সাম্প্রতিক বইসমূহ
Showing posts with label Sunil Gangopadhyay. Show all posts
Showing posts with label Sunil Gangopadhyay. Show all posts

সেরা গোয়েন্দা গল্প - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi

সেরা গোয়েন্দা গল্প
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের
প্রেমের গল্প

ভূমিকা
প্রেমে না পড়লে কেউ কবিতা লেখে না। মহর্ষি বাল্মীকির কথা আলাদা, তাঁর অবশ্য নিজের প্রেম কিংবা প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি একজোড়া কোঁচ বককে প্রেমিক-প্রেমিকা কল্পনা করে তাদের মধ্যে একটিকে নিহত হতে দেখে যে শোক পেয়েছিলেন, তার থেকেই উৎসারিত হয়েছিল প্রথম শ্লোক। আমার মতন ক্ষুদ্র মানুষের ব্যাপার অন্য, আমি অন্য কারুর প্রেম-বিরহ দেখে অভিভূত হয়ে নয়, নিজেরই ব্যর্থ প্রেমের পর কবিতা রচনা শুরু করি।
তারপর গল্প-উপন্যাস রচনায় হাত দিয়ে দেখেছি প্রেম বা বিচ্ছেদের কাহিনিই আমার বেশি মনে আসে। আমি জীবনে প্রথম যে ছোটোগল্পটি লিখেছিলাম, সেটি একটি পত্রিকায় পাঠাবার পর পত্রিকাটিই উঠে যায়। আমার পাণ্ডুলিপিটি হারিয়ে গেছে কালের অতল গর্ভে। গল্পটির নাম ছিল 'বাঘ'। শুধু এই নামটুকুই মনে আছে, আর সবই ভুলে গেছি বলে সেটি আর ফিরে লেখারও উপায় নেই। তারপর কত যে ছোটোগল্প লিখে ফেলেছি, তার সংখ্যা নিজেই জানি না। কোনো কোনো পাঠকের মতামত এই যে, আমি নাকি প্রেমের গল্পই বেশি লিখেছি। এবং আশ্চর্য ব্যাপার, এখন আমার যথেষ্ট বয়েস হলেও প্রেম সম্পর্কে আগ্রহ কিংবা টান ফুরিয়ে যায়নি। পরবর্তী যে গল্পটি এখনো মাথার মধ্যে গজগজ করছে, সেটিও একটি প্রেমেরই কাহিনি।
এতসব প্রেমের গল্প থেকে অনেক বেছে এই গল্পগুলি এখানে গ্রন্থিত হলো। নির্বাচন আমার নয়, কারণ তাতে পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে, করে দিয়েছেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শুভার্থী। আশা করি, পাঠকের রুচির সঙ্গে তা মিলে যাবে।
সূচি
ভয়
কে শত্রু কে বন্ধু
রানি ও অবিনাশ
মনীষার দুই প্রেমিক
মঞ্জরী
নীরার অসুখ
ভিতরের চোখ
অপরেশ রমলা ও আমি
আমাদের মনোরমা
ব্যর্থ প্রেমিক
স্বপ্নের একটি দিন
বাইরের আলো
পূজারি
সীমান্ত প্রদেশ
বিশাখা
আমার একটি পাপের কাহিনি
তেহেরানের স্বপ্ন
মর্মবেদনার ছবি
আগামীকাল
ঈর্ষা
স্বর্গের বারান্দায়
ওরা এই পৃথিবীর কেউ নয়
প্রথম মানবী
অমিতার কথা
আলোকলতার মূল
আকাশচুম্বী
এক কম্বলের নীচে
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
দময়ন্তীর মুখ
এলাচের কৌটো


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শতমুখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

শতমুখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শতমুখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
এ গ্রন্থ আদতে বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের সুনীল-স্মৃতি-সুধায় ঋদ্ধ এক জরুরি স্মৃতি দলিল!
‘স্মৃতির পটে জীবনের ছবি কে আঁকিয়া যায় জানি না। কিন্তু যেই আঁকুক সে ছবিই আঁকে’। যখনই ডাউন মেমোরি লেনে হাঁটার কথা শুনি, পড়ি; আমার মনে পড়ে যায় রবিঠাকুরের ‘জীবনস্মৃতি’-র এই সত্যভাষ। আসলে চিত্রকলা, শিল্প-সাহিত্যে, সিনেমায় বার বার দেখেছি স্রষ্টাকে স্মৃতির কাছে নতজানু হয়ে রেকাব পাততে। কিন্তু, কাজটা মোটেই সহজ নয়। পিছন পানে হাঁটতে হাঁটতে লেখাও সহজ নয়। বেশিরভাগ সময়, এলোপাথাড়ি স্মৃতিরা এসে ওলোট-পালট করে দেয় সব কিছু। ভেঙে যায় স্থিতধী চারণার গূঢ় শৃঙ্খলা। দু’ একটি লেখা বাদ দিলে যেটা হয়নি উজ্জলকুমার দাস সম্পাদিত ‘শতমুখে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়’ গ্রন্থে। প্রখর স্পষ্টবাদিতা ও অনাবিল সততার কথা হয়তো নেই, তবে কবিকে নিয়ে স্মৃতিচারণে অনেকেই মহতী। অনেকের লেখা কবি বেঁচে থাকতেই অন্য একটি গ্রন্থের জন্য লেখা। সেই পুরানো ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত ও নতুন লেখা নিয়ে এ গ্রন্থ আদতে বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের সুনীল-স্মৃতি-সুধায় ঋদ্ধ এক জরুরি স্মৃতি দলিল! যাতে নেই স্মৃতিভার! আছে তো বিনীত পরম্পরার ছবি!
কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে এ ধরনের বই নতুন নয়। তবে, কবির মৃত্যুর পর এটিই প্রথম। কারা লিখেছেন কবি সুনীলকে নিয়ে? যদি বলি, কাদের লেখা নেই? সূচিপত্রে দেখছি, প্রেমেন্দ্র মিত্র, আশাপূর্ণা দেবী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মুস্তাফা সিরাজ, শঙ্খবাবু, বুদ্ধদেব, সৌমিত্র, স্বাতী, সমীর, শরৎ, উৎপল, নবনীতা, সমরেশ, হর্ষ, বাশার, শ্যামলকান্তি, জয়, বীথি, বাদল বসু... কে নেই! ৪৮ জন কবি-শিল্পীর লেখায় সাজানো এ সংকলন আদতেই এক সুনীল-স্মৃতি-সরণি! সবাই কি সত্যি লিখেছেন বন্ধু-সহকর্মী-লেখক-কবি-মানুষ সুনীলকে নিয়ে? না হোক আত্মজীবনী। তবু তো জীবনের স্মৃতি-পট থেকে তুলে আনা লেখা! সুনীলকে নিয়ে তাঁর প্রিয় বন্ধু-স্বজনদের লেখা পড়ে মনে পড়ে যাচ্ছিল বার্নাড শ’র সেই বিতর্ক-উক্তি! সেই যে লিখেছিলেন না, ‘all autobiographies are lies. I do not mean unconscious, uniutentional lies. I mean deliberati lies. No man is bad enough to tell the truth about himself, during his lifetime, involving, as it must. The truth about his family and his friends and colleagues’.
‘একবার বিছানায় শুই, পায়চারি করি। আর ফাঁকে ফাঁকে কত কথা যে মনে পড়ে। সুনীলদার সঙ্গে কত দিনকার কত স্মৃতি। চোখের অনেক ভেতর থেকে দেখতে পাই সেইসব দিন, সেই সব উত্তাল রাত’।... কবি সুনীলকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে লিখছেন বাংলাদেশের লেখক ইমদাদুল হক মিলন। যাপন আর সৃষ্টি একাকার হয়ে যায় যে কবির গদ্যপদ্যে, মাতোয়ারা হয় দুটি দেশ, সেই কবিকে নিয়ে ইমদাদুলের এই স্মৃতি জাগানিয়া শব্দ-বিন্যাস। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের পর সম্ভবত, সুনীল সেই কবি; যাঁর মৃত্যুতেও প্রতিবেশী দু’টি দেশ চোখের জলে সকাতরে ভাসল আবার। কত কথা, ছবি হয়ে কথার বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। শোক-সন্তপ্ত হৃদয়ে সেই ছবির দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি। থাকতেই হয়।
ইমদাদুলের মতো এই সজল স্বীকার অনেকের। আবার কেউ বলতে চান কবির মহতী বিস্তারের কথা। ‘সুনীল’ শীর্ষক লেখায় কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র যেমন বহু আগে লিখেছিলেন, ‘বাংলা ভাষায় প্রতিভাবান লেখকের অভাব নেই। কিন্তু সুনীলের প্রতিভা আলাদা গোত্রের, আলাদা জাতের’। এমনতর কথা পাই আশাপূর্ণা দেবীর লেখাতেও। প্রিয় বন্ধু, পরে সহকর্মী শক্তির বন্ধুতার দাবি সুনীলকে ঘিরে ‘সুনীল সম্পর্কে দু-একটি কথা’-তেও হাজির। তাই লেখা শেষ হয় এই সনদে, ‘কৃত্তিবাসের সুনীলকে ফিরে পেতে চাই’!
সুনীলের গদ্যরীতির মধ্যে বিনয় ও দুজনের মানবিক সম্পর্ক নিয়ে সুষ্ঠু ও সংগত-সংক্ষিপ্ত লেখা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘সুনীল এবং সুনীল’। তাঁর গর্ব, ‘আমার প্রিয় লেখককে আমারই চোখের সামনে আমি তৈরি হয়ে উঠতে দেখেছি। তার জন্য আমার খুব গর্ববোধ হয়’। মৃত্যুর পর ‘দেশ’ পত্রিকায় সুনীলকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত যে লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে দরদী লেখাটি লিখেছেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। ‘চলে গিয়েও সুনীল রয়ে গেল’ শীর্ষক সে লেখার শুরুতেই বান্ধবহীন বিষাদ, 'এমনও তো হয় কোনোদিন/ পৃথিবী বান্ধবহীন/ তুমি যাও রেলব্রীজে একা-'!
‘কী রকম ভাবে বেঁচে ছিলেন’ সুনীল? নিজস্ব গদ্যে, একটানে কবি-সুনীলের প্রায় সবটা এঁকে ফেলেন শঙ্খ ঘোষ। সুনীলের কবিতায় রবীন্দ্রবিদ্বেষ, যৌন-কাতরতা, নীরা, তাঁর সর্বভুক ভালবাসা... সব, সবটা। লেখা শেষ হয় অতিরহস্যের মায়াজালে, ‘যমুনার হাত ধরে স্বর্গের বাগানে এখন তাঁর ছুটোছুটির সময়’! যেমন লেখেন দিব্যেন্দু পালিত অথবা, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। পড়তে পড়তে একটি জীবনের বহুধা ছবি এসে দাঁড়ায়। বুদ্ধদেব গুহ, দুলেন্দ্র ভৌমিক, সমীর রায়চৌধুরী। পড়ে ফেলি কবি-জায়া স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়, বেলাল চৌধুরী, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়। প্রিয় কবিকে নিয়ে স্মৃতি-পাঠ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে একসময়। সন্দীপন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আনন্দ বাগচী, নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী বা চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষের লেখায় অন্য এক সুনীলকে পাঠক আবিষ্কার করে। যেমন ছবি নিয়ে শিল্পীর সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক প্রসঙ্গে পাঠক দেখে ফেলে অন্য আরেক কবিকে শিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সুনীল সাগরে’। ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে কবির সুদীর্ঘ সময়কালের সম্পর্কটি সে তুলনায় ঠিক তেমনভাবে পাঠক ‘দেশ’ সম্পাদক হর্ষ দত্তের লেখায় পায় না। ‘প্রিয় ‘দেশ’, প্রিয় মানুষ’ লেখাটি জরুরি; তবে আবেগের থেকে তথ্যের দাবিদার ছিল আরও অনেক বেশি। কেন না, সুনীল ও ‘দেশ’ পত্রিকার একটি সু-সংগত কালানুক্রম পাঠ থাকা দরকার ছিল বাংলা সাহিত্যের এই ‘মননশীল’ পত্রিকার সুনীল সংখ্যায়!
একান্ত ব্যক্তিগত স্মৃতি থেকে উঠে আসা লেখা ধনঞ্জয় পয়ড়্যার ‘চোখের সামনে ওঁর মৃত্যু দেখতে হল’। পাঠক এ লেখায় কবির রোজনামচায় ঢুকে পড়ে। কেমন করে লিখতেন, নিষেধের তর্জনী ঠেলে কীই বা ছিল তাঁর খাদ্যাভাস! পড়তে গিয়ে একসময় এ লেখার অতি সতর্ক পাঠক-ও কবির স্বজন হয়ে ওঠেন। এখানেই এ স্মৃতি-লিখনের সার্থকতা। এভাবেই হয়তো সংকলনের সব লেখা ঠিক একমুখিন নয়, এলোমেলো। হয়তো, গদ্যের সু-কৌশলী গাঁথুনি নেই, কিন্তু স্মৃতি-সংরাগের বেদন মীড়ে উদাস!
সু-গ্রন্থনার পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে বুকের মধ্যে সে সুর যেন ছড়িয়ে পড়ে, মনখারাপের টিউন চলে দীর্ঘ দুপুর। সুনীল-স্মৃতি-পাঠ ফুরিয়েও যেন শুনি বুকের গহনে অন্ধ বেহালা-বাদকের ছড় টানার শব্দ! এলোমেলো, তবু নানা স্মৃতি-অনুষঙ্গকে ঘিরে ফুটে ওঠা অনুভবের শিউলিগুলি মনোময় আশ্চর্য এক ছবি তৈরি করে প্রিয় কবির। আসলে আমরা সবাই তো ছবি দিয়ে জীবনের সহজপাঠে প্রবেশ করি; সেই যে তসলিমা লিখেছিলেন না, তাঁর অশ্রুতপূর্বকথা ‘আমার মেয়েবেলা’-য়। যে, ‘ছবি আমার মনে গাঁথা, শব্দ নিয়ে আদৌ মাথা ব্যথা নেই। আসলে আমি ছবি পড়ি, শব্দ নয়। অক্ষর আঁকার আগে এঁকেছি গাছ, ফুল, নদী, নৌকা’!

Satamukhe Sunil Gangopadhyay in pdf
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

পরকীয়া প্রেম - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi
পরকীয়া প্রেম - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Porokiya Prem Sunil Gangopadhyay

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত দুই বাংলার দাম্পত্য কলহের শত কাহিনী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন সম্পাদিত

সূচীপত্রঃ ক্লিক করুন।

Dui Banglar Dampatya Kalaher Sata Kahini

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রথম আলো - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (দুখন্ড একত্রে)

amarboi প্রথম আলো - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (দুখন্ড একত্রে)

এই বিশাল,বর্ণাঢ্য,বেগবান ঐতিহাসিক উপন্যাসের পটভূমিকায় রয়েছে গত শতাব্দীর শেষ এবং বর্তমান শতাব্দীর শুরুর এক নবজাগরণের সময়কাল। সেই সময়- যখন হঠাৎ যেন ঘুম ভেঙে কিছু মানুষ আবিষ্কার করছে দেশ নামের এক ভাবসত্তাকে। শরীরে অনুভব করছে পরাধীনতার জ্বালা। ব্যক্তিগত মর্মযাতনা,ভালোবাসার অপূর্ণতাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে জাতিগত অধঃপতনের গ্লানি। দু-পর্বে বিন্যস্ত এই মহান উপন্যাসের কাহিনীর শুরু এক রাজ-অন্তঃপুরে।ঠিক যেন রুপকথার এক রাজবাড়ি, যেখানে কয়েকজন মহারানীর সঙ্গে বিহার করছেন এক কঠোর-কোমল মহারাজ, রাজপুত্র-রাজকন্যারা ঘোরাঘুরি করছে কাছাকাছি। অথচ এ-কাহিনী রূপকথা নয়। মাত্র এক শো বছর আগেকার কথা এবং এই মহারাজের মুখের ভাষা বাংলা, রাজ্যের নাম- ত্রিপুরা।
সেই পার্বত্য ত্রিপুরা-রাজ্য থেকে ক্রমশ এই কাহিনী বিস্তৃত হয়েছে ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী বাংলায়,তারপর সমগ্র ভারতে। অসংখ্য জীবন্ত চরিত্র। এঁদের মধ্যে রয়েছেন মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্য, রাধাকিশোর মাণিক্য, বিলেত-প্রত্যাগত তরুণ কবি রবীন্দ্রনাথ, অকস্মাৎ-দৃষ্ট উল্কার মতন ব্যতিক্রমী সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ, আধুনিক ভারতের প্রথম বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র,আয়ার্ল্যান্ডের অগ্নিকন্যা মার্গারেট নোবল, বঙ্কিমমচন্দ্র, তিলক, ওকাকুরা, অবনীন্দ্রনাথ,গিরিশ ঘোষ, অর্ধেন্দু মুস্তাফি প্রমুখ বিস্তর চেনা এবং সেই সঙ্গে অনেক দরিদ্র-মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ। সব ছাপিয়ে, এই উপন্যাসেরও মূল নায়ক-সময়।
তীর সামনে ছুটে যাবার আগে কিছুটা পিছিয়ে যায়।বর্তমান থেকে ভবিষ্যতের দিকে আগিয়ে যাবার পথে যে-কোণও সমাজের মাঝেমাঝে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের দিকে পিছু ফিরে দেখা দরকার। আমাদের দেশের অনতি-অতীতের পুনর্দশন ও পুনর্বাচার নিয়েই 'প্রথম আলো' ।

বইটি নতুন করে স্ক্যান ও পিডিএফ করা হয়েছে।

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

২৫টি সেরা রহস্য - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi
২৫টি সেরা রহস্য
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনীল গঙ্গোপাধ‌্যায়ের কিশোর গল্পে ছড়িয়ে থাকে এক আশ্চর্য রহস‌্যময়তা। গল্পের শুরু থেকেই পাঠক ডুবে যান রহস‌্য আর রোমাঞ্চের অমোঘ হাতছানিতে। তারপর কৌতূহলের জট খুলতে খুলতে পাঠক একসময় গল্পের শেষে পৌঁছে যান। নিপুর ঘরে খাটের তলায় আশ্চর্য একটা রহস‌্যময় ক্রিকেট বল, মধুপুরের ‘দীন কুটির’ নামের সেই বিশাল বাড়ি, নস‌্যির মতো রঙের বটুকদাদার কুকুর জিপসি, ঘোড়ায় চেপে রুগি দেখতে যাওয়া ভরত ডাক্তার, এমন সব রহস‌্যময় চরিত্রে ভরা তাঁর এই বইয়ের গল্পগুলি। রাজপুত্তুরের অসুখ, বেণী লস্করের মুণ্ডু, প‌্যানিমুড়ার কবলে, বুকের ওপরে ভয় পায় বা পার্বতীপুরের রাজকুমার গল্পগুলি একবার পড়তে শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত পাঠকের কৌতূহল মেটে না। তাঁর জনপ্রিয় অ‌্যাডেভঞ্চার কাহিনির দুইটি বিখ‌্যাত চরিত্র সন্তু ও কাকাবাবুকে নিয়ে তিনি কিশোরদের জন‌্যে কয়েকটি গল্পও লিখেছিলেন। কৌতূহলী পাঠকদের জন‌্যে তাঁর আশ্চর্য রহস‌্য গল্পের সঙ্গে সন্তু-কাকাবাবুকে নিয়ে লেখা গল্পগুলিকেও এই সংকলনে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। ছোটো-বড়ো সব রকমের পাঠকের একনিশ্বাসে পড়ে ফেলার মতো সুনীল গঙ্গোপাধ‌্যায়ের লেখা জমজমাট পঁচিশটি রহস‌্য গল্পের এই সংকলন সংগ্রহে রাখার মতো।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

আমাদের মহাভারত - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (বই সংস্করন)

amarboi

আমাদের মহাভারত - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (বই সংস্করন)



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কথাবার্তা সংগ্রহ সংকলন ও সম্পাদনা রফিক উল ইসলাম

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কথাবার্তা সংগ্রহ সংকলন ও সম্পাদনা রফিক উল ইসলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কথাবার্তা সংগ্রহ
সংকলন ও সম্পাদনা
রফিক উল ইসলাম

মুখবন্ধ
বিশিষ্ট কবি ও গবেষক রফিকউল ইসলাম মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে এমন সব কাণ্ড করে, যাতে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই। আমার জীবনের অনেক ঘটনা ও রচনা যা হারিয়ে গেছে এবং আমার স্মৃতিতেও নেই, সেসব সে কোন অলৌকিক উপায়ে খুঁজে বার করে,তা আমি জানি না। লেখকদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের সব রচনাই মনে রাখেন; শুধু মনে রাখাই নয়, দাঁড়ি কমা সমেত মুখস্থও বলে দিতে পারেন। আর কিছুকিছু লেখক নতুন কিংবা অনেক না-লেখা বিষয়ে এমনই মগ্ন থাকেন যে পুরোনো অনেক লেখা স্মৃতি-বর্জিত হতে দেন। আমি এই দ্বিতীয় দলের। মজার ব্যাপার এই যে, কোনো কোনো হারিয়ে যাওয়া লেখা কেউ যদি সংগ্রহ করে আমার চোখের সামনে রাখেন, তার দু’চার লাইন পড়েই আমি তা চিনতে পারি। সেদিক থেকে বিচার করে বলা যায় যে, রফিক সংগৃহীত সবকিছুই তথ্যভিত্তিক ও মৌলিক। কোনো কোনো সময়ে আমার পূর্ব প্রকাশিত,অধুনা দুষ্প্রাপ্য রচনা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানার প্রয়োজন হলে আমি রফিকের বই থেকেই তা জেনে নিই। এক একসময় আমার মনে হয় যা হারিয়ে গেছে, তা যাক না, হারিয়ে যাওয়াই বোধহয় তার নিয়তি ছিল। কিন্তু রফিকের শ্যেন দৃষ্টিতে সেগুলিও ঠিক ধরা পড়ে যায়। এর মধ্যেই আমার জীবন ও রচনা বিষয়ে রফিক তিন খানা বই লিখে ফেলেছে, এবার সে হাত দিয়েছে আর এক বিস্ময়কর, বৃহৎ কাজে। আমি প্রায় পঞ্চাশ বছরের লেখক জীবনে বহুবার বিভিন্ন মানুষের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছি এবং প্রকাশের পর জমিয়ে রাখার কথা কল্পনাও করিনি। কিন্তু রফিক সেসব উদ্ধার করার কাজে নিমগ্ন হয়ে পড়েছে। অনেক অধুনালুপ্ত ছোটো পত্রিকা, যেসব পত্রিকার নামও অনেকে জানে না এখন, রফিক কী করে যেন সেইসব পত্রিকা থেকেও সাক্ষাৎকার উদ্ধার করেছে। এই বিপুল পরিশ্রমের জন্য রফিককে অবশ্যই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই হয়, যদিও আমি জানি না যে এইসব সাক্ষাৎকারের কোনো মূল্য আছে কি না। তবে, অর্ধেক জীবন’ নামে আমি যে স্মৃতিকথা লিখেছি, যার পরের অংশ লেখার জন্য অনেক শুভার্থী মাঝে মাঝে আমাকে অনুরোধ জানান, আমি আর তা লিখতে রাজি নই, কিন্তু এই সাক্ষাৎকার থেকে তার অনেক উপাদান পাওয়া যেতে পারে। রফিকের এই শ্রম ও নিষ্ঠার মূল্য কতখানি তা পাঠকরাই নির্ধারণ করবেন। আমি শুধু মনে মনে মাঝে মাঝে বলি, আমার চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘজীবন যাপন করো, রফিক!
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
১৭.৭.২০১২

ডাউনলোড লিঙ্ক এবং কিছু বক্তব্যঃ
বইটি স্বাভাবিক পাতার সাইজগুলো একটু বড়। প্রচুর ছবি রয়েছে বইটিতে (সংগ্রহের জন্য কিনে ফেলতে পারেন)। একাধিক রঙিন পোষ্টার রয়েছে, যা এই পিডিএফে যুক্ত করা হয়নি। বইটির পিডীএফ সাইজ হয়েছে ১৭৫ মেগাবাইট। যারা মোবাইলে ডাউনলোড করেন তাদের জন্য একটু সমস্যা হলেও হতে পারে। পিডিএফটির ডাউনলোড লিঙ্ক নিচে দেওয়া হলো।


This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

দৃশ্যাবলী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [উপন্যাস]

amarboi
দৃশ্যাবলী - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
একদিন রুচি তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। তার বারো বছরের জীবনের প্রথম বিদ্রোহ।
উপলক্ষটা অতি সামান্য। এমনিতে সবাই জানে। রুচি বাচ্চা বয়েস থেকেই শান্ত ধরনের মেয়ে, একটুও জেদি নয়, গুরুজনদের কথার অবাধ্য নয়, সে আপন মনে থাকে। সে মন দিয়ে পড়াশুনো করে, ছবি আঁকে। অন্য বাচ্চা মেয়েদের তুলনায় তার একটাই বৈশিষ্ট্য, সে প্রায়ই আপন মনে কথা বলে। বেশ জোরে জোরে। পাশের ঘর থেকে শুনলে মনে হয়, সত্যিই যেন তার সামনে কেউ রয়েছে। অন্য কেউ এসে পড়লেই সে লজ্জা পেয়ে থেমে যায়।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

একা এবং কয়েকজন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi
উপন্যাস
একা এবং কয়েকজন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অর্ধেক জীবন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অর্ধেক জীবন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
অর্ধেক জীবন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
'অর্ধেক জীবন'-এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয় জানুয়ারি ২০০২ সালে। কলকাতার আনন্দ পাবলিশার্স থেকে। এই বইয়ে সুনীল ১৯৩৪ সালে তার জন্মের সময় থেকে শুরু করে মোটামুটি সত্তরের দশকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়কে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে চিত্রিত করেছেন। বাংলাদেশের মাদারীপুর গ্রাম থেকে তার বাবা কালীপদ গাঙ্গুলী কেন ও কীভাবে কলকাতা গেলেন, সেখানে তার বাবা কী করে একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক হলেন এবং সংসার পাতলেন সুনীলের মা মীরার সঙ্গে, সেটার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়। সমাজবিজ্ঞানের বিপাশা জানান, সুনীলের মামাবাড়ি ছিল ফরিদপুরের আমগ্রামে। আমগ্রাম আর কলকাতায় কেটেছে সুনীলের শৈশব। শৈশবের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি বইটির শুরুতে উঠে এসেছে চলিল্গশের দশকের বিশ্ব ও কলকাতার পরিস্থিতি। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গল্পময় বর্ণনা এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে আক্ষেপ করেছেন সুনীল ।
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

অন্য দেশের কবিতা - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অন্য দেশের কবিতা - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

অন্য দেশের কবিতা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এটি প্রায় ধ্রুবসত্য যেকোনো অনুবাদই শেষ বা চূড়ান্ত অনুবাদ নয়। বারে বারে তার সংস্কার বা পরিমার্জনা সম্ভব। বিশেষ করে কবিতার অনুবাদ তো অসম্ভবেরই সাধনা প্রায়। কেননা কবিদেরই একজন সেইভাবে ভেবেছিলেন কবিতা কিছু বোঝায় না, সে শুধু হয়ে ওঠে।এবং সে হয় মাত্র একবারই। আর মালার্মে তো একটু মুচকি হেসেই দ্যগাকে বলেছিলেন, কবিতা তো আর ভাব দিয়ে, বিষয় দিয়ে লেখে না, লেখে কথা দিয়ে। কথা সাজাবার কৌশলটাই আসল এবং সেই কৌশল শুধু কবিই জানেন। সে জন্যই তাদের এও মনে হয়, অনুবাদে যা হারিয়ে যায়, তা আসলে কবিতাই। ওকতাভিও পাজ বলেছিলেন কবিতা ছাড়া কোন সমাজ হতে পারেনা। এত কিছু বলার কারণ হচ্ছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি বই "অন্য দেশের কবিতা"। এত চমৎকার বই কথাসাহিত্যিকেরা খুবই কম লিখেছেন। যদিও এটি কবিতার অনুবাদের বই তবু সুনীল তাঁর নিজগুণে একটি স্বতন্ত্র কবিতার বই করে তুলেছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই বইয়ের ভূমিকায় জানিয়ে দিয়েছেন আমাদের যে, "এই বইতে যাঁরা বিশুদ্ধ কবিতার রস খুঁজতে যাবেন, তাঁদের নিরাশ হবার সম্ভাবনাই খুব বেশী। এ বইতে কবিতা নেই, আছে অনুবাদ কবিতা। অনুবাদ কবিতা একটা আলাদা জাত, ভুল প্রত্যাশা নিয়ে এর সম্মুখীন হওয়া বিপজ্জনক। অনুবাদ কবিতা সম্পর্কে নানা ব্যক্তির নানা মত আছে, আমি এতগুলি কবিতার অনুবাদক, তবু আমার ব্যক্তিগত দৃঢ় বিশ্বাস, অনুবাদ কবিতার পক্ষে কিছুতেই বিশুদ্ধ কবিতা হওয়া সম্ভব নয়, কখনাে হয়নি"। বাকিটা পাঠকের বিচার। আসুন পড়ি।




বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস সংগ্রহ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস সংগ্রহ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের উপন্যাস সংগ্রহ

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

প্রবন্ধ সংকলন - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi
প্রবন্ধ সংকলন
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথা মনে পড়লে আমরা অনুভব করি, তিনি আমাদের মধ্যে, বিশেষ করে সাহিত্যপিপাসু মানুষের মনে, চিরবিরাজমান। বাংলা সাহিত্যের ভা-ারে তিনি যে অমূল্য সম্পদ রেখে গেছেন তা আমরা কেমন করে বিস্মৃত হতে পারি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে অনবদ্য যেসব সৃষ্টি করে গেছেন, তা ভারত ও বাংলাদেশের সাহিত্যপিপাসু মানুষ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। দীর্ঘ ৭৮ বছরের জীবনে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় দুশোটির অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা ও ভ্রমণকাহিনি অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরেও তিনি লিখেছেন প্রচুর প্রবন্ধ।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

রাধা কৃষ্ণ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রাধা কৃষ্ণ - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

রাধা কৃষ্ণ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়



বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কৃত্তিবাস ভলিউম ২ সম্পাদনায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

amarboi

কৃত্তিবাস ভলিউম ২
সম্পাদনায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!

This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - CLICK HERE
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [বড়গল্প]

কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [বড়গল্প]
কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [বড়গল্প]
জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সরু একটা রাস্তা। দু-পাশের গাছের ডালপালা ঝুঁকে ঝুঁকে আছে, হাত দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে এগোতে হয়। সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। এখনও একটু আলো আছে আকাশে। আকাশের এক দিকের রং লাল আর অন্য দিকটা ধূসর। জঙ্গলের মধ্যে যেন আলোছায়ার জাফরি কাটা।

কত রকম পাখির ডাক শোনা যায় এখন। সব পাখি বাসায় ফিরছে। পাখিদের কিচির-মিচির শোনা যায়, তাদের দেখা যায় না। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে একঝাঁক বক।

বনমালি নামের লোকটি আর সন্তু যাচ্ছে আগে আগে। বনমালির রোগা লম্বা চেহারা, ধুতির ওপর ফতুয়া পরা। মাথায় ঝাঁকড়া চুল, মুখে গোঁফদাড়ি নেই। চোখ দুটি সরু মতন, সে বারবার এদিক-ওদিক তাকায়। সন্তু পরে আছে প্যান্ট-শার্ট আর একটা নীল সোয়েটার। বাতাসে শীত শীত ভাব আছে। ফতুয়াপরা বনমালির কী শীত লাগে না?

কাকাবাবু পরে আছেন প্যান্টের ওপর একটা লম্বা কোট। দু-বগলে ক্রাচ নিয়ে তাঁর হাঁটতে অসুবিধে হচ্ছে এই জঙ্গলের মধ্যে। লতাপাতায় ক্রাচ জড়িয়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝে।

এক জায়গায় সন্তু থমকে দাঁড়িয়ে একটা গাছের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ওই থোকা থোকা লাল ফুলগুলো কী ফুল?’

বনমালি সেদিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী জানি!’

সে ফুলের নাম জানে না, ফুল দেখার উৎসাহও তার নেই।

পেছন থেকে কাকাবাবু বললেন, ‘রঙ্গন।’

তারপরই কাকাবাবু খুব জোরে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘সন্তু, মাথা নীচু কর। বসে পড়, বসে পড়!’

সন্তু এদিক-ওদিক তাকিয়ে কিছুই দেখতে পেল না। কাকাবাবু কেন ওই কথা বলছেন, তাও সে বুঝতে পারল না।

কাকাবাবু তাঁর হাতের ক্রাচটা তুলে খুব জোরে মারলেন একটা গাছের সরু ডালে।

তখনই বোঝা গেল, সেটা গাছের ডাল নয়। সবুজ ডালের মতনই সোজা হয়েছিল। এখন মাটিতে পড়ে কিলবিল করছে।

কাকাবাবু তাঁর হাতের ক্রাচটা তুলে খুব জোরে মারলেন একটা গাছের সরু ডালে।

সন্তু এবার ভয় পেয়ে এক লাফে সরে গিয়ে বলল, ওরে বাপরে, সাপ! ঠিক আমার মাথার ওপরে ছিল।

বনমালি চোখ বড়ো বড়ো করে বলল, ‘লাউডগা সাপ, কামড়ালে আর রক্ষা ছিল না। নির্ঘাত মৃত্যু।’

কাকাবাবু কিন্তু সাপটাকে আর মারলেন না। ক্রাচটা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলেন এক পাশে। আপন মনে বললেন, ‘শীত শেষ হয়নি, এর মধ্যে সাপ বেরিয়ে পড়েছে। খিদের জ্বালায় আর থাকতে পারেনি।’

তারপর বনমালির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘লাউডগা সাপের বেশি বিষ নেই। কামড়ালে মানুষ মরবে কেন? অবশ্য অনেকে ভয়েই মরে যায়।’

সন্তু জিজ্ঞেস করল, ‘সাপ কামড়ালে মানুষ মরে না?’

কাকাবাবু বললেন, ‘সব সাপের কি আর বিষ থাকে? বেশির ভাগ সাপের বিষ থাকে না। কিন্তু ভয় পেতে নেই। ভয় না-পেলে খুব বিষাক্ত সাপ কামড়ালেও চিকিৎসা করে বাঁচা যায়। ওহে বনমালি, আর কত দূর?’

বনমালি বলল, ‘এই তো আর একটুখানি মোটে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘তখন থেকেই তো একটুখানি একটুখানি বলছ। ভালো জিনিস পাওয়া যাবে তো?’

বনমালি জোর দিয়ে বলল, ‘খুব ভালো ভালো জিনিস পাবেন স্যার। আমি কী আর শুধু শুধু আপনাদের এতদূর টেনে আনছি? তবে দাম কিন্তুু বেশি পড়বে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘যতই দাম পড়ুক, তাতে কিছু আসে যায় না। কিন্তু জিনিস পছন্দ হওয়া চাই। পছন্দ না-হলে তুমিও পয়সা পাবে না!’

আবার পথ চলা শুরু হল। এবার ঝুপ ঝুপ করে নেমে এল অন্ধকার। পাখিদের ডাক থেমে এসেছে।

কাকাবাবু পকেট থেকে টর্চ বার করে সন্তুর হাতে দিলেন। সাপটা দেখার পর সেই যে সন্তুর বুক কেঁপে উঠেছিল, এখনও থামেনি। সে টর্চের আলো ফেলে চারদিক ভালো করে দেখছে।

একটু বাদে পাতলা হয়ে এল জঙ্গল। খানিকদূরে দেখা গেল একটা আলো জ্বলছে মিটমিট করে।

আর একটু কাছে এগোতে দেখা গেল, ফাঁকা জায়গার মধ্যে রয়েছে একটা একতলা ছোটো বাড়ি।

বনমালি বলল, ‘এই তো এসে গেছি।’

সন্তু বলল, ‘এরকম জঙ্গলের মধ্যে শুধু একটা বাড়ি রয়েছে। আমার এরকম বাড়িতে খুব থাকতে ইচ্ছে করে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘বেশিদিন ভালো লাগবে না। বড়োজোর সাতদিন। তারপরই হাঁপিয়ে উঠবি। বন্ধুদের জন্য প্রাণ ছটফট করবে!’

বাড়িটার বাইরে দরজার পাশে জ্বলছে একটা হ্যারিকেন আর ভেতরে একটা ঘরে রয়েছে আর একটা জোর আলো। অস্পষ্টভাবে দেখা গেল, বাড়িটা আসলে একটা মন্দিরের আড়ালে। সেই মন্দিরের চূড়া অনেকখানি ভাঙা।

বনমালি চেঁচিয়ে ডাকল, ‘ভবেনদা, ও ভবেনদা!’

একটা কুকুর ভেতর থেকে ডেকে উঠল ঘেউ ঘেউ করে খুব জোরে।

দরজা খোলা। সেখানে এসে দাঁড়াল একটা বড়ো কুকুর। ডাক শুনলেই হিংস্র মনে হয়।

বনমালি ভয় পেয়ে পিছিয়ে এসে আবার চেঁচিয়ে বলল, ‘ও ভবেনদা, কুকুর সামলাও।’

এবারে ভেতর থেকে কেউ একজন হাঁক দিল, ‘কে?’

বনমালি বলল, ‘ভবেনদা, আমি বনমালি গো। মালদার বনমালি নস্কর। তোমার সঙ্গে কাজের কথা আছে।’

ভেতর থেকে কেউ একজন ‘ভোলা, ভোলা’ বলে দু-বার ডাকতেই কুকুরটা থেমে গেল। তারপর বেরিয়ে এল একজন লম্বা লোক, গেরুয়া রঙের লুঙ্গি পরা, আর গায়ে একটা চাদর জড়ানো, হাতে একটা সিগারেট।

সে প্রথমে সন্তু আর কাকাবাবুকে দেখতে পায়নি। বনমালির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কিরে, হঠাৎ এসময় এলি যে? আমার তো আজ এখানে থাকার কথা ছিল না। ভালো কিছু জিনিসের খবর এনেছিস?’

বনমালি আমতা আমতা করে বলল, ‘এই একজন সাহেবকে এনেছি।’

ভবেন চমকে উঠে বলল, ‘কে? কাকে এনেছিস?’

কাকাবাবু সামনে এগিয়ে এসে বললেন, ‘নমস্কার। আমি সাহেব-টাহেব নই। আমি একজন বাঙালি। আমার নাম রাজা রায়চৌধুরী। আর এই আমার ভাইপো সন্তু। আমি পাথরের মূর্তি জমাতে ভালোবাসি। নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে মূর্তি জোগাড় করি। শুনেছি, আপনার কাছে কিছু মূর্তি পাওয়া যেতে পারে।’

ভবেন ভুরু কুঁচকিয়ে বলল, ‘আমার কাছে? আমি মূর্তি কোথায় পাব? কীরে, বনমালি, তুই কী বলেছিস?’

বনমালি বলল, ‘ইনি ভালো দাম দেবেন বলেছেন।’

কুকুরটা কাকাবাবুর কাছে এসে ঘুরে ঘুরে গোঁ গোঁ গর্জন করছে। কাকাবাবুর কাছে ক্রাচ থাকে বলে সব জায়গায় কুকুররা তাঁকে অপছন্দ করে।

কাকাবাবু বললেন, ‘ভবেনবাবু, আপনার কুকুরটা আগে বাঁধুন, না-হলে ভালো করে কথা বলা যাবে না। এত দূর থেকে এলাম, বাড়ির মধ্যে বসতে বলবেন না?’

ভবেন বলল, ‘আর তো কোনো কথা নেই। আপনারা কেন এসেছেন জানি না। আমার কাছে মূর্তিটুর্তি নেই।’

সন্তু বলল, ‘আমার খুব তেষ্টা পেয়েছে। এক গেলাস জল পেতে পারি?’

ভবেন বলল, ‘ঠিক আছে। ভেতরে আসুন। আমি ভোলাকে সরাচ্ছি। আয় ভোলা, আয়-আয়-আয়!’

ঘরের ভেতরটা বেশ ঝকঝকে পরিষ্কার। একটা খাট পাতা। বসবার জন্য রয়েছে কয়েকটি মোড়া। দেওয়ালে ঝুলছে একটি বাঘের ছাল। ভবেন গেরুয়া পরে থাকলেও তার ভাবভঙ্গি মোটেই সাধুর মতো নয়।

কুকুরটাকে অন্য জায়গায় বেঁধে এসে সে সন্তুকে এক গেলাস জল এনে দিল।

সন্তু চুমুক দিতে দিতে বলল, ‘সেই সাপটাকে দেখার পর থেকেই আমার গলা শুকিয়ে এসেছিল।’

কাকাবাবু বলেন, ‘আপনি তো বেশ নিরিবিলিতে থাকেন, ভবেনবাবু। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে অনেকটা আসতে হয়। পায়ে হেঁটে ছাড়া এখানে আসার আর অন্য উপায় নেই, তাই না?’

ভবেন শুকনো গলায় বলল, ‘আগে কাজের কথা হোক। দেখুন মশাই, আমি মূর্তি বিক্রি করি ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে দু-শো-পাঁচ-শো টাকার কমদামি জিনিস পাবেন না। সবচেয়ে কম দামেরটা দশ হাজার। আরও দামি আছে, পঞ্চাশ হাজার, দু-লাখ, পাঁচ লাখ। যদি কমদামি জিনিসের খোঁজে এসে থাকেন, তাহলে আমার সময় নষ্ট করে লাভ নেই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘সে কী, জিনিস দেখাবার আগেই দামের কথা? আমাদের দেখে বুঝি মনে হয় আমরা সস্তার খদ্দের? আমার একটা তেলের কল আছে, ভগবানের আশীর্বাদে টাকাপয়সার অভাব নেই। ভালো মূর্তি পেলে যত দাম লাগে দেব।’

ভবেন বলল, ‘ক্যাশ টাকা এনেছেন? আমি চেকটেক নিই না।’

কাকাবাবু কোটের পকেটে থাবড়া মেরে বললেন, ‘আছে, টাকাও সঙ্গে আছে। আমিও নগদ কারবারে বিশ্বাস করি।’

সন্তু আবদারের সুরে বলল, ‘আমার একটা সরস্বতীর মূর্তি চাই। আর একটা গণেশ।’

ভবেন এঘর থেকে একটা হ্যাজাক বাতি নিয়ে বলল, ‘আসুন আমার সঙ্গে।’

ঘরের পিছন দিকে একটা চাতাল। তার ওপাশে ভাঙা মন্দির। ওরা এল সেই মন্দিরের মধ্যে। ছাদটা একেবারেই ভেঙে গেছে, সেখানে গজিয়েছে বটগাছের চারা। শিবলিঙ্গটি কিন্তু অক্ষতই রয়েছে। কিছু শুকনো ফুল বেলপাতাও ছড়ানো। মনে হয় মাঝে মাঝে এখনও পুজো হয়।

ভবেন শিবলিঙ্গের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে প্রথমে প্রণাম করল। তারপর সেই শিবলিঙ্গ ধরে খুব জোরে ঠেলা দিতেই সেটা সরে গেল খানিকটা সেখানে দেখা গেল একটা অন্ধকার গর্ত।

সেই গর্তে হাত ঢুকিয়ে ভবেন একটা মূর্তি তুলে আনল।

কাকাবাবু সেটা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখতে লাগলেন। প্রায় এক হাত লম্বা একটা বিষ্ণুমূর্তি কালো পাথরের তৈরি।

ভবেন বলল, ‘এটার বয়েস সাড়ে পাঁচ-শো বছর। দাম পড়বে আঠারো হাজার।’

কাকাবাবু বললেন, ‘বা: বা:, খুব সুন্দর। খুব চমৎকার। দেখি আর কী আছে?’

ভবেন আর একটা মূর্তি তুলল। এটা একটা গণেশ, পাথরের নয়, মনে হয় পেতলের।

ভবেন বলল, ‘এটা পঞ্চ ধাতুর তৈরি বিষ্ণুপুরের গণেশ। তিন-শো বছরের পুরোনো। এটার দাম পড়বে বারো হাজার।’

সন্তু বলল, ‘ওটা আমি নেব। ওটা আমার চাই!’

কাকাবাবু বললেন, ‘নিবি, নিবি, আগে দরদাম ঠিক হোক। আর কী আছে দেখি?’

ভবেন এরপর আরও সাতটা মূর্তি বার করে দেখাল, বেশির ভাগই নারায়ণের, একটা রাধাকৃষ্ণর, একটা দুর্গার।

কাকাবাবু সব ক-টা খুঁটিয়ে দেখে ‘বা: বা:, কী সুন্দর, কী চমৎকার’ বলতে লাগলেন। সব ক-টা দেখা হয়ে গেলে বললেন, ‘আর নেই? মদনমোহনের মূর্তি নেই?’

ভবেন একটা নারায়ণের মূর্তি দেখিয়ে বলল, ‘এইটাই তো মদনমোহন!’

কাকাবাবু বললেন, ‘এটা তো বিষ্ণুপুরের। কুচবিহারের মদনমোহন নেই?’

ভবেন বলল, ‘আমার কাছে আর কিছু নেই।’

কাকাবাবু হতাশভাবে বললেন, ‘যা:, তাহলে কী হবে? এর একটাও যে আমার পছন্দ হল না।’

ভবেন বলল, ‘এতগুলো দেখালাম, একটাও পছন্দ হল না?’

কাকাবাবু দু-দিকে মাথা নেড়ে বললেন, ‘না:, একটাও না, কী করে পছন্দ হবে? গণেশের মূর্তিটা পঞ্চ ধাতুর বললেন, ওটা আসলে পেতলের। পুরোনোও নয়। নকল। পাথরের মূর্তিগুলো বড়োজোর পঞ্চাশ-ষাট বছরের পুরোনো। আর ওই যে বিষ্ণুমূর্তিটা, এটা একেবারে আসল আর পুরোনো, এটা বিষ্ণুপুর মন্দির থেকে চোরাই জিনিস। ওটাও আমার চাই না। কুচবিহারের মদনমোহনের মূর্তিটা পেলে যত দাম লাগে তাতেই রাজি। সেই মূর্তিটা কোথায়?’

ভবেন এবারে চোখ সরু করে কাকাবাবুর দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর হিংস্র গলায় বলল, ‘তুমি আমার সঙ্গে ধোঁকাবাজি করতে এসেছ? তুমি পুলিশের লোক।’

কাকাবাবু নিরীহভাবে বললেন, ‘না না, আমি পুলিশের লোক নই। মদনমোহনের মূর্তিটা বার করো, তার জন্য যত টাকা চাও দেব।’

বনমালি এতক্ষণ চুপ করে ছিল। এবারে চেঁচিয়ে বলল, ‘ভবেনদা, আমি এখানে আসতে চাইনি! এই লোকটা আমাকে ভয় দেখিয়ে জোর করে এনেছে। বিশ্বাস করো, আমি ইচ্ছে করে আনিনি!’

ভবেন বলল, ‘তুই ওই খোকাটাকে জাপটে ধর তো। আমি এই বুড়োটাকে ধরছি। আমার সঙ্গে চালাকি করতে এসেছে!’

বনমালি সন্তুকে দু-হাতে জড়িয়ে চেপে ধরল। কিন্তু সে সন্তুকে চেনে না। সন্তু সঙ্গে সঙ্গে যুযুৎসুর প্যাঁচে তাকে উলটে দিয়ে দড়াম করে ফেলে দিল মাটিতে। দেওয়ালে বনমালির মাথা ঠুকে গেল খুব জোরে। সন্তু দু-হাতের ধুলো ঝেড়ে বলল, ‘একটুও গায়ের জোর নেই!’

ভবেন তার পেছনের দেওয়ালে ঝোলানো একটা মস্তবড়ো খাঁড়া তুলে নিয়ে কাকাবাবুকে বলল, ‘দেব শেষ করে!’

কাকাবাবু বললেন, ‘বা:, খাঁড়াটা তো বেশ পুরোনো মনে হচ্ছে। দেখি দেখি দাও তো, ওটার কত দাম পড়বে?’

ভবেন বলল, ‘আমার সঙ্গে চালাকি করতে এসো না। এক কোপে মুন্ডু উড়িয়ে দেব। সঙ্গে টাকাপয়সা কী আছে বার করো তো বুড়ো।’

কাকাবাবু বলেন, ‘আমাকে বুড়ো বুড়ো বলবে না। আমি খোঁড়া হতে পারি, কিন্তু বুড়ো নই। তোমার থেকে আমার গায়ে জোর বেশি। খালি হাতে লড়াই করার সাহস আছে তোমার?’

ভবেন এবার খাঁড়া দিয়ে কাকাবাবুর মাথায় একটা কোপ মারতে যেতেই কাকাবাবু পকেট থেকে রিভলবারটা বার করলেন। বকুনির সুরে বললেন, ‘তুমি এত বোকা কেন, ভবেন? আমাকে মারতে আসছিলে? জানো না। মানুষ খুন করলে ফাঁসি হয়? আমার হাতে এটা কী দেখছ? খাঁড়া দিয়ে কী আর বন্দুক-পিস্তলের সঙ্গে লড়াই করা যায়? খাঁড়াটা নামিয়ে রেখে আমার কথা মন দিয়ে শোনো!’

ভবেন এবার ভয় পেয়ে কাঁচুমাচু করে বলল, ‘পুলিশ?’

কাকাবাবু বললেন, ‘না, আমি পুলিশ নই। খোঁড়া পুলিশ তুমি দেখেছ কখনো? পুলিশ কী কখনো তার ভাইপোকে নিয়ে ঘোরে? মদনমোহনের মূর্তিটা কোথায়? কুচবিহার মন্দির থেকে যেটা চুরি গেছে? বড়ো জাগ্রত দেবতা। সেটা ওই মন্দিরে আবার ফেরত দিতে হবে!’

ভবেন বলল, ‘সে মূর্তি আমার কাছে নেই। সেই মূর্তি সম্বন্ধে আমি কিছু জানি না!’

কাকাবাবু বললেন, ‘বেশ চোরাই মূর্তির ব্যাবসা ফেঁদে বসেছ, অ্যাঁ? ভাঙা মন্দিরে সাধু সেজে থাকো। পুলিশ এতখানি জঙ্গলের মধ্যে সচরাচর আসে না। এলেও শিবলিঙ্গ সরিয়ে দেখবে না। শিবলিঙ্গের গায়ে হাতই দেবে না। পুলিশও তো ঠাকুর-দেবতাদের ভয় পায়। শোনো, তোমার সামনে দুটো পথ আছে। হয় তোমাকে আমি এখনই পুলিশের কাছে নিয়ে গিয়ে ধরিয়ে দেব। তুমি চোরাই মাল রাখো, আর আমাকে খুন করতে চেয়েছিলে। দুটোই বড়ো অপরাধ। তবে তুমি যদি কুচবিহারের মদনমোহনের মূর্তিটা আমাকে ফেরত দাও, তাহলে তোমাকে আমি আপাতত ছেড়ে দিতে পারি।’

ভবেন আড়ষ্ট গলায় বলল, ‘সে মূর্তি আমার কাছে নেই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘ফের মিথ্যে কথা?’

ভবেন বলল, ‘আপনার পা ছুঁয়ে বলতে পারি, স্যার। মিথ্যে নয়। আমার কাছে নেই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘কার কাছে আছে?’

ভবেন বলল ‘আমি জানি না!’

কাকাবাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘তাহলে চলো থানায়! দশটি বছর জেলের ঘানি ঘোরাবে! ওহে বনমালি, তোমাকেও ছাড়ব না। তুমিও জেল খাটবে!’

বনমালি কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল, ‘আমি কিছু করিনি স্যার! আপনাদের পথ দেখিয়ে এনেছি!’

কাকাবাবু বললেন, ‘তুমি সন্তুকে জাপটে ধরেছিলে। আমাদের কাছ থেকে টাকাপয়সা কেড়ে নেবার মতলব করেছিলে। এখন চলো—’

হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে কাকাবাবু ভবেনের গালে এত জোরে একটা চড় মারলেন যে সে ঘুরে পড়ে গেল। কাকাবাবু বললেন, ‘আমার দিকে যে অস্ত্র তোলে তাকে আমি নিজের হাতে কিছু শাস্তি না দিয়ে ছাড়ি না। আমাকে বুড়ো বলছিলে, এখন দেখলে আমার হাতের জোর?’

ভবেন গোল গোল চোখে একটুক্ষণ তাকিয়ে রইল কাকাবাবুর দিকে। সে এত অবাক হয়ে গেছে যে কথাই বলতে পারছে না। একটু পরে ফিসফিস করে বলল, ‘স্যার, যদি আমি আপনাকে ভগলুর ডেরা চিনিয়ে দিই, তাহলে আমাকে ছেড়ে দেবেন?’

বনমালি ভয় পেয়ে বলে উঠল, ‘ওরে সর্বনাশ!’

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই ভগলু বুঝি মদনমোহনের মূর্তি চুরি করেছে?’

ভবেন বলল, সে চুরি করেনি। ভালো ভালো মূর্তি ভগলুর কাছে জমা হয়। সেগুলো সে চোরাপথে বিলেতে পাঠায়। অনেক টাকা দাম পায়। ভগলু অতি সাংঘাতিক লোক, সে যদি টের পায় যে আমরা তার নাম বলে দিয়েছি, তাহলে সে আমাদের খুন করে ফেলবে। তার হাতে অনেক গুণ্ডা আছে। আমি দূর থেকে তার বাড়িটা দেখিয়ে দিতে পারি। তারপর আমি আর সেখানে থাকব না।’

কাকাবাবু হেসে বললেন, ‘তোমায় আমি বিশ্বাস করব কী করে? তুমি দূর থেকে কার-না কার বাড়ি দেখিয়ে সরে পড়বে আর আমি তাই মেনে নেব! তোমার মতন লোকদের তো মিথ্যে কথা বলতে বাধে না। এই সন্তু, ক্যামেরা বার কর।’

সন্তু অমনি পকেট থেকে একটা ছোট্ট ক্যামেরা বার করে ফটাফট ছবি তুলতে লাগল।

কাকাবাবু বললেন, ‘ভবেন, তোমার আর তোমার এই চোরাই মালের আস্তানার ছবি তোলা রইল আমাদের কাছে। এই ছবি পুলিশের কাছে দিলে ধরা পড়ে যাবেই। বনমালিও পালাতে পারবে না। এবার চলো দেখি, কোথায় থাকে ভগলু!’

সেখান থেকে বেরিয়ে একবারে সামনে সামনে চলল সন্তু। তারপর বনমালি, তারপর ভবেন। কাকাবাবু পেছনে। তিনি রিভলবারটা রেখে দিলেন পকেটে। শুধু একবার বললেন, ‘ভবেন, মাঝপথে পালাবার চেষ্টা করলে কিন্তু তোমার একটা পা জন্মের মতন খোঁড়া হয়ে যাবে। তখন আমায় দোষ দিয়ো না। আমার হাতের টিপ খুব ভালো। এক-একটা গুলিতে তোমার এক-একটা পা খোঁড়া হবে।’

জঙ্গলের বাইরে রয়েছে একটা জিপ গাড়ি। ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়েছিল। সবাই সেই জিপ গাড়িতেই উঠল। সন্তু আর বনমালি পেছনে। ভবেন আর কাকাবাবু সামনে ড্রাইভারের পাশে। ভবেনের নির্দেশে গাড়িটা ছুটে চলল।

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই ভগলুর আসল নাম কী?’

ভবেন বলল, ‘তা তো জানি না স্যার। সবাই ভগলু ভগলু বলেই ডাকে। ওর একটা থালা-বাসনের দোকান আছে। কিন্তু ওর আসল ব্যাবসা মূর্তি পাচার করা।’

‘ও কি নিজের লোক দিয়ে নানান মন্দির থেকে মূর্তি চুরি করিয়ে আনায়?’

‘না, স্যার। এ লাইনে অনেক লোক আছে। কুচবিহারের ওই মদনমোহন মূর্তি প্রথমে চুরি করে বিষ্টু দাস। সে পরের দিনই পাঁচ হাজার টাকায় সেটা বিক্রি করে দেয় শিলিগুড়ির অজিত সিংকে। অজিত সিং সেটা পনেরো হাজার টাকায় বিক্রি করেছে শেঠ সুরজমলকে।’

পেছন থেকে সন্তু জিজ্ঞেস করল, ‘প্রথম চোরটার নাম বিষ্টু দাস। সে কাকে বিক্রি করেছিল?’

সন্তু একটা ছোট খাতা খুলে নামগুলো লিখে নিচ্ছে।

ভবেন বলল, ‘শেঠ সুরজমল মূর্তিটা আমার কাছে এনেছিল। কিন্তু দাম চাইল পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। অত টাকা আমি দিতে পারিনি। তাই ভগলু নিয়ে নিয়েছে। ও বিলেত আমেরিকায় পাঠিয়ে লাখ-লাখ টাকা রোজগার করবে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘হুঁ, একেই বলে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। তোমরা সবাই সবাইকে চেনো!’

প্রায় এক ঘণ্টা গাড়িটা চলার পর সে থামল শ্রীপুর নামে একটা ছোট্ট শহরে। রেল- স্টেশনের পাশেই বাজার আর কিছু দোকানপাট ছাড়া সেখানে আর কিছু নেই। বেশ রাত হয়ে গেছে, তবু কয়েকটা দোকান খোলা আছে। একটা থালা-বাসনের দোকানের পাশ দিয়ে যখন জিপ গাড়িটা আস্তে আস্তে যাচ্ছে, তখন ভবেন বলল, ‘ওই দেখুন স্যার, কাউন্টারে ভগলু বসে আছে। খুব বড়ো গোঁফ।’

ভগলুর চেহারাটা দেখবার মতন। মাথায় একটা ও চুল নেই, চকচকে টাক। কিন্তু নাকের নীচে শেয়ালের লেজের মতন মোটা গোঁফ। মুখখানা গোল। বেশ হৃষ্টপুষ্ট চেহারা। দোকানে আরও তিন-চারজন লোক রয়েছে, মনে হয় তারা খদ্দের নয়, ভগলুরই দলের লোক।

গাড়িটা বাজার পেরিয়ে যাওয়ার পর দু-খানি পাকা দোতলা বাড়ি চোখে পড়ল। ভবেন বলল, ‘এই প্রথম বাড়িটা ভাগলুর, আর দ্বিতীয়টা ওর ভাইয়ের। দুটোই ভগলুর বাড়ি বলতে পারেন।’

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন, ‘চোরাই মূর্তিগুলো ও কোথায় রাখে?’

ভবেন বলল, ‘তা আমি বলতে পারব না স্যার। তবে আপনাকে আমি আর একটা খবর দিচ্ছি। কাছেই বাংলাদেশের বর্ডার। প্রত্যেক শনিবার সেখানে একটা বড়ো হাট হয়। সেই হাটের দিনে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে ভগলু ভালো ভালো মূর্তি বাংলাদেশে পাচার করে দেয়। ওখান থেকেও কিছু জিনিস এদিকে আসে। এই শনিবার যদি নজর রাখেন, তাহলে মূর্তিটা হাতেনাতে ধরে ফেলতে পারেন।’

কাকাবাবু বললেন, ‘মূর্তিটা এর মধ্যেই যদি পাচার করে দিয়ে থাকে?’

ভবেন বলল, ‘না, দেয়নি। আমাদের কানে তো সব খবর আসে। আরও বেশি দাম বাড়াবার জন্য ভগলু এখন সেটা আটকে রেখেছে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘হুঁ! ঠিক আছে, দেখা যাক! এখানে কোনো হোটেল আছে? রাতটা কাটাতে হবে তো!’

ভবেন বলল, ‘একটা ছোটো হোটেল আছে। কিন্তু সেখানে কি আপনারা থাকতে পারবেন? হাট-বাজারের লোকেরা এসে থাকে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘খুব থাকতে পারব। একটা ঘর পেলেই হল।’

ভবেন এবার হাত জোড় করে বলল, ‘আপনার কাছে দয়া চাইছি স্যার, এবার আমাকে ছেড়ে দিন। ভগলুর লোকজন আমাকে চিনতে পারবে, এখানে দেখলেই সন্দেহ করবে। যখন তখন খুন করতেও ওদের আটকায় না।’

বনমালি কাকুতি-মিনতি করে বললে, ‘আমাকেও মুক্তি দিন স্যার। নইলে ভগলু মেরে ফেলবে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘ঠিক আছে, ছেড়ে দিতে পারি। কিন্তু তোমাদেরও এই চোরাই মূর্তির কারবার ছাড়তে হবে। তিন-মাস পরে এসে আমি আবার খোঁজ নেব। তখনও যদি দেখি, তোমরা একই রকম চালিয়ে যাচ্ছ, তাহলে তোমাদের ছবি দিয়ে দেব পুলিশকে। এখন যাও, ভাগো!’

ভবেন আর বনমালি লাফিয়ে জিপ থেকে নেমে দৌড়ে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে!

হোটেলটা খুবই সাধারণ, কিন্তু সেটার নাম তাজমহল হোটেল। ঘরভাড়া সতেরো টাকা। ভাত-ডাল, বেগুনভাজা আর বাটামাছের ঝোল ন-টাকা। সেই খাবারই খেতে বসে কাকাবাবু ম্যানেজারের সঙ্গে ভাব জমালেন। তিনি বললেন যে সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ার করে তিনি নিরিবিলিতে থাকতে চান। এই শ্রীপুরে তিনি জমি খুঁজতে এসেছেন। পছন্দ হলে এখানেই বাড়ি বানিয়ে এসে থাকবেন।

রাত্তিরে আর কিছু করার নেই, দোতলার ঘরটিতে এসে ওরা দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ল।

সন্তু বলল, ‘কাকাবাবু, এখানকার থানায় তো কোনো খবর দেওয়া হল না? ভগলুর তো অনেক লোকজন। পুলিশের সাহায্য নিতে হবে নিশ্চয়ই।’

কাকাবাবু বললেন, ‘এখনই থানায় যাব না। কেন জানিস? থানাতেও নিশ্চয়ই ভগলুর লোক আছে। ছোটো জায়গায় সব জানাজানি হয়ে যায়। আমরা থানায় গেলেই লোকে আমাদের সন্দেহ করবে। ভগলুও খবর পেয়ে সাবধান হয়ে যাবে। আগে দেখা যাক না আমরা নিজেরা কী করতে পারি।’

সন্তু বলল, ‘কাকাবাবু, আর একটা কথা জিজ্ঞেস করব? কথাটা কাল থেকে আমার মনের মধ্যে খচখচ করছে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘কী কথা, বলে ফ্যাল।’

সন্তু বলল, ‘ছোটোবেলায় একবার মামার বাড়িতে গিয়েছিলাম, সেখানে শিবঠাকুরের একটা মন্দির ছিল। একদিন মন্দিরের মধ্যে প্রসাদ নিতে গেছি, পুরুতমশাই বললেন, এই দেখো দেখো, যেন মূর্তি ছুঁয়ে দিয়ো না। ঠাকুরের মূর্তি ছুঁলে পাপ হয়।’

কাকাবাবু বললেন, ‘হুঁ, সেই কথাই তো সবাই বলে।’

সন্তু জিজ্ঞেস করলো, ‘তাহলে এই যে লোকগুলো মূর্তি চুরি করছে, ওরাও তো ছুঁচ্ছে। ওদের পাপ হচ্ছে না?’

কাকাবাবু হেসে বললেন, ‘পাপ হওয়া তো মনের ব্যাপার। এইসব চোর-ডাকাতগুলোর কী আর সেরকম মন আছে? ওরা পাপ-পুণ্য মানে না। চুরি করা, মানুষ খুন করাও তো মহাপাপ। চোর-ডাকাতরা সে কথাও ভাবে না।’

সন্তু বলল, ‘আর একটা কথা। অনেক ঠাকুরই তো শুনেছি খুব জাগ্রত। এই যে চোর-ডাকাতরা ঠাকুরের মূর্তি চুরি করছে, যেখানে-সেখানে ফেলে রাখছে, জাগ্রত ঠাকুর নিজেকে রক্ষা করতে পারেন না? ঠাকুর নিজেই চোরদের শাস্তি দিতে পারেন না?’

কাকাবাবু বললেন, ‘এটাও মনের ব্যাপার, বিশ্বাসের ব্যাপার! এইসব পাথরের বা কাঠের বা মাটির মূর্তি তো শিল্পীরা বানায়। যেমন সুন্দর সুন্দর পুতুল হয়। তারপর মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করার পর আমরা সেগুলোকে ঠাকুর মনে করি। শিব, বিষ্ণু, দুর্গা, গণেশ এঁদের সকলেরই গল্প আমরা জানি। তাই মূর্তিগুলো দেখলেই আমাদের সেইসব মনে পড়ে। কিন্তু যারা ওসব কাহিনি জানে না? যেমন ধর, কোনো বিদেশি এসে যদি এই রকম মূর্তি দেখে, তার কাছে পুতুলই মনে হবে। আর আমাদের মধ্যেও যারা পূজা করে, তারা কেউ শুধু নিয়মরক্ষার জন্য মাথা ঠুকে প্রণাম করে যায়। কেউ বেশি ভক্তি নিয়ে পুজো করে। কেউ ভয়ে ভয়ে পুজো করে। যার যেমন বিশ্বাস। যার বেশি বিশ্বাস, সে মনে করে এই দেবতার মূর্তি মানুষের উপকার করতে পারে, অসুখ সারিয়ে দিতে পারে। ঠাকুরের পুজো ঠিকমতন না করলে মহাবিপদ হতে পারে। সবই বিশ্বাসের ব্যাপার। আসলে কিন্তু মানুষের উপকার করা কিংবা ক্ষতি করার কোনো ক্ষমতাই কোনো মূর্তির থাকে না। নিজেকেই বাঁচাতে পারে না। চোর-ডাকাতদের ভক্তিও নেই, বিশ্বাসও নেই, তাই মূর্তিগুলোকে মনে করে পুতুল।’

সন্তু বলল, ‘শুনেছি, অনেক চোর-ডাকাতও পুজো করে?’

কাকাবাবু বললেন, ‘সেটাও একটা মজার ব্যাপার। আগেকার ডাকাতরা কালীপুজো করে তবে বেরুত। ডাকাতি করতে গিয়ে মানুষ খুন করত। যারা মানুষ মারে, অন্যের সম্পত্তি ছিনিয়ে নেয়, কোনো দেবতা কী তাদের সমর্থন করতে পারেন? আজকালও দেখবি, যারা খাদ্যে ভেজাল দেয়, জোচ্চুরি করে, গরিবদের ঠকায়, তারাই আবার বড়ো বড়ো মন্দির বানায়, ঢাকঢোল বাজিয়ে পুজো দেয়। এ সবই মিথ্যে! মানুষকে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড়ো পুণ্যের কাজ।’

পরদিন সকালে উঠে কাকাবাবু আর সন্তু হোটেলের একটা বাচ্চা ছেলেকে নিয়ে বেরুল। ছেলেটির নাম পরান। সে-ই সবাইকে ডেকে জানিয়ে দিল যে এই খোঁড়াবাবুটি এখানে জমি খুঁজতে এসেছেন। জমি দেখার নাম করে পুরো জায়গাটা ঘুরে দেখা হল।

শ্রীপুর জয়াগাটা বেশ ছিমছাম, সুন্দর। একটা পাতলা মতন নদীও আছে। পাতলা হলেও নদীটির বেশ তেজ, বেশ স্রোত আছে। খানিকদূরে একটা বড়ো নদীর সঙ্গে মিশেছে। ভগলুর বাড়ি এই নদীর ধারেই। বাড়ির পেছন দিকে একটা ঘর রয়েছে, সেটা একেবারে নদীর ওপরেই বলা যায়।

পরানের কাছ থেকে ভগলু সম্পর্কেও কিছু খবর পাওয়া গেল। তাকে এখানে সবাই ভয় পায়। সে স্থানীয় লোক নয়, বাইরের কোনো জায়গা থেকে এখানে এসে ব্যাবসা শুরু করেছে। একটা থালা-বাসনের দোকান করেই কী করে সে বড়োলোক হয়ে গেল, তা কেউ জানে না। চার-পাঁচজন গুণ্ডা মতন লোক সবসময় থাকে তার পাশে। থানার লোকজনের সঙ্গে তার ভাব আছে, পুলিশরা প্রায়ই তার বাড়িতে নেমন্তন্ন খেয়ে যায়।

ভগলু নিজেও নাকি দারুণ পেটুক। সে একাই দুটো মুরগি খেয়ে ফেলতে পারে। দু-কিলো পাঁঠার মাংস খায়। গোটা একটা রুই মাছ না-হলে তার চলে না। দুপুরবেলা প্রায় রোজই সে একা একা নদীর ধারে ছোটো ঘরটায় বসে খায়। খাবার সময় অন্য লোক কাছে থাকা সে পছন্দ করে না। রাত্তিরে সে ওই ছোটো ঘরটাতে থাকে। সকালে নদীতে স্নান সেরে পুজো করে। পুজোর সময় সে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে মন্ত্র পড়ে, গান গায়। তারপর ওই ঘরেই তাকে খাবার দেওয়া হয়। প্রচুর খেয়ে, খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে তারপর বিকেলের দিকে সে দোকানে এসে বসে।

সারাদিন ঘোরাঘুরি করে সব দেখে-বুঝে নিলেন কাকাবাবু। ভগলুর ধারেকাছেও গেলেন না।

রাত্তিরবেলা শুয়ে শুয়ে সন্তুকে বললেন, ‘একটা সমস্যা আছে রে, সন্তু। মদনমোহনের মূর্তিটা কোথায় লুকোনো আছে, সেটা খুঁজে বার করব কী করে?’

সন্তু বলল, ‘ওই নদীর ধারের ছোটো ঘরটায় ভগলু ঘুমোয় রাত্তিরে। মনে হয়, ওখানেই কোথাও আছে। অত দামি জিনিস নিশ্চয়ই সে চোখে চোখে রাখবে!’

কাকাবাবু বললেন, ‘অবশ্য ঠিক। ছোটো ঘরটা একবার ভেতরে ঢুকে দেখা দরকার। কিন্তু মাটির তলায় রেখেছে না কোথায় রেখেছে তা দেখতে অনেকটা সময় লাগবে। রাত্তিরে নিশ্চয়ই ওখানে কেউ পাহারা দেয়।’

সন্তু বলল, ‘একটা কাজ করব। সকালবেলা যখন ভগলু নদীতে স্নান করতে যায়, তখন এক ফাঁকে আমি ওই ঘরে ঢুকে পড়ব? তারপর দুপুরবেলা ও বেরিয়ে গেলে খুঁজে দেখব ঘরটা।’

কাকাবাবু বললেন, ‘খাটের নীচে কতক্ষণ লুকিয়ে থাকবি? একটু নড়াচড়া করলে, কিংবা তোর যদি হাঁচি পেয়ে যায় হঠাৎ? গলা খুসখুস করে যদি? তাহলেই ধরা পড়ে যাবি। ভগলুর কীরকম গাঁটাগোট্টা চেহারা দেখেছিস তো!’

সন্তু তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, ‘ধরা পড়ব না আমি। ধরা পড়লেও ও আমাকে ধরে রাখতে পারবে না।’

কাকাবাবু বললেন, ‘উঁহু, তা হয় না। এতে ঝুঁকি খুব বেশি। অন্য কোনো উপায় ভেবে দেখতে হবে। এখন ঘুমো।’

ভোরবেলা কীসের যেন শব্দে কাকাবাবুর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি চোখ মেলে দেখলেন, সন্তু জামা-প্যান্ট পরে বাইরে বেরুবার জন্য তৈরি হয়ে গেছে প্রায়।

কাকাবাবু জিজ্ঞেস করলেন। ‘এ কী সন্তু, কোথায় যাচ্ছিস?’

সন্তু বলল, ‘তুমি কিছু চিন্তা কোরো না, কাকাবাবু। আমি ভগুলর ওপর নজর রাখতে যাচ্ছি। নদীর ধারে বসে থাকব!’

কাকাবাবু বললেন, ‘তুই তো শুধু বসে থাকার ছেলে না! ভগলুর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করবি ঠিক। ভগলু দুপুরের আগে ও-ঘর থেকে বেরোয় না। পুজো করে অনেকক্ষণ ধরে খাবার খায়। তুই এত সকাল সকাল গিয়ে কোথায় বসে থাকবি?’

সন্তু বলল, ‘আমার আর শুয়ে থাকতে একদম ইচ্ছে করছে না। আমি কাল একবার ও-ঘরের জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেছি। পাশে একটা ভাঁড়ার মতন ছোট্ট ঘর আছে। যদি ভেতরে ঢুকতে পারি, তাহলে ওই ঘরটাতে থাকবার চেষ্টা করব। ভগলু বেরিয়ে যাবার পর খোঁজাখুজি শুরু করব।’

কাকাবাবু বললেন, ‘তখন নিশ্চয়ই বাইরে পাহারা থাকবে। ঠিক আছে, তুই যখন জেদ ধরেছিস, আমার রিভলবারটা নিয়ে যা। কারুকে মারবি না, শুধু আত্মরক্ষার দরকার হলে ভয় দেখাবি।’

রিভলবারটা পেয়ে সন্তু খুশিতে ছটফট করতে লাগল। কাকাবাবু সহজে সন্তুকে রিভলবারে হাত দিতে দেন না। সে বলল, ‘তুমি চিন্তা করো না, আমি বিকেলের মধ্যেই ফিরে আসছি। তুমি ঠিক খবর পেয়ে যাবে।’

কাকাবাবু বললেন, ‘শোন, তুই মদনমোহনের মূর্তিটার সন্ধান পেয়ে গেলেও নিয়ে আসার চেষ্টা করিস না। চোরের ওপর বাটপাড়ি করা ঠিক নয়। ভগলুকে হাতে হাতে ধরতে হবে!’

সন্তু প্রায় ছুটে বেরিয়ে চলে গেল।

কাকাবাবু বিছনায় শুয়েই রইলেন। খানিক পরে একজন চা নিয়ে এল। কাকাবাবু চা খেতে খেতে একটা বই পড়তে লাগলেন।

বেলা গড়িয়ে গেল। এগারোটা বেজে যাওয়ার পর আর ঘরের মধ্যে থাকতে তাঁর ইচ্ছে হল না। বেরিয়ে এলেন হোটেল থেকে। প্রথমে ভাবলেন, জিপ গাড়িটা নিয়েই বেরোবেন। তারপর ঠিক করলেন, হেঁটেই যাবেন। আকাশ মেঘলা আজ, রোদ নেই, গরম নেই, হাঁটতে ভালোই লাগবে।

একটা চিঠি লিখে গাড়ির ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিলেন থানায়। তিনি যে এখানে এসেছেন তা পুলিশকে জানিয়ে রাখা দরকার। কীজন্য এসেছেন তা জানাবার দরকার নেই।

হাঁটতে হাঁটতে তিনি চলে এলেন নদীর ধারে। এইটুকু নদী কিন্তু হেঁটে পার হওয়া যায় না। এক জায়গায় খেয়া পারের ব্যবস্থা আছে। অবশ্য এখন লোকজন বিশেষ নেই।

ভগলুর বাড়ির পেছনে বাগান। তারপর একেবারে শেষের দিকে নদীর ধার ঘেঁষে একখানা ঘর। ঠিক ঘর নয়, সেটা একটা ছোটো বাড়ির মতন। ঘরের সঙ্গে বাথরুম আর একটা ছোটো ঘর, বারান্দাও রয়েছে।

সন্তুকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। সেই ভোর থেকে সে কোথায় রয়েছে? ভগলুর ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে নাকি?

কাছাকাছি গিয়ে শুনলেন, একজন লোক চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে কী যেন বলছে। একঘেয়ে সুর। এই কী ভগলুর পুজো নাকি? কোন দেবতা পুজো করে ভগলু? এরা বিচিত্র লোক। রোজ সকালে ভক্তিভরে পুজো করে নানান ঠাকুরদেবতার মূর্তির ব্যাবসা করে।

সন্তু নিশ্চয়ই ধরা পড়েনি। তাহলে ভগলু এমন নিশ্চিন্তে পুজো করতে পারত না। সন্তুকে ধরে ফেললে ভগলু নিশ্চয়ই খোঁজখবর করত। সন্তুর সঙ্গে কে আছে সে সন্ধানও পেয়ে যেত।

আরও কিছুক্ষণ পর একজন লোক কয়েকটা খাবারের পাত্র নিয়ে ঢুকল ভগলুর ঘরে। কাকাবাবু ভাবলেন, সন্তু সকাল থেকে কিছু খায়নি বোধ হয়। বিকেল পর্যন্ত না খেয়ে থাকবে?

সেই লোকটি বেরিয়ে এসে ভেতরের বাড়ি থেকে আবার দু-তিনটে ডেকচি ভরতি কীসব নিয়ে ফিরে এল। এইরকম আরও একবার। খাবার আসছে তো আসছেই।

কাকাবাবু একটা তেঁতুল গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলেন। এত খাবার ভগলুর জন্য? একটা লোক কত খেতে পারে?

হঠাৎ তাঁর মাথার মধ্যে একটা ঝিলিক খেলে গেল।

সেই লোকটা যখন আর একবার কয়েকটা খাবারের ডেকচি নিয়ে ফিরে আসছে, কাকাবাবু তখন গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এলেন। লোকটির পিঠে তাঁর একটা ক্রাচ ঠেকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, ‘এটা বন্দুকের নল। চেঁচালেই প্রাণটা বেরিয়ে যাবে। যেমন যাচ্ছ, তেমনই যাও।’

লোকটা কাঠের পুতুলের মতন এক পা এক পা করে হেঁটে ঘরে ঢুকল।

কাকাবাবু ভেবেছিলেন, তিনি ঘরের মধ্যে আরও দু-তিন জনকে দেখতে পাবেন। কিন্তু ঘরে ভগলু ছাড়া আর কেউ নেই। টেবিলের ওপর মস্ত বড়ো একটা থালা, ভগলু একা একা বসে খাচ্ছে। ঠিক যেন একটা রাক্ষস। তার থালার পাশে মাছের কাঁটা আর মাংসের হাড়ের পাহাড় জমে আছে। সে একটা মস্ত বড়ো মাছের মুড়ো ধরে চিবুচ্ছে। ঝোল গড়াচ্ছে মুখের দু-পাশ দিয়ে। সে বোধ হয় দু-হাত দিয়ে খায়। দু-হাতেই লেগে আছে ঝোল।

কাকাবাবুকে দেখে সে ভুরু কুঁচকে বলল, ‘এ কে? এই মংলু, এ কাকে নিয়ে এলি?’

মংলু নামে সেই লোকটি বলল, ‘কী জানি। আমার পিঠে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে রেখেছে।’

ভগলু দেখতে পাচ্ছে কাকাবাবুর হাতে বন্দুক-টন্দুক কিছু নেই। সে গর্জন করে বলে উঠল ‘হাঁদারাম। পেছন ফিরে একবার তাকিয়ে দেখতে পারলি না? ধর ওই লোকটাকে।’

মংলুও বেশ গাঁট্টাগোঁট্টা জোয়ান। সে ডেকচি দুটো টেবিলের ওপর রেখেই ঘুরে দাঁড়াল।

কাকাবাবু একটা ক্রাচ তুলে বললেন, ‘মারামারি করার দরকার নেই। আগে আমার কথা শোনো। ভগলু, তুমি কুচবিহারের মদনমোহন মূর্তিটা রেখে দিয়েছ কেন? এই নিয়ে যে কুচবিহারে দাঙ্গা বাধার উপক্রম। তুমি নিজে একজন ভক্ত হয়ে ঠাকুরদেবতার মূর্তির ব্যাবসা কর? ছি:! ওটা ফেরত দিয়ে দাও!’

ভগলু বলল, ‘কে বললো, ঐ মূর্তি আমার কাছে আছে?’

কাকাবাবু বললেন, ‘আমি ঠিক খবর নিয়েই এসেছি। মূর্তিটা আমায় দিয়ে দাও!’

ভগলু বলল, ‘এই মংলু, লোকটাকে ধরতে পারছিস না?’

সেই মুহূর্তে আর একটা লোক ঢুকল ঘরে। সঙ্গে সঙ্গে সে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল কাকাবাবুকে। মংলুও ঝাঁপিয়ে পড়ে কাকাবাবুর ক্রাচ দুটো কেড়ে নিল।

ভগলু খুশি হয়ে বলল, ‘বা-বা-বা-বা! বেচু-তুই ঠিক সময়ে এসে পড়েছিস! লোকটাকে বাঁধ। পকেটে দেখ বন্দুক-পিস্তল কিছু আছে কিনা!’

কাকাবাবু দু-হাত তুলে বললেন, ‘বাঁধতে হবে না। আমার কাছে কোনো অস্ত্র নেই। ভগলু, তুমি খাওয়া শেষ করে নাও। এই তোমার শেষ মাছের মুড়ো খাওয়া। এরপর তোমায় দশ বছর জেলে থাকতে হবে!’

ভগলু বলল, ‘তুমি একটা খোঁড়া, আমাকে জেলে পাঠাবে; হা-হা-হা-হা!’

কাকাবাবু বললেন, ‘কানাকে কানা বলতে নেই, খোড়াকে খোঁড়া বলতে নেই জানো না! জেলে তোমায় যেতেই হবে। তুমি কী ভাবছ, আমি একা তোমার এই বাঘের গুহায় ঢুকেছি? পুলিশ তোমার বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। এখানকার পুলিশ নয়, কলকাতার পুলিশ। দশখানা রাইফেল আছে। তোমার বাড়ির সব খুঁজে তারপর এই ঘরে আসবে। শুধু মদনমোহনের মূর্তিটা পেলেই তোমায় অন্তত দশ বছর জেলে থাকতে হবে!’

ভগলু উঠে দাঁড়িয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, ‘মদনমোহনের মূর্তি আমি নদীতে ফেলে দেব। কেউ খুঁজে পাবে না। তারপর আমায় কে ধরবে? কোনো প্রমাণ থাকবে না!’

একদিকের দেওয়ালে একটা বড়ো কুলুঙ্গি। তাতে এক জোড়া খুব ছোটো রাধাকৃষ্ণ মূর্তি। আর প্রচুর ফুল। ভগলু এই মূর্তির পুজো করে মনে হল।

সেই কুলঙ্গির ঠিক নীচে ধাক্কা দিতেই দেওয়ালের খানিকটা অংশ সরে গেল। ভগলু তার মধ্যে হাত গলিয়ে বার করে আনল একটা কালো পাথরের মূর্তি।, সেটা সে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার জন্য ছুটে গেল জানালার দিকে।

কাকাবাবু চেঁচিয়ে বলে উঠলেন, ‘ভগলু, ভগলু, তুমি এঁটো হাতে ওই মূর্তি ধরলে। জাগ্রত ঠাকুর। জানো না, অপবিত্র হাতে ছুঁলে সেই হাতে কুষ্ঠ হয়।’

ভগলু বলে উঠল, ‘অ্যাঁ?’

সঙ্গে সঙ্গে তার হাত থেকে সেই মূর্তিটা খসে পড়ে গেল মাটিতে।

আর ঠিক তার সঙ্গে সঙ্গেই একটা গুলির শব্দ হল। পাশের ঘরের দরজা ঠেলে বেরিয়ে এল সন্তু, তার হাতে রিভলবার। সিনেমার নায়কের কায়দায় সে রিভলবারের নলে ফুঁ দিতে দিতে বলল, ‘প্রথমবার কারুকে মারিনি। শুধু ভয় দেখিয়েছি। এরপর কেউ নড়লেই তার মাথায় গুলি করব!’

কাকাবাবু এগিয়ে মূর্তিটা তুলে নিলেন। টেবিলের ওপর থেকে জলের গেলাস নিয়ে এঁটো জায়গাটা ধুলেন ভালো করে। পকেট থেকে রুমাল বার করে মুছে নিয়ে বললেন, ‘বা:, এবারে ঠিক আছে। ভগলু, এবার বেরিয়ে পড়ো। সন্তুকে সাবধান। ও কিন্তু খুব ভালো গুলি চালাতে পারে।’

রাস্তার লোকেরা অবাক হয়ে দেখল, সন্তুর মতন একটা বাচ্চা ছেলের হাতে রিভলবার, আর তার সামনে সামনে মাথার ওপর হাত তুলে চলেছে ভগলু আর তার দুই চ্যালা। একটু পেছনে ক্রাচে ভর দিয়ে একজন প্রৌঢ় মানুষ। হাঁটতে হাঁটতে ওরা পৌঁছে গেল থানায়।

কাকাবাবুর জিপটা চলে এল খবর পেয়ে। খানিক বাদে থানা থেকে বেরিয়ে সেই জিপে উঠতে উঠতে কাকাবাবু বললেন, ‘যখন দেখলাম, অত খাবার যাচ্ছে ভগলুর ঘরে, তখন মনে হল, নিশ্চয়ই ওখানে আরও দু-তিনজন লোক আছে। অত খাবার কী একজন মানুষ খেতে পারে? তাহলে তুই নিশ্চয়ই ধরা পড়ে গেছিস। তোকে আটকে রেখে ভগলু তার সঙ্গীদের নিয়ে কিছু পরামর্শ করছে খেতে খেতে।’

সন্তু বলল, ‘আমি তো ভোর থেকে ওর পাশের ছোট্ট ঘরটায় ঢুকে বসে আছি। ভগলু টেরও পায়নি। কিন্তু মূর্তিটা কোথায় রেখেছে বুঝতে পারিনি। অন্য একটা মূর্তির পুজো করছিল!’

কাকাবাবু বললেন, ‘পুলিশের কথা বলতেই কাজ হল। কিন্তু মূর্তিটা জলে ফেলে দিলে মুশকিল হত। তবে, হাতে কুষ্ঠ হবে বলামাত্র কীরকম ভয় পেয়ে গেল দেখলি!’

সন্তু বললো, ‘এরা ঠাকুরের মূর্তি ভয় পায়, আবার বিক্রিও করে।’

কাকাবাবু হাসতে হাসতে বললেন, ‘সেই তো! কী বিচিত্র মানুষ এরা সব! ঠাকুর-দেবতায় বিশ্বাস আছে। আবার টাকার লোভে সেই বিশ্বাসও চাপা পড়ে যায়!’

দুজনেই হাসতে লাগল প্রাণভরে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

মাথা উঁচু করে যাওয়া - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় [ছোটগল্প]

amarboi
মাথা উঁচু করে যাওয়া

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
amarboi
সারারাত ঘুম হয়নি। এমনকী দুচোখের পাতাও এককরতে পারেননি। এই এক হচ্ছে মুশকিল। বেশিক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকতে পারছেন না।

না ঘুমোলে কত রকম এলোমেলো চিন্তা আসে। দেশের কথা, প্রিয় মানুষদের কথা। কিন্তু মাঝে মাঝেই সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে মাথার যন্ত্রণার জন্য। কিছুতেই, এত ওষুধ খেয়েও,এই বিশ্রী ব্যথাটা যাচ্ছে না।

রাজা উঠে এসে দাঁড়ালেন জানালার কাছে।

আজ কত তারিখ? একুশ, না বাইশ? সেপ্টেম্বর মাস। এই সময় ইংল্যান্ডের প্রাকৃতিকশোভা অতি মনোহর। দেশেও এখন শরৎকাল। কিন্তু আমাদের শরতে গ্রীষ্ম-বর্ষার প্রচন্ড দাপট পুরোপুরি কাটে না। এখানে এরই মধ্যে শীতের মৃদু পরশ পাওয়া যায় হাওয়ায়।

ফ্রেঞ্চ উইন্ডো খুলে রাজা বেরিয়ে এলেন বারান্দায়।

এটা একটা প্রশস্ত বাগানবাড়ি প্রচুর বৃক্ষশোভিত। তাতে ফুটেছে অজস্র ফুল। সব ফুল তিনি চেনেন না দেশ বিভেদে গাছপালাও অন্যরকম হয়। কিছু কিছু পাখিও ডাকছে। তার মধ্যেএকটা পাখির ডাক চেনা মনে হয়। দেশের বুলবুলিরমতন।

স্নিগ্ধ বাতাসে জুড়িয়ে গেল কপাল, বুজে এলো চক্ষু। সারারাত যে আরামপাননি, এখন প্রকৃতি তাঁকে সেই শান্তি উপহারদিলো।

রাজার ইচ্ছে হলো, বারান্দা থেকে নেমে বাগানের ঘাসে একটু হাঁটবেন। কিন্তু খালি পা, তাঁকে ঠান্ডা লাগাতে নিষেধ করা হয়েছে। মাথা ধরে আছে, এখন একটু সাবধানে থাকাইভালো।

তিনি বসলেন সাদা লেস লাগানো একটি বেতের চেয়ারে।

দেশ থেকে আসবার আগে কয়েকজন তাঁকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিল, অত দূরবিদেশে আবহাওয়া অন্যরকম, তা সহ্য না হতেপারে। হঠাৎ হঠাৎ শীত, তাতেই সান্নিপাতিক হবার খুব সম্ভাবনা।

তাঁরা এইসব জানলেন কী করে? নিজেরা তো কেউ সমুদ্র পাড়ি দেননি। শুনেছেন নাকি নাবিক-লস্করদের কাছ থেকে?

কয়েকজন ইংরাজ রাজপুরুষও সাবধান করতে চেয়েছিলেন। একমাত্র ডেভিড হেয়ার বলেছিলেন, যাও যাও বন্ধু, ঘুরে এসো, তোমার কোনো অনিষ্ট হবে না।

ডেভিড হেয়ার অনেক সাহায্য করেছেন। চিঠি লিখে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিদের। আর তাঁর বোনকে বিশেষ করে বলে দিয়েছেন, সব সময়রাজার দেখাশুনো করতে। তা সে-মেয়েটি তো তাঁর এখনকার সর্বক্ষণের সঙ্গিনী। ভারি লক্ষ্মীশ্রীযুক্তা নারী।

বেশ কিছুদিন তো কেটে গেল, তাঁর শরীরের কোনোই ক্ষতি হয়নি। বরং মনে হয়,এ দেশের জলবায়ু আরো স্বাস্থ্যকর। লন্ডনে প্রচুর মানুষের সঙ্গে দেখা হলো। শুধু একটিই অসুবিধে, তিনি একা একা পথে বেরোতে পারেন না। পথচারীদের কৌতূহলী দৃষ্টি। শুধু কৌতূহলী নয়, তিনি বুঝতে পারেন কারো কারো দৃষ্টিতে অন্য কিছুও থাকে। আতঙ্ককিংবা ঘৃণা? যেন তারা এক আজব প্রাণী দেখছে।

শুধু গায়ের রঙের তফাৎ, তার জন্যই এতো দূরত্ব? মানুষেরই তো শরীর, মানুষেরই মস্তিষ্ক। তবে হ্যাঁ, অস্ত্রবলে ভারতীয়রা হেয়।

আবার এখানকার বিদ্বজ্জন সমাজে অন্য রকম প্রতিক্রিয়া হয়। যাঁরা তাঁর কথা আগে শোনেননি বা কিছুই জানেননা, তাঁরা তাঁর কথাবার্তা শুনে এমনই অবাক হন, যেন চক্ষু ঠেলেবেরিয়ে আসার মতন। এই নেটিভটি এমন ইংরেজি জানে? বাইবেল সম্পর্কে এতো জ্ঞান?

দেশে থাকতে ইউনিটারিয়ান চার্চের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। ওঁদের মতন তিনিও একেশ্বরবাদী। হিন্দুদের মূর্তিপূজায়তিনি বিশ্বাস হারিয়েছেন, এ-কথা রাজা আগেই ঘোষণা করেছেন।

হঠাৎ রাজার চোখে পড়ল বাগানের এক প্রান্তে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।বড়জোর সাত-আট বছর বয়েস।সাদা ফ্রক ও নীল সোয়েটার পরা। মাথার চুলসব সোনালি। কী যে অপূর্ব সুন্দর দেখাচ্ছে, যেন স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে এক পরি!

তিনি মনে মনে হাসলেন। তিনি স্বর্গও মানেন না।পরিদের অস্তিত্বেও বিশ্বাসী নন। তবু এরকম উপমা মনে এসেই যায়।

মেয়েটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তাঁর দিকে।

রাজা একবার ভাবলেন, হাতছানি দিয়ে তাকে কাছে ডাকবেন। কিন্তু এর দৃষ্টিতে কী আছে? কৌতূহল, না ভয়? ডাকলে যদি না আসে, যদি দৌড়ে পালিয়ে যায়। থাক, এই কাননের অজস্র ফুলের সমারোহের মধ্যে সে পরি হয়েই দাঁড়িয়ে থাকে।

একটু পরেই ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো রামহরি। শশব্যস্ত হয়ে বললো, হুজুর, হুজুর, আপনি এই শীতের মধ্যে বসে আছেন। পায়ে ইস্টানিক পরেননি। আপনার শরীলে ব্যাধি আছে।

রাজা রামহরির কথা শোনারপর কোনো উত্তর না দিয়ে আবার তাকালেন বাগানের কোণে। পরি অদৃশ্য।

ঠান্ডা লাগছে ঠিকই, তাহলে আর বাইরে বসার দরকার নেই। রামহরি তাঁর হাত ধরতে গেল, রাজা ভ্রু কুঁচকে বললেন, ছাড়। আমার এমন কিছু ব্যাধি হয়নি।

রামহরি বললো, বাথ সেরে নিবেন? হট হবাটার নিয়ে আসি।

এই দুবছরে নিরক্ষর রামহরি বেশ ইংরেজি শিখেনিচ্ছে শুনে শুনে। বিচিত্র তার উচ্চারণ। রাজা একবার বলেছিলেন, আমার সামনে তোকে ইংরিজিবলতে হবে না। অন্য জায়গায় ফলাস যত পারিস।

পরে আবার তাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। থাক, যতখানি পারে শিখুক, মন্দ কি!

বাথটবে গরম জল ঢেলে দেবার পর তিনি রামহরিকেইঙ্গিত করলেন বাইরে দাঁড়াতে। কিন্তু নিজে স্নান করতে গিয়ে দেখলেন, তাঁর সারা শরীর কাঁপছে। অবসন্ন হয়ে পড়ছেন।

তিনি ভ্রু কুঞ্চিত করে বসে রইলেন কিছুক্ষণ। এটা কী হচ্ছে? কেন এই দুর্বলতা? কয়েক দিন ধরেই হচ্ছে এরকম। অথচ সেরকম কোনো রোগের কথা তো বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

অতি কষ্টে নিজেই স্নানান্তে পোশাক পরে বেরিয়ে এলেন তিনি। একটুপরেই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসতে হবে। এ দেশে সুসজ্জিত হয়ে টেবিলে বসাই নিয়ম। রামহরি তাঁকে জোববাজুবিব ও মাথায় পাগড়ি পরালো।

পাশের ঘরে শোয় রাজার পুত্র রাজারাম আর একজন সঙ্গী রামরতন মুখোপাধ্যায়। তারাও জেগে উঠেছে। এখানে নির্দিষ্ট সময়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলে ঘণ্টা বাজে।

রামহরি সেবাদাসদের দলে,সে দাঁড়িয়ে রইল দূরে। অন্য দুজনকে দুপাশে নিয়ে বসলেন রাজা। অন্যদিকে মিসেস হেয়ার আর এখানে যাঁরা আতিথ্য দিয়েছেন, তাঁদের পক্ষ থেকে মিস কেডেল আর মিস কাসেল।

এ দেশের নারীদের স্বাবলম্বী অবস্থা দেখে রাজা প্রায়ই ভাবেন, কবে দুর্ভাগা ভারতবর্ষে রমণীদের এমন সৌভাগ্য হবে। এ দেশের রমণীরা শিক্ষার সুযোগ পায়, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে, সম্পত্তিরঅধিকারিণী হয়। হায় বঙ্গনারী!

খেতে খেতে শ্রীমতি কেডেল জিজ্ঞেস করলেন, রাজা, কিছু যদি মনে না করেন, একটা প্রশ্ন করবো? কয়েকদিন ধরেই খুবকৌতূহল হচ্ছে।

রাজা বললেন, অবশ্যই প্রশ্ন করতে পারেন।

শ্রীমতী কেডেল সসঙ্কোচে বিনীতভাবে বললেন, আপনারা যে চারজন এসেছেন, এ ছাড়া আর কোনো ভারতীয় আমরা ব্রিস্টলে দেখিনি। আপনাদের চারজনেরই নাম রাম। ভারতীয়দের সকলেরই নাম কি রাম হয়?

রাজা সংযত হাস্য করলেন।কথাটা তো ঠিক।

তিনি বললেন, মিস কেডেল, আপনার যে-খটকা লেগেছে, তা অত্যন্ত সংগত। এখানেআমাদের চারজনেরই নামে রাম রয়েছে বটে, তবে এটা পিয়োরলি কো-ইন্সিডেন্টাল। ভারতীয়দের আরো নানা প্রকার ও বিচিত্র নাম হয়। যেমন আমার বন্ধু দ্বারকানাথ, যেমন…

তাঁকে আর কিছু বলতে হলো না, তাঁর সঙ্গীরাই গড়গড় করে অন্য ভারতীয় নাম বলে গেল।

ভেজিটেবল স্যান্ডউইচে এক কামড় দিতেই রাজার একবার হেঁচকি উঠলো। এরকম প্রায়ই হচ্ছে ইদানীং। কিছুই খেতে ইচ্ছে করে না। অথচ ভোজনরসিক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল।

নাম প্রসঙ্গ এখনো চলছে।রাজা মনে মনে ভাবলেন, ইংরাজ পুরুষ বা রমণীদেরনামের উচ্চারণে তাঁর কোনো অসুবিধে হয় না। অথচ শিক্ষিত ইংরাজরাও একটি ভারতীয় শব্দ শুদ্ধউচ্চারণ করতে পারে না। রামের মতন একটি অতি সহজ শব্দকে এরা উচ্চারণ করের‌্যাম, যার অর্থ ভেড়া। একজন বিশিষ্ট পাদ্রি তাঁর পুরো নাম উচ্চারণ করেছিলেন এভাবে, ড়্যামমোহন রয়। তা শুনে তিনি আঁতকে উঠেছিলেন। তার চেয়ে শুধু রাজাই ভালো, তাও অনেকের ওষ্ঠে হয়ে যায় র‌্যাজা! আমরা পারি, অথচ তোমরা পারো নাকেন? চেষ্টা করো না, নাকি জিভের দুর্বলতা?

প্রসঙ্গান্তরে যাবার জন্য রাজা বললেন, আজ ভোরবেলা একটি বালিকাকে দেখলাম বাগানের এক কোণে। অপরূপ তার মুখশ্রী। বোধকরি কোনো প্রতিবেশীর কন্যা।

মিস কেডেল বিস্মিতভাবে তাকিয়ে রইলেন। পাশের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছেন রেভারেন্ড জন ফস্টার। তিনি একজন প্রবন্ধকার। ও বাড়িতে তো কোনো বালক-বালিকা নেই।

রাজা তাঁর কথায় কোনো উত্তর পেলেন না। উত্তর আশাও করলেন না।

তাঁর তলপেটে বেদনা শুরু হয়েছে এবং সে-কথা তিনি অন্যদের জানাতে চান না। ব্রেকফাস্ট শেষ হলে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, মাফ করবেন, আমি এখন কিছু সময় নিরিবিলিতে গ্রন্থপাঠ করতে চাই।

তিনি নিজের কক্ষে এসে প্রথমে বসলেন আরাম কেদারায়, কয়েক মিনিট পরেই তাঁর শুয়ে পড়তে ইচ্ছে হলো। এরকম দুর্বলতার জন্য রাজা নিজের ওপরেই ক্রুব্ধ হয়ে উঠলেন।

লন্ডনে দিনের পর দিন ব্যস্ততার পর ব্রিস্টলে এই আতিথেয়তার আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন।

স্টেপলটন গ্রোভ নামে এই উদ্যানবাটিকাটি ব্রিস্টল শহর থেকে কিছুদূরে। অতি সুরম্য ভবন, ব্যবস্থাপনা এবং যত্নেরও কোনো ত্রুটি নেই। বিশ্রাম নেওয়ার পক্ষে আদর্শ।

লন্ডনে তাঁকে অনেক সভা-সমিতিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে। ভারতবর্ষ সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ একেবারেই অজ্ঞ। কৌতুকের বিষয় এই যে, অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ধর্ম সম্পর্কেই সকলের কৌতূহল বেশি। রাজা বারবার ঘোষণা করেছেন যে, তিনি হিন্দু ধর্মের মূর্তিপূজা মানেন না। তিনি একেশ্বরবাদী। তিনি যিশুকে মহামানব এমনকি ঈশ্বরপ্রেরিত বলতেও দ্বিধা করেননি। তবু অনেক জায়গাতেই তাঁকে প্রশ্ন শুনতে হয়, যিশুর জীবনের নানান অলৌকিক ঘটনা এবং পুনর্জাগরণও মানেন কিনা। যুক্তিহীন অলৌকিকতা মানতে রাজার দ্বিধা আছে। ভক্তরা সবইমানতে পারে, তারা তো প্রমাণ খোঁজে না।

কেউ কেউ ইঙ্গিত দেয়, রাজা কেন খ্রিষ্টধর্ম অবলম্বন করছেন না? তিনিসযত্নে এ-প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

এখানে তাঁর পরিচয় দেওয়াহয় হিন্দু ব্রাহ্মণ হিসেবে। তিনি সেই পরিচয়টাই বজায় রাখতে চান। তিনি যদিও জাতপাত মানেন না, তবু তিনি একজনব্রাহ্মণ পরিচারক সঙ্গে এনেছেন। তাঁর নিজের অঙ্গেও উপবীত আছে। দেশের লোক যেন বলতে না পারে ম্লেচ্চদের দেশে এসে অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে জাত খুইয়েছেন, পৈতৃক বিষয়-সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলছে দেশে, একবার যদি রটে যায় যে, তিনি জাত খুইয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তিতেও তাঁর অংশ বরবাদ হয়ে যাবে। তাঁর সন্তানেরাও বঞ্চিত হবে। আগে সম্পত্তি, তারপর তো জাত।

কিন্তু এখানে এতো আদর, আপ্যায়ন, বিশ্রামের অঢেল সুযোগ, তবু শরীরে কেন জোর পাচ্ছেন না। আলস্যের তো সময় নেই। সামনে কতো কাজ।

হাউস অফ কমন্সের ভারতীয়বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।রাজা সেখানে একটা রিপোর্ট পাঠিয়েছেন। এ-বিষয়ে পার্লামেন্টে একটা বিলও পেশ হয়েছে। দেশের কৃষকদের অসহনীয় দুরবস্থার কথাও রাজা জানাতে চান। নারীগণের কথা… বুকের মধ্যে কে যেন দুমদুম করে দুবার ধাক্কা দিলো।

রাজা চমকে উঠলেন। একি মৃত্যুর মুষ্টাঘাত নাকি? মৃত্যু? এতো মানুষ থাকতে তাঁর কাছে আসতে যাবে কেন? তাঁর উন্নত শরীর, অটুট স্বাস্থ্য, রোগভোগ বিশেষ নেই। পৌরাণিক দেব-দেবীর মূর্তিতে তাঁর বিশ্বাস নেই, তাই যম কিংবা যমদূতদের চেহারা তাঁর মনে এলো না,তবু যেন একটা জ্যোতিপুঞ্জ, যেন মৃত্যুর প্রতীক হয়ে চেয়ে আছে, তাঁর মনে হলো।

তিনি শ্লেষের সঙ্গে বললেন, কী, আমাকে নিয়ে যেতে এসেছ নাকি? এতো ত্বরা কিসের? তেমন কোনোগুরুতর অপরাধ তো করিনি!

তারপর ধমক দিয়ে বসলেন, না, না যাও, যাও! আমি এখন মোটেই প্রস্ত্তত নই! আমার অনেক কাজ বাকি! অনেক দায়িত্ব নিয়ে এসেছি। এরা শাসক জাতি। আমাদের দুখিনী দেশের তোকোনো ক্ষমতাই নেই, শুধু আবেদন-নিবেদন করে যেটুকু দাক্ষিণ্য আদায় করা যায়। এদের এতো ঐশ্বর্য, তা তো অনেকটা প্রাচ্য দেশ লুণ্ঠনেরই ফল।

কনুইয়ে ভর দিয়ে উঁচু রাজা আবার বললেন, না, আমি যাব না। আমি আবার উঠে দাঁড়াব। শরীরে যথেষ্ট বল আছ। বাহুতে, এই দ্যাখো, কতোখানি গুলি ফোলাতে পারি। ডেথ, তোমার প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ রইল, তুমি কিছুতে আমাকে হারাতে পারবে না। যাও!

তিনি জোর করে উঠে দাঁড়ালেন এবং স্বভাবোচিত দর্পভরে লম্বা লম্বা পা পেলে পায়চারি করতে লাগলেন আরমনে মনে বলতে লাগলেন, যাও, যাও, পারবে না!

কিন্তু কয়েকবার পায়চারি করার পরই রাজারবক্ষদেশ উত্তাল হয়ে উঠল। তিনি কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়তে বাধ্য হলেন। তাঁর পালস রেট অনেক বেড়ে গেছে।

আস্তে আস্তে ফিরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন বিছানায়। কিছু খেতে ইচ্ছা করল না,তিনি উঠলেনও না। তিনি জ্ঞানও হারালেন না, ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসতে লাগলেন। তাঁরই নিজেরই দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দুর্বলতার জন্য রাগ হতেলাগল। তিনি হাঁটতে পারছেন না কেন? উঠতে তো হবেই, সিলেক্ট কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে হবে। আরো অন্য কাজ, মৃত্যু তুমি যাও, যাও!

পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টাতেও রাজার কোনও উন্নতি হল না। পরের রাতে রাজার সহচরদের সঙ্গে মিস হেয়ারও রােগীর ঘরে থাকবেন। এই প্রস্তাব শুনেই রাজা বললেন, না, না, ছি, ছি, এক অনাত্মীয় পুরুষের সঙ্গে এক কুমারী এক কক্ষে রাত্রিবাস করবে, এ আবার হয় নাকি? তার আপত্তি উড়িয়ে দেওয়া হল। এ দেশে কেউ এ ব্যাপারে ভুক্ষেপও করে না।

এক সময় দু'জন চিকিৎসক এসে তাকে দেখার পর একটু দূরে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে নিম্নস্বরে কথা বলতে লাগলেন, রাজা তাদের কথা শুনতে না পেলেও তাদের বিরস ভাবভঙ্গি দেখেই বুঝে গেলেন, এই এত সভ্য ও উন্নত দেশের কোনও ঔষধই তাকে আর এই পীড়া থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। ওরা তাকে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছেন।

রাজা উঠে বসে সহাস্য মুখে তাদের প্রচুর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানালেন।

আবার শুয়ে পড়ার পর চোখ বুজে তিনি ভাবলেন, তা হলে বুঝি মরতেই হবে এই বিদেশ বিভুইয়ে। তিনি জেদের সঙ্গে বললেন, ঠিক আছে, যদি যেতেই হয় রাজার মতন মাথা উঁচু করে চলে যাব।

পরক্ষণেই তিনি আবার ভাবলেন, রাজা আবার কী? তাদের বংশে কেউ কখনও রাজা ছিল না। দিল্লির মুঘল বংশের নখদন্তহীন বর্তমান এক অসহায়, নামমাত্র বাদশা তাকে কিছু আর্থিক সুযােগসুবিধা দানের জন্য কাকুতিমিনতি করেছেন ক্ষমতাধর ইংরাজদের কাছে। রামমােহন এ দেশে আসছেন, তিনি অন্যান্য কিছুর সঙ্গে দিল্লির বাদশাহের প্রতিনিধিত্ব করবেন,

সেই জন্যই তাকে রাজা খেতাব দেওয়া হয়েছে। তার কতটুকু মূল্য?

আর মৃত্যুর কাছে তাে রাজা আর প্রজা সবাই সমান।

ঠিক আছে, তবে সাধারণ মানুষও তাে মাথা উঁচু করে যেতে পারে। কোনও দয়া ভিক্ষা নয় মৃত্যুর কাছে। কোনও সময় ভিক্ষা নয়।

রাজা এখনও তাঁর চলে যাওয়ার নিশ্চিততায় ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না। কী এমন ব্যাধি হল তার?

পর দিন তিনি জোর করে হাঁটতে গিয়ে পড়ে গেলেন। মেঝেতেই একটা জাজিম পেতে, ধরাধরি করে তাকে এনে শুইয়ে দেওয়া হল সেখানে। তার একটা হাত ও পা অসাড়। পক্ষাঘাত। তিনি আর খাটে উঠতে পারবেন না।

কিন্তু মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ সজাগ।

তিনি ভাবলেন, তা হলে এটাই মৃত্যু খেলা শুরু করল তার সঙ্গে। তিনি অসহায় হয়ে শয্যায় পড়ে থাকবেন, অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর করে। দিনের পর দিন। পক্ষাঘাতে পঙ্গু মানুষটিকে করুণা করবে কাছাকাছি সকলে। কিছু দিন পর করুণাও শুকিয়ে যাবে, তার স্থান নেবে বিরক্তি।

তিনি, রাজা রামমােহন রায়, তাঁকে শক্তিহীন, পঙ্গু, হিসেবে দেখাতে চায় মৃত্যু।

তিনি মৃত্যুর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। পারেননি জয়ী হতে। এখন আবার চ্যালেঞ্জ জানালেন। তিনি মৃত্যুর তােয়াক্কা না করে চলে যাবেন নিজেই। স্বেচ্ছামৃত্যু।

তিনি নিশ্বাস বন্ধ করে রাখলেন। এই অবস্থায় তার চোখে ভেসে উঠল, কয়েক দিন আগে ভােরবেলা দেখা সেই বালিকাটির মুখ। এ এক এমনই রূপ, যা দেখলে বড় শান্তি হয়।

মেয়েটি যেন এগিয়ে আসছে তার দিকে। হাসিতে ঝলমল করছে সর্বাঙ্গ।

তা হলে এ মেয়েটি তাকে দেখে ভয় পায়নি? তাকে আপনজন বলে গ্রহণ করেছে। আঃ, এ যে কত বড় প্রাপ্তি, কে বুঝবে? আর না, এক বার আমাকে একটু ছুঁয়ে দে।

অতি কষ্টে ঘাড় ঘুরিয়ে তিনি মৃত্যুর উদ্দেশে বললেন, তুমি আমার আয়ু কেড়ে নিতে পার, কিন্তু তুমি আমার জীবনের গরিমা কেড়ে নিতে পারবে না!

রাজা বারবার নিশ্বাস বন্ধ করতে লাগলেন। মাঝে মাঝে তা ছাড়তে বাধ্য হলেও পরের বার আরও বেশিক্ষণ শ্বাস রােধ করে রাখতে চাইলেন।

তার পর এক সময় বুক থেকে বেরিয়ে এল সমস্ত নিশ্বাস। এবং তার প্রাণ।

চমৎকার শরতের রাত। ফুটফুট করছে জ্যোৎস্না। জানলা দিয়ে সেই জ্যোৎস্না এসে পড়েছে ঘরে। রাজার সন্তান এবং দুই ইংরেজ বিবি নিচু গলায় কথা বলছেন ঘরের এক কোণে বসে। তার কথা বলছেন খুব নিচু গলায়। এ দেশের আবহাওয়ায় এমন রাত কদাচিৎ আসে।

হঠাৎ ওদের এক জন তাকালেন রাজার শয্যার দিকে। চিৎ হয়ে সটান শুয়ে আছেন তিনি। ওষ্ঠে তাঁর ক্ষীণ হাসি। চক্ষু দুটি খােলা। মৃত্যুর খেলা তিনি মেনে নেননি।

কী যেন একটা রাতপাখি ডাকছে তারস্বরে।

বই নিয়ে শুধুমাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, বই নিয়ে শুধু মাত্র বই নিয়েই আমাদের এই প্রয়াস। ধ্বংস ও ধসের সামনে বই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। বই আমাদের মৌলিক চিন্তাভাবনার শাণিত অস্ত্র। বইয়ের অস্তিত্ব নিয়ে চারিদিকে আশঙ্কা, নতুন প্রজন্ম চকঝমকের আকর্ষণে বইয়ের দিক থেকে ঘুরিয়ে নিচ্ছে মুখ। আমাদের এ আয়োজন বইয়ের সাথে মানুষের সম্পর্ককে অনিঃশেষ ও অবিচ্ছিন্ন করে রাখা। আশাকরি আপনাদের সহযোগিতায় আমাদের এই ইচ্ছা আরোও দৃঢ় হবে। দুনিয়ার পাঠক এক হও! বাংলা বই বিশ্বের বিবিধ স্থানে, সকল বাংলাভাষীর কাছে সহজলভ্য হোক!
This is the largest online Bengali books reading library. In this site, you can read old Bengali books pdf. Also, Bengali ghost story books pdf free download. We have a collection of best Bengali books to read. We do provide kindle Bengali books free. We have the best Bengali books of all time. We hope you enjoy Bengali books online free reading.

Authors

 
Support : Visit our support page.
Copyright © 2021. Amarboi.com - All Rights Reserved.
Website Published by Amarboi.com
Proudly powered by Blogger.com