সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Selina Hossain. Show all posts
Showing posts with label Selina Hossain. Show all posts

কালকেতু ও ফুল্লরা - সেলিনা হোসেন

amarboi
কালকেতু ও ফুল্লরা
সেলিনা হোসেন

তৃতীয় বিশ্বের রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ঘরের একদল লোকের জন্য সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের নাগপাশ ছিঁড়তে পারছে না। ওদের জনগণের দুই ধরনের শত্রু- ভেতরে এবং বাইরে। এসব দেশের শাসকেরা চায় গোটা জাতিকে হয় ভিক্ষুকে পরিণত করতে, নয় ক্রীতদাস বানাতে। তাহলেই ওদের সুবিধে। কিন্তু এসব শাসক ভুলে যায় যে, এক মাঘে শীত যায় না। এভাবেই শেষ হয়েছে সেলিনা হোসেনের রাজনৈতিক উপন্যাস কালকেতু ও ফুল্লরা।

কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনীতে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র কালকেতু দেবীর আশীর্বাদে তার পূর্ববর্তী শিকারি-জীবন ও সমূহ ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে কলিঙ্গ নগরের প্রশাসক হয়ে ওঠে। তবে তার দুঃখ- নিন্দুকেরা তার কাজের কোনো প্রশংসা করে না; বলে নগরের আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়েছে। আর আরেকটি কষ্ট তার রয়েছে- সে আর তার স্ত্রী ফুল্লরা আজ অবধি সন্তানের মুখ দেখেনি। ফুল্লরা রানী হওয়ার পর থেকে সারাক্ষণ সৌন্দর্যচর্চায় নিমগ্ন থাকে। তবে তার হাসি যেন কৃত্রিমতায় ভরা- তাতে প্রাণের কোনো সাড়া নেই। কালকেতু সাধারণ মানুষ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছে। নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অনেক টাকা খরচ করেছে। বিদেশীদের জন্য বিলাসবহুল ‘অতিথি ভবন’ নির্মাণ করেছে।- এসবের ব্যাপক প্রচারও চায় সে। কিন্তু নগরের মানুষের ঘরে খাবার নেই; যদিও ডাস্টবিনে উপচে পড়ছে খাদ্য। কালকেতু অনেক দিন বাঁচতে চায়। রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে সে শরীরচর্চা করে, গলফ খেলে, বুকভরে শ্বাস নেয়। ‘ও দীর্ঘজীবী হতে চায়। ক্ষমতায় টিকে থাকার ওর খুব খায়েশ।’ কাহিনী-নির্মাতা সেলিনা হোসেন সম্ভবত ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারী কোনো শাসকের কথা বলছেন। অবশ্য আমরা যে গণতান্ত্রিক চর্চায় খুব একটা অগ্রসর হতে পেরেছি কিংবা রাজনৈতিক কোনো স্থিতি অর্জন করতে পেরেছি, তা নয়। এক ব্যক্তি- একদল- একজোট সবসময় আমাদের রাজনীতিকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছে। মরেছে কেবল সাধারণ মানুষ!

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কাঁটাতারে প্রজাপতি - সেলিনা হোসেন

Katatare Projapoti by Selina Hossainকাঁটাতারে প্রজাপতি - সেলিনা হোসেন

নাচোলের তে-ভাগা আন্দোলনের এক শাণিত শিল্পরূপ হচ্ছে জননন্দিত কথাশিল্পী সেলিনা হোসেনের 'কাটাতারে প্রজাপতি । একটা উপন্যাসের ভিতর কিভাবে একটা সময় নিখুঁতভাবে চিত্রায়িত করা যায়, এই বইটি তার এক বিরল সাক্ষী বললে অত্যুক্তি করা হবে বলে মনে হয় না। বিভিন্ন সময়ে আমরা এমন কিছু উপন্যাস এই কথাশিল্পীর হাত থেকে পেয়েছি, যা বোধ করি শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, ইতিহাসের অংশও বটে। ১৯৮৯ সালে যখন ‘কাটাতারে প্রজাপতি' প্রকাশিত হয় তখন থেকেই বোদ্ধা ও সন্ধিৎসু পাঠকের কাছে এর মূল্যায়ন ছিল আশাতীত। বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে এই গ্রন্থ। পরবর্তীতে ২০০৩ ও ২০০৭ সালে বের হয় বইটির আরো দুটো মুদ্রণ। কিন্তু ১৯৮৯ থেকে ২০১৩– এ দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে লেখক মনে করেছেন বইটির উপন্যাসটিকে করেছেন আরো শাণিত— আরো সময়োপযোগী। বইটি পেয়েছে কিছুটা হলেও নতুন রূপ। এই পরিমার্জিত রূপই পাঠককে নতুন রসদ যোগাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

যমুনা নদীর মুশায়রা - সেলিনা হোসেন

Jomuna Nodir Mushira Selina Hossain যমুনা নদীর মুশায়রা - সেলিনা হোসেন

মির্জা গালিব উপমহাদেশের একজন শক্তিশালী কবি। তাঁর জীবন নান বৈচিত্র্যে ভরপুর। ইতিহাসের ক্রান্তিকালের এই মানুষকে নিয়ে রচিত "যমুনা নদীর মুশায়রা"। পাঠকের এক ধরনের তৃষ্ণা মেটাবে। তারা এই উপন্যাসে পাবেন ইতিহাসের সংগে সাহিত্যের যোগ। পাবেন সাহিত্যের সেই শিল্পকে, যে শিল্পকাহিনীর ভেতরে মানুষের আবেগের জায়গার শক্ত বাঁধুনী।





Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নীল ময়ূরের যৌবন - সেলিনা হোসেন

amarboi
নীল ময়ূরের যৌবন
সেলিনা হোসেন
মেঘবরন চুল শবরীর, তেমন তার গােছা। দুপুরের পর থেকে শুরু করেছে, কাঁকইয়ে ধরে না। সে চুলের গােছা সামলাতে সময়টা শেষবিকেল হয়ে যায়। হাঁটু মুড়ে বসে থাকার জন্য পায়ের পাতায় ঝিঝি ধরেছে। খোঁপায় ময়ূর পালক গুঁজে দিয়ে ও উঠে দাঁড়ায়। প্রথমে বাম পা এবং পরে ডান পা বেশ করে ঝাঁকিয়ে নেয়, তবু ঝিম ভাবটা সহজে কাটতে চায় না। এর মাঝে মনে খুশি, পছন্দমতাে সাজতে পারলেই শবরী নিজেকে সবচেয়ে সুখী মনে করে। পুবদিকের বেড়া থেকে গুঞ্জার মালা নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে দেয়। হাতে কেয়ূর। কটিদেশে মেখলা, পায়ে মল শবরীর বিশেষ সখ। ঘুরেফিরে নিজেকে দেখে। সারাদিন চন্দন লেপে রাখার দরুন মুখটা এখন আশ্চর্য পেলব, গালে হাত ঘষে নিজেই অবাক হয় ও। চন্দনের মৃদু সুরভি শরীর থেকে উঠে আসে। ওর মনে হয়। সৌন্দর্যচর্চা প্রার্থনার মতো, গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে না থাকলে প্রার্থনা ছুটে যায়। ছুটে গেলে ঈশ্বরকে যেমন একমনে ডাকা যায় না, তেমন সৌন্দর্যচর্চাতেও খুঁত থাকে। তখন অস্বস্তি হয় ওর। নিজেকে আর কিছুতেই সৌন্দর্যের স্রষ্টার ভূমিকায় রাখতে পারে না। কাহ্নুপাদও শবরীর সেই ত্রুটি সইতে পারে না। তাই সৌন্দর্যচর্চায় শবরীর বিরামহীন প্রচেষ্টায় ও যখন শিল্পী হয়, তখন কাহ্নুপাদ ওর সামনে নতজানু হয়। গদগদ স্বরে প্রার্থনার ভাষায় ভালােবাসার কথা বলে। বলে, “তুমি এক পবিত্র মন্দির শবরী। সারাক্ষণ সেখান থেকে আরতির ঘণ্টা শুনতে পাই। এ এক চমৎকার প্রার্থনার ভাষা। এর বাইরে আমি আর কোনােকিছু বুঝতে চাই না। বুঝি না ঈশ্বর, বুঝি না বেদ।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - সেলিনা হোসেন

হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - সেলিনা হোসেন
হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - সেলিনা হোসেন
সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ১৪ই জুন ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে, রাজশাহীতে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভের পর তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি দীর্ঘকাল বাংলা একাডেমীতে চাকরি করেছেন। একাডেমীর পরিচালক পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসর গ্রহণ করেন। সেলিনা হোসেন বহু ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের রচয়িতা। তিনি ছোটদের জন্যেও অনেক লিখেছেন। তিনি সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। হাঙর নদী গ্রেনেড সেলিনা হোসেন প্রকাশক: অনন্যা সময়ের প্রয়োজনে বদলে যাওয়া মানুষের প্রকৃতি। কখনো কখনো সাধারণ মানুষও পালন করে অনন্য-অসাধারণ ভূমিকা। হয়ে ওঠে অয়োময়। সেলিনা হোসেনের উপন্যাস হাঙর নদী গ্রেনেড-এর বুড়ি যেমন। মাতৃত্বে আপসহীন, দেশপ্রেমে তারও ঊর্ধ্বে। গ্রামবাংলার একজন আটপৌরে নারীর অয়োময় হয়ে ওঠার, মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ভূমিকা পালনের সারা ৎ সার আলোচ্য উপন্যাস। হলদিগাঁর মেয়ে বুড়ি। কৈশোর থেকে একটু নয়, অনেকখানি অন্য রকম। চঞ্চলতায় উচ্ছল, কৌতূহলপ্রবণ, উ ৎ সুক দৃষ্টি, নিবিড়ভাবে দেখা, চম ৎ কারভাবে মেশা, উচ্ছলতায় ভরপুর। নিতান্ত কম বয়সেই বিয়ে হয় বিপত্নীক গফুরের সঙ্গে। সলীম ও কলীম নামে দুটো ছেলে আছে ওই ঘরে। সংসারজীবন মন্দ নয়। যদিও গফুর বুঝে ওঠে না বুড়িকে, আগের বউয়ের মতো নয়। কখন কী বলে, কী করে বসে তার অঙ্ক মেলানো ভার। মেঘ-বৃষ্টি-রোদের মতো। অবশ্য কারও সঙ্গে কোনো কিছু নিয়ে লাগে না, কাউকে মন্দ বলে না, কেউ বললে ভ্রুক্ষেপ করে না। এরই মধ্যে মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়ে ওঠে বুড়ির। সলীম-কলীম থাকলেও নাড়িছেঁড়া সন্তান চায়। যার জন্য শীনাইল ধামেও যায়। অবশেষে জন্ম নেয় বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী সন্তান রইস। তাতেও ভালোবাসা উপচে পড়ে। মারা যায় গফুর। বিয়ে হয় সলীমের। রামিজার কোলজুড়ে আসে ছোট্ট একটা বাবু। কলীমের বিয়ের কথার সময় শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বন্ধ হয়ে যায় সব আলোচনা। যুদ্ধের ঢেউ আসে হলদিগাঁয়ে। সেই ঢেউয়ে উথালপাথাল হয়ে যায় বুড়ির সাজানো সংসার। সলীম যায় যুদ্ধে। কলীমকে পাকিস্তানি আর্মি ও তার দোসররা বুড়ির চোখের সামনে নির্মমভাবে খুন করে। যা দেখে বুড়ি বলে: ‘কলীম, তোর ঘাড়টা ঝুলে পড়েছে কেন? তুই একবার আমার দিকে চোখ তুলে তাকা। সাহসী বারুদ জ্বালা, দৃষ্টি ছড়িয়ে দে হলদীগাঁয়ের বুকে। মুছে যাক মহামারী, বন্যা, খরা, দুর্ভিক্ষ। হলদীগাঁয়ের মাটি নতুন পলিমাটিতে ভরে উঠুক।’ পলি ভরার আগে হলদিগাঁয়ের মাটিতে রচিত হয় মর্মন্তুদ এক দৃশ্য। যে দৃশ্যের রচনাকার একজন মা। বুড়ি যার নাম। হাফেজ ও কাদের দুই মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করতে করতে শত্রুপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে আশ্রয় নেয় বুড়ির ঘরে। পিছু পিছু ওরাও বাড়িতে আসে। এ সময়ই সংঘটিত হয় ইতিহাসের ভিন্ন এক মাহেন্দ্রক্ষণ। দেশপ্রেমের অগ্নিপরীক্ষায় একজন মা, মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নাড়িছেঁড়া সন্তানকে তুলে দেয় বন্দুকের নলের মুখে। সন্তানের নাম রইস। মায়ের নাম বুড়ি। যে মুহূর্তে হয়ে ওঠে রুমীর কিংবা আজাদের মায়ের মতো অয়োময়। যে ম্যাক্সিম গোর্কির পাভেলের মতোই সাহসী। যার প্রতীতি এ রকম: ‘ওরা এখন হাজার হাজার কলীমের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিচ্ছে। ওরা হলদীগাঁর স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবনকে উপেক্ষা করে লড়ছে। ওরা আচমকা ফেটে যাওয়া শিমুলের উজ্জ্বল ধবধবে তুলো। বুড়ি এখন ইচ্ছে করলেই শুধু রইসের মা হতে পারে না। বুড়ি এখন শুধু রইসের একলার মা নয়।’ হাঙর নদী গ্রেনেড তখন মহাকাব্যের আখ্যান হয়ে ওঠে। বুড়ি হয়ে যায় ইতিহাস-কন্যা। হলদি গাঁ, বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয় আমাদের সামনে।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পূর্ণ ছবির মগ্নতা - সেলিনা হোসেন

পূর্ণ ছবির মগ্নতা - সেলিনা হোসেন পূর্ণ ছবির মগ্নতা - সেলিনা হোসেন

কিছুকথা
পূর্ণ ছবির মগ্নতা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে সময়ে শিলাইদহ, পতিসর, শাহজাদপুরে কাটিয়েছেন সে পটভূমিতে রচিত উপন্যাস। এটি কোনো অর্থেই রবীন্দ্রজীবনী নয়। কাহিনীর প্রয়োজনে বেশকিছু স্বাধীনতা নেয়া হয়েছে মাত্র। এই স্বাধীনতা ছাড়া উপন্যাস রচিত হতো না। যেমন গল্পগুচ্ছের বিভিন্ন চরিত্রের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা কিংবা ছিন্নপত্রের চিঠির ব্যবহারে কালক্রম রক্ষা না করে আগে-পিছে করা বা রবীন্দ্রনাথের নানা কল্পিত ভাবনার গ্রন্থি কাহিনীর প্রয়োজনে সংযোজন করা। এমন আরও অনেক কিছু।
এ উপন্যাসটি লেখার জন্য আমি কয়েক বছর সময় নিয়েছি। চিন্তার সূচনা ১৯৯৭ সালে। প্রথম সময় ব্যয় হয়েছে তথ্য সংগ্রহের জন্য। দ্বিতীয় সময় নষ্ট করেছি কীভাবে উপন্যাসটি লেখা হবে সে চিন্তায়। বলা যায়, এমন একটি কাজে হাত দেয়ার সাহস সঞ্চয় করতেও আমার অনেক সময় লেগেছে। ভয় কাটাতেও সময় নিয়েছি। প্রখ্যাতজনদের সঙ্গে কথা বলেছি লেখাটি লিখব কি লিখব না সেই দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার জন্য। প্রয়াত শ্ৰদ্ধেয় ওয়াহিদুল হক বলেছিলেন, বেশি সাহস হচ্ছে কি ? তারপর মাথা নেড়ে বলেছিলেন, লিখে ফেলো। দেখা যাক কী হয়। তাকে আমার দেখানো হলো না যে কী হয়। রবীন্দ্র গবেষক, প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক সঙ্গে সঙ্গে সায় দিয়ে বলেছিলেন, হ্যা, এমন একটি উপন্যাস হতেই পারে। তিনি তার লেখা রবীন্দ্রভুবনে পতিসর বইটি আমাকে দেন। মুস্তাফা মনোয়ার উচ্ছসিত কণ্ঠে বলেছিলেন, "এমন একটি উপন্যাস দারুণ হবে। আপনি লিখুন।
সাহিত্য আকাদমীর সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দিল্লিতে দেখা হয়েছিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসেই তাকে বলেছিলাম উপন্যাসটির কথা। সুনীলদা এক মুহুর্ত দ্বিধা না করে বলেছিলেন, উপন্যাসটি লিখুন। শিলাইদহের পটভূমিতে লেখা হয় নি। লেখা দরকার।
এভাবে অনেকের উৎসাহ আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তাদের নাম সংযোজন করতে পারলাম না।
২০০৬। ঈদসংখ্যা প্রকাশের আগে প্রথম আলো’ থেকে ফোন করে কবি সাজ্জাদ শরীফ। বলে, ‘আপা অনেক সময় ব্যয় করেছেন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লিখবেন বলে। এবার শুরু করুন। আমাদের পত্রিকার জন্য আপনার এই উপন্যাসের ১০০ পৃষ্ঠা চাই।' এমন জোর দাবির মুখে উপন্যাসটি লেখার সিদ্ধান্ত নেই। ভয়কে মাথায় চাপা দিয়ে রাখি। এভাবেই লেখা শুরু হয়। উপন্যাসটির দুটি অধ্যায় প্রকাশের পরে প্রথম আলোর বন্ধুসভার বন্ধুরা যেভাবে সাড়া দিয়েছিল এবং আমাকে তাদের মুখোমুখি করিয়েছিল তা ছিল আমার জন্য অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সেদিনের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথকে বিষয় করে উপন্যাস লেখার ভয় আমার কেটেছিল। তরুণ পাঠকদের জানাই আমার কৃতজ্ঞতা। ধন্যবাদ জানাই সেদিনের অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ঔপন্যাসিক আনিসুল হক, গায়ক মাহমুদুজ্জামান বাবু ও বন্ধুসভার সাইদুজ্জামান রওশনকে।
২০০৭। এ বছরের ঈদসংখ্যা প্রথম আলো, সমকাল, যুগান্তর এবং অন্যদিন উপন্যাসের বিভিন্ন অধ্যায় ছেপেছে। লেখককে এই সহমর্মিতা দেখানোও আমার জীবনের দারুণ অভিজ্ঞতা। সাহিত্য সাময়িকী ও সম্পাদকদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
উপন্যাসটি প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছে অন্যপ্রকাশ। প্রতিভাজন মাজহারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ নাসের ও প্রচ্ছদশিল্পী মাসুম রহমান যে শ্রম ও যত্ন দিয়ে কাজটি করেছে তার জন্য শুধু ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করা যায় না।
বিচারের শেষ দণ্ড থাকে পাঠকের হাতে। তারাই বলবেন শেষ কথা।
১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮




Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ভালোবাসা প্রীতিলতা - সেলিনা হোসেন

ভালোবাসা প্রীতিলতা - সেলিনা হোসেন ভালোবাসা প্রীতিলতা - সেলিনা হোসেন
রামকৃষ্ণ বিশ্বাস এখন ফাঁসির আসামি। আলিপুর জেলে মৃত্যুকুঠুরিতে দিন গুনছে। হাইকোর্টে আপিল করা হয়েছে।
দৈনিক পত্রিকার পৃষ্ঠায় খবরটি পড়ে প্রীতিলতা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকে। কোন রামকৃষ্ণ? চট্টগ্রাম কলেজে একজন পড়তেন, ভালো ছাত্র হিসেবে নাম শুনেছিল। বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করছিল রামকৃষ্ণ। কখনো দেখা হয়নি। যদি সেই রামকৃষ্ণ না হয়, তবে তো অন্য কেউ হবে। তাতে কিছু এসে যায় না। প্রিয় শহর চট্টগ্রাম। বিপ্লবীদের অনেকেই চট্টগ্রামের। যে রামকৃষ্ণই হোক, সে তার চট্টগ্রামের। প্রীতিলতা স্তব্ধ হয়ে–থাকা থেকে বেরিয়ে এসে সংবাদপত্রের অন্য পৃষ্ঠায় যায়। কিন্তু পড়া হয় না। আবার নিজের ভাবনা তাকে স্তব্ধ করে দেয়। পত্রিকা ভাঁজ করে নিজের হাতের মুঠোয় রাখে।
ওর প্রিয় চট্টগ্রামের বিপ্লবী রামকৃষ্ণের কথা ও আগে কখনো শোনেনি। নামটাও জানা ছিল না। তবু একই জেলার বলে ওকে বেশি কাছের মানুষ মনে হয়। এই অনুভব এক ধরনের হৃদয়ের বন্ধন, যে বন্ধন দিয়ে অনেক দূরের মানুষ কাছে আসে, যা নিবিড় হয়ে প্রীতি, ভালোবাসা, মমতার ঘেরাটোপ তৈরি করে। রামকৃষ্ণ বিশ্বাস এবং ফাঁসির আসামি — এই চারটি শব্দ দৈনিক পত্রিকার পৃষ্ঠার অন্যসব অক্ষর মুছে দিয়ে বিশাল হয়ে ওঠে। শব্দগুলো পরস্পরের সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে যে, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। অন্তত প্রীতিলতার দৃষ্টি থেকে কিছুতেই দূরে সরে না। ফলে প্রীতিলতা অস্থিরতা বোধ করে। মনের ভেতরে ইচ্ছার কাঠঠোকরা পাখিটা কুটকুট শব্দে ঠুকরে যাচ্ছে। বলছে, আমি ওকে দেখতে চাই। একবার, শুধু একবার দেখব। এখন এই কলকাতা শহরে আমি আছি। এত কাছে থেকে আমি যদি রামকৃষ্ণ বিশ্বাসকে না দেখি, তবে নিজেকেই ক্ষমা করতে পারব না। ওকে দেখে, ওর মৃত্যুর সাহস বুকে নিয়ে ফিরে যাব চট্টগ্রামে।
নিজের এই ইচ্ছায় চমকে ওঠে ও। নিজেকে নিয়ে বিব্রত বোধ করে। তারপর নিজেকে শাসায়, এ কী ভাবছ, প্রীতিলতা! নিজে বিপ্লবী হয়ে জান না যে, গোপনীয়তা বিপ্লবীদের প্রাথমিক শর্ত।
জানি, জানি। তবু একজন মৃত্যুপথযাত্রী সাহসী মানুষকে আমার দেখতেই হবে। এইসব মানুষ হাজার হাজার জন্মায় না। এদের দেখতে যাওয়া পুণ্যের কাজ। ভগবান আমার সহায় হবেন।
প্রীতিলতা জানালায় এসে দাঁড়ায়। বাইরে খোলা প্রান্তর — যতদূর চোখ যায়, কেবলই সবুজ। হোস্টেলের মেয়েদের কথা ভেসে আসছে। যেন কলধ্বনি নয়, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ। কাছে কোথাও বোমা ফাটল বুঝি, নাকি কেউ পিস্তলের ট্রিগার টিপল। প্রীতিলতা দু-হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে। না, কোথাও তো কোনো শব্দ নেই। বাইরে পাখি ডাকছে একটি। মনে পড়ে, ছোটোবেলায় ক্ষুদিরামের কথা শুনেছিল। ক্ষুদিরাম হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে উঠেছিল। রামকৃষ্ণ কি ক্ষুদিরামের মতো মৃত্যুকুঠুরিতে বসে হাসছে? মরণ কী? মরণ কেমন? দর্শনের ছাত্রী প্রীতিলতা মৃত্যুর কথা ভেবে ব্যাকুল হয়ে ওঠে। কিছুতেই ভাবতে পারে না যে, মরণ এক গভীর অন্ধকার। ওর মনে হয়, মরণ স্বপ্নময় জগৎ — মানুষ যে স্বপ্ন দেখে নিজে বাঁচে এবং অন্যকে বাঁচতে শেখায়, অন্তত তেমন মৃত্যু — ফাঁসির আসামি যাকে বীরের মতো বরণ করে। মৃত্যুকে জীবনের স্রোত বলা যায়। একজন থেকে আর একজনের কাছে আসে মহত্ত্বের বাণী নিয়ে। দেশের জন্য, মানুষের জন্য অবিনাশী বাণী। মৃত্যু তো ক্ষুদিরামের হাসিকে ম্লান করতে পারেনি। রামকৃষ্ণের হাসিকেও পারবে না। তখন প্রীতিলতার চোখের সামনে যতদূর দেখা যায়, সবুজ প্রান্তরটি অজস্র ফুলে রঙিন হয়ে ওঠে। মৃত্যুকে ফুলের মতো দু-হাতে নিয়ে রামকৃষ্ণ হেঁটে আসছে। পত্রিকার পৃষ্ঠার এই খবর ওকে তাড়িত করে না। ও বুঝতে পারে যে, ওর এই অস্থিরতা কোনো দুঃসংবাদ শোনার জন্য নয়। এই অস্থিরতার মধ্যে প্রচণ্ড আবেগ আছে। চিত্তচাঞ্চল্যের তাড়না আছে। এই আবেগ একজন বিপ্লবী থেকে অন্য বিপ্লবীতে সঞ্চারিত হয়। ফলে যত বিপদই হোক, রামকৃষ্ণকে দেখার জন্য প্রীতিলতা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে। এই দেখা করার মধ্যে বিপ্লবীদের গোপনীয়তা রক্ষা করার শর্ত ও কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করবে না।




Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

তিনটি উপন্যাস - সেলিনা হোসেন

তিনটি উপন্যাস - সেলিনা হোসেন তিনটি উপন্যাস - সেলিনা হোসেন

অপেক্ষা
অপেক্ষা মানব-মানবীর সম্পর্কের সন্ধিক্ষণের গল্প সময়ের অপেক্ষায় মানুষ কীভাবে দিন গোনে, কীভাবে অপেক্ষমাণ সময় ধীরে ধীরে অন্যরকম সময়ে বদলে যায়, কীভাবে অপেক্ষার তৃষ্ণা নারীর জীবনকে ঘনীভূত করে সে গল্পই নারীবাদী বিশ্লেষণে এবং মনস্তাত্ত্বিক ভাবনায় উঠে এসেছে এই উপন্যাসে । অপেক্ষার জন্য জীবনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই, অপেক্ষার জন্য দেশ-কালের সীমানা নেই। অপেক্ষা মানব-মানবীর সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেয়। আবার দেখা যায় অপেক্ষার সম্পর্ক তৈরি হওয়ার সুযোগই থাকে না। তবুও শব্দটি উচ্চারিত হয়। অপেক্ষা করে অনিমা –কিন্তু তার অপেক্ষা যার জন্য তাকে পাওয়া আর হয় না। বাদ সাধে বাবা, বাবার ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে অনিমা। মাধবী কুট্টি ভারতের কেরালার মেয়ে। ভালোবাসে তন্ময়কে, কিন্তু তন্ময় জানে ওর জন্য অপেক্ষায় আছে অনিমা। তারপরও মাধবী কুটি বলে যদি তোমার অপেক্ষার মানুষ আর তোমার অপেক্ষায় না থাকে, তাহলে আমার কাছে এসো। দিল্লিতে দেখা কিশোরী যৌনকর্মী তন্ময়কে বলে কয়েকটা টাকা পাব বলে আমি আপনার অপেক্ষায় থাকব। এই অপেক্ষার কোনো ব্যক্তিক সম্পর্ক নেই-তারপরও মানুষ মানুষের সঙ্গে এভাবে জীবনের অবস্থান খুঁজে নেয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন অমলিন স্মৃতি হয়ে যায় অপেক্ষার মতো গভীর বিমূর্ত বোধে।

পদশব্দ
এই উপন্যাসের দুটি নারী চরিত্র, সালমা ও নাসিমার মাধ্যমে নারীর ব্যক্তিসত্তার মুক্তি-আকাঙ্ক্ষার চিত্র রূপায়িত হয়েছে। দুটি চরিত্রই চেষ্টা করেছে প্রচলিত প্রথাকে ভেঙে নিজেদের চারপাশের গণ্ডি অতিক্রম করে বেরিয়ে যেতে । নিজেদের বিচার-বিবেচনা কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজেরাই। এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক না নেতিবাচক তা বিচার করবে সময় এবং অগ্রসর চিন্তার পাঠক। তবে সেলিনা হোসেনের কাছে নারীবাদের অর্থ নারীর ব্যক্তিত্ব অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভ। এ দুইয়ের সমন্বয় হলে নারী নিজেকে জানতে পারে-নিজের অধিকার বুঝতে পারে। এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাহস অর্জন করে। ভালো ও মন্দের তফাৎ যিনি করতে পারেন তিনিই প্রকৃত অর্থে পরিপূর্ণ মানুষ। সেলিনা হোসেন চান নারীরা শুধু নারী নয়, পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠুক। নিজেকে মানুষ পরিচয়ে বিকশিত করার শ্ৰেয়বোধ। সভ্যতার অনিবার্য ক্রমবিবর্তিত ধারায় একসময় লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় দানা বেঁধে উঠলেও বিংশ শতাব্দীর শেষ প্রান্তে এসে নারী কিংবা পুরুষের পুনর্বার মানুষ’ হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা শ্ৰেয়বোধ থেকে আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। পদশব্দ উপন্যাসটি লিঙ্গ-চেতনার জড়তা কাটিয়ে, মানসিক জাড্য মুক্ত হয়ে মানুষ’ হওয়ার আন্দোলনে সচেষ্ট হওয়ার শব্দশিল্প।

টানাপোড়েন
এই উপন্যাস মানবসম্পর্কের জটিল সূত্র ধরে রচিত। প্রবল জলোচ্ছাসে ভেসে যাওয়া মানুষ হারায় তাদের প্রিয়জন। একজন বয়সী মানুষ সবাইকে হারিয়ে একা হয়। একজন তরুণী স্বামী-সন্তান হারিয়ে একা হয়। একটি শিশু সবাইকে হারিয়ে কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকে। এই অপরিচিত তিনজন বেঁচে থাকার সূত্র ধরে এক হয়। আবার নিজেদের স্বার্থের প্রয়োজনে ভেঙে দেয় এই সম্পর্ক। রচিত হয় মানবিক ট্র্যাজেডির উপাখ্যান। এই উপন্যাস সম্পর্কে প্রাবন্ধিক, গবেষক ড. পবিত্র সরকার লিখেছেন : শারদীয় বসুমতী’তে আপনার উপন্যাসটি পড়ে আমি চমকে গেছি। আপনি মানব সম্পর্ক ও অস্তিত্বের এমন এক মৌলিক সূত্র ধরে টান দিয়েছেন যে, সংবেদনশীল পাঠককে তা আলোড়িত করতে বাধ্য। জানি না আমাদের লেখকরা সেই জায়গায় পৌছোতে কেন দ্বিধাগ্রস্ত বা অপারগ।" এই উপন্যাস মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামের পাশাপাশি টানাপোড়েনের সম্পর্ককে শিল্পরূপ দিয়েছে। মানবিক দলিলের বিমূর্ত হওয়ার গল্প এই উপন্যাস ।




Download and Comments/Join our Facebook Group
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ভূমি ও কুসুম - সেলিনা হোসেন

Bhumi O Kushum - Selina Hossain in pdfভূমি ও কুসুম - সেলিনা হোসেন

‘ভূমি ও কুসুম’ ছিটমহলের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যে ছিটমহল নিয়ে উপন্যাস লেখা হয়েছে কিনা তা কোনো না কোনো পাঠক হয়তো বলতে পারবেন। কিন্তু প্রকাশক হিসেবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এখন পর্যন্ত এ বিষয়টি নিয়ে লেখা উপন্যাসের কথা এদেশের অনেকেই জানেন না। বলার সাহস রাখি যে ‘ভূমি ও কুসুম’ এই বিষয়ের প্রথম উপন্যাস।
বাংলাদেশ ও ভারতের ছিটমহলগুলো দু’দেশের সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। একটি ছিটমহল অন্য রাষ্ট্র দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। তাই ছিটমহলের মানুষেরা এক ধরনের বন্দি জীবনযাপন করে। কারণ তার নিজের রাষ্ট্র যেতে হলে তাকে অন্য রাষ্ট্রের সীমানা পার হতে হ। কিন্তু সীমানা পার হওয়ার জন্য যে অনুমতি দরকার সেটি সহজে পাওয়া যায় না। ফলে ছিটের বাসিন্দারা নিজ রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকে প্রায়শ বঞ্চিত হয়।
তারপরও এইসব মানুষের গল্প আছে। এই উপন্যাস সেইসব মানুষের গল্প—যারা চলমান জীবনস্রোতে অনবরত জায়গা পূরণ করে গল্পের দাবার ঘুঁটির ছক বদলায়।
ছিটমহলের জীবনে রাষ্ট্র, সীমান্ত, সীমান্তরক্ষীরা সাধারণ মানুষের জীবনকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এ উপন্যাসে সেই আন্তঃসম্পর্ক ধরার চেষ্টা করেছেন লেখক—যেখানে মানুষ শুধুই একজন ব্যক্তি নয়, তার ব্যক্তিগত ভালোমন্দকে সে নিয়ন্ত্রিত হতেও দেখে।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক কতটা রাষ্ট্র ব্যবস্থায় পীড়িত সে গল্পই পাওয়া যায় ‘ভূমি ও কুসুম’ উপন্যাসে। উপন্যাসের শিল্পের ব্যাখ্যা ছুঁয়ে থাকে মানুষের জীবন।




Download
Bhumi O Kushum - Selina Hossain in pdf
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

যাপিত জীবন - সেলিনা হোসেন

Japito Jibon - Selina Hossainযাপিত জীবন - সেলিনা হোসেন

২০১২ সালে পূর্ণ হলো ভাষা আন্দোলনের ষাট বছর। ইতিহাসের একটি দীর্ঘ সময়ের চূড়ায় পৌছেছে এই ঐতিহাসিক দিন। এই দিনটি আমাদের সামনে ‘অমর একুশে'। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আজ শুধু বাঙালির ‘শহীদ দিবস' নয়। ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লিখেছিলাম উপন্যাস "যাপিত জীবন’। প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮১ সালে। রচনাকাল ছিল ২৯ অক্টোবর ১৯৭৭ থেকে ১৯৭৯। মোটামুটি একটি বড় সময় নিয়ে লেখার পরও মনে হয়েছিল ঠিকমতো হলো না। ১৯৮৭ সালে পুনলিখন করলাম।
ভাষা আন্দোলনের ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার প্রান্তে দাড়িয়ে মনে হলো এই উপন্যাসটির অণুপুঙ্খ বিবরণ আরো একটু বিস্তৃত পরিসর দাবি করে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আবার লিখতে শুরু করলাম। উপন্যাসে যোগ হলো আরো একশ পৃষ্ঠারও বেশি। এভাবেই ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা উপন্যাসটির পেছনে লেগে থেকেছি। এসবই একটি শিল্পের জন্য লেখকের অতৃপ্তি কিনা তা অনেক ভেবেছি। উত্তর পাইনি। কারণ এর শেষ নেই।
একত্রিশ বছর আগে লেখা উপন্যাসটি বেশ কয়েকবার পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। ভালোলাগার কথা জানতে পেরেছি পাঠকের কাছ থেকে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পত্রে পাঠ্য হয়েছে এই উপন্যাস। তারপরও আবার পরিমার্জনা কতটা যুক্তিযুক্ত তাও ভেবেছি। এরও উত্তর জানা নেই। সে জন্য পাঠকের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
ভাষা আন্দোলনের ষাট বছর পূর্ণকালে এই উপন্যাসের পরিসর বাড়াতে পেরে আমি নিজে আনন্দিত। মনে হয়েছে শিল্পের জায়গা থেকে কাজটি করতে পারা অমর একুশের জীবনদায়ী ঘটনার প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নিবেদন।
এই উপন্যাসের পাঠককে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।




Download
Japito Jibon - Selina Hossain
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি - সেলিনা হোসেন

Nirantar Ghantadhwani by Selina Hossain নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি - সেলিনা হোসেন
সেলিনা হোসেন ১৯৬৯ সালে প্রবন্ধের জন্য পান ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক, ১৯৮০ সালে উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমী পুরস্কার, ১৯৮১ সালে 'মগ্নচৈতন্যে শিস' উপন্যাসের জন্য আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮২ সালে অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাসের জন্য কমর মুশতারী পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে 'অনন্যা' ও 'অলক্ত' পুরস্কার পান। এছাড়া ১৯৯৪- ৯৫ সালে তিনি তাঁর এয়ী উপন্যাস 'গায়ত্রী সন্ধ্যা' রচনার জন্য ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ পান। ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ইংরজি, হিন্দি, মারাঠি, কানাড়ি, রুশ, মালে, মালয়ালাম, ফরাসি, জাপানি, ফিনিস, কোরিয়ান প্রভৃতি ভাষার তাঁর বেশ কয়েকটি গল্প অনূদিত হয়েছে। ১৯৮৩ সালে 'নীল ময়ূরের যৌবন' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ পায়। ২০০০ সালে প্রকাশিত হয় 'টানাপোড়েন' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ ২০০১ সালে মালয়ালাম ভাষায় অনূদিত এবং ভারতের কেরালা প্রদেশ থেকে প্রকাশিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর 'যাপিত জীবন' এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাস পাঠ্যসূচিভুক্ত। শিলচরে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি উপন্যাস এম.ফিল. গবেষণাভুক্ত। ২০০৫ সাল থেকে শিকাগোর ওকটন কলেজের সাহিত্য বিভাগ দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্য কোর্সে তাঁর 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড' উপন্যাসটি পাঠ্যসূচিভুক্ত হয়।





Download Now

Download Now
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আগস্টের একরাত - সেলিনা হোসেন

Auguster Ekrat by Selina Hossainইতিহাসের ঘটনা শুধু ইতিহাসে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেইসব উপাখ্যানে পরিণত হয়। ‘আগস্টের এক রাত’ মানবিক উপাখ্যানের চিরায়ত গল্পকথা, যেখানে জীবন-মৃত্যুর পাশাপাশি মানুষের নৃশংসতাও ইতিহাসের পৃষ্ঠায় এক গভীর সত্য।‘আগস্টের একরাত’ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের হত্যাকান্ডের পটভূমিতে রচিত ৬১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সাক্ষীদের এইসব জবানবন্দি কাহিনীর প্রয়োজনে উপন্যাসজুড়ে ব্যবহ্নত হয়েছে। লেখক একদিকে গল্প বানিয়েছেন অন্যদিকে জবানবন্দি উপস্থাপন করে ঘটনার বিবরণ সংযুক্ত করেছেন। ফলে উপন্যাসে সাধু ও চলিত ভাষার ব্যবহার অনিবার্য ছিল। নিঃসন্দেহে বলা যায় ভাষার এই দুই ধারা উপন্যাসের আঙ্গিকে ভিন্নতা এনেছে।
এই উপন্যাসের কেন্দ্রেীয় চরিত্ররা মৃত। ভিন্নধর্মী আঙ্গিকের কারণে উপন্যাসের সময় উথাল পাথাল চরিত্র। কাহিনী নির্মানের প্রয়োজনে সময়ের ধারাবাহিকতায় আগপিছ করা হয়েছে। এই আগপিছ উপন্যাসের আঙ্গিক-বিন্যাস।শিল্পের সাধনা পাঠকের নান্দনিক বোধের তৃষ্ণা মেটায়। যে কোনো ধরণের প্রচেষ্টা শিল্পের সুষমাকে প্রাণবন্ত করে। লেখকের অন্তহীন চেষ্টা এই সুষমার প্রথম শর্ত।
‘আগস্টের একরাত’ বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন ধ্রুব এষ।




Download
Auguster Ekrat by Selina Hossain
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গেরিলা ও বীরাঙ্গনা - সেলিনা হোসেন

গেরিলা ও বীরাঙ্গনা - সেলিনা হোসেন
গেরিলা ও বীরাঙ্গনা - সেলিনা হোসেন




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সখিনার চন্দ্রকলা - সেলিনা হোসেন

সখিনার চন্দ্রকলা - সেলিনা হোসেন
সখিনার চন্দ্রকলা - সেলিনা হোসেন
সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের প্রধান কথাসাহিত্যিকদের একজন। ষাটের দশকের শেষার্ধে ছোটগল্প দিয়ে বাংলা কথাসাহিত্যে প্রবেশাধিকার ঘটলেও উপন্যাস ও গল্প উভয়ক্ষেত্রেই সমান কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ‘হােঙর নদী গ্রেনেড’, ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’, ‘মগ্ন চৈতন্যে শিষ’, ‘যাপিত জীবন', ‘চাঁদবেনে’, ‘নিরস্তুর ঘণ্টাধ্বনি’, ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’, ‘ঘুমকাতুরে ঈশ্বরী’, ‘পূর্ণ ছবির মগ্নতা’, ‘ভূমি ও কুসুম’, ‘যমুনা নদীর মুশায়রা’—এভাবে একনিশ্বাসে নাম-উচচ্চারণ করার মতো বহু খ্যাতিমান উপন্যাসের স্রষ্টা তিনি। তাঁর কথাবিশ্বের বিষয়-গৌরব বাংলাদেশের কথাসাহিত্যকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর সাহিত্য পাঠ্য। বিশ্বের বহু ভাষায় তাঁর লেখা অনূদিত হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবেও তাঁর সাহিত্য আলোচিত। এই কিংবদন্তিতুল্য লেখকের একটি ছোটগল্পের বই আজ পাঠকের হাতে তুলে দেওয়া হলো।




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

বাংলা একাডেমী বাংলা সাহিত্যকোষ (১ম খণ্ড) - সেলিনা হোসেন

amarboi
বাংলা একাডেমী বাংলা সাহিত্যকোষ (১ম খণ্ড) - সেলিনা হোসেন




This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান "কথামালা"

amarboi.com
শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক অনুষ্ঠান "কথামালা"
আজকের অতিথি সেলিনা হোসেন ও মফিদুল হক
আজকের আলোচনার বিষয় "সময়ের মুখ"


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

যোগাযোগ - সেলিনা হোসেন

amarboi.com
যোগাযোগ - সেলিনা হোসেন

যোগাযোগ - সেলিনা হোসেন





Download
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

গাছটির ছায়া নেই - সেলিনা হোসেন (বইমেলা ২০১২)

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

ছোটগল্প : ঘর লিখেছেন সেলিনা হোসেন


amarboi.com

ঘর
সেলিনা হোসেন

মুশফিকের সঙ্গে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার দিনটি তাহমিনা মনে রাখে। কেন রাখে সেটা তার নিজের কাছেও স্পষ্ট নয়। রাখাটা জরুরি তাও মনে করে না। সাত বছর হয়ে গেল। এর পরও কত কিছু যে বোঝার বাইরে থাকে। এভাবেই কখনও নিজের অজান্তে একটি অস্পষ্ট ধারণার মধ্যে হাবুডুবু খাওয়া, যার উত্তর নিজের কাছে থাকে না। কাউকে জিজ্ঞেস করাও যায় না। এমনই জটিলতা আক্রান্ত করে রাখে চারদিক। তাহমিনা এখন তেমন সময়ে আছে।
নিজেকে দেখার জন্য আয়নার সামনে এসে দাঁড়ায়। চেহারায় ক্লান্তির ছাপ। বুঝতে পারে একাকী জীবনের নিঃসঙ্গতা তাকে ক্লান্ত করেছে। আঁচল দিয়ে মুখ মুছে কী যেন করতে চাইল, কিন্তু ভাবতে পারল না কী? শুধু মনে হলো অফিসে যেতে হবে। তৈরি হওয়া দরকার। তৈরি হতে তার সময় লাগে না। যে কোনো রঙের সুতির শাড়ি তার চয়েস, সঙ্গে ম্যাচ করা টিপ। ব্যস হয়ে গেল। চুল ছেঁটে রাখে, আঁচড়ালেই হয়। লম্বা চুল ম্যানেজ করার ঝামেলা নেই। আর কী? পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি লম্বা বলে হিল জুতা পরতে হয় না। সেখানেও কোনো ঝামেলা নেই। ঝামেলা কোথায়? তাহমিনা এক মুহূর্ত ভাবল। মূল ঝামেলা মুশফিকের সঙ্গে, আর কোথাও ঝামেলা নেই। যে ধরনের ঝামেলা আছে এটা জীবনযাপনের সঙ্গে না থাকলে ঘরগেরস্তি বড় বেশি চাঁচাছোলা হয়ে যায়। তাহমিনা ভেবে দেখল, ওর জীবনের কোথাও কোনা অভাববোধ নেই।
গত সপ্তাহে সুদীপ মেলবোর্নে গেছে। তাহমিনার ছোট বোনের ছেলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার জন্য বছরখানেক ওর কাছে ছিল। ভারি প্রাণবন্ত, চমৎকার হাসিখুশি ছেলে। ফিজিক্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছে। তবে মেলবোর্নে যাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ও সিগারেটে জমে গিয়েছিল। লুকিয়ে লুকিয়ে টানত। ধোঁয়া, গন্ধে বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল তাহমিনা। চলে যাবে বলে তাকে কিছু বলেনি।
কিন্তু মুশফিকের সিগারেটের নেশা ওর ভীষণ অপছন্দের ছিল। রাতের বেলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তে মুখে তামাকের গন্ধ এবং দিনের বেলার খোলামেলা পরিবেশে ধোঁয়া ওর প্রচণ্ড বিরক্তির কারণ ছিল। সিগারেটের টুকরায় বোঝাই হয়ে থাকা অ্যাশট্রে ও অনেক দিনই বাইরে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু ওর বিরক্তিতে মুশফিকের কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। ও মনে করত, এসব গুরুত্ব দিলে নিজের অস্তিত্ব ক্ষুণ্ন হয়। ওর ইচ্ছাকেই তাহমিনার মেনে নিতে হবে; কিন্তু এই মেনে নেওয়াটা কঠিন ছিল তাহমিনার জন্য।
সুতরাং সময়ে-অসময়ে যখন তখন বেধে যেত দু'জনের। খুটখাট লেগে যাওয়া কোনো ব্যাপার ছিল না। কোনো কোনো রাতে বিছানা আলাদা হয়ে গেলে মুশফিক সিগারেট খেয়ে ঘরের মেঝে ভরিয়ে ফেলত ছাই আর টুকরা দিয়ে। তাহমিনার রাগ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এভাবে উস্কে দিত ওকে। এটা বুঝতে ওর অসুবিধা হতো না। সকালে ঘরে ঢুকেই চেঁচামেচি করত তাহমিনা।
এসব কী করছ?
দেখতেই তো পাচ্ছ, কী করেছি।
ভালো হবে না বলছি।
ভালো তো হবেই না জানি। আমার যা খুশি তা-ই করব।
কাল তুমি বেডরুম পাবে না।
থেকো তুমি বেডরুমে। আমি ড্রইংরুমে যাব।
হ্যাঁ, তা-ই হবে। রাহেলা ঝাড়ূটা নিয়ে আয় তো।
হো-হো করে হাসে মুশফিক।
লজ্জা করে না তোমার?
একটুও না। বরং তোমার রাগ দেখে আনন্দ হয়। মজা পাই।
শয়তান।
শয়তানের বউ।
আবার হো হো হাসি।
তাহমিনা চেঁচিয়ে বলে, মানবজাতির জন্য স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করেছিল প্রমিথিউস। দেবতা জিউসের কাছ থেকে কঠিন শাস্তি ভোগ করল। আর তোমরা পুরুষরা আগুনের ব্যবহার করলে বিড়ি আর সিগারেট খেয়ে।
ও তাই, ভালোই তো বিশ্লেষক হয়েছ। একদম তাত্তি্বক আলোচনা। ভালোই ঝেড়ে দিলে। তো নারী এমন কোন বাহাদুরির কাজ করল শুনি?
নারীই তো আগুনের সঠিক ব্যবহার করেছে। প্রমিথিউসের সার্থক উত্তরাধিকারী নারী। নারী আগুনের সঠিক ব্যবহার করে পুরুষকে ভাত দিয়েছিল বলেই তো সভ্যতা টিকে গেছে। বুঝলে?
বুঝলাম।
মুশফিক চোখ গোল করে তাকিয়ে থাকে। ওর চোখে আগুন। তাহমিনা সে আগুনে পোড়ে না, প্রীত হয়।
হাসতে হাসতে বলে, আজ চুলোয় আগুন জ্বালব না। পরিজ বানাতে পারব না। ডিম পোজও না। দেখি কী করো।
সেদিন মুশফিকের নাশতা হয় না। এক কাপ চাও না।
তাহমিনা নিজের কাজে বেরিয়ে যায়। দু'জনই না খেয়ে বের হয় এবং দু'জনই অফিসে গিয়ে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে, তোমার কি খিদে পেয়েছে? একদিন মুশফিক এক প্যাকেট সিগারেট চমৎকার কাগজে মুড়ে ওকে উপহার দিয়েছিল। ভেতরে ছোট একটা কাগজে লেখা ছিল_ একটা টেনে দেখো না। দেখবে?
ছোট কাগজের টুকরাটিকে ওর সামনে দিয়াশলাই জ্বেলে আগুন ধরালে মুশফিক হাসতে হাসতে বলেছিল, আগুনের অপব্যবহার করলে কিন্তু! তুমি না প্রমিথিউসের যোগ্য উত্তরসূরি?
সেদিন তাহমিনা ওই আগুন থেকে একটি একটি করে সিগারেট পুড়িয়ে শেষ করে বলেছিল, আগুনের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করলাম।
মুশফিক বারান্দায় গিয়ে চুপ করে বসে ছিল। সিগারেটের ছাই এবং টুকরায় নোংরা করেছিল বারান্দা। রাতে ভাত খায়নি এবং বেডরুমে ঘুমুতেও আসেনি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিল তাহমিনা নিজেও।
বাথরুমে ঢুকতে ঢুকতে তাহমিনার মনে হয় বিষয়টি একটু বেশি হয়ে যাচ্ছিল? নাকি নিজেকে আরেকটু সরিয়ে রাখলে হতো? তাহলে মুশফিকই বা নিজেকে সরাল না কেন? এ প্রশ্নের উত্তর নেই বলেই তো দু'জনের আজ এই দূরত্বে অবস্থান। অথচ ডিভোর্সও নেয়নি কেউ।
ছোট বোনের স্বামী চট্টগ্রামে বদলি হয়ে গেলে সুদীপ ওর কাছে থাকতে এসেছিল। মাস ছয়েক থেকেছিল ভাইয়ের মেয়ে নিমা। নিমাও স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে চলে গেছে। এখন ওর কাছে নিজের কেউ নেই।
দু'দিন আগে ফোন করেছিল মুশফিক। বিভিন্ন জনের কাছে শুনেছে, মুশফিকের সিগারেট খাওয়া বেড়েছে। এখন ও চেইন স্মোকার। ফোনে তাহমিনাকে বলেছিল, জীবনকে নতুন করে দেখার জন্য সিগারেট ছেড়ে দেব কি-না ভাবছি।
হঠাৎ এমন ভাবনা?
কারণ, আমি তো তোমাকেই চাই। অন্য কোনো নারীকে আমার জীবনে ঢোকাতে পারব না।
তাহমিনা হাসতে হাসতে বলেছিল, বেশ রোমান্টিক নায়কের মতো কথা বলছ!
হালকাভাবে নিও না তাহমিনা। আমার ধারণা, তুমিও আমার জন্যই অপেক্ষায় আছ।
তাহলে আমরা কি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বোঝার জন্য জীবন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করলাম?
হ্যাঁ হ্যাঁ, তা-ই। এটারও দরকার ছিল। আমার তো মনে হয়েছে জীবনের এই আলাদা বাসের সময়টুকু আমাদের দারুণ জার্নি। আমি এনজয় করেছি। এখনও করছি। তুমি?
তাহমিনা এক মিনিট নীরব থেকে বলেছিল, জানি না।
জানো না? এটা হতেই পারে না। এমন তাত্তি্বক মানুষ তুমি, কত তত্ত্বকথা তোমার মাথায় গজগজ করে।
কী বললে? তাহমিনার রাগত স্বর শুনে লাইন কেটে দিয়েছিল মুশফিক।
বাথরুমে ঠাণ্ডা পানি গায়ে ঢাললে শরীর জুড়িয়ে যায়। ভাবে, মুশফিককে ওর বলা উচিত ছিল যে, এই একা থাকার সময় ও নিজেও খুব এনজয় করেছে। বলল না কেন? নিজেকে প্রশ্ন করলে শরীরে আর পানি ঢালা হয় না। তাহলে কি ও মনে করেছে উপভোগের আনন্দের সময় মুশফিক না থাকায় অভাব ছিল আনন্দে? না, তা নয়। ও নিজেও তো নিজের মতো করে সময় উপভোগ করেছে। আসলে কারও জন্য কারও সময়ের অপেক্ষা কম থাকে_ এটাই মনে হয় তাহমিনার। মৃত্যু একটি প্রবল শূন্যতা সৃষ্টি করে। সেটা একটা স্থায়ী শূন্যতা। এর সঙ্গে অন্যের দূরত্বের বিচ্ছেদ এক হয় না। সুতরাং মুশফিক কাছে না থাকায় ওর জীবনে বড় ধরনের ভেদ তৈরি হয়নি। সিদ্ধান্তে আসতে পেরে আনন্দের সীমা নেই বলে ও অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে ভেজাতে থাকে।
অফিসে বের হওয়ার মুখে ফোন করে মুশফিক।
মিনু, অফিসে যাচ্ছ?
হ্যাঁ। ফোন করেছ ক্যান?
এমনি। মনে হলো তোমাকে বলি যে সকাল থেকে একটাও সিগারেট খাইনি।
আমাদের সম্পর্কে সিগারেটটা উপলক্ষ মাত্র। প্রধান বিষয় না।
তাহলে কী?
কী সেটা, তোমাকে অনেকবার বলেছি।
আবার বলো।
বিষয়টা হলো তোমার মনোভঙ্গি। তুমি আমার সঙ্গে ব্যাটাগিরি দেখাও। এটা মানা আমার পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার। তুমি আমার মাস্টার নও। হতে চাওয়াও ভুল।
বুঝেছি।
তাহলে এমন আচরণ করো কেন?
ঘর। ঘরই আমাকে অন্য মানুষ করে দেয়।
মানে?
যখন আমি ঘরে ঢুকি। দু'জনের সংসার দেখি। তোমাকে আমার হাতের কাছে পাই তখনই আমার মধ্যে কে যেন ঢোকে। ওই আমি প্রভুত্ব করে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ওপর থেকে দেখতে বলে দেয়।
হো-হো করে হাসে তাহমিনা।
হেসো না মিনু। এটা মোটেই হাসির কথা নয়।
তুমি এখন কী চাও?
তোমাকে।
তাহমিনা আবার হাসে।
এই যে এত বছর ধরে আমি একটু একটু করে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে বিষয়টি বুছেছি তার কোনো মূল্য নেই তোমার কাছে?
অবশ্যই আছে।
তাহলে?
আমার অফিসের গাড়ি এসে গেছে। যাচ্ছি।
তাহমিনা ফোন রেখে দেয়। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাবে, ঘর এবং নারী পেলেই পুরুষের প্রভুত্ব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কখনও কখনও নারীরও। তাহলে ঘর কি একটি ভীষণ জটিল জায়গা! হবে হয়তো। ভেবে দেখার সুযোগ হয়নি। গাড়ি চলতে শুরু করলে শিপ্রার কথা মনে হয়। এসব নিয়ে শিপ্রার ভাবনা অনেক এগোনো। ও বিষয়টিকে অন্যভাবে দেখে।
একদিন শিপ্রাকে জিজ্ঞেস করেছিল, সারাক্ষণ এত রূপচর্চা কেন শিপ্রা? এমন ঘটা করে নিজেকে পণ্য বানোনোর চেষ্টা কেন?
ও দু'হাত মেলে বলে, নারীর রূপচর্চা তো অর্থনীতির থিয়োরি।
মানে? ঠিক করে বলো।
বিষয়টি সোজা। নারী-পুরুষের সম্পর্ক একটি বাজার সম্পর্ক। নারী কুৎসিত পুরুষের কাছে নিজের সৌন্দর্য বিক্রি করে। নারী যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে তখন ঘরের প্রয়োজন হবে না। বিয়েকে জীবিকা নির্বাহের উপায় ভাববে না। তাকিয়ে দেখ জাপানের দিকে। ওখানে বিয়ের হার কমেছে। কারণ ওরা অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল নয়।

তাহমিনা হাসতে হাসতে বলেছিল, তাহলে মানবজাতির কী হবে? মানুষ কি বিলুপ্ত প্রাণী হবে? সেটা পুরুষরাই বুঝবে। নারীর ওপর কত ষোলআনা চালাতে হবে সেটা বোঝে, আর এটা বুঝবে না?
তাহমিনার মনে হয় শিপ্রার হা-হা হাসি এখনও ওর কানে লেগে আছে। সেটা এখন ঢোলের মতো শব্দ করে বাজছে। সেদিন হাসতে হাসতে শিপ্রা আরও বলেছিল, পুরুষ নিজের মনের দিকে তাকিয়ে আকাল ছাড়া আর কিছু দেখতে পায় না। বুঝলে?
তাহমিনা মৃদু হেসে মাথা নেড়েছিল।
গাড়ি এসে অফিসে থামলে তাহমিনা দেখতে পায় মাহবুব দাঁড়িয়ে আছে। মাস ছয়েক আগে ওদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। একটি বাচ্চা আছে।
কেমন আছেন?
এই তো।
তাহমিনা পাশ কাটিয়ে যেতে চায়। মাহবুব সঙ্গে সঙ্গে হাঁটে। দু'জনে এক অফিসে চাকরি করে।
ভদ্রতার খাতিরে তাহমিনা জিজ্ঞেস করে, আপনার মেয়ে কেমন আছে?
ও তো ওর মায়ের সঙ্গে থাকে।
খোঁজ নেন না?
নেব না কেন, অবশ্যই নেই। মাসে মাসে ওর খরচ দেই। বাবার দায়িত্ব পালন করতে ভুলি না।
শুধু দায়িত্ব?
আমি তো একা থাকি। নইলে ওকে আমার কাছেই রাখতাম।
ও আচ্ছা।
এদিক থেকে আপনারা বেশ আছেন।
হ্যাঁ, আমাদের বাচ্চা নেই।
নতুন করে কিছু ভাববেন না?
তাহমিনা এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে লিফট আসে। দু'জনে লিফটে ওঠে। আর কেউ নেই। মাহবুব অনুরাগের দৃষ্টি মেলে বলে, আমরা কি কিছু একটা ভাবতে পারি?
মানে?
ঘর করা।
লিফট পাঁচতলায় থামে। তাহমিনা নামতে নামতে বলে, মুশফিকের জন্যই আমার সবটুকু ভালোবাসা জমা আছে। আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়নি। আমরা সম্পর্কের সিজফায়ারে আছি।

মানে?
বুঝবেন না। আর কোনোদিন এমন আচরণ করলে_
তাহমিনা বাক্য শেষ করে না। নিজের ঘরে গিয়ে ঢোকে। ও এসব আচরণ উপেক্ষা করতে পারে। দেখা তো কম হয়নি। বয়সও কম হয়নি। কাগজপত্র ওল্টাতে শিপ্রার কথাগুলো ওর বুকের ভেতর তোলপাড় করতে থাকে।

অনেক রাতে ফোন করে মুশফিক।
ঘুম ভাঙালে কেন? ইদানীং তুমি ঘনঘন ফোন করছ।
তোমার ঘুম ভাঙা কণ্ঠস্বর শুনতে আমর ভালো লাগছে।
তুমি বাড়াবাড়ি করছ মুশফি।
আহ, কতদিন পর তোমার মুখ থেকে মুশফি শুনলাম।
তুমি আমাকে কী নামে যেন ডাকতে?
তাথৈ
তাহমিনা চুপ করে থাকে।
কথা বলছ না কেন তাথৈ? আমাদের সময় ফুরিয়েছে। আর অপেক্ষা নয়। আমি অনেক কিছু বুঝেছি তাথৈ। সম্পর্কের জটিলতাকে শ্রদ্ধা করতে শিখেছি।
ঘরকে ঘরের মতো বুঝবে তো? ঘরটা দু'জনেরই সমান।
হ্যাঁ, সেটাই তো এত বছর ধরে অনুভব করলাম। আর পারছি না তাথৈ।
আচ্ছা ভেবে দেখি।
তাহমিনা ফোন রেখে দেয়। ঘুমুতে পারে না। কিছুক্ষণ পায়চারি করে। চা বানায়। চা নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে। দু'জনের যখন আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত হয় তখন মুশফিক শুধু কাপড় দিয়ে চলে গিয়েছিল। বলেছিল, আবার যদি ফিরি সংসারটা এমনই চাই। দেয়ালে কাইয়ুম চৌধুরীর পেইন্টিংটা আমি অনেক পছন্দ করে কিনেছি।

তুমি একা কেননি। দু'জনে মিলে কিনেছি।
তাহমিনার আপত্তি উপেক্ষা করে ও বলে, যা রেখে যাচ্ছি তার সবটুকুই আমার জন্য থাকবে। অসম্ভব। আবার তোমার প্রভুত্বের কথা ফলাচ্ছ। যদি ফিরে এসো যা রেখে যাচ্ছ তা চাইছ কেন? আমি তো কিছু জিনিস বাড়াতে পারি। নিজের পছন্দমতো ফার্নিচারগুলো অন্যভাবে রাখতে পারি। পর্দা বদলাতে পারি। দু'জনে মিলে কুশন কিনেছিলাম সেগুলো বদলাতে পারি। সবচেয়ে বড় কথা কাইয়ুম চৌধুরীর পেইন্টিংটি যে দু'জনের টাকায় কিনেছি সেখান থেকেও তুমি আমাকে খারিজ করে দিচ্ছ। নিজেকে বড় বেশি চেনো।
তোমার এত কথা আমি শুনতে পারব না।
ভালোই তো শুনো না। যাও। কে শুনতে বলে?
চলে গিয়েছিল মুশফিক। পেছন ফিরে তাকায়নি। যাচ্ছি বলেনি। দরজাটা হালকা শব্দে টেনে দিয়েছিল মাত্র। তারপর কতদিন কেটেছে তার হিসাব নেই। দু'জনে কেউ কারও খোঁজ রাখেনি।
এসব ভাবছে কেন ভেবে তাহমিনা নিজের ওপর বিরক্ত হয়। ইদানীং মুশফিক ফোন করছে, গভীর রাতও বিবেচনা করছে না, এটাই ভেবে দেখার বিষয়। ঘনঘন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিজেকে সামলায় তাহমিনা। চা শেষ হলে টেলিভিশন ছাড়ে। একটি ইংরেজি সিনেমা চলছে। মন বসাতে পারে না তাহমিনা। জানালায় এসে দাঁড়ায়। চারতলার ওপর থেকে দেখা যায় নিচের রাস্তাটি ভীষণ একাকী। দু-একটা গাড়ি যাচ্ছে মাত্র। বড় গাছটার ছায়া পড়ে আছে মাটিতে। ও ভাবল, আজকের রাতটি কি অন্যরকম? দরজায় টুকটাক শব্দ হয়। তাহমিনা কান খাড়া করে। আবার শব্দ।
কে?
তাথৈ আমি। দরজা খোল।
মুশফিকের কণ্ঠ খানিকটা উচ্চকিত হয়।
আমি একদম খালি হাতে এসেছি তাথৈ।
তাহমিনা দরজা খোলে। মুশফিক দরজার ওপর হাত রেখে বলে, দেখো আমার সঙ্গে কিচ্ছু নেই।
এসো
মুশফিক ঘরে ঢোকে।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com
গাছটির ছায়া নেই - সেলিনা হোসেন
গাছটির ছায়া নেই - সেলিনা হোসেন 





Download