সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label শওকত ওসমান. Show all posts
Showing posts with label শওকত ওসমান. Show all posts

উপন্যাস সমগ্র ০৩ - শওকত ওসমান

উপন্যাস সমগ্র ০৩ - শওকত ওসমান উপন্যাস সমগ্র ০৩ - শওকত ওসমান

শওকত ওসমান এটি লেখকের ছদ্মনাম। তার আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। পিতা: শেখ মোহম্মদ এহিয়া, মাতা; গুল আর্জান বেগম। জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯১৭, পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার খনাকুল থানার সবলসিংহপুর গ্রামে। পাড়ার নাম মেহেদি-মহল্লা।
গ্রামের মাদ্রাসার লেখা-পড়া শেষে ১৯২৯-এ ভর্তি হন কলকাতার মাদ্রাস-এ-আলিয়ায়। ১৯৩৩ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৩৪-এ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি এবং ১৯৩৬ সালে প্রথম বিভাগে আই.এ.পাস করেন। এখান থেকেই বি.এ পাস ১৯৩৯ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বাংলায় এম. এ. ১৯৪১ সালে।
ছাত্র জীবনেই বিয়ে করেন হাওড়া জেলার ঝামটিয়া গ্রামের শেখ কওসর আলী ও গোলাপজান বেগমের কনিষ্ঠ কন্যা সালেহা খাতুনকে ১৯৩৮ সালের ৬ই মে।
১৯৪১ সালে কলকাতা কমার্স কলেজে বাংলার প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দেশ-বিভাগের পর অনেকটা এ্যাডভেঞ্চারের মত করে অপশান দিয়ে চট্টগ্রাম গভর্ণমেন্ট কমার্স কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় চট্টগ্রামে তার সঙ্গে যোগ দেয়। তখন থেকে চট্টগ্রামে ৩৪বি চন্দনপুরায় বসবাস করেছেন। ১৯৫৮ ঢাকা কলেজে বদলি হয়ে আসেন এবং পূর্বে মোমেনবাগে কেনা জায়গায় বাড়ি করেন এবং আমৃত্যু ৭এ মোমেনবাগে কাটিয়ে গেছেন।
১৯৭০ সালে সহকারী অধ্যাপকের পদ লাভ করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময় কাটান কলকাতায় । ১৯৭২ সালের ১লা এপ্রিল চাকরি শেষ হবার আগেই অবসর গ্রহণ করেন, লেখায় পুরো সময় দেবেন বলে।
১৯৭৫-এ ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে ভীষণ মনোকষ্টে ভোগেন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ করে কলকাতায় আশ্রয় নেন। ফিরে আসেন ১৯৮১ সালে ।
ভ্রমণ করেছেন নানা দেশ : পাকিস্তান, ভারত, ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, তুরস্ক ও ইরান।
১৯৯৮-এ ২৯-এ মার্চ হঠাৎ সেরিব্রাল এ্যাটাকে আক্রান্ত হন। ১৪ই মে সকাল ৭-৪০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কিছুদিন লেখেন কবিতা। পরে আসেন গদ্যে। নিরন্তর লিখে গেছেন, নাটক, গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ, রস-রচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশুতোষ রচনা, এমন কি কাব্য রচনাও করেছেন ব্যাঙ্গ আকারে। অনুবাদও করেছেন প্রচুর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অক্লান্তভাবে লিখে গেছেন। বাংলা একাডেমী, স্বাধীনতা ও একুশে পদকসহ পেয়েছেন দেশের সব পুরস্কার ও পদক। তার জননী', ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘রাজসাক্ষী ও জলাংগীসহ বেশ কিছু ছোটগল্পের সংকলন ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
তার পরিবারের সব সদস্যই শিল্পী। জ্যেষ্ঠ পুত্র বুলবন ওসমান সাহিত্যিক-চিত্রশিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরুকলা ইন্সটিটিউটের শিল্পকলার ইতিহাসের প্রফেসর। মধ্যম পুত্র আসফাক ওসমান মৃৎশিল্প-শিল্পী। তৃতীয় সন্তান ইয়াফেস্ ওসমান স্থপতি। কনিষ্ঠ পুত্র জানেসার ওসমান চলচ্চিত্র নির্মাতা।

৩য় খন্ডে রয়েছে ৪টি উপন্যাস;

নেকড়ে অরণ্য
জলাংগী
পতঙ্গ পিঞ্জর
আর্তনাদ

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস সমগ্র ০২ - শওকত ওসমান

উপন্যাস সমগ্র ০২ - শওকত ওসমান উপন্যাস সমগ্র ০২ - শওকত ওসমান

শওকত ওসমান এটি লেখকের ছদ্মনাম। তার আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। পিতা: শেখ মোহম্মদ এহিয়া, মাতা; গুল আর্জান বেগম। জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯১৭, পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার খনাকুল থানার সবলসিংহপুর গ্রামে। পাড়ার নাম মেহেদি-মহল্লা।
গ্রামের মাদ্রাসার লেখা-পড়া শেষে ১৯২৯-এ ভর্তি হন কলকাতার মাদ্রাস-এ-আলিয়ায়। ১৯৩৩ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৩৪-এ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি এবং ১৯৩৬ সালে প্রথম বিভাগে আই.এ.পাস করেন। এখান থেকেই বি.এ পাস ১৯৩৯ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বাংলায় এম. এ. ১৯৪১ সালে।
ছাত্র জীবনেই বিয়ে করেন হাওড়া জেলার ঝামটিয়া গ্রামের শেখ কওসর আলী ও গোলাপজান বেগমের কনিষ্ঠ কন্যা সালেহা খাতুনকে ১৯৩৮ সালের ৬ই মে।
১৯৪১ সালে কলকাতা কমার্স কলেজে বাংলার প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দেশ-বিভাগের পর অনেকটা এ্যাডভেঞ্চারের মত করে অপশান দিয়ে চট্টগ্রাম গভর্ণমেন্ট কমার্স কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় চট্টগ্রামে তার সঙ্গে যোগ দেয়। তখন থেকে চট্টগ্রামে ৩৪বি চন্দনপুরায় বসবাস করেছেন। ১৯৫৮ ঢাকা কলেজে বদলি হয়ে আসেন এবং পূর্বে মোমেনবাগে কেনা জায়গায় বাড়ি করেন এবং আমৃত্যু ৭এ মোমেনবাগে কাটিয়ে গেছেন।
১৯৭০ সালে সহকারী অধ্যাপকের পদ লাভ করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময় কাটান কলকাতায় । ১৯৭২ সালের ১লা এপ্রিল চাকরি শেষ হবার আগেই অবসর গ্রহণ করেন, লেখায় পুরো সময় দেবেন বলে।
১৯৭৫-এ ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে ভীষণ মনোকষ্টে ভোগেন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ করে কলকাতায় আশ্রয় নেন। ফিরে আসেন ১৯৮১ সালে ।
ভ্রমণ করেছেন নানা দেশ : পাকিস্তান, ভারত, ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, তুরস্ক ও ইরান।
১৯৯৮-এ ২৯-এ মার্চ হঠাৎ সেরিব্রাল এ্যাটাকে আক্রান্ত হন। ১৪ই মে সকাল ৭-৪০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কিছুদিন লেখেন কবিতা। পরে আসেন গদ্যে। নিরন্তর লিখে গেছেন, নাটক, গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ, রস-রচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশুতোষ রচনা, এমন কি কাব্য রচনাও করেছেন ব্যাঙ্গ আকারে। অনুবাদও করেছেন প্রচুর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অক্লান্তভাবে লিখে গেছেন। বাংলা একাডেমী, স্বাধীনতা ও একুশে পদকসহ পেয়েছেন দেশের সব পুরস্কার ও পদক। তার জননী', ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘রাজসাক্ষী ও জলাংগীসহ বেশ কিছু ছোটগল্পের সংকলন ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
তার পরিবারের সব সদস্যই শিল্পী। জ্যেষ্ঠ পুত্র বুলবন ওসমান সাহিত্যিক-চিত্রশিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরুকলা ইন্সটিটিউটের শিল্পকলার ইতিহাসের প্রফেসর। মধ্যম পুত্র আসফাক ওসমান মৃৎশিল্প-শিল্পী। তৃতীয় সন্তান ইয়াফেস্ ওসমান স্থপতি। কনিষ্ঠ পুত্র জানেসার ওসমান চলচ্চিত্র নির্মাতা।

২য় খন্ডে রয়েছে ৬টি উপন্যাস;

সমাগম
রাজা উপাখ্যান
জাহান্নম হইতে বিদায়
দুই সৈনিক
রাজসাক্ষী
পিতৃপুরুষের পাপ

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস সমগ্র ০১ - শওকত ওসমান

উপন্যাস সমগ্র ০১ - শওকত ওসমান উপন্যাস সমগ্র ০১ - শওকত ওসমান

শওকত ওসমান এটি লেখকের ছদ্মনাম। তার আসল নাম শেখ আজিজুর রহমান। পিতা: শেখ মোহম্মদ এহিয়া, মাতা; গুল আর্জান বেগম। জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯১৭, পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার খনাকুল থানার সবলসিংহপুর গ্রামে। পাড়ার নাম মেহেদি-মহল্লা।
গ্রামের মাদ্রাসার লেখা-পড়া শেষে ১৯২৯-এ ভর্তি হন কলকাতার মাদ্রাস-এ-আলিয়ায়। ১৯৩৩ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৩৪-এ সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি এবং ১৯৩৬ সালে প্রথম বিভাগে আই.এ.পাস করেন। এখান থেকেই বি.এ পাস ১৯৩৯ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বাংলায় এম. এ. ১৯৪১ সালে।
ছাত্র জীবনেই বিয়ে করেন হাওড়া জেলার ঝামটিয়া গ্রামের শেখ কওসর আলী ও গোলাপজান বেগমের কনিষ্ঠ কন্যা সালেহা খাতুনকে ১৯৩৮ সালের ৬ই মে।
১৯৪১ সালে কলকাতা কমার্স কলেজে বাংলার প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। দেশ-বিভাগের পর অনেকটা এ্যাডভেঞ্চারের মত করে অপশান দিয়ে চট্টগ্রাম গভর্ণমেন্ট কমার্স কলেজে যোগ দেন। ১৯৫০ সালে দুই বাংলায় বড় চট্টগ্রামে তার সঙ্গে যোগ দেয়। তখন থেকে চট্টগ্রামে ৩৪বি চন্দনপুরায় বসবাস করেছেন। ১৯৫৮ ঢাকা কলেজে বদলি হয়ে আসেন এবং পূর্বে মোমেনবাগে কেনা জায়গায় বাড়ি করেন এবং আমৃত্যু ৭এ মোমেনবাগে কাটিয়ে গেছেন।
১৯৭০ সালে সহকারী অধ্যাপকের পদ লাভ করেন। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালীন সময় কাটান কলকাতায় । ১৯৭২ সালের ১লা এপ্রিল চাকরি শেষ হবার আগেই অবসর গ্রহণ করেন, লেখায় পুরো সময় দেবেন বলে।
১৯৭৫-এ ১৫ই আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে ভীষণ মনোকষ্টে ভোগেন এবং বাংলাদেশ ত্যাগ করে কলকাতায় আশ্রয় নেন। ফিরে আসেন ১৯৮১ সালে ।
ভ্রমণ করেছেন নানা দেশ : পাকিস্তান, ভারত, ইংল্যাণ্ড, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, তুরস্ক ও ইরান।
১৯৯৮-এ ২৯-এ মার্চ হঠাৎ সেরিব্রাল এ্যাটাকে আক্রান্ত হন। ১৪ই মে সকাল ৭-৪০ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ছেলেবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। প্রথম কিছুদিন লেখেন কবিতা। পরে আসেন গদ্যে। নিরন্তর লিখে গেছেন, নাটক, গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ, রস-রচনা, রাজনৈতিক লেখা, শিশুতোষ রচনা, এমন কি কাব্য রচনাও করেছেন ব্যাঙ্গ আকারে। অনুবাদও করেছেন প্রচুর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অক্লান্তভাবে লিখে গেছেন। বাংলা একাডেমী, স্বাধীনতা ও একুশে পদকসহ পেয়েছেন দেশের সব পুরস্কার ও পদক। তার জননী', ‘ক্রীতদাসের হাসি’, ‘রাজসাক্ষী ও জলাংগীসহ বেশ কিছু ছোটগল্পের সংকলন ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
তার পরিবারের সব সদস্যই শিল্পী। জ্যেষ্ঠ পুত্র বুলবন ওসমান সাহিত্যিক-চিত্রশিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চরুকলা ইন্সটিটিউটের শিল্পকলার ইতিহাসের প্রফেসর। মধ্যম পুত্র আসফাক ওসমান মৃৎশিল্প-শিল্পী। তৃতীয় সন্তান ইয়াফেস্ ওসমান স্থপতি। কনিষ্ঠ পুত্র জানেসার ওসমান চলচ্চিত্র নির্মাতা।

প্রথম খন্ডে রয়েছে ৪টি উপন্যাস;

বণী আদম
জননী
ক্রীতদাসের হাসি
চৌরসন্ধি

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রবন্ধসমগ্র - শওকত ওসমান

প্রবন্ধসমগ্র - শওকত ওসমান প্রবন্ধসমগ্র - শওকত ওসমান

ধমীয় মুখোস-আঁটা পাকিস্তানি জালেমশাহীর শ্বাসরোধী আবহাওয়ার মধ্যে এই বইয়ের অধিকাংশ প্রবন্ধ রচিত । স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং উত্তর-কালীন কয়েকটা লেখা সন্নিবেশ করা গেল । প্রায় আড়াই দশকের ব্যাপ্তি । আমার মত অগোছালো লোকের পক্ষে লেখা জমিয়ে রাখা কঠিন । সাংবাদিক-কথাশিল্পী জনাব আবু জাফর শামসুদ্দীনের উৎসাহ এবং উস্কানিতে আবার খুঁজে পেতে সংগ্রহ। কালানুক্রমিক সাজাতে পারিনি। তবে শ্রদ্ধাস্পদ নজরুলের উপর রচনাটি স্বেচ্ছাকৃত শেষে দেওয়া । কারণ, বিগত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বাঙালি মুসলমান সমাজে তিনিই একমাত্র রবি-শস্য এবং হেন ক্ষেত্রে শেষ কথা। অনেকেই এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে একমত হবেন । দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক জনাব নুরুল ইসলাম পাটোয়ারীর উদারতায় এই বইয়ের সৌষ্ঠব অনেকখানি বেড়েছে। তার প্রেসবিভাগের প্রধান জনাব আব্দুল হাই সেনাপতিদের মত ডবল রাখেন । তারা দুইজন এবং তাদের সহকমী কুল-জনাব আব্দুল হাফিজ ও আব্দুল হাকিম আমার বহু উৎপাত হাসিমুখে সময়ে-অসময়ে সহ্য করেছেন । তাদের ঋণ অপরিশোধ্য। বুক প্রমোশন প্রেসের লাইনোবিভাগের প্রধান দরদী স্পর্শক জনাব আব্দুর রশিদ হাওলাদার আরো দরদের সঙ্গে গোটা বইয়ের উপর মেহনৎ করেছেন । তাকে আমার অশেষ স্নেহাশিস । বহু মূল্যবান উপদেশ দিয়ে ঋণে বেঁধেছেন জনাব লতিফুর রহমান । সর্বজনাব বদিউজ্জামান চৌধুরী এবং আয়নুল হক আমার ধন্যবাদের উধের্ব তাদের অবস্থান বিধায় আর ও-পথে এগোইনি। হাজার সতর্কতা সত্ত্বেও কিছু কিছু মুদ্রণ এবং বানান-প্রমাদ থেকে গেছে। যেমন ঔপন্যাসিক হয়েছে উপন্যাসিক । সেই জন্যে পাঠকদের কাছে আমি প্রভূত লজ্জাসহ ক্ষমাপ্রার্থী।

Prabandhasamagra by Shawkat Osman
Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ক্রীতদাসের হাসি - শওকত ওসমান

ক্রীতদাসের হাসি - শওকত ওসমান

ক্রীতদাসের হাসি
শওকত ওসমান

ক্রীতদাসের হাসি শওকত ওসমান রচিত একটি উপন্যাস। ১৯৬২ সালে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন পাকিস্তানকে বর্বর স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে আবদ্ধ করলো। সব ধরনের-বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। তৎকালীন পাকিস্থানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসন ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করে এ উপন্যাস রচিত হয়। এ উপন্যাসের মূল চরিত্র তাতারী। গণতান্ত্রিক চেতনাকে ভয় পায় স্বৈরাচারী শাসক। এই চেতনাকে দমন করার জন্যই আবার নেমে আসে সামরিক শাসন তবুও লেখকের প্রতিবাদ স্তব্ধ থাকেনি। রূপকের মধ্য দিয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে এই প্রতিবাদ। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে শওকত ওসমানের ‘ক্রীতদাসের হাসি’র তাতারী। খলিফা হারুনর রশীদ কোনো কিছুর বিনিময়েই বন্ধ করতে পারে না তাতারীর হাসি। হাসি বন্ধ করার চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেছে তাতারী।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

জনতার জাগ্রত হৃদয়ে শওকত ওসমান

জনতার জাগ্রত হৃদয়ে শওকত ওসমান
মাহমুদুল বাসার

শওকত ওসমান দাবি করেছেন, তিনি লেখক নন, তিনি ‘ঝাড়-দার’। মানে? মানে হলো, সমাজে জমানো জঞ্জাল তিনি আমৃত্যু ঝাড়- দিয়ে সাফ করে যাবেন লেখার মাধ্যমে, তাই তিনি ঝাড়-দার। কী সাংঘাতিক কথা! মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বলতেন, কলম পেশা মজুর। শওকত ওসমানের রক্তের মধ্যে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ-ঠাট্টা, ইয়ার্কি, উপহাস ঢুকে গিয়েছিল। এটাকে তিনি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। সমাজের ক্লাউনদের, হিপোক্রেটদের, মৌলবাদী দৈত্যদের বুকে এই অস্ত্র তিনি নিক্ষেপ করতেন।
২ জানুয়ারি, শওকত ওসমানের জন্মতিথি। ১৯১৭ সালের এই দিনে তিনি পশ্চিমবঙ্গের সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। শওকত ওসমান তার ছদ্মনাম। তার পিতার নাম ইয়াহিয়া, মায়ের নাম গুলজান বেগম। পিতা ছিলেন চাষী। শওকত ওসমানের কৈশোর কেটেছে ঘোর দারিদ্র্যের মধ্যে।
সবল সিংহপুর গ্রামের মক্তবে, পাঁচ বছর বয়সে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। বছর দেড়েক পড়েছিলেন নন্দনপুর রূপচাঁদগুপ্ত একাডেমিতে। এরপর গ্রামের জুনিয়র মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। ১৯৩৩ সালের কলকাতা মাসাসা-এ-আলিয়ার ইংরেশি শাখা থেকে প্রথম বিভাগ পেয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মাদ্রাসায় পড়ার সময়ই শওকত ওসমান টিউশনি করে সংসারে টাকা পাঠাতেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। তার রচিত ‘স্বগ্রাম স্বজন’ বইতে বাল্যকালের দারিদ্র্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৯৩৪ সালে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন। তখনও টিউশনি করেন। ১৯৩৬-এ এই কলেজ থেকে প্রথম বিভাগেই আইএ পাস করেন। মেধাবী ছাত্রছিলেন, তা তো বোঝাই যাইনি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অনার্স নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে অনার্স ত্যাগ করে পাস কোর্সে পড়তে থাকেন। ১৯৩৯ সালে বিএ পাস করেন। ১৯৪১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী পেয়ে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্র জীবনেই ১৯৩৮ সালে বিয়ে করেন। স্ত্রীর নাম সালেহা খাতুন। শওকত ওসমান পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ের বাবা ছিলেন। অকালে রবীন্দ্র-নজরুলের মতো তার একটি ছেলে মারা গিয়েছিল। নাম ছিল তুরহান ওসমান।
ড. আজাদ ঢাকা কলেজে শওকত ওসমানের ছাত্র ছিলেন। তিনি শওকত ওসমানের একটি অতুলনীয় সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। সেটি গ্রন্থিত হয়েছে ‘সাক্ষাৎকার’ নামক বইতে। বইটি প্রকাশ করেছে আগামী, ১৯৯৪ সালে।
সেখানে ড. আজাদ শওকত ওসমানের যে চুম্বক মূল্যায়ন করেছেন, তাতেই এই দ্রোহী কথাশিল্পীর মৌলিক আদল প্রতিচিত্রিত হয়েছে। ড. আজাদ বলেছেন, ‘ক্রীতদাসের হাসির জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পেলেন। গর্বে গৌরবে উল্লাসে আমাদের বুক ভরে গেল। তাতারীর সেই মহান ঔদ্ধত্য ‘শোন, হারুনর রশীদ। দিরহাম দৌলত দিয়ে ক্রীতদাস গোলাম কেনা চলে। বান্দী কেনা সম্ভব। কিন্তু-কিন্তু ক্রীতদাসের হাসি না-না-না’ তখন আমাদের রক্তে জ্বেলে দিয়েছে দ্রোহ।’
গুণীই গুণীর মর্যাদা বোঝে। ড. আজাদই মনে হয় শওকত ওসমানকে যথার্থ চিনেছিলেন। তাই তিনি স্মৃতি চারণায় বলেছেন যে, ‘তিনিই একমাত্র জ্ঞান বিলোতেন। চেষ্টা করতেন জ্ঞানের বিভিন্ন দরজা খুলে দিতে। আমরা ভিড় করতাম তার ক্লাসে। যদিও জানতাম তার কথা পরীক্ষার কোনো কাজেই লাগবে না। তবুও ভিড় করতাম। অথচ ওই আমরাই তো অন্য এক স্যারকে, যিনি ইসলামী পদ্য লিখে খ্যাতি আয় করেছিলেন পঞ্চাশের দশকে, মেঝে অবিরাম জুতো ঘষে কাঁদিয়েছিলাম। তিনি আর আমাদের ক্লাসে আসেননি কখনো। শওকত ওসমান বলতেন সভ্যতার কথা। সমাজের বিকাশের কথা। শিল্প কলার কথা। ... তিনি আমাদের গুরুত্ব দিতেন, কোমলমতি ভাবতেন না। জীবনের পাঠও দিতেন অনেক।’
ড. আজাদ জানিয়েছেন, ‘শওকত ওসমান’ নামটিই তাকে আকর্ষণ করেছে। এই নামের মধ্যেই আছে আধুনিকতা, আছে প্রগতির চিহ্ন। আমাদের সমাজে নাম দিয়েই কেবল বেহেস্ত পেতে চায় অনেকে, তাই নামে জড়িয়ে থাকে কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস। শওকত ওসমান নাম দিয়েই দ্রোহ ঘোষণা করেন।
শওকত ওসমান দাড়ি রেখেছিলেন সময় বাঁচানোর জন্য, বলেছেন আজাদ। আর আবুল ফজল দাড়ি রেখেছিলেন পিতার অন্তিম অনুরোধে। আমার ধারণা, রবীন্দ্রনাথ দাড়ি রেখেছিলেন বাউল পরিচয় ফুটিয়ে তোলার জন্য।
ড. আজাদ বলেছেন, ‘তিনি আমাদের কাছে শিক্ষকের চেয়ে বড় ছিলেন। অন্য শিক্ষকদের মনে করতাম স্যার, শওকত ওসমানকে মনে করতাম আরো উচ্চ কিছু আরো মহৎ কিছু। তিনি শওকত ওসমান।’
ড. আজাদ জানিয়েছেন, শওকত ওসমানের ক্লাসে ঢোকার ঢংটি ছিল মনে রাখার মতো। পরনে ঢোলা প্যান্ট, উজ্জ্বল, রঙিন, আধহাতা ফ্লাইং শার্ট গায়ে। হাতে অপাঠ্য বই। ঢুকে, গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে বললেন, বুঝলেন স্যার, আমি আপনাদের ‘বিলাসী’ পড়াবো। আবার বললেন, ‘বুঝলেন স্যার, ওটা আমার পড়ানোর দরকার হবে না, ওটা আমার চেয়ে আপনারাই ভালো বুঝবেন।’
ড. আজাদ কবিতার ব্যঞ্জনার মতো করে বলেছেন, ‘শওকত ওসমান আমাদের দুবছর ‘বিলাসী’ পড়িয়েছেন। তিনি দুবছর কিছুই পড়াননি। পড়িয়েছেন অন্য স্যারেরা।’
শওকত ওসমান সম্পর্কে ড. আজাদের স্মৃতিচারণায় জড়িয়ে আছে বিপুল তাৎপর্য।
শওকত ওসমান দাবি করেছেন, তিনি লেখক নন, তিনি ‘ঝাড়ুদার’। মানে? মানে হলো, সমাজে জমানো জঞ্জাল তিনি আমৃত্যু ঝাড়ু দিয়ে সাফ করে যাবেন লেখার মাধ্যমে, তাই তিনি ঝাড়ুদার। কী সাংঘাতিক কথা! মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বলতেন, কলম পেশা মজুর।
শওকত ওসমানের রক্তের মধ্যে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ-ঠাট্টা, ইয়ার্কি, উপহাস ঢুকে গিয়েছিল। এটাকে তিনি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। সমাজের ক্লাউনদের, হিপোক্রেটদের, মৌলবাদী দৈত্যদের বুকে এই অস্ত্র তিনি নিক্ষেপ করতেন।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে, আশি বছরের আয়ু রেখায় দাঁড়িয়ে একটি দৈনিকে নিয়মিত পদ্য লিখতেন, নাম ‘শেখের সম্বরা’। তাতে সমকালের হিংস্র মৌলবাদীদের তিনি আঘাত করেছেন। পদ্য লিখতেন তিনি কবি যশ পাওয়ার লোভে নয়, বিদ্রূপ ঝলসানো তরবারি রূপে-মৌলবাদ সর্বস্ব অচলায়তন সমাজে বিদ্ধ করার জন্য।
শতাধিক গ্রন্থের স্রষ্টা তিনি। তাকে খ্যাতির শিখরে অধিষ্ঠিত করেছে ‘জননী’ ও ‘ক্রীতদাসের হাসি’। একেবারে শেষ জীবনে তিনি বাংলাদেশের একটি বড় মাপের পুরস্কার ‘ফিলিপস’ পেলেন ‘ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী’ গল্পগ্রন্থের জন্য। এছাড়া কোনো পুরস্কারই তার হাতছাড়া হয়নি, তা না বললেও চলে।
চাষীর সন্তান তিনি। নির্মম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন। এই দরিদ্র চাষী পরিবারেই জীবন্ত ছবি এসেছে তার প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘জননী’তে। ‘জননী’ কিংবদন্তির খ্যাতি পেয়েছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘জননী’ উপন্যাসে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরতলির নিম্নবিত্ত মানুষের টানাপড়েনের চিত্র এঁকেছেন। শওকত ওসমান পূর্ববাংলার কৃষিভিত্তিক মহেশডাঙা গ্রামের ছবি এঁকেছেন।
শওকত ওসমানের ‘জননী’ই যেন অবিকল পূর্ববাংলা। এই উপন্যাসের নায়ক আলী আজহার খাঁ মামুলি চাষী। তার বসবাস খড়ের ঘরে।
শওকত ওসমানের গুরুত্বপূর্ণ কোনো একটি বই রাজনীতি সচেতনতার বাইরে পড়েনি। ‘বনী আদম’-এও ইংরেজ বিরোধিতার প্রসঙ্গ এসেছে। এসেছে সেক্যুলার সমাজের কথা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার।
‘জননী’ উপন্যাস ‘বনী আদম’ এর পরবর্তী ধাপ। এই উপন্যাসে শওকত ওসমান গ্রামবাংলার কাঠামোর অতলে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, যে ইহজাগতিক প্রবণতা গুপ্ত থাকে, তার জীবন্ত রূপ তুলে এনেছেন। আলী আজহার খাঁ, চন্দ্র কোটাল, দরিয়া, ইয়াকুব এরা বাংলাদেশের কৃষক সমাজের দরিদ্র মানুষ। এরা মানুষই আর কিছু নয়। তাই তারা জীবনের সংগ্রামে আমৃত্যু লড়ে যায়। হাতেম বকশ, রোহিনী চৌধুরীর মতো মতলববাজ জমিদাররা এদের মধ্যে বর্ণবাদের ফাটল ধরাতে পারে না।
ক্ষুধায়, দারিদ্র্যে, অনাহারে, কষ্টে, নির্যাতনে এরা আলাদা নয়, এক। যেন নদীর পানি কাটলে দুভাগ হয় না। ‘জননী’ উপন্যাসের আঙ্গিক পরিশীলনের গুরুত্ব না দিয়ে এর আড়ালের মহত্ব উপলব্ধি করতে হবে। জীবনের দাবি অপ্রতিরোধ্য : এটাই ‘জননী’ স্রষ্টার মরালিটি। জীবনকে ফাঁকি দেয়া যায় না। শুধু পেটের দায়ে নয়, মাতৃত্বের অনিবার্য প্রভাবে দরিয়া জঠরে অবৈধ সন্তান ধারণ করেছিল। মোনাদির তার আগের ঘরের ছেলে। তাকে মানুষ করার স্বপ্নতাড়িত হয়ে তাকে তার প্রতিনিধি রূপে সমাজে রেখে যাওয়ার দায়িত্ববোধ থেকে ইয়াকুবের কাছে ধরা দিতে হয়।
দরিয়াকে আমরা দেখবো সব ধরনের অচল সংস্কারের প্রথা চূর্ণ করে, জীবনের বিকাশের কাছে এগিয়ে যাওয়ার দুর্বার প্রতীক হিসেবে। জীবনের কুসুম ফুটিয়ে তুলে দরিয়া জীবন নিজ হাতে দান করে গেছে। তার আত্মহত্যাকে আত্মবিসর্জন বলাই শ্রেয়।
রাজনীতি ‘জননী’তেও এসেছে। উপমহাদেশে ওহাবীরা যে গোড়ামির জন্ম দিয়েছিল, তারই পরিণতি আলী আজহার খাঁ আর দরিয়ার পরিণতি। ভাত-কাপড়ের দাবি আগে একথা ফতোয়া দিয়ে ডাকা যায় না। তাই দরিয়া এবং চন্দ্রকোটাল একইসঙ্গে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে।
‘ক্রীতদাসের হাসি’ শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস। আর কোনো উপন্যাস না লিখলেও চলতো শওকত ওসমানের। ষাট দশকে উপন্যাসটি বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জ্বলন্ত প্রেরণা যুগিয়েছিল। খলিফা হারুনুর রশীদকে শওকত ওসমান আইয়ুব খানের আদলে দাঁড় করিয়েছিলেন।
স্বৈরাচারের নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য, নিষ্ঠুর, বিকৃত পাশবিক চেহারা এ উপন্যাসে জীবন্ত রূপধারণ করেছে।
নিষ্ঠুর, অমানবিক প্রভুত্বও যে এক সময় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, স্বৈরাচারের সিংহাসনও যে এক সময় টলটলায়মান হতে পারে, তা শওকত ওসমান সার্থকভাবে দেখিয়েছেন।
ক্রীতদাস সে তো মানুষের বাইরের রূপ, খলিকাও বাইরের রূপ। মানুষ মানুষই। মানুষের মধ্যে থাকে মনসুর হেল্লাজের মতো অনির্বাণ বিদ্রোহী সত্তা। অত্যাচারের এক পর্যায়ে সেই ঘুমন্ত বিদ্রোহ অবাধ্য হয়ে ওঠে। শওকত ওসমানের তাতারী সেই বিদ্রোহী সত্তা।
‘হন্তারক’ উপন্যাসে শওকত ওসমান আবার চলে গেছেন মধ্য যুগে, সামন্ত শাসনের জমিনে। এঁকেছেন নির্দয়, শাসক আওরঙ্গজেবকে। আওরঙ্গজেবের হেরেমে নারীকে করা হয়েছিল বন্দিনী, তার ছিল না জীবন উপভোগের অধিকার। জীবনের দাবি অন্দরের মরুভূমিতে শুকিয়ে মরেছিল, শওকত ওসমান ‘হন্তারক’ উপন্যাসে এই প্রভুত্বের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গের কষাঘাত হেনেছেন। আওরঙ্গজেবকে তিনি স্বৈরাচারের প্রতীক রূপে অঙ্কন করেছেন।
শওকত ওসমান একেবারে গোড়া থেকে প্রখর সমাজ ও রাজনীতি সচেতন। তার দৃষ্টিতে যে মৌলবাদ বিরোধিতার দীপ্তি ছিল তা মৃত্যুর আগেও নেভেনি।
আমরা জানি, ১৯৪৬ সালে প্রতিক্রিয়াশীলরা বঙ্গ বিভাজনের যে নৃত্য শুরু করেছিল এর বিরুদ্ধে যে ক’জন বিখ্যাত বুদ্ধিজীবী একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন প-িত হুমায়ূন কবীর, সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ, বিপ্লবী কবি গোলাম কুদ্দুস এবং শওকত ওসমান।
অর্থাৎ শওকত ওসমান সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক এক যোদ্ধা। তাই দেখি যে, তার ‘রাজসাক্ষী’ উপন্যাসে আদম পাচারকারী এক ব্যক্তির আদালতে দুই পক্ষের আইনজীবীর জেরা উপলক্ষে টেনে আনেন ধর্ম রাষ্ট্রের কথা, টেনে আনেন পাকিস্তান নামক দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রের কাহিনী। টেনে আনেন মওলানা মওদুদীর ১৯৫৩ সালে কাদিয়ানী হত্যার প্রসঙ্গ। বিচারপতি মুনীর ও বিচারপতি কায়ানী কাদিয়ানী বিরোধী আলেমদের মুসলমানের সংজ্ঞা দিতে বলেছিলেন। তারা এমন সংজ্ঞা দিয়েছিলেন যে, কারো সঙ্গে কারো মিল ছিল না, একজনের সংজ্ঞা মেনে নিলে অন্যজনকে খারিজ করতে হয়।
শওকত ওসমান ‘রাজসাক্ষী’ উপন্যাসেও কৌশল করে মৌলবাদ তথা সাম্প্রদায়িকতাবাদের বিরোধিতা করেছেন। সমাজ প্রগতির ছুরি দিয়ে গোড়ামিকে ফালা ফালা করেছেন। রক্ত-মাংসের বাস্তব জীবনকে চূড়ান্ত মূল্য দিয়েছেন।
শওকত ওসমানের একটি ব্যতিক্রমধর্মীগ্রন্থ ‘ভাব ভাষা ভাবনা’। অনেকেই বইটির খবর রাখেন না। জাতীয় গ্রন্থ ১৯৭৪ সালে বইটি প্রকাশ করেছে। ঔপন্যাসিক সর্দার জয়েনউদ্দীনের অনুরোধে ধারাবাহিকভাবে লেখাটি তৈরি করেছিলেন।
ভাষার ব্যবহার নিয়ে এখানে শওকত ওসমান ব্যঙ্গ নিপুণ কায়দায় অসামান্য পা-ত্িযের পরিচয় দিয়েছেন।
পুরো বিশ্লেষণ এখানে দেয়া সম্ভব নয়। শওকত ওসমান সাম্রাজ্যবাদী ভাষাতাত্ত্বিকদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে জোর দিয়ে বলেছেন, মানব সমাজই ভাষা বিকাশের চূড়ান্ত ক্ষেত্র এবং ভাষা উৎপত্তির গর্ভধারিণী হচ্ছে মনুষ্য সমাজ। বলেছেন শওকত ওসমান যে, মানুষের সামাজিক অভিজ্ঞতাই ভাবের বাহন হিসেবে ভাষায় প্রকাশ করা হয়। এ জন্য জরুরি প্রয়োজন হয় ভাষায় প্রতীক, উপমাতা, উৎপ্রেক্ষা ব্যবহারের।
শওকত ওসমানের এ বইটি না পড়লে বুঝতেই পারতাম না ভাষায় প্রতীক ও উপমা ব্যবহারের তাৎপর্য কোথায়।
এখানেও তিনি প্রাসঙ্গিকক্রমে সাম্রাজ্যবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবাদের বিরোধিতা করেছেন।
শওকত ওসমান প্রশ্ন করেছেন, যদি তর্ক বাধে, সংখ্যালঘুরা পূর্ণ নাগরিক অধিকার পাবে কি পাবে না, তার মীমাংসা কেমন করে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিয়ে আইয়ার সাহেব দেবেন? শওকত ওসমান তাই বলেছেন ভাষা ব্যবহারে পরোক্ষ কৌশল সাংঘাতিক জিনিস, যার নাম প্রতীক ও উপমা।
১৯৮৫ সালে শওকত প্রকাশ করেন ‘ইতিহাসে’ বিস্তারিত নামক বইটি। যেন জ্বলন্ত বিদ্রোহের বারুদস্তূপ। শওকত ওসমান কী চিজ তা এ বই যারা পড়েননি, তারা বুঝবেন না। চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ-এল-লাইকে খোলা চিঠি দিয়ে প্রশ্ন করেছেন, কেমন করে সমাজতন্ত্রের ধ্বজাধারী হয়ে ইয়াহিয়ার মতো বর্বরকে সমর্থন করতে পারলেন?
‘মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা’ শওকত ওসমানের একটি বিদ্রোহব্যঞ্জক সাড়া জাগানো গ্রন্থ। ধর্মান্ধ মৌলবাদের অন্তঃসারশূন্যতার নানাদিক এ বইতে বিশ্লেষিত হয়েছে। প্রশ্ন করেছেন, প্রতীক কোন ধর্মে না আছে? তাহলে এতা ঘৃণা কেন?
প্রশ্ন করেছেন, ধর্মে ধর্মে, কওমে কওমে মতপার্থক্য নেই? তাহলে হিন্দুদের প্রতি এতো বিরাগ কেন? প্রশ্ন করেছেন, ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র, বিজ্ঞান, চিত্রকলা, ইতিহাস, চলচ্চিত্র চলে নাকি।
প্রশ্ন করেছেন, মওলানা মওদুদী ৭৫ বছর বয়সে আমেরিকার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করলেন কেন?
এ বইতে আলজিরিয়ার বিপ্লবী প্রেসিডেন্ট হুয়ারি ধুমেদিনের একটি বিবৃতি তুলে ধরেছেন ‘আক্কেল মন্ধ ইশারায় কাফি’দের উদ্দেশে : ‘আধ্যাত্মিক যোগসূত্র, হোক তা ইসলামী কি খ্রিস্টীয়’ কখনই দারিদ্র্য এবং অজ্ঞতার দাঁত কিড়মিড়ানির বিরুদ্ধে তেমন দাঁড়ায়নি। আমি বলতে চাই যে, মানুষ যদি ভুখা থাকে তার পবিত্র আয়াত শোনা দরকার নেই। এ কথা আমি বলছি, পবিত্র কোরআনের প্রতি সব শ্রদ্ধা রেখেই যে পবিত্র কেতাব আমি দশ বছর বয়সেই শিক্ষা করেছি। ভুখা মানুষের দরকার রুটি, অজ্ঞ লোকের দরকার জ্ঞান এবং অসুস্থজনের দরকার হাসপাতাল। ... খালিপেটে লোক বেহেশতে যেতে চায় না পুরো সমস্যার মূল কথা এখানে নিহিত। ... মসজিদ যদি ব্যবহৃত হয় অবিচার, শোষণ, দাসত্ব এবং সামন্ততন্ত্র রক্ষায়, তাহলে তা ইসলামের মসজিদ নয়। তা হবে ইসলাম ধ্বংসের মসজিদ।’
(মৌলবাদের আগুন নিয়ে খেলা, পৃ. ৩৪)।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ওই বিখ্যাত ‘খালেদ’ কবিতার অংশটুকুও প্রাসঙ্গিকক্রমে ব্যবহার করেছেন : বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে আমরা এখনো বসে। বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি ফেকা ও হাদিস চষে।’
আজকের এই যুদ্ধাপরাধী আলবদরদের দাঁতাল বৈরী সময়ের দুঃসহ যন্ত্রণার দিনে শওকত ওসমানের মতো অনির্বাণ প্রমিথিউসকে অবনতচিত্তে স্মরণ করছি।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমাদের ইতিহাস ও জীবনবাস্তবতার কথাকোবিদ শওকত ওসমান

আমাদের ইতিহাস ও জীবনবাস্তবতার কথাকোবিদ শওকত ওসমান
সমীর আহমেদ
দেশবিভাজনের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, নানা রকম উত্থান-পতন ঘটনা নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন শওকত ওসমান। আর এসব ঘটনাই তার সাহিত্যিক মানসে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। সমাজ ও রাষ্ট্রে নিগৃহীত, অধিকার বঞ্চিত, নিরন্ন মানুষের অন্তর্গূঢ় বেদনা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। এজন্যই শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে পেরেছিলেন আজীবন আদর্শবাদী, স্বদেশের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধাশীল শওকত ওসমান।
কথাকোবিদ শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান। জন্মেছিলেন ১৯১৭ সালে হুগলির সবলসিংহপুর গ্রামে। দেশবিভাজনের পর চলে আসেন এ দেশে।
সাহিত্য জীবনের হাতে খড়ি কবিতা দিয়ে হলেও চল্লিশের দশকে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে কথাশিল্পী হিসেবে। ১৯৪৪-৪৫ সালে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সম্পাদিত সওগাতে ‘জিন্দান’ এবং ১৯৪৬ সালে আজাদে ‘বনী আদম’ উপন্যাস দুটি প্রকাশের পরপরই সাহিত্য অঙ্গনে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একের পর এক ছোটগল্প এবং উপন্যাস রচনা করে বাংলাসাহিত্যে স্বাতন্ত্র্যবোধের পরিচয় তুলে ধরেন।
স্বদেশের এক ঘোরতর দুঃসময়েই জন্মেছিলেন কথাশিল্পী শওকত ওসমান। দেশ ছিল বৃটিশদের দখলে। স্বদেশিরা জেগে উঠেছিল। প্রায় দু’শো বছরের পরাধীনতার শিকল ছেঁড়ার সময় কড়া নাড়ছিল দ্বারে। বৃটিশবিরোধী উত্তাল জনস্রোতের স্লোগান শুনে শুনেই বেড়ে উঠছিলেন তিনি। সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময়-ই বৃটিশ শাসনের অবসান ঘটে। হিন্দু-মুসলমানের বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সহিংসতা নিরসনের জন্য দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে উদ্ভব ঘটে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের।
মুসলমানদের স্বপ্নের স্বাধীন স্বদেশ পাকিস্তান জন্মের পরপরই পূর্ববঙ্গের মুসলমানরা স্বজাতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকদের দ্বারা অধিকতর নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, বঞ্চিত হতে লাগলো। বারবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হতে লাগলো। ফলে আবারো মানুষের মনে দানা বাঁধতে লাগলো হতাশা ও ক্ষোভ। এর ফলে ১৯৭১ সালে এক ভয়ানক অগ্নিগর্ভ থেকে উদ্ভব হলো আরেকটি নতুন রাষ্ট্র, বাংলাদেশের।
দেশবিভাজনের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, নানা রকম উত্থান-পতন ঘটনা নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন শওকত ওসমান। আর এসব ঘটনাই তার সাহিত্যিক মানসে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল। সমাজ ও রাষ্ট্রে নিগৃহীত, অধিকার বঞ্চিত, নিরন্ন মানুষের অন্তর্গূঢ় বেদনা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। এজন্যই শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠতে পেরেছিলেন আজীবন আদর্শবাদী, স্বদেশের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সুগভীর শ্রদ্ধাশীল শওকত ওসমান। সময়ের নানা রকম টানাপড়েনেও তিনি বিচ্যুত হননি নিজের আদর্শ থেকে। বিশ্বাস থেকে। শুধু একজন মহান সাহিত্যিক হিসেবে নয়, তার এ প্রত্যয়দৃপ্ত আদর্শবাদী চেতনা আমাদের কাছে আরো বড় করে তুলেছে, দায়িত্ব সচেতন একজন মানুষ হিসেবেও।
সাহিত্য তত্ত্বের বাঁকা পথে শওকত ওসমান হাঁটেননি বা হাঁটার চেষ্টাও করেননি। প্রত্যক্ষিত জীবন ও সমাজের বাস্তবতা সহজ সরল বয়ানে নান্দনিক করে তুলেছেন। এ ক্ষেত্রে তার গল্প উপন্যাসের পাত্রপাত্রীদের স্বাভাবিক জীবনাচরণ, বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ চিত্রায়ণ জীবনের সাধারণ সারল্যে বাস্তবতাকে আরো মূর্ত করে তোলে। পরিবেশ বর্ণনায় চারপাশের খুঁটিনাটি কোনো জিনিস তার দৃষ্টি সহজে এড়াতে পারে না। এ কারণেই তার লেখার সঙ্গে পাঠকের নিবিড় সম্পৃক্ততা আরো বৃদ্ধি করে মনের ভেতর বিশ্বাসের এক মজবুত ভিত গড়ে তুলতে তিনি সক্ষম হন।
একাত্তরের মুক্তি সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত শওকত ওসমান। একাত্তরে পাকিস্তানি শাসক, শোষক ও দোসরদের হাতে অত্যাচারিত, নির্যাতিত মানুষের মর্মন্তুদ, বীভৎস দৃশ্য তিনি তুলে ধরেছেন তার বিভিন্ন গল্প-উপন্যাসে। এ গল্প-উপন্যাসগুলো সেই দুঃসময়ের দলিল বা এক গভীর ক্ষতের কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। আমৃত্যু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন এবং দেশের মানুষের প্রতি তার প্রগাঢ় মমত্ববোধ থাকলেও এ সংক্রান্ত তার কোনো লেখাই পক্ষপাত দোষে দুষ্ট হয়ে ওঠেনি। নিতান্ত নিরাসক্ত এবং নিরাবেগী দৃষ্টির কারণেই তার গল্প-উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিজেদের দোষেগুণে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে পাঠকের সামনে।




প্রায় ছয় দশক সাহিত্যিচর্চায় নিমগ্ন থেকেছেন তিনি। অনেক গল্প-উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখে বাংলাসাহিত্যভা-ার ঋদ্ধ করেছেন। পাঠকপ্রিয়তাও পেয়েছেন কম না। অনেক গল্প সঙ্কলন এবং উপন্যাস বারবার পুনর্মুদ্রিত হচ্ছে।
জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প, প্রস্তর ফলক, জন্ম যদি তব বঙ্গে, নিঃসঙ্গ নির্মাণ, মনিব ও তার কুকুর, পুরাতন খঞ্জর, ইশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী, জননী, ক্রীতদাসের হাসি, দুই সৈনিক, জাহান্নাম হইতে বিদায়, নেকড়ে অরণ্য ইত্যাদি গ্রন্থ শওকত ওসমানকে বাংলাসাহিত্যে মৌলিক কথাসাহিত্যিকের মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। এ ছোট্ট নিবন্ধে আমরা তার বিপুল নির্মাণের মধ্য থেকে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস ‘নেকড়ে অরণ্য’ নিয়ে আলোচনা করবো।
‘নেকড়ে অরণ্য’ বলতে আমরা ভয়ঙ্কর মাংসাশী জীবজন্তুর অভয় অরণ্যকেই বুঝি। এ অভয় অরণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে একটি সিভিল সাপাইজের গুদামঘর, যার ‘আলো রুগ্ন এবং ফিকে’। শওকত ওসমানের বর্ণনা থেকে গুদামঘরটির চিত্র কিছুটা তুলে দেয়া যাক, তারপর এর বীভৎসদৃশ্যের মধ্যে ঢুকে পড়া যাবে।
‘টিনে ছাওয়া গোটা দালানটা সেভাবে তৈরি। সমতল মেঝে নেই। উঁচু উঁচু পোস্তা বাঁধা, যেন নিচ থেকে স্যাতলা উঠে চাল-ডাল বা গুদামজাত অন্যান্য মাল নষ্ট না করে দেয়। আবার কুলিরা মাথায় করে বস্তা এনে পোস্তায় স্বাচ্ছন্দ্যে রাখতে পারে। ফলে দুই পোস্তার মাঝখানে পরিখার মতো সরু রাস্তা। গোটা গুদাম জুড়ে এমন আড়াআড়ি লুকোচুরি খেলার বন্দোবস্ত রয়েছে। বিরাট আয়তনের তুলনায় বাল্বের সংখ্যা কম। তা-ও ষাট পাওয়ারের বেশি নয়। ফলে দিনের বেলায়ও আলো আঁধারির ছকে জায়গাটা বন্দি থাকে।’
গুদামঘরটির এ আংশিক বর্ণনা থেকেই বোঝা যায় কথাশিল্পী শওকত ওসমান কতোটা স্বচ্ছদৃষ্টির অধিকারী। কোনো কিছু তার দৃষ্টি এড়াতে পারে না। চারপাশের তুচ্ছাতিতুচ্ছ জিনিস তুলে ধরে কী নিপুণভাবে তিনি বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলেন! পাঠকের কাছে তা কখনো গল্প মনে হয়ে ওঠে না। জায়গাটা কখনো অপরিচিতও মনে হয় না। মনে হয়, চেনাজানা এক চৌহদ্দির মধ্যেই সে প্রবেশ করেছে। আর এ চৌহদ্দিই ভীষণ ভয়ঙ্কর ভুতুড়ে হয়ে ওঠে, নির্মমতা আর নৃশংসতার আস্তানা হয়ে চির অচেনা হয়ে ওঠে আমাদের কাছে, যেদিন থেকে গুদামঘরটি একাত্তরের ঘাতক, দালাল, নরপিশাচ পাকহায়েনা ক্যাপ্টেন রেজা খান, আলী খানদের নারীভোগের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। গ্রামের ছুড়ি থেকে বুড়ি, অসহায়, অবলা, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, মুসলমান, হিন্দু, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর নারীদের ধরে এনে বন্দি করে পালাক্রমে ধর্ষণ করতে থাকে তারা। শুধু সেনা ক্যাম্পের অফিসার নয়, সাধারণ সৈনিকদের নির্মম ভোগের শিকার হয় তারা। ধর্ষিতা নারীদের আতঙ্ক, ভয় আর অসহায় আর্তচিৎকারে স্যাঁতসেঁতে আলো আঁধারি গুদামঘরের গুমোট পরিবেশ নরকের মতো হয়ে ওঠে। অবাধ ‘নেকড়ে অরণ্য’র প্রতীক হয়ে ওঠে গুদামঘরটি। ক্ষুধার্ত নিষ্ঠুর নেকড়ের কাছে নিরীহ অসহায় হরিণের দৌড়ঝাঁপ, কান্না যেমন অর্থহীন, তেমনি পাক হায়েনাদের কাছে অসহায় নারীদের অনুনয়, বিনয়, হাহাকার, মুক্তির প্রার্থনা, চিৎকার ও ছটফট কাতরানিও কোনো দয়া বা করুণার উদ্রেক করতে পারে না। সবই অর্থহীন, নিষ্ফল। বন্দি শিবিরে তানিমা, জায়েদা, রশিদা, আমোদিনী, সখিনা প্রমুখ ধর্ষিত, নির্যাতিত নারীদের চূর্ণবিচূর্ণ হওয়া স্বপ্ন, দুঃসহ যন্ত্রণা, মানসিক বিপর্যস্ততা বা মানসিক বৈকল্যাবস্থা অত্যন্ত নির্মোহদৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন শওকত ওসমান। নরপশুদের নারী নির্যাতনের বীভৎসতায় আমরা হতবাক হয়ে পড়ি। আমাদের মনে পাকসেনা এবং তাদের দোসর আল বদর, আল শামস আর রাজাকারদের প্রতি স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় ঘৃণা, আক্রোশ, জ্বলে উঠি ক্রোধের আগুনে। কারণ উপযুক্ত নারীরা প্রত্যেকেই হয়ে উঠেছেন একাত্তরে বন্দি শিবিরে বীরাঙ্গনা নারীদের প্রতিরূপ; যাদের ইজ্জত, রক্তঘাম আর আত্মাহুতির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা।
আখ্যান বর্ণনায় শওকত ওসমান অত্যন্ত সংযমশীল। ধীরে ধীরে পাঠকের সামনে উন্মোচন করেছেন গুদামঘরটির ভেতরে পাকসেনাদের নিষ্ঠুরতার চিত্র। ধর্ষণ, নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের এক মহোৎসব। কখনো কখনো জীবনকে নিয়ে অমানবিক কৌতুকও করেছেন তিনি। যে কৌতুক পাকসেনাদের নৃশংসতা আরো ভয়ানক করে তোলে, তাদের প্রতি পাঠকের প্রতিবাদ, প্রতিহিংসা আর জিঘাংসার আগুন প্রজ্জ্বলিত করে।
বাঙালি নারীর অন্তরের কোমলতার রূপ, নির্যাতন নিষ্পেষণে অসহায়ত্ববোধ, মুখ বুজে সবকিছু সয়ে যাওয়ার প্রতিবাদহীন মানসিকতা যেমন তিনি তুলে ধরেছেন, তেমনি উপযুক্ত নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের জ্বলে ওঠার দুর্দমনীয় সাহসিকতাও তিনি উন্মোচন করেছেন। প্রমাণ করে দিয়েছেন, বাঙালি নারী যতোখানি অসহায়, অবলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদী, সোচ্চার। এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র মৃত্যুর পরোয়া তারা করে না। বরং মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় বরণ করে অত্যাচারীদের নির্বাক করে দিতে পারে, পারে প্রতিবাদীর এক জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে উঠতে।
ক্যাপ্টেন রেজা খান যখন তার মায়ের বয়সী, গ্রাম্য, সহজ-সরল রশিদাকে সবার সামনে ধর্ষণ করে, যে রশিদা বন্দিনীদের মধ্যে ছিল সবচেয়ে বর্ষিয়ান এবং মনে মনে বন্দি শিবিরের সবাই তাকে মায়ের আসনে বসিয়েছিল, তা দেখে এবং ধর্ষণের সময় রশিদার আর্তচিৎকার শুনে শিক্ষিত তানিমা আর সহ্য করতে পারেনি। সামনে এগিয়ে যায় সে। ‘জোর গলায় একই ভঙ্গীতে গলা ফাটায়, ‘রঞ্জিৎ সিং কে হারামজাদ লোগ, করো আপনা মাকে করো-করো-করো-মাদা-র্চোদ-।’এই প্রতিবাদের ফলস্বরূপ ঘাতক ক্যাপ্টেন রেজা খানের বুলেট এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয় তানিমার বুক। মৃত্যুর
কোলে ঢলে পড়ে সে। এ মৃত্যু যেন বেঁচে থাকার চেয়েও অধিকতর গৌরবের।
এখানেই শেষ নয়, রেজা খানদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নীরব নির্মম প্রতিবাদ জানায় জায়েদা, আমোদিনী আর সখিনা। স্বেচ্ছায় আত্মাহুতি দিয়ে বন্দি শিবির থেকে মুক্তিলাভ করে জয়ের রক্তাক্ত তিলক যেন বাঙালি নারীর কপালে এঁকে দিয়ে যায় তারা। এ আত্মহত্যার মাধ্যমেই শেষ হয় ৬৪ পৃষ্ঠার উপন্যাসটি।
বন্দি নারীদের ‘নেকড়ে অরণ্য’ থেকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতি নেই। গুদামঘরের বাইরে গুলির শব্দ, পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়া এক তরুণ মুক্তিযোদ্ধার রক্তাক্ত উপস্থিতি এবং ঘাতকদের হাতে তার মৃত্যু ছাড়া সমগ্র উপন্যাসে আর কোনো সুসংবাদ নেই। শুধু লোমহর্ষক নির্যাতন, ধর্ষণ আর খুন।
কাজেই বোঝা যায়, সময়টা ছিল যুদ্ধের শুরুর দিক। মুক্তিযোদ্ধারা সবেমাত্র সংগঠিত হচ্ছিল। এ সুসংবাদটুকুই শুধু পাওয়া যায় উপন্যাসটিতে। এছাড়া শুধু বর্বরতার চিত্র। নিরাশা আর আলো-অন্ধকারের দোলাচল গ্রাস করেছে গুদামঘরটিকে। কিন্তু এর মধ্যেই বাঙালি নারীরা নিজেরাই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শোষকদের বিরুদ্ধে, নিজেরাই বেছে নিয়েছিল নিজেদের মুক্তির পথ। আর এতেই অবশ্যম্ভাবী এক বিজয়ের বারতা নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সঙ্কেতময়তার জন্ম দেয়। ‘নেকড়ে অরণ্য’ একাত্তরে আমাদের ধর্ষিতা মাদের মর্মন্তুদ আখ্যান। স্বাধীনতা সংগ্রামের রক্তাক্ত ইতিহাস। যে ইতিহাস আমাদের মনে যেমন বেদনার ঢেউ জাগায়, তেমনি গৌরবেরও।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com