সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Syed Shamsul Haque. Show all posts
Showing posts with label Syed Shamsul Haque. Show all posts

খেলারাম খেলে যা - সৈয়দ শামসুল হক

Khelaram Khele Ja - Syed Shamsul Haq
খেলারাম খেলে যা - সৈয়দ শামসুল হক

প্রায় ৪০ বছর পার হতে চলল 'খেলারাম খেলে যা'র। উপন্যাসটি এখনো পাঠকের আগ্রহ ধরে রেখেছে। এটি একটি বিশেষ ধরনের জনপ্রিয়তা এবং বলতে কী এটিই সত্যিকারের জনপ্রিয়তা। তথাকথিত জনপ্রিয় উপন্যাস (আদতে সেসব তো উপন্যাস পদবাচ্যই নয়) পড়েই ভুলে যান পাঠক। পড়ার কিছুদিন পর লেখকের নামটা হয়তো মনে থাকে, কিন্তু দেখা যায় উপন্যাসের নামটাই ভুলে গেছেন। ওই বই পড়ে তিনি সেই আগের মানুষটিই রয়ে যান।
সত্যিকারের সাহিত্য মানুষকে স্থানচ্যুত করে_সৈয়দ হক নানা সময়ে কথাটি বলেছেন। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ_তাঁর প্রায় সব লেখা পাঠের পর রুচির নতুন নির্মাণ ঘটে। বোধের জগৎ আলোড়িত হয়। জন্ম নেয় নানা জিজ্ঞাসা।
কে কত বড় পুরুষ, এর পরিমাপ তার শিশ্নের মাপেও হয় না, হয় না কত নারীতে সে গমন করছে তার বিচারেও। তাহলে রন জেরেমি বা জন হোমসরা, তথা পৃথিবীর তাবৎ নীল ছবির নায়করা হতেন সর্বকালের সেরা পৌরুষদীপ্ত পুরুষ। জন আপডাইকের একটি গল্পে তাঁর একটি চরিত্র নীল ছবির নায়কদের বিশেষ অর্থে পৌরুষহীন, নপুংসক এবং
ম্যাদামারা পুরুষ বলেই মনে করে। সৈয়দ হক 'খেলারাম খেলে যা'তে বাবরের মাধ্যমে যে যৌন পরিস্থিতির নির্মাণ করেন, তাতে শেষ পর্যন্ত মূলত এক ধরনের অপ্রেম আর বিবমিষারই প্রমাণ মেলে। 'খেলারাম' বলতে আমরা কি রতিদক্ষ পুরুষকে বুঝব, তাকে কি প্লেবয় বলব? উপন্যাসটি নিবিড় পাঠের পর এর নায়ককে কি আর তা মনে হয়?
কারণ তার চেয়ে বড় এক খেলা কালের করাল আঙুলের সুতোর টানে চলতে থাকে। ব্যক্তির লোভ-রিরংসার বিস্তৃত প্রকাশ ঘটে সমাজ ও রাজনীতির হাত ধরে। তারও আগে দেশভাগ হয়। আপন পর হয়। ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে হেরে গিয়ে পালিয়ে আসে আত্দোদরপরায়ণ মানুষ। বাবর তাদেরই প্রতিনিধি। বাবর আমাদের স্বার্থসচেতনতার গভীরে থাকা 'পাশবিক আমি'র প্রতিনিধি, যার অন্য পিঠে আছে মানবিক মানুষ হতে না পারার আর্তি ও দহন, ক্ষয় ও ক্ষরণ।
রাজনীতি, ইতিহাসের মার খাওয়া বাবরের পিঠ। এ পিঠ তার অতীতের পিঠ। তার ব্যর্থতা ও কাপুরুষতার পিঠ। সেই মারের দাগ তৈরি করেছে অমোচনীয় এক কালশিটে দাগ।
দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িকতার গ্লানি, রক্তপাত কেবল সেই সময়টার ভেতরে সেঁধিয়ে যায়নি, সময়ের সীমা ছেড়ে তা বেরিয়ে পড়েছে, জন্ম দিয়েছে দাঙ্গার মতো আরো কাপুরুষোচিত ঘটনার। নিজের বোন হাসনুকে দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি বাবর। সেই স্মৃতি তার পিছু ছাড়ে না। উপন্যাসের শেষে ধর্ষণকারীদের হাত থেকে জাহেদাকে বাঁচাতে চেয়েছে বাবর। সেখানেই তার প্রকৃত পৌরুষের প্রথম ও শেষ পরিচয় পাওয়া যায়।
টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক বাবর আলী খান। আমরা তাকে আপাতদৃষ্টিতে লম্পট হিসেবেই দেখি। সে অবিবাহিত কিন্তু বয়স্ক পুরুষ। কিন্তু 'খেলারাম খেলে যা' কি অল্পবয়সী মেয়েদের সঙ্গে বাবরের শরীরিক সম্পর্কের ধারাবাহিক কাহিনী? লতিফা, মিসেস নাফিস, বাবলি, জাহেদার মতো নারীর কাছে বাবর আলী খান কেন যায়? কিসের জন্য যায়? শুধু কামনা নয়, তার পেছনে থাকে আত্দক্ষরণের সেই ইতিকথা, যা গোটা 'খেলারাম খেলা যা' উপন্যাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে গহিন গোপনভাবে। নারী শরীরের উত্তাপে নিজেকে শীতল করে করে বেঁচে থাকার সত্যিকারে দহন সে মিটিয়ে নিতে চায়। কিন্তু কতটা পারে? এ উপন্যাসে মূল স্রোতটিকে এতটা সার্থকভাবে সৈয়দ হক আড়ালে রেখেছেন যে অপরিণত পাঠকের কাছে সেটি ধরা পড়বে না। তাদের কাছে 'খেলারাম খেলে যা' মানে বাবরের যৌন-অভিযান। তাই পাঠক পরিণত কী অপরিণত এ উপন্যাসে পাঠে এর পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়।
অথচ 'খেলারাম খেলে যা' একটি অস্বস্তিকর উপন্যাস। এক তীব্র-তীক্ষ্ন বেদনা এর ভেতরে কিছুক্ষণ পরপর শিস দিয়ে যায়। অপরিণত পাঠকের কান সেই শব্দ শোনার মতো তৈরি নয়। হেনরি মিলারের উপন্যাসের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে থাকে। ঘটেছিল সেই মার্কুয়েস দ্য সাদের উপন্যাসের ক্ষেত্রেও। যৌনতার ভেতর দিয়ে জীবনের গভীরতর দর্শন ও প্রতিবাদ সাদকে অমর করে দিয়েছে। মিলারের 'ট্রপিক অব ক্যান্সার' বা 'ট্রপিক অব ক্যাপ্রিকর্ন' বা তার 'দ্য রোজি ক্রুসিফিকেশন ট্রিলজি'র 'সেক্সাস', 'প্লেক্সাস' ও 'নেক্সাস'-এ অপরিণত পাঠকের নায়কের যৌন-অভিযানকে বড় করে দেখে; কিন্তু তার প্রত্যাখ্যান ও তীব্র ক্রোধী দৃষ্টির ওপর চোখ রাখতে পারে না। একই ঘটনা ঘটতে পারে ফিলিপ রথের 'পোর্টনয়েস কমপ্লেইন্ট' বা 'দ্য প্রফেসর অব ডিজায়ার'-এ পাঠের সময়। 'খেলারাম খেলে যা'র ক্ষেত্রে প্রায় সেই ঘটনাই ঘটেছে। সৈয়দ হকের এ উপন্যাসটিকে হাসান আজিজুল হক বলেছিলেন 'রাগী উপন্যাস' (কথাসাহিত্যের কথকতা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪, সাহিত্য প্রকাশ, পৃ. ২৩)। গুন্টার গ্রাসের 'দ্য টিন ড্রাম' উপন্যাসটির নানা অংশ কম যৌন-উদ্দীপক নয়। যৌন-উদ্দীপক তকমা সাঁটানো আছে জেমস জয়েসের 'ইউলিসিসে'র গায়েও। কোথাও কোথাও তার রগরগে পর্যায়ে গেলেও এর শৈল্পিকদীপ্তি ততটাই অটুট থেকেছে। 'ললিটা'তে ভ্লাদিমির নবকভ কি শুধু যৌনতাকে এঁকেছিলেন? যৌনতা বারবার জন আপডাইকের মতো কত লেখকের লেখার অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।
কুন্দেরার প্রায় সব উপন্যাসই কমবেশি যৌনতার মিশেলে নির্মিত।
সেদিক থেকে বাংলা উপন্যাসে যৌন বিষয়গুলো তুলে আনতে লেখকদের সংকোচ কোনোকালেই কাটেনি। অমিয়ভূষণ তো বলেছিলেন, এটা গাইনোকলজির বিষয়, লেখকের কারবার একে ঘিরে হতে পারে না। তাকেও 'বিশ্ব মিত্তিরের পৃথিবী' লিখতে হয়েছে। সমরেশ বসুর 'বিবর' ও 'প্রজাপতি' তো তা নিয়ে বাংলা সাহিত্যকে ঝাঁকিয়ে গেছে।
পরবর্তীকালে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় এতে এনেছেন অস্তিত্বের নতুন দীপ্তি ও দ্বিধা। তার পরও বাংলা সহিত্যে যৌন বিষয়-আশয়ের উপস্থিতি স্বস্তিকর হিসেবে কেউ দেখেন না।
সন্দীপন তো বলেই ফেলেছেন, 'খুন পৃথিবীর নির্বোধতম অপরাধ। খুনের অনুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে লেখা হয় ক্রাইম স্টোরি। কেউ বাধা দেয় না। উল্টোদিকে, যৌনতা অপরাধ তো নয়ই, জীবনের অপরিহার্য আনন্দের বিষয়। অথচ শুধু যৌনতা নিয়ে বই লিখলেই মহাভারত পাপবিদ্ধ হয়।' (গদ্যসংগ্রহ ১, মার্চ ২০০৩, প্রতিভাস, পৃ. ২২৪)। এমন অনেক
উপন্যাসের গায়ে এ রকম তকমা লাগানো যেগুলো পরবর্তরর্্ীকালে সাহিত্যে ক্ল্যাসিক হিসেবে টিকে আছে।
'খেলারাম খেলে যা' তো কেবল যৌনতা নিয়ে লেখা উপন্যাস নয়। যৌনতাকে সৈয়দ হক উপন্যাসের 'টুলস' হিসেবে স্রেফ ব্যবহার করেছেন। কারণ যৌনতা সেখানে একটা অনুুষঙ্গ মাত্র, এর মূলে আছে সেই মানব পরিস্থিতি, যেখানে সে ইতিহাস-রাজনীতির কূটকৌশলের হাতে মানুষ প্রচণ্ড পীড়নের শিকার। আলবার্তো মোরাভিয়ার উপন্যাসগুলো কি পরবর্তীকালে কুন্দেরার 'দি আনবিয়ারেবল লাইটনেস অব বিং'-এর মতো উপন্যাসগুলো সেই ধরনের 'দেয়াল লিখনে'র মতোই, যাতে মানুষের তীব্র ক্রোধ যৌনতার মাধ্যমে, স্ল্যাংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যাকে আমরা গ্রাফিত্তি বলে থাকি। তবে তা কেবল স্ল্যাং-নির্ভরই নয়, এতে থাকে জীবনের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য; কেবল যিনি লেখেন তিনি তাঁর নামটা এর তলে যোগ করে দেন না। এ যেন নিজেকে আড়াল করে সত্য বলার একটা পদ্ধতি। তার সে গ্রাফিত্তি পড়ে অনেকেই মনে মনে
বলেন, এ তো দেখি আমরাই নিজের কথা। 'খেলারাম খেলে যা'র একটি অংশে সৈয়দ হক এরই পরিচয় দিয়েছেন এবং সেখান থেকেই 'খেলারাম খেলে যা' নামটি এ উপন্যাসের শিরোনাম হয়ে ওঠে। কারণ তাঁর মনে হয়েছে মানবের এ পরিস্থিতিকে এর চেয়ে জুতসই নামে অভিহিত করা যায় না।
''বাবর কিছুতেই মনে করতে পারল না সেই ভদ্রলোকের নাম, যিনি লন্ডনের বিভিন্ন শৌচাগার আর দেয়ালের ছবি তুলে 'দেয়াল লিখন' নামের একটা অ্যালবাম বের করেছিলেন। তাতে কত রকম মন্তব্য! রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, যৌন-বিকার সম্পর্কিত কিই-বা বাদ গেছে। ও রকম একাকী জায়গায় মানুষ তার ভেতরের সত্তাটিকে বের করে আনে। গা শির শির করে। হাত নিশপিশ করে। লেখা হয়ে গেলে এমন একটা তৃপ্তি হয় যেন পরম আকাঙ্ক্ষিত কোনো গন্তব্যে পেঁৗছানো গেছে।
বাবর নিজেও তো এ রকম করেছে। দেয়ালে লিখেছে। একবার সেক্রেটারিয়েটের বাথরুমে গিয়ে দেখে 'বাঞ্চোৎ' লেখা। সিগারেট টানছিল বাবর। প্রথমে সিগারেটের ছাই দিয়ে চেষ্টা করল, কিন্তু লেখা গেল না। তখন চাবি দিয়ে সে 'বাঞ্চোৎ'-এর পাশে একটা বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন আঁকল। নিচে লিখল_কে তুমি, না তোমার বাবা? আরেকবার এয়ারপোর্টের বাথরুমের দিকে কে যেন লিখে রেখেছে লাল পেনসিল দিয়ে বড় বড় হরফে_'খেলারাম খেলে যা'।
বাক্যটা আজ পর্যন্ত ভুলতে পারেনি বাবর। যে লিখেছে জগত সে চেনে। যে লিখেছে সে নিজে প্রতারিত। পৃথিবী সম্পর্কে তার একটি মন্তব্য বাথরুমের দেয়ালে সে উৎকীর্ণ করে রেখেছে_খেলারাম খেলে যা।
কতদিন বাবর কানে স্পষ্ট শুনতে পেয়েছে কথাটা।'' (খেলারাম খেলে যা, অক্টোবর ১৯৭৩, সন্ধানী প্রকাশনী, পৃ. ৭৮-৭৯)যখন মানুষ নিজেকে খুঁজে পায় তখন এটা ঘটতে পারে, আর ঘটতে পারে তার নিঃসঙ্গতা থেকে। আমাদের অনেকেরই জানা, যেকোনো মানমানুষের একাকিত্বের অসহায়ত্বই নাকি তার ঈশ্বর, সাহিত্যও তাই। সাহিত্য মানুষের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ বৃত্তির নাম। গ্রাফিত্তি যাঁরা লেখেন তাঁরা সাহিত্যিক নন। কিন্তু এর সঙ্গে নাগরিক তথাকথিত নিচুতলার
অভদ্র জীবনের নানা মাত্রা উঠে আসে। পাওয়া যায় সমকালের পাঠ, যা অনেক সময় ঢাউস বই পড়েও গড়ে ওঠে না।
গ্রাফিত্তিরই বড় আকারে প্রকাশ হয়ে দেখা দেয় তেমনি প্রতিবাদী উপন্যাসে। জে পি ডনলেভির 'দ্য জিনজার ম্যান' বা হুবার্ট সেলবি জেআরের 'লাস্ট এক্সিট টু ব্রুকলিন'-এর কথাও আমরা স্মরণ করতে পারি। রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত, দাম্পত্য, যৌন-বিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো মিলেমিশে ওই উপন্যাসগুলোকে সমকালে জনপ্রিয় করে তোলে।
বিতর্কিত কম করে না। কিন্তু এগুলো চিরকালের হয়ে ওঠে এর অন্তর্গত বিষাদ, ক্ষয় ও ক্ষরণের দলিল হিসেবে। 'খেলারাম খেলে যা'র ক্ষেত্রেও ঠিক একই বিষয় ঘটেছে। এ উপন্যাস নিয়েও বিতর্ক কম নেই। তবু এখনো নিষিদ্ধ পাঠের মতো দুর্মর আকর্ষণে পূর্ণ এর প্রতিটি পৃষ্ঠা। যৌনতা একে জনপ্রিয় করেছে, কিন্তু এর বিষাদ-ক্রোধ-অস্তিত্বের অসহায়ত্বের বয়ান এঁকে দিয়েছে সময়কে উতরে গিয়ে টিকে থাকার সামর্থ্য।
অনেকেই একমত হবেন, এখনো যৌনতাকে শিল্পের পর্যায়ে নিতে যে দক্ষতা ও সাহস নিয়ে অনেক লেখকের সংশয় দেখা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে সৈয়দ হক তা কেচে দিয়ে গেছেন। কী আধুনিকতায়, কী আবেদনে তাঁর এ লেখা তাঁকে তথাকথিত জনপ্রিয়তার গণ্ডি ছাড়িয়ে সত্যিকারের জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।



This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মার্জিনে মন্তব্য - সৈয়দ শামসুল হক

মার্জিনে মন্তব্য - সৈয়দ শামসুল হক

মার্জিনে মন্তব্য - সৈয়দ শামসুল হক
আমার দীর্ঘদিনের চিত্রকর বন্ধু কাইয়ুম চৌধুরী একবার একটি কথা বলেছিলেন – আমরা মিস্তিরি মানুষ; এ বাড়িতে পোষালো না, র‍্যাঁদা – করাত – বাটালি চটের থলেতে পুরে আরেক গেরস্তের বাড়ি যাবো। কাইয়ুম আর আমি একসঙ্গে বহু পত্রপত্রিকা আর প্রকাশকের বাড়িতে কাজ করেছি; কাজ নিয়ে একবার একজনের সঙ্গে খটাখটি লাগলে, আমি মন খারাপ করলে, ঐ কথাটি তিনি বলেছিলেন।
সত্যি বৈকি – খাঁটি সত্যি কথা।
শিল্পের গাড়ি নিছক প্রেরণার চাকায় চলে না। তিনি গায়ক হোন, লেখক হোন কি চিত্রকর, তাঁর ভেতরে নিদ্রাহীন দুই পুরুষ – প্রতিভাবান শিল্পী আর নিপুণ মিস্তিরি। মিস্তিরির দিকটা বুদ্ধি নির্ভর, আর শিল্পীর দিক দৃষ্টি নির্ভর। দৃষ্টি আর বুদ্ধি, এ দু’য়ের রসায়নে হয় একটি ছবির জন্ম, কি একটি কবিতার। দৃষ্টি দিয়ে যা আয়ত্ব করলাম বুদ্ধি দিয়ে তা পৌঁছে দিলাম। অধিকাংশ শিল্পচেষ্টাই যে শেষপর্যন্ত পৌঁছোয় না তার পিছনে আমি মনে করি, ঐ মিস্তিরির অভাব।
একটি উপমা আমি প্রায়ই দিয়ে থাকি – চেয়ারের চারটে পা যদি মেঝেতে ঠিকমতো না-ই বসলো তো সে চেয়ার দেখতে যতই মনোহর হোক আমার তাতে কাজ নেই। চেয়ার বসবার জন্যে। মেঝের উপর জুত্‌ মতো সেটি বসতে হবে, তার পা চারটে স্থির মতো থাকতে হবে, কোথাও এতটুকু টলমল করবে না – তবে সে চেয়ারে আমি বসবো। বসে তারপর দেখব আসন কতটা আরামদায়ক, পিঠ কতটা সুখপ্রদ। সে সব হলো তো দেখব চেয়ারটির নকশা কেমন, পালিশ কেমন, সবশেষে যাচাই করব টেকসই কতদূর। তবেই সে চেয়ার হবে আমার চেয়ার।
লেখা সম্পর্কেও আমার একই দাবী। লেখাটি মিস্তিরির হাতে ঐ চেয়ারের মতো পাকাপোক্ত হতে হবে। কবিতা হলে ছন্দের নির্ভুল ব্যবহার আমি দেখতে চাই; ছন্দ নির্ভুল তো আমি দেখব কবিতার অন্তর্নিহিত যে যুক্তির সিঁড়ি সেটি আছে কি না; থাকলে সে সিঁড়ি কতটা মজবুত। তারপর দেখব কবিতায় বলবার কথাটি জ্যামিতিক সম্পূর্ণতা পেয়েছে কিনা। এই জ্যামিতিক সম্পূর্ণতা বলতে বুঝাতে চাচ্ছি ত্রিভুজ কিংবা বৃত্ত অথবা আয়তক্ষেত্রের বা বর্গক্ষেত্রের তৃপ্তিকর একটি নির্মাণ। ছোট্ট করে এখানে বলে নিতে পারি যে, দৃষ্টিগ্রাহ্য উপমা ছাড়া মানুষ যে কিছুই আলিঙ্গন করতে পারে না, মানুষের এ এক অলঙ্ঘ্য সীমাবদ্ধতা। আর তাই আমার কল্পনায় মানুষের যে কোন সৃষ্টিশীল উচ্চারণ হয় বৃত্ত অথবা আয়তক্ষেত্র কিংবা ত্রিভুজ বা বর্গক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনীয়।
কবিতায় মিস্তিরির হাত চৌকষ দেখতে পেলে আমি কবিতাটি কবিতা কিনা বিচার করতে বসবো। বলতে হবে না, মিস্তিরির কাজটুকু কবিতা নয়। আগে যে দৃষ্টির কথা বলেছিলাম, শিল্পীর সেই দৃষ্টিই রচনাটিকে এবার হয় কবিতা করে তুলবে অথবা তুলবে না। যদি না তোলে তো বড়জোর সাময়িক পত্রের একাংশ পূরণ করবার যোগ্যতা স্বীকার করে নেব মাত্র; আর যদি কবিতা হয়, যদি এমন করে এই কথাটি আর কেউ বলে না থাকে তো সে কবিতাকে সাময়িক পত্রের পাতা থেকে তুলে এনে অভিজ্ঞতার অন্তর্গত করে নেব, কিংবা কবিতাটি নিজেই তার প্রবল শক্তিতে আমার অন্তর্গত হয়ে যাবে।
আসলে যে কোন ভাল লেখাই পাঠককে পরাস্ত করে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভেতর প্রবিষ্ট হয়ে যায়।
আমার স্মরণ হচ্ছে আমি কবিতা ছাড়াও গল্প, উপন্যাস এবং নাটক লিখে থাকি। শুরুতেই কবিতার কথা তুলে কি কবিতার প্রতি আমার গোপন পক্ষপাতটুকু প্রকাশ করে ফেললাম। গোপন কেন? –এ পক্ষপাত তো প্রকাশ্য। আমি কি আমার প্রিয়তম ব্যক্তিটিকে উপন্যাসের চেয়ে কবিতার বই দিতে ভালবাসি না? আমাকে কবি বলে পরিচয় করিয়ে দিলে আমি কি আধিকতর কৃতজ্ঞ বোধ করি না?
ব্যক্তিগত থাক; আমার সিদ্ধান্ত – সাহিত্যের বিভিন্ন মাধ্যমে যিনি কাজ করেন একই সঙ্গে, তিনি যদি কবিতাও লেখেন, তা তিনি যত কমই লিখুন আর তাঁর কবিতা তুলনামূলক ভাবে যত কম গ্রাহ্যই হোক না কেন, তিনি কবি এবং কবি ছাড়া আর কিছু নন। কবি বলেই তিনি নাট্যকার কিংবা ঔপন্যাসিক। রবীন্দ্রনাথ কবি বলেই পল্লী সংস্কারক পর্যন্ত হতে পেরেছিলেন। ডি এইচ লরেন্স কবি না হলে ঔপন্যাসিক নন। কবিতার কথা তুলেছি কারণ একটি সদ্যক্ষত আমি বহন করছি। কিছুদিন আগে আমাদের প্রধান এক তরুণ কবি আমাকে তাঁর নতুন লেখা ছোট্ট একটি কবিতা দেখিয়েছিলেন। আমি অবাক হয়ে আবিষ্কার করি, এই কবি যাঁর বেশ কয়েকটি বই আছে, বাংলাদেশে সাহিত্য পাঠক প্রায় প্রত্যেকেই যাঁর কবিতা না হোক নামের সঙ্গে পরিচিত, তাঁর এই বারো লাইনের কবিতায় ছন্দটি নির্ভুল নয়। বিশেষ করে একটি লাইনে ছন্দের শোচনীয় পতন আমাকে দ্বিখন্ডিত করে যায়। স্বীকার করবো দশ বছর আগে হলে কবিতাটি কবির হাতে নীরবে ফিরিয়ে দিতাম; কিন্তু এখন সুকুমার রায়ের সেই নব্বই বছর বয়সী নাজিরের মতো আমিও ভাবি – একদিন তো মরবই, অতএব মন্ত্রীর জামা শুঁকে দেখতে ভয় কিসের? কবিকে ছন্দের ভুলটা দেখিয়ে দিতে আরো অবাক, তিনি বললেন, এ ভুল তাঁর নতুন নয়, তাঁর বিভিন্ন বইতেও এ ধরণের পতন রয়ে গেছে এবং এখন তিনি আর কিছু মনে করেন না।
না, পারিনা, আমি ভাবতেও পারিনা, একজন কবি যদি তিনি কবি হন, এই অনুতাপ বর্জিত উচ্চারণ তাঁর, এই অকুঞ্চিত মুখ ঠিক তাঁরই।
মিস্তিরি শিল্পী নন, কিন্তু প্রতিটি শিল্পীই নিপুণ মিস্তিরি। যে চেয়ারের পা টলমল করছে, পিঠ খোঁচা দিচ্ছে, তার নকশা যত নতুন হোক, ঘরে দিন দুয়েক রাখবার পর গৃহস্ত তাকে বারান্দায়, বারান্দা থেকে চাতালে, অবশেষে বিস্মৃতির গুদামে ফেলে রাখবেন। মহাকাল নির্মম এক গৃহস্থ; তিনি এইসব আপাত মনোহর আসবাব জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক

“আমি তোমায় সন্তান দিতে পারব। উত্তম বীজ উত্তম ফসল। তোমার সন্তান খাঁটি মুসলমান হবে, খোদার ওপর ঈমাণ রাখবে, আন্তরিক পাকিস্তানী হবে, চাওনা সেই সন্তান? আমরা সেই সন্তান তোমাদের দেব, তোমাকে দেব, তোমার বোনকে দেব, তোমার মাকে দেব, যারা হিন্দু নয়, বিশ্বাসঘাতক নয়, অবাধ্য নয়, আন্দোলন করে না, শ্লোগান দেয় না, কমিউনিস্ট হয় না। জাতির এই খেদমত আমরা করতে এসেছি। তোমাদের রক্ত শুদ্ধ করে দিয়ে যাব, তোমাদের গর্ভে খাঁটি পাকিস্তানী রেখে যাব, ইসলামের নিশানা উড়িয়ে যাব। তোমরা কৃতজ্ঞ থাকবে, তোমরা আমাদের পথের দিকে তাকিয়ে থাকবে, তোমরা আমাদের সুললিত গান শোনাবে।”
(নিষিদ্ধ লোবান, সৈয়দ শামসুল হক)
সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস “নিষিদ্ধ লোবান” কাহিনী খুব দীর্ঘ নয়, সম্ভবতঃ দুই কি তিনদিনের গল্প, কিন্তু সৈয়দ হকের সম্মোহনী গদ্য একটানে নিয়ে যায় চৌষট্টি পৃষ্ঠার উপন্যাসের শেষে। বিশাল অংশ জুড়ে আছে লাশ সরানোর, মাটি চাপা দেয়ার গল্প। টানটান বিবরণ। সম্পূর্ণ উপন্যাসটি আর দেরি না করে পড়ে ফেলুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দ্বিতীয় দিনের কাহিনি - সৈয়দ শামসুল হক

দ্বিতীয় দিনের কাহিনি — সৈয়দ শামসুল হক
দ্বিতীয় দিনের কাহিনি — সৈয়দ শামসুল হক

বই আলোচনাঃ
যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার স্থির-বয়ান
মোজাফ্ফর হোসেন


দ্বিতীয় দিনের কাহিনি (১৯৮৪)—সৈয়দ শামসুল হকের ক্ষীণদেহী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির প্রথমা সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৭-এর অক্টোবরে। এ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট যুদ্ধোত্তর জলেশ্বরী। জলেশ্বরী সৈয়দ শামসুল হক-সৃষ্ট কল্পশহর। আর কে নারায়ণের মালগুডি, উইলিয়াম ফকনারের ইয়াকনাপাতউফা, স্টিফেন কিংয়ের কাসল রক, কুর্ট ভনেগার্টের ইলুয়াম এবং জন গ্রিশামের ক্লান্টন মিসিসিপি শহরের মতো জলেশ্বরীও আজ সাহিত্য-মানচিত্রে ভীষণ বাস্তব। সৈয়দ হক এই কল্পনার ভূগোলজগৎটি তৈরি করা শুরু করেন ১৯৭৪ সালে, যখন তিনি আলোচ্য উপন্যাসটি লেখা শুরু করেছেন। এরপর তিনি জলেশ্বরীর প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়কে উপজীব্য করে লেখেন নিষিদ্ধ লোবান (১৯৯০) উপন্যাসটি।Ñঘটনার কালক্রমের দিক দিয়ে যাকে দ্বিতীয় দিনের কাহিনির প্রিক্যুয়াল হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। দুটি উপন্যাসে ঘটনাপ্রবাহ ও বর্ণনা-স্বরের দিক থেকেও বেশ কিছু অভিন্নতা চোখে পড়ে।

সৈয়দ হক অল্প কটি চরিত্র দ্বারা স্বল্পায়তনের এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের নৈরাশ্যজনক চিত্র তুলে এনেছেন। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য উপন্যাসের সঙ্গে এর মূল পার্থক্যটা নির্মিতি অংশে। টানা গদ্যে গল্পটা বলে গেছেন সৈয়দ হক। কোথাও কোথাও চরিত্রের স্বগতোক্তির ভেতর দিয়ে এগিয়েছে কাহিনি। আপাত-একরৈখিক গল্পকে লেখক তাঁর প্রকাশভঙ্গি, বর্ণনা-ঢং আর শব্দচয়নের মধ্য দিয়ে করে তুলেছেন নাটকীয়। পুরো উপন্যাসে আছে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র সংলাপ। আবার উপন্যাসের একটি বিরাট অংশজুড়ে আছে নীরবতা। অর্থাৎ অনুচ্চারিত স্বর থেকেই সবচেয়ে বেশি বলা হয়েছে। গোটা উপন্যাসটি স্থির দৃশ্যের মতো থমকে থাকে। আখ্যান যেন এক জায়গাতেই ঘুরপাক খায়। তৈরি হয় অস্ফুট এক অন্তর্বয়ান। সৈয়দ হকের এই শক্তিশালী-আবেশি গদ্যের নমুনা তাঁর শেষদিকের রচনায় তেমন একটা ধরা পড়েনি।

এর শুরুটা হয়েছে নিস্তব্ধতা দিয়ে। কেন্দ্রীয় চরিত্র তাহেরের মনে হয়, লোকজন ‘বাতি নিভিয়ে নিশ্বাস বন্ধ করে তারা পড়ে আছে অন্ধকারের ভেতরে গহ্বর সৃষ্টি করে।’ খুপরির ভেতর-বাইরের অন্ধকারকে গল্পকথক যেমন বলছেন, ‘যতিহীন বিহ্বলতার জন্ম হয় গোটা অস্তিত্ব জুড়ে’, কথাটি পুরো উপন্যাসের ক্ষেত্রেও খাটে। জলেশ্বরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চাকরি নিয়ে শহরটিতে পা রাখে তাহের উদ্দিন খন্দকার। আলো-আঁধারির ভেতর থেকে সন্দেহের দৃষ্টি ধেয়ে আসে তার দিকে। মানুষগুলো মনে করে সে বিহারি; ছদ্মবেশে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে এসেছে। এরপর তার পরিচয় উন্মোচিত হলে তারা তাকে অস্থায়ী একটা আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়। তাহের এগিয়ে যায় নিস্তব্ধতার ভয়াবহ শব্দের ভেতর দিয়ে।

শহরটিতে এই ভয়াবহ নিস্তব্ধতা ও অবিশ্বাসের দীর্ঘশ্বাস নেমে এসেছে ভয়ংকর এক যুদ্ধ থেকে। যুদ্ধ-পরবর্তীকালে এসে গোরস্থানের নগরী হয়ে ওঠে জলেশ্বরী। তাহের তার স্মৃতিতে যে জলেশ্বরীকে সম্বল করে আসে, সেই জলেশ্বরী একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সর্বস্বান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ধ্বংসের সাক্ষী হয়ে। চারদিকে ক্ষয় আর মৃত্যুর চিহ্ন। একসময়ের নামহীন সড়কগুলো এখন হয়ে উঠেছে শহীদ বরকতউল্লাহ রোড, শহীদ আনোয়ার রোড, শহীদ গেদু মিয়া লেন, চাঁদবিবির পুকুর ও শহীদ সিরাজ আলী রোড। সাক্ষাতে শহরের লোকজন কেবল মৃতদের গল্প শোনায়।

অতীত থেকে বিযুক্ত হতে আসা তাহেরকে সবাই যেন আঙুল দিয়ে অতীতে পাকাপাকিভাবে আবাস গড়ে নিতে ইন্ধন জোগায়। ফলে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট হলেও চরিত্রদের বক্তব্য ও জীবনযাপনের ভেতর দিয়ে যুদ্ধসময়ের নিষ্ঠুর বয়ান অহরহ চলে আসে। যুদ্ধ মিশে যায় যুদ্ধোত্তর সময়ের সঙ্গে।

তাহের রাজধানীর অপেক্ষাকৃত ঝঞ্ঝাটমুক্ত জীবন ফেলে জলেশ্বরী এসেছে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু এখানে এসে সে নির্মিতির চেয়ে ভাঙনটা দেখতে পায় স্পষ্টভাবে। মুক্তিযুদ্ধের পর ব্যক্তি থেকে সমষ্টি গড়ে ওঠার পরিবর্তে এখানে ব্যক্তিবোধ আরও সংকীর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে জলেশ্বরী সংস্কারে এসে নিজেকে প্রতারিত মনে হয় তাহেরের। তবে অন্যদিক থেকে তাকে শক্তি জোগায় ক্যাপ্টেন নামের পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা মজহার। মধ্যরাতে ক্যাপ্টেনের এ-এ-রে-এ-এ হাঁক তাহেরকে আশাবাদী করে তোলে। ক্যাপ্টেনের সঙ্গে একাত্মবোধ করে সে। ক্যাপ্টেন আর তখন একক কোনো ব্যক্তি থাকে না, উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি হিসেবে।

উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী পরিবর্তিত আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্বস্ত বয়ানের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য এর নির্মাণশৈলীর অভিনবত্বের কারণেও। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন গদ্যের কারুকার্যময় শিল্পিত উপন্যাস খুব বেশি লেখা হয়নি। ফলে সমসাময়িক পাঠকদের জন্য উপন্যাসটির সঙ্গে বাড়তি গুরুত্ব যুক্ত হতে পারে এর সাহিত্যমূল্যের দিকটি। তাহের চিহ্নিত হতে পারে ‘আউটসাইডার-আর্কিটাইপ’ চরিত্র হিসেবে। আখ্যানভুক্ত সমাজের বাইরের মানুষ সে। তার চরিত্রের এই বহিরাগত পরিস্থিতি মারসোর (আলবেয়ার কামু রচিত আউটসাইডার উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র) মতো স্ব-আরোপকৃত নয়, সমাজকৃত আরোপ। আখ্যানের সঙ্গে নিজের অস্তিত্বের যৌক্তিকতার যে হেতু সে খুঁজে ফেরে, তা কালের অবক্ষয়ে মানবিকবোধ সম্পন্ন প্রতিটি আধুনিক মানুষের পরিণতি বলে চিহ্নিত হতে পারে।

আলোচনাটি প্রথম প্রকাশিত হয় দৈনিক প্রথম আলো ৫ই জানুয়ারি ২০১৮। লিঙ্ক

বইটি পড়ার লিঙ্ক নিচেঃ




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বুকঝিম এক ভালোাবাসা - সৈয়দ শামসুল হক

বুকঝিম এক ভালোাবাসা - সৈয়দ শামসুল হক
বুকঝিম এক ভালোাবাসা - সৈয়দ শামসুল হক
মধ্যযুগের লোককাহিনি নিয়ে একটি প্রেম-উপাখ্যান।




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কলমের সঙ্গে সংসার - সৈয়দ শামসুল হক

কলমের সঙ্গে সংসার - সৈয়দ শামসুল হক
কলমের সঙ্গে সংসার - সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক, বহুমাত্রিক এই সাহিত্যস্রষ্টার মুখোমুখি হয়েছিলেন চারজন স্বনামধন্য মানুষ। তারা হলেন-মফিদুল হক, শফি আহমেদ, খালেদ হােসাইন এবং আহমাদ মোস্তফা কামাল। উদ্দেশ্য এই সব্যসাচীর সাহিত্য-সংসারের নানা অলিন্দের খোঁজখবর সবিস্তারে পাঠকসমীপে তুলে ধরা। প্রাবন্ধিক মফিদুল হক কথা বলেছেন সৈয়দ হকের ভাবনামূলক গদ্যরচনা বিষয়ে। তা থেকে পরিস্ফুট হয়েছে তার বিচিত্রগামী ভাবনা চিন্তা ও গভীরতাশ্রয়ী বিশ্লেষণ। অধ্যাপক ও নাট্যসমালোচক শফি আহমেদের সঙ্গে কথোপকথনে স্পষ্ট হয়েছে তার নাট্যভুবনের অভিযাত্রিক চারিত্র্য। সৈয়দ হকের কবিসত্তার স্বরূপ উদঘাটনে প্রয়াসী হয়েছেন অধ্যাপক-কবি খালেদ হােসাইন। অনুজ কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল অগ্রজের সৃষ্ট পথ ও পদরেখার অনুসন্ধানে ব্ৰতী হয়েছেন। চার বিশিষ্টজনের এই সম্মিলিত উপস্থাপনে সৈয়দ হকের কলমের সঙ্গে সংসারের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে উজ্জ্বল বিভায় ।
বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মাসুম রহমান।

প্ৰসঙ্গকথা
দেশবিভাগের পর ঢাকাকেন্দ্ৰিক সাহিত্যচর্চার শুরুতে হাতেগোনা কয়েকজন অগ্রজ সাহিত্যকর্মীর সঙ্গে যে ক'জন প্রতিভাবান যুবকের আবির্ভাব ঘটেছিল। সৈয়দ শামসুল হক তাদের অন্যতম। সময়টি ছিল বিপন্নতার। পাকিস্তান নামক অতি-অদ্ভুত একটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হওয়ায় রাষ্ট্রের উদ্যোগে ও আয়োজনে তথাকথিত ইসলামি জাতীয়তাবাদের চাদরে মুড়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল; বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও ভাষার বিরুদ্ধে চলছিল নানামুখী ষড়যন্ত্র।
যাবতীয় ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশল উপেক্ষা করে নিজ ভাষাকে টিকিয়ে রাখার যুদ্ধটি করে গেছেন-নিজের ভাষায় সাহিত্য রচনার এবং এর একটি মানসম্মত রূপদান করার যুদ্ধ। সৈয়দ হক সেই যুদ্ধের অন্যতম সৈনিক । ষাট বছরের বেশি সময় ধরে তিনি অসাধারণ মেধা, প্রজ্ঞা ও প্রতিভায় আজও নিজেকে রেখেছেন বিপুলভাবে সক্রিয়।
গল্প দিয়েই লেখক-জীবন শুরু করেছিলেন। সৈয়দ শামসুল হক, কিন্তু থেমে থাকেন নি সেখানে । বিচরণ করেছেন সাহিত্যের প্রায় সমস্ত শাখায়—কবিতায়, উপন্যাসে, নাটকে ও ভাবনামূলক গদ্যরচনায়। যেখানেই হাত দিয়েছেন, সফল হয়েছেন তিনি।
অন্যদিন-এর পক্ষে এই বহুমাত্রিক সাহিত্যস্রষ্টার মুখোমুখি হয়েছিলেন চারজন স্বনামধন্য মানুষ। তাঁরা হলেন-মফিদুল হক, শফি আহমেদ, খালেদ হোসাইন এবং আহমাদ মোস্তফা কামাল। উদ্দেশ্য এই সব্যসাচীর সাহিত্যসংসারের নানা অলিন্দের খোঁজখবর সবিস্তারে পাঠকসমীপে তুলে ধরা। প্রাবন্ধিক মফিদুল হক কথা বলেছেন সৈয়দ হকের ভাবনামূলক গদ্যরচনাবিষয়ে। তা থেকে পরিস্ফুট হয়েছে তার বিচিত্রগামী ভাবনাচিন্তা ও গভীরতাশ্রয়ী বিশ্লেষণ । অধ্যাপক ও নাট্যসমালোচক শফি আহমেদের সঙ্গে কথোপকথনে স্পষ্ট হয়েছে তাঁর নাট্যভুবনের অভিযাত্রিক চারিত্র্য। সৈয়দ হকের কবিসত্তার স্বরূপ উদঘাটনে প্ৰয়াসী হয়েছেন অধ্যাপক-কবি খালেদ হােসাইন। অনুজ কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল অগ্রজের সৃষ্ট পথ আর পদরেখার অনুসন্ধানে ব্ৰতী হয়েছেন। চার বিশিষ্টজনের এই সম্মিলিত উপস্থাপনে সৈয়দ হকের কলমের সঙ্গে সংসারের স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে উজ্জ্বল বিভায়। এই দীর্ঘ আলাপচারিতার সংক্ষেপিত রূপ ছাপা হয়েছিল অন্যদিন ঈদসংখ্যা ২০১৩-তে। পাঁচ দিনে পনেরো ঘন্টারও বেশি সময়ের এই কথোপকথন খুব সঙ্গত কারণেই ঈদসংখ্যার সীমিত পরিসরে ছাপানো সম্ভব। হয় নি। ঈদসংখ্যার পাঠকপ্রিতিক্রিয়ায় অনেকেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে কথোপকথনটি সবিস্তারে গ্রন্থাকারে প্রকাশের পরামর্শ দেন।
আমাদের এই উদ্যোগ সফল করার জন্য সৈয়দ শামসুল হক ও চার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আরেকজনের নেপথ্য ভূমিকা এই আয়োজনকে সংসারের উষ্ণতায় আপন করে তুলেছে, তিনি আনোয়ারা সৈয়দ হক । এই লেখকদম্পতির গুলশানের বাড়িতেই সম্পন্ন হয় পুরো আয়োজন। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন মোমিন রহমান। এঁদের প্রত্যেকের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

মাজহারুল ইসলাম
আবদুল্লাহ্ নাসের

কথা ছিল সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে আলাপচারিতা হবে তাঁর ভাবনামূলক গদ্যরচনাসমূহ নিয়ে, ইংরেজিতে বলা যায় নন-ফিকশনাল রাইটিংস। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবলম্বন হয়েছে তিনটি গ্রন্থ, মার্জিন মন্তব্য, কথা সামান্যই এবং হালে প্রকাশিত প্রণীত জীবন। তিন গ্রন্থের তিন মাত্রা, এক বৈঠকে এর নানা দিকে আলোকপাত করা দুরূহ। এর বাইরে রয়ে গিয়েছিল। আরেক গ্ৰন্থ স্বর্গের পথ নির্জন এবং ঠিক এই গোত্রের না হলেও আলোচনায় উঠে এসেছিল কিশোরপাঠ্য জীবনকথা, আমার স্কুল। বেশ বোঝা যায়, আলোচনা বঁধাধরা পথ বেয়ে এগোয় নি, কত কথাই না চলে এসেছে প্রসঙ্গক্রমে, তাতে বিষয় ছাপিয়ে বেপথু হওয়ার অভিযোগ উঠতেই পারে, কিন্তু হক ভাইয়ের সঙ্গে আলাপচারিতার আনন্দ তো এখানেই। তিনি সব্যসাচী, এক হাতে করতে পারেন অনেক কাজ, ভাবনাচিন্তাতেও তেমনি বিচিত্রগামী এবং বিশ্লেষণে গভীরতাশ্রয়ী। এই আলোচনা থেকে গ্ৰন্থপরিচয় কতটুকু মিলবে জানি না, কিন্তু লেখক সৈয়দ শামসুল হক, ভাবুক ও বিশ্লেষক এবং সেই সঙ্গে মানুষ সৈয়দ হকের পরিচয় তো কিছুটা হলেও পাওয়া যাবে। সেই-বা কম কী!!




Read Now and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কথা সামান্যই - সৈয়দ শামসুল হক

কথা সামান্যই - সৈয়দ শামসুল হক
কথা সামান্যই - সৈয়দ শামসুল হক
এ বইটি যে হাতে নিয়েছেন, আপনি এর পাতা ওলটান বা না-ওলটান, দু'এক পাতা পড়ুন বা না-পড়ুন, আমি খুশি । জীবনে দু'বারই মাত্র দুটি দুর্লভ সাক্ষাৎ হয়েছিল আপনার সঙ্গে। সে অনেকদিন আগে আপনি কাপ্তাই হ্রদের বুকে লঞ্চে কোথাও যাচ্ছিলেন, আমি যাচ্ছিলাম মহালছড়ি। আপনি নিচের ডেকে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বেঞ্চের ওপর পা লম্বা করে, আপনার বুকের ওপর উপুড় করা ছিল আমারই এক উপন্যাস। আর সেবার রাজধানীর চন্দ্ৰিমা উদ্যানে গাছের কোলে বিকেল নেমেছে, আপনি বান্ধবীর কোলে মাথা রেখে তার মুখের পানে চেয়ে ছিলেন যেন চাঁদ উঠেছে আকাশে, আপনার হাতে আলগা হয়ে আছে আমার একটি কবিতার বই। দু'বারই আপনাকে কিন্তু পড়তে দেখি নি। দেখেছি, উপন্যাস আপনার চােখে ঘুম এনে দিয়েছে, কবিতা আপনার চােখ দুটিকে বই থেকে বান্ধবীর দিকে ফিরিয়েছে।
কিন্তু এই যে বই এখন আপনার হাতে এ উপন্যাসও নয়, কবিতাও নয়। আপনি এখনো পড়ে ওঠেন নি বলে আপনাকে আমার পাঠকও বলতে পারছি না। আপনি এখন হ্রদে কি উদ্যানে নাকি বিছানায় বা বইদোকানে, তাও জানি না। এ বই আপনাকে দুপুরের ভাত-ঘুম এনে দেবে, কি বিকেলে বান্ধবীর কোল দেবে- বলতে পারছি না। যদি কিছু দেয়, কিছু শব্দের সাহায়ে আপনাকে আমোদ দেবে। হয়তো ভাবাবেও।
গোটাকয় পাতা উলটে দেখবেন কি? এ বইয়ে আমি কথা বলতে চেয়েছি আপনারই ভাষা আর ভাষায় আপনারই কলম কি উচ্চারণে যে শব্দগুলো আসে তার গুটিকয় নিয়ে । আপনাকে প্রথমেই আশ্বস্ত করি, আমি ভাষাবিদ নই, পণ্ডিত তো নই-ই। তাই এ বই আমার হাতে অ্যাকাডেমিক হবার জো ছিল না। সৃষ্টিশীল লেখক অনেকের যেমন আছে দৃঢ়-গম্ভীর প্রবন্ধ সঙ্কলন- তাও এটি নয়। তবে এটি কী?
বাকিটুকু বইটি পড়েই জেনে নিন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস সমগ্র ০১ - সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস সমগ্র -১ সৈয়দ শামসুল হক উপন্যাস সমগ্র -১ সৈয়দ শামসুল হক

প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮
সূচীপত্রঃ
অচেনা
অচিন্ত পূর্ণিমা
দেয়ালের দেশ
এক মহিলার ছবি
কয়েকটি মানুষের সোনালি যৌবন
অনুপম দিন

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস সমগ্র ০২ - সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস সমগ্র ০২ সৈয়দ শামসুল হক উপন্যাস সমগ্র ০২ সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস মসগ্র -২
সৈয়দ শামসুল হক
সূচীপত্রঃ
জনক ও কালোকফি
সীমানা ছাড়িয়ে
রক্তগোলাপ
খেলারাম খেলে যা

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস সমগ্র ০৩ সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস সমগ্র ০৩ সৈয়দ শামসুল হক উপন্যাস সমগ্র ০৩ সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস মসগ্র ০৩
সৈয়দ শামসুল হক
সূচীপত্রঃ
দূরত্ব
নীল দংশন
দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
তুমি সেই তরবারি
স্বপ্ন সংক্রান্ত

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

উপন্যাস সমগ্র ০৪ সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস সমগ্র ০৪ সৈয়দ শামসুল হক উপন্যাস সমগ্র ০৪ সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস মসগ্র ০৪
সৈয়দ শামসুল হক
সূচীপত্রঃ
বালিকার চন্দ্রযান
মহাশূন্যে পরান মাস্টার
অন্য এক আলিঙ্গন
নিষিদ্ধ লোবান
মৃগয়ায় কালক্ষেপ

Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান "কথামালা" আজকের বিষয় "সামনে নতুন দিন"

amarboi.com
শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান "কথামালা"
আজকের অতিথি সৈয়দ শামসুল হক ও আসাদ চৌধুরী
আজকের আলোচনার বিষয় "সামনে নতুন দিন"


পাঠক বইটি পড়বে এটাই আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। আমরা চাই পাঠক বইটি পড়ুক, আলোচনা, সমালোচনা করুক, তাহলেই আমাদের সার্থকতা। নইলে এতো কষ্ট বৃথা, তাই আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম। আর্থিক ভাবে আমাদের সহায়তা করবার জন্য, অনুরোধ রইলো আমারবই.কম এর প্রিমিয়াম সদস্য হবার। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শুভ জন্মদিন সৈয়দ শামসুল হক


সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক লেখালেখি করছেন ছয় দশক ধরে। নিজেকে কবি হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। প্রথিতযশা এই কবি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, অনুবাদক, চিত্রনাট্য রচয়িতা, সংলাপ লেখক ও গীতিকার। তাঁর জন্ম ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫ সাল, কুড়িগ্রামে।
শুভ জন্মদিন সৈয়দ শামসুল হক। আমার বইয়ের পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

এই সুযোগে সৈয়দ শামসুল হকের কিছু বই পড়ে ফেলুন।

মার্জিনে মন্তব্য - সৈয়দ শামসুল হক
নিষিদ্ধ লোবান - সৈয়দ শামসুল হক
নূরলদীনের সারাজীবন - সৈয়দ শামসুল হক
খেলারাম খেলে যা - সৈয়দ শামসুল হক
তিমির অবগুন্ঠনে - সৈয়দ শামসুল হক
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নূরলদীনের সারাজীবন - সৈয়দ শামসুল হক

Nuruldiner Sarajibon - Syed Shamsul Haq [Amarboi.com] in pdfনূরলদীনের সারাজীবন - সৈয়দ শামসুল হক
সৈয়দ শামসুল হকের দ্বিতীয় কাব্যনাট্য 'নূরলদীনের সারাজীবন'_ যে কোনো বিবেচনায় এটি বাংলা কাব্যনাট্য ধারায় একটি অনন্য সংযোজন। এই রচনায় লেখকের পরিশ্রম ও মেধা সন্দেহাতীতভাবে লক্ষ্য করা যায়। একটি জনপদের সাবঅলর্টান ইতিহাস সংগঠিত করবার এই শিল্পসম্মত প্রয়াসকে কেবল উত্তর-ঔপনিবেশিক চেতনা দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে এদেশে কতরকম আন্দোলন যে সংগঠিত হয়েছিল তার সবটা এখনো আমাদের জানা নেই। কিন্তু এই সব আন্দোলনও বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল না মসনদ। 'মুই নবাব না হবার চাঁও। মুই সিংহাসন না চাঁও।' রাজা যায রাজা আসে_ তাতে শ্রমজীবী মানুষের খুব একটা মাথাব্যথা নেই। কিন্তু বেঁচে থাকার সর্বশেষ গ্রাসটুকু যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে; সভ্যের বর্বর লোভ যখন দুর্দমনীয় হয়ে পড়ে তখন রুখে না দাঁড়ানোর কোনো উপায় থাকে না। আর এই প্রতিবাদকে ক্ষমতাসীন বিশেষ করে ঔপনিবেশিক শাসকরা দস্যুগিরি, বদমায়েশী উল্লেখ করে থাকে। ব্রিটিশের খাতায় লিপিবদ্ধ এমন একজন দস্যু নূরলদীনকে নিয়ে এই কাব্যনাট্যটি রচনা করেছেন সৈয়দ হক। নিম্নবর্গের ইতিহাস রচয়িতা রণজিৎ গুহ যেমন বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের চেনার অন্যতম উপায় হলো সরকারি খাতায় তাদের বদমায়েশ, দস্যু ও বম্বাটে হিসেবে উল্লেখ করা। নূরলদীনও ছিলেন তেমন একজন সায়ত্ত্ব স্বাধীনতা সংগ্রামী। লেখকের নিজের জবানিতে শোনা যাক_ 'নিজেকে দেয়া অনেকগুলো কাজের একটি যে, আমাদের মাটির নায়কদের নিয়ে নাটকের মাধ্যমে কিছু করা, নূরুলদীনের সারাজীবন লিখে তার সূত্রপাত করা গেল। যে জাতি অতীত স্মরণ করে না, সে জাতি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারে না। এই নাটকটি লিখে ফেলার পর আমার আশা এই যে, এই মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন এমন যে সব গণনায়কদের আমরা ভুলে গিয়েছি তাদের আবার আমরা সম্মুখে দেখব এবং জানব যে আমাদের গণ-আন্দোলনের ইতিহাস দীর্ঘদিনের ও অনেক বড় মহিমার_ সবার উপরে, উনিশশ একাত্তরের সংগ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন সংগ্রাম নয়।'
এই নাটকটি রচনার ক্ষেত্রে সৈয়দ হক ইতিহাসের এমন এক জায়গায় কাজ করেছেন_ যাকে রীতিমতো রিভাইভালিজম বলা যায়। ব্রিটিশবিরোধী এক গণনায়ককে তিনি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। নূরলদীনের সংগ্রাম বিস্তার লাভ করে একাত্তরের মহাসংগ্রাম হয়ে আজকের ও ভবিষ্যতের দিন পর্যন্ত। নূরলদীন এমন একজন ভূমিপুত্র_ যার বাবা মহাজনের খাজনা পরিশোধ করতে হালের বলদ বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় এবং নিজের ঘাড়ে জোয়াল নিয়ে জমি চাষ করতে যেয়ে মারা যায়। মরণকালে তার কণ্ঠেও মানুষের বদলে গরুর হাম্বা ডাক শোনা যায়। ঔপনিবেশিক আমলে ভূমিপুত্রদের মর্যাদা যে পশুস্তরে নামিয়ে আনা হয়; তাদের দায়িত্ব যে কেবল ঔপনিবেশিক প্রভুদের অর্থ জোগান দেয়া লেখক এ নাটকে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই নাটকটি রচনার ক্ষেত্রেও সৈয়দ হক আধুনিক ধারার মঞ্চ নাটকের ধারণার মধ্য থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন। প্রাচীন নাট্যাভিনয়ের উন্মুক্ত মঞ্চকে তিনি নির্বাচন করেন। বাংলাদেশে দেবপূজা ও লৌকিক উৎসব উপলক্ষে যে ধরনের সঙ্গীত ও গীতি নাট্যের আয়োজন করা হতো। এ নাটকেও সে ধরনের চেতনা কিংবা ইতিহাসের বিস্তৃত পটভূমিকার স্বার্থে খোলা আকাশের নিচে মঞ্চায়নের কথা লেখক ভেবেছেন। এই নাটকের ক্ষেত্রেও লেখকের স্থায়িভাব সংগ্রাম ও স্বাধীনতা এবং পরিণামে অর্থনৈতিক মুক্তি। নূরলদীন এ নাটকের মূল চরিত্র হলেও তার জীবন বর্ণনা এ নাটকের লক্ষ্য নয়। বরং সময়ের প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিভাবে একজন নূরলদীন সংগঠিত হয়, আত্মপ্রকাশ করে_ লেখক তা-ই দেখাতে চেয়েছেন। এবং এই নাটকের পরিসমাপ্তি করেছেন, বাঙালির চিরন্তন মানবিক আবেদনের ভেতর। ঈশ্বর পাটনি যেমন অন্নদার কাছে বর চান_ তার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে। তেমনি নূরলদীন নবাব হতে চান না; সোনাদানার আকাঙ্ক্ষা নেই; তার আকাঙ্ক্ষা_ 'হামার গাভীন গাই অবিরাম দুধ ঢালিতেছেৃ. হামার পুত্রের হাতে ভবিষ্যৎ আছে।' এবং বাঙালির সব ঘরের মধ্যেই নূরলদীন তার স্বপ্ন বিস্তার করে চলেন। এই নাটকটি অনায়াসেই লেখক প্রমিত বাংলাভাষায় রচনা করতে পারতেন; কিন্তু কাহিনীর গুরুত্ব তাতে শাহরিক রঙ্গমঞ্চের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো। আমার মনে হয়, ভাষা, বিষয় এবং কাহিনীর বিস্তার বিবেচনা করলে সৈয়দ হকের অন্য কোনো রচনা নয়, না কবিতা না তার কথা সাহিত্য_ কেবল তার কাব্যনাট্যের অবস্থান হবে সামপ্রতিক সময়ে সর্বাধিক আলোড়িত সাহিত্যিক তত্ত্ব উত্তর-ঔপনিবেশিক তথা প্রকৃত নিম্নবর্গের সাহিত্য-চেতনার ভেতর। এই নাটকে ইতিহাসের সঙ্গে লেখক তার অপরিসীম কল্পনাশক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাঙালি জীবনে শোষক ও শোষিতের ইতিহাস রচনা করেছেন। এই নাটকের সন্ধি বিভাগ, ঘটনা নির্বাচন, প্রারম্ভ, অনুক্রম ও চূড়ান্ত পরিণতি পরম দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। এই নাটকের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে লেখক কৃষিভিত্তিক সমাজের মূল আত্মাকে সংগঠিত করেছেন।
Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তিমির অবগুন্ঠনে - সৈয়দ শামসুল হক

উপন্যাস
তিমির অবগুন্ঠনে
সৈয়দ শামসুল হক

Download Now
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com