সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label তসলিমা নাসরিন. Show all posts
Showing posts with label তসলিমা নাসরিন. Show all posts

বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি? - তসলিমা নাসরিন

amarboi.com
বিয়ের প্রয়োজনীয়তা আদৌ আছে কি? - তসলিমা নাসরিন

পাঠক তসলিমা নাসরিন এর এই লেখাটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত আশা করছি।

মানুষ বিয়ে করে কেন? নির্বিঘ্নে যৌন সম্পর্ক করা, সন্তান জন্ম দেওয়া-–এর জন্য বিয়ের তো দরকার নেই! মানুষ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনও প্রাণীর মধ্যে বিয়ের কোনও রীতি নেই, অথচ দিব্যি তারা একত্রবাস করছে, সন্তান জন্ম দিচ্ছে, সন্তানকে খেটে খুটে বড় করছে। পরস্পরেরর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার জন্যও বিয়েটা জরুরি নয়। অনেক প্রাণী আছে যারা যৌবনের শুরুতে যে সঙ্গী বেছে নেয়, সেই সঙ্গী নিয়েই দিব্যি সুখে শান্তিতে বাকি জীবন কাটিয়ে দেয়। অন্য কারও জন্য লোভ করে না, কাউকে নিয়ে আবার নতুন সংসার পাতার কোনও স্বপ্ন আর দেখে না। অবিশ্বাস্যরকম বিশ্বস্ত, একগামী। যত দূরেই যাক, যত সমুদ্রই পেরোক, যত বয়সই বাড়ুক, ঘরে ফিরে পুরোনো সেই সঙ্গীকেই চুমু খায়, তার বুকেই মাথাটা রাখে। পরকীয়া কাকে বলে, বহুগামিতা কাকে বলে, বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে জানেই না। অ্যালবাট্রোস, রাজহাঁস, কালো শকুন, ন্যাড়া ঈগল, টার্টল পায়রা, ডিক-ডিক হরিণ, বনেটমাথা হাঙ্গর, গিবন, ফ্রেঞ্চ এঞ্জেলফিস, ছাইরঙা নেকড়ে, প্রেইরি ভোল--এদের কথা বলছি।

মানুষ তো বিয়ে করে একসঙ্গে সুখে শান্তিতে সারা জীবন কাটানোর জন্য কিন্তু ক’জন পারে, শুনি? বেশির ভাগের বিয়েই হয় ভেঙে যায়, অথবা টিকে থাকলেও ভালোবাসাহীন টিকে থাকে। টিকিয়ে রাখতে হয় সন্তানের অসুবিধে হবে বা অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যাবে, বা লোকে কী বলবে ভয়ে। এভাবে টিকে থাকাকে ঠিক টিকে থাকা বলে না। ঘরে স্ত্রী রেখে বা স্বামী রেখে দিব্যি অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ছে মানুষ। সেই সম্পর্কও ভেঙে যায়, আবার নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মানুষ ন্যাড়া ঈগল নয়, বা কালো শকুন নয়। একগামিতা মানুষের চরিত্রে নেই। মানুষ বহুগামী। মানুষ বহুগামী, এও কিন্তু হলফ করে বলা যায় না। মানুষ আসলে জটিল এবং বিচিত্র। একগামী, বহুগামী, অসমকামী, সমকামী, উভকামী-- মানুষ অনেক কিছুই। নতুন কিছুতে অভ্যস্ত হতে, পুরোনো স্বভাব পাল্টাতেও মানুষের জুড়ি নেই।



প্রায় সব ধর্মই বিয়েকে পুরুষ আর নারীর ‘পবিত্র মিলন’ বলে ঘোষণা করেছে। ঈশ্বরই নাকি আগে থেকে সঙ্গী নির্বাচন করে রাখেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর যা কিছু ঘটুক, বিচ্ছেদ যেন না ঘটে, ঈশ্বর সতর্ক করে দিয়েছেন। তাতে কী! প্রচণ্ড ঈশ্বর ভক্তরাও ঈশ্বরের এই উপদেশ আজকাল আর মানেন না। ঈশ্বরের নির্বাচিত সঙ্গীকে দিব্যি তালাক দিয়ে নিজে সঙ্গী নির্বাচন করেন। ‘ম্যাচমেকার’ হিসেবে ঈশ্বর পুরো মার খেয়ে গেছেন, এ খবর কে না জানে! প্রায় সব ধর্মই বিয়েতে নাক গলিয়েছে। বয়স, লিঙ্গ, জাত, বিশ্বাস কী হওয়া চাই, স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য এবং দায়িত্বই বা কী হওয়া উচিত--এ নিয়ে বিস্তর উপদেশ দিয়েছে, কঠোর কঠোর নিয়মও তৈরি করেছে। বিয়ে যদিও ব্যক্তিগত ব্যাপার, কিন্তু ধরে বেঁধে একে সামাজিক করে ফেলা হয়েছে। পুরুষদের না করা হলেও মেয়েদের করা হয়েছে সামাজিক সম্পত্তি। বিয়ের আগে মেয়েটা কারও সঙ্গে প্রেম করেছে কি না, ঠিকঠাক কুমারী ছিল কি না, বিয়ের পর স্বামী ছাড়া আর কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছে কি না, কার সঙ্গে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছে, কখন ফিরছে, বাইরের কোনও পুরুষলোক বাড়িতে ঢুকেছে কি না, এসব শুধু বাড়ির নয়, বাড়ির বাইরের লোকও লক্ষ রাখছে। সমাজের দশটা লোক দেখছে বলেই পান থেকে চুন খসলে মেয়েদের নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে পারে না বাবারা, ভাইয়েরা, কাকারা। মেয়েদের খুন করে পরিবারেরর ‘সম্মান’ রক্ষা করে।



সভ্য শিক্ষিত বিশ্ব থেকে বিয়ে প্রায় উঠে যাচ্ছে। কিছু লোক অবশ্য করছে বিয়ে! এভারেস্টটা আছে বলে যেমন অনেকে এভারেস্টে চড়ে, বিয়েটা আছে বলেই অনেকে বিয়েটা করে। বিয়ের চল চলে গেলে আর করবে না। যে প্রথা চলছে, অধিকাংশ লোক সেই প্রথাকেই চালিয়ে নিয়ে যায়। আর, যার প্রচলন নেই, তাকে চালু করতে খুব অল্প ক’জনই উদ্যোগ নেয়। অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা বিয়ে না করেও দিব্যি সংসার করছে বছরের পর বছর। বিয়ে না করেই সন্তান জন্ম দিচ্ছে। বিয়ের পিতৃতান্ত্রিক চরিত্র নিয়ে বিস্তর হাসাঠাট্টা করছে। কিন্তু ধর্ম যেমন মিথ্যে প্রমাণিত হওয়ার পরও টিকে আছে, বিয়েটাও ওই ধর্মের মতোই। যুক্তিহীন, কিন্তু টিকে আছে। কুসংস্কার যেমন হাজার বছর ধরে বেঁচে থাকে! তবে ওরা ধীরে ধীরে বিলুপ্তও হয়ে যায় বটে। বিয়েরও বিলুপ্তি ঘটবে। উত্তর- ইওরোপের দেশগুলোয় বিয়ে করার পেছনে গোপন একটি কারণও অবশ্য আছে, বিয়ে করলে ট্যাক্স কম দিতে হয়, সন্তানাদি পোষার খরচ সব রাষ্ট্রই দেয়। মানুষ বিয়ে করছে না, বাচ্চাকাচ্চাতেও খুব একটা কারওর উৎসাহ নেই, বিয়ের প্রথাটি ভেঙে গেলে সন্তান উৎপাদন যে হারে কমছে, সেটি আরও কমে যাবে, উত্তর-ইওরোপীয়দের অস্বিস্ত্বই ভবিষ্যতে থাকবে না, এই ভয়ে বিয়েতে উৎসাহ দিতে জনগণের নাকের ডগায় ট্যাক্স কমানোর মুলো ঝুলিয়েছে সরকার। সুযোগ সুবিধের আশায় বিয়ে করছে বটে কিছু লোক, তবে বেশির ভাগ লোকই হয় একা থাকে, নয়তো বিনে-বিয়ে’য় একত্রবাস করে।

ষাট দশকের শেষ দিকে সমাজের বাধা নিষেধ উপেক্ষা করে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ বেরিয়ে এসেছিল পুরোনো রাজনীতি আর পুরোনো সমাজব্যবস্থা আমূল পাল্টে ফেলতে। ভালো মেয়ে হতে হলে কৌমার্য, সতীত্ব, মাতৃত্ব ইত্যাদি বজায় রাখতে হয় -- পুরোনো এই ধারণাটির গায়েও কুড়োল বসিয়েছিল। রীতিমত বিয়ে করাই বন্ধ করে দিয়েছিল সেদিনকার হিপিরা। অনেকে একবাড়িতে বাস করতো, সবার সঙ্গে সবারই সেক্স হত, বাচ্চাকাচ্চা হলে সবাই মিলে দেখাশোনা করতো। সেই ‘কমিউন’ জীবন বেশি বছর টেকেনি। হিপিরা জয়ী হলে আজ বিয়েটা ইতিহাসের পাতায় স্থান পেতো, সমাজে নয়।

অনেক কবি সাহিত্যিক দার্শনিক বিয়ে সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, বিয়েটা যে অনর্থক একটা জিনিস, তা বেশ কায়দা করে বুঝিয়েও দিয়েছেন। ‘নিজের বিয়েয় আর অন্তেষ্টিক্রিয়ায় পার্থক্য একটাই, বিয়ের ফুলগুলোর গন্ধ পেতে পারো, আর অন্তেষ্টির ফুলগুলোর পারো না’। অস্কার ওয়াল্ড বলতেন, ‘সবসময় প্রেম ভালোবাসায় ডুবে থাকা উচিত। সে কারণেই কখনও বিয়ে করা উচিত নয়’। ক্যাথারিন হেপবার্ন সে আমলেও নারী পুরুষের এক বাড়িতে বাস করার পক্ষে ছিলেন না। বলেছিলেন, ‘একটা নারী আর একটা পুরুষ পরষ্পরের সব কিছু পছন্দ করছে? যদি এরকম ঘটনা ঘটেই থাকে, তবে সবচেয়ে ভালো হয় তারা যদি একই পাড়ায় থাকে, মাঝে মাঝেই দেখা হবে!’ এও বলেছিলেন, ‘একটা লোক অপছন্দ করবে বলে যদি অনেক পুরুষের প্রেমকে তুচ্ছ করতে চাও ,তা হলে যাও, গিয়ে বিয়ে করো’। সুন্দর কিছু মন্তব্য করেছেন ক’জন ব্যাক্তিত্ব। ‘বিয়েটা চমৎকার আবিস্কার, ঠিক যেমন সাইকেল মেরামত করার যন্ত্রটাও চমৎকার আবিস্কার’। ‘বিয়েটা একটা খাঁচা, খাঁচার বাইরের লোকেরা খাঁচায় ঢোকার জন্য ব্যাকুল, আর খাঁচার ভেতরের লোকেরা খাঁচা থেকে বেরোবার জন্য ব্যাকুল’। ‘বিয়েটা শুধু তাদের জন্য ভালো, যারা একা ঘুমোতে ভয় পায়’। সব মন্তব্যই বিয়ের বিপক্ষে নয়। পক্ষেও কিছু মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। যেমন, ‘যদি এমন কোনও ধনকুবের পুরুষের দেখা পাই, যে প্রতিজ্ঞা করবে তার সহায় সম্পত্তির অর্ধেকটা আমায় লিখে দেবে, লিখে দিয়ে এক বছরের মধ্যে মরে যাবে, তবে তাকে আমি নিশ্চয়ই বিয়ে করবো’। অন্য আরও ক’জন বলেছেন, ‘বিয়েটা চমৎকার ইনস্টিটিউশন। কিন্তু কে চায় ইনস্টিটিউশনে বাস করতে?’ ‘প্রেমিকের স্নায়ুতন্ত্র পুরোটা উপড়ে তুলে নিলে যেটা পড়ে থাকে, সেটা স্বামী’। ‘বিয়েটা ঘুষ, যেন বাড়ির চাকরানী নিজেকে বাড়ির মালিক বলে মনে করতে পারে’। ফরাসি লেখক বালজাক বলেছিলেন, ‘বেশির ভাগ স্বামীকে দেখলেই আমার সেই ওরাংওটাংটির কথা মনে পড়ে, যে খুব বেহালা বাজানোর চেষ্টা করছিল’।






পাশ্চাত্যে যখন হিপি বিপ্লব, নারী স্বাধীনতার আন্দোলন, প্রাচ্যে তখনও মেয়েদের হাতেপায়ে অদৃশ্য শেকল, যৌনাঙ্গে অদৃশ্য সতীত্ববন্ধনী। বিয়েটা যে কারণে শুরু হয়েছিল, প্রাচ্যের বেশির ভাগ পুরুষ এখনও সেই কারণেই বিয়ে করে। একটা জরায়ু দরকার, যে জরায়ু একটা নির্দিষ্ট পুরুষের ঔরসজাত সন্তান ধারণ করবে। পিতৃত্বের নিশ্চয়তাই বিয়ের মূল উদ্দেশ্য। পুরুষের স্বার্থে পুরুষকে বিয়ে করে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা হাজার বছর ধরে টিকিয়ে রাখছে মেয়েরা। মেয়েরা বেঁকে বসলে পুরুষতন্ত্রের বিরাট বেলুনটি সশব্দে চুপসে যেত কবেই!

বাঙালি সমাজে দেখেছি, বিয়ের পর মেয়েদের ডানাটা গোড়া থেকে কেটে দেওয়া হয়। নিজের ঘরদোর-আত্মীয়স্বজন-বন্ধুবান্ধব-পরিবেশপ্রতিবেশ-শহরবন্দর সব ছাড়তে হয় মেয়েদের। নিজের নামের শেষে স্বামীর পদবী জুড়তে হয়। শ্বশুর বাড়িতে বাস করতে হয়। মেয়ে প্রাপ্ত-বয়স্ক হলেও, শিক্ষিত হলেও, সে চাকরি করবে কি করবে না সেই সিদ্ধান্ত স্বামী এবং স্বামীর আত্মীয় স্বজন নেয়। একসময় তো প্রচলিত ছিলই, এখনও অনেকে বলে, যে, ‘বিয়ের পর চাকরি করা চলবে না’। সতী-সাবিত্রী থাকার জন্য ঘরে থাকাটা ভালো, ঘরের কাজকর্ম করবে, বাড়ির সবার সেবা করবে, সন্তান বড় করবে! গ্লোরিয়া স্টাইনেম একটা চমৎকার কথা বলেছিলেন, ‘সে-ই স্বাধীন মেয়ে, যে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করে, আর বিয়ের পরে, চাকরি’। অধিকাংশ বাঙালি মেয়ে স্বাধীনতার সঠিক অর্থই জানে না।

কলকাতায় স্বামী-স্ত্রীর প্রেমহীন সম্পর্ক দেখে আঁতকে উঠতাম মাঝে মাঝে। প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম, ‘বিয়েটা ভেঙে যেতে চাইলে ভেঙে যেতে দাও, জোর করে দাঁড় করিয়ে রাখছো কেন?’ ভালো কোনও উত্তর কখনও পেতাম না। অসুখী জীবনে বহুদিন থাকতে থাকতে মেয়েরা অভ্যস্তও হয়ে যায়। যে সন্তানের জন্য বিয়ে না ভাঙা, সেই সন্তান সংসারের অশান্তি দেখতে দেখতে বড় হয়। এমন সংসারে সন্তানের গড়ে ওঠায় লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। আসলে, মেয়েদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আর নিরাপত্তা সমাজে না থাকলে একা বাস করা বা একা সন্তান মানুষ করা দুরূহ। কিন্তু তাই বলে কি অত্যাচারী স্বামীর সঙ্গে আপোস করতে হবে! বধু নির্যাতন আর বধু হত্যা যে হারে বাড়ছে, তা দেখে গা শিউরে ওঠে। পুরুষতন্ত্রের বীভৎস নারীবিদ্বেষ আর নারীঘৃণা কী উৎকটভাবেই না প্রকাশ পায়!

যে সমাজে শিক্ষিত, স্বনির্ভর, সচেতন মেয়ের সংখ্যা বেশি, সেই সমাজে বিচ্ছেদের সংখ্যাটা বেশি, বিয়ের সংখ্যাটা কম।


ভারতীয় উপমহাদেশে অবশ্য উপার্জনহীন পরনির্ভর মেয়েদের মতো পুরুষতন্ত্রের মন্ত্র মেনে চলা স্বনির্ভর শিক্ষিত মেয়েরাও অত্যাচারী বা বহুগামী স্বামীর সঙ্গে সংসার করছে মুখ বুজে। এধরণের সমাজে, বিয়েটা নিতান্তই পুরুষের ক্ষেত্রে অর্জন, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিসর্জন। বিয়ে কাউকে একাকীত্ব থেকে মুক্তি দেয়, কারও পায়ে পরায় নির্মম শেকল। এখনও সমাজে দেদার বর্বরতা চলে, চলে জাত বর্ণের হিসেব, পণের হিসেব, স্ত্রীকে নিতান্তই যৌনসামগ্রী, ক্রীতদাসী আর সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা, সন্তান বিশেষ করে পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার চাপ, কন্যাভ্রুণকে জন্মাতে না দেওয়া, জন্মালেও পুঁতে ফেলা, পুত্র না জন্মালে তালাক, পুনর্বিবাহ।
নিয়ম মেনে চলার লোক যেমন প্রচুর আছে, নিয়ম ভাঙার লোকও কিন্তু আছে। মানুষ যত সভ্য হচ্ছে, বিয়ের পুরোনো নিয়মগুলো তত ভেঙে পড়ছে। সমাজ বদলায় হাতে গোনা কিছু লোক। সমাজের সব লোক দল বেঁধে সমাজ বদলায় না। বেশির ভাগ লোক বরং দল বেঁধে প্রাচীন নীতি রীতি শক্ত করে আকঁড়ে রাখে। বিয়ের পর মেয়েদের চাকরি বাকরি ব্যাবসা বাণিজ্য চলবে না, স্বামীর আদেশ নিষেধ অমান্য করা চলবে না, বিধবা বিবাহ চলবে না-- এই নিয়মগুলো প্রাচ্যের কিছু সাহসী মেয়ে এখন আর মানে না।


বিয়ের বিবর্তন ঘটেছে। বিয়ের উদ্দেশ্য পাল্টেছে, ধরণ পাল্টেছে। পাশ্চাত্যে, যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা আর অধিকারের সংগ্রাম দীর্ঘকাল চলেছে, এবং শেষ পর্যন্ত মেয়েরা অনেকটাই সমানাধিকার ভোগ করছে, সেখানে বিয়েটা এখন আর সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের নিশ্চয়তার জন্য নয়, মেয়েদের দিয়ে সংসার আর সন্তান দেখাশোনার কাজ কৌশলে করিয়ে নেওয়া নয়। সন্তান না জন্মালেও ক্ষতি নেই। সম্পর্ক আর সংসার সুখময় করার জন্য যে জিনিসের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা বিয়ে নয়, তা হলো, পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ। এ দুটো থাকলেই মানুষ পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ত থাকে। বিয়ে যদি বিশ্বস্ত রাখতে পারতো, তাহলে এত পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠতো না।

বিয়ে না করে যারা সংসার করছে তাদের মধ্যেও পরস্পরের প্রতি বিশ্বস্ব থাকার একই অলিখিত শর্ত থাকে।

সব দম্পতিই যে একগামিতা বা বিশ্বস্ততা চায়, তা নয়। কিছু স্বামী-স্ত্রী পরষ্পরকে ভালোবেসেও একঘেয়েমি দূর করতে ভিন্ন নারী ও পুরুষকে নিজেদের যৌনসঙ্গমে সঙ্গী হতে আমণ্ত্রণ জানায়। কোনও লুকোচুরি নেই, নিজেদের শোবার ঘরে, নিজেদের বিছানায়, দুজনের সঙ্গে যোগ হয় এক দুই তিন বা চার বা তারও চেয়ে বেশি। এই দলবদ্ধ যৌনতা দাম্পত্যজীবনে বৈচিত্র আনে, সম্পর্ককে তাজা রাখে। কিছু দার্শনিক গুচ্ছ-বিয়েকে বেশ জোরেসোরে সমর্থন করেছেন। বিয়ের বিচ্ছেদ না ঘটিয়ে সন্তানের সুবিধের কথা ভেবে গুচ্ছ-বিয়েই নাকি মেনে নেওয়াই নাকি বুদ্ধিমানের কাজ। গুচ্ছ-বিয়েটা অনেকগুলো নারী পুরুষেরা সমাহার, যারা সকলেই সকলের স্ত্রী বা স্বামী। গুচ্ছপ্রেম বা ‘পলিয়ামোরি’ বলেও একধরণের সম্পর্ক আছে। একাধিক নারী পুরুষ, প্রত্যেকে পরস্পরেরর প্রেমিক বা প্রেমিকা। বহুবিবাহ তো দীর্ঘকাল প্রচলিত ছিলই, এক স্বামীর বহু স্ত্রী। আবার আরেক ধরনেরও বহুবিবাহও কিছু কিছু সমাজে চলে, এক স্ত্রীর বহু স্বামী। দুনিয়াতে সবকিছুরই চর্চা হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে এক-স্বামী-এক-স্ত্রীর বিয়েই এখন পর্যন্ত রাজত্ব করছে। ছড়ি ঘোরানোটা এই সম্পর্কে বড় সুবিধে বটে।


বিয়েটা মূলত যৌন সঙ্গমের লাইসেন্স। এই লাইসেন্সটাই ঢাক ঢোল পিটিয়ে নেওয়া হয়। নিতান্তই প্রাচীন, পিতৃতান্ত্রিক, অযৌক্তিক একটি প্রথা। এই প্রথাটির জীবিত থাকার কোনও কারণ নেই। অনেক প্রথাই মরে গেছে বা যাচ্ছে, যেমন সতীদাহ, যেমন ডাইনি-হত্যা, যেমন অগুনতি বিয়ে, আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে। অর্থহীন অনেক প্রথাই ভয় দেখিয়ে, বোধবুদ্ধির লোপ পাইয়ে দিয়ে চালু রাখা হচ্ছে বটে, তবে বড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথার ব্যবহার না হতে থাকলে, প্রথা ধীরে ধীরে মরে যেতে বাধ্য। যেহেতু শতাব্দী ধরে প্রমাণ হচ্ছে বিয়ে কোনও নির্ণায়ক বিষয় নয় সম্পর্ক টেকানোর, তাই এটিরও ভবিষ্যত খুব উজ্জ্বল নয়। বিবর্তন আমাদের পূর্ব-পুরুষের লেজ খসিয়েছে প্রয়োজন নেই বলে। বিবর্তন আমাদের সমাজ থেকে বিয়ে নামক একটি অপ্রয়োজনীয় সংস্কার দূর করবে না, এ কোনও কথা? এককালের দার্শনিক নিৎসে, কান্ট, হেগেল প্রবল নারীবিরোধী ছিলেন। দর্শনেরও বিবর্তন ঘটেছে, নারীর প্রতি অমন তীব্র ঘৃণা নিয়ে আজকাল দার্শনিক বনার কোনও উপায় নেই।

নারীর প্রতি ঘৃণার কারণে জন্ম নিয়েছে পুরুষতন্ত্র। পুরুষতন্ত্র জন্ম দিয়েছে অনেক নারীবিরোধী প্রথা, এর মধ্যে বিয়ে একটি। পুরুষতন্ত্র যত পরাজিত হবে, যত পর্যুদস্ত হবে, নারী যত তার স্বাধীনতা ফিরে পাবে, যত সে আত্মবিশ্বাসী হবে, যত সে নারীবিরোধী ধর্ম আর সংস্কারকে সমাজ থেকে ঠেলে সরাতে পারবে, বর্বরতাকে যত দূর করতে পারবে সমাজ, যত সভ্য হবে সমাজ, যত সভ্য হবে পুরুষ, পুরুষতান্ত্রিক প্রথার গায়েও তত মরচে ধরবে। আমরা এর মধ্যেই দেখছি সভ্য সমাজে বিয়ে কমে যাচ্ছে। অসভ্য-অশিক্ষিত-সমাজে বিয়ে প্রথা চলছে। কিন্তু একটি সমাজ তো চিরকাল অসভ্য আর অশিক্ষিত থেকে যায় না! সমাজও বিবর্তিত হয়। সমাজ সভ্য হয়েছে কখন বুঝবো? যখন দেখবো নারী আর ধর্ষিতা হচ্ছে না, নির্যাতিতা হচ্ছে না, পুরুষের দাসী বা ক্রীতদাসী বা যৌনদাসী কোনওটাই নয় নারী, তুমুল প্রেমে পড়ে একত্রবাস করছে কিন্তু বিয়ে নৈব নৈব চ, অথবা বিয়ে নামক জিনিসটিই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তখন।

বিয়ের বিপক্ষে কথা বলেছেন অনেক নারীবাদী লেখক। আন্দ্রিয়া ডোরকিন তো মনেই করতেন, বিয়েটা স্রেফ ধর্ষণ করার জন্য। আর একজন বেশ চমৎকার বলেছিলেন, বিয়েটা নিতান্তই ‘ইনটিমেট কলোনাইজেশন’। অনেকেই মনে করেন, বিয়ের বাধাটা দূর না হলে মেয়েদের সত্যিকার স্বাধীনতা অনেকটা অসম্ভব। প্রায় সব নারীবাদীই বিশ্বাস করতেন, এখনও অনেকে করেন, যে, পুরুষতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য বিয়েটা বেশ অসাধারণ একটা প্রথা। নারীবাদীদের কেউ কেউ প্রেম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, প্রেমটা নাকি একরকম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, মেয়েরা সেই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বিয়ে করতে অর্থাৎ শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। নারীবাদীদের কাছে বিয়েটা এত আপত্তিকর হতো না, স্ত্রীর ভূমিকা যদি এমন দাসী-বাঁদির না হতো।

গ্লোরিয়া স্টাইনেমকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘এই যে বিয়ের বিরুদ্ধে এত গীত গেয়েছো, শেষে নিজেই যে বুড়ো বয়সে একটা বিয়ে করে বসলে, কারণটা কি?’ গ্লোরিয়া যে বন্ধুটিকে বিয়ে করেছিলেন, ওঁর নাকি খুব বড় অসুখ করেছিল, বিয়ে করলে গ্লোরিয়ার স্বামী হিসেবে স্বাস্থ্য বীমা পেতে সুবিধে হবে ওঁর, সে কারণেই বিয়ে। গ্লোরিয়ার জায়গায় আমি হলে বন্ধুকে সাহায্য করার বিকল্প ব্যবস্থা নিতাম, কিন্তু বিয়ে নামক পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে কিছুতেই আপোস করতাম না। বিয়ে যে জীবনে আমি করিনি তা নয়, করেছি, তখন করেছি যখন জানতাম না যে বিয়েটা আসলে নারীর ওপর পুরুষের প্রভুত্ব কায়েম করার একটা সামাজিক চুক্তিপত্র ছাড়া কিছু নয়। কেউ কেউ ঘা খাওয়ার আগে শেখে, কেউ কেউ আবার ঘা খেয়ে শেখে। আমার না হয় একটু ঘা খেয়েই শেখা হল। কিন্তু শেখা তো হল। কত কাউকে দিনরাত দেখছি, কোনওকিছুই যাদের কোনওকিছু শেখাতে পারে না।

যখন সভ্য অসমকামীরা বিয়ে থেকে বেরিয়ে আসছে, তখন সভ্য সমকামীরা বিয়ের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে। সভ্য দেশগুলো ধীরে ধীরে সমকামীদের বিয়ে করার অধিকার দিচ্ছে। সভ্য মানুষেরা, এমনকী যারা বিয়েতে বিশ্বাসী নয়, তারাও সমকামীদের বিয়ের অধিকারের পক্ষে, যেহেতু সমকামীদের বিয়েটা সমাজের বেশির ভাগ লোক মেনে নেয় না। সমকামীদের বিয়ে সমর্থন করা মানে, ধর্মের শাসনকে আর রক্ষণশীল সমাজের চোখ রাঙানোকে মধ্যম আঙুল দেখানো। এ কথা ঠিক, সমকামীদের বিয়েতে সম-অধিকারের সম্ভাবনা অসমকামীদের চেয়ে বেশি কারণ ওদের মধ্যে লিঙ্গ-বৈষম্যের বালাই নেই। তবে এটা ঠিক, একসময় যখন সমকামীদের বিয়ে অসমকামীদের বিয়ের মতো ডাল-ভাত হয়ে উঠবে, তখন সমকামীরাও, যারা আজ বিয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে, অর্থহীন এই বিয়ে ব্যবস্থাটির বিরুদ্ধে মুখ খুলবে।

বিয়ে নামের অপ্রয়োজনীয় একটি প্রথা মরে পড়ে থাকবে একদিন। আগামী দিনের সমাজবিজ্ঞানীরা ইতিহাস খুঁড়ে বিয়ের ফসিল আবিস্কার করবেন, আলোকিত মানুষকে পুরোনো দিনের গল্প শোনাবেন। --‘পৃথিবীতে একটি যুগ ছিল, সে যুগের নাম অন্ধকার যুগ। সেই অন্ধকার যুগে একটি প্রথা দীর্ঘদীর্ঘকাল টিকে ছিল, প্রথাটির নাম বিয়ে’। বিয়েটা কী এবং কেন, এসব বোঝাতে গিয়ে পুরুষতন্ত্রের প্রসঙ্গ উঠবে, তখন নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের সেই সব মানুষের গা কেঁপে উঠবে বীভৎস একটা সমাজ কল্পনা করে।

ইউটোপিয়া? না হয় ইউটোপিয়াই।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

[ছোট্টগল্প] সেক্সবয় - তসলিমা নাসরিন

সেক্সবয় - তসলিমা নাসরিন

ছোটগল্প

সেক্সবয়

তসলিমা নাসরিন
সেক্সবয় - তসলিমা নাসরিন
চৈতালি অপেক্ষা করছে সেক্সবয়ের জন্য। সন্ধেও নামবে, সেক্সবয়ও নামবে কলকাতায়। অন্ধকার সরিয়ে সরিয়ে দক্ষিণ কলকাতার এই গলিতে ঢুকবে বিমানবন্দর থেকে আসা সেক্সবয়ের ট্যাক্সি। বোম্বে থেকে আসছে সে। চৈতালির ফ্ল্যাটেই উঠবে। দু’জনের গত ছ’মাস যাবৎ প্রায় সব হয়েছে, শুধু সামনাসামনি দেখাটাই হয়নি। ফেসবুকে প্রথম কথা হয়, মূলত সেক্সের কথা। চৈতালিকে আকৃষ্ট করেছিল সেক্সবয় নামটি। প্রোফাইলের ছবিটি উলঙ্গ পুরুষের। এর সঙ্গে সেক্স ছাড়া আর কী বিষয়ে কথা বলা যায়! চৈতালি সেক্স নিয়ে কথা বলতেই সেক্সবয়কে বন্ধু হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। নিজের যৌনসম্পর্কহীন জীবন বড় দুঃসহ হয়ে উঠেছিল। শহরে এত যুবকের ভিড়, আর চৈতালির মতো সুন্দরী বিদুষী মেয়ের জন্য কোনো প্রেমিক জোটে না! সত্যিই জোটে না। যে লোকটির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার, সেটিও হয়েছিল বাবার ঠিক করে দেওয়া পাত্র। অনেকগুলো বছর পেরিয়ে গেছে সুব্রতকে ডিভোর্স করেছে চৈতালি। এরপর একেবারেই যে কারও সঙ্গে কিছূই ঘটেনি তা নয়। দশ বছরের ছোট এক কলিগ অশোকের সঙ্গে প্রায় একমাস মতো একটা সম্পর্ক ছিল চৈতালির। কিন্তু অশোকের বিয়ের পর ওই সম্পর্কটা ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয় সে। চৈতালি চায়নি ঘরে তরুণী স্ত্রী রেখে তার সঙ্গে গোপনে শুতে আসুক অশোক। একটি ইংরেজি দৈনিকে চাকরি করে চৈতালি। অনেকদিনের চাকরি। অনেক দায়িত্ব। কিন্তু কোনো অফিসের কোনো বোঝা চৈতালি বাড়ি বয়ে আনতে চায় না। বাড়িতে থাকতে চায় সে ভাবনাহীন। সামান্য কিছুক্ষণ সময় নিজের জন্য রাখতেই তো হয়, কিছুক্ষণই তো সময়! ওদিকে মেয়ে পড়ছে দিল্লিতে। ওর খোঁজখবরও করতে হয়। আজকাল মোবাইল যুগে খোঁজ খবরের ব্যাপারগুলো জলের মতো সোজা। অফিস তো অফিস, চৈতালি না থাকলেও অফিস থাকবে। মেয়ের জীবনও মেয়ের জীবন। চৈতালি মরে গেলেও মেয়ে দিব্যি মানিয়ে নেবে। চৈতালির বাবা ও মা মারা গেছেন। চৈতালিই ছিল একমাত্র সন্তান। মা-বাবার কথা তার এখন খুব মনেও পড়ে না। অফিস থেকে ফিরে চৈতালি আগে একটা বই নিয়ে বসতো পড়তে। এখন ফেসবুক নিয়ে বসে। ফেসবুক যে কী ভয়ঙ্কর এক নেশার মতো! আসলে, ফেসবুক নয়, সেক্সবয় প্রতিদিন যে বলছে চৈতালির সঙ্গে বিছানায় সে কী কী করবে, কী করে চৈতালির সারা শরীরে চুমু খাবে, কী করে ঠোঁটে, বুকে আদর করবে, কী করে চৈতালির স্বাদ নেবে, আর তাকে ঘন ঘন শীর্ষসুখ দেবে… সেসব পড়ার নেশা। এই নেশাটা তাকে প্রচুর অস্থিরতা থেকে মুক্তি দিয়েছে। এখন সে রাস্তাঘাটে বা অফিসের যুবকগুলোর দিকে আগের মতো চাই চাই চোখে তাকায় না। সেক্সবয় চৈতালির দৈনন্দিন জীবনকে অনেক পূর্ণ এবং তৃপ্ত করেছে। মনে মনে সে কৃতজ্ঞ সেক্সবয়ের কাছে। ফেসবুকে সম্পর্কটা এখন আটকে নেই। দু’মাস যাবৎ প্রায় প্রতিদিন কথা হচ্ছে ফোনে, আর শেষ কয়েকদিন স্কাইপেতে দু’জনের সেক্সও ঘটেছে। সেক্সবয়ের আসল নাম বিজয়, মারাঠী, আর্কিটেক্ট, বয়স পঁয়ত্রিশ। এর চেয়ে চমৎকার জুটি আর কী হতে পারে! বোম্বে থেকে কলকাতায় উড়ে এসে চৈতালির সঙ্গে সত্যিকার সেক্সের প্রস্তাবটি চৈতালিই দিয়েছিল বিজয়কে। শুধু তাই নয়, বোম্বে কলকাতা আসা যাওয়ার টিকিটও ইমেইল করেছিল। টিকিট পেয়ে ‘লেটস ফাক হোল উইক’ বলে লাফিয়ে উঠেছিল বিজয়। বিজয়কে ছুঁয়ে দেখতে চায় চৈতালি। সত্যিকার মৈথুন চাই, হস্তমৈথুন শরীর আর নিতে চায় না।

সেক্সবয় প্রতিদিন যে বলছে চৈতালির সঙ্গে বিছানায় সে কী কী করবে, কী করে চৈতালির সারা শরীরে চুমু খাবে, কী করে ঠোঁটে, বুকে আদর করবে, কী করে চৈতালির স্বাদ নেবে, আর তাকে ঘন ঘন শীর্ষসুখ দেবে… সেসব পড়ার নেশা। এই নেশাটা তাকে প্রচুর অস্থিরতা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

সাতদিনের ছুটি নিয়েছে চৈতালি, আজ বিকেলেই অশোক জিজ্ঞেস করেছে, ‘হঠাৎ এতদিনের ছুটি কেন? কোথাও যাচ্ছো?’ চৈতালি হেসে বলেছে, ‘ক্লাউড নাইনে’ যাওয়ার ফ্লাইট বুক করেছি। যাবি? ‘বিয়েটা না করলে ঠিক ঠিকই যেতাম। চৈতালির ঠোঁটে একচিলতে হাসি। অশোকের জন্য সেই আকর্ষণ আর নেই চৈতালির, বিজয় এসে অশোকের জায়গা, চৈতালি জানে না, কবেই দখল করে নিয়েছে। অশোকের বিয়ের পর বিজয়ের মতো একজন পুরুষেরই দরকার ছিল তার জীবনে, এরকম বানের জলের মতো কেউ, পুরানো সব স্মৃতি ভাসিয়ে নেবে, øিগ্ধ শীতল নতুনতা ছড়িয়ে তাকে আরও উজ্জ্বল করবে, যেন সে জন্ম নিল এইমাত্র, অতীত বলে কিছু ছিল না কখনও তার। অশোক অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলেছে, ‘কী কারও প্রেমে পড়েছ নাকি, দেখতে আরও উজ্জ্বল হয়েছ।’ মিষ্টি হেসে চৈতালি বলেছে, ‘এই, মুনা কেমন আছ? চলছে তো সব ঠিকঠাক? বলে, অশোকের উত্তরের জন্য না অপেক্ষা করেই অফিস থেকে বেরিয়ে গেছে চৈতালি। প্রতিদিন যখন বেরোয় তার চেয়ে খানিক আগেই বেরিয়েছে। শরীর জুড়ে বিজয় তার। সকাল থেকেই শরীরে বান ডাকছে।

বাড়িতে এসে গান গাইতে গাইতে øান করেছে। এত সময় নিয়ে চৈতালি øান করে না খুব। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ সেজেছে। পারফিউম মেখেছে। শোবার ঘরটা সাজিয়েছে। নতুন চাদর বিছিয়েছে বিছানায়। দুটো শুধু বালিশ ছিল, নতুন দুটো বালিশ যোগ করেছে। বড় ফ্ল্যাট চৈতালির। তিনটে শোবার ঘর। একটায় চৈতালি থাকে। আরেকটা অতিথির জন্য। আরেকটায় থাকে শকুন্তলা। শকুন্তলা পুরানো কাজের লোক। শকুন্তলা জিজ্ঞেস করেছে, ‘আজ অশোক বাবু আসছে নাকি চৈতি, এত সাজগোজ করছ যে?’ শুনে বিরক্ত কণ্ঠে চৈতালি বলেছে, ‘তুমি যে দিদি কী আবোলতাবোল বকো, অশোক বউ নিয়ে সুখের সংসার করছে, ও আসবে কেন?’

‘তাহলে, নতুন ভাগ্যবানটা কে শুনি?’

চৈতালি হেসে বলেছে, ‘এলেই দেখতে পাবে।’

শকুন্তলা প্রচুর রান্না করেছে আজ। বিজয় আর চৈতালি ক্যান্ডেল-লাইট ডিনার করবে। তারপর শোবার ঘরে চলে যাবে, দরজা বন্ধ করে দেবে ঘরের। জানালার পর্দাটা সরিয়ে দেওয়া। বিছানা থেকেই জানালার ওপারের চাঁদটা দেখতে পাবে। জ্যোৎøায় ঘর ভরে যাবে, আর ওই আলোয় তারা শরীরে শরীর ডুবিয়ে øান করবে সারা রাত। শোবার ঘরটায় চৈতালি জুঁইয়ের সুঘ্রাণ ছড়িয়ে রাখে। নিজের গায়েও সুগন্ধী। বাড়িটায় যেন ফুলের উৎসব হচ্ছে। কণিকার রবীন্দ্রসঙ্গীতের সিডি চালিয়ে দেয়। ‘হৃদয়বাসনা পূর্ণ হলো’ গানটি বাজতে থাকে। চৈতালি গাইতে থাকে কণিকার সঙ্গে। কখনই খুব ভালো গাইতে জানে না চৈতালি। কিন্তু গান ভালোবাসতে ভালো জানে। চৈতালি একটা নীল রঙের শাড়ি পরেছে। ইচ্ছে করেই খুব বড় গলার ব্লাউজ পরেছে। স্তনজোড়া উঁকি দিচ্ছে, দিক। লরিয়েলের কালো রঙ চৈতালির চুলে। সামান্যই পেকেছে যদিও, চৈতালি মুছে ফেলেছে সাদার চিহ্ন। চল্লিশের টান টান শরীর, কিন্তু চুলে পাকন, ঠিক মেলে না। এমনিতে কালো সাদায় তার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সেক্সবয়ের সঙ্গে সাতটা দিন ঘনিষ্ঠ সময় কাটাবে, বয়সের চিহ্নটিহ্ন এসে না হয় এই সাতটা দিন না জ্বালাক।

বিজয় ফোন করেছে দমদমে নেমেই। রেড লেবেলের একটা বোতল আর দুটো গ্লাস এনে শোবার ঘরের খাটের পাশের টেবিলে রাখে চৈতালি। এরকম অ্যাডভেঞ্চার আগে কখনও করেনি সে। একটা অচেনা মানুষের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হলো, তার সঙ্গে যৌনসম্পর্কে যাওয়ার জন্যই সব আয়োজন দু’জন করছে, কোনো প্রেম হলো না, কেউ কারও জন্য ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করলো না, যৌনতা ছাড়া জগতের অন্য কোনো বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হলো না! দু’জনের কিন্তু কারওরই মনে হচ্ছে না খুব বিচ্ছিরি কোনো কাজ তারা করছে। দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক। দু’জনই একা থাকে। কোনো স্বামী বা কোনো স্ত্রীকে ঠকিয়ে কিছু করছে না তারা। শরীর চাইলে শরীর তারা তবে কেন মেলাবে না!

সকাল থেকেই শরীরে বান ডাকছে। চৈতালীর মনে হতে থাকে সে নিতান্তই ষোলো বছর বয়সী এক কিশোরী। না হয় সে ষোলো বছর বয়সীই। ষোলো বছর যখন বয়স, তখন সে কঠিন কঠিন বই পড়ে। কাটিয়েছে, চল্লিশ বা পঞ্চাশ বয়সীরা যা করে। সেই ষোলোটা ফেরত পাওয়ার যদি সুযোগ হয়, তবে ফেরত সে নেবে না কেন! কাউকে তো দিব্যি দেয়নি যে ফেলে আসা কোনো বয়স সে কোনোদিন ফেরত নেবে না।

চৈতালির কাছে বিজয় সম্ভবত আস্ত একটি পুরুষাঙ্গ ছাড়া আর কিছু নয়। সে বলে-কয়েই সাতদিন শুতে আসছে চৈতালির সঙ্গে। শুধু শরীরের আকর্ষণকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে একটা সম্পর্ক। চৈতালি ভাবে, সবসময় যে আগে মন, পরে শরীর হতে হবে তারইবা কী মানে, শরীর আগে, মন পরে হওয়াটাই বরং বেশি যৌক্তিক। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নিশ্চয়ই বিজয় ওকে জড়িয়ে ধরে গভীর করে চুমু খাবে। তারপর সোজা শোবার ঘরে। দৃশ্যগুলো কল্পনা করে চৈতালি। আবেগে চোখ বোজে। শরীরে নিভৃতে গর্জন করে সুখের স্রোত। শকুন্তলাকে বলে রেখেছে, ঘরের দরজা বন্ধ করে যেন সে শুয়ে থাকে, দরকার হলে ডাকবে। কেবল খাবার সময় শকুন্তলার ডাক পড়ে। শকুন্তলা জানে নিয়মগুলো। অশোকের সময় এরকমই ঘটতো। চৈতালির ডিভোর্সের পর শকুন্তলা বলেছে অনেকবার, ‘এবার একটা বিয়ে করো চৈতি’। বিয়ে করব না করব না বলে কয়েক বছর পার করেছে। তারপর অশোকের সঙ্গে যখন প্রেম করছে চৈতালী, শকুন্তলা বলেছে, ‘তাহলে একজন বন্ধুকেই পার্মান্যান্ট করে নাও। কাউকে যে ইচ্ছে করলেই কিছু করে নেওয়া যায় না, তা শকুন্তলাকে শত বলেও বোঝাতে পারে না চৈতালি। শকুন্তলা চৈতালির জন্মের সময় থেকে এই বাড়িতে আছে। বিয়ে করেনি। অথচ চৈতালির বিয়ে না করা আর স্থায়ী সঙ্গী না নেওয়া নিয়ে তার দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। নিজের চেয়ে মনিবের পরিবারকে আপন করে দেখলে বুঝি এই হয়।

ফেসবুকে সেক্সবয় নামের আড়ালে বিজয়ের চরিত্র কেন তার ফেসবুকের বাইরের বিজয়ের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত? জিজ্ঞেস করেনি, অনুমান করে নিয়েছে, মায়ের মৃত্যুর কারণে যে ভীষণ গ্লানি আর শোকে ভুগছে বিজয়, তা থেকে মুক্তি পেতেই আশ্রয় নিয়েছে ফেসবুকে, ভিন্ন চরিত্রে। চৈতালি কেন আশ্রয় নিয়েছে ফেসবুকে! তার তো কোনো গ্লানি নেই, শোক নেই!

২.

বিজয় এল। ফোটো দেখে বা স্কাইপেতে দেখে যেমন অনুমান করেছিল, তার চেয়ে অন্যরকম, যতটুকু লম্বা ভেবেছিল, তার চেয়ে বরং খানিকটা বেশি, যতটা মোটা লাগছিল, তার চেয়েও স্লিম, যতটা সুদর্শন ভেবেছিল, তার চেয়েও বেশি সুদর্শন বিজয়। দু’জন হাই বিজয়, হাই চৈতালি বলে হাত মেলাল। শোবার ঘরে নেওয়ার বদলে চৈতালি বসার ঘরে নিয়ে এল বিজয়কে। দু’সোফায় মুখোমুখি বসল দু’জন। একটুখানি দৃষ্টি বিনিময়। একটুখানি হাসি দু’জনের ঠোঁটে। চৈতালি বসে আছে বিজয় উঠে এসে ঠিক স্কাইপেতে যেমন বলত, ‘ইউ লুক সো হট হানি। কাম অন, লেটস হ্যাব সেক্স’ বলে কিনা। বিজয় নিজেই কাপড় খুলে ফেলত, ক্যামেরাকে নামিয়ে দিত উরুসন্ধির দিকে, আর চৈতালিও খুলত বুকের কাপড়। দুটো যৌনকাতর নারী-পুরুষ আজ মুখোমুখি বসে আছে। দু’টো শরীরের বাসনা আজ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে দু’জনের কথোপকথনে যৌনতার তিলমাত্র কিছু নেই।

একটু জল খাবো।

- আই অ্যাম সরি। জল আগেই দেওয়া উচিত ছিল। চা বা কফি কিছু খাবে?

না। আমি খাই না ওসব।

- তবে কি, হুইস্কি খাবে?

- হুইস্কি তো আমি খাই-ই না।

- ও

ক’টার সময় রাতের খাবার খাও?

ঠিক নেই। বেশ সুন্দর সাজানো ফ্ল্যাট। এত বই কার? সব তোমার?

হ্যাঁ আমার।

বিজয় উঠে বইয়ের তাকগুলোর দিকে যায়, মগ্ন হয়ে বই দেখতে থাকে। অনেকক্ষণ কেটে যায় এভাবে। চৈতালি জল এনে দিলে বই দেখতে দেখতেই জল খায়।

ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, আমি কি কিছু বই বের করতে পারি এখান থেকে?

হ্যাঁ নিশ্চয়ই, গো এহেড।

বিজয় তিনটে বই নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল। সোফায় এসে বলল, তুমিও দেখছি রডি ডয়েলের বই পছন্দ কর। দ্য ডেড রিপাবলিক পড়েছ?

চৈতালি হেসে বলল, ওর শুধু তিনটে পড়েছি, প্যাডি ক্লার্ক হাহাহা, এ স্টার কল্ড হেনরি আর দ্য গাটস।

- তোমার অসাধারণ কালেকশন।

- ক্লাসিকস বেশ কিছু আছে।

- ক্লাসিকসের কথা বাদ দাও। ওগুলো ছোটবেলায় পড়েছি। ইদানীং বিল ব্রাইসন থাকলে আমার আর কিচ্ছু চাই না।

- আছে বিল ব্রাইসন বেশ কটা।

চোখেমুখে খুশি উপচে ওঠে বিজয়ের।

- তুমি বিল ব্রাইসনও পছন্দ কর? বাহ! কোনগুলো আছে বল না। শেষটা আমার এখনও পড়া হয়নি।

আমার সবচেয়ে পছন্দ এ সর্ট হিস্টরি অব নিয়ারলি এভরিথিং।

ও বইটার তুলনা হয় না।

- আমার কাছে আছে আই অ্যাম এ স্ট্রেঞ্জার হেয়ার মাইসেল্ফ, অ্যট হোম, নাইদার হেয়ার নর দেয়ার…

- ওয়ান সামারটা তো এখনও বেরোয়নি বোধহয়।

- এই অক্টোবরে বেরোবে।

বিজয়ের মধ্যে একটা কিশোর বাস করে। দেখে ভালো লাগে চৈতালির। চৈতালির মতোই সে উজ্জ্বল উচ্ছ্বল হয়ে ওঠে সময় সময়। বইয়ের গল্পে মেতে ওঠে বিজয়। যেন দু’জনে কোনো বুক ক্লাবের মেম্বার। বইয়ের পছন্দে এত মিল আর কারও সঙ্গে নেই চৈতালির। তারপর কথায় কথায় বেড়ানোর কথা উঠল, ভারতের কোথায় কোথায় কে গেছে। তাতেও মিল, দু’জনে বর্ণনা করতে থাকে দু’জনের পছন্দের জায়গাগুলোয় নিজেদের অভিজ্ঞতা। এক সময় খাবারের প্রসঙ্গ ওঠে, ওতেও মিল। দু’জনই বাঙালি খাবার পছন্দ করে।

দশটা বেজে যায় গল্প করতে করতে। জল ছাড়া কেউ আর কিছু পান করে না। ফলের রসও, বিজয় বলেছে, খাবে না। শকুন্তলাকে ডাকে চৈতালি। শকুন্তলা টেবিলে খাবার সাজিয়ে দেয়। না, মোমবাতি জ্বালানোর প্রয়োজন মনে করে না চৈতালি। খেতে খেতে বিজয় বলে, ‘বাহ, বেশ কম তেলে কম মশলায় রান্না তো। আমার মা’র রান্নার মতো। ‘শকুন্তলা ভালো রাঁধে। শকুন্তলার বেশ প্রশংসা করল। বিজয়। চৈতালির থালায় নিজে খাবার বেড়ে দিল। খাওয়া শেষ হলে রান্নাঘরে গিয়ে নিজের থালা নিজেই ধুয়ে রেখে এল। পরিপূর্ণ ভদ্রলোক। দেখে বেশ ভালো লাগে চৈতালির। কলকাতায় আজ অবধি এমন ভদ্রলোক সে দেখেনি। খেয়ে ওঠার পর বিজয় বলল চৈতালিকে কাল ডিনারে নিয়ে যাবে সে, কলকাতার সবচেয়ে ভালো বাঙালি খাবারের রেস্টুরেন্টে। শকুন্তলা জিজ্ঞেস করল, বিজয়ের মা কী কী রাঁধেন, শুধু মারাঠী রান্না, নাকি বাঙালি রান্নাও? বিজয় অনেকক্ষণ চুপ হয়ে থেকে বলে যে তার মা মারা গেছেন এক বছর হলো। সড়ক দুর্ঘটনায়। বিজয় মায়ের সঙ্গেই থাকত। বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে দাদা। গাড়িটা সেদিন চালাচ্ছিল বিজয় নিজে। দাদার বাড়ি থেকে ডিনার খেয়ে ফিরছিল বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে। মদ্যপান করেছিল। বোমার মতো একটা ট্রাক ছুটে আসছিল তার গাড়ির দিকে, দেখতে পায়নি। ট্রাক এসে ধাক্কা মারল, আর গাড়িটা গড়াতে গড়াতে খাদে পড়ে গেল। ওখানেই মারা যায় মা। বিজয় চোট পেয়েছিল, তবে হাসপাতালে দুদিন থাকার পর তা সেরে যায়। সেদিনের পর থেকে বিজয় আর মদ ছোঁয়নি। মায়ের কথায় মায়ের কথা আসে। শকুন্তলাও মায়ের গল্পে যোগ দেয়। চৈতালি অনেকদিন ভুলে ছিল নিজের মাকে। আজ যেন মা তার সামনে এসে বসেছে। স্মৃতির ঝাঁপি সকলেই খুলে বসে। সকলের চোখ ভিজে ওঠে। বিজয় তার মায়ের প্রসঙ্গ না তুললে সম্ভবত এভাবেই চৈতালি ভুলে থাকত মাকে। বারোটা বেজে যায়। বিজয় বলে, ‘আমি কোথায় ঘুমোব?’

চৈতালি কিছুক্ষণ ভাবে। তারপর হেসে বলে শকুন্তলাকে, ‘তুমি দিদিসোনা গেস্টরুমের বিছানাটা ঠিক করে দাও। চাদরটা চেঞ্জ করে দিও। আমার ঘরে এক্সট্রা বালিশ আছে, নিয়ে যেও।’

বিজয় আগে কখনও কলকাতায় আসেনি। চৈতালি বলে, কাল তোমাকে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে নিয়ে যাব। আর মার্বেল প্যালেসে। তোমার ভালো লাগবে।

বিজয় ‘অ্যাট হোম’ বইটি হাতে নিয়ে মিষ্টি হেসে বলে, ‘এই বইটা কি রাতে পড়ার জন্য নিতে পারি? এটা আমার পড়া হয়নি।’

বিজয় অনেকক্ষণ চুপ হয়ে থেকে বলে যে তার মা মারা গেছেন এক বছর হলো। সড়ক দুর্ঘটনায়। বিজয় মায়ের সঙ্গেই থাকত। বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে দাদা। গাড়িটা সেদিন চালাচ্ছিল বিজয় নিজে। দাদার বাড়ি থেকে ডিনার খেয়ে ফিরছিল বান্দ্রায় নিজের বাড়িতে। মদ্যপান করেছিল। বোমার মতো একটা ট্রাক ছুটে আসছিল তার গাড়ির দিকে, দেখতে পায়নি।

৩.

যে কটা দিন ছিল বিজয়, কিশোর-কিশোরীর মতো চৈতালি আর বিজয় কলকাতার রাস্তায় টই টই করে ঘূরেছে, রাস্তার কিনারের তেলেভাজা থেকে ভজহরি মান্নার খাবার কিছু বাদ দেয়নি। হাতেটানা রিকশায় চড়েছে গঙ্গায় নৌকো চড়েছে, যেদিকে খুশি সেদিকে চলে গেছে। চৈতালি ভুলে গেছে তার চাকরিবাকরি, তার কন্যা, তার অতীত ভবিষ্যৎ। যেন সে পৃথিবী থেকে অনেক দূরে, সবার নাগালের বাইরে, কোনো অচেনা আকাশে উড়েছে। সত্যিকার ‘ক্লাইড নাইন’ বোধহয় একেই বলে। শকুন্তলাকে বিজয় উপহার দিয়েছে দু’টো চমৎকার শাড়ি, এত ভালো শাড়ি নাকি শকুন্তলা ইহজন্মে পরেনি। চৈতালির জন্য গনেশ পাইনের একটা পেইন্টিং। প্রথম একজন মানুষের সঙ্গে দেখা হলো, যার সঙ্গে ভাবনা চিন্তার প্রায় সম্পূর্ণই মিল পেল চৈতালি। জীবনের অনেক কথা বলেছে সে বিজয়কে। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের কথা, মেয়ের মেয়ের কথা, অশোকের কথা, একরাশ দুঃখসুখের কথা। সব মন দিয়ে শুনেছে বিজয়। বিজয়ও বলেছে, তবে বলার চেয়ে বিজয় শুনতেই বেশি পছন্দ করেছে। মাত্র ক’টা দিনে কী অসম্ভব আপন হয়ে উঠেছে বিজয়। যেন বিজয় তার ছোটবেলার কোনো বন্ধু। যেন বিজয়ের সঙ্গে শৈশব-কৈশোর জুড়ে চৈতালি এক্কাদোক্কা খেলেছে, মার্বেল লাটিম খেলেছে, পুকুরে মাছ ধরেছে। মাঝে মধ্যে অতীতের কোনো ঘটনা বলতে গিয়ে চৈতালির চোখে জল এসেছে। আলতো করে বুকে টেনে তাকে শান্ত করেছে বিজয়। বিজয়ের ওটুকু স্পর্শই পেয়েছে চৈতালি গোটা সাতদিনে। চুমু খেতে একবার দু’বার চেয়েছিল, কিন্তু বারণ করেছে নিজেকে। ভেবেছে, বিজয় বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছু ভাবছে না।

বিজয় চলে যায়, চৈতালিকে দিয়ে যায় চৈতালির শ্রেষ্ঠ সময়। চৈতালির আর জিজ্ঞেস করা হয়নি, ফেসবুকে সেক্সবয় নামের আড়ালে বিজয়ের চরিত্র কেন তার ফেসবুকের বাইরের বিজয়ের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত? জিজ্ঞেস করেনি, অনুমান করে নিয়েছে, মায়ের মৃত্যুর কারণে যে ভীষণ গ্লানি আর শোকে ভুগছে বিজয়, তা থেকে মুক্তি পেতেই আশ্রয় নিয়েছে ফেসবুকে, ভিন্ন চরিত্রে। চৈতালি কেন আশ্রয় নিয়েছে ফেসবুকে! তার তো কোনো গ্লানি নেই, শোক নেই! কিছু হয়ত চৈতালির ভেতরেও আছে, চৈতালি জানে না। বিজয় জানে কি? জিজ্ঞেস করা হয়নি বিজয় জানে কি না। এ ক’দিনে একবারও চৈতালির শরীরে বান ডাকেনি। শুধু মনেই ঝরেছে ঝড়বৃষ্টি। চৈতালির ফেসবুকের চরিত্রটা কি চৈতালির সত্যিকারের চরিত্র নয়! চৈতালি ভাবে, কোন বিজয় সত্যিকারের বিজয়! যে বিজয়ের সঙ্গে নেটে দেখা হয়, নাকি যে রক্তমাংসের বিজয়ের সঙ্গে কলকাতায় দেখা হলো! রক্তমাংসের বিজয়ই তো ফেসবুকের সেক্সবয়, যার সঙ্গে রাতে রাতে তার শরীরের উৎসব হয়। কত যে রহস্য একজন মানুষের ভেতর। সম্ভবত কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে বাস করে একজন মানুষের মধ্যে। একজন আরেকজনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।

বিজয়কে এয়ারপোর্টে সি অফ করে যখন বাড়ি ফিরছিল, উদাস তাকিয়েছিল গাড়ির জানালায়, তখন এসএমএস আসে।

বিজয় লিখেছে, আই লাভ ইউ।

বুক কাঁপে চৈতালির। তীব্র ভালো লাগা মন থেকে শরীরে ছড়িয়ে যায়।

চৈতালি লিখল, মি টু।

ঘরে ফিরে দেখে সেই যে কণিকার সিডিটা বাজছিল, সেটা বেজেই চলেছে, কণিকার কণ্ঠে তখন, ‘চিরসখা হে ছেড়ো না মোরে…’

সঙ্গে সঙ্গে গায় চৈতালি, ‘চিরসখা হে ছেড়ো না মোরে…’।




বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

লিঙ্গসূত্র - তসলিমা নাসরিন

লিঙ্গসূত্র তসলিমা নাসরিন

লিঙ্গসূত্র

তসলিমা নাসরিন

যার জীবন, যার শরীর, সে-ই ঠিক করবে তার লিঙ্গ কী। তার পর ইচ্ছে হলে সে অঙ্গ অক্ষত রাখবে, কেটে বাদ দেবে, অন্য অঙ্গ লাগাবে। সমাজের কাজ, তাকে সেই স্বাধীনতাটা দেওয়া। তসলিমা নাসরিন কলকাতার আনন্দবাজারে লিখেছেন;

তেরো বছর বয়স আমার তখন। এক দিন শুনি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র হঠাৎ মেয়ে হয়ে গেছে। নাম ছিল আবুল হোসেন, মেয়ে হওয়ার পর নাম হোসনে আরা। ক’দিন পরই লাল বেনারসি পরে হোসনে আরা বিয়ে করে ফেলল তার হোস্টেলের রুমমেটকে। খবরের কাগজে আবুল হোসেন আর হোসনে আরা-র ছবি পাশাপাশি ছাপা হত। আবুল হোসেন সব সময় মৌলানাদের স্কার্ফের মতো একটা স্কার্ফ পরত, বুক আড়াল করার জন্য। ভেতরে ভেতরে মেয়েই ছিল সে, কিন্তু জন্মের পর আত্মীয়স্বজন ভেবেছিল সে ছেলে, ভাবার নিশ্চয়ই কোনও কারণ ছিল। বড় হয়ে আবুল হোসেন বুঝতে পরেছিল সে ছেলে নয়। লজ্জায় ভয়ে অনেক বছর কাউকে কিছু বলেনি। ছেলেদের হোস্টেলে থাকত, সবাই তাকে ছেলে বলেই জানত। কিন্তু এক সময় অস্বস্তির চরমে পৌঁছে ডাক্তারের শরণাপন্ন হল। ডাক্তার কী একটা অপারেশন করলেন, ব্যস, আবুল হোসেন মেয়ে হয়ে গেল। খবরটা পড়ে আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল হঠাৎ এক দিন ছেলে হয়ে যেতে। কিন্তু বুঝতাম, আবুল হোসেনের শরীরটা যেমন ভেতরে ভেতরে মেয়ের শরীর ছিল, আমার শরীরটা ভেতরে ভেতরে ছেলের শরীর নয়। আসলে মেয়েদের ওপর পারিবারিক সামাজিক ধার্মিক রাষ্ট্রিক অত্যাচার এত বেশি হত যে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়ে এ সব থেকে বাঁচতে চাইতাম। অন্য কোনও কারণ ছিল না।

লিঙ্গ কিন্তু তত সহজ নয়, যত সহজ বলে একে ভাবা হয়। লিঙ্গ শুধু শারীরিক নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মানসিক, মনস্তাত্ত্বিকও। অধিকাংশ লোক ভাবে, জগতের সব সুস্থ মানুষই বুঝি শরীরে পুরুষ, মনেও পুরুষ; অথবা শরীরে নারী, মনেও নারী। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও আছে। ব্যতিক্রমটা বুঝতে হলে জেন্ডার বা মনোলিঙ্গ বুঝতে হবে। শরীরে যেমন লিঙ্গ থাকে, মনেও এক ধরনের লিঙ্গ থাকে, লিঙ্গবোধ থাকে। যাদের শারীরিক জৈবলিঙ্গের সঙ্গে মনোলিঙ্গের কোনও বিরোধ নেই, তাদের আজকাল ‘সিসজেন্ডার’ বলা হয়। জগতের সবাই সিসজেন্ডার নয়, অনেকে ট্রান্সজেন্ডার, সিসজেন্ডারের ঠিক উলটো। পুরুষের শরীর নিয়ে জন্মেছে, কিন্তু মনে করে না যে সে পুরুষ, মনে করে সে নারী; আবার ও দিকে নারীর শরীর নিয়ে জন্মেছে, কিন্তু মোটেও সে বিশ্বাস করে না যে সে নারী, তার দৃঢ় বিশ্বাস সে পুরুষ। এই ট্রান্সজেন্ডাররা বা রূপান্তরকামীরা নড়নচড়নহীন রক্ষণশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘পেন ইন দি অ্যাস’। এদের দুর্ভোগ প্রতি পদে পদে। প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গেলে সবাইকেই অবশ্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ধরা যাক, জন্মানোর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পুরুষাঙ্গের উপস্থিতি দেখে বাবা মা বা ডাক্তাররা রায় দিয়ে দিলেন, সন্তান ছেলে, পরিবারের এবং সমাজের সকলে জানল যে সে ছেলে, কিন্তু নিজে সে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে আর অনুভব করতে থাকে সে ছেলে নয়, মেয়ে। সে যখন নিজেকে মেয়ে ভেবে মেয়েদের সাজপোশাকে বাইরে বেরোয়, এবং সত্য কথাটা প্রকাশই করে ফেলে যে, পুরুষের শরীর সে ধারণ করছে বটে, কিন্তু সে আসলে পুরুষ নয়, নারী লোকেরা তাকে হাস্যরসের বস্তু ভাবে, সার্কাসের ক্লাউনের চেয়েও বড় ক্লাউন ভাবে, চিড়িয়াখানার চিড়িয়া ভাবে, তাকে শেকলে বাঁধে, পাগলা-গারদে বন্দি করে। কেউ ছি ছি করে, কেউ বিদ্রুপ ছোড়ে, ঢিল ছোড়ে, কেউ গালি দেয়, ন্যাংটো করে, পেটায়। কেউ কেউ জন্মের মার মেরে তার মাথার ভূত তাড়াতে চায়। মাথার ভূত মাথা ছেড়ে কিন্তু এক পা নড়ে না। মাথার লিঙ্গ মাথা কামড়ে পড়ে থাকে।

মেয়েরা ছেলেদের মতো আচরণ করলে আজকাল তবু সহ্য করে মানুষ, কিন্তু ছেলেরা মেয়েদের মতো আচরণ করলে সহ্য করে না। দ্বিতীয় লিঙ্গ প্রথম লিঙ্গকে অনুকরণ করে করুক, কিন্তু প্রথম লিঙ্গের লিঙ্গাভিমান এমনই যে, দ্বিতীয় লিঙ্গের কোনও কিছুকে অনুকরণ করার মানে দাঁড়ায় প্রথম লিঙ্গের অপমান। মেয়েরা দিব্যি ছেলেদের মতো পোশাক পরছে, ব্যবসা বাণিজ্য করছে, মদ-গাঁজা খাচ্ছে, মোটরবাইক চালাচ্ছে, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বিজ্ঞানী বৈমানিক নেতা মন্ত্রী হচ্ছে, অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করছে, মানুষ খুন করছে। আর ও দিকে, ছেলেরা চোখে সামান্য একটু কাজল, ঠোঁটে একটুখানি লিপস্টিক আর মেয়েদের মতো জামাজুতো পরলেই সমাজের ভিত কেঁপে ওঠে।

কোনও পুরুষ যদি বলে সে নারী, অথবা কোনও নারী যদি বলে সে পুরুষ, অথবা কোনও নারী বা পুরুষ যদি বলে সে নারীও নয় পুরুষও নয়, পাগল সন্দেহ না করে তাকে বরং আমাদের বিশ্বাস করা উচিত। কারণ একমাত্র সেই মানুষটাই জানে, সে কী। আমাদের সমাজ এখনও নারী আর পুরুষের ভাঙা-ভোঁতা সংজ্ঞা খাড়া করে। এও জোর গলায় বলে, যাদের শরীরে এক্স এক্স ক্রোমোজোম, তারা কেউ পুরুষ হতে পারে না, আর যাদের শরীরে এক্স ওয়াই, তারা কেউ নারী হতে পারে না! কেন হতে পারে না, শুনি? নিশ্চয়ই হতে পারে। কোনও ক্রোমোজোম আর কোনও জৈবলিঙ্গের ওপর মনোলিঙ্গ নির্ভর করে না। জেন্ডার বা মনোলিঙ্গ, সেক্স বা জৈবলিঙ্গের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেটে ছিঁড়ে মাড়িয়ে পুড়িয়ে আর যে লিঙ্গকেই দূর করা যাক, মনের লিঙ্গকে করা যায় না। জৈবলিঙ্গ থাকে শরীরে, মনোলিঙ্গের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইডেন্টিটি, প্রেজেন্টেশন, সেল্ফ-এক্সপ্রেশন, ইন্টার-পার্সোনাল সম্পর্ক, সোশিয়ো-কালচারাল রোল।

কোনও মেয়ে তার নিজের শরীরের দিকে তাকালেই যদি দেখে শরীরটা অন্য কারও, অচেনা, অদ্ভুত; শরীরটা পুরুষের, যে শরীরটা তার শরীর হলেও তার শরীর নয়, শরীরটাকে নিজের বলে ভাবতে তার অস্বস্তি হয়, কষ্ট হয়, এ শরীর তাকে শুধুই দুঃসহবাস দেয়, তবে কী করবে সে? গুমরে গুমরে একলা ঘরে কাঁদবে সারা জীবন? দরজা বন্ধ করে পুরুষের পোশাক খুলে নারীর পোশাক পরে চোরের মতো নিজেকে দেখবে আয়নায়, বছরের পর বছর? বন্ধ দরজাটা খুললেই বা সত্য উচ্চারণ করলেই লোকের লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সইতে হবে তাকে! এ কার দোষ, তার? না, যারা বাস্তবকে মেনে নেয় না তাদের? এ তাদের দোষ, যারা প্রকৃতির এক রূপকে স্বীকার করে, আর এক রূপকে করে না; যারা মনে করে দুনিয়াতে অ-রূপান্তরকামীরাই সত্য, রূপান্তরকামীরা নয়, যারা মনে করে নারী ও পুরুষের যৌন আকর্ষণই ঠিক যৌন আকর্ষণ, বাকি সব যৌন আকর্ষণ ভুল, মিথ্যে।

তুমি ট্রান্স-নারী। তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছ। তুমি সাজতে ভালবাসো, গয়না পরতে ভালবাসো, মেয়েদের পোশাক পরতে পছন্দ করো, পুরুষের সঙ্গে শুতে পছন্দ করো, কিন্তু শুধু সেই কারণগুলোর জন্যই যে তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছ তা নয়। তুমি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছ, কারণ তুমি মূলত নারী, তুমি তোমার মতো করে তোমার নারীত্বকে প্রকাশ করেছ। তোমার জেন্ডার নারীর, তোমার শরীরটা দেখতে আকাশ বাতাস হাতি ঘোড়া এক্স ওয়াই বা যা-কিছুই হোক না কেন, তুমি মনে প্রাণে, অন্তরে বিশ্বাসে নারী। যৌন সম্পর্কের জন্য পুরুষকে পছন্দ না করে, তুমি কোনও মেয়েকেও পছন্দ করতে পারতে। সম্ভবত তুমি মনে মনে ‘বিষমকামী নারী’ বলেই পুরুষের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করেছ। কিন্তু তোমার প্রেমিক পুরুষকে ‘বিষমকামিতা’-র সুখ দিতে নিজের লিঙ্গ বদলাওনি, লিঙ্গ বদলেছ কারণ তোমার ভয়ংকর যন্ত্রণা হচ্ছিল একটা পুরুষের শরীরকে বছরের পর বছর অকারণে বহন করতে, এ অনেকটা কাঁধে হিমালয় নিয়ে হাঁটার মতো। ভালুকের ছাল পরে প্রতিটা দিন যাপন করলে আমার ঠিক কেমন বোধ হবে, ভাবি। ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী মানুষদের বোধ হয় ঠিক সে রকমই অসহ্য অস্বস্তি হয় আর ওই ওপরের আবরণটা খোলসটা ঝামেলাটা উপদ্রবটা খুলে ফেলতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে। লিঙ্গ বদল সব ট্রান্সরা করে না। কেউ কেউ করে। করুক বা না করুক, করার অধিকার সবারই আছে। মানবাধিকার সবার জন্যই।

জীবন একটাই, এই একটা মাত্র জীবনকে যেমন ইচ্ছে যাপন করার অধিকার সবার। লিঙ্গ যারা অক্ষত রাখতে চায় রাখুক, যারা কেটে বাদ দিতে চায় দিক, যে লিঙ্গকে তাদের মন এবং মস্তিষ্ক নিজের লিঙ্গ বলে বিশ্বাস করে তাকে যদি শরীরে লাগাতে চায় লাগাক। নারীর শরীরটাকে পুরুষের শরীর করে ফেলা, অথবা পুরুষেরশরীরকে নারীর করে ফেলা যদি সম্ভব হয়, তবে করবে না কেন? আমার শরীর নিয়ে আমি যা খুশি করব, এতে অন্যের আপত্তি হবে কেন? শরীরটা আমার না অন্যের?

পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ অথবা পুরুষ ও নারী, এ নিয়েই যদি মানুষের দুনিয়াটা হত, তা হলে তা নিতান্তই বেরসিক, বিদঘুটে, বোরিং হত। ভাল যে দুনিয়াটা বিচিত্র। ভাল যে দুনিয়াতে দুটো লিঙ্গের বাইরেও তৃতীয় লিঙ্গ আছে। উভলিঙ্গের কথাই ধরি না কেন, পুংলিঙ্গ আর স্ত্রীলিঙ্গ এক শরীরেই জড়াজড়ি করে থাকে। প্রকৃতি যদি সবাইকে নারী ও পুরুষ হিসেবে চাইত, তা হলে উভলিঙ্গ বলে কিছু থাকত না দুনিয়ায়।

বিচিত্র সব কাম চার দিকে। সমকাম, বিষমকাম, উভকাম, রূপান্তরকাম, বহুকাম, সর্বকাম, নিষ্কাম। কোনওটিই অপ্রাকৃতিক নয়। সব কামই, সব যৌন আচরণই যত কম সংখ্যক লোকই সে আচরণ করুক না কেন প্রাকৃতিক; যেহেতু প্রকৃতিতেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। বেশি সংখ্যক লোক যে আচরণটা করে, সেটাকেই ‘ন্যাচারাল’ বা ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়। তা ধরলেও ভিন্নতাকে আর বৈচিত্রকে স্বাভাবিক বলে না মানার কোনও যুক্তি নেই। সংখ্যালঘুরা প্রকৃতির বাইরের কোনও ঘটনা নয়।

প্রকৃতির শত শত প্রজাতির মধ্যে আছে বিচিত্র যৌন প্রবৃত্তি। ভেড়া, শিম্পাঞ্জি, হাতি, জিরাফ, সিংহ, ডলফিন, পেঙ্গুইন, হাঁস ফাঁক পেলেই সমকামে মেতে ওঠে। মানুষের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়, ‘বনোবো’, যাদের ডিএনএ-র সঙ্গে আমাদের ডিএনএ-র মিল ৯৮%, ভীষণই উভকামী। প্রকৃতি শুধু ‘প্রজনন করো, প্রজাতি টেকাও’ মন্ত্র জপে না। প্রকৃতি আরও অনেক কিছুর হিসেব করে। বিবর্তনের তত্ত্ব দিয়ে বিচার করলেও সমকামীরা সমাজে অপ্রয়োজনীয় নয়। যৌনতার একমাত্র উদ্দেশ্য বংশ বিস্তার করা নয়। সামাজিকতাও যৌনতার উদ্দেশ্য। বনোবোরা হাতের কাছে স্ব-প্রজাতির যাকেই পায়, তার সঙ্গেই যৌন সঙ্গম করে। এর ফলে পরস্পরের মধ্যে বন্ধুতা গড়ে ওঠে, এক জনের বিপদে বিপর্যয়ে আর এক জন দাঁড়ায়, সকলে মিলে নিজেদের প্রজাতিকে নির্মূল হওয়া থেকে বাঁচায়। যদি বংশ বিস্তারই প্রজাতির টিকে থাকার পেছনে একমাত্র পদ্ধতি হত, তা হলে পিঁপড়ে, মৌমাছি, বোলতাদের জগতে এত বন্ধ্যা সৈন্য থাকত না, যাদের কাজ বংশ বিস্তার করা নয়, বরং প্রজাতিকে বাইরের শত্রু থেকে রক্ষা করা।

বিবর্তনের ভূরি ভূরি প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ মানুষ বিবর্তনে না বিশ্বাস করে ভগবানে করছে, যে ভগবানের অস্তিত্বের আজও কোনও প্রমাণ মেলেনি। প্রকৃতি থেকে তুলে যত প্রমাণই চোখের সামনে রাখি না কেন, রূপান্তরকাম, সমকাম, উভকাম কোনওটাই ‘ন্যাচারাল’ নয়, এমন কথা বলবেই কিছু লোক। ধরা যাক, ন্যাচারাল নয়। তাতে কী? সবাইকে ন্যাচারাল হতেই বা হবে কেন, শুনি? ন্যাচারাল ব্যাপারগুলো বরাবরই বড় পানসে। ন্যাচারাল হওয়ার জন্য স্বাধীনতা বা অধিকারের দরকার হয় না, ‘আনন্যাচারাল’ হওয়ার জন্য দরকার। আনন্যাচারাল হওয়ার জন্য বুকের পাটারও বেশ দরকার।

‘প্রকৃতি’কে হাতিয়ার করে মূর্খ আর দুষ্ট লোকেরা কি আজ থেকে মানুষকে ভোগাচ্ছে! এক সময় মেয়েদের লেখাপড়া করা, ঘরের বার হওয়া, চাকরিবাকরি করা, সব কিছুকেই এরা প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলেছে। প্রকৃতি চির কালই বিস্ময়কর, বৈচিত্রময়, বর্ণময়। যৌনতার মতো। আবার, আরও একটা প্রশ্নও এখানে করা যায়, কে বলেছে প্রকৃতির সব কিছু সব সময় ভাল এবং গ্রহণযোগ্য, কে বলেছে প্রকৃতিকে মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ? প্রকৃতিকে দিনরাত আমরা অস্বীকার করছি না? অস্বীকার করে নির্মাণ করছি না প্রকৃতি যা দিতে পারে, তার চেয়েও চমৎকার কিছু? হাত-পা নষ্ট হয়ে গেলে নকল হাত-পা লাগাচ্ছি, হৃদ্পিণ্ড অকেজো হলে হৃদ্পিণ্ডঅবধি লাগিয়ে নিচ্ছি। স্মৃতিশক্তির স্বল্পতা আছে বলে কম্পিউটার ব্যবহার করছি। নানা যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রকৃতির ভুল-ভ্রান্তি, প্রকৃতির অপারগতা, অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা সংশোধন করছি প্রতি দিন; আমাদের ডানা নেই, বিমান বানিয়েছি ওড়ার জন্য, প্রকৃতি আমাদের যে চোখ দিয়েছে, তার ক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে টেলিস্কোপ বানিয়েছি, মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করছি।

সমাজে সম্মান নিয়ে বাঁচার অধিকার সব লিঙ্গের সমান। পুরুষ লিঙ্গের যেমন অধিকার, নারী লিঙ্গেরও একই অধিকার, উভলিঙ্গেরও একই। বিষমকামীদের অধিকার যতটুকু, সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামীদেরও ততটুকুই। এতে যাদের বিশ্বাস নেই, তাদের মানবাধিকারে বিশ্বাস নেই। যারা সমকামীদের নির্যাতন করছে, রূপান্তরকামীদের নিগ্রহ করছে, যারা পুরুষ আর নারীর কাম ছাড়া আর সব কামকে অস্বাভাবিক আর প্রকৃতিবিরুদ্ধ বলে ঘোষণা করে দিচ্ছে, তাদের শিক্ষিত করা, সচেতন করা, মানুষ করা অত্যন্ত জরুরি। আকাট মূর্খের সংখ্যা বেশি বলেই তাদের মূর্খামি মেনে নিতে হবে, গণতন্ত্রও বলে না। সমকামীদের আন্দোলন, রূপান্তরকামীদের মানবাধিকার নিয়ে সংগ্রাম চলছে চার দিকে। ওঁরা চাইছেন নিজের জেন্ডার নিজের নির্ণয়ের অধিকার এবং সেই জেন্ডারকে জনসমক্ষে প্রকাশ করার অধিকার, নিগৃহীত না হওয়ার অধিকার, নিজের জৈবলিঙ্গকে পরিবর্তন করার অধিকার, মানসিক রোগী হিসেবে চিহ্নিত না হওয়ার অধিকার, যৌন সঙ্গমের অধিকার, বিয়ে করার অধিকার, সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার। যে সমাজে আজও নারীকে নারী হয়ে জন্ম নেওয়ার অপরাধে লাঞ্ছিত হতে হয়, সে সমাজে সমকামী আর রূপান্তরকামীদের অধিকারের জন্য আরও দীর্ঘ দীর্ঘ কাল সংগ্রাম করতে হবে, অনুমান করতে পারি। মানুষ প্রজাতি সে দিন সত্যিকার সভ্য হবে, যে দিন কোনও মানুষকেই নিজের মৌলিক অধিকারের জন্য আর লড়াই করতে হবে না।

(ঋতুপর্ণ ঘোষের সম্মানে)


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একলা চলো - তসলিমা নাসরিন

amarboi
একলা চলো - তসলিমা নাসরিন
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক! সাধ্যের মধ্যে থাকলে বইটি কিনবেন এই প্রত্যাশা রইলো।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দ্বিখণ্ডিত (ক) - তসলিমা নাসরিন

amarboi
দ্বিখণ্ডিত (ক) - তসলিমা নাসরিন
দ্বিখণ্ডিত (অর্থাৎ দুই ভাগে বিভক্ত) উপন্যাস ২০০৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইটি উপন্যাসিক ও কবি তসলিমা নাসরিনের একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ। এটি মেয়েবেলার তৃতীয় খণ্ড। বইটি প্রথম বাংলাদেশে "ক" নামে প্রকাশিত হয়েছিল। বইটি প্রকাশ করায় আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও অপমানের অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও বইটি দুইবছরের জন্য নিষিদ্ধ ছিল।
বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রবিবারের গল্প

amarboi

রবিবারের গল্প ১ম খন্ড - সম্পাদনায় তসলিমা নাসরিন
বিবারের গল্প ২ - সম্পাদনায় আবুল বাশার


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে - তসলিমা নাসরিন

amarboi
ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে - তসলিমা নাসরিন

নূপুর খবরটা পায় সকালে। সারাদিন কাউকে জানায় না। কাকেই বা জানাবে! কে তার পাশে এ সময়ে দাঁড়াবে! আত্মীয়দের মধ্যে এমন কেউ নেই যে কিনা খবরটা শুনে বিচলিত হবে, মুষড়ে পড়বে, বা চোখের জল ফেলবে। উপদেশ হয়তো কেউ কেউ দেবে। কিন্তু যাদের কোনও কিছু যায় আসে না যমুনার-কী-হল-না-হল’য়, তাদের উপদেশ শোনার চেয়ে, নূপুর ভাবে, তার নিজের যা ভালো মনে হয় তাই করা উচিত। ভেবেও নূপুর জব্বার চৌধুরীকে ফোন করে সন্ধ্যের দিকে। জব্বার চৌধুরীর বয়স প্রায় পঁচাত্তর। খবরটা শুনে জানতে চাইলেন যমুনা আমেরিকায় থাকতো কিনা। ভারতে থাকতো শুনে তাঁর রাগ হয় খুব। বললেন, ‘ইণ্ডিয়ায় কেন থাকতে গেছে? ও কি জানে না ইণ্ডিয়া বাংলাদেশকে পানি দিচ্ছে না? ইণ্ডিয়াকে বয়কট করা উচিত ছিল যমুনার’। জব্বার কাকার কথা এরপর আর শুনতে ইচ্ছে করেনি। সুলেখাকে জানায় নূপুর। সুলেখা খালাতো বোন। যমুনার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ছিল দেশে থাকাকালীন। খবরটি যে কোনও খবর শোনার মতোই শুনলো, বললো, ‘সবাইকেই যেতে হবে নূপুর। নিজে কী পূণ্য কামাই করলে, সেটা দেখ। সবাই ইয়া নবসি ইয়া নবসি করবে। যমুনা আজ গেছে, কাল আমরা যাবো’। আহ, সবাইকে যে যেতে হবে, যেন নূপুর এ কথা আগে জানতো না!
রাত দশটার দিকে নূপুর নাইমকে ফোন করে। এ ফোনটি করার কোনও মানে হয় না জেনেও ফোনটি করে। জানে যমুনার যদি বাধা দেওয়ার কোনও সুযোগ থাকতো, এই ফোনটি করতে সে বাধা দিতই। জেনেও সে খবরটা জানায় নাইমকে। পরিবারের লোক হিসেবে জানার অধিকার তার আছে বলেই জানায়, এ ছাড়া আর কোনও কারণ নেই। ফোনটি করার আগে নূপুর নিজেকে বার বারই কথা দেয়, সে কাঁদবে না। কারণ আর যার কাছেই হাহাকার করা মানায়, নাইমের কাছে মানায় না।


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নির্বাসন - তসলিমা নাসরিন (আত্মজীবনীর সপ্তম খন্ড)

amarboi
নির্বাসন - তসলিমা নাসরিন (আত্মজীবনীর সপ্তম খন্ড)

..আমরা লেখকরা যে সাহিত্য জগতে আছি, তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুরুষদের হাতে। অনেক পুরুষ লেখকই অহংকারী আর উদ্ধত। বিশেষ করে তারা যদি কোনো প্রভাবশালী ভাষায় লেখেন এবং কেনোভাবে জনপ্রিয়তা পেয়ে যান, তাহলেতো কথাই নেই। পুরুষের এই দুনিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো সমালোচনা কেউ সহ্য করতে পারে না।...তারা হলেন ঈশ্বরের মতো। ঈশ্বর সমালোচনা পছন্দ করেন না। তাই ঈশ্বরে বিশ্বাসীরা সবসময় তাকে সমালোচনা থেকে রক্ষা করে। আর নারী লেখক, যারা নারী অধিকারের জন্য কাজ করেন - তারা এই সমাজে অস্পৃশ্য। নারীবাদ হলো ঘৃণার বিষয়।......গুজব হলো 'জিব্রাইল ফেরেশতার' মতো। একজন ভালো লেখককে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার এবং বাজে লেখাকেও আকাশে তোলার ক্ষমতা আছে তার...
...প্রচুর মানুষ বুঝতে পারে না আমি কী বলি, কেন বলি। ভুল ব্যবস্থা তো সেই লেখালেখির শুরু থেকেই করছে। আমি জানি, কেন করে, একটা অন্ধকার সমাজে বড় হলে, মুক্তচিন্তার পরিবেশ না থাকলে যা হয়, তা হয়েছে; অধিকাংশ মানুষ তাদের কুয়ো থেকে বের হতে পারে না।...


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রবিবারের গল্প ১ম খন্ড - ভূমিকা তসলিমা নাসরিন

রবিবারের গল্প ১ম খন্ড - ভূমিকা তসলিমা নাসরিন

রবিবারের গল্প
১ম খন্ড
ভূমিকা
তসলিমা নাসরিন


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নির্বাচিত কলাম - তসলিমা নাসরিন

নির্বাচিত কলাম - তসলিমা নাসরিন
নির্বাচিত কলাম
তসলিমা নাসরিন

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কবিতাসমগ্র - তসলিমা নাসরিন

কবিতাসমগ্র - তসলিমা নাসরিন
কবিতাসমগ্র
তসলিমা নাসরিন

কসুম কুসুম জীবনে দাড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে প্রতিবাদে যারা গলা ফাটায়, অচিরেই তারা হয়ে ওঠে হাস্যকর। তসলিমা নাসরিনের ক্ষেত্রে তা হয়নি। নারীর যথার্থ স্বাধীনতার দাবিতে তিনি সম্পূর্ণ ঝাপিয়েছেন। মেধা নিয়ে, শিল্প নিয়ে, হিংস্র শত্রুর বিরুদ্ধে সরাসরি আঙুল তুলবার সাহস নিয়ে। আর রক্তাক্ত হয়েছেন, লাঞ্ছিত হয়েছেন, শেষ পর্যন্ত জন্মভূমি বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিতও হয়েছেন। ক্রমে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তসলিমা নাসরিন আজ শ্রদ্ধেয়, সাহসী, প্রখর এক নারী। এই তসলিমার সাহিত্যজীবনের শুরু কবিতা রচনায়। কবিতাই তার প্রথম ভালবাসা। ব্যতিক্রমী এক যুবতীর নানারকম আগুনের ভেতর দিয়ে ক্রমশ পরিণত বয়সে পৌঁছে যাওয়ার ইতিহাসই যেন ধরা পড়েছে অজস্র কবিতায়। ‘তসলিমা নাসরিনের কবিতাসমগ্র’ যেন তারই ঝঞায় ভরা জীবনের রাগ, ঘৃণা, ভালবাসা, স্বপ্নেরই বড় খােলাখুলি প্রকাশ। শুরুর কাব্যগ্রন্থ “শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা’-তেই যেমন উদ্ভাসিত তার আকুলিবিকুলি শরীর-তৃষ্ণার ইনসােমনিয়ায় অনন্ত সময় ধরে তুমি জেগে আছাে একা/ আমার মফিয়া নাও/ ঘুমাও মানিকসােনা ঘুমাও ঘুমাও’– তেমনই নিপীড়িত নারীদের পক্ষে সাহসী শ্লোক— যুদ্ধে বীরাঙ্গনা নারী স্বাধীন স্বদেশে তার পেলাে না। সমাজ/ তার তাে গর্বিত কণ্ঠে ধর্ষিতা হবার গল্প শােনানাের কথা। প্রেম ও প্রতিবাদ—দু’ক্ষেত্রেই অনন্য তসলিমা। আপাতত শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘কিছুক্ষণ থাকো’-তে ভালবাসার জন্য লিখেছেন—“তােমার স্পর্শে যদি এ শরীর জাগে,/ তুমি যে হও সে হও, কোনও দ্বিধা নেই, শােব।'—আর পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ নারীর গলায় বলেছেন—বােকারা এখন চুষতে থাক যার যার দ্বিগ্বিজয়ী অঙ্গ... শত সহস্র বছর তুমি ভাল ছিলে মেয়ে, এবার একটু মন্দ হও'। মার-খাওয়া মানুষের মতােই তসলিমার চিৎকার একটু বেশি, কিন্তু এই নির্বাসিত কবি যখন স্বদেশে ফিরতে না-পারার যন্ত্রণায় লেখেন—‘মেঘ উড়ে যাচ্ছে পশ্চিম থেকে পুবে, তাকে ক'ফোটা জল দিয়ে দিচ্ছি চোখের, যেন গােলপুকুরপাড়ের বাড়ির টিনের চালে একবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে’– পাঠক নিশ্চিত আক্রান্ত হবেন এক অভূতপূর্ব আবেগে। জীবন আর কবিতা কবে যেন মিলেমিশে এক হয়ে গেছে তসলিমার।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সকল গৃহ হারালো যার - তসলিমা নাসরিন

সকল গৃহ হারালো যার - তসলিমা নাসরিন
সকল গৃহ হারালো যার - তসলিমা নাসরিন

কলাম সমগ্র তসলিমা নাসরিনের। নাম তার ‘সকল গৃহ হারালো যার’- কবিতার মতো, চুল খোলা শোকের মতো; শোক তার দীর্ঘ চুল খোলে, বিছিয়ে দেয় পূর্ণিমায় নীরবতা, অমাবশ্যায় আর্তনাদ।

গ্রন্থের নামকরণ, সকল গৃহ হারালো যার, এখানে ক্রিয়ার সমাপিকা-অসমাপিকা অনুপস্থিত অথচ রয়েছে বিস্তারিত প্রকাশ অথবা অজস্র সূচি মুখ। বড় অপরাধী হয়ে দেখি জেনানা ফাটক। হয়তো আপে, মনস্তাপ, দুঃখ-শোক, হাহাকার রুদ্ধমান হয়ে রয়েছে তবু শব্দের পরপর স্থাপনা ছোবল দিয়ে ওঠে; উষ্মা ও ক্রোধের বরফ ঠাণ্ডা প্রলেপে প্রতিফলিত তার কলমে।

তখন ছিল আশির দশক – অসহ-বিসহ এক সময় এসেছিল আমাদের জীবনে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে গণতন্ত্র শিক্ষা দেয়ার, জনগণকে অধ্যয়নে নিযুক্ত করার যে অপরিষ্কার সংস্কৃতি রক্ত ও অনলে, মৃত্যু ও স্তব্ধতার মধ্য দিয়ে ইত্যবসরে জারী হয়েছিল সম্প্রসারিত আরেক পর্বে উর্দিঅলা স্বৈরতন্ত্রে। বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে তখন এই দেশ।

সেই অকালে বোধন হয়েছিল নতুন গতিতে আরেক সশস্ত্র সুন্দর ভাষিক কলরোল, জন জাগানিয়া এবং চৈতন্য নির্ঘোষিত রাজনৈতিক কলাম নামে মুখরিত সেই এক প্রত্যাঘাত লিপি।

আমরা মনে করতে পারব হুমায়ুন আজাদ, শফিক রেহমান, মিনার মাহমুদ, তসলিমা নাসরিন প্রমুখদের। এখন অনেকে কার্টুন হয়ে গেছে, নাম তোলা রইল আবার কারো নাম দাগানো থাকল কিন্তু তার মধ্যে শেষ তক লড়ে যাচ্ছেন তসলিমা; মৃত্যু আলিঙ্গন করেছে মিনার মাহমুদকে আর স্বাধীন কথা প্রকাশের দায়ে ১৯৭১-এর ১৪ ডিসেম্বরের পর শহীদ হয়েছিলেন হুমায়ুন আজাদ।

হঠকারীতা পূর্ণ খুনীর দলের প্রতিনিধি বংশ বিস্তার করে বহাল তবিয়তে দেশে বিচরণশীল, তাদের নানা তকমা ও জার্সি অথচ মূল সুর একমাত্র, আদি ও অকৃত্রিম, এমন কি অদ্বিতীয় নির্মূলকরণ অভিপ্রায়ে হত্যা পুজিত রক্তোৎসব।

হায়! আক্রমণকারীরা সগৌরবে অস্তিত্ববান আর জ্যামিতিক হারে বর্ধিত ও সংস্কারপ্রাপ্ত। স্বাধীন কথা প্রকাশের দায়ে নিহত ও গৃহচ্যূত মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে এখন কোথাও দেখি না তাদের পাই না অন্য ঘরে অন্য স্বর রচিত করার ক্ষণকাল বরং পাই নিরাপদ তন্দ্রামগ্ন অথচ জন্মদানকারী মানুষময় মানচিত্র। উদ্বৃত্ব জনগণও কম নয় এই মরার দেশে।

জঙ্গী আসছে, যাচ্ছে; দশ ট্রাক অস্ত্র আসছে; আর্জেস গ্রেনেড আসছে কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনক বুঝি বা স্বাধীনতা ও স্বাধীন চিন্তা, কথা বলা ও সমাজ চিকিৎসা, অবিচারের সমীক্ষা, মিলিত কণ্ঠের বজ্রে ঘোষিত বাঁশী।

উপরন্তু নারী বলে কথা। দুই উরুর মাঝে তার অবস্থান অথচ সেই নাকি এক নারী ছিল যে কিনা দুই উরুর মধ্যবর্তী পুরুষকার নিয়ে বিদ্রুপে ধ্বনিত এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেয়েও ভয়ঙ্করভাবে আবার কিনা ফাঁস করে দিচ্ছে পুরুষকার এবং তজ্জনিত মন্ত্র-তন্ত্রের জারিজুরি, হক্কিকত- লুঙ্গি খুলে নিয়ে মাথায় গামছা পরিয়ে দিয়ে গেল।

কাকে কান নিয়ে গেছে। সকলে দৌঁড়াচ্ছে। কার কান, কী কান, কোন কান? দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে উত্তর জানার সময় নাই। কী যে করেছে, কে মেরেছে, কে বকেছে – হুশ নাই, মান + হুশের- এমনি বিপন্নতা তাদের মধ্যে চাড়িয়ে দেয়া হয়েছে যে, পাকস্থলি ও মল ভাণ্ডার পরিপূর্ণ করাসহ সংযোজিত উত্তম কাজটি হলো, যেন কান টানলে মাথা আসবে বলে এই এখন ‘তুমি আসবে বলে’ কান মর্দন করতে করতে কাকের পেছনে দৌঁড়। যে শহর কাকহারা, – খবর নাই, চোখে দেখা যায় না তবু নিত্য কাকের উৎপাদন ও কান পাকড়ানোর দৌঁড়, হৃদয়ে কখন যেন কাউয়া বসবাস করে তাদের- প্রকৃতির চাঁদ কাকে যেন কাঁচকলা দেখিয়ে দুটো হয়ে গেছে যথা, সাঈদীর চাঁদ আর অপরটা আদি চাঁদ। না, আদি মরণ চাঁদ নয়, এক নম্বর খাটি চাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বি চাঁদ মামা যে কত প্রকার ও কী কী ভাবে স্বাধীন মত প্রকাশের গাছপালা হয়েও দিব্যি হলি আর্টিজান পর্যন্ত নিষ্পন্ন করে বাচ্চা ভূত-ডিম ভূত থেকে ভূতের দাম্পত্য ও যৌনতার, মৌনতার ও সরবতায়, রক্ত-ঝরনার স্বপ্ন নিয়ে Fly to heaven হয়ে বসে পড়েছে।

স্বৈরাচারের দিনগুলোতে কবিতার অর যেমন প্রতিবাদে ভাস্বর ছিল তেমনি সাহিত্যিক-সাংবাদিকরা প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পেয়েছিলেন রাজনৈতিক কলামে এবং ঘটে গেল যেন মুক্তির পিপাসায় অগ্নির জল।

অপরাপরসহ তসলিমা নাসরিনকেও স্বৈরাচার বিরোধী সাক্ষাতে নয় বরং যেখানে অন্ধত্ব ও আস্ফালন- আনাচে কানাচে যে কোনও অপ্রিয়তায় ও প্রিয়কে ভালোবাসায়।

আবার বুঝিবা বাংলার প্রান্তর থেকে রৌদ্র উধাও হয়ে যাচ্ছে- শকুনের ডানায় অন্ধকার পিশাচী হয়ে উঠেছে- সময়ের নতুন যোদ্ধাদের সঙ্গে সেই প্রাচীনা আগুন তাতানো কলমে ঝলকিত ও বর্ষিত থাকল পেট্রল দিয়ে আগুন নেভানোর শিল্প।

তার লেখা, এই রাজনৈতিক কলাম নবোদ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় কাগজে ছাপা হয়েছে। সেখান থেকে নির্বাচিত কলাম নিয়ে এই গ্রন্থিত রূপঃ সকল গৃহ হারালো যার।

আরও হতবাক করেছে যে, সম্মানের সঙ্গে হুজুর ডাকে সমাজে যাদের অবস্থান, অনেকেই গ্রন্থ প্রকাশের পর হতে মেলায় শ্রাবণ স্টলে ভীড় করে বইটির পাতা উল্টেছেন; কিনেছেন অনেকে, শ্রাবণের থেকে অতিরিক্ত মূল্য ছাড়ও তাদের অভিনন্দিত করেছে। তারা খোশ হয়েছেন।

উপন্যাস লিখেছিলেন। নামটি মনে আসছে না তবে সেই বিশেষ রচনাটিকে কেন্দ্র করে নানা ইন্ধন ও ইত্যকার কূটচালে তাকে নির্বাসন দণ্ড প্রদানের একটি পথ তৈরি হয়েছিল। এখন যেসব সংঘটিত হচ্ছে, তসলিমা তা আগে-ভাগেই তার কাহিনীতে সেই উপন্যাসে বিন্যস্ত করেছিলেন বলেই তাকে নিজভূমে নির্বাসন থেকে অগত্যা জগতময় হওয়ার প্রেতি সৃষ্টি হয়ে গেল। অথচ এ কথা তো কারচুপি করেও অপ্রকাশিত রাখা যাচ্ছে না যে, এই দেশে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর ১০% এই দেশের মোট জনসংখ্যা হতে অদৃশ্য হয়ে গেছে। দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছেন। কী কারণে এমন ঘটেছিল- এখনও সেই প্রক্রিয়া চলমান- তা সুজন-দুর্জন কারো অজানা নয়।

তসলিমা এবং সকল সুবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষও যে আশ্চর্যভাবে সংখ্যালঘু হয়ে যাচ্ছে তথাকথিত ধর্ম অনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে- তা আজ অশেষ সত্য। ফলে সংখ্যালঘু আরেক মানুষ শুধুমাত্র উচিৎ বৃত্তান্ত রচনার জন্য বিভীষিকা মাথায় করে নিজ বাসভূমি হতে বহিস্কৃত হয়েছিলেন। তখন রোধ করা গেলে এবং তসলিমাকে রাষ্ট্র না দাবড়ালে বাংলাদেশের মাটিতে এই যে ২০১৪ থেকে আজ পর্যন্ত সংঘটিত দুষ্ক্রীতি থাকত না।

তবে ফলাফল সাধু, তসলিমার জন্য, এই কারণে যে, তিনি বৃহত্তর পরিসরে তার চিন্তা ও মননশীলতাকে উপস্থাপন করতে পেরেছেন।

তিনি কেবল সমাজ ও রাষ্ট্রকে চিকিৎসাও শুশ্রুষার ব্রত অবলম্বন করেন নাই তখন বরং অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের ডিগ্রী গ্রহণ করেছিলেন। তাকে স্বদেশচ্যূত করার মধ্য দিয়ে গরীব মানুষকে চিকিৎসা সেবাদানের সুযোগ এবং দেশের মানুষের জন্য চিকিৎসিত হওয়ার অবকাশটুকুও লুঠ করা হয়েছে।

দেশের গরীর-দু:খী মানুষের টাকায় একজন চিকিৎসক তৈরি হয় ফলে সেই সব মানুষের পক্ষে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার যেমন থাকে তেমনি স্বদেশের মাটিতে তার চিকিৎসা সেবা প্রদানের সাংবিধানিক নায্যতাকেও দৃঢ় স্থিত। তোয়াক্কা করা হয় নাই এসব। হচ্ছেও না।

এই প্রসঙ্গ উল্লে­খযোগ্য, কারণ, তার সরকারি চাকুরে হিসেবে ভারত ভ্রমণ অপরাধ হয়ে উঠেছিল তখন। তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং তিনিও বাধ্য হয়ে সরকারী দায়িত্ব হতে নিজেকে প্রত্যাহার করেন। তিনি চাকরি পরিত্যাগ করে সরকারের ইচ্ছাকে স্বস্তি না দিয়ে বিকল্প চোখের সামনে দৃশ্যমান পান নাই। পাওয়া সম্ভব ছিল না।

সূত্রঃ সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ
Channeli Online





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পুরুষ হচ্ছে ফুলফ্লেজেড হিউম্যান - তসলিমা নাসরিন

amarboi.comহেফাজতে ইসলামের নেতা আল্লামা শফীর বক্তব্য বেশ আলোচিত হচ্ছে ফেসবুক, ব্লগসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এ বক্তব্য নিয়ে কথা বলছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ। সম্প্রতি আল্লামা শফীর বক্তব্য নিয়ে ব্লগ লিখেছেন বিতর্কিত প্রবাসী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পাঠকদের জন্য তার লেখাটি হুবুহ তুলে দেয়া হলো।

মেয়েদের চোখে পুরুষও তো তেঁতুলের মতো
বাংলাদেশ থেকে খুব কমই ফোন আসে। বছরে একটি কিংবা দুটি। মাঝে মাঝে নিজেই আঁতকে উঠি। জন্মেছি, ও দেশেই কাটিয়েছি শৈশব কৈশোর যৌবন। ও দেশেই আছে আত্মীয় স্বজন, খেলার সাথী, ও দেশেই আছে একসময়ের সহপাঠীরা, সহকর্মীরা, লেখক-বন্ধুরা, অনুরাগী পাঠকেরা। দিব্যি ভুলে গেছে সবাই! তা যাক, আমিও ও নিয়ে দুঃখ করতেও অনেকদিন ভুলে গেছি। আজ কিন্তু ফোন আসা বা না আসা নিয়ে লিখতে বসিনি। লিখছি, কারণ বিকেলে একজন ফোন করেছিল দেশ থেকে। মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত। শাহবাগেও ছিল। আমার নিষ্ঠ পাঠক। বন্ধু। বললো, ‘আপনি কিছু লিখছেন না কেন, এই যে মেয়েদের তেতুঁলের সঙ্গে তুলনা করলো আল্লামা শফী’।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘আল্লামা শফীটাকে, শুনি?’ কথোপকথনটা তারপর এভাবে এগোলো।
হিফাজতে ইসলামের আমীর।
হিফাজতে ইসলামটা কী?
একটা মৌলবাদী দল। কয়েক লক্ষ লোকের মিছিল নামিয়েছিল ঢাকায়। এখন প্রচুর প্রতিবাদ হচ্ছে তার বক্তব্য নিয়ে। আপনার লেখা মিস করছি। লিখুন।
কেন প্রতিবাদ হচ্ছে? কী বলেছে সে?

জনসভায় বলেছে, ‘আপনারা মেয়েদের স্কুল, কলেজ, ভার্সিটিতে লেখাপড়া করাইতেছেন। কেন করাইতেছেন? তাদের ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াইবেন যাতে বিবাহ শাদী দিলে স্বামীর টাকা-পয়সার হিসাব রাখতে পারে। আপনার মেয়েকে স্কুল-কলেজ, ভার্সিটিতে পড়াইতেছেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করতেছেন। কিছুদিন পর আপনার মেয়ে, নিজে নিজে একটা স্বামী জোগাড় কইরা লাভ ম্যারেজ, কোর্ট ম্যারেজ কইরা চইলা যাবে। আপনার কথা স্মরণ করবে না। মহিলাদের ক্লাসে সামনের দিকে বসানো হয়, পুরুষরা কী লেখাপড়া করবে?’ আরও জঘন্য কথা বলেছে।
যেমন?
বলেছে, ‘আপনার মেয়েকে কেন দিচ্ছেন গার্মেন্টসে কাজ করার জন্য? চাকরি তো অনেকে করতেছেন। আপনি নিজে করতেছেন, আপনার বউ করতেছে, মেয়েরা করতেছে। কিন্তু তারপরওতো পারতেছেন না। খালি অভাব আর অভাব। আগের যুগে শুধু স্বামী রোজগার করত আর সবাই মিইলা খাইত। এখন বরকত নেই। সবাই মিল্লা এত টাকা কামাইয়াও তো কুলাইতে পারতেছেন না।

স্মার্ট হ্যাণ্ডসাম ছেলে দেখলে বরং মেয়েদের লালা আসাটা স্বাভাবিক
গার্মেন্টসে কেন দিচ্ছেন আপনার মেয়েকে? সকাল ৭-৮টায় যায়, রাত ১০-১২টায়ও আসে না। কোন পুরুষের সঙ্গে ঘোরাফেরা করে, তুমি তো জান না। কতজনের সঙ্গে আপনার মেয়ে চলছে তা তো জানেন না। জেনা কইরা টাকা কামাই করতেছে, বরকত থাকবে কেমনে। মেয়েদের কাজ ঘরের ভেতর। নারীদের ঘরে থাকতে বলেছে ইসলাম। তোমরা জাহিলিয়াতের সময়ের মতো বেপর্দায় ঘর থেকে বাইর হইও না, উলঙ্গ অবস্থায় মাঠে-ঘাটে-হাটে আপনারা মহিলারা মার্কেট করতে যাবে না। স্বামী আছে সন্তান আছে তাদের যাইতে বলবেন। আপনি কেন যাবেন? আপনি স্বামীর ঘরের মধ্যে থাইকা উনার আসবাবপত্র এগুলার হেফাজত করবেন। ছেলে-সন্তান লালন-পালন করবেন। এগুলা আপনার কাজ। আপনি বাইরে কেন যাবেন?’
তাই নাকি?

বলেছে, ‘জন্মনিয়ণ্ত্রণ কেন করেন? বার্থ কণ্ট্রোল কেন করেন? বার্থ কন্ট্রোল হলো পুরুষদের মরদা থাইকা খাসি কইরা ফেলা। মহিলাদের জন্মদানী সেলাই কইরা দেয়া। এরই নাম বার্থ কন্ট্রোল। বার্থ কন্ট্রোল করলেও ডেথ তো কন্ট্রোল করতে পারবা না। রিজিকের মালিক হচ্ছে আল্লাহ। খাওয়াইব তো উনি। তুমি কেন বার্থ কন্ট্রোল করবা? বড় গুনাহের কাজ এইটা। পারলে চাইরটা পর্যন্ত বিবাহ করবা। খাওয়াইব তো আল্লাহ। বার্থ কন্ট্রোল করবা না। এইটা বড় গুনাহের কাজ’।

দেশে এত গরিব। আল্লাহ তো ঠিকমতো খাওয়ায় না ওদের। খাওয়ালেও ভালো পুষ্টিকর খাবার, মাছ মাংস এসব তো খাওয়াতে পারে না। ওরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে তবে খাবার যোগাড় করে। আর তা না হলে না খেয়ে মরে। ওদিকে আল্লাহ আবার ধনীদের পাতে খুব সুস্বাদু খাবার ঢেলে দিচ্ছেন। আর কী বলেছে? তেঁতুল টেতুল কী যেন তখন বলছিলে!

বলেছে, ‘মেয়েরা হচ্ছে তেঁতুলের মতো। ছোট্ট একটা ছেলে তেঁতুল খাইতেছে, তা দেখলে আপনার মুখ দিয়া লালা ঝরবে। তেঁতুল গাছের নিচ দিয়া আপনি হাঁইটা যান তাইলেও আপনার লালা ঝরবে। দোকানে তেঁতুল বিক্রি হইতে দেখলেও আপনার লালা ঝরবে। ঠিক তেমনি মহিলাদের দেখলে দিলের মাঝে লালা ঝরে। বিবাহ করতে মন চায়। লাভ ম্যারেজ কোর্ট ম্যারেজ করতে মন চায়।

দিনরাত মেয়েদের সঙ্গে পড়ালেখা করতেছেন, আপনারা দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। রাস্তাঘাটে মেয়েদের সঙ্গে চলাফেরা করতেছেন, আপনার দিল ঠিক রাখতে পারবেন না। যতই বুজুর্গ হন আপনার মনের মাঝে কু খেয়াল আইসা যাবে। এইটা মনের জেনা, দিলের জেনা। এইটা এক সময় আসল জেনায় পরিণত হবে’। আপনার রিয়েকশান?

প্রতিদিন ঘরে বাইরে মেয়েরা যৌনবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে
তেতুঁল আমি খুব পছন্দ করতাম ছোটবেলায়। এখনও জিভে জল চলে আসে তেঁতুল দেখলেই। এত ফল থাকতে আল্লামা লোকটা তেঁতুল বেছে নিয়েছে কেন? ছেলেরা তো অত তেঁতুল পছন্দ করে না। মেয়েরা পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে বরং কোনও ছেলেকে দেখলে মেয়েদের মনে হতে পারে ছেলেটা তেঁতুলের মতো। স্মার্ট হ্যাণ্ডসাম ছেলে দেখলে বরং মেয়েদের লালা আসাটা স্বাভাবিক। ছেলেদের, ধরা যাক, কোনও কারণে লালা এলো। লালা এলে লালা ঝরতে দেওয়াই ভালো। বিয়ে করতে মন চাইলে করবে। এতে আপত্তিটা উঠছে কেন। সেক্স, বিয়ে, এসব তো অন্যায় কোনও কাজ নয়। অন্যায় কাজ হল, অন্যের আপত্তি সত্ত্বেও গায়ের জোরে সেক্স করা বা গায়ের জোরে বিয়ে করা।

উফ। আল্লামা শফীর কথার প্রতিবাদ করুন, সিরিয়াসলি করুন।
একটা অশিক্ষিত মিসোজিনিস্ট কী বললো না বললো, তা নিয়ে অত ভাবছো কেন? ওই ব্যাটাকে এত মূল্য দেওয়ার কী আছে?
কী বলছেন, এত সব বাজে কথা বলে পার পেয়ে যাবে? আপনি প্লিজ প্রতিবাদ করুন।

পার তো পেয়েই যাবে। প্রতিবাদ করলেও পাবে, না করলেও পাবে। লোকটা শুধু বলেছে। যা বলেছে, সেই মতো কাজ করে লক্ষ লক্ষ লোক প্রতিদিন পার পেয়ে যাচ্ছে। কাউকে তো দোষ দিচ্ছ না। বেচারা আল্লামাকে দোষ দিচ্ছ কেন খামোকা? প্রতিদিন মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মেয়েদের চাকরি করতে দেওয়া হচ্ছে না, বার্থ কন্ট্রোল করতে দেওয়া হচ্ছে না, মেয়েদের দিয়ে পুরুষের ঘর সংসার সন্তান সামলোনার কাজ করানো হচ্ছে। প্রতিদিন ঘরে বাইরে মেয়েরা যৌনবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। লোকটা এসব কথা না বললেও এভাবেই চলছিল সমাজ।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণেই তো চলছিল। লোকটা, আমার মনে হচ্ছে, খুব সৎ লোক। পলিটিক্যালি কারেক্ট হওয়ার কায়দাটা এখনও শেখেনি। ধুরন্দররা ওসব শিখে নেয় আগেভাগে। তারপর তলে তলে সমাজটাকে নষ্ট করে। আল্লামা কিন্তু নতুন কোনও কথা বলেনি। সবার জানা কথাগুলোই বলেছে।
একটা মৌলবাদীকে সৎ লোক বলছেন?

লোকটা যা বিশ্বাস করে, তা অকপটে বলে দিয়েছে
বলছি কারণ লোকটা যা বিশ্বাস করে, তা অকপটে বলে দিয়েছে। সমাজের ভদ্রলোকেরা মনের কথাটা বলে না। লুকিয়ে রাখে। লুকিয়ে রেখে ওপরে আধুনিক হওয়ার ভাব দেখায়। ভাব দেখায় তারা মেয়েদের স্বাধীনতায় আর অধিকারে বিশ্বাস করে। টোকা মেরে দেখ কিছুই আসলে বিশ্বাস করে না। আসলে সবাই প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে ওই আল্লামা শফীর আদর্শেই বিশ্বাস করে। আল্লামার আদর্শ তো আসলে আল্লাহ পাকের আদর্শ, হযরতের আদর্শ। কোরানে আছে, শত শত হাদিসেও লেখা আছে এসব কথা। চারটে বিয়ের কথা কি আল্লামা প্রথম বললো? ও তো স্বয়ং আল্লাহ পাকই বলে দিয়েছেন।

তার পর ধরো, মেয়েদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার কথা, পর পুরুষের সামনে না যাওয়ার কথা। এসব তো হাদিসের কথা। ঘরের বার না হলে, পর পুরুষের সামনে না গেলে তুমি ইস্কুল কলেজে যাবে কী করে শুনি, চাকরি বাকরি করবে কী করে! ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করবে, আবার নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাস করবে, তা তো হয় না! দুটো পরস্পরবিরোধী জিনিস।
দেশের মানুষ তো আল্লামার মতো এত ছোটলোক নয়।

মানুষ আবার দল বেঁধে বড় লোক কখন হলো? হয়তো কেউ কেউ ছোটলোক নয়। তবে আল্লামা যা বলেছে, তা বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষের মনের কথা। হয়তো মেয়েদের ঠিক ক্লাস ফোর পর্যন্ত পড়ানোর বদলে কেউ কেউ ক্লাস এলেভন টুয়েলভ অবধি পড়াতে চায়, কেউ এম এ. বি এ বা তারও বেশি পড়াতে চায়, কেউ কেউ মেয়েরা চাকরি করুক তাও চায়, তারাও দেখ গিয়ে মেয়েদের তেঁতুলের মতোই মনে করছে।

অধিকাংশ লোকই মেয়েদের তেঁতুলই ভাবে
আপনি বলছেন অন্য লোকও মেয়েদের তেঁতুলের মতো মনে করছে। শুধু আল্লামা নয়?
তা তো নয়ই। অধিকাংশ লোকই মেয়েদের তেঁতুলই ভাবে। কেন, কত পুরুষ-কবি মেয়েদের কত ফুল-ফলের সঙ্গে তুলনা করেছে, পড়োনি? কমলা, ডালিম, আপেল, পেয়ারা, আনারস, গোলাপ, বেলি আরও কত কিছু বলে ডেকেছে মেয়েদের শরীরের নানা অংশকে। কেবল তেঁতুল বললেই রাগ হয়? তেঁতুল খুব সস্তা ফল বলে? দামী ফলের সঙ্গে তুলনা করলে হয়তো এত রাগ হতো না।

মেয়েরা জন্মেছে পুরুষের যৌন তৃষ্ণা মেটানোর জন্য
শুধু ফুল ফল! সবজিও তো আনা হয়েছে তুলনায়। পটলচেরা চোখ! শোনো, নারী-পুরুষের যৌন আকর্ষণ থাকাটা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু নারীকে নিতান্তই বস্তু ভাবাটা, যৌন-বস্তু ভাবাটা ঠিক নয়। যেন গোটা মানুষটা একটা ভ্যাজাইনা, গোটা মানুষটা একজোড়া স্তন, গোটা মানুষটা ত্বক, নাক চোখ, চুল; আর কিছু নয়। যেন মেয়েদের জ্ঞান বুদ্ধি, চিন্তা ভাবনা, ইচ্ছে অনিচ্ছে, নিজস্বতা, স্বকীয়তা, সম্মান, ব্যক্তিত্ব এসব নেই, বা এসব থাকলেও এসবের কোনও মূল্য নেই। মেয়েরা যেন নিজের জন্য জন্মায়নি, জন্মেছে পুরুষের জন্য, পুরুষের যৌন তৃষ্ঞা মেটানোর জন্য। তেঁতুলের প্রসঙ্গ তো এলো সে কারণে। ওই লোক কিন্তু পুরুষকে তেঁতুল বলেনি। মেয়েদেরও তো যৌন তৃষ্ঞা আছে বাবা!

যদি পুরুষের চোখে মেয়েরা তেঁতুলের মতো, মেয়েদের চোখে পুরুষও তো তেঁতুলের মতো। কিন্তু এরা মেয়েদের যৌনতাকে কোনওদিন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে তো করেই না, বরং অস্বীকার করে, ওটি থাকলে মেয়েদের বেশ্যা বলে গালাগাল করে। এদের চোখে, পুরুষ হচ্ছে ফুলফ্লেজেড হিউম্যান, আর মেয়েরা হচ্ছে সেক্স-অবজেক্টস কাম স্লেভস। পুরুষকে যৌনতৃপ্তি দেওয়ার, পুরুষের সন্তান জন্ম দেওয়ার, সেই সন্তানকে লালন পালন করার, ঘর সংসারের সব কাজকর্ম করার, রান্নাবান্না করার, পরিবেশন করার কাজ ছাড়া তাদের আর কোনও কাজ নেই। পু্রুষের মা, স্ত্রী, বোন, কন্যা– এসবই হচ্ছে মেয়েদের পরিচয়। আর কোনও পরিচয় সমাজের ক’টা লোক মানে, বলো! পুরুষতন্ত্র হচ্ছে মেয়েদের বন্দি করে রাখার জন্য বোরখার মতো একটা বন্ধ কারাগার।

কেউ তো আল্লামা শফীর মতো এমন আজগুবি কথা আগে বলেনি!
সবাই বলছে। আল্লামা রাখঢাক না করে, একটু অসভ্য ভাষায় বলেছে, এই যা। সভ্য ভাষায় সভ্য লোকেরা যখন বলে, ওটা তোমাদের শুনতে অত মন্দ লাগে না। কোরান হাদিসও ভালো করে পড়ে দেখ, এসব কথাই লেখা আছে। কোরান হাদিস হচ্ছে কট্টর পুরুষতন্ত্র। ঠিক আল্লামার ভাষায় কথা বলে, চৌদ্দশ বছর আগে একজন লোক আল্লাহর পেয়ারা বান্দা, বন্ধু, মেসেঞ্জার, রসুল ইত্যাদি বনে গিয়েছিল। সেই রসুলকে তোমরা মন প্রাণ ঢেলে শ্রদ্ধা করছো, তাকে বিশ্বাস করছো, আর ঠিক একই ধরণের কথা বললেও আজ আল্লামা শফীকে বিশ্বাস করছো না, তাকে বরং তোমরা ঘৃণা করছো।

রীতিমত কন্ট্রাডিকটরি। কেন আল্লামাকে নিন্দা মন্দ করছো, সে তো তোমাদের রসুলে করিমের বিশ্বাসের উল্টো কোনও কথা বলেনি! রসুলের কথাগুলোই ইনোসেন্টলি যুগোপযুগী করে রিপিট করেছে আল্লামা।
কী বলছেন?

কী চাও? বৈষম্য নাকি সমতা, বর্বরতা নাকি মানবতা
হ্যাঁ। যা বলছি ঠিকই বলছি। কী চাও? বৈষম্য নাকি সমতা, বর্বরতা নাকি মানবতা- একটাকে তোমাদের বেছে নিতে হবে। ধর্মে, সোজা কথা সাফ কথা- সমানাধিকার নেই, সত্যিকার মানবতাও নেই। আগেই বলেছি, ধর্ম আগাগোড়াই, মানে টপ টু বটম পুরুষতন্ত্র। যদি ইসলামে কারও অবিশ্বাস থাকে তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলার কথা লেখা আছে। এর চেয়ে মানবতা বিরোধী কাজ আর কী হতে পারে!

অ্যাডাল্টারি করলে পাথর ছুড়ে মেরে ফেলতে হবে মেয়েদের। মেয়েদের আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হবে। কারণ তাদের দেখলে পুরুষের যৌন-ইচ্ছে জাগতে পারে। পুরুষের যৌন ইচ্ছে জাগতেই পারে, জাগুক। মেয়েদের যদি একই সঙ্গে সেই ইচ্ছেটা না জাগে, তবে পুরুষকে কণ্ট্রোল করতে হবে। একই রকম মেয়েদের বেলাতেও।
পুরুষরা তো কন্ট্রোল করতে জানে না।

কে বলেছে জানেনা? ঠেকায় পড়লে ঠিকই জানে। কিন্তু ঠেকা নেই তো এখন। পুরুষরা এই সমাজের মাতব্বর। মাতব্বরেরা বলে দিয়েছে, যৌনআকাংক্ষা সংযত করার কোনও দরকার নেই। তারা যা খুশি করতে পারো। যার ওপর ইচ্ছে তার ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়ার, ধর্ষণ করার অধিকার তাদের আছে। তাদের পেশিতে শক্তি আছে, মেয়েদের ওপর পেশির শক্তি তারা খাটাবে। এই শক্তি আল্লাহর দেওয়া। জগতটা তাদের। তাদের স্ফূর্তির জন্য। কিন্তু তা তো আসলে নয়। জগতটা নারী পুরুষ উভয়ের।

পরস্পরের প্রতি সম্মান না থাকলে জগতটাতো চলবে না। আমরা যত সভ্য হচ্ছি, তত সমাজ পাল্টাচ্ছি। আমরা বলে কয়ে নিয়েছি যে আমরা পেশি দিয়ে বা পুরুষাঙ্গ দিয়ে জগত, রাষ্ট্র বা সমাজ চালাবো না। বুদ্ধি দিয়ে চালাবো। সুবুদ্ধি দিয়ে। সুবিবেচনা দিয়ে।
অবশ্য সব পুরুষ এক নয়। সব পুরুষই ধর্ষণ করে না।

অবশ্যই সব পুরুষ এক নয়। অনেক পুরুষই নারীর সমানাধিকারে বিশ্বাস করে। কিন্তু তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই কম। এই সংখ্যাটা দ্রুত বাড়া উচিত। শুধু পুরুষ নয়, নারীর সমানাধিকারে বিশ্বাস করা নারীর সংখ্যাও খুব বেশি নয়। ওই সংখ্যাটাও বাড়াতে হবে।
আর আল্লামার কী হবে? ওর অনুসারীর সংখ্যা তো অনেক বেশি।

মানুষকে বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারোনি বলে মানুষ গোঁড়ামির মধ্যে বড় হচ্ছে
সে ওর কৃতিত্ব। তোমরা পিতৃতন্ত্রকে দূর করতে পারোনি বলেই এমন হচ্ছে। মানুষকে বিজ্ঞান শিক্ষায় যথেষ্ট শিক্ষিত করতে পারোনি বলে মানুষ আজ অন্ধত্ব, কুসংস্কার, গোঁড়ামির মধ্যে বড় হচ্ছে। সমতা সমানাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে মানুষকে শিক্ষিত করোনি বলে নারীবিরোধিতা, নারী ঘৃণা, পুরুষপ্রাইড ইত্যাদি নিয়ে বেড়ে উঠেছে। বেড়ে উঠেছে বলেই সহজেই আল্লামা শফীর কথাগুলো তাদের মনোপুত হয়। শফীর প্রতিবাদ করে যত না কাজ হবে, তার চেয়ে বেশি কাজ হবে যদি প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করো মেয়েদের অধিকার সম্পর্কে, মানবাধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জ্ঞান দিতে।

ইস্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষা কম্পোলসারি করো। ধর্ম শিক্ষা উঠিয়ে দাও ইস্কুলের সিলেবাস থেকে। ধর্ম শেখার জিনিস নয়। ধর্ম বিশ্বাস করার জিনিস। হাবিজাবি আজগুবি গপ্প চোখ কান বুজে বিশ্বাস করার জিনিস। ও ঘরে বসে যত পারো বিশ্বাস করো। তবে বিজ্ঞানটা ভালো ভাবে অন্তস্থ করলে ধর্ম থেকে বিশ্বাস উঠবেই। এবং এতেই হবে পুরুষতন্ত্রের, ধর্মের, আল্লামা শফীর আর আল্লাহর নবীর আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করা। শহরের মোড়ে দাঁড়িয়ে, প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে চিল্লিয়ে, দু’চারটে কলাম লিখে সমাজটাকে খুব বেশি বদলানো যায় না। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছোতে হবে তোমাদের। মুশকিল হল, বছরগুলোকে গড়িয়ে যেতে দিয়েছো, আর এই ফাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে আল্লামারা। তাই ডাক দিলে পিঁপড়ের মতো লোক বেরিয়ে আসে রাস্তায়। চোখের সামনে কী দ্রুত তৈরি হয়ে গেল একটা গণ্ডমূর্খের সমাজ। বড় দুঃখ হয়।





This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শরম - তসলিমা নাসরিন

61an77ws83u4gmy শরম - তসলিমা নাসরিন
তসলিমা নাসরিন বলছেন, শরম হলো লজ্জার পরবর্তী ঘটনা। লজ্জা পড়া থাকলে এইটাও ভালো লাগবে আশা করি।
মেয়েটি উঠতে চায় নিজে, পারে না। সুরঞ্জনকে উঠে মেয়েটাকে তুলে ধরতে হয়। তার সারা গায়ে ব্যাথা। জায়জায় জায়জায় ক্ষত, কোনওটাতে রক্ত। ও নিয়েই সে জুলেখাকে সায়া ব্লাউজ পরিয়ে দেয়, শাড়ি পরিয়ে দেয়। মেয়েটার সম্ভবত মাথা ঘোরায়, দাঁড়াতে গেলেই পরে যেতে নেয়। সুরঞ্জন জড়িয়ে ধরে রাখে। ধীরে ধীরে মেয়েটাকে নীচে নামিয়ে সে ট্যাক্সিতে তোলে। রাস্তার লোকেরা হয়তো ভেবে নেয় যে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে জাক্তারের কাছে যাচ্ছে যাচ্ছে ভদ্রলোক। ভদ্রলোকই বটে আজ সুরঞ্জন। পার্ক সার্কাসের গলিতে ঢুকে বাড়ির দরজার কাছে সিড়িতে জুলেখাকে রেখে সুরঞ্জন অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে যায়। ভেতর খেকে কেউ নিশ্চই খুলে দেবে। স্বামী বা কেউ। ট্যাক্সিতে জুলেখাকে উঠিয়ে দিলেই জুলেখা বাড়ি ফিরে যেতে পারতো, সুরঞ্জনেরও কোনো ঝুঁকি নেওয়া হতো না। কিন্তু ঝুঁকি যে আছে নিজে পৌঁছে দেওয়ায়, ভাবেনি। তাকে পুলিশ ধরতে পারতো, পাড়ার লোকেরাও ঘেরাও করতে পারতো, মুসলমান গুন্ডারা মেরে হাড়েগোড় ভেঙে দিতে পারতো।
Download and Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ছোট একটা বেলিফুলের গাছ ছিল উঠোনে - তসলিমা নাসরিন

Taslima Nasreen
Taslima Nasreen
Taslima Nasreen
Taslima Nasreen
পাঠক বইটি পড়বে এটাই আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। আমরা চাই পাঠক বইটি পড়ুক, আলোচনা, সমালোচনা করুক, তাহলেই আমাদের সার্থকতা। নইলে এতো কষ্ট বৃথা, তাই আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম। আর্থিক ভাবে আমাদের সহায়তা করবার জন্য, অনুরোধ রইলো আমারবই.কম এর প্রিমিয়াম সদস্য হবার। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীল বড় লেখক ছিলেন, মানুষ হিসেবে মোটে নয় - তসলিমা নাসরিন

sunil gangopadhyay taslima nasrin
সুনীল বড় লেখক ছিলেনমানুষ হিসেবে মোটে নয় - তসলিমা নাসরিন
যে কোনও মৃত্যুই খুব বেদনার৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর শুনে গত কাল আমি চমকেছি , বেদনাবোধ করেছি৷ বার বার ভেবেছি , কত লোক খামোকাই বেঁচে আছে , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আরও কিছু বছর বেঁচে থাকলেই পারতেন , লিখতে পারতেন আরও কিছু লেখা৷ আজকাল আটাত্তর বা ঊনআশি বছর বয়সকে মৃত্যুর উপযুক্ত বয়স বলে মনে হয় না৷ দীর্ঘকাল চলত্শক্তিহীন অবস্থায় বিছানায় পড়ে না থাকলে , মাথা সম্পূর্ণ অকেজো না হয়ে গেলে , বয়স নব্বইয়ের ওপর না উঠলে মৃত্যুকে মেনে নিতে আমাদের কষ্ট হয়৷ প্রায় অর্ধেক দিন টেলিভিশন খোলা ছিল৷ টেলিভিশনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের শেষ দিককার কিছু ছবি দেখে অবাক হয়েছি৷ তাঁর স্বাস্থ্য যে এত ভেঙে পড়েছিল , আমার জানা ছিল না৷ বড়ই রুগ্ন এবং অসুস্থ দেখাচ্ছিল৷ জানি না কোনও কঠিন অসুখে ভুগছিলেন কি না৷ অবাক হয়েছি আরও একটি কারণে৷ শিল্পী -সাহিত্যিকদের মধ্যে দু’একজন , যাঁদের আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি ভীষণ নিন্দা করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের , তাঁরা ভূয়সী প্রশংসা করছিলেন৷ প্রকাশ্যে মনের কথা বলার লোক এত কমে যাচ্ছে চারদিকে৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা -গল্প -উপন্যাস -নিবন্ধ পড়ছি সেই কিশোর -বয়স থেকে৷ তাঁর খুব কম লেখাই আছে , যে গুলোকে ‘যাচ্ছেতাই ’ বা ‘কিচ্ছু হয়নি ’ বলে নাকচ করে দিয়েছি৷ তাঁর যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত , তা হল নাস্তিকতা নিয়ে তাঁর লুকোছাপা না করা৷ ধর্মনিরপেক্ষতা , দেশভাগ , মুক্তিযুদ্ধ, হিন্দু-মুসলমান , বাংলা এবং বাঙালি , নাস্তিক্যবাদ , অস্তিত্ববাদ ইত্যাদি নিয়ে তাঁর যে মত ছিল , তা একেবারেই আমার মত৷ এত মতের মিল যাঁর সঙ্গে , তাঁর সঙ্গে বিরোধ কেন ! অবশ্য বিরোধটা আমার দিক থেকে কখনও ছিল না৷ তিনিই গোপনে গোপনে আমার পায়ের তলার মাটি সরাতে চেষ্টা করছিলেন৷ কেন করছিলেন , কী প্রয়োজন ছিল তাঁর , আজও জানি না৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে চিনি বাংলাদেশ থেকেই৷ আশির দশকের শেষ দিকে পরিচয়৷ বাংলাদেশে দেখা হত , কলকাতায় বেড়াতে এলেও দেখা হত৷ বাড়িতে নেমন্তন্ন করতেন৷ কবিতা এবং কলাম লিখে তখন আমার বেশ নাম হয়েছে দেশে৷ তার পর বিরানব্বইয়ের ‘আনন্দ পুরস্কার ’ পাওয়ার পর তো সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আবারও দেখা হল৷ অনেককে বলতেও শুনেছি , ‘সুনীলই তো তসলিমাকে আনন্দ পুরস্কার পাইয়ে দিয়েছে৷ ’ আমিও তাই ভেবেছিলাম৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কেও এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে দেখিনি৷ বেশ কয়েক বছর পরে অবশ্য জেনেছিলাম সুনীল গঙ্গোপাাধ্যায়ই ‘আনন্দ পুরস্কার ’ কমিটির দশ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র সদস্য যিনি ৷ আমার পুরস্কার পাওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন৷ শুধু বিরানব্বইয়ে নয় , দু’হাজার সালেও বিরোধিতা করেছেন , যখন দ্বিতীয়বার ‘আনন্দ পুরস্কার ’ পেয়েছি৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে দেখে অবশ্য কখনও আমি বুঝতে পারিনি তিনি গোপনে গোপনে আমার বিরুদ্ধে কাজ করেন৷ বন্ধুর মতো , শুভাকাঙ্ক্ষীর মতো , দাদার মতো , পিতার মতো তিনি পাশে ছিলেন বলেই বিশ্বাস করতাম৷ অবশ্য সব ভাবনার অবসান হল , যখন তিনি প্রকাশ্যে আমার ‘দ্বিখণ্ডিত ’ বইটি নিষিদ্ধ করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবদার করলেন এবং বইটি শেষ অব্দি নিষিদ্ধ করিয়ে ছাড়লেন৷ একজন লেখকের জন্য এর চেয়ে ভয়ঙ্কর হূদয়বিদারক আর কী হতে পারে , যখন সে প্রত্যক্ষ করে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ লেখক তার বাক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গিয়ে , মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এই অজুহাতে তার বই নিষিদ্ধ করার জন্য রাজা -মন্ত্রীর কাছে দৌড়ায় ! সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অবিশ্বাস্য বিরোধিতা সত্ত্বেও , কখনও দেখা হলে স্বভাবসুলভ সশ্রদ্ধ আন্তরিক ব্যবহারই ৷ যে গৃহহীন মানুষটা পশ্চিমবঙ্গকে ভালবেসে সব ছেড়েছুড়ে এসেছিল , তাকেই কি না তাড়িয়ে দেওয়ার ষ ..ডযন্ত্র ! রাজনীতিতে কত কাণ্ডই ঘটে! কিন্ত্ত তাই বলে সাহিত্যিকরা আচরণ করবেন রাজনীতিকের মতো !৷ করেছি৷ কখনও আমি ভুলে যাইনি তিনি আমার প্রিয় লেখক , কিশোর বয়স থেকে আমি তাঁর লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়েছি , কখনও ভুলে যাইনি অন্য একশ বিষয়ে তাঁর মতের সঙ্গে মেলে আমার মত৷ নিজেকে বুঝিয়েছি৷ তিনি মুখে আমার লেখা ভীষণ পছন্দ করেন বললেও হয়তো সত্যিকার পছন্দ করতেন না , সেই কারণেই আমার পুরস্কার পাওয়ার বিরুদ্ধে ছিলেন৷ নিজেকে বুঝিয়েছি , মুক্ত চিন্তার পক্ষে বললেও তিনি হয়তো আমার লেখা পছন্দ করতেন না বলে আমার বাক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন , এই যাওয়ার অধিকার হয়তো তাঁর আছেই৷ কলকাতায় দু’হাজার চার সাল থেকে নিজের মতো বাস করতে শুরু করেছি সাহিত্যের গুরুকে গুরুপ্রণাম না করেই৷ তার পর আমার নিষিদ্ধ হওয়া ‘দ্বিখণ্ডিত ’কে হাইকোর্ট থেকে মুক্ত করিয়ে এনেছি৷ আমার স্পর্ধার ফল অবশ্য পেতে শুরু করেছি শীঘ্র৷ লক্ষ্য করলাম আমি প্রায় সবখানে ব্রাত্য৷ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বন্ধুরা , যারা এক সময় আমারও বন্ধু ছিল , আমাকে রীতিমত ত্যাজ্য করেছেন৷ ধীরে ধীরে কিছু পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা বন্ধ হয়ে গেল , কিছু প্রকাশক আমার বই প্রকাশও বন্ধ করে দিলেন৷ আমি অনেকটা একঘরে৷ এক সময় তো সরকার থেকে চাপ এল আমি যেন কলকাতা ছেড়ে চলে যাই৷ যে গৃহহীন মানুষটা পশ্চিমবঙ্গকে ভালোবেসে সব ছেড়েছুড়ে এসেছিল , তাকেই কি না তাড়িয়ে দেওয়ার ষ ..ডযন্ত্র ! ৷ রাজনীতিতে কত কাণ্ডই ঘটে! কিন্ত্ত তাই বলে সাহিত্যিকরা আচরণ করবেন রাজনীতিকের মতো ! যখন আমি পশ্চিমবঙ্গের মাটি কামড়ে পড়েছিলাম , বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন , পুলিশ কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায় আমাকে তাড়াবার নানা রকম আয়োজন করে হেরে যাচ্ছেন , তখন স্বয়ং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ফোন করে আমাকে বলেছেন রাজ্য ছাড়তে৷ বলেছেন , ‘‘আমাদের কাছে খবর আছে , তোমাকে মেরে ফেলার জন্য এক দল লোক তৈরি হচ্ছে , তুমি রাজ্য ছাড়ো ’’৷ ঠিক যেমন ‘দ্বিখণ্ডিত ’ নিষিদ্ধ করার জন্য ‘আজকাল ’ পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন , ‘‘আমাদের কাছে খবর আছে , এই বইয়ের জন্য দাঙ্গা বাধবে , তাই আমরা বই নিষিদ্ধ করেছি , স্ফুলিঙ্গকে বারুদের কাছে যেতে দিইনি ’’৷ শাসকের সুরে কথা বলতেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়৷ এই সমাজ সাংঘাতিক নোংরা , পুরুষতান্ত্রিক বলে সুনীলকে ‘বড় মানুষ ’ আখ্যা দিয়ে গুণকীর্তন করে চাটুকাররা৷ যারা সুনীলের যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছে , তারা মুখ বুজে থাকলেও জানে এবং মানে যে সুনীল মানুষ হিসেবে বড় ছিলেন না৷ সে দিন কথা প্রসঙ্গে আমাকে এবং আরও মেয়েকে সুনীল যৌন হেনস্থা করেছেন , এ কথা বলার পর সুনীলকে দোষ দেওয়ার বদলে লোকেরা দোষ দিল আমাকে৷ ছি ছি করল আমাকে ! সুনীলও দিব্যি অস্বীকার করলেন খবর৷ যেমন অস্বীকার করেন আমার বই নিষিদ্ধ করার জন্য তিনি যে উঠে পড়ে লেগেছিলেন , সে সব ঐতিহাসিক ঘটনা৷ এত বড় লেখক কী নির্দ্বিধায় মিথ্যে বলেন ! আমি স্তম্ভিত হয়ে যাই৷ আজ যদি কোনও সভ্য দেশে কোনও পুরুষ লেখকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আসে , লোকেরা লেখককে , সে যত ব .ড লেখকই হোক না কেন , ছি ছি করবে৷ কিন্ত্ত এ দেশে উল্টো ! হবে না কেন , এখনও ধর্ষিতা হলে ধর্ষণের জন্য বেশির ভাগ লোক ধর্ষিতাকেই দোষী সাব্যস্ত করে৷ এ দেশের থেকে এর চেয়ে ভালো আশা করার কী -ই -বা আছে !যত শত্রুতাই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় করুন না কেন , আমি নিজেকে তাঁর থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রেখেছিলাম , তাঁর শত্রুতা করিনি বা তাঁর পাকা ধানে মই দিইনি৷ আমি বিশ্বাস করি , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক৷ আমি হয়তো কাছ থেকে তাঁর চরিত্রের মন্দ দিকটা দেখেছি , বাইরের লোকদের তা দেখা সম্ভব হয় না বলে ভাল দিকটাই দেখেন৷ তাতে কী ? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা তাঁরা যেমন ভালোবাসেন , আমিও তেমন বাসি৷ এবং এ -ও জানি , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মধ্যে যদি সামান্য কোনও সততা থেকে থাকে , তিনি নীরবে নিভৃতে আমার সততার কারণে আমাকে মনে মনে শ্রদ্ধা করেছেন৷ তাঁর অজস্র চাটুকার ছিল৷ চাটুকাররা প্রতিদিন তাঁর কাছে ভিড় করত৷ ওদের ছাড়া সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রাত কাটেনি দিন কাটেনি , কিন্ত্ত ওদের তিনি খুব ভালোবাসতেন বা শ্রদ্ধা করতেন বলে আমার কখনও মনে হয়নি৷
You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature. Also try our chrome extension.
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

লজ্জা - তসলিমা নাসরিন

amarboi

লজ্জা
তসলিমা নাসরিন


বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com