সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label reviews. Show all posts
Showing posts with label reviews. Show all posts

পঞ্চাশের মন্বন্তের চার্চিলের ষড়যন্ত্র - মধুশ্রী মুখোপাধ্যায় বইয়ের আলোচনা লিখেছেন তানভীর মোকাম্মেল

amarboi

চার্চিলের গোপন যুদ্ধ

তানভীর মোকাম্মেল

ছেলেবেলায় মায়ের কাছে পঞ্চাশের মন্বন্তরের গল্প শুনেছি: কীভাবে ‘মা এট্টু ফ্যান দাও’ বলে কাতরাতে কাতরাতে কলকাতার রাস্তায় মরে পড়ে থাকত অভুক্ত, কঙ্কালসার, শীর্ণ মানুষেরা। পরিণত বয়সে দেখেছি জয়নুল আবেদিনের মৃতদেহ, কাক ও ডাস্টবিনের মর্মস্পর্শী সব স্কেচ। তখন থেকেই মনে মনে প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল জানার, ঠিক কী ঘটেছিল ১৯৪৩ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই বিশেষ সময়কালে, যখন কোনো যুদ্ধ, এমনকি একটি বুলেট ছাড়াই এ দেশের প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এ রকম অসহায় মৃত্যু ঘটেছিল। সম্প্রতি তেমনই এই বইয়ের খোঁজ পেলাম, যেখানে অত্যন্ত মননশীল ও সমৃদ্ধ গবেষণার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে কারা ছিল এ দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী; কারা নিয়েছিল নির্মম ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সেসব সিদ্ধান্ত, যার ফলে এ দেশের লাখ লাখ অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশুকে চিরকালের জন্য হারিয়ে যেতে হয়েছিল। ইংরেজি ভাষার এ বইটির নাম চার্চিলস সিক্রেট ওয়ার: দি ব্রিটিশ এম্পায়ার অ্যান্ড দ্য র‌্যাভেজিং অব ইন্ডিয়া ডিউরিং ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু। লেখিকা জার্মানপ্রবাসী বাঙালি গবেষক মধুশ্রী মুখার্জি।

চল্লিশের দশক—সে এক ঘটনাবহুল সময়। বাঙালিরা নতুন সব শব্দ শিখল—পোড়ামাটি নীতি, ব্ল্যাকআউট, কালোবাজার, টমি, মা-ফ্যান-দ্যাও, দেশভাগ। লেখিকা খুব স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন কীভাবে মনুষ্যসৃষ্ট পঞ্চাশের মন্বন্তরের পেছনে কাজ করেছে ব্রিটেনের তৎকালীন রক্ষণশীল দলের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও চার্চিল-প্রভাবিত ওয়ার ক্যাবিনেটের অমানবিক কিছু সিদ্ধান্ত। ভালো গদ্যলেখক ও উদ্দীপক এক বক্তা, হিটলার ও নাৎসি-জার্মানির দৃঢ় এক শত্রু, এসব ছাপিয়ে এ বইটির পরতে পরতে চার্চিলের চরিত্র হিসেবে যা ফুটে ওঠে, তা এক অহংসর্বস্ব ইংরেজ দৃষ্টিভঙ্গি, যা ভারতবিদ্বেষী, জাতিবিদ্বেষীও বটে; যিনি সাম্রাজ্যের গরিমার অহংকার ও উচ্চমন্য মানসিকতাসম্পন্ন এক সীমিত মনের মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে বিশাল এক বই লিখতে চার্চিল এক দঙ্গল গবেষক ও বেনামী লেখককে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ছয় খণ্ডের বিশাল সে বইয়ে বাংলার দুর্ভিক্ষের উল্লেখ আছে একটা মাত্র সারণির এক দলিলে! জাপানিরা তখন চট্টগ্রামে ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে। ১৯৪১ সালের ১৪ নভেম্বর চার্চিল ঘোষণা করলেন ‘পোড়ামাটি নীতি’ অর্থাৎ যেসব অঞ্চল ইংরেজরা ছেড়ে চলে যাবে, তা নির্মমভাবে ধ্বংস করতে হবে। অবশ্য এই নীতির একটা ভদ্রস্থ নাম দেওয়া হয়েছিল—‘ডিনায়াল পলিসি’। জাপানিরা সাগরপথে উপকূলে এসে নামতে পারে—এই আশঙ্কায় কলকাতার ২০ মাইল দক্ষিণ থেকে টানা লাইন টেনে উপকূলীয় এলাকার সব নৌকা ধ্বংস করা হলো। ফলে যখন দুর্ভিক্ষ শুরু হলো, পাশের উদ্বৃত্ত জেলা থেকে ধান-চাল আনার কোনো উপায়ই আর রইল না। নৌকা কেড়ে নেওয়ায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলো জেলে সম্প্রদায়। দুর্ভিক্ষের পর ফরিদপুরের এক বৃদ্ধ জেলে জানান, তাঁদের জেলেপল্লির ৫০টি পরিবারই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে চাল কেনার জন্য সরকার ২০ লাখ রুপি অগ্রিম দিল মির্জা আহমেদ ইস্পাহানিকে। যেহেতু সরকারের পক্ষে কাজ করছে, ফলে ইস্পাহানির ক্ষমতা ছিল কেউ তার দেওয়া দামে চাল বেচতে রাজি না হলে সে চাল জোর করে নেওয়ার। ইতিহাস যাঁরা জানেন, তাঁরা জানেন যে জিন্নাহর বশংবদ ইস্পাহানি ছিল মুসলিম লীগের অন্যতম বড় চাঁদাপ্রদানকারী ও ব্রিটিশদের বিশেষ খয়ের খাঁ।

ফজলুল হক ১৯৪২ সালে হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন যে, ‘বাংলায় চালের দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে।’ কিন্তু চার্চিল বা ইংরেজ সরকারের সেসবে কর্ণপাতের সময় ছিল না। অস্ট্রেলীয়রা চাইছিল ক্ষুধার্ত ভারতের জন্য যতটা প্রয়োজন গম পাঠাতে। কানাডাও চাইছিল যে অন্তত একটা জাহাজভরা গম ভারতে পাঠাতে। কিন্তু চার্চিল এ কাজে কোনো জাহাজ ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। তাতে ব্রিটেনের ‘মর্যাদা’ (!) থাকে না। বাংলার আসন্ন দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে জাহাজ দিতে কমান্ডার-ইন-চিফ ওয়াভেল ও ভাইসরয় লিনলিথগো বারবার বলা সত্ত্বেও চার্চিল গোঁ ধরে রইলেন যে, কোনো অবস্থাতেই যুদ্ধের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না! যেন খোদ কমান্ডার-ইন-চিফ ওয়াভেলের চেয়ে সিভিলিয়ান চার্চিল বেশি বোঝেন যুদ্ধ-প্রচেষ্টার জন্য কোনটা বেশি জরুরি! অস্ট্রেলিয়া থেকে খাদ্যভরা জাহাজ তাই শ্রীলঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানো হলো, কিন্তু দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলার কোনো বন্দরে সে জাহাজ ভিড়ল না! সময়মতো অস্ট্রেলীয় বা কানাডার গম এলে প্রায় ২০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানো যেত।

আসলে ভারতবর্ষবাসীর দুর্ভাগ্য যে, সে সময়টা চার্চিলের মতো এমন একজন লোক ছিলেন ব্রিটেনের নেতা। চার্চিলের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই মূলত গড়ে উঠেছিল ডারউইনের প্রতিযোগিতাবাদ ও ম্যালথাসের জীবন-মৃত্যুর অনিবার্যতার তত্ত্ব দ্বারা। ফলে দুর্ভিক্ষে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু চার্চিলের বিবেককে নাড়া দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। দরিদ্র, অযোগ্য ভারতবাসী তো মরবেই! ভাষার শক্তি দিয়ে যুক্তিকে আচ্ছন্ন করে দেওয়ার ক্ষমতা চার্চিলের ছিল। ভারতসচিব আমেরি, যিনি চার্চিলকে ভালোই চিনেছিলেন, লেখেন যে চার্চিল ছিলেন মূলত একজন মধ্য-ভিক্টোরীয় যুগের মানুষ, অনেকটা তাঁর বাবা লর্ড র‌্যানডলফের সময়কালের চিন্তাভাবনার একজন মানুষ, যা ঢাকা পড়ে যেত চার্চিলের প্রচণ্ড প্রাণশক্তি এবং কথা ও ভাষার কারুকার্যে।

ভারত সম্পর্কে চার্চিলের যেটুকু ধারণা, তা যৌবনে ভারত-আফগান সীমান্তে কিছুদিন যুদ্ধ সাংবাদিকতার রোমান্টিকতা, বড় লাট ও ব্রিটিশ অফিসারদের পাঠানো একঘেয়ে সরকারি নথিপত্র ও বেভারলি নিকোলসের ভার্ডিক্ট অব ইন্ডিয়ার মতো বই, যেখানে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পক্ষে হাজারটা যুক্তি এবং ভারতীয়রা খুবই হীন ও নিকৃষ্ট এক জনগোষ্ঠী—এসব কথা আছে, যার কিছু বক্তব্য আজ রীতিমতো হাস্যাস্পদ মনে হয়! ভারতবর্ষ সম্পর্কে চার্চিল মূলত সেসবই পড়তেন, যেসব তাঁর মনে ইতিমধ্যেই গঠিত বিশ্বাসকে আরও পোক্ত করত। আর সে বিশ্বাস ছিল, ভারতীয়রা ‘পশুসুলভ এক জাতি, যাদের ধর্মটাও পশুসুলভ!’

আর ভারতবর্ষের ব্যাপারে চার্চিলের এক উপদেষ্টা লর্ড শেরওয়েল করেছেন বিরাট ক্ষতি। অর্ধশিক্ষিত এই ‘বৈজ্ঞানিক’ মানুষটিকে চার্চিল ভারতবর্ষ বিষয়ে একজন ‘বিশেষজ্ঞ’ ঠাউরাতেন, অথচ ভারতবর্ষ সম্পর্কে শেরওয়েলের ধারণা ছিল খুবই ওপরভাসা ও কেতাবি। তা ছাড়া ‘কর্তার ইচ্ছায় কর্ম’ অনুযায়ী শেরওয়েল তাই-ই বলতেন, চার্চিল যা শুনতে পছন্দ করতেন। মোসাহেবি রোগটা তো বাঙালির একচেটিয়া নয়!

দুর্ভিক্ষের সে দিনগুলোতে মানুষ কচুঘেঁচু, পাতা-লতা এমনকি দূর্বাঘাস খেয়েও বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছে। মেদিনীপুরের এক বৃদ্ধ জানাচ্ছেন, সে সময়ে মাঠে কোনো কচি ঘাস আর ছিল না। ক্ষুধার্ত মানুষেরা খেয়ে সব শেষ করে ফেলেছিল! যে সময় রিলিফ কেন্দ্র থেকে খিচুড়ি দেওয়া হচ্ছিল, তার পরিমাণও ক্রমেই কমে আসছিল। প্রথমে তিনজন মানুষের জন্য ছিল আধা সের চাল, পরে তা কমতে কমতে এসে দাঁড়াল চার আউন্সে, যা আসলে মাত্র ৪০০ ক্যালরির সমান এবং বরাদ্দের যে পরিমাণটা ছিল বুখেনভাল্ড ক্যাম্পের সেই সব বন্দীর বরাদ্দের সমান, নাৎসিদের কাছে যাদের মৃত্যু ছিল সুনিশ্চিত। ক্ষুধার্ত মানুষেরা অমানবিক সব আচরণ শুরু করে। ক্ষুধায় উন্মাদ হয়ে একজন দরিদ্র কৃষক নিজের বাবা, মা, বউ ও সন্তানদের হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যা করেন। এক ক্ষুধার্ত অসহায় বাবা তার কোলের বাচ্চাটিকে অনেকের কাছে বিক্রি করতে চাইলেন। কেউ কিনতে রাজি না হলে শিশুটিকে একটা কুয়ার মধ্যে ছুড়ে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে যান! মৃত মায়ের স্তন থেকে দুধ খাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করছে শীর্ণকায় শিশু—এ দৃশ্য কলকাতার রাজপথে প্রায়ই দেখা গেছে। কলকাতার ফুটপাতে যাদের মৃত্যু ঘটেছে, তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কিছু প্রচার পেলেও গ্রামের মৃত্যুগুলো নীরবে ঘটেছে এবং অন্ধকারেই রয়ে গেছে। গ্রামের শিয়াল ও কুকুরেরা এসব মৃতদেহ টেনে নিয়ে খেয়েছে। চট্টগ্রামের এক ব্রিটিশ সেনা জানাচ্ছেন, একবার তাঁদের ক্যাম্পে গার্ড খুব বিমর্ষ হয়েছিলেন এই দৃশ্য দেখে যে, একটা মেয়ে, তখনো বেঁচে, তার হাত একটা শিয়াল ছিঁড়ে ফেলে খাচ্ছে।

হঠাৎ করে বাংলার খাদ্যশস্য উধাও হয়ে সব গেল কোথায়? বাংলা সরকার পাঁচ হাজার লাইসেন্স দিয়েছিল খাদ্য সংগ্রহের। ইস্পাহানি ছাড়াও লাইসেন্সগুলো পেয়েছিল কিছু ইংরেজ ব্যবসায়ী এবং মুসলিম লীগ সরকারের কাছের সব লোকজন। তারা খাদ্য মজুদ করেছিল, ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে চলছিল এবং অঢেল অর্থ পকেটে ভরছিল। সরকারি অফিসাররাও কম দায়ী ছিলেন না। যেমন যশোর জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট তিন লাখ ৭০ হাজার টন চাল কিনে রেলওয়ে প্লাটফর্মে রেখে দিয়েছিলেন। চরম দুর্ভিক্ষের দিনেও সে চাল বাইরে যেতে দেননি। তেমনি ৯০ হাজার টন চাল কলকাতার কাছে বোটানিক্যাল গার্ডেনে মজুদ করে রাখা ছিল। সেসব চাল পরে পচে যায় এবং খালের পানিতে ফেলে দিতে হয়!

ওয়ার ক্যাবিনেটের যেকোনো সভায় বাংলার দুর্ভিক্ষ বা ভারত প্রসঙ্গ এলেই চার্চিল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন। এ ক্ষিপ্ততার একাধিক কারণ ছিল। ইতিহাসের দেয়াললিখন তত দিনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে যুদ্ধের পরে ভারতবর্ষ ব্রিটিশ সিংহের থাবা থেকে বেরিয়ে যাবে। তা ছাড়া বাঙালিদের প্রতি চার্চিলের বিদ্বেষ ছিল। বাঙালিরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে। উত্তর-পশ্চিমের প্রদেশগুলোর লম্বা-চওড়া মানুষগুলোর মতো ব্রিটেনের অনুগত নয়। আর তা ছাড়া যুদ্ধের কারণে ভারতের কাছে সৃষ্ট ব্রিটেনের বিশাল অঙ্কের ‘স্টার্লিং ঋণ’ শোধ করার দায়টা চার্চিল সহ্যই করতে পারতেন না। আর সে ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছিল! ১৯৪৪ সালে দুর্ভিক্ষের যখন প্রায় শেষ পর্যায়, তখনো খাদ্য চেয়ে ওয়াভেলের টেলিগ্রামের কোনো জবাব দিলেন না চার্চিল; বরং এক টেলিগ্রামে জানতে চাইলেন, ‘গান্ধী এখনো মরছে না কেন!’

কংগ্রেসের মেধাবীদের অপছন্দ করতেন চার্চিল। বিশ্বাস করতেন হিন্দু-মুসলিম অনৈক্যে। তাহলেই ভারত শাসনে সুবিধা। ফলে পাকিস্তান সৃষ্টির জোর সমর্থক হয়ে উঠেছিলেন এই আশায় যে, ব্রিটিশ ধাত্রীত্বে পাকিস্তানের জন্ম হলে ব্রিটিশ কর্তৃত্ব কিছুটা হলেও পাকিস্তানে বজায় রাখা যাবে; যেটা ভারতে তেমন সুবিধা হবে না। চার্চিলের ইঙ্গিতেই জিন্নাহ একটার পর একটা অযৌক্তিক গোঁ ধরে চলেছিলেন, যার এক ফল রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা ও দেশভাগের ট্র্যাজেডি।

বইটির একটা অংশজুড়ে রয়েছে মেদিনীপুর জেলার কংগ্রেসকর্মীদের স্বাধীন রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা ও আত্মত্যাগ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এ দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের সাহসী সংগ্রামের দিকটাকে তুলে ধরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই বিশাল বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বাংলার তৃণমূল মানুষের সংগ্রাম ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটকে মেলানোর এক অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন লেখিকা। এই বইয়ের কল্যাণে কংগ্রেসকর্মী সুশীল ধারা, মাতঙ্গিনী হাজরা, সতীশ সামন্ত—এঁরা আর কেবল স্বাধীনতা সংগ্রামের কর্মী নন, হয়ে ওঠেন আমাদের একান্ত আপনজন।

ডিসেম্বরে বাংলার ধানখেতগুলো আবার সোনালি হয়ে উঠল। মাঠভরা ধান। কিন্তু অনেক জায়গায় তা কাটার মানুষ আর নেই! গ্রামের মানুষেরা মৃত অথবা শহরে হারানো আত্মীয়স্বজনদের খুঁজে ফিরছে। মৃত্যুর আগে অসুস্থ অবস্থায় চার্চিল অবশ্য তাঁর ডাক্তারকে বলেছিলেন, ‘ভারতের ব্যাপারে আমি ভুল করেছি!’ খুবই দেরিতে আত্মোপলব্ধি!!

চার্চিল বিশ্বাস করতেন এবং বক্তৃতাতেও বলতেন যে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের যুগটাই ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ’ হয়ে থাকবে। কার স্বর্ণযুগ? অবশ্যই ভারতবর্ষবাসীর জন্য নয়, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এটা এক কলঙ্কতিলক হয়েই রইল যে, ভারতে তাদের সাম্রাজ্য শুরু হয়েছে এক মন্বন্তর দিয়ে—ছিয়াত্তরের ভয়াবহ মন্বন্তর; আর শেষও হলো আরেক মর্মান্তিক মন্বন্তরে, যেখানে পূর্ব ভারতের এক-পঞ্চমাংশ মানুষের হয় মৃত্যু ঘটেছিল অথবা তাদের জীবন চিরকালের জন্য ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। স্বর্ণযুগই বটে!!

অজানা সব তথ্য ও পরিশ্রমী নিষ্ঠায় অত্যন্ত সুলিখিত এক বই লিখেছেন গবেষক মধুশ্রী মুখার্জি, যা আধুনিক ভারতবর্ষের ইতিহাসচর্চাকে একটা অত্যন্ত উচ্চমানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। বাঙালি তথা ভারতবর্ষবাসী মাত্রেরই এই পরিশ্রমী লেখিকার প্রতি রইবে আন্তরিক শুভাশীষ।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিজের কাছেই নিজে অপরিচিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (বই আলোচনা)

Amarboi.com
পাঠক বইটি পড়বে এটাই আমাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। আমরা চাই পাঠক বইটি পড়ুক, আলোচনা, সমালোচনা করুক, তাহলেই আমাদের সার্থকতা। নইলে এতো কষ্ট বৃথা, তাই আপনাদের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম। আর্থিক ভাবে আমাদের সহায়তা করবার জন্য, অনুরোধ রইলো আমারবই.কম এর প্রিমিয়াম সদস্য হবার। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একান্ত সাক্ষাৎকারে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

একান্ত সাক্ষাৎকারে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আত্দতৃপ্তি হচ্ছে মৃত্যুর সমান

কালের কন্ঠ থেকে।
image_130_46755.jpg
তৎকালীন ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহাকুমার মাইজপাড়া গ্রামে ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন কবি-কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলা কবিতার ওপর প্রথম ভিন্নমাত্রিক অভিঘাত করেন তাঁর কৃত্তিবাস কবিতা-পত্র সম্পাদনার মাধ্যমে_যার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৩ সালে। প্রথম জীবনে কবিতার জন্য তিনি জাগতিক জীবনের যেকোনো প্রাপ্তিকেই হেলায় তুচ্ছজ্ঞান করেছেন, ভেসেছেন নিজের গণ্ডির ভেতরে-বাইরে অপার বাউণ্ডুলেপনার স্বকীয় সৃজনশীলতায়। কৃত্তিবাস প্রকাশনার উত্তরোত্তর ঋণের বোঝা কমাতেই উপন্যাসের জন্য প্রথম কলম ধরেন। অতঃপর বাকিটুকু হয়ে ওঠে বাংলা সাহিত্যের অভাবিত ইতিহাস। বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তরুণ সুনীলের পরপর দুটি উপন্যাসকে চলচ্চিত্রে রূপদান করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠকীর্তি ঐতিহাসিক ট্রিলজি সেইসময়, পূর্ব-পশ্চিম এবং প্রথম আলো তাঁকে এনে দেয় কিংবদন্তিতুল্য সম্মান ও জনপ্রিয়তা। সেইসময় উপন্যাসের জন্য ভারতীয় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান ১৯৮৫ সালে। আনন্দ পুরস্কারে দুবার নন্দিত হন, ১৯৭২ এবং ১৯৮৯ সালে। বঙ্কিম পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বর্তমানে ভারতীয় সাহিত্য আকাদেমির সভাপতি। সম্প্রতি তাঁর কলকাতার ফ্ল্যাটে শিলালিপির পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন অদ্বয় দত্তশিলালিপি : সুদীর্ঘকাল সাহিত্যের সব শাখায় সমান গুরুত্বে কাজ করতে গিয়েসাহিত্য সম্পর্কে এই বয়সে এসে আপনার সম্যক উপলব্ধিটা কী রকম?
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রঞ্জিত জননী - সার্জিল খান

amarboi.com
রঞ্জিত জননী - সার্জিল খান।

নতুন প্রজন্মের চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধ, এ আবেগের চোখে দেখা অন্যরকম কাহিনী। বইটি আগামী বইমেলায় (২০১৩) প্রকাশিতব্য। বইটি সম্পর্কে লেখক বলছেন, "মুক্তিযুদ্ধের গভীরতা স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মদের কাছে পুরোই কঠিন একটি বিষয়। কি রকম ভয়াবহতার মাঝে, আবেগের মাঝে, প্রতিশোধের মাঝে এদেশের সাত কোটি মানুষ নয়টি মাস পার করেছিলো, সে ধারণা আমরা স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মরা কল্পনাও করতে পারবো না। অনেকটা যে অন্ধ লোক জন্মের পর কখনোই হাতি দেখেনি সে হাতির গঠন কেমন তা বুঝবে কি করে? তবে এরপরেও দুঃসাহস দেখিয়ে উপন্যাসটি লিখেছি। কারণ এই গভীরতাটি ফুটিয়ে তোলা যুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানদের মাঝে আজকেও যেমন কঠিন, যখন বয়স বাড়বে তখনও ঠিক একই রকমের কঠিনই থাকবে। আর এই দুঃসাহস দেখিয়েছি শুধুই আবেগ থেকে। যদি কিছুটা আবেগকে ভাগাভাগি করা যায় প্রজন্মের আমার সমসাময়িক বয়সের মানুষদের সাথে। শুধুমাত্র এজন্যই এই দুঃসাহস। তবে এই উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই পড়তে হয়েছে। আহসান হাবীব স্যারের ৭১’র রোজনামচা বইয়ের একটি গল্প পড়ে সর্বশেষ উদ্যোগ নেই বইটি লেখার জন্য। এটি কেবলই যুদ্ধ ভিত্তিক একটি উপন্যাস। কোন ইতিহাসের দলিল নয়। যদিও এখানে ইতিহাসের অনেক দিক তুলে ধরা হয়েছে। তাই ভুল ত্রুটি থাকলেও ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখলে কৃতজ্ঞ থাকবো।" সম্পূর্ণ বইটি নয়, কিছু অধ্যায় প্রকাশিত হলো। সম্পর্কে যাবতীয় মন্তব্য করতে পারেন আমার ফেসবুক আইডিতে www.facebook.com/sarxilkhan
Chrome Extension for Amarboi, Add it Now You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, bengali books download, ronjito jononi sarjil khan'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মা ॥ উপন্যাস ॥ লেখক: রেজা ঘটক (রিভিউ)

মা ॥ উপন্যাস ॥ লেখক: রেজা ঘটক
মা ॥ উপন্যাস ॥ লেখক: রেজা ঘটক (রিভিউ)

মা ॥ উপন্যাস ॥ লেখক: রেজা ঘটক ॥ প্রকাশক: আল আমিন প্রকাশন ॥ মূল্য : ২৫০ টাকা ॥
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ২০১২ ॥
প্রচ্ছদ: রেজা ঘটক ॥ আইএসবিএন : ৯৭৮-৯৮৪-৩৩-১১১২-৮
বাংলাদেশের শিকড়ের সন্ধানে : উপন্যাস মা
রেজা ঘটকের প্রথম উপন্যাস মা
বাংলাদেশের সত্তর বছরের ইতিহাস এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। যার শুরু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে আর শেষ একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে এসে। মা একজন বাঙালি জননী। বাংলাদেশের পরিবেশ, পরিবার, প্রতিবেশী, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় শাসন, দুঃশাসন, নদী, জীবনাচার, সংস্কৃতি, দৈনন্দিন রীতি, ধর্মানুভূতি, ধর্মীয় গোড়ামী, প্রাকৃতিক ধ্বংসলীলা যেমন বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় আর বাংলাদেশের মানুষজন এই উপন্যাসের উপজীব্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের শুরুর দিকে এই মায়ের জন্ম। তাঁর জীবদ্দশায় ঘটে যাওয়া ইতিহাসের প্রধান সব বিষয়গুলো এই উপন্যাসের পাতায় পাতায় আবর্তিত হয়। এই মায়ের বারোটি সন্তান। বাংলা বারো মাসের সঙ্গে তাদের ভূমিষ্ট লগ্নে বন্ধন। তিনটি সন্তান মারা যায়। একটি সন্তান হারিয়ে যায়। হারিয়ে যাওয়া সন্তানের ফেলে যাওয়া ডায়েরির পাতায় পাতায় মা ইতিহাসের অনেক ঘটনার সন্ধান পান। বৃদ্ধ এই মা গ্রামের বাড়িতে বসে হারিয়ে যাওয়া সন্তানের ডায়েরিতে নিজের সন্তানের স্পর্শ অনুভব করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের কাছে বার্মা পতনের পর জাপান ভারতবর্ষে চাল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। বৃটিশ শাসক তখন সৈন্যদের খাদ্য-খাবার নিশ্চিত করার জন্যে খাদ্য মজুদ নীতি গ্রহন করে। ওই সময় গোটা পূর্ববঙ্গে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে ঘটে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। ফলে সারা দেশে শুরু হয় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ। ওই মনান্তরে তখন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ খাদ্যের অভাবে মারা যায়। আবার ১৯৭৪ সালে সদ্য ¯^vaxb বাংলাদেশে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ মারা যায়। ধর্মীয় গোড়াদের উস্কানিতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা, দেশ বিভাগ, ভাষা আন্দোলন, নির্বাচন, সামরিক শাসন, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা দাবী, গণ-অভ্যুত্থান, ঘূর্ণিঝড় গোর্কি, সত্তরের নির্বাচন, ২৫ মার্চের পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর অপারেশান সার্চ লাইট, বাংলাদেশের ¯^vaxbZv যুদ্ধ, আকাশ বাণীতে বিশ্ববাসীর কাছে তাজউদ্দিনের সাহায্যের আবেদন, ১৫ আগস্ট ’৭৫ সপারিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা, সামরিক ক্যু, ক্ষমতা দখল, শাসন আর দুঃশাসনের নামে মানুষ হত্যা করার এক নীল নকশার বস্তুনিষ্ঠ চিত্ররূপ এই উপন্যাসে বর্ণিত।
এই উপন্যাস ভূগোল, অর্থনীতি আর ইতিহাসের অনেক দুর্লভ তথ্যে সমৃদ্ধ। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে ইতিহাসের অনেক সত্যকে অপসত্য বানানোর চেষ্টা হয়েছে। অনেক মিথ্যাকে সত্য বানানোর অপচেষ্টা হয়েছে। এই উপন্যাস সেই সব নির্ভেজাল অথচ বিতর্কিত ঐতিহাসিক সত্যকে আবারো জনসম্মুখে প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিহাসের অনেক দলিল এই উপন্যাসে স্থান পেয়েছে। ইতিহাস কখনো পরিবর্তন করা যায় না। ইতিহাসের যেসব ঘটনাবলী যেভাবে পরিবর্তন করা হয় সেই সব ঘটনাও অটোমেটিক ইতিহাসের কালো অধ্যায় হয়ে যায়।
মা উপন্যাসে মোট ৩৯ টি অধ্যায়, ৩২ টি উপ-অধ্যায়, ২৪০ পৃষ্ঠা, মূল্য ২৫০ টাকা। প্রকাশ করেছে আল আমিন প্রকাশন। বই মেলায় স্টল নং ৪৪। যাঁরা সিরিয়াস পাঠক, সত্য অনুসন্ধানে যাঁরা তৎপর, বিতর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনার সত্য অনুসন্ধানে যাঁরা নির্ভিক, যাঁরা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন, যাঁরা মাকে ভালোবাসেন, তাঁদের সবার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। পাঠকের মূল্যবান পরামর্শ আমার পরবর্তী কাজকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

You can follow us on Twitter or join our Facebook fanpage or even follow our Google+ Page to keep yourself updated on all the latest from Bangla Literature.
Download Bangla books in pdf form amarboi.com and also read it online. 'bangla-boi, boimela, humayun ahmed, bangla boi, ebook, bangla-ebook, bangla-pdf, bangla book, bangla pdf, zafar iqbal, boi, আমারবই, আমার বই, bengali books download'
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মহাত্মা লালন ফকির - শ্রীবসন্ত কুমার পাল

amarboi.com


মহাত্মা লালন ফকির - শ্রীবসন্ত কুমার পাল

লালন সাঁই বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতির পুরোধা ও রেনেসাঁ ব্যক্তিত্ব। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমান সম্মানীয়। তাঁর গান প্রায় সবারই দৃষ্টি ও মনোযোগ কেড়েছে।
অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে অগোচরে ছিল লালন ও তাঁর বাউলসংগীত। শুধু শিষ্য-প্রশিষ্য ও ভক্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এর প্রচার-প্রচারণা ও আবেদন। যদিও এখন লালন সর্বজনীন সম্পদ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিগণিত হয়েছে। ছেউড়িয়ার এক বাউলের গানে টুটে গেছে গ্রাম-শহরের বিভেদরেখা।
লালনকে জানার প্রথম প্রামাণ্য কাজটি করেন বসন্তকুমার পাল। রচনা করেন প্রথম প্রামাণ্য লালন জীবনী। প্রসঙ্গত, তাঁর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লালনের গান সংগ্রহ ও প্রকাশ করেন।মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরী পত্রিকায় লালনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত বসন্তকুমারের লালন-সম্পর্কিত প্রবন্ধ লালনচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করে। আজ থেকে দীর্ঘ ৫৭ বছর আগে প্রকাশিত তাঁর মহাত্মা লালন ফকির বইটি দীর্ঘকাল ধরেই দুষ্প্রাপ্য ছিল।
লালন গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর সম্পাদনায় বইটির প্রতিলিপি সংস্করণ এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদক দীর্ঘ ভূমিকায় লালনচর্চার প্রেক্ষাপটে বসন্তকুমার পালের জীবন ও সাহিত্যকর্মের তথ্যনিষ্ঠ বিবরণ দিয়েছেন। সংযোজন করেছেন অপ্রকাশিত পত্রাবলি, অগ্রথিত রচনা, আলোকচিত্র, গ্রন্থ সমালোচনা ও শ্রাদ্ধপত্র।
বসন্তকুমার পালেরমহাত্মা লালন ফকির-এর সমালোচনা ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘...শত শত হিন্দু ও মুসলমানের গুরুপদে বৃত হইয়া সমাজ-নির্বিশেষে বহু লোকের অধ্যাত্ম-জীবনকে ফুটাইয়া তুলিতে সমর্থ হয় তাঁহারই বিচিত্র কাহিনী এই পুস্তকে সুন্দর ভাষায় বর্ণিত হইয়াছে। ... লালনের গান সব সময় পাওয়া যায় না। সুতরাং এই পুস্তকে সংগৃহীত রচনাগুলিও বাউল গানের সংগ্রহ হিসেবে আদরণীয় হইবে।’
উল্লেখ্য, বৃহত্তর নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার কুমারখালী থানার ধর্মপাড়া গ্রামে বসন্তকুমার পাল (১৮৯০-১৯৭৫) জন্মগ্রহণ করেন। গড়াই নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ধর্মপাড়াসংলগ্ন গ্রাম ভাঁড়ারা ফকির লালন সাঁইয়ের জন্মস্থান। সাধক লালন দেহত্যাগ করেন বাংলা ১২৯৭ সনের ১ কার্তিক, আর লালনচর্চার পথিকৃৎ বসন্তকুমার পালের জন্ম ওই একই সালে, একই মাসে। আজীবন তিনি একাগ্র নিষ্ঠায় লালনচর্চায় নিবেদিত ছিলেন। বইয়ে শুধু লালনের জীবনী নয়, বেশ কিছু গান সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেমন: ‘আছে আদি মাক্কা এই মানবদেহে। ‘দ্যাখনা রে মন! ভেয়ে/দেশ দেশান্তর দৌড়ে এবার মরিস কেন হাঁপিয়ে।/ক’রে অতি আজব ভাক্কা/গড়ছে সাঁই মানুষ মাক্কা। কুদরতি নূর দিয়ে/ও তার চারধারে চার নূরের ইমাম/মধ্যে সাঁই বসিয়ে...।’ গানটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে: ‘ভাবের কথা ছাড়িয়া দিয়া এই সঙ্গীতটির শব্দবিন্যাস, হ্রস্ব ও দীর্ঘস্তরের সন্নিবেশ... ও ছন্দজ্ঞানের পাণ্ডিত্য পরিষ্কার হূদয়ঙ্গম করা যায় অথচ তিনি লেখাপড়া জানিতেন না।...এই দেহেই তিনি বিরাজিত, এই মানুষের মধ্যেই ভগবানের বিকাশ, ইহার মধ্যেই তাঁহার বিলাস এবং এই মানবজগৎ লইয়াই যে তাঁহার লীলাখেলা এই কথাই তিনি পুনঃ পুনঃ আলোচনা করিয়া গিয়াছেন।’ অর্ধশত বছর আগে লালনের গানের এমন মূল্যায়ন শ্লাঘা বৈকি।
আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত লালনচর্চার আকরগ্রন্থটি, লালন অনুরাগী ও লালনচর্চার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নতুন ভাবনা ও বোধের খোরাক জোগাবে। বসন্তকুমারের দৃষ্টিতে ও সম্পাদকের ভূমিকার আলোকে খুঁজে পাওয়া যাবে বাঙালি সংস্কৃতির পুরোধা লালন সাঁইকে।
মহাত্মা লালন ফকির—শ্রীবসন্ত কুমার পাল \ আবুল আহসান চৌধুরী সম্পাদিত \ পাঠক সমাবেশ \ প্রচ্ছদ: সেলিম আহমেদ \ বইটির পিডিএফ সংস্করন চলছে, আমার বই এ চোখ রাখুন অচিরেই অনলাইনে প্রকাশিত হবে।

আপনাদের সহযোগীতা আমাদের একান্ত কাম্য। তাই যদি বইটি ভালো লেগে থাকে তাহলে দুচার লাইন লিখে আপনার অভিমতগুলো জানিয়ে রাখুন আমাদের কমেন্টস বক্সগুলোতে। বন্ধু-বান্ধবদের বলুন এই সাইটটির কথা। আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমরা আরও অনেক বই নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারবো। ধন্যবাদ।

Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. Lalon Fakir, Lalan fakir, Basantakumar Pal, Lalon Fakir Basantakumar pal, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে


Table of Contents
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাই নেম ইজ রেড - ওরহান পামুক

amarboi.com
বুক রিভিউ

মাই নেম ইজ রেড - ওরহান পামুক
ফারুক ওয়াসিফ

খুন হয়েছে, লাশটি পড়ে আছে কুয়োর তলায়। কথা শুরু তারই জবানিতে, ‘আমি এখন একটি লাশ ছাড়া আর কিছু নই’।
ওদিকে শাদা ঘোড়ায় চড়ে নিজের শহরে ফিরছে এক মুসাফির শিল্পী। বিরহজ্বালায় পৃথিবীর পথে পথে অনেক ঘুরেছে সে। ডাক এসেছে, তাই ফেরা, কিন্তু কার কাছে? চাচা এনিশতে এফেন্দি শিল্পগুরু। তাঁর বাড়িতেই জায়গির থেকে শিখত রং-রেখার শিল্প। শিরিন ও ফরহাদের ছবি আঁকার সময় মনে ভাসতো চাচাতো বোন শেকুরের মোহময়ী মুখ। কিন্তু সে যে বড্ড দেমাগি! প্রত্যাখ্যানের অপমানে ইস্তাম্বুল ছাড়া সেই তরুণ দশ বছর পর ফিরে এসে বলবে: ‘মাই নেম ইজ ব্ল্যাক’।
মহামান্য সুলতানের হুকুমে ওস্তাদ এনিশতে এফেন্দি এক মহাগ্রন্থ সৃজন করছেন। ব্ল্যাক হবে সেই বইটির পাঁচ শিল্পীর একজন। পুরো বইটি সম্পর্কে জানেন একমাত্র এনিশতে। যতই কাছে আসে নিষিদ্ধ গ্রন্থটির, ততই ব্ল্যাকের মনে বলক দিয়ে ওঠে সেই নিষিদ্ধ প্রেম। শেকুর এখন ভরযুবতী, বহুদিন হলো স্বামী যুদ্ধে নিখোঁজ। দেবর হাসানের বাসনায় ভীতা সে ফিরে আসে বাবার গৃহে। সে রকম এক দিনে জানালার ফাঁক দিয়ে সে দেখে, ডালিমগাছের তলা দিয়ে যাচ্ছে তার বাল্যপ্রেমিক; এই প্রথম চোখের দেখা পেল চোখ। কিন্তু নিজের মনের খবর কি জানে শেকুর? স্বপ্নবান ব্ল্যাক নাকি গোঁয়ারগুণ্ডা হাসান, কাকে চায় সে?
এ রকম এক দিনেই খুন হয় অলিভ। সুলতানের নির্দেশ, হিজরি সনের সহস্রবর্ষপূর্তিতে প্রকাশিত হবে বইটি। সৌন্দর্যে হবে ফিরদৌসীর শাহনামার সমকক্ষ। রক্ষণশীল অভিজাত মহলের আড়ালে, নিষিদ্ধ ইউরোপীয় শৈলীতে অঙ্কিত হবে প্রতিটি পৃষ্ঠা। এনিশতের তত্ত্বাবধানে আঁকবেন ইস্তাম্বুলের সেরা পাঁচ শিল্পী। তাদের সাংকেতিক নামই কেবল জানব: ব্ল্যাক বা কৃষ্ণ, রেড বা রক্তিম, বাটারফ্লাই বা প্রজাপতি, স্টর্ক বা সারস এবং অলিভ বা জলপাই। অলিভের খুনী হয়তো এদেরই একজন। গুঞ্জন রটে, কুফরি ইউরোপীয় ঢংয়ে আঁকার পাপে কিংবা সেই পাপ ঠেকানোই এই খুনের হেতু। এতদিন ইসলামী প্রাচ্যের শিল্পীরা বাস্তবের প্রতিচ্ছবি নয়, খোদার দৃষ্টির প্রতিফলনই ঘটাতে চাইতেন তাঁদের অনুশিল্পকর্মে (মিনিয়েচার আর্ট)।
দৃষ্টিটা মনের, চোখের নয়। বাস্তবের চরিত্র বা উপাদান নয়, খোদার সৃষ্টির বিশুদ্ধ সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলাই তাদের সাধনা। কিন্তু সুলতান চান দুনিয়া তাঁর বাস্তব কীর্তি জানুক, বিশেষত প্রতিদ্বন্দ্বী ইউরোপ জানুক তাঁর গরিমা। এবং সেটা ইউরোপীয় শৈলীতেই সম্ভব। সাবেকি মন এটা মানবে কেন?
ব্ল্যাকের প্রেমের কাঁটাও এই সনাতন প্রথা। শেকুরকে বিয়ে করতে হলে ব্ল্যাককে প্রমাণ করতে হবে, তার স্বামী যুদ্ধে নিহত। নইলে নিরস্ত হবে না হাসান। উত্তেজনা ঘন হয়ে এলে ঘটে দ্বিতীয় খুন। এবারের শিকার ওস্তাদ এনিশতে স্বয়ং। হাসানের সঙ্গে ব্ল্যাকের দ্বন্দ্ব এভাবে ঢুকে যায় ইসলামি বনাম ফ্রাঙ্কিশ তথা ইউরোপীয় সংস্কৃতির রেষারেষির মধ্যে। শিল্পের দুই ধারার নামে মুখোমুখি হয় সভ্যতার দুই নিরিখ, জীবনের দুই আদল, ইতিহাসের দুটি স্রোতোধারা। এভাবে ষোল শতকের পটভূমিতে ঘটতে দেখি ‘সভ্যতার সংঘাত’।
কিন্তু স্বামীহারা শেকুরকে কি পাবে ব্ল্যাক? জানা যাবে কি অলিভ ও এনিশতের খুনী কে? কিংবা শেষ হবে কি সেই মহাগ্রন্থ সৃজন? বাইরে থেকে ইউরোপের চাপ, ভেতরে রক্ষণশীলদের উত্থানের দোলাচলে কোন পথে যাবে ইসলামী দুনিয়ার নেতা তুর্কি সুলানাতাত? এই ঐতিহাসিক পটেই তুর্কি ঔপন্যাসিক অরহান পামুক দাঁড় করান তাঁর মানবিক চরিত্রদের।
ছিল প্রেমকাহিনী, হয়ে দাঁড়াল আলো-আঁধারি রহস্যকাহিনী, আসলে তা মানবাত্মার ইতিহাসও। কিন্তু এ তো আজকের দুনিয়ারই গল্প। সেটাই হয়তো পামুকের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার (২০০৬) পাওয়ার কার্যকারণ। কিন্তু ইতিহাস, শিল্প সব ছাপিয়ে শোনা যায় চিরায়ত মানব-মানবীর বুকের ধুকপুক। তাই কেন এই খুন, তার থেকে বড় হয়ে ওঠে খুনি কে, এই প্রশ্ন।
পামুক অভিনব। কুয়োর হিমগহ্বরে পড়ে থাকা লাশের গল্পটা কেড়ে নিয়ে একজন বলতে শুরু করে, ‘মাই নেম ইজ রেড’। তার কথা শেষ হতে না হতেই, গল্পের লাগাম টেনে নেয় দেওয়ালে ঝোলানো ছবির একটি কুকুর বা ফলে ভরা ডালিমগাছ। আবার ফিরে আসে অলিভের লাশ। দাফনকাফনের শেষে তার দেহছাড়া আত্মার উড়ালসঙ্গী হয়ে আমরাও পাখির চোখে দেখতে পাই তুর্কি সালতানাতের রাজধানী ইস্তাম্বুলের অপূর্ব স্থাপত্য, নদী, সেতু, লোকালয়: ওই যে সুলতানের প্রাসাদ, ওই বসফরাস সমুদ্র, ওই মসজিদের সরু মিনার। কথা বলা শুরু করে সেই বৃদ্ধা ইহুদি ফেরিওয়ালি, আয়না ও সিল্কের রুমাল বিক্রি করার ছলে কুমারী কিংবা বিবাহিতা মেয়েদের মনের আনচান আবিষ্কার করাই যার পেশা ও নেশা। সে-ই আবার তাদের চিঠি চালাচালির দূতীয়ালি। ওদিকে মধ্যরাতে কফিখানায় কিংবা দরবেশের আস্তানায় গল্প শোনায় এক ভ্রাম্যমাণ কথক, একটু পরেই মোল্লাদের হামলায় যে নিহত হবে। এদিকে খোজা প্রহরীর পিছু পিছু আমরা ঢুকে পড়ি ইসলামের খলিফার মহাফেজখানার রহস্যময় আঁধারে। অনুচিত্রকলায় যেমন বিন্দুতে সিন্ধুদর্শন করানো হয়, তেমনি মাই নেম ইজ রেডও কাহিনীর পরতে পরতে, আখ্যানের দানার পর দানায় জীবন্ত করে তোলে এক অদেখা মানবজমিন।
মাই নেম ইজ রেড এক সন্ধিক্ষণের গল্প, যখন প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য মিলন ও সংঘাতে পরস্পরকে বদলে দিচ্ছিল। যখন সময় হঠাৎ দৌড়াতে শুরু করেছে আর টান পড়ছে আত্মায়। এসব কিছুর মধ্যেও কান পাতলে শোনা যাবে তুচ্ছ সাধারণ মানুষের হূদস্পন্দন—মাই নেম ইজ রেড তারই কথাচিত্রলেখা।
ভাষায় ও গল্প বলায় পামুক সতর্ক, তুখোড় ও বিশদ। মনে হবে পড়ছেন তুর্কি-পারস্য প্রেমলীলার মহাকাব্যগুলো, জানছেন প্রাচ্যের লুপ্ত চিত্রকলার দর্শন ও তার কিংবদন্তীর শিল্পগুরুদের কথা। সবই নাহয় হলো, কিন্তু কী আছে পথের শেষে? এই প্রশ্ন উপন্যাসের পাঠককে শেষ বাক্যের শেষ শব্দটার দিকে ইউলিসিসের সাইরেন ডাকিনীর মতো হাতছানি দিয়ে ডাকে। এমনকি এই আকাঙ্ক্ষাও আপনাকে পেয়ে বসতে পারে, বিপজ্জনক বইটির সব ছবি আঁকা শেষ হোক, খুনি ব্ল্যাক বা রেড বা স্টর্ক বা বাটারফ্লাই যে-ই হোক, তারা তো শিল্পীই শেষপর্যন্ত। একবারের জন্য হলেও বিরহী মুসাফির ব্ল্যাক পাক তার শেকুরকে। কিন্তু শেকুর কি এখনো সেই ছলনাময়ী নয়? নইলে কেন সে ব্ল্যাককে পাঠায় দুর্ধর্ষ হাসানের বিরুদ্ধে, কেন সে বাবার খুনীকে চিহ্নিত করা ছাড়া তার বুকে ধরা দেবে না বলে শর্তের ফাঁদ পাতে? পাঠিকা চঞ্চল হবেন, পাঠক হয়তো উপন্যাসের লম্বা সফরে ক্লান্তও হবেন। উপন্যাস এক বিষন্ন শিল্প, শেষ পৃষ্ঠায় তারই প্রমাণ। আর প্রেম ও শিল্পের হাতে নিহতদের খুনের রংতো লালই হবে চিরটাকাল। তারপরও একটা খেদ রয়ে যাবে মনে; হায় এই প্রেম, আহা এ জীবন! কেন যে কেন যে, তবু!

আপনাদের সহযোগীতা আমাদের একান্ত কাম্য। তাই যদি বইটি ভালো লেগে থাকে তাহলে দুচার লাইন লিখে আপনার অভিমতগুলো জানিয়ে রাখুন আমাদের কমেন্টস বক্সগুলোতে। বন্ধু-বান্ধবদের বলুন এই সাইটটির কথা। আপনাদের অনুপ্রেরণায় আমরা আরও অনেক বই নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পারবো। ধন্যবাদ।

Download Bangla books in pdf form mediafire.com and also read it online. Read it from iPad, iPhone. My Name is Red - Orhan Pamuk, bangla ebooks, free download , mediafire , humayun ahmed , zafar iqbal , sunil gangopadhaya , suchitra , bengali ebooks, free bangla books online, ebooks bangla, bangla pdf, bangla books, boi, bangla boi, amarboi.
নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

চল অচিনপুরে - আসজাদুল কিবরিয়া


amarboi.com


চল অচিনপুরে
আসজাদুল কিবরিয়া

দর্শনশাস্ত্র মানে কঠিন ও দুরূহ বিষয়। কাজেই দর্শনবিষয়ক কোনো বই পড়া থেকে দূরে থাকা স্বস্তিদায়ক মনে হতো। আর তাই অঞ্জন মাহফুজের অন্তর তীর্থে: মরমী বিশ্বের মৌনভাব বইটি হাতে পাওয়ার পর অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল। বইটি যে আমার পড়া হবে না, তা তখনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিলাম। বড়জোর উল্টে-পাল্টে একনজর দেখে বইয়ের তাকে সাজিয়ে রাখাই হবে সার।
তবে উল্টে-পাল্টে দেখতে গিয়ে মনে হলো, কয়েক পাতা পড়েই ফেলি না কেন! প্রথম থেকে শুরু না করে মাঝখান থেকে একটা প্রবন্ধ বেছে নিলাম। নাম ‘চল রে মন এক অচিনপুরে’।
তিব্বতের রহস্যময় ‘শাম্বালা’র ওপর লেখা। শাংরিলার নাম যতটা পরিচিত, শাম্বালা হয়তো ততটা নয়। জেমস হিলটনের লস্ট হরাইজন গ্রন্থের মাধ্যমে তিব্বতের শাংরিলা সম্পর্কে পশ্চিমা দুনিয়ায় প্রথম বড় আলোড়ন তৈরি হয়। তিব্বতের বৌদ্ধচর্চা ও বৌদ্ধ মরমিভাবের রহস্যঘেরা আবরণ আজ অনেকটা উন্মোচিত হলেও বেশির ভাগটাই বুঝি রয়ে গেছে অধরা। আর তাই শাম্বালা ঘিরে চিন্তা-গবেষণাও হয়েছে অনেক। কিন্তু এই অমর রহস্যপুরীর রহস্য তাতে উন্মোচিত হয়নি। তুষারাবৃত পাহাড়ঘেরা চিরসবুজ ও শান্ত অথচ গোপন এক স্থান এই শাম্বালার কথা তিব্বতের ঐতিহ্য ও কিংবদন্তিতে প্রথিত। ‘তিব্বতিরা মনে করেন, শাম্বালা নামের এই দেশটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের পুব-প্রান্তে এবং জগতের কেন্দ্রে অবস্থিত। তিব্বতি বিভিন্ন গ্রন্থে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরের বস্তুতান্ত্রিক সভ্যতা, যান্ত্রিক জগতে অধ্যাত্ম মূল্যবোধ ও মরমী বা গূঢ়বিদ্যা ধীরে ধীরে যখন হারিয়ে যেতে বসেছে, শাম্বালাতেই সেসব বিষয় গোপনীয়তার সঙ্গে সংরক্ষিত করা হয়েছে অনাগতকালের জন্য।’ (পৃ-১১৩)।
শাম্বালা সম্পর্কে বিভিন্ন পণ্ডিতজনের ধারণা ও পর্যালোচনার সার কথাগুলো সুবিন্যস্ত আকারে তুলে ধরে এবং সেগুলো প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ করে অঞ্জন মাহফুজ পাঠককে নিয়ে যান এক অচিনপুরের মোহজালে। পড়তে পড়তে নিজের মনের গহিন থেকে কেমন যেন একটা আশ্চর্য অনুভূতি তৈরি হয়। এবং বারবারই প্রশ্ন জাগে, আসলেই কি শাম্বালা আছে? উত্তরটা মেলে এভাবে, ‘শাম্বালা আর কিছু নয়, আমাদের অচেতনে থাকা সেই মরমী মনকে এমনই এক অমরনগরী তথা ভুবনের দিকে টেনে নিয়ে যায়।...মনে হয় না, শাম্বালা শুধু স্বপ্নময় এক ধর্মীয় ফ্যান্টাসি, বরং এর চাইতে বেশি কিছু। নিশ্চয়ই মানুষের অন্তর্গূঢ় চেতনার একধরনের বাস্তবতা কাজ করেছে। কারণ সত্য রয়েছে সর্বত্র। যদিও তা ফ্যান্টাসি বা মিথ্যা কপোলকল্পনার আবরণে চাপা পড়তে পারে।’ (পৃ-১২২)
এই অধ্যায়টি পড়ার পর গোটা বইটি পড়ার বিষয়ে আগ্রহ বেড়ে গেল। তবে সুবিধা হলো, প্রতিটি অধ্যায়ই স্বতন্ত্র একটি প্রবন্ধ। তাই শুরু থেকেই যে পড়ে আসতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সে জন্যই যখন যেটা ইচ্ছা, সে প্রবন্ধটি বেছে নিচ্ছি। না। এটি গোগ্রাসে গিলে ফেলার মতো বই নয়। সময় নিয়ে অল্প কয়েক পাতা করে না পড়লে কোনো আনন্দ পাওয়া যায় না। বিষয়গুলো সম্পর্কে কোনো ধারণাও পাওয়া যায় না। তাই পুরো বইটা শেষ করতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে।
বইটি মূলত ২২টি প্রবন্ধের একটি সংকলন। বেশির ভাগই মীজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে ছাপা হয়েছে। কোনোটিতে তিব্বতি পুনর্জন্মবাদ বা মৃত্যুর গোপন তথ্য নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। আছে চীনের তাওবাদ এবং সুফিবাদ নিয়ে আলোচনা। প্রাণীর রহস্যবাদ নিয়ে আছে দুটি প্রবন্ধ—‘চিচি যে এক ভগবতী’ ও ‘হুলোর দুনিয়া’।
বস্তুত মরমিবাদ বা মিসটিসিজমের পরিধি অনেক বিস্তৃত ও অত্যন্ত গভীর। যুগে যুগে কালে কালে মরমিবাদে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন চিন্তাধারা ও অনুশীলন। সুতরাং, মরমিবাদের ওপর আলোকপাত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। মরমিবাদ-বিষয়ক জ্ঞান দীর্ঘদিনের নিরন্তর ও সুনিষ্ঠ চর্চা ছাড়া যথাযথভাবে আয়ত্ত হয় না। বইটি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছে, অঞ্জন মাহফুজের সেই চর্চায় তেমন কোনো ঘাটতি নেই।
আর এই চর্চার ফলে মরমি বিশ্বের সঙ্গে তার নিজের নিবিড় যোগাযোগের অনুভূতি প্রকাশে তিনি পিছপা হননি। এই অনুভূতিগুলোও পাঠকের মনকে দোলা দেবে, বিমূর্ত চিন্তায় মগ্ন হতে উদ্বুদ্ধ করবে। ‘আপনাতে আপনি হওয়া’ প্রবন্ধের শেষ ভাগ থেকে একটি উদ্ধৃতি দিলেই তা বোঝা যায়। লেখা হয়েছে, ‘কোনো মানুষের অস্তিত্ব যখন এক জগৎস্তর থেকে অপর স্তরে সট্ করে অনুপ্রবেশ করে বসে তখনই সে নিজেকে খুইয়ে ফেলে, আত্ম-অস্তিত্বকে হারায়-যেন জড় থেকে অজড়ের পানে ফুস করে হারিয়ে গেল, কিংবা বস্তু থেকে ভাবের পানে। এমন অবস্থায় পুরো ঘটনাটিকে আবার নিজের সঙ্গে নিজের পুনর্মিলন হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। এ যেন নিজেকে নিজেরই প্রতিবিম্বের সঙ্গে মিলিয়ে-মিশিয়ে ফেলার দশা, আত্ম-প্রতিবিম্বের সঙ্গে একেবারে বা একাত্ম হয়ে একেবারে জমে যাওয়া, আপন অস্তি-নাস্তির (অস্তিত্বের জড় বা অজড়তে) মধ্যে অদ্বৈত বা ঐক্য গড়া।’ (পৃ-২৬)।
বইটি পড়তে পড়তে এটাও মনে হচ্ছে, অঞ্জন মাহফুজ কাজটি করেছেন দুঃসাহসিক বটে। এর দুটো কারণ। প্রথমত, মরমিবাদের বিষয় কখনো কখনো সাধারণ মানুষের ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গে আপাত সাংঘর্ষিক হয়ে পড়তে পারে। আর তাই ঔৎসুক্য ও মুক্তমন নিয়ে ‘অন্তর তীর্থে’ প্রবেশ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিষয়ের জটিলতা ও গভীরতা তুলে ধরতে গিয়ে ভাষাগত সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। মাহফুজ এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছেন বলে আমার ধারণা। সর্বোপরি লেখক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নিজের মতামত তুলে ধরলেও তাকে শেষ কথা হিসেবে ভেবে নিতে অনুপ্রাণিত করেননি। বরং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার পাঠকের ওপরই ছেড়ে দেওয়ার স্পষ্ট আভাস আছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে।




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

চিলেকোঠার সেপাই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান


চিলেকোঠার সেপাই
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান
জাকির তালুকদার
ঊনসত্তরে জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদের ব্যাপারটা থাকলেও শ্রেণীর ব্যাপারটা কিন্তু ক্রমেই বড় হয়ে উঠছিল। আওয়ামী লীগ এই শ্রেণীর ব্যাপারটাকে চাপা দিল বাঙালিত্বের ধুয়া তুলে। মুজিব জেল থেকে এসে প্রথমেই বললেন, 'আপনারা শান্ত হোন।' বললেন, 'আমরা সবাই বাঙালি।' চবড়ঢ়ষব যেভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল তাতে ভয় পেয়েছিলেন তাঁরা। আমার মনে আছে, রেকসে একদিন আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমাদের পাশের টেবিলে এসে বসলেন খন্দকার মোশতাক। বাইরে তখন প্রচণ্ড মিছিল-মিটিং। মোশতাক খুব খেপে গিয়ে বলেছিলেন, 'এত রিষফ হওয়ার কোনো মানে হয়? এই রিষফ যড়ধৎংব-কে এখন কে সামলাবে?' এটাই হলো ঃুঢ়রপধষ বুর্জোয়া ঢ়ড়ষরঃরপং-এর কথা।
তারপর শেখ মুজিব যেদিন ৭ মার্চের বক্তৃৃতা দিয়ে ফিরছেন, আমি ওই শাহবাগের মোড়ে ভিড়ের ঠেলাঠেলিতে কিভাবে যেন শেখ মুজিবের গাড়ির একেবারে কাছে গিয়ে পেঁৗছেছিলাম, একেবারে মুজিবের গাড়ির জানালার পাশে। মুজিব জানালা দিয়ে ঢ়বড়ঢ়ষব-কে দেখছেন। সেদিন তাঁর চোখে আমি দেখেছিলাম ভয়, হড়ঃযরহম নঁঃ ভবধৎ। ভাবছেন বোধহয় এ লোকগুলোকে তিনি কোথায় নিয়ে যাবেন? কোনো ঢ়ষধহ তো তাঁর ছিল না। আর মানুষ তো তখন শুধু পাকিস্তান থেকেই মুক্ত হতে চায়নি, আরো অনেক কিছু চেয়েছিল।
[স্বকণ্ঠ। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস]
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের ওপর যেসব ইতিহাসগ্রন্থ লিখিত হয়েছে, সেগুলোতে হয়তো নির্ভুল তথ্য রয়েছে, কিন্তু সেগুলো পাঠ করে কেউ সেই দিনগুলোর উত্তাল মুহূর্তগুলোকে অনুভব করতে পারবেন না। কারণ লিখিত বিবরণ কোনো দিনই রক্তের দানায় দানায় ছড়িয়ে থাকা উত্তেজনা, উত্তাপ, আকাঙ্ক্ষা, ক্ষোভ, গ্লানি এবং আনন্দকে তুলে আনতে পারে না। বিশেষ করে প্রবন্ধ বা দলিল। তাই বলে দলিলের কোনো উপযোগিতা নেই, এমন কথা মূর্খ ছাড়া আর কেউ বলতে পারে না। কিন্তু আমরা ইতিহাসগ্রন্থ আকারে যেসব দলিল হাতে পেয়েছি, সেগুলোতে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ইলিয়াসকথিত মানুষের 'আরো অনেক কিছু' চাওয়ার বিষয়টিকে। এ ব্যাপারটিকে ধরতে পেরেছিলেন ইলিয়াস, এই শূন্যতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছিলেন_খুঁজছিলেন এমন একটি গ্রন্থ, যেখানে ঊনসত্তরে মানুষের আত্মদানের এবং আকাঙ্ক্ষার সঠিক মাত্রাগুলো উপস্থাপিত হয়েছে। পাননি। পাননি বলে নিজেকেই লিখতে হলো তাঁর। আর ঔপন্যাসিকের কলমে এবং উপন্যাসের আঙ্গিকে বেরিয়ে এল বাঙালির ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আন্দোলনের হৃদস্পন্দন_চিলেকোঠার সেপাই।
উপন্যাসের শুরুতে পাওয়া যায় ওসমানের দেখা। শেষেও ওসমান। উপন্যাসে সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে যে চরিত্র, সে ওসমান। অথচ এই উপন্যাসের মূল ঘটনাপঞ্জির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা সবচেয়ে কম। সে শুধু দেখে যায়। দেখেই যায়। পর্যবেক্ষণও করে না। কারণ পর্যবেক্ষণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পর্যালোচনা। গণ-আন্দোলন বা প্রায় ঘটতে যাওয়া গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কোনো পর্যালোচনা তাকে করতে দেখা যায়নি উপন্যাসের কোথাও। পুরান ঢাকায় আইয়ুব খানের অনুসারী মহাজন রহমতউল্লার বিল্ডিংয়ের চিলেকোঠার একমাত্র ঘরে তার বসবাস। সেখান থেকে সে দেখতে পায় বেবিট্যাঙ্,ি রিকশা, নারায়ণগঞ্জগামী বাসের পাশাপাশি হেঁটে চলা মানুষের ভিড় ও মিছিল। অফিসে যাওয়ার পথে বাহাদুর শাহ পার্কে জনসভা দেখে। পল্টনেও জনসভা দেখে। রেস্টুরেন্টে বসে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় বন্ধুদের কাছে শোনে আন্দোলন-সংগ্রামের কথা। কিন্তু নিজে থাকে ফেলে আসা বাপের চিন্তায়, এই বাড়ির দোতলার ভাড়াটের মেয়ে রানুর চিন্তায়, অন্য বন্ধুদের চিন্তায়। এমনও নয় যে সে সারা দেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে চিন্তিত নয়। বরং উল্টো। চিন্তা সে অনেক করে। চিন্তা না করে উপায় নেই। কারণ এমন প্রচণ্ড ঘটনাবলি ঢাকা তো বটেই, পূর্ববঙ্গের সব অস্তিত্ববান সত্তাকেই নাড়া খেতে বাধ্য করছে। সারা দিন তো বটে, রাতেও কোনো বিরাম নেই ঘটনা ঘটার। সে কারণে এমনকি ১০০ বছরেরও আগে বিদ্রোহী সিপাহিদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য নবাব আবদুল গনিকে দিয়ে পোঁতানো পামগাছ বা সেসব পামগাছের বাচ্চারা মানুষের স্লোগানে ভালোভাবে ঘুমাতে পারে না। ফলে ওসমানের ঘুমও কমে যায়। ঘুমের বদলে সে জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখতে থাকে। ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন আবার বেশির ভাগই পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে।
এই আন্দোলনের গন্তব্য কোনটা? এমন প্রশ্নও কেউ কেউ করে। আইয়ুব খান তথা পাকিস্তানিদের প্রতি মানুষের বিতৃষ্ণা এতটাই যে হোটেলের দেয়ালে আইয়ুব খানের ছবি ঝুলতে দেখলে মিছিলের মানুষ এসে সেই ছবি গুঁড়িয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু এ ঘৃণা মানুষকে কি এনে দেবে? নিছক আইয়ুব খানের অপসারণ? স্বায়ত্তশাসন? ছয় দফা? স্বাধীনতা? কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা তো আরো বেশি। সেই আকাঙ্ক্ষা আনোয়ারের প্রশ্নের মাধ্যমে উঠে আসে_'ভাষা, কালচার, চাকরি-বাকরিতে সমান অধিকার, আর্মিতে মেজর জেনারেলের পদ পাওয়া_এসব ভদ্রলোকের প্রবলেম। এই ইস্যুতে ভোটের রাইট পাওয়ার জন্য মানুষের এত বড় আপসার্জ হতে পারে?'
সাধারণ মানুষ এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না জেনেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে আন্দোলনে। সেই সাধারণ মানুষের জলজ্যান্ত প্রতিনিধি হাড্ডি খিজির। শহরে খিজিররা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, গ্রামে-গ্রামে সেভাবেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে চেংটু, করমালি, আলী বঙ্রা। তাদের কর্মসূচি আরো বেশি অগ্রসর। তারা অনেক দূরের আইয়ুব খান, পাকিস্তানি বাহিনী, পিণ্ডির শোষণ যেমন দেখতে পায়, চোখের কাছে খয়বার গাজী, আফসার গাজীদের ভূমিকাও তেমন স্পষ্টভাবেই চিনতে শেখে। জানতে পারে যে খয়বার গাজীরাই হচ্ছে সেই সব মানুষ, যারা আইয়ুব খানদের আঞ্চলিক প্রতিনিধি। আইয়ুব খানরা যদি বিশালদেহী দিগন্তবিস্তারী জোঁক হয়, সেই জোঁকের মুখ হচ্ছে খয়বার গাজীদের মতো লোকরা। তারা সেই জোঁকের মুখে লবণ দেওয়ার কাজটাও করতে চায়। কিন্তু তাতে সমর্থন নেই আইয়ুববিরোধী ছয় দফার প্রবক্তা-নেতাদের। কারণ, তারাও খয়বার গাজীদেরই শ্রেণী-উত্তরসূরি। কী করে খয়বার গাজীরা? তারা মানুষের নামে অহেতুক মামলা ঠোকে, ভিটেমাটি কেড়ে নেয়, কেউ প্রতিবাদ করলে তার লাশ পাওয়া যায় মাঠে-নদীতে, এমনকি হাজার হাজার মানুষের চোখের সামনে নিজের অবাধ্য কিষানকে পর্যন্ত খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পুড়িয়ে মারতে পারে। আদালতের মামলায় কোনো দিন খয়বার গাজীরা শাস্তি পায় না, মামলায় হারে না। কারণ, সরকারের আদালত তো তাদেরই আদালত। তাই আলী বঙ্রা, খয়বার গাজীরা গণ-আদালত বসাতে চায়। সেখানে বিচার করতে চায় খয়বার গাজীর মতো মানুষদের। বিচার করতে চাওয়ার কথা আসছে এত বছর পরে, কারণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মানুষ প্রস্তুত হয়েছে। যমুনা নদীতে ঘোড়ার ডাক শোনা যাচ্ছে। 'বড় ধরনের বালা-মুসিবত, সংকট, বিপদ-আপদ, দুর্যোগ, বিপর্যয় সামনে থাকলে যমুনার মধ্যে দেড় শ দুই শ ঘোড়া সংকেত দেয়।' সেই ফকির মজনু শাহের সময় থেকে দিয়ে আসছে। এবারের মুসিবত খয়বার গাজীদের। ডাকাত-মারা চরের বাথান তার লুট হয়, তার প্রধান অনুচর হোসেন আলী নিহত হয় বিক্ষুব্ধ মানুষের হাতে। এখন গণ-আদালতে বিচার হবে তার। গ্রামের সংগঠিত মানুষ প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করে, 'এইবার বুঝবি মানুষের হাতে মরতে কেমন লাগে। বেটা এখান থেকে কলকাঠি নাড়ো, মানুষের গরু চুরি করে তার কাছ থেকেই জরিমানা আদায় করো। কারো জমিতে তারা বর্গা দিতে না পারে সেই ফন্দি আঁটো? সবাই এসে তোমার পায়ে পড়ুক, তুমি ইচ্ছামতো মানুষের ভিটাটুকু পর্যন্ত কবজা করে তাকে তোমার গোলাম বানাও!_এইবার? এইবার ভেতর থেকে ভাঙতে শুরু করেছে, ওপরটা আপনাআপনিই ধসে পড়তে কতক্ষণ?
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের আসল চেহারা তো এইখানে, এ বৈরাগীর ভিটায়। মানুষ ভেঙে পড়েছে সেখানে। ভিড় দেখে মনে হবে, 'গোটিয়া, তালপোতা, পদুমশহর, চিথুলিয়া, উত্তরের চন্দনদহ, দরগাতলা, কর্নিবাড়ী, পশ্চিমের কড়িতলা, দরগাতলা, কামালপুর, গোলাবাড়ী_কোনো গ্রামে পুরুষ মানুষ আজ ঘরে নেই।' সেখানে গণ-আদালত বসেছে। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে খয়বার গাজীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের রাতে বিচার বসেছে। সে সবার কাছে সময় চায়। আগামীকাল শুক্রবার জীবনের শেষ জুমার নামাজটি আদায় করার পর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। আনোয়ার বোঝে সে সময় চেয়ে নিচ্ছে। সময় পেলে ফাঁদ কেটে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, সুযোগ বের করে নেবে ঠিকই। কিন্তু ওই জুমার নামাজের বাসনা! মুহূর্তের মধ্যেই ভিজে যায় মানুষের মন। আহা তার জীবনের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে দেওয়া হোক। আলী বঙ্ ব্যাপারটা বোঝাতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। মানুষ খয়বার গাজীর মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারেও যেমন একমত, তেমনই তাকে শেষবারের মতো জুমার নামাজ পড়ার সুযোগদানের ব্যাপারেও একমত। ফলাফল_খয়বার গাজীর পালিয়ে যাওয়া। নিজের লোকদের গুছিয়ে নেওয়া, প্রশাসনের সাহায্যে আলী বঙ্কে এলাকাছাড়া করা এবং চেংটুর মৃত্যু। তার পরই দেখা যায়, মানুষ নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরে গেছে। বিরোধী দলের নেতা হয়েছে খয়বার গাজীর লম্পট-মদারু ভাতিজা আফসার গাজী। ক্ষমতার বলয় সেই সব আগের শ্রেণীর মানুষের হাতেই।
তবে নিজেকেসহ সবাইকে আবারও মনে করিয়ে দিই যে 'চিলেকোঠার সেপাই' ইতিহাস নয়_উপন্যাস। বাংলা ভাষার গুটিকয় সফল উপন্যাসের মধ্যে অন্যতম একটি উপন্যাস। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসের জন্য আমাদের দ্বারস্থ হতে হয় সেই 'চিলেকোঠার সেপাই'-এর। কারণ? ওই যে অ্যাঙ্গেলস বলেছিলেন, ম্যাকবেথ নাটকের মধ্যে ওই সময়ের চালচিত্র যত নিখুঁতভাবে পাওয়া যায়, সব ইংরেজ ইতিহাসবিদের সব পুস্তক একত্র করলেও সেটা পাওয়া যাবে না।
এখানেই তো সত্যিকারের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্ব।


নতুন বই ইমেইলে পেতে হলে

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Tahmima Anam - The Good Muslim


আলোচনায় তাহমিমা আনামের নতুন বই

তাহমিমা আনামের নতুন বই 'দ্য গুড মুসলিম' এখন আলোচনায়। এরই মধ্যে লন্ডনের ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকায় বইটি নিয়ে আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। তাহমিমা আনামের প্রথম বই 'দ্য গোল্ডেন এইজ' বইটির মাধ্যমে ২০০৮ সালে 'প্রথম বই বিভাগে' কমনওয়েলথ সাহিত্য পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। 'দ্য গুড মুসলিম' বইয়ের বিষয়বস্তুও আগের বইয়ের মতো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। উপন্যাসটির মূল চরিত্র সালেহা। সালেহার ছেলে সোহেল হক যুদ্ধফেরত। অন্যদিকে মেয়ে মায়া চিকিৎসক হওয়ার জন্য ট্রেনিং করছেন। তাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা সংকট বইটিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাহমিমা আনাম যুক্তরাজ্য প্রবাসী একজন বাংলাদেশী লেখিকা এবং ঔপন্যাসিক। তিনি প্রথম বাংলাদেশী যিনি ইংরেজি ভাষায় উপন্যাস রচনায় তার সিদ্ধির প্রমাণ রেখেছেন। তার প্রথম উপন্যাস আ গোল্ডেন এজ (A Golden Age)২০০৭ সালের মার্চে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়। বিখ্যাত প্রকাশক জন মারে এটি প্রকাশ করেছেন।
১৯৭৫ সালে তাহমিমা জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টার দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং মা শাহীন আনাম বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা মানুষের জন্য-এর প্রধান। বাবা-মা দুজনই একসময় জাতিসংঘে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে তাহমিমার শৈশব ও কৈশোরের অধিকাংশ সময়ই বাংলাদেশের বাইরে বাইরে কেটেছে। পড়াশোনাও করেছেন ইংরেজি মাধ্যমে। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করলেও বাংলা সংস্কৃতির চর্চা করেছেন। তার বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই বাসায় তার সাথে বাংলাতে কথা বলতেন আর সময় সময় দেশে নিয়ে আসতেন। চাকুরি ইস্তফা দিয়ে একসময় তার বাবা-মা চিরস্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এলেও পড়াশোনার জন্য তাহমিমার আর ফেরা হয়ে উঠেনি। তবে মাঝেমধ্যেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন।
তাহমিমা আনাম যুক্তরাষ্ট্রের সনামধন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ নৃতত্ত্ব বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। পিএইচডি শেষ করার পর তিনি কাব্যজগতের অনন্য প্রতিভা অ্যান্ড্রু মোশনের অধীনে লন্ডনের রয়েল হলওয়ে কলেজে সৃজনশীল লেখালেখির কোর্সে ভর্তি হন। তার আগের পড়াশোনার চেয়ে এই কোর্সটি ছিলো সম্পূর্ণই ভিন্ন। তবে তাহমিমা বলেন সমাজবিজ্ঞান এবং সাহিত্য পরষ্পর সম্পর্কযুক্ত। এ সম্বন্ধে বলেছেন, "সামাজিক সম্পর্ক ও আদান প্রদান, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেন সমাজবিজ্ঞানী। ভালো লেখক হওয়ার মূল চাবিও কিন্তু পর্যবেক্ষণ। তাই আমার মনে হয়না যে আমি উল্টো পথে হেঁটেছি। তাছাড়া বরাবরই তো আমি লেখক হতে চেয়েছি। আমার শুধু মনে হয়েছে লেখালেখি শুরুর আগে একটি প্রফেশনাল ডিগ্রী নেয়া বড় জরুরি। পিএইচডি করার পুরো সময়টিও কিন্তু আমি উপন্যাসটি নিয়ে ভেবেছি; সেটি লেখার প্রস্তুতি নিয়েছি।"
লেখালেখির স্কুলে ভর্তি হওয়াটা তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। ইয়ান ম্যাকওয়ান, কাজুও ইশিগুরো প্রমুখ খ্যাতিমান লেখকও এধরণের কোর্স করেছিলেন। এই কোর্সটি তাহমিমার উপন্যাস লেখার কাজে দারুণ সহযোগিতা করে। বলা যায় এখানে শিক্ষাজীবন শেষে করতে না করতেই তিনি প্রথম উপন্যাস লেখার কাজে হাত দেন। এছাড়া ঐতিহ্যও লেখার জন্য তাকে উৎসাহিত করেছে। তার দাদা আবুল মনসুর আহমেদ ছিলেন বাংলা ভাষার ঔপন্যাসিক।
তার প্রথম উপন্যাস আ গোল্ডেন এজ বা স্বর্ণযুগ রচনার কাজ শুরু করেন ২০০৪[১] সালে। তখন তিনি একইসাথে লেখালেখির কোর্সেও পড়ছেন। বাংলাদেশে না থাকার কারণে বাংলার উপর ভালো দখল তার ছিলোনা। এজন্যই মূলত ইংরেজিতে হাত দিয়েছেন। তবে ইংরেজির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। লেখালেখির পাশাপাশি কোর্স চালিয়ে যাবার কারণে একসময় একটি সংকলনে তার লেখার একটি অংশ ছাপা হয়। সংকলনটির নাম ছিলো বেডফোর্ড স্কয়ার। এটি ছিলো কোর্সটিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের রচনার সংকলন। অ্যান্ড্রু মোশন কর্তৃক সংকলিত এই সংকলনটির প্রকাশক ছিলেন জন মারে। তার লেখা অংশটুকু পড়ে ভালো লেগে যায় ম্যারের। তাই তিনি তাহমিমার বইটি প্রকাশের কথা বলে একটি চুক্তি করেন।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হুমায়ুন আহমেদের "মাতাল হাওয়া"

হুমায়ুন আহমেদের "মাতাল হাওয়া" বইটির আলোচনা
লিখেছেনঃ ফয়জুল লতিফ চৌধুরী
matal-haowa-HA.jpg
১৯৬৯-এ লেখালেখি শুরু করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এর দুবছর পর ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। দীর্ঘকাল পর ২০০৩-এ তিনি লিখলেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দীর্ঘাবয়ব উপন্যাস জোছনা ও জননীর গল্প। সম্প্রতি তাঁকে প্রলুব্ধ করেছে ১৯৬৯-এর স্বাধিকার আন্দোলন, যার ফলশ্রুতি মাতাল হাওয়া। মাতাল হাওয়া ২০১০-এর বাংলা একাডেমী বইমেলার জনপ্রিয়তম গ্রন্থ বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু যাকে বলে ঐতিহাসিক উপন্যাস, তা হুমায়ূন আহমেদের ধাতে নেই। তাঁর অভিলক্ষ্য মানব চরিত্র, রাজনীতি নয়। মানব চরিত্র যতটুকু সময়লগ্ন ঠিকই ততটুকুই, ইতিহাসলগ্ন তাঁর কাহিনী। কার্যত মাতাল হাওয়া ষাটের দশকের মফস্বলবাসী মানুষের গল্প। এ গল্পে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের কথা আছে, মওলানা ভাসনীর কথা আছে, শহীদ আসাদের কথা আছে, কিন্তু তাই বলে এখানে ইতিহাসের অনুসন্ধান হবে নিছকই পণ্ডশ্রম। মানুষের গল্পে মানুষ থাকে: হুমায়ূন আহমেদের বইগুলো অসংখ্য মানুষের বিচিত্র প্রতিচ্ছবি। মাতাল হাওয়া যোগ করেছে আরও কিছু মানুষের রসসিঞ্চিত প্রতিবিম্ব; আরও কিছু মানবচরিত্র এ গ্রন্থে বিধৃত হয়েছে বিচিত্র, মনোজ্ঞ ঘটনাবলির মধ্য দিয়ে।
বিধবা হাজেরা বিবির কথা দিয়ে মাতাল হাওয়া শুরু। তাঁর পুত্র ময়মনসিংহ শহরের দুঁদে উকিল হাবীব। অন্যান্য গ্রন্থের মতোই মাতাল হাওয়ার কাহিনির সংক্ষেপ দাঁড় করানো মুশকিল। কারণ একটিই, আর তা হলো এটির সংজ্ঞায়িত কোনো প্লট নেই। হাসান রাজা চৌধুরী ছোটবেলায় দূরসম্পর্কের এক মামা আশরাফ আলী খানের বাড়িতে থেকে মোহনগঞ্জ পাইলট স্কুলে লেখাপড়া করত। মামা তাকে শারীরিকভাবে ব্যবহার করতেন। দশ বছর বয়সের বালক প্রতিবাদ করতে পারেনি কিন্তু প্রতিজ্ঞা করেছিল একদিন মামাকে খুন করবে সে। ইউনিভার্সিটির লেখাপড়া শেষ করার পর বাড়িতে ফিরে একদিন ভোরবেলায় বাবার দোনলা বন্দুক চালিয়ে দেয়, মামা মারা যান। ছেলেকে বাঁচাতে বাবা রহমত রাজা চৌধুরী হাবীব উকিলের শরণাপন্ন হন। সময়টা ১৯৬৮, পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তখন মাতাল হাওয়া প্রবহমান। পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে হাসান রাজা চৌধুরীকে নিজের বাসায় লুকিয়ে রাখলেন হাবীব।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একাত্তরের ভিন্নতর অবলোকন

একাত্তরের ভিন্নতর অবলোকন

মফিদুল হক


১৯৭১ আমাদের জাতীয় জীবনের পরম গৌরবময় পর্ব, চরম দুঃসময়ের কালও বটে। একাত্তরের সেই ঘটনাধারার ছিল স্বাদেশিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাত্পর্য। আমরা একাত্তরকে দেখি মূলত আমাদের জাতীয়-বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে, কিন্তু এর ব্যাপকতর তাত্পর্য অনুধাবনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান থেকে একাত্তর-অবলোকন বয়ে আনতে পারে ভিন্নতর উপলব্ধি, সঞ্চার করতে পারে গভীরতর তাত্পর্য। ভেতর থেকে দেখা ইতিহাস এবং বাইরের বিবেচনা ও ঘটনাধারার মিলনেই পাওয়া যেতে পারে পূর্ণাঙ্গ এক ছবি, যদিও ইতিহাস-বিচারে পূর্ণতায় পৌঁছার মতো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধি নেই, নিরন্তর চলে এর পুনর্বিচার, পুনর্মূল্যায়ন, যার ভিত্তি রচনা করে আহরিত নতুন নতুন তথ্য, নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোকসম্পাত এবং এভাবে চলে অভ্যস্ত-ভাবনার পরিধিকে ক্রমাগত প্রসারিত করা, পাল্টে দেওয়া।

একাত্তর নিয়ে ভাবনার তোলপাড় জাগানিয়া গ্রন্থ সংখ্যায় বেশি মেলে না, আমাদের সৌভাগ্য তেমন একটি উপহার মিলল হাসান ফেরদৌস প্রণীত ১৯৭১: বন্ধুর মুখ শত্রুর ছায়া গ্রন্থের সুবাদে। এ গ্রন্থের অবলম্বন একান্তভাবে বাইরের অবলোকন, ক্ষমতার বিভিন্ন বিশ্বকেন্দ্রে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসৃষ্ট অভিঘাত এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হয়েছে মূল বিবেচ্য। বিগত প্রায় এক দশকজুড়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত নিবন্ধের বাছাইকৃত সংকলন এটি। বিষয়ের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ ছোট-বড় বিভিন্ন রচনা মিলে গ্রন্থ আকারেও বেশ ভারিক্কি হয়েছে। তবে পাঠকের জন্য বড় পাওনা অনেক নতুন তথ্য ও বিশ্লেষণের নতুন দৃষ্টিকোণের সঙ্গে পরিচিত হওয়া। ভারত, পাকিস্তান, চীন এবং সর্বোপরি আমেরিকা ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ প্রশ্ন নিয়ে নানা বিবেচনা, বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে লেখকের বিবেচ্য। তবে এর অনেকটাই পর্দার অন্তরালের ছবি, যে চিত্র ধারণে প্রধান সূত্র হয়েছে সাম্প্রতিককালে অবমুক্ত বিভিন্ন গোপন দলিল, ইতিহাসের অংশীদারদের রচিত স্মৃতিভাষ্য, বিদেশে প্রকাশিত বইপত্র এবং সংবাদপত্রের রিপোর্ট। ফলে প্রচুর পাঠ নিতে হয়েছে লেখককে এবং তথ্যের জোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস-বিশ্লেষকের দায়ও তাঁকে মেটাতে হয়েছে। এমন রচনা কোনো সহজ কাজ নয়, তদুপরি অধিকাংশ নিবন্ধ রচিত হয়েছে দৈনিক সংবাদপত্রের চাহিদা ও পাঠকের দিকে লক্ষ রেখে। ফলে তাত্ক্ষণিকতার সঙ্গে মিশেল ঘটাতে হয়েছে ইতিহাস-চেতনার এবং এই কাজে হাসান ফেরদৌস রেখেছেন অনায়াস-দক্ষতার পরিচয়। অন্যদিকে এমনি দক্ষতা এক ধরনের সীমাবদ্ধতাও আরোপ করে। এ ধরনের রচনার একটি ঘাটতির দিক হলো, শেষ বিচারে তা আর হয়ে ওঠে না ইতিহাসের বই, হয় ইতিহাস-বিষয়ক বই, নিদেনপক্ষে রিপোর্টিং অন হিস্টরি। বিচ্ছিন্ন সব ফুল নিয়ে পূর্ণ এক মালা গাঁথার কাজটুকু থেকে যায় আরদ্ধ, পাঠককে তা করার মতো পুষ্পহার জোগান দিয়ে যান লেখক, মালা তিনি গাঁথেন না, তবে সেই পুষ্পাঞ্জলিও এক বড় পাওয়া বটে।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com