলায় কোরানশরীফ
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কোয়ান্টম মেথড

quantum method

কোয়ান্টম মেথড
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আত্মনির্মান

atmonirman

আত্মনির্মান


You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. Atmonirman, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সমুদ্রের ডাক হরিশংকর জলদাস

amarboi.com
ডাউনলোড করতে হলে নিচের ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করুন

সমুদ্রের ডাক

হরিশংকর জলদাস

আমি যখন আমার ভেতরে চোখ রাখি, সমুদ্র দেখি—গর্জনশীল, ঢেউবহুল। তীরলগ্ন জল-কাদা মেশানো, দূরের জল নীল। জলের ওপরে ছোট-বড় ঢেউ, ঢেউয়ের মাথা ভাঙা। ঝড়ের তোড়ে মাথাভাঙা ঢেউগুলো দক্ষিণ থেকে উত্তরে ধাবমান। অজগরের মতো ওলট-পালট খাওয়া ঢেউ। হাঁ হাঁ করা ঢেউগুলো জেলেনৌকাগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। নৌকার আগাকে ঢেউয়ের দিকে সোজা করে রেখে শক্ত মুঠিতে হাল ধরে পাছায় বসা পূর্ণচন্দ্র, রামনারায়ণ, উপেন্দ্ররা। মুখে তাদের ‘আঃ বদরসাহেব, আঃ বারো আউলিয়া, আঃ মা কালী, আমাদের রক্ষা করো। এই ঝড় থেকে বাঁচলে, মা গঙ্গা, তোমারে পূজা দেব।’ এই সব দৃশ্য আমার চোখের সামনে দিয়ে চলচ্চিত্রের মতো একের পর এক ভেসে যায়। জীবনের ত্রিশটি বছর আমিও পূর্ণচন্দ্র, রামনারায়ণদের সহযোদ্ধা ছিলাম। আমার সমুদ্র মানে বঙ্গোপসাগর। আমি আরব সাগর দেখিনি, প্রশান্ত বা আটলান্টিক মহাসাগর আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভারত মহাসাগর বা লোহিত সাগরের গল্প শুনেছি শুধু। যার জলে আমি অবগাহন করেছি বা যার জলশস্যে আমার চৌদ্দ পুরুষ পালিত হয়েছে, সে বঙ্গোপসাগর। মানুষের শরীরের নাকি এক-তৃতীয়াংশ জল। তা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমার শরীরের সমস্ত জলই বঙ্গোপসাগরের। আমার বেড়ে ওঠা, আমার জীবনযাপন জুড়ে আছে বঙ্গোপসাগর। আমার আনন্দ আর বেদনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই বঙ্গোপসাগর। আজ থেকে আশি বছর আগে এই বঙ্গোপসাগরই আমার দাদুকে কেড়ে নিয়েছিল। সমুদ্রের অতল নীল জলকে বড় ভালোবাসতেন চন্দ্রমণি। নীলজলের ঢেউ তাঁর ভেতরে মাথা কুরে মরত। ওই জলের টানে চন্দ্রমণি, মানে আমার দাদু, স্থায়ী সুইপারের চাকরি ছেড়ে ঠুনকো কাঠের নৌকা বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়েছিলেন। আশ্বিনের ঝড়ো বঙ্গোপসাগর ওই নৌকা খেয়েছে, চন্দ্রমণিকে খেয়েছে, চন্দ্রমণির আটজন সঙ্গীকে খেয়েছে। বাপের অপমৃত্যুতে ভড়কে যাননি চন্দ্রমণির ছেলে যুধিষ্ঠির। তরুণ যুধিষ্ঠিরও একগাছি নৌকার পাছায় শক্ত মুঠিতে হাল ধরে বসেছেন। লইট্যা মাছ, ঘোঁওড়া মাছ, রিশ্শা মাছ, করকইজ্যা ইচা, অলুয়া মাছ আর ইলিশ মাছে ভর্তি করে নৌকা কূলে ভিড়িয়েছেন। আমি, চন্দ্রমণির তৃতীয় পুরুষ, বঙ্গোপসাগরে নৌকা না ভাসিয়ে পারিনি। পরিবার-পরিজন এবং নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমিও কালবৈশাখীকে মাথায় নিয়ে, আষাঢ়-শ্রাবণের ঝড়-জলকে উপেক্ষা করে কখনো বাবার সঙ্গে, কখনো বা গাউর-কামলাদের সঙ্গে মাছ মারতে গেছি বঙ্গোপসাগরে। ঢেউয়ের বাড়ি আর জলের তোড় আমাদের প্রতিপক্ষ হয়েছে বারবার। ঝড়-জলের আঘাতে নৌকার গুঁড়ি ভেঙেছে, পাল ছিঁড়েছে, দাঁড় ভেসে গেছে। কিন্তু আমরা হার মানিনি। জানি, হার মানলে মৃত্যু অবধারিত, হার মানলে উনুনে আগুন জ্বলবে না। মা-বাবা-পরিজন না খেয়ে মরবে। এ জন্য আমরা আঘাতের বদলে প্রত্যাঘাত দিতে শিখেছি। তাই নৌকাকে ঢেউ-ঝড়ের প্রতিকূলে ঠেলে সমুদ্রে পাতানো জালের কাছে নিয়ে গেছি। জলশস্য নৌকায় তুলে বিজয়ীর বেশে বাড়ি ফিরেছি।
আমার দেখা সমুদ্র শরৎচন্দ্রের দেখা সমুদ্রের মতো নয়। তিনি শ্রীকান্ত-এ ঝড়ো সমুদ্রের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা দূর থেকে দেখা। মানে জাহাজের ডেক থেকে দেখা। জলতল থেকে জাহাজের পাটাতনের উচ্চতা কম হলেও ত্রিশ ফুট। নিরাপদ দূরত্বই বলা চলে। কিন্তু আমি যে নৌকায় সমুদ্রে যেতাম, জলের উপরতল থেকে সে নৌকার পাটাতনের উচ্চতা তিন ফুট। ওই তিন ফুট উচ্চতার নৌকা নিয়েই আমরা তুফানের সময় ঝঞ্ঝামগ্ন বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হতাম। প্রথম প্রথম ঝড়ে পড়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে উঠলেও পরে অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গিয়েছিল ওই ঝড়ো সমুদ্র। শুনেছি, জীবন ঘষে ঘষে নাকি আগুন জ্বালানো যায়। এই ত্রিশ বছরের সমুদ্রজীবনে আমার জীবন বাজি রেখে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলাম, তার একেবারেই জলাঞ্জলি হয়নি। যখন আমি লিখতে বসলাম, ওই ঝড়-জলের অভিজ্ঞতা, ওই মাছ মারার অভিজ্ঞতা, ওই রুক্ষ-রুদ্র-ভয়ংকর সমুদ্র দর্শনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগল। দহনকাল-এ সমুদ্রের ভয়াল রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই জীবনঘষা অভিজ্ঞতার কথা কাহিনির মোড়কে উপস্থাপন করেছি। দহনকাল থেকে সামান্য উদ্ধৃতি দেওয়া যেতে পারে, ‘তখন নৌকার চারদিকে বড় বড় ঢেউয়ের তাণ্ডব। পর্বতসমান ঢেউ নৌকার সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে আর শক্ত কুশলী হাতে আগাটি সেই ঢেউয়ের মাথায় চড়িয়ে দিচ্ছে ঈশান। আক্রোশে ফুঁসতে ফুঁসতে সেই ঢেউ নৌকাকে ঝাপটা দিয়ে পেছনে গলে যাচ্ছে। করাল হাঁ ব্যাদান করে বাতাস এগিয়ে আসছে হু হু করে। ঘন কালো মেঘ নেমে এসেছে অনেক নিচে। মেঘে মেঘে ঘর্ষণে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। কাছে-দূরে বজ্রপাত হচ্ছে। যেন মহাদেব মহাপ্রলয়ে নেমে রুদ্ররোষে হুংকার দিচ্ছেন।...ঢেউয়ের সঙ্গে ঢেউয়ের বাড়ি লেগে জলতল ফেনাময়। জলকণাগুলো ঘন আস্তরণ সৃষ্টি করেছে গোটা সমুদ্রজুড়ে। বাতাস, ঢেউ, জলকণা, মেঘের গর্জন, বৃষ্টির ছাঁট মিলেমিশে এক ভয়জাগানিয়া পরিবেশ তৈরি হল সমুদ্রবুকে।’
সমুদ্র শুধু আমাকে রুদ্র-ভয়ংকরের অভিজ্ঞতা দেয়নি, ধবল জ্যোৎস্না আর অতল নীল জল দেখার সুযোগও করে দিয়েছে। শীতকালে বঙ্গোপসাগর হয়ে যায় সৌম্য ঋষির মতো। ঢেউ নেই, কল্লোল নেই। তীর ছুঁইছুঁই তখন তার নীল জল। তীর ধরে ধরে নীল জলের ছলাৎছলাৎ পায়ে মৃদু অগ্রগমন। দিগন্তজুড়ে বালিয়াড়ি। জলের ধার ঘেঁষে অগণন লাল কাঁকড়ার এধার-ওধার দৌড়াদৌড়ি। কাঁকড়ার দুটো শুঁড়ে যেন মৃদু আলোর দুটো বাল্ব। কাছে গেলেই ফুরুৎ ফুরুৎ গর্তে ঢুকে পড়া। ইচ্ছে হলো তো দল বেঁধে নীল জলে অবগাহন। শীতের সময় মাছ মারতে যাওয়ার আলাদা একটা আনন্দ আছে। আষাঢ় থেকে কার্তিক পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর যেন মাছমারাদের প্রবল প্রতিপক্ষ। কোনোক্রমেই এই সময়ে সমুদ্রকে বাগে আনা যায় না। শুধু ভাঙে পালের মাস্তুল, নৌকার আগা, হালের দাঁড়। শুধু কেড়ে নেয় জাল, নৌকা, জীবন। হরবাঁশির বাপ, জয়ন্তের মেয়ের জামাই, মধুরাম, মঙ্গলচরণ—এঁদের জীবন কেড়ে নিয়েও সন্তুষ্ট হয় না সমুদ্র, আরও গ্রাস করার জন্য ফুঁসতে থাকে। অগ্রহায়ণ এলেই তার সব ফাঁসফোঁসানির অবসান ঘটে। বুকভরা নীল জল নিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে আর দক্ষিণ থেকে উত্তরে চলতে থাকা শুধু। ওই নীল জলের তলায় তখন প্রচুর মাছ—চিক্কা ইচা, লইট্যা মাছ, ছুরি মাছ, রূপচাঁদা, আর চেঁউয়া মাছ। কূল আঁধার করা দূরত্বে তখন জেলেরা তাদের বিহিন্দি জাল পাতে। সারি সারি। নানা বহদ্দার আর পাউন্যা নাইয়া ওই সারি সারি জালে ঘাইয়ে থাকে। গভীর রাতে মাছ তোলার সময় হয়। ওই সময় কূল থেকে দাঁড় বেয়ে এসে নিজের জালের হদিস পাওয়া সম্ভব নয়। তাই জেলেরা জালে লম্বা রশি বেঁধে পুরো জোয়ারের সময়টা জাললগ্ন হয়ে থাকে। একে বলে ঘাইয়ে থাকা। ওই ঘাইয়ে থাকাকালে অগ্রহায়ণের ধবল জ্যোৎস্নার সঙ্গে আমার দেখা। ফকফকা জ্যোৎস্নাও যে মানুষকে ঘোরে ফেলে দেয়, তা আমি বুঝেছি ওই সময়। শনশন করে নৌকার দুই পাশ দিয়ে জল ধাবমান। জলতল নখের পিঠের মতো সমতল। দু-চারটা অচেনা মাছ জলের ওপর একটু করে লাফিয়ে উঠে জলে ডুবে যাচ্ছে। নৌকার কাঁইকের ওপর সঙ্গের চারজন বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। আমি জেগে আছি। নৌকার পাছার দিকের ছোট্ট খোপে শরীরটা আটকে দিয়ে বিপুল জ্যোৎস্নার দিকে তাকিয়ে আছি। দক্ষিণ দিকের আকাশ ঘেঁষে পূর্ণ চাঁদ। পূর্ণিমাই হবে সে রাতে। না হলে এত জ্যোৎস্নায় আকাশ-সমুদ্র ভেসে যাবে কেন? রুপালি চাঁদের পাগল করা আলো নীল জলের রংটাই পাল্টে দিয়েছে। আমি একবার জল দেখি, আরেকবার চাঁদ। আমি হাত বাড়িয়ে জ্যোৎস্নামাখা জল ছুঁই, আর জ্যোৎস্না ছুঁয়ে থাকে আমাকে। আমার মুখ দিয়ে আমারই অজান্তে সেই সময় কোনো একটা আওয়াজ বেরিয়ে এসেছিল। না হলে কেন যুধিষ্ঠির আথালিপাথালি বিছানা ছেড়ে উঠে বসে আমাকে বলেছিলেন, ‘কী অইয়ে, অ বাছা কী অইয়ে?’ আমি একটু লজ্জা পেয়ে বলেছিলাম, ‘কিছু না বাবা।’ ‘নিচ্চয় কিছু বাছা, ভয় পাইও না? এই সময় সাগরে কত কিছু হাঁডি বেড়ায়।’ বাবা বলেছিলেন। আমি জবাব দিইনি। বাবা আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তখন আমি এমএ পাস দিয়ে ফেলেছি। অধ্যাপনাও করছি সরকারি সিটি কলেজে। সাত শ পঞ্চাশ টাকা বেতন। ওই টাকা দিয়ে এগারো জনের হাঁ বন্ধ করা যায় না। ভাইয়েরা ছোট ছোট। দু-চারজন স্কুলে পড়ছে। পরিজনের দুমুঠো অন্ন জোগাড় করার জন্য তাই আমার জ্যোৎস্নারাতে বা বজ্রনিনাদিত ঝড়ো রজনীতে মাছ মারার অভিযান।
খুব ছোটবেলা থেকে বঙ্গোপসাগরকে ভালোবাসতে শিখেছি আমি। বঙ্গোপসাগর আমাদের পরিবারের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে, শান্তি কেড়ে নিয়েছে, বারবার। বেঁচে থাকার প্রধান উপকরণ নৌকা আর বিহিন্দি জালও গ্রাস করতে কখনো দ্বিধা করেনি। তার পরও কেন জানি সমুদ্রকেই ভালোবেসেছি। সমুদ্র আমাকে অস্তিত্ব, আমার বিকাশ-বিস্তারের উর্বর ক্ষেত্র। কবি কামাল চৌধুরীর কবিতায় আমার, জেলে সমাজের প্রকৃত নৃতত্ত্ব উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে যেন—
‘আমাদের গায়ে লেগে আছে অনার্য রোদ্দুর
পুরোনো পাথরের স্তূপ দেখে আমরা শনাক্ত করতে পারি প্রার্থনার গৃহ
অথচ অসংখ্য নদী, সমুদ্র সমতল, আমাদের মাছ-ভাতের ঐতিহ্য
সবটাই ধীবরকালের নৃতত্ত্ব।’
এই ভালোবাসাবাসি থেকেই সমুদ্রতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করার প্রবল আগ্রহ জন্মে আমার ভেতরে। আইএ পাস করার পর জানলাম, চট্টগ্রাম কলেজে বা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করার কোনো সুযোগ নেই; আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু যুধিষ্ঠির জলদাসের বড় ছেলেকে ঢাকায় পড়তে পাঠানোর মতো সামর্থ্য নেই। সমুদ্রের ওপর পড়তে না পারার বেদনাকে মনে লুকিয়ে রেখে এখনো সুযোগ পেলে আমি পতেঙ্গার সমুদ্রচরে গিয়ে বসি। জেলেপাড়ার মানুষেরা আমাকে ঘিরে বেড়ে বসে। থাকে তরুণেরা, থাকে সমুদ্রে স্বামী হারানো বিধবারা, আর থাকেন বয়োবৃদ্ধরা। আমি যে অধ্যাপনা করি, অধিকাংশই তা জানে না। কোনো একটা স্কুলে-টিস্কুলে পড়াই—ওইটুকুই তারা জানে এবং মানে। আমাকে তারা সম্বোধন করে ‘মাস্টার’ বলে। ওই ডাকেই আমি সাড়া দিই। তাদের আবাল্য দেখা হরিশংকর কত বড় অধ্যাপক হয়েছে বা অন্য কিছু, তাতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তাদের আনন্দ হরিশংকর এখনো তাদের ভোলেনি। ওদের নিয়ে সমুদ্রপাড়ে গিয়ে বসি। বয়োবৃদ্ধরা তাঁদের সমুদ্রাভিযানের গল্প শোনান, বিধবারা তাদের স্বামী হারানোর বেদনার কথা আমার সামনে খুলেমেলে ধরে। বলে, ‘ওই হারামি দইন্যা, ওই নিষ্ঠুর মা গঙ্গা আমার সোয়ামিরে কাইড়া লইছে। যৌবন থাকতে আমারে বিধবা বানাইছে। আমাদের নৌকা ছিল, জাল ছিল। ওই লক্ষ্মীছাড়া সমুদ্র আমার স্বামী, নৌকা, হাল-জাল সব গেরাস করছে। আজ আমি মাইডারে লইয়া পাড়ায় পাড়ায় মাছ বেইচ্যা বেড়াই। হা ভগমান, আমার কপালে এ-ও লিখি রাখছিলা!’ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। বিধবাটির হাহাকার সমুদ্রকল্লোলকে বিষণ্নতায় ভরিয়ে তোলে। পরিবেশকে হালকা করার জন্য আমি প্রসঙ্গান্তরে যাই। আমি তাদের তাকাষি শিবশঙ্কর পিল্লাইয়ের চেম্মীন উপন্যাসের কাহিনি শোনাই। বলি, কী অসাধারণ দক্ষতায় তামিলনাড়ুর সমুদ্র-নির্ভর এক জেলেপল্লির জীবনচিত্র শিবশঙ্কর তাঁর উপন্যাসে এঁকেছেন। তারা অবাক হয়ে তামিলনাড়ুর মাছমারাদের সমুদ্রযুদ্ধের কথা শোনে, পালা-পার্বণের কথা শোনে। বলে, ‘কী আচার্য, ওদের সঙ্গে আমাদের এত মিল কী করে হলো?’ ওরা বিস্ময়ে আবিষ্ট হয়, যখন শোনে, শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ক্রিকেটার জয়সুরিয়া সমুদ্রসন্তান, শ্রীলঙ্কারই এক ধীবরপল্লিতে তাঁর জন্ম।
আমি ধীরে ধীরে কাহিনি ঘোরাই তামিলনাড়ু থেকে কিউবার হাভানার দিকে। জয়সুরিয়াকে ছাড়িয়ে আমি হেমিংওয়ের ‘ওল্ডম্যান অ্যান্ড দি সি’ উপন্যাসের সান্তিয়াগোর গল্প পাড়ি তাদের সামনে। হাভানার উপসাগরে সান্তিয়াগো চুরাশি দিন বড়শি ফেলে একটি মাছও পায় না শুনে তারা হাসাহাসি করে। বলে, ‘সমুদ্রে মাছ ছিল না? বড়শিতে আধার ছিল না? সত্যি জলে ফেলেছিল তো বড়শিটি?’
বঙ্গোপসাগর আমাদের অনেক ব্যথার সাক্ষী। বঙ্গোপসাগরের একেবারে কোল ঘেঁষেই উত্তর পতেঙ্গার জেলেপল্লিটি। পূর্ণিমা-অমাবস্যার জোয়ারে জেলেপাড়াটি সাগরজলে গোসল করে। সমুদ্রের শোঁ শোঁ বাতাস জেলেপাড়ার শিমুলগাছ আর নারকেলগাছের মাথা এলোমেলো করতে থাকে। বঙ্গোপসাগরের গর্জন শুনতে শুনতেই আমার বেড়ে ওঠা। আমাদের রাতে ঘুমোতে যাওয়া। সমুদ্র আর জেলেপাড়ার মাঝখানে কোনো আড়াল নেই। আমরা মাছ মারতে সমুদ্রে যাই, আনন্দে সমুদ্রপাড়ে যাই, বেদনা বোঝাতে যাই সমুদ্রের কাছে। কিন্তু ১৯৭১ সালে সমুদ্র আর আমাদের সখ্যের মাঝখানে এসে দাঁড়াল পাকিস্তানি হানাদাররা। সমুদ্র আর জেলেপাড়ার মাঝখানের ভূমিটি দখল করে আস্তানা গাড়ল তারা। তারা মাছ ধরা নিষিদ্ধ করল। সমুদ্রপাড়ে যাওয়া বন্ধ করে দিল। সমুদ্র-বিচ্ছিন্ন হয়ে জেলেরা হাহাকার করে উঠল। মাছ মারতে না পেরে জলবিযুক্ত মাছের মতন খাবি খেতে লাগল। জেলেদের জলবিচ্ছিন্ন করে ক্ষান্ত হলো না হায়েনারা। তাদের দেহসুখ মেটানোর জন্য বেছে নিল আমাদের জেলেপল্লিটিকে। এরা সন্ধ্যায় আসে, রাতে আসে, পূর্বাহ্নে আসে, অপরাহ্নে আসে। ঘিরে ফেলে এক-একদিন এক-একটি বাড়ি। শরীরের চাহিদা মিটিয়ে এরা ফিরে যায়। চাপা আর্তনাদে ধর্ষিতা নারীরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হতে থাকে। জেলে পুরুষেরা সমুদ্রের দিকে ফিরে চিৎকার করে ওঠে, ‘হা মা গঙ্গা, অ বঙ্গসাগর, তুমি তোমার জল দিয়ে এই জেলেপাড়াটি ভাসিয়ে নিয়ে যাও। তোমার পবিত্র জলে আমাদের ধর্ষিতা নারীদের অপবিত্রতাকে শুচিময় করে তুলো।’ যে বিকেলে কৃষ্ণবন্ধুর চৌদ্দ বছরের বোনটিকে হানাদাররা ধর্ষণ করে, সে বিকেলেই কৃষ্ণবন্ধু আত্মাহুতি দিতে বঙ্গোপসাগরে যায়। কিন্তু বেড়িবাঁধের পাঞ্জাবি সেনারা তাকে আটক করে, সমুদ্রজল পর্যন্ত পৌঁছাতে দেয় না। দুই দিন পর প্রচণ্ড অত্যাচার শেষে মৃতপ্রায় কৃষ্ণবন্ধুকে বেড়িবাঁধ থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেয়। কৃষ্ণবন্ধু এখনো হানাদারদের নির্যাতনের চিহ্ন গায়ে বহন করে বেঁচে আছে। কোমরভাঙা কৃষ্ণবন্ধু এখনো হুরিজাল কাঁধে নিয়ে সাগরে নামে। উত্তর পতেঙ্গার জেলেপাড়া থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ নই আমি। ওদের জীবনকথা আমার জীবনকাহিনির সঙ্গে একাকার হয়ে আছে এখনো। এখনো সময় করে আমি সাগরপাড়ে গিয়ে বসি। তাদের জীবনগাথা শুনি

আপনাদের সহযোগীতা আমাদের একান্ত কাম্য। তাই যদি বইটি ভালো লেগে থাকে তাহলে দুচার লাইন লিখে আপনার অভিব্যাক্তিগুলো জানিয়ে রাখুন আমাদের কমেন্টস বক্সগুলোতে। বন্ধু-বান্ধবদের বলুন এই সাইটটির কথা। আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমরা আরও অনেক বই নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারবো। ধন্যবাদ।

Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. Harishankar Jaladas, Samudrer Daak, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books.
নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বীরবলের হালখাতা - প্রমথ চৌধুরী

বীরবলের হালখাতা (অখন্ড) - প্রমথ চৌধুরী
বীরবলের হালখাতা (অখন্ড) - প্রমথ চৌধুরী

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলার পাখী - জগদানন্দ রায়

amarboi.com
পাখিদের নিয়ে এ এক অনবদ্য বই লিখেছেন জগদানন্দ রায়
নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

Click on +1 button before download =>
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তাহমিমা আনাম


তাহমিমা আনাম

তাহমিমা আনাম

১৯৭৫ সালে তাহমিমা জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টার দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং মা শাহীন আনাম বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা মানুষের জন্য-এর প্রধান। বাবা-মা দুজনই একসময় জাতিসংঘে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে তাহমিমার শৈশব ও কৈশোরের অধিকাংশ সময়ই বাংলাদেশের বাইরে বাইরে কেটেছে। পড়াশোনাও করেছেন ইংরেজি মাধ্যমে। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করেছেন। তার বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই বাসায় তার সাথে বাংলাতে কথা বলতেন আর সময় সময় দেশে নিয়ে আসতেন। চাকুরি ইস্তফা দিয়ে একসময় তার বাবা-মা চিরস্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এলেও পড়াশোনার জন্য তাহমিমার আর ফেরা হয়ে উঠেনি। তবে মাঝেমধ্যেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।

তাহমিমা আনাম যুক্তরাষ্ট্রের সনামধন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ নৃতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। পিএইচডি শেষ করার পর তিনি কাব্যজগতের অনন্য প্রতিভা অ্যান্ড্রু মোশনের অধীনে লন্ডনের রয়েল হলওয়ে কলেজে সৃজনশীল লেখালেখির কোর্সে ভর্তি হন। লেখালেখির স্কুলে ভর্তি হওয়াটা তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। ইয়ান ম্যাকওয়ান, কাজুও ইশিগুরো প্রমুখ খ্যাতিমান লেখকও এধরণের কোর্স করেছিলেন। এই কোর্সটি তাহমিমার উপন্যাস লেখার কাজে দারুণ সহযোগিতা করে। বলা যায় এখানে শিক্ষাজীবন শেষে করতে না করতেই তিনি প্রথম উপন্যাস লেখার কাজে হাত দেন। এছাড়া ঐতিহ্যও লেখার জন্য তাকে উৎসাহিত করেছে। তার দাদা আবুল মনসুর আহমেদ ছিলেন বাংলা ভাষার ঔপন্যাসিক।

তার প্রথম উপন্যাস আ গোল্ডেন এজ বা স্বর্ণযুগ রচনার কাজ শুরু করেন ২০০৪ সালে। তখন তিনি একইসাথে লেখালেখির কোর্সেও পড়ছেন। বাংলাদেশে না থাকার কারণে বাংলার উপর ভালো দখল তার ছিলোনা। এজন্যই মূলত ইংরেজিতে হাত দিয়েছেন। তবে ইংরেজির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার দ্বিতীয় উপন্যাস the good muslim প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাজ্য থেকে ২০১১ সালে।



নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Tahmima Anam - The Good Muslim


আলোচনায় তাহমিমা আনামের নতুন বই

তাহমিমা আনামের নতুন বই 'দ্য গুড মুসলিম' এখন আলোচনায়। এরই মধ্যে লন্ডনের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় বইটি নিয়ে আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। তাহমিমা আনামের প্রথম বই 'দ্য গোল্ডেন এইজ' বইটির মাধ্যমে ২০০৮ সালে 'প্রথম বই বিভাগে' কমনওয়েলথ সাহিত্য পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। 'দ্য গুড মুসলিম' বইয়ের বিষয়বস্তুও আগের বইয়ের মতো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। উপন্যাসটির মূল চরিত্র সালেহা। সালেহার ছেলে সোহেল হক যুদ্ধফেরত। অন্যদিকে মেয়ে মায়া চিকিৎসক হওয়ার জন্য ট্রেনিং করছেন। তাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা সংকট বইটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাহমিমা আনাম যুক্তরাজ্য প্রবাসী একজন বাংলাদেশী লেখিকা এবং ঔপন্যাসিক। তিনি প্রথম বাংলাদেশী যিনি ইংরেজি ভাষায় উপন্যাস রচনায় তার সিদ্ধির প্রমাণ রেখেছেন। তার প্রথম উপন্যাস আ গোল্ডেন এজ (A Golden Age)২০০৭ সালের মার্চে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়। বিখ্যাত প্রকাশক জন মারে এটি প্রকাশ করেছেন।
১৯৭৫ সালে তাহমিমা জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টার দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং মা শাহীন আনাম বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা মানুষের জন্য-এর প্রধান। বাবা-মা দুজনই একসময় জাতিসংঘে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে তাহমিমার শৈশব ও কৈশোরের অধিকাংশ সময়ই বাংলাদেশের বাইরে বাইরে কেটেছে। পড়াশোনাও করেছেন ইংরেজি মাধ্যমে। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করেছেন। তার বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই বাসায় তার সাথে বাংলাতে কথা বলতেন আর সময় সময় দেশে নিয়ে আসতেন। চাকুরি ইস্তফা দিয়ে একসময় তার বাবা-মা চিরস্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এলেও পড়াশোনার জন্য তাহমিমার আর ফেরা হয়ে উঠেনি। তবে মাঝেমধ্যেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
তাহমিমা আনাম যুক্তরাষ্ট্রের সনামধন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ নৃতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। পিএইচডি শেষ করার পর তিনি কাব্যজগতের অনন্য প্রতিভা অ্যান্ড্রু মোশনের অধীনে লন্ডনের রয়েল হলওয়ে কলেজে সৃজনশীল লেখালেখির কোর্সে ভর্তি হন। তার আগের পড়াশোনার চেয়ে এই কোর্সটি ছিলো সম্পূর্ণই ভিন্ন। তবে তাহমিমা বলেন সমাজবিজ্ঞান এবং সাহিত্য পরষ্পর সম্পর্কযুক্ত। এ সম্বন্ধে বলেছেন, "সামাজিক সম্পর্ক ও আদান প্রদান, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেন সমাজবিজ্ঞানী। ভালো লেখক হওয়ার মূল চাবিও কিন্তু পর্যবেক্ষণ। তাই আমার মনে হয়না যে আমি উল্টো পথে হেঁটেছি। তাছাড়া বরাবরই তো আমি লেখক হতে চেয়েছি। আমার শুধু মনে হয়েছে লেখালেখি শুরুর আগে একটি প্রফেশনাল ডিগ্রী নেয়া বড় জরুরি। পিএইচডি করার পুরো সময়টিও কিন্তু আমি উপন্যাসটি নিয়ে ভেবেছি; সেটি লেখার প্রস্তুতি নিয়েছি।"
লেখালেখির স্কুলে ভর্তি হওয়াটা তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। ইয়ান ম্যাকওয়ান, কাজুও ইশিগুরো প্রমুখ খ্যাতিমান লেখকও এধরণের কোর্স করেছিলেন। এই কোর্সটি তাহমিমার উপন্যাস লেখার কাজে দারুণ সহযোগিতা করে। বলা যায় এখানে শিক্ষাজীবন শেষে করতে না করতেই তিনি প্রথম উপন্যাস লেখার কাজে হাত দেন। এছাড়া ঐতিহ্যও লেখার জন্য তাকে উৎসাহিত করেছে। তার দাদা আবুল মনসুর আহমেদ ছিলেন বাংলা ভাষার ঔপন্যাসিক।
তার প্রথম উপন্যাস আ গোল্ডেন এজ বা স্বর্ণযুগ রচনার কাজ শুরু করেন ২০০৪[১] সালে। তখন তিনি একইসাথে লেখালেখির কোর্সেও পড়ছেন। বাংলাদেশে না থাকার কারণে বাংলার উপর ভালো দখল তার ছিলোনা। এজন্যই মূলত ইংরেজিতে হাত দিয়েছেন। তবে ইংরেজির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। লেখালেখির পাশাপাশি কোর্স চালিয়ে যাবার কারণে একসময় একটি সংকলনে তার লেখার একটি অংশ ছাপা হয়। সংকলনটির নাম ছিলো বেডফোর্ড স্কয়ার। এটি ছিলো কোর্সটিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের রচনার সংকলন। অ্যান্ড্রু মোশন কর্তৃক সংকলিত এই সংকলনটির প্রকাশক ছিলেন জন মারে। তার লেখা অংশটুকু পড়ে ভালো লেগে যায় ম্যারের। তাই তিনি তাহমিমার বইটি প্রকাশের কথা বলে একটি চুক্তি করেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Takashi Hayakawa in memory of Bangladesh

স্মৃতিকথা
তাকাশি হাইয়াকাওয়া
জাতি ও দেশের সীমানা পেরিয়ে
বাংলাদেশের সঙ্গে আমার মিলন
Bangla Books PDF
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দহনকাল - হরিশংকর জলদাস


১৪১৬ বাংলা সনের বাংলাদেশি প্রকাশনা থেকে সৃজনশীল শাখায় কথাশিল্পী হরিশংকর জলদাসের উপন্যাস দহনকাল ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’-এর পুরস্কার পেয়েছিল। ১৪১০ বঙ্গাব্দ থেকে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে খালিকুজ্জামান ইলিয়াস, সৈয়দ আকরম হোসেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও মহীবুল আজিজের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী পুরস্কারের জন্য বইটি চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করেন।
হরিশংকর জলদাসের জন্ম ১৯৫৫ সালের ১২ অক্টোবর, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গা গ্রামের জেলেপল্লিতে। তিনি পতেঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে তিনি ‘নদীভিত্তিক বাংলা উপন্যাস ও কৈবর্ত জনজীবন’ বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর অন্য উপন্যাস জলপুত্র (২০০৮)। 
তিনি বিখ্যাত ঢোলবাদক বিনয়বাঁশিকে নিয়ে লেখেন লোকবাদক বিনয়বাঁশি (২০০৪)। 
কৈবর্তকথা (২০০৯) নামে তাঁর একটি আত্মজৈবনিক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর অন্যান্য বই কবিতা ও ধীবরজীবনকথা (২০০১), ছোটগল্পে নিম্নবর্গ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০০২) ও কবি অদ্বৈত মল্লবর্মণ এবং (২০০২)। 
হরিশংকর জলদাস পেশাগত জীবনে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান।
আমারবই ডট কম আগেও তাঁর জলদাসীর গল্প নামের ছোটগল্পের সংকলন অনলাইনে pdf আকারে এনেছে। এবার তার এই নতুন উপন্যাসটি পাঠকদেরকে পড়বার সুযোগ করে দিল। আশাকরি বইটি ভালো লাগবে। সংগ্রহে রাখতে চাইলে ঝটপট কিনে ফেলুন।
অনলাইনে পড়বার জন্য এখানে ক্লিক করুন।
Download Now
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Some anecdotes of Rabindranath Tagore


রবি ঠাকুরের মজার ঘটনা


শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন কথাশিল্পী প্রমথনাথ বিশী। তো, একবার প্রমথনাথ বিশী কবিগুরুর সঙ্গে শান্তিনিকেতনের আশ্রমের একটি ইঁদারার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ওখানে একটি গাবগাছ লাগানো ছিল। কবিগুরু হঠাৎ প্রমথনাথকে উদ্দেশ করে বলে উঠলেন, ‘জানিস, একসময়ে এই গাছের চারাটিকে আমি খুব যত্নসহকারে লাগিয়েছিলাম? আমার ধারণা ছিল, এটা অশোকগাছ; কিন্তু যখন গাছটি বড় হলো দেখি, ওটা অশোক নয়, গাবগাছ।’
অতঃপর কবিগুরু প্রমথনাথের দিকে সরাসরি তাকিয়ে স্মিতহাস্যে যোগ করলেন, ‘তোকেও অশোকগাছ বলে লাগিয়েছি, বোধকরি তুইও গাবগাছ হবি।’
একবার রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজি একসঙ্গে বসে সকালের নাশতা করছিলেন। তো গান্ধীজি লুচি পছন্দ করতেন না, তাই তাঁকে ওটসের পরিজ (Porridge of Oats) খেতে দেওয়া হয়েছিল; আর রবীন্দ্রনাথ খাচ্ছিলেন গরম গরম লুচি।
গান্ধীজি তাই না দেখে বলে উঠলেন, ‘গুরুদেব, তুমি জানো না যে তুমি বিষ খাচ্ছ।’ উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বললেন, ‘বিষই হবে; তবে এর অ্যাকশন খুব ধীরে। কারণ, আমি বিগত ষাট বছর যাবৎ এই বিষ খাচ্ছি।’
রবীন্দ্রনাথের একটা অভ্যাস ছিল, যখনই তিনি কোনো নাটক বা উপন্যাস লিখতেন, সেটা প্রথম দফা শান্তিনিকেতনে গুণীজন সমাবেশে পড়ে শোনাতেন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রায়ই এরূপ পাঠের আসরে যোগদান করতেন। তা, একবার আসরে যোগদানকালে বাইরে জুতা রেখে আসায় সেটা চুরি গেলে অতঃপর তিনি জুতা জোড়া কাগজে মুড়ে বগলদাবা করে আসরে আসতে শুরু করে দিলেন।
রবীন্দ্রনাথ এটা টের পেয়ে গেলেন। তাই একদিন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে এভাবে আসরে প্রবেশ করতে দেখে তিনি বলে উঠলেন, ‘শরৎ, তোমার বগলে ওটা কী পাদুকা-পুরাণ?’ এ নিয়ে সেদিন প্রচণ্ড হাসাহাসি হয়েছিল।
একবার এক দোলপূর্ণিমার দিনে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কবি ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাক্ষাৎ ঘটে। তো, পরস্পর নমস্কার বিনিময়ের পর হঠাৎ দ্বিজেন্দ্রলাল তাঁর জামার পকেট থেকে আবির বের করে রবীন্দ্রনাথকে বেশ রঞ্জিত করে দিলেন।
আবির দ্বারা রঞ্জিত রবীন্দ্রনাথ রাগ না করে বরং সহাস্যে বলে উঠলেন, ‘এত দিন জানতাম দ্বিজেন বাবু হাসির গান ও নাটক লিখে সকলের মনোরঞ্জন করে থাকেন। আজ দেখছি শুধু মনোরঞ্জন নয়, দেহরঞ্জনেও তিনি একজন ওস্তাদ।’
মরিস সাহেব ছিলেন শান্তিনিকেতনে ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার অধ্যাপক। একা থাকলে তিনি প্রায়ই গুনগুন করে গান গাইতেন। তো, একদিন তিনি তৎকালীন ছাত্র প্রমথনাথ বিশীকে বললেন, ‘গুরুদেব চিনির ওপর একটি গান লিখেছেন, গানটি বড়ই মিষ্টি।’ অতঃপর তিনি গানটি গাইতে লাগলেন, ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে, ওগো বিদেশিনী, তুমি থাকো সিন্ধুপারে...।’
‘তা চিনির গান তো মিষ্টি হবেই। কিন্তু এই ব্যাখ্যা আপনি কোথায় পেলেন?’ প্রমথনাথ বিস্মিত হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলেন।
উত্তরে মরিস সাহেব জানালেন, ‘কেন, স্বয়ং গুরুদেবই আমাকে বলে দিয়েছেন।’
কবিগুরুর ৫০ বছর বয়সে পদার্পণ উপলক্ষে শান্তিনিকেতনের একটি কক্ষে সভা বসেছিল, যেখানে তিনি স্বকণ্ঠে গান করছিলেন। তো, তিনি গাইলেন, ‘এখনো তারে চোখে দেখিনি, শুধু কাশি শুনেছি।’ কবিগুরু এটা গেয়েছিলেন আচার্য যতীন্দ্রমোহন বাগচি উক্ত কক্ষে প্রবেশের পূর্বক্ষণে, তাই বাগচি মহাশয় কক্ষে প্রবেশ করে বিস্ময়-বস্ফািরিত নয়নে সকলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
‘সিঁড়িতে তোমার কাশির শব্দ শুনেই গুরুদেব তোমাকে চিনেছেন’, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তখন বাগচি মহাশয়কে বুঝিয়ে দিলেন, ‘তাই তো তাঁর গানের কলিতে বাঁশির স্থলে কাশি বসিয়ে তাঁর গানটি গেয়েছেন।’
সাহিত্যিক ‘বনফুল’ তথা শ্রীবলাইচাঁদ ব্যানার্জির এক ছোট ভাই বিশ্বভারতীতে অধ্যয়নের জন্য শান্তিনিকেতনে পৌঁছেই কার কাছ থেকে যেন জানলেন, রবীন্দ্রনাথ কানে একটু কম শোনেন। অতএব রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে গেলে রবীন্দ্রনাথ যখন বললেন, ‘কী হে, তুমি কি বলাইয়ের ভাই কানাই নাকি’, তখন বলাইবাবুর ভাই চেঁচিয়ে জবাব দিলেন, ‘আজ্ঞে না, আমি অরবিন্দ।’
রবীন্দ্রনাথ তখন হেসে উঠে বললেন, ‘না কানাই নয়, এ যে দেখছি একেবারে শানাই।’
একবার কালিদাস নাগ ও তাঁর স্ত্রী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। রবীন্দ্রনাথ মৃদুহাস্যে নাগ-দম্পতিকে প্রশ্ন করলেন, ‘শিশু নাগদের (সাপের বাচ্চাদের) কোথায় রেখে এলে?’ আরেকবার রবীন্দ্রনাথ তাঁর চাকর বনমালীকে তাড়াতাড়ি চা করে আনতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার আসতে দেরি হচ্ছে দেখে কপট বিরক্তির ভাব দেখিয়ে বললেন, ‘চা-কর বটে, কিন্তু সু-কর নয়।’
আরও একবার কবিগুরুর দুই নাতনি এসেছেন শান্তিনিকেতনে, কলকাতা থেকে। একদিন সেই নাতনি দুজন কবিগুরুর পা টিপছিলেন; অমনি তিনি বলে উঠলেন, ‘পাণিপীড়ন, না পা-নিপীড়ন?’ প্রথমটায় তারা কিছুই বুঝতে না পারলেও পরে কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পেরে খুবই মজা পেয়েছিলেন।
সংগৃহীত
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Humayun Ahmed Amra Keu Basay Nei [amarboi.com]

হুমায়ুন আহমেদের নতুন উপন্যাস
আমরা কেউ বাসায় নেই
কিস্তি ০১
ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হবে প্রতি শুক্রবার
Humayun Ahmed Amra Keu Basay Nei

আমাদের বাসায় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। আরও খোলাসা করে বললে বলতে হয় দুর্ঘটনা ঘটেছে বাসার শোবার ঘরের লাগোয়া টয়লেটে। কী দুর্ঘটনা বা আসলেই কিছু ঘটেছে কি না তাও পরিষ্কার না। গত ৩৫ মিনিট ধরে বাবা টয়লেটে। সেখান থেকে কোনো সাড়াশব্দ আসছে না। মা কিছুক্ষণ পরপর দরজা ধাক্কাচ্ছেন এবং চিকন গলায় ডাকছেন, এই টগরের বাবা! এই!
মা হচ্ছেন অস্থির রাশির জাতক। তিনি অতি তুচ্ছ কারণে অস্থির হন। একবার আমাদের বারান্দায় একটা দাঁড়কাক এসে বসল, তার ঠোঁটে মানুষের চোখের মতো চোখ। মা চিৎকার শুরু করলেন। মা মনে করলেন দাঁড়কাকটা জীবন্ত কোনো মানুষের চোখ ঠোকর দিয়ে তুলে নিয়ে চলে এসেছে। একপর্যায়ে ধপাস অর্থাৎ জ্ঞান হারিয়ে মেঝেতে পতন।
বাবা ৩৫ মিনিট ধরে শব্দ করছেন না। এটা মার কাছে ভয়ংকর অস্থির হওয়ার মতো ঘটনা। মা এখনো মূর্ছা যাননি এটা একটা আশার কথা।

Download Now
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নির্বাসনের কথা - এডওয়ার্ড সাঈদ অনুবাদ : মুহম্মদ মুহসি


নির্বাসনের কথা
মূল : এডওয়ার্ড সাঈদ
অনুবাদ : মুহম্মদ মুহসি
নির্বাসন এমন একটি বিষয়, যা ভাবনার জগতের জন্য অদ্ভুতের অনুভব জাগায়; কিন্তু অভিজ্ঞতার জন্য মর্মান্তিকতা ও বিভীষিকার কম্পন জাগায়। নির্বাসন একটি অমোচনীয় ফাটল, যা একটি মানুষকে তার মাটি থেকে চিরতরে আলাদা করে দেয়। একটি সত্তাকে তার অস্তিত্বের ভূমি থেকে বিতাড়িত করে দেয়। একটি জীবনের জন্য এর চেয়ে বড় কোনো দুঃখ হয় না। নির্বাসিতদের নিয়ে রচিত গাথায় এবং ইতিহাসে আমরা যেসব রোমান্টিক, বীরত্বব্যঞ্জক গৌরব কীর্তির কাহিনী পড়ে থাকি, সেগুলো মূলত নির্বাসনের জীবনবিদারী কষ্টকে জয় করারই এক ট্র্যাজিক চেষ্টার প্রকাশ। একজন নির্বাসিত যা হারায় নির্বাসিতের জীবনের কোনো প্রাপ্তিই কোনো দিন সেই হারানো সম্পদের তুলনায় উজ্জ্বলতর হয়ে উঠতে পারে না।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে, নির্বাসন যদি এমন এক স্থায়ী ও অপূরণীয় ক্ষতিই হবে, তাহলে নির্বাসন নিংড়িয়ে আধুনিক সংস্কৃতিতে ও সাহিত্যে এত ঐশ্বর্য ও শক্তি কিভাবে অর্জিত হলো? আমরা জানি যে আধুনিক যুগ আধ্যাকতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ভ্রষ্ট। আধুনিক যুগ যন্ত্রণার এবং বিচ্ছিন্নতার। নিৎশে আমাদের দেখিয়েছেন ঐতিহ্য আমাদের কী রকম অস্বস্তিতে ফেলেছে। ফ্রয়েড আমাদের দেখিয়েছেন আমাদের পারিবারিক অন্তরঙ্গতার মাঝে কিভাবে লুকিয়ে আছে আপত্তিকর যৌনতা। ঐতিহ্যের এই অস্বস্তি কিংবা অন্তরঙ্গতায় এই অস্বস্তি ভেতরে ভেতরে আমাদের নির্বাসনবোধ থেকে সৃষ্ট বিচ্ছিন্নতার উপজাত। এভাবে আধুনিক পশ্চিমা সংস্কৃতির একটা বড় অংশই নির্বাসিত ও অভিবাসিতের কর্মের-ভাবনার ফসল। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা, বুদ্ধিবৃত্তি ও নন্দনবোধের বর্তমান রূপটি তাদের দান, যারা ফ্যাসিজম, কমিউনিজম এবং এ জাতীয় দেশীয় নিগ্রহের ফলে ইউরোপ থেকে নির্বাসিত হয়েছিল আমেরিকায়। সমালোচক জর্জ স্টিনার এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, বিশ শতকীয় পশ্চিমা সাহিত্যের একটি বড় শাখার নামকরণই হতে পারে Extraterritorial অর্থাৎ 'নির্বাসিতের সাহিত্য'। স্টিনার বলেন : প্রায় বর্বর এই সভ্যতা, যা অসংখ্য মানুষকে ছিন্নমূল করে দেয়, এই সভ্যতায় যাঁরাই শিল্পকলা চর্চা করেন তাঁরা সবাই নির্বাসিত কবি_তাঁদের নিজের কোনো বাড়ি নেই_নিজের কোনো ভাষা নেই।
ওপরের বক্তব্যের ধারায় নির্বাসনের বা দেশত্যাগের ইতিবাচকতা সাহিত্যে বা ধর্মে যদি থেকেও থাকে তা পূর্বযুগীয়। আগের যুগে দুনিয়ার সব নির্বাসিতকে বা মোহাজেরকে নিজ ভাষার বাইরে এবং নিজ জাতির বাইরে গমনের একটি কল্পনা ও পরিকল্পনা ছিল। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশাও এক রকম ছিল। অভিজ্ঞতায় একরূপতা ছিল। রাশিয়ার বুদ্ধিজীবী Herzen-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নির্বাসিত বুদ্ধিজীবীদের ওপর লিখিত ই এইচ কারের গ্রন্থ 'দ্য রোমান্টিক এঙ্াইলস'-এ এ কথার প্রমাণ মেলে। আগের যুগের এই নির্বাসিতদের সঙ্গে বর্তমান যুগের নির্বাসিতদের পার্থক্য নির্বাসনের আয়তনে ও মানসিক পীড়নে। আজকের নির্বাসন ও নির্বাসিত দুনিয়া-বিস্তারী। আজকের সমর-আয়োজন, সাম্রাজ্যবাদ এবং সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক থিওরিতে বিশ্বব্যাপী শাসন আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আজকের যুগটিই হলো নির্বাসিতের যুগ। অস্থানিক মানুষের যুগ এবং গণ-অভিবাসনের যুগ। মানুষ নিজের জন্য কিংবা মানবের কল্যাণের জন্য মাতৃভূমি ত্যাগ করছে_এই ভাবনার আজ আর সুযোগ নেই। বিশ শতকীয় ঘটনার ধারায় আজকের নির্বাসন ও অভিবাসন কোনো নন্দনবোধ কিংবা মানববোধে উপলব্ধিযোগ্য নয়। সাহিত্য এই দেশত্যাগ ও নির্বাসনের এমন কিছু বেদনা ও সংকটকে চিহ্নিত ও চিত্রিত করছে, যা অনেককে শুরুতে আহত ও বিস্মিত করছে। কারণ দেশত্যাগ, নির্বাসন বা অভিবাসনকে অনেকেই এই বোধে গ্রহণ করে না বা করতে পারে না। কিছু এরূপ সংকটকে অনুভবযোগ্য করে তোলার মধ্য দিয়ে নির্বাসন বা অভিবাসন নন্দনবোধ তথা সাহিত্যের উপকার করছে_এমন ভাবতে গেলে নির্বাসন বা অভিবাসন রক্তপাত ছাড়াই যে মানুষকে কেটে টুকরো টুকরো করছে, সেই ঘটনাকে তুচ্ছ করা হয়। এ ছাড়া এটা কি সত্য নয় যে নির্বাসন বা অভিবাসন নিয়ে ধর্ম ও সাহিত্যের ভাবনা নির্বাসনের অনেক ভয়ংকরকে চাপা দেয় বা ঢেকে ফেলে? এটা কি সত্য নয় যে মৃত্যুর মতো শক্তিশালী এই নির্বাসন লাখ লাখ মানুষকে তার বংশ, ইতিহাস ও মাটির সঙ্গে লাগানো নাড়ি থেকে ছিঁড়ে ফেলে? মৃত্যু তো অবশেষে জীবনকে ঈশ্বরের কৃপারাজ্যে পেঁৗছে দেয়, কিন্তু নির্বাসন সেই কৃপা থেকেও বঞ্চিত করে।
নির্বাসিত সাহিত্যিকদের নিয়েই প্রথমে কথা বলা যাক। ধরা যাক নির্বাসিত কবিদের কথা। একজন নির্বাসিত কবি সত্যিকার অর্থে হয়ে থাকেন নির্বাসনের বিপ্রতীপ রূপ ও অবস্থাকে সয়ে নেওয়ার এক প্রতিমূর্তি। কয়েক বছর আগে সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের সঙ্গে আমি কিছু সময় কাটিয়েছিলাম। প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের সময় তিনি পাকিস্তান থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন এবং বৈরুতে দিন পার করছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ফিলিস্তিনিরা ছিলেন তাঁর কাছের বন্ধু। কিন্তু আমি অনুভব করছিলাম যে যদিও তাদের একটি সহমর্মিতার ক্ষেত্র আছে, তার পরও ভাষা, কাব্যরীতি কিংবা জীবনেতিহাসের কোথাও কোনো মিলনের বা ঐক্যের ভিত্তি তাদের মধ্যে নেই। ফলে একাকিত্বের বিষাদ তাঁকে সর্বদাই ঘিরে থাকত। একবারই দেখেছিলাম, যখন আরেক নির্বাসিত পাকিস্তানি ইকবাল আহমদ বৈরুতে এলেন; তখন ফয়েজ আহমেদ একমাত্র তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বিচ্ছিন্নতার স্থায়ী মন খারাপটুকু মুছতে পেরেছিলেন। আমরা তিনজন বৈরুতের একটি অপরিচ্ছন্ন রেস্তোরাঁয় গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দিচ্ছিলাম। ফয়েজ কবিতা পড়ে যাচ্ছিলেন। একসময় তাঁরা আমার জন্য কবিতাগুলো আর অনুবাদ করছিলেন না। কিন্তু রাত যতই বাড়ছিল, আমি অনুভব করছিলাম; অনুবাদ ছাড়াই আমি বুঝে যাচ্ছি উর্দু কবিতা। মূলত আমি তখন আর কবিতার শব্দ বা ধ্বনি শুনছি না, বরং কবিতা দেখছি। আমি দেখছিলাম দুই নির্বাসিত যেন দেশে ফিরেছেন এবং চিৎকার করে বলছেন_'জিয়া-তুমি দেখ আমরা এখানে_তোমাকে আমরা থোড়াই পরোয়া করি।' আমার এই দেখা কবিতার কোনো অনুবাদ দরকার হচ্ছিল না। রশীদ হুসাইন একজন ফিলিস্তিনি কবি। তিনি আধুনিক হিব্রু কবি বিয়ালিকের কাব্যকর্ম আরবিতে অনুবাদ করেছেন। তিনি ১৯৪৮ সাল-পরবর্তীকালের একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাগ্মী জাতীয়তাবাদী। তিনি নাসেরের ভাবধারা ও আরব জাতীয়তাবাদকে মেলাতে চেয়েছিলেন এবং এ লক্ষ্যে আরব ও ইহুদি লেখকদের একবার একত্রে আলোচনায়ও বসিয়েছিলেন। একপর্যায়ে তিনি রাষ্ট্রীয় চাপ সহ্য করতে না পেরে দেশ ছেড়ে নিউইয়র্ক চলে গেলেন এবং এক ইহুদি মেয়ে বিয়ে করলেন। সেখানে জাতিসংঘের পিএলও অফিসে একটা চাকরি নিলেন। কিন্তু পিএলওর কর্তাস্থানীয়রা তাঁর নতুন নতুন চিন্তাধারায় রীতিমতো বিরক্ত ও নাখোশ হচ্ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি পাড়ি জমালেন আরব জগতে। সিরিয়া, লেবানন কিংবা কায়রোর সর্বত্রই মনে হলো, এ তো তাঁর ভূমি নয়। আবার ফিরলেন যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর দেহকে আশ্রয় দিলেও তাঁর মনের আশ্রয় যুক্তরাষ্ট্র নয়। তাঁর মনের আশ্রয় তো ছিল ইসরায়েলের সেই গ্রাম মুজমুজ, যেখান থেকে তিনি বিতাড়িত হয়েছেন। ফলে রশীদ হুসাইনের উদ্বাস্তু মনের বাস হলো মদে আর সিগারেটে। এই মদ ও সিগারেটেই তাঁর মৃত্যু হলো। তাঁর মৃতদেহ পেঁৗছানো হলো তাঁর গ্রাম মুজমুজে। মৃত্যুর পর হলেও মুজমুজে ফিরে আজ হয়তো রশীদ হুসাইন ভালোই আছেন।
এমন অনেক কবি কবিতায় নির্বাসিতের জীবনের উচ্চারণে কবিতার মধ্য দিয়ে নির্বাসনকে একটি ট্র্যাজি-রোমান্টিক মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন। কিন্তু সে হলো কবিতার দেওয়া বাস্তবের নিরিখে এক অভিশপ্ত মর্যাদা। মূলত নির্বাসন কোনো মর্যাদার বিষয় নয়। বরং নির্বাসন হলো মানুষকে তার পরিচিতির নিম্নতম মর্যাদাটুকু থেকেও বঞ্চিত করা। সুতরাং নির্বাসনের সংকট ও সমস্যা শুধু সাহিত্য দিয়ে পরিমাপের নয়। এর সংকট, সমস্যা, গ্লানির অনেক কিছুই সাহিত্যের জগতের বাইরে। নির্বাসন নিয়ে ভাবার সময়ে জয়েস বা নবোকভকে পাশে রেখে ভাবতে হবে সেই সব হাজারো উদ্বাস্তু মানবেতর জীবনের মানুষের কথা, যাদের জন্য জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থাগুলো তৈরি হয়েছে। ভাবতে হবে সেই সব উদ্বাস্তু কৃষক ও শ্রমিকের কথা, যারা আর কোনো দিন ফিরতে পারবে না তার দেশের মাটিতে এবং চিরজীবন তাদের পরিচয় হবে একটি রেশন কার্ড এবং জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থার দেওয়া একটি সংখ্যা। নির্বাসন নগরী প্যারিসের ভুবনজোড়া খ্যাতির হাতেগোনা কয়েকজন নির্বাসিত ছাড়াও যে রয়েছে জন্মভূমি থেকে চির-বিচ্ছিন্ন ভাগ্যহত অজস্র ভিয়েতনামি, আলজেরীয়, কম্বোডীয়, লেবাননি কিংবা সেনেগালীয় যুবক-যুবতী_তাদের কথা ভাবতে হবে। এমন সব নির্বাসন নগরী কায়রো, বৈরুত, মাদাগাস্কার, ব্যাংকক কিংবা মেঙ্েিকা সিটির কথা ভাবতে হবে। আর আটলান্টিক থেকে যত পশ্চিমে যাওয়া যাবে মাতৃভূমিহীন জীবনের যন্ত্রণা চোখের সামনে ততই বাড়বে। দেখা যাবে মানুষ আর মানুষ, যাদের কোনো অতীত-ভবিষ্যৎ নেই_যাদের কোনো নাম-ধাম-ঠিকানার কাগজ নেই। তারা নিজেরা ছাড়া তাদের আজ সব কিছুই হারিয়ে গেছে।

নির্বাসন বা দেশত্যাগের আলোচনায় জাতীয়তাবাদ একটি আবশ্যিক প্রসঙ্গ। জাতীয়তাবাদ মানে একটি স্থান, জাতি এবং একটি ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে রাখার লড়াই। জাতীয়তাবাদ জোর গলায় বলে সেই স্বদেশের কথা, যার ভিত্তিভূমে রয়েছে একটি ভাষা, সংস্কৃতি এবং প্রথাবদ্ধ সামাজিক আচার। এই বলার মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদ বিরোধিতা করে সব নির্বাসন বা দেশত্যাগমূলক কর্মকাণ্ডকে এবং বাধা দেয় নির্বাসনের সব ধ্বংস প্রক্রিয়াকে। তবে আশ্চর্যজনক সত্য হলো, মূলত জাতীয়তাবাদের মধ্যেই নিহিত থাকে নির্বাসনের সব প্রক্রিয়ার বীজ। হেগেলীয় মনিব-ভৃত্য ডায়ালেক্টিকসে যেমন মনিব-ভৃত্য পরস্পর সম্পূর্ণ বিরোধী হলেও মূলত একে অপরের জন্য দায়ী, তেমনি নির্বাসন এবং জাতীয়তাবাদ পারস্পরিক বিরোধী হলেও একে অপরকে সৃষ্টি করে। প্রথমত, জাতীয়তাবাদের সৃষ্টিই একটি গোষ্ঠীকে আলাদা বা বিচ্ছিন্ন করার প্রয়াসের মধ্যে নিহিত। আমেরিকার স্বাধীনতা, জার্মানি বা ইতালির একত্রীকরণ কিংবা আলজেরিয়ার মুক্তি_এমন সব ঘটনাই মূলত আগে যেখানে ছিলাম কিংবা যাদের সঙ্গে ছিলাম, তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংগ্রাম এবং এক অর্থে পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে নির্বাসিত হওয়ার সংগ্রাম। এই সংগ্রামে বিজয়ী হলে অর্জিত জাতীয়তাবাদ ভূতাপেক্ষিকভাবে এবং ভবিষ্যতের গর্ভজুড়ে নৈতিক মর্যাদায় নির্বাচিত ঘটনার নির্ধারিত অর্থ দিয়ে গড়ে তোলে এক ইতিহাস। এই ইতিহাস হয়ে দাঁড়ায় জাতীয়তাবাদের আখ্যান। এই আখ্যানে থাকে জাতির জনকের কথা, থাকে ধর্মজ্ঞানের মতো পবিত্র কিছু মূলমন্ত্র, থাকে কী তাদের আঁকড়ে থাকার বিষয়, সেই সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত কিছু শব্দমালা, থাকে তাদের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সাফল্যসূচক ঘটনা বা বিজয়স্তম্ভসমূহ; এবং আরো থাকে কারা বন্ধু এবং কারা তাদের নেতা_এ সম্পর্কিত উচ্চারণ।
জাতীয়তাবাদের এ আখ্যানকেই Pierre Bourdieu বলেছেন Habitus। জাতীয়তাবাদের সফল সীমানায় পেঁৗছলে সংশ্লিষ্ট জাতি মনে করে, সব সত্য হলো তা, যা তারা ভাবে বা করে এবং সব মিথ্যা হলো তা, যা অন্যরা ভাবে বা করে। যেমনটা পুঁজিবাদীরা ভাবে সমাজতান্ত্রিকদের কিংবা ইউরোপীয়রা ভাবে এশীয়দের। কোনো জাতির এই 'তারা' (জাতির নিজ ভাষায় 'আমরা') এবং 'অন্যরা' প্রত্যয়দ্বয়ের মাঝে যে সীমানাসূচক রেখাটি রয়েছে, সেই রেখায় থাকে তারা, যাদের আঁকড়ে ধরার কিছু নেই কিংবা যাদের কাছ থেকে আঁকড়ে ধরার সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে; এবং এরাই হলো এক শব্দে 'নির্বাসিত'। আদিম যুগে এই রেখায় জনকে বা জনগোষ্ঠী নির্বাসন দেওয়া হতো। আর আধুনিক যুগে এই রেখায় জমতে থাকে শরণার্থী নামের মানুষেরা কিংবা পা থেকে মাটি কেড়ে নেওয়া মানুষেরা, অর্থাৎ নির্বাসিতরা।
জাতীয়তাবাদীরা একেকটি দল। নির্বাসন হলো সেই দলহারা একাকিত্ব। এই একাকিত্বে পতিত হলে জাতি থেকে একাকিত্বে পতিত লোকটির দূরত্ব বাড়ে না, বরং বিপরীতভাবে জাতীয় গৌরবের সব বিষয়, জাতীয় মনোভঙ্গি এবং সাকল্যে জাতির প্রতি নাড়ির টানটি তার আরো দুর্মর হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় কি প্রশ্ন জাগে না_জাতীয়তাবাদ ও নির্বাসনের মাঝে অনেক অভিন্ন চরিত্র বিদ্যমান? তারা কি পরজাতি বিদ্বেষের দুটি বিপরীত স্রোত নয়? এ জিজ্ঞাসাগুলোর কোনো চূড়ান্ত উত্তর নেই। কারণ এ জিজ্ঞাসাগুলোর প্রতিটি ধরে নেয়, নির্বাসন ও জাতীয়তাবাদের আলোচনা হতে হবে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে, একটিকে অপরটির সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত না করে। কিন্তু সেই বিযুক্তিই তো কখনো সম্ভব নয়। তবে একটি মাত্র জায়গায়ই তাদের আলাদা করে এ কথা বলা যায়, জাতীয়তাবাদের জাতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষার কিছুই নির্বাসিতের সংকটকে একবারও ছুঁয়ে যায় না।
জাতীয়তাবাদ জীবনের একটি ধারাবাহিকতা। কিন্তু নির্বাসন সেই ধারাবাহিকতার ছেদ। নির্বাসিত তার শিকড়, তার ভূমি এবং তার অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন। নির্বাসিতের রাষ্ট্র নেই, প্রতিরক্ষা বাহিনী নেই। তবে নির্বাসিতরা এই শেষোক্ত দুইয়ের অর্জনের জন্যই চেষ্টা করে। নির্বাসিতরা বোধ করে, তাদের ভাঙাচুরা জীবনগুলোকে জোড়াতালি দিয়ে এক করতে হবে। এ লক্ষ্যে পেছনকে পেছনে ফেলে অনেক সময়ই তারা বেছে নেয় এমন কোনো আদর্শকে, যে আদর্শ বিশ্বের বুকে বিজয়ী রূপে বর্তমান। বিজয়ীর আদর্শ ছাড়া অন্য কোনো আদর্শের তলে দাঁড়িয়ে এক হয়ে দাঁড়ানো কার্যত সম্ভব নয় বলেই দূর থেকে এনে হলেও কিংবা ধার করে এনে হলেও নির্বাসিতরা এই পথে জাতীয় পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হয়। ইহুদি, ফিলিস্তিনি কিংবা আর্মেনীয়দের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলেও এ বক্তব্যের বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নৌবর একজন বিচ্ছিন্ন আর্মেনীয়। ১৯১৫ সালে তাদের পরিবারের ওপর ভয়ংকর অত্যাচার নেমে আসে। তার মাতামহকে হত্যা করা হয়। এ পরিস্থিতিতে তার মা-বাবাকে পূর্ব তুরস্ক ছাড়তে হয়। তার মা-বাবা আশ্রয়ের সন্ধানে নামেন। প্রথমে আলেপ্লোতে, পরে কায়রোতে। ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মিসরে অমিসরীয়দের জন্য থাকাটা কঠিন হয়ে ওঠে। তার মা-বাবা চার সন্তানসহ একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার সহায়তায় বৈরুতে পাড়ি জমান। ত্রাণ সংস্থাটির ভাতার ওপর নির্ভর করে দুই রুমের একটি ঘরে গাদাগাদি করে বাস শুরু হয় নৌবরের পরিবারের। তারপর একসময় তাদের হাতে কোনো অর্থ থাকে না এবং অপেক্ষা শুরু হয় কোনো ত্রাণ সংস্থার সুদৃষ্টির ওপর। আট মাস পর একটি ত্রাণ সংস্থা তাদের গ্লাসগো যাওয়ার জন্য কয়েকটি বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে। এভাবেই পরবর্তীকালে নৌবরের পরিবার পেঁৗছে গান্ডারে এবং শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কে। গ্রেহাউন্ড বাসে করে তারা রওয়ানা হয় নিউইয়র্ক থেকে সিয়াটলে। আমি নৌবরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমরা শেষ পর্যন্ত সিয়াটলে যাচ্ছ? নৌবর হাসল; এবং হাসিতেই বোঝাল, আর্মেনিয়ার চেয়ে সিয়াটলই ভালো। এভাবে অতীত কেটে দিয়ে নির্বাসিতরা বিজয়ীর আদর্শে একত্রিত হওয়ার লক্ষ্যে আত্মবিসর্জন দেয়।
নির্বাসিতের জীবনে কোনো কিছুরই নিরাপত্তা নেই। তাই নির্বাসিতের জীবনদৃষ্টিটি হিংসার। নির্বাসিতদের কেউ কিছু পেলে স্বার্থপরের মতো তা একক ভোগের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এই স্বার্থপরতা থেকে তাদের মধ্যে তৈরি হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলের কঠিন ঐক্য এবং অন্যের প্রতি কঠিন হিংসা। এমনকি একই রকম সংকটে পতিত অন্য দলের প্রতিও হতে পারে নির্বাসিতের এই হিংসা। ফিলিস্তিনি ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলিদের হিংসা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ফিলিস্তিনিরা মনে করে, তারা আজ উদ্বাস্তু ইহুদিদের কারণে, যে ইহুদিরা নিজেরাই ছিল স্মরণকালের দুর্গততম উদ্বাস্তু। অর্থাৎ উদ্বাস্তুরাই উদ্বাস্তুদের হিংসার শিকার। আবার ফিলিস্তিনিরা আজ জানে, তাদের জাতীয়তার ঐক্যে আজকের যে জাগরণ, সেই জাগরণ মূলত তাদের এই উদ্বাস্তু জীবনের দান। উদ্বাস্তু জীবনে পেঁৗছে তারা প্রথম বুঝেছে, তাদের 'আমরা' কারা। আজ তারা বোঝে, তাদের যারা সহমর্মী, সেই ত্রাণ সংস্থার লোকেরাও তাদের 'আমরা' নয়। তারা বোঝে, এই 'আমরা' থেকে কারো বেরিয়ে যাওয়া কতটা বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয়।
নির্বাসিতদের ইতিহাসে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে করুণ ঘটনা যে একটি জনগোষ্ঠী আরেকটি নির্বাসিত জনগোষ্ঠী দ্বারা নির্বাসিত হচ্ছে। স্বদেশহারা একটি জনগোষ্ঠী সুবিধাপন্নতায় পেঁৗছে আরেকটি জনগোষ্ঠীকে স্বদেশহারা করছে। ১৯৮২ সালের গ্রীষ্মে সব ফিলিস্তিনির মনে একটি জিজ্ঞাসা ছিল_ইসরায়েলিরা ১৯৪৮ সালে আমাদের দেশছাড়া তো করলই, এরপর আজ লেবাননের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকেও কেন তারা আমাদের তাড়াচ্ছে? এ প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত এই যে, ইহুদিরা তাদের বসতির কাছাকাছিও কোনো উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর বাস সহ্য করতে পারছিল না। কারণ সেসব উদ্বাস্তুকে দেখলেই তো তাদের নিজেদের উদ্বাস্তু-জীবনের যন্ত্রণার কথা অনিবার্যভাবে মনে পড়ে যায়। ইসরায়েলিদের এই সহ্য করতে না পারাটা দিন দিন বেড়ে ফিলিস্তিনি জাতীয়তার এক স্থায়ী শত্রুতায় পরিণত হয়। আজ এই ৪৬ বছর যাবৎ ফিলিস্তিনিরা জাতীয়তায় আবদ্ধ হতে চেষ্টা করছে আর ৪৬ বছর ধরে বাড়ছে ইসরায়েলি শত্রুতা।
ফিলিস্তিনিদের নির্বাসিত জীবনের অনেক বিভেদ ও বিচ্ছিন্নতার মধ্য থেকে জাতীয়তার অঙ্কুরোদ্গমের এই চেষ্টা দৃশ্যমান মাহমুদ দারবিশের কবিতায়। তাঁর কবিতা হারানোর ব্যথাকে প্রাপ্তির আরাধনা বেদিতে পেঁৗছে দেওয়ার এক মহাকাব্যিক প্রয়াস। তাই তো তাঁকে দেখি, তিনি ভিটা হারানোর দুঃখকে সাঙ্গ না হওয়া কতগুলো কাজের তালিকায় প্রকাশ করেন এবং একটি অনুভূতি জাগিয়ে তোলেন যে এ কাজগুলোকে উপসংহারে নিয়ে যাওয়ার একটি দায় আছে_
আমি নির্বাসিত
তোমার চাহনি আমার শরীরে এক সিলমোহর।
আমাকে নিয়ে যাও যেখানে খুশি
আমাকে নিয়ে যাও তুমি যে-ই হও।
শুধু আমাকে ফিরিয়ে দাও আমার চেহারার রং
ফিরিয়ে দাও আমার শরীরের উষ্ণতা
ফিরিয়ে দাও আমার চোখের ও হৃদয়ের আলো
ফিরিয়ে দাও আমার রুটির লবণটুকু
ফিরিয়ে দাও আমার ভূমির, আমার মাতৃভূমির
স্বাদটুকু।
এক কথায়, নির্বাসন বলতে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়াকে বোঝালেও নির্বাসনের বিভিন্ন রূপ, যেমন_নির্বাসিত, শরণার্থী, দেশত্যাগী, অভিবাসী ইত্যাদির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। এগুলোর মূলে রয়েছে অবশ্যই আদি ঘটনা, অর্থাৎ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। যার দেশ ছাড়তে হলো, তার শুরু হলো দুর্দশার জীবন এবং পরদেশি নামের কলঙ্কময় জীবন। নির্বাসনের বিভিন্ন রূপের মধ্যে শরণার্থী রূপটি একেবারেই বিংশ শতকীয় একটি রূপ। 'শরণার্থী' (Refugee) শব্দটি অনেকটা রাজনৈতিক শব্দ, যা মনে করিয়ে দেয় একদল দেশহারা নির্দোষ মানুষকে, যাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু 'নির্বাসিত' (Exile) শব্দটি একটু ভিন্ন মাত্রার, যার সঙ্গে একাকিত্ব এবং অন্তর্গত বেদনার বিষয়গুলো বেশি প্রাসঙ্গিক।
দেশত্যাগীরা (Expatriate) স্বেচ্ছায়ই ব্যক্তিক বা সামাজিক পটভূমিতে নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বসবাস করে। হেমিংওয়ে কিংবা ফিটজেরাল্ডকে কেউ ফ্রান্সে বাস করতে বাধ্য করেনি। দেশত্যাগীরা নির্বাসিতদের নিঃসঙ্গতার অনেক তীব্রতা অনুভব করতে পারে। তবে তারা নির্বাসিতদের নিষেধ-তালিকার অনেক কিছুরই বাইরে। অভিবাসীরা একেবারেই আলাদা। উপনিবেশের স্বার্থে ঔপনিবেশিকরা অনেকে অভিবাসী হতো। তারা নিঃসঙ্গতার কষ্ট কিছু পেলেও তাদের তো কেউ নির্বাসন দেয়নি। একইভাবে সাদা ইউরোপীয়, যারা অস্ট্রেলিয়া বা আফ্রিকায় স্থায়ী হয়েছে, তারা অভিবাসী হলেও 'নির্বাসিত' (Exile) শব্দটি তাদের সঙ্গে একেবারেই যায় না। একজন নির্বাসিত তার হারানো ভূমির ক্ষতিপূরণে চেষ্টা করে নতুন ভূমি সৃষ্টির জন্য, যে ভূমিতে থাকবে তার শাসন। এই নতুন ভূমি সৃষ্টির চেষ্টার ফলাফল হিসেবেই নির্বাসিতদের অনেকেই বড় মাপের ঔপন্যাসিক, দাবাড়ু, রাজনীতিক এবং বুদ্ধিজীবী। এ ক্ষেত্রগুলোর নির্বাসিতদের আগ্রহ বেশি এ কারণে যে নির্বাসিতরা স্বাভাবিকভাবেই গরিব হয়ে থাকে এবং খালি পকেটে এসব ক্ষেত্রেই যা কিছুটা সুবিধা করা যায়; অন্যত্র নয়। নির্বাসিতের সৃষ্ট জগৎ প্রায় এক অবাস্তব জগৎ এবং এই অবাস্তবতা উপন্যাসের জগতের বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। গিয়র্গ লুকাস 'থিয়রি অব দ্য নভেল' গ্রন্থে বলেছেন, উপন্যাসের বাস্তবতা দেশহারা অনুভবের অতীন্দ্রিয় পর্যায়ের (Transcendental Homelessness) মূর্তায়ন। লুকাস বলেন, মহাকাব্য ও উপন্যাসের পার্থক্য হলো_মহাকাব্য তৈরি হয় এমন ভূমিতে, যেখানে সংস্কৃতি থিতু হয়েছে, মূল্যবোধ স্থায়ী রূপ পেয়েছে এবং জীবন পরিবর্তনশীলতা রোধ করেছে। পক্ষান্তরে উপন্যাস হলো সেই ভূমির নির্মিতি, যে ভূমির অবস্থা পুরো উল্টো রূপ। বিশেষ করে ইউরোপীয় উপন্যাসগুলোর নির্মিতি সেই ভূমিতে, যেখানে একটি অস্থির আদিবিচ্ছিন্ন মধ্যবিত্ত সমাজ চেষ্টা করে চলেছে একটি নতুন ভূমি নির্মাণের, যা মূলত ধারণ করবে ফেলে আসা আদি ভূমিরই ছায়া। উপন্যাসের নির্মিতি এমন একটি দ্বিতীয় ভূমি। কিন্তু মহাকাব্যে এমন কোনো দ্বিতীয় ভূমির স্থান নেই। মহাকাব্যের ভূমি অদ্বিতীয়ভাবে একটি, যা স্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয়। অডিসিউস দীর্ঘ পরিভ্রমণ শেষে সেই স্থায়ী ভূমি ইথাকায় পেঁৗছেন। একিলিসকে মরতে হয়। কারণ তিনি সেই স্থায়ী ভূমিতে পেঁৗছতে পারেননি।

উপন্যাস বেঁচেই আছে এই প্রাকল্পিক ধারণার ওপর যে একটি দ্বিতীয় বা বিকল্প ভূমি আছে। উপন্যাসের এই দ্বিতীয় ভূমি আর দেশত্যাগী এবং নির্বাসিতদের বিকল্প ভূমি আদতে অভিন্ন।
নির্বাসিতরা যত ভালো অবস্থায়ই থাকুক না কেন, তারা সব সময় মনে করে, তাদের স্বাতন্ত্র্যগুলো হলো একজন ইয়াতিমের স্বাতন্ত্র্য এবং সেই ইয়াতিমিপনাকে তারা ব্যবহারও করে। এই স্বাতন্ত্র্যকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে তারা জেদি মনোভাবের সঙ্গে মনে করে, তাদের অধিকার আছে কোনো কিছুকে আঁকড়ে না ধরার। এ থেকে অনেক সময় তৈরি হয় অপরকে সহ্য না করার গোয়ার্তুমি। খামখেয়ালিপনা, অতিরঞ্জন, অতিশায়ন ইত্যাদি নির্বাসিতের জীবনের বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে। এগুলো দ্বারা অপরকে তারা চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে গ্রহণ করাতে বাধ্য করতে চায়। চরমতাকে দাবিয়ে প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতা নির্বাসিতের কর্মে আসতেই চায় না। নির্বাসিত শিল্পীরা চূড়ান্তভাবেই আমাদের অনুভূতির ওপর একটি ধাক্কা। তাদের জেদীপনা তাদের শ্রেষ্ঠ কর্মগুলোর ওপরও কটমট চোখে তাকিয়ে থাকে। 'ডিভাইন কমেডি'র প্যারাডাইস পর্ব যেখানে স্বর্গীয় শান্তির এবং পরমানন্দের বাইরে আর কিছু থাকার কথা নয়, সেখানেও দেখা যায় ইনফার্নোর প্রতিহিংসা এবং বিচারের অত্যাচার উঁকি দিচ্ছে। ফ্লোরেন্স থেকে নির্বাসিত দান্তে স্বর্গের খোদায়ি জগৎ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন তাঁর ফ্লোরেন্স হারানোর যন্ত্রণা।
জেমস জয়েস নির্বাসিতের জীবনভাবনাকে পছন্দ করে নিয়েছিলেন। এই ভাবনায় তিনি তাঁর লেখকবৃত্তিকে শাণিত করেছিলেন। জয়েসের জীবনীগ্রন্থে রিচার্ড এলম্যান বলেছেন, জয়েস আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে একটি দ্বন্দ্ব স্ব-উদ্যোগে তৈরি করে সেটাকে জিইয়ে রাখতেন আয়ারল্যান্ড থেকে নির্বাসিত এমন একটি অনুভবকে তাঁর মাঝে কার্যকর রাখার জন্য। এই দ্বন্দ্ব মিইয়ে যেতে বসলে কিংবা মিটমাট হতে গেলে আবার নতুন কোনো ঘটনা দ্বারা সেটাকে মানস রাজ্যে শাণিত করে নিতেন। এভাবেই জয়েসের উপন্যাস বহন করে অস্তিত্বের নিঃসঙ্গতা ও বিচ্ছিন্নতা। এমন নির্বাসিতের জীবন অনুভবকে জীবনের জন্য নির্বাচন করাটা খুব সাধারণ ঘটনা না হলেও জয়েস সেই অসাধারণের চর্চা করেছেন। তবে জয়েসের এই চর্চা একটি কঠিন প্রশ্ন তোলে। জয়েসের চর্চা কি প্রমাণ করে না, নির্বাসন আদতে এত ব্যক্তিগত একটি বিষয় যে জাতীয়ভাবে এটাকে খুব বড় করে দেখার সুযোগ কম। এ বাস্তবতায় বর্তমানে নির্বাসন সম্পর্কে এমন একটি ধারণাও অনেকের মধ্যে দেখা যায়, অনির্বাসিতরাও নির্বাসিতদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে আ@ে@@@াপকারে ব্যবহার করছে। এ বক্তব্যের কিছুটা সত্যতাও রয়েছে। মধ্যযুগীয় পরিব্রাজক পণ্ডিতদের মতো তারাও পরিবেশকে কিছুটা সমৃদ্ধি দেয়। এগুলোর ভিত্তিতে অনেক সময়ই আমরা নির্বাসিতদের আলোকদায়ী ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ করে দেখি এবং তাদের দুর্দশাকে আমলে কম নিই। কিন্তু সাহিত্য জগতের বাইরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে দেখলে নির্বাসিতদের ঘরহারা বা দেশহারা জীবনের ট্র্যাজিক দুর্ভাগ্য এবং নির্দয় জগতের তাদের প্রতি করুণ অবহেলা বেশি চোখে পড়বে।
এক প্রজন্ম আগে সাইমন ভিল নির্বাসিতদের সংকট নিয়ে খুব সংক্ষেপে সুন্দর কিছু কথা বলেছিলেন। ভিল বলেছিলেন, স্বদেশের মাটির সঙ্গে শিকড়টি ধরে রাখতে পারাটা মানুষের আত্মার জন্য সবচেয়ে কম মূল্যায়িত অথচ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রয়োজন। তিনি আরো দেখিয়েছিলেন, এই বিশ্বযুদ্ধ, গণহত্যা ও নির্বাসনের যুগে স্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্নকরণের বিরুদ্ধে যেসব উপায় অবলম্বন করা হচ্ছে, তা বিছিন্নকরণ বা নির্বাসন-প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক সময়ই কম জঘন্য নয়। নির্বাসন মোকাবিলায় সেসব ব্যবস্থার একটি হলো রাষ্ট্রবাদীব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার জঘন্যতা হলো_রাষ্ট্র এমন এক বন্ধন দাবি করে যে সেই বন্ধনের দাবিতে রাষ্ট্র তার জনগণের অন্য সব বন্ধন কেটে দিতে দ্বিধা করে না।
ভিল নির্বাসনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা যেসব অপ্রতিরোধ্য চাপ ও অক্টোপাস-বেষ্টনীর কথা বলেছেন, সেগুলোর নিরিখে নির্বাসিতদের জীবনকে ট্র্যাজেডি ব্যতীত অন্য কোনো শব্দে বা ধারণায় ব্যক্ত করা যায় না। নির্বাসিতের বিচ্ছিন্নতা এবং বিভুঁইয়ের জীবন তার ভেতর এক আত্মপীড়নের বোধ জাগিয়ে তোলে, যা তাকে আত্মবিকাশ বা সাংস্কৃতিক সম্মোহন থেকে দূরে ঠেলে দেয়। তখন নির্বাসনই তার চাওয়া হয়ে ওঠে এবং সব মানবিক প্রতিশ্রুতি থেকে সে দূরে সরতে থাকে। তখন জীবন এমন হয়ে ওঠে যে এর চারপাশের সব কিছুই বড় অস্থায়ী এবং তুচ্ছ মনে হয়। তখন কোনো কিছুর প্রতিই আর ভালো লাগার বোধ জাগে না। তখন জাতীয় আন্দোলনে যোগদানও বাজে এবং বোঝা মনে হয়ে উঠতে পারে।
এটাও বিবেচনার বিষয় যে রক্ষণমূলক জাতীয়তা নির্বাসিতদের মধ্যে আত্মচেতনা জাগায় এবং একইভাবে জাগায় নিজেকে জাহির করার প্রবণতা। সেখান থেকে জাগে জাতিরূপে একত্রিত হওয়ার প্রয়াস। তার জন্য দরকার হয় জাতীয় ইতিহাস, প্রাচীন ভাষা, ঐতিহ্য এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান; যেমন_গ্রন্থাগার, বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি। এর মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার বোধ এবং তারও ভেতর দিয়ে আত্মানুসন্ধানী প্রক্রিয়ায় 'এথ্নিসিটি'র বিষয়বোধ ও ভাবনা শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এ বাস্তবতার নিরিখেই আমি বলব, পরদেশে বাস কোনো সুবিধা নয়। এটা শুধু অনেক দিক দিয়ে আধুনিক, সেসব অবস্থা বা প্রতিষ্ঠানের একটি, যা আধুনিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ বা শাসন করছে। প্রবাস বা নির্বাসন কোনো চাওয়া নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই নিয়তি-নির্দিষ্ট অবস্থা। নির্বাসিত জানে, এই অনিশ্চিত জগতে সব নিবাসই বড় সাময়িক বাস। দেশের সীমারেখা আর প্রতিবন্ধক দেয়াল দ্বারা যেমন নিরাপত্তার বলয় তৈরি হয়, তেমনি তাদের দ্বারাই বন্দিখানার জিঞ্জিরও তৈরি হয়। নির্বাসিতরা সেই সীমারেখা ও দেয়াল ভেঙে বের হয়। সেই দেয়ালের সঙ্গে তারা ভাঙে চিন্তা ও অভিজ্ঞতার দেয়াল।
স্যাঙ্নির এক ধর্মীয় পুরুষ হুগো এ প্রসঙ্গে কতকগুলো চমৎকার কথা লিখেছিলেন। হুগো লিখেছিলেন : 'অনুশীলনার্থী মনের জন্য এটি একটি আনন্দের উৎস যে এই মন অল্প অল্প করে এগোবে। প্রথমে অদৃশ্য ও অসহনীয় বস্তুগুলো নিয়ে মনের পরিবর্তন ঘটাবে এবং ধীরে ধীরে পেছনের সব কিছুই পেছনে ফেলে দেবে। যে এখনো মাতৃভূমিকে মমতাময় মনে করে, তার যাত্রা এ পথে প্রায় শুরুই হয়নি বলা যায়। যেকোনো দেশকে নিজের মনে করতে পারে, সে বেশ কিছু দূর এগিয়েছে এবং শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আর গন্তব্যে পেঁৗছেছে সে, যে বুঝে গেছে সারা দুনিয়াই তার জন্য প্রবাস এবং বিদেশ-বিভুঁই। যার যাত্রা কেবল শুরু হয়েছে, তার ভালোবাসা একটি ভূমিতে। আর যে কিছু দূর এগিয়েছে, তার ভালোবাসা সব ভূমিতে। আর যে গন্তব্যে পেঁৗছেছে, সে ধ্বংস করতে পেরেছে সব ভালোবাসা।'
বিশ্বযুদ্ধকালে তুরস্কে বসবাসরত নির্বাসিত বা প্রবাসী এরিখ আউরবেখ এই বাক্যগুলো উদ্ধৃত করে উৎসাহ দিয়েছিলেন তাদের, যারা জাতীয় এবং দৈশিক সীমারেখা থেকে বের হতে আগ্রহী। এই মনোভাব ধারণ করে একজন ঐতিহাসিক বুঝে উঠতে পারেন, মানব অভিজ্ঞতার ইতিহাস এবং সেই অভিজ্ঞতার বিভিন্নতা ও এককতা। এই হুগোর বাক্যগুলোতে একটি বিষয় স্মর্তব্য। হুগোর বর্ণিত তৃতীয় ধাপে যেখানে ব্যক্তি পূর্ণতায় বা গন্তব্যে পেঁৗছে, সেখানে পেঁৗছতে হলে ভালোবাসা বিসর্জন দিতে হয়। তবে তার জন্য প্রথম এবং দ্বিতীয় স্তরের ভালোবাসার মধ্য দিয়েই যেতে হয়। শুরুতেই সব ভালোবাসা প্রত্যাখ্যান হলে পথ চলাটাই শুরু হয় না। সে সূত্রেই বলতে হয়, নির্বাসন বা প্রবাসের ভিত্তি স্বদেশের মাটির প্রতি ভালোবাসা বা বন্ধনটির অস্তিত্ব। স্বদেশটি হারিয়েছে_এই হারানোর বোধটাই ঘোষণা করে, স্বদেশটির সঙ্গে আছে একটি শক্তিশালী বন্ধন।
নির্বাসনের ভালো দিকও আছে_এমন ধারণা করাটা যদিও কিছুটা খটকা লাগায়, তার পরও ভালো মনে হয় এমন দিক কিছু খুঁজলে পাওয়া যাবে। সারা পৃথিবীকে নিরাসক্তভাবে বিদেশ হিসেবে দেখতে পারার মধ্যে নির্বাসিতের দৃষ্টিরেখা প্রসারিত হয়। পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষ এক দেশ, এক সংস্থা এবং এক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন। প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্বাসিতরা অন্তত দুটি বিষয় সম্পর্কে সচেতন। দৃষ্টিরেখায় এই বহুত্ব একই সঙ্গে ভাবনায় ও মননে বহুমাত্রিকতা আনয়ন করে। সংগীতের সুরের মিশ্রণে যে মূর্ছনা জাগে, দৃষ্টিরেখায় এই বহুত্ব মননে তেমন মূর্ছনের সঞ্চার করে। প্রবাসের বর্তমান ও অতীতের স্বদেশ একত্রে জাগরূক থাকে। এমন অনুভবও সম্ভব হয় যে নির্বাসিত প্রবাসেই স্বদেশে বাসের আনন্দ আস্বাদ ঝরে।
তবে এই ভাবনাজাত অলীক আস্বাদে আশঙ্কাও থাকে। 'নাই'-এর মাঝে 'আছে' কল্পনার এই মূর্তায়ন এবং এর আস্বাদ দেহ ও মন_দুইয়ের জন্য বড়ই কষ্টকর ও ক্লান্তিকর। ফলে শান্তি, সন্তুষ্টি ও ভালো লাগার জায়গা প্রবাস বা নির্বাস কখনোই নয়। ওয়ালেস স্টিভেন্সের শব্দে প্রবাস হলো মনোরাজ্যের স্থায়ী শীতকাল, যেখান থেকে হেমন্ত ও বসন্তের ঐশ্বর্য খুব কাছ থেকেই দেখা যায়, কিন্তু কখনো হাতে পাওয়া যায় না। এ কথাই এভাবে বলা যায়, নির্বাসিতের জীবন এক আলাদা দিনপঞ্জিতে চলে। স্বদেশের জীবনে যেভাবে ঋতু আসে, এই জীবনে সেভাবে ঋতুরা আসে না। [ঈষৎ সংক্ষেপিত]

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com