সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label কলাম. Show all posts
Showing posts with label কলাম. Show all posts

এখনও ফর্সা, স্লিম, প্রকৃত সুন্দরী পাত্রী চাই - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - গোলাম মুরশিদ

বিজনে নিজের সঙ্গে দেখা
যা দেখি, যা শুনি, একা একা কথা বলি
এখনও ফর্সা, স্লিম, প্রকৃত সুন্দরী পাত্রী চাই
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

খবরের কাগজের যে পৃষ্ঠা কিংবা পৃষ্ঠাগুলি আমি জীবনে কখনও পড়িনি কিংবা পড়ার দরকার হয়নি, তা হল পাত্রপাত্রীর বিজ্ঞাপনের পাতা। খুদে খুদে অক্ষর, সাংকেতিক ভাষায় লেখা ওই সব বিজ্ঞাপনে কখনও চোখ পড়ে গেলেও চোখ সরিয়ে নিয়েছি। মাত্র কয়েক দিন আগে এক বর্ষার বিকেলে মুড়ি-তেলেভাজা খাওয়ার জন্য টেবিলের উপর খবরের কাগজ পাতা হয়েছে, ঢেলে দেওয়া হয়েছে মুড়ি, বেগুনি এখনও ভাজা শেষ হয়নি, আমি আবার কাঁচালঙ্কার অর্ডার দিয়েছি, চোখের সামনে ছাপা অক্ষর থাকলে তাতে অলস ভাবে চোখ বোলাতেই হয়। সেই ছড়ানো দু’পাতা ভর্তি সবই পাত্র-পাত্রী সংবাদ। কয়েকটি পড়ার পর আমার সমস্ত শরীরে যেন একটা ঝাঁকুনি লাগল। এ সব আমি কাদের কথা পড়ছি? এই দেশ সম্পর্কে আমি এতই অজ্ঞ? এই সমাজে যে এত অসংখ্য জাতপাত ভেদ আছে, সে সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমরা সমাজে যে একটা ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে ঘোরাফেরা করি, সেখানে এখন প্রায় কেউ জাতপাত নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্তু তার বাইরের সমাজটা যে একেবারে শুদ্ধ হয়ে যায়নি, সে সম্পর্কেও ধারণা আছে। কিন্তু তা মোটা দাগের ধারণা। যেমন, বামুন, কায়েত, বৈদ্য-শূদ্র, আর ও-দিকে হিন্দু-মুসলমানের প্রভেদ। কিন্তু পূ: ব: কায়স্থ, সিংহ, সৌকালিন, দেবারি, কন্যারাশি, কলিস্থ দো: গহ, com.eng.31/5’4 পাত্রের জন্য স্বজাতীয় পাত্রী চাই। এর মানে কী? খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিতে অনেক পয়সা খরচ হয় আজকাল, তাই বক্তব্য যত দূর সংক্ষেপ করার জন্য নানা রকম সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করতে হয়। সেটা স্বাভাবিক। এ বিজ্ঞাপন যারা দেয় এবং যারা পড়ে তারা নিশ্চয়ই সংকেতগুলো বোঝে। আমাদের মতো অনধিকারীদের দুর্বোধ্য মনে হবে। যেমন উল্লিখিত বিজ্ঞাপনটির কলিস্থ দো গৃহ, অনেক চিন্তা করে এর অর্থ বের করলাম। খোদ কলকাতায় দোতলা বাড়ির মালিক। কেন? কিন্তু একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার পাত্র এতই জাত মানে যে শুধুই কায়স্থ পাত্রী হলে হবে না। গোত্রটোত্র সব মেলাতে হবে! সৌকালিন একটা গোত্রের নাম আমি জানি, কন্যারাশিও শুনেছি, কিন্তু দেবারিটা কী ব্যাপার? অন্য কয়েকটা বিজ্ঞাপন পড়ে বুঝলাম, ‘গণ’ বলে একটা ব্যাপার আছে। নরগণ, দেবগণ ইত্যাদি। আমার এতখানি বয়স হল, সত্যি এই ব্যাপারটা এত দিন জানা ছিল না। তা হলে ‘দেবারি’ ব্যাপারটাও বোঝা গেল, দেবগণ নরগণ-এর মতো রাক্ষসগণও হয়। কিন্তু রাক্ষসটা দেখতে খারাপ লাগে, তাই দেবারি হয়ে গেল। কেউ কেউ সঠিক অর্থ না বুঝে বানান ভুল করে দেবারীও লিখেছে। বিবাহ-মঙ্গল। ‘অপুর সংসার’ ছবির একটি দৃশ্য। অন্তত শতকরা আশি ভাগ বিজ্ঞাপন পূ: ব: কিংবা প: ব: দিয়ে শুরু। দেশ ভাগ হয়ে গেছে চৌষট্টি বছর আগে, পূর্ববঙ্গ নামে এখন কোনও স্থানই নেই, এখনকার ছেলেমেয়েরা বাপ-ঠাকুর্দার সেই দেশ চর্মচক্ষে দেখেইনি। তবু বিজ্ঞাপনে এর উল্লেখের অর্থ হল, যে সব পরিবারের ইস্টবেঙ্গল অরিজিন, সে রকম পরিবারের সঙ্গেই বৈবাহিক সম্পর্ক পাতাতে চায় বিজ্ঞাপনদাতা। আর প: ব: থাকা মানে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে তারা খাঁটি পশ্চিমবঙ্গীয়, বাঙাল বাড়ির পাত্র বা পাত্রী চায় না। অর্থাৎ শুধু জাতের মিল থাকলেই হবে না। বাঙাল-ঘটির ভেদাভেদ এখনও রয়ে গেছে পুরোমাত্রায়। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, পাত্রী শুধুমাত্র মেদিনীপুরের হওয়া আবশ্যক। কিছু কিছু শব্দের অর্থ আমি অনেক চেষ্টা করেও বুঝিনি। যেমন, ‘ফর্সা সুন্দরী, সু-উপায়ী মাঙ্গলিক সুপাত্র কাম্য’।
মাঝখানে কমা টমা কিছু নেই। সুউপায়ী কে? পাত্র না পাত্রী? আর মাঙ্গলিক কোন অর্থবোধক? অন্য একটি বিজ্ঞাপনে ‘কায়স্থ, আলিম্বান গোত্র’ এ রকম গোত্র হয়? ছাপার ভুল? শুদ্ধ রূপটাই বা কী হতে পারে? ‘পূ: ব: ব্রাহ্মণ, নরগণ, মকর, o+ ...’ কী ব্লাড গ্রুপ? মকর কী? প: ব: তন্তুবায় (gen) দেবারি ধনু’, gen-এর মানে বুঝলাম না, আর ধনু? আমি সরল ভাবে আমার অক্ষমতার কথা জানাচ্ছি, হয়তো অনেকেই এ সব বোঝে ও জানে। কবি তারাপদ রায়ের প্রচুর সরস গল্পের স্টক ছিল। সে আমাদের বলত যে সে নিয়মিত পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন পড়ে, নিজের জন্য নয় বা তার বউয়ের জন্যও নয়, কারণ সে মাঝে মাঝে এর মধ্যে অনেক মজার গল্পের সন্ধান পায়। যেমন, সে বলেছিল, একটি বিজ্ঞাপন, ‘গরিব বি এ প্লাকড, কোনো ভদ্র পরিবারে বিবাহ করিয়া ভাইয়ের মতো থাকিতে চাই।’ আর একটি ‘পাত্রী সুদর্শনা, বি এড, গৃহকর্মনিপুণা শুধু একটু গোঁফ আছে।’ এবং আর একটিতে পাত্রের যোগ্যতা, ‘গভ: ইঞ্জি: দৈনিক সাড়ে তিন যোগের বেশি না।’ এ সব সত্যি না তারাপদ রায় কল্পিত, তা অবশ্য জানি না। আমার কোলের সামনে পৃষ্ঠাগুলিতে এ রকম কোনও মজার কাহিনি নেই। শুধু একজন পাত্র লিখেছেন, মাথায় টাক আছে। আর একটি বিজ্ঞাপনে করুণ কাহিনির আভাস, ‘ফর্সা, স্লিম, IT-তে কর্মরতা, নামমাত্র বিবাহে সাড়ে তিন মাসেই ডিভোর্সি’।

এটুকু পড়লেই আহা রে বলতে ইচ্ছে করে। আমাদের গল্প-উপন্যাসে প্রেমের ঘটনার ছড়াছড়ি। কিন্তু এখনও জনসাধারণের অধিকাংশই প্রেম-ট্রেম নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিংবা অল্প বয়সে ও সব একটু হলেও তার সঙ্গে বিয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। বিয়ে হয় বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনের উদ্যোগে অথবা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপনে। ওই সব প্রেম কিংবা ছেলেমেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্তে বিয়ে কিংবা বিয়ে ভাঙা একটা বিশেষ ক্ষুদ্র শ্রেণির ব্যাপার। জাত গোত্র মিলিয়ে বিয়ে এখনও পর্যন্ত নিরাপদ। বড় শহরে হয়তো কেউ ও নিয়ে ততটা মাথা ঘামায় না। কিন্তু দেশ মানে তো শুধু শহর নয়। অন্য জাতের ছেলেকে বা মেয়েকে বিয়ে করলে বাবা-মা নিজেদের হাতে ছেলে বা মেয়েকে কিংবা দু’জনকেই খুন করে। এমন তো প্রায়ই শোনা যায়। গ্রামাঞ্চলে হিন্দু ও মুসলমান ছেলে মেয়ের বিয়ে হলে তাদের প্রাণের ভয়ে পালাতে হয়। এমনকী কলকাতা শহরেও তো কিছু কাল আগে রিজওয়ানুর নামে একটি সুদর্শন শিক্ষিত মুসলমান ছেলে প্রিয়ঙ্কা নামে মাড়োয়ারি কন্যাকে বিয়ে করার ফলে কী ভয়ঙ্কর কাণ্ডই হল। এই ধরনের ঘটনা যখন খবরের কাগজে পড়ি, তখনই আমার মনে হয়, আমরা এখনও প্রকৃত সভ্য হইনি। আমার ধারণা ছিল, পণপ্রথা যেমন বেআইনি হয়ে গেছে, সে রকম এই সব বিজ্ঞাপনে ফর্সা কালোর উল্লেখ করা নিষিদ্ধ। কী ভুল, কী ভুল সেই ধারণা! পণপ্রথাও যেমন আড়াল দিয়ে অনেকটাই চলে, তেমনই বিজ্ঞাপনে ফর্সা পাত্রী চাওয়া হয় নির্লজ্জ ভাবে। আমেরিকার বর্ণবৈষ্যমের আমরা কত নিন্দে করেছি, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আফ্রিকার অন্য কয়েকটি রাজ্যে শ্বেতাঙ্গরা বহু কাল অত্যাচার করার পর এখন হার মেনে কৃষ্ণাঙ্গদের শাসন মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। আর ভারতে আমরা এখনও প্রকাশ্যে ফর্সা মেয়ে চাইছি। পাত্রী পক্ষের বিজ্ঞাপনে একটিও ফর্সা ছেলে চাওয়া হয়নি। বরং নিজেদের পরিচয়ে অনেক ক্ষেত্রে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে উ: শ্যা: অর্থাৎ উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। পাত্রপক্ষের বিজ্ঞাপনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফর্সা রঙের দাবি আবশ্যিক। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, সদর্প ঘোষণা: ‘ফর্সা প্রকৃত সুন্দরী ছাড়া যোগাযোগের আবশ্যকতা নাই’।

প্রকৃত সুন্দরী কাকে বলে? চল্লিশ শতাব্দী ধরে কবির দল তার সংজ্ঞা গুনে চলেছে আর বাংলার পাত্রপক্ষ তা জানে। মেয়েদের শরীরের গড়ন সম্পর্কে স্লিম কথাটি প্রায় সর্বত্র। অথচ বাংলায় ‘তন্বী’ একটা কী সুন্দর শব্দ আছে। বাংলা কাগজে কেউ কেউ ইংরেজি বিজ্ঞাপন দেয়। ‘E B Brahmin bride 27, fair, beautiful...’ আমার ধারণা ছিল ব্রাইড শব্দটার অর্থ বিবাহ-উৎসবের দিনে কোনও রমণী, বিয়ের আগে কিংবা পরে কী করতে ব্রাইড বলে? কনে শব্দটা যেমন বিয়ের রাতে তো শুধু কনেও এখন বোধহয় অর্থের ব্যাপ্তি ঘটেছে। শতকরা আশিটি বিজ্ঞাপনেও জাতপাতের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মিল খোঁজা হয়েছে। একটি বিজ্ঞাপনে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পাত্রীকে হতে হবে নিরামিষভোজী। আর একটি বিজ্ঞাপনে খুবই আশ্চর্যজনক ভাবে দাবি করা হয়েছে, মা-বাবা-ভাই-বোন থাকা আবশ্যিক। এই সব বিজ্ঞাপন থেকে সমাজচিত্রের কিছু কিছু পরিবর্তনও নিরীক্ষণ করা যেতে পারে। কিছু কিছু বিজ্ঞাপনদাতা প্রগতিশীল হচ্ছেন, জানিয়ে দিচ্ছেন অসবর্ণে আপত্তি নাই। কেউ কেউ বলছেন স/অ চলতে পারে। অর্থাৎ সবর্ণ বা অসবর্ণ। একটি বিজ্ঞাপনে দেখলাম, ‘স/উ: অ’-এর মানে প্রথমে বুঝতে না পেরে অনেক গবেষণা করে বার করতে হল, সবর্ণ অথবা উচ্চ অসবর্ণে আপত্তি নাই। উচ্চ অসবর্ণ কী জিনিস, তা আমার বুদ্ধির অগম্য। বস্তুতপক্ষে এই যে গোত্র, বর্ণ ইত্যাদি সবই আসলে ভাবের ঘরে চুরি। হাজার হাজার বছর ধরে এগুলি অবিকৃত বা শুদ্ধ আছে না ছাই। টাকা থাকলেই ইচ্ছে মতো জাত কেনা যায়। বিশ্বামিত্র নাকি তপস্যার জোরে ক্ষত্রিয় থেকে ব্রাহ্মণ হয়েছিলেন। এ যুগে তপস্যা-টপস্যা লাগে না। যদি অধ্যাবসায় থাকে, সৎ বা অসৎ পথে বহু অর্থ উপার্জন করা যায়। তা হলে যে কোনও জাতি ধর্মকে সে তুচ্ছ করে দিতে পারে। কিছু কিছু মুসলমান পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপনেও রয়েছে দেখলাম, ইসলামে এত জাতপাতের বিভেদ নেই। কিন্তু প্রতিটি বিজ্ঞাপনেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পাত্র বা পাত্রী সুন্নি মুসলিম এবং তারা সুন্নি পাত্র পাত্রীই চায়। আমাদের এ অঞ্চলে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিম নেই বললেই চলে। তবু এই সতর্কতা। একটি প্রায় বিপ্লবী বিজ্ঞাপন উদ্ধৃত করে আপাতত শেষ করা যেতে পারে। “প: ব: ব্রাহ্মণ (নাস্তিক) ৩০/৫’ 7’’ চার্টার্ড অ্যাকা: ৭৫,০০০।

একমাত্র সন্তান। কোনও দাবি নাই। শিক্ষিতা সুন্দরী ফর্সা ও কেবলমাত্র রেজিস্ট্রি বিবাহে আগ্রহী।” নাস্তিক হলে কী করে ব্রাহ্মণ বলে পরিচয় দেওয়া যায়, জানি না। সে প্রশ্ন তুলছিও না। এই বিজ্ঞাপনকে প্রায় বিপ্লবী বলার কারণ, ফর্সা শব্দটি বাদ দিলেই ঠিক মানানসই হত। আমি নিজে ঝিরকুট্টি কালো। আমার বউ কালো ছাতা ব্যবহার করলে মিশে যাব বলে আমার পরিবারের সকলেই ঝড়ের আগে মেঘবর্ণ। তাই কালোদের প্রতি আমার দুর্বলতা তো থাকবেই! তারাপদ রায় উবাচ সম্রাট শের শাহ প্রথম ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। তার আগে ঘোড়ারা বুঝি ডাকত না?


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ছোটদের রাজনীতি ছোটদের অর্থনীতি - ডঃ নীহার কুমার সরকার

amarboi

ছোটদের রাজনীতি ছোটদের অর্থনীতি
ডঃ নীহার কুমার সরকার

নীহার কুমার সরকার পেশায় ছিলেন অধ্যাপক। কৈশোরেই যুক্ত হন বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে। তাই ছাত্রজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে কারাগারের অন্ধকারে কিংবা অন্তরালে। অর্থনীতি বিষয় নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অধ্যাপক নীহার কুমার সরকার দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৫৭ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ থেকে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘের গবেষণাকর্মে যুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৬৬তে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এশিয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বদলি হন। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং দিল্লিতে ভারত সরকারের শ্রমবিভাগে অবৈতনিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। অধ্যাপক নীহার কুমার সরকার রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় বহু বই লেখেন। তেমনি একটি বই ছোটদের রাজনীতি। মাত্র ১১৬ পৃষ্ঠার বইটি রাজনীতিতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কাছে প্রবেশক গ্রন্থ হিসেবে আজও সমান ভাবে সম্মানিত। আরেকটি ছোটদের অর্থনীতি। দুটি বইয়ের প্রকাশকাল ১৯৪২। ছোটদের রাজনীতি বইটিতে আলোচিত হয়েছিল পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, সাম্যবাদ, গণতন্ত্র, পৃথিবীর রাজনীতি প্রভৃতি বিষয়। কঠিন তথ্য ও তত্ত্ব, কিন্তু ছোটদের উপযোগী বাংলায় লেখা। নীহার বলতেই মানুষ মনে করে নীহাররঞ্জন রায় অথবা নীহাররঞ্জন গুপ্ত কিন্তু অধ্যাপক নীহার কুমার সরকার কে মনে রেখেছে।


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা - তপন রায়চৌধুরী

রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা - তপন রায়চৌধুরী


তপন রায়চৌধুরী লিখেছেন "রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা"।
তিনি লিখেছেন, ক্ষেতে বর্ষা নেমেছে, হাঁটু অবধি জল, বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে দুই চাষী ধানের চারার রক্ষণাবেক্ষণ করছে। প্রথমের প্রশ্ন, " ক দেহি, মহারাণি ভিক্টোরিয়া এহন কি করতে আছে?" দ্বিতীয় জনের উত্তর, " হে কি আমাগো মত? পানি নাবতেই পান্থাভাত খাইয়া কাঁথামুড়ি দিয়া উব্বুত (শুয়ে পড়েছে)।
এইসব ঋষিবাক্যের পটভূমি তিরিশ আর চল্লিশ দশকে পূর্ববঙ্গের একটি অঞ্চল--বরিশাল জেলা--আর কলকাতার ছাত্রজীবনের পটভূমি। বিষয়বস্তু মামুলী অর্থে স্মৃতিচারণ বা সমাজচিত্র নয়, আত্মচরিত তো নয়ই। রচনাটির কেন্দ্রে রয়েছে এক বিচিত্র কৌতুকবোধ--গালগল্প, ঘটনা, ছড়া, গান, চরিত্রচিত্র জাতীয় নানা বিষয়ের পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যার অনবদদ্য প্রকাশ। এর মধ্যে আনসেন্সরড ভঙ্গিতে বিরল বাকশৈলিতে লিখেছেন দুর্ভিক্ষ, দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা--এবং এক বাঙাল জনপদের বীরগাথা যা গভীর মানবিকবোধে জারিত। - সংগ্রহ




Read/Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কলাম সমগ্র - মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

কলাম সমগ্র - মুহাম্মদ জাফর ইকবাল কলাম সমগ্র
মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

১৯৭১ সালের মে মাসের ৫ তারিখ বিকালবেলা পিরোজপুরের বলেশ্বরী নদীর ঘাটে পাকিস্তান মিলিটারি আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করেছিল। পুলিশ প্রশাসনের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা হিসেবে শুধু আমার বাবাকেই নয়, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় কর্মকর্তা হিসেবে জনাব আব্দুর রাজ্জাক এবং জনাব মীজানুর রহমানকেও একই সঙ্গে গুলি করে তাঁদের সবার মৃতদেহ বলেশ্বরী নদীতে ফেলে দিয়েছিল।

পিরোজপুরের নদীতে জোয়ার-ভাটা হয় তাই এই তিনজন তেভাগ্য মানুষের মৃতদেহ দিনে দুইবার জোয়ারের পানিতে উত্তরে এবং ভাটার পানিতে দক্ষিণে নেমে আসছিল। তিন দিন পর আমার বাবার মৃতদেহ কাছাকাছি একটা গ্রামের নদীতীরে এসে আটকে গিয়েছিল। গ্রামের মানুষরা আমার বাবাকে চিনত, তাদের মনে হলো, ‘আহা, এই মৃতদেহটি মাটি চাইছে।’ তাই তাঁরা ধরাধরি করে আমার বাবার মৃতদেহটি তুলে নদীতীরে কবর দিয়েছিল। অন্য দু’জনের সেই সৌভাগ্য (!) হয়নি এবং তাঁদের মৃতদেহ শেষ পর্যন্ত নদীতে ভেসে হারিয়ে গিয়েছিল।

১৯৭১ সালে সেটি এমন কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়েছে এরকম যে কোনো জায়গার আশপাশে যে কোনো নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকলেই দেখা যেত নদীতে অসংখ্য মানুষের মৃতদেহ ভেসে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি মিলিটারি এই দেশের মানুষকে নির্বিচারে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। মানুষ হয়ে মানুষকে এত অবলীলায় এবং এত নিষ্ঠুরতায় হত্যা করা যায় সেটি আমরা আগে কখনো কল্পনা পর্যন্ত করতে পারিনি। একজন মানুষ যখন ঘর থেকে বের হতো সে আবার ঘরে ফিরে আসবে কি না সেই বিষয়টি নিয়ে তার আপনজনরা কখনো নিশ্চিত হতে পারত না।

মহাত্মা গান্ধি থেকে শুরু করে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সবাই মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেছেন। তাঁরা যদি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে থাকতেন তাহলে এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে মানুষকে বিশ্বাস করার কথা বলতে পারতেন কিনা আমি নিশ্চিত নই। ১৯৭১ সালে এই দেশে পাকিস্তানি মিলিটারি যে ভয়ঙ্কর তাণ্ডব এবং হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল সেটি দেখে আমাদের প্রজন্ম পাকিস্তান নামক দেশটির মানুষ নামক প্রজাতির ওপর বিশ্বাস চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেছিল। অন্যদের কথা জানি না, এতদিন পরও আমি এখনো একজন পাকিস্তানের মানুষকে দেখলে তার ভেতরে এক ধরনের দানবকে খুঁজে পাই।

পবিত্র কোরআন শরিফে লেখা আছে, মানুষ যখন বেহেশত পাবে তখন তার বুকের ভেতর থেকে সব প্রতিহিংসা সরিয়ে দেওয়া হবে। কথাটি অন্যভাবেও ব্যাখ্যা করা যায়, এই পৃথিবীতেই যদি একজন মানুষ তার বুকের ভেতর থেকে সব প্রতিহিংসা দূর করতে পারে তাহলে পৃথিবীটাই তার কাছে বেহেশত হয়ে যেতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি আমাদের দেশে যে ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড এবং নির্যাতন চালিয়েছে সেটি আমি নিজের চোখে দেখেছি এবং সে কারণে আমার বুকের ভেতর এই রাষ্ট্রটির জন্য যে তীব্র ঘৃণা এবং প্রতিহিংসার জন্ম হয়েছে আমি কোনোদিন তার থেকে মুক্তি পাব না। এই রক্তলোলুপ ভয়ঙ্কর দানবদের কারণে পৃথিবীটা আমার জন্য কখনো বেহেশত হতে পারবে না। সব সময়ই এই দেশ এবং এই দেশের দানবদের জন্য আমার বুকে ঘৃণা এবং প্রতিহিংসার আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলতে থাকবে।

অথচ, পাকিস্তান নামক দেশটি রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে জানিয়েছে, ১৯৭১ সালে তারা আমাদের দেশে কোনো গণহত্যা করেনি, এই দেশের মানুষের ওপর কোনো নির্যাতন করেনি। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ নামে দুজন যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে তারা এই বিচিত্র ঘোষণাটি দিয়েছে। আমরা যতটুকু জানি, তারা এর চেয়েও অনেক বেশি জানে যে, ১৯৭১ সালে তারা এই দেশে একটা ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।

আমি বেশ কয়েক বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নামে ছোট একটি পুস্তিকা লিখেছিলাম। এই পুস্তিকার তথ্যসূত্রগুলোর বেশিরভাগ দিয়েছিলাম পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের লেখা বই থেকে। তারা নিজেরাই সেখানে স্বীকার করেছে, এই দেশে তারা ভয়ঙ্কর গণহত্যা করেছে, তারপরও যখন পাকিস্তান সরকার এখনো ‘জানে না’ যে ১৯৭১ সালে এই দেশে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যাটি হয়েছিল তখন বুঝেই নিতে হবে ‘ডাল মে কুচ কালা হায়।’ এই দেশের অনেক মানুষ পাকিস্তানের এই নির্জলা মিথ্যা কথা শুনে ভয়ঙ্কর ক্রুব্ধ হয়ে উঠেছে, আমি ক্রুব্ধ হইনি এবং অবাকও হইনি। আমরা যারা আমাদের জীবনের একটা অংশ পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে কাটিয়েছি এবং নিজের চোখে ১৯৭১ দেখেছি তারা খুব ভালো করে জানি এটি হচ্ছে আদি ও অকৃত্রিম পাকিস্তানি কর্মকাণ্ড। যেখানে সত্য ভাষণ করা হলে লাভ হয়। সেখানেও এই রাষ্ট্রটি মিথ্যাচার করে। এই দেশের ইতিহাস হচ্ছে মিলিটারি জেনারেলদের ইতিহাস। এই দেশের সবচেয়ে সম্মানী মানুষ সেই দেশের নিউক্লিয়ার বিজ্ঞানী আব্দুল কাদির খান পৃথিবীর চোখে একজন আন্তর্জাতিক অপরাধী। এই দেশে মেয়েরা লেখাপড়া করতে চাইলে তাদের মাথায় গুলি করা হয়। এই দেশটির জন্য যার বুকের ভেতরেই যতটুকু ভালবাসা থাকুক না কেন, আমার বুকের ভেতর বিন্দুমাত্র ভালবাসা কিংবা সম্মানবোধ নেই। বিদেশে যাওয়ার সময় প্লেন যখন পাকিস্তানের ওপর দিয়ে উড়ে যায় আমি তখন অশুচি অনুভব করি।

২.
১৯৭১ সালে জীবন বাঁচানোর জন্য আমাকে দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। আমার বয়সি কিংবা আমার চেয়ে ছোট কিশোর তরুণরাও মুক্তিযোদ্ধা হয়ে পাকিস্তানি মিলিটারির সঙ্গে বীরের মতো যুদ্ধ করেছে। আমাদের মতো মানুষরা যারা অবরুদ্ধ পাকিস্তানে আটকা পড়েছিলাম তাদের পাকিস্তানি মিলিটারির সব রকম পৈশাচিক নির্মমতা নিজের চোখে দেখতে হয়েছে।

মনে আছে একদিন গ্রামের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ করে একদল পাকিস্তানি মিলিটারির মুখোমুখি হয়ে গেলাম। আমার চোখের সামনে তারা একটা বাড়িতে ঢুকে পড়ল। বাড়ির ভেতর থেকে পুরুষ মানুষটি কোনোভাবে প্রাণ নিয়ে বের হয়ে এসে আমার সামনে থরথর করে কাঁপতে থাকল এবং আমি বাড়ির ভেতর থেকে নারী কণ্ঠের আর্তনাদ শুনতে পেলাম। যখন নিজের স্ত্রীকে একদল পাকিস্তানি মিলিশিয়া ধর্ষণ করতে থাকে তখন সেই স্ত্রীর আর্তনাদ শুনতে থাকা স্বামীর চোখে যে ভয়াবহ শূন্য এক ধরনের দৃষ্টি থাকে সেটি যারা দেখেছে তারা কখনো ভুলতে পারবে না। আমিও পারিনি, কখনো পারব না।

এই অসহায় স্ত্রীটির মতো বাংলাদেশে আরও তিন থেকে চার লাখ মহিলা এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করেছে। ‘দ্যা রেপ অফ নানকিং’ নামে আইরিশ চ্যাং-এর লেখা একটি অসাধারণ বই আছে, যে বইটিতে নানকিংয়ের আদিবাসীদের ওপর জাপানিদের অমানুষিক নির্যাতনের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এই বইটিকে একটা ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই বইয়ের শুরুতে আইরিশ চ্যাং লিখেছেন, নানকিংয়ে নারী ধর্ষণের যে ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছিল তার সঙ্গে তুলনা হতে পারে শুধু ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি মিলিটারিদের দিয়ে বাংলাদেশের নারীদের ধর্ষণ।

সারা পৃথিবীর ইতিহাসে পাকিস্তানি মিলিটারির এই ভয়ঙ্কর নির্যাতনের একটি জ্বলন্ত ইতিহাস থাকার পরও পাকিস্তান সরকারের সাহস আছে সেই সত্যটিকে অস্বীকার করার। এই রাষ্ট্রটিকে যদি আমরা ঘৃণা না করি তাহলে আমরা কাকে ঘৃণা করব?

৩.
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি দানবদের হাতে যারা আমার মতো আপনজনদের হারিয়েছেন তাদের বুকের ক্ষত কখনো শুকিয়ে যাবে না। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কিংবা আলী আহসান মুজাহিদের মতো যুদ্ধাপরাধীর বিচার করে তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ কার্যকর করার পর শহীদদের আপনজনরা হয়তো খানিকটা হলেও শান্তি পাবেন। ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর এই দেশের কোনো মানুষের মুখ থেকে এতটুকু সমবেদনার কথা শোনা যায়নি। কিন্তু পাকিস্তানের মানুষদের হাহাকার শুরু হয়ে গিয়েছিল। যারা একাত্তর দেখেনি কিংবা যাদের ভেতরে যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল পাকিস্তানের হাহাকার শুনে তাদের সব সন্দেহ দূর হয়ে গিয়েছে। আসমা জাহাঙ্গীর খুব সঠিকভাবেই বলেছেন, সৌদি আরবে যখন প্রায় রুটিনমাফিক পাকিস্তানি অপরাধীদের মাথা কেটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় তখন একটি রায়ও পাকিস্তান সরকার সেসব হতভাগ্যদের জন্য বিন্দুমাত্র দরদ দেখায় না। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় নিয়ে বিচার করে যখন বাংলাদেশি যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হয় তখন হঠাৎ করে তাদের দরদ উথলে পড়ে!

১৯৭১ সালে পাকিস্তান এই দেশে কোনো গণহত্যা ঘটায়নি বা কোনো যুদ্ধাপরাধী করেনি। এই নির্জলা মিথ্যা কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ‘ভাই’ এবং ‘বন্ধুর’ মতো সুসম্পর্ক তৈরি করা নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছে। দুই দেশের জনগণ পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে দুই ভাইয়ের মতো ভবিষ্যৎ সম্পর্ক গড়ে তুলবে এ রকম আশা প্রকাশ করেছে।

বিষয়টি মোটেও সে রকম নয়। বাংলাদেশের মানুষের পাকিস্তান নামক দেশটির জন্য কোনো ভালবাসা থাকার কথা নয়। তারা বড়জোর এই দেশটিকে সহ্য করবে যদি তারা নতজানু হয়ে তাদের সব অপরাধের কথা স্বীকার করে ক্ষমাভিক্ষা চায়। যেহেতু তাদের ভেতরে আমরা সে রকম কিছু দেখতে পাচ্ছি না তাহলে পাকিস্তান নামক এই রাষ্ট্রটির সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখার প্রয়োজনীয়তাটুকু কী? চল্লিশ বছর পরে হলেও আমরা আমাদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে গ্লানিমুক্ত করার চেষ্টা করছি। এ জন্য এই সরকারের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আরও পরিষ্কার করে বলতে হলে বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব এবং সাহসের জন্য তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। চল্লিশ বছর পরে হলেও আমরা যদি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পারি তাহলে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির কৃতকর্মের জন্য তাদের বিচার কেন করতে পারি না? এই দেশের সঙ্গেই আমাদের কোনো একটা সম্পর্ক রাখার প্রয়োজন কোথায়?

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ফোরাম যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিটিকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছিলেন। (তাঁরা যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচারের কথা বলতে এসেছিলেন তখন একটা চত্বরে প্রত্যেক সেক্টর কমান্ডার হাতে একটা করে গাছ লাগিয়েছিলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই চত্বরটির নাম সেক্টর কমান্ডার চত্বর।) সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সদস্যরা এখন নূতন করে একটা দাবি করেছেন। তাঁরা বলেছেন পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে! আমার মনে হয় এটি একটি অত্যন্ত যৌক্তিক দাবি। ১৯৭১ সালে আমরা যারা পাকিস্তান মিলিটারির হাতে আমাদের আপনজনকে হারিয়ে ছিলাম আমাদের ক্ষোভ একশ গুণ বেড়ে যায় যখন আমরা দেখি সেই হত্যাকারী দেশ আস্ফোলন করে ঘোষণা করে তারা কোনো দোষ করেনি। আমাদের আপনজনেরা তাহলে খুন হন কেমন করে নদীর পানিতে তাদের মৃতদেহ ভেসে বেড়াল কেমন করে?

পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির সাথে আমি কখনো সরাসরি কথা বলতে পারব না। যদি পারতাম তাহলে আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলতাম, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষের উপর যে নৃশংস তাণ্ডব চালিয়ে গণহত্যা করেছ সেই অপরাধের জন্যে আমরা তোমাকে কখনো ক্ষমা করিনি। তোমাদের এতো বড় দুঃসাহস, এতো দিন পর তোমরা সেটি অস্বীকার কর?

আমাদের বুকের ভেতর যে ঘৃণার আগুন জ্বলছে তোমরা তার তাপ সহ্য করতে পারবে না। ১৯৭১ সালে আমরা তোমাদের দূর করে দিয়েছি।

তোমরা দূরেই থেকো, আমাদের কাছে এসে না।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল
২.১২.২০১৫

Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন

মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথনDownload
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুমনের গান, সুমনের ভাষ্য

amarboi.comসুমনের গান, সুমনের ভাষ্য

Sumoner Gaan Sumoner Bhassyo in pdf
পাঠক বইটি পড়বে এটাই আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। আমরা চাই পাঠক বইটি পড়ুক, আলোচনা, সমালোচনা করুক, তাহলেই আমাদের সার্থকতা। নইলে এতো কষ্ট বৃথা, তাই আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম। আর্থিক ভাবে আমাদের সহায়তা করবার জন্য, অনুরোধ রইলো আমারবই.কম এর প্রিমিয়াম সদস্য হবার। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমেরিকা নিয়ে এক ডজন - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

আমেরিকা নিয়ে এক ডজন - মুহম্মদ জাফর ইকবালআমার ছয়জন ছাত্রছাত্রী একসাথে আমেরিকা চলে যাচ্ছে। একজন চাকরি করতে অন্যেরা পি.এইচ.ডি করতে। এরা সবাই এখন আমার সহকর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে জীবন হিসেবে বেছে নিলে পি.এইচ.ডি করতে হয়। যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই ভালো। আমি নিজেও আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে বছরের ঠিক এই সময়টিতে পি.এইচ.ডি করতে আমেরিকা গিয়েছিলাম। আমার এই ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেছে নেবার আগে কোথায় কী ধরনের প্রোগ্রাম, কোন প্রফেসর কী গবেষণা করেন, তাদের ব্যাংকিং কী রকম এসব নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছে। আমার মনে আছে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়টি ঠিক করেছিলাম তার প্যাডের কাগজটি দেখে ( না, আমি মোটেও বানিয়ে বলছি না।)

যাবার আগে আমার ছাত্রছাত্রীরা সবাইকে নিয়ে বিশাল একটা পার্টি দিয়েছে। আমি আমেরিকায় আঠারো বছর ছিলাম, এর পরেও অনেকবার যেতে হয়েছে। তাই পার্টি শেষে সবাইকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা কি যাবার আগে সেই দেশটি নিয়ে কোন বাস্তব উপদেশ শুনতে চাও? যে উপদেশ বইপত্র ইন্টারনেট কোথাও পাবে না? তারা সবাই আগ্রহ নিয়ে শুনতে রাজি হলো। আমি তাদেরকে তখন এক ডজন তথ্য এবং উপদেশ দিয়েছিলাম, যেগুলো ছিল এরকম:

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা সহজ কথায় আমেরিকা পুরো পৃথিবীকে দেখে স্বার্থপরের মতো। কিন্তু তারা নিজের দেশের জন্য সাংঘাতিকভাবে নিঃস্বার্থ। (একাত্তরে দেশটি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল কিন্তু দেশের মানুষ ছিল আমাদের পক্ষে)। এই মুহূর্তে সারা পৃথিবীতে যেসব দেশে হানাহানি খুনোখুনি যুদ্ধ বিগ্রহ হচ্ছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে সব জায়গায় সূক্ষ্মভাবে হলেও আমেরিকার একটা যোগাযোগ আছে। তবে দেশটি যেহেতু নিজের দেশের মানুষকে ভালোভাবে দেখে শুনে রাখে, তাই থাকার জন্য সেটি চমৎকার একট জায়গা। সারা পৃথিবী থেকে সব দেশের মানুষ সেখানে গিয়ে এটাকে একটা মিনি পৃথিবী বানিয়ে ফেলেছে। এই দেশে কেউই বিদেশি নয়। তাই থাকার জন্য, লেখাপড়া বা গবেষণা করার জন্য আমেরিকার কোনো তুলনা নেই।

২. আমেরিকার সাধারণ মানুষেরা গোমড়ামুখী নয়, তারা খুব হাসিখুশি। পথেঘাটে সুন্দরী মেয়েরা খামোখা মিষ্টি হাসি দিলেই তারা প্রেমে পড়ে গেছে ভাবার কোনো কারণ নেই।

৩) পশ্চিমা দেশের মানুষেরা নাম নিয়ে মোটেও সৃজনশীল নয়। তারা ধরেই নেয় সবার নামের দুটি অংশ থাকবে। প্রথম অংশটা হচ্ছে ঘনিষ্টদের ডাকার জন্যে আর শেষ অংশটা আনুষ্ঠানিক পারিবারিক নাম। পারিবারিক নাম যে নামের প্রথমে থাকতে পারে (শেখ মুজিবর রহমান) সেটা তারা মানে না। খেয়ালী বাবা হলে যে পারিবারিক নাম নাও থাকতে পারে (বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ, মেজো ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ছোট ভাই আহসান হাবীব) সেটাও তারা মানে না।

একটু ঘনিষ্টতা হলেই নামের প্রথম অংশ দিয়ে ডাকা শুরু করে বলে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষেরা আমেরিকা পৌঁছানোর কিছুদিনের ভেতরে আবিষ্কার করে সবাই তাদের মোহাম্মদ বলে ডাকছে। তাই ঘনিষ্টদের কাছে কে কী নামে পরিচিত হতে চায় সেটা একেবারে প্রথম দিনে পরিষ্কার করে খোলাখুলি বলে দেয়া ভালো। আমেরিকায় নামের আগে মোহাম্মদের সংক্ষিপ্ত রূপ MD. লেখা খুবই বিপজ্জনক। তারা সেটাকে ডিগ্রি মনে করে সব সময়ই নামের পেছনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে! (ডাক্তারি)

৪. যখন প্রথম প্রথম কেউ আমেরিকা যায় তখন তাদের স্কলারশিপ বা বেতনের চেক পায় ডলারে। কিন্তু যখন খরচ করতে যায় তারা সেটা ডলারে খরচ করতে পারে না, তারা খরচ করে টাকায়। নিজের অজান্তেই কোনো কিছুর দাম দেখা মাত্র মনে মনে ৮০ দিয়ে গুণ করে ভিমরি খেতে শুরু করে। এক কাপ কফির দাম একশ থেকে তিনশ টাকা, সিনেমার টিকিট আটশ থেকে হাজার টাকা, আইসক্রিম কোন দুইশ থেকে পাঁচশ টাকা, গানের সিডি প্রায় হাজার টাকা, একটা বই দুই থেকে তিন হাজার টাকা। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যে সেখানে কেনাকাটা করা রীতিমত কঠিন একটা ব্যাপার। (তবে বড় লোকের ছানাপোনারা- যারা এই দেশে বনানী-গুলশানের হাইফাই দোকানপাট রেস্টুরেন্টে ঘোরাফেরা কিংবা খানাপিনা করে অভ্যস্ত তাদের জন্য ব্যাপারটা সহজ। এই দেশে তারা মোটাম‍ুটি আমেরিকান দামেই কেনাকাটা বা খানাপিন‍া করে।) কাজেই, অন্য সবার প্রথম কাজ হচ্ছে কোনো কিছু কেনার আগে আশি দিয়ে গুণ করে ফেলার অভ্যাসটুকু ঝেড়ে ফেলা।

আমেরিকায় কেনাকাটার আরেকটা বিষয় ‘টিপস’ এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে বখশিশ। কিন্তু বখশিশ শব্দটার মাঝে তাচ্ছিল্য এবং অবমাননার ছাপ রয়েছে।

টিপস শব্দটিতে তাচ্ছিল্য কিংবা অবমাননা নেই। আমেরিকার (মূলধারায়) প্রায় সব তরুণ-তরুণী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করে বড় হয়েছে। তখন তাদের বেতন বলতে গেলে ছিলই না এবং  খদ্দেরদের টিপসটাই ছিল তাদের বেতন। সে দেশের রেস্টুরেন্টের ওয়েটার, নাপিত বা ক্যাব ড্রাইভারকে টিপস দিতে হয়। হতচ্ছাড়া কিপটে মানুষদের হাত গলে ১০% টিপসও বের হতে চায়না, দরাজদিল মানুষেরা দেয় ২০% আর মাঝামাঝি পরিমাণ ১৫%!

কাজেই বন্ধু বান্ধব সবাইকে নিয়ে কোথাও খেতে গেলে মেন্যুতে খাবারের দামটা দেখে আগে থেকেই তার সাথে ১৫% থেকে ২০% যোগ করে রাখা জরুরি।

৫. আমরা হাত দিয়ে ডাল-ভাত, সবজি, মাছ, মাংস মাখিয়ে মাখিয়ে খাই। আমেরিকা গিয়েও বাসার ভেতরে নিজে রান্না করে সবকিছু হাত দিয়ে খাওয়া যাবে। বাইরে হ্যামবার্গার, স্যান্ড‌উইচ কিংবা পিৎজা (উচ্চারণটা পিজ্জা নয়, পিৎজা) হাত দিয়ে খেতে পারলেও বেশিরভাগ খাবার ছুরি-কাটা ব্যবহার করে খেতে হবে। আমাদের এই অঞ্চলে খাবার  জন্যে চামচ দেয়া হয়। ইউরোপ আমেরিকায় কিন্তু ডাইনিং টেবিলে চামচ নেই। শুধু ছুরি আর কাটা। কোন হাতে ছুরি কোন হাতে কাটা ধরতে হয় সেরকম নানা ধরনের নিয়ম কানুন রয়েছে। সেই নিয়ম আবার ইউরোপে একরকম আমেরিকায় অন্যরকম। কিন্তু মূল বিষয়টা খুব সহজ। বেশিরভাগ মানুষ ডান হাতে কাজ করে এবং কাটাকাটি করতে একটু জোর
লাগে। তাই ছুরিটা থাকবে ডান হাতে (এবং খাওয়া ভঙ্গিমাতে সেটা কখনো মুখে ঢোকানো যাবে না, প্রয়োজনে আমি ডাইনিং টেবিলে একে অন্যের ছুরি ব্যবহার করতে দেখেছি)। এটাই নিয়ম।

আমেরিকাতে কাটার জন্যে কোন নিয়ম নেই। যারা ডান হাতে কাজ করে অভ্যস্ত তারা ছুরি দিয়ে কাটাকাটি শেষ করে প্লেটে ছুরিটা রেখে ডান হাতে কাটাটা তুলে নিয়ে খায়। শুনেছি বিশুদ্ধ অ্যারিস্ট্রোকেট (বাংলা প্রতিশব্দ অ্যারিস্টোক্রেসি পুরোটা ফুটে ওঠে না, তাই আসল শব্দটিই ব্যবহার করতে হলো)। মানুষ মরে গেলেও ডান হাতে খাবার তোলে না। এই নিয়মগুলো কে করেছে এবং কেন এই নিয়মেই খেতে হবে, অন্য নিয়মে কেন খাওয়া যাবে না, আমি তার উত্তর জানি না। তবে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, অনেক আমেরিকানরা চপ স্টিক (দুই টুকরো কাঠি) দিয়ে খেতে পারে। আমার ধারণা, একবার চপস্টিক দিয়ে খেতে শিখে গেলে, থাওয়ার জন্য এটা খুব চমৎকার একটা পদ্ধতি।

আমার কিছু আমেরিকান বন্ধু আমার দেখাদেখি হাতে খেতে গিয়ে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা আঙ্গুল দিয়ে খাবার মাখিয়ে মুখ পর্যন্ত নিয়ে গেলেও মুখে সেই খাবার ঢোকাতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে। পাঁচটা আঙ্গুল মুখের ভিতর ঢুকিয়ে সেখানে খাবারটা ছেড়ে দিতে গিয়ে আবিষ্কার করেছে কাজটা মোটামুটি অসম্ভব। যারা আগে কখনো লক্ষ্য করেনি তাদেরকে বলে দেয়া যায়, আমরা কিন্তু মুখের ভেতর আঙুল ঢোকাই না, বুড়ো আঙুল দিয়ে ঠেলে খাবারটা মুখে ঢুকিয়ে দেই, অত্যন্ত দক্ষ একটা পদ্ধতি।

খাবারের কথাটি বলতে হলেই পানীয়ের ব্যাপারটা তার সাথে চলে আসে। আমেরিকায় ট্যাপের পানি বিশুদ্ধ, তাই পানি কিনে খাবার প্রয়োজন নেই। শুনেছি নিউ ইয়র্কের মানুষ মোটা হয়ে যাচ্ছে বলে বিশাল আকারের সফট ড্রিংক বেআইনি করে দেয়া হয়েছে। তবে অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় (সোজা কথায় মদ) নিয়ে সবাইকে আশ্বস্ত করা যায়। যারা এটা খেতে চায় না আমেরিকানরা কখনোই সেটা খেতে জোরাজুরি করবে না। তবে মদ খাওয়া বাঙালিদের কথা আলাদা। তারা নিজেরা সেটা খায় বলে অন্যদের খাওয়ানোর জন্যে বাড়াবাড়ি ব্যস্ত থাকে। বাঙালিদের আসরে তারা অন্য বাঙালিদের জোর করে, তাদের চাপ দেয় এবং না খেলে তাকে নিয়ে টিটকারি ঠাট্টা তামাশা করে। এর কারণটা কী আমি এখনো বের করতে পারিনি।

৭. খাবার এবং পানীয়ের কথা বলা হলেই এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে টয়লেটের কথা বলা উচিৎ। লোকচক্ষুর আড়ালে এর খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু ছাপার অক্ষরে কিছ‍ু লিখে ফেলাটা শোভন হবে না। এই ভয়ঙ্কর বিয়ষটা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে, আমরা যেভাবে শিখেছি।

৮. ডাইনিং টেবিল আর টয়লেটের পর নিশ্চয়ই বাথরুমের ব্যাপারটা আসার কথা। নিজের বাসায় নিরিবিলি বাথরুমের মাঝে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমেরিকার গণবাথরুমের মতো ভয়ঙ্কর আর কিছু হতে পারে বলে আমার জানা নেই।

আমাকে আগে থেকে কেউ সতর্ক করে দেয়নি। তাই প্রথমবার যখন আমার ডর্মিটরির গণবাথরুমে একজন আমার সামনে জামা কাপড় খুলে পুরোপুরি ন্যাংটো হয়ে গিয়েছিলো সেই আতঙ্কের কথা আমি কোনোদিন ভুলব না! এরপর অনেকদিন প‍ার হয়েছে। আমি অনেক কিছুতে অভ্যস্ত হয়েছি কিন্তু গণবাথরুমে উদাস মুখে শরীরে ‍একটা সুতা ছাড়া সবাই ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেই দৃশ্যে আমি কোনোদিন অভ্যস্ত হতে পারিনি। এই জন্মে সেটা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

ছেলেরা ছেলেদের সামনে এবং মেয়েরা মেয়েদের সামনে জামা কাপড় পুরোপুরি খুলে ফেলতে কোনো লজ্জা অনুভব করে না, এই ব্যাপারটা কীভাবে সম্ভব হতে পারে আমি কোনোদিন বুঝতে পারব না।

৯. আমেরিকার দৈনন্দিন জীবনে পোশাকের ব্যাপারটা সবচেয়ে সহজ। সেটা নিয়ে কেউই মাথা ঘামায় না। যার যা খুশি পরতে পারে। তাই যে যেটা পরে আরাম পায় সেটাই পরে। টি-শার্ট আর জিন্স পরে পুরো জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়। (হাওয়াইয়ে আমার পরিচিত একজন বাংলাদেশের অধ্যাপক বিরক্ত হয়ে গ্রীষ্মকালে ক্লাশ নেয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। কারণ ছাত্রীরা বিকিনি পরে ক্লাশে চলে আসে। তবে হাওয়াইয়ের কথা আলাদা। মূল ভূখণ্ডে এত বাড়াবাড়ি নেই!) একজন সহকর্মী হঠাৎ কার মরে যাওয়ার পর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতে যাওয়ার সময় স্যুট পরে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো সময় আমার স্যুট টাই পরার সুযোগ হয়েছে বলে মনে করতে পারছি না!

আনুষ্ঠানিক পোশাক পরতে হয় সেরকম জায়গা নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু আমার আঠারো বছরের প্রবাস জীবনে সেরকম জায়গায় খুব বেশি যেতে হয়নি। (কী আনন্দের কথা, দেশে ফেরার পর বাকি আঠারো বছরেও আমার সেরকম জায়গায় যেতে হচ্ছে না!)

১০. আমাদের দেশে পান খাওয়ার একটি ব্যাপার আছে। তার সাথে জড়িত আছে পানের পিক, পান চিবুতে চিবুতে এদিক সেদিক পিচিক করে পানের পিক ফেলাটা প্রায় কালচারের অংশ হয়ে গেছে। (কেউ কী আমাদের সদর হাসপাতালগুলোর দেওয়ালের কোণাগুলো দেখেছে? মনে হয় সেগুলো তৈরিই হয়েছে পানের পিক ফেলার জন্যে!) শুধু পানের পিক নয় চিপসের প্যাকেট, ঠোঙা, পানির খালি বোতল, চুইংগামের কাগজ, সিগারেটের গোড়া- যেখানে সেখানে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা এখানে কেউ অন্যায় কিছু মনে করে না।

বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্টটা হাতে নিয়ে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশে যাবার জন্য প্লেনে ওঠার আগে এই অভ্যাসগুলো বাক্সবন্দি করে দেশে রেখে যেতে হয়। আমেরিকার কোনো রাস্তায় অন্যমনস্কভাবে একটা ঠোঙা ছুড়ে ফেলার পর যদি কোনো থুরথুরে বুড়ি সেটা তুলে হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঠিক জায়গায় ফেলতে বলে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। (দোহাই লাগে এরকম কোনো অভিজ্ঞতা হলে কেউ যেন নিজের দেশের পরিচয় দিয়ে দেশের বেইজ্জতি না করে।)

 দেশের বাইরে গেলে শারীরিক কিছু ব্যাপার স্যাপারেও একটু সতর্ক থাকা ভালো। ভালোমন্দ কিছু খেলে খাবার শেষে একটা বড়সড়ো ঢেকুর তোলাটা আমাদের কাছে খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। (আমি শুনেছি কোনো কোনো কালচারে খাওয়া শেষে অতিথিরা ঢেকুর না তুললে সেটাকে অপমান হিসেবে ধরা হয়) পশ্চিমা দেশে প্রকাশ্য জায়গায় ঢেকুর তোলাটা বন্ধ রাখতে হবে। তবে হাঁচি, কাশি, ঢেকুর, এ রকম গর্হিত ব্যাপার যদি ঘটেই যায় তাহলে ‘এক্সকিউজ মি’ বলে ক্ষমা চাইলে সবাই সেই অপরাধকে ক্ষমা করে দেয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে এই বাক্যাংশটি ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

এই সাথে আরেকটা বাক্যাংশ শিখে নেওয়া ভালো- সেটা হচ্ছে ‘থ্যাংক ইউ’। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমরা যদি কারও প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা অনুভব করি তারপরও সেটা মুখ ফুটে বলি না। আমেরিকা গেলে এটা মুখ ফুটে বলা শিখে নিতে হবে। বাক্যাংশটি চমৎকার, যে বলে এবং যাকে বলে দু’জনেই এটা থেকে আনন্দ পেতে পারে।

১১. আমেরিকাতে তরুণ তরুণীরা (এবং বুড়ো-বুড়িরাও) তাদের ভালোবাসা যথেষ্ট খোলামেলাভাবে প্রকাশ করে। দু’জন তরুণ তরুণী হাত ধরাধরি করে কিংবা জড়াজড়ি করে হাঁটছে- এটা খুবই পরিচিত একটা দৃশ্য। কিন্তু দু’জন তরুণ (কিংবা দু’জন তরুণী) পরস্পরের হাত ধরে হাঁটছে এটা মোটেও পরিচিত দৃশ্য নয়। দু’জন তরুণ (কিংবা দু’জন তরুণী)  খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু হতে পারে কিন্তু কখনোই তারা একে অন্যের হাত ধরে হাঁটবে না কারণ তাহলে অন্যেরা সেটাকে বিশেষ এক ধরনের সম্পর্ক হিসেবে ধরে নেবে! (কোনো লেখায় আমার নাম থাকলে বাচ্চা কাচ্চারা পড়ে বলে খবর পেয়েছি। তাই এই বিষয়টিকে আর বিস্তৃত করা গেলো না!)

১২. আমার এক ডজন তথ্য এবং উপদেশের শেষটিতে চলে এসেছি। আসলে এখানে যে কথাটি বলতে চেয়েছি সেটা বলার জন্য ওপরের কথাগুলো একটি ভণিতা মাত্র! উপরের ভূমিকাটি শেষ করে এবার আমি আসল কথাটিতে চলে আসতে পারি।

আমাদের দেশে ‍অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও সেগুলোতে সত্যিকার অর্থে গবেষণা শুরু হয়নি (শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য সরকার যে পরিমাণ টাকা খরচ করে সেটা একটা কৌতুকের মতো)। তাই এই দেশের উৎসাহী ছেলে-মেয়েরা প্রতিবছর বাইরে পি.এইচ.ডি. করতে যায়। এদের অনেকে এতো উৎসাহী, এতো সৃজনশীল যে তাদের একটা ছোট অংশ দেশে ফিরে আসতো তাহলে দেশে মোটামুটি একটা বিপ্লব ঘটে যেতো। কিন্তু তারা আসলে দেশে ফিরে আসে না।

আমি আশায় ‍আশায় থাকি যে কোনোদিন এই দেশেরে সরকার একটি দু’টি ছোট বিষয় নিয়মের মাঝে নিয়ে আসবে এবং আমাদের এই উদ্যমী সোনার টুকরো ছেলে মেয়েরা দেশে ফিরে আসতে শুরু করবে। যতদিন তারা দেশে ফিরে না আসছে আমার খুব ইচ্ছে তারা অন্তত এই দেশটির কথা তাদের বুকের ভেতরে লালন করুক। এর বেশি আমার কিছু চাইবার নেই।

আমাদের দেশে থেকে যারা লেখাপড়া করতে বিদেশ গিয়ে সেখানে থেকে যায় তাদের আসলে মোটামুটি দ‍ু’ভাগে ভাগ করা যায়। একভাগ কখনো ভুলতে পারেনা যে তারা এই দরিদ্র দেশটির মূল্যবান সম্পদ ব্যবহার করে লেখাপড়া করেছে, প্রতিদানে তারা দেশেকে কিছু দেয়নি। দরিদ্র দেশে প্রায় বিনামূল্যে পাওয়া শিক্ষাটুকু ব্যবহার করে আমেরিকা (বা সেরকম কোনো একটা দেশ) কে সেবা করে যাচ্ছে। সে জন্য তাদের ভেতর একটা অপরাধবোধ কাজ করে। তারা সবসময়ই দেশের ঋণটুকু শোধ করার জন্য নানাভাবে কাজ করে।

আরেকভাগ মানুষ এই অপরাধবোধ থেকে বের হবার জন্যে অন্তত বিচিত্র একটা উপায় খুঁজে বের করেছে, সেটা হচ্ছে সবকিছুর জন্যে নিজের দেশটিকে দায়ী করা। তারা প্রতি মুহূর্তে দেশকে গালাগালি দেয়। তারা বড় গলায় সবাইকে জানিয়ে দেয়- এই পোড়া দেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান গবেষণার সুযোগ নেই। তাদের মেধা কিংবা প্রতিভা ব্যবহারের সুযোগ নেই। এই দেশে জন্ম হওয়াটাই অনেক বড় ভুল হয়েছিল। এখন আমেরিকাতে আসন গেঁড়ে সেই ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিজের দেশটিকে কীভাবে রসাতলে যাচ্ছে তার সমস্ত পরিসখ্যান তাদের নখদর্পে। দেশের অবিবেচক মানুষ.....


কীভাবে রাজনীতি করে, হরতাল দিয়ে, সন্ত্রাস করে, দুর্নীতি করে পুরো দেশটাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে সেটা তারা শুধু নিজেদের মাঝে নয়, বাইরের সবার সাথেও আলোচনা করে সময় কাটায়।

আমার যে ছাত্রছাত্রীরা আমেরিকা লেখাপড়া করতে যাচ্ছে তাদের এই স্বার্থপর অঙ্ক থেকে সতর্ক থাকতে বলেছি। সম্ভব হলে একশ হাত দূরে থাকতে উপদেশ দিয়েছি। পৃথিবীতে যত রকম অনুভূতি আছে তার মাঝে সবচেযে সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে ভালোবাসা। আর পৃথিবীতে যা কিছু ভালোবাসা সম্ভব তার মাঝে সবচেয়ে সেরা জিনিসটি হচ্ছে মাতৃভূমি।

মাতৃভূমিটি যখন সবকিছুতে আদর্শ হয়ে উঠবে শুধু তখন তাকে ভালোবাসব। যখন সেটা দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণায় জর্জরিত হবে, তখন তাকে ভালোবাসবো না, সেটা তো হতে পারে না। যেসব হতভাগারা নিজের দেশকে ভালোবাসার সেই মধুর অনুভূতি কখনো অনুভব করেন, আমি আজকাল তাদের জন্য করুণাও অনুভব করি না।

আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে আমি যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পি.এইচ.ডি করতে গিয়েচিলাম তখন আমি ছিলাম সেখানকার একমাত্র বাংলাদেশি (দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে যে ছাত্রীটি এসেছিল ঝটপট তাকেই আমি বিয়ে করে ফেলেছিলাম!) এখন সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমেরিকার যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অনেক বাঙালি আছে-খাঁটি বাংলাদেশের বাঙালি।

মাতৃভূমি ছেড়ে প্রবাসী হবার পর বাংলাদেশের সেই মানুষগুলোই হয়ে ওঠে পরিবারের মানুষ, হয়ে ওঠে আপনজন। সুখে দুঃখে তারা পাশে থাকে। যখন দেশকে তীব্রভাবে মনে পড়ে তখন এই দেশের মানুষগুলোই তাদের সান্ত্বনা দেয়।

তখন কিন্তু একটা খুব বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সুখে দুঃখে সার্বক্ষণিকভাবে শুধু বাংলাদেশের মানুষকে নিয়েই সময় কাটাবে নাকি পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন দেশ থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন কালচারের মানুষগুলোর সাথেও একটা আন্তরিক সম্পর্ক করে তুলবে? যারা শুধুমাত্র বাংলাদেশের বাঙালিদের সাথেই গল্পগুজব আড্ডা রাজনীতি কিংবা অনেক সময় দলাদলি করে সময় কাটায়, তারা কিন্তু অনেক বিশাল একটা ক্যানভাসে নিজের জীবনটাকে বিস্তৃত করার একটা চমৎকার সুযোগ হারায়।

একটা দেশের গণ্ডি থেকে বের হয়ে একটা পৃথিবীর মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কিন্তু অনেক বড় সুযোগ। কেউ যখন প্রথমবার আবিষ্কার করে গায়ের রং, মুখের ভাষা, ধর্ম কালচার, সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও সবাই যে হুবহু একই রকম মানুষ সেটি অসাধারণ একটি অনুভূতি।

কাজেই আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের বারবার বলেছি, তারা যেন নিজের দেশের মানুষের পাশাপাশি আমেরিকার মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করে, সম্পর্ক গড়ে তোলে। ভিন্ন কালচারের বৈচিত্র্যের সৌন্দর্যটা যেন উপভোগ করে। তারা যেন হাইকিং করে, জগিং করে, ক্যাশিং করে, হাজার হাজার মাইল ড্রাইভ করে ঘুরে বেড়ায়, গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে বনেট খুলে ঠিক করে ফেলতে শেখে, তারা যেন তুষারে ঢাকা পাহাড়ে ওঠে, সমুদ্রের নিচে স্কুবা ডাইভিং করে, ছবি আঁকতে শেখে, গান গাইতে শেখে, মিউজিয়ামে যায়, অপেরা দেখে, কনসার্টে যায়— এক কথায় যে বৈচিত্র্যময় কাজগুলো কখনো করার সুযোগ পায়নি, সেইগুলো করে জীবনটাকে উপভোগ করে। (কেউ কি বিশ্বাস করবে আমার মতো একজন মানুষ পর্বতারোহণের ট্রেনিং নিয়ে সাইস এক্স আর ক্লাইসিং রোপ হাতে তুষারে ঢাকা পাহাড়ে উঠে বরফের ওপর ক্যাম্প করে স্লিপিং ব্যাগে ঘুমিয়েছি? পর্বতের চূড়ায় উঠে উল্লসিত হয়েছি?)

কোনো কিছু থেকে কি সতর্ক থাকার প্রয়োজন আছে? আগে ছিল না, এখন আছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র কাজী নাফিসের ঘটনাটি হচ্ছে তার উদাহরণ। এই দেশের যুদ্ধাপরাধীদের চ্যালা-চামুণ্ডারা সেই দেশে আজকাল খুব সক্রিয়। আমেরিকার সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে তারা শুধু নিজেরা থাকে না, তাদের আগে পেছনের কয়েক প্রজন্মকে সেই দেশে নিয়ে চলে যায়। কিন্তু দেশটিকে তারা মনে করে কাফিরদের দেশ। ভিন্ন ধর্মের জন্য অবজ্ঞা দেখিয়ে যখন কেউ কাফিরদের দেশে থাকার কলাকৌশল শেখাতে এগিয়ে আসবে তাদের থেকে সাবধান!

ভিন্ন ধর্ম আর ভিন্ন কালচার মানে খারাপ ধর্ম আর খারাপ কালচার নয়। ভিন্ন মানে বৈচিত্র্য, আর বৈচিত্র্য হচ্ছে সৌন্দর্য। এটা যত তাড়াতাড়ি জানা যায়, ততই ভালো। যারা জানে না তারা নতুন পৃথিবীর মানুষ নয়, তাদের থেকে সাবধান!

আর সেই দেশে দীর্ঘদিন থেকে লেখাপড়া শেষ করে জীবনকে উপভোগ করে কখনো যদি দেশের জন্য বুক টনটন করে তখন কী করতে হবে?

তখন তারা আবার এই দেশটাতে ফিরে আসতে পারবে। মা যেমন করে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করে, দেশ মাতৃকাও ঠিক সেরকম করে তার সন্তানের জন্য গভীর ভালোবাসা নিয়ে অপেক্ষা করে থাকে। অপেক্ষা করে আছে। আমি বাড়িয়ে বলছি না— আমি এটা জানি।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল: লেখক, কলামিস্ট, অধ্যাপক


পাঠক বইটি পড়বে এটাই আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। আমরা চাই পাঠক বইটি পড়ুক, আলোচনা, সমালোচনা করুক, তাহলেই আমাদের সার্থকতা। নইলে এতো কষ্ট বৃথা, তাই আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম। আর্থিক ভাবে আমাদের সহায়তা করবার জন্য, অনুরোধ রইলো আমারবই.কম এর প্রিমিয়াম সদস্য হবার। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তোমাদের কাছে বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

amarboi.com
তোমাদের কাছে বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
আজ আমি এসেছি তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবার জন্য!
আমি পত্রিকায় লিখেছি যে, এই
নতুন জেনারেশন খালি
ফেসবুকে লাইক দেয়, এরা আর কিছু করে না।
আমি লিখেছি_ এরা খালি বল্গগ করে, এরা আর কিছু করে না_
এরা রাস্তায় নামে না।
তোমরা আমাকে ভুল প্রমাণিত করেছো।

এই দেখো এখানে বল্গগাররা আছে, এই বল্গগাররা
সারা পৃথিবীতে যেটা হয় নাই এরা সেইটা ঘটিয়ে দিয়েছে।
তোমাদের কাছে ক্ষমা চাই! আমাকে ক্ষমা করেছো সবাই?

আজকের মত আনন্দের দিন আমি আমার জীবনে কোনোদিন পাই নাই!!
২০১৩ সাল ১৯৭১ হয়ে গিয়েছে!! তোমরা যারা ১৯৭১ দেখো নাই
সুযোগ পেয়েছো ২০১৩ সালকে আবার ১৯৭১ হিসেবে দেখার জন্য।

বাংলাদেশের মত সুন্দর দেশ পৃথিবীতে নাই!
উপরে তাকাও কী সুন্দর আকাশ!!
তাকাও কত সুন্দর গাছ!!
একজন আরেকজনের দিকে তাকাও কত সুন্দর মানুষ!!
তোমাদের মত সুন্দর মানুষ পৃথিবীতে নাই।

আমরা অনেক সৌভাগ্যবান! যখন যেটা দরকার সেটা পেয়েছি।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুকে পেয়েছি।
যখন যুদ্ধের সময় হয়েছে, তাজউদ্দীন আহমদ আমাদের যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তখন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্ম হয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে।
এখন তোমাদের দরকার, তোমাদের জন্ম হয়েছে।

জাহানারা ইমাম এখানে আন্দোলন করেছিলেন, জাহানার ইমামের ছবি আছে।
আমি শিউর, উনি উপর থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন_ আর আনন্দে হাসছেন!!
ত্রিশ লক্ষ শহীদ উপরে আছে, তারা আমাদের দিকে দেখছে
আর বলছে_ 'থ্যাংক ইউ', 'থ্যাংক ইউ'_ তোমাদেরকে ধন্যবাদ!

একটা সময় ছিল যেখানে হানাদার বলতে হতো, পাকিস্তান বলা যেত না।
টেলিভিশনে রাজাকার কথাটা মানুষের মুখ থেকে বলা যেত না।
তখন হুমায়ূন আহমেদ টিয়া পাখির মুখ দিয়ে বলেছিল_ 'তুই রাজাকার'!!

আমি বলব, তোমরা বলবে, হুমায়ূন আহমেদ উপর থেকে দেখছে_
হুমায়ূন আহমেদ দেখো_

কাদের মোল্লা! কাদের মোল্লা!
(জনতা_ তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
সাঈদী! সাঈদী!
(জনতা_ তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
সাকা চৌধুরী! সাকা চৌধুরী!
(জনতা_ তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
কামারুজ্জামান! কামারুজ্জামান!
(জনতা_ তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
নিজামী! নিজামী!
(জনতা_ তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)
গোলাম আযম! গোলাম আযম!
(জনতা_ তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!)

বাংলাদেশে যত শহীদ হয়েছিলো তারা সবাই এখন উপর থেকে তাকিয়ে আমাদের দেখছে, আর বলছে_
এই বাংলাদেশকে আর কেউ কোনোদিন পদানত করতে পারবে না!

তোমাদেরকে আমি অনুরোধ করি_
যখন লেখাপড়ার কথা তখন লেখাপড়া করবে।
যখন গান গাওয়ার কথা তখন গান গাইবে।
যখন কবিতা লেখার কথা কবিতা লিখবে।
ছবি আঁকার কথা ছবি আঁকবে।
ভাস্কর্য বসানোর কথা ভাস্কর্য বসাবে।
প্রেম করার কথা প্রেম করবে।
বাংলাদেশকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ দেশে তৈরি করবে।
নোবেল প্রাইজ আনবে।
যখন রাস্তায় নামার দরকার পড়বে তখন রাস্তায় নামবে।

তোমাদের কাছে সারা বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। যত শহীদ আছে সবাই কৃতজ্ঞ, আমরা সবাই কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ সবাইকে।
বল্গগারদেরকে আলাদাভাবে ধন্যবাদ! তারা যেটা করেছে তার কোনো তুলনা নাই। সবাইকে ধন্যবাদ!!

[শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রদত্ত বক্তব্য]

You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature. Also try our chrome extension.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হিমুর গল্প - হুমায়ূন আহমেদ

himu by humayun ahmed
হিমুর গল্প - হুমায়ূন
১৩ নভেম্বর বাংলা সাহিত্যের সম্রাট হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে হিমু দিবস পালিত হয়েছে। হিমুকে নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আয়োজনের রেশ এখনো কাটেনি। হুমায়ূন আহমেদের চোখে হিমু কেমন ছিল? তারই একটি ধারণা পাওয়া যাবে এই লেখায়।
ময়ূরাক্ষীর তীরে প্রথম হিমু
আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। লেকচারার থেকে অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর হয়েছি। বেতন বাড়েনি, যন্ত্রণা বেড়েছে। আমাকে দূর-দূরান্তরে পরীক্ষা নিতে পাঠানো হচ্ছে। পটুয়াখালী, বরিশাল, ফরিদপুর। কলেজগুলিতে পড়াশোনা হয় না বললেই চলে। প্রাকটিক্যাল ক্লাসের সুযোগ-সুবিধাও নেই। ছাত্ররা কিছুই পারে না। অতি সহজ প্রশ্নে মাথা চুলকায়, ঘাড় চুলকায়। মাথা এবং ঘাড় থেকে প্রশ্নের উত্তর আসে না। অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছে এমন ছেলেকে যখন জিজ্ঞেস করি, পানির ফর্মুলা কী? সে আমতা আমতা করে বলে, ঔ২ৃ। যেন তার সন্দেহ আছে আসলেই ঔ২ৃ কিনা। তারপর জিজ্ঞেস করি, ঊ২ৃ কী? যারা কেমিস্ট্রি জানেন না তাদের বলছি, ঊ২ৃ হচ্ছে হেভি ওয়াটার। হাইড্রোজেন অ্যাটমে প্রোটন থাকে একটা, এখানে দুটা। ঊ হলো হাইড্রোজেনের একটা অ্রর্মমযণ. অতি সহজ এই প্রশ্নে পরীক্ষার্থী পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে বলে, স্যার ঊ২ৃ হচ্ছে ঢাকার পানি।
তাহলে রাজশাহীর পানির ফর্মুলাটা কী?
স্যার ৗ২ৃ।
বরিশালের পানি?
স্যার ঈ২ৃ।
বরগুনার পানি?
এইবার ছাত্র উৎসাহী। সে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। সে হাসিমুখে জবাব দেয়, বরগুনার পানিরও স্যার একই ফর্মুলা ঈ২ৃ।
আমি হতাশ চোখে পরীক্ষার্থীর দিকে তাকিয়ে থাকি। ইন্টারনাল একজামিনার হাত কচলাতে কচলাতে বলেন, পাস করিয়ে দিতে হবে স্যার। গরিবের ছেলে। কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। ভাবটা এরকম যে, ধনীর ছেলেমেয়েদের কেমিস্ট্রি জেনে পাস করতে হবে। গরিবের ছেলের পাসটা প্রয়োজন। কেমিস্ট্রি জানা প্রয়োজন না।
বাইরে পরীক্ষা নিতে গেলে ভাইভা বিষয়ক অতি ক্লান্তিকর অবস্থার ভেতর যেতে হয়। ছাত্রদের ফেল করাতে ইচ্ছা করে না, আবার পাস করাতেও ইচ্ছা করে না।
ভাইভা নিতে কষ্ট। থাকা-খাওয়াতেও কষ্ট। এক্সটারনাল শিক্ষকদের থাকার জায়গা হয় সাধারণত ল্যাবরেটরির লাগোয়া ঘরে। উদাহরণ বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ। সেখানে পরীক্ষা নিতে গিয়ে ঐ ঘরে অনেকদিন থেকেছি। একবার ভূতও দেখেছিলাম! যেসব কলেজে এরকম কোনো ঘর নেই সেখানে থাকার ব্যবস্থা হয় কোনো শিক্ষকের বাসায়। ভদ্রলোক হয়তো পরিবার-পরিজন নিয়ে বাস করছেন, সেখানে মূর্তিমান উপদ্রবের মতো অচেনা অজানা একজন মানুষ থাকতে আসেন। যাকে আপন করে নেয়া যায় না, আবার দূরেও ঢেলে রাখা যায় না। এক্সটারনাল ভদ্রলোক ইচ্ছা করলেই ভাইভায় প্রচুর ফেল করিয়ে ঝামেলা করতে পারেন। একবার কেমিস্ট্রির এক শিক্ষকের বাসায় আমার থাকার জায়গা হলো। ভদ্রলোকের বাসায় একটা বাথরুম। সেই বাথরুম স্বামী-স্ত্রীর শোবার ঘরের সঙ্গে এটাচড। আমার আবার রাতে কয়েক দফা বাথরুমে যেতে হয়। ভদ্রলোক অবশ্যি খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে বললেন, আমার শোবার ঘরের দরজা খোলা থাকবে। আপনার যতবার ইচ্ছা বাথরুমে যাবেন। কোনো সমস্যা নেই। দীর্ঘ ভূমিকা দিলাম, এখন মূল গল্পে আসি। আমি পরীক্ষা নিতে গেছি পটুয়াখালীতে। ল্যাবরেটরির পাশের টিচার্স রুমে খাট পেতে আমার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গরমকাল। বেশিরভাগ সময় ইলেকট্রিসিটি নেই। ফ্যান চলে না। প্রথম রাতে একফোঁটা ঘুম হলো না। বিছানায় এপাশ ওপাশ করি। রাত তিনটায় মশারির ভেতর থেকে বের হলাম। সঙ্গে সঙ্গে শত শত মশা আমাকে ছেঁকে ধরল। আবার মশারির ভেতর ঢুকলাম। গরমে টিকতে না পেরে আবার বের হলাম। মশাদেরকে বললাম, তোমরা যারা এখানে আছ তারাই আমার রক্ত খাও, বাইরে থেকে কাউকে ডেকে এনো না।
ঘরটাকে আমার মনে হলো হাজতখানা। এই হাজতে সাতটা রাত পার করতে হবে ভেবে খুবই দমে গেলাম। এর হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় কীভাবে? হঠাৎ করে মনে হলো- একটা নদী কল্পনা করলে কেমন হয়? নদীর পাড়ে একটা গাছের নিচে আমি বসে আছি। উথাল পাথাল হাওয়া নদীর উপর দিয়ে উড়ে আসছে। এমন হাওয়া যে আমার সামান্য শীত শীত ভাব হচ্ছে। আমি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে মশক বাহিনীকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে নদী কল্পনা শুরু করলাম। নদীর একটা সুন্দর নামও দিলাম- ময়ূরাক্ষী। যারা আমার লেখা পড়ছেন তারা হয়তো পুরোপুরি বিশ্বাস করবেন না যে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার গরম লাগা কমে গেল। নদীর প্রবল হাওয়ায় মশারা উড়ে গেল। আমার খানিকটা শীত শীতও করতে লাগল। তৈরি হলো হিমু, যে যেকোনো অবস্থায় কল্পনার নদী ময়ূরাক্ষীর কাছে চলে যেতে পারে।
হিমুকে নিয়ে লেখা আমার প্রথম উপন্যাসটির নাম ময়ূরাক্ষী। ময়ূরাক্ষীর হিমু আমি নিজে।
প্রথম লেখা হিমুবিষয়ক বইয়ে ময়ূরাক্ষী নদী কীভাবে চলে এলো, একটু দেখা যাক।
‘ছোটবেলার কথা। ক্লাস সিক্সে পড়ি। জিওগ্রাফি পড়ান মফিজ স্যার। তিনি ক্লাসে ঢুকলে চেয়ার-টেবিলগুলি পর্যন্ত ভয়ে কাঁপে। স্যার মানুষটা ছোটখাটো, কিন্তু হাতের থাবাটা বিশাল। আমাদের ধারণা ছাত্রদের গালে চড় বসাবার জন্য আল্লাহতালা স্পেশালভাবে স্যারের এই হাত তৈরি করে দিয়েছেন। স্যারের চড়েরও নানান নাম ছিল- রাম চড়, শ্যাম চড়, যদু চড়, মধু চড়। এর মধ্যে সবচে’ কঠিন চড় হচ্ছে রাম চড়, সবচে’ নরমটা হচ্ছে মধু চড়।
স্যার সেদিন পড়াচ্ছেন- বাংলাদেশের নদ-নদী। ক্লাসে ঢুকেই আমার দিকে আঙুল বাড়িয়ে বললেন, এই একটা নদীর নাম বল তো। চট করে বল।
মফিজ স্যার কোনো প্রশ্ন করলে কিছুক্ষণের জন্য আমার মাথাটা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। কান ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। মনে হয় মাথার খুলির ভেতর জমে থাকা কিছু বাতাস কানের পরদা ফাটিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
কী ব্যাপার চুপ করে আছিস কেন? নাম বল।
আমি ক্ষীণস্বরে বললাম, আড়িয়াল খাঁ।
স্যার এগিয়ে এসে প্রচণ্ড চড় বসিয়ে দিলেন। খুব সম্ভব রাম চড়। হুঙ্কার দিয়ে বললেন, এত সুন্দর সুন্দর নাম থাকতে তোর মনে এলো আড়িয়াল খাঁ? সব সময় ফাজলামি? কানে ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
আমি কানে ধরে সারাটা ক্লাস দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘণ্টা পড়ার মিনিট পাঁচেক আগে পড়ানো শেষ করে স্যার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কাছে আয়।
আরেকটি চড় খাবার জন্য আমি ভয়ে ভয়ে স্যারের কাছে এগিয়ে গেলাম। তিনি বিষণœ গলায় বললেন, এখনো কানে ধরে আছিস কেন? হাত নামা।
আমি হাত নামালাম। স্যার ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে বললেন, তোকে শাস্তি দেয়াটা অন্যায় হয়েছে, খুবই অন্যায়।
তোকে নদীর নাম বলতে বলেছি, তুই বলেছিস। আয় আরো কাছে আয়, তোকে আদর করে দেই।
স্যার এমন ভঙ্গিতে মাথায় এবং পিঠে হাত বুলাতে লাগলেন যে আমার চোখে পানি এসে গেল। স্যার বিব্রত গলায় বললেন, আমি তোর কাছে থেকে সুন্দর একটা নদীর নাম শুনতে চেয়েছিলাম, আর তুই বললি আড়িয়াল খাঁ। আমার মেজাজটা গেল খারাপ হয়ে। আচ্ছা এখন সুন্দর একটা নদীর নাম বল।
আমি শার্টের হাতায় চোখ মুছতে মুছতে বললাম ময়ূরাক্ষী।
ময়ূরাক্ষী? এই নাম তো শুনিনি। কোথাকার নদী?
জানি না স্যার।
এই নামে আসলেই কি কোনো নদী আছে?
জানি না স্যার।
স্যার হালকা গলায় বললেন, ‘আচ্ছা থাক। না থাকলে নেই। এটা হচ্ছে তোর নদী। যা জায়গায় গিয়ে বোস। এমনিতেই তোকে শাস্তি দিয়ে আমার মনটা খারাপ হয়েছে। তুই তো দেখি কেঁদে কেঁদে আমার মন খারাপটা বাড়াচ্ছিস। আর কাঁদিস না।’
নয় নম্বর বিপদ সংকেত
পাঠকরা ভুলেও ভাববেন না ‘ময়ূরাক্ষী’ বের হবার পর পরই যুবকশ্রেণীর বিরাট অংশ হলুদ পাঞ্জাবি পরে রাস্তায় নেমে গেল। আমিও মনের আনন্দে একের পর এক হিমু বাজারে ছাড়তে লাগলাম। পাশ বইয়ের খাতায় টাকা জমা হতে লাগল। শুরুতে হিমুকে আমি মোটেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিনি। তখন আমার প্রিয় চরিত্র মিসির আলি। আমি লিখছি মিসির আলি। এই ভদ্রলোকের লজিকে এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতায় আমি মুগ্ধ।
এর মধ্যে আমার অর্থনৈতিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে। বন্ধুবান্ধব, ব্যাংক এবং প্রকাশকদের কাছ থেকে ধার করে এলিফেন্ট রোডে একটা ফ্ল্যাট কিনে ফেলেছি। পনেরশ’ স্কয়ার ফিটের ছোট্ট ফ্ল্যাট। তাতে কী, দুটা বেডরুম আছে। একটা বারান্দা আছে। বারান্দায় বসলে সুন্দর কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাই না। জুতার দোকান দেখতে পাই। ছয়তলা থেকে জুতার দোকান দেখা খারাপ কিছু না। বারান্দায় বসে চা খেতে খেতে আমি জুতার দোকান দেখি এবং পরের লেখাটা কী হবে ভাবি।
আমার তিন মেয়ে তখন সামান্য বড় হয়েছে। বড় মেয়েটি ক্লাস সিক্সে পড়ে, মেজোটি পড়ে ক্লাস ফোরে। ভোরবেলা স্কুলের পোশাক পরে তারা কিছুক্ষণ ধবল রঙের ডিপফ্রিজের সামনে দাঁড়ায়। কারণ তাদের বাবা রাতে যা লিখেছে তা ডিপফ্রিজের উপর সাজানো থাকে। আমার এই দুই কন্যা বাবার লেখার সর্বশেষ অংশ না পড়ে স্কুলে যাবে না। আমার লেখক জীবনে এর চেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছি বলে মনে পড়ে না।
আমার এই দুই কন্যার কোনো একজন, খুব সম্ভব বড়জন, আমাকে একদিন বলল, বাবা ময়ূরাক্ষীর মতো আরেকটা বই লেখ। হিমুর বই।
হিমুকে নিয়ে কন্যার আগ্রহে লিখে শেষ করলাম ‘দরজার ওপাশে’। বই প্রকাশিত হলো। আমি পড়লাম মহাবিপদে। হাইকোর্টে বিচারকদের সমিতি আছে। সমিতির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হলো, এই বইটি লিখে আমি মহা অন্যায় করেছি। মহান বিচারকদের সম্মান ধুলায় লুটিয়ে দিয়েছি। কারণ আমি লিখেছি ‘জজ সাহেবরা ঘুষ খান।’
উপন্যাসে ঘটনাটা এরকম- হিমুর মাতুল বংশ পিশাচশ্রেণীর। তারা হেন দুষ্কর্ম নাই যা করে না। তাদের ধারণা যেকোনো কাজ টাকা দিয়ে করানো সম্ভব। তাদেরই একজন জজ সাহেবকে ঘুষ দিয়ে এই কাজটা করাতে চাচ্ছে। জজ সাহেবরা ঘুষ খান- এটি হিমুর ধান্ধাবাজ মামার কথা। বইতে কীভাবে এসেছে দেখা যাক।
‘মামা গোসল করে জায়নামাজে বসে গেলেন। দীর্ঘ সময় লাগল নামাজ শেষ করতে। তাঁর চেহারা হয়েছে সুফি সাধকের মতো। ধবধবে সাদা লম্বা দাড়ি। মোনাজাত করবার সময় টপটপ করে তাঁর চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল। আমি অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখলাম।
তারপর বল, কী ব্যাপার?
একজন লোক জেলখানায় আছে মামা। ওর সঙ্গে দেখা করা দরকার, দেখা করার কায়দা পাচ্ছি না। দরখাস্ত করেছি, লাভ হয়নি।
খুনের আসামি? তিনশ বারো ধারা?
কোন ধারা তা জানি না, তবে খুনের আসামি।
এটা কোনো ব্যাপারই না। টাকা খাওয়াতে হবে। এই দেশে এমন কোনো জিনিস নাই যা টাকায় হয় না।
টাকা তো মামা আমার নেই।
টাকার চিন্তা তোকে করতে বলছি নাকি? আমরা আছি কী জন্য? মরে তো যাই নাই। টাকা সাথে নিয়ে আসছি। দরকার হলে জমি বেচে দেব। খুনের মামলাটা কী রকম বল শুনি। আসামি ছাড়ায়ে আনতে হবে? তুমি পারবে না মামা। তোমার ক্ষমতার বাইরে।
আগে বল, তারপর বুঝব পারব কী পারব না। টাকা থাকলে এই দেশে খুন কোনো ব্যাপারই না। এক লাখ টাকা থাকলে দুটো খুন করা যায়। প্রতি খুনে খরচ হয় পঞ্চাশ হাজার। পলিটিক্যাল লোক হলে কিছু বেশি লাগে। আমি মোবারক হোসেন সাহেবের ব্যাপারটা বললাম। মামা গালে হাত দিয়ে গভীর আগ্রহ নিয়ে শুনলেন। সব শুনে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন, পুলিশের সাজানো মামলা, পেছনে আছে বড় খুঁটি। কিছু করা যাবে না। ট্রাইবুন্যাল করলে কোনো আশা নাই, সিভিল কোর্ট হলে আশা আছে। জজ সাহেবদের টাকা খাওয়াতে হবে। আগে জজ সাহেবরা টাকা খেত না। এখন খায়। অনেক জজ দেখেছি কাতলা মাছের মতো হাঁ করে থাকে। কেইস সিভিল কোর্টে উঠলে আমারে খবর দিয়ে নিয়ে আসবি।’
মামলা মোকদ্দমা বিষয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। সব সময় শুনেছি মামলা লোয়ার কোর্ট থেকে হাইকোর্টে যায়, তারপর সুপ্রিমকোর্ট। আমার বেলায় সরাসরি হাইকোর্ট থেকে তলব।
শুধু আমি একা আসামি তা কিন্তু না। আমাকে নিয়ে বিচারকরা মামলা করেছেন এই বিষয়টি যেসব পত্রিকায় ছাপা হয়েছে তারাও আসামি। তাতে আমার সুবিধা হলো, পত্রিকার সম্পাদকরা বড় বড় ব্যারিস্টার দিলেন। এই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন এবং ভাষাসৈনিক গাজিউল হকের নাম মনে পড়ছে।
পত্রিকার সম্পাদকরা আদালতে উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চাইলেন এবং পার পেয়ে গেলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর অফিসে আমাকে ডেকে নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বললেন। তিনি আমাকে আশ্বাস দিলেন যে, ক্ষমা প্রার্থনা করলে এবং বিতর্কিত বইটি বাজার থেকে উঠিয়ে নিলে আমার আর কোনো ঝামেলা হবে না।
আমি বললাম, ভুল করলেই ক্ষমা প্রার্থনার প্রশ্ন আসে। আমি ভুল করিনি। উপন্যাসের একটি দুষ্ট চরিত্র কী বলছে তার দায়ভাগ লেখকের না। তারপরেও যদি দায়ভাগ আমার থাকে তাহলে আমি ‘জজ সাহেবরা ঘুষ খান’ এই মন্তব্য থেকে সরে আসব না। সব জজ সাহেবের কথা এখানে বলা হয়নি। জজ সাহেবরা ভিনগ্রহ থেকে আসেননি। মানুষের সাধারণ ত্র“টি তাদের মধ্যেও থাকবে। একজন লেখক হিসেবে আমি তা লিখব। আমাদের সংবিধান মত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন, আপনি কিন্তু বিপদে পড়বেন।
আমি বললাম, কী আর করা। না হয় একটু বিপদে পড়লাম।
মামলা শুরু হলো। আমি হাইকোর্টে যাই। সঙ্গে আমার তিন কন্যা এবং তাদের মা। তারা ভয়ে অস্থির, এই বুঝি আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে।
মামলার একপর্যায়ে তিন বিচারক নিয়ে গঠিত বেঞ্চের একজন বললেন, তিনি বিব্রত। মামলায় থাকবেন না। কিছুদিন পর আরেকটি বেঞ্চ তৈরি হলো। সেই বেঞ্চের এক বিচারকও বললেন তিনি বিব্রত।
পনেরো ষোল বছর তো হয়েই গেল, বিচারকরা আমার বিষয়ে বিব্রত রয়েই গেলেন। আমার খুব ইচ্ছা করে মামলাটা শেষ পর্যন্ত দেখতে। মামলায় আমি যদি জিতে যাই তাহলে প্রমাণ হবে জজ সাহেবরা সাধারণ লোভ লালসার ঊর্ধ্বে না। আর যদি হেরে জেলে যাই তাতেও ক্ষতি নেই। অতীতে এই পৃথিবীতে লেখার মাধ্যমে মত প্রকাশের কারণে মৃত্যুদণ্ড দেবার মতো ঘটনাও ঘটেছে। আমি না হয় কিছুদিন জেলে থাকলাম। আমাকে জেলখানার মেঝেতে শুয়ে থাকতে হবে না। একুশে পদক পাওয়ার কারণে ডিভিশন দেয়া হবে। বিছানায় ঘুমাব। ভাগ্য ভালো হলে মাথার উপর ফ্যান ঘুরবে। ফ্যান না ঘুরলেও ক্ষতি নেই- চোখ বন্ধ করে ময়ূরাক্ষী নদীকে জেলের ভেতর নিয়ে আসা কঠিন কোনো কাজ না।

You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature. Also try our chrome extension.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বৃক্ষকথা - হুমায়ূন আহমেদ

amarboi.com
বৃক্ষকথা - হুমায়ূন আহমেদ

এবার বৃক্ষ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন এক অসাধারন বই। মহাদেব স্বর্গে নন্দিভৃঙ্গিদের নিয়ে আছেন। মহাদেবের মনে সুখ নেই, কারণ কোনো নেশা করেই আনন্দ পাচ্ছেন না। তিনি পৃথিবীতে নেমে এলেন নেশার বস্তুর সন্ধানে। দেখা করলেন লোকমান হেকিমের সঙ্গে, যদি লোকমান হেকিম কিছু করতে পারেন। ইনিই একমাত্র মানুষ, যাঁর সঙ্গে গাছপালারা কথা বলে। মহাদেব এবং লোকমান হেকিম বনেজঙ্গলে ঘুরছেন, হঠাৎ একটা গাছ কথা বলে উঠল। গাছ বলল, লোকমান হেকিম, আমি গাঁজাগাছ। আমাকে মহাদেবের হাতে দিন। মহাদেবের নেশার বাসনা তৃপ্ত হবে। মহাদেব গাঁজাগাছ নিয়ে স্বর্গে চলে গেলেন। গাঁজাগাছই একমাত্র গাছ, যা পৃথিবী থেকে স্বর্গে গেল। এই গাঁজাগাছ আমি প্রথম দেখি বৃক্ষমেলায় বন বিভাগের স্টলে। নুহাশ পল্লীর ঔষধি বাগানে এই গাছ নেই। আমি কিনতে গেলাম। আমাকে জানানো হলো, এই গাছ নিষিদ্ধ। আনা হয়েছে শুধু প্রদর্শনীর জন্য। অনেক দেনদরবার করেও কোনো লাভ হলো না। আমি গাঁজাগাছ খুঁজে বেড়াচ্ছি_এই খবর ছড়িয়ে পড়ল। কেউ কেউ তাদের দলে ভিড়েছি বলে বিমল আনন্দ পেলেন, আবার কেউ কেউ আমার দিকে বক্রচোখে তাকাতে লাগলেন।
Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কোথাও কেউ নেই - আহসান হাবীব

amarboi.com
কোথাও কেউ নেই - আহসান হাবীব


আমাদের ছোটবেলায় ঈদগুলো ছিল অসাধারণ। প্রতি ঈদে সন্ধ্যায় বাড়ির বারান্দায় স্টেজ বানিয়ে অনুষ্ঠান হতো। সেই অনুষ্ঠানে থাকত নাচ, গান, নাটক, ম্যাজিক আর কমিক। এসবের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন আমাদের সবার দাদাভাই। মানে হুমায়ূন আহমেদ। পাড়ার সবাই সেখানে অংশগ্রহণ করত। ঈদের অনেক আগে থেকেই শুরু হতো এর রিহার্সেল। কাজেই ঈদ-আনন্দের উত্তেজনা শুরু হতো ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই। এখন যেমন টিভি চ্যানেলগুলোয় বলা হয়, ঈদের দিন থেকে শুরু করে টানা সাত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ঈদ আয়োজন... অনেকটা সে রকম; তবে আমাদেরটা হতো ঈদের আগের সাত দিন থেকে বর্ণাঢ্য ঈদ আয়োজন। এতে ছোটরা যেমন অংশগ্রহণ করত; বড়রাও করতেন সমানভাবে।
আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে, তার সৌজন্যে চমৎকার একটা শৈশব পার করেছি। শুধু আমি কেন, আমার বয়সী পাড়ার সবাই তাকে মনে রেখেছে। তার মৃত্যুর পর সবাই আমাদের বাসায় এসে হাজির হয়েছে। নস্টালজিক সেই সব নাটক আর অনুষ্ঠানের কুশীলবরা। সবাই অশ্রু ফেলেছে। যে আনন্দ সে দিয়ে গেছে, সেগুলোই কি এখন অশ্রু হয়ে নেমে আসছে?
আমি একবার মাত্র তাকে কাঁদতে দেখেছি। প্রায় ৪০ বছর আগে। আমরা তখন পিরোজপুরের এক গ্রামে পলাতক জীবনযাপন করছি। বাবা নিখোঁজ। হঠাৎ খবর এলো, বাবাকে মিলিটারিরা মেরে ফেলেছে। আমি তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে। সে শান্ত হয়ে খবরটা শুনল। এলাকার বয়স্ক লোকজন তাকে ধরে একটা মসজিদে নিয়ে গেল। সঙ্গে মেজ ভাই আর এক মামা। উদ্দেশ্য সদ্য শহীদ বাবার আত্মার জন্য একটু দোয়া-দরুদ পড়া হোক। অজ পাড়াগাঁয়ের ছোট্ট ছাপড়া একটা মসজিদে বসে আছি আমরা কয়েকজন। হঠাৎ বড় ভাই কাঁদতে শুরু করল হু হু করে। আমি তখন ফাইভ-সিক্সের ছাত্র, বাবার মৃত্যু সংবাদটা তখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কিন্তু বড় ভাইকে ওভাবে কাঁদতে দেখে আশ্চর্য হলাম। আমার প্রাণবন্ত হাসি-খুশি ভাইটা কাঁদছে। যার মাথা টিপে দিলে অসাধারণ সব মজার গল্প বলে, যে হঠাৎ মধ্যরাতে সবাইকে জাগিয়ে বিখ্যাত সব কবিতা আবৃত্তি করে, যে হঠাৎ কোনো ভালো বই পেলে সবাইকে ডেকে নিয়ে পড়ে শোনায়, আর আমরা অবাক হয়ে শুনি_ সেই ভাইটা এখন মাথা নিচু করে হু হু করে কাঁদছে! ৪০ বছর আগের সেই স্মৃতি... এখনও কী স্পষ্ট ভাসে চোখের সামনে!
সে চলে গেছে, এখনও তার সেই কান্না রেখে গেছে যেন আমাদের জন্য। তাকে কেন্দ্র করেই আমাদের পরিবারের সব আনন্দ। এখন সেই আনন্দের মানুষটা নেই। সব আনন্দ এখন অশ্রু হয়ে ঝরছে...!
সেদিন এক টিভি চ্যানেল থেকে আমাকে ফোন করল_ হাবীব ভাই, একটু আসতে চাই আপনার বাসায়।
_ কেন?
_ একটু কথা বলব।
_ কী বিষয়ে?
_ স্যারকে ছাড়া আপনারা কীভাবে ঈদ করবেন_ সেটা একটু জানতে চাই।
আমি আশ্চর্য হয়ে যাই তার কথায়। এটা একটা জানার বিষয়? তাকে ছাড়া আমাদের ঈদটা হবে কীভাবে?... অনেক আগে ঈদের আগের দিন আমাদের সব ভাইবোন চলে আসত আমার পল্লবীর বাসায়। মা যেহেতু আমার সঙ্গে থাকেন, তাই মায়ের কড়া নির্দেশ_ তার সঙ্গে সবাইকে ঈদ করতে হবে। সবাই চলে আসত। আমরা তিন ভাই যেতাম একসঙ্গে ঈদের নামাজে। ফিরে এসে ভাইবোন তাদের ছেলেমেয়ে সবাইকে নিয়ে কত আনন্দ! রাতে সে একটা লটারির আয়োজন করত। সেই লটারির পুরস্কার পাওয়া নিয়ে ছোট-বড় সবার কী উত্তেজনা!
পরে অবশ্য চিত্রটা একটু বদলে গেল। ঈদের আগের দিন মা চলে যেতেন বড় ভাইয়ের বাসায়। সকালে উঠে আমি যেতাম তার বাসায়। মাকে সালাম করে তার সঙ্গে বসে নাস্তা করতাম। তারপর চলে আসতাম নিজের বাসায়। এখন তো সে আনন্দটাও নেই। কোনো আনন্দই নেই। কোনো ঈদ সংখ্যায় তার লেখা নেই। তার সরাসরি পরিচালিত কোনো নাটক নেই। সে নেই কোনোখানে... সে নেই মানে যেন এখন আর 'কোথাও কেউ নেই!'
তারপরও বাংলাদেশের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠবে, হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে হিমুরা বের হবে চন্দ্র অবগাহনে। ঝরঝর করে বৃষ্টি নামবে কোনো শ্রাবণের ব্যাকুল সন্ধ্যায়। উথাল-পাথাল হাওয়ায় পতপত করে জানালার পর্দা উড়বে পতাকার মতো... সেন্ট মার্টিনের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়বে 'সমুদ্রবিলাসের' আঙিনায়। শুধু এগুলো নিয়ে লেখার কেউ একজন থাকবে না। সে শুয়ে থাকবে নিঃসহায় একা নুহাশ পল্লীতে... হয়তো তার প্রিয় বৃক্ষরা তার সঙ্গী হবে, ঘিরে থাকবে তাকে!
[যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙের... মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা!] 

Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ - হুমায়ূন আহমেদ (বইমেলা ২০১২)

নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ - হুমায়ূন আহমেদ (বইমেলা ২০১২)
নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ - হুমায়ূন আহমেদ (বইমেলা ২০১২)
বাংলা কথাসাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ একজন প্রবাদপুরুষ। জীবন্ত কিংবদন্তি। চার দশক ধরে লিখছেন অবিরাম। উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণ উপাখ্যান, আত্মজৈবনিক, রম্যরচনা কিংবা শিশুতোষ রচনা-সৃষ্টিশীলতার যে মাধ্যমটিতেই হাত দিয়েছেন, অন্য এক আলোর দ্যুতিতে তা উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। পাঠকরা তাকে গ্রহণ করেছেন গভীর ভালোবাসায়। পাঠকপ্রিয়তায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যে তার মতো তুংগস্পর্শী কাউকে আমরা লক্ষ করি না।
কৈশোরে 'জোছনার ফুল'- সৌন্দ্রর্যে মুগ্ধ এই শব্দশিল্পীর দেহে বাসা বেঁধেছে কর্কট রোগ। প্রকৃতি জীবনের সৌন্দর্য সন্ধানে যিনি নিবেদিত, কর্কট রোগের কী সাধ্য তাকে হার মানায়!

ভূমিকাঃ
এই গ্রন্থের সব লেখাই নিউইয়র্কে বসে লেখা। লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থেকে কেমোথেরাপি নামক চিকিৎসার যন্ত্রণা ভোলার চেষ্টা। এই চেষ্টা খুব যে কাজ করেছে তা না, প্রায়ই কলম ছুড়ে ফেলে বিছানায় চাদর মুড়ে শুয়ে ভেবেছি-‘আর কত?’
যাই হোক, বেশ কিছু লেখা লিখেছি, প্রথম আলো গুরুত্বের সঙ্গে ছেপেছে। মতি তাতে বিস্মিত এবং অভিভূত। মনে হয়েছে আমার লেখক-জন্ম সার্থক।
এই গ্রন্থে তিনটি গল্পও আছে। গল্পগুলো লিখে আনন্দ পেয়েছে। কঠিন ব্যাধি শরীরে নিয়ে আনন্দ পাওয়া বিস্ময়কর ব্যাপার।
বিস্ময়কর এই ব্যাপারগুলো আমার জীবনে ঘটছে। কেন ঘটছে, কে ঘটাচ্ছেন, তা জানি না। জানতে ইচ্ছে করে।

হুমায়ূন আহমেদ
জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ফেসবুকের ছায়াবন্ধু, নাকি সামনের কায়াবন্ধু!- আনিসুল হক

Anisul Hoque
ফেসবুকের ছায়াবন্ধু, নাকি সামনের কায়াবন্ধু!- আনিসুল হক


ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমাকে একট গল্প শুনিয়েছেন। গল্প নয়, সত্য ঘটনা। চীনের এক দম্পতি কম্পিউটারে এক নতুন খেলা পেয়েছেন। একটা বাচ্চাকে লালন-পালন করতে হয়। তাঁরা সারাক্ষণ কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকেন। এই বাচ্চাকে খাওয়ান, পরান, গোসল করান। এই বাচ্চার প্রতি তাঁদের যত্নের সীমা নেই। তাঁরা একেবারেই মগ্ন হয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁদের নিজেদের একটা বাচ্চা ছিল। খেলায় মগ্ন এই দম্পতি নিজেদের বাচ্চার কথা ভুলে গেলেন। একদিন দেখা গেল, বাচ্চাটা মরে পড়ে রয়েছে।

২.
জ্যাক দেরিদা রুশোর স্বীকারোক্তিমূলক আত্মজীবনী কনফেশনস থেকে উদাহরণ দিয়ে বলেছিলেন, প্রতীক বা বিকল্প কখনো কখনো নিজেই প্রধান হয়ে ওঠে। রুশো কৈশোরে যে বাড়িতে থাকতেন, সেই গৃহকর্ত্রীকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। সেই ম্যাডাম যে বিছানায় শুতেন, রুশো সেই বিছানাকে চুমু দিতেন, আদর করতেন তাঁর চেয়ারকে, মেঝেকে, পর্দাকে। কারণ, ওসব ছিল তাঁর ম্যাডামের বিকল্প। সামনে ম্যাডাম নেই, কিন্তু এসব বস্তুর মাধ্যমে রুশো তাঁর ম্যাডামের অভাব পূরণ করছেন। কিন্তু একদিন ম্যাডাম তাঁর সামনে, খাচ্ছেন। রুশো বললেন, খাবারে একটা চুল। ম্যাডাম খাবারটা মুখ থেকে বের করতেই রুশো সেই খাবার নিজের মুখে পুরলেন।
এখানে তো ম্যাডাম সামনে আছে, তাহলে কেন রুশো ম্যাডামের মুখের খাবার মুখে পুরলেন।
ম্যাডাম, যাঁকে রুশো বলতেন ম্যামান, তিনি ছিলেন রুশোর মায়ের বিকল্প। তারপর মায়ের চেয়ে ম্যাডামই মুখ্য হয়ে উঠলেন। তারপর ম্যাডামের চেয়ে বিভিন্ন বিকল্পই মুখ্য হয়ে উঠল।
দেরিদা দেখিয়েছেন, এভাবে বিকল্পই প্রধান হয়ে ওঠে।
দেরিদার বক্তব্য হলো, লেখা মুখের কথার বিকল্প নয়, পরিপূরক নয়, লেখাই আসল। টেক্সটই আসল। আমরা কি সেই যুগে প্রবেশ করলাম, যেখানে বাস্তবের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে ভারচুয়াল বাস্তবতা, যেখানে রক্ত-মাংসের বন্ধুর চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে স্ক্রিনে দেখা (ও পড়া) ছায়াবন্ধুটি?
সুমনা শারমীন লিখেছিলেন, মা পাশের ঘরে অসুস্থ পড়ে আছেন দিন সাতেক ধরে, ছেলে একবারও তাঁকে দেখতে যায়নি, কিন্তু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে, প্রে ফর মাই মাদার, শি ইজ সিক। মাদার, গেট ওয়েল সুন।

৩.
প্রযুক্তি, যোগাযোগের বিকল্প মাধ্যমগুলো আমাদের কাছে জ্যান্ত মানুষের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে কি না?
আমার সামনে আমার বন্ধু বসে আছেন, মা বসে আছেন, বাবা বসে আছেন, ডাক্তার বসে আছেন, এই সময় মোবাইল ফোন বেজে উঠল। আমরা সেটা আগে ধরাটাকেই কর্তব্য বলে মনে করি।
আমার জলজ্যান্ত বন্ধু সামনে বসে আছে, কিন্তু তাকে রেখে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিই, আমি এখন বন্ধুর সঙ্গে কফি খাচ্ছি। 
পাঁচজন স্কুলবন্ধু, তাঁদের দেখা হলো আজ ২২ বছর পরে, তাঁরা আজ একটা জায়গায় একত্র হচ্ছেন, কী ভীষণ উত্তেজনা তাঁদের মধ্যে। দেখা হওয়ার পরে পাঁচজনই পাঁচটা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছেন, কেউ ফেসবুক করছেন, কেউ বা গেমস খেলছেন, কেউ বা খুদেবার্তা পাঠাচ্ছেন, কেউ বা জরুরি ই-মেইল সেরে নিচ্ছেন, কেউ বা চ্যাট করছেন দূরবর্তী কারও সঙ্গে।
সামনে সমুদ্র, একটু পরে অস্ত যাবে সূর্য, সেদিকে খেয়াল নেই। আমি স্ট্যাটাস দিচ্ছি, আহ্, লাইফ ইজ বিউটিফুল, আই অ্যাম ইন আ প্যারাডাইস।
প্রেমিক দেখা করতে গেছে প্রেমিকার সঙ্গে, কোনো নির্জন জায়গায়। দুজনের হাতে দুটো মোবাইল ফোন, দুজনেই নিজ নিজ ফোন নিয়ে ব্যস্ত, সারাক্ষণ বুড়ো আঙুল চলছে।
আমি মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালাতে চালাতে একজন পথিককে এসএমএস করতে দেখেছি।
আমি বিয়ের আসরে বসা বরকে এবং বউকে দেখেছি, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

৪.
একটা কৌতুক ছিল। একজন সম্ভাব্য পাত্র ঘটককে বলল, আমি এমন একজনকে বিয়ে করতে চাই, যে কিনা আমাকে আমার ইচ্ছামতো বিনোদন দেবে, আমি চাইলে সে কথা বলা বন্ধ করবে, চাইলেই গান গাইবে, বা নাচবে, বা কথা বলবে, আবার আমি যখন চাইব তখনই সে ঘুমিয়ে পড়বে, আমি চাইলেই সে অন হবে, আমি চাইলেই সে অফ হবে।
ঘটক বললেন, ভাই, আপনি একটা টেলিভিশনকে বিয়ে করুন।
এই কৌতুককে আধুনিকায়ন করে বলা যায়, ভাই, আপনি একটা ইন্টারনেটকে বিয়ে করুন।
কিন্তু তা বলা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ, আমি চাইলে ইন্টারনেট অফ হবে বটে, কিন্তু আমার চাইবার শক্তি যে থাকবে না। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে মনে হবে, যাই না, একটু ফেসবুকটা চেক করি, দেখি না স্ট্যাটাসে কয়টা লাইক পড়ল।

৫.
এই কৌতুক আগেও শুনেছেন। আবার শুনতে পারেন, এই সময়ের শ্রেষ্ঠ কৌতুক।
গৃহপরিচারিকা কয়েক দিন বিনা নোটিশে অনুপস্থিত থাকল। তারপর কাজে ফিরে এলে গৃহকর্ত্রী তাকে বললেন, তুমি কয়েক দিন কাজে আসোনি, ব্যাপার কী?
‘দেশে গেছিলাম, আপা।’
‘দেশে গেছ। বলে যাবা না?’
‘ক্যান? আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিছিলাম, তিন দিনের জন্য বাড়ি যাচ্ছি, আপনে দেখেন নাই?’
‘ওমা! তোমার আবার ফেসবুকও আছে নাকি?’
‘কেন? আপনি জানেন না? আপনার বর তো আমার স্ট্যাটাসে কমেন্ট দিছে: মিস ইউ।’

৬.
তলস্তয়ের থ্রি কোশ্চেনস গল্পে পড়েছিলাম—
‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় কী?’
‘এখন। এই মুহূর্ত।’
‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কী?’
‘এখন যা করছি।’
‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কে?’
‘যিনি এখন আমার সামনে বসে আছেন।’
প্রিয় পাঠক, আমাদের মনে হয় তলস্তয়ের এই গল্পটা আরেকবার গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। এই সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, এখন যা করছি, এই কাজটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ, আর এখন যিনি আমার সামনে আছেন তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। আপনার সামনে রক্ত-মাংসের যে মানুষটি আছেন, তাঁর কথাই নিশ্চয়ই তলস্তয় বলেছেন, দূরবর্তী শত শত ছায়াবন্ধুর কথা নিশ্চয়ই তিনি বোঝাতে চাননি।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হুমায়ূন আহমেদ এবং হুমায়ূন আহমেদ

humayun ahmed
হুমায়ূন আহমেদ এবং হুমায়ূন আহমেদ ইমদাদুল হক মিলন

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে যেদিন পরিচয় হলো সেদিন আমার মাথা ন্যাড়া। জীবনে দুবার ন্যাড়া হওয়ার কথা আমার মনে আছে। একবার একাত্তরের মাঝামাঝি, আরেকবার তিরাশির শুরুর দিকে। দুবারই মন ভালো ছিল না। একাত্তরে আমি এসএসসি ক্যান্ডিডেট। আমাদের বয়সী ছেলেরাও মুক্তিযুদ্ধে যাচ্ছে। এ কারণে বাবা আমাকে বাড়ি থেকে বেরোতে নিষেধ করে দিলেন। দুঃখে আমি ন্যাড়া হয়ে গেলাম। ন্যাড়া মাথা নিয়ে রাস্তায় বেরোতে লজ্জা করবে, ফলে বাড়ি থেকে বেরোনো হবে না। সত্যি তা-ই হয়েছিল। ন্যাড়া মাথার কারণে একাত্তরের সময় অনেক দিন আমি বাড়ি থেকেই বেরোইনি। তিরাশি সালে সেই স্মৃতি মনে করেই ন্যাড়া হয়েছিলাম। আমার তখন রুজি-রোজগার নেই। একাশির অক্টোবরে জার্মানি থেকে ফিরে 'রোববার' পত্রিকায় জয়েন করেছি। ইত্তেফাকের সামনে দিন-দুপুরে ট্রাকের তলায় এক পথচারীকে থেঁতলে যেতে দেখে রোববারে একটা রিপোর্ট লিখলাম, সেই রিপোর্টে বিশেষ একটি মন্তব্য করায় চাকরি চলে গেল। তারপর বন্ধুদের সঙ্গে 'দোয়েল' নামে একটা অ্যাডফার্ম করলাম। এক-দেড় বছরের মাথায় সেটাও বন্ধ হয়ে গেল। তত দিনে বিয়ে করে ফেলেছি। কিন্তু পকেটে দশটি টাকাও নেই।
Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হুমায়ূন ফরীদি



মিতা
হুমায়ূন আহমেদ


লেখাটি কিছুদিন আগের, হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন হুমায়ূন ফরীদিকে নিয়ে। আমারবই.কম শোকাহত এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে। কিং লিয়রের মহানুভবতা নিয়েই চলে গেলেন এ যুগের শক্তিমান অভিনয়শিল্পী হুমায়ুন ফরীদি। যিনি নিজেই বলতেন, ‘অভিনয় ছাড়া আর কিছুই আমি শিখিনি।’

দৈনিক বাংলার সহ-সম্পাদক সালেহ চৌধুরীর মাথায় (কাজকর্ম তেমন ছিল না বলেই মনে হয়) অদ্ভুত অদ্ভুত আইডিয়া ভর করত। একদিন এ রকম আইডিয়া ভর করল। তিনি আমার শহীদুল্লাহ হলের বাসায় উপস্থিত হয়ে বললেন, বাংলাদেশে পাঁচজন হুমায়ূন আছে। দৈনিক বাংলায় এদের ছবি একসঙ্গে ছাপা হবে। আমি একটা ফিচার লিখব, নাম 'পঞ্চ হুমায়ূন'।
আমি বললাম, পাঁচজন কারা?
সালেহ চৌধুরী বললেন, রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, দৈনিক বাংলার সম্পাদক আহমেদ হুমায়ুন, অধ্যাপক এবং কবি হুমায়ুন আজাদ, অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি এবং তুমি।
আমি বললাম, উত্তম প্রস্তাব। তবে এখনও না। আরও কিছুদিন যাক। সময় যেতে লাগল, হুমায়ূনরা ঝরে পড়তে শুরু করলেন। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী গেলেন, আহমেদ হুমায়ুন গেলেন, হুমায়ুন আজাদ গেলেন। হারাধনের পাঁচটি ছেলের মধ্যে রইল বাকি দুই। এই দুজনের মধ্যে কে আগে ঝরবেন কে জানে। সময় শেষ হওয়ার আগেই হুমায়ুন ফরীদি বিষয়ে কিছু গল্প বলে ফেলতে চাচ্ছি।
শুরু করি প্রথম পরিচয়ের গল্প দিয়ে। ফরীদির তখন তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। বিটিভির অভিনয়রাজ্য দখল করে আছেন। একদিনের কথা, বেইলি রোডে কী কারণে যেন গিয়েছি, হঠাৎ দেখি ফুটপাতে বসে কে যেন আয়েশ করে চা খাচ্ছে। তাকে ঘিরে রাজ্যের ভিড়। স্ট্রিট ম্যাজিশিয়ানরা ম্যাজিক দেখানোর সময় তাদের ঘিরে এ রকম ভিড় হয়। কৌতূহলী হয়ে আমি এগিয়ে গেলাম। ভিড় ঠেলে উঁকি দিলাম, দেখি হুমায়ুন ফরীদি। চা খাচ্ছেন, সিগারেট টানছেন। রাজ্যের মানুষ চোখ বড় বড় করে এই দৃশ্য দেখছে, যেন তাদের জীবন ধন্য। হঠাৎ ফরিদীর আমার ওপর চোখ পড়ল। তিনি লজ্জিত গলায় বললেন, আপনি এখানে কী করেন। আমি বললাম, আপনার চা খাওয়া দেখি।
ফরীদি উঠে এসে আমার হাত ধরে বললেন, আশ্চর্য ব্যাপার। মিতা! আসুন তো আমার সঙ্গে। [নামের মিলের কারণে আমরা একজনকে অন্যজন মিতা সম্বোধন করি]। 
তিনি একটি মনোহারী দোকানে আমাকে নিয়ে গেলেন। সেলসম্যানকে বললেন, আপনাদের দোকানের সবচেয়ে ভালো কলমটি আমাকে দিন। আমি মিতাকে গিফট করব।
ফরীদিকে আমি একটি বই উৎসর্গ করেছি। উৎসর্গ পাতায় এই ঘটনাটি উল্লেখ করা আছে।
এখন দ্বিতীয় গল্প। শুরুতেই স্থান-কাল-পাত্র উল্লেখ করি। স্থান সুইডেন, কাল ২০০৮, পাত্র মানিক। এই ভদ্রলোকের সুইডেনে একটি রেস্টুরেন্ট আছে। তিনি একদিন নিমন্ত্রণ করলেন তাঁর বাড়িতে। দেশের বাইরে গেলে আমি কোথাও কোনো নিমন্ত্রণ গ্রহণ করি না। কারও বাড়িতে তো কখনও না।
মানিক সাহেবের বাড়িতে গেলাম, কারণ তাঁর চেহারা অবিকল হুমায়ুন ফরীদির মতো। আপন ভাইদের চেহারায়ও এত মিল থাকে না। ভদ্রলোককে এই কথা জানাতেই তিনি বিনয়ী ভঙ্গিতে বললেন, অনেকেই এমন কথা বলে।
আমি বললাম, ফরীদির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরিচয় কি আছে?
মনিক বললেন, সে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ১৯৭১ সালে আমি এবং ফরীদি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছি।
আমি চমকালাম। ফরীদি যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তা আমার জানা ছিল না।
মানিকের বাড়িতে আমার জন্য আরও বড় চমক অপেক্ষা করছিল। সেখানে দেখি তাঁর বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর ঘরটির নাম ফরীদি। এ ঘরটি তিনি সারা বছর তাঁর বন্ধু হুমায়ুন ফরীদির জন্য সাজিয়ে রাখেন, যদি ফরীদি বেড়াতে আসেন। অন্য কারোর সেই ঘরে প্রবেশাধিকার নেই।
তৃতীয় গল্প। সন্ধ্যাবেলায় ফরীদি টেলিফোন করেছেন। আমি ফোন ধরতেই বললেন, মিতা, আপনি কি আচার খান, আমের আচার, তেঁতুলের আচার এসব?
আমি বললাম, খাই।
ফরীদি বললেন, সন্ধ্যায় আপনার সঙ্গে গল্প করতে আসব। ভাবছি তখন আচার নিয়ে আসব।
তিনি গল্প করতে এলেন, সঙ্গে কোনো আচারের বোতল দেখলাম না। আমি ভাবলাম বলি, মিতা! আমার আচারের বোতল কোথায়? শেষ পর্যন্ত বলা হলো না। আমরা দু'জন দু'জনকে মিতা ডাকি, কিন্তু আমাদের মধ্যে তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই। গল্প শেষ করে ফরীদি বিদায় নিলেন।
রাত ১২টার মতো বাজে। ঘুমানোর আয়োজন করছি, তখন দরজায় কলিং বেল। দরজা খুলে দেখি হুমায়ুন ফরীদি ড্রাইভার। তার সঙ্গে ২৩টা আচারের বোতল। তার দায়িত্ব ছিল দোকানে দোকানে ঘুরে যত রকমের আচারের বোতল ছিল সংগ্রহ করে নিয়ে আসা। সংগ্রহ করতে দেরি হয়েছে বলেই সে এত রাতে এসেছে।
চতুর্থ এবং শেষ গল্প। এই গল্পটি শুনেছি আমার প্রিয় প্রতিভাময়ী এক জনপ্রিয় শিল্পীর কাছে। গল্পটি আমার এতই পছন্দ হয়েছিল যে, এই লেখায় উদ্ধৃত করার লোভ সামলাতে পারছি না। গল্পের পটভূমির পরিবর্তন হয়েছে। নতুন পটভূমিতে গল্পটি বলা শোভন হচ্ছে কি-না বুঝতে পারছি না।
স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হয়েছে। ফরীদি স্ত্রীর রাগ ভাঙানোর অনেক চেষ্টা করেছেন। রাগ ভাঙাতে পারেননি। সুবর্ণা কঠিন মুখ করে ঘুমাতে গেছেন। ভোরবেলায় ঘুম ভাঙতেই সুবর্ণা হতভম্ব। ঘরের দেয়াল এবং ছাদে ফরীদি লিখে ভর্তি করে ফেলেছে। লেখার বিষয়বস্তু, সুবর্ণা! আমি তোমাকে ভালোবাসি।
সুবর্ণা আমার সঙ্গে হাসতে হাসতেই গল্পটা শুরু করেছিলেন, একসময় দেখি তার চোখে ভালোবাসা ও মমতার অশ্রু চিকচিক করছে।
পাদটীকা
আচ্ছা, এই মানুষটি কি অভিনয়কলায় একটি একুশে পদক পেতে পারেন না? এই সম্মান কি তাঁর প্রাপ্য নয়? [যে পাঁচ হুমায়ূনের নাম করা হলো তাদের মধ্যে ফরীদি ছাড়া বাকি সবাই একুশে পদক পাওয়া]। 
মিতার ৬০তম জন্মদিনে তাঁর প্রতি আমার শুভেচ্ছা। হে পরম করুণাময়, এই নিঃসঙ্গ গুণী মানুষটিকে তুমি তোমার করুণাধারায় সিক্ত করে রাখো। আমিন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com